ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা জাতীয় নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না দেওয়ায় বিএনপিকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের দশম দিনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই ব্যতিক্রমী প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। রুমিন ফারহানা বলেন, দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ার ফলেই তিনি বুঝতে পেরেছেন টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত কত লাখ মানুষের ভালোবাসা ও দোয়া তার সঙ্গে ছিল। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে রুমিন ফারহানা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, "দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আমাকে পরম স্নেহে রাজনীতিতে এনেছিলেন। এই সংসদে তার অনুপস্থিতি যে অপূর্ণতা তৈরি করেছে, তা কোনোদিন পূরণ হওয়ার নয়।" বক্তব্যের শুরুতে তিনি মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করেন এবং প্রতিকূলতার মাঝে পাশে থাকা নেতাকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে রুমিন ফারহানা আক্ষেপ প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ছাড়া রাষ্ট্রপতিকে প্রায় সব কাজই প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে করতে হয়। বিএনপি তাদের ‘ভিশন ২০৩০’ এবং ‘৩১ দফা’য় এই ক্ষমতার ভারসাম্যের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব রেখেছিল। তিনি আশা করেছিলেন, এবার রাষ্ট্রপতি মন্ত্রিসভার অনুমোদিত ভাষণের বাইরে নিজের মতো করে বক্তব্য দিতে পারবেন, কিন্তু বাস্তবে তা ঘটেনি। নির্বাচনি লড়াইয়ের স্মৃতিচারণ করে এই স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য বলেন, অসংখ্য নেতাকর্মী বহিষ্কারের ভয় উপেক্ষা করে তার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি মনে করেন, কেবল দলীয় গণ্ডির মধ্যে থেকে নির্বাচন করলে দেশজুড়ে মানুষের এই অকৃত্রিম ভালোবাসা অনুধাবন করার সৌভাগ্য তার হতো না। ১৭ বছরের রাজনৈতিক লড়াই ও পরবর্তী পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে তার এই বক্তব্য সংসদীয় অধিবেশনে বিশেষ গুরুত্ব লাভ করে।
জাতীয় সংসদে গণভোট ও জুলাই সনদ নিয়ে আলোচনার শুরুতে নিজেকে ‘শহীদ পরিবারের সন্তান’ হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই চাঞ্চল্যকর দাবি করেন। সংসদ অধিবেশনে স্পিকারের উদ্দেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, "মাননীয় স্পিকার, আপনি একজন গর্বিত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বীর বিক্রম। আমিও ক্ষুদ্র একটি শহীদ পরিবারের সন্তান। মহান মুক্তিযুদ্ধে যারা জীবন দিয়েছিলেন, আমাদের পরিবারের কয়েকজনের রক্ত দিয়ে তাদের সঙ্গে শরিক হওয়ার সৌভাগ্য আমাদের হয়েছে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫৪ বছর অতিবাহিত হলেও মানুষের আকাঙ্ক্ষা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। শফিকুর রহমানের ভাষ্যমতে, "বিপুল প্রত্যাশার জায়গায় দাঁড়িয়ে আজ আমাদের বলতে হচ্ছে যে, স্বাধীনতার পূর্ণ আকাঙ্ক্ষা এখনও ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে।" রাজনৈতিক মহলে ডা. শফিকুর রহমানের এই বক্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যদিও এর আগে বিভিন্ন দলীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানে তিনি নিজেকে শহীদ পরিবারের সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন, তবে দেশের সর্বোচ্চ আইনসভা অর্থাৎ জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে এবারই প্রথমবার তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই দাবি উত্থাপন করলেন। উল্লেখ্য, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে জামায়াতে ইসলামী প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকায় রয়েছে। মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও শহীদানদের ত্যাগের সঙ্গে নিজেদের পরিবারের সম্পৃক্ততার এই দাবি রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশন আজ (রোববার) সকাল ১১টা থেকে আবার শুরু হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হওয়ার পর রাষ্ট্রপতির ভাষণ শেষে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ অধিবেশন রোববার পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করেছিলেন। রোববারের কার্যসূচি অনুযায়ী, সংসদে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে রয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। এছাড়া জরুরি জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিধি-৭১ এর আওতায় উত্থাপিত মনোযোগ আকর্ষণের নোটিশগুলোও নিষ্পত্তি করা হবে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপন ও এ বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। জাতীয় সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে। সরকারি ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন বিকেল ৩টায় সংসদের বৈঠক বসবে। শনিবার সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ সভাপতিত্ব করেন। সেখানে প্রথম অধিবেশনের সময়সূচি, কার্যক্রম এবং আলোচনার সময় নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা হয়। রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর মোট ৫০ ঘণ্টা আলোচনা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য ৮টি এবং অন্যান্য মন্ত্রীদের জন্য ৪৬০টি প্রশ্নসহ মোট ৪৬৮টি প্রশ্ন জমা পড়েছে। এছাড়া বিধি-৭১ অনুযায়ী মনোযোগ আকর্ষণের ২৭টি নোটিশ এবং বিধি-১৩১ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত প্রস্তাবের ৯৭টি নোটিশ পাওয়া গেছে। এর আগে প্রথম অধিবেশনের শুরুতে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সভাপতিত্ব করেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান স্পিকার পদে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের নাম প্রস্তাব করলে তা কণ্ঠভোটে গৃহীত হয়। পরে ডেপুটি স্পিকার হিসেবে ব্যারিস্টার কায়সার কামালের নামও অনুমোদন দেওয়া হয়। নির্বাচনের পর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নবনির্বাচিত স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে শপথবাক্য পাঠ করান।
ঢাকা থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকার শিরোনামগুলোতে গুরুত্ব পেয়েছে দেশের জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের উত্তাপ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য তদন্ত এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি- আজকের পত্রিকাগুলোর শিরোনামে উঠে এসেছে এসব বিষয়। প্রথম আলো— “সময়ের সঙ্গে রাষ্ট্রপতির বক্তব্যও পাল্টে যায়” প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, গত তিন বছরে তিনটি ভিন্ন সরকারের সময় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বিভিন্ন বক্তব্যে তাদের প্রশংসা করেছেন, যদিও সরকারগুলো একই রাজনৈতিক ধারার নয়। যে রাষ্ট্রপতিকে দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগ সরকারের অনুগত হিসেবে দেখা হয়েছে, তাঁর সাম্প্রতিক ভাষণে ভিন্ন সুর লক্ষ করা গেছে। তিনি জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে খালেদা জিয়ার আপসহীন ভূমিকার কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছেন। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানকে দেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে তুলে ধরেছেন। এ ছাড়া তিনি শেখ হাসিনার শাসনকে ফ্যাসিবাদী হিসেবে উল্লেখ করেন। বৃহস্পতিবার সংসদে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন যখন ফ্যাসিবাদী সরকারের কথা বলছিলেন, তখন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ বিএনপির সংসদ সদস্যদের টেবিল চাপড়ে সমর্থন জানাতে দেখা যায়। তবে রাষ্ট্রপতির ভাষণের সময় জামায়াত ও এনসিপির সংসদ সদস্যরা ওয়াকআউট করেন। রাষ্ট্রপতির বর্তমান বক্তব্যের সঙ্গে দুই বছর আগের অবস্থানের স্পষ্ট বৈপরীত্য রয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জানুয়ারি দ্বাদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি ৭ জানুয়ারির নির্বাচন বর্জনকারী দলগুলোর তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। বিএনপি ও জামায়াতকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেছিলেন, একটি মহল সহিংসতা সৃষ্টি করে গণতন্ত্রের যাত্রাপথে বাধা দেওয়ার অপচেষ্টা চালিয়েছে। তখন তিনি বক্তব্য শেষ করেছিলেন “জয় বাংলা” বলে। আর এবার তিনি বক্তব্য শেষ করেন “বাংলাদেশ জিন্দাবাদ” বলে। রাষ্ট্রপতির ভাষণ নিয়ে বিতর্কের আরেকটি কারণ এর প্রকৃতি। সাধারণত এই ভাষণ রাষ্ট্রপতি নিজে লেখেন না; এটি সরকার বা মন্ত্রিসভা প্রস্তুত করে থাকে। রাষ্ট্রপতি সংসদে তা পাঠ করেন এবং পরে সেই ভাষণের ওপর সংসদে আলোচনা হয়। তবে এবারের সংসদ গঠিত হয়েছে এক ভিন্ন রাজনৈতিক বাস্তবতায়। সমকাল— “তেল সরবরাহ কমেছে ৪৫%, কোথাও পাম্প বন্ধ, কোথাও লাইন” খবরে বলা হয়েছে, কোটা নীতির কারণে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ প্রায় ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন পাম্প মালিক ও পরিবেশকরা। তাদের দাবি, কাগজে সরবরাহ কমানো হয়েছে প্রায় ২৫ শতাংশ; কিন্তু বাস্তবে তা আরও বেশি কমে গিয়ে বাজারে বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে। মাঠের চিত্রেও এর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। সরকার ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেল সরবরাহ বাড়ানোর ঘোষণা দিলেও মাঠপর্যায়ে তার প্রভাব এখনো স্পষ্ট নয়। অনেক জায়গায় দেড় থেকে দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করে তেল নিতে হচ্ছে। মজুত ফুরিয়ে যাওয়ায় অনেক পাম্প একবেলা বন্ধ রাখা হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে তেল কেনাকে কেন্দ্র করে মারামারির ঘটনাও ঘটেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারি ছুটির দিন শুক্র ও শনিবার ডিপো খোলা রাখার নির্দেশ দিয়েছে বিপিসি। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। বেড়েছে এলএনজির দামও। ফলে আমদানিনির্ভর বাংলাদেশের জ্বালানি ব্যয় বাড়ছে। এপ্রিল–মে মাসে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ৩১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা চেয়েছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়। নিউ এইজ— “13th JS maiden session begins amid walkout”, অর্থাৎ ওয়াকআউটের মধ্য দিয়ে ১৩তম জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু খবরে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের কার্যক্রম শুরু হয়। এর আগে প্রায় ২০ মাস আগে, ২০২৪ সালের ৩ জুলাই সর্বশেষ সংসদ অধিবেশন বসেছিল। নতুন সংসদের প্রথম দিনেই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভাষণের বিরোধিতা করে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন ও ওয়াকআউট করেন। এতে সংসদে উত্তেজনা তৈরি হয়। তবে বিরোধী দল সংসদের গঠনমূলক কার্যক্রমে সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছে। স্পিকার না থাকায় তাঁর চেয়ার ফাঁকা রেখেই অধিবেশন শুরু হয়। সভাপতিত্ব করেন খন্দকার মোশাররফ। তিনি স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার পদে যথাক্রমে হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও কায়সার কামাল–এর মনোনয়নের বিষয়টি সংসদে উত্থাপন করলে কণ্ঠভোটে তা পাস হয়। পরে তারা রাষ্ট্রপতির কাছে শপথ নেন। এরপর সংসদে শোক প্রস্তাব আনা হয়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৩৩টি অধ্যাদেশ উত্থাপন করা হয় এবং স্পিকারের অনুপস্থিতিতে অধিবেশন পরিচালনার জন্য পাঁচ সদস্যের একটি প্যানেল মনোনয়ন দেওয়া হয়। রাষ্ট্রপতির ভাষণের সময় সংসদ আবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বণিক বার্তা— “বাংলাদেশি টেক্সটাইল ও সিমেন্ট খাতে উদ্বৃত্ত উৎপাদন নিয়ে বাণিজ্য তদন্ত করছে যুক্তরাষ্ট্র” খবরে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও সিমেন্ট উৎপাদন খাতে কাঠামোগত অতিরিক্ত সক্ষমতা এবং উদ্বৃত্ত উৎপাদনের লক্ষণ রয়েছে বলে মনে করছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় পণ্য বাণিজ্যে বাংলাদেশের ৬ দশমিক ১৫ বিলিয়ন ডলারের উদ্বৃত্ত এ ধারণাকে আরও জোরদার করেছে বলে মনে করছে দেশটি। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশসহ মোট ১৬টি অর্থনীতিকে নিয়ে বাণিজ্য তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর (ইউএসটিআর)। এ বিষয়ে গত বুধবার সংস্থাটির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার উৎপাদন খাতে কাঠামোগত অতিরিক্ত সক্ষমতা ও উদ্বৃত্ত উৎপাদনসংক্রান্ত বিষয়ে ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ৩০১(খ) ধারার অধীনে বিভিন্ন অর্থনীতির কর্মকাণ্ড, নীতি ও চর্চার ওপর তদন্ত শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন। এই তদন্তের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কর্মকাণ্ড, নীতি ও চর্চা অযৌক্তিক বা বৈষম্যমূলক কি না এবং সেগুলো মার্কিন বাণিজ্যকে বাধাগ্রস্ত বা সংকুচিত করছে কি না তা যাচাই করা হবে। তদন্তের আওতায় থাকা অর্থনীতিগুলোর মধ্যে রয়েছে চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, সিঙ্গাপুর, সুইজারল্যান্ড, নরওয়ে, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, ভিয়েতনাম, তাইওয়ান, বাংলাদেশ, মেক্সিকো, জাপান ও ভারত। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের — “US probes Bangladesh's export incentives, BGMEA ‘uncomfortable’।” অর্থাৎ বাংলাদেশের রপ্তানি প্রণোদনা নিয়ে তদন্ত করছে যুক্তরাষ্ট্র; এ বিষয়ে বিজিএমইএ বলছে, বিষয়টি ‘অস্বস্তিকর’ খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য তদন্তে বাংলাদেশের নাম আসাকে অস্বস্তিকর ও ভিত্তিহীন বলে মনে করছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)। তবে এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত শুল্কারোপ করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বিজিএমইএ’র সভাপতি মাহমুদ হাসান খান। তাঁর মতে, বাংলাদেশে রপ্তানি প্রণোদনা তুলনামূলকভাবে খুবই কম। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর (ইউএসটিআর) জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় পণ্য বাণিজ্যে ৬ দশমিক ১৫ বিলিয়ন ডলার উদ্বৃত্তের বড় অংশ এসেছে টেক্সটাইল খাতের রপ্তানি থেকে। বাংলাদেশ সরকার অভ্যন্তরীণ বস্ত্র ও চামড়াজাত পণ্যসহ ৪৩টি খাতে রপ্তানির বিপরীতে নগদ প্রণোদনা দিয়ে থাকে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, উল্লেখযোগ্য অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশের সিমেন্ট শিল্প কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় মন্দার মুখে পড়েছে। ২০২৪ সালে দেশের মোট সিমেন্ট ব্যবহার ছিল ৩ কোটি ৮০ লাখ টন, যা মোট উৎপাদন সক্ষমতার ৪০ শতাংশেরও কম। ২০২৫ সালে এ ব্যবহার আরও কমেছে। বর্তমানে বাংলাদেশ প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে ৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি পণ্য রপ্তানি করে, যার বড় অংশই তৈরি পোশাক খাত থেকে আসে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সরকার এই খাতে নগদ প্রণোদনা দিলেও তা যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অতিরিক্ত উৎপাদন বা বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেনি। আজকের পত্রিকা — “দিনে আটকা ২৫০ টন রপ্তানি পণ্য” খবরে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে ঢাকা থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রতিদিন প্রায় ২৫০ টন রপ্তানি পণ্য আটকা পড়ছে। পরিস্থিতি সমাধানে সরকার অতিরিক্ত প্রায় ৭৫টি কার্গো ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দিয়েছে, যাতে পণ্য দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) জানিয়েছে, নিয়মিত ফ্লাইট ব্যাহত হওয়ায় তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন রপ্তানি পণ্যের চালান বিমানবন্দরে আটকে পড়েছে। এতে ব্যবসায়ীরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন, কারণ নির্ধারিত সময়ে পণ্য না পৌঁছালে ক্রেতারা বিমুখ হয়ে যেতে পারেন এবং রপ্তানি বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এজন্য ব্যবসায়ীদের অনুরোধ বিবেচনা করে অতিরিক্ত কার্গো ফ্লাইট চালু করা হয়েছে। প্রয়োজনে ফ্লাইট সংখ্যা আরও বৃদ্ধি করা হবে। নয়া দিগন্তে —“দুবাই, লেবানন, কুয়েতসহ মধ্যপ্রাচ্যে চতুর্মুখী সঙ্কটে বাংলাদেশিরা” খবরে বলা হয়েছে, ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রেক্ষিতে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইরানের পাল্টা হামলার ঘটনা শুরুর পর থেকে সৌদি আরব, দুবাই, লেবানন, কাতার, কুয়েতসহ অন্যান্য দেশে থাকা বাংলাদেশিরা চরম অসুবিধার মুখে পড়েছেন। কোনো দেশে চাকরি হারানো, আবার কোনো দেশে চাকরি থাকলেও ঠিকমতো বেতন বা ভাতা না পাওয়া, এবং ফ্লাইট বন্ধ থাকার কারণে অনেক প্রবাসী দেশে ফিরে আসতে পারছেন না। ফলে তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকায় প্রবাসীদের মৃত্যু হলেও অনেক ক্ষেত্রেই কর্তৃপক্ষ তাদের লাশ দেশে পাঠাতে পারছে না। বাধ্য হয়ে পরিবারের সম্মতি নিয়ে প্রবাসীর লাশ স্থানীয়ভাবেই দাফন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। কালের কণ্ঠ — “বাস-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে বর-কনেসহ নিহত ১৪” খবরে বলা হয়েছে, বাগেরহাটের রামপালে নৌবাহিনীর স্টাফ বাস ও বরযাত্রীবাহী মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। বর-কনের পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য এই দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনা ঘটে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার বেলাই ব্রিজ এলাকায়, খুলনা-মোংলা মহাসড়কে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মোংলা থেকে আসা নৌবাহিনীর স্টাফ বাস রামপালের বেলাই ব্রিজে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা মোংলাগামী মাইক্রোবাসের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় গাড়ির সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই কমপক্ষে চারজন মারা যান।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনে নানা ঘটনার মধ্যে সবচেয়ে নজরকাড়া ছিল ‘মিটিমিটি হাসি’র খণ্ডচিত্র। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ সরকারি ও বিরোধী দলের সিনিয়র নেতাদের মধ্যেও এই মুহূর্তটি ধরা পড়ে। গ্যালারিতে থাকা সংবাদকর্মীরা আগে থেকেই জানতেন যে রাষ্ট্রপতির ভাষণের সময় জামায়াত জোটের সংসদ সদস্যরা ওয়াক-আউট বা বিরোধিতা করবেন। রাষ্ট্রপতি যখন স্পিকারের পাশে তার জন্য নির্ধারিত চেয়ারে বসলেন, তখনই বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা দাঁড়িয়ে ভাষণের বিরোধিতা শুরু করেন। কিছু সময়ের মধ্যে হট্টগোল পরিস্থিতি তীব্র রূপ নিলে জাতীয় সংগীত বাজানো শুরু হয়। জাতীয় সংগীত শেষ হতেই আবারও বিরোধী সদস্যরা হট্টগোল শুরু করেন। এই সময় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের মুখে চিলতে মুচকি হাসি দেখা যায়, যা হয়তো পূর্বনির্ধারিত পরিস্থিতির প্রতিফলন বা তাচ্ছিল্য প্রকাশ করছিল। বিশেষ করে তারা যারা রাষ্ট্রপতির ভাষণের বিরোধিতা করছিলেন, তাদের মধ্যে একজন তার মাধ্যমে শপথ নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের মন্ত্রিসভায় ছিলেন। হট্টগোলের মধ্যেও সরকারি দলের চিফ হুইপ রাষ্ট্রপতির কাছে ভাষণ শুরু করার জন্য অনুরোধ করলে রাষ্ট্রপতি সাবলীলভাবে ভাষণ শুরু করেন। ভাষণ চলাকালীন হট্টগোল অব্যাহত থাকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও কিছুটা উদ্বেগ প্রকাশ করতে দেখা যায় এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দ্দিন আহমেদ তাকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেন। এ ঘটনায় দেখা যায়, সংসদে তুচ্ছ বিষয় ও রাজনৈতিক উত্তেজনার মাঝেও রাষ্ট্রপতি ও নেতাদের কৌশলী দৃঢ়তা এবং মনোযোগ কার্যকরভাবে ধরা পড়েছে।
সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে আবারও গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হলো। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের পর বেলা সোয়া ১১টার কিছু আগে তিনি তার বক্তব্য শুরু করেন। বক্তব্যের শুরুতে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে নিহত সব শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, নতুন সংসদকে তর্ক-বিতর্ক ও জাতীয় সমস্যার সমাধানের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গড়ে তুলতে চায় সরকার। তারেক রহমান বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী খালেদা জিয়া জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন এবং স্বৈরাচার বা ফ্যাসিবাদের সঙ্গে কখনো আপোস করেননি। এ সময় তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দল-মত নির্বিশেষে তিনি দেশের সব মানুষের প্রতিনিধিত্ব করছেন। দেশের প্রতিটি পরিবারকে স্বনির্ভর করে তোলাই বিএনপির লক্ষ্য বলে উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, “স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। এ বিষয়ে কোনো বিরোধ থাকার কথা নয়।” ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। নতুন সংসদের কার্যক্রম শুরু হওয়ার মধ্য দিয়ে দেশের রাজনৈতিক পরিসরে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) এবং ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালকে শপথ পড়িয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুর ১২টার পর জাতীয় সংসদ ভবনে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে তাদের শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। প্রথমে স্পিকার হিসেবে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদকে শপথবাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি। পরে একই অনুষ্ঠানে ডেপুটি স্পিকার হিসেবে কায়সার কামালকে শপথ পড়ানো হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার পর জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশনের শুরুতে সংসদ সদস্যদের সমর্থনের ভিত্তিতে সভাপতিত্বের জন্য নির্বাচিত হন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। পরবর্তীতে অধিবেশনে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন সম্পন্ন হয়। নির্বাচনের পর রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)। একই অধিবেশনে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন সংসদ সদস্য ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বেলা ১১টার পর জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। স্পিকার পদে নির্বাচনের সময় একমাত্র মনোনয়ন জমা পড়েছিল বলে অধিবেশনে জানান সভাপতি খন্দকার মোশাররফ হোসেন। মনোনয়নটি ছিল বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের। সংসদ সদস্যদের সমর্থনের ভিত্তিতে তাকে স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়। পরে ডেপুটি স্পিকার পদেও একমাত্র মনোনয়ন জমা পড়ে বলে জানান তিনি। ওই মনোনয়নটি ছিল সংসদ সদস্য ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার কায়সার কামালের নামে। সংসদের সমর্থনের মাধ্যমে তাকেও ডেপুটি স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়। সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার জাতীয় সংসদের কার্যক্রম পরিচালনা ও সংসদের শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করেন। ডেপুটি স্পিকার স্পিকারের অনুপস্থিতিতে সংসদের অধিবেশনের সভাপতিত্ব করেন এবং সংসদ পরিচালনায় সহযোগিতা করেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়েছে আজ। স্পিকারের আসন ফাঁকা রেখে বৃহস্পতিবার ( ) বেলা ১১টার দিকে কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশন শুরু হওয়ার পরপরই প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান বক্তব্য দেন। সাধারণত বিদায়ী সংসদের স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের সভাপতিত্বে নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। তবে এবার স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের কেউ উপস্থিত না থাকায় তাদের অনুপস্থিতিতেই অধিবেশন শুরু করা হয়। পরে সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করার জন্য তারেক রহমান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে আহ্বান জানান। সংসদের প্রথম বৈঠকের পরপরই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচিত হওয়ার পর রাষ্ট্রপতি তাদের শপথ পাঠ করাবেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হচ্ছে আগামী ১২ মার্চ। সংবিধান অনুযায়ী প্রথম দিনের অধিবেশনেই সংসদে ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এবারের ভাষণে গত সরকারের শাসনামলের বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট গুরুত্ব পেতে যাচ্ছে বলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একাধিক সূত্র জানিয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন এবং প্রতি বছরের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি ভাষণ দেন। ওই ভাষণের ওপর সংসদে ধন্যবাদ প্রস্তাব আনা হয় এবং সংসদ সদস্যরা এ বিষয়ে আলোচনা করেন। ভাষণটি রাষ্ট্রপতির দপ্তর নয়; বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের তথ্যের ভিত্তিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রস্তুত করে। পরে মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর রাষ্ট্রপতি তা সংসদে পাঠ করেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, ভাষণের খসড়া ইতোমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে এবং বর্তমানে তা যাচাই-বাছাই পর্যায়ে রয়েছে। অনুমোদনের জন্য এটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। সূত্র জানায়, এবারের ভাষণে গত সরকারের দীর্ঘ সময়ের শাসনামলে সংঘটিত অনিয়ম, দুর্নীতি, গুম-খুন ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির বিবরণ স্থান পাচ্ছে। পাশাপাশি ছাত্র-জনতার জুলাই আন্দোলন এবং সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটও যুক্ত হয়েছে। বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের বিভিন্ন অঙ্গীকারও ভাষণের উল্লেখযোগ্য অংশজুড়ে থাকবে। খসড়া প্রস্তুতির কাজ শুরু হয়েছিল আগেই। সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ভাষণের বিষয়বস্তুতে হালনাগাদ তথ্য সংযোজন করা হয়েছে। ভাষণটি প্রায় দেড়শ পৃষ্ঠার হতে পারে। তবে সংসদে রাষ্ট্রপতি এর সংক্ষিপ্ত অংশ পাঠ করবেন; বাকি অংশ স্পিকারের অনুমতি সাপেক্ষে পঠিত বলে গণ্য হবে। ১২ মার্চের অধিবেশন প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, নির্ধারিত তারিখে অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে এটুকুই তিনি জানেন। এ বিষয়ে তিনি আর কোনো মন্তব্য করেননি। আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামানও রাষ্ট্রপতির ভাষণ বিষয়ে মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন। উল্লেখ্য, এর আগে দ্বাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেও রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ভাষণ দেন। তখনও ভাষণটি মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর সংসদে উপস্থাপন করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews