যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের প্রেক্ষাপটে প্রয়োজন হলে দীর্ঘ সময় ধরে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে প্রস্তুত রয়েছে ইরান—এমন মন্তব্য করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। সোমবার (তারিখ) তেহরানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
আরাগচি বলেন, চলমান সংঘাতের মাধ্যমে ইরান প্রমাণ করেছে যে তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রয়োজন অনুযায়ী যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা রাখে। তার ভাষায়, আমরা দেখিয়ে দিয়েছি যে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ যতদূর প্রয়োজন, ততদূর পর্যন্ত চালিয়ে যেতে আমরা প্রস্তুত।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা’ পেয়েছে। তিনি বলেন, আমি মনে করি তারা এখন বুঝতে পেরেছে, তারা কেমন একটি জাতির মুখোমুখি হয়েছে। ইরানিরা এমন একটি জাতি, যারা নিজেদের আত্মরক্ষার ক্ষেত্রে কখনো দ্বিধা করে না।
আরাগচি আরও বলেন, ইরান প্রয়োজন হলে যেকোনো স্থানে ও যেকোনো পরিস্থিতিতে লড়াই চালিয়ে যেতে প্রস্তুত। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের এই মন্তব্যকে সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।
সূত্র: আল–জাজিরা।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের পর মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তুরস্কে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে—ইরানের পর আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে তুরস্কও কি ভবিষ্যতে ইসরায়েলের লক্ষ্যবস্তু হতে পারে? সাম্প্রতিক সময়ে তুরস্কের নেতৃত্ব একাধিক বিবৃতিতে ইরানের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে সতর্ক করেছে যে, এ সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এবং সরকারের অন্যান্য কর্মকর্তারা কূটনৈতিক সমাধান ও যুদ্ধবিরতির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর এরদোয়ান বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের শামিল এবং এতে পুরো অঞ্চল বড় সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। তিনি যুদ্ধ বন্ধ করে সংলাপের মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের আহ্বান জানান। তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও একই দিনে জানায়, বেসামরিক মানুষের জীবন ঝুঁকিতে ফেলে এমন যেকোনো সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে আঙ্কারা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। আঞ্চলিক সমস্যার সমাধান শান্তিপূর্ণ উপায়ে হওয়া উচিত বলেও তারা উল্লেখ করে। তুরস্কের মতে, ইরানের ওপর হামলা কেবল একটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং এর প্রভাব পূর্ব ভূমধ্যসাগর থেকে পারস্য উপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে। আঙ্কারা মনে করে, এমন সংঘাত জ্বালানি সরবরাহ, বাণিজ্যপথ এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে জ্বালানি সরবরাহের দিক থেকে তুরস্কের উদ্বেগ বেশি। কারণ দেশটি প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ গ্যাস ও জ্বালানি আমদানি করে, যার বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্যের পথ ধরে আসে। হরমুজ প্রণালিতে সংঘাত তীব্র হলে তুরস্কের অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানি সংকটের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এদিকে ইসরায়েলের কিছু রাজনৈতিক মহলে তুরস্ককে ভবিষ্যতের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উল্লেখ করার ঘটনাও আঙ্কারার উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেত এক বক্তব্যে বলেন, আঞ্চলিক রাজনীতিতে তুরস্ককে উপেক্ষা করা যাবে না। তবে বিশ্লেষকদের মতে, তুরস্ক এখন সরাসরি সংঘাতে জড়াতে চায় না। বরং আঞ্চলিক ভারসাম্য বজায় রেখে কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায় আঙ্কারা। একই সঙ্গে নিজেদের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা প্রস্তুতিও জোরদার করছে দেশটি। পর্যবেক্ষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে এর প্রভাব শুধু ইরান বা ইসরায়েলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং তা পুরো অঞ্চলের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা কাঠামোকে নতুন করে নাড়িয়ে দিতে পারে।
ইরানি ড্রোন হামলায় সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডের কারণে প্রায় চার ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর আবার চালু হয়েছে বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত বিমানবন্দর দুবাই ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট। সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টা (বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টা) থেকে সীমিত আকারে বিমানবন্দরটির ফ্লাইট পরিচালনা পুনরায় শুরু হয়েছে। দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ (ডিএক্সবি) এবং দুবাই প্রশাসনের জনসংযোগ দপ্তর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পৃথক বার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। ডিএক্সবি জানিয়েছে, বর্তমানে সীমিত পরিসরে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু হয়েছে। আপাতত কার্গো বিমানের পাশাপাশি কিছু জরুরি বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনা করা হচ্ছে। এছাড়া কয়েকটি ফ্লাইটকে আল মাকতুম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্থানান্তর করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, বাতিল হওয়া অন্যান্য ফ্লাইটগুলো পর্যায়ক্রমে পুনরায় চালু করা হবে। যাত্রীদের আতঙ্কিত না হয়ে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এর আগে রোববার মধ্যরাতে বিস্ফোরকবাহী ইরানি ড্রোনের আঘাতে দুবাই বিমানবন্দরের একটি জ্বালানি ট্যাংকে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে বিমানবন্দরের একটি বড় এলাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। অগ্নিকাণ্ডের পর নিরাপত্তাজনিত কারণে সব ধরনের ফ্লাইট সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে সীমিত আকারে ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়। উল্লেখ্য, দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বিশ্বে যাত্রী চলাচলের দিক থেকে অন্যতম ব্যস্ত বিমানবন্দর। প্রতিদিন এখানে হাজার হাজার ফ্লাইট ওঠানামা করে এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে যাত্রী পরিবহন করা হয়।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি বিমান হামলায় অন্তত ১৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে দুই শিশু, এক গর্ভবতী নারী এবং ৯ জন পুলিশ সদস্য রয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, রোববার (১৫ মার্চ) মধ্য গাজার নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরের একটি আবাসিক ভবনে বিমান হামলা চালানো হয়। আল-আকসা হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় চারজন প্রাণ হারান। নিহতদের মধ্যে ত্রিশোর্ধ্ব এক দম্পতি, তাদের প্রায় ১০ বছর বয়সী ছেলে এবং পাশের বাড়ির ১৫ বছর বয়সী এক কিশোর রয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে আরও জানা গেছে, নিহত নারীটি অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন এবং তার গর্ভে যমজ সন্তান ছিল। স্থানীয় বাসিন্দা মাহমুদ আল-মুহতাসেব জানান, গভীর রাতে তারা ঘুমিয়ে ছিলেন। হঠাৎ একটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। তিনি বলেন, আঘাতটি খুবই প্রবল ছিল এবং হামলার আগে কোনো ধরনের সতর্কবার্তা দেওয়া হয়নি। এছাড়া একই দিনে মধ্য গাজার আজ-জাওয়াইদা শহরের প্রবেশমুখে একটি পুলিশ গাড়িকে লক্ষ্য করে আরেকটি হামলা চালানো হয়। ফিলিস্তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় ৯ জন পুলিশ সদস্য নিহত হন। নিহতদের মধ্যে মধ্য গাজার জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা কর্নেল ইয়াদ আবু ইউসুফও রয়েছেন। আল-আকসা হাসপাতাল জানিয়েছে, এই হামলায় আরও অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন এবং তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ফিলিস্তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এই ঘটনাকে ‘গুরুতর অপরাধ’ বলে উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তাদের দাবি, নিহত পুলিশ সদস্যরা পবিত্র রমজান মাসে বাজার তদারকি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করছিলেন। তবে এ ঘটনায় ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।