আন্তর্জাতিক

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ: ইউরোপের কট্টর ডানপন্থীদের মধ্যে ফাটল

শাহারিয়া নয়ন মার্চ ১১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ইউরোপের কট্টর ডানপন্থী রাজনৈতিক দল ও নেতাদের মধ্যে আদর্শিক ও কৌশলগত বিভাজন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আল-জাজিরার এক বিশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, জাতীয়তাবাদ, পররাষ্ট্রনীতি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্কের সমীকরণে ইউরোপের এই রক্ষণশীল শক্তিগুলো এখন দুই ভাগে বিভক্ত।


ইউরোপের কট্টর ডানপন্থীদের একটি অংশ, যাদের 'আটলান্টিসিস্ট' (Atlanticists) বলা হয়, তারা সরাসরি এই যুদ্ধের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। যুক্তরাজ্যের পপুলিস্ট দল 'রিফর্ম ইউকে'-র প্রতিষ্ঠাতা নাইজেল ফারাজ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারকে আহ্বান জানিয়েছেন যেন তিনি ইরানের বিরুদ্ধে এই "অপরিহার্য যুদ্ধে" আমেরিকাকে পূর্ণ সমর্থন দেন। স্পেনের কট্টর ডানপন্থী দল 'ভক্স' (Vox)-ও এই যুদ্ধের প্রতি তাদের সমর্থন ব্যক্ত করেছে।


অন্যদিকে, জার্মানির 'অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি' (AfD)-র মতো দলগুলো এই যুদ্ধের বিষয়ে বেশ সতর্ক। দলটির সহ-সভাপতি টিনো শ্রুপাল্লা সতর্ক করে বলেছেন যে, ডোনাল্ড ট্রাম্প একজন "যুদ্ধের প্রেসিডেন্ট" হয়ে উঠছেন। তাদের আশঙ্কা, এই যুদ্ধের ফলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে নতুন করে শরণার্থী স্রোত ইউরোপের দিকে ধাবিত হতে পারে, যা তাদের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি।


যুক্তরাজ্যের কট্টরপন্থীদের মধ্যেও এ নিয়ে মতভেদ দেখা গেছে। কট্টর ইসলামবিদ্বেষী হিসেবে পরিচিত টমি রবিনসন যুদ্ধের পক্ষে উল্লাস প্রকাশ করলেও, 'ব্রিটেন ফার্স্ট' দলের নেতা পল গোল্ডিং বলেছেন, "এটি আমাদের লড়াই নয়, আমাদের যুদ্ধ নয়। আমাদের উচিত আগে ব্রিটেনকে প্রাধান্য দেওয়া।"


রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বিভাজনের মূলে রয়েছে জাতীয়তাবাদ। কুইন মেরি ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক টিম বেল জানান, কট্টর ডানপন্থীরা অভিবাসন ইস্যুতে একমত হলেও পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে তাদের জাতীয় স্বার্থ ভিন্ন। কেউ আমেরিকাকে কৌশলগত মিত্র মনে করে, আবার কেউ মনে করে বিদেশের যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া তাদের দেশের জন্য ক্ষতিকর।


সুইডিশ গবেষক মরগান ফিনসিও বলেন, এর আগে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়েও এই দলগুলোর মধ্যে বিভক্তি দেখা গিয়েছিল। এখন ইরান ইস্যু সেই ফাটলকে আরও প্রশস্ত করছে। বিশেষ করে রাশিয়া ও ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্কের ভিন্নতাই এই দলগুলোকে ভিন্ন ভিন্ন মেরুতে দাঁড় করিয়েছে।


বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুদ্ধের প্রতি এই সমর্থন বা বিরোধিতা আগামী নির্বাচনগুলোতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। ব্রিটেনে নাইজেল ফারাজের যুদ্ধংদেহী মনোভাব তার কট্টর সমর্থকদের খুশি করলেও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে তা নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, রিফর্ম ইউকে-র মাত্র ২৮ শতাংশ ভোটার ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক পদক্ষেপকে সমর্থন করছেন।


সামগ্রিকভাবে, ইরানের ওপর এই হামলা ইউরোপের কট্টর ডানপন্থী ঐক্যের সীমাবদ্ধতাকেই আবারও বিশ্বদরবারে উন্মোচিত করেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

১২ ঘণ্টারও কম সময়ে দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।   শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে।   এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।   নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।   এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।

অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা: এবার মেইনে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযানের ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)।   ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে।   কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না।   তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে।  সূত্র: ABC News

ভিসা নিয়ে বড় সুখবর দিলো যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে।   নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা।   ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল।   তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে।   এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস

Advertisement

আন্তর্জাতিক

View more
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান
পুরো অঞ্চল আগুনে জড়ানোর আগেই ইরানের যুদ্ধ থামাতে হবে: এরদোয়ান

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তার লাভ করার আগেই ইরানের যুদ্ধ বন্ধ করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে পুরো অঞ্চল ‘আগুনে নিক্ষিপ্ত’ হতে পারে। একই সঙ্গে যেকোনো সংকট মোকাবিলায় যুদ্ধের বদলে কূটনীতিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।   বুধবার তুরস্কের পার্লামেন্টে দেওয়া ভাষণে এরদোয়ান এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, “সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ার আগে এবং পুরো অঞ্চল আগুনে জড়িয়ে পড়ার আগেই এই যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে। কূটনীতিকে সুযোগ দেওয়া হলে তা সম্ভব।”   এরদোয়ান জানান, বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ায় তুরস্ক খুব সতর্কতার সঙ্গে পদক্ষেপ নিচ্ছে। দেশের চারপাশে ছড়িয়ে পড়া উত্তেজনা থেকে তুরস্ককে সুরক্ষিত রাখতে সরকার সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে।   এর আগে গত সপ্তাহে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চলের দিকে ধেয়ে আসা ইরানের দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে বলে জানা গেছে। ওই অঞ্চলে ন্যাটো ও যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহৃত বিমান ও রাডার ঘাঁটি রয়েছে। হামলার চেষ্টা ব্যর্থ করার পর সেখানে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।   এরদোয়ান বলেন, যুদ্ধ বন্ধে তুরস্ক সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলা শুরুর আগেই তুরস্ক মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এরপর থেকে সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানিয়ে আসছেন তুরস্কের এই প্রেসিডেন্ট।   তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, তুরস্কের জাতীয় নিরাপত্তার প্রতি কোনো হুমকি তৈরি হলে তার যথাযথ জবাব দেওয়া হবে।   এদিকে তুরস্কের প্রধান বিরোধী দল রিপাবলিকান পিপলস পার্টির (সিএইচপি) চেয়ারম্যান ওজগুর ওজেল এক সাক্ষাৎকারে অভিযোগ করেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য এরদোয়ান সরাসরি তার সমালোচনা করা থেকে বিরত থাকছেন।   রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ট্রাম্পের কর্মকাণ্ড নিয়ে আঙ্কারার নীরবতা কোনো নিরপেক্ষতা নয়। বরং এতে যুক্তরাষ্ট্র আরও উৎসাহিত হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। এরদোয়ান তাঁর বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের পদক্ষেপের সমালোচনা করেন এবং মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেন।   তবে অনেক বিশ্বনেতার মতো তিনিও বক্তব্যে সরাসরি ট্রাম্পের নাম উল্লেখ করেননি।   সূত্র: রয়টার্স

শাহারিয়া নয়ন মার্চ ১২, ২০২৬ 0
আয়াতোল্লা আলি খামেনি ও তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনি

উইলে চাঞ্চল্যকর তথ্য: নিজের ছেলেকে সুপ্রিম লিডার করতে চাননি খামেনি!

ছবি: সংগৃহীত

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ: ইউরোপের কট্টর ডানপন্থীদের মধ্যে ফাটল

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই

ইইউ-এর নতুন নিষেধাজ্ঞা ‘অযৌক্তিক ও বেআইনি’: তীব্র প্রতিবাদ ইরানের

ছবি: সংগৃহীত
রেকর্ড পরিমাণ ৪০ কোটি ব্যারেল তেল মুক্তির জন্য আইইএ’র ঐক্যমত

ইরান ও ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা তেলের বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। তেলের দাম ও প্রাকৃতিক গ্যাসের খরচ দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) সদস্য দেশগুলো জরুরি পদক্ষেপ নিয়েছে।   এটি প্রথমবারের মতো বিশ্ববাজারে ৪০ কোটি ব্যারেল তেল মুক্ত করার বিষয়ে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত। আইইএ নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরোল বলেন, হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ হওয়ায় সরবরাহ ঘাটতি পূরণ করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে হরমুজ প্রণালী আবার সচল না হলে এই তেল সরবরাহ খুব সীমিত প্রভাবই ফেলবে।   ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময় বাজারে ১৮ কোটি ব্যারেল তেল ছাড়া হয়েছিল, যা বর্তমানে ঘোষণা করা ৪০ কোটি ব্যারেলের থেকেও কম। বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালীতে দৈনিক প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ ব্যারেল অবরুদ্ধ তেল থাকায় এই সরবরাহ খুব নগণ্য এবং মাত্র ২৫ দিনে শেষ হয়ে যাবে।   আইইএর ঘোষণার পরও বিশ্ব তেলের বাজারে দাম প্রভাবিত হয়েছে। ব্রেন্ট ক্রুড প্রায় ৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৯০ ডলারের কাছাকাছি, আর মার্কিন WTI প্রায় ২.৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেল প্রতি ৮৫ ডলারে লেনদেন হচ্ছে।

তাবাস্সুম মার্চ ১১, ২০২৬ 0
ফাইল ছবি

ইরান যুদ্ধ ক্ষতিপূরণের জন্য হরমুজ প্রণালিতে কর বসানোর পরিকল্পনা

আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি। ছবি: অনলাইন।

মোজতবা খামেনি কেমন আছে জানাল ইরান

ছবি: সংগৃহীত।

লন্ডনে ফিলিস্তিনের সমর্থনে ঐতিহ্যবাহী পদযাত্রা নিষিদ্ধ: তোলপাড় ব্রিটেনে

ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের জন্য হরমুজ প্রণালী দিয়ে ‘এক লিটার তেলও’ যেতে দেবে না ইরান

হরমুজ প্রণালী দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও তাদের সহযোগীদের জন্য ‘এক লিটার তেলও’ পার হতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তেহরানের ‘খাতাম আল-আম্বিয়া’ সামরিক কমান্ড সদর দপ্তরের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাকারি।   তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের দিকে যাওয়া যেকোনো জাহাজ বা তেলবাহী ট্যাংকারকে ইরান ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে বিবেচনা করবে।   ইব্রাহিম জোলফাকারির ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের পাল্টা আঘাতের নীতি এখন শেষ হয়েছে। তেহরানের বর্তমান নীতি হবে ‘আঘাতের বদলে চরম আঘাত’।   তেলের বাজার নিয়েও সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি বলেন, প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ২০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে প্রস্তুত থাকতে হবে। তার দাবি, তেলের দাম মূলত আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপর নির্ভর করে, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল অস্থিতিশীল করে তুলেছে।

তাবাস্সুম মার্চ ১১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

টরন্টোতে মার্কিন কনস্যুলেটে গুলির ঘটনা, তদন্ত শুরু কানাডিয়ান পুলিশের

ছবি: সংগৃহীত

দুবাই বিমানবন্দরে ইরানি ড্রোন হামলা, আহত বাংলাদেশি শ্রমিক

ছবি: সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধের বিভ্রান্তিকর তথ্যের প্রভাবে তেলের দামে তীব্র ওঠানামা

0 Comments