বিশ্বের জ্বালানি করিডোরখ্যাত হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেখানে মাইন পুঁতছে ইরান, এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পর প্রাকৃতিক গ্যাস ও তেলের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এর প্রভাব ইতোমধ্যে ইউরোপের বাজারেও পড়েছে, যেখানে গ্যাসের দাম বেড়েছে প্রায় ছয় শতাংশ।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব ফেলতে পারে এমন আশঙ্কা বাড়ার মধ্যেই এই প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ইরান বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট হরমুজ প্রণালীতে মাইন স্থাপন শুরু করেছে এমন অসমর্থিত খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ইউরোপ ও যুক্তরাজ্যজুড়ে গ্যাসের দাম লাফিয়ে বাড়তে শুরু করে।
এই প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে ইউরোপ ও এশিয়ায় তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বুধবার (১১ মার্চ) সকালের লেনদেনে ইউরোপীয় গ্যাসের বেঞ্চমার্ক মূল্য প্রায় ৫ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে ব্রিটিশ পাইকারি গ্যাসের প্রধান চুক্তির মূল্য বেড়েছে প্রায় ৬ শতাংশ।
এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, জলপথের কাছে মাইন স্থাপন করছিল বলে দাবি করে তারা ১৬টি ইরানি জাহাজ ‘নির্মূল’ করেছে। এতে করে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
এর আগে ইউএস ইন্টেলিজেন্স রিপোর্টের সঙ্গে পরিচিত দুই ব্যক্তির বরাত দিয়ে জানা যায়, ইরান হরমুজ প্রণালীতে মাইন স্থাপন শুরু করেছে। বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পথগুলোর একটি এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, মাইন স্থাপনের কাজ এখনো ব্যাপক আকারে শুরু হয়নি; গত কয়েক দিনে মাত্র কয়েক ডজন মাইন বসানো হয়েছে। তবে একটি সূত্রের মতে, ইরানের ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ ছোট নৌকা ও মাইন স্থাপনকারী যান এখনো অক্ষত রয়েছে, ফলে চাইলে তারা এই জলপথে কয়েকশ মাইন পেতে রাখতে পারে।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি), যারা ইরানের প্রথাগত নৌবাহিনীর পাশাপাশি কার্যত এই প্রণালী নিয়ন্ত্রণ করছে, তাদের কাছে মাইন স্থাপনকারী যান, বিস্ফোরক বোঝাই নৌকা এবং উপকূলীয় মিসাইল ব্যাটারিসহ শক্তিশালী সামরিক সক্ষমতা রয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালীতে কোনো মাইন স্থাপন করে থাকে যদিও এ বিষয়ে তাদের কাছে কোনো রিপোর্ট নেই তাহলে সেগুলো অবিলম্বে সরিয়ে নেওয়া উচিত।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত ১২তম দিনে পৌঁছেছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার কারণে ইরানের তেল খাত সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্য হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে ইরান বর্তমানে যুদ্ধের প্রতিটি ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার দিকে মনোযোগ দিয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি অব ওয়ার্ল্ড স্টাডিজের রাজনৈতিক বিশ্লেষক ফোয়াদ ইজাদি বলেন, ‘‘ইরানি কর্মকর্তারা এমন কৌশল ভাবছেন যাতে যুদ্ধের ফলে হওয়া ক্ষতি পূরণ করা যায়।’’ ইজাদির মতে, ইরানের ভেতরে কয়েকটি প্রস্তাব আলোচনাাধীন। এর মধ্যে একটি হলো আঞ্চলিক পুনর্গঠন তহবিল গঠন করা, যেখানে যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলো অর্থ প্রদান করবে। অন্য একটি প্রস্তাব হলো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথ হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজগুলোর ওপর কর আরোপ। তিনি বলেন, ‘‘ইরান আর অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারবে না, আর অন্যরা স্বাভাবিকভাবে লাভবান হবে—এমন পরিস্থিতি আর চলবে না।’’ বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট। এখানে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করে, তাই নতুন কোনো কর বা বিধিনিষেধ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। এদিকে তেহরান দাবি করেছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে দেশটির প্রায় ১০ হাজার বেসামরিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালানো হয়েছে এবং এতে ১ হাজার ৩শ’র বেশি সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছেন।
কানাডার টরন্টো শহরের ডাউনটাউনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলেট ভবনে গুলির ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ। মঙ্গলবার ভোরে এই ঘটনা ঘটে এবং বিষয়টি তদন্ত করছে কানাডার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পুলিশ জানিয়েছে, ভোরের দিকে কনস্যুলেট ভবনের দিকে গুলি ছোড়ার খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে ভবনের বাইরে গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে, তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। কানাডিয়ান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনাটি পরিকল্পিত হামলা নাকি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা—তা নিশ্চিত হতে তদন্ত চলছে। নিরাপত্তার স্বার্থে কনস্যুলেটের আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের টরন্টো কনস্যুলেটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কর্মী ও সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক উত্তেজনার মধ্যে এই ঘটনা ঘটায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং হামলার পেছনে কোনো রাজনৈতিক বা আন্তর্জাতিক কারণ রয়েছে কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ইরানের ক্ষমতার মসনদে বসার পর প্রথম দিনেই বড় ধরনের দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর বিমান হামলা শুরুর প্রথম দিনেই তিনি গুরুতর আহত হন বলে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে। সিএনএন-এর তথ্য অনুযায়ী, মোজতবা খামেনির একটি পা ভেঙে গেছে এবং মুখমণ্ডলে বেশ কিছু আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। সূত্রটি আরও জানায়, তার বাম চোখের চারপাশে কালশিটে এবং মুখে ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে। গত সপ্তাহে ইসরায়েলি বাহিনীর একটি গুপ্তহত্যার প্রচেষ্টায় তিনি আহত হন বলে গুঞ্জন ছড়িয়েছিল, যা বর্তমান পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। মোজতবা খামেনি তার বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর দায়িত্ব গ্রহণ করলেও গত কয়েক দিন ধরে তাকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি। এমনকি কোনো পাবলিক স্টেটমেন্টও তিনি দেননি। অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বর্তমানে তার পুরনো ভিডিও এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দ্বারা তৈরি ছবি প্রচার করে জনমনে বিভ্রান্তি দূর করার চেষ্টা করছে। যদিও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের ছেলে ইউসেফ পেজেশকিয়ান দাবি করেছেন যে, নতুন সর্বোচ্চ নেতা নিরাপদ আছেন এবং উদ্বেগের কোনো কারণ নেই, তবে সিএনএন-এর এই প্রতিবেদন বিশ্বজুড়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে মোজতবা খামেনির অন্তরালে থাকা ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলছে।