আমেরিকা

উপসাগরীয় দেশগুলো ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামছে—মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দাবি

শাহারিয়া নয়ন মার্চ ১৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে উপসাগরীয় দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের পাশে থেকে আক্রমণাত্মক অবস্থান নিচ্ছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী Pete Hegseth। তবে এসব দেশের পক্ষ থেকে এখনো এ ধরনের কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।

 

ভার্জিনিয়ার আর্লিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে পরিস্থিতি এখন ওয়াশিংটনের অনুকূলে রয়েছে। আমাদের উপসাগরীয় মিত্ররা আগের চেয়ে বেশি সক্রিয় এবং তারা ইরানের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক অবস্থান নিচ্ছে।

 

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকে তেহরান পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ইরানের দাবি, এসব হামলা মূলত ওইসব দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ও তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাকে লক্ষ্য করে প্রতিশোধমূলকভাবে চালানো হচ্ছে।

 

এদিকে উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের সম্পর্কও সাম্প্রতিক সময়ে আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কাতারের রাজধানী দোহা, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই ও বাহরাইনের মানামায় ইরানের হামলার ঘটনা ইতিমধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

 

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পাস হওয়া এক প্রস্তাবে উপসাগরীয় সহযোগিতা সংস্থা (জিসিসি) সদস্য দেশগুলোর ওপর ইরানের হামলার নিন্দা জানানো হয়েছে। তবে ওই প্রস্তাবে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি।

 

সংযুক্ত আরব আমিরাতের কূটনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা Anwar Gargash সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ইরানের আন্তর্জাতিকভাবে একঘরে হয়ে পড়া এখন আর স্লোগান নয়, এটি বাস্তবতা।

 

তবে বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় দেশগুলো এখনো সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়নি। বরং যুদ্ধ শুরুর আগে তারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump–এর কাছে ইরানে হামলা না চালানোর আহ্বান জানিয়েছিল। তাদের আশঙ্কা ছিল, যুদ্ধ শুরু হলে তারা ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।

 

এদিকে যুদ্ধের প্রভাবে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি খাতেও বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল ও এলএনজি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ পথ Strait of Hormuz দিয়ে জাহাজ চলাচলও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

 

বাণিজ্য বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে উপসাগরীয় দেশগুলো জ্বালানি খাতে প্রায় ১ হাজার ৫১০ কোটি ডলার রাজস্ব হারিয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কাতার, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েত।

 

বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এ ধরনের বক্তব্য উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। কারণ, ইরান আগেই সতর্ক করেছে—যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে সমর্থন দেবে, তাদের ওপর কঠোর প্রতিশোধ নেওয়া হবে।

 

সূত্র: মিডল ইস্ট আই, ফিন্যান্সিয়াল টাইমস

জনপ্রিয় সংবাদ
ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

১২ ঘণ্টারও কম সময়ে দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।   শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে।   এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।   নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।   এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।

অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা: এবার মেইনে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযানের ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)।   ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে।   কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না।   তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে।  সূত্র: ABC News

ভিসা নিয়ে বড় সুখবর দিলো যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে।   নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা।   ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল।   তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে।   এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস

Advertisement

আমেরিকা

View more
ছবি: সংগৃহীত
উপসাগরীয় দেশগুলো ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামছে—মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দাবি

ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে উপসাগরীয় দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের পাশে থেকে আক্রমণাত্মক অবস্থান নিচ্ছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী Pete Hegseth। তবে এসব দেশের পক্ষ থেকে এখনো এ ধরনের কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।   ভার্জিনিয়ার আর্লিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে পরিস্থিতি এখন ওয়াশিংটনের অনুকূলে রয়েছে। আমাদের উপসাগরীয় মিত্ররা আগের চেয়ে বেশি সক্রিয় এবং তারা ইরানের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক অবস্থান নিচ্ছে।   ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকে তেহরান পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ইরানের দাবি, এসব হামলা মূলত ওইসব দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ও তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাকে লক্ষ্য করে প্রতিশোধমূলকভাবে চালানো হচ্ছে।   এদিকে উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের সম্পর্কও সাম্প্রতিক সময়ে আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কাতারের রাজধানী দোহা, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই ও বাহরাইনের মানামায় ইরানের হামলার ঘটনা ইতিমধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।   জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পাস হওয়া এক প্রস্তাবে উপসাগরীয় সহযোগিতা সংস্থা (জিসিসি) সদস্য দেশগুলোর ওপর ইরানের হামলার নিন্দা জানানো হয়েছে। তবে ওই প্রস্তাবে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি।   সংযুক্ত আরব আমিরাতের কূটনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা Anwar Gargash সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ইরানের আন্তর্জাতিকভাবে একঘরে হয়ে পড়া এখন আর স্লোগান নয়, এটি বাস্তবতা।   তবে বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় দেশগুলো এখনো সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়নি। বরং যুদ্ধ শুরুর আগে তারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump–এর কাছে ইরানে হামলা না চালানোর আহ্বান জানিয়েছিল। তাদের আশঙ্কা ছিল, যুদ্ধ শুরু হলে তারা ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।   এদিকে যুদ্ধের প্রভাবে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি খাতেও বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল ও এলএনজি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ পথ Strait of Hormuz দিয়ে জাহাজ চলাচলও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।   বাণিজ্য বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে উপসাগরীয় দেশগুলো জ্বালানি খাতে প্রায় ১ হাজার ৫১০ কোটি ডলার রাজস্ব হারিয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কাতার, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েত।   বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এ ধরনের বক্তব্য উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। কারণ, ইরান আগেই সতর্ক করেছে—যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে সমর্থন দেবে, তাদের ওপর কঠোর প্রতিশোধ নেওয়া হবে।   সূত্র: মিডল ইস্ট আই, ফিন্যান্সিয়াল টাইমস

শাহারিয়া নয়ন মার্চ ১৫, ২০২৬ 0
মার্কিন ভিসা

ভিসায় বড় পরিবর্তন: মার্কিন দূতাবাসের জরুরি সতর্কবার্তা

যুক্তরাষ্ট্রে সংঘবদ্ধ ডাকাতি বেড়েই চলেছে, এক মিনিটে ১৭ লাখ ডলারের গয়না লুট

যুক্তরাষ্ট্রে সংঘবদ্ধ ডাকাতি বেড়েই চলেছে, এক মিনিটে ১৭ লাখ ডলারের গয়না লুট

ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানের প্রধান তেলকেন্দ্র খার্গ দ্বীপে মার্কিন হামলা

ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানের প্রধান তেলকেন্দ্র খার্গ দ্বীপে মার্কিন হামলা

হরমুজে হামলা চললে ইরানের জ্বালানি বাণিজ্য ধ্বংসের হুমকি ট্রাম্পের
হরমুজে হামলা চললে ইরানের জ্বালানি বাণিজ্য ধ্বংসের হুমকি ট্রাম্পের

হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলা চলতে থাকলে দেশটির জ্বালানি বাণিজ্য সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দেওয়া হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার বাংলাদেশ সময় মধ্যরাতের পর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।   ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে অন্যতম শক্তিশালী বোমা হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় ইরানের গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ খার্গে থাকা সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলো পুরোপুরি ধ্বংস করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।   তবে তিনি বলেন, এই অভিযানে খার্গ দ্বীপের তেল ও জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়নি। তার ভাষায়, দ্বীপটির জ্বালানি স্থাপনাগুলো অক্ষত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে যদি ইরান বা অন্য কেউ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে, তাহলে এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।   পারস্য উপসাগরে অবস্থিত খার্গ দ্বীপ ইরানের জ্বালানি রপ্তানির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইরানের উপকূল থেকে প্রায় ২৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এবং প্রায় ৫ বর্গমাইল আয়তনের এই দ্বীপটিকে দেশটির জ্বালানি বাণিজ্যের প্রধান কেন্দ্র বলা হয়। ইরানের প্রায় ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল ও তরল গ্যাস এখান থেকেই বিদেশে রপ্তানি করা হয়।   গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত শুরু হওয়ার পর ইরান হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ আরোপ করে। দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) ঘোষণা দেয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলা বন্ধ না করা পর্যন্ত এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে কোনো বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করতে দেওয়া হবে না। গত দুই সপ্তাহে এই প্রণালিতে ইরানের হামলায় একাধিক বাণিজ্যিক জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।   হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশের তেল রপ্তানি কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। তবে খার্গ দ্বীপের মাধ্যমে ইরান এখনও তাদের জ্বালানি রপ্তানি অব্যাহত রেখেছে।   আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে ইরানের অবদানও উল্লেখযোগ্য। বিশ্ববাজারে প্রতিদিন সরবরাহ হওয়া মোট তেলের প্রায় ১০ শতাংশ এবং তরল গ্যাসের প্রায় ১২ শতাংশ আসে ইরান থেকে। বিশ্লেষকদের মতে, যদি খার্গ দ্বীপের জ্বালানি অবকাঠামোতে সরাসরি হামলা হয়, তাহলে বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইরানের পক্ষে সেই ক্ষতি দ্রুত কাটিয়ে ওঠা খুবই কঠিন হবে।

নিলুফা ইয়াসমিন মার্চ ১৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্পের আসন্ন বিপদ ‘এপস্টেইন ফাইল’

ছবি: সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধ কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে

ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্পের উপদেষ্টার ভিসা বাতিল করল ব্রাজিল

ছবি: সংগৃহীত
ইরান যুদ্ধের প্রভাব বৈশ্বিক বাজারে, মার্কিন শেয়ারবাজারে বড় পতন

ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর বৈশ্বিক অর্থবাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে, যেখানে গত দুই সপ্তাহে প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি বাজারমূল্য উধাও হয়ে গেছে।   মার্কিন শেয়ারবাজারের প্রধান সূচক S&P 500 আবারও পতনের মুখে পড়েছে। ইরান যুদ্ধকে ঘিরে অনিশ্চয়তা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বেড়েছে, ফলে বাজারে বিক্রির চাপ তৈরি হয়েছে।   সর্বশেষ লেনদেনে সূচকটি ০.৬১ শতাংশ কমে ৬,৬৩২.১৯ পয়েন্টে বন্ধ হয়েছে। এর ফলে ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত সূচকটি সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে এসেছে এবং সাম্প্রতিক সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে প্রায় ৫ শতাংশ নিচে অবস্থান করছে।   এর আগে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি বাজার বন্ধ হয়েছিল ৬,৮৭৮.৮৮ পয়েন্টে—যা ছিল ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলা শুরুর আগের দিন। সেই তুলনায় সূচকটি এখন পর্যন্ত প্রায় ৩.৬ শতাংশ কমেছে।   বিশ্লেষকদের মতে, এই পতনের কারণে এসঅ্যান্ডপি ৫০০–এ তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মোট বাজারমূল্য থেকে আনুমানিক ২.২ ট্রিলিয়ন ডলার কমে গেছে।   এই সূচকটি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বহু অবসরভাতা তহবিল, পেনশন ফান্ড এবং বড় বিনিয়োগ তহবিল সরাসরি এসঅ্যান্ডপি ৫০০–এর সঙ্গে যুক্ত। ফলে বাজারের এই অস্থিরতা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।   তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

এক বা দুই সপ্তাহের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধ করতে পারেন ট্রাম্প: সাবেক মার্কিন দূত

ছবি: সংগৃহীত

ইরানে ‘অবৈধ যুদ্ধের’ জন্য আর এক ডলারও নয়: মার্কিন সিনেটর ক্রিস ভান হোলেন

ছবি: সংগৃহীত

ইরান আত্মসমর্পণের পথে—জি–৭ বৈঠকে দাবি ট্রাম্পের

0 Comments