মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উত্তাপ আরও বাড়িয়ে এবার সরাসরি ইসরায়েল ও মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে বড় ধরনের আঘাত হানল ইরান। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) ৩৪তম দফার এই অভিযানে প্রথমবারের মতো অত্যাধুনিক হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি আরও তিন ধরনের শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে তেহরান।
মঙ্গলবার ইরানের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহের নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে আইআরজিসির বরাতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই হামলা ছিল অত্যন্ত সুপরিকল্পিত এবং এর লক্ষ্যবস্তু ছিল মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন ও ইসরায়েলি কৌশলগত ঘাঁটিগুলো।
যেখানে যেখানে চালানো হয়েছে হামলা:
ইরানের এই বিশাল মিসাইল বহর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হেনেছে বলে দাবি করা হয়েছে:
সংযুক্ত আরব আমিরাত: আবুধাবির কাছে অবস্থিত মার্কিন সেনাদের গুরুত্বপূর্ণ আল-ধাফরা বিমানঘাঁটি।
বাহরাইন: জুফায়ার মার্কিন নৌ-ঘাঁটি ও সেনা স্থাপনা।
ইসরায়েল: রামাত ডেভিড বিমানঘাঁটি এবং হাইফার বেসামরিক বিমানবন্দর।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, তাদের শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্রগুলো তেল আবিবের পূর্বাঞ্চলে ইসরায়েলের গোপন ও সুরক্ষিত ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চারগুলোতে নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হাইপারসনিকের সাথে আরও তিন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার প্রতিপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করার একটি নতুন কৌশল।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
কানাডার টরন্টোতে অবস্থিত মার্কিন কনসুলেটে গভীর রাতে ভয়াবহ গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ এই ঘটনাকে ‘জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট ঘটনা’ হিসেবে অভিহিত করে তদন্ত শুরু করেছে। গত মঙ্গলবার ভোররাত ৪:৩০ মিনিটের দিকে টরন্টোর ডাউনটাউনে একটি সাদা এসইউভি (SUV) গাড়ি থেকে দুই ব্যক্তি নেমে মার্কিন কনসুলেট লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি ছোড়ে। টরন্টো পুলিশের ডেপুটি চিফ ফ্র্যাঙ্ক ব্যারেডো জানান, হামলার সময় ভবনের ভেতরে মানুষ উপস্থিত থাকলেও ভবনটি অত্যন্ত সুরক্ষিত ও শক্তিশালী হওয়ায় কেউ হতাহত হননি। হামলাকারীরা একাধিক রাউন্ড গুলি ছুড়েই ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যায়। কানাডার ফেডারেল পুলিশের চিফ সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস লেদার জানিয়েছেন, এটি কোনো সন্ত্রাসী হামলা কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উল্লেখ্য যে, গত সপ্তাহান্তে ইরান ও ইসরায়েল ইস্যুতে মার্কিন ভূমিকার প্রতিবাদে এই কনসুলেটের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছিল। এছাড়া সাম্প্রতিক দিনগুলোতে টরন্টোর তিনটি সিনাগগেও (ইহুদি উপাসনালয়) গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, যা স্থানীয় জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বর্তমানে পুরো এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলাকারীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
ইরানের অভ্যন্তরে গুপ্তচরবৃত্তি এবং নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ৩০ জন ‘গুপ্তচর’ ও এজেন্টকে গ্রেফতার করেছে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা। তেহরানের দাবি, আটককৃতরা সরাসরি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে কাজ করছিল। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ইরানের গোয়েন্দা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। মিডল ইস্ট আই-এর প্রতিবেদনে এই খবর জানানো হয়। ইরানের গোয়েন্দা মন্ত্রণালয়ের বরাতে জানানো হয়েছে, আটককৃতদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা এবং ইসরায়েলি শত্রুভাবাপন্ন পক্ষের হয়ে কাজ করা মাঠ পর্যায়ের বেশ কয়েকজন এজেন্ট ও অভ্যন্তরীণ অপরেটিভ রয়েছে। তারা ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে এবং দেশের অভ্যন্তরে স্পর্শকাতর তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দীর্ঘদিন নজরদারির পর ইরানের গোয়েন্দা বাহিনীর একটি বিশেষ দল এই অভিযান পরিচালনা করে ৩০ জনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। তবে আটককৃতদের জাতীয়তা বা তাদের সুনির্দিষ্ট পরিচয় সম্পর্কে এখনও বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। সাম্প্রতিক সময়ে ইরান এবং পশ্চিমাবিশ্বের মধ্যে বিশেষ করে ইসরায়েলের সঙ্গে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। তেহরান প্রায়শই অভিযোগ করে থাকে যে, ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা ‘মোসাদ’ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সিআইএ ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ও সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে অন্তর্ঘাতমূলক তৎপরতা চালিয়ে আসছে। এই গ্রেফতারের বিষয়ে এখন পর্যন্ত ওয়াশিংটন বা তেল আবিবের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক জ্বালানি সঙ্কট মোকাবিলায় পাকিস্তানের ক্ষমতাসীন সরকার বিভিন্ন মিতব্যয়ী পদক্ষেপ ঘোষণা করেছে। সোমবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এ ঘোষণা দেন। বিশ্বজুড়ে তেল সরবরাহে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় পাকিস্তানে পেট্রল ও ডিজেলের দাম ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দেশটি ব্যয় সংকোচন ও সাশ্রয়ী নীতি গ্রহণ করছে। প্রধানমন্ত্রী জানান, পুরো অঞ্চল বর্তমানে যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে, যা শান্ত করতে পাকিস্তান কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর কার্যক্রমের প্রশংসা করেন। ব্যয় সংকোচনের পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে সরকারি গাড়িতে জ্বালানি বরাদ্দ ৫০ শতাংশ কমানো, সরকারি কর্মকর্তা ও সংসদ সদস্যদের বেতন কাটা, সরকারি দপ্তরের ব্যয় ২০ শতাংশ কমানো, জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বিদেশ সফর নিষিদ্ধ, মাসিক বেতন ৩ লাখ রুপির বেশি কর্মকর্তাদের দুই দিনের বেতন কাটা, সরকারি নৈশভোজ ও ইফতার পার্টি বন্ধ, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ৫০ শতাংশ কর্মী ওয়ার্ক ফ্রম হোম এবং স্কুল-কলেজে অনলাইন ক্লাস। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে পাকিস্তান সরকারের লক্ষ্য দেশীয় অর্থনীতিতে চাপ কমানো এবং জনসাধারণের ওপর তেলের দামের ঊর্ধ্বমুখী প্রভাব সীমিত করা।