মানবাধিকার

ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
আইসিই হেফাজতে ক্যানসারজয়ী অভিবাসী, চিকিৎসার অভাবে ৩ বার হাসপাতালে নেওয়ার অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ আইসিইর হেফাজতে থাকা এক ক্যানসারজয়ী অভিবাসীকে চিকিৎসাজনিত জটিলতায় তিনবার হাসপাতালে নিতে হয়েছে। আদালতের নথি ও চিকিৎসা সংক্রান্ত রেকর্ডে উঠে এসেছে, হেফাজতে থাকার সময় প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা নিয়ে একাধিক অভিযোগ করেছেন তিনি। বিষয়টি নতুন করে আইসিই হেফাজতে স্বাস্থ্যসেবার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।    নিউজউইকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ব্যক্তি একজন রোমানিয়ান নাগরিক। ২০২৫ সালে জরুরি ট্রিপল বাইপাস অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ হয়ে উঠছিলেন তিনি। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রতিদিন ১৬টি ওষুধ সেবনের প্রয়োজন ছিল। পরে তাকে আইসিই হেফাজতে নেওয়া হলে আদালতের নথিতে অভিযোগ করা হয়, কিছু সময় তিনি প্রয়োজনীয় ওষুধ পাননি এবং বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও তার চিকিৎসা যথাযথভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। এর ফলে বুকে ব্যথা নিয়ে তাকে তিন দফা হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়।    আদালতে দাখিল করা নথিতে আরও বলা হয়েছে, ওই ব্যক্তির আইনজীবীরা মানবিক কারণে তাকে মুক্তি দেওয়ার আবেদন করেছেন। তাদের দাবি, গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিকে আটক রেখে পর্যাপ্ত চিকিৎসা না দেওয়া তার শারীরিক অবস্থাকে আরও জটিল করে তুলেছে।    এদিকে আইসিই বরাবরের মতোই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সংস্থাটির দাবি, তাদের হেফাজতে থাকা প্রত্যেক ব্যক্তিকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয় এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করা হয়।    এ ঘটনা এমন এক সময় সামনে এলো, যখন অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও কেএফএফ হেলথ নিউজের যৌথ অনুসন্ধানে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের অভিবাসন আটককেন্দ্রে চিকিৎসা অবহেলার শত শত অভিযোগের তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। আদালতের নথিতে বহু আটক ব্যক্তি গুরুতর অসুস্থতা, প্রয়োজনীয় ওষুধ না পাওয়া এবং চিকিৎসায় বিলম্বের অভিযোগ করেছেন।    সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আইসিই হেফাজতে অসুস্থতা ও মৃত্যুর ঘটনাও আলোচনায় এসেছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন আটককেন্দ্রগুলোতে চিকিৎসা সুবিধা ও নজরদারি জোরদারের দাবি জানালেও আইসিই বলছে, তাদের স্বাস্থ্যসেবা জাতীয় মানদণ্ড অনুসারেই পরিচালিত হয়।

বায়জিদ হাসান জুলাই ১৬, ২০২৬ ১৪:০
মামলার বাদী উলিসেস পেনা লোপেজ ও তার পরিবার। ছবি: সংগৃহীত
৩ বছরের মেয়ের সামনেই বাবাকে নির্মম মারধর, যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন দপ্তরের বিরুদ্ধে মামলা

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সানিভেলের এক অভিবাসী কাঠমিস্ত্রিকে তার তিন বছর বয়সী শিশুকন্যার সামনেই চরম নিষ্ঠুরতায় মারধর এবং পরবর্তীতে জোরপূর্বক মেক্সিকোতে ফেরত পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে মার্কিন অভিবাসন ও কাস্টমস প্রয়োগকারী সংস্থা (আইস)-এর বিরুদ্ধে। এই অমানবিক আচরণের শিকার উলিসেস পেনা লোপেজ ও তার পরিবার মার্কিন ফেডারেল সরকার এবং দুটি বেসরকারি কারা কোম্পানির বিরুদ্ধে একটি দেওয়ানি মামলা দায়ের করেছেন। সান জোসের ফেডারেল আদালতে দায়ের করা এই মামলাটি স্থানীয় কমিউনিটির মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের জন্ম দিয়েছে।   মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ঘটনার দিন সকালে সানিভেলে নিজের অ্যাপার্টমেন্টের সামনে গাড়িতে বসে কাজে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন লোপেজ। ঠিক তখনই আচমকা মুখে মাস্ক পরা এবং বিশেষ রণসজ্জায় সজ্জিত একদল আইস (ICE) এজেন্ট তাকে চারপাশ থেকে ঘিরে ধরে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই একজন কর্মকর্তা লাঠি দিয়ে লোপেজের গাড়ির কাচে উপর্যুপরি আঘাত করতে থাকেন। লোপেজ গাড়ি থেকে নেমে আসামাত্রই কর্মকর্তারা তাকে জাপটে ধরেন। লোপেজের স্ত্রী আবি পেনা, যিনি একজন মার্কিন নাগরিক, সিঁড়ির ওপর থেকে বাধা পেয়ে পুরো ঘটনাটি দেখছিলেন। অন্যদিকে, তাদের তিন বছরের শিশু সন্তান জানলা দিয়ে বাবার ওপর এই নৃশংস নির্যাতন প্রত্যক্ষ করে ভয়ে ও আতঙ্কে চিৎকার করে কাঁদছিল।   অভিযোগে বলা হয়েছে, এক কর্মকর্তা লোপেজের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে ধরেন এবং বাকিরা তাকে মাটিতে ফেলে দেন। এরপর তাকে টেনে তুলে গাড়ির সঙ্গে চেপে ধরে বুক, পাঁজর ও ঘাড়ে এলোপাতাড়ি ঘুষি মারতে থাকেন। লোপেজ ইংরেজি ভালো না বোঝায় কর্মকর্তারা তাকে ইংরেজিতে গালিগালাজ ও চিৎকার করছিলেন। গ্রেপ্তারের পর প্রিজন ভ্যানে তোলার সময় লোপেজ মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং খিঁচুনি শুরু হয়। চিকিৎসাগতভাবে তিনি এর আগে একটি ‘মিনি স্ট্রোক’-এর ভুক্তভোগী ছিলেন। কিন্তু গাড়ি থেকে নামানোর সময় হ্যান্ডকাফ পরা অবস্থায় তাকে ৪ ফুট উঁচু ভ্যান থেকে নিচে ফেলে দেওয়া হয়, যার ফলে তিনি মাথায় মারাত্মক আঘাত পান। মাটিতে পড়া অবস্থায় আইস এজেন্টরা তাকে লাথি ও ঘুষি মারতে থাকেন। এমনকি এক কর্মকর্তা তার গলা চেপে ধরে পুরো শরীরের ভর দিয়ে শ্বাসরোধ করার চেষ্টা করেন, যার ফলে লোপেজ দুইবার জ্ঞান হারান। পরে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে প্যারামেডিকস ডেকে তাকে মাউন্টেন ভিউয়ের এল ক্যামিনো হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।   হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পর লোপেজকে বেকার্সফিল্ডের কাছে অবস্থিত ‘গোল্ডেন স্টেট এনেক্স’ এবং পরবর্তীতে ‘ক্যালিফোর্নিয়া সিটি’ নামের দুটি ডিটেনশন সেন্টারে পাঠানো হয়। এগুলো পরিচালনা করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান জিইও গ্রুপ ও কোরসিভিক। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকা সত্ত্বেও লোপেজকে সেখানে পর্যাপ্ত চিকিৎসা দেওয়া হয়নি, বরং তীব্র শীতের মধ্যে সারারাত লাইট জ্বালিয়ে রেখে মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে। মাসের পর মাস তার প্রয়োজনীয় ওষুধ ও হৃদরোগের জন্য নির্ধারিত খাবার বন্ধ রাখা হয়। অবশেষে গত বছরের অক্টোবরে তাকে মেক্সিকোতে ডিপোর্ট বা বহিষ্কার করা হয়।   এদিকে মার্কিন সরকারের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ (ডিএইচএস) এই মামলার দাবিগুলো অস্বীকার করেছে। তাদের একজন মুখপাত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ৩১ বছর বয়সী লোপেজ একজন চিহ্নিত অপরাধী, যিনি ২০১৩ সালে অবৈধভাবে সীমান্ত পার হয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন। ২০২০ সালে তার বিরুদ্ধে গার্হস্থ্য সহিংসতা এবং মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে দুর্ঘটনার অপরাধে সাজা হওয়ার রেকর্ড রয়েছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা সর্বদা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সর্বনিম্ন বল প্রয়োগ করে থাকে বলে দাবি করেন তিনি।   তবে লোপেজের আইনজীবী এলেনা হজেস বলেন, অতীতে কারও কোনো অপরাধের রেকর্ড থাকলেই তাকে এভাবে রাষ্ট্রীয় সহিংসতার শিকার করার অধিকার আইস কর্মকর্তাদের নেই। আইস মূলত নিজেদের নির্মম নির্যাতন ও স্বাস্থ্যসেবা দিতে ব্যর্থ হওয়ার দায় এড়াতেই এখন লোপেজের অতীতের অপরাধের প্রসঙ্গ সামনে আনছে।   বর্তমানে মেক্সিকোতে থাকা লোপেজ শারীরিক ও মানসিকভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করছেন, নির্যাতনের কারণে তিনি ঠিকমতো হাঁটতেও পারেন না। এদিকে সানিভেলে থাকা তার স্ত্রী তীব্র মানসিক অবসাদ ও বিষণ্নতায় ভুগছেন। আর তাদের তিন বছরের কন্যাসন্তানটি এখনো মাঝরাতে আতঙ্কে চিৎকার করে কেঁদে ওঠে। কদিন আগেই তাকে ঘরের কোণে বাবার ছবি জড়িয়ে ধরে কাঁদতে দেখা গেছে। লোপেজের পরিবার এই অন্যায়ের বিচার এবং উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দাবি করে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৯, ২০২৬ ১৪:০
ওয়াশিংটনের মেট্রো ট্রেনে রসওয়েল এনসিনাকে ঘিরে প্যাট্রিয়ট ফ্রন্টের সদস্যরা। ছবি: সংগৃহীত
মেট্রো ট্রেনে শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী গোষ্ঠীর মুখোমুখি এশীয় বংশোদ্ভূত যাত্রী, ‘ভয় আর অনিশ্চয়তায় জমে গিয়েছিলাম’

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে স্বাধীনতা দিবসের (৪ জুলাই) শোভাযাত্রার সময় শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী হিসেবে পরিচিত প্যাট্রিয়ট ফ্রন্ট নামের একটি সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে একই মেট্রো ট্রেনে যাত্রা করতে গিয়ে আতঙ্কের মুহূর্ত পার করেছেন এশীয় বংশোদ্ভূত এক মার্কিন নাগরিক। ঘটনাটির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি ওয়াশিংটন জানিয়েছে, ওই ব্যক্তির নাম রসওয়েল এনসিনা। স্বাধীনতা দিবসে তিনি মেরিল্যান্ডে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন। ঠিক তখনই মুখোশ পরা প্যাট্রিয়ট ফ্রন্টের সদস্যরা তার মেট্রো ট্রেনে ওঠেন। পরে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা গেটি ইমেজেস-এর তোলা কয়েকটি ছবিতে দেখা যায়, একা বসে থাকা এনসিনাকে ঘিরে রয়েছেন মুখোশধারী কয়েকজন সদস্য।   এনবিসি ওয়াশিংটনকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এনসিনা বলেন, “এ ধরনের পরিস্থিতির জন্য কেউ প্রস্তুত থাকে না। এমন মুহূর্তে শরীর শক্ত হয়ে আসে, আর মনে প্রশ্ন জাগে, আসলে কী ঘটছে।” তিনি জানান, পরিস্থিতি বুঝতে পেরে তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে কারও সঙ্গে চোখাচোখি করেননি। নিজেকে নিরাপদ রাখাই ছিল তার প্রধান লক্ষ্য।   তবে এই অভিজ্ঞতার মধ্যেও তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক অধিকার আন্দোলনের ইতিহাস থেকে সাহস নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। এনসিনা বলেন, “আমি প্রথম ব্যক্তি নই, যিনি এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন। রুবি ব্রিজেসসহ পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে অসংখ্য আফ্রিকান-আমেরিকান শিশু, কিশোর ও শিক্ষার্থী আরও কঠিন সময় পার করেছেন। তখন বুঝতে পারি, তাদের মতো সাহসই আমাকে ধরে রাখতে হবে।”   এটি এনসিনার জীবনের প্রথম বৈষম্যমূলক অভিজ্ঞতাও নয়। তিনি জানান, প্রায় পাঁচ বছর আগে একই মেট্রোতে যাত্রার সময় একদল কিশোর তার এবং আরেক এশীয় বংশোদ্ভূত যাত্রীর ওপর কফি ছুড়ে মারে। কিন্তু একই ট্রেনের অন্য অ-এশীয় যাত্রীদের তারা কিছুই করেনি। সে সময়ও তিনি বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলেছিলেন। এনসিনার ভাষায়, “পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও মনে হচ্ছে যেন একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, এই দেশে এখনো বিভাজন রয়ে গেছে।”   এদিকে জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোগ্রাম অন এক্সট্রিমিজম-এর গবেষক লুক বাউমগার্টনার এনবিসি ওয়াশিংটনকে বলেন, প্যাট্রিয়ট ফ্রন্টের মতো সংগঠনগুলো মূলত জনসম্মুখে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিতে চায়। তার ভাষায়, “তাদের মূল বার্তা হলো, আমেরিকা শুধু শ্বেতাঙ্গদের জন্য। প্রচার পাওয়াই তাদের প্রধান লক্ষ্য এবং অধিকাংশ উগ্রপন্থী সংগঠন এ ধরনের কৌশলই অনুসরণ করে।”   উল্লেখ্য, অ্যান্টি-ডিফেমেশন লীগ (ADL) প্যাট্রিয়ট ফ্রন্টকে একটি শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করেছে। সংগঠনটি বিভিন্ন সময় যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে মিছিল ও জনসমাবেশের মাধ্যমে নিজেদের মতাদর্শ প্রচারের চেষ্টা করে।   সবকিছুর পরও মানবতার প্রতি নিজের বিশ্বাস হারাতে চান না এনসিনা। তিনি বলেন, “আমাদের আশা ধরে রাখতে হবে। এমন সময়গুলোতে আশাই সবচেয়ে বড় ভরসা। আমি এখনো বিশ্বাস করি, অধিকাংশ মানুষ মূলত ভালো।”

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৮, ২০২৬ ১৪:০
গৃহহীন জেরি ব্লেজিংগেমকে (বামে) টেজার মেরে পঙ্গু করার দায়ে পুলিশ কর্মকর্তা জন গ্রাবসকে (ডানে) বিশাল অংকের জরিমানা | ছবি: সংগৃহীত
নিরীহ মানুষকে পঙ্গু করায় মার্কিন পুলিশকে ২ কোটি ১০ লাখ ডলার জরিমানা, প্রতি মাসে কাটবে বেতন!

আমেরিকার আটলান্টা শহরে আট বছর আগের এক নৃশংস ঘটনার চূড়ান্ত রায় দিয়েছে আদালত। রাস্তায় সাহায্য চেয়ে হাত পাতা এক নিরস্ত্র কৃষ্ণাঙ্গ ও গৃহহীন মানুষকে ইলেকট্রিক শক দিয়ে আজীবনের জন্য পঙ্গু করে দেওয়ার অপরাধে অভিযুক্ত পুলিশ অফিসারকে এখন ২ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার জরিমানা গুনতে হবে।   আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আটলান্টা পুলিশের অফিসার জন গ্রাবসকে এখন থেকে প্রতি মাসে তার বেতন থেকে ৭০০ ডলার করে ভুক্তভোগী জেরি ব্লেসিংগেমের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দিতে হবে। যদি প্রতি মাসে ৭০০ ডলার করে কাটা হয়, তবে এই বিপুল পরিমাণ জরিমানা শোধ করতে ওই পুলিশ অফিসারের প্রায় আড়াই হাজার বছর সময় লাগবে!   ২০১৮ সালের জুলাই মাসে এই ঘটনার সময় জেরির বয়স ছিল ৬৫ বছর। রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে সাহায্য চাওয়ার অপরাধে পুলিশ তাকে ধাওয়া করে। কোনো রকম সতর্কবার্তা না দিয়েই জেরি পালানোর সময় পেছন থেকে তার পিঠে ইলেকট্রিক শক দেন অফিসার গ্রাবস। তীব্র শকের আঘাতে জেরি একটি উঁচু ঢাল থেকে ছিটকে নিচে কংক্রিটের ওপর পড়েন। এতে তার মাথার খুলি ও মেরুদণ্ড ভেঙে যায় এবং গলা থেকে নিচের পুরো অংশ আজীবনের জন্য অবশ হয়ে যায়। এই পঙ্গুত্ব নিয়ে পাঁচ বছর বেঁচে থাকার পর ২০২৩ সালে জেরি মারা যান।   এই ঘটনার পর জেরি যখন হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছিলেন, তখন এই পুলিশ অফিসার তার কেবিনে গিয়ে উল্টো তার নামেই মামলা ঠুকে দিয়েছিলেন। এছাড়া ঘটনার সময় নিজের বডি ক্যামেরা বন্ধ রাখার অপরাধে পুলিশের অভ্যন্তরীণ বিভাগ থেকে তাকে অভিযুক্ত করা হলেও তিনি এখনো বহাল তবিয়তে চাকরি করছেন। ২০২৪ সালে তার বার্ষিক বেতন ছিল প্রায় ৯২ হাজার ডলার। এখন কর বাদ দিয়ে তার মাসের বেতনের প্রায় ১৩ শতাংশ এই ক্ষতিপূরণের পেছনে চলে যাবে। যদি তিনি চাকরিও হারান, তবুও তার ব্যক্তিগত সম্পত্তি বিক্রি করে এই টাকা আদায় করা হবে।   আইনি লড়াইয়ে ওই পুলিশ অফিসার সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য থাকা বিশেষ সুরক্ষাকবচ বা 'কোয়ালিফাইড ইমিউনিটি'র দোহাই দিয়ে পার পাওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, একজন নিরস্ত্র ও নিরীহ মানুষকে এভাবে পেছন থেকে ইলেকট্রিক শক দেওয়া সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক এবং চরম অপরাধ।

তাবাস্সুম জুলাই ৫, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: বেন ফ্র্যাক্টেনবার্গ / দ্য সিটি রিপোর্টার
নিউইয়র্কের কারাