ঢাকা থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকার শিরোনামগুলোতে গুরুত্ব পেয়েছে দেশের জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের উত্তাপ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য তদন্ত এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি- আজকের পত্রিকাগুলোর শিরোনামে উঠে এসেছে এসব বিষয়।
প্রথম আলো— “সময়ের সঙ্গে রাষ্ট্রপতির বক্তব্যও পাল্টে যায়”
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, গত তিন বছরে তিনটি ভিন্ন সরকারের সময় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বিভিন্ন বক্তব্যে তাদের প্রশংসা করেছেন, যদিও সরকারগুলো একই রাজনৈতিক ধারার নয়। যে রাষ্ট্রপতিকে দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগ সরকারের অনুগত হিসেবে দেখা হয়েছে, তাঁর সাম্প্রতিক ভাষণে ভিন্ন সুর লক্ষ করা গেছে।
তিনি জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে খালেদা জিয়ার আপসহীন ভূমিকার কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছেন। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানকে দেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে তুলে ধরেছেন। এ ছাড়া তিনি শেখ হাসিনার শাসনকে ফ্যাসিবাদী হিসেবে উল্লেখ করেন।
বৃহস্পতিবার সংসদে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন যখন ফ্যাসিবাদী সরকারের কথা বলছিলেন, তখন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ বিএনপির সংসদ সদস্যদের টেবিল চাপড়ে সমর্থন জানাতে দেখা যায়। তবে রাষ্ট্রপতির ভাষণের সময় জামায়াত ও এনসিপির সংসদ সদস্যরা ওয়াকআউট করেন।
রাষ্ট্রপতির বর্তমান বক্তব্যের সঙ্গে দুই বছর আগের অবস্থানের স্পষ্ট বৈপরীত্য রয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জানুয়ারি দ্বাদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি ৭ জানুয়ারির নির্বাচন বর্জনকারী দলগুলোর তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। বিএনপি ও জামায়াতকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেছিলেন, একটি মহল সহিংসতা সৃষ্টি করে গণতন্ত্রের যাত্রাপথে বাধা দেওয়ার অপচেষ্টা চালিয়েছে।
তখন তিনি বক্তব্য শেষ করেছিলেন “জয় বাংলা” বলে। আর এবার তিনি বক্তব্য শেষ করেন “বাংলাদেশ জিন্দাবাদ” বলে। রাষ্ট্রপতির ভাষণ নিয়ে বিতর্কের আরেকটি কারণ এর প্রকৃতি। সাধারণত এই ভাষণ রাষ্ট্রপতি নিজে লেখেন না; এটি সরকার বা মন্ত্রিসভা প্রস্তুত করে থাকে। রাষ্ট্রপতি সংসদে তা পাঠ করেন এবং পরে সেই ভাষণের ওপর সংসদে আলোচনা হয়। তবে এবারের সংসদ গঠিত হয়েছে এক ভিন্ন রাজনৈতিক বাস্তবতায়।
সমকাল— “তেল সরবরাহ কমেছে ৪৫%, কোথাও পাম্প বন্ধ, কোথাও লাইন”
খবরে বলা হয়েছে, কোটা নীতির কারণে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ প্রায় ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন পাম্প মালিক ও পরিবেশকরা।
তাদের দাবি, কাগজে সরবরাহ কমানো হয়েছে প্রায় ২৫ শতাংশ; কিন্তু বাস্তবে তা আরও বেশি কমে গিয়ে বাজারে বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে।
মাঠের চিত্রেও এর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। সরকার ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেল সরবরাহ বাড়ানোর ঘোষণা দিলেও মাঠপর্যায়ে তার প্রভাব এখনো স্পষ্ট নয়। অনেক জায়গায় দেড় থেকে দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করে তেল নিতে হচ্ছে।
মজুত ফুরিয়ে যাওয়ায় অনেক পাম্প একবেলা বন্ধ রাখা হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে তেল কেনাকে কেন্দ্র করে মারামারির ঘটনাও ঘটেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারি ছুটির দিন শুক্র ও শনিবার ডিপো খোলা রাখার নির্দেশ দিয়েছে বিপিসি।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। বেড়েছে এলএনজির দামও। ফলে আমদানিনির্ভর বাংলাদেশের জ্বালানি ব্যয় বাড়ছে। এপ্রিল–মে মাসে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ৩১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা চেয়েছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়।
নিউ এইজ— “13th JS maiden session begins amid walkout”, অর্থাৎ ওয়াকআউটের মধ্য দিয়ে ১৩তম জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু
খবরে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের কার্যক্রম শুরু হয়। এর আগে প্রায় ২০ মাস আগে, ২০২৪ সালের ৩ জুলাই সর্বশেষ সংসদ অধিবেশন বসেছিল।
নতুন সংসদের প্রথম দিনেই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভাষণের বিরোধিতা করে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন ও ওয়াকআউট করেন। এতে সংসদে উত্তেজনা তৈরি হয়।
তবে বিরোধী দল সংসদের গঠনমূলক কার্যক্রমে সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছে।
স্পিকার না থাকায় তাঁর চেয়ার ফাঁকা রেখেই অধিবেশন শুরু হয়। সভাপতিত্ব করেন খন্দকার মোশাররফ। তিনি স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার পদে যথাক্রমে হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও কায়সার কামাল–এর মনোনয়নের বিষয়টি সংসদে উত্থাপন করলে কণ্ঠভোটে তা পাস হয়। পরে তারা রাষ্ট্রপতির কাছে শপথ নেন।
এরপর সংসদে শোক প্রস্তাব আনা হয়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৩৩টি অধ্যাদেশ উত্থাপন করা হয় এবং স্পিকারের অনুপস্থিতিতে অধিবেশন পরিচালনার জন্য পাঁচ সদস্যের একটি প্যানেল মনোনয়ন দেওয়া হয়। রাষ্ট্রপতির ভাষণের সময় সংসদ আবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
বণিক বার্তা— “বাংলাদেশি টেক্সটাইল ও সিমেন্ট খাতে উদ্বৃত্ত উৎপাদন নিয়ে বাণিজ্য তদন্ত করছে যুক্তরাষ্ট্র”
খবরে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও সিমেন্ট উৎপাদন খাতে কাঠামোগত অতিরিক্ত সক্ষমতা এবং উদ্বৃত্ত উৎপাদনের লক্ষণ রয়েছে বলে মনে করছে যুক্তরাষ্ট্র।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় পণ্য বাণিজ্যে বাংলাদেশের ৬ দশমিক ১৫ বিলিয়ন ডলারের উদ্বৃত্ত এ ধারণাকে আরও জোরদার করেছে বলে মনে করছে দেশটি।
এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশসহ মোট ১৬টি অর্থনীতিকে নিয়ে বাণিজ্য তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর (ইউএসটিআর)।
এ বিষয়ে গত বুধবার সংস্থাটির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার উৎপাদন খাতে কাঠামোগত অতিরিক্ত সক্ষমতা ও উদ্বৃত্ত উৎপাদনসংক্রান্ত বিষয়ে ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ৩০১(খ) ধারার অধীনে বিভিন্ন অর্থনীতির কর্মকাণ্ড, নীতি ও চর্চার ওপর তদন্ত শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন।
এই তদন্তের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কর্মকাণ্ড, নীতি ও চর্চা অযৌক্তিক বা বৈষম্যমূলক কি না এবং সেগুলো মার্কিন বাণিজ্যকে বাধাগ্রস্ত বা সংকুচিত করছে কি না তা যাচাই করা হবে।
তদন্তের আওতায় থাকা অর্থনীতিগুলোর মধ্যে রয়েছে চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, সিঙ্গাপুর, সুইজারল্যান্ড, নরওয়ে, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, ভিয়েতনাম, তাইওয়ান, বাংলাদেশ, মেক্সিকো, জাপান ও ভারত।
দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের — “US probes Bangladesh's export incentives, BGMEA ‘uncomfortable’।” অর্থাৎ বাংলাদেশের রপ্তানি প্রণোদনা নিয়ে তদন্ত করছে যুক্তরাষ্ট্র; এ বিষয়ে বিজিএমইএ বলছে, বিষয়টি ‘অস্বস্তিকর’
খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য তদন্তে বাংলাদেশের নাম আসাকে অস্বস্তিকর ও ভিত্তিহীন বলে মনে করছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)।
তবে এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত শুল্কারোপ করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বিজিএমইএ’র সভাপতি মাহমুদ হাসান খান। তাঁর মতে, বাংলাদেশে রপ্তানি প্রণোদনা তুলনামূলকভাবে খুবই কম।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর (ইউএসটিআর) জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় পণ্য বাণিজ্যে ৬ দশমিক ১৫ বিলিয়ন ডলার উদ্বৃত্তের বড় অংশ এসেছে টেক্সটাইল খাতের রপ্তানি থেকে। বাংলাদেশ সরকার অভ্যন্তরীণ বস্ত্র ও চামড়াজাত পণ্যসহ ৪৩টি খাতে রপ্তানির বিপরীতে নগদ প্রণোদনা দিয়ে থাকে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, উল্লেখযোগ্য অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশের সিমেন্ট শিল্প কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় মন্দার মুখে পড়েছে। ২০২৪ সালে দেশের মোট সিমেন্ট ব্যবহার ছিল ৩ কোটি ৮০ লাখ টন, যা মোট উৎপাদন সক্ষমতার ৪০ শতাংশেরও কম। ২০২৫ সালে এ ব্যবহার আরও কমেছে।
বর্তমানে বাংলাদেশ প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে ৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি পণ্য রপ্তানি করে, যার বড় অংশই তৈরি পোশাক খাত থেকে আসে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সরকার এই খাতে নগদ প্রণোদনা দিলেও তা যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অতিরিক্ত উৎপাদন বা বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেনি।
আজকের পত্রিকা — “দিনে আটকা ২৫০ টন রপ্তানি পণ্য”
খবরে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে ঢাকা থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রতিদিন প্রায় ২৫০ টন রপ্তানি পণ্য আটকা পড়ছে।
পরিস্থিতি সমাধানে সরকার অতিরিক্ত প্রায় ৭৫টি কার্গো ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দিয়েছে, যাতে পণ্য দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) জানিয়েছে, নিয়মিত ফ্লাইট ব্যাহত হওয়ায় তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন রপ্তানি পণ্যের চালান বিমানবন্দরে আটকে পড়েছে। এতে ব্যবসায়ীরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন, কারণ নির্ধারিত সময়ে পণ্য না পৌঁছালে ক্রেতারা বিমুখ হয়ে যেতে পারেন এবং রপ্তানি বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
এজন্য ব্যবসায়ীদের অনুরোধ বিবেচনা করে অতিরিক্ত কার্গো ফ্লাইট চালু করা হয়েছে। প্রয়োজনে ফ্লাইট সংখ্যা আরও বৃদ্ধি করা হবে।
নয়া দিগন্তে —“দুবাই, লেবানন, কুয়েতসহ মধ্যপ্রাচ্যে চতুর্মুখী সঙ্কটে বাংলাদেশিরা”
খবরে বলা হয়েছে, ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রেক্ষিতে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইরানের পাল্টা হামলার ঘটনা শুরুর পর থেকে সৌদি আরব, দুবাই, লেবানন, কাতার, কুয়েতসহ অন্যান্য দেশে থাকা বাংলাদেশিরা চরম অসুবিধার মুখে পড়েছেন।
কোনো দেশে চাকরি হারানো, আবার কোনো দেশে চাকরি থাকলেও ঠিকমতো বেতন বা ভাতা না পাওয়া, এবং ফ্লাইট বন্ধ থাকার কারণে অনেক প্রবাসী দেশে ফিরে আসতে পারছেন না। ফলে তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকায় প্রবাসীদের মৃত্যু হলেও অনেক ক্ষেত্রেই কর্তৃপক্ষ তাদের লাশ দেশে পাঠাতে পারছে না। বাধ্য হয়ে পরিবারের সম্মতি নিয়ে প্রবাসীর লাশ স্থানীয়ভাবেই দাফন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
কালের কণ্ঠ — “বাস-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে বর-কনেসহ নিহত ১৪”
খবরে বলা হয়েছে, বাগেরহাটের রামপালে নৌবাহিনীর স্টাফ বাস ও বরযাত্রীবাহী মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। বর-কনের পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য এই দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন।
দুর্ঘটনা ঘটে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার বেলাই ব্রিজ এলাকায়, খুলনা-মোংলা মহাসড়কে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মোংলা থেকে আসা নৌবাহিনীর স্টাফ বাস রামপালের বেলাই ব্রিজে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা মোংলাগামী মাইক্রোবাসের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় গাড়ির সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই কমপক্ষে চারজন মারা যান।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
নবনির্বাচিত স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করতে চাননি। তবে তিনি জানিয়েছেন, জাতীয় সংসদে ক্রিকেটের মতোই নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করবেন। শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকালে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এ কথা জানান। মেজর হাফিজ বলেন, “রাষ্ট্রপতির বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না। তারা গতকাল তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম সম্পন্ন করেছেন। আশা করি জাতীয় সংসদে তারা শৃঙ্খলা বজায় রাখবেন।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, “অনেক ত্যাগ এবং ধৈর্যের বিনিময়ে আমরা একটি গণতান্ত্রিক সংসদ পেয়েছি। আশা করি আগামী দিনগুলোতে জনগণের স্বপ্ন বাস্তবায়নে সক্ষম হব। একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।” সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের সময় বিরোধী দলের ওয়াকআউট নিয়ে জানতে চাইলে স্পিকার বলেন, “সংসদে ওয়াকআউট একটি প্রচলিত রীতি। তারা মোটামুটি শৃঙ্খলাবদ্ধ ছিলেন, তবে সংসদে স্লোগান দেওয়া ঠিক নয়, এটি সংসদের রেওয়াজের বাইরে।” নিরপেক্ষ থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, “সংসদে আমরা—স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার—নিরপেক্ষ থাকব। ক্রিকেট খেলায় যেমন আম্পায়ার থাকে, আমরা তেমনি নিরপেক্ষভাবে সংসদ পরিচালনা করব।” গত বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের আহ্বানে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথমে সংসদীয় নেতা তারেক রহমান প্রস্তাব দেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করার জন্য। সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা এবং বিরোধী দলীয়রাও সমর্থন দেন। এরপর ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে স্পিকার নির্বাচনের প্রস্তাব আসে। বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম হাফিজ উদ্দিনের নাম প্রস্তাব করেন, যা সমর্থন পেয়ে কণ্ঠভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হয়। এর ফলে হাফিজ উদ্দিন আহমেদ স্পিকার নির্বাচিত হন।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার কারণে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতের কাছে ডিজেল সরবরাহের অনুরোধ করা হয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে বিবেচনা করছে নয়াদিল্লি। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে ডিজেল দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ভারত নিজেদের জ্বালানি মজুত, সরবরাহ পরিস্থিতি এবং দেশের তেল শোধনাগারগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা পর্যালোচনা করবে। অর্থাৎ, অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও সক্ষমতা নিশ্চিত করার পরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই মুখপাত্র আরও জানান, শুধু বাংলাদেশ নয়—শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ-সহ আরও কয়েকটি দেশ থেকেও পেট্রোলিয়াম পণ্য সরবরাহের অনুরোধ পেয়েছে ভারত। এসব আবেদনও এখন পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এর আগে বুধবার জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং দেশের অর্থনীতিকে সহায়তা দিতে ভারতের মতো বাংলাদেশকেও রাশিয়া থেকে তেল কেনার ক্ষেত্রে সাময়িক ছাড় দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র-এর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানিয়েছে ঢাকা। সূত্র: রয়টার্স।
রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী মির্জা আব্বাসের সুস্থতা কামনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক বার্তার মাধ্যমে তিনি এই দোয়া ও সংহতি প্রকাশ করেন। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তার পোস্টে লিখেন, ‘মির্জা আব্বাসের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি।’ উল্লেখ্য, মির্জা আব্বাস বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সাম্প্রতিক ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনে একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন এই দুই নেতা। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সেই নির্বাচনে মির্জা আব্বাস ৫৯ হাজার ৩৬৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন, যেখানে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ৫৪ হাজার ১২৭ ভোট পেয়ে রানার্সআপ হয়েছিলেন। ভোটের লড়াই ছাপিয়ে অসুস্থতার এই সময়ে নাসীরুদ্দীনের এমন সহমর্মিতা রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।