আসন্ন টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্তে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) শাস্তির মুখে পড়বে কি না—এ নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে চলছে জোর আলোচনা। তবে আইসিসির সাবেক চেয়ারম্যান এহসান মানির মতে, পাকিস্তান সরকারের নির্দেশ মেনে নেওয়া এই সিদ্ধান্তের কারণে আইসিসির পক্ষে পাকিস্তানকে শাস্তি দেওয়া সম্ভব নয়।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম স্পোর্টসস্টার–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এহসান মানি বলেন, কোনো ক্রিকেট বোর্ড যদি সরকারের স্পষ্ট নির্দেশ অনুসরণ করে, তাহলে সেটিকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে দেখা দ্বৈত মানদণ্ডের শামিল হবে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, একই যুক্তিতে ভারতও ২০২৫ চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ম্যাচ পাকিস্তানে খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল।
পাকিস্তান সরকারের এক ঘোষণায় জানানো হয়েছে, ২০২৬ সালের আইসিসি টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তান দল অংশ নেবে, তবে ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচে তারা মাঠে নামবে না। এই ঘোষণার পরপরই ক্রিকেট বিশ্বে বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ে, কারণ ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ আইসিসির সবচেয়ে লাভজনক আয়োজনগুলোর একটি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির দাবি অনুযায়ী, এই একটি ম্যাচকে ঘিরেই প্রায় ৫০ কোটি মার্কিন ডলারের বাণিজ্যিক মূল্য জড়িত।
এ পরিস্থিতিতে সংবাদমাধ্যমে গুঞ্জন ওঠে, ‘মেম্বার পার্টিসিপেশন অ্যাগ্রিমেন্ট’ ভঙ্গের অভিযোগে আইসিসি পাকিস্তানকে বড় অঙ্কের জরিমানা করতে পারে বা টুর্নামেন্টের প্রাপ্য অর্থ আটকে দিতে পারে। তবে মানির মতে, সরকারিভাবে নেওয়া সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে আইসিসির এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করা ন্যায্য হবে না।
২০০৩ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত আইসিসির চেয়ারম্যান থাকা এহসান মানি আরও বলেন, আইসিসি অতীতে এ ধরনের সংকট সমাধানে সক্রিয় ভূমিকা না রেখে কেবল দর্শকের ভূমিকায় থেকেছে, যা দুঃখজনক। তাঁর মতে, বোর্ড ও সরকারের সম্পর্ককে সামনে রেখে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আরও জটিলতা তৈরি হতে পারে।
এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বিশ্বকাপের সূচি, সম্প্রচার আয় ও কূটনৈতিক ভারসাম্য—সবকিছুই নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এখন দেখার বিষয়, আইসিসি এই সংকট সামাল দিতে কী ধরনের নীতিগত অবস্থান নেয়।