যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বা এফবিআই মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকাভুক্ত পলাতক আসামি ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রবাসী ভদ্রেশকুমার চেতনভাই প্যাটেলকে গ্রেপ্তারের তথ্য দিলে ১০ লাখ মার্কিন ডলার পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকায় তাকে ধরতে পুরস্কারের পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
এফবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ভবেশ কুমার প্যাটেল ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যে একটি ডানকিন ডোনাটস দোকানের ভেতরে তার স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত। ঘটনার পরপরই তিনি পালিয়ে যান এবং এরপর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
তদন্ত কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে অন্য কোনো দেশে পালিয়ে থাকতে পারেন। তার ভারতীয় নাগরিকত্ব থাকায় তিনি ভারতে বা অন্য কোনো দেশে ভুয়া পরিচয়ে আত্মগোপনে থাকতে পারেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
এফবিআই জানিয়েছে, এই মামলায় আগে কম পরিমাণ পুরস্কার ঘোষণা করা হলেও গ্রেপ্তারে অগ্রগতি না হওয়ায় পুরস্কার বাড়িয়ে ১ মিলিয়ন ডলার করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি এফবিআইয়ের মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পলাতক আসামি।
সংস্থাটি জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, তার অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা থাকলে নিকটস্থ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা এফবিআইকে জানাতে। তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রাখা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধকে ঘিরে বিভ্রান্তিকর তথ্যের কারণে বিশ্বের তেল বাজার বর্তমানে অস্থির অবস্থায় রয়েছে। ব্যবসায়ীরা পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করায় তেলের দাম নাটকীয়ভাবে ওঠানামা করছে। মূলত হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে সম্ভাব্য বিঘ্নের অনিশ্চয়তাই এই অস্থিরতার কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১৭ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮০ ডলারের নিচে নেমে যায়। তবে মার্কিন জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইটের একটি পরবর্তীতে মুছে ফেলা দাবির পর দাম আবার প্রায় ৯০ ডলারে উঠে আসে। ওই দাবিতে বলা হয়েছিল, মার্কিন নৌবাহিনী একটি তেল ট্যাঙ্কারকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিয়ে গেছে। পরে হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লিভিট জানান, কোনো সশস্ত্র এস্কর্ট দেওয়া হয়নি এবং ইরানি হুমকির কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি এখনও বন্ধ রয়েছে। বুধবার (১১ মার্চ) সকালে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) বৈশ্বিক সরবরাহ স্থিতিশীল করতে সবচেয়ে বড় তেল মজুদ মুক্তির কথা বিবেচনা করছে, এমন খবরে তেলের দাম আবার ব্যারেলপ্রতি ৮৫ ডলারের নিচে নেমে আসে। বিশ্বের মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। এই পথ বন্ধ থাকায় পরিস্থিতি বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও ইরাক মজুদ ক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কারণে উৎপাদন কমিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, তেলের দাম বাড়লে বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি বাড়তে পারে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধীর হতে পারে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের তথ্য অনুযায়ী, তেলের দামে প্রতি ১০ শতাংশ বৃদ্ধিতে মুদ্রাস্ফীতি প্রায় ০.৪ শতাংশ বাড়তে পারে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রায় ০.১৫ শতাংশ কমতে পারে। দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান ইতোমধ্যে স্থানীয় প্রভাব কমাতে দামের সীমা ও রেশনিং ব্যবস্থা চালু করেছে। এদিকে মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীর কাছে মাইন স্থাপন করছিল এমন ১৬টি ইরানি জাহাজ ধ্বংস করা হয়েছে। এর আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানকে জলপথে মাইন স্থাপনের বিরুদ্ধে সতর্ক করেছিলেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, একটি ট্যাঙ্কারকে এস্কর্ট করার ঘটনা খুব সীমিত প্রভাব ফেলতে পারে, কারণ প্রতিদিন সাধারণত ১০০টিরও বেশি জাহাজ এই প্রণালী দিয়ে চলাচল করে। ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের হুমকি বাজারের মনোভাবের ওপর স্থায়ী প্রভাব ফেলছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সংঘাতের সময়কাল নিয়ে ভিন্নধর্মী মন্তব্য করেছেন। তিনি একদিকে বলেছেন, এটি খুব শিগগিরই শেষ হতে পারে; আবার অন্যদিকে বলেছেন, অপারেশন সম্পূর্ণভাবে শত্রুকে পরাজিত না করা পর্যন্ত চলবে। এই বিপরীত সংকেতের কারণে তেল বাজারে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, কারণ ব্যবসায়ীরা বোঝার চেষ্টা করছেন মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেলের প্রবাহ কত দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারে। রিগজোনের প্রেসিডেন্ট চ্যাড নরভিল বলেন, বাজার সাময়িকভাবে ভৌগোলিক ঝুঁকিকে বাস্তব হিসেবে দেখেছে এবং সরবরাহ বিঘ্নের বিষয়টি পুনর্মূল্যায়ন করেছে। তার মতে, বাজার এখন নির্ধারণ করার চেষ্টা করছে মোট তেলের প্রবাহ স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরতে পারবে কি না। সূত্র- সামা
সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি বন্দর ছেড়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরই হরমুজ প্রণালীর কাছে থাই পতাকাবাহী একটি পণ্যবাহী জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১১ মার্চ) এ হামলার পর ২০ জন নাবিককে উদ্ধার করা হয়েছে এবং এখনও তিনজন নিখোঁজ রয়েছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানায়, থাই কোম্পানি প্রিশিয়াস শিপিং পিসিএল-এর মালিকানাধীন বাল্ক ক্যারিয়ার ‘ময়ূরী নারি’ সংযুক্ত আরব আমিরাতের খলিফা বন্দর ছেড়ে ভারতের কান্দলা বন্দরের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল। হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করার সময় জাহাজটি হামলার শিকার হয়। থাই নৌবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হামলার সুনির্দিষ্ট বিবরণ ও কারণ বর্তমানে তদন্তাধীন। সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে তিনটি জাহাজ ‘অজ্ঞাত প্রজেক্টাইলের আঘাতে’ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে একটি জাহাজে আগুনও লাগে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, থাইল্যান্ডের পতাকাবাহী বাল্ক ক্যারিয়ার ‘ময়ূরী নারি’ জাহাজটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয় এবং ওমানের প্রায় ১১ নটিক্যাল মাইল উত্তরে এটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানায়, জাহাজে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং এতে কোনো পরিবেশগত ক্ষতি হয়নি। প্রয়োজনীয় কিছু নাবিক জাহাজে অবস্থান করছেন। এর আগে জাপানের পতাকাবাহী কনটেইনার জাহাজ ‘ওয়ান ম্যাজেস্টি’ অজ্ঞাত একটি প্রজেক্টাইলের আঘাতে সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘটনাটি ঘটে রাস আল খাইমাহ থেকে প্রায় ২৫ নটিক্যাল মাইল (৪৬ কিলোমিটার) উত্তর-পশ্চিমে। সূত্রগুলো জানায়, জাহাজটির নাবিকরা নিরাপদ আছেন এবং জাহাজটি একটি নিরাপদ নোঙর স্থানের দিকে এগোচ্ছে। এদিকে তৃতীয় একটি কার্গো জাহাজ দুবাইয়ের প্রায় ৫০ মাইল উত্তর-পশ্চিমে অজ্ঞাত প্রজেক্টাইলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থাগুলো। মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের পতাকাবাহী ‘স্টার গুইনেথ’ নামের জাহাজটির গায়ে প্রজেক্টাইলের আঘাতে ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে সামুদ্রিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান ভ্যানগার্ড টেক। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে তেল ও গ্যাস সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল দ্রুত কমে গেছে। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর পর সংঘাত শুরুর পর থেকে হামলার মুখে পড়া জাহাজের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ১৪টিতে দাঁড়িয়েছে। সূত্র: রয়টার্স, এনডিটিভি
ইরানের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথের কাছে কঠোর জবাবদিহি দাবি করেছেন সিনেটের ডেমোক্র্যাট সদস্যরা। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ ইরানের একটি নৌঘাঁটি ও সংলগ্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ওই হামলায় ১৭৫ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু। নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মিনাব এলাকায় উদ্ধার হওয়া ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষগুলো আমেরিকান প্রযুক্তিতে তৈরি 'টমাহক ক্রুজ মিসাইল'-এর বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। যদিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কোনো প্রমাণ ছাড়াই দাবি করেছেন যে, ইরান নিজেই এই হামলা চালিয়েছে। বুধবার হেগসেথকে লেখা এক চিঠিতে সিনেটররা এই ঘটনার দ্রুত তদন্ত এবং দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার দাবি জানান। তারা অভিযোগ করেছেন যে, যুদ্ধের ময়দানে বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা দেওয়ার যে নৈতিক দায়িত্ব, বর্তমান প্রশাসন তা অবজ্ঞা করছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রতিরক্ষা সচিবের সাম্প্রতিক মন্তব্য—যেখানে তিনি যুদ্ধের জন্য কোনো 'শর্ত' বা 'নিয়ম' না থাকার কথা বলেছিলেন—বেসামরিক মৃত্যুর ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। পেন্টাগন এই ঘটনার তদন্ত শুরু করার কথা বললেও কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা জানায়নি। এদিকে জাতিসংঘ এই হামলাকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের চরম লঙ্ঘন বলে নিন্দা জানিয়েছে। ডেমোক্র্যাটরা আগামী সপ্তাহের মধ্যে এই হামলার সঙ্গে মার্কিন বাহিনীর সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তা স্পষ্ট করতে বলেছেন। রিপাবলিকানদের মধ্যে কেবল লুসিয়ানা অঙ্গরাজ্যের সিনেটর জন কেনেডি এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে একে একটি 'ভয়াবহ ভুল' হিসেবে অভিহিত করেছেন।