লেবানন

ছবি: সংগৃহীত
অবশেষে মিলল রূপপুর পারমাণবিকে জ্বালানি লোডিংয়ের লাইসেন্স

অবশেষে সকল পরীক্ষা নীরিক্ষার ধাপ পেরিয়ে পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিংয়ের জন্য লাইসেন্স দিয়েছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) রাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন লাইসেন্স অনুমোদনের দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বিএইআরএ) প্রধান শাখা নিউক্লিয়ার রেগুলেটরি ইনফ্রাস্ট্রাকচারের প্রকল্প পরিচালক ড. মাহবুবুর রহমান।   তিনি বলেন, আমাদের দিক থেকে আর কোনো সমস্যা নেই। জ্বালানী লোডিং এর কমিশনিং লাইসেন্স দিয়ে দিছি। এখন সরকার জ্বালানী লোডিং উদ্বোধনের তারিখ ঠিক করবেন। সে অনুযায়ী জ্বালানী লোডিং শুরু হবে। এতে করে চলতি এপ্রিলের শেষের দিকে রূপপুর পারমাণবিকের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) লোডিং উদ্বোধন হওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।    বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান বলেন, এর আগে গত ৭ এপ্রিল উদ্বোধনের জন্য মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নিলেও কিছু ক্রিটিক্যাল ইস্যু সামনে আসে। সেগুলো সমাধানের জন্য সময় দেওয়া হয়। সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য-আমরা সততার সঙ্গে জোরালো চেষ্টা করছি। এখন পজিশন ভালো। সেই জন্য প্রথম ইউনিটে ফুয়েল লোডিংয়ের (কমিশনিং) বিষয়ে আমরা এখন সবাই একমত হওয়ায় লাইসেন্স প্রদান করা হয়েছে।   এছাড়াও নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (এনপিসিবিএল) কে পরিচালনার জন্য অপারেটর হিসেবে অথারাইজেশন দেওয়া হয়েছে। এজন্য এনপিসিবিএল-এর ৫৯ জনকে পার্সোনাল লাইসেন্সও প্রদান করার কথা জানান তিনি।   নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (এনপিসিবিএল) এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জাহেদুল হাসান জ্বালানী লোডিং এর লাইসেন্স প্রাপ্তি, এনপিসিবিএল-কে অপারেটর হিসেবে নিযুক্তি এবং ৫৯ জনকে পার্সোনাল লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বৃহস্পতিবার রাতে জানান, ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতিমূলক কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।   অগ্নি নিরাপত্তা সংক্রান্ত এনওসি (অনাপত্তিপত্র) পাওয়া গেছে। নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও সেফগার্ডকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ফিজিক্যাল স্টার্টআপ তথা জ্বালানি লোডিংয়ের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ডিসেম্বরের মধ্যে ধাপে ধাপে রূপপুরে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।   প্রসংগত: এর আগে লাইসেন্স না পাওয়ায় নির্ধারিত চলতি মাসের ৭ এপ্রিল রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র-এর প্রথম ইউনিটে জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) লোডিং কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। চলতি বছরের ১৫ মার্চ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের এক পত্রে ৭ এপ্রিল প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিংয়ের উদ্বোধন করার কথা জানানো হয়েছিল।   দেশের সবচেয়ে ব্যয়বহুল এ প্রকল্পটি দীর্ঘ সময়ের নানা জটিলতা পেরিয়ে এখন দৃশ্যমান পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর আগেও একাধিকবার উৎপাদন শুরুর সময় পিছিয়েছে। প্রায় দুই বছর আগে রাশিয়া থেকে প্রথম ইউনিটের জন্য ইউরেনিয়াম জ্বালানি দেশে আনা হলেও তা এখনো ব্যবহার করা যায়নি। জ্বালানি লোডিংয়ের আগে আন্তর্জাতিক পরমানু শক্তি সংস্থা এর তত্বাবধানে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ থেকে লাইসেন্স নেওয়া বাধ্যতামূলক।    প্রসঙ্গত, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র রাশিয়ান ফেডারেশনের সঙ্গে একটি চুক্তির মাধ্যমে নির্মাণ করা হচ্ছে। চুক্তি অনুযায়ী রাশিয়া প্রকল্পটিতে অর্থায়ন এবং কারিগরি সহায়তা প্রদান করছে। ২০১৭ সালে নির্মাণকাজ শুরু হয়। মূল প্রকল্পের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১২.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা প্রায় এক লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা।   বর্তমানে রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে এবং দ্বিতীয় ইউনিটের ৭০ শতাংশের বেশি কাজ শেষ হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ২০২২ সালে কমিশনিংয়ের কথা থাকলেও তা তিন বছর পিছিয়ে গেছে। গত বছর বাংলাদেশ ও রাশিয়া ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ দুটি ইউনিটের কাজ শেষ করার জন্য সময়সীমা বাড়াতে সম্মত হয়।   প্রকল্প সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় ইউনিটের নির্মাণকাজ আগামী বছরের শেষ নাগাদ সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সবমিলিয়ে, পুরো প্রকল্পের কাজ ২০২৮ সালের শেষ নাগাদ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই অনুযায়ী, আগামী বছরের শুরুর দিকে রূপপুর থেকে প্রথম ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হওয়ার কথা। ২০২৮ সালের শেষ নাগাদ আরও ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের কথা রয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
লেবানন–ইসরায়েল সংলাপ নিয়ে তীব্র আপত্তি, ‘শত্রুর সঙ্গে আলোচনা গুরুতর পাপ’—হিজবুল্লাহ'র সংসদ সদস্য

লেবানন সরকারের ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় যাওয়ার সিদ্ধান্তকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছেন দেশটির প্রভাবশালী সংগঠন হিজবুল্লাহর সংসদ সদস্য হুসেইন হাজ্জ হাসান। তিনি এই উদ্যোগকে ‘গুরুতর ভুল’ ও ‘দেশের স্বার্থবিরোধী’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।   বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হাসান বলেন, ‘শত্রুর সঙ্গে সরাসরি আলোচনা একটি গুরুতর পাপ ও গুরুতর ভুল। এটি দেশের কোনো স্বার্থই পূরণ করে না।’ তিনি মনে করেন, এ ধরনের সংলাপ লেবাননের জাতীয় স্বার্থকে দুর্বল করে দিচ্ছে।   সংসদীয় কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি লেবানন সরকারের প্রতি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ‘অপ্রয়োজনীয় ছাড়’ দেওয়া বন্ধ করার আহ্বান জানান। তার ভাষায়, বর্তমান নীতি দেশের জন্য কোনো ইতিবাচক ফল বয়ে আনছে না এবং এ অবস্থান থেকে সরে আসা প্রয়োজন।   প্রসঙ্গত, ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরায়েলের চলমান সংঘাত নিরসনে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানীতে কূটনৈতিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই বৈঠকে লেবানন যুদ্ধবিরতি এবং মানবিক সংকট মোকাবিলার ওপর গুরুত্বারোপ করে।   অন্যদিকে ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা হিজবুল্লাহসহ অরাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিরস্ত্র করতে চায়। এ অবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা প্রশমনে সংলাপ অব্যাহত রাখার চেষ্টা চলছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণায় দুই দেশের মধ্যে আরও একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যা চলমান সংঘাত নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
ইসরায়েল-লেবানন যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করলেন ট্রাম্প

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত নিরসনে বড় ধরনের কূটনৈতিক সাফল্যের দাবি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আজ মঙ্গলবার এক ঘোষণায় তিনি জানিয়েছেন, ইসরায়েল এবং লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। বাংলাদেশ সময় আজ রাত ৩টা (২১:০০ জিএমটি) থেকে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হতে যাচ্ছে। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে ট্রাম্প জানান, লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। দীর্ঘ ৩৪ বছর পর গত মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে দুই দেশের প্রতিনিধিরা মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর উপস্থিতিতে বৈঠকে বসেন। সেই বৈঠকের ধারাবাহিকতায় এই শান্তি প্রক্রিয়া শুরু হলো। ট্রাম্প তার পোস্টে লিখেন, "এই দুই নেতা একমত হয়েছেন যে, দেশ দুটির মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আজ বিকেল ৫টা (EST) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি শুরু হবে।" এই শান্তি প্রক্রিয়া তদারকি করার জন্য ট্রাম্প একটি উচ্চপর্যায়ের দল গঠন করেছেন। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং জয়েন্ট চিফ অফ স্টাফের চেয়ারম্যান ড্যান ‘রেজিন’ কেইন ইসরায়েল ও লেবাননের সাথে স্থায়ী শান্তি বজায় রাখতে কাজ করবেন। নিজের সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরে ট্রাম্প আরও বলেন, "বিশ্বজুড়ে ৯টি যুদ্ধ সমাধান করা আমার জন্য সম্মানের বিষয় ছিল, আর এটি হতে যাচ্ছে আমার ১০ম সাফল্য। তাই চলুন, এটি সম্পন্ন করি!"

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
লেবাননের রাজধানীতে ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারালেন বাংলাদেশি নারী

লেবাননের রাজধানী Beirut-এ ইসরায়েলি বিমান হামলায় এক প্রবাসী বাংলাদেশি নারী নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) লেবাননে বাংলাদেশ দূতাবাস এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।   নিহত নারীর নাম দিপালী। তিনি ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার চর হাজীগঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা শেখ মোফাজ্জলের মেয়ে। গত বুধবার (৮ এপ্রিল) বৈরুতের হামরা এলাকায় চালানো হামলায় তিনি প্রাণ হারান।   দূতাবাস জানায়, হামলার সময় দিপালী তার নিয়োগকর্তার পরিবারের সঙ্গে ওই এলাকায় অবস্থান করছিলেন। হামলার ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। বর্তমানে তার মরদেহ বৈরুতের Rafic Hariri University Hospital-এর মর্গে রাখা আছে।   বাংলাদেশ দূতাবাস তার মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছে এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছে। একই হামলায় তার নিয়োগকর্তা ও পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য নিহত হয়েছেন বলেও জানা গেছে।   এর আগে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পরই লেবাননে এই হামলা চালানো হয়। এতে শতাধিক মানুষ নিহত ও অনেকেই আহত হয়েছেন বলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।   যুদ্ধবিরতির মধ্যেও এমন হামলার ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো এর নিন্দা জানিয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েল-লেবানন শান্তি আলোচনা: ওয়াশিংটনে আজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ত্রিপক্ষীয় বৈঠক

মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের সংঘাত নিরসনে এক নতুন কূটনৈতিক দিগন্ত উন্মোচিত হতে যাচ্ছে। আজ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিডিসিতে ইসরায়েল, লেবানন এবং যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতদের মধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রস্তুতিমূলক বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।  ইসরায়েলি সরকারি সূত্র এবং আলোচনার সাথে সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য পক্ষগুলো এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। এই প্রথম দফার আলোচনার মূল লক্ষ্য হলো ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে সরাসরি আলোচনার শর্তাবলি এবং আলোচ্যসূচি নির্ধারণ করা। ইসরায়েলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই আলোচনার মূল উদ্দেশ্য হলো হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্রীকরণ এবং দুই দেশের মধ্যে "শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক" স্থাপন করা। তবে আলোচনার টেবিলে কিছু অমীমাংসিত জটিলতা এখনো বিদ্যমান। লেবানন শুরু থেকেই শর্ত দিয়েছে যে, আলোচনার আগে ইসরায়েলকে অবশ্যই যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করতে হবে। লেবাননের কর্মকর্তাদের মতে, হামলার মুখে থেকে কোনো আলোচনা সম্ভব নয়। অন্যদিকে, ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর সাথে আলোচনার পূর্বশর্ত হিসেবে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরায়েল। আজকের এই ঐতিহাসিক প্রস্তুতিমূলক বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন লেবাননে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মিশেল ইসা, যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লিটার এবং যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত লেবাননের রাষ্ট্রদূত নাদা হামাদেহ মোয়াদ। এই বৈঠকের ফলাফলের ওপরই নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির পরবর্তী রূপরেখা।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১০, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
দুই লক্ষ্যেই লেবাননের সঙ্গে আলোচনায় যেতে চান নেতানিয়াহু

লেবাননের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসতে উদ্যোগ নিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তার ঘোষিত লক্ষ্য দুটি—হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করা এবং দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করা। এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহু জানান, লেবাননের পক্ষ থেকে বারবার আলোচনার আহ্বানের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি মন্ত্রিসভাকে দ্রুত সরাসরি সংলাপ শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন।   ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ বিষয়ে আগামী সপ্তাহে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর–এ একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে। ইসরায়েলের এক কর্মকর্তা বলেন, বর্তমানে লেবাননে কার্যকর কোনো যুদ্ধবিরতি নেই। তবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।   অন্যদিকে লেবাননের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইসরায়েলের সঙ্গে বৃহত্তর আলোচনার পথ তৈরি করতে তারা সাময়িক যুদ্ধবিরতির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এটিকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির মতো একটি ‘প্রাথমিক ধাপ’ হিসেবে উল্লেখ করেন।   এদিকে লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটন সফরে যেতে পারেন, যেখানে তিনি মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। তবে হিজবুল্লাহর সংসদ সদস্য আলী ফাইয়াদ সরাসরি আলোচনার প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো ধরনের সরাসরি সংলাপ তাদের পক্ষে গ্রহণযোগ্য নয়।   লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন বলেন, বর্তমান সংকটের সমাধানের জন্য প্রথমে যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা জরুরি, এরপরই আলোচনায় অগ্রগতি সম্ভব। উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সংঘাতে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে উত্তেজনা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। লেবাননের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত প্রায় ১,৭০০ জন নিহত এবং ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।   বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রস্তাবিত আলোচনা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, যদিও তা বাস্তবায়ন নির্ভর করছে যুদ্ধবিরতি ও আঞ্চলিক শক্তিগুলোর অবস্থানের ওপর।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১০, ২০২৬ 0
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি
লেবাননে হামলা বন্ধ না হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা নয়: ইরান

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো আলোচনার জন্য লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়াকে পূর্বশর্ত হিসেবে ঘোষণা করেছে ইরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি সাফ জানিয়েছেন, লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতির প্রতিশ্রুতি রক্ষা করলেই কেবল আলোচনার টেবিলে বসবে তেহরান। বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বাকায়ি বলেন, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যে যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব করা হয়েছে, লেবাননে যুদ্ধ বন্ধ হওয়া তার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, "পাকিস্তান সরকার স্পষ্ট করেছে যে যুক্তরাষ্ট্র সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর ব্যতিক্রম কিছু ঘটলে তা হবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের শামিল।" উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ আলী খামেনি এবং বেশ কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তাকে হত্যার পর ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সরাসরি সংঘাত শুরু হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান ও তার মিত্ররা পাল্টাপাল্টি বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেয়। বর্তমানে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি চলছে, যার লক্ষ্য হলো ইসলামাবাদের আলোচনার মাধ্যমে দীর্ঘস্থায়ী সমাধান খোঁজা। ইসলামাবাদে প্রস্তাবিত এই আলোচনা প্রসঙ্গে মুখপাত্র বলেন, "পাকিস্তান আমাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছে এবং বিষয়টি বর্তমানে পর্যালোচনাধীন রয়েছে। তবে আলোচনা তখনই সম্ভব, যখন আমরা নিশ্চিত হবো যে যুক্তরাষ্ট্র সব ফ্রন্টে—বিশেষ করে লেবাননে—যুদ্ধবিরতির শর্ত মেনে চলছে।" বাকায়ি লেবাননের জনগণের ওপর জায়নবাদী ইসরায়েলের বর্বর হামলার তীব্র নিন্দা জানান এবং তাদের বীরত্বপূর্ণ প্রতিরোধের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ইরান ও লেবাননের জনগণের মধ্যকার সংহতি এখন ইতিহাসের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি শক্তিশালী। ইরানের পক্ষ থেকে আলোচনার জন্য ১০ দফা পরিকল্পনা প্রস্তাব করা হয়েছে। যার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং হরমুজ প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করার মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এই আলোচনা মানে যুদ্ধের সমাপ্তি নয়, বরং এটি কূটনৈতিক লড়াইয়ের একটি অংশ মাত্র।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১০, ২০২৬ 0
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু | ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি ও বিশ্বজুড়ে নিন্দা: অবশেষে লেবাননের সাথে সংলাপে বসছে ইসরায়েল

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে এবার বড় ধরনের নাটকীয় মোড়। বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান নিন্দা এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি চাপের মুখে অবশেষে নতি স্বীকার করল তেল আবিব। লেবাননের সঙ্গে ‘যত দ্রুত সম্ভব’ সরাসরি আলোচনায় বসার জন্য নিজের মন্ত্রিসভাকে নির্দেশ দিয়েছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।  দীর্ঘদিনের চরম বৈরিতা কাটিয়ে এই দুই প্রতিবেশীর মুখোমুখি বসার ঘোষণাকে কেন্দ্র করে বিশ্ব রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন গুঞ্জন। প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, লেবাননের পক্ষ থেকে বারবার আলোচনার অনুরোধ আসার প্রেক্ষিতেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই আলোচনার প্রধান শর্ত হিসেবে থাকছে সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ। নেতানিয়াহুর মতে, বৈরুতকে নিরস্ত্রীকরণ করার বিষয়ে লেবাননের প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক সদিচ্ছাকে ইসরায়েল ইতিবাচকভাবে দেখছে। তিনি স্পষ্ট করেছেন, আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু হবে হিজবুল্লাহর অস্ত্র সমর্পণ এবং দুই দেশের মধ্যে একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তি প্রতিষ্ঠা করা। এই আলোচনার পেছনে সবচেয়ে বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে ওয়াশিংটনের চাপ। জানা গেছে, বুধবার এক ফোনালাপে ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত কড়া ভাষায় নেতানিয়াহুকে লেবাননে হামলার তীব্রতা কমিয়ে আনার নির্দেশ দেন। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি রক্ষা এবং মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সংঘাত এড়াতেই ট্রাম্পের এই ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপ। মার্কিন প্রশাসনের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, সংঘাত নিয়ন্ত্রণে ইসরায়েল এখন থেকে ‘সহায়ক অংশীদার’ হিসেবে কাজ করতে সম্মত হয়েছে। যদিও লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের কার্যালয় থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই দৌত্য মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের সমীকরণ বদলে দিতে পারে। দীর্ঘদিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাত শেষে শান্তির এই বার্তা কতটুকু আলোর মুখ দেখে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৯, ২০২৬ 0
স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে ম্যানুয়েল আলবারেস | ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলি আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা: ইরানে পুনরায় দূতাবাস খোলার ঘোষণা স্পেনের

লেবাননে ইসরায়েলের বর্বরোচিত ও নির্বিচার হামলার কঠোর সমালোচনা করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ফের আলোচনায় এসেছে স্পেন। দেশটির সরকার লেবাননের ওপর এই আক্রমণকে ‘মানবতার বিবেকের জন্য কলঙ্ক’ হিসেবে অভিহিত করেছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রচেষ্টাকে বেগবান করতে ইরানে নিযুক্ত নিজেদের রাষ্ট্রদূতকে পুনরায় তেহরানে ফেরার নির্দেশ দিয়েছেন স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে ম্যানুয়েল আলবারেস। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে আলবারেস জানান, গত ৭ মার্চ সাময়িকভাবে বন্ধ হওয়া তেহরানের দূতাবাসটি দ্রুতই তাদের কার্যক্রম শুরু করবে। তিনি বলেন, “শান্তি প্রতিষ্ঠার এই প্রচেষ্টায় আমরা সম্ভাব্য সব জায়গা থেকে যুক্ত হতে চাই, যার মধ্যে ইরানের রাজধানীও অন্যতম।” উল্লেখ্য, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও ইসরায়েল লেবাননে তাদের হামলা অব্যাহত রেখেছে। বুধবারও লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় প্রায় ২৫০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। স্পেন এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন এবং ‘বর্বরতা’ বলে উল্লেখ করেছে।  পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলবারেস ইতিমধ্যে ওমান, কাতার এবং লেবাননের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সাথে কথা বলেছেন এবং লেবাননের সার্বভৌমত্বের প্রতি স্পেনের পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৯, ২০২৬ 0
ফটো: প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প (সংগৃহীত)
লেবানন নিয়ে দ্বিমত: যুদ্ধবিরতি চুক্তি ঘিরে ট্রাম্পের উল্টো অবস্থান

ইরানের সঙ্গে সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হলেও লেবানন ইস্যুতে নতুন করে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী সব ফ্রন্টে সংঘাত বন্ধের কথা বলা হলেও বাস্তবে লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে।   লেবাননে সাম্প্রতিক হামলায় শতাধিক মানুষের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। এমন পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এই যুদ্ধবিরতি লেবাননের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।   এই অবস্থানের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতির আওতায় লেবানন অন্তর্ভুক্ত নয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, হিজবুল্লাহকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলের অভিযান একটি পৃথক সংঘর্ষ।   হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র কারোলিন লেভিটও একই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে জানিয়েছেন, লেবানন এই চুক্তির অংশ নয়।   তবে এ বিষয়ে ভিন্ন মত দিয়েছেন মধ্যস্থতাকারী শাহবাজ শরিফ। তিনি দাবি করেন, যুদ্ধবিরতি পুরো অঞ্চলের জন্য কার্যকর, যার মধ্যে লেবাননও অন্তর্ভুক্ত।   এ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী সব ধরনের সামরিক কার্যক্রম বন্ধ হওয়া উচিত। যুক্তরাষ্ট্রকে এ বিষয়ে পরিষ্কার অবস্থান নিতে হবে তারা যুদ্ধবিরতি চায়, নাকি ইসরায়েলের মাধ্যমে সংঘাত চালিয়ে যেতে চায়।   এই ভিন্নমুখী অবস্থানের কারণে যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে লেবাননকে চুক্তির আওতায় ধরা হয়েছে কি না, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।   বর্তমান পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ানোর আশঙ্কা তৈরি করেছে, যেখানে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতির মধ্যেও আঞ্চলিক সংঘাতের ঝুঁকি রয়ে গেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র–ইরান যুদ্ধবিরতিতে লেবানন অন্তর্ভুক্ত নয়: হোয়াইট হাউস

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ঘোষিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় লেবানন অন্তর্ভুক্ত নয় বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলাইন লেভিট।   তিনি বলেন, গত রাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে আলোচনা হয়েছে। ইসরায়েল এই যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টাকে সমর্থন জানিয়েছে এবং আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে যুক্ত রয়েছে।   লেবানন ভবিষ্যতে এই চুক্তির অন্তর্ভুক্ত হতে পারে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে। এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে এই যুদ্ধবিরতিতে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ অন্তর্ভুক্ত নয়। তিনি বলেন, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে।   লেবাননে সাম্প্রতিক হামলা প্রসঙ্গে নেতানিয়াহু দাবি করেন, হিজবুল্লাহর এমন কিছু অবস্থানে আঘাত হানা হয়েছে, যেগুলোকে তারা নিরাপদ মনে করত। যুদ্ধবিরতির প্রথম দিনেই লেবাননে ইসরায়েলের হামলায় ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ২৫৪ জন নিহত এবং এক হাজার ১৬৫ জন আহত হয়েছেন বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে জানানো হয়েছে। যদিও যুদ্ধবিরতি মেনে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলা বন্ধ রেখেছিল হিজবুল্লাহ।   সব মিলিয়ে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও লেবাননকে ঘিরে সংঘাত অব্যাহত থাকায় মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৯, ২০২৬ 0
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু
ইরান যুদ্ধে ব্যর্থতা ঢাকতেই লেবানন সীমান্তে সংঘাত জিইয়ে রাখছেন নেতানিয়াহু

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এখন এক চরম রাজনৈতিক সংকটের মুখোমুখি। একদিকে ইরানের সাথে সম্ভাব্য চুক্তির গুঞ্জন, অন্যদিকে নিজের দেশের জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থতা—সব মিলিয়ে নিজের গদি টিকিয়ে রাখতে তিনি এখন লেবানন ফ্রন্টকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। যুদ্ধের শুরুতে নেতানিয়াহু ইসরায়েলিদের 'চূড়ান্ত বিজয়', ইরানি হুমকির অবসান এবং ওই অঞ্চলে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান, যার নাম দেওয়া হয়েছিল 'লায়ন’স রোর' বা সিংহের গর্জন, সেটিকে এখন ইসরায়েলের প্রভাবশালী পত্রিকা 'মাআরিভ'-এর সামরিক বিশ্লেষকরা 'হাউলিং ক্যাটস' বা বিড়ালের আর্তনাদ হিসেবে বর্ণনা করছেন। তাদের মতে, হরমুজ প্রণালী অবরোধ এবং ইরানি শাসনব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করার সব চেষ্টাই ব্যর্থ হয়েছে, যা তেহরানের কৌশলগত শ্রেষ্ঠত্বকেই প্রমাণ করে। এই রাজনৈতিক ও সামরিক ব্যর্থতা আড়াল করতেই এখন দক্ষিণ লেবাননে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন এবং যুদ্ধের দামামা বাজিয়ে রাখছেন নেতানিয়াহু। মূলত ভোটারদের এটা বোঝাতে চাইছেন যে, যুদ্ধ এখনও শেষ হয়নি। এদিকে নেতানিয়াহুর এই রণকৌশলকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন ইসরায়েলের বিরোধী দলীয় নেতা ইয়াইর লাপিদ। তিনি বর্তমান পরিস্থিতিকে ইসরায়েলের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় 'রাজনৈতিক বিপর্যয়' হিসেবে উল্লেখ করেছেন।  লাপিদ বলেন: "সেনাবাহিনী তাদের দায়িত্ব পালন করেছে, জনগণ অসীম ধৈর্য দেখিয়েছে, কিন্তু নেতানিয়াহু রাজনৈতিক ও কৌশলগতভাবে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন। তিনি নিজের নির্ধারিত একটি লক্ষ্যও পূরণ করতে পারেননি। তার ঔদ্ধত্য এবং অদূরদর্শিতার কারণে দেশের যে কৌশলগত ক্ষতি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে বছরের পর বছর সময় লাগবে।"

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৮, ২০২৬ 0
দক্ষিণ লেবাননে সেনা উপস্থিতি বাড়ালো ইসরাইল
দক্ষিণ লেবাননে সেনা উপস্থিতি বাড়ালো ইসরাইল

ইসরাইলি সেনাবাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন এই ডিভিশন সামনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করবে এবং উত্তরাঞ্চলের বাসিন্দাদের সম্ভাব্য হুমকি কমাতে ভূমিকা রাখবে।   এদিকে ইসরাইলের সংবাদপত্র ইয়েদিওথ আহরোনোথ জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের ভৌগোলিক পরিবেশ—বিশেষ করে পাহাড়ি ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা—গাজার তুলনায় বেশি জটিল, যা অভিযানে বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। অভিযানের একটি বড় লক্ষ্য হচ্ছে হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের লিতানি নদীর উত্তরে সরিয়ে দেওয়া এবং সীমান্তবর্তী কিছু এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেওয়া।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইসরাইলি বাহিনী একটি বিস্তৃত সামরিক পরিকল্পনা রাজনৈতিক নেতৃত্বের কাছে উপস্থাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এতে সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোর নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ এবং ভবিষ্যতেও অভিযান চালিয়ে যাওয়ার বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।   তবে বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ ইসরাইলের ‘নিরাপত্তা বলয়’ তৈরির কৌশলের অংশ হলেও আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে তা দখলদারিত্ব হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।   সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
ইসরায়েলি হেলিকপ্টার ও সেনানিাবাসে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হিজবুল্লাহর

লেবানন সীমান্তে ইসরায়েলি বাহিনীর ওপর একের পর এক শক্তিশালী হামলা চালিয়েছে সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ।  দক্ষিণ লেবাননের রামিয়া সীমান্ত এলাকায় একটি ইসরায়েলি হেলিকপ্টারকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে, যার ফলে হেলিকপ্টারটি পিছু হটতে বাধ্য হয়।  এছাড়া, কাউজাহ গ্রামে একটি বাড়িতে অবস্থানরত ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে গাইডেড মিসাইল হামলা চালিয়েছে গোষ্ঠীটি।  এদিকে উত্তর ইসরায়েলের মেতুলা বসতি লক্ষ্য করে দ্বিতীয় দফায় রকেট হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে হিজবুল্লাহ।  মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতময় পরিস্থিতিতে সীমান্তে উত্তেজনা এখন চরম তুঙ্গে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২, ২০২৬ 0
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।
শান্তিরক্ষীদের ওপর হামলা আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন: জাতিসংঘ মহাসচিব

লেবাননে কর্তব্যরত অবস্থায় শান্তিরক্ষীদের ওপর বর্বরোচিত হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।  দক্ষিণ লেবাননে সোমবার এক ভয়াবহ হামলায় দুই ইন্দোনেশীয় শান্তিরক্ষী প্রাণ হারান এবং আরও দুইজন গুরুতর আহত হন। এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইনের "চরম লঙ্ঘন" হিসেবে অভিহিত করেছেন তিনি। জাতিসংঘ প্রধান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক বার্তায় জানান যে, মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে এটি দ্বিতীয় প্রাণঘাতী হামলা। এর আগে রোববার অন্য একটি পৃথক ঘটনায় আরও একজন শান্তিরক্ষী নিহত হয়েছিলেন।  শোকসন্তপ্ত পরিবার ও সহকর্মীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে গুতেরেস দৃঢ়ভাবে বলেন, "শান্তির জন্য কাজ করতে গিয়ে কাউকে যেন প্রাণ দিতে না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।" এই ন্যাক্কারজনক হামলার সাথে জড়িতদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৩১, ২০২৬ 0
ইন্দোনেশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রিকো রিকার্ডো সিরাইত
শান্তিরক্ষী নিহতের ঘটনায় ক্ষুব্ধ ইন্দোনেশিয়া: জাতিসংঘে জরুরি বৈঠকের ডাক

দক্ষিণ লেবাননে শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত তিন ইন্দোনেশীয় সেনার নিহতের ঘটনায় বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ প্রকাশ করে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক আহ্বান করেছে ইন্দোনেশিয়া। লেবাননে জাতিসংঘের অন্তর্বর্তীকালীন বাহিনী (ইউনিফিল) জানিয়েছে, সোমবার বানি হাইয়ানের কাছে একটি শক্তিশালী বিস্ফোরণে দুজন শান্তিরক্ষী নিহত এবং দুজন আহত হন। এর আগে রবিবার গভীর রাতে আদচিত আল-কুসায়রের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আরও একজন ইন্দোনেশীয় সৈন্য প্রাণ হারান। এই হামলায় অন্য এক শান্তিরক্ষী গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। শান্তিরক্ষীদের ওপর এমন বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধরত পক্ষগুলোকে ‘আন্তর্জাতিক মানবিক আইন’ মেনে চলার কঠোর বার্তা দিয়েছে জাকার্তা। ইন্দোনেশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রিকো রিকার্ডো সিরাইত এক বিবৃতিতে জানান, শান্তিরক্ষী বাহিনীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। সংঘাতরত পক্ষগুলোকে অবশ্যই শান্তিরক্ষীদের সুরক্ষা দিতে হবে। হামলাগুলোকে ‘জঘন্য’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুগিওনো। তিনি ইতিমধ্যে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন এবং দ্রুত নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক ডাকার অনুরোধ জানিয়েছেন।  সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিয়ে কোনো প্রকার আপস করা হবে না।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৩১, ২০২৬ 0
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ
দক্ষিণ লেবাননের বিশাল অংশ দখল করার ঘোষণা ইসরায়েলের

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে উত্তেজনার পারদ চড়িয়ে এবার দক্ষিণ লেবাননের বিশাল অংশ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার প্রকাশ্য ঘোষণা দিল ইসরায়েল।  ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, লিতানি নদী পর্যন্ত পুরো এলাকাটি ইসরায়েল একটি স্থায়ী 'বাফার জোন' হিসেবে ব্যবহার করতে চায়। কাটজের বক্তব্য অনুযায়ী, উত্তর ইসরায়েলের নিরাপত্তা শতভাগ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত দক্ষিণ লেবানন থেকে বাস্তুচ্যুত হওয়া প্রায় ৬ লক্ষ মানুষ আর তাদের ঘরে ফিরতে পারবেন না। তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, সীমান্ত সংলগ্ন লেবানিজ গ্রামগুলোর সমস্ত ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে লিতানি নদীর ওপর কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সেতুগুলোতে মুহুর্মুহু বিমান হামলা চালানো হচ্ছে। লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এই আক্রমণগুলোকে একটি 'পূর্ণাঙ্গ স্থল অভিযানের পূর্বাভাস' হিসেবে বর্ণনা করেছেন।  লিতানি নদী পর্যন্ত ইসরায়েলের এই নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক দীর্ঘস্থায়ী ও রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পথ প্রশস্ত হবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৩১, ২০২৬ 0
ইসরাইলি সেনাবাহিনীর একটি দল। ছবি: সংগৃহীত
লেবাননে সংঘাতে আরও ৪ ইসরাইলি সেনা নিহত

দক্ষিণ লেবাননে আরও চারজন ইসরাইলি সেনা নিহত হয়েছে, এমনটি জানিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। খবরটি এসেছে আল জাজিরা থেকে।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহতদের মধ্যে দুজনের বয়স ২১ বছর এবং একজনের বয়স ২২ বছর। চতুর্থ সেনার পরিচয় এখনও প্রকাশ করা হয়নি, কারণ ‘তার নাম প্রকাশের অনুমতি এখনও দেওয়া হয়নি’।   উল্লেখ্য, গত ২ মার্চ থেকে লিটানি নদীর দক্ষিণে ইসরাইল তাদের সামরিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি করেছে। এ সময়ের মধ্যে এখন পর্যন্ত অন্তত ১০ জন ইসরাইলি সেনা প্রাণ হারিয়েছেন।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৩১, ২০২৬ 0
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: সংগৃহীত
লেবাননে যুদ্ধজড়িত পদক্ষেপ বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন নেতানিয়াহু

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে সামরিক অভিযান বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, হিজবুল্লাহর ক্রমাগত রকেট হামলা এবং সীমান্তবর্তী অঞ্চলে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ার কারণে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, খবর জানিয়েছে সামা টিভি।   ইসরাইলের উত্তরাঞ্চলীয় সামরিক কমান্ড থেকে প্রকাশিত ভিডিও বার্তায় নেতানিয়াহু বলেন, তিনি সেনাবাহিনীকে চলমান অভিযানের পরিধি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমি বর্তমান নিরাপত্তা বলয় সম্প্রসারণের নির্দেশ দিয়েছি, যাতে হুমকিগুলো ইসরাইলের সীমান্ত থেকে আরও দূরে সরানো যায়।”   এর আগে ইসরাইল লিটানি নদী পর্যন্ত বাফার জোন সম্প্রসারণের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিল। তবে নতুন নির্দেশনার ফলে সীমার বাইরে আরও অগ্রসর হওয়া হবে, নাকি একই অঞ্চলে অবস্থান আরও শক্তিশালী করা হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।   প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি এবং বিষয়টি ইসরাইলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভায় এখনো আলোচনা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানের বিমান হামলার পর থেকে হিজবুল্লাহ তেল আবিবের দিকে রকেট ছোড়া শুরু করে, যার প্রেক্ষিতে ইসরাইল লেবাননে সামরিক হামলা জোরদার করেছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৩০, ২০২৬ 0
লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহত সাংবাদিকের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় স্বজন ও সহকর্মীরা। ছবি: রয়টার্স
ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে নিহতের সংখ্যা ছাড়ালো ১ হাজার ২০০

ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে গত চার সপ্তাহে নিহত মানুষের সংখ্যা ১ হাজার ২০০ ছাড়িয়েছে, জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হামলায় আহত হয়েছেন তিন হাজার ৫০০-এর বেশি মানুষ, যার মধ্যে ১২৪ শিশু অন্তর্ভুক্ত।   গত শনিবার এবং রোববার দুই দিনে সংঘটিত হামলায় ৪৯ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১০ জন উদ্ধারকর্মী এবং তিনজন সাংবাদিক রয়েছেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সতর্ক করেছেন যে, চলমান সংঘাতের কারণে পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ হচ্ছে এবং জনসাধারণকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।   এই ঘটনায় লেবাননের বিভিন্ন এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা পৌঁছাতে সমস্যা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক কমিউনিটি ইতিমধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৩০, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
তুরস্কের ইস্তাম্বুলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ

তুরস্কের বৃহত্তম শহর ইস্তাম্বুলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছে প্রায় এক হাজার মানুষ। প্রবল বৃষ্টির মধ্যেও শত শত মানুষ সমবেত হয়ে ইরান, লেবানন ও ফিলিস্তিনে চলমান সংঘাতের প্রতিবাদ জানায়।   বিক্ষোভ আয়োজন করে কয়েকটি ধর্মভিত্তিক রক্ষণশীল এনজিও। অংশগ্রহণকারীরা ‘প্রতিরোধ গড়ো, গাজা জিতবে’, ‘মুসলমানরা অন্যায়কে মাথা নত করে না’ এবং ‘খুনি ইসরাইল, খুনি যুক্তরাষ্ট্র’ লিখিত প্ল্যাকার্ড বহন করেন। তারা আল-আকসা মসজিদ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তেরও সমালোচনা করেন।   একজন বিক্ষোভকারী মেহমেত ইয়িলমাজ বলেন, আমরা বিশ্বের সব নিপীড়িত মানুষের জন্য এখানে—লেবানন, ইরান, ফিলিস্তিন। গতকাল ভেনেজুয়েলা ছিল, আগামীকাল হয়তো কিউবা হবে। আরেক বিক্ষোভকারী একরাম সায়লান বলেন, ইরান যখন ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে, কেউ আয়রন ডোম দিয়ে তাদের আটকাতে পারবে না। তারপরও তারা [ইসরাইলিরা] ইঁদুরের মতো গর্তে ঢুকে পড়ে। ইরানিরা রাস্তায় নেমে আসে, এটি বিশ্বাস ও ইমানের বিষয়। যদি তাদের বিশ্বাস থাকত, মৃত্যুকে ভয় পেত না।   সূত্র: আল জাজিরা

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৩০, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

Top week

ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা থাকলেই থাকা যাবে না—নতুন বার্তা মার্কিন দূতাবাসের

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১২, ২০২৬ 0