ইসরায়েল

ছবি: সংগৃহীত
লেবাননে তীব্র সংঘর্ষে ৪ ইসরায়েলি সেনা নিহত

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে চলমান সংঘর্ষে চার ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। সীমান্তবর্তী এলাকায় এখনো তীব্র লড়াই অব্যাহত রয়েছে। শুক্রবার এ তথ্য জানিয়েছে আনাদোলু এজেন্সি।   ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ৪০১তম ব্রিগেডের ৫২তম ব্যাটালিয়নের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল ডর গেদালিয়া বেন সিমহোন (৩২)। দক্ষিণ লেবাননে পরিচালিত সামরিক অভিযানের সময় তিনি নিহত হন।   একই ঘটনায় আরও তিন ইসরায়েলি সেনার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে সেনাবাহিনী। তবে তাদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। ইসরায়েলি সামরিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিহত বাকি তিন সেনার নাম পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে।   দক্ষিণ লেবানন সীমান্তে ইসরায়েলি বাহিনী ও বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে। চলমান লড়াইয়ে উভয় পক্ষেই হতাহতের ঘটনা ঘটছে বলে জানা গেছে।   এদিকে সাম্প্রতিক ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায় লেবাননে যুদ্ধবিরতির বিষয়টি উল্লেখ থাকলেও সীমান্ত অঞ্চলে সামরিক অভিযান ও সংঘর্ষ থামেনি। ফলে ওই অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।   সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

শাহারিয়া নয়ন জুন ১৮, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের ওপর নজর রাখছে ইসরায়েল, হামাস ইস্যুতে রাষ্ট্রদূতের মন্তব্য

দক্ষিণ এশিয়ার দুই মুসলিম প্রধান দেশ বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের ওপর গভীর নজরদারি চালাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইসরায়েল। সম্প্রতি ভারতীয় প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি (NDTV)-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ভারতে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত রিউভেন আজার এই বিস্ফোরক দাবি করেছেন।   বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) এই সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যমটি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে বিশেষ করে দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের প্রভাব বিস্তারের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে তেল আবিব। ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের আকস্মিক হামলার পর থেকেই বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে হামাসের সম্ভাব্য যাবতীয় তৎপরতা কড়া নজরদারিতে রেখেছে ইসরায়েল।   এনডিটিভির সিনিয়র এক্সিকিউটিভ এডিটর আদিত্য রাজ কৌলকে দেওয়া ওই দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে আঞ্চলিক কূটনীতি এবং মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়েও তীব্র সন্দেহ প্রকাশ করেন রিউভেন আজার। তিনি সরাসরি জানান যে, ইসরায়েল কোনোভাবেই পাকিস্তানকে বিশ্বাস করে না এবং দেশটির চলমান কূটনৈতিক অবস্থানকে তারা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। তবে শুধু পাকিস্তানই নয়, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ভূ-রাজনীতিতে কাতারের ভূমিকাও ইসরায়েলের কাছে যথেষ্ট প্রশ্নবিদ্ধ বলে মন্তব্য করেন এই রাষ্ট্রদূত।   সাক্ষাৎকারে সবচেয়ে স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগটি ছিল হামাসের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ককে ঘিরে। আজারের দাবি, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের অভ্যন্তরে হামাসের নজিরবিহীন সামরিক অভিযানের পর থেকেই বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে তাদের নানামুখী কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছে ইসরায়েলি গোয়েন্দা ও নীতি-নির্ধারকেরা। এই ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতের দাবি অনুযায়ী, তাঁদের হাতে থাকা এসব তথ্যের কিছু অংশ মূলত প্রকাশ্য বিভিন্ন সূত্র থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে এর বাইরেও দেশ দুটিতে এমন আরও কিছু গোপন কার্যক্রম থাকতে পারে, যা এখনও জনসমক্ষে আসেনি বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।   আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয়টি উল্লেখ করে আজার আরও বলেন, ‘আমরা পাকিস্তান ও বাংলাদেশে হামাসের কার্যক্রম অত্যন্ত গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। কারণ অন্যান্য সশস্ত্র সংগঠনগুলোও ৭ অক্টোবরের হামলাকে নিজেদের অঞ্চলে একই ধরনের অভিযান পরিচালনার একটি সফল মডেল হিসেবে গ্রহণ করতে পারে।’ আর এই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হলে তা কেবল ইসরায়েলের জন্য নয়, বরং গোটা দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের সরকারগুলোর জন্যই চরম উদ্বেগের বিষয় হওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ১৮, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: এএফপি
ইসরায়েল ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অস্তিত্ব থাকবে না: মার্কিন রাষ্ট্রদূত

ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি বলেছেন, ইসরায়েল ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অস্তিত্ব থাকত না। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ভিত্তি ইহুদি ঐতিহ্যের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত।   মঙ্গলবার (১৬ জুন) সন্ধ্যায় অধিকৃত পশ্চিম তীরের বেথলেহেম থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত হেরোডিয়াম ন্যাশনাল পার্কে অনুষ্ঠিত এক বসতি স্থাপনকারী সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।   ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘মা’রিভ’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘জুডেয়া ও সামারিয়ায় ইসরায়েলি ঐতিহ্য ও প্রত্নতত্ত্ব বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ইসরায়েলপন্থী নেতা ও কর্মীরা অংশ নেন। ‘জুডেয়া ও সামারিয়া’ হলো পশ্চিম তীরের জন্য ইসরায়েল কর্তৃপক্ষের ব্যবহৃত একটি বাইবেলীয় পরিভাষা।   সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে হাকাবি বলেন, “আমার ভূমিকা শুধু ইসরায়েলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করা নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইসরায়েলের গুরুত্ব তুলে ধরাও।”   ইসরায়েলি ঐতিহ্যবিষয়ক মন্ত্রী আমিচাই এলিয়াহুকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “এটি নিঃসন্দেহে আপনাদের ঐতিহ্য, তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রেরও ঐতিহ্য। ইসরায়েল ছাড়া, ইহুদি ভিত্তি ছাড়া, আমেরিকা থাকবে না।” তিনি আরও বলেন, “এই ভূমিতে যা ঘটেছিল, তার কাছেই আমরা আমাদের অস্তিত্বের জন্য ঋণী।”   ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ইসরায়েলে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করা হাকাবি এই মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পর। ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে ট্রাম্প সেদিন বলেন, “আমি এবং যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া ইসরায়েলের কোনো অস্তিত্ব থাকত না।”   হাকাবির বক্তব্য এবং ট্রাম্পের মন্তব্য নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে অধিকৃত পশ্চিম তীরে আয়োজিত একটি বসতি স্থাপনকারী সম্মেলনে এমন বক্তব্য দেওয়ায় বিষয়টি রাজনৈতিক মহলেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিতে পারে বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা।

শাহারিয়া নয়ন জুন ১৭, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইরাকে শোকযাত্রা শেষে নিজ জন্মভূমি মাশহাদে চিরনিদ্রায় সমাহিত করা হবে খামেনিকে

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহত ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও দাফনের সময়সূচি চূড়ান্ত করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৪ জুলাই রাজধানী তেহরানে তার জানাজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। এরপর ৮ জুলাই একটি বিশাল শোকযাত্রা নিয়ে যাওয়া হবে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ইরাকে।   সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ৯ জুলাই খামেনিকে তার জন্মস্থান মাশহাদে সমাহিত করা হবে।   গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এক যৌথ হামলায় নিহত হন ইরানের এই শীর্ষ নেতা। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী মার্চ মাসেই তার দাফন কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে ইরানের সংঘাত এবং যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হওয়ায় সেই দাফন প্রক্রিয়া স্থগিত করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।   বর্তমানে পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই দীর্ঘ শোকযাত্রা ও দাফনের নতুন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।   তেহরানের মেয়র আলিরেজা জাকানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক বিশেষ ভিডিও বার্তায় এই শোকযাত্রা ও দাফনের বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, আগামী ৪ থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত কয়েক ধাপে এই জানাজা ও বিদায় অনুষ্ঠান চলবে। ৮ জুলাই ইরাকে শোকযাত্রা শেষে সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছায় ৯ জুলাই মাশহাদে তার চূড়ান্ত দাফন কাজ সম্পন্ন হবে।   ইরানি কর্তৃপক্ষের ভাষ্যমতে, কয়েকটি ধাপে আয়োজিত এই বিশাল শোকযাত্রায় আঞ্চলিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বেশ কিছু ধর্মীয় ও রাজনৈতিক কর্মসূচিও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ১৭, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের ঐতিহাসিক চুক্তির খসড়া ইসরায়েলকে দেখতে দিল না ওয়াশিংটন

যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত হতে যাওয়া চুক্তির বিস্তারিত তথ্য বা খসড়া ইসরায়েলকে দেখতে দেয়নি ওয়াশিংটন। আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে এর আগেই চুক্তির শর্তাবলি দেখতে চেয়ে ইসরায়েল আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানালেও তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দীর্ঘদিনের মিত্র দুই দেশের মধ্যে জাতীয় নিরাপত্তার মতো এত গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে মার্কিন প্রশাসনের এমন গোপনীয়তা অত্যন্ত অস্বাভাবিক বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।   পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় চূড়ান্ত হওয়া এই সমঝোতা স্মারকটিতে ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ইলেকট্রনিকভাবে স্বাক্ষর করেছেন।   এই চুক্তির ফলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের নৌ অবরোধ তুলে নেবে এবং এর বিনিময়ে ইরান হরমোজ প্রণালি উন্মুক্ত করার পাশাপাশি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।   চুক্তির অংশ হিসেবে আগামী ৬০ দিন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চলবে এবং দেশটির ওপর থেকে বেশ কিছু নিষেধাজ্ঞাও শিথিল করা হবে। এই চুক্তির খবর সামনে আসতেই বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭৮ ডলারের নিচে নেমে এসেছে। ইউরোপীয় নেতারা এই পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন এবং ইরানও যুদ্ধ অবসানের ঘোষণা দিয়েছে।   তবে, লেবাননে ইসরায়েলের অব্যাহত সামরিক অভিযানের কারণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে।   সম্প্রতি ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ (G-7) সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রকাশ্যে নেতানিয়াহুর সমালোচনা করে বলেন, "বিবির (নেতানিয়াহু) সাথে আমার চমৎকার সম্পর্ক রয়েছে, তবে লেবাননের বিষয়ে তাকে এখন আরও বেশি দায়িত্বশীল হতে হবে।" ট্রাম্প ইসরায়েলি বাহিনীর অতিমাত্রায় বলপ্রয়োগের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে তাদের এই যুদ্ধ অতিরিক্ত দীর্ঘায়িত হয়েছে এবং এতে অসংখ্য নিরীহ মানুষের প্রাণহানি ঘটছে।   কাউকে খুঁজতে গিয়ে প্রতিবার পুরো একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই বলে তিনি কড়া মন্তব্য করেন। এমনকি এর আগে এক ফোনালাপে লেবাননে হামলার বিষয়ে ট্রাম্প নেতানিয়াহুর ওপর প্রচণ্ড ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন বলেও সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে।   অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এক সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির শর্তাবলি সম্পর্কে তারা কিছুই জানেন না। যেহেতু ইসরায়েল এই আলোচনায় অংশ নেয়নি এবং চুক্তিতে স্বাক্ষর করেনি, তাই তারা এটি মেনে চলতে বাধ্য নয়।   দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর সামরিক অভিযান কোনোভাবেই বন্ধ হবে না বলেও তিনি হুমকি দিয়েছেন। তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, ইসরায়েলের এমন অনমনীয় অবস্থান শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার এই সদ্য অর্জিত শান্তি চুক্তিকে মারাত্মকভাবে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ১৬, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবিঃ কোলাজ আমেরিকা বাংলা
লেবাননে হামলা বন্ধ না হলে কঠোর পরিণতি, ইসরায়েলকে ইরানের হুঁশিয়ারি

তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে সাম্প্রতিক একটি চুক্তির মাধ্যমে লেবাননসহ পুরো অঞ্চলে যুদ্ধ অবসানের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এই চুক্তির তোয়াক্কা না করে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েল তাদের সামরিক হামলা অব্যাহত রেখেছে। সম্প্রতি এমন একটি হামলায় চারজনের প্রাণহানির পর এবার তেল আবিবকে অত্যন্ত কড়া জবাব দেওয়ার কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের সামরিক বাহিনী।   ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড 'খাতাম আল-আনবিয়া' ইসরায়েলের এই অব্যাহত আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে তারা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়েছে, "জায়োনিস্ট শাসকগোষ্ঠীর শিশু হত্যাকারী সেনাবাহিনী যদি দক্ষিণ লেবাননে তাদের এই আগ্রাসী ও বর্বরোচিত কর্মকাণ্ড অবিলম্বে বন্ধ না করে, তবে তাদের জন্য ইরানের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে অত্যন্ত কঠোর ও চরম পরিণতি অপেক্ষা করছে।"   বিবৃতিতে আরও গুরুতর একটি অভিযোগ তুলে বলা হয়েছে যে, যুদ্ধ অবসানের ওই চুক্তি ঘোষণার পর থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েল লেবাননে অন্তত "৮৪ বার" যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আহ্বান এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাথে হওয়া সমঝোতা চুক্তিকে পাশ কাটিয়ে ইসরায়েলের এই ধারাবাহিক হামলা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আবারও চরম উত্তেজনার দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করছে তেহরান।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ১৬, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
‘আমি না থাকলে ইসরায়েলের কোনো অস্তিত্বই থাকত না’: ডোনাল্ড ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তিনি না থাকলে বিশ্বের মানচিত্রে ইসরায়েলের কোনো অস্তিত্বই থাকত না। মিত্র দেশটির প্রতি এমন অভাবনীয় দাবির পাশাপাশি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে আরও ‘দায়িত্বশীল’ হওয়ার কড়া পরামর্শও দিয়েছেন তিনি।    যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা চুক্তির প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ আলোড়ন তুলেছে। উল্লেখ্য, ইসরায়েলের অনেক শীর্ষ নেতা শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার এই সমঝোতার তীব্র সমালোচনা করে আসছিলেন।   ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত শিল্পোন্নত দেশগুলোর জোট জি-সেভেন (G7) সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। সম্মেলনে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, "যুক্তরাষ্ট্র না থাকলে ইসরায়েল থাকত না। আর আমি না থাকলেও ইসরায়েল থাকত না; কারণ ইসরায়েলের জন্য আমি যা করেছি, তা করতে অন্য কোনো প্রেসিডেন্ট কখনো প্রস্তুত ছিলেন না।" বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে নিজের সুসম্পর্কের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, "নেতানিয়াহুর সঙ্গে আমার খুবই ভালো সম্পর্ক রয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে লেবাননের বিষয়ে বিবিকে (নেতানিয়াহু) আরও অনেক বেশি দায়িত্বশীল হতে হবে।"   লেবানন ও সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলি বাহিনীর চলমান সামরিক অভিযানের ধরন ও সময়কাল নিয়ে প্রকাশ্যেই অসন্তোষ প্রকাশ করেন ট্রাম্প। ইসরায়েলি সামরিক কৌশলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, "লেবানন ও হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরায়েল যে আচরণ করছে, তা আমার মোটেও ভালো লাগেনি। তাদের উচিত ছিল আরও দ্রুত এই লড়াইয়ের সমাপ্তি টানা।" সংঘাতটি অতিরিক্ত দীর্ঘায়িত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করে দেন যে, পরিস্থিতির এমন অবনতি ঘটতে থাকলে তা শেষ পর্যন্ত ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বড় পরিসরের সমঝোতা চুক্তির ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

বায়জিদ হাসান জুন ১৫, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের সাথে চুক্তির ঘোষণা আসতেই ইসরায়েল থেকে মার্কিন জ্বালানি বিমান সরানোর প্রস্তুতি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের অবসান ঘটাতে একটি স্থায়ী চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার ঘোষণার পর মার্কিন সামরিক বাহিনী ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাদের ২০ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান (রিফুয়েলিং এয়ারক্রাফট) সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছে। আজ মঙ্গলবার ইসরায়েলি গণমাধ্যমের বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। ইসরায়েলের চ্যানেল ১২ জানিয়েছে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) চূড়ান্ত হওয়ার খবরের পরই মার্কিন প্রশাসন এই পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে, যা মূলত দুই দেশের মধ্যে স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধের পথ তৈরি করবে।   তবে এই বিমানগুলো কি ইসরায়েলের সীমানার বাইরে সম্পূর্ণ সরিয়ে নেওয়া হবে, নাকি দেশটির অভ্যন্তরীণ অন্য কোনো বিমানবাহিনীর ঘাঁটিতে স্থানান্তর করা হবে, সে বিষয়ে গণমাধ্যমের খবরে সুনির্দিষ্ট কিছু বলা হয়নি। অবশ্য গত রোববার ইসরায়েলের পরিবহনমন্ত্রী মিরি রেজেভ ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, বিমানগুলো ইসরায়েলি বিমানঘাঁটিতেই স্থানান্তর করা হতে পারে। রেজেভের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের মোট ৭২টি রিফুয়েলিং বিমান মোতায়েন রয়েছে, যা ওই বিমানবন্দরের সাধারণ পার্কিং এলাকার প্রায় অর্ধেকটা জুড়ে অবস্থান করছে।   গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ওপর আকস্মিক আগ্রাসন চালানোর পর মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্চলিক উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করে। এর জবাবে তেহরানও পারস্য উপসাগরীয় দেশসমূহ এবং ইসরায়েলের অভ্যন্তরে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। একই সাথে বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ইরান। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই আগ্রাসী সামরিক অভিযানে ইরানে তিন হাজারের বেশি মানুষ নিহত হন।   পরবর্তী সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের এই ভয়াবহ সংঘাতের পরিধি কমাতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল ওয়াশিংটন ও তেহরান একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছাতে সক্ষম হয়। এই সফল সাময়িক যুদ্ধবিরতির পর দুই পক্ষই স্থায়ীভাবে সংঘাতের অবসান করার লক্ষ্যে একটি চূড়ান্ত রূপরেখা চুক্তি ঘোষণা করে। আগামী ১৯ জুন (শুক্রবার) সুইজারল্যান্ডে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এই ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ জুন ১৫, ২০২৬ ১৪:০ 0
মার্কিন-ইরান সমঝোতা মানছে না ইসরায়েল, লেবাননে অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা
মার্কিন-ইরান সমঝোতা মানছে না ইসরায়েল, লেবাননে অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক সমঝোতা চুক্তিকে নিজেদের জন্য বাধ্যতামূলক নয় বলে স্পষ্ট জানিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী গিলা গামলিয়েল বলেছেন, এই চুক্তির বাইরে থেকেই ইসরায়েল তাদের সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখবে।   মঙ্গলবার (১৬ জুন) ইসরায়েলের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিষয়ক ক্যাবিনেটের প্রভাবশালী এই সদস্যের সাক্ষাৎকারের বরাতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম চ্যানেল সেভেন এ তথ্য জানিয়েছে।   টেলিভিশনে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে গামলিয়েল বলেন, “আমরা এই চুক্তির কোনো পক্ষ নই। আমাদের দৃষ্টিতে হিজবুল্লাহকে সম্পূর্ণ নিরস্ত্র না করা পর্যন্ত অভিযান চলবে।” তার এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক উদ্যোগ চললেও তেল আবিব তার সামরিক অবস্থান থেকে সরে আসছে না।   তিনি আরও জানান, দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনী তাদের উপস্থিতি ধরে রাখার পরিকল্পনা করছে। পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, “আমরা বাস্তবে লেবাননের ভেতরে বেশ গভীরভাবে অবস্থান নিয়েছি। লিতানি নদী থেকে শুরু করে বোফোর্ট দুর্গ পর্যন্ত যেসব এলাকা আমাদের নিয়ন্ত্রণে এসেছে, সেখান থেকে সেনা প্রত্যাহারের কোনো ইচ্ছা নেই।”   এছাড়া গামলিয়েল ইঙ্গিত দেন, ওইসব এলাকা থেকে হিজবুল্লাহকে পুরোপুরি সরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত স্থানীয় বাসিন্দাদেরও ফিরে যেতে দেওয়া হবে না। বিশ্লেষকদের মতে, এই অবস্থান লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে একটি দীর্ঘমেয়াদি ‘বাফার জোন’ তৈরির কৌশলের অংশ হতে পারে।   মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যে সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফেরানোর একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছিল। তবে ইসরায়েলের এমন কঠোর অবস্থান সেই প্রচেষ্টাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে ধারণা করছেন পর্যবেক্ষকরা।   উল্লেখ্য, ইসরায়েল ও লেবাননের সীমান্তে দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিশেষ করে হিজবুল্লাহকে কেন্দ্র করে সংঘাত বারবার বড় ধরনের সামরিক মুখোমুখি অবস্থার সৃষ্টি করেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হলেও মাঠের বাস্তবতায় সংঘাত থামার কোনো লক্ষণ এখনো স্পষ্ট নয়।   সূত্র: মিডল ইস্ট আই

নীলুফা নিশাত জুন ১৫, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
দক্ষিণ লেবাননে সংঘর্ষে ৩০ ইসরায়েলি সেনা নিহত, আহত ১,৩৪৭

দক্ষিণ লেবাননে চলমান সংঘর্ষে ইসরায়েলি বাহিনীর উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২ মার্চ থেকে নতুন করে শুরু হওয়া সামরিক সংঘাতে এখন পর্যন্ত ৩০ জন ইসরায়েলি সেনা ও কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। একই সময়ে আহত হয়েছেন আরও ১ হাজার ৩৪৭ জন সেনাসদস্য।   সোমবার (১৫ জুন) ইসরায়েলি সেনাবাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য প্রকাশ করে। তাদের দাবি, শুধু গত তিন দিনেই আহত হয়েছেন অন্তত ৪৫ জন সেনা। ইসরায়েলের একটি নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে লেবাননে সামরিক অভিযানের গতি কিছুটা কমানো হয়েছে। রাজনৈতিক নেতৃত্বের পরবর্তী নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছে সেনাবাহিনী। তবে অভিযান পুরোপুরি বন্ধ করা হয়নি।   সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা চুক্তিতে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ এলাকায় উত্তেজনা কমানোর বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। সেই আলোচনায় লেবানন সীমান্তের পরিস্থিতিও উঠে এসেছে। তবুও ইসরায়েল স্পষ্ট করেছে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি এলাকায় তাদের সেনা মোতায়েন অব্যাহত থাকবে।   ইসরায়েলি গণমাধ্যম চ্যানেল-১২-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের তথাকথিত ‘ইয়েলো লাইন’ এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযান আপাতত চালিয়ে যাওয়া হবে। বর্তমানে যেসব অগ্রবর্তী অবস্থানে সেনারা অবস্থান করছে, সেখান থেকে সরে যাওয়ার কোনো নির্দেশ এখনো দেওয়া হয়নি। এদিকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি। বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ লেবাননের কয়েকটি স্থানে ইসরায়েলি বাহিনীর গোলাবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। যদিও এসব ঘটনায় তাৎক্ষণিক কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।   অন্যদিকে লেবাননের নিরাপত্তা সূত্রের দাবি, দক্ষিণ লেবাননের আলি আল-তাহের পাহাড় এলাকার দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় ইসরায়েলি সামরিক যানবাহন লক্ষ্য করে দুটি রকেট নিক্ষেপ করা হয়। এ হামলার জন্য হিজবুল্লাহকে দায়ী করা হয়েছে। পরে হিজবুল্লাহ এক বিবৃতিতে দাবি করে, তারা রকেট ও ড্রোন হামলার মাধ্যমে একটি ইসরায়েলি সামরিক দলকে পিছু হটতে বাধ্য করেছে। তবে এ বিষয়ে ইসরায়েলি বাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।   বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যে সামগ্রিক উত্তেজনা কিছুটা কমাতে সহায়ক হতে পারে। কিন্তু লেবানন সীমান্তে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ এবং নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্থিতিশীল হয়নি।   বিশেষ করে দক্ষিণ লেবাননের সীমান্ত অঞ্চলগুলোতে উভয় পক্ষের সামরিক উপস্থিতি এবং পাল্টাপাল্টি হামলার অভিযোগ পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে। ফলে আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি থাকলেও মাঠের বাস্তবতায় এখনো এক ধরনের থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।   পর্যবেক্ষকদের মতে, রাজনৈতিক পর্যায়ে নতুন কোনো সমঝোতা না হলে এবং সীমান্তে উত্তেজনা কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে অঞ্চলটিতে সংঘাতের ঝুঁকি পুরোপুরি কাটবে না।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ১৫, ২০২৬ ১৪:০ 0
ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী বেন গাভির । ছবি: সংগৃহীত
চুক্তি মানতে ইসরায়েল বাধ্য নয়, লেবাননে হামলা থামবে না: ইসরায়েলি নিরাপত্তামন্ত্রী

ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা চুক্তি মানতে ইসরায়েল বাধ্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী বেন গাভির। তিনি দাবি করেছেন, ওই চুক্তি ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে না এবং লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে।   ব্রিটিশ গণমাধ্যম গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, বেন গাভির ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা চুক্তি নিয়ে প্রকাশ্যে অবস্থান নেওয়া প্রথম ইসরায়েলি শীর্ষ নেতাদের একজন। সোমবার নিজের টেলিগ্রাম চ্যানেলে দেওয়া বিবৃতিতে তিনি বলেন, “ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই চুক্তি আমাদের ওপর বাধ্যতামূলক নয়। আমরা এই চুক্তির কোনো পক্ষ নই। এটি আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে না।”   লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ইসরায়েলের লক্ষ্য কেবল যুদ্ধবিরতি নয়, বরং হিজবুল্লাহকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করা। তার ভাষায়, “হিজবুল্লাহকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করার কম কোনো কিছুতেই আমরা সন্তুষ্ট হব না।”   বেন গাভির আরও বলেন, ইসরায়েলি সেনারা যেসব এলাকা দখল করেছে এবং যেগুলোকে তিনি “সন্ত্রাসী অবকাঠামোমুক্ত” বলে উল্লেখ করেছেন, সেসব এলাকা থেকে কোনোভাবেই সেনা প্রত্যাহার করা উচিত নয়।   প্রতিবেদনে বলা হয়, দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে বিভিন্ন পক্ষের কূটনৈতিক উদ্যোগের পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একটি শান্তিচুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছে। ওই সমঝোতায় চলমান সংঘাত কমে আসবে এবং লেবাননসহ আঞ্চলিক যুদ্ধ পরিস্থিতি প্রশমিত হওয়ার আশা করা হচ্ছে।   তবে বেন গাভিরের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থি অংশ এই চুক্তিকে সমর্থন করছে না। বিশ্লেষকদের মতে, এই অবস্থান ইসরায়েলের অভ্যন্তরে বিভক্ত মতামতকে আরও স্পষ্ট করছে, যেখানে একপক্ষ কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে এবং অন্যপক্ষ সামরিক অবস্থান অব্যাহত রাখার পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে।

বায়জিদ হাসান জুন ১৪, ২০২৬ ১৪:০ 0
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: সংগৃহীত
‘বাজে চুক্তি’: যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিয়ে ইসরায়েলে তীব্র অসন্তোষ ও রাজনৈতিক বিরোধিতা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি চুক্তির রূপরেখা সামনে আসার আগেই ইসরায়েলে তীব্র রাজনৈতিক অসন্তোষ ও বিরোধিতা দেখা দিয়েছে। দেশটির জনপ্রিয় হিব্রু দৈনিক ‘ইয়েদিওত আহরোনত’-এর রোববার সংখ্যার প্রধান শিরোনামে এই সম্ভাব্য চুক্তিকে দুই শব্দে আখ্যা দেওয়া হয়েছে—“বাজে চুক্তি”, যা ইসরায়েলের বর্তমান জনমত ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।   সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি প্রাথমিক সমঝোতা স্মারকের কাঠামোতে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করা, মার্কিন অবরোধ শিথিল এবং ইরানি বন্দরের ওপর থেকে বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। একই সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ৬০ দিন পর্যন্ত বাড়ানোর কথাও আলোচনায় রয়েছে। এই সময়ে দুই দেশ ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ইস্যুতে বিস্তারিত আলোচনায় বসবে বলে জানা গেছে।   তবে এসব আলোচনায় ইসরায়েলের প্রত্যাশিত মূল নিরাপত্তা ইস্যুগুলো অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় দেশটির নীতিনির্ধারক মহলে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন বন্ধের বিষয়টি আলোচনার প্রাথমিক কাঠামোতে না থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইসরায়েলি কর্মকর্তারা।   ইসরায়েলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাকব নাগেল এক ভিডিও ব্রিফিংয়ে বলেন, শেষ পর্যন্ত যাই ঘটুক, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এটিকে নিজের কূটনৈতিক অর্জন হিসেবে উপস্থাপন করবেন। তিনি আরও বলেন, চুক্তির যেসব সম্ভাব্য বিষয় সামনে এসেছে, সেখানে ইরানের ব্যালিস্টিক সক্ষমতা বা আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রসঙ্গ স্পষ্টভাবে নেই। অন্যদিকে ইসরায়েলের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী অ্যাভিগডোর লিবারম্যান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে এটিকে দেশের নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় হিসেবে উল্লেখ করেন। বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদও সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এটি ইসরায়েলের পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা নীতির ইতিহাসে একটি বড় ব্যর্থতা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।   বর্তমান সরকারে উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা এ বিষয়ে প্রকাশ্যে খুব বেশি মন্তব্য করছেন না। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের সঙ্গে সরাসরি বিরোধে না গিয়ে কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে ইসরায়েলি প্রশাসন। চুক্তির সম্ভাব্য কাঠামো অনুযায়ী ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা, আঞ্চলিক মিত্রবাহিনীর প্রতি সমর্থন বন্ধ এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের শর্তগুলো এখনো স্পষ্ট নয়। এই অনিশ্চয়তা ইসরায়েলের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।   একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত চুক্তিতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ, আঞ্চলিক গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম বন্ধ এবং দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চয়তার বিষয়ে পর্যাপ্ত কাঠামো নেই বলে ইসরায়েল মনে করছে। এর আগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বারবার দাবি করেছেন, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। তবে চলমান আলোচনায় সেই অবস্থান কতটা প্রতিফলিত হবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।   আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপও এই বিতর্ককে আরও জোরদার করেছে। ক্ষমতাসীন জোটের ভেতর থেকে শুরু করে বিরোধী শিবির পর্যন্ত, যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সিদ্ধান্তে ইসরায়েলের অবস্থান দুর্বল হচ্ছে বলে সমালোচনা উঠছে।

শাহারিয়া নয়ন জুন ১৪, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি:সংগৃহীত
রাতে হামলা করতে পারে ইরান, ইসরায়েলজুড়ে সতর্কতা জারি

লেবাননের রাজধানী বৈরুতে হিজবুল্লাহর ঘাঁটিতে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক প্রাণঘাতী বিমান হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা আবারও তীব্রভাবে বেজে উঠেছে। এর চরম প্রতিশোধ হিসেবে আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইসরায়েলের মূল ভূখণ্ডে ইরান সরাসরি ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে পারে বলে প্রবল আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সম্ভাব্য এই নজিরবিহীন হামলা মোকাবিলায় ইতোমধ্যে গোটা ইসরায়েলজুড়ে সর্বোচ্চ জরুরি সতর্কতা জারি করেছে প্রশাসন।   রোববার (১৪ জুন) সন্ধ্যায় ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েলের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে ইরান সরাসরি আক্রমণের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই চরম উদ্বেগজনক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে আইডিএফ প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামির শীর্ষ সামরিক কমান্ডারদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করছেন। আইডিএফ এক কঠোর বিবৃতিতে জানিয়েছে, যেকোনো ধরনের হামলা প্রতিহত করতে এবং প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক পাল্টা আক্রমণ চালাতে তাদের সব বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে চালানো কোনো আগ্রাসনকেই তারা বিনা জবাবে ছেড়ে দেবে না বলে কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।   এদিকে, সম্ভাব্য হামলার ক্ষয়ক্ষতি কমাতে ইসরায়েলের হোম ফ্রন্ট কমান্ড দেশজুড়ে জনসমাগমের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো বড় অনুষ্ঠানে পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ জমায়েত হতে পারবেন না। সীমান্ত সংলগ্ন স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে এই নিয়ম আরও কঠোর করে খোলা স্থানে সর্বোচ্চ ১০০ জন এবং ঘরের ভেতরে ৪০০ জনের জমায়েত নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতেও দেশের স্কুলগুলো খোলা রাখার সিদ্ধান্ত আপাতত বহাল রেখেছে কর্তৃপক্ষ। উল্লেখ্য, এর আগেও বৈরুতে হামলার জবাবে ইসরায়েলি সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ইরান বৃষ্টির মতো ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল।   অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির বিষয়ে মুখ খুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৈরুতে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি জানান, ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকার থাকলেও এই ধরনের পদক্ষেপ চলমান শান্তি প্রক্রিয়াকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করতে পারে। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য একটি সমঝোতা চুক্তির আলোচনার এই সময়ে এ ধরনের সামরিক উত্তেজনা একেবারেই অনাকাঙ্ক্ষিত বলে তিনি মন্তব্য করেন। বৈরুতের দক্ষিণ উপশহরে রোববারের ওই বিমান হামলায় বেশ কয়েকজনের প্রাণহানির পাশাপাশি ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা সমগ্র অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে নতুন করে এক সুতোর ওপর দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

বায়জিদ হাসান জুন ১৪, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি:সংগৃহীত
দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর ওপর একদিনেই ১৭ ভয়াবহ হামলার দাবি হিজবুল্লাহর

লেবাননের অভ্যন্তরে অনুপ্রবেশকারী ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর ওপর একদিনেই মুহুর্মুহু ১৭টি সফল হামলা চালানোর দাবি করেছে সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। গোষ্ঠীটির এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতির তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন ফ্রন্টে অবস্থান নেওয়া ইসরায়েলি সেনা ও সামরিক যানের বহর লক্ষ্য করে এসব সুনির্দিষ্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।   মূলত নাবাতিয়েহ, বিন্ত জাবিল, মাজদাল জাউন, সোর, কানতারা এবং মারজায়ুন এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর সমাবেশ ও অবস্থানকে কেন্দ্র করে এই তীব্র আক্রমণগুলো চালানো হয়। এর ফলে সীমান্ত সংলগ্ন এলাকাগুলোতে দুই পক্ষের মধ্যে লড়াই আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।   স্থলভাগে সরাসরি আক্রমণের পাশাপাশি আকাশপথেও কড়া প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে লেবাননের এই সশস্ত্র গোষ্ঠীটি। হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে যে, জেজিন এবং সাইদা শহরের কাছাকাছি এলাকায় নজরদারি চালানো ইসরায়েলি ড্রোনের ওপর তারা সফলভাবে মিসাইল নিক্ষেপ করেছে।   এছাড়া একটি ইসরায়েলি সামরিক ট্রাকেও সরাসরি এবং নির্ভুল আঘাত হানার দাবি করেছে গোষ্ঠীটি। একদিনের ব্যবধানে হিজবুল্লাহর এতগুলো সুপরিকল্পিত হামলা লেবানন সীমান্তে চলমান সংঘাতকে যেমন আরও ঘনীভূত করেছে, তেমনি গোটা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে এক নতুন সামরিক উত্তেজনার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

বায়জিদ হাসান জুন ১৪, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
লেবাননে ইসরাইলি হামলা মেনে নেওয়া হবে না, সমুচিত জবাবের ঘোষণা তেহরানের

লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক প্রাণঘাতী হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে চরম প্রতিশোধ নেওয়ার কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে ইরান। রবিবার (১৪ জুন) বৈরুতের দাহিয়াহ এলাকায় সংঘটিত এই ভয়াবহ হামলাকে 'ইহুদিবাদী শাসকগোষ্ঠীর জঘন্য অপরাধ' বলে আখ্যায়িত করেছেন ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক কমিটির প্রধান ইব্রাহিম আজিজি। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।   এই আগ্রাসনের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের নীরব ও প্রত্যক্ষ ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেছেন এই শীর্ষ ইরানি কর্মকর্তা। ইব্রাহিম আজিজি তার ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ায় বলেন, বৈরুতের বুকে চালানো এই বর্বরোচিত অপরাধ আবারও বিশ্ববাসীর সামনে প্রমাণ করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র কতটা দুর্বল ও নীতিহীন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ওয়াশিংটনের কোনো প্রকার বিশ্বস্ততা অবশিষ্ট নেই বলেও তিনি স্পষ্টভাবে মন্তব্য করেন।   ইরানি এই নেতার মতে, ইসরায়েলের মতো একটি অবৈধ ও অনৈতিক শাসকগোষ্ঠীকে নিয়ন্ত্রণ করার ন্যূনতম ক্ষমতা বা সদিচ্ছা কোনোটাই যুক্তরাষ্ট্রের নেই, বরং তাদের প্রচ্ছন্ন মদদেই এসব অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বিনষ্টকারী এই বর্বরোচিত হামলার সমুচিত ও কড়া জবাব খুব শিগগিরই দেওয়া হবে বলে তিনি দৃঢ়ভাবে জানিয়েছেন। এই হুঁশিয়ারির পর মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও সামরিক অঙ্গনে নতুন করে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।

বায়জিদ হাসান জুন ১৩, ২০২৬ ১৪:০ 0
লেবাননের টাইর শহরে ইসরায়েলি হামলার পর ক্ষতিগ্রস্ত একটি ভবন পরিদর্শন করছেন এক ব্যক্তি। ছবি: EPA
দক্ষিণ লেবাননের ২০টি শহর ও গ্রামে বাসিন্দাদের সরিয়ে নিতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর নির্দেশ

দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ২০টি শহর ও গ্রামের বাসিন্দাদের অবিলম্বে ঘরবাড়ি ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে।   লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এনএনএ জানিয়েছে, টাইর জেলার মারাকেহ শহরে চালানো এক বিমান হামলায় একজন নিহত হয়েছেন। দক্ষিণের জেজ্জিন জেলায় আর-রিহান পৌরসভার মেয়র আলি বাদি ইসরায়েলি হামলায় নিহত হন। এছাড়া নাবাতিয়ে জেলার দেইর আল-জাহরানি ও কাফর রেমানে পৃথক হামলায় আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।   এনএএ আরও জানায়, দক্ষিণ লেবাননের বিনত জবাইল এলাকায় ভোরের দিকে চালানো হামলায় একাধিক ঘরবাড়ি ও সরকারি ভবন ধ্বংস হয়েছে।   এর পাশাপাশি ইসরায়েলি সেনাবাহিনী নাবাতিয়ে ও জেজ্জিন অঞ্চলের অন্তত ২০টি গ্রাম ও শহরের বাসিন্দাদের “তৎক্ষণাৎ এলাকা ত্যাগ করে জাহরানি নদীর উত্তরে চলে যাওয়ার” নির্দেশ দিয়েছে। নির্দেশের আওতায় রয়েছে দেইর আল-জাহরানি, আল-নামিরিয়ে, হারুফ, কফর রুমানসহ একাধিক এলাকা।   ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, উত্তরাঞ্চলীয় মেতুলা শহরে “লেবানন থেকে আসা একটি শত্রু ড্রোন অনুপ্রবেশ” শনাক্ত হওয়ার পর সেখানে বিমান হামলার সতর্কতা জারি করা হয়। তবে এ ঘটনায় কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর নাম উল্লেখ করা হয়নি।   আল জাজিরার সাংবাদিক হেইডি পেট জানিয়েছেন, শুক্রবার থেকে রাত পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনী এমন সব এলাকায় ধারাবাহিক হামলা চালিয়েছে, যেগুলো তারা “ইয়েলো লাইন” নামে পরিচিত সীমার অনেক উত্তরে অবস্থিত এলাকা হিসেবেও বিবেচনা করছে।

শাহারিয়া নয়ন জুন ১২, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবিঃ এ পি
ইসরাইলি বসতি এলাকার জমি বিক্রির অনুষ্ঠান বাতিলের দাবি ১০০ ব্রিটিশ আইনপ্রণেতার

যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে আগামী রোববার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া একটি বিতর্কিত আবাসন প্রদর্শনী বন্ধ করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন দেশটির শতাধিক আইনপ্রণেতা। তাদের অভিযোগ, "গ্রেট ইসরায়েলি রিয়েল এস্টেট ইভেন্ট" নামের এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে অবৈধভাবে গড়ে তোলা ইসরায়েলি বসতির জমি ও সম্পত্তি বিক্রির প্রচার করা হবে।   এই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেত কুপারের কাছে একটি যৌথ চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির ৬৫ জন সংসদ সদস্যসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি এবং উচ্চকক্ষ হাউস অব লর্ডসের সদস্যরা স্বাক্ষর করেছেন। তারা সতর্ক করে বলেছেন, ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক উচ্ছেদ করে পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে নির্মিত এসব সম্পত্তি বিক্রি আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন।   এই যৌথ চিঠির মূল উদ্যোক্তা লেবার পার্টির সংসদ সদস্য অ্যান্ডি ম্যাকডোনাল্ড বলেন, আন্তর্জাতিক আইন সমুন্নত রাখার এবং ফিলিস্তিনের ওপর ইসরায়েলের অবৈধ দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে অর্থবহ পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে ব্রিটিশ সরকারের জন্য এটি একটি বড় সুযোগ।   ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করা এবং পশ্চিম তীর ও গাজায় চলমান নৃশংসতার বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যের অবস্থান স্পষ্ট করার এখনই সময়। নীতিনির্ধারকদের মতে, আন্তর্জাতিকভাবে অবৈধ হিসেবে স্বীকৃত আবাসন প্রকল্পের বাণিজ্যিক প্রচার লন্ডনের মাটিতে হতে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।   মানবাধিকার সংস্থা ও ফিলিস্তিনপন্থী বিভিন্ন গোষ্ঠীও এই প্রদর্শনীর তীব্র সমালোচনা করে অবিলম্বে এটি বাতিলের দাবি জানিয়েছে। ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি, তবে আইনপ্রণেতাদের এই জোরালো অবস্থান ঋষি সুনাকের পরবর্তী লেবার সরকারের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ১২, ২০২৬ ১৪:০ 0
পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতায় কঠোর অবস্থান পশ্চিমাদের, নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ
পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতায় কঠোর অবস্থান পশ্চিমাদের, নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর সহিংসতা ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে ইসরায়েলের বসতি স্থাপনকারীদের নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে একাধিক পশ্চিমা দেশ। এ সহিংসতায় অর্থায়ন, সহায়তা এবং সরাসরি হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর একযোগে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাজ্য, কানাডা, ফ্রান্স ও নরওয়ে।   রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (৯ জুন) ঘোষিত এই পদক্ষেপের আগে গত সপ্তাহে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডও একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা দেয়। ফলে মোট ছয়টি দেশ এখন পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত নেটওয়ার্ক, অর্থায়নকারী এবং হামলাকারীদের বিরুদ্ধে সমন্বিত ব্যবস্থা নিয়েছে।   চার দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের ওপর চরম সহিংসতার জন্য দায়ী কট্টর বসতি স্থাপনকারীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য। তারা একই সঙ্গে ইসরায়েল সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, যেন এ ধরনের সহিংসতা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।   ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল বারো জানান, তার দেশ ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচসহ কয়েকজন বসতি নেতা এবং মোট ২১ জন বসতি স্থাপনকারীকে ফ্রান্সে প্রবেশে নিষিদ্ধ করেছে।   যুক্তরাজ্য মূলত অর্থপ্রবাহ বন্ধে জোর দিয়ে একটি নির্মাণ কোম্পানিকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় এনেছে, যাদের সম্পদ ফিলিস্তিনি সম্পত্তি ধ্বংসে ব্যবহৃত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কানাডাও একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ও তার মালিকদের ওপর অনুরূপ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।   কূটনীতিকদের মতে, পশ্চিম তীরে চলমান এই সহিংসতা ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনের সম্ভাবনাকে দুর্বল করার একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টা। ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পর থেকে ওই এলাকায় লাখ লাখ ইসরায়েলি বসতি গড়ে উঠেছে, যা আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ বলে বিবেচিত।   অন্যদিকে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এসব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের দাবি, এসব পদক্ষেপ ইহুদিবিদ্বেষ মোকাবেলায় ব্যর্থতার প্রতিফলন এবং এটি আরও উত্তেজনা সৃষ্টি করবে। একই সঙ্গে ইসরায়েলি পক্ষ বলছে, এসব নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে রাজনৈতিকভাবে বসতি স্থাপনের বিষয়টিকে চাপের মুখে ফেলা হচ্ছে।   পশ্চিম তীরের ইহুদি বসতি পরিষদের প্রধান ইসরায়েল গান্জ আরও এক ধাপ এগিয়ে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ বিলুপ্ত করার দাবি জানিয়েছেন এবং পুরো পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন।   বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা ও রাজনৈতিক উত্তেজনা দীর্ঘদিন ধরেই চলমান, তবে নতুন এই বহুপাক্ষিক নিষেধাজ্ঞা পরিস্থিতিকে আরও কূটনৈতিক চাপের মুখে ফেলেছে। যৌথ বিবৃতিতে দেশগুলো সতর্ক করে বলেছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইসরায়েল কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

নীলুফা নিশাত জুন ৯, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত ইসরায়েলি সেনা ভারতে নিশ্চিন্তে ছুটি কাটাচ্ছেন, গ্রেপ্তারের দাবি মানবাধিকার সংস্থার

গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর অভিযোগে অভিযুক্ত ইসরায়েলি সেনা আইতান গিলবোয়া বর্তমানে ভারতে ছুটি কাটাচ্ছেন। চাঞ্চল্যকর এই খবর প্রকাশ্যে আসার পর তাকে দ্রুত গ্রেপ্তারের জোর দাবি জানিয়েছে ব্রাসেলস-ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ‘হিন্দ রাজাব ফাউন্ডেশন’ (HRF)। সংস্থাটি ইতিমধ্যেই ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ইমিগ্রেশন ব্যুরো এবং পুলিশের কাছে একটি জরুরি আইনি অভিযোগ দায়ের করেছে।   অভিযোগে বলা হয়েছে, গিলবোয়া ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর ২৭১তম কমব্যাট ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যাটালিয়নের একজন রিজার্ভ সেনা হিসেবে গাজার আবাসিক এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছেন, যা জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী স্পষ্টতই যুদ্ধাপরাধ।   হিন্দ রাজাব ফাউন্ডেশনের জমা দেওয়া বিস্তারিত প্রমাণাদিতে দেখা গেছে, গিলবোয়া গাজার খান ইউনিস ও রাফাহ অঞ্চলে বেসামরিক ঘরবাড়ি ও অবকাঠামো ধ্বংসের নির্দেশ দিয়েছেন এবং সেই ধ্বংসযজ্ঞ উদযাপনের ভিডিও নিজেই ধারণ করেছেন। পরবর্তীকালে তার পরিবারের সদস্যরা সেই ভিডিওগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন।   মানবাধিকার সংস্থাটির দাবি, একজন সাধারণ পর্যটকের আড়ালে গিলবোয়া মূলত তার অপরাধের ভয়াবহ পরিণতি থেকে বাঁচতেই ভারতে এসে আশ্রয় নিয়েছেন। সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তিনি বর্তমানে ভারতের হিমাচল প্রদেশের মানালি ও এর আশপাশের এলাকায় অবস্থান করছেন।   ভারত ১৯৪৯ সালের জেনেভা কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী একটি দেশ। তাই আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, এ ধরনের গুরুতর মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও বিচারের আওতায় আনার আইনি বাধ্যবাধকতা ভারতের রয়েছে বলে মনে করিয়ে দিয়েছে হিন্দ রাজাব ফাউন্ডেশন। সংস্থাটির জেনারেল ডিরেক্টর দিয়াব আবু জাহজাহ এক বিবৃতিতে জানান, ভারতকে অবিলম্বে আইতান গিলবোয়াকে গ্রেপ্তার করতে হবে।   বেসামরিক মানুষের মৃত্যু ও ধ্বংস উদযাপনকারী কোনো অপরাধীর জন্য ভারতের মাটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল হতে পারে না বলে তিনি মন্তব্য করেন। তবে এই গুরুতর আইনি অভিযোগের বিষয়ে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ৯, ২০২৬ ১৪:০ 0
বেজালেল স্মোট্রিচ। ছবি: সংগৃহীত
ফিলিস্তিনে সহিংসতার জেরে ইসরায়েলি অর্থমন্ত্রী স্মোট্রিচের ওপর ফ্রান্সের নিষেধাজ্ঞা

অধিকৃত ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে সহিংসতা বৃদ্ধি ও অবৈধ বসতি স্থাপনে মদদ দেওয়ার অভিযোগে ইসরায়েলের কট্টরপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচসহ একাধিক নেতার ফ্রান্সে প্রবেশের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।   তিনি জানান, আন্তর্জাতিক মিত্র দেশগুলোর সাথে সমন্বয় করে এই যৌথ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হচ্ছে। ব্রিটেন, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড এবং নরওয়ের মতো দেশগুলোর সাথে একযোগে নেওয়া এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো— পশ্চিম তীরে যারা সহিংসতা উসকে দিচ্ছে এবং ঔপনিবেশিক তৎপরতা আরও জোরালো করছে, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা। ফ্রান্সের এই নতুন নির্দেশনার ফলে অর্থমন্ত্রী স্মোট্রিচ ছাড়াও ইসরায়েলের চারজন প্রভাবশালী বসতি স্থাপনকারী (সেটলার) সংগঠনের নেতা এবং ২১ জন উগ্রপন্থী সেটলার ফ্রান্সে প্রবেশ করতে পারবেন না।   বিবৃতিতে ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্মোট্রিচের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ইসরায়েলি এই মন্ত্রী সক্রিয়ভাবে পশ্চিম তীরকে ইসরায়েলের অন্তর্ভুক্ত করার পক্ষে নিরলস প্রচার চালাচ্ছেন এবং প্রকাশ্যে এমন দাবিও করছেন। এর পাশাপাশি তিনি পশ্চিম তীরে নতুন করে অবৈধ বসতি তৈরি, গাজা পুনরুপনিবেশকরণ এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের অর্থনৈতিক কাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস করার মতো নীতিকে প্রতিনিয়ত সমর্থন করে যাচ্ছেন।   পররাষ্ট্রমন্ত্রী বারো সতর্ক করে বলেন, স্মোট্রিচের এসব কট্টরপন্থী নীতি ফিলিস্তিনের সাধারণ জনগণের দৈনন্দিন জীবন ও নিরাপত্তার ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বিশাল অংশ, যারা ফিলিস্তিন ও ইসরায়েল সংকট নিরসনে ‘দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান’ নীতিতে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, তারা কোনোভাবেই এ ধরনের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড মেনে নিতে পারে না। মূলত শান্তি প্রতিষ্ঠার এই তাগিদ থেকেই ফ্রান্স এবং তার অংশীদার মিত্ররা মিলে ইসরায়েলি নেতাদের বিরুদ্ধে এই কঠোর শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ৮, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলে ইরানি হামলার জেরে রুশ নাগরিকদের ভ্রমণে সতর্কতা জারি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাত্র দুই মাস পর আবারও সংঘাতে জড়িয়েছে ইসরায়েল ও ইরান। সোমবার দেশ দুটির মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার পর রাশিয়ার তেল আবিব দূতাবাস নিজ দেশের নাগরিকদের ইসরায়েল ভ্রমণের ক্ষেত্রে কড়া সতর্কতা জারি করেছে।   সোমবার প্রকাশিত এক নির্দেশনায় রুশ দূতাবাস ইসরায়েলে অবস্থানরত নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সব ধরনের নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে। তবে ইরানি রকেট হামলায় এখন পর্যন্ত কোনো রুশ নাগরিকের হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি বলে নিশ্চিত করেছে দূতাবাস। উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে হাইফাতে অবস্থিত রাশিয়ান কনস্যুলেট চলতি সপ্তাহে তাদের কর্মঘণ্টা এক ঘণ্টা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি তাদের সেবা প্রদানের পরিসর কমিয়ে শুধুমাত্র পাসপোর্ট, রুশ ভিসা এবং দেশে ফেরার ছাড়পত্র প্রদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছে। তবে তেল আবিবের কনস্যুলার শাখার কার্যক্রম অন্যান্য দিনের মতোই স্বাভাবিক রয়েছে।   লেবাননে চলমান ইসরায়েলি হামলার প্রতিক্রিয়ায় সোমবার ইসরায়েলের ওপর ব্যাপক আক্রমণ চালায় ইরান। এর তাৎক্ষণিক জবাবে ইসরায়েলও মধ্য ও পশ্চিম ইরানে পাল্টা আক্রমণ চালায়। নতুন করে শুরু হওয়া এই সংঘাত গোটা মধ্যপ্রাচ্যকে ফের একটি সর্বাত্মক যুদ্ধের দিকে টেনে নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।   এমন উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মাঝে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ দেওয়া এক বার্তায় ইসরায়েল ও ইরানকে অবিলম্বে হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানান। এই আহ্বানের পরপরই ইরানের সেনাবাহিনী ইসরায়েলে তাদের হামলা সমাপ্তির ঘোষণা দেয়। তবে একইসঙ্গে তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছে, দক্ষিণ লেবাননসহ অন্যান্য অঞ্চলে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) আগ্রাসন ও শত্রুতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর ও ধ্বংসাত্মক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুরোধের প্রেক্ষিতে ইসরায়েলও ইরানের ওপর তাদের আক্রমণ স্থগিত করেছে।   আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রাশিয়াকে ইরানের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনপুষ্ট ইসরায়েলি সামরিক পদক্ষেপকে 'সশস্ত্র আগ্রাসনের উসকানিমূলক কাজ' আখ্যা দিয়ে একাধিকবার নিন্দা জানিয়েছে মস্কো। গত এপ্রিলে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়েছিলেন। তবে সেসময়ই তিনি সতর্ক করে বলেছিলেন যে, নতুন করে কোনো সংঘাত শুরু হলে তা ওই অঞ্চল এবং সমগ্র বিশ্বের জন্য অনিবার্য ও চরম ধ্বংসাত্মক পরিণতি ডেকে আনবে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ৮, ২০২৬ ১৪:০ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে গুগল প্রধান সুন্দর পিচাইকে দেখে শিক্ষার্থীদের মঞ্চ বর্জন

যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যবাহী স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে গুগলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সুন্দর পিচাইয়ের বক্তব্য চলাকালীন ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থীদের তীব্র বিক্ষোভ ও অনুষ্ঠান বর্জনের (ওয়াকআউট) ঘটনা ঘটেছে। রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩৫তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সুন্দর পিচাই প্রধান বক্তা হিসেবে মঞ্চে ওঠার পরপরই এই ঘটনা ঘটে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, সুন্দর পিচাই বক্তব্য শুরু করার মুহূর্তেই সমাবর্তনস্থলে উপস্থিত ১০০ জনেরও বেশি গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থী তাদের আসন ছেড়ে উঠে দাঁড়ান। এ সময় তারা "ফ্রি, ফ্রি প্যালেস্টাইন" (ফিলিস্তিনের মুক্তি চাই) বলে উচ্চকণ্ঠে স্লোগান দিতে দিতে স্টেডিয়াম ত্যাগ করেন। কট্টর বামপন্থী ছাত্র সংগঠন 'স্টুডেন্টস ফর জাস্টিস ইন প্যালেস্টাইন' এবং 'নো টেক ফর অ্যাপার্থাইড'-এর যৌথ আহ্বানে এই প্রতিবাদের আয়োজন করা হয়।   বিক্ষোভের মূল কারণ হিসেবে ইসরায়েল সরকারের সাথে গুগলের ১.২ বিলিয়ন ডলারের ক্লাউড কম্পিউটিং চুক্তি 'প্রজেক্ট নিম্বাস'-কে দায়ী করা হচ্ছে। আমাজনের সাথে যৌথভাবে পরিচালিত এই প্রকল্পের মাধ্যমে গুগল ইসরায়েল সরকারকে ক্লাউড ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি সরবরাহ করে আসছে। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও মানবাধিকার কর্মীদের অভিযোগ, গুগলের এই প্রযুক্তি ফিলিস্তিনিদের ওপর নজরদারি এবং ইসরায়েলের সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর বিভিন্ন ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপে ব্যবহৃত হতে পারে। যদিও গুগল বরাবরই এই দাবি অস্বীকার করে বলেছে, এটি কেবল সরকারি বেসামরিক কাজের জন্য একটি ক্লাউড সেবা।   উল্লেখ্য, সুন্দর পিচাই নিজে ১৯৯৫ সালে এই স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই মেটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন। নিজের সাবেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে এসে তাকে এমন নজিরবিহীন প্রতিবাদের মুখে পড়তে হলো। এর আগে ২০২৪ সালেও এই প্রজেক্ট নিম্বাসের বিরুদ্ধে গুগলের ক্যালিফোর্নিয়া ও নিউইয়র্ক অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অবস্থান ধর্মঘট করলে গুগল কয়েক ডজন কর্মীকে চাকরিচ্যুত করেছিল।   চলতি বছর আমেরিকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের লক্ষ্য করে শিক্ষার্থীদের এমন ক্ষোভ প্রকাশের ঘটনা নিয়মিত চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিছুদিন আগেই অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে গুগলের সাবেক সিইও এরিক শ্মিড বক্তব্য দিতে গেলে এআই প্রযুক্তির ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে শিক্ষার্থীরা তাকে ধুয়ে দেয়। তবে স্ট্যানফোর্ডের অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের এই তুমুল হট্টগোল ও কক্ষ ত্যাগের মাঝেও সুন্দর পিচাই তাঁর বক্তব্য চালিয়ে যান, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ভূ-রাজনীতির চেয়ে দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে শিক্ষার্থীদের আশাবাদী থাকার পরামর্শই বেশি প্রাধান্য পায়।

Top week

ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে গুগল প্রধান সুন্দর পিচাইকে দেখে শিক্ষার্থীদের মঞ্চ বর্জন

তাবাস্সুম মোহাম্মদ জুন ১৪, ২০২৬ ১৪:০ 0