ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকেই আমেরিকায় জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে। দেশটির কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে পেট্রোলের দাম প্রতি গ্যালন পাঁচ ডলারও ছাড়িয়ে গেছে। তবে হোয়াইট হাউস বলছে, এই মূল্যবৃদ্ধি সাময়িক এবং ভবিষ্যতে দাম কমে আসবে।
মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, বর্তমান পরিস্থিতির কারণে জ্বালানির দাম কিছুটা বেড়েছে ঠিকই, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব উল্টো হতে পারে। তার মতে, ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত সামরিক অভিযানের লক্ষ্য পূরণ হলে তেল ও গ্যাসের বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে।
তিনি বলেন, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ সফলভাবে সম্পন্ন হলে জ্বালানি বাজারে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাবে এবং দাম কমে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, এর ফলে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হবে যেখানে ইরান আর পারমাণবিক অস্ত্র দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা তার মিত্রদের হুমকি দিতে পারবে না।
আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের গড় মূল্য ছিল প্রতি গ্যালন ৩.৪৮ ডলার, যা সাম্প্রতিক সময়ে প্রায় ১৭ শতাংশ বেড়েছে। মঙ্গলবার এই দাম আরও বাড়িয়ে ৩.৫৪ ডলারে পৌঁছেছে, ফলে বৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৯ শতাংশে।
তবে অঙ্গরাজ্যভেদে দামের পার্থক্য স্পষ্ট। ক্যালিফোর্নিয়ায় যেখানে প্রতি গ্যালন পেট্রোলের দাম প্রায় ৫.২০ ডলার, সেখানে কানসাসে একই পরিমাণ জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ২.৯২ ডলারে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ায় পারস্য উপসাগর থেকে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে। এর প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বাজারেও। সোমবার এক পর্যায়ে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়, যা ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর প্রথমবারের মতো এই স্তরে পৌঁছায়।
ইরানের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় অনেক তেলবাহী ট্যাংকার বন্দরেই অপেক্ষা করছে। এতে সরবরাহ শৃঙ্খলে চাপ তৈরি হয়েছে। একই সময়ে ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতের মতো তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোও সতর্কতার কারণে উৎপাদন ও রপ্তানিতে কিছুটা সংযম দেখাচ্ছে।
আরও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে হরমুজ প্রণালী ঘিরে। ইরান সেখানে মাইন পেতে নৌপথ বন্ধ করার চেষ্টা করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়।
এই পরিস্থিতিতে তেলবাহী জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র ট্যাংকারগুলোর জন্য বিশেষ বিমা সুবিধা দেওয়ার কথা জানিয়েছে। প্রয়োজনে মার্কিন নৌবাহিনী এসব জাহাজকে নিরাপত্তা দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।
হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ও তার জ্বালানি বিষয়ক দল বাজার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং জ্বালানি খাতের শীর্ষ ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালী সচল রাখতে বিভিন্ন বিকল্প ব্যবস্থাও বিবেচনায় রাখা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ নেওয়া সহজ নয় এবং প্রয়োজনে স্থলবাহিনী ব্যবহারের প্রয়োজন হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রশাসনের ভেতরে এ বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন সাবেক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারাও। শনিবার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিরাপদে জব্দ করতে হলে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে তিনি স্থলবাহিনী ব্যবহারের সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেননি। ট্রাম্প বলেন, “খুব গুরুত্বপূর্ণ কারণ থাকলে আমরা সব ধরনের বিকল্প বিবেচনা করব।” পরে তিনি আরও বলেন, “এখনই নয়, তবে ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে করা হতে পারে।” সাবেক মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের মতে, ইরান দীর্ঘদিন ধরে তাদের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোকে শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে গড়ে তুলেছে এবং বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে রেখেছে। অনেক স্থাপনা ভূগর্ভস্থ হওয়ায় সীমিত বিমান হামলা বা ছোট বিশেষ বাহিনী দিয়ে সেগুলোর ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়া কঠিন হতে পারে। বিশ্লেষকদের ধারণা, ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামো এমনভাবে নির্মাণ করা হয়েছে যাতে বাইরের সামরিক চাপের মধ্যেও তা দ্রুত ধ্বংস করা না যায়। এ কারণে যদি যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে বড় আকারের স্থল অভিযান এবং দীর্ঘমেয়াদি সামরিক উপস্থিতি প্রয়োজন হতে পারে। অন্যদিকে ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে এবং দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, ইরানের শক্ত প্রতিরক্ষা ও ছড়িয়ে থাকা অবকাঠামোর কারণে যেকোনো সামরিক পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে মাছ ধরতে গিয়ে বাংলাদেশের বগুড়া জেলার এক প্রবাসী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। নিখোঁজ ব্যক্তি প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির পরিচিত মুখ, যিনি চাকরিসূত্রে ফ্রেসনো শহরে বসবাস করতেন। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার (৭ মার্চ ২০২৬) ভোরে তিনি একাই মাছ ধরার উদ্দেশ্যে বের হন। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে নদীর পাড়ে তার জুতো এবং কিছু মাছ ধরার সরঞ্জাম পাওয়া যায়। তার সাথে থাকা তিনটি ফিশিং রডের মধ্যে একটি রড এবং একটি হাতলযুক্ত জাল এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ঘটনার বিষয়ে কাউন্টি পুলিশ জানায়, সংশ্লিষ্ট জলপথটি অত্যন্ত গভীর এবং খরস্রোতা হওয়ায় সেখানে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। এলাকাটি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে পরিচিত এবং অনেক ক্ষেত্রে সেখানে মাছ ধরা নিষিদ্ধ বলে কর্তৃপক্ষ উল্লেখ করেছে। কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এই জলপথের পানি San Francisco Bay অঞ্চল থেকে প্রবাহিত হয়ে দক্ষিণে Los Angeles এলাকার দিকে যায়। ফলে পানির স্রোত অত্যন্ত শক্তিশালী এবং গভীরতা অনেক বেশি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পিচ্ছিল তীরে পা পিছলে পড়ে যাওয়া, মাছ ধরার সরঞ্জাম টানতে গিয়ে ভারসাম্য হারানো অথবা প্রবল স্রোতে ভেসে যাওয়ার মতো কোনো কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তিনি একা থাকায় দুর্ঘটনার সময় তাৎক্ষণিক সহায়তা পাওয়া সম্ভব হয়নি বলেও মনে করা হচ্ছে। শেরিফ অফিস জানিয়েছে, এ ধরনের ঘটনায় পানির গভীরতা ও স্রোতের কারণে নিখোঁজ ব্যক্তিকে খুঁজে পেতে কয়েকদিন সময় লাগতে পারে। ইতোমধ্যে কর্তৃপক্ষ ড্রোনসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করে তল্লাশি চালিয়েছে এবং অনুসন্ধান কার্যক্রম এখনও অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিখোঁজ ব্যক্তির পরিবার, বিশেষ করে তার স্ত্রী ও অল্পবয়সী সন্তান গভীর উদ্বেগ ও শোকের মধ্যে রয়েছেন। কর্তৃপক্ষ সবাইকে সতর্ক করে জানিয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ জলপথ বা নিষিদ্ধ এলাকায় একা যাওয়া থেকে বিরত থাকতে। জীবন রক্ষায় নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার দিকে নজর দেওয়ার কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সময়ে তার কিছু উপদেষ্টা ব্যক্তিগতভাবে তাকে একটি ‘এক্সিট র্যাম্প’ বা সম্ভাব্য প্রস্থানপথ খুঁজে দেখার পরামর্শ দিয়েছেন। তেলের দাম দ্রুত বাড়া এবং দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে এমন উদ্বেগ থেকেই এ পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সোমবার (৯ মার্চ) ফ্লোরিডায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, সামরিক অভিযানের অধিকাংশ লক্ষ্য ইতোমধ্যে অর্জিত হয়েছে এবং তারা নির্ধারিত সময়ের আগেই এগিয়ে আছেন। তার ধারণা, এই যুদ্ধ খুব শিগগিরই শেষ হয়ে যেতে পারে। তবে যুদ্ধ কখন শেষ হবে সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা তিনি উল্লেখ করেননি। ইরানের জনগণ যারা বর্তমান শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছেন, তাদের সহায়তা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্পের বক্তব্যে বোঝা যায় তিনি দ্রুত যুদ্ধের সমাপ্তি চান। নেতৃত্ব পরিবর্তনের জন্য চাপ অব্যাহত রাখার বিষয়ে তিনি ততটা আগ্রহী নন। তিনি বলেন, এমন একটি ব্যবস্থা চান যা বহু বছরের শান্তির পথ খুলে দিতে পারে; আর যদি তা সম্ভব না হয়, তাহলে এখনই বিষয়টি শেষ করা ভালো। ট্রাম্প আরও বলেন, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছেলে আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনিকে নিয়োগ দেওয়ায় তিনি হতাশ। তার মতে, এ সিদ্ধান্ত থেকে বোঝা যায় তেহরান পিছু হটতে রাজি নয়। ট্রাম্প প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা বলেছেন, তেহরান যদি আঞ্চলিক দেশগুলোর ওপর হামলা চালিয়ে যেতে থাকে এবং ইসরাইল যদি ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা অব্যাহত রাখে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে সহজে এই যুদ্ধ থেকে সরে আসা কঠিন হবে। ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে তেলের প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করতে থাকে, তাহলে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালিয়ে যেতে প্রস্তুত। প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক সুবিধাজনক অবস্থানে থাকায় সন্তোষজনক বিজয় দাবি করতে না পারা পর্যন্ত যুদ্ধ বন্ধ করা হবে না। এদিকে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট অজ্ঞাত সূত্রের ভিত্তিতে প্রকাশিত কিছু প্রতিবেদনের সমালোচনা করে বলেন, প্রেসিডেন্টের শীর্ষ উপদেষ্টারা ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ সফল করতে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছেন এবং শেষ পর্যন্ত এ অভিযান কখন শেষ হবে তা নির্ধারণ করবেন প্রেসিডেন্ট নিজেই। এদিকে যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের বেশি হওয়ায় অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া নিয়ে ট্রাম্পের মিত্রদের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ট্রাম্পের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা স্টিফেন মুর বলেন, গ্যাস ও তেলের দাম বাড়লে অন্যান্য পণ্যের দামও বেড়ে যায়, যা মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। সূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।