মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক হামলা ও উত্তেজনা লেবাননের গৃহযুদ্ধের সময় বড় হওয়া অনেক প্রবাসীর মনে পুরোনো ভয়াবহ স্মৃতি ফিরিয়ে আনছে। ১৯৭৫ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত চলা লেবাননের রক্তাক্ত গৃহযুদ্ধের সময় যাঁরা শৈশব কাটিয়েছেন এবং পরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে নতুন জীবন শুরু করেছেন, তাঁদের অনেকেই আবারও মানসিক অস্থিরতার মুখোমুখি হচ্ছেন।
দুবাইয়ে বসবাসকারী এক লেবানিজ নারী নিরাপত্তার কারণে নিজের নাম প্রকাশ না করে জানান, ইসরায়েলি হামলা শুরুর ঠিক আগে তিনি বৈরুত সফর করেছিলেন। বর্তমানে সম্ভাব্য স্থল অভিযানের আশঙ্কায় তিনি আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
তিনি বলেন, আমি ১৯৮২ সালের সেই ভয়াবহতা দেখেছি। আমার শৈশবের স্মৃতি কোনো খেলার মাঠ নয়; বরং বাঙ্কারের ভেতরে বিস্ফোরণের শব্দ আর ভয়ের মধ্যে কাটানো দিনগুলো। বর্তমানে বৈরুতে আটকে থাকা এই নারী যত দ্রুত সম্ভব দুবাইয়ে ফিরে যেতে চান।
রামা নামের আরেক প্রবাসীর অভিজ্ঞতাও একই রকম। তিনি জানান, বৈরুতে বোমা হামলা ও গোলাগুলির মধ্যে বড় হওয়ার স্মৃতি তার মনে এখনও তাজা। দুবাইয়ে কয়েক সপ্তাহ আগে যুদ্ধের বিস্ফোরণের শব্দ শোনার পর সেই স্মৃতিগুলো আবারও ফিরে এসেছে।
রামা বলেন, বিস্ফোরণের শব্দ শোনার পর আমার শরীর অদ্ভুত প্রতিক্রিয়া দেখায়। বুক ধড়ফড় করা, অনিদ্রা এবং বাইরে বের হওয়ার ভয় আমাকে আচ্ছন্ন করে ফেলে। আমি ভেবেছিলাম ২৫ বছর বিদেশে থাকার পর সেই স্মৃতি ভুলে গেছি, কিন্তু বুঝলাম সেগুলো এখনো ভেতরে জমে আছে।
তিনি আরও বলেন, আমি জানি আমিরাতে নিরাপদ আছি, তবুও শৈশবের সেই স্মৃতিগুলো আমাকে ভীষণভাবে নাড়িয়ে দিচ্ছে। তবে আপাতত দুবাইতেই থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রামা। এ সময় তিনি লেবানিজ-আমেরিকান কবি Khalil Gibran-এর একটি উক্তি স্মরণ করেন— যে ভূমি তোমাকে সম্মান দেয়, সেটিই তোমার স্বদেশ।
সূত্র: সিএনএন
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে ইরানের একটি ছোট দ্বীপ নতুন করে আন্তর্জাতিক মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। পারস্য উপসাগরে অবস্থিত Kharg Island–কে ইরানের অর্থনীতির জীবনরেখা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কারণ দেশটির অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশই এই দ্বীপের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রথম দুই সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও জ্বালানি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও খার্গ দ্বীপ তুলনামূলকভাবে অক্ষত ছিল। তবে গত শুক্রবার দ্বীপটির সামরিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কর্মকর্তারা ও ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, হামলায় তেল স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হয়নি। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump সতর্ক করে বলেছেন, ইরান যদি Strait of Hormuz দিয়ে জাহাজ চলাচলে বাধা দিতে থাকে, তাহলে খার্গ দ্বীপের তেল স্থাপনাগুলোও হামলার লক্ষ্য হতে পারে। কেন গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপ খার্গ একটি প্রবাল দ্বীপ, যার আয়তন নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। এটি ইরানের উপকূল থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে পারস্য উপসাগরে অবস্থিত। ইরানের প্রধান তেলক্ষেত্র—আহভাজ, মারুন ও গাচসারান থেকে প্রতিদিন লাখ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পাইপলাইনের মাধ্যমে এই দ্বীপে আনা হয়। দ্বীপটির গভীর সমুদ্রবন্দর বিশাল সুপারট্যাঙ্কার ভিড়ানোর সুযোগ দেয়, যা বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহের জন্য এটিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। কঠোর সামরিক নিরাপত্তার কারণে ইরানিদের কাছে এটি ‘নিষিদ্ধ দ্বীপ’ নামেও পরিচিত। বিশ্লেষকদের মতে, এই স্থাপনাটি ধ্বংস হয়ে গেলে ইরানের অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা লাগতে পারে। একটি পুরোনো নথিতে Central Intelligence Agency উল্লেখ করেছিল, খার্গ দ্বীপের স্থাপনাগুলো ইরানের তেল ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। হামলায় কী ঘটেছে গত শুক্রবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেন, মার্কিন বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে অন্যতম শক্তিশালী বিমান হামলা চালিয়েছে। মার্কিন বাহিনীর লক্ষ্য ছিল দ্বীপটির সামরিক অবকাঠামো—যেমন ক্ষেপণাস্ত্র বাঙ্কার, নৌ-মাইন সংরক্ষণাগার ও বিমানবন্দর। CNN যাচাই করা একটি ভিডিওতে দ্বীপটির বিমানবন্দর ও রানওয়ে এলাকায় হামলার দৃশ্য দেখা গেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা Fars News Agency জানিয়েছে, দ্বীপে অন্তত ১৫টি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে, তবে তেল স্থাপনাগুলো অক্ষত রয়েছে। তেলের বাজারে প্রভাব বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহের ক্ষেত্রে ইরান একটি বড় উৎপাদক। দেশটি প্রতিদিন প্রায় ৩৩ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল এবং আরও প্রায় ১৩ লাখ ব্যারেল কনডেনসেট উৎপাদন করে। বিশ্লেষকদের মতে, খার্গ দ্বীপের তেল অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হতে পারে। এতে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যেতে পারে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও প্রভাব পড়তে পারে। গ্লোবাল বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান Kpler–এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে খার্গ দ্বীপে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল মজুত রয়েছে। সামনে কী হতে পারে বিশ্লেষকেরা বলছেন, সংঘাত আরও বাড়লে খার্গ দ্বীপ সরাসরি হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে। সে ক্ষেত্রে ইরানও পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশের তেল ও গ্যাস অবকাঠামোতে হামলা চালাতে পারে। ইরানের সামরিক বাহিনীর শক্তিশালী শাখা Islamic Revolutionary Guard Corps ইতোমধ্যে হুঁশিয়ারি দিয়েছে—দেশটির জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে হামলা হলে পুরো অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে প্রতিশোধ নেওয়া হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তাই নয়, বিশ্ব জ্বালানি বাজারও বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে।
পাকিস্তানের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে আফগানিস্তান থেকে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসলামাবাদ। শুক্রবার রাতে এ হামলা হয় বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী। পাকিস্তানের সামরিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী ইসলামাবাদের কাছে অবস্থিত সেনাবাহিনীর সদর দপ্তর এলাকাকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার চেষ্টা করা হয়। তবে তা প্রতিহত করা হয়েছে। এ ছাড়া Quetta অঞ্চলে একটি ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে দুই শিশু আহত হয়েছে। আর Kohat এলাকায় ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে একজন বেসামরিক নাগরিক আহত হন। হামলার পর রাজধানী Islamabad–এর আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা বলছেন, আফগানিস্তানের তালেবান বাহিনীর কাছে উন্নত ড্রোন প্রযুক্তি নেই। সাধারণত স্থানীয়ভাবে তৈরি ড্রোন ব্যবহার করে তারা সীমান্তবর্তী অঞ্চলে হামলা চালাতে পারে। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে পাকিস্তান আফগানিস্তানের রাজধানী Kabulসহ তিনটি অঞ্চলে বিমান হামলা চালায়। ওই হামলায় অন্তত চারজন নিহত হন। এরপরই প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দেয় Taliban। ড্রোন হামলার ঘটনায় পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট Asif Ali Zardari নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা পাকিস্তান মেনে নেবে না। প্রতিবেশী দেশের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করা যাবে না।” এর আগে গত মাসে পাকিস্তান আফগানিস্তানের ভেতরে কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়েছিল। ইসলামাবাদের দাবি ছিল, পাকিস্তানে সন্ত্রাসী হামলার জবাবে ওই অভিযান চালানো হয়েছে। তবে আফগানিস্তানে এমন সশস্ত্র গোষ্ঠীর উপস্থিতির কথা অস্বীকার করেছে তালেবান। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, দুই দেশের সীমান্ত এলাকায় চলমান সংঘর্ষে গত বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত আফগানিস্তানে অন্তত ৭৫ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ১৯৩ জন।
উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ব্যাংকের শাখায় হামলাকে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ বলে দাবি করেছে ইরান। দেশটির ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে এ হামলা চালানো হয়েছে। আইআরজিসির মুখপাত্র সরদার নাইনি শনিবার (১৪ মার্চ) বলেন, শত্রুপক্ষের হামলার পর ইরানের দুটি ব্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আমরা উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ব্যাংকের শাখাগুলোকে লক্ষ্য করেছি। ভবিষ্যতে যদি একই ধরনের হামলা পুনরাবৃত্তি হয়, তাহলে সব মার্কিন ব্যাংক আমাদের বৈধ লক্ষ্যবস্তু হবে। দুবাই আন্তর্জাতিক ফিন্যান্সিয়াল সেন্টার এলাকায় পরপর দুটি হামলার পর সিটিগ্রুপ ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকসহ বড় মার্কিন আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কর্মীদের সরিয়ে নিয়ে বাসা থেকে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে। এছাড়া এইচএসবিসি ব্যাংক কাতারে তাদের সব শাখা বন্ধ করে একই নীতি কার্যকর করেছে। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণে মার্কিন আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু বানানো পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। সূত্র: এএফপি