- প্রচ্ছদ
- Topic
যুদ্ধ
রাশিয়ার সঙ্গে চলমান যুদ্ধে বাড়তি রাজস্বের উৎস তৈরি করতে প্রাপ্তবয়স্ক কনটেন্ট শিল্পকে বৈধ ও করের আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে ইউক্রেন। দেশটির পার্লামেন্টে উত্থাপিত একটি বিল প্রথম দফার অনুমোদন পেয়েছে। আইনটি কার্যকর হলে এই খাত থেকে বছরে প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ ডলার কর আদায় হতে পারে বলে জানিয়েছেন আইনপ্রণেতা ইয়ারোস্লাভ ঝেলেজনিয়াক। প্রস্তাবটির লক্ষ্য শুধু কর আদায় নয়, বর্তমানে আইনি জটিলতার মধ্যে থাকা অনলাইন প্রাপ্তবয়স্ক কনটেন্ট শিল্পকে একটি নিয়ন্ত্রিত কাঠামোর আওতায় আনা। ইউক্রেনে পর্নোগ্রাফি তৈরি ও বিতরণ এখনো অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় কনটেন্ট নির্মাতাদের আয় ঘোষণা এবং কর দেওয়ার ক্ষেত্রেও এক ধরনের আইনি দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে। আইনপ্রণেতাদের উদ্ধৃত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ইউক্রেনের প্রায় ৭ হাজার ৯০০ জন নাগরিক অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ওনলিফ্যানসের মাধ্যমে ১৩ কোটি ১০ লাখ ডলারের বেশি আয় করেন। এই বিপুল আয়ের ওপর কর আদায়ের সুযোগ থাকলেও বর্তমান আইনের কারণে সংশ্লিষ্টরা একই সঙ্গে কর দেওয়ার এবং ফৌজদারি আইনের আওতায় পড়ার ঝুঁকিতে থাকেন। ঝেলেজনিয়াকের হিসাব অনুযায়ী, প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় বছরে প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ ডলার অতিরিক্ত কর রাজস্ব পাওয়া যেতে পারে। তার দাবি, এই অর্থ দিয়ে প্রায় ৩০ হাজার ড্রোনের অর্থায়ন করা সম্ভব। তবে এটি আইনপ্রণেতার হিসাব, কোনো নিশ্চিত সরকারি বরাদ্দ বা ড্রোন কেনার সিদ্ধান্ত নয়। প্রস্তাবটি এমন সময়ে এসেছে, যখন যুদ্ধের কারণে ইউক্রেনের সরকারি অর্থের ওপর ব্যাপক চাপ রয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষা ব্যয়ের প্রয়োজন বছরে প্রায় ১২০ বিলিয়ন ডলার বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই তুলনায় প্রস্তাবিত ২ কোটি ৫০ লাখ ডলার খুব বড় অঙ্ক না হলেও সরকার অতিরিক্ত রাজস্বের প্রতিটি সম্ভাব্য উৎস খুঁজছে। এদিকে প্রাপ্তবয়স্ক কনটেন্ট নির্মাতাদের বিরুদ্ধে পুলিশি অভিযান ও আইনি হয়রানির অভিযোগও সামনে এসেছে। কিছু নির্মাতা দাবি করেছেন, তারা আয়কর দেওয়ার পরও এমন কর্মকাণ্ডের জন্য আইনি ঝুঁকিতে পড়ছেন, যা বর্তমান আইনে অপরাধ হিসেবে বিবেচিত। এই পরিস্থিতিতে কয়েকজন নির্মাতা ইউক্রেনের বাইরে গিয়ে কাজ করছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিতর্কটি প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির কাছেও পৌঁছেছে। একটি গণস্বাক্ষরিত আবেদনের পর জেলেনস্কি বিষয়টি পার্লামেন্টে বিবেচনার কথা জানিয়েছেন। তবে প্রাপ্তবয়স্ক কনটেন্ট বৈধ করার প্রস্তাব এখনো চূড়ান্ত আইন নয় এবং এটি পার্লামেন্টের পরবর্তী ধাপের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। প্রস্তাবটি পাস হলে ইউক্রেনের জন্য এটি একই সঙ্গে করনীতি, অনলাইন কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ এবং যুদ্ধকালীন অর্থনীতির একটি বিতর্কিত পরিবর্তন হবে। সংশ্লিষ্ট আইনপ্রণেতারা বলছেন, বৈধ কাঠামো তৈরি হলে কর আদায় বাড়বে এবং বর্তমানে চলমান আইনি অস্পষ্টতাও কমবে।
ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ‘গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা’ নিয়ে আলোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও তাঁর জামাতা জ্যারেড কুশনার। শনিবার মস্কোর ক্রেমলিনে তিন ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বৈঠকটি হয়। তবে আলোচনার পর কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা বা বড় ধরনের অগ্রগতির ঘোষণা দেওয়া হয়নি। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, উইটকফ ও কুশনার পুতিনের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে ‘সাবস্ট্যানশিয়াল প্ল্যান’ বা গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছেন। এসব পরিকল্পনার বিস্তারিত আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে প্রকাশ করা হতে পারে। বৈঠকের পর দুই মার্কিন দূত ইউক্রেনে গিয়ে একই বিষয়ে আরও আলোচনা করবেন বলে জানানো হয়েছে। শনিবার ক্রেমলিনে পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে বসেন উইটকফ ও কুশনার। রুশ প্রেসিডেন্টের পররাষ্ট্রনীতি-বিষয়ক উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ বৈঠকটিকে ‘গঠনমূলক, অত্যন্ত খোলামেলা ও কার্যকর’ বলে বর্ণনা করেছেন। উশাকভ জানান, মার্কিন দূতরা ইউক্রেন যুদ্ধের সম্ভাব্য সমাধানের বিভিন্ন পথ নিয়ে কয়েকটি ধারণা তুলে ধরেছেন। তবে তিনি সেসব প্রস্তাবের বিস্তারিত প্রকাশ করেননি। পুতিনও রাশিয়ার যুদ্ধক্ষেত্রের অগ্রগতি এবং যুদ্ধের ‘মূল কারণ’ সমাধানের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন। আলোচনায় শুধু যুদ্ধ নয়, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রকল্প নিয়েও বিস্তারিত কথা হয়েছে বলে জানিয়েছে ক্রেমলিন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিন ঘণ্টার বেশি আলোচনার পরও কোনো বড় ধরনের সমঝোতার ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। ইউক্রেনের ভূখণ্ড নিয়ে রাশিয়ার দাবি এবং ন্যাটোতে ইউক্রেনের সম্ভাব্য সদস্যপদ নিয়ে মস্কোর অবস্থান এখনও গুরুত্বপূর্ণ বাধা হয়ে রয়েছে। অন্যদিকে কিয়েভ নিজেদের ভূখণ্ড নিয়ে ছাড় দেওয়ার বিরোধিতা করে আসছে। এর আগে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, তাঁর দূতরা ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে একটি ‘কংক্রিট প্রস্তাব’ নিয়ে রাশিয়া ও ইউক্রেনে যাচ্ছেন। তবে সেই প্রস্তাবের বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। মস্কো সফরের পর আজ রোববার উইটকফ ও কুশনারের কিয়েভ যাওয়ার কথা। এটি ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে শান্তি প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে কিয়েভে তাদের প্রথম সফর হতে যাচ্ছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও তাদের সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। জেলেনস্কি জানিয়েছেন, মার্কিন দূতদের সঙ্গে আলোচনার সময় যুদ্ধের পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়ে কথা হবে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানিয়েছে, ৫ সেপ্টেম্বর জেলেনস্কি উইটকফ ও কুশনারের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং আলোচনার সময় দুই দেশের রাজধানীতে বিমান হামলা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার বিষয়ে প্রস্তুতির কথা জানিয়েছিলেন। মার্কিন দূতদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় পক্ষই মস্কো ও কিয়েভে হামলা না চালানোর বিষয়ে সাময়িক সম্মতি জানিয়েছে। রুশ প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানিয়েছে, কিয়েভে তিন দিন হামলা না চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলেনস্কিও বলেছেন, ইউক্রেন একই সময়ে মস্কোতে হামলা থেকে বিরত থাকবে। তবে এই সাময়িক বিরতি কোনো স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নয়। যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়া ও ইউক্রেনের হামলা এখনও অব্যাহত রয়েছে। বৈঠকে পুতিন জানিয়েছেন, রাশিয়া যুদ্ধক্ষেত্রে অগ্রগতি করছে এবং নিজেদের সামরিক লক্ষ্য অর্জনের ব্যাপারে মস্কো আত্মবিশ্বাসী। একই সঙ্গে তিনি ইউক্রেন যুদ্ধের ‘মূল কারণগুলো’ সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেন। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের অবসান ঘটাতে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে একটি গ্রহণযোগ্য সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। কয়েক মাস ধরে শান্তি আলোচনা স্থবির থাকার পর উইটকফ ও কুশনারের নতুন সফরকে সেই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা পুনরুজ্জীবিত করার গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এখনো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রয়ে গেছে - মার্কিন দূতদের প্রস্তাবের সুনির্দিষ্ট বিষয় কী এবং রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় পক্ষই সেটিতে কতটা সম্মত হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ২০ বছরের যুদ্ধের অধ্যায় পেছনে ফেলে নতুন সম্পর্ক গড়তে চায় আফগানিস্তান। একই সঙ্গে দেশটিতে মার্কিন বিনিয়োগকে স্বাগত জানানো হবে বলে জানিয়েছেন তালেবান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি। সোমবার (৩১ আগস্ট) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-আফগানিস্তান সম্পর্ককে অতীতের যুদ্ধ দিয়ে নয়, ভবিষ্যতের সহযোগিতার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা উচিত। মুত্তাকি জানান, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে আফগানিস্তানের খনি, অবকাঠামো, কৃষি ও বাণিজ্য খাতে বিনিয়োগ করতে পারে। আফগানিস্তানে বিপুল পরিমাণ সোনা, তামা, লিথিয়াম, কোবাল্টসহ বিভিন্ন খনিজ সম্পদ রয়েছে। ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ন্যাটো বাহিনী আফগানিস্তান ছাড়ার পর তালেবান দেশটির নিয়ন্ত্রণ নেয়। এরপর চীন ও ইরানের সঙ্গে খনিজ সম্পদ উত্তোলনে প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি করেছে তালেবান সরকার। এদিকে কাবুলের বাগরাম বিমানঘাঁটি যুক্তরাষ্ট্রকে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে মুত্তাকি বলেছেন, আফগানিস্তানের জাতীয় সম্পদ অন্য কোনো দেশের হাতে তুলে দেওয়া হবে না।
ইরান যুদ্ধ শুরুর ছয় মাসের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দাম প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগের দিন প্রতি গ্যালন নিয়মিত গ্যাসের জাতীয় গড় দাম ছিল ২.৯৮ ডলার। কিন্তু ২৭ আগস্ট তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪.১০ ডলারে—অর্থাৎ ছয় মাসে দাম বেড়েছে প্রায় ৩৭ শতাংশ। জ্বালানির এই ঊর্ধ্বমুখী দামের কারণে চলতি আগস্ট মাস যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসের দামের দিক থেকে নতুন রেকর্ড গড়তে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন । প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে এটাই প্রথম আগস্ট, যখন পুরো মাসজুড়ে নিয়মিত গ্যাসের জাতীয় গড় দাম প্রতিদিনই ৪ ডলারের ওপরে রয়েছে। ইরান যুদ্ধ শুরুর পর প্রথম কয়েক সপ্তাহে গ্যাসের দাম দ্রুত বেড়ে যায়। গত ২১ মে জাতীয় গড় দাম সর্বোচ্চ ৪.৫৬ ডলারে পৌঁছায়। এরপর মে মাসের শেষ দিক থেকে জুলাইয়ের শুরুর সময় পর্যন্ত জ্বালানির দাম কিছুটা কমতে থাকে। তবে জুলাইয়ের পর আবারও দাম বাড়তে শুরু করে। বর্তমানে জাতীয় গড় দাম ৪ ডলারের সামান্য ওপরে স্থির রয়েছে। অর্থাৎ, যুদ্ধ শুরুর সময়ের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের চালকদের এখন প্রতি গ্যালন গ্যাস কিনতে গড়ে প্রায় ১.১২ ডলার বেশি খরচ করতে হচ্ছে। আর আগস্টে প্রতিদিনই ৪ ডলারের বেশি দাম থাকায় মাসটি গ্যাসের দামের ইতিহাসে অন্যতম ব্যয়বহুল আগস্ট হিসেবে রেকর্ড গড়তে যাচ্ছে।
ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সিআইএ পরিচালক জন র্যাটক্লিফের আকস্মিক মস্কো সফর নিয়ে মুখ খুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রাশিয়ায় র্যাটক্লিফের এই সফরকে ‘আধা-রুটিন’ বলে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেছেন, এই সফর থেকে ‘কিছু একটা হতে পারে’। মঙ্গলবার র্যাটক্লিফ গোপনে মস্কো সফর করেন। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আগে এই সফরের ঘোষণা দেওয়া হয়নি। পরে রাশিয়ার ক্রেমলিন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, সিআইএ প্রধান রুশ গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তবে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তার কোনো বৈঠক হয়নি। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, দুই দেশের গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে যোগাযোগ হয়েছে এবং বৈঠকের ফলাফল পুতিনকে দ্রুত জানানো হয়েছে। তবে আলোচনায় কী বিষয় উঠে এসেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি। পেসকভ বলেন, এমন যোগাযোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা যায়, যদিও এর মাধ্যমে দুই দেশের গভীর সংকট কতটা কমবে, তা বলার সময় এখনো আসেনি। র্যাটক্লিফের সফরটি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে, কারণ ২০২১ সালের পর এই প্রথম কোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত সিআইএ পরিচালক মস্কো সফর করলেন। ২০২১ সালে তৎকালীন সিআইএ পরিচালক উইলিয়াম বার্নস মস্কো সফর করে পুতিনকে ইউক্রেনে সম্ভাব্য আগ্রাসনের বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন। কয়েক মাস পরই রাশিয়া ইউক্রেনে পূর্ণাঙ্গ হামলা শুরু করে। র্যাটক্লিফের এবারের সফরের উদ্দেশ্য নিয়ে শুরু থেকেই নানা জল্পনা তৈরি হয়। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়া যেন কোনো ন্যাটো সদস্য দেশের ওপর হামলা না চালায়, সে বিষয়ে সতর্ক করতেই র্যাটক্লিফ মস্কো গিয়েছিলেন। সিবিএস নিউজও একাধিক সূত্রের বরাতে একই ধরনের তথ্য জানিয়েছে। তবে ট্রাম্প এই ব্যাখ্যা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন। গ্লেন বেকের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, র্যাটক্লিফ ‘অসাধারণ একজন ব্যক্তি’ এবং তিনি মস্কো গিয়েছেন এমন কোনো কারণে নয়, যা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। ট্রাম্পের দাবি, সফরটি আধা-রুটিন ধরনের হলেও এর মাধ্যমে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টায় অগ্রগতি হতে পারে। ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ বন্ধে ‘খুব কঠোরভাবে কাজ করছে’। তার ভাষ্য, রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় পক্ষই এখন যুদ্ধের অবসান চায়। তবে ওয়াশিংটন, মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে শান্তি আলোচনা এখনো কোনো চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছায়নি। এদিকে র্যাটক্লিফের সফরের আগে ইউক্রেনকে মস্কোয় একটি উচ্চপর্যায়ের মার্কিন প্রতিনিধি দলের সফরের বিষয়ে জানানো হয়েছিল এবং সফর চলাকালে রাশিয়ার ওপর দূরপাল্লার হামলা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার অনুরোধ করা হয়েছিল বলে অ্যাক্সিওস জানিয়েছে। র্যাটক্লিফের সফর এমন এক সময়ে হলো, যখন ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি প্রচেষ্টা অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে এবং রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে সামরিক উত্তেজনাও অব্যাহত। একই সময়ে ন্যাটোকে ঘিরে রাশিয়ার সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে মার্কিন গোয়েন্দা মহলেও উদ্বেগ রয়েছে। সিবিএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়া ন্যাটোর ঐক্য ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া যাচাই করতে সাইবার হামলা বা সীমিত ধরনের সামরিক ও অন্যান্য ‘হাইব্রিড’ পদক্ষেপ নিতে পারে বলে মার্কিন কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন। তবে র্যাটক্লিফ ও রুশ কর্মকর্তাদের বৈঠকে ইউক্রেন যুদ্ধ, ন্যাটো, ইরান কিংবা অন্য কোনো নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। ফলে ট্রাম্পের কথায় ‘কিছু একটা’ হওয়ার ইঙ্গিত থাকলেও সফরটির প্রকৃত ফলাফল এখনো স্পষ্ট নয়।
ইউরোপের প্রতিরক্ষা শিল্পে যুক্তরাজ্য আবারও গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে নিজের অবস্থান জোরদার করছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, ইউরোপের বাড়তে থাকা নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওপর প্রতিরক্ষা-নির্ভরতা কমানোর প্রয়োজন—এই তিনটি বিষয় ব্রিটিশ অস্ত্রশিল্পে নতুন বিনিয়োগ ও উৎপাদন বৃদ্ধির গতি বাড়িয়েছে। তবে যুক্তরাজ্যকে বিশ্বের শীর্ষ অস্ত্র রপ্তানিকারক বলা সঠিক হবে না। স্টকহোম আন্তর্জাতিক শান্তি গবেষণা ইনস্টিটিউটের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ২০২১–২৫ সময়ে যুক্তরাজ্য প্রধান প্রচলিত অস্ত্রের রপ্তানিতে বিশ্বে অষ্টম অবস্থানে ছিল। ব্রিটেনের বর্তমান উত্থানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো শুধু অস্ত্র বিক্রি নয়, দেশটির নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা। ২০২৫ সালের প্রতিরক্ষা শিল্প কৌশলে ব্রিটিশ সরকার প্রতিরক্ষা খাতকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা ঘোষণা করে। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে যুক্তরাজ্যকে দ্রুত উৎপাদন সক্ষমতা বাড়িয়ে যুদ্ধকালীন প্রস্তুতির দিকে যেতে হবে। এই পরিবর্তনের কেন্দ্রে রয়েছে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা কোম্পানি বিএই সিস্টেমস। প্রতিষ্ঠানটি গোলাবারুদ, নির্ভুলভাবে লক্ষ্যভেদী অস্ত্র, কামান ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা, যুদ্ধযান এবং বিভিন্ন সামরিক প্রযুক্তি তৈরি করে। কোম্পানিটির অর্ডার-বই ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের পর প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে প্রতিষ্ঠানটি ১৬ দশমিক ৪ বিলিয়ন পাউন্ডের নতুন অর্ডার পেয়েছে এবং মোট অর্ডার-বই প্রায় ৮৪ বিলিয়ন পাউন্ডে পৌঁছেছে। বিশ্বব্যাপী সামরিক ব্যয় বৃদ্ধির কারণে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলোর ব্যবসাও দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। জুলাই ২০২৬-এ বিএই সিস্টেমস ২০২৬ সালের পরিচালন মুনাফা বৃদ্ধির পূর্বাভাস ১০–১২ শতাংশে উন্নীত করে। কোম্পানির পণ্য তালিকায় রয়েছে যুদ্ধযান, গোলাবারুদ, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা, কামান এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধ প্রযুক্তি। ক্ষেত্রবিশেষে ব্রিটেনের সক্ষমতা আরও স্পষ্ট হয় ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিতে। এমবিডিএ যুক্তরাজ্য ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার এবং যুক্তরাজ্যে জটিল ক্ষেপণাস্ত্র ও অস্ত্র ব্যবস্থা নকশা, উৎপাদন, সংযোজন ও আধুনিকায়নের সক্ষমতা ধরে রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।ইউক্রেন যুদ্ধ ব্রিটিশ অস্ত্রশিল্পের জন্য একটি বড় পরীক্ষাগারেও পরিণত হয়েছে। ব্রিটেন ইউক্রেনকে স্টর্ম শ্যাডোসহ বিভিন্ন দূরপাল্লার অস্ত্র দিয়েছে। পাশাপাশি ড্রোন প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ দ্রুত বাড়িয়েছে। ২০২৫ সালে ব্রিটিশ সরকার ইউক্রেনের জন্য ড্রোন সরবরাহ বাড়াতে ৩৫০ মিলিয়ন পাউন্ড বিনিয়োগের ঘোষণা দেয় এবং ওই বছর এক লাখ ড্রোন সরবরাহের লক্ষ্য নির্ধারণ করে। ২০২৬ সালে এই সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হয়েছে। যুক্তরাজ্য ও ইউক্রেন প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, চালকবিহীন ব্যবস্থা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং যৌথ প্রতিরক্ষা উৎপাদনে সহযোগিতা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। দুই দেশ দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ড্রোনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যৌথ উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার উদ্যোগ নিয়েছে। যুক্তরাজ্য এখন নিজস্ব দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাও আরও বাড়াতে চাইছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ব্রিটিশ সরকার ইউক্রেনের জন্য নতুন কৌশলগত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা ঘোষণা করে। প্রস্তাবিত ক্ষেপণাস্ত্রটি ২০০ কেজি পর্যন্ত ওয়ারহেড বহন করে ৫০০ কিলোমিটারের বেশি দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে সক্ষম হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রকল্পটি ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা শিল্পে প্রযুক্তি ও উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যেও নেওয়া হয়েছে। এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো তুলনামূলক কম খরচে দূরপাল্লার অস্ত্র তৈরি করার চেষ্টা। ২০২৬ সালে ব্রিটিশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এমন অস্ত্রের পরীক্ষা চালানোর পর্যায়ে যায়, যেগুলোর লক্ষ্য অন্তত ৫০০ কিলোমিটার দূরে আঘাত করা এবং তুলনামূলক কম উৎপাদন ব্যয়ে দ্রুত বড় সংখ্যায় তৈরি করা। এই প্রবণতা দেখায়, ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা শিল্প শুধু অত্যাধুনিক ও ব্যয়বহুল অস্ত্রের ওপর নির্ভর না করে ব্যাপক হারে উৎপাদনযোগ্য ব্যবস্থার দিকেও এগোচ্ছে। ড্রোন খাতেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। আগস্ট ২০২৬-এ ব্রিটিশ তৈরি ড্রোন ইউক্রেনীয় বাহিনীর মাধ্যমে রাশিয়ার গভীর অভ্যন্তরে হামলায় ব্যবহৃত হওয়ার খবর সামনে আসে। ব্রিটিশ সরকার ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ ইউক্রেনকে এক লাখ ৫০ হাজার ড্রোন সরবরাহের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে। এসব ঘটনা ব্রিটিশ ড্রোন শিল্পকে সামরিক সহায়তার পাশাপাশি আধুনিক যুদ্ধ প্রযুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত করছে। তবে ব্রিটেনের অস্ত্রশিল্পকে ঘিরে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা হলো—দেশটি এখনও সব ধরনের অস্ত্র উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। ইউরোপের প্রতিরক্ষা শিল্পের সামগ্রিক সক্ষমতা বাড়লেও অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি, উপাদান ও সরবরাহ ব্যবস্থায় আন্তর্জাতিক অংশীদারদের ওপর নির্ভরতা রয়েছে। এমনকি ইউরোপের দেশগুলোর অস্ত্র আমদানিও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্যাপক বেড়েছে। ২০২১–২৫ সময়ে ইউরোপ বিশ্বের মোট প্রধান অস্ত্র আমদানির ৩৩ শতাংশ গ্রহণ করেছে, যা আগের পাঁচ বছরের তুলনায় ২১০ শতাংশ বেশি। ব্রিটেন নিজেও বড় অস্ত্র আমদানিকারক হয়ে উঠেছে। একই সময়ে ইউরোপে ইউক্রেন ও পোল্যান্ডের পর যুক্তরাজ্য ছিল প্রধান অস্ত্র আমদানিকারকদের অন্যতম। এর অর্থ হলো ব্রিটেনের শক্তিশালী প্রতিরক্ষা শিল্প থাকা সত্ত্বেও দেশটি নিজস্ব সামরিক বাহিনীর প্রয়োজন মেটাতে বিদেশি প্রযুক্তি ও অস্ত্রের ওপর উল্লেখযোগ্যভাবে নির্ভর করে। অন্যদিকে পারমাণবিক প্রতিরোধ সক্ষমতাও ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা শিল্পের বড় অংশ। ২০২৬ সালের প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ পরিকল্পনায় আগামী চার বছরে পারমাণবিক আধুনিকায়নে প্রায় ৬৩ বিলিয়ন পাউন্ড বরাদ্দের কথা উঠে এসেছে। এর মধ্যে ড্রেডনট শ্রেণির পারমাণবিক সাবমেরিন নির্মাণ, নতুন পারমাণবিক ওয়ারহেড এবং অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথভাবে নতুন প্রযুক্তি উন্নয়নের মতো প্রকল্প রয়েছে। সব মিলিয়ে, “যুক্তরাজ্য অস্ত্র উৎপাদনে একটি শক্তিধর দেশ হয়ে উঠছে”—এই বক্তব্যের যথেষ্ট ভিত্তি রয়েছে, বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্র, গোলাবারুদ, যুদ্ধবিমান, সাবমেরিন, ড্রোন, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ও উন্নত সামরিক প্রযুক্তির ক্ষেত্রে। কিন্তু এটিকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় অস্ত্র উৎপাদক বলা যাবে না। সর্বশেষ আন্তর্জাতিক তথ্য অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, রাশিয়া, জার্মানি, চীন ও ইতালির মতো কয়েকটি দেশ প্রধান অস্ত্র রপ্তানিতে ব্রিটেনের ওপরে রয়েছে। বর্তমান প্রবণতা অবশ্য দেখাচ্ছে, ইউক্রেন যুদ্ধ ও ইউরোপের নিরাপত্তা সংকট ব্রিটেনকে দীর্ঘদিনের তুলনায় দ্রুত অস্ত্র উৎপাদন বাড়ানোর দিকে ঠেলে দিয়েছে। সরকারি বিনিয়োগ, বিএই সিস্টেমস ও এমবিডিএর মতো বড় প্রতিষ্ঠানের অর্ডার বৃদ্ধি, ড্রোন প্রযুক্তির বিস্তার এবং নতুন দীর্ঘপাল্লার অস্ত্র প্রকল্প—সব মিলিয়ে ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা শিল্প আবারও ইউরোপের সামরিক শক্তির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হিসেবে সামনে আসছে।
ভিয়েতনাম যুদ্ধের ভয়াবহতার মধ্যে করা একটি ছোট্ট প্রতিশ্রুতি প্রায় পাঁচ দশক পরও ভুলে যাননি সাবেক মার্কিন মেরিন মাস্টার সার্জেন্ট উইলিয়াম এইচ. ‘বিল’ কক্স। ১৯৬৮ সালে যুদ্ধের সময় এক বাঙ্কারে প্রাণ বাঁচানোর লড়াইয়ে পরিচয় হওয়া সহযোদ্ধা ফার্স্ট সার্জেন্ট জেমস ‘হলি’ হলিংসওয়ার্থের সঙ্গে তিনি কথা দিয়েছিলেন, বেঁচে ফিরলে প্রতি বছর নববর্ষের রাতে একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখবেন। সেই প্রতিশ্রুতি তারা প্রায় ৫০ বছর ধরে পালন করেন। ১৯৬৮ সালের নিউ ইয়ার্স ইভে ভিয়েতনামের মার্বেল মাউন্টেনে গোলাবর্ষণের মধ্যে একটি বাঙ্কারে আশ্রয় নিয়েছিলেন কক্স ও হলিংসওয়ার্থ। তখন তারা জানতেন না রাতটি শেষ পর্যন্ত তাদের জন্য কী নিয়ে আসবে। সেই অনিশ্চয়তার মধ্যেই দুজন সিদ্ধান্ত নেন, যদি তারা যুদ্ধ থেকে জীবিত ফিরে আসতে পারেন, তাহলে জীবনের বাকি সময় প্রতি ৩১ ডিসেম্বর একে অপরের সঙ্গে কথা বলবেন। যুদ্ধের পর দুজনই যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যান। জীবনের নানা পরিবর্তন, দূরত্ব ও আলাদা পথ তাদের সম্পর্ককে থামাতে পারেনি। প্রতি বছর নববর্ষের রাতে তারা একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। ভিয়েতনামে একই মেরিন হেলিকপ্টার স্কোয়াড্রন ভিএমও-২-এ কাজ করার সময় তারা ২০০টিরও বেশি মিশনে একসঙ্গে অংশ নিয়েছিলেন। ২০১৭ সালে হলিংসওয়ার্থ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে কক্স দক্ষিণ ক্যারোলাইনার পিডমন্ট থেকে জর্জিয়ার হেফজিবাহতে তার বন্ধুর সঙ্গে শেষবারের মতো দেখা করতে যান। সেই সাক্ষাতে হলিংসওয়ার্থ বন্ধুর কাছে জীবনের শেষ একটি অনুরোধ রাখেন। তিনি চান, মৃত্যুর পর কক্স যেন তার শেষকৃত্যে প্রশংসাবক্তব্য দেন এবং তার কফিনের পাশে দাঁড়িয়ে সম্মান জানান। কক্স সেই প্রতিশ্রুতিও রাখেন। ৮৩ বছর বয়সে, ২০১৭ সালের ২০ অক্টোবর হলিংসওয়ার্থের শেষকৃত্যে তিনি মেরিনদের আনুষ্ঠানিক পোশাক পরে বন্ধুর কফিনের পাশে দাঁড়িয়ে পাহারা দেন। নিয়মিত হাঁটার জন্য তাকে লাঠি ব্যবহার করতে হলেও সেদিন সেই লাঠি পাশে রেখে তিনি দাঁড়িয়ে ছিলেন। পাশাপাশি বন্ধুর স্মরণে শেষকৃত্যে প্রশংসাবক্তব্যও দেন। দুজনের দীর্ঘ বন্ধুত্বের আরেকটি বিশেষ দিক ছিল তাদের বিদায়ের একটি নির্দিষ্ট বাক্য। ফোনে কথা শেষ করার সময় তারা একে অপরকে বলতেন, “হলি, তুমি উড়তে থাকো, আমি গুলি চালাতে থাকব।” হলিংসওয়ার্থের শেষকৃত্যে বক্তব্য শেষ করার সময়ও কক্স সেই পরিচিত বাক্যটি স্মরণ করেন। হলিংসওয়ার্থের ছেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কক্স ও তার বাবার একটি ছবি প্রকাশ করার পর ঘটনাটি ব্যাপক মানুষের নজরে আসে। ছবিতে ৮৩ বছরের কক্সকে বন্ধুর কফিনের পাশে মেরিন পোশাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। যুদ্ধের ময়দানে তৈরি সেই সম্পর্ক তাই শুধু স্মৃতিতে সীমাবদ্ধ থাকেনি। প্রায় ৫০ বছর ধরে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা এবং বন্ধুর জীবনের শেষ মুহূর্তে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করে কক্স দেখিয়েছেন, কিছু বন্ধুত্ব সময় ও দূরত্ব পেরিয়েও অটুট থাকতে পারে। তাদের গল্পে যুদ্ধের স্মৃতির পাশাপাশি উঠে এসেছে দায়িত্ব, বিশ্বস্ততা এবং দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের এক বিরল দৃষ্টান্ত।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন আরও এক শিশুকে মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিতে সহায়তা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। নতুন এই পুনর্মিলনের মধ্য দিয়ে তার উদ্যোগে পরিবারের কাছে ফিরে যাওয়া শিশুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪ জনে। ১৭ আগস্ট হোয়াইট হাউস এ তথ্য জানিয়েছে। দীর্ঘদিন পর মা ও সন্তানের এই পুনর্মিলন নিয়ে আবেগঘন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মেলানিয়া ট্রাম্প। তিনি বলেন, “দীর্ঘ সময় বিচ্ছিন্ন থাকার পর একজন মায়ের সঙ্গে তার সন্তানকে পুনর্মিলিত করার চেয়ে শক্তিশালী আর কিছু নেই।” তবে নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার কারণে সর্বশেষ ফিরে আসা শিশুটির পরিচয়, বয়স কিংবা কী পরিস্থিতিতে সে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছিল, সেই বিস্তারিত প্রকাশ করেনি হোয়াইট হাউস। মেলানিয়া ট্রাম্প জানিয়েছেন, এখানেই থামছে না তার উদ্যোগ। যুদ্ধের কারণে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া আরও শিশু ও পরিবারের পুনর্মিলন নিশ্চিত করতে তার প্রতিনিধি কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এই মানবিক উদ্যোগের শুরুটা হয়েছিল এক চিঠি দিয়ে। ২০২৫ সালের আগস্টে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে সরাসরি একটি চিঠি লিখেছিলেন মেলানিয়া ট্রাম্প। সেখানে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া শিশুদের ভবিষ্যৎ ও নিরাপত্তার বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি। আলাস্কায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও প্রেসিডেন্ট পুতিনের বৈঠকের সময় সেই চিঠি রুশ প্রেসিডেন্টের হাতে পৌঁছে দেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এরপর বিষয়টি শুধু চিঠিতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। ইউক্রেন ও রাশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে ফার্স্ট লেডির কার্যালয়। ধারাবাহিক সেই প্রচেষ্টায় একের পর এক শিশুকে তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। গত ৩০ জুলাইও ইউক্রেনীয় ও রুশ পাঁচ শিশুকে পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলিত করার কথা জানিয়েছিল হোয়াইট হাউস। আর সর্বশেষ আরও এক শিশুর ঘরে ফেরার মধ্য দিয়ে মেলানিয়া ট্রাম্পের উদ্যোগে এই সংখ্যা এখন ৩৪। তবে এই ৩৪ শিশুর গল্পের পেছনে রয়েছে আরও অনেক বড় এক মানবিক সংকট। ইউক্রেন সরকারের ‘চিলড্রেন অব ওয়ার’ তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে ২০ হাজার ৬১০ ইউক্রেনীয় শিশুকে নির্বাসিত অথবা জোরপূর্বক স্থানান্তরিত হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ২ হাজার ৪৭০ শিশুকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। চলতি বছরের মার্চে জাতিসংঘের একটি তদন্ত কমিশন জানায়, ইউক্রেনীয় শিশুদের রাশিয়ায় নির্বাসন ও জোরপূর্বক স্থানান্তরের ঘটনা মানবতাবিরোধী অপরাধের পর্যায়ে পড়ে। এরও আগে ২০২৩ সালে ইউক্রেনের অধিকৃত অঞ্চল থেকে শিশুদের বেআইনিভাবে নির্বাসন ও স্থানান্তরের অভিযোগে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং রাশিয়ার শিশু অধিকারবিষয়ক কমিশনার মারিয়া লভোভা-বেলোভার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত। রাশিয়া এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে। ইউক্রেন বলছে, দেশ থেকে নিয়ে যাওয়া প্রতিটি শিশুকে ফিরিয়ে আনা তাদের অন্যতম প্রধান মানবিক দাবি। এজন্য আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহায়তাও চাইছে কিয়েভ। সেই বিশাল সংকটের তুলনায় ৩৪ সংখ্যাটি হয়তো খুবই ছোট। কিন্তু প্রতিটি সংখ্যার পেছনেই রয়েছে একটি শিশু, একটি পরিবার এবং দীর্ঘ অপেক্ষার একটি গল্প। আর সেই কারণেই মেলানিয়া ট্রাম্পের সর্বশেষ বার্তাটিও তাৎপর্যপূর্ণ - যুদ্ধের কূটনীতি যত কঠিনই হোক, পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন শিশুদের ঘরে ফেরানোর প্রচেষ্টা থামছে না।
প্রেসিডেন্ট হওয়ার চেষ্টা করেছেন বারবার। ভোটের রাজনীতিতে সফল হতে পারেননি। কিন্তু ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্র থেকে কখনোই হারিয়ে যাননি মোহসেন রেজাই। ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় বিপ্লবী গার্ডের নেতৃত্ব দেওয়া সেই প্রবীণ সামরিক কর্মকর্তা এবার দেশটির সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নীতি নির্ধারণী সংস্থা সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে তীব্র সংঘাতের মধ্যে তার এই উত্থানকে ইরানের নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতিতে কট্টর অবস্থান আরও শক্তিশালী হওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। রোববার (৯ আগস্ট) ৭১ বছর বয়সী রেজাইকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি মোহাম্মদ বাঘের জোলগাদরের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। একই সঙ্গে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির প্রতিনিধিত্বও করবেন এই গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা কাঠামোয়। রেজাইয়ের উত্থান বুঝতে হলে ফিরে যেতে হবে ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময়ে। মাত্র ২৭ বছর বয়সে ১৯৮১ সালে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসির কমান্ডার-ইন-চিফ হন তিনি। এরপর টানা ১৬ বছর, ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত বাহিনীটির নেতৃত্ব দেন। আট বছরের ইরান-ইরাক যুদ্ধের প্রায় পুরো সময়ই বিপ্লবী গার্ডের নেতৃত্বে ছিলেন রেজাই। সেই যুদ্ধই তাকে ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার অন্যতম পরিচিত ব্যক্তিত্বে পরিণত করে। তার নেতৃত্বের সময় আইআরজিসি শুধু একটি সামরিক বাহিনী হিসেবেই নয়, ইরানের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ও অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবেও বিস্তার লাভ করে। ১৯৯৭ সালে সামরিক দায়িত্ব ছাড়ার পরও ক্ষমতার কেন্দ্র থেকে সরে যাননি রেজাই। তাকে এক্সপিডিয়েন্সি ডিসার্নমেন্ট কাউন্সিলের সেক্রেটারি করা হয়। সংসদ ও গার্ডিয়ান কাউন্সিলের মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তিসহ ইরানের নীতিনির্ধারণী ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে এই পরিষদের। পরে অর্থনীতি নিয়েও সক্রিয় হন রেজাই। অর্থনীতিতে ডক্টরেট ডিগ্রিধারী এই সাবেক সেনা কর্মকর্তা এক্সপিডিয়েন্সি কাউন্সিলের সামষ্টিক অর্থনীতি ও বাণিজ্য কমিশনের নেতৃত্বও দিয়েছেন। অর্থাৎ যুদ্ধক্ষেত্রের কমান্ডার থেকে ধীরে ধীরে অর্থনীতি, প্রশাসন ও রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণের ভেতরে নিজের অবস্থান তৈরি করেন তিনি। তবে জনগণের সরাসরি ভোটের পরীক্ষায় রেজাইয়ের সাফল্য নেই। ২০০৫ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হলেও ভোটের মাত্র দুই দিন আগে তিনি সরে দাঁড়ান। ২০০৯ সালের নির্বাচনে মাত্র ১ দশমিক ৭৩ শতাংশ ভোট পেয়ে তৃতীয় হন। ২০১৩ সালে প্রায় ১০ দশমিক ৬ শতাংশ ভোট পেয়ে চতুর্থ হন। ২০২১ সালেও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও জিততে পারেননি। অর্থাৎ ব্যালট বাক্স তাকে প্রেসিডেন্টের প্রাসাদে পৌঁছে দিতে পারেনি। কিন্তু ইরানের ক্ষমতার কাঠামোয় তার প্রভাব কখনো পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি। সেই রেজাই এখন এমন এক সময়ে গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা পদে ফিরলেন, যখন ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব ব্যাপক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আল জাজিরার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সামরিক ও নিরাপত্তা নিয়োগগুলোতে পুরোনো এবং কট্টরপন্থী বিপ্লবী গার্ড নেতৃত্বের প্রভাব বেড়েছে। আনুগত্য, অভিজ্ঞতা ও অভ্যন্তরীণ ঐক্যকে এই মুহূর্তে তেহরান বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা। রেজাই নিজেও দায়িত্ব নেওয়ার পর কট্টর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন। মঙ্গলবার তিনি বলেন, হুমকির মুখে ইরান তার ‘জাতীয় অধিকার’ থেকে পিছু হটবে না। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে উত্তেজনার মধ্যে তার এমন বক্তব্য নতুন দায়িত্বে তার অবস্থানেরও ইঙ্গিত দিচ্ছে। রেজাইকে ঘিরে আন্তর্জাতিক বিতর্কও পুরোনো। ১৯৯৪ সালে আর্জেন্টিনার বুয়েনস আয়ারেসে এএমআইএ ইহুদি কমিউনিটি সেন্টারে বোমা হামলায় ৮৫ জন নিহত হন। আর্জেন্টিনার তদন্তে ওই হামলার সঙ্গে রেজাইয়ের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ আনা হয়। ইন্টারপোল ২০০৭ সালে তারসহ কয়েকজন ইরানি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করে। রেজাই ও ইরান এসব অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে। তার পুরোনো কিছু বক্তব্যও আবার আলোচনায় এসেছে। ২০১৫ সালে রেজাই বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালালে মার্কিন সেনাদের বন্দি করে তাদের মুক্তির বিনিময়ে বিপুল অর্থ আদায় করা সম্ভব। বক্তব্যটি সে সময়ও ব্যাপক বিতর্ক তৈরি করেছিল। এখন যে কাউন্সিলের সেক্রেটারি হয়েছেন রেজাই, সেটি ইরানের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার কেন্দ্রে অবস্থান করে। জাতীয় নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা এবং গুরুত্বপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে সিদ্ধান্ত সমন্বয়ের কাজ করে সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল। প্রেসিডেন্ট, সামরিক নেতৃত্ব এবং সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তারা এর সঙ্গে যুক্ত থাকেন। তবে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত সর্বোচ্চ নেতার অনুমোদনের অধীন। ফলে রেজাইয়ের নিয়োগ শুধু একজন প্রবীণ কর্মকর্তার নতুন পদ পাওয়া নয়। যুদ্ধের মধ্যে ইরান এমন একজনকে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কেন্দ্রে ফিরিয়ে আনল, যার রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে সামরিক ইতিহাস অনেক বেশি শক্তিশালী। ভোটে তিনি কখনো প্রেসিডেন্ট হতে পারেননি। কিন্তু ইরান-ইরাক যুদ্ধের তরুণ কমান্ডার থেকে চার দশকের বেশি সময় ধরে ক্ষমতার বিভিন্ন স্তর পেরিয়ে সেই মোহসেন রেজাই এখন আবার ইরানের যুদ্ধ, নিরাপত্তা ও কূটনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্রগুলোর একটির দায়িত্বে। আর বর্তমান পরিস্থিতিতে তার এই প্রত্যাবর্তনই ইঙ্গিত দিচ্ছে—তেহরান আপাতত নিরাপত্তা নীতিতে অভিজ্ঞ ও কট্টর পুরোনো নেতৃত্বের ওপরই বেশি ভরসা রাখছে।
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘হেরে গেছেন’ বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর ক্রিস মারফি। এনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মারফি বলেন, যুদ্ধ যত দীর্ঘ হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান তত দুর্বল হচ্ছে এবং ইরান আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে। তার মতে, এই সংঘাত দ্রুত বন্ধ করা প্রয়োজন। মারফি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র দুর্বল হচ্ছে, ইরান শক্তিশালী হচ্ছে।” যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে এর সবচেয়ে বড় চাপ পড়বে মার্কিন জনগণের ওপর। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও বাড়তে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি। যুদ্ধ বন্ধের মাধ্যমে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার ওপরও জোর দিয়েছেন মারফি। তার ভাষায়, আলোচনা থমকে থাকায় জলপথটি খুলে দেওয়ার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক খরচ দিন দিন বাড়ছে। এমনকি হরমুজ প্রণালি খুলে দিয়ে যুদ্ধ বন্ধ করা সম্ভব হলে প্রয়োজনের ক্ষেত্রে একটি ‘খারাপ চুক্তিতেও’ সমর্থন দিতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন এই সিনেটর। মারফি আরও বলেন, যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য নতুন করে অর্থ বরাদ্দের বিরোধিতা করবেন তিনি। তবে সংঘাত শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুত পুনরায় পূরণ করতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দে সমর্থন দেবেন। তার বক্তব্যে মূল বার্তাটি স্পষ্ট—যুদ্ধ যত দীর্ঘ হবে, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও সামরিক সক্ষমতার ওপর চাপ তত বাড়বে। আর সেই সুযোগে ইরান কৌশলগতভাবে আরও শক্তিশালী অবস্থানে যেতে পারে।
গাজায় চলমান যুদ্ধের কারণে অন্তত একজন অভিভাবক হারানো ১০০ শিশু দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে আয়োজিত ৫০০ মিটারের একটি দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে। যুদ্ধে অনাথ হয়ে পড়া শিশুদের মানসিকভাবে সাহস জোগানো এবং সমাজের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। আয়োজকেরা জানান, প্রতিযোগিতাটি শুধু একটি ক্রীড়া আয়োজন নয়; বরং যুদ্ধের মানসিক আঘাত কাটিয়ে উঠতে শিশুদের উৎসাহ দেওয়া এবং তাদের জন্য স্বাভাবিক পরিবেশ তৈরির একটি প্রচেষ্টা। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া শিশুদের জন্য বিভিন্ন বিনোদনমূলক ও সামাজিক কার্যক্রমও রাখা হয়। অংশগ্রহণকারী শিশুদের পরিবারের সদস্যরা বলেন, যুদ্ধ তাদের জীবন আমূল বদলে দিয়েছে। অনেক শিশু বাবা, মা অথবা পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়েছে। তবুও দৌড়ে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে তারা দেখিয়েছে, কঠিন বাস্তবতার মধ্যেও সামনে এগিয়ে যাওয়ার ইচ্ছাশক্তি হারিয়ে যায়নি। জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা বহুবার সতর্ক করেছে, গাজায় যুদ্ধের ফলে হাজার হাজার শিশু এতিম হয়েছে বা পরিবারের প্রধান অভিভাবককে হারিয়েছে। এসব শিশুর জন্য খাদ্য, আশ্রয় ও চিকিৎসার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি মানসিক স্বাস্থ্যসেবারও জরুরি প্রয়োজন রয়েছে। প্রায় দুই বছর ধরে চলা সংঘাতে খান ইউনিসসহ গাজার বিস্তীর্ণ এলাকা ব্যাপকভাবে ধ্বংস হয়েছে। বহু পরিবার বারবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং শিশুদের বড় একটি অংশ শিক্ষা ও স্বাভাবিক শৈশব থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এই বাস্তবতায় আয়োজকেরা বলছেন, এমন সামাজিক উদ্যোগ শিশুদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে এবং তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন আশা জাগাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের সমর্থন কতটা, তা নিয়ে নতুন এক জরিপে চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে। জরিপ অনুযায়ী, মাত্র এক-তৃতীয়াংশের কাছাকাছি মার্কিন নাগরিক ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের পক্ষে মত দিয়েছেন। ক্যালিফোর্নিয়ার একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন এই জনমত জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের বড় একটি অংশ ইরানের সঙ্গে সরাসরি সামরিক সংঘাতে জড়ানোর বিষয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। জরিপে অংশ নেওয়া অনেক নাগরিক জানিয়েছেন, ইরানের কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও সরাসরি যুদ্ধে যাওয়ার বিষয়ে তারা সমর্থন দিচ্ছেন না। অন্যদিকে, কিছু মানুষ মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা রয়েছে। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক প্রভাব এবং বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো সামরিক অভিযানে যাওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনকে শুধু কৌশলগত বিষয় নয়, দেশের অভ্যন্তরীণ জনমতও বিবেচনায় নিতে হয়। কারণ দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের ক্ষেত্রে জনগণের সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরান ইস্যুতে মার্কিন জনগণের মনোভাব বিভিন্ন ঘটনার ওপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হয়েছে। নতুন এই জরিপ আবারও দেখাচ্ছে, বিদেশে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের মধ্যে বড় ধরনের মতভেদ রয়েছে।
যুদ্ধের হিসাব সাধারণত লেখা হয় নিহতের সংখ্যা, ক্ষেপণাস্ত্র হামলা কিংবা সামরিক সাফল্যের ভাষায়। কিন্তু প্রতিটি সংখ্যার পেছনে থাকে একটি পরিবার, কিছু অপূর্ণ স্বপ্ন এবং এমন মানুষ, যাদের জন্য বাড়িতে অপেক্ষা করছিল প্রিয়জন। ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ১৮ জন মার্কিন সেনাসদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন সদ্য হাইস্কুল পাস করা এক তরুণী, দুই সন্তানের বাবা, উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখা একজন কর্মকর্তা এবং সহকর্মীদের কাছে নির্ভরতার প্রতীক হয়ে ওঠা আরও অনেক সৈনিক। সর্বশেষ নিহতদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছেন টেক্সাসের ১৯ বছর বয়সী প্রাইভেট ইসাবেলা গনজালেস। মাত্র কিছুদিন আগেই তিনি হাইস্কুলের পড়াশোনা শেষ করে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। পরিবার ও বন্ধুদের ভাষায়, তাঁর সামনে ছিল সম্ভাবনাময় একটি জীবন। কিন্তু জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানি হামলায় সেই স্বপ্ন থেমে যায়। মৃত্যুর পর তাঁকে মরণোত্তর পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। ৩০ বছর বয়সী সার্জেন্ট মাইকেল ইমানুয়েল সুইন্টন ছিলেন দুই সন্তানের বাবা। উত্তর ক্যারোলাইনার এই সেনাসদস্য ইরানি ড্রোনের অবিস্ফোরিত অংশ নিষ্ক্রিয় করার সময় প্রাণ হারান। সহকর্মীরা তাঁকে একজন সাহসী সৈনিক হিসেবে স্মরণ করছেন, আর পরিবারের কাছে তিনি ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ স্বামী ও বাবা। ২৫ বছর বয়সী ফার্স্ট লেফটেন্যান্ট টাইলার জেমস ফিহ্যান ছিলেন হাওয়াইয়ের বাসিন্দা। সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যাচ্ছিলেন এবং এমবিএ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করেছিলেন। জর্ডানে একই হামলায় তাঁর জীবনও শেষ হয়ে যায়। ২৮ বছর বয়সী সার্জেন্ট অ্যাঞ্জেল র্যাম্পারসাদ নিউইয়র্কের ওজোন পার্ক এলাকার বাসিন্দা। প্রতিবেশীরা তাঁকে শান্ত, বিনয়ী ও অন্যের পাশে দাঁড়ানো একজন মানুষ হিসেবে মনে রেখেছেন। তিনিও জর্ডানে ইরানি হামলায় নিহত হন। এই চারজনের গল্প সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এলেও, তাঁদের মতো আরও ১৪ জন মার্কিন সেনাসদস্য গত কয়েক মাসে বিভিন্ন অভিযানে প্রাণ হারিয়েছেন। কেউ কুয়েতে ড্রোন হামলায়, কেউ ইরাকে বিমান দুর্ঘটনায়, কেউ সৌদি আরব ও জর্ডানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এবং কেউ সামরিক অভিযান চলাকালে নিহত হন। প্রত্যেকের মৃত্যু একটি পরিবারের জন্য অপূরণীয় শোক বয়ে এনেছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ১৮ জন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত এবং ৪৫০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। নিহতদের সম্মানে ডেলাওয়ারের ডোভার এয়ার ফোর্স ঘাঁটিতে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় মরদেহ গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। যুদ্ধের কৌশল, অস্ত্র কিংবা ভূরাজনীতির আলোচনা যতই হোক, শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় মূল্য চোকায় মানুষ। ইরান যুদ্ধে নিহত এই ১৮ মার্কিন সেনার গল্প আবারও মনে করিয়ে দেয়, প্রতিটি সামরিক সংঘাতের পেছনে লুকিয়ে থাকে অসংখ্য অসমাপ্ত স্বপ্ন, ভেঙে পড়া পরিবার এবং এমন শূন্যতা, যা কোনো পদক বা সামরিক সাফল্য দিয়ে পূরণ করা যায় না।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, যুদ্ধ বন্ধ ও কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের চাপ ও সামরিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ইরান প্রতিরোধ চালিয়ে যাবে। পেজেশকিয়ানের বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক সংঘাতের পরও পর্দার আড়ালে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তেজনা কমিয়ে আলোচনার পরিবেশ তৈরি করতে মধ্যস্থতাকারীরা ইরানের কাছে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছে। ইরানের প্রেসিডেন্টের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশটির ওপর বাইরের শক্তিগুলো পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছে, যার লক্ষ্য ইরানের ভেতরে চাপ সৃষ্টি করা, অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং সামাজিক অস্থিরতা তৈরি করা। তবে তাঁর দাবি, সামরিক চাপের মধ্যেও ইরানের অভ্যন্তরীণ ঐক্য ও সংহতি বজায় থাকলে দেশটি পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে সক্ষম হবে। পেজেশকিয়ান একই সঙ্গে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পক্ষেও অবস্থান নিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, আলোচনার টেবিলে ইরান প্রত্যাশার চেয়েও ভালো ফল অর্জন করেছে। তবে তাঁর অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে গিয়ে সেই অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করেছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইরানের সঙ্গে আলোচনার পথ পুরোপুরি বন্ধ করেননি। এর আগে তিনি বলেছিলেন, ইরানের অনুরোধে যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছে; তবে একই সঙ্গে তিনি ঘোষণা দেন, আগের যুদ্ধবিরতি কার্যকর নেই। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে একদিকে সামরিক সংঘাত ও পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত থাকলেও অন্যদিকে কূটনৈতিক যোগাযোগের সম্ভাবনাও পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। মধ্যস্থতাকারীদের ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব সেই কূটনৈতিক তৎপরতারই নতুন ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হবে—যুদ্ধক্ষেত্রে উত্তেজনা কমিয়ে আলোচনার টেবিলে একটি টেকসই সমঝোতার পরিবেশ তৈরি করা। আপাতত তেহরানের অবস্থান থেকে যে বার্তা স্পষ্ট, তা হলো—আলোচনার দরজা খোলা থাকলেও চাপের মুখে আত্মসমর্পণ নয়।
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর হতাহতের সংখ্যা আরও বেড়েছে। সর্বশেষ জর্ডানে একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় দুই মার্কিন সেনাসদস্য নিহত, চারজন হাসপাতালে ভর্তি এবং একজন নিখোঁজ হয়েছেন। এর ফলে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মার্কিন বাহিনীর মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৬ জন এবং আহতের সংখ্যা প্রায় ৪২৭ জনে পৌঁছেছে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। সেন্টকমের বিবৃতিতে বলা হয়, ১৭ জুলাই জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলার সময় মার্কিন ও মিত্রবাহিনী প্রতিরক্ষামূলক অভিযান পরিচালনা করছিল। হামলায় দুই সেনাসদস্য নিহত হন। আহত চারজনকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং একজন সেনাসদস্য এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। নিহতদের পরিচয় তাদের পরিবারের সদস্যদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো না হওয়া পর্যন্ত প্রকাশ করা হবে না। এই হামলার পরপরই ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে বিমান হামলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সেন্টকম জানিয়েছে, ইরানের সামরিক অবকাঠামো, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা এবং কৌশলগত স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে একাধিক হামলা চালানো হয়েছে। ওয়াশিংটনের দাবি, এসব হামলার উদ্দেশ্য হলো মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনী ও গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যৎ হামলার সক্ষমতা দুর্বল করে দেওয়া। চলমান সংঘাতটি শুরু হয় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, যখন যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক কর্মসূচি সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে হামলা শুরু করে। প্রথম দিকে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছিল, তাদের সামরিক স্থাপনাগুলোর ক্ষয়ক্ষতি সীমিত ছিল। তবে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা তীব্র আকার ধারণ করে এবং বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর হতাহতের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, আহতদের একটি বড় অংশ ক্ষেপণাস্ত্র বিস্ফোরণের অভিঘাত, ড্রোন হামলা এবং অন্যান্য যুদ্ধজনিত আঘাতে আহত হয়েছেন। এর মধ্যে অনেকেই চিকিৎসা শেষে দায়িত্বে ফিরলেও গুরুতর আহতদের চিকিৎসা এখনো চলছে। অন্যদিকে ইরানও দাবি করেছে, মার্কিন বিমান হামলায় তাদের সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি বেসামরিক এলাকায়ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দুই দেশের পাল্টাপাল্টি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যিক নৌপরিবহন নিয়েও নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
চলতি যুদ্ধের শুরুর দিকেই নিহত হয়েছেন—এমন গুঞ্জনকে মিথ্যা প্রমাণ করে ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে হঠাৎই উপস্থিত হয়েছেন দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ। তেহরানের রাজপথে লাখো শোকার্ত মানুষের ভিড়ে তাকে সশরীরে দেখা যাওয়ার পর নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে ঘটনাটি। সোমবার (৬ জুলাই) প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদনে বিষয়টি সামনে আনে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ইরানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আহমাদিনেজাদকে যুদ্ধের প্রথম দিনেই নিহত বলে প্রচার করেছিল দেশটির কয়েকটি রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যম। ওই সময় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সমন্বিত ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় খামেনিসহ ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের একটি বড় অংশ নিহত হন বলে খবর ছড়িয়ে পড়ে। একই দিনে আহমাদিনেজাদের বাসভবনের কাছেও একটি রকেট আঘাত হানায় তার মৃত্যুর খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এরপর দীর্ঘ কয়েক মাস তিনি সম্পূর্ণ জনসমক্ষে অনুপস্থিত ছিলেন। তার পক্ষ থেকে কোনো বিবৃতি পাওয়া যায়নি, এমনকি সরকারি পর্যায় থেকেও তার জীবিত বা মৃত থাকার বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি। ফলে বিষয়টি যুদ্ধের শুরুর সময়ের অন্যতম রহস্য হিসেবেই রয়ে যায়। অবশেষে গত সোমবার তেহরানে খামেনির কফিনযাত্রার মিছিলে সাধারণ মানুষের ভিড়ে প্রথমবারের মতো দেখা যায় আহমাদিনেজাদকে। সাদামাটা জ্যাকেট পরা এবং থুতনিতে মাস্ক নামানো অবস্থায় তাকে শোকমিছিলে অংশ নিতে দেখা যায়। এদিকে, খামেনির শেষকৃত্যের এই রাষ্ট্রীয় আয়োজনে ইরানের অপর দুই জীবিত সাবেক প্রেসিডেন্ট—মোহাম্মদ খাতামি ও হাসান রুহানির অনুপস্থিতি নিয়েও আলোচনা চলছে। সমালোচকদের দাবি, তাদের এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। বিশাল এই শোকসমাবেশে ইরানের বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিকেও সাধারণ মানুষের সঙ্গে অংশ নিতে দেখা যায়। প্রবল ভিড়ের কারণে তিনি মোটরসাইকেলের পেছনে চড়ে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, যুদ্ধকালীন বিভ্রান্তিকর তথ্যপ্রবাহ এবং তথ্যের ঘাটতির কারণে ইরানে নানা গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল। আহমাদিনেজাদের হঠাৎ উপস্থিতি সেই গুঞ্জনের একটি বড় অংশের অবসান ঘটালেও, যুদ্ধের শুরুর সময়কার তথ্য অস্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন এখনও পুরোপুরি কাটেনি।
ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝেই চীনের মাটিতে রুশ বাহিনীকে অত্যন্ত গোপন সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়ার একটি চুক্তিকে রাশিয়ার শীর্ষ পর্যায় থেকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। গত বছর অনুষ্ঠিত হওয়া এই বিশেষ প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে রাশিয়া ও চীনের অন্তত চারজন জেনারেল সরাসরি যুক্ত ছিলেন। ইউরোপীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তা ও রয়টার্সের হাতে আসা কিছু অত্যন্ত সংবেদনশীল সামরিক নথির বরাতে ১ জুলাই এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। রয়টার্সের দেখা রাশিয়ার একটি অত্যন্ত গোপনীয় নথিতে সরাসরি উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০২৫ সালের আগস্টে তৎকালীন রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন্দ্রেই বেলোসভ একটি বিশেষ ডিক্রি বা আদেশ জারি করেছিলেন। সেই আদেশ অনুযায়ী, রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় প্রশিক্ষণে অংশ নিতে চীনে পাড়ি জমায়। বেইজিং এই প্রশিক্ষণের বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করলেও এটি ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে চরম উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। নথি অনুযায়ী, বেইজিংয়ের একটি সামরিক ঘাঁটিতে গত নভেম্বরে তিন সপ্তাহব্যাপী একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল প্রশিক্ষণ কোর্স অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে রুশ সেনাদের মূলত তেজস্ক্রিয়তা, জৈবিক ও রাসায়নিক (রেডিওলজিক্যাল, বায়োলজিক্যাল অ্যান্ড কেমিক্যাল) যুদ্ধবিদ্যা এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। রয়টার্সের হাতে আসা কিছু ছবিতে দেখা গেছে, একজন চীনা প্রশিক্ষক রুশ সেনাদের সামনে একটি ডামি পারমাণবিক চুল্লি নিয়ে লেকচার দিচ্ছেন এবং রাসায়নিক রেকি করার কৌশল শেখাচ্ছেন। গত মাসে প্রকাশিত অপর এক গোয়েন্দা প্রতিবেদনে জানানো হয়, এই প্রক্রিয়ায় চীনের নানজিং ও বেংবু শহরের বিভিন্ন ঘাঁটিতে রাশিয়ার প্রায় ২০০ সামরিক কর্মীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, যাদের মধ্যে অনেকেই ইতিমধ্যে ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে যোগ দিয়েছেন। এই পুরো প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের তদারকিতে রাশিয়ার স্থলবাহিনীর ডেপুটি কমান্ডার-ইন-চিফ কর্নেল জেনারেল রুস্তম মুরাদভ এবং চীনের মেজর জেনারেল লি জিনসুনসহ উচ্চপদস্থ জেনারেলরা সরাসরি যুক্ত ছিলেন। তবে রুশ পার্লামেন্টের প্রতিরক্ষা কমিটির প্রধান আন্দ্রেই কার্তাপোলভ এই প্রতিবেদনটিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। এই ঘটনার পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস গত ১৫ জুন নিশ্চিত করেছেন যে ব্রাসেলস তাদের নিজস্ব চ্যানেলের মাধ্যমে এই গোপন প্রশিক্ষণের সত্যতা পেয়েছে। বর্তমানে এর আন্তর্জাতিক প্রভাব মূল্যায়ন করা হচ্ছে। বেইজিং নিজেকে ইউক্রেন যুদ্ধে নিরপেক্ষ এবং শান্তি মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দাবি করলেও, ইউরোপীয় শক্তিগুলো এখন চীনকে রাশিয়ার যুদ্ধের অন্যতম বড় সহায়তাকারী হিসেবে দেখছে। ফলে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির এই দেশের বিরুদ্ধে ইইউ নতুন কোনো অর্থনৈতিক বা কূটনৈতিক নিষেধাজ্ঞা দেবে কি না, তা নিয়ে পর্দার আড়ালে আলোচনা চলছে। সূত্র: রয়টার্স
রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান যুদ্ধ নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করেছে। রাতভর পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় উভয় পক্ষই একে অপরের সামরিক স্থাপনায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির দাবি করছে। রোববার (২৮ জুন) রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দক্ষিণ ইউক্রেনের মিকোলাইভ অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, এ হামলায় ইউক্রেনীয় বিমানবাহিনীর দুটি মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছে। রুশ কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি বিমান রানওয়ের পাশে অবস্থান করছিল, আর অন্যটি বাঙ্কারের ভেতরে জ্বালানি নেওয়ার সময় লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। হামলার একটি ভিডিও প্রকাশ করে মস্কো দাবি করেছে, তাদের আঘাত ‘সম্পূর্ণ সফল’ হয়েছে। অন্যদিকে একই দিনে ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জাপোরিঝিয়া এলাকায় রুশ হামলায় অন্তত দুজন নিহত এবং আরও ১৪ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। যুদ্ধের এই অংশে বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ক্রমেই উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। এরই মধ্যে ইউক্রেন পাল্টা হামলার দাবিও জোরালো করেছে। কিয়েভ জানিয়েছে, তারা দূরপাল্লার ‘ফ্লেমিঙ্গো’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে রাশিয়ার ভলগোগ্রাদ অঞ্চলে অবস্থিত টাইটান বারিকাদি শিল্প কমপ্লেক্সে আঘাত হেনেছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, ওই কারখানায় কামান ব্যবস্থা এবং ইউক্রেনের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম তৈরি করা হয়। ফলে এটিকে বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবেই বিবেচনা করা হয়েছে। এছাড়া ইউক্রেন আরও দাবি করেছে, তারা রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা অব্যাহত রেখেছে। কিয়েভের মতে, রাশিয়ার যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতা দুর্বল করতে জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে কৌশলগতভাবে লক্ষ্য করা হচ্ছে। ইউক্রেনের এই দীর্ঘপাল্লার হামলা বাড়তে থাকায় রাশিয়াও নিজেদের নিরাপত্তা জোরদারে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ক্ষমতাসীন ইউনাইটেড রাশিয়া পার্টির কংগ্রেসে বলেন, দেশের নিরাপত্তা, নাগরিকদের সুরক্ষা এবং সীমান্তের অখণ্ডতা রক্ষায় সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেবে। তিনি আরও জানান, রুশ ভূখণ্ড ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় দেশ প্রস্তুত রয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক হামলা-পাল্টা হামলার ধারাবাহিকতা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে যুদ্ধক্ষেত্রে কোনো পক্ষই এখনো পিছু হটার অবস্থায় নেই। বরং উভয় পক্ষই নিজেদের কৌশলগত সুবিধা বাড়াতে দূরপাল্লার অস্ত্র ও ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াচ্ছে। সূত্র: মিলিটারি ওয়াচ ম্যাগাজিন
রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে এক রাতেই ৬৬০টি ড্রোন দিয়ে হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন—এমন দাবি করেছে ক্রেমলিন। ২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এটিকে এক রাতে সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলা হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে। শুক্রবার (২৬ জুন) রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এসব ড্রোনের সবকটিই ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, রাজধানী মস্কোসহ এক ডজনের বেশি অঞ্চলের আকাশে এই ড্রোনগুলো ভূপাতিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণাধীন ক্রিমিয়া উপদ্বীপ, কৃষ্ণ সাগর ও আজভ সাগরসংলগ্ন এলাকাও রয়েছে। সরকারি তথ্য প্ল্যাটফর্মে এই বিবরণ প্রকাশ করা হয়। মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন জানান, রাজধানীর দিকে আসা অন্তত ৪৭টি ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে। টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, যেসব এলাকায় ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়েছে, সেখানে জরুরি সেবা সংস্থার কর্মীরা কাজ করছেন। তবে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, মস্কো থেকে প্রায় ১৮০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত তুলা অঞ্চলেও ড্রোন হামলার প্রভাব পড়েছে। ওই অঞ্চলের গভর্নর দিমিত্রি মিলিয়ায়েভ জানিয়েছেন, শেকিনো জেলার একটি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এতে একজন নারী আহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তিকে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইউক্রেন রাশিয়ার অভ্যন্তরে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। বিশেষ করে তেল শোধনাগার ও জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হচ্ছে, যাতে যুদ্ধ পরিচালনায় রাশিয়ার অর্থনৈতিক সক্ষমতার ওপর চাপ সৃষ্টি করা যায়। এর আগে গত সপ্তাহেও ইউক্রেনের এক ড্রোন হামলায় মস্কোর দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের একটি তেল শোধনাগারে আগুন লাগে, যা কয়েক ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ এখন দীর্ঘায়িত সংঘাতে পরিণত হয়েছে। স্থলযুদ্ধের পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এই সংঘাতের নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, উভয় পক্ষই কৌশলগতভাবে প্রতিপক্ষের ভেতরে আঘাত হানার সক্ষমতা বাড়াতে জোর দিচ্ছে। এই সর্বশেষ হামলার ঘটনায় যুদ্ধের বিস্তার ও তীব্রতা আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন পর্যবেক্ষকরা। যদিও রাশিয়া সব ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে, তবে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। সূত্র: এএফপি
ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্রকে আর 'নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী' হিসেবে দেখছে না রাশিয়া। মঙ্গলবার মস্কোর পক্ষ থেকে এই দাবি জানানোর পাশাপাশি, সামরিক খাতে ব্যয় বাড়ানোর ইউরোপীয় পরিকল্পনারও তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ইরানে হামলার নির্দেশ দেওয়ার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে নিজের মনোযোগ সরিয়ে নিয়েছেন। এর ফলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে ভয়াবহ এই সংঘাত নিরসনে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন শান্তি আলোচনা কার্যত থমকে আছে। মস্কোতে বিদেশি দূতদের উদ্দেশে দেওয়া এক বক্তব্যে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড দেখে স্পষ্টতই মনে হচ্ছে, তারা নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা থেকে পুরোপুরি সরে এসেছে। এর বদলে তারা রাশিয়ার ওপর একের পর এক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার চাপ বাড়ানোর উসকানিমূলক পথ বেছে নিয়েছে।" উল্লেখ্য, চলতি মাসের শুরুতে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে ট্রাম্পসহ বিশ্বনেতারা জ্বালানিখাতসহ নানা ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জোরদারের মাধ্যমে রাশিয়ার ‘যুদ্ধ অর্থনীতি’র ওপর চাপ বাড়াতে একমত হন। ২০২৫ সালে পুনরায় হোয়াইট হাউসে ফেরার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেই লক্ষ্যে তিনি উভয় পক্ষকেই আলোচনায় বসতে চাপ দিলেও, মার্কিন মধ্যস্থতার এই কূটনীতিতে এখন পর্যন্ত দৃশ্যত কোনো অগ্রগতি হয়নি। মূলত মস্কোর দাবি অনুযায়ী ইউক্রেনকে নিজ ভূখণ্ড ছেড়ে দেওয়া, সেনাবাহিনীর আকার সীমিত করা এবং পশ্চিমাদের সহায়তা প্রত্যাখ্যান করার মতো কঠিন শর্তগুলো কিয়েভ মেনে না নেওয়ায় এই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে ইউক্রেনে এ পর্যন্ত লাখ লাখ মানুষ নিহত হয়েছেন এবং গৃহহীন হয়ে পড়েছেন কোটি কোটি সাধারণ মানুষ। এদিকে, যুদ্ধ থামাতে কিয়েভকে রাশিয়ার শর্ত মেনে নেওয়ার ব্যাপারে ট্রাম্পের চাপের মুখে ইউরোপের অবস্থান নিয়েও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মস্কো ক্রমবর্ধমান ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। মঙ্গলবার এক পৃথক অনুষ্ঠানে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন অভিযোগ করেন, ইউরোপ ট্রাম্পের প্ররোচনায় বিপুল অস্ত্র প্রতিযোগিতার মাধ্যমে যুদ্ধের জন্য ‘প্রকাশ্যে’ প্রস্তুতি নিচ্ছে। সদ্য উত্তীর্ণ সামরিক ও আইনপ্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের এক অনুষ্ঠানে ক্রেমলিন প্রধান বলেন, "পশ্চিমারা এখন প্রকাশ্যে বলছে যে তারা আমাদের সঙ্গে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে এবং তাদের আক্রমণাত্মক সামরিক বাজেট ক্রমাগত বৃদ্ধি করছে।" পুতিন তার বক্তব্যে ইউক্রেনকে পূর্ব দনবাস অঞ্চল থেকে পুরোপুরি সেনা প্রত্যাহারের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, রুশ সেনারা বর্তমানে ওই অঞ্চলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শহর কস্তিয়ানতিনিভকা দখলের প্রায় দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। এছাড়া গত সপ্তাহে মস্কোর একটি তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলার পর এই প্রথম মুখ খুলে পুতিন বলেন, রাশিয়ার অবকাঠামোর ওপর ইউক্রেনের এই ক্রমবর্ধমান হামলা পশ্চিমা সহায়তায় পরিচালিত হচ্ছে, যার মূল লক্ষ্য সাধারণ রুশ নাগরিকদের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে সমাজব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করে তোলা।
সিন্ধু নদীর পানি বণ্টনকে কেন্দ্র করে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ নতুন মাত্রা পেয়েছে। সিন্ধু পানি চুক্তি ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ সতর্ক করে বলেছেন, ভারতের কোনো পদক্ষেপ যদি পাকিস্তানের পানি নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে ইসলামাবাদ সামরিক পদক্ষেপ নিতেও পিছপা হবে না। রোববার পাকিস্তানের বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এআরওয়াই নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন। তার বক্তব্য ইতোমধ্যে দুই দেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। খাজা আসিফ বলেন, পানি শুধু একটি প্রাকৃতিক সম্পদ নয়, এটি জাতীয় নিরাপত্তারও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। পাকিস্তান যদি মনে করে সিন্ধু নদী ব্যবস্থার পানিতে তাদের ন্যায্য অধিকার ক্ষুণ্ন হচ্ছে বা পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তাহলে দেশটি নীরব থাকবে না। তিনি আরও বলেন, “যে মুহূর্তে আমরা বুঝব আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে, তখন ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যাওয়ার বিষয়েও আমরা দ্বিধা করব না।” তার এই বক্তব্যকে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে কঠোর রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। সম্প্রতি ভারতের জল শক্তিমন্ত্রী সি আর পাটিলের একটি বক্তব্য নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে তিনি ইঙ্গিত দেন, ২০২৮ সালের জুনের মধ্যে পাকিস্তানের দিকে সিন্ধু নদীর পানিপ্রবাহ পুরোপুরি বন্ধ করার ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। ভারতের এমন সম্ভাব্য পরিকল্পনার ইঙ্গিত সামনে আসার পর ইসলামাবাদে উদ্বেগ বেড়েছে। পাকিস্তানের নীতিনির্ধারকদের আশঙ্কা, সিন্ধু অববাহিকার পানিপ্রবাহে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হলে দেশটির কৃষি ও অর্থনীতিতে গুরুতর প্রভাব পড়তে পারে। মূলত ২০২৫ সালের এপ্রিলে জম্মু ও কাশ্মীরের পাহেলগামে ভয়াবহ হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি শুরু হয়। নয়াদিল্লি ওই হামলার জন্য পাকিস্তান-সমর্থিত সন্ত্রাসীদের দায়ী করে। এরপর ভারত ১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত করার ঘোষণা দেয়। ভারতের দাবি, সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় পাকিস্তান বিশ্বাসযোগ্য ও স্থায়ী পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত চুক্তির স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরায় চালু করা হবে না। সিন্ধু পানি চুক্তিকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক পানি বণ্টন চুক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ১৯৬০ সালে স্বাক্ষরিত এই চুক্তির মাধ্যমে সিন্ধু নদী ব্যবস্থার পানি দুই দেশের মধ্যে কীভাবে ভাগ হবে, তার কাঠামো নির্ধারণ করা হয়। চুক্তি অনুযায়ী, সিন্ধু অববাহিকার মোট পানির প্রায় ৮০ শতাংশ ব্যবহারের অধিকার পাকিস্তানের। ফলে দেশটির কৃষি উৎপাদন, সেচব্যবস্থা, খাদ্য নিরাপত্তা এবং গ্রামীণ অর্থনীতির বড় অংশ এই পানির ওপর নির্ভরশীল। পাকিস্তান বহুবার সতর্ক করে বলেছে, সিন্ধু নদীর পানিপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি হলে তা কোটি কোটি মানুষের জীবন ও জীবিকার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে। গত সপ্তাহে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার সিন্ধু পানি চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের হস্তক্ষেপও কামনা করেন। এর পাশাপাশি চলতি মাসের শুরুতে পাকিস্তান অভিযোগ করে, ভারত চেনাব নদীর পানি অন্যদিকে সরিয়ে নিতে নদী সংযোগ প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে। ইসলামাবাদের দাবি, এমন পদক্ষেপ সিন্ধু পানি চুক্তি এবং আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘনের শামিল হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, খরা এবং ক্রমবর্ধমান পানি সংকটের কারণে পাকিস্তান আগে থেকেই চাপে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সিন্ধু নদীর পানি নিয়ে অনিশ্চয়তা দেশটির জন্য কৌশলগত ও অর্থনৈতিক উভয় দিক থেকেই বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। দুই দেশই পরমাণু অস্ত্রধারী হওয়ায় পানি নিয়ে এই বিরোধ শুধু দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতির জন্যও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সূত্র: এআরওয়াই নিউজ
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।