মার্কিন প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ইরানের ধারাবাহিক পাল্টা হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও কূটনৈতিক অবস্থান নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে উঠায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরে যুদ্ধের পরিণতি নিয়ে হতাশা ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস।
সূত্রগুলো জানায়, ইরানের শক্ত প্রতিক্রিয়ার কারণে ওয়াশিংটন তাদের আগের পরিকল্পনা পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে থাকা মার্কিন দূতাবাস ও কূটনৈতিক স্থাপনাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি কিছু কর্মী সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। প্রশাসনের ভেতরে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, শুরুতে ধারণা করা হয়েছিল ইরান সীমিত প্রতিক্রিয়া দেখাবে এবং সংঘাত দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে। কিন্তু বাস্তবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন কৌশল নিতে বাধ্য হতে হয়।
এছাড়া যুদ্ধের প্রভাব বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও পড়তে শুরু করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় তেল সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ব অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
প্রশাসনের ভেতরের একাধিক সূত্র বলছে, যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার জন্য স্পষ্ট কোনো কৌশল না থাকায় হোয়াইট হাউসের ভেতরে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে যুক্তরাষ্ট্রকে বড় সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়তে হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের পাল্টা হামলা প্রমাণ করেছে যে সংঘাত দ্রুত শেষ করা সহজ হবে না, এবং এই পরিস্থিতি ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
বিশ্বের জ্বালানি করিডোরখ্যাত হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেখানে মাইন পুঁতছে ইরান, এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পর প্রাকৃতিক গ্যাস ও তেলের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এর প্রভাব ইতোমধ্যে ইউরোপের বাজারেও পড়েছে, যেখানে গ্যাসের দাম বেড়েছে প্রায় ছয় শতাংশ। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব ফেলতে পারে এমন আশঙ্কা বাড়ার মধ্যেই এই প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ইরান বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট হরমুজ প্রণালীতে মাইন স্থাপন শুরু করেছে এমন অসমর্থিত খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ইউরোপ ও যুক্তরাজ্যজুড়ে গ্যাসের দাম লাফিয়ে বাড়তে শুরু করে। এই প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে ইউরোপ ও এশিয়ায় তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বুধবার (১১ মার্চ) সকালের লেনদেনে ইউরোপীয় গ্যাসের বেঞ্চমার্ক মূল্য প্রায় ৫ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে ব্রিটিশ পাইকারি গ্যাসের প্রধান চুক্তির মূল্য বেড়েছে প্রায় ৬ শতাংশ। এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, জলপথের কাছে মাইন স্থাপন করছিল বলে দাবি করে তারা ১৬টি ইরানি জাহাজ ‘নির্মূল’ করেছে। এতে করে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। এর আগে ইউএস ইন্টেলিজেন্স রিপোর্টের সঙ্গে পরিচিত দুই ব্যক্তির বরাত দিয়ে জানা যায়, ইরান হরমুজ প্রণালীতে মাইন স্থাপন শুরু করেছে। বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পথগুলোর একটি এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। সূত্রগুলো জানিয়েছে, মাইন স্থাপনের কাজ এখনো ব্যাপক আকারে শুরু হয়নি; গত কয়েক দিনে মাত্র কয়েক ডজন মাইন বসানো হয়েছে। তবে একটি সূত্রের মতে, ইরানের ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ ছোট নৌকা ও মাইন স্থাপনকারী যান এখনো অক্ষত রয়েছে, ফলে চাইলে তারা এই জলপথে কয়েকশ মাইন পেতে রাখতে পারে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি), যারা ইরানের প্রথাগত নৌবাহিনীর পাশাপাশি কার্যত এই প্রণালী নিয়ন্ত্রণ করছে, তাদের কাছে মাইন স্থাপনকারী যান, বিস্ফোরক বোঝাই নৌকা এবং উপকূলীয় মিসাইল ব্যাটারিসহ শক্তিশালী সামরিক সক্ষমতা রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালীতে কোনো মাইন স্থাপন করে থাকে যদিও এ বিষয়ে তাদের কাছে কোনো রিপোর্ট নেই তাহলে সেগুলো অবিলম্বে সরিয়ে নেওয়া উচিত।
মার্কিন প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ইরানের ধারাবাহিক পাল্টা হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও কূটনৈতিক অবস্থান নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে উঠায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরে যুদ্ধের পরিণতি নিয়ে হতাশা ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস। সূত্রগুলো জানায়, ইরানের শক্ত প্রতিক্রিয়ার কারণে ওয়াশিংটন তাদের আগের পরিকল্পনা পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে থাকা মার্কিন দূতাবাস ও কূটনৈতিক স্থাপনাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি কিছু কর্মী সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। প্রশাসনের ভেতরে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, শুরুতে ধারণা করা হয়েছিল ইরান সীমিত প্রতিক্রিয়া দেখাবে এবং সংঘাত দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে। কিন্তু বাস্তবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন কৌশল নিতে বাধ্য হতে হয়। এছাড়া যুদ্ধের প্রভাব বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও পড়তে শুরু করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় তেল সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ব অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। প্রশাসনের ভেতরের একাধিক সূত্র বলছে, যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার জন্য স্পষ্ট কোনো কৌশল না থাকায় হোয়াইট হাউসের ভেতরে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে যুক্তরাষ্ট্রকে বড় সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়তে হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের পাল্টা হামলা প্রমাণ করেছে যে সংঘাত দ্রুত শেষ করা সহজ হবে না, এবং এই পরিস্থিতি ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে যুদ্ধের রূপরেখা নাটকীয়ভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে। চলমান সংঘাতের ১২তম দিনে এসে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) তাদের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর একটি নতুন তালিকা প্রকাশ করেছে, যেখানে প্রথমবারের মতো গুরুত্ব পেয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত বড় বড় মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আঞ্চলিক এই যুদ্ধ এখন 'অবকাঠামোগত যুদ্ধে' রূপ নিচ্ছে। তালিকায় গুগল, অ্যামাজন, মাইক্রোসফট, এনভিডিয়া, আইবিএম, ওরাকল এবং পালান্তির টেকনোলজিসের মতো প্রথম সারির টেক জায়ান্টদের নাম রয়েছে। বিশেষ করে দুবাই, আবু ধাবি এবং ইসরায়েলে অবস্থিত এসব প্রতিষ্ঠানের আঞ্চলিক অফিস, ক্লাউড সার্ভিস সেন্টার এবং ডাটা সেন্টারগুলোকে উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে চিহ্নিত করেছে ইরান। ইতিমধ্যেই উত্তাপ ছড়িয়েছে রণক্ষেত্রে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, গত সপ্তাহে বাহরাইনে অবস্থিত অ্যামাজনের একটি ডাটা সেন্টারে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাতেও অ্যামাজনের দুটি স্থাপনা ইরানি ড্রোনের লক্ষ্যবস্তু হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এদিকে, যুদ্ধ পরিস্থিতির ভয়াবহতা বাড়ছে প্রতিনিয়ত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানজুড়ে তীব্র বিমান হামলা অব্যাহত রেখেছে। তেহরানের দাবি অনুযায়ী, গত ১১ দিনে ১০ হাজারেরও বেশি বেসামরিক স্থাপনায় হামলা হয়েছে, যাতে প্রাণ হারিয়েছেন ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে কুয়েত, কাতার এবং সৌদি আরবের আকাশসীমায় একাধিক ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার খবর পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, মার্কিন বাহিনী ইরানের ১৬টি মাইন বসানোর জাহাজ ধ্বংস করেছে এবং প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালীতে তেল সরবরাহ বিঘ্নিত করার বিষয়ে ইরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।