মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইসরায়েলের একটি শহরে সরাসরি আঘাত হেনেছে ইরান থেকে ছোড়া ক্লাস্টার ক্ষেপণাস্ত্র। এ তথ্য জানিয়েছে ইসরায়েলভিত্তিক সংবাদমাধ্যম The Times of Israel। প্রতিবেদনে বলা হয়, বাণিজ্যিক কেন্দ্র তেল আবিব থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরের রিশন লেজিওন শহরের অন্তত তিনটি স্থানে এই ক্ষেপণাস্ত্রের বোমা আঘাত হানে। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি ক্লাস্টার ক্ষেপণাস্ত্রে সাধারণত একাধিক ছোট বোমা থাকে—যেগুলো বিস্ফোরণের পর বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিটি বোমার ওজন প্রায় আড়াই কেজি পর্যন্ত হতে পারে, ফলে লক্ষ্যবস্তু এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে। এ ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের ফলে বেসামরিক নাগরিকদের জন্য ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে এই হামলায় হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে এই হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মোজতবা খামেনি ফার্সি নতুন বছর 'নওরোজ' এবং পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে একটি লিখিত বার্তা প্রদান করেছেন। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এই বার্তায় তিনি আধ্যাত্মিকতার বসন্ত এবং প্রকৃতির বসন্তের মিলনক্ষণকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে অভিহিত করেছেন। একইসাথে তিনি বিশ্বের সকল মুসলিম উম্মাহকেও ঈদের শুভেচ্ছা জানান। মোজতবা খামেনি তার বার্তায় নতুন সৌর বছরকে "জাতীয় ঐক্য ও নিরাপত্তার নিরিখে প্রতিরোধ অর্থনীতির বছর" হিসেবে ঘোষণা করেছেন। জানুয়ারি মাসে দেশজুড়ে চলা সরকারবিরোধী বিক্ষোভকে একটি ‘চাপিয়ে দেওয়া অভ্যুত্থান’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মূলত অর্থনৈতিক সমস্যার সুযোগ নিয়েই এই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে সরকার পক্ষ থেকে মোজতবা খামেনিকে নিয়ে ব্যাপক প্রচার চালানো হলেও এখন পর্যন্ত তার কোনো প্রকাশ্য উপস্থিতি দেখা যায়নি। এই অনুপস্থিতিকে কেন্দ্র করে তার শারীরিক অবস্থা ও আঘাতের মাত্রা এবং ইরানের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দাবি করছে যে, মোজতবা খামেনি ইতিমধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন।
ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে ইরান শুক্রবার (২০ মার্চ) থেকে একযোগে ইসরায়েল, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও সৌদি আরবে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। বিবিসি জানিয়েছে, এই হামলার সময় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, গত দুই ঘণ্টার মধ্যে দ্বিতীয় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ধেয়ে এসেছে। এর ফলে দেশে সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং সাধারণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই ও কুয়েতেও একাধিক বিস্ফোরণ ও আকাশ প্রতিরক্ষা কার্যক্রম দেখা গেছে। দুবাই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রচণ্ড শব্দগুলো মূলত আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনীর সফল প্রতিরোধ অভিযান। কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছেন, তারা শত্রুভাবাপন্ন ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে কাজ করছে। সৌদি আরবও ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পূর্বদিকের আকাশসীমায় অন্তত ছয়টি ইরানি ড্রোন শনাক্ত ও ধ্বংস করা হয়েছে। এই হামলাগুলো ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বড় পাল্টা আক্রমণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের কঠোর প্রতিশোধের প্রতিফলন। ইরান দাবি করছে, তারা মার্কিন সম্পদ ও মিত্র দেশগুলোকে লক্ষ্য করেই এই হামলা পরিচালনা করেছে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধের তীব্রতা বেড়েছে। হরমুজ প্রণালী ও আশপাশের দেশগুলোতে এর প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতি ও তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি করছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের সক্ষমতা নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। সূত্র: বিবিসি ও আল জাজিরা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে চলমান উত্তেজনার মাঝে এবার ভারত মহাসাগরে