সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

ইরান

যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ, ব্রিটিশ নৌ ও বিমানবাহিনীকে স ন্ত্রাসী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করল ইরান
যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ, ব্রিটিশ নৌ ও বিমানবাহিনীকে স ন্ত্রাসী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করল ইরান

যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইরান। নিজেদের জাতীয় নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষার্থে ব্রিটিশ রাজকীয় নৌবাহিনী এবং রাজকীয় বিমানবাহিনীকে সন্ত্রাসী সংগঠনের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে তেহরান। একই সঙ্গে ব্রিটিশ বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা এমআই৬-কেও আনুষ্ঠানিকভাবে 'শত্রুভাবাপন্ন গোষ্ঠী' হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ১ নভেম্বর থেকে এই নির্দেশ কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার।   ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। বিবৃতিতে ব্রিটিশ সরকারের সাম্প্রতিক ইরানবিরোধী নীতি ও কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলা হয়, এসব পদক্ষেপ জাতিসংঘ সনদ ও আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। অন্য দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান না দেখিয়ে অবৈধ পদক্ষেপ গ্রহণের যে নীতি যুক্তরাজ্য অনুসরণ করছে, তার কড়া জবাব দিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষায় সরকার যে কোনো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলেও সেখানে উল্লেখ করা হয়।   ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদনের ভিত্তিতে এই পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তেহরানের অভিযোগ, গত এক বছর ধরে যুক্তরাজ্য ইরানের বিরুদ্ধে নানা শত্রুতামূলক কার্যক্রমে লিপ্ত রয়েছে। বিশেষ করে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধে অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে ব্রিটিশ ভূখণ্ডের সামরিক ঘাঁটি ও রসদ সরবরাহের সুযোগ দেওয়াকে এই ক্ষোভের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।   এছাড়া, ২০২৬ সালের ১৩ জুলাই যুক্তরাজ্যের 'স্টেট থ্রেটস অ্যাক্ট ২০২৬'-এর আওতায় ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীকে (আইআরজিসি) লক্ষ্যবস্তু করার সরাসরি প্রতিক্রিয়া হিসেবেই তেহরান এই পাল্টা পদক্ষেপ নিয়েছে।   আন্তর্জাতিক আইনের বিধান এবং পারস্পরিক পদক্ষেপ গ্রহণের নীতির আলোকেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে ইরান দাবি করেছে। পাল্টা ব্যবস্থা সংক্রান্ত আইনের আওতায় নেওয়া এই পদক্ষেপের ফলে দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তেহরান তাদের বিবৃতির শেষে স্পষ্টভাবে সতর্ক করে দিয়েছে যে, এই সিদ্ধান্তের ফলে উদ্ভূত যেকোনো পরিস্থিতির সম্পূর্ণ দায়ভার ব্রিটিশ সরকারকেই বহন করতে হবে।

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ৩১, ২০২৬ ১৪:০
ইরান পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার আলী নিকজাদ
ইরানের শক্তি মেনে নেওয়া ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের কোনো পথ নেই, হুঁশিয়ারি তেহরানের

যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক শক্তির বাস্তবতা মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার আলী নিকজাদ। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সামনে ইরানের শক্তি স্বীকার করা ছাড়া অন্য কোনো পথ নেই। একই সঙ্গে মার্কিন চাপের মুখে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে আলোচনায় বসার সম্ভাবনা নাকচ করেছেন তিনি। রোববার (১ নভেম্বর) ইরানের পার্লামেন্টের এক অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন নিকজাদ। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে তাঁর এই বক্তব্য সামনে এসেছে।   মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম রয়া নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পার্লামেন্টে বক্তব্য দেওয়ার সময় নিকজাদ দাবি করেন, ইরানের প্রতিরোধ সক্ষমতা ও সামরিক শক্তির কারণে যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্ররা নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে। তাঁর মতে, ওয়াশিংটনকে এখন ইরানের অবস্থান মেনে নিতে হবে। ইরানের সামরিক সক্ষমতা উপেক্ষা করে আঞ্চলিক সংকটের সমাধান সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।   যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে নিকজাদ বলেন, ইরানের শক্তি স্বীকার করা ছাড়া তাদের আর কোনো পথ নেই। তিনি আরও দাবি করেন, চলমান সংঘাতে শেষ পর্যন্ত ইরান নয়, যুক্তরাষ্ট্রকেই আত্মসমর্পণ করতে হবে। তবে তাঁর এই বক্তব্য রাজনৈতিক ও সামরিক অবস্থানসংক্রান্ত দাবি। যুক্তরাষ্ট্র আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কিংবা এমন কোনো আলোচনা চলছে, তার স্বাধীনভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।   ইরানের পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার বলেন, কোনো ধরনের চাপ বা পরিস্থিতির মুখেই তাঁর দেশ পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন আলোচনা করতে আগ্রহী নয়। তাঁর অভিযোগ, অতীতে তেহরান আলোচনার যথেষ্ট সুযোগ দিলেও ওয়াশিংটন বারবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে। একই সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় সামরিক হামলার ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে বর্ণনা করেন তিনি।   তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনার সুযোগ বর্তমানে বন্ধ হয়ে গেছে। তাঁর যুক্তি, ওয়াশিংটনের কাছে নতুন করে উপস্থাপন করার মতো কোনো প্রস্তাব নেই। অতীতের আলোচনা ও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়ার কারণেই তেহরান এই অবস্থান নিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।   নিকজাদ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা যদি আবার ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তাহলে তাৎক্ষণিক ও কার্যকর জবাব দেওয়া হবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য পাল্টা প্রতিক্রিয়া শুধু নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। তবে তিনি নতুন কোনো সামরিক অভিযান শুরুর নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা করেননি।   হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের সমালোচনা করেন ইরানের এই আইনপ্রণেতা। তিনি দাবি করেন, গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথে ইরানের সামরিক সক্ষমতা ও প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রকে বিবেচনায় নিতে হবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নির্ধারিত ব্যবস্থা মেনে নেওয়া এবং তেহরানের সাত দফা শর্ত পূরণ করাই চলমান সংঘাত নিরসনের পথ।   তবে নিকজাদের বক্তব্যে উল্লেখ করা সাত দফা শর্তের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ রয়া নিউজের প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়নি। ইরানের অন্যান্য সংবাদমাধ্যমে এসব শর্তের কথা উল্লেখ থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র সেগুলো গ্রহণ করেছে, এমন কোনো নিশ্চিত তথ্য নেই।    হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ। পারস্য উপসাগর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাস সরবরাহের ক্ষেত্রে এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বিরোধের কারণে এই জলপথে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব পড়তে পারে। এ কারণেই হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ ব্যবস্থা দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক বিরোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে রয়েছে।   ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মতবিরোধ চলছে। ওয়াশিংটন ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রমের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও যাচাইয়ের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে। অন্যদিকে তেহরান দাবি করে, তার পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে। ইরানের এই দাবি এবং পারমাণবিক কার্যক্রম নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ পৃথক বিষয়। ফলে কর্মসূচিটির ভবিষ্যৎ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে এখনো গুরুত্বপূর্ণ মতপার্থক্য রয়েছে।   নিকজাদের সর্বশেষ বক্তব্যের বিশেষ দিক হলো, তিনি শুধু পারমাণবিক আলোচনায় অনাগ্রহ প্রকাশ করেননি, বরং যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সামরিক সক্ষমতা মেনে নেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন। একই সঙ্গে নতুন হামলা হলে কঠোর পাল্টা প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তবে তাঁর বক্তব্যকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সব ধরনের কূটনৈতিক যোগাযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ হওয়ার ঘোষণা হিসেবে দেখা যাবে না। ইরানের অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তাদের অবস্থান ও পরবর্তী কূটনৈতিক কার্যক্রমও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।   ইরানের পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার আলী নিকজাদের বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান বিরোধে তেহরানের কঠোর অবস্থান নতুন করে সামনে এসেছে। পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় না বসার কথা জানানোর পাশাপাশি ইরানের সাত দফা শর্ত ও হরমুজ প্রণালিসংক্রান্ত ব্যবস্থা মেনে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।   সূত্র: রয়া নিউজ।

নুরুল্লাহ সাইদ অক্টোবর ৩১, ২০২৬ ১৪:০
ইরানের দাবি, কেশম দ্বীপের আকাশে মার্কিন এমকিউএম-১৭০ ড্রোন আটক করা হয়েছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
কেশম দ্বীপে অক্ষত অবস্থায় মার্কিন গোয়েন্দা ড্রোন আটক করল ইরান

দক্ষিণ ইরানের কেশম দ্বীপের আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি একটি এমকিউএম-১৭০ ড্রোন অক্ষত অবস্থায় আটক করার দাবি করেছে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। শুক্রবার বিকেলে উন্নত ইলেকট্রনিক যুদ্ধব্যবস্থা ব্যবহার করে ড্রোনটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর সেটি ভূপাতিত করা হয় বলে জানিয়েছে বাহিনীটির মহাকাশ বিভাগ। আইআরজিসির দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে এটি দ্বিতীয়বারের মতো এ ধরনের মার্কিন ড্রোন অক্ষত অবস্থায় তাদের নিয়ন্ত্রণে এসেছে।   আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ড্রোনটি কেশম দ্বীপের আকাশে শনাক্ত করার পর ইলেকট্রনিক যুদ্ধপ্রযুক্তির মাধ্যমে এর নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হয়। পরে বাহিনীর সদস্যরা সেটি অক্ষত অবস্থায় জব্দ করেন। তবে ড্রোনটি কী ধরনের নজরদারি কার্যক্রম চালাচ্ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেয়নি বাহিনীটি। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম পার্স টুডে এ খবর প্রকাশ করেছে।   এর আগে চলতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার হরমুজ প্রণালির পশ্চিম অংশে একই মডেলের আরেকটি মার্কিন ড্রোন নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করেছিল আইআরজিসির নৌবাহিনী। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ইউনিট ড্রোনটির দিকনির্ণয় ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সেটিকে নিরাপদে অবতরণ করায়। ড্রোনটি পারস্য উপসাগরীয় উপকূল এবং হরমুজ প্রণালির আশপাশে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা শনাক্ত করার কাজে নিয়োজিত ছিল বলেও দাবি করে বাহিনীটি।   আইআরজিসি নৌবাহিনীর দাবি, ড্রোন থেকে উদ্ধার করা তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এটি পারস্য উপসাগরের দক্ষিণ উপকূলের একটি দেশ থেকে উড্ডয়ন করেছিল। তবে কোন দেশ থেকে এটি উড়েছিল, তা প্রকাশ করা হয়নি। বৃহস্পতিবারের ড্রোন আটকের দাবি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী প্রত্যাখ্যান করেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স ইরানের বক্তব্যকে মিথ্যা বলে উল্লেখ করেন। শুক্রবার কেশম দ্বীপে ড্রোন আটকের নতুন দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।   এমকিউএম-১৭০ মডেলের ড্রোনটি যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিফন অ্যারোস্পেস নির্মিত ‘আউটল’ সিরিজের একটি চালকবিহীন আকাশযান। নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, এটি মূলত আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার পরীক্ষা, প্রশিক্ষণ এবং আকাশপথে সম্ভাব্য হুমকির অনুকরণে ব্যবহারের জন্য তৈরি। তবে প্রয়োজন অনুযায়ী এতে বিভিন্ন ধরনের সেন্সর ও ক্যামেরা যুক্ত করা যায়। ফলে ড্রোনটির প্রকৃত ব্যবহার সম্পর্কে নিশ্চিত হতে এর নির্দিষ্ট সরঞ্জাম ও মিশনসংক্রান্ত তথ্য জানা প্রয়োজন।   হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। পারস্য উপসাগর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাস পরিবহনের বড় অংশ এ পথ দিয়ে চলাচল করে। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার পাশাপাশি এ অঞ্চলে সামরিক তৎপরতা এবং ড্রোনসংক্রান্ত পাল্টাপাল্টি দাবি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। তবে কেশম দ্বীপে ড্রোন আটকের সর্বশেষ দাবির সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।   সূত্র: পার্স টুডে, আনাদোলু এজেন্সি ও যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের বক্তব্য।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ৩১, ২০২৬ ১৪:০
মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ফাঁকি দিয়ে দেড় বছরে ২০০ কোটি ডলারের সমরাস্ত্র আমদানি ইরানের
মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ফাঁকি দিয়ে দেড় বছরে ২০০ কোটি ডলারের সমরাস্ত্র আমদানি ইরানের

