- প্রচ্ছদ
- Topic
ইরান
ইরানের সঙ্গে সামরিক সংঘাতে না গিয়ে আলোচনার মাধ্যমেই সংকট সমাধানের পথ বেছে নিতে চান বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, “আমি মানুষ হত্যা করতে চাই না।” একই সঙ্গে তিনি জানান, সোমবার থেকেই ইরানের সঙ্গে নতুন দফার আলোচনা শুরু হবে। ট্রাম্পের দাবি, সম্ভাব্য একটি সমঝোতার সুযোগ তৈরি হওয়ায় বড় ধরনের সামরিক হামলার প্রস্তুতি আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। স্থানীয় সময় রোববার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযানের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত ছিল এবং ইরানও সে বিষয়ে অবগত ছিল। তবে কূটনৈতিক অগ্রগতির সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে আপাতত সামরিক পদক্ষেপ থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “আগামীকাল বিকেল থেকেই আলোচনা শুরু হবে। দেখা যাক কী হয়। আমরা যখন চাই, তখনই পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। কিন্তু আমি মানুষ হত্যা করতে চাই না।” এর আগে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি মিত্র দেশ তাকে সামরিক হামলা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছে। কারণ, সম্ভাব্য একটি চুক্তির মৌলিক কাঠামো নিয়ে ইতোমধ্যে সমঝোতার ভিত্তি তৈরি হয়েছে। তার মতে, আলোচনায় হরমুজ প্রণালিতে অবাধ জাহাজ চলাচল এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি—উভয় বিষয়ই অন্তর্ভুক্ত থাকবে। ট্রাম্প আরও বলেন, সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং কাতারসহ যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক অংশীদাররা সপ্তাহান্তে তাকে সামরিক অভিযান থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের বিশ্বাস, আলোচনার মাধ্যমে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব। তবে ট্রাম্পের এ দাবির বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি ইরান। যদিও দেশটির আধা-সরকারি বার্তাসংস্থা মেহর ট্রাম্পের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, তেহরান কখনোই যুক্তরাষ্ট্রকে হামলা স্থগিত রাখার অনুরোধ জানায়নি। সংস্থাটি ট্রাম্পের বক্তব্যকে “আরেকটি নতুন মিথ্যা” বলে আখ্যায়িত করেছে। অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, ওমানের মধ্যস্থতায় হরমুজ প্রণালি নিয়ে চলমান আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ের দিকে এগোচ্ছে। তবে সোমবারের বৈঠক কোথায় হবে বা কারা এতে অংশ নেবেন, সে বিষয়ে ট্রাম্প কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি। ট্রাম্প দাবি করেন, পরিকল্পিত সামরিক অভিযান বাস্তবায়িত হলে তা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযানের একটি হতে পারত। তবে সম্ভাব্য হামলায় ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু ছিল কি না, সে বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। এদিকে ইরানের ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাজিদ ইবন আল-রেজা বলেছেন, তেহরান প্রতিপক্ষের প্রতিটি হুমকিকেই গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। তার ভাষায়, “আমরা কখনোই অপ্রস্তুত থাকব না, আবার নিষ্ক্রিয়ও থাকব না।” ট্রাম্পের আলোচনার ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়ে। সোমবার এশীয় বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রায় ৪ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮৩ দশমিক ৯৮ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৪ দশমিক ৬ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮০ দশমিক ৭৪ ডলারে দাঁড়ায়। হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা কমার সম্ভাবনা এবং সম্ভাব্য কূটনৈতিক সমাধানের আশাই বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমার প্রধান কারণ।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের কোনো ধরনের সরাসরি বা পরোক্ষ আলোচনা চলছে না। একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্ভাব্য আলোচনার ইঙ্গিতও প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি বলেন, হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে আলোচনা চলছে, তবে এর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সম্পর্ক নেই। তার ভাষায়, এটি দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে নৌ চলাচল ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা। ইরানের দাবি, হরমুজ প্রণালির বর্তমান পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক নয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ ও আঞ্চলিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় প্রণালিটি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার পরিবেশ তৈরি হয়নি। তেহরান বলছে, শুধু ওমানের সঙ্গে সমঝোতা হলেই নৌপথ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হবে না। এর আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানের সঙ্গে নতুন করে আলোচনা শুরু হতে পারে। তবে তেহরানের সর্বশেষ অবস্থান সেই দাবির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, বর্তমানে ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো আলোচনা বা আলোচনার অনুরোধ নেই। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন করা হয়। তাই এই নৌপথের নিরাপত্তা এবং চলাচল স্বাভাবিক রাখা আন্তর্জাতিক বাজার ও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিশ্লেষকদের মত।
ইসরায়েলের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে অভিযুক্ত দুই ইরানি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে। ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এ পদক্ষেপ দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা নীতির কঠোর অবস্থানের আরেকটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযুক্ত দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, ইরান-ইসরায়েল সংঘাত চলাকালে তারা ইসরায়েলের কাছে ইরানের সামরিক ও নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার অবস্থানসহ সংবেদনশীল তথ্য সরবরাহ করেছিলেন। এসব অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে মামলা চলার পর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। তবে অভিযুক্তদের নাম-পরিচয়, বিচারপ্রক্রিয়ার বিস্তারিত কিংবা মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের স্থান ও সময় সম্পর্কে ইরানি কর্তৃপক্ষ কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। এদিকে মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে শুরু হওয়া বিক্ষোভ-পরবর্তী সময়ে জুলাই পর্যন্ত অন্তত ২৬ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। সংস্থাটির দাবি, এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তি, শত্রু রাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা এবং জাতীয় নিরাপত্তাবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ আনা হয়েছিল। অন্যদিকে, ইরানের বিচার বিভাগ বরাবরই দাবি করে আসছে, জাতীয় নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিচার করা হয়। তবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে ইরানে এ ধরনের মামলার বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে গুপ্তচরবৃত্তি এবং নিরাপত্তাসংক্রান্ত মামলাগুলোতে তেহরানের কঠোর অবস্থান সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আরও দৃশ্যমান হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দিতেই ইরান এ ধরনের পদক্ষেপ অব্যাহত রাখছে, যদিও এসব বিচার নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই প্রতিবেশী মুসলিম দেশগুলোকে কড়া বার্তা দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যারা মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর বাণীর কথা বলেন, সবার আগে তাদের নিজেদের সরকারের আচরণ ইসলামের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা মূল্যায়ন করা উচিত। মূলত বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের হামলার জেরে বাহরাইনের শাসকের এক মন্তব্যের কড়া জবাব দিতে গিয়েই এ কথা বলেছে তেহরান। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) আরবি ভাষায় দেওয়া এক পোস্টে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এই কড়া প্রতিক্রিয়া জানান। পবিত্র কোরআনের সূরা হুজুরাতের ১৩ নম্বর আয়াতের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, ইসলামের দৃষ্টিতে মর্যাদার ভিত্তি আরবি ভাষা বা ভৌগোলিক অবস্থান নয়; বরং তাকওয়া বা আল্লাহভীতি। বাঘাই জোর দিয়ে বলেন, কেবল আরব বা আরবি ভাষাভাষী হওয়ার কারণে কোনো শাসক নিজেকে মহানবী (সা.)-এর মিশনের প্রতিনিধি হিসেবে দাবি করতে পারেন না। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও ইরান সব সময় সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক ও মুসলিম ভ্রাতৃত্বের ওপর গুরুত্ব দিয়ে এসেছে এবং ভবিষ্যতেও এই নীতি অব্যাহত থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এই কূটনৈতিক বাগবিতণ্ডার সূত্রপাত মূলত বাহরাইনের শাসক হামাদ বিন ঈসা আল খলিফার একটি মন্তব্যের জেরে। সম্প্রতি তিনি ইরানকে বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে মহানবী (সা.)-এর শিক্ষার প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তিনি দাবি করেন, মহানবী (সা.) ইরানকে শতাব্দীর অন্ধকার থেকে মুক্ত করে আধ্যাত্মিক, মানবিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক আলোর পথ দেখিয়েছিলেন, আর সেই কৃতজ্ঞতার খাতিরেই তেহরানের উচিত বাহরাইনে হামলা না করা। এর জবাবে বাঘাই প্রশ্ন তোলেন, একটি মুসলিম দেশের ওপর হামলা চালানো শক্তির সঙ্গে সহযোগিতা করা কিংবা মুসলমানদের শত্রুদের আশ্রয় ও সহায়তা দেওয়া কি ইসলামের ন্যায়বিচার ও মুসলিম ঐক্যের শিক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ? তিনি কোরআনের আয়াত ও মহানবীর (সা.) বাণী উদ্ধৃত করে বলেন, মুসলমানদের কখনোই জালিমের পক্ষ নেওয়া বা তাদের সঙ্গে সহযোগিতা করা উচিত নয়। ইসলামের বিকাশে দর্শন, চিকিৎসাবিজ্ঞান ও গণিতে ইরানের ঐতিহাসিক অবদানের কথাও এ সময় স্মরণ করিয়ে দেন তিনি। উল্লেখ্য, গত জুলাইয়ের শুরু থেকে ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে সামরিক হামলা চালিয়ে আসছে। এর জবাবে ইরানও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মাধ্যমে বাহরাইনসহ ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র পরিচালিত বিভিন্ন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে। এই পাল্টাপাল্টি হামলার প্রেক্ষাপটেই ইরান তার প্রতিবেশীদের ইসলামি মূল্যবোধ ও ঐক্যের কথা স্মরণ করিয়ে দিল।
জর্ডানে দায়িত্ব পালনকালে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত মার্কিন সেনাবাহিনীর সদস্য প্রাইভেট ফার্স্ট ক্লাস ইসাবেলা গনজালেসকে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন তার পরিবার, স্বজন, সহযোদ্ধা ও স্থানীয় বাসিন্দারা। শনিবার টেক্সাসের ক্যারলটনে অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় ১৯ বছর বয়সী এই সেনাসদস্যকে আবেগঘন পরিবেশে স্মরণ করা হয়। পরে রোববার সকাল ১০টায় ডিএফডব্লিউ ন্যাশনাল সেমেট্রিতে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। স্মরণসভায় ব্যাগপাইপের সুরে ইসাবেলাকে সম্মান জানানো হয়। ক্যারলটনের মেয়র স্টিভ বাবিক বলেন, বীরেরা নানা রূপে আসেন, আর তারা আজ ১৯ বছর বয়সী এক নারী সেনাসদস্যকে সম্মান জানাতে একত্রিত হয়েছেন। ইসাবেলার চাচা আলফ্রেডো মুনিজ বলেন, ১৭ জুলাই তিনি এমন সাহসিকতার উত্তরাধিকার রেখে গেছেন, যা তার ১৯ বছরের জীবনের চেয়েও অনেক বড়। তিনি জানান, ইসাবেলা জানতেন জর্ডানে দায়িত্ব পালন ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, তবুও তিনি সেই দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। স্মরণসভায় ব্রিগেডিয়ার জেনারেল গ্লেন হেনকে বলেন, সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণে ইসাবেলা খুব দ্রুত নিজেকে মানিয়ে নিয়েছিলেন। শুরুতে থাকা ভয় কাটিয়ে তিনি আত্মবিশ্বাস অর্জন করেন এবং নতুন দক্ষতা গড়ে তোলেন। ক্যারলটন এলাকার বাসিন্দা ইসাবেলা গত বসন্তে হেব্রন হাই স্কুল থেকে স্নাতক হন। পরিবারের সদস্যরা তাকে প্রাণবন্ত, স্বতঃস্ফূর্ত এবং সবার প্রিয় একজন মানুষ হিসেবে স্মরণ করেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি টেক্স-মেক্স খাবার, রেগেটন গানে নাচ-গান এবং নিজের প্রিয় মানুষ ও পোষা কুকুরদের সঙ্গে সময় কাটাতে ভালোবাসতেন। তিনি ছিলেন একজন কন্যা, বোন এবং বাগদত্তা। স্মরণসভায় আলফ্রেডো মুনিজ উপস্থিত সবার উদ্দেশে বলেন, ইসাবেলার মতো এমন জীবন গড়ে তুলতে হবে, যাতে পৃথিবী ছেড়ে যাওয়ার সময় সেটি আগের চেয়ে আরও ভালো হয়ে থাকে।
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে পানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিক সাইবার হামলার বিষয়ে জরুরি সতর্কতা জারি করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই এবং পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থা (ইপিএ)। এফবিআই জানিয়েছে, গত ২৭ জুলাই থেকে অন্তত সাতটি অঙ্গরাজ্যের পানি সরবরাহ সংস্থায় সাইবার অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে কয়েকটি হামলায় পানি সরবরাহ ব্যবস্থার স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। তদন্তে দেখা গেছে, হ্যাকাররা ইন্টারনেট-সংযুক্ত রকওয়েল অটোমেশনের শিল্প নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রে প্রবেশ করে আইপি ঠিকানা ও পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করে দেয়। ফলে অপারেটররা পানি সরবরাহ পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতিতে প্রবেশাধিকার হারান। এফবিআই জানিয়েছে, কিছু এলাকায় এসব হামলার কারণে পানির চাপ কমে যাওয়া এবং বন্যা বা জলাবদ্ধতার ঘটনাও ঘটেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মিনেসোটা অঙ্গরাজ্য, যেখানে এক সপ্তাহান্তেই ৩০টির বেশি কমিউনিটি পানি সরবরাহ ব্যবস্থা সাইবার হামলার শিকার হয়। তবে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত পানীয় পানির মান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। প্রাথমিক তদন্তে হামলার পেছনে ইরান-সংশ্লিষ্ট হ্যাকারদের সম্পৃক্ততার সম্ভাবনার কথা উঠে এলেও তদন্ত এখনো চলমান। এদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ ঘটনার জন্য মিনেসোটার গভর্নর টিম ওয়ালজের সমালোচনা করেছেন। এফবিআই ও ইপিএ ক্ষতিগ্রস্ত সংস্থাগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে এবং দেশের সব পানি সরবরাহ প্রতিষ্ঠানকে ঝুঁকিপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র দ্রুত পাবলিক ইন্টারনেট থেকে বিচ্ছিন্ন করে অতিরিক্ত সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনিকে খুঁজে বের করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো জোরালো অভিযান চালাচ্ছে বলে দাবি করেছে ব্রিটেনের দ্য সানডে টাইমস। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ এবং ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ যৌথভাবে এবং পৃথকভাবেও তার অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা করছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর থেকে মোজতবা খামেনি জনসমক্ষে আসেননি। তার অবস্থান শনাক্ত করতে দুই গোয়েন্দা সংস্থা বিভিন্ন উপায়ে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে তার বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। দ্য সানডে টাইমসের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত ছয় মাসে মোজতবা খামেনির শারীরিক অবস্থা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। কোথাও বলা হয়েছে তিনি হালকা বা মাঝারি ধরনের আহত হয়েছেন এবং দায়িত্ব পালনে সক্ষম। আবার অন্য কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন এবং তার শরীরে বিকৃতি দেখা দিয়েছে, যার ফলে তেহরানের অন্য শক্তিশালী গোষ্ঠীগুলোর প্রভাবের মধ্যে রয়েছেন। প্রতিবেদনটিতে দাবি করা হয়, মোজতবা খামেনি ১৫০ দিনেরও বেশি সময় ধরে কোনো ফোন বা ল্যাপটপ ব্যবহার করছেন না। তিনি একটি ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারে অবস্থান করছেন এবং বিমান হামলায় আহত হওয়ার কারণে দিনের বেলায় বাইরে আসেন না বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তার আশঙ্কা, বাইরে এলে মার্কিন গোয়েন্দা উপগ্রহের মাধ্যমে অবস্থান শনাক্ত হতে পারে। দ্য সানডে টাইমস আরও দাবি করেছে, আলি খামেনির অবস্থান শনাক্ত করতে আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বিভিন্ন সাইবার কৌশল ব্যবহার করেছিল। এর মধ্যে তেহরানের ট্রাফিক ক্যামেরা হ্যাক করে তার নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যবহৃত যানবাহন শনাক্ত করার বিষয়ও ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোজতবা খামেনির ক্ষেত্রে সেই ধরনের নিরাপত্তা দুর্বলতা পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে ইসরায়েলি ও মার্কিন গোয়েন্দারা এখন ইরানের অভ্যন্তরে থাকা গুপ্তচর ও তথ্যদাতাদের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহের ওপর বেশি নির্ভর করছেন বলে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া দ্য সানডে টাইমসের ভাষ্য অনুযায়ী, গোয়েন্দা মহলের একটি অংশের ধারণা, মোজতবা খামেনি হয়তো ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে নিহত হয়েছেন অথবা পরে আহত অবস্থায় মারা গেছেন। আবার অন্য সম্ভাবনা হিসেবে তিনি তেহরানের কোনো ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ কিংবা রাজধানী থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরের কোম শহরের একটি সামরিক বাঙ্কারে অবস্থান করছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব তথ্যের স্বাধীন যাচাই পাওয়া যায়নি।
ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের অনুরোধে ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত বড় ধরনের সামরিক হামলা আপাতত স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার গভীর রাতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ তথ্য জানান। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর প্রকাশ করেছে। ট্রাম্পের দাবি, ইরানের ওপর পরিকল্পিত বড় ধরনের সামরিক অভিযান তিনি বাতিল করেছেন। কারণ, একটি সম্ভাব্য চুক্তির মূল শর্তাবলি বা রূপরেখা নিয়ে সমঝোতা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ এবং ইরান হামলা স্থগিত রাখার অনুরোধ জানিয়েছিল, যাতে আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন করা যায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, তিনি ওই অনুরোধে সম্মত হয়েছেন এই শর্তে যে, সম্ভাব্য চুক্তিটি দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। তিনি আরও দাবি করেন, চুক্তি বাস্তবায়িত হলে হরমুজ প্রণালি অবিলম্বে সম্পূর্ণভাবে উন্মুক্ত হবে এবং এর মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক হুমকিরও অবসান ঘটবে। ট্রাম্পের এই ঘোষণা এমন সময় এলো, যখন এর আগের দিনই কয়েকটি মার্কিন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয় যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সেই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের নতুন অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে সম্ভাব্য চুক্তির বিস্তারিত শর্ত, আলোচনায় কোন কোন দেশ সরাসরি অংশ নিয়েছে কিংবা হামলা স্থগিতের সময়সীমা কতদিন, এসব বিষয়ে ট্রাম্প তার পোস্টে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য দেননি। এদিকে ট্রাম্পের ঘোষণার বিষয়ে ইরানের সরকার কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে আলোচনার অগ্রগতি এবং সম্ভাব্য চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো রয়ে গেছে।
ইরানের ভবিষ্যৎ কোনো পরাশক্তি নয়, বরং দেশটির জনগণই নির্ধারণ করবে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত ও উত্তেজনার সময়ে চরম ধৈর্য এবং দৃঢ়তার পরিচয় দেওয়ায় নিজ দেশের জনগণকে ‘বীর’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন তিনি। শনিবার (১ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় তিনি এই মন্তব্য করেন। এক্সে দেওয়া ওই বার্তায় পেজেশকিয়ান স্পষ্ট করে বলেন, নিরবচ্ছিন্ন যুদ্ধ, আন্তর্জাতিক চাপ এবং ধারাবাহিক বৈরিতার মধ্যেও ইরানের সাধারণ মানুষ অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে দেশের পাশে দাঁড়িয়েছে। এই চলমান সংঘাতের সূত্রপাত হিসেবে তিনি ২০২৪ সালের ৩১ জুলাই তেহরানে হামাসের তৎকালীন রাজনৈতিক প্রধান ইসমাইল হানিয়ার হত্যাকাণ্ডের কথা স্মরণ করেন। উল্লেখ্য, পেজেশকিয়ানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে অভিষেক অনুষ্ঠানে যোগ দিতেই ওই সময় তেহরানে অবস্থান করছিলেন হানিয়া। ইরানের প্রেসিডেন্ট আরও জানান, হানিয়া হত্যাকাণ্ডের পর থেকে ইরানকে লাগাতার বহুমুখী যুদ্ধ, নানাবিধ ভূ-রাজনৈতিক চাপ এবং অবিরাম শত্রুতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। তবে এত সব চরম প্রতিকূলতা ও সংকটের মধ্যেও দেশের জনগণ কখনো পিছপা হয়নি, বরং তারা ঐক্যবদ্ধভাবে মাতৃভূমির প্রতি সমর্থন জুগিয়েছে। জনগণের এই অটল মানসিকতা ও ত্যাগের প্রশংসা করে তিনি জোর দিয়ে বলেন, সব ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে ইরানের ভবিষ্যৎ শেষ পর্যন্ত এর জনগণই নিজেদের হাতে গড়ে তুলবে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের ৩০টিরও বেশি পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় সাম্প্রতিক সাইবার হামলার জন্য ইরানকে নয়, স্থানীয় ডেমোক্র্যাট নেতৃত্বকে দায়ী করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তার এই মন্তব্য দেশটির নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর চলমান তদন্ত ও প্রাথমিক মূল্যায়নের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। শুক্রবার ক্যাম্প ডেভিডে এক মন্ত্রিসভা বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, মিনেসোটার পানি ব্যবস্থায় হামলার জন্য ইরানকে দোষারোপ করা হলেও তিনি তা বিশ্বাস করেন না। তার দাবি, অঙ্গরাজ্যটির প্রশাসনিক অদক্ষতাই এ ঘটনার জন্য দায়ী। এ সময় তিনি মিনেসোটার ডেমোক্র্যাট গভর্নর টিম ওয়ালজেরও সমালোচনা করেন। তবে নিজের দাবির পক্ষে ট্রাম্প কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। অন্যদিকে, মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের কর্মকর্তারা এবং ফেডারেল তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, হামলার উৎস নিয়ে তদন্ত এখনও চলছে। এর আগে প্রকাশিত একাধিক গোয়েন্দা মূল্যায়ন ও সাইবার নিরাপত্তা সতর্কতায় বলা হয়েছিল, হামলার ধরন ইরান-সংশ্লিষ্ট হ্যাকারদের পূর্ববর্তী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে মিল রয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি সংস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করেনি। ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) জানিয়েছে, মিনেসোটাসহ অন্তত সাতটি অঙ্গরাজ্যে পানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে একই ধরনের সাইবার হামলার ঘটনা তদন্ত করা হচ্ছে। কিছু এলাকায় স্বল্প সময়ের জন্য পানি সরবরাহ ব্যবস্থার স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণে বিঘ্ন ঘটলেও পানির নিরাপত্তা বা মানের ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়েনি। ট্রাম্পের মন্তব্যের জবাবে গভর্নর টিম ওয়ালজ বলেন, প্রেসিডেন্ট হামলার সম্ভাব্য উৎস সম্পর্কে অবগত রয়েছেন এবং এটি শুধু মিনেসোটায় সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সাইবার নিরাপত্তা সক্ষমতা দুর্বল হওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো আরও ঝুঁকির মুখে পড়েছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই, সাইবারসিকিউরিটি অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার সিকিউরিটি এজেন্সি (সিআইএসএ), ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সি (এনএসএ) এবং জ্বালানি বিভাগ যৌথভাবে সতর্ক করে জানিয়েছিল যে, ইরান-সমর্থিত হ্যাকাররা যুক্তরাষ্ট্রের পানি ও জ্বালানি অবকাঠামোর শিল্প নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা লক্ষ্য করে হামলা চালানোর চেষ্টা করছে। তবে মিনেসোটার ঘটনায় তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দায়ীদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে যে, জর্ডানের আল-আজরাক বিমানঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে তারা যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি অত্যাধুনিক এফ-৩৫ লাইটনিং-২ স্টেলথ যুদ্ধবিমান ধ্বংস করেছে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসির পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়, এই হামলায় আরও তিনটি যুদ্ধবিমান ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি কয়েকজন মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা ও রক্ষণাবেক্ষণ কর্মীও নিহত হয়েছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত এই দাবির সত্যতা নিশ্চিত করেনি এবং স্বাধীন কোনো আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমও এর সত্যতা যাচাই করতে পারেনি। আইআরজিসির বিবৃতি অনুযায়ী, কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে আল-আজরাক ঘাঁটির বিমান পার্কিং এলাকা ও রক্ষণাবেক্ষণ হ্যাঙ্গারে এই হামলা চালানো হয়। এর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছিল যে, জর্ডানে তাদের ঘাঁটিতে ইরানের হামলার জবাবে তারা আইআরজিসি-সংশ্লিষ্ট কয়েক ডজন স্থাপনায় ব্যাপক বিমান অভিযান চালিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) নিশ্চিত করেছে যে, তাদের লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে সামরিক কমান্ড সেন্টার, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন স্থাপনা এবং উপকূলীয় নজরদারি কেন্দ্র অন্তর্ভুক্ত ছিল। এদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে কেশম দ্বীপে মার্কিন হামলায় তিনজন নিহত ও দুজন আহত হওয়ার কথা জানানো হয়েছে। চলমান এই সংঘাতের রেশ ইরান ও জর্ডানের সীমানা ছাড়িয়ে অন্যান্য অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়ছে। জর্ডান জানিয়েছে যে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ইরানের ছোড়া পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে ভূপাতিত করেছে এবং এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। অন্যদিকে, কুয়েত জানিয়েছে যে ইরানের হামলায় সেখানে একটি চীনা প্রতিষ্ঠানের ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ওই প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মী নিহত হয়েছেন। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, যদি সত্যিই তিনটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়ে থাকে, তবে কনফিগারেশন অনুযায়ী কেবল বিমানগুলোর আর্থিক ক্ষতিই ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাবে। বর্তমান বৈশ্বিক সামরিক প্রেক্ষাপটে এফ-৩৫ লাইটনিং-২ বিশ্বের অন্যতম আধুনিক ও শক্তিশালী বহুমুখী স্টেলথ যুদ্ধবিমান। রাডার ফাঁকি দেওয়ার অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত সেন্সর ফিউশন এবং নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সক্ষমতার কারণে এটি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। মাক ১.৬ গতিতে উড়তে সক্ষম এই যুদ্ধবিমান শত্রুপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা নিষ্ক্রিয় করতে এবং পরবর্তী বিমান অভিযানের পথ সুগম করতে বিশেষভাবে কার্যকর।
ইরানের কাছে চীন যদি অস্ত্র বিক্রি করে, তবে তা তাকে “খুবই হতাশ” করবে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে চীন ইরানকে কাঁধে বহনযোগ্য ৩০০ থেকে ৪০০টি আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপক সরবরাহ করতে পারে। এই প্রতিবেদন প্রকাশের পরই বিষয়টি নিয়ে নিজের প্রতিক্রিয়া জানান তিনি। সিএনএন ও রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য এই অস্ত্র চুক্তির আর্থিক মূল্য প্রায় ৬০ থেকে ৭০ মিলিয়ন ডলার। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “যদি এই খবর সত্য হয়, তাহলে আমি খুবই অবাক হব। কারণ প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আমাকে স্পষ্টভাবে আশ্বাস দিয়েছিলেন যে চীন এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ডে জড়াবে না।” তিনি আরও বলেন, শি জিনপিং খুব ভালো করেই জানেন, এমন কিছু ঘটলে তিনি কতটা হতাশ হবেন। এর আগে সিএনএনের এক প্রতিবেদনে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের বরাত দিয়ে বলা হয়েছিল, ইরান তাদের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের লক্ষ্যে বিদেশি অংশীদারদের সহায়তায় অস্ত্রভাণ্ডার শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে। সেই প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, চীন তেহরানকে নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে ওয়াশিংটনে চীনের দূতাবাস সে সময় এসব দাবি নাকচ করে দেয়। দূতাবাসের এক মুখপাত্র অভিযোগগুলোকে “সম্পূর্ণ অসত্য” বলে উল্লেখ করেন এবং চীনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন। সর্বশেষ রয়টার্সের প্রতিবেদন এবং ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়ার পর চীন ও ইরানের সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত বেইজিং বা তেহরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অস্ত্র চুক্তির ঘোষণা দেওয়া হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক ভারসাম্য এবং যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে রয়টার্সের প্রতিবেদনে যে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে, তা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
মধ্যপ্রাচ্যে আবারও তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরান একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। মার্কিন সামরিক বাহিনীর ভাষ্য, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেগুলো সফলভাবে ভূপাতিত করে এবং এ ঘটনায় মার্কিন সেনাদের কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। সেন্টকম জানায়, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) হঠাৎ করেই মার্কিন বাহিনীর ওপর "আকস্মিক হামলার চেষ্টা" চালায়। হামলার পরপরই মার্কিন বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করে এবং পুরো অঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানায়, তারা জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক কমান্ড ও বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। ইরানের দাবি, এটি যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপের জবাব হিসেবে চালানো হয়েছে। তবে তাদের দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব ইরাকে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে যৌথ বিমান হামলা চালায়। এতে অন্তত ২০ জন নিহত এবং আরও বহু মানুষ আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। জর্ডানের সামরিক বাহিনীও জানিয়েছে, দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশ করা একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। ভূপাতিত ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ বিভিন্ন স্থানে পড়লেও তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, মার্কিন সেনাদের ওপর হামলার জবাব "কঠোরভাবে" দেওয়া হবে। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনে সামরিক শক্তি প্রয়োগে পিছপা হবে না। হামলার জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহও নতুন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
ইরানকে চীন থেকে কাঁধে বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা সরবরাহ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্র। সাম্প্রতিক সংঘাতের পর দুই দেশের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা আরও ঘনিষ্ঠ হওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে এই পদক্ষেপকে। সূত্রগুলোর বরাতে জানা গেছে, ইরান চীনের তৈরি স্বল্পপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাওয়ার চেষ্টা করছে, যা যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুপক্ষের বিমান ও ড্রোন মোকাবিলায় ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে এই সরবরাহের পরিমাণ, সময়সূচি এবং আনুষ্ঠানিক চুক্তির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, কাঁধে বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা সাধারণত সেনাদের দ্রুত মোতায়েনযোগ্য প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ায়। বিশেষ করে ড্রোন, হেলিকপ্টার ও নিচু উচ্চতায় উড়তে সক্ষম বিমান প্রতিহত করতে এসব অস্ত্র ব্যবহৃত হয়। ইরান দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে আধুনিক সামরিক প্রযুক্তি সংগ্রহে নানা বাধার মুখে রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দেশটি চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক জোরদার করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ার পর ইরানের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন অস্ত্র সরবরাহ হলে আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে এর প্রভাব পড়তে পারে। তবে চীন বা ইরান সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, বিষয়টি এখনো গোপনীয় পর্যায়ে রয়েছে এবং সরবরাহ প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা চলছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা আবারও বেড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে ওয়াশিংটন সামরিক ও কূটনৈতিক দুই পথই খোলা রাখছে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা চলছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসন সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে পর্যালোচনা করছে। এর মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে আকস্মিক সামরিক অভিযানের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট সামরিক অভিযানের ঘোষণা দেওয়া হয়নি। মার্কিন কর্মকর্তারা বারবার বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক কর্মকাণ্ড এবং নিরাপত্তা ইস্যুতে চাপ বজায় রাখা হবে। এর আগে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছালে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। কয়েক দফা হামলা ও পাল্টা হুমকির পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিভিন্ন দেশ মধ্যস্থতার চেষ্টা চালায়। মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলোও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। কারণ ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বড় ধরনের সংঘাত হলে তা পুরো অঞ্চলের জ্বালানি সরবরাহ ও অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র একদিকে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও কূটনৈতিক চাপ বজায় রাখতে চাইছে, অন্যদিকে সরাসরি সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও বিবেচনা করছে। ইরানও জানিয়েছে, নিজেদের নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে তারা প্রস্তুত। দুই দেশের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে আন্তর্জাতিক মহল।
ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের সমর্থন কতটা, তা নিয়ে নতুন এক জরিপে চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে। জরিপ অনুযায়ী, মাত্র এক-তৃতীয়াংশের কাছাকাছি মার্কিন নাগরিক ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের পক্ষে মত দিয়েছেন। ক্যালিফোর্নিয়ার একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন এই জনমত জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের বড় একটি অংশ ইরানের সঙ্গে সরাসরি সামরিক সংঘাতে জড়ানোর বিষয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। জরিপে অংশ নেওয়া অনেক নাগরিক জানিয়েছেন, ইরানের কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও সরাসরি যুদ্ধে যাওয়ার বিষয়ে তারা সমর্থন দিচ্ছেন না। অন্যদিকে, কিছু মানুষ মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা রয়েছে। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক প্রভাব এবং বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো সামরিক অভিযানে যাওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনকে শুধু কৌশলগত বিষয় নয়, দেশের অভ্যন্তরীণ জনমতও বিবেচনায় নিতে হয়। কারণ দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের ক্ষেত্রে জনগণের সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরান ইস্যুতে মার্কিন জনগণের মনোভাব বিভিন্ন ঘটনার ওপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হয়েছে। নতুন এই জরিপ আবারও দেখাচ্ছে, বিদেশে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের মধ্যে বড় ধরনের মতভেদ রয়েছে।
নিজে নানা সমস্যা ও প্রতিকূলতার সম্মুখীন হলেও কঠিন সময়গুলোতে আফগানদের ভুলে যায়নি ইরান। সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য মানবিক ত্রাণ সহায়তা পাঠানোয় তেহরানের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার। সম্প্রতি ইরানের পশতু রেডিওকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এই কৃতজ্ঞতার কথা জানান তালেবান সরকারের মুখপাত্র জবিউল্লাহ মুজাহিদ। সাক্ষাৎকারে জবিউল্লাহ মুজাহিদ বলেন, আফগানিস্তানের জনগণ ও মুসলিম ভাইদের প্রতি ইরানের এই সহযোগিতা এক অনন্য দৃষ্টান্ত। আফগান জনগণ ইরানের এই নিঃস্বার্থ সাহায্য ও সহযোগিতার কথা কখনোই ভুলবে না এবং তারা এ জন্য চিরকাল কৃতজ্ঞ থাকবে। পাশাপাশি, সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও সংকটের মুহূর্তে আফগানিস্তানের পাশে দাঁড়ানো এবং সাহায্যকারী অন্যান্য দেশগুলোর প্রতিও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এই তালেবান মুখপাত্র। উল্লেখ্য, সম্প্রতি আফগানিস্তানের নুরিস্তান প্রদেশে ভয়াবহ বন্যার পর ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্যে এগিয়ে আসে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ইরান। কাবুলে অবস্থিত ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার জন্য নুরিস্তান প্রদেশের রাজধানী পারুন শহরে একটি বিশেষ মানবিক ও ত্রাণবাহী কনভয় পাঠানো হয়েছে। এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়, এই ত্রাণ সহায়তার সিংহভাগ জুড়েই ছিল আটা ও ভোজ্যতেল, যা দুর্গত এলাকার অসহায় পরিবারগুলোর মাঝে দ্রুত বিতরণের জন্য সরবরাহ করা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন থাকা মার্কিন সামরিক বাহিনীকে লক্ষ্য করে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওই অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর ওপর আকস্মিক হামলা চালানোর উদ্দেশ্যেই এই পদক্ষেপ নিয়েছিল ইরান। তবে মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় থাকায় ইরান থেকে ধেয়ে আসা সবগুলো ক্ষেপণাস্ত্রই সফলভাবে মাঝপথে প্রতিহত বা ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছে। সেন্টকম তাদের এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে আরও নিশ্চিত করেছে যে, এই অতর্কিত হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক বাহিনী এখন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ হামলা মোকাবিলায় তারা পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে বলেও ওই বিবৃতিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে। সাম্প্রতিক এই হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
গত পাঁচ মাস ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের ৩৫০ জনেরও বেশি সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মী নিহত হয়েছেন। সম্প্রতি দেশটির সরকারি মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। নিহত এসব সরকারি কর্মচারীদের পরিবারের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করার সময় তিনি এই পরিসংখ্যান তুলে ধরেন এবং দেশ সেবায় তাদের এই চরম আত্মত্যাগের প্রতি গভীর সম্মান প্রদর্শন করেন। নিহতদের মধ্যে দেশের জরুরি ও মৌলিক পরিষেবাগুলো সচল রাখতে গিয়ে প্রাণ হারানো নানা পেশার মানুষ রয়েছেন। ফাতেমেহ মোহাজেরানি তার বক্তব্যে বিশেষ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন হরমোজগান প্রদেশে জনগণের টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখার দায়িত্বে থাকা বিটিএস টাওয়ারের প্রকৌশলীদের কথা। পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে গিয়ে নিহত লাইনম্যান এবং চরম সংকটময় মুহূর্তে সেবাদানকারী নিবেদিতপ্রাণ চিকিৎসক ও নার্সদের কথাও তিনি গভীর শোকের সঙ্গে উল্লেখ করেন। যুদ্ধের এই কঠিন সময়ে জীবনের চরম ঝুঁকি নিয়ে তারা দেশের জন্য নিজেদের দায়িত্ব পালন করে গেছেন। সরকারি এই মুখপাত্র আরও উল্লেখ করেন যে, প্রিয়জন হারানো পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানানো ও নিহতদের স্মরণ করা মূলত তাদের আত্মত্যাগের প্রতি গোটা জাতির সম্মান প্রদর্শনেরই একটি অংশ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশের সেবায় জীবন উৎসর্গকারী এই বীর সন্তানদের অতুলনীয় প্রচেষ্টার কাছে গোটা জাতি আজীবন ঋণী থাকবে এবং ইরান তাদের এই মহান আত্মত্যাগের কথা সর্বদা পরম কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করবে।
হোয়াইট হাউসে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের ঠিক আগে তার ওপর নিজের বিরক্তি ও হতাশা প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানের গোপন পরমাণু সাইট ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ নিয়ে নেতানিয়াহুর আগাম তথ্য প্রচার করার কোনো প্রয়োজন ছিল না। আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার ওভাল অফিসে এই দুই নেতার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যৌথভাবে ইরান যুদ্ধ শুরু করার পর এটিই তাদের প্রথম মুখোমুখি বৈঠক। সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী এমন কিছু তথ্য নিয়ে কথা বলতে চাচ্ছিলেন যা তার আগেই জানা ছিল। ট্রাম্প বলেন, "আমি বিবিকে (নেতানিয়াহু) সেটা বলতে বলিনি, কেন তাকে এটি বিশ্বকে জানাতে হলো? পিকঅ্যাক্সে কী চলছে তা আমি হুবহু জানি। এটা বড় কোনো সমস্যা নয়। ট্রাম্পের ধারণা, মার্কিন সম্পৃক্ততা বজায় রাখতেই নেতানিয়াহু এই ধরনের কৌশল বেছে নিচ্ছেন। চলতি বছরের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক ভেঙে যাওয়ার পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা চলছে। গত ১৩ দিনের তীব্র সংঘাতের পর বর্তমানে ওয়াশিংটন ও তেহরান এক নতুন কূটনৈতিক আলোচনার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তবে আলোচনা ব্যর্থ হলে পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনসহ ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোতে নতুন করে হামলার হুমকি দিয়ে রেখেছেন ট্রাম্প। নেতানিয়াহুর সরকার ওই সমঝোতার শুরু থেকেই বিরোধিতা করে আসছিল এবং তাদের মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন। যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরের ১২ দিনের যুদ্ধ এবং বর্তমান পাঁচ মাস ধরে চলা এই যুদ্ধের পেছনেও নেতানিয়াহুর প্রভাব রয়েছে বলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ধারণা রয়েছে। তা সত্ত্বেও সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প দুই দেশের মতপার্থক্যকে খুব একটা গুরুত্ব দিতে চাননি। তিনি বলেন, "আমাদের সামান্য পার্থক্য রয়েছে, তবে আমরা বেশ কাছাকাছিই আছি।" এমনকি তুরস্কে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রি করার বিষয়ে ইসরায়েলের বিরোধিতাকেও পাত্তায় দেননি ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "বলা বাহুল্য, আমরা এমন অনেক দেশের প্রতি খুব ভালো আচরণ করছি যারা আমাদের ছাড়া টিকতে পারত না। আর আপনি জানেন কে আমাদের ছাড়া টিকতে পারত না? ইসরায়েল।" সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ট্রাম্প এবং তার প্রশাসন ইসরায়েলের সমালোচনা করতে কিছুটা আগ্রহ দেখালেও, ইসরায়েলের প্রতি ওয়াশিংটনের ঐতিহ্যগত সামরিক সমর্থনের নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি। মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ইতিমধ্যে একটি প্রতিরক্ষা বাজেট পাস হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীকে আরও একীভূত করার পথে রয়েছে। অন্যদিকে ফক্স নিউজ চ্যানেলের ‘সানডে মর্নিং ফিউচার্স’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে বসে শুনতে চান যে ইরানের বিষয়ে তার পরিকল্পনা কী। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে নিজের ক্রমবর্ধমান অজনপ্রিয়তা সম্পর্কে ভালোভাবেই ওয়াকিবহাল আছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। তাই তিনি এমন একটা বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন কোনো যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলার চেষ্টা তিনি করছেন না। ট্রাম্পের বিষয়ে নেতানিয়াহু বলেন, কীভাবে এগিয়ে যেতে হবে সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি পুরোটাই ট্রাম্পের ওপর নির্ভর করছে। তিনি আরও বলেন, "যদি তিনি তীব্র সামরিক সংঘাতে না জড়িয়ে এটি সমাধান করতে পারেন, তবে তা তো ভালোই। কেন নয়?" তবে একই সঙ্গে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করার বিষয়ে তার সরকারের জিরো টলারেন্স নীতিও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। সূত্র: আল জাজিরা
ইরানের ওপর সামরিক হামলার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র এখন অর্থনৈতিক চাপকে আরও কার্যকর কৌশল হিসেবে দেখছে। মার্কিন প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ধারণা, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপ করা কঠোর আর্থিক নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক অবরোধ দীর্ঘমেয়াদে তেহরানের ওপর বোমা হামলার চেয়েও বেশি প্রভাব ফেলতে পারে। এ কারণেই ১৩ দিনের টানা সামরিক অভিযানের পর হামলা স্থগিত রেখে ওয়াশিংটন এখন কূটনৈতিক আলোচনাকে এগিয়ে নিতে চাইছে। অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওমান, কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চলছে। আলোচনায় হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনায় ইরান ও ওমানকে যৌথ ভূমিকা দেওয়ার একটি প্রস্তাবও বিবেচনায় রয়েছে। একই সঙ্গে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা, অবরুদ্ধ সম্পদে প্রবেশাধিকার এবং মার্কিন অর্থ দপ্তরের আরোপিত আর্থিক নিষেধাজ্ঞা শিথিলের দাবি জানিয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, সাম্প্রতিক গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী অর্থনৈতিক চাপের কারণে ইরানের আর্থিক সংকট আরও তীব্র হয়েছে। দেশটিতে জ্বালানি ঘাটতি, ব্যাংক খাতে অস্থিরতা এবং অর্থপ্রবাহের সংকট তৈরি হয়েছে। এমনকি ইরান তাদের মিত্র যোদ্ধাদের অর্থায়নেও সমস্যায় পড়ছে বলে মার্কিন প্রশাসনের দাবি। এক কর্মকর্তা বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তেহরান যুদ্ধের চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের আর্থিক পদক্ষেপকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তবে এই কৌশলের কার্যকারিতা নিয়ে সবাই একমত নন। ওবসিডিয়ান রিস্ক অ্যাডভাইজার্সের বিশ্লেষক ব্রেট এরিকসনের মতে, চলতি বছরের প্রথমার্ধে ইরান প্রায় ২৩ বিলিয়ন ডলার তেল রপ্তানি আয় করেছে। তাই শুধু অর্থনৈতিক চাপ দিয়ে তেহরানকে কাঙ্ক্ষিত সমঝোতায় আনতে পারবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কূটনৈতিক সমাধানকে অগ্রাধিকার দেন। তবে ইরান যদি হরমুজ প্রণালি বা যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখে, তাহলে সব ধরনের বিকল্পই খোলা থাকবে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক নেতৃত্বও দীর্ঘমেয়াদি অভিযানের ব্যয় ও গোলাবারুদের মজুদ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এরপরই ট্রাম্প সামরিক অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত রেখে আলোচনার পথ খোলা রাখেন। তবে মার্কিন প্রশাসনের অবস্থান স্পষ্ট, কূটনীতি ব্যর্থ হলে প্রয়োজনে সামরিক ও অর্থনৈতিক উভয় পথেই চাপ বাড়ানোর সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।