অবস্থিত ব্রিটিশ-মার্কিন যৌথ সামরিক ঘাঁটি ডিয়েগো গার্সিয়া লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান। মার্কিন গণমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, তেহরান দুটি মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এর আগে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) হুঁশিয়ারি দিয়েছিল যে, ওয়াশিংটনকে ঘাঁটি ব্যবহার করতে দিলে যুক্তরাজ্যের ভূমিও নিরাপদ থাকবে না। একাধিক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়, নিক্ষিপ্ত দুটি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে একটি উড্ডয়নকালেই ব্যর্থ হয়। অন্যটি লক্ষ্যবস্তুর দিকে অগ্রসর হলে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ থেকে এসএম-৩ ইন্টারসেপ্টর দিয়ে তা প্রতিহত করার চেষ্টা করা হয়। তবে এই ইন্টারসেপশন কতটা সফল হয়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এই হামলার সময়কাল নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেয়নি সংবাদমাধ্যমটি। ইরানের মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই ঘাঁটিতে হামলার চেষ্টা দেশটির সামরিক সক্ষমতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। এর আগে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি দাবি করেছিলেন যে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ২ হাজার কিলোমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ। কিন্তু ডিয়েগো গার্সিয়া লক্ষ্য করে এই হামলা প্রমাণ করে যে, তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা তাদের পূর্বের দাবির চেয়ে অনেক বেশি। এই ঘটনার বিষয়ে হোয়াইট হাউস বা ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল শুক্রবার ইরানে চলমান সামরিক অভিযান ‘গুটিয়ে আনার’ ইঙ্গিত দিয়েছেন। একই সঙ্গে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সংকট মোকাবিলায় ইরানি তেল পরিবহনের ওপর থেকে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে ওয়াশিংটন। ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক পোস্টে লিখেছেন, “মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের বিশাল সামরিক প্রচেষ্টাকে গুটিয়ে আনার কথা ভাবছি। কারণ, আমাদের লক্ষ্য অর্জনের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছি।” গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই সংঘাত শিগগিরই সমাধান হতে পারে—ট্রাম্পের এ বার্তাকে এখন পর্যন্ত ইরান যুদ্ধের পরিণতির বিষয়ে তাঁর সবচেয়ে জোরালো ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। ট্রাম্পের এ বার্তার কিছুক্ষণ পর হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এক্সে (সাবেক টুইটার) পোস্টে বলেন, “প্রেসিডেন্ট ও পেন্টাগন আগেই আভাস দিয়েছিল যে এ মিশন সফল করতে প্রায় ৪ থেকে ৬ সপ্তাহ লাগতে পারে।” এদিকে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহ ঘাটতি নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইতিমধ্যে জাহাজে তোলা হয়েছে এমন ইরানি তেলের ওপর থেকে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হচ্ছে। এই অনুমতির ফলে ২০ মার্চের আগে জাহাজে তোলা ইরানের অপরিশোধিত তেল ও অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্য আগামী ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত খালাস ও বিক্রি করা যাবে। অন্যদিকে, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি তাঁর দেশের শত্রুদের ‘মাথা ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো মোক্ষম জবাব’ দেওয়ার দাবি করার পর সৌদি আরব এবং ইসরায়েলে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের নতুন দফায় হামলা চালিয়েছে তেহরান। ইরানি এই হামলার জবাবে আজ শনিবার ভোরে তেহরানের ‘শাসকগোষ্ঠীর লক্ষ্যবস্তু’তে পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেও গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালি খোলা রাখার ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, জাপানের জাহাজসহ অন্যান্য নিরপেক্ষ দেশের জাহাজ চলাচলে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত তেহরান। জাপানের একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমরা প্রণালিটি বন্ধ করিনি, এটি উন্মুক্ত রয়েছে।” একই সঙ্গে তিনি জানান, ইরান শুধু সাময়িক যুদ্ধবিরতি নয়; বরং সংঘাতের একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্থায়ী অবসান চায়। আরাগচি বলেন, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ না করলেও যেসব দেশ ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলায় জড়িত, তাদের জাহাজের ওপর নির্দিষ্ট বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। তবে অন্যান্য দেশের জাহাজ চলাচলে সহায়তার বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে তেহরান। তিনি আরও জানান, জাপানের মতো দেশগুলো যদি ইরানের সঙ্গে সমন্বয় করে, তাহলে তাদের জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা সম্ভব। উল্লেখ্য, জাপানের অপরিশোধিত তেল আমদানির বড় অংশই মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে এবং এর অধিকাংশ পরিবহন হয় এই প্রণালি দিয়ে। বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান পথ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে ইরানের এ অবস্থান আন্তর্জাতিক বাজারে কিছুটা স্বস্তি এনে দিতে পারে, যদিও সামগ্রিক পরিস্থিতি এখনো অস্থির। তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কার মধ্যে ভারত মহাসাগরে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের যৌথ সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি উঠেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম The Wall Street Journal–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান Diego Garcia দ্বীপে অবস্থিত যৌথ সামরিক ঘাঁটিতে অন্তত দুটি মধ্যমপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর একটি মাঝপথেই যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। অন্যটি যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ থেকে ছোড়া ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে আকাশেই ধ্বংস করা হয়। ভারত মহাসাগরের বিষুবরেখার দক্ষিণে অবস্থিত দিয়াগো গার্সিয়া দ্বীপটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি। দূরবর্তী অঞ্চলে সামরিক অভিযান পরিচালনা এবং ভারী বোমারু বিমান মোতায়েনের ক্ষেত্রে এটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। বার্তা সংস্থা Reuters জানায়, এ ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলেও হোয়াইট হাউস, ওয়াশিংটনে অবস্থিত ব্রিটিশ দূতাবাস এবং যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। একই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে CNN–ও জানিয়েছে, একজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে এই হামলার খবর পাওয়া গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান থেকে প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করার সক্ষমতা দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির নতুন মাত্রা নির্দেশ করে। যদিও এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি দাবি করেছিলেন, তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ইচ্ছাকৃতভাবে ২ হাজার কিলোমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। তথ্যসূত্র: আল–জাজিরা, দ্য গার্ডিয়ান
পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে যুক্তরাজ্য। সম্ভাব্য ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে প্রতিরক্ষামূলক অভিযানের প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (২০ মার্চ) অনুষ্ঠিত ব্রিটিশ মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র এখন হরমুজ প্রণালিতে জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষামূলক অভিযানে ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহার করতে পারবে। তবে ডাউনিং স্ট্রিট স্পষ্ট করেছে, যুক্তরাজ্য সরাসরি কোনো হামলায় অংশ নেবে না এবং তাদের নীতি অপরিবর্তিত রয়েছে। সরকার জানিয়েছে, এই অনুমতি মূলত প্রতিরক্ষামূলক সহযোগিতার অংশ হিসেবেই দেওয়া হয়েছে। এর আগে ব্রিটিশ স্বার্থ বা নাগরিকদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কায় ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিরোধে যুক্তরাষ্ট্রকে সীমিত আকারে ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। নতুন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সেই সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করা হলো। ডাউনিং স্ট্রিটের এক মুখপাত্র বলেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলার সক্ষমতাগুলো মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহার করতে পারবে—এ বিষয়ে মন্ত্রীরা একমত হয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে এই ধরনের সামরিক সহযোগিতা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধে নিজের নিরপেক্ষ অবস্থান রক্ষার জন্য সুইজারল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রসহ যুদ্ধে জড়িত সব দেশের কাছে অস্ত্র রপ্তানি স্থগিত করেছে। শুক্রবার দেশটির সরকার এক বিবৃতিতে জানায়, বর্তমান সংকটজনক পরিস্থিতির কারণে কোনো ধরনের যুদ্ধ সরঞ্জাম রপ্তানি অনুমোদন দেওয়া হবে না। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের মূল উদ্দেশ্য সুইজারল্যান্ডের নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখা। যুক্তরাষ্ট্রকেও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় রাখা হয়েছে। সূত্র: আল-জাজিরা
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি দাবি করেছেন, ইরান বা তার মিত্র বাহিনী তুরস্ক বা ওমানকে লক্ষ্য করে কোনো হামলা চালায়নি। শুক্রবার (২০ মার্চ) দেওয়া এক বিবৃতিতে খামেনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে তুরস্ক ও ওমানে সংঘটিত হামলাগুলো ইরানের কোনো কর্মকাণ্ড নয়। তিনি এগুলোকে “শত্রুদের সাজানো ঘটনা (ফলস ফ্ল্যাগ)” হিসেবে বর্ণনা করেন এবং বলেন, এসব ঘটনার উদ্দেশ্য প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা। তিনি সতর্ক করে বলেন, ভবিষ্যতেও এ ধরনের সাজানো হামলা অন্যান্য দেশে ঘটতে পারে। এছাড়া আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা কমাতে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দেন খামেনি। তিনি দুই দেশকে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রতিবেশী হিসেবে ইরান তাদের সহায়তায় প্রস্তুত। খামেনি আরও বলেন, “এই দুই ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ যেন একে অপরের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করে।” সূত্র: আল-জাজিরা।
পরিবারকে সময় দেওয়া, নতুন পথচলা ও নতুন সূচনার প্রতিশ্রুতি বহন করে ‘নওরোজ’। বিশ্বের লাখ লাখ মানুষ এই দিনে ফারসি বর্ষবরণ উদযাপন করে। কিন্তু চলমান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার কারণে এবার ইরানিদের নওরোজ উদযাপন ভিন্ন চিত্র ধারণ করেছে। সিরিজ বোমাবর্ষণ ও সংঘর্ষের ফলে ইরানে কয়েক হাজার মানুষ হতাহত হয়েছেন এবং দেশের অবকাঠামোর বড় অংশ ধ্বংস হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে এবারের নওরোজ ইরানিদের কাছে ঘিরে আনছে উদ্বেগ ও ভয়। তেহরানের ৩৬ বছর বয়সী নাজনীন বলেন, “ফারসি ঐতিহ্য মেনে বসন্তের জন্য ঘর সাজানোর বা প্রস্তুতির কোনো শক্তি আমার অবশিষ্ট নেই। পরিবারের সবাই এক জায়গায় মিলিত না হলে উদযাপন কীভাবে সম্ভব?” তিন সপ্তাহ ধরে দেশের রাজনৈতিক ও সামরিক সংঘাতের কারণে ইরানিরা হতাশা ও ভয়ের মধ্যে সময় কাটাচ্ছেন। তবে তেহরানে নওরোজ সম্পূর্ণভাবে থেমে যায়নি। বাজারে প্রচুর পণ্য পাওয়া যাচ্ছে, আর শহরের গলিগুলোতে ঐতিহ্যবাহী ফুল ‘হায়াসিন্থ’-এর সুবাস ছড়িয়ে পড়েছে। তেহরানের দীর্ঘদিনের বাসিন্দা মেহরাদ বলেন, “যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরও শহরটি যেন আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে। আবহাওয়া চমৎকার, আকাশ নীল, কুয়াশা কেটে গেছে—সব মিলিয়ে বসন্তের নিখুঁত পরিবেশ।” বিভক্ত সমাজে বহু ইরানি এবারের নওরোজকে শুদ্ধি ও পুনর্জন্মের প্রতীক হিসেবে দেখছেন। ৪৫ বছর বয়সী আহমদ ও তাঁর স্ত্রী প্রতিবছরের মতো নওরোজ উদযাপনের পরিকল্পনা করছেন। আহমদ বলেন, “যুদ্ধ ও মৃত্যুর আবহে জীবনকে সম্মান জানানো প্রয়োজন। উৎসবের এই সুযোগ কেবলমাত্র আমাদের আনন্দের জন্য।” যুদ্ধই নয়, অর্থনৈতিক সংকটও এবারের উদযাপনের ছাপ ফেলেছে। তেহরানের এক বাসিন্দা জানান, তারা নওরোজ পালন করলেও ফুল, ঐতিহ্যবাহী খাবার বা অন্যান্য খরচে বাজেট সীমিত। “বাজারে পণ্য থাকলেও এখন এটি বিলাসিতা মনে হয়, বিশেষ করে যখন আগামীকাল কী হবে, তা অজানা।” নওরোজ শুধু ইরানে নয়, ইরাক, তুরস্ক, আজারবাইজান, তুর্কমিনিস্তান, আফগানিস্তান, তাজিকিস্তান, পাকিস্তানসহ সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশে উদযাপিত হয়। ইউনেস্কোর তালিকাভুক্ত এই প্রাচীন উৎসব বর্ষবরণের সঙ্গে নতুন সূচনা ও পুনর্জন্মের বার্তা বয়ে আনে।
ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে উভচর যুদ্ধজাহাজ ও অতিরিক্ত কয়েক হাজার সেনা মোতায়েন করতে যাচ্ছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তিনজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তা, বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে শুক্রবার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী। কর্মকর্তারা জানান, ইরানে সরাসরি সেনা পাঠানোর বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে ভবিষ্যতের সম্ভাব্য অভিযানের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য এই অঞ্চলে নতুন সেনা মোতায়েন করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের উভচর নৌবহর ‘ইউএসএস বক্সার’ ও সঙ্গে থাকা মেরিন এক্সপিডিশনারি ইউনিটকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হয়েছে। এই সময় খবরটি প্রকাশ্যে আসে যখন মার্কিন প্রশাসন মধ্যপ্রাচ্যে তাদের অভিযান জোরদার করার জন্য অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেন, “আমি কোথাও কোনো সেনা পাঠাচ্ছি না। তবে পাঠালে, তা আমি সাংবাদিকদের জানাব না।” সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, নতুন সেনাদের সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব এখনও স্পষ্ট নয়। একজন কর্মকর্তা জানান, তারা পূর্বনির্ধারিত সময়ের প্রায় তিন সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূল থেকে রওনা হয়েছেন। এই মোতায়েন মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে থাকা ৫০ হাজার মার্কিন সেনার সঙ্গে যুক্ত হবে। ফলে মেরিন এক্সপিডিশনারি ইউনিটের সংখ্যা দাঁড়াবে দুইটি, যেখানে সাধারণত প্রতিটি ইউনিটে আড়াই হাজার সেনা থাকেন, যারা জাহাজ থেকে বিমান হামলা চালানো বা স্থলভাগে অভিযানে সক্ষম। রয়টার্সের আগের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের উপকূলে সেনা মোতায়েনের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখা ও খারগ দ্বীপে মার্কিন উপস্থিতি বাড়ানোর কথা বিবেচনা করা হচ্ছে। খারগ দ্বীপ থেকে ইরানের মোট রপ্তানি তেলের ৯০ শতাংশ প্রক্রিয়াজাত হয়। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানে সেনা পাঠানো ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, কারণ সাধারণ মার্কিন জনগণের মধ্যে সমর্থন খুবই কম। চলমান রয়টার্স/ইপসোস জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৬৫ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন, ট্রাম্প ইরানে স্থলযুদ্ধের নির্দেশ দিতে পারেন, কিন্তু কেবল ৭ শতাংশই এ ধরনের সিদ্ধান্ত সমর্থন করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের দুটি যুদ্ধবিমানকে নিজেদের ভূখণ্ডে অবতরণের অনুমতি দেয়নি শ্রীলঙ্কা। নিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতির অংশ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট অনূঢ়া কুমারা দিশানায়েকে। শুক্রবার পার্লামেন্টে বক্তব্যে তিনি বলেন, চলতি মাসের ৪ থেকে ৮ মার্চের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কার দক্ষিণাঞ্চলের মত্তলা রাজাপাকসে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ দুটি যুদ্ধবিমান অবতরণের অনুমতি চেয়েছিল। বিমানগুলো জিবুতিতে অবস্থিত একটি সামরিক ঘাঁটি থেকে আসার কথা ছিল এবং সেগুলোতে জাহাজ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র বহনের সক্ষমতা ছিল। প্রেসিডেন্ট জানান, দেশের নিরপেক্ষতা বজায় রাখার স্বার্থেই এই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। এ সময় তাঁর বক্তব্যে সংসদ সদস্যরা করতালি দেন। একই সময়ে ইরানও ৯ থেকে ১৩ মার্চের মধ্যে তাদের তিনটি যুদ্ধজাহাজ শ্রীলঙ্কায় ভেড়ানোর অনুমতি চেয়েছিল। ভারতের আয়োজিত একটি নৌমহড়ায় অংশ নেওয়ার পর জাহাজগুলো শ্রীলঙ্কায় আসতে চেয়েছিল। তবে সেই অনুরোধও নাকচ করে দেয় কলম্বো। প্রেসিডেন্ট দিশানায়েকে বলেন, “আমরা যদি একটি পক্ষকে অনুমতি দিতাম, তবে অন্য পক্ষকেও একই সুযোগ দিতে হতো”—এই যুক্তিতেই উভয় অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরান-এর মধ্যে চলমান সংঘাত আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়িয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে জ্বালানি সরবরাহসহ বৈশ্বিক অর্থনীতিতে। যুদ্ধ শুরুর পর শ্রীলঙ্কার জলসীমার কাছাকাছি একটি ইরানি সামরিক জাহাজে হামলার ঘটনাও ঘটে। এতে হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনী কয়েকজন ক্রুকে উদ্ধার করেছে বলে জানা গেছে। বর্তমানে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত সার্জিও গর শ্রীলঙ্কা সফর করছেন। তিনি সম্প্রতি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ২০২২ সালের অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে ওঠার পথে থাকা শ্রীলঙ্কা নতুন করে বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রভাবের মুখে পড়েছে। দেশটির জন্য যুক্তরাষ্ট্র অন্যতম বড় রপ্তানি বাজার, অন্যদিকে ইরান শ্রীলঙ্কার চায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্রেতা।
মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইল, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান–এর মধ্যে চলমান সংঘাতের কারণে অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা বেড়ে গেছে। এর প্রভাব পড়েছে ধর্মীয় আয়োজনেও। এ পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় কয়েকটি দেশ এবারের পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজের প্রচলিত ব্যবস্থায় পরিবর্তন এনেছে। শুক্রবার (২০ মার্চ) আল-জাজিরা–এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, কাতার, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত ঘোষণা দিয়েছে—এ বছর খোলা মাঠ বা বড় উন্মুক্ত স্থানে ঈদের জামাত আয়োজন করা হবে না। গালফ নিউজ–এর তথ্য অনুযায়ী, রমজান শেষে ঈদের নামাজ সাধারণত বড় খোলা ময়দান বা ঈদগাহে বিপুল মুসল্লির উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয়, যা দীর্ঘদিনের একটি ঐতিহ্য। তবে চলমান নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় বড় জমায়েত এড়িয়ে চলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কর্তৃপক্ষ। জননিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়। আল-জাজিরা–এর দুবাই প্রতিনিধি জেইন বাসরভি জানান, উন্মুক্ত স্থানে ঈদের নামাজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তটি দেখায় যে, চলমান সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও ধর্মীয় অনুশীলনে গভীর প্রভাব ফেলছে। এদিকে, নিরাপত্তা পরিস্থিতিও ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, ভোরে তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। কুয়েত জানিয়েছে, তারা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে রয়েছে এবং একটি তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলার ফলে আগুন লাগে। অন্যদিকে, বাহরাইন জানিয়েছে, তাদের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে, যার একটি গুদামে পড়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। সৌদি আরবও জানিয়েছে, তারা একাধিক ড্রোন ভূপাতিত করেছে, বিশেষ করে পূর্বাঞ্চলে বেশ কিছু ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় উপসাগরীয় দেশগুলো নির্দেশ দিয়েছে, এবারের ঈদের নামাজ শুধুমাত্র মসজিদের ভেতরে সীমাবদ্ধ রাখতেই হবে।
ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সমন্বিত সামরিক পদক্ষেপকে ঘিরে ইরান-সংকট আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। তেহরানও পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে জবাব দিচ্ছে বলে দাবি করা হচ্ছে। চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইসরাইলের বিভিন্ন শহরে ক্ষয়ক্ষতির খবর সামনে আসছে, যেখানে কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও সরকারি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হচ্ছে। এদিকে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে হরমুজ প্রণালি ঘিরে পরিস্থিতি। ইরানের পক্ষ থেকে এই কৌশলগত সমুদ্রপথে নিয়ন্ত্রণ জোরদারের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। উল্লেখ্য, বিশ্বে পরিবাহিত মোট তেলের একটি বড় অংশ এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের উল্লেখযোগ্য অংশ এই পথ দিয়েই যায়, ফলে এখানে যেকোনো বিঘ্ন বৈশ্বিক বাজারে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এ পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। কিছু সূত্রে বলা হচ্ছে, নির্দিষ্ট জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে ফি আরোপের মতো পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে, যা কার্যত নতুন ধরনের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে ইরান জানিয়েছে, কয়েকটি বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের জন্য নৌ চলাচলে বিশেষ সুবিধা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি নতুন যাচাইকরণ বা নিবন্ধন প্রক্রিয়া চালুর কথাও ঘোষণা করা হয়েছে, যেখানে জাহাজগুলোকে আগে থেকেই নিবন্ধন করতে হবে। সূত্র: আলজাজিরা
ইরানকে লক্ষ্য করে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক পদক্ষেপের জেরে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় তেহরানও সীমিত সামর্থ্যের মধ্যে প্রতিরোধমূলক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। টানা ২১ দিন ধরে চলমান এই সংঘাতের মাঝেই নতুন করে আরেকটি মুসলিম দেশে আঘাত হেনেছে ইসরাইল। শুক্রবার (২০ মার্চ) ইসরাইলি বাহিনী জানায়, তারা সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত কিছু সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, এসব হামলার লক্ষ্য ছিল একটি কমান্ড সেন্টার এবং অস্ত্রাগারসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। ইসরাইলি সেনাবাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, আস-সুওয়ায়দা অঞ্চলে দ্রুজ বেসামরিক নাগরিকদের ওপর সিরীয় কর্তৃপক্ষের কথিত হামলার প্রতিক্রিয়ায় তারা এই অভিযান পরিচালনা করেছে, যা বৃহস্পতিবার (২০ মার্চ) সংঘটিত হয়। তবে এ বিষয়ে এখনো পর্যন্ত সিরিয়ার সরকারি সংবাদমাধ্যম বা সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। সূত্র: আলজাজিরা
শুক্রবার (২০ মার্চ) যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) তাদের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে ইরানে চলমান সংঘাতের মানবিক প্রভাব তুলে ধরেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহতদের মধ্যে অন্তত ২১০ শিশু রয়েছেন, যা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সাধারণ মানুষ যে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে আছে তা স্পষ্টভাবে প্রকাশ করে। এইচআরএএনএ জানায়, নিহতদের মধ্যে ১,৩৯৪ জন সাধারণ বেসামরিক নাগরিক, যারা সরাসরি হামলা বা যুদ্ধের কারণে প্রাণ হারিয়েছেন। তাছাড়া, ১,১৫৩ জন সৈনিকের মৃত্যুর খবরও নিশ্চিত করা হয়েছে। বাকি ৬৩৯ জনের মৃত্যু এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি এবং তাদেরকে ‘অমীমাংসিত’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। মানবাধিকার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শহরাঞ্চল ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে চালানো হামলাগুলো ইরানে দীর্ঘমেয়াদী মানবিক সংকটের সৃষ্টি করছে। বিশেষভাবে শিশুদের মধ্যে এত বড় মৃত্যুহার আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন লঙ্ঘনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সংস্থাটি সতর্ক করেছে যে, যদি যুদ্ধের তীব্রতা কমে না, তবে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। ইতিপূর্বে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাও ইরানের বেসামরিক এলাকায় হামলার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। সংঘাতের এই ভয়াবহতা বিশ্বব্যাপী নিন্দা ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। সূত্র: হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি
ইরান দাবি করেছে, ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়কে লক্ষ্য করে তারা ড্রোন হামলা চালিয়েছে। দেশটির সামরিক বাহিনীর বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, সম্প্রতি তাদের শীর্ষ কর্মকর্তা ও নৌসদস্যদের নিহত হওয়ার ঘটনাকে প্রতিশোধ হিসেবে এই হামলা পরিচালিত হয়েছে। শুক্রবার (২০ মার্চ) ভোরে আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, হামলা পশ্চিম জেরুজালেমে অবস্থিত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছিল। ইরানের সামরিক বাহিনীর বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, যুদ্ধজাহাজ ‘আইআরআইএস ডেনা’-র নৌসদস্যদের রক্তের প্রতিশোধ এবং দেশের গোয়েন্দামন্ত্রী ইসমাইল খতিব হত্যার জবাব হিসেবে এই হামলা করা হয়েছে। তবে হামলার ফলে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানি হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি। এর আগে, ৪ মার্চ শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ উপকূলে ইরানের যুদ্ধজাহাজ ‘আইআরআইএস ডেনা’-কে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র টর্পেডো হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করে তেহরান। ভারতের মহড়া শেষে দেশে ফেরার পথে এই জাহাজে হামলার কারণে ৮০-এর বেশি নৌসদস্য নিহত হয় বলে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া, চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইসরাইলি বিমান হামলায় নিহত হন ইরানের গোয়েন্দামন্ত্রী ইসমাইল খতিব।
এফ-৩৫ লাইটনিং টু মডেলের একটি অত্যাধুনিক মার্কিন যুদ্ধবিমান ইরানে জরুরি অবতরণে বাধ্য হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড। এ তথ্য প্রকাশ করেছে সিএনএন। মার্কিন পক্ষের ধারণা, যুদ্ধবিমানটিকে লক্ষ্য করে ইরানের পক্ষ থেকে হামলার চেষ্টা করা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র টিম হকিন্স জানান, পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ প্রযুক্তিসম্পন্ন বিমানটি ইরানের আকাশসীমার ভেতর দিয়ে উড়ছিল। উড্ডয়নের সময় জটিলতা তৈরি হওয়ায় সেটি নিরাপদে অবতরণ করতে বাধ্য হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। অন্যদিকে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস দাবি করেছে, তাদের হামলার ফলে যুদ্ধবিমানটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উল্লেখ্য, চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এফ-৩৫ লাইটনিং টু যুদ্ধবিমান ব্যবহার করছে, যার প্রতিটির মূল্য ১০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি।
দখলদার ইসরাইলকে লক্ষ্য করে আবারও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান। শুক্রবার বাংলাদেশ সময় রাত ৩টা ৩৫ মিনিটের দিকে এই হামলা চালানো হয় বলে জানা গেছে। ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, নিক্ষেপ করা মিসাইলগুলো দখলকৃত জেরুজালেমের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। হামলার আশঙ্কায় শহরজুড়ে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজতে শুরু করে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে দেখা যাচ্ছে, ইরান ধারাবাহিকভাবে আক্রমণ জোরদার করছে। বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবার মধ্যরাত পর্যন্ত ইসরাইলকে লক্ষ্য করে মোট ১৩ দফা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। এই ধারাবাহিক হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র আকার ধারণ করছে এবং বৃহত্তর সংঘাতের আশঙ্কা বাড়ছে। সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাম্প্রতিক বিমান হামলার ফলে ইরান তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সক্ষমতা কার্যত হারিয়েছে। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ইসরাইল এখন বিজয়ের পথে, আর ইরানের সামরিক কাঠামো ধীরে ধীরে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। নেতানিয়াহুর ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মজুত ব্যাপকভাবে দুর্বল করে দেওয়া হয়েছে এবং অবশিষ্ট অবকাঠামোও ধ্বংসের পথে। তিনি আরও জানান, ইরানের অস্ত্র উৎপাদন কারখানা এবং পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলা চালানো হচ্ছে। তবে ইরান তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সক্ষমতা পুরোপুরি হারিয়েছে—এমন দাবির পক্ষে কোনো সুস্পষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করেননি তিনি। এর আগে, ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর বিন হামাদ আল-বুসাইদি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনায় ইরান সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত না রাখার বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছিল। কিন্তু এই বক্তব্য প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। এর জবাবে ইরানও পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইসরাইল ও উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনেও বাধা সৃষ্টি করছে তারা, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে চলা এই সংঘাত এখন পর্যন্ত মূলত আকাশপথেই সীমাবদ্ধ থাকলেও, নেতানিয়াহু ইঙ্গিত দিয়েছেন সম্ভাব্য স্থল অভিযানের। যদিও তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি। ইরানের অভ্যন্তরে সরকারবিরোধী আন্দোলনের সম্ভাবনা নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি। নেতানিয়াহু বলেন, ইরানের জনগণই ঠিক করবে কখন এবং কীভাবে তারা প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রকে এই সংঘাতে জড়িয়ে নেওয়ার অভিযোগও অস্বীকার করেছেন তিনি। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ তাদের নিজস্ব, বাইরের কারও প্রভাব নয়। সূত্র: রয়টার্স
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস