আব্বাস আরাগচি

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি হামলার ঘটনায় কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত
ইরানি জাহাজে হামলার জবাব দেওয়া হবে, ইউক্রেনকে কড়া বার্তা আরাগচির

কাস্পিয়ান সাগরে একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় ইউক্রেনকে কড়া বার্তা দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি বলেছেন, এই হামলা "জবাবহীন থাকবে না" এবং ইরান আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী নিজের জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না।   ইরানের দাবি, শনিবার কাস্পিয়ান সাগরে দেশটির একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ফলে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে একজন নাবিক নিহত এবং আরেকজন আহত হন। তেহরান এ ঘটনাকে "শত্রুতাপূর্ণ ও আগ্রাসী হামলা" হিসেবে বর্ণনা করেছে। অন্যদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, ইউক্রেনীয় বাহিনী কাস্পিয়ান সাগরে রাশিয়ার সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনে ব্যবহৃত জাহাজগুলোর ওপর দূরপাল্লার হামলা চালিয়েছে।   রোববার ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কাল্লাস এবং রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সঙ্গে পৃথক টেলিফোন আলাপে আব্বাস আরাগচি এ বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, একটি বেসামরিক বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং এর যথাযথ জবাব দেওয়া হবে।   রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, টেলিফোন আলাপে ল্যাভরভ নিহত নাবিকের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে তিনি জাহাজের ক্রুদের সহায়তায় এগিয়ে আসায় রাশিয়ার আস্ত্রাখান অঞ্চলের স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন। আরাগচিও ওই সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং এমন হামলা বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।   রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে ইরানের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সম্পর্কেও ল্যাভরভকে অবহিত করেন আরাগচি। তিনি আঞ্চলিক সংকট নিরসনে সংলাপ ও কূটনৈতিক উদ্যোগ অব্যাহত রাখার কথাও জানান।   রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে রাশিয়া ইরানি নকশার ড্রোন ব্যবহার করে আসছে। এর জবাবে ইউক্রেন ইরান-সম্পৃক্ত সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনের বিভিন্ন রুটকে লক্ষ্যবস্তু করার কৌশল গ্রহণ করেছে। সাম্প্রতিক এই হামলা সেই সংঘাতকে নতুন মাত্রা দিয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।   ঘটনার পর তেহরানে নিযুক্ত ইউক্রেনের ভারপ্রাপ্ত কূটনীতিককে তলব করে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে ইরান। এ হামলার পর দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৬, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে সুইজারল্যান্ডে পৌঁছানোর পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। ছবি: এপি
ইরানের তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, অবমুক্ত হচ্ছে আটকে থাকা সম্পদের অংশ: আরাগচি

সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠকের প্রথম দফা শেষে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি দাবি করেছেন, ইরানের তেল ও তেলজাত পণ্যের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিদেশে আটকে থাকা ইরানের বাজেয়াপ্ত সম্পদের একটি অংশও অবমুক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।   রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আরাগচি বলেন, ইরানের জন্য একটি বড় পুনর্গঠন ও উন্নয়ন পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি জানান, বিদেশে আটকে থাকা ইরানি সম্পদের একটি অংশ ছাড় করা হয়েছে।   তবে অবমুক্ত করা সম্পদের পরিমাণ কিংবা পুনর্গঠন পরিকল্পনার বিস্তারিত বিষয়ে তিনি কোনো তথ্য দেননি। এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের প্রতিক্রিয়া জানতে যোগাযোগ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।   এর আগে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম ফারস নিউজ এজেন্সি জানায়, ইরানি প্রতিনিধি দলের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা হোসেইন গোরবানজাদেহ বলেছেন, ইরানের তেল ও তেলজাত পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞায় সাময়িক ছাড় দেওয়ার খসড়া চুক্তি ইতোমধ্যে চূড়ান্ত হয়েছে।   এক্সে দেওয়া পোস্টে আরাগচি আরও দাবি করেন, পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় লেবানন যুদ্ধ অবসানের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।   তিনি বলেন, তাদের সামনে এখন প্রথম বড় পরীক্ষা হতে যাচ্ছে লেবানন ‘ডি-কনফ্লিকশন সেল’। মধ্যস্থতাকারী কাতার ও পাকিস্তানের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এই সেল গঠনে সম্মত হয়েছে। লেবাননে সামরিক অভিযান বন্ধে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।   এদিকে মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার ও পাকিস্তান এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, সদ্য সমাপ্ত আলোচনাটি ইতিবাচক ও গঠনমূলক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং এতে আশাব্যঞ্জক অগ্রগতি হয়েছে।   বিবৃতিতে বলা হয়, মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ার ওপর রাজনৈতিক তদারকি বজায় রাখতে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনে ওয়াশিংটন ও তেহরান সম্মত হয়েছে। প্রধান আলোচকরা নিয়মিত এই কমিটিকে অগ্রগতির বিষয়ে অবহিত করবেন।   এ ছাড়া পারমাণবিক ইস্যু, নিষেধাজ্ঞা এবং সমঝোতা স্মারকের বাস্তবায়ন তদারকির জন্য একটি মনিটরিং ও বিরোধ নিষ্পত্তি গ্রুপ গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।   যৌথ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে উভয় পক্ষ রূপরেখায় একমত হয়েছে। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে চলতি সপ্তাহে সুইজারল্যান্ডে বাকি অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়ে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা অব্যাহত থাকবে।   লেবাননে সামরিক অভিযান বন্ধে কাতার ও পাকিস্তানের সহায়তায় লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি ‘ডি-কনফ্লিকশন সেল’ গঠনেও সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার গভীর রাত পর্যন্ত প্রায় বিরতিহীনভাবে আলোচনা চলে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলে ছিলেন হোয়াইট হাউসের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার।   তবে বৈঠক শুরুর সময়ই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল এবং ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের প্রতি একাধিক কঠোর বার্তা দেন।   ইরানি কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে ট্রাম্পের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেন এবং বৈঠকেও বিষয়টি উত্থাপন করেন। তাদের দাবি, ট্রাম্পের বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারকের প্রথম অনুচ্ছেদের পরিপন্থী। ওই অনুচ্ছেদে আলোচনা চলাকালে কোনো পক্ষ অপর পক্ষকে সামরিক শক্তি প্রয়োগের হুমকি দিতে পারবে না বলে উল্লেখ রয়েছে।   বৈঠকে অংশ নেওয়া সাংবাদিকদের ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, ট্রাম্পের মন্তব্যের প্রতিবাদে তারা আলোচনাস্থল ত্যাগ করবেন। তবে মধ্যস্থতাকারী একটি দেশের সূত্র এবং একজন মার্কিন কূটনীতিকের ভাষ্য অনুযায়ী, বাস্তবে তা ঘটেনি এবং দিনভর আলোচনা অব্যাহত ছিল।   মধ্যস্থতাকারী একটি দেশের সূত্র জানিয়েছে, লেবানন ইস্যুতে আলোচনা ছিল বেশ কঠিন ও দীর্ঘ। একজন মার্কিন কূটনীতিক অ্যাক্সিওসকে বলেন, বৈঠকের প্রধান গুরুত্ব ছিল সম্ভাব্য পারমাণবিক চুক্তির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি এবং সেটি বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়ে ইরানের অবস্থানও আলোচনায় এসেছে।   তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখতে হবে। এ বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। ওই কূটনীতিক আরও বলেন, আলোচনার অগ্রগতিতে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান, পাকিস্তান ও কাতারের প্রতিনিধিরা সন্তুষ্ট। মধ্যস্থতাকারীরা দুই পক্ষের মতপার্থক্য কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন এবং প্রথম দফার আলোচনা ভবিষ্যতে পারস্পরিক আস্থা গড়ে তোলার ভিত্তি তৈরি করেছে।

Unknown জুন ২১, ২০২৬ ১৪:০
আব্বাস আরাগচি | ছবি: সংগৃহীত
ইরানকে বাদ দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে টেকসই নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলা অসম্ভব বললেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আঞ্চলিক দেশগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সবার স্বার্থের স্বীকৃতির মাধ্যমেই কেবল মধ্যপ্রাচ্যে টেকসই নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানকে উপেক্ষা করে বা বাদ দিয়ে কোনোভাবেই এই অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব নয়। সাম্প্রতিক বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামরিক ঘটনাবলি আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সকলের স্বার্থের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের প্রয়োজনীয়তাকে আরও বেশি স্পষ্ট করে তুলেছে।   রোববার ইরানের তৃণমূল পর্যায়ের সামাজিক কর্মী এবং গণসমাবেশ আয়োজকদের সাথে আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। বৈঠকে আব্বাস আরাগচি দেশের কৌশলগত অগ্রগতি এবং শত্রুদের বিভিন্ন ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করার পেছনে সাধারণ জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের চূড়ান্ত ভূমিকার কথা গভীর গুরুত্বের সাথে তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক দরবারে ইরানের প্রকৃত শক্তির প্রকাশ কেবল তাদের সামরিক সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে না; বরং জাতীয় সংহতি এবং দেশের ক্রান্তিলগ্নে সাধারণ মানুষের সচেতন উপস্থিতিই ইরানের আসল শক্তি।   বারো দিনের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ এবং ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক মার্কিন-ইসরাইলি আগ্রাসনের বিপরীতে দেশের অর্জনের কথা উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইরান কেবল রণক্ষেত্রে বা কৌশলগতভাবেই জয়ী হয়নি, বরং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামষ্টিক ও রাজনৈতিক ফলাফল অর্জন করেছে। এই সফলতার ইতিবাচক প্রভাব ইতোমধ্যেই আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক সমীকরণে স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে।   আঞ্চলিক নিরাপত্তার চলমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে আব্বাস আরাগচি বলেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধের অভিজ্ঞতা এটিই প্রমাণ করেছে যে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা অর্জন করতে হলে ইরানসহ এই অঞ্চলের প্রতিটি দেশের পারস্পরিক বোঝাপড়া ও অংশীদারিত্ব প্রয়োজন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভবিষ্যতের যেকোনো আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে অবশ্যই এই অঞ্চলের সব দেশের অংশগ্রহণ এবং একটি যৌথ সহযোগিতামূলক দৃষ্টিভঙ্গি নিশ্চিত করতে হবে—যা ইরান বরাবরই সমর্থন ও দাবি জানিয়ে আসছে।

তাবাস্সুম জুন ১৩, ২০২৬ ১৪:০
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
অন্তত ছয় মাস যুদ্ধ চালিয়ে যেতে প্রস্তুত ইরান: আব্বাস আরাগচি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের প্রস্তুতি ঘোষণা করেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, তেহরান প্রয়োজনে অন্তত আগামী ছয় মাস বা তার বেশি সময় ধরে এই যুদ্ধ ও পাল্টা সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখতে সক্ষম। বুধবার (১ এপ্রিল, ২০২৬) তেহরানে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন। আরাগচি স্পষ্টভাবে জানান, শত্রুপক্ষ কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করে দিলেও ইরান তা গ্রাহ্য করবে না। তিনি বলেন, “আমাদের প্রতিরক্ষা কার্যক্রম কতদিন চলবে তা আমরাই নির্ধারণ করব। ইরান অন্তত ছয় মাস বা তার বেশি সময় ধরে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত এবং আমাদের বাহিনীর সেই সক্ষমতা রয়েছে।” ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে আলোচনার যে দাবি করা হচ্ছে, তাকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আন্তর্জাতিক সম্পর্কের পরিভাষায় দুই দেশের মুখোমুখি বসে সমঝোতায় পৌঁছানোকে ‘আলোচনা’ বলে।  বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে তেমন কোনো পরিস্থিতি নেই।” তবে তিনি স্বীকার করেন যে, বন্ধুরাষ্ট্র বা মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বিভিন্ন সময় বার্তার আদান-প্রদান চলছে, যা কোনোভাবেই আনুষ্ঠানিক আলোচনা নয়। তিনি আরও যোগ করেন, মার্কিন প্রশাসনের ওপর ইরানের আস্থার হার বর্তমানে ‘শূন্য’। আরাগচি জানান, ইরান কেবল সাময়িক যুদ্ধবিরতি নয়, বরং পুরো অঞ্চলে যুদ্ধের স্থায়ী অবসান চায়। তার মতে, যুদ্ধের অবসানে ইরানের শর্তগুলো অত্যন্ত স্পষ্ট: ১. ইরানসহ পুরো অঞ্চলে (লেবানন, ইরাক, ইয়েমেন) যুদ্ধের অবসান। ২. আগ্রাসন আর ঘটবে না—এমন গ্যারান্টি প্রদান। ৩. ইরানি জনগণের ওপর হওয়া ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ। হরমুজ প্রণালী প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটি ইরান ও ওমানের অভ্যন্তরীণ জলসীমার অন্তর্ভুক্ত। বর্তমানে এটি উন্মুক্ত থাকলেও যেসব দেশ ইরানের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত, তাদের জাহাজের জন্য এই পথ বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে বন্ধুরাষ্ট্রগুলোর নিরাপদ যাতায়াতের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। তিনি আরও সতর্ক করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র যদি আঞ্চলিক দেশগুলোর মাটি ব্যবহার করে ইরানের ওপর হামলা চালায়, তবে ইরান ওইসব দেশের ভেতরে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলোকেই লক্ষ্যবস্তু করবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রচারণাকে নাকচ করে আরাগচি বলেন, ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও হামলা চালানোর ক্ষমতা অটুট রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন যে, মাত্র দুই দিন আগেই ইরানের একটি স্বল্পমূল্যের ড্রোনের আঘাতে মার্কিন 'অ্যাওয়াকস' (AWACS) নজরদারি বিমান ধ্বংস হয়েছে। সবশেষে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানকে হুমকি বা আল্টিমেটাম দিয়ে কোনো লাভ হবে না। ইরান যুদ্ধের জন্য উস্কানি দেয়নি, কিন্তু আত্মরক্ষার প্রয়োজনে যেকোনো সীমা পর্যন্ত যেতে প্রস্তুত।

তাবাস্সুম মার্চ ৩১, ২০২৬ ১৪:০
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। ফাইল ছবি: রয়টার্স
ইরানের পরমাণু স্থাপনায় হামলার জন্য ইসরায়েলকে ‘চড়া মূল্য’ দিতে হবে: আরাগচি

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, ইরানের পরমাণু স্থাপনায় ইসরায়েলের হামলা “অপরাধ” এবং এর জন্য ইসরায়েলকে “চড়া মূল্য” দিতে হবে। সাম্প্রতিক দিনে ইরানের কয়েকটি পরমাণু স্থাপনায় ইসরায়েলি বাহিনী হামলা চালিয়েছে। এতে রয়েছে একটি ইউরেনিয়াম উৎপাদনকেন্দ্র ও ভারী পানির চুল্লি। এছাড়া ইসফাহানে দুটি ইস্পাত কারখানাও হামলার শিকার হয়েছে।   আরাগচি বলেন, ইসরায়েল দাবি করছে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করে এই হামলা চালিয়েছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত সময়সীমা বাড়ানোর সঙ্গে ইসরায়েলের এই হামলার অবস্থান বিরোধপূর্ণ। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, এই অপরাধের জন্য ইরান থেকে ইসরায়েলকে কঠোর জবাব দিতে হবে।   এই হামলা এমন সময়ে ঘটেছে যখন ট্রাম্প বলেছেন, ইরান হরমুজ প্রণালী খুলে দিলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা কিছুটা স্থগিত রাখবে। হরমুজ প্রণালী ইরান ও ওমানের মধ্যে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ জলপথ, যা গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রায় বন্ধ রয়েছে।   তথ্যসূত্র: সিএনএন

Unknown মার্চ ২৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ইরানসহ ৪ দেশের সাথে ইইউর আলোচনা

হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে চলমান সংকট নিরসনে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি-এর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কাজা ক্যালাস। রবিবার এই আলোচনা হয়েছে বলে রয়টার্স-কে নিশ্চিত করেছেন ইইউর এক কর্মকর্তা।   শুধু ইরানই নয়, সংকট নিরসনে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করতে তুরস্ক, কাতার এবং দক্ষিণ কোরিয়া-এর প্রতিনিধিদের সঙ্গেও কথা বলেছেন তিনি।   ফোনালাপে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ, জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা এবং বিশ্ববাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। এর আগেও আরাগচির সঙ্গে আলোচনায় এই প্রণালি খুলে দেওয়াকে অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন ক্যালাস।   ইইউ কর্মকর্তার সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, বেসামরিক গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলার হুমকি শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের জীবনে গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।   এই পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোঁজাই এখন আন্তর্জাতিক মহলের প্রধান লক্ষ্য হয়ে উঠেছে।   সূত্র: আল-জাজিরা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২২, ২০২৬ ১৪:০
ফাইল ছবি
মার্কিন বাহিনীকে নিজস্ব ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিল যুক্তরাজ্য

দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর অবশেষে ইরানে হামলার জন্য ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে যুক্তরাজ্য। শুক্রবার (২০ মার্চ) ডাউনিং স্ট্রিটের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটানো ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনাগুলো ধ্বংসে মার্কিন বাহিনীকে এই ঘাঁটিগুলো ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে গ্লুচেস্টারশায়ারের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড (RAF Fairford) এবং ভারত মহাসাগরে অবস্থিত যৌথ ঘাঁটি ডিয়েগো গার্সিয়া (Diego Garcia) ব্যবহারের পথ এখন ওয়াশিংটনের জন্য উন্মুক্ত।   শুরুতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এই যুদ্ধে সরাসরি জড়াতে অনীহা প্রকাশ করেছিলেন এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুরোধ ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, যেকোনো সামরিক পদক্ষেপের আগে তার আইনি ভিত্তি নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। তবে মধ্যপ্রাচ্যে ব্রিটিশ মিত্রদের ওপর ইরানের সাম্প্রতিক হামলার পর স্টারমার তার অবস্থান পরিবর্তন করেন। ডাউনিং স্ট্রিট এই সিদ্ধান্তকে অঞ্চলের ‘যৌথ আত্মরক্ষা’ এবং বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছে।   এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে তিনি বলেন, স্টারমার ব্রিটিশ জনগণের ইচ্ছাকে উপেক্ষা করে এই ‘আগ্রাসনে’ সহায়তা করছেন এবং এর মাধ্যমে ব্রিটিশ নাগরিকদের জীবনকেই বিপদে ফেলছেন। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ইরান তার আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করবে।   অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অনুমতি আসায় সন্তোষ প্রকাশ করলেও ব্রিটিশ সরকারের দেরি হওয়া নিয়ে সমালোচনা করেছেন। তিনি মন্তব্য করেন, যুক্তরাজ্যের আরও অনেক আগেই এই পদক্ষেপ নেওয়া উচিত ছিল। তবে ব্রিটেনের অভ্যন্তরীণ জনমত এখনো এই যুদ্ধের বিপক্ষে। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৫৯ শতাংশ ব্রিটিশ নাগরিক ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার বিরোধিতা করছেন।

তাবাস্সুম মার্চ ২০, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

২০২৬ সালের তালিকায় এগিয়ে যে ৫ স্টেট

যুক্তরাষ্ট্রের কোন স্টেট এ বাংলাদেশিদের জীবন সবচেয়ে স্বস্তির? ২০২৬ সালের তালিকায় এগিয়ে যে ৫ স্টেট

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১, ২০২৬ ১৪:০