যুদ্ধ

ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালীতে নিরবচ্ছিন্ন জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে ওমান ও ইরানের বড় পদক্ষেপ

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ ও সামুদ্রিক যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে এক টেবিলে বসেছে ওমান এবং ইরান। সম্প্রতি দুই দেশের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের এক উচ্চতর বৈঠকে এই কৌশলগত জলপথের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। ওমান নিউজ এজেন্সির (ওএনএ) প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈঠকে উভয় দেশের কারিগরি বিশেষজ্ঞরা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব ও রূপরেখা তুলে ধরেন। মূলত হরমুজ প্রণালী দিয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের সরবরাহ যেন কোনোভাবেই বিঘ্নিত না হয় এবং সামুদ্রিক যানসমূহ যেন “নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ” ভাবে যাতায়াত করতে পারে, তা নিশ্চিত করাই এই আলোচনার মূল লক্ষ্য।  মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মাঝে বিশ্ব অর্থনীতির লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত এই রুটের নিরাপত্তা নিশ্চিতে দুই দেশের এমন উদ্যোগকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৫, ২০২৬ 0
ইউক্রেনের টেনিস সেনসেশন মার্তা কস্ত্যুক
বিশ্বমঞ্চে যুদ্ধের প্রতিচ্ছবি তুলে ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ইউক্রেনের শীর্ষ টেনিস তারকা

ইউক্রেনের টেনিস সেনসেশন মার্তা কস্ত্যুক আবারও আলোচনায়। তবে এবার কেবল তার র‍্যাকেট বা ফোরহ্যান্ড শটের জন্য নয়, বরং নিজ দেশ ইউক্রেনের চলমান যুদ্ধের ভয়াবহতা বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার সংকল্প নিয়ে তিনি শুরু করতে যাচ্ছেন বছরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ 'ক্লে-কোর্ট' মৌসুম। সম্প্রতি সিএনএন-এর সাথে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ২৩ বছর বয়সী এই খেলোয়াড় তার ক্যারিয়ার, বর্তমান ফর্ম এবং যুদ্ধের ময়দানে থাকা নিজ দেশের পরিস্থিতি নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। টেনিসের লাল মাটির কোর্ট বা ক্লে-কোর্ট সবসময়ই খেলোয়াড়দের শারীরিক ও মানসিক ধৈর্য পরীক্ষা করে। কস্ত্যুক জানান, এবারের মৌসুমে তিনি আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী ও আত্মবিশ্বাসী। গত কয়েক মাসে তার খেলায় ব্যাপক উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে ব্রিসবেন ইন্টারন্যাশনালের ফাইনালে পৌঁছানো এবং অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের কোয়ার্টার ফাইনালের পারফরম্যান্স তাকে র‍্যাঙ্কিংয়ের সেরা দশে প্রবেশের স্বপ্ন দেখাচ্ছে। সাক্ষাৎকারে কস্ত্যুক আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন যখন তিনি তার দেশের বর্তমান পরিস্থিতির কথা বলেন। কস্ত্যুক জানান, টেনিস কোর্টে যখন তিনি প্রতিপক্ষের মোকাবিলা করেন, তখন তার মনের এক কোণায় সবসময় ইউক্রেনের মানুষের কষ্টের কথা ঘুরপাক খায়। তিনি বলেন, "আমি প্রতিদিন হৃদয়ে এক ধরণের ব্যথা নিয়ে খেলি। যখন ভাবি আমার দেশে হাজার হাজার মানুষ বিদ্যুৎ ও পানি ছাড়াই দিন কাটাচ্ছে, তখন কোর্টের লড়াইকে অনেক ছোট মনে হয়।" তিনি আরও যোগ করেন, "আমার খেলা এখন আর কেবল আমার একার নয়। আমি চাই আমার প্রতিটি জয় যেন ইউক্রেনবাসীর মুখে হাসি ফোটায় এবং বিশ্ববাসীকে মনে করিয়ে দেয় যে আমরা এখনও লড়ে যাচ্ছি।" রাশিয়ান ও বেলারুশিয়ান খেলোয়াড়দের সাথে করমর্দন না করার যে সিদ্ধান্ত কস্ত্যুক এবং অন্যান্য ইউক্রেনীয় খেলোয়াড়রা নিয়েছেন, সে বিষয়েও তিনি কথা বলেন। তিনি একে তার "সচেতন পছন্দ" হিসেবে বর্ণনা করেন। তার মতে, যতক্ষণ পর্যন্ত ইউক্রেনে আগ্রাসন বন্ধ না হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত স্বাভাবিক আচরণ করা সম্ভব নয়। যদিও টেনিস বিশ্বে এই নিয়ে নানা বিতর্ক রয়েছে, তবে কস্ত্যুক তার অবস্থানে অনড়। বর্তমানে বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ে ১৬ নম্বরের আশেপাশে থাকা এই তরুণী এখন তার ক্যারিয়ার সেরা ফর্মে আছেন। ক্লে-কোর্ট মৌসুমে ভালো ফলাফল করতে পারলে প্রথমবারের মতো শীর্ষ ১০-এ জায়গা করে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে তার সামনে। টেনিস বিশ্লেষকদের মতে, কস্ত্যুক যদি তার বর্তমান মানসিক দৃঢ়তা ধরে রাখতে পারেন, তবে আসন্ন ফ্রেঞ্চ ওপেনে তিনি বড় কোনো চমক দেখাতে পারেন। দেশের সংকটময় মুহূর্তে একজন ক্রীড়াবিদ কীভাবে প্রতিবাদের ভাষা হয়ে উঠতে পারেন, মার্তা কস্ত্যুক আজ তার জীবন্ত উদাহরণ। সূত্র: সিএনএন।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
রুদ্ধশ্বাস অভিযানের সমাপ্তি, ইরানে নিখোঁজ পাইলটকে যেভাবে উদ্ধার করে মার্কিন সেনা

ইরানের আকাশসীমায় ভূপাতিত মার্কিন বিমান বাহিনীর এফ-১৫ই (F-15E) যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ থাকা দ্বিতীয় ক্রু সদস্যকে এক শ্বাসরুদ্ধকর ও দুঃসাহসিক অভিযানের মাধ্যমে উদ্ধার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী। দীর্ঘ দুই দিন বৈরী এলাকায় আত্মগোপন করে থাকার পর অবশেষে তাকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রবিবার ভোরে এক বার্তায় এই সাফল্যের খবর নিশ্চিত করেছেন। ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক পোস্টে অত্যন্ত উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে লিখেছেন, “WE GOT HIM! (আমরা তাকে পেয়েছি!)”। তিনি এই উদ্ধার অভিযানকে মার্কিন সামরিক ইতিহাসের অন্যতম ‘দুঃসাহসিক’ অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান হিসেবে বর্ণনা করেন। ট্রাম্প জানান, উদ্ধারকৃত ওই অফিসার বর্তমানে নিরাপদ রয়েছেন এবং তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। গত শুক্রবার ইরানের পাহাড়ি এলাকায় মার্কিন যুদ্ধবিমানটি ভূপাতিত হওয়ার পর বিমানে থাকা দুই ক্রু সদস্যই প্যারাসুটের মাধ্যমে সফলভাবে ইজেক্ট করতে সক্ষম হন। বিমানের পাইলটকে ঘটনার কিছুক্ষণ পরই উদ্ধার করা গেলেও ‘উইপনস সিস্টেম অফিসার’ নিখোঁজ ছিলেন। প্রায় ৪৮ ঘণ্টা ধরে তিনি ইরানের দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে নিজেকে লুকিয়ে রাখতে সক্ষম হন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই অফিসারকে খুঁজে পেতে ইরান সরকার বড় অংকের পুরস্কার ঘোষণা করেছিল এবং স্থানীয়দের তাকে খুঁজে বের করার নির্দেশ দিয়েছিল। ইরানি টেলিভিশন ও সামাজিক মাধ্যমে স্থানীয়দের সশস্ত্র অবস্থায় ওই অফিসারকে খুঁজতে পাহাড়ী এলাকায় তল্লাশি চালানোর দৃশ্যও দেখা যায়। তবে মার্কিন ড্রোন ও স্যাটেলাইট প্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করে কমান্ডো বাহিনী সেখানে পৌঁছাতে সক্ষম হয়। ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযানে কয়েক ডজন মার্কিন যুদ্ধবিমান এবং হেলিকপ্টার অংশ নেয়। উদ্ধারকারী হেলিকপ্টারগুলো যখন পাহাড়ি এলাকায় নিচ দিয়ে উড়ছিল, তখন ইরানি বাহিনী এবং স্থানীয় মিলিশিয়ারা নিচ থেকে গুলিবর্ষণ করে। এতে দুটি হেলিকপ্টার ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কয়েকজন মার্কিন সেনা আহত হন, তবে শেষ পর্যন্ত সবাই নিরাপদে ফিরে আসতে সক্ষম হয়েছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, ওই অফিসার কিছুটা আহত হয়েছেন তবে তার আঘাত গুরুতর নয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বনাম ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার গত পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে এই প্রথম কোনো আমেরিকান যুদ্ধবিমান শত্রু এলাকায় ভূপাতিত হওয়ার ঘটনা ঘটল। একই দিন একটি এ-১০ (A-10) অ্যাটাক প্লেনও ইরানি গোলার আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে সেটির পাইলট কোনোমতে কুয়েত সীমান্ত পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম হন এবং সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্ধার অভিযান সফল না হলে এবং মার্কিন বৈমানিক ইরানি বাহিনীর হাতে বন্দি হলে যুদ্ধের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারত। আপাতত নিখোঁজ সেনাকে উদ্ধারের মাধ্যমে একটি বড় ধরনের স্নায়ুচাপের অবসান ঘটল পেন্টাগনের জন্য।  

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইরানে হামলা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন, ১০০ মার্কিন আইন বিশেষজ্ঞের হুঁশিয়ারি

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ নিয়ে এবার মুখ খুলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ১০০ জন আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ। এক খোলা চিঠিতে তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, এই সংঘাতের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক আইনের মারাত্মক লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে যা বিশ্বশান্তির জন্য চরম হুমকিস্বরূপ। যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা এবং সামরিক আইন বিশেষজ্ঞদের স্বাক্ষরিত এই চিঠিটি সম্প্রতি 'জাস্ট সিকিউরিটি ফোরাম'-এ প্রকাশিত হয়েছে। চিঠিতে বিশেষজ্ঞরা দাবি করেছেন, এই সামরিক অভিযান শুরু করাই ছিল জাতিসংঘ সনদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।  এছাড়া মার্কিন বাহিনীর বর্তমান কার্যক্রম এবং সরকারি কর্মকর্তাদের দেওয়া বক্তব্য আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও মানবিক আইনের পরিপন্থী, যা যুদ্ধাপরাধের শামিল হতে পারে বলেও তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। বিশেষজ্ঞরা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন যে, এই যুদ্ধের ফলে বেসামরিক নাগরিকদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, পরিবেশগত বিপর্যয় এবং আঞ্চলিক অস্থিরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে মার্কিন প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের আইনকে তোয়াক্কা না করে কেবল 'মারাত্মক আক্রমণ' এর ওপর জোর দেওয়ার প্রবণতাকে তারা 'বিপজ্জনক ও হ্রস্বদৃষ্টিসম্পন্ন' বলে অভিহিত করেছেন। তাদের মতে, নিয়ম-নীতিকে উপেক্ষা করার এই মানসিকতা বেসামরিক সুরক্ষার বৈশ্বিক মানদণ্ডকে ধ্বংস করে দিচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
ইরানে নিহত ২,০৭৬: মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে বাড়ছে লাশের মিছিল

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সংঘাতের ফলে ইরানসহ পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় নেমে এসেছে। মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত হামলায় প্রাণহানির সংখ্যা প্রতি মুহূর্তে বাড়ছে।  ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে নিহতের সংখ্যা ২,০৭৬ জনে দাঁড়িয়েছে এবং আহত হয়েছেন ২৬,৫০০ জনেরও বেশি মানুষ। এই ধ্বংসাত্মক যুদ্ধের প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে পুরো অঞ্চলে, যার শিকার হচ্ছে সাধারণ নাগরিক ও অগণিত শিশু। অঞ্চলভিত্তিক হতাহতের পরিসংখ্যান: ইরান: মৃত্যু ২,০৭৬ জন; আহত ২৬,৫০০ জন। লেবানন: মৃত্যু ১,৩৪৫ জন (যার মধ্যে ১২৫ জনই শিশু); আহত ৪,০৪০ জনের বেশি। ইসরায়েল: মৃত্যু ২৮ জন (১০ জন সেনা সদস্যসহ), আহত ৩,২২৩ জন। যুক্তরাষ্ট্র: যুদ্ধে নিহত ১৩ জন; ২ জন যুদ্ধ বহির্ভূত কারণে এবং আহত ২০০ জনের বেশি। ইরাক: নিহতের সংখ্যা ১০৭ জনেরও বেশি। সংযুক্ত আরব আমিরাত: মৃত্যু ১২ জন; আহত ১৬৯ জন। অধিকৃত পশ্চিম তীর: নিহত ৪ জন। অন্যান্য দেশ: কুয়েতে ৬ জন, ওমানে ৩ জন, বাহরাইনে ৩ জন, সিরিয়ায় ৪ জন এবং সৌদি আরবে ২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। জর্ডান ও কাতারেও বেশ কিছু মানুষ আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ২, ২০২৬ 0
ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাব।
ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ফোনালাপ, সংঘাত নিরসনে জরুরি আহ্বান ফিনল্যান্ডের

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা প্রশমনে যুদ্ধবিরতি এবং কূটনৈতিক সমাধানের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেছেন ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাব। সম্প্রতি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সাথে এক ফোনালাপে তিনি এই আহ্বান জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট স্টাব বলেন, "আজ আমি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সাথে কথা বলেছি। আমাদের মধ্যে ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এই মুহূর্তে একটি টেকসই যুদ্ধবিরতি এবং কূটনৈতিক সমাধান অত্যন্ত জরুরি।" সংলাপের গুরুত্ব তুলে ধরে ফিনিশ প্রেসিডেন্ট আরও জানান, তেহরানের সাথে নানা বিষয়ে মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও দ্বিপাক্ষিক আলোচনা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। ফোনালাপে তিনি প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর হামলা বন্ধ করতে এবং হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত রাখার বিষয়ে বিশেষভাবে জোর দিয়েছেন।  মূলত বিশ্ব অর্থনীতি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা বজায় রাখতেই ফিনল্যান্ড এই গঠনমূলক আলোচনার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ২, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
ইরানের সাথে চুক্তি করতে ‘মরিয়া’ ট্রাম্প: চাঞ্চল্যকর দাবি পেন্টাগনের সাবেক উপদেষ্টার

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা ও সংঘাতের অবসান ঘটাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সাথে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে অত্যন্ত ‘মরিয়া’ হয়ে উঠেছেন। পেন্টাগনের সাবেক উপদেষ্টা জেসমিন আল-জামাল সম্প্রতি সিএনএন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমন চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন। আল-জামাল জানান, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যগুলো বিশ্লেষণ করলে এটি স্পষ্ট যে, তিনি যেকোনো মূল্যে ইরানের সাথে একটি সমঝোতায় আসতে চান। তার মতে, ইরানি প্রশাসন ট্রাম্পের এই মানসিকতাকে তাদের নিজেদের অনুকূলে ব্যবহারের সুযোগ খুঁজছে।  ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের উপসাগরীয় মিত্রদের ওপর চাপ অব্যাহত রাখতে পারে, তবে তারা নিজেদের শর্ত অনুযায়ী আলোচনার টেবিলে বসার সুযোগ পাবে বলে মনে করছেন এই বিশেষজ্ঞ। মূলত বিশ্ব জ্বালানি বাজার এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপর চাপ সৃষ্টি করে ইরান আলোচনার ক্ষেত্রে সুবিধাজনক অবস্থানে যাওয়ার কৌশল গ্রহণ করেছে বলে পেন্টাগনের এই সাবেক কর্মকর্তা ইঙ্গিত দিয়েছেন।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ২, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
শতাব্দীর ঐতিহ্য ধূলিসাৎ! ইরানের পাস্তুর ইনস্টিটিউট ধ্বংসের পর বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড়

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভয়াবহ সংঘাতের মাঝে এবার ইরানে অবস্থিত বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন এবং গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান 'পাস্তুর ইনস্টিটিউট' মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলায় বিধ্বস্ত হয়েছে।  বৃহস্পতিবার ইরান সরকারের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলো যখন চিকিৎসা স্থাপনায় হামলার বিরুদ্ধে বারবার সতর্কবাণী দিচ্ছে, ঠিক তখনই এই নজিরবিহীন ঘটনাটি ঘটল। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য কেন্দ্রের প্রধান হোসেন কেরমানপুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) জানিয়েছেন, ১৯২০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই শতবর্ষী প্রতিষ্ঠানটিতে চালানো হামলাটি সরাসরি "আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য নিরাপত্তার ওপর একটি আঘাত"। উল্লেখ্য, এই ইনস্টিটিউটটি ইরানে ভ্যাকসিন উদ্ভাবন এবং সংক্রামক ব্যাধি প্রতিরোধের গবেষণায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছিল। সিএনএন-এর পক্ষ থেকে এই হামলার বিষয়ে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) এবং ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সাথে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। বিগত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলমান এই পাল্টাপাল্টি হামলায় ইরান ও লেবাননের চিকিৎসা ব্যবস্থা প্রায় ধ্বংসের মুখে। ইরান রেড ক্রিসেন্টের ১ এপ্রিলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ইরানে অন্তত ৩১৬টি স্বাস্থ্যসেবা ও জরুরি সহায়তা কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেভ দ্য চিলড্রেন জানিয়েছে, গড়ে প্রতি ছয় ঘণ্টায় অন্তত একবার ইরান, লেবানন বা ইসরায়েলের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা আক্রান্ত হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) পুনরায় স্মরণ করিয়ে দিয়েছে যে, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী স্বাস্থ্যকর্মী, রোগী এবং চিকিৎসা স্থাপনাগুলো সব সময়ই সুরক্ষার দাবিদার। এই ধ্বংসযজ্ঞ কেবল একটি ভবন ধ্বংস নয়, বরং সমগ্র অঞ্চলের জনস্বাস্থ্যের ভবিষ্যৎকে এক অনিশ্চিত গহ্বরে ঠেলে দিয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ২, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
ইসরায়েলি হেলিকপ্টার ও সেনানিাবাসে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হিজবুল্লাহর

লেবানন সীমান্তে ইসরায়েলি বাহিনীর ওপর একের পর এক শক্তিশালী হামলা চালিয়েছে সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ।  দক্ষিণ লেবাননের রামিয়া সীমান্ত এলাকায় একটি ইসরায়েলি হেলিকপ্টারকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে, যার ফলে হেলিকপ্টারটি পিছু হটতে বাধ্য হয়।  এছাড়া, কাউজাহ গ্রামে একটি বাড়িতে অবস্থানরত ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে গাইডেড মিসাইল হামলা চালিয়েছে গোষ্ঠীটি।  এদিকে উত্তর ইসরায়েলের মেতুলা বসতি লক্ষ্য করে দ্বিতীয় দফায় রকেট হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে হিজবুল্লাহ।  মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতময় পরিস্থিতিতে সীমান্তে উত্তেজনা এখন চরম তুঙ্গে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২, ২০২৬ 0
ছবি: রয়টার্স
সবাই হেরে যাচ্ছে ‘উলঙ্গ রাজা’ যুদ্ধে

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাত এমন এক যুদ্ধে পরিণত হয়েছে যেখানে কেউ জয়ী নয়। প্রচলিত যুদ্ধের নিয়ম অনুযায়ী, যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীরা জেতে বা হারতে পারে; কিন্তু ইরান যুদ্ধ এক ব্যতিক্রম। এখানে প্রতিটি দেশই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, প্রতিটি মানুষের জীবন প্রভাবিত হচ্ছে।   যুদ্ধ শুরু করেছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল, তখন তারা আশা করেছিল তা মাত্র কয়েকদিনের মধ্যে শেষ হবে। তারা বিশ্বাস করেছিল, খামেনিকে লক্ষ্য করলে ইরানের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ সৃষ্টি হবে এবং দ্রুত জয় আসবে। কিন্তু বাস্তবতা পুরোপুরি ভিন্ন। যুদ্ধ দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে, এবং আরম্ভকারী পক্ষগুলোই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।   কার্টুনিস্ট ইলা ব্যারনের একটি কার্টুন যুক্তরাষ্ট্রের দুর্বলতা প্রকাশ করেছে, যেখানে ট্রাম্পকে মিসাইল দিয়ে আচ্ছাদিত অবস্থায় দেখা যাচ্ছে, আর নেতানিয়াহু তাকে পথ দেখাচ্ছেন। যুদ্ধের এক মাসের মধ্যে মার্কিন সামরিক সম্ভার, বিশেষ করে টমাহক মিসাইলের বড় অংশ, প্রায় শেষ হয়ে গেছে। একেকটি মিসাইলের দাম কয়েক মিলিয়ন ডলার, এবং বার্ষিক উৎপাদন সীমিত। যুদ্ধের আর্থিক প্রভাব ইতিমধ্যেই আমেরিকান নাগরিকদের ব্যয় ও দৈনন্দিন জীবনে প্রতিফলিত হচ্ছে—তেলের দাম, মুদ্রাস্ফীতি এবং নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধি।   ইসরায়েলের পরিস্থিতিও সংকটজনক। সেনাবাহিনী জনবলসংকটে পড়ে এবং সস্তা ইরানি ড্রোন প্রতিহত করতে ব্যর্থ হচ্ছে। নাগরিকরা আশ্রয়শিবিরে দৌড়াচ্ছেন, আর সামরিক সরঞ্জামের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। নেতানিয়াহু ও ট্রাম্পের সিদ্ধান্তগুলো তাদের দেশের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলেছে।   ইউরোপীয় দেশগুলো সরাসরি যুদ্ধের অংশ না হলেও, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক চাপের মধ্য দিয়ে প্রভাবিত হচ্ছে। চীন ও রাশিয়াও মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।   বাংলাদেশে সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেই, কিন্তু জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক সংকট এবং হরমুজ প্রণালির অস্থিতিশীলতা দেশের অর্থনীতি ও ভোক্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। গ্রামীণ ও শহুরে এলাকায় তেলের মজুত রাখা হচ্ছে, যার ফলে আগুন লাগলে বিপদ বেড়ে যেতে পারে।   সরকারের ভর্তুকি ব্যবস্থা সাময়িক রেহাই দিলেও, দীর্ঘমেয়াদে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও অর্থনীতিতে প্রভাব পড়বে।   ইরানের অবস্থাও গুরুতর। দেশটি বহু নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিকে হারিয়েছে, সহস্রাধিক মানুষ নিহত হয়েছে, তবে তারা সম্মানের সঙ্গে লড়ছে। ইরানের নাগরিকরা প্রশ্ন করছেন—এই যুদ্ধ কখন শেষ হবে? ইসরায়েলের ধ্বংস বা যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাহার পর্যন্ত কি লড়াই চলবে?   পরিস্থিতি স্পষ্ট—এ যুদ্ধের কোনো বাস্তব বিজয়ী নেই। যুদ্ধে শুধু দেখা যায় কে বেঁচে আছে এবং কে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ জন্যই নোবেল বিজয়ী মনীষী বার্নার্ড শ বলেছেন, যুদ্ধ কেবল নির্ধারণ করে কে বেঁচে থাকে, আর জয়ী বা পরাজিত হওয়ার ধারাবাহিকতা তা প্রকাশ করে না।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ২, ২০২৬ 0
ব্যালট–সংক্রান্ত এক নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করার সময় বক্তব্য দিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে। ৩১ মার্চ ২০২৬। ছবি: রয়টার্স
ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইঙ্গিত: শিগগিরই ইরান যুদ্ধ শেষ হতে পারে

ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত শুরুর এক মাসের বেশি সময় পার হওয়া সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধের দ্রুত সমাপ্তির ইঙ্গিত দিয়েছেন। ট্রাম্প বলেছেন, যুদ্ধ “খুব শিগগিরই” শেষ হবে। এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও উল্লেখ করেছেন, যুদ্ধের শেষসীমা দেখা যাচ্ছে এবং কূটনৈতিক আলোচনা চলছে।   মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হয় ২৮ ফেব্রুয়ারি। এরপর ট্রাম্প একাধিকবার যুদ্ধ শেষ করার কথা বলেছেন, তবে একই সময়ে সেনা মোতায়েন ও সামরিক অভিযান অব্যাহত রেখেছেন। যুদ্ধের ৩৩তম দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরান, লেবানন ও ইয়েমেন থেকে ত্রিমুখী হামলার শিকার হয়। মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও জ্বালানি স্থাপনাগুলোও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।   বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগত পরিবর্তন করছে। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ লিন্ডা ব্লিমস জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র দিনে প্রায় ২০০ কোটি ডলার খরচ করছে। নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ঐতিহাসিক জীবনযাত্রার সংকট’-এর মধ্যে উল্লেখ করেছেন।   সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প জানিয়েছেন, প্রয়োজন পড়লে যুক্তরাষ্ট্র আবার ফিরে এসে হামলা চালাতে পারে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, বুধবার রাত ৯টায় ট্রাম্প জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন।   যুক্তরাষ্ট্রের জনগণও দ্রুত যুদ্ধ সমাপ্তি চায়। রয়টার্স–ইপসসের জরিপে দেখা গেছে, ৬৬ শতাংশ মানুষ দ্রুত যুদ্ধ শেষ চাইছে। ন্যাটো সম্পর্কেও ট্রাম্প নাড়াচাড়া করছেন; তিনি মনে করছেন, যুদ্ধের ক্ষেত্রে জোটটি তাদের পাশে নেই এবং যুদ্ধ শেষে সম্পর্ক পুনর্বিবেচনা হবে।   ইরানের বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি ক্রমশ বেড়ে ১ লাখ ১৫ হাজারের বেশি হয়েছে। তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে বিস্ফোরণ, কাতারে তেলবাহী জাহাজ আঘাতপ্রাপ্ত, কুয়েতে বিমানবন্দরে আগুন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরায় এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, “আমরা এই যুদ্ধে এখন খুব ক্লান্ত।”

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২, ২০২৬ 0
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প । ছবি: সংগৃহীত
ইরানের তথাকথিত ‘যুদ্ধবিরতির’ প্রস্তাব মানতে যে শর্ত দিলেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিস্ফোরক দাবির মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে নতুন করে আলোচনার ঝড় তুলেছেন। তার দাবি, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পাঠিয়েছে। তবে ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ 'হরমুজ প্রণালী' সম্পূর্ণরূপে উন্মুক্ত এবং নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত এই অনুরোধে কোনোভাবেই সাড়া দেবে না ওয়াশিংটন। আজ নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এই তথ্য প্রকাশ্যে আনেন। বর্তমান ইরানি প্রেসিডেন্টকে আগের শাসকদের তুলনায় 'অত্যন্ত বুদ্ধিমান ও কম উগ্র' হিসেবে অভিহিত করে ট্রাম্প লিখেন, “ইরানের নতুন জান্তা প্রেসিডেন্ট আমাদের কাছে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে যতক্ষণ পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি শঙ্কামুক্ত ও চলাচলের উপযোগী হচ্ছে না, ততক্ষণ আমরা এটি নিয়ে ভাবছি না।” শুধু তাই নয়, আলোচনার পরিবর্তে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে ট্রাম্প আরও বলেন, “শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা ইরানকে ধূলিসাৎ করে দেব এবং দেশটিকে প্রস্তর যুগে পাঠিয়ে দেব।” যদিও তেহরানের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতির এই প্রস্তাবের বিষয়ে এখনও কোনো দাপ্তরিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। এমনকি বর্তমান শাসন ব্যবস্থায় ইরানের প্রেসিডেন্টের এককভাবে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা আছে কি না, তা নিয়েও কূটনৈতিক মহলে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। এর আগে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের জন্য খুব বেশি কঠিন কোনো কাজ নয়। চলমান এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে আজ রাত ৯টায় (ইএসটি) মার্কিন প্রেসিডেন্ট জাতির উদ্দেশে টেলিভিশনে ভাষণ দেবেন। ধারণা করা হচ্ছে, সেখান থেকেই ইরান সংকটের পরবর্তী গতিপথ স্পষ্ট হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১, ২০২৬ 0
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প । ফাইল ছবি
যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছে ইরান, দাবি ট্রাম্পের

বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন এক নাটকীয় মোড়! মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার শীর্ষ পর্যায় থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যুদ্ধবিরতির জন্য আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানানো হয়েছে।  সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশাল’-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে ট্রাম্প এই চাঞ্চল্যকর তথ্য শেয়ার করেন। বিবৃতিতে ট্রাম্প ইরানের সেই নির্দিষ্ট কর্মকর্তার নাম প্রকাশ না করলেও তাকে ‘পূর্বসূরিদের তুলনায় অনেক কম উগ্র এবং অত্যন্ত বুদ্ধিমান’ বলে অভিহিত করেছেন। তবে যুদ্ধবিরতির এই প্রস্তাব গ্রহণ করার ক্ষেত্রে কড়া শর্ত জুড়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী যখন পুরোপুরি উন্মুক্ত, অবাধ ও নিরাপদ হবে, কেবল তখনই যুক্তরাষ্ট্র এই বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবে। ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি আরও কঠোর ছিল। তিনি যোগ করেন, শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ইরানকে এমনভাবে আঘাত করা হচ্ছে যা দেশটিকে কার্যত ‘পাথর যুগে’ ফিরিয়ে নিয়ে যাবে। মধ্যপ্রাচ্যে যখন চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে, তখন ট্রাম্পের এমন দাবি বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১, ২০২৬ 0
ফাইল ছবি
ইয়েমেন থেকে তৃতীয়বারের ব্যালিস্টিক হামলা ইসরায়েলে

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা আজ বুধবার সকালে দক্ষিণ ইসরায়েলে তৃতীয়বারের মতো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দায় স্বীকার করেছে। তারা দাবি করেছে, এই অভিযান চালানো হয়েছে ইরান ও লেবাননের হিজবুল্লাহর সঙ্গে সমন্বয় করে।   হুতিরা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা একঝাঁক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে “ইসরায়েলি শত্রুদের স্পর্শকাতর লক্ষ্যবস্তু” নিক্ষেপ করেছে। যদিও হামলা চালানো হলেও কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।   এই গোষ্ঠী আরও হুঁশিয়ারি দিয়েছে, লেবানন, ইরান, ইরাক এবং দখলকৃত পশ্চিম তীর ও গাজায় ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে।   ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছেন, ইয়েমেন থেকে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথে ধ্বংস করা সম্ভব হয়, তবে তিন ঘণ্টার মধ্যে হুতির বিবৃতি প্রকাশিত হয়েছে। এই ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ ও অস্থির হয়ে উঠেছে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১, ২০২৬ 0
নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি
ইরানে ‘রেজিম চেঞ্জ’ চেষ্টায় ২৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয়: ট্রাম্পের নীতির সমালোচনায় নিউইয়র্কের মেয়র

ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল ব্যয়ের সমালোচনা করেছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। তিনি দাবি করেছেন, ইরানে ‘রেজিম চেঞ্জ’ বা সরকার পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে চালানো এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে প্রায় ২৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে।   কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বুধবার (১ এপ্রিল) এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, টানা ৩৩ দিন ধরে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।   মেয়র মামদানি বলেন, একটি দেশের সরকার পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত সে দেশের জনগণের ওপরই নির্ভর করা উচিত। বাইরের শক্তির সামরিক হস্তক্ষেপ কোনোভাবেই টেকসই সমাধান আনতে পারে না। তিনি এই যুদ্ধকে ‘নিরর্থক’ উল্লেখ করে এর বিরোধিতা করার আহ্বান জানান।   তার মতে, ওয়াশিংটনের এ ধরনের যুদ্ধনীতি অতীতেও ভয়াবহ পরিণতি ডেকে এনেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতেও একই ধরনের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।   মামদানি আরও বলেন, যুদ্ধের পেছনে বিপুল অর্থ ব্যয়ের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষ অর্থনৈতিক চাপে পড়ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধির মধ্যে এমন ব্যয় জনজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।   তিনি উল্লেখ করেন, এই বিপুল অর্থ যদি জনকল্যাণমূলক খাতে ব্যয় করা হতো, তবে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং শিক্ষাঋণ মওকুফের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব ছিল। কিন্তু যুদ্ধনীতিকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় সেই সম্ভাবনা নষ্ট হচ্ছে।   বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এই সংঘাত কেবল আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১, ২০২৬ 0
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
২-৩ সপ্তাহের মধ্যেই ইরান থেকে সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে ইরান থেকে সামরিক অভিযান গুটিয়ে নেবে যুক্তরাষ্ট্র। ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি দাবি করেন, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দেওয়ার যে লক্ষ্য নিয়ে ওয়াশিংটন এগোচ্ছিল, তা প্রায় অর্জিত হয়েছে। ট্রাম্পের মতে, বর্তমানে ইরানের আকাশসীমা যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতার পতনের ফলে তেহরানের শাসনব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন এসেছে। তিনি আরও যোগ করেন, ইরান বর্তমানে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য মরিয়া হয়ে আছে। তবে কোনো চুক্তি হোক বা না হোক, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই মার্কিন বাহিনী অভিযান শেষ করবে বলে তিনি আশাবাদী। বক্তব্যে ট্রাম্প কেবল ইরান নয়, নিজের মিত্র দেশগুলোর প্রতিও ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। বিশেষ করে যুক্তরাজ্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালী থেকে নিজেদের তেল সংগ্রহের দায়িত্ব এখন তাদেরই নিতে হবে; যুক্তরাষ্ট্র আর এ কাজে কাউকে পাহারাদার হিসেবে সাহায্য করবে না। ট্রাম্পের দাবি, যুদ্ধ শেষ হওয়ার সাথে সাথেই বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত কমতে শুরু করবে। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এই উত্তেজনা প্রশমনে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে চীন ও পাকিস্তান। বেইজিংয়ে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-র মধ্যে এক বৈঠকের পর পাঁচ দফার একটি শান্তি প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে দ্রুত যুদ্ধবিরতি কার্যকরের আহ্বান জানিয়েছে দেশ দুটি। যদিও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আলোচনা চলমান থাকার কথা নিশ্চিত করেছেন, তবে তিনি কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমার কথা উল্লেখ করেননি। ট্রাম্পের এই ঝটিকা সিদ্ধান্তে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন কোনো মোড় আসতে যাচ্ছে কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১, ২০২৬ 0
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার
ইরানের যুদ্ধে জড়াবে না ব্রিটেন: ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান সংঘাত নিয়ে বিশ্বজুড়ে যখন চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে, ঠিক তখনই এক সাহসী ও দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার।  দেশটির সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের আশঙ্কা ছিল- আমেরিকা ও ইসরায়েলের এই যুদ্ধে হয়তো অনিচ্ছাসত্ত্বেও জড়িয়ে পড়তে পারে ব্রিটেন। তবে সেই শঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে স্টারমার সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ব্রিটেন কোনোভাবেই ইরানের যুদ্ধে পা বাড়াবে না। তিনি বলেন, “ব্রিটেনের সাধারণ নাগরিকরা উদ্বিগ্ন যে যুক্তরাজ্য হয়তো এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে। কিন্তু আমি কথা দিচ্ছি, আমরা তা করব না।” তিনি আরও যোগ করেন, বর্তমান অস্থির বিশ্ব পরিস্থিতিতে ব্রিটেন কেবল ‘সুস্পষ্ট এবং শান্ত নেতৃত্ব’ দিতেই প্রস্তুত।  এই বক্তব্যের মাধ্যমে স্টারমার মধ্যপ্রাচ্যে ব্রিটিশ হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে কূটনৈতিক সমাধানের পথেই হাঁটার ইঙ্গিত দিলেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
যুদ্ধ অবসানের আভাস: বিশ্ববাজারে তেলের দরপতন, চাঙ্গা শেয়ারবাজার

দীর্ঘ প্রতীক্ষিত শান্তির বার্তার আভাসে বিশ্ব অর্থনীতিতে স্বস্তির হাওয়া বইতে শুরু করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধ শেষ করার ইঙ্গিত এবং ইরানের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ায় বুধবার বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে, বিপরীতে বড় ধরনের উত্থান দেখা গেছে শেয়ারবাজারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার জানিয়েছেন, আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। এই মন্তব্যের পরপরই বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমতে শুরু করে।  আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ১০১.৮ ডলারে নেমে এসেছে, যা দিনের শুরুতে ১০০ ডলারের নিচেও স্পর্শ করেছিল। অন্যদিকে, মার্কিন বেঞ্চমার্ক ডব্লিউটিআই-এর দাম ২.৫ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৯৮.৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। ইরানি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলে তেহরানও যুদ্ধ বন্ধ করতে প্রস্তুত। তবে এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি অন্তত ছয় মাস যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানিয়েছিলেন, যা কিছুটা ধোঁয়াশা তৈরি করেছিল। শান্তির এই সম্ভাবনায় বিশ্বজুড়ে শেয়ারবাজারে ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বুধবার এশিয়ার বাজারে দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি সূচক রেকর্ড ৮.৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। জাপানের নিক্কেই ৫.২ শতাংশ এবং হংকংয়ের হ্যাং সেং ২ শতাংশ বেড়েছে। ইউরোপের প্রধান বাজার লন্ডন, প্যারিস এবং ফ্রাঙ্কফুর্টের সূচকগুলোও ১.৫ থেকে ২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে বাজার বিশ্লেষকরা এখনো কিছুটা সতর্ক। হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ হয়, যা বর্তমানে যুদ্ধাবস্থার কারণে বিঘ্নিত। স্পার্টা-র বাজার বিশ্লেষক নিল ক্রসবি সতর্ক করে বলেছেন, যুদ্ধবিরতি মানেই দ্রুত তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়া নয়। অবকাঠামোগত ও কারিগরি কারণে সরবরাহ পরিস্থিতি আগের অবস্থায় ফিরতে আরও কয়েক সপ্তাহ বা মাস সময় লেগে যেতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলে মুহুর্মুহু হামলা: গুরুতর আহত অন্তত ২৫

আজ সকালে ইসরায়েলের অন্তত ২০টি স্থানে অতর্কিত হামলায় কমপক্ষে ২৫ জন আহত হয়েছেন। এই হামলায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্ত স্থানগুলোতে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, বেনি ব্রাক এলাকায় হামলায় গুরুতর আহত ১০ বছর বয়সী এক বালক এবং ১১ বছর বয়সী এক কিশোরীর অবস্থা বর্তমানে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাদের জীবন বাঁচাতে জরুরি অস্ত্রোপচারসহ সব ধরনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।  হামলার পর থেকে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১, ২০২৬ 0
বি-৫২ বোমারু বিমান
ইরানে এই প্রথম বি-৫২ বোমারু বিমান দিয়ে হামলা যুক্তরাষ্ট্রের

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-এর অংশ হিসেবে প্রথমবারের মতো দেশটির ভূখণ্ডের ওপর দিয়ে বি-৫২ বোমারু বিমানের মিশন শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার মার্কিন জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তুরস্কের সংবাদ সংস্থা আনাদোলু’র বরাত দিয়ে মিডল ইস্ট মনিটর জানায়, আকাশপথে নিজেদের আধিপত্য বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে জেনারেল কেইন বলেন, “আমরা সফলভাবে প্রথম ওভারল্যান্ড (স্থলভাগের ওপর দিয়ে) বি-৫২ মিশন শুরু করেছি। এর মাধ্যমে আমরা আগের চেয়ে আরও শক্তিশালীভাবে শত্রুর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারছি।” মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথের উপস্থিতিতে আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনে জেনারেল কেইন আরও জানান, গত ৩০ দিনে মার্কিন বাহিনী ইরানের ১১,০০০-এর বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে।  তিনি দাবি করেন, ইরানের শক্তি খর্ব করতে এবং দেশটির সীমান্ত ছাড়িয়ে অস্থিতিশীলতা ছড়ানোর সক্ষমতা ধ্বংস করতে মার্কিন যৌথ বাহিনী পদ্ধতিগতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। মার্কিন বাহিনীর অভিযানে এখন পর্যন্ত ইরানি নৌবাহিনীর ১৫০টিরও বেশি জাহাজ ধ্বংস করা হয়েছে বলেও তিনি জানান। প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ বলেন, ইরান এখনও কিছু ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করতে পারে, তবে সেগুলো প্রতিহত করার সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, গত ২৪ ঘণ্টায় ইরান থেকে ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের সংখ্যা ছিল সর্বনিম্ন। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার মাধ্যমে এই সংঘাতের সূচনা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ ১,৩৪০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হন।  এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানও ইসরায়েল, জর্ডান, ইরাক এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়, যার ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি এবং বিমান চলাচল খাতে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ খুব বেশিদিন স্থায়ী হবে না। তবে মধ্যপ্রাচ্যে এই ক্রমবর্ধমান উত্তজনা বিশ্বজুড়ে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১, ২০২৬ 0
মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ
বোমা দিয়েই হবে আলোচনা, মিত্রদের ভূমিকায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ হেগসেথের

মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ ইরানের সাথে চলমান উত্তেজনা এবং মিত্রদেশগুলোর ভূমিকা নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এক চাঞ্চল্যকর বক্তব্যে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ওয়াশিংটন এখন আর কেবল আলোচনার টেবিলে সীমাবদ্ধ থাকতে রাজি নয়।  হেগসেথের মতে, ইরানের ভেতরে প্রভাবশালী কোনো পক্ষের সাথে আমেরিকার যোগাযোগ চলছে এবং সেই আলোচনা বর্তমানে বেশ সক্রিয় ও বাস্তবমুখী। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শর্ত মেনে ইরান যদি চুক্তিতে আসতে চায়, তবেই কেবল ওয়াশিংটন নমনীয় হবে। অন্যথায় হেগসেথের কঠোর হুঁশিয়ারি— “আমরা এখন থেকে বোমার মাধ্যমেই সমঝোতা করব।” হেগসেথ কেবল ইরানের ওপরই নয়, বরং আমেরিকার দীর্ঘদিনের মিত্রদেশগুলোর ওপরও ক্ষোভ ঝেড়েছেন। বিশেষ করে ব্রিটিশ রয়্যাল নেভি কেন এখনো হরমুজ প্রণালীতে সরাসরি সম্পৃক্ত হচ্ছে না, তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন। তার মতে, আমেরিকা যেখানে সারা বিশ্বের স্বাধীনতার জন্য এই যুদ্ধে নেমেছে, সেখানে ন্যাটো (NATO) মিত্রদের এমন অনীহা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সংবাদ সম্মেলনে হেগসেথ সরাসরি যুদ্ধের ময়দানে মার্কিন সেনা বা 'বুটস অন দ্য গ্রাউন্ড' মোতায়েনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানকে বাগে আনতে যেকোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার পথ খোলা রাখা হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৩১, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

Top week

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ৩, ২০২৬ 0