মার্কিন নৌ অবরোধ ও পশ্চিমা কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও ইরান তাদের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে একটি বিশাল গোপন নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। অন্তত পাঁচ হাজার প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে তৈরি এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ২০০ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের সামরিক সরঞ্জাম, বিস্ফোরক ও ভারী যানবাহন আমদানি করেছে দেশটি।   সম্প্রতি বার্তা সংস্থা রয়টার্স এবং ইসরায়েলি-আমেরিকান ঝুঁকি বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ২৪০ অ্যানালিটিকস-এর যৌথ অনুসন্ধানে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, নেটওয়ার্কের আওতাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর নামের শুরুতে ‘এমওডি’ (MOD) বা ফারসি ভাষায় ‘ভিওডিজেএ’ (VODJA) লেখা থাকে, যার সাথে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এবং প্রভাবশালী ব্যবসায়িক গোষ্ঠী ‘বুনিয়াদ’-এর সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে।   প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এসব প্রতিষ্ঠানের বেশিরভাগই ২০১৩ সালে গঠিত হলেও, নথিপত্রে কৌশলগত কারণে সেগুলোর প্রতিষ্ঠাকাল হিসেবে ১৯৭৯ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি (ইরানের ইসলামি বিপ্লবের দিন) উল্লেখ করা হয়। এই নেটওয়ার্ক মূলত তেল বিক্রির অর্থ ব্যবহার করে মধ্যস্থতাকারী এবং বিদেশি ভুয়া কোম্পানির মাধ্যমে চীন, রাশিয়া, জার্মানি ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে রকেটের কাঁচামাল, বিস্ফোরক এবং দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য যন্ত্রাংশ আমদানি করে।   বিশেষ করে, এমওডি ৩৪৬৪২৮ নামক প্রতিষ্ঠানটি একাই ২৩০ কোটি ডলারের সামরিক সরঞ্জাম আমদানি করেছে, যার মধ্যে রয়েছে ৪৩৫টি ইভেকো ট্রাক এবং হাজার হাজার টয়োটা পিকআপ, যা পরবর্তীতে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণযান হিসেবে রূপান্তরিত করা সম্ভব। অবাক করা বিষয় হলো, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে সংঘাত শুরুর পরও চীন ও রাশিয়া থেকে টাইটানিয়াম, নাইট্রোসেলুলোজ ও ডেটোনেটরের মতো সংবেদনশীল সামরিক কাঁচামালের সরবরাহ অব্যাহত ছিল।   বিশেষজ্ঞরা ইরানের এই গোপন সরবরাহব্যবস্থাকে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের বহর পুনর্গঠনের ‘শিল্প-পর্যায়ের উদ্যোগ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, তারা ইরানের আয়ের উৎস বন্ধ করতে কাজ করছেন এবং এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা ফাঁকির চেষ্টার ওপর কড়া নজর রাখছেন।   অন্যদিকে, চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে যে, তারা এই বিষয় সম্পর্কে অবগত নয় এবং আঞ্চলিক সংঘাতে তাদের জড়ানোর যেকোনো প্রচেষ্টার বিরোধিতা করে। তবে ইরান, রাশিয়া এবং হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ৩০, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরদিন, ৪ নভেম্বর থেকেই ইরানে নতুন করে সামরিক হামলা শুরু হওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে ওয়াশিংটন। ছবি: সংগৃহীত
৪ নভেম্বর থেকেই ইরানে নতুন হামলার আশঙ্কা, সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরদিন, ৪ নভেম্বর থেকেই ইরানে নতুন করে সামরিক হামলা শুরু হতে পারে। এমন সম্ভাবনার কথা জানিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি মিত্রদেশকে প্রস্তুত থাকার পরামর্শ দিয়েছে ওয়াশিংটন। মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে অবগত তিনজন জ্যেষ্ঠ উপসাগরীয় আরব কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এমএসনাউ। তবে ইরানে নতুন হামলার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্ভাব্য সামরিক অভিযান স্বল্পস্থায়ী হলেও অত্যন্ত তীব্র হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের এমন প্রস্তুতির খবরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে উপসাগরীয় দেশগুলো। তাদের আশঙ্কা, ইরানে নতুন হামলা হলে তেহরান পাল্টা প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নিতে পারে। এতে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি, জ্বালানি স্থাপনা এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নতুন করে হামলার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।   অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের পৃথক প্রতিবেদনে দুই কূটনীতিকের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, মার্কিন পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশকে সম্ভাব্য সামরিক অভিযান এবং ইরানের পাল্টা হামলার বিষয়ে সতর্ক করেছেন। কূটনীতিকেরা জানিয়েছেন, নতুন হামলা চালানো হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষ হওয়ার পর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা বিবেচনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন।   সম্ভাব্য সংঘাত এড়াতে যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক পদক্ষেপ থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করছে উপসাগরীয় দেশগুলো। এমএসনাউকে একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নিজেদের ভূখণ্ডে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ইরানের বিরুদ্ধে হামলায় ব্যবহারের অনুমতি দিতে কয়েকটি দেশ আপত্তি জানাতে পারে। তাদের আশঙ্কা, এসব ঘাঁটি থেকে অভিযান চালানো হলে ইরান সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকেও সংঘাতের অংশ হিসেবে বিবেচনা করতে পারে। এতে পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।   নতুন সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা এমএসনাউকে জানান, সম্ভাব্য সংবেদনশীল সামরিক পরিকল্পনা নিয়ে প্রশাসন মন্তব্য করে না। তবে ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সব ধরনের বিকল্প খোলা রেখেছেন। এর আগে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে নতুন হামলা চালাবে না। ফলে নির্বাচনের পর সামরিক অভিযান শুরু হতে পারে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতে আলোচনা চলছে।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সম্ভাব্য নতুন হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে একাধিক সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। এবিসি নিউজ ও ন্যাশনাল পাবলিক রেডিওর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নভেম্বরের শুরুতে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। নিউইয়র্ক টাইমসের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা, জ্বালানি অবকাঠামো এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মজুত সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব পরিকল্পনার কোনোটি বাস্তবায়ন করা হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।   চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে ইরানকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের সামরিক সংঘাত শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে পাল্টা হামলা চালায়। সংঘাতের প্রভাবে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয় এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়। যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রেও পড়েছে। বিশেষ করে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ভোটারদের উদ্বেগের মধ্যে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নতুন সামরিক অভিযান থেকে বিরত থাকার ঘোষণা দেন ট্রাম্প।   অন্যদিকে ইরানও নতুন মার্কিন হামলার বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। শনিবার ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মোহাম্মদ আকরামিনিয়া সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আবার সামরিক অভিযান শুরু করলে সংঘাত আরও বিস্তৃত অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে পারে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিও দেশের জনগণের ওপর হামলা হলে সশস্ত্র বাহিনী জবাব দেবে বলে জানিয়েছেন। একই সময়ে কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টা চলছে বলে খবর পাওয়া গেছে।   কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেও সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা কাটেনি। যুক্তরাষ্ট্রের ৩ নভেম্বরের নির্বাচনকে ঘিরে পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, সেদিকে নজর রাখছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো। তবে ৪ নভেম্বর হামলা শুরু হওয়ার সম্ভাবনার কথা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হলেও এটি কোনো ঘোষিত সামরিক অভিযানের তারিখ নয়। নতুন হামলার বিষয়ে ওয়াশিংটনের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তও এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

তাবাস্সুম অক্টোবর ৩০, ২০২৬ ১৪:০
ইরান সংঘাতে নি হত মার্কিন সেনার সংখ্যা বেড়ে ২৩, আহত ৮৬৫ জনের বেশি
ইরান সংঘাতে নি হত মার্কিন সেনার সংখ্যা বেড়ে ২৩, আহত ৮৬৫ জনের বেশি

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর থেকে মার্কিন বাহিনীর হতাহতের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় (পেন্টাগন) তাদের হালনাগাদ করা হতাহতের তালিকায় আরও দুই সেনার নাম যুক্ত করেছে। এর ফলে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক সংঘাত-সংশ্লিষ্ট ঘটনায় নিহত মার্কিন সেনার সরকারি সংখ্যা বেড়ে ২৩ জনে দাঁড়িয়েছে।   পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, সদ্য যুক্ত হওয়া দুই মার্কিন সেনার মৃত্যুই হয়েছে যুদ্ধবহির্ভূত কারণে। এদের মধ্যে একজন সেনাসদস্য অসুস্থতাজনিত কারণে মারা গেছেন এবং অপরজনের মৃত্যুর কারণ এখনো তদন্তাধীন রয়েছে। নতুন এই দুই মৃত্যুর ঘটনা যুক্ত হওয়ার ফলে পেন্টাগনের প্রকাশিত পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, নিহত মোট সেনার অর্ধেকের বেশি অ-যুদ্ধজনিত বা যুদ্ধবহির্ভূত ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন।   মোট ২৩ জন নিহত মার্কিন সেনার মধ্যে ১১ জন সরাসরি শত্রুর হামলায় বা সংঘাতে নিহত হয়েছেন এবং বাকি ১২ জন অ-যুদ্ধজনিত প্রাণহানির তালিকায় রয়েছেন।   পেন্টাগন সাধারণত সরাসরি শত্রুর আঘাত ছাড়া বিমান বা যানবাহন দুর্ঘটনা থেকে শুরু করে অসুস্থতাজনিত কারণে মৃত্যু হলে সেটিকে ‘অ-যুদ্ধজনিত’ মৃত্যু হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করে। তবে সামরিক অভিযান চলাকালীন এসব ঘটনা ঘটায় এগুলোকেও যুদ্ধের মোট প্রাণহানির অংশ হিসেবেই গণনা করা হয়।   পেন্টাগনের 'ডিফেন্স ক্যাজুয়ালটি অ্যানালাইসিস সিস্টেম' (DCAS)-এর তথ্য অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে এই সংঘাতে আরও ৮৬৫ জন মার্কিন সেনাসদস্য আহত হয়েছেন। এর মধ্যে অর্ধেকের বেশি, অর্থাৎ ৪৪৮ জন আহত হয়েছেন গত ৭ জুলাই যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে।

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ৩০, ২০২৬ ১৪:০
ইরানের বুশেহর পারমাণবিক কেন্দ্রে আরও ৫০৮ বিশেষজ্ঞ পাঠাচ্ছে রাশিয়া
ইরানের বুশেহর পারমাণবিক কেন্দ্রে আরও ৫০৮ বিশেষজ্ঞ পাঠাচ্ছে রাশিয়া

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কার্যকারিতা ও সক্ষমতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে সেখানে নতুন করে আরও ৫০৮ জন বিশেষজ্ঞ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাশিয়া। দেশটির রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি সংস্থা রোসাটম কেন্দ্রটিতে কর্মরত জনবলের সংখ্যা বাড়িয়ে ৭০০ জনে উন্নীত করার যে বৃহৎ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, তারই অংশ হিসেবে এই নতুন বিশেষজ্ঞদের যুক্ত করা হচ্ছে।   মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মেহের নিউজ এজেন্সির এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদন থেকে দুই দেশের পরমাণু খাতের এই ক্রমবর্ধমান সহযোগিতার তথ্যটি সামনে এসেছে।   রোসাটমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অ্যালেক্সি লিখাচেভ এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে রুশ কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার কোনো চিন্তাভাবনা মস্কোর নেই। বরং কেন্দ্রটির বিদ্যুৎ উৎপাদন ও পরিচালন সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য সুনির্দিষ্ট ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।   বর্তমানে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটির নির্মাণ ও আনুষঙ্গিক সেবা কার্যক্রমে ১৯২ জন রুশ বিশেষজ্ঞ নিয়োজিত রয়েছেন। নতুন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে তাদের সঙ্গে যুক্ত হবেন আরও ৫০৮ জন বিশেষজ্ঞ, যা লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী মোট কর্মীর সংখ্যা ৭০০ জনে নিয়ে যাবে। এর পাশাপাশি কেন্দ্রটিতে নতুন কয়েকটি বিদ্যুৎ ইউনিট নির্মাণের স্থান নির্ধারণ নিয়ে ইতোমধ্যেই আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে বলেও জানা গেছে।   রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে কৌশলগত এই সহযোগিতার খবরটি এমন এক সময়ে প্রকাশ্যে এল, যখন গ্যাস রপ্তানিকারক দেশগুলোর ফোরামের শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে মস্কো সফর করছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। সফরকালে তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠকও করেছেন।   এর আগে, সিআইএস শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে পুতিনের সঙ্গে আলোচনার পর রোসাটমের প্রধান ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, ইরানে ছোট ও বড় আকারের আরও বেশ কয়েকটি নতুন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের বিষয়টি গভীরভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, সর্বশেষ এই উদ্যোগের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পশ্চিমা নানা বিধি-নিষেধের মুখেও রাশিয়া ও ইরানের পারমাণবিক খাতের কৌশলগত মিত্রতা আরও সুদৃঢ় হওয়ার সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে।

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ২৮, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হা মলার পর ইরানের ৪৪০ কেজি ইউরেনিয়ামের হিসাব পাচ্ছে না আইএইএ
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হা মলার পর ইরানের ৪৪০ কেজি ইউরেনিয়ামের হিসাব পাচ্ছে না আইএইএ

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) জানিয়েছে, ইরানের কাছে থাকা ৪৪০ কেজি উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের কোনো হদিস মিলছে না। গত বছরের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলার পর আইএইএর পরিদর্শকেরা ইরান ছাড়তে বাধ্য হলে পারমাণবিক উপাদানগুলোর সুনির্দিষ্ট হিসাব যাচাই করা অসম্ভব হয়ে পড়ে।   মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে প্রথমবারের মতো এক ব্রিফিংয়ে এই গুরুতর উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন সংস্থাটির মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি। তিনি জানান, সুরক্ষা চুক্তির আওতায় থাকা এসব পারমাণবিক উপাদান অন্য কোথাও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে কি না, তা এক বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সংস্থাটি স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।   পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধে আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘনের অভিযোগে গত ২০ বছরের মধ্যে এবারই প্রথম ইরানকে নিরাপত্তা পরিষদে তোলা হলো। গত মাসে আইএইএর পরিচালনা পর্ষদে ২৩টি দেশের সমর্থনে একটি প্রস্তাব পাস করে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিরাপত্তা পরিষদে পাঠানো হয়। তবে তেহরান শুরু থেকেই এই সিদ্ধান্তকে 'রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বেআইনি' আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করে আসছে।   গ্রোসি জানান, সামরিক হামলার পর পরিদর্শকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে তাদের প্রত্যাহার করা হলে যাচাই কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। তবে আইএইএর পরিদর্শকেরা গত কয়েক মাস ধরেই ইরানে ফিরে গিয়ে তাদের অসমাপ্ত কাজ শুরু করতে পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছেন।   ইরানের পারমাণবিক সংকট সমাধানে আঞ্চলিক কূটনীতির কথাও তুলে ধরেন আইএইএ প্রধান। তিনি ওমান, পাকিস্তান, কাতার ও মিসরের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করে জানান, ২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির পৃষ্ঠপোষকতায় কায়রো চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল।   এই চুক্তি সামরিক হামলার পর ইরানের নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ নিরসন এবং পারমাণবিক যাচাই কার্যক্রম পুনরায় চালুর ক্ষেত্রে একটি বাস্তবসম্মত পথ তৈরি করেছিল। হামলায় ফোরদো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র, নাতাঞ্জের প্রধান ও পরীক্ষামূলক কেন্দ্র, ইসফাহান কমপ্লেক্স এবং খোন্দাবের ভারী পানি গবেষণা চুল্লি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দূরবর্তী নজরদারি ব্যবস্থায় এসব স্থাপনা পুনর্নির্মাণের কোনো প্রমাণ পাওয়া না গেলেও, প্রকৃত অবস্থা জানতে সরাসরি পরিদর্শনের কোনো বিকল্প নেই বলে সতর্ক করেন গ্রোসি।   সার্বিক উদ্বেগের মধ্যেও বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কিছু ইতিবাচক অগ্রগতির কথা জানিয়েছে আইএইএ। সেখানে বর্তমানে পরিদর্শকেরা কাজ করছেন এবং ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানি আগামী বছরের শুরুতে নতুন শুষ্ক সংরক্ষণাগারে স্থানান্তরের বিষয়ে ইরানি আণবিক শক্তি কর্তৃপক্ষ সহযোগিতা করছে।   তবে ইসফাহান জ্বালানি সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে একাধিক অনুরোধ সত্ত্বেও তেহরানের সাড়া মেলেনি। আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে গ্রোসি জোর দিয়ে বলেন, আইএইএর যাচাই কার্যক্রম ছাড়া ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই কূটনৈতিক সমঝোতা সম্ভব নয়। পারস্পরিক আস্থা ফেরাতে এবং বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধে তিনি ইরানের বৈধ নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ বিবেচনায় নিয়ে তেহরানকে ধাপে ধাপে কারিগরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ২৮, ২০২৬ ১৪:০
মধ্যপ্রাচ্যের ১৩ দেশে ভ্রমণ সতর্কতা জারি যুক্তরাষ্ট্রের
ইরান-সমর্থিত হুথিদের হা মলার আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যের ১৩ দেশে মার্কিন নাগরিকদের জন্য সতর্কতা জারি

মধ্যপ্রাচ্যের ১৩টি দেশের জন্য ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীর সম্ভাব্য সশস্ত্র হা মলা, মার্কিন নাগরিকদের লক্ষ্য করে হুমকি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের কারণে এই সতর্কতা দিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর। এর মধ্যে পাঁচটি দেশে মার্কিন নাগরিকদের ভ্রমণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অন্য আটটি দেশের ক্ষেত্রে ভ্রমণ পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করতে বলা হয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের চার স্তরের ভ্রমণ সতর্কতা ব্যবস্থায় ইরান, ইরাক, লেবানন, সিরিয়া ও ইয়েমেনকে সর্বোচ্চ ঝুঁকির ‘লেভেল ৪’ পর্যায়ে রাখা হয়েছে। এই স্তরের অর্থ, এসব দেশে ভ্রমণ না করার পরামর্শ দিচ্ছে মার্কিন সরকার। অন্যদিকে ইসরায়েল, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ আরও আটটি দেশ রয়েছে ‘লেভেল ৩’ সতর্কতার আওতায়। এসব দেশে যাওয়ার আগে ভ্রমণকারীদের পরিকল্পনা নতুন করে বিবেচনা করতে বলা হয়েছে। সতর্কতার মাত্রা অধিকাংশ দেশের ক্ষেত্রে অপরিবর্তিত থাকলেও গত শুক্রবার ১৩টি দেশের জন্য নির্দেশনাগুলো হালনাগাদ করা হয়। নতুন তথ্যের মধ্যে রয়েছে ইরান-সমর্থিত হুথিদের সাম্প্রতিক হামলার আশঙ্কা এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ। সতর্কবার্তায় সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের বিমানবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হুথিদের হামলার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। এসব হামলায় বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি এবং যাতায়াত ব্যবস্থায় ব্যাপক বিঘ্ন ঘটেছে বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। সংস্থাটি আরও সতর্ক করেছে, চলমান স ং ঘা ত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে তাৎক্ষণিক এলাকার বাইরেও পরিস্থিতি জটিল করে তুলতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যে ভ্রমণকারীদের জন্য সম্ভাব্য হুমকি শুধু সশস্ত্র হা মলায় সীমাবদ্ধ নয়। ইরান, ইরাক, লেবানন, সিরিয়া ও ইয়েমেনে অপ হ র ণ এবং জিম্মি করার ঝুঁকির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি ইরান, ইরাক, ইসরায়েল, লেবানন, সিরিয়া ও ইয়েমেনে নাগরিক অস্থিরতার আশঙ্কা রয়েছে বলে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরাক ও ইয়েমেনে স্বাস্থ্যসংক্রান্ত ঝুঁকির বিষয়টিও ভ্রমণকারীদের বিবেচনায় রাখতে বলা হয়েছে। এসব দেশে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন এমন মার্কিন নাগরিকদের ‘স্মার্ট ট্রাভেলার এনরোলমেন্ট প্রোগ্রাম’ বা এসটিইপিতে নিবন্ধনের পরামর্শ দিয়েছে পররাষ্ট্র দপ্তর। এই কর্মসূচিতে নাম নিবন্ধন করলে সংশ্লিষ্ট দেশে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটের কাছ থেকে নিরাপত্তা সতর্কতা এবং জরুরি পরিস্থিতির হালনাগাদ তথ্য পাওয়া যায়। পরিস্থিতির অবনতি হলে কীভাবে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে হবে, সে প্রস্তুতি আগেই রাখার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। ভ্রমণকারীদের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর নিয়মিত অনুসরণ করতে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দেশ ছাড়ার জন্য বিকল্প পরিকল্পনা রাখতে বলা হয়েছে। বিশেষভাবে জানানো হয়েছে, জরুরি প্রস্থানের পরিকল্পনা যেন মার্কিন সরকারের সহায়তার ওপর নির্ভরশীল না হয়। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর জন্য এই সতর্কতার আগে আরও কয়েকটি দেশের ভ্রমণ নির্দেশনা পরিবর্তন করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। গত সপ্তাহে কেনিয়ার জন্য সতর্কতার মাত্রা ‘লেভেল ২’ থেকে বাড়িয়ে ‘লেভেল ৩’ করা হয়। অপরাধ, স্বাস্থ্যঝুঁকি, নাগরিক অস্থিরতা, অপ হ র ণ এবং সন্ত্রাসবাদের আশঙ্কাকে এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। চীন ভ্রমণকারী মার্কিন নাগরিকদের জন্যও সতর্কতা রয়েছে। দেশটিতে অন্যায়ভাবে আ ট ক হওয়া, ইলেকট্রনিক নজরদারি এবং এমন বিধিনিষেধের ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে, যা কোনো ব্যক্তিকে চীন ছেড়ে যেতে বাধা দিতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের ১৩টি দেশের জন্য এই সতর্কতা এমন সময়ে এসেছে, যখন অঞ্চলটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ রয়েছে। তবে সতর্কতা জারি বা নির্দেশনা হালনাগাদ করার অর্থ এই নয় যে প্রতিটি দেশের ঝুঁকির মাত্রা নতুন করে বাড়ানো হয়েছে। অধিকাংশ দেশের সতর্কতার স্তর অপরিবর্তিত থাকলেও নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে নতুন তথ্য যুক্ত করা হয়েছে।

অলিনা রহমান অক্টোবর ২৬, ২০২৬ ১৪:০
ইরানের মিনাবের শিশুদের প্রসঙ্গ তুলে ভ্যান্সকে কটাক্ষ ইরানি দূতাবাসের
বড় হয়ে বাবাকে জিজ্ঞেস করো, কেন মিনাবের শিশুদের মৃ ত্যুতে শোক জানাননি, ভ্যান্সের ছেলেকে ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের শিশুপুত্রকে ঘিরে তীব্র কটাক্ষ করেছে ঘানায় অবস্থিত ইরানের দূতাবাস। ভ্যান্সের ছেলে অ্যালেকের জন্মকে স্বাগত জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ইরানের মিনাব শহরে স্কুলে হা মলায় নি হ ত শিশুদের প্রসঙ্গ তুলে ধরেছে দূতাবাসটি। একই সঙ্গে ওই ঘটনার পর ভ্যান্সের নীরবতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে তারা। গত ২৫ অক্টোবর দূতাবাসের এক্স অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত বার্তাটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।   ইরানের দূতাবাসের পোস্টে লেখা হয়েছে, ‘পৃথিবীতে স্বাগত, অ্যালেক। তুমি উষ্ণতা ও নিরাপত্তার মধ্যে বড় হবে। আমরা প্রার্থনা করি, তোমার মা যখন তোমাকে গর্ভে ধারণ করেছিলেন, তখন তোমার বাবা যে প্রশাসনের অংশ ছিলেন, তারা ইরানের শিশুদের সঙ্গে কী করেছে, তা যেন তোমাকে কখনো জানতে না হয়।’ এরপর মিনাবে নি হ ত শিশুদের প্রসঙ্গ টেনে দূতাবাসটি বলে, বড় হয়ে এসব ঘটনা জানতে পারলে অ্যালেক যেন তাঁর বাবাকে জিজ্ঞেস করেন, কেন তিনি ওই শিশুদের মৃ ত্যুতে শোক প্রকাশ করেননি। দূতাবাসের দাবি, সেই প্রশ্নের উত্তর ভ্যান্স দিতে পারবেন না। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও তাঁর স্ত্রী উষা ভ্যান্সের চতুর্থ সন্তান অ্যালেক নীল ভ্যান্সের জন্ম হয় গত ১৯ জুলাই। মেরিল্যান্ডের ওয়াল্টার রিড ন্যাশনাল মিলিটারি মেডিকেল সেন্টারে শিশুটির জন্মের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ভ্যান্স। সে সময় তিনি জানান, মা ও নবজাতক দুজনই সুস্থ আছেন। তাঁদের আরও তিন সন্তান রয়েছে। সন্তানের জন্মের তিন মাসের বেশি সময় পর ইরানের দূতাবাসের এমন রাজনৈতিক বার্তা নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনাকে সামনে এনেছে। ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমোজগান প্রদেশের মিনাব শহরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভয়াবহ হা মলা হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর দিনেই শাজারেহ তাইয়েবেহ নামের বিদ্যালয়টি আক্রান্ত হয়। ওই হা মলায় বিপুলসংখ্যক শিশু ও শিক্ষক নি হ ত হন। ইরানি কর্তৃপক্ষ প্রথম থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করে আসছে। জাতিসংঘের একটি তদন্ত প্রতিবেদনে বিশ্বাসযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে ১৫৭ জন নি হ ত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যাঁদের মধ্যে ১২৩ জন শিশু।   হা মলার পর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর প্রাথমিক তদন্তেও মার্কিন বাহিনীর সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, হা মলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী দায়ী হয়ে থাকতে পারে বলে তদন্তকারীরা মনে করছেন। পরবর্তী সময়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদ গঠিত স্বাধীন তদন্ত দল জানায়, বিদ্যালয়টিতে হা মলার জন্য যুক্তরাষ্ট্র দায়ী ছিল বলে বিশ্বাস করার যুক্তিসংগত ভিত্তি রয়েছে। তদন্ত দল ঘটনাটিকে যু দ্ধ অ প রা ধ হিসেবে বিবেচনারও ভিত্তি পেয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র সরকার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে হা মলার দায় স্বীকার করেনি। মিনাবের ওই হা মলা নিয়ে পেন্টাগনের তদন্ত প্রতিবেদনও এখনো প্রকাশ করা হয়নি। গত ১৬ অক্টোবর প্রকাশিত ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তদন্তের ফল প্রকাশ না করার পরিকল্পনা রয়েছে পেন্টাগনের শীর্ষ পর্যায়ে। যদিও এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। পেন্টাগন জানিয়েছে, তদন্ত এখনো চলমান। এদিকে হা মলার ঘটনায় জবাবদিহি ও পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন মার্কিন আইনপ্রণেতাদের একাংশ। মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সন্তান জন্মের সংবাদকে কেন্দ্র করে ইরানি কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের এমন মন্তব্য এবারই প্রথম নয়। গত মে মাসে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিটের কন্যাসন্তানের জন্মের পর আর্মেনিয়ায় অবস্থিত ইরানের দূতাবাস একই ধরনের বার্তা দিয়েছিল। সেখানেও মিনাবে নি হ ত শিশুদের কথা উল্লেখ করে লেভিটকে তাদের মায়েদের কষ্টের কথা স্মরণ করতে বলা হয়। এবার ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সের শিশুপুত্রকে উদ্দেশ করে দেওয়া বার্তায় সেই একই ঘটনার প্রসঙ্গ সামনে আনল ইরান। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান বিরোধে মিনাবের বিদ্যালয়ে হা মলা বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা ও সামরিক অভিযানের জবাবদিহি নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। ইরান ঘটনাটিকে মার্কিন সামরিক অভিযানের মানবিক ক্ষয়ক্ষতির উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরছে। অন্যদিকে ওয়াশিংটনের বক্তব্য, মার্কিন বাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করে না। দুই দেশের পাল্টাপাল্টি অবস্থানের মধ্যেই ভ্যান্সের শিশুপুত্রকে ঘিরে ইরানি দূতাবাসের বার্তা নতুন করে কূটনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

অলিনা রহমান অক্টোবর ২৬, ২০২৬ ১৪:০
হামলা বন্ধের শর্তে হুথিদের ১০০ কোটি ডলার দেওয়ার প্রস্তাব সৌদির
হামলা বন্ধের শর্তে হুথিদের ১০০ কোটি ডলার দেওয়ার প্রস্তাব সৌদির

ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর হামলা বন্ধ এবং যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে ১০০ কোটি ডলার দেওয়ার প্রস্তাব করেছে সৌদি আরব। ইরানের মধ্যস্থতায় এই অর্থ হুথিদের কাছে পৌঁছানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানিয়েছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ইসরায়েল হায়োম। তবে সৌদি সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব বা কোনো অর্থ হস্তান্তরের কথা নিশ্চিত করেনি। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) প্রকাশিত আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এই দাবি সামনে আসে।   ইসরায়েল হায়োমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমানের তেহরান সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল হুথিদের সঙ্গে সংঘাত বন্ধের সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে আলোচনা করা। কূটনৈতিক সূত্রগুলোর দাবি, সৌদি আরবের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা বন্ধের বিনিময়ে হুথিদের ১০০ কোটি ডলার দেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। তবে প্রস্তাবের পূর্ণাঙ্গ শর্ত, অর্থ পরিশোধের পদ্ধতি কিংবা হুথিদের সম্মতির বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য জানা যায়নি।   প্রতিবেদনে একজন কূটনৈতিক সূত্র দাবি করেছেন, সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী একটি হারকিউলিস সামরিক পরিবহন বিমানে করে প্রস্তাবিত ১০০ কোটি ডলার তেহরানে নিয়ে গিয়েছিলেন। তবে এই দাবির পক্ষে স্বাধীন প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি। একজন সৌদি কর্মকর্তাও অর্থ হস্তান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করেননি।   এর মধ্যে সোমবার (২৬ অক্টোবর) সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান ইরানের রাজধানী তেহরানে উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় অংশ নেন। বৈঠকে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং তুরস্কের গোয়েন্দাপ্রধান ইব্রাহিম কালিনও উপস্থিত ছিলেন। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ দেশটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সংঘাত কমানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।   সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির সদস্যদেশগুলোর এই সফরের লক্ষ্য মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানো এবং কূটনৈতিক সমাধানের পথ তৈরি করা। পাশাপাশি কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতা প্রচেষ্টাকে সমর্থন দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। তবে সরকারি বিবৃতিতে হুথিদের ১০০ কোটি ডলার দেওয়ার কোনো প্রস্তাবের উল্লেখ নেই।    সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে বিরোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আগের সমঝোতা বাস্তবায়ন। ইসরায়েল হায়োমকে দেওয়া বক্তব্যে একজন সৌদি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রায় তিন বছর আগে হওয়া সমঝোতা বাস্তবায়ন না হওয়াই বর্তমান সংঘাতের অন্যতম কারণ। ওই সমঝোতায় হুথিনিয়ন্ত্রিত এলাকার সরকারি কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ এবং বেসামরিক অবকাঠামো পুনর্গঠনে আর্থিক সহায়তার বিষয় ছিল।   হুথি গোষ্ঠীর অভিযোগ, সৌদি আরব আগের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেনি। অন্যদিকে সৌদি কর্তৃপক্ষের অবস্থান হলো, সামরিক হামলার চাপের মুখে নতুন যুদ্ধবিরতিতে যেতে চায় না রিয়াদ। ফলে সম্ভাব্য আর্থিক সহায়তা পুরোনো সমঝোতা বাস্তবায়নের অংশ, নাকি নতুন যুদ্ধবিরতির বিনিময়ে আলাদা প্রস্তাব—সে বিষয়টিও স্পষ্ট নয়।   এদিকে সৌদি আরবের ওপর হুথিদের হামলা অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট জানিয়েছে, দেশটির পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চল লক্ষ্য করে ছোড়া তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং চারটি ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে। এর আগের দিন হুথিরা সৌদি আরবের তেল পরিবহন অবকাঠামো ও রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলা চালানোর দাবি করেছিল। তবে সব হামলার দাবি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।   ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীর সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাত নতুন নয়। ২০১৫ সালে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিয়ে সামরিক অভিযানে নামে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর বড় ধরনের সংঘাত কমে আসে। কিন্তু সাম্প্রতিক মাসগুলোতে নতুন করে হামলা ও পাল্টা সামরিক অভিযানে পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।   বিশেষ করে সৌদি আরবের বিমানবন্দর, তেল স্থাপনা এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার কারণে দেশটির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। একই সঙ্গে ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূল এবং বাব এল-মান্দেব প্রণালির কাছে সংঘাত আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল ও জ্বালানি সরবরাহের জন্য ঝুঁকি তৈরি করেছে।   এই পরিস্থিতিতে তেহরানে সৌদি আরব, পাকিস্তান, তুরস্ক ও ইরানের উচ্চপর্যায়ের আলোচনা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানোর নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলো আলোচনা অব্যাহত রাখতে সম্মত হয়েছে। তবে হুথিদের সঙ্গে নতুন যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে কিংবা অর্থের বিনিময়ে হামলা বন্ধের চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে, এমন কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।   সব মিলিয়ে হুথিদের ১০০ কোটি ডলার দেওয়ার খবর এখনো কূটনৈতিক সূত্রনির্ভর একটি দাবি। সৌদি আরব তেহরানে শান্তি আলোচনা চালানোর বিষয়টি নিশ্চিত করলেও প্রস্তাবিত অর্থের অঙ্ক কিংবা অর্থ হস্তান্তরের তথ্য নিশ্চিত করেনি। ফলে হুথিরা এই প্রস্তাব গ্রহণ করবে কি না এবং নতুন যুদ্ধবিরতি সম্ভব হবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত।

নুরুল্লাহ সাইদ অক্টোবর ২৬, ২০২৬ ১৪:০
তেহরানে আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনায় তিন দেশের প্রতিনিধিরা
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের আশঙ্কার মধ্যেই তেহরানে যাচ্ছে সৌদি, পাকিস্তান ও তুরস্কের শীর্ষ কর্মকর্তারা

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘা ত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কার মধ্যে ইরানের রাজধানী তেহরানে বৈঠকে বসছেন সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের শীর্ষ কর্মকর্তারা। সোমবারের এই বৈঠকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, চলমান উত্তেজনা কমানো এবং কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে সংকট মোকাবিলার বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ার পাশাপাশি ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠীর ধারাবাহিক হা মলায় সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে তিন দেশের প্রতিনিধিদের তেহরান সফর মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক তৎপরতায় নতুন গুরুত্ব তৈরি করেছে।   বৈঠকে সৌদি আরবের প্রতিনিধিত্ব করবেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে অংশ নেবেন দেশটির সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। তুরস্কের প্রতিনিধিদলে থাকবেন দেশটির গোয়েন্দাপ্রধান ইব্রাহিম কালিন। ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁদের আলোচনার মূল লক্ষ্য হবে আঞ্চলিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং উত্তেজনা কমানোর সম্ভাব্য পথ খুঁজে বের করা। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, আলোচনায় ইসরায়েলের সম্প্রসারণবাদী নীতি, ফিলিস্তিন ও লেবাননের পরিস্থিতি এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপের প্রভাব উঠে আসবে। ইরানের নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সঙ্গে বৈঠকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবেন তিন দেশের প্রতিনিধিরা। ইরানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের গত সপ্তাহের তেহরান সফরের সময় এই বৈঠকের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। ওই সফরে মুনির ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ দেশটির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন। ইরানের পক্ষ থেকে তখন জানানো হয়েছিল, তেহরানের দাবিগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসার বিষয়ে তারা আগ্রহী নয়। সৌদি আরবের জনকূটনীতি বিষয়ক উপমন্ত্রী রায়েদ ক্রিমলি বলেছেন, মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির সদস্য দেশগুলোর চলমান উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এই বৈঠক হচ্ছে। এর লক্ষ্য আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানো, কূটনৈতিক সমাধানের পথ তৈরি এবং কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টাকে সমর্থন করা। তাঁর মতে, মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় চুক্তির সদস্য দেশগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ লক্ষ্য অর্জনে তারা অঞ্চলের অন্য দেশগুলোর সঙ্গেও কাজ করতে আগ্রহী। গত আগস্টে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ শর্ত অনুযায়ী, সদস্য দেশগুলোর কোনো একটির ওপর সশস্ত্র হা মলাকে সব সদস্যের ওপর হা মলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। সদস্য দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমান্ত রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাকিস্তান সম্প্রতি চুক্তিটি অনুমোদন করেছে। তুরস্কের পার্লামেন্টেও এটি অনুমোদনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই চুক্তির গুরুত্ব বেড়েছে সৌদি আরবের ওপর ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা চাপের কারণে। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠী সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে তাদের হা মলা জোরদার করেছে। রোববার সৌদি আরবের দিকে ছোড়া আরও এক দফা ক্ষে প ণা স্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে দেশটি। এর আগে চলতি মাসে রিয়াদে মক্কা চুক্তির সদস্য দেশগুলোর মন্ত্রীরা জরুরি বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে সৌদি আরবে সামরিক বাহিনী ও প্রয়োজনীয় সক্ষমতা দ্রুত মোতায়েনের বিষয়ে একমত হন তাঁরা। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক অভিযানের সম্ভাবনার কথা বলেন। জবাবে ইরানের নেতারা সতর্ক করে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে সামরিক পদক্ষেপ নিলে তেহরান আগের চেয়ে আরও কঠোর জবাব দেবে। ইরানের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের সমুদ্রতলের যোগাযোগ কেবল লক্ষ্য করে পাল্টা পদক্ষেপের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন। এসব পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর সংঘা তের আশঙ্কা বাড়াচ্ছে। সংকট নিরসনে কূটনৈতিক তৎপরতাও চলছে। রোববার কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা তেহরানে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। কয়েক মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে কাতার। এর আগে পাকিস্তান ও কাতারের উদ্যোগে জুনে একটি অন্তর্বর্তী শান্তি সমঝোতা হয়েছিল। তবে কয়েক সপ্তাহ পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আবার লড়াই শুরু হওয়ায় সেই সমঝোতা টেকেনি। তিন দেশের প্রতিনিধিদের এবারের বৈঠক থেকে তাৎক্ষণিক কোনো সমঝোতা আসবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে সৌদি আরবের নিরাপত্তা উদ্বেগ, হুতি গোষ্ঠীর ধারাবাহিক হা মলা এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার মধ্যে এই আলোচনা আঞ্চলিক কূটনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বৈঠকে উত্তেজনা কমানোর কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হলে তা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার প্রচেষ্টায় ভূমিকা রাখতে পারে।

অলিনা রহমান অক্টোবর ২৫, ২০২৬ ১৪:০
ভারত মহাসাগরে শ্রীলঙ্কার উপকূলের কাছে থাকা জাহাজ থেকে আসা ৪০ ইরানি নাবিককে চিকিৎসা দিয়ে দেশে ফেরত পাঠিয়েছে শ্রীলঙ্কা। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ভারত মহাসাগরে আটকে পড়া ৪০ ইরানি নাবিককে উদ্ধার করে চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরত পাঠাল শ্রীলঙ্কা

ভারত মহাসাগরে শ্রীলঙ্কার উপকূলের কাছে আটকে থাকা জাহাজগুলো থেকে আসা ৪০ ইরানি নাবিককে চিকিৎসাসেবা দিয়ে দেশে ফেরত পাঠিয়েছে শ্রীলঙ্কা। জরুরি চিকিৎসার অনুরোধ পাওয়ার পর গত শনিবার তাঁদের দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় গলে বন্দরে নেওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে রোববার ভোরে তাঁরা ইরানের উদ্দেশে রওনা হন। শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র থুশারা রদ্রিগো রোববার এ তথ্য জানান বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)।   রদ্রিগো জানান, নাবিকদের উপকূলে নিয়ে আসার জন্য ইরানি দূতাবাস ও স্থানীয় জাহাজ চলাচল-সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা নৌযানের ব্যবস্থা করেন। তাঁদের অভিবাসনসংক্রান্ত প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে নাবিকেরা ঠিক কোন কোন জাহাজ থেকে এসেছিলেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাঁর কাছে ছিল না। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নাবিকেরা শ্রীলঙ্কার উপকূল থেকে প্রায় ২৪ নটিক্যাল মাইল দূরে থাকা একাধিক বাণিজ্যিক জাহাজে ছিলেন এবং তাঁদের চিকিৎসাজনিত জরুরি পরিস্থিতির কারণে সহায়তা চাওয়া হয়েছিল।   গত কয়েক মাস ধরে শ্রীলঙ্কার কাছাকাছি সমুদ্রে বেশ কয়েকটি ইরানি জাহাজ আটকে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইরানি নৌপরিবহনের ওপর অবরোধের কারণে এসব জাহাজের দেশে ফেরার পথ বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলে এপির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শ্রীলঙ্কার কর্তৃপক্ষ এর আগে জানিয়েছিল, দেশটির উপকূল থেকে প্রায় ২৪ নটিক্যাল মাইল দূরে ১৯টি জাহাজ অবস্থান করছে। এসব জাহাজের নাবিকদের খাবার, পানি ও জ্বালানির ঘাটতির কথাও সামনে এসেছে। তবে সর্বশেষ উদ্ধার অভিযানে থাকা ৪০ নাবিক ওই ১৯টি জাহাজের সবকটি থেকে এসেছেন কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।   এর আগে শ্রীলঙ্কা সরকার জানিয়েছিল, আটকে থাকা জাহাজগুলোকে সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো পরিকল্পনা নেই। দেশটির জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য দ্বিতীয় পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিও বিবেচনায় ছিল। তবে এবার চিকিৎসাজনিত জরুরি অনুরোধের পর নাবিকদের উপকূলে এনে চিকিৎসা দিয়ে দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ পদক্ষেপের বিষয়ে বিস্তারিত না জানালেও ঘটনাটি ইরানি নাবিকদের দুরবস্থা নিয়ে নতুন করে মনোযোগ তৈরি করেছে।   এই ঘটনা ঘটল ইরানি নৌবাহিনীর জাহাজ আইআরআইএস দেনা ডুবে যাওয়ার প্রায় সাত মাস পর। গত ৪ মার্চ ভারতের আমন্ত্রণে একটি নৌমহড়ায় অংশ নিয়ে দেশে ফেরার পথে শ্রীলঙ্কার কাছাকাছি সমুদ্রে জাহাজটি মার্কিন টর্পেডো হামলায় ডুবে যায় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ওই ঘটনায় বহু নাবিক প্রাণ হারান। জাহাজটি থেকে উদ্ধার হওয়া নাবিকদের শ্রীলঙ্কায় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল। একই সময়ে কারিগরি সমস্যায় পড়া আরেকটি ইরানি জাহাজের নাবিকদেরও সহায়তা দেওয়া হয় এবং পরে তাঁদের দেশে ফেরত পাঠানো হয়।   অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে শ্রীলঙ্কা। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান, দুই দেশের সঙ্গেই দেশটির গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সহায়তায় শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কর্মসূচিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা ছিল। অন্যদিকে, ইরানের সঙ্গে সম্পর্কও দেশটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এমন পরিস্থিতিতে আটকে পড়া নাবিকদের চিকিৎসা ও দেশে ফেরানোর উদ্যোগ মানবিক সহায়তার পাশাপাশি শ্রীলঙ্কার কূটনৈতিক ভারসাম্যের বিষয়টিও সামনে এনেছে।   সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) ও রয়টার্স।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ২৫, ২০২৬ ১৪:০
ইরানের সঙ্গে নতুন চুক্তি নাকি সামরিক অভিযান—কোন পথ বেছে নেবেন, তা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভাবছেন বলে ফক্স নিউজকে জানিয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত
ইরানের সঙ্গে চুক্তি নাকি সামরিক হামলা, দুই বিকল্প বিবেচনায় ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে নতুন চুক্তি করবেন, নাকি দেশটির বিরুদ্ধে আবার সামরিক অভিযান চালাবেন, সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ভাবছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার (২৫ অক্টোবর) ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ইরানের সঙ্গে সমঝোতা করা এবং সামরিকভাবে দেশটিকে আরও দুর্বল করার মধ্যে একটি পথ বেছে নিতে হবে তাঁকে। এর আগে শুক্রবারও নতুন সামরিক অভিযানের সম্ভাবনার কথা বলেছিলেন ট্রাম্প। এমন বক্তব্যের মধ্যেই তেহরান জানিয়েছে, নতুন হামলা হলেও নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করবে না তারা।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের ২৫ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফক্স নিউজের ‘সানডে মর্নিং ফিউচার্স’ অনুষ্ঠানে ইরান নিয়ে নিজের পরিকল্পনার কথা বলেন ট্রাম্প। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছাবেন, নাকি দেশটির বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা নিয়ে অভিযান শেষ করবেন। তবে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কিংবা নতুন হামলা কবে হতে পারে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ঘোষণা দেননি তিনি। ফলে তাঁর বক্তব্যকে নতুন সামরিক অভিযানের চূড়ান্ত নির্দেশ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।   ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। একই সঙ্গে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে ইরানের সঙ্গে করা পারমাণবিক চুক্তির সমালোচনা করেন তিনি। ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত ওই চুক্তি থেকে ট্রাম্প তাঁর প্রথম প্রেসিডেন্ট মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করেছিলেন। তবে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি দাবি রয়েছে। ফলে প্রণালিটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, এমন বক্তব্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত নয়।   অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি রোববার জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে আবার যুদ্ধ শুরু হলেও তেহরানের নীতিগত অবস্থান বদলাবে না। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, নতুন সংঘাতের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চললেও ইরান ইতোমধ্যে যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি বিবেচনা করছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, যুদ্ধ হোক কিংবা না হোক, ইরান নিজের নীতিতে অটল থাকবে। এর মাধ্যমে নতুন সামরিক চাপের মুখেও অবস্থান পরিবর্তন না করার বার্তা দিয়েছে তেহরান।   ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক সংঘাত শুরু হয় চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি। এরপর বিভিন্ন পর্যায়ে হামলা, পাল্টা হামলা এবং কূটনৈতিক আলোচনার চেষ্টা হয়েছে। জুনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতা হলেও হরমুজ প্রণালি ও ইরানের ওপর মার্কিন অবরোধ নিয়ে বিরোধ অব্যাহত রয়েছে। পাকিস্তানে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত রেজা আমিরি মোগাদাম জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করলে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে তেহরান আলোচনায় প্রস্তুত।   তবে ইরানের রাষ্ট্রদূতের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ বজায় রাখার অবস্থানে অনড় থাকায় কূটনৈতিক অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অন্যদিকে ওয়াশিংটনের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার প্রশ্নে কার্যকর সমঝোতা প্রয়োজন। দুই পক্ষের অবস্থানের পার্থক্যের কারণে আলোচনা এখনো চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছায়নি। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ও তেল পরিবহন নিয়ে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।   এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক জে ক্লেটন শুক্রবার সতর্ক করেছেন, বিদেশে মার্কিন নাগরিক ও কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে হামলার পরিকল্পনা বাড়িয়েছে ইরান। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে পাঠানো একটি গোয়েন্দা স্মারকলিপিতে তিনি দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্যসহ কয়েকটি দেশে মার্কিন নাগরিকদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী হামলার পরিকল্পনা অগ্রসর পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে ওই স্মারকলিপিতে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু কিংবা সম্ভাব্য হামলার সময় উল্লেখ করা হয়নি। ইরানের পক্ষ থেকেও এসব অভিযোগ স্বীকার করা হয়নি।   আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি মার্কিন দূতাবাসে কর্মীসংখ্যা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওয়াশিংটন। জর্ডান, লেবানন, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দূতাবাসে এই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঝুঁকি বিবেচনায় সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। তবে সংশ্লিষ্ট দূতাবাসগুলো বন্ধ করা হচ্ছে না।   ইরানকে ঘিরে নতুন সংঘাতের আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ বাড়ছে। তুরস্কের ইস্তাম্বুলে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের আট দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৈঠক করে কূটনৈতিক সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল বারো সতর্ক করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন সামরিক উত্তেজনা জ্বালানি বাজারে গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলো হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল ফিরিয়ে আনার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছে।   এদিকে চলমান উত্তেজনার প্রভাব পড়ছে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে। সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৭ ডলার ছাড়িয়েছে। অক্টোবরের শুরুতে এই দাম ছিল ৯৭ ডলারের নিচে। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন হামলার আশঙ্কা এবং গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচলের অনিশ্চয়তা জ্বালানি বাজারে চাপ তৈরি করেছে।   তবে ট্রাম্পের সর্বশেষ বক্তব্যের পরও যুক্তরাষ্ট্র নতুন সামরিক অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এমন কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পাওয়া যায়নি। একইভাবে ইরানের সঙ্গে নতুন চুক্তির নির্দিষ্ট সময়সূচিও প্রকাশ করা হয়নি। ফলে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পরবর্তী পদক্ষেপ কূটনৈতিক আলোচনা হবে, নাকি নতুন সামরিক সংঘাত, তা এখনো অনিশ্চিত।   সূত্র: সিবিএস নিউজ

তাবাস্সুম অক্টোবর ২৪, ২০২৬ ১৪:০
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী ইরান, তবে শর্তে অনড় তেহরান

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সামরিক ও কূটনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আবারও আলোচনায় বসতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে ইরান। তবে এ জন্য ওয়াশিংটনকে আগে তেহরানের নির্ধারিত শর্তগুলো পূরণ করতে হবে। পাকিস্তানে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত রেজা আমিরি মোগাদ্দাম জানিয়েছেন, গত জুনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া অন্তর্বর্তী সমঝোতার ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে প্রস্তুত রয়েছে তাঁর দেশ। অন্যদিকে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিনিময়ে মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের নতুন কোনো প্রস্তাব পাঠানোর খবর নাকচ করেছে ইরানের একটি সূত্র। ফলে নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হলেও দুই দেশের মধ্যে সমঝোতার পথ এখনো অনিশ্চিত।   শনিবার (২৪ অক্টোবর) পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে এক সেমিনারে বক্তব্য দেওয়ার সময় ইরানের রাষ্ট্রদূত এ অবস্থান তুলে ধরেন। বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোগাদ্দাম অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকাণ্ডের কারণে কূটনৈতিক উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি নিয়ে অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান আলোচনার দরজা বন্ধ করেনি। তবে আলোচনার পরিবেশ তৈরি করতে যুক্তরাষ্ট্রকে পূর্ববর্তী সমঝোতার শর্ত মেনে চলতে হবে।   ইরানের রাষ্ট্রদূতের দাবি, সম্প্রতি পাকিস্তানের মাধ্যমে ওয়াশিংটনকে একটি অবস্থান জানানো হয়েছিল। এতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করলে তেহরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল পুনরায় চালুর বিষয়ে প্রস্তুত রয়েছে। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সাম্প্রতিক ইরান সফরের সময়ও এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবরোধ অব্যাহত রাখার অবস্থান নেওয়ায় উদ্যোগটি এগোয়নি বলে অভিযোগ করেন মোগাদ্দাম।   এর আগে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতা হয়েছিল। ওই সমঝোতার লক্ষ্য ছিল সামরিক উত্তেজনা কমানো, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা এবং ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করা। পাশাপাশি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ বৃহত্তর বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য নতুন আলোচনা শুরুর পরিকল্পনাও ছিল। তবে সমঝোতার বাস্তবায়ন স্থায়ী হয়নি। পরবর্তী সময়ে আবার সংঘাত শুরু হওয়ায় দুই দেশের মধ্যে আস্থার সংকট আরও বেড়ে যায়।   এদিকে ইরানের রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যের পাশাপাশি নতুন প্রস্তাব নিয়ে ভিন্ন তথ্যও সামনে এসেছে। সৌদি আরবভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল আরাবিয়ার প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিনিময়ে মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের প্রস্তাব পাকিস্তানের মাধ্যমে পাঠিয়েছে তেহরান। তবে ইরানের তাসনিম বার্তা সংস্থাকে দেশটির একটি সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এমন কোনো নতুন প্রস্তাব দেওয়া হয়নি। সূত্রটির দাবি, ইরান হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তাকে শুধু নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের বিনিময়ে সমাধান করার প্রস্তাব মেনে নেয়নি।   তাসনিমের প্রতিবেদনে ওই সূত্র আরও জানিয়েছে, ইরানের আগের সাত দফা দাবি এখনো বহাল রয়েছে। এসব দাবি আগেই মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ইরানের অবস্থান অনুযায়ী, সব শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে পরিবর্তন আসবে না। ফলে রাষ্ট্রদূতের আলোচনায় আগ্রহ প্রকাশ এবং নতুন প্রস্তাব পাঠানোর খবর প্রত্যাখ্যানের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। ইরান আলোচনা করতে আগ্রহী হলেও নতুন কোনো সমঝোতা চূড়ান্ত হয়েছে, এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।   গত ২০ অক্টোবর তেহরান সফর করেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির। সেখানে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং নিরাপত্তাবিষয়ক কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁর আলোচনা হয়। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈঠকে ইরানি কর্মকর্তারা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন আলোচনা শুরুর আগে তেহরানের দাবিগুলো পূরণ করতে হবে। বিশেষ করে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং আঞ্চলিক সংঘাত বন্ধের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।   ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার গালিবাফের বক্তব্য অনুযায়ী, ওয়াশিংটন আগের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না করলে তেহরানের আস্থা ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়। অন্যদিকে মার্কিন প্রশাসন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এর আগে জানিয়েছেন, সংঘাত নিরসনের জন্য ইরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে হবে। তবে ইরান বলছে, আলোচনার শুরুতেই পারমাণবিক কর্মসূচিকে প্রধান শর্ত হিসেবে চাপিয়ে দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।   ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিও সম্প্রতি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার সুযোগ এখনো রয়েছে। তবে নতুন করে সামরিক হামলা হবে না, এমন বিশ্বাসযোগ্য নিশ্চয়তা প্রয়োজন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ইরান পারস্পরিক সম্মান ও বাস্তব প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে আলোচনা করতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য আগে পাঠানো প্রস্তাব এখনো কার্যকর রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সেই প্রস্তাবের বিষয়ে মন্তব্য জানিয়েছে এবং তেহরান তা পর্যালোচনা করছে।   হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ। সংঘাতের আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বাণিজ্যের উল্লেখযোগ্য অংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হতো। প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাসের সরবরাহে চাপ তৈরি হতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে পরিবহন ব্যয়, পণ্যের দাম এবং বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিতে। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশও এই জলপথের নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিচ্ছে।   পাকিস্তান দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে। গত জুনের সমঝোতা বাস্তবায়নে অগ্রগতি না হলেও ইসলামাবাদ আবার আলোচনা শুরু করার চেষ্টা করছে। কাতারও এই কূটনৈতিক উদ্যোগে ভূমিকা রাখছে। তবে ইরানের শর্ত এবং যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক কর্মসূচিসংক্রান্ত দাবির মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ মতপার্থক্য রয়েছে। তাই নতুন বৈঠকের সম্ভাবনা থাকলেও আলোচনার তারিখ, স্থান কিংবা চূড়ান্ত সমঝোতার বিষয়ে এখনো নিশ্চিত ঘোষণা আসেনি।   এদিকে ইসলামাবাদের সেমিনারে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়েও কথা বলেন ইরানের রাষ্ট্রদূত। তিনি জানান, তেহরান চুক্তিটির বিষয়বস্তু পর্যালোচনা করবে। ইরানের স্বার্থ ও আঞ্চলিক সহযোগিতার জন্য ইতিবাচক মনে হলে দেশটি সমর্থনের বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে। তবে এই চুক্তিতে ইরান যোগ দেবে কিংবা আনুষ্ঠানিক সমর্থন জানিয়েছে, এমন কোনো সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি।   সব মিলিয়ে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ফেরার আগ্রহ প্রকাশ করলেও নিজেদের শর্ত থেকে সরে আসেনি ইরান। হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া, মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে মতপার্থক্য এখনো সমাধান হয়নি। ইরানের রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত থাকার ইঙ্গিত দিলেও নতুন চুক্তি কিংবা যুদ্ধবিরতির নিশ্চয়তা দেয় না। পরবর্তী আলোচনায় দুই পক্ষ নিজেদের অবস্থানে কতটা পরিবর্তন আনে, তার ওপরই সম্ভাব্য সমঝোতার অগ্রগতি নির্ভর করবে।

নুরুল্লাহ সাইদ অক্টোবর ২৪, ২০২৬ ১৪:০
. মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় বিশ্ববাজারে বাড়ছে তেলের দাম
ইরানে মার্কিন হামলার আশঙ্কায় ছয় মাসের সর্বোচ্চে তেলের দাম, বাড়ছে সরবরাহ সংকটের উদ্বেগ

আইরানে সম্ভাব্য মার্কিন হামলা এবং মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ছয় মাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়লে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে—এমন আশঙ্কায় দাম বাড়ছে।   শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৬ দশমিক ৭২ ডলারে দাঁড়ায়। এক দিনে দাম বাড়ে ৩ দশমিক ৫৫ ডলার। গত ২৯ এপ্রিলের পর এটিই ব্রেন্টের সর্বোচ্চ সমাপনী দর। একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অপরিশোধিত তেলের মানদণ্ড ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দামও বেড়েছে। এই তেলের দাম ৩ দশমিক ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৩ দশমিক ২৭ ডলারে পৌঁছায়। এ নিয়ে টানা তৃতীয় সপ্তাহের মতো বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ল। সপ্তাহের হিসাবে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়েছে ৬ দশমিক ২ শতাংশ। অন্যদিকে ডব্লিউটিআইয়ের দাম বেড়েছে ২ শতাংশ। ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সাম্প্রতিক বক্তব্য বাজারের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। গত ২১ অক্টোবর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আলোচনা চলছে না। একই সঙ্গে তিনি শিগগিরই ‘বড় কিছু ঘটতে যাচ্ছে’ বলে মন্তব্য করেন। এদিকে মার্কিন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রকাশিত আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনায় যৌথ হামলার পরিকল্পনা করছে ওয়াশিংটন ও তেল আবিব। তবে এই পরিকল্পনা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কী সিদ্ধান্ত হয়েছে, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে বিস্তারিত উল্লেখ নেই। অন্যদিকে ইরানের সামরিক বাহিনীর প্রধান দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আধুনিকায়নের পর যেকোনো ধরনের অসম যুদ্ধ মোকাবিলায় ইরানের সেনাবাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। ইরানকে ঘিরে এই উত্তেজনার পাশাপাশি সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবরও তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এসব হামলার জন্য হুতি বিদ্রোহীদের দায়ী করা হয়েছে। নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে সৌদি আরবে জরুরি দায়িত্বে নিয়োজিত নন, এমন মার্কিন কর্মীদের দেশটি ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত ২১ অক্টোবর দেশটির পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত শায়বাহ তেলক্ষেত্রে ড্রোন হামলায় দুজন নিহত এবং দুজন আহত হন। একই সময়ে দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৃথক হামলায় আরও দুজন নিহত হন। ওই ঘটনায় আটজন গুরুতর আহত হয়েছেন বলেও জানানো হয়েছে। এসব ঘটনার পর সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি আরামকো দাহরানে অবস্থিত তাদের সদর দপ্তরের কর্মীদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে কর্মীদের বাসা থেকে কাজ করতে বলা হয়েছে। ইরানকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য সামরিক সংঘাত এবং সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই বিশ্ববাজারে দাম বাড়ছে।  

অলিনা রহমান অক্টোবর ২৪, ২০২৬ ১৪:০
যুদ্ধের উত্তেজনার মধ্যেই বড় বার্তা ইরানের, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন আলোচনার আহ্বান
যুদ্ধের উত্তেজনার মধ্যেই বড় বার্তা ইরানের, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন আলোচনার আহ্বান

ইরানের সঙ্গে অন্তর্বর্তী চুক্তি নিয়ে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তবে ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলার পাশাপাশি তিনি আবারও সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা চালানোর পক্ষে মত দিয়েছেন। শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত বক্তব্যে তিনি এ অবস্থান তুলে ধরেন। তাঁর মন্তব্য নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্ক, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা এবং চলমান সংঘাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পেজেশকিয়ানের বক্তব্যের মূল বিষয় হলো, আলোচনা ভেঙে গেলেও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা পুরোপুরি বন্ধ করা উচিত নয়। তিনি অভিযোগ করেন, দুই দেশের মধ্যে যখন আলোচনা চলছিল, তখন যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপে সেই প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়। একই সঙ্গে তিনি বলেন, চুক্তি সম্পন্ন করার জন্য আবার চেষ্টা করা উচিত। অর্থাৎ, ওয়াশিংটনের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করলেও তেহরান আলোচনার সম্ভাবনা একেবারে নাকচ করছে না। তবে তাঁর এই বক্তব্যকে নতুন কোনো চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার ঘোষণা হিসেবে দেখা যাবে না।  যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা, সামরিক চাপ এবং মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তার প্রশ্ন। দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা হলে কোন শর্তে ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা কীভাবে মোকাবিলা করা হবে এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে—এসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে ২৪ অক্টোবরের বক্তব্যে পেজেশকিয়ান নতুন কোনো চুক্তির পূর্ণাঙ্গ শর্ত বা আলোচনার নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করেননি।    এই পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালিও আন্তর্জাতিক আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পারস্য উপসাগর থেকে বিশ্ববাজারে জ্বালানি পরিবহনের জন্য এই সমুদ্রপথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ ও ইরানের পাল্টা অবস্থান নিয়ে বিরোধ অব্যাহত থাকলে তেলবাহী জাহাজ চলাচল, জ্বালানি সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।   ২৪ অক্টোবর প্রকাশিত অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে ইরানের রাষ্ট্রদূত রেজা আমিরি মোগাদ্দাম বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধ তুলে নিলে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে তেহরান পাকিস্তানের মাধ্যমে প্রস্তাব জানিয়েছে। তবে এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে চূড়ান্ত সমঝোতা হয়েছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।  এখানে পাকিস্তানের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান এবং আলোচনার পথ তৈরিতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের নাম সামনে এসেছে। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সফল হলে তা শুধু দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রেই নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে আলোচনা ব্যর্থ হলে সামরিক উত্তেজনা, নিষেধাজ্ঞা ও জ্বালানি পরিবহন নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বাড়ার আশঙ্কা থাকবে।   জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্যও পরিস্থিতিটি গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে গেলে পরিবহন ব্যয়, আমদানি খরচ এবং বিভিন্ন পণ্যের মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। তবে ইরান–যুক্তরাষ্ট্রের এই বক্তব্যের কারণে বাংলাদেশে তেলের দাম বেড়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো তথ্য নেই। বাস্তব প্রভাব নির্ভর করবে সংঘাতের গতিপথ, জাহাজ চলাচল এবং আন্তর্জাতিক বাজারের প্রতিক্রিয়ার ওপর।

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ২৩, ২০২৬ ১৪:০
মার্কিন নাগরিকদের ওপর হা মলার আশঙ্কা, মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ থেকে কর্মী সরাচ্ছে ওয়াশিংটন
মার্কিন নাগরিকদের ওপর হা মলার আশঙ্কা, মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ থেকে কর্মী সরাচ্ছে ওয়াশিংটন

মধ্যপ্রাচ্য ও এর বাইরের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের ওপর প্রাণঘাতী হামলার জোরদার ছক কষছে ইরান। ট্রাম্প প্রশাসন যখন তেহরানের ওপর নতুন করে সামরিক অভিযানের কথা বিবেচনা করছে, ঠিক তখনই মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এই চরম ঝুঁকির বিষয়ে সতর্কতা জারি করেছে।   সংবাদমাধ্যম এক্সিওস-এর হাতে আসা একটি মেমো থেকে জানা যায়, ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের পরিচালক জে ক্লেটন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে চিঠির মাধ্যমে জানিয়েছেন যে মার্কিনীদের ওপর ইরানি হামলার প্রস্তুতি ইতিমধ্যে 'চূড়ান্ত পর্যায়ে' পৌঁছেছে। তবে এক পৃষ্ঠার ওই আনক্লাসিফাইড মেমোতে নির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্যবস্তু বা মধ্যপ্রাচ্যের বাইরের কোনো দেশের নাম উল্লেখ করা হয়নি।   এই সতর্কবার্তার পর ইরান ও ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ক্রমবর্ধমান হুমকির মুখে ওই অঞ্চলে নিজেদের কূটনৈতিক উপস্থিতি দ্রুত কমিয়ে এনেছে ওয়াশিংটন। চলতি সপ্তাহের শুরুতে স্টেট ডিপার্টমেন্ট সৌদি আরব থেকে জরুরি দায়িত্বে নেই এমন মার্কিন সরকারি কর্মী ও তাদের পরিবারকে দেশে ফেরার নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি জর্ডান, লেবানন, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের দূতাবাসগুলোতেও কর্মীর সংখ্যা কমানো হয়েছে।   এদিকে তুরস্কে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও সিরিয়া বিষয়ক বিশেষ দূত টম বারাক এক পডকাস্টে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, এই সপ্তাহান্তেই ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলা হতে পারে। যদিও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফ্লোরিডায় এক বক্তব্যে রাষ্ট্রদূতের ওই মন্তব্য এড়িয়ে যান।   তবে ফোর্ট মায়ার্সের একটি সমাবেশে তিনি মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোর প্রত্যাবর্তনের কথা উল্লেখ করে কিউবা ও মার্কো রুবিওকে জড়িয়ে নতুন সামরিক তৎপরতার ইঙ্গিত দেন। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত দুটি মার্কিন এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ারের একটি 'ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন'-এর কমান্ডিং অফিসার ক্যাপ্টেন নিকোলাস ডিলেও জানিয়েছেন, যেকোনো সম্ভাব্য সামরিক উত্তেজনা মোকাবিলায় তাদের রণতরি সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ২৩, ২০২৬ ১৪:০
ইরানের পারমাণবিক নীতি নিয়ে নতুন বিতর্কের মধ্যে এনপিটির বাধ্যবাধকতা স্থগিতের প্রস্তাব দিয়েছেন দেশটির এক জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতা। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্র ফের হামলা চালালে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের আহ্বান ইরানের জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতার

যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানে হামলা চালালে পারমাণবিক অস্ত্রসহ প্রতিরোধমূলক অস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতা মোহাম্মদ-সালেহ জোকার। ইরানের পার্লামেন্টের অভ্যন্তরীণ বিষয়ক কমিটির প্রধান জোকারের এই বক্তব্য দেশটির পারমাণবিক নীতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। তবে এটি তাঁর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক আহ্বান, ইরান সরকারের আনুষ্ঠানিক নীতিগত পরিবর্তনের ঘোষণা নয়।   টাইমস টুডের ২৩ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, জোকারের বক্তব্যের মূল বিষয় হলো, যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য নতুন হামলা মোকাবিলায় ইরানের প্রতিরক্ষা নীতিতে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়া। তাঁর মতে, শত্রুপক্ষকে হামলা থেকে বিরত রাখতে পারমাণবিক অস্ত্রসহ বিভিন্ন প্রতিরোধমূলক অস্ত্র ব্যবহারের সুযোগ থাকা উচিত। তবে এ বিষয়ে ইরানের সরকার বা সামরিক নেতৃত্বের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।   জোকার আরও বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালালে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি বা এনপিটির আওতায় তেহরানের বাধ্যবাধকতা স্থগিত করার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত। এনপিটি হলো পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার ঠেকানো, নিরস্ত্রীকরণে অগ্রগতি এবং শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গঠিত আন্তর্জাতিক চুক্তি। ইরান এই চুক্তির সদস্য। তবে জোকারের বক্তব্য থেকে দেশটি চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার বা আনুষ্ঠানিকভাবে বাধ্যবাধকতা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এমন ধারণা করা ঠিক হবে না।   ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। দেশটির সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি, মজুত ও ব্যবহারকে ইসলামে নিষিদ্ধ বলে উল্লেখ করে একটি ধর্মীয় ফতোয়া দিয়েছিলেন। তবে ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সামরিক সংঘাতের পর ইরানের অভ্যন্তরে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করা উচিত কি না, তা নিয়ে কট্টরপন্থী রাজনীতিকদের মধ্যে আলোচনা জোরালো হয়েছে। রয়টার্সের মার্চ মাসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটির কিছু প্রভাবশালী মহল দীর্ঘদিনের পারমাণবিক নীতি পুনর্বিবেচনার পক্ষে মত দিচ্ছে।   অন্যদিকে, ইরানের পারমাণবিক নীতি আনুষ্ঠানিকভাবে পরিবর্তিত হয়েছে, এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মোহসেন রেজায়ি সেপ্টেম্বরে বলেছিলেন, ইরান এখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার নীতিতে রয়েছে, যদিও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক ও রাজনৈতিক চাপের মুখে এনপিটি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ফলে জোকারের বক্তব্যকে ইরানের নীতিনির্ধারণী মহলে চলমান বিতর্কের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।   এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১৬ অক্টোবর ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা নাকচ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের প্রয়োজন নেই। তবে তিনি ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় আবারও হামলার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছিলেন। দুই দেশের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে জোকারের বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে।   বিশ্লেষকদের মতে, কোনো আইনপ্রণেতার বক্তব্য এবং রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত এক বিষয় নয়। ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে এগোবে কি না, এনপিটিতে তার অবস্থান বদলাবে কি না, তা নির্ধারণে দেশটির সর্বোচ্চ নেতৃত্ব ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখন পর্যন্ত জোকারের আহ্বানকে ইরানের পারমাণবিক নীতির আনুষ্ঠানিক পরিবর্তন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।   সূত্র: টাইমস টুডে, রয়টার্স, প্রেস টিভি।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ২২, ২০২৬ ১৪:০
‘মাদার অব অল বোম্বস’ নামে পরিচিত বোমা ব্যবহারের সম্ভাবনা
ট্রাম্পের ‘মাদার অব অল বোম্বস’র জবাবে ‘ফাদার অব অল বোম্বস’ উন্মোচনের ঘোষণা দিল ইরান

‘ফাদার অব অল বোম্বস’ নামে একটি নতুন অস্ত্র উন্মোচনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের মুখপাত্র হোসেইন মোহেবি। বুধবার, ২১ অক্টোবর তাঁর এই বক্তব্য প্রকাশ করে ইরানের ইয়াং জার্নালিস্টস ক্লাব। তবে অস্ত্রটির ধরন, সক্ষমতা কিংবা উন্মোচনের নির্দিষ্ট সময় জানাননি তিনি।  মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে ‘মাদার অব অল বোম্বস’ নামে পরিচিত বোমা ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলার পর এ ঘোষণা এল। তবে ট্রাম্প বোমাটি ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছেন কি না, তা স্পষ্ট করেননি।    আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোহেবি বলেছেন, তাঁরা নতুন অস্ত্রটি উন্মোচনের প্রস্তুতির পর্যায়ে রয়েছেন এবং এটি প্রতিপক্ষের জন্য নতুন কিছু হবে। বিস্তারিত প্রকাশ না করায় ইরানের ঘোষিত অস্ত্রটি মার্কিন বোমার তুলনায় কতটা শক্তিশালী, তা নির্ধারণের তথ্য পাওয়া যায়নি।  মার্কিন বোমাটির আনুষ্ঠানিক নাম জিবিইউ-৪৩/বি ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স এয়ার ব্লাস্ট। প্রায় ৯ হাজার ৮০০ কিলোগ্রাম ওজনের এটি যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভান্ডারের অন্যতম বড় প্রচলিত অ-পারমাণবিক বোমা। ২০১৭ সালের এপ্রিলে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে আফগানিস্তানে আইএসের একটি সুড়ঙ্গ কমপ্লেক্সে প্রথমবার এটি ব্যবহার করা হয়।    রয়টার্স জানিয়েছে, ১৫ অক্টোবর রাতে নিউজম্যাক্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে হামলার প্রয়োজন হতে পারে বলে মন্তব্য করেন। একই সাক্ষাৎকারে তিনি ইরানে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করবেন না এবং মার্কিন স্থলসেনা পাঠানোর বিষয়ও বিবেচনা করছেন না বলে জানান।    মোহেবি আরও দাবি করেছেন, ২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধের পর ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত আগের দেড় গুণ হয়েছে। তবে তিনি মজুতের নির্দিষ্ট সংখ্যা দেননি। নতুন অস্ত্রের ঘোষণার পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা, নির্ভুলতা ও ধ্বংসক্ষমতা বৃদ্ধির কথাও দাবি করেন তিনি।   

সামিয়া ইসলাম অক্টোবর ২১, ২০২৬ ১৪:০
ইরানি বিজ্ঞানীদের পারমাণবিক বোমা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন মোজতবা খামেনি: নেতানিয়াহু
ইরানি বিজ্ঞানীদের পারমাণবিক বোমা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন মোজতবা খামেনি: নেতানিয়াহু

পারমাণবিক হুমকির চিরস্থায়ী সমাধানের জন্য ইরানি শাসকগোষ্ঠীর পতনকেই একমাত্র পথ বলে ঘোষণা দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি অভিযোগ করেছেন, ইরান নতুন করে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির প্রচেষ্টা শুরু করেছে।   গত বুধবার (২১ অক্টোবর) দক্ষিণ ইসরায়েলের একটি সামরিক ঘাঁটিতে সেনা কর্মকর্তাদের স্নাতক অনুষ্ঠানে তিনি এই কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। এই হুমকি মোকাবিলায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ এবং অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীকে ইরানি সরকারের পতন ঘটাতে ইতিমধ্যেই নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান নেতানিয়াহু।   ভাষণে ইরানের বর্তমান পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে নেতানিয়াহু বলেন, অতীতের পরিণতি থেকে ইরান কোনো শিক্ষাই নেয়নি। ইরানের সর্বোচ্চ নেতার ছেলে মোজতবা খামেনির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, মোজতবা তার বাবার পদাঙ্ক অনুসরণ করছেন এবং ইরান ফের তাদের প্রাণঘাতী অস্ত্র তৈরির পথে হাঁটছে।   একই অনুষ্ঠানে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজও ইরানকে কঠোর ভাষায় সতর্ক করেছেন। আগামী সপ্তাহে ইসরায়েলের নির্বাচনের আগে নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে ইরান বা তাদের সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো হামলা চালাতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।   কাটজ সরাসরি ইরানি কর্মকর্তাদের উদ্দেশ করে বলেন, ইসরায়েলে কোনো হামলা হলে 'ইরান আগুনে পুড়বে'। তিনি আরও দাবি করেন, ইরান বর্তমানে তাদের সবচেয়ে দুর্বল অবস্থানে রয়েছে, যা তাদের মরিয়া হয়ে চরম পদক্ষেপ নিতে প্ররোচিত করতে পারে।   অন্যদিকে, দেশের অভ্যন্তরীণ ঐক্যের ওপর জোর দিয়েছেন ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) চিফ অব জেনারেল স্টাফ ইয়াল জামির। অতি-রক্ষণশীল বা আল্ট্রা-অর্থোডক্স ইহুদি সম্প্রদায়ের সদস্যদের সামরিক বাহিনীতে নিয়োগের চলমান প্রচেষ্টার মধ্যেই তিনি বলেন, ইসরায়েলকে রক্ষা করা সকল নাগরিকের সম্মিলিত ও প্রধান দায়িত্ব এবং এটি যেকোনো অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বা সামাজিক বিভেদের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ২১, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

ড. ফেরদৌস সালেহীনের লেখা সূরা আল-ফাতিহার তাফসির ও জীবনের প্রতিফলনবিষয়ক নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন বা উপস্থাপনা। ছবি: সংগৃহীত

সূরা ফাতিহার সাত আয়াত যেভাবে বদলে দিল ড. ফেরদৌস সালেহীনের জীবনদৃষ্টি

অক্টোবর ২৬, ২০২৬ ১৪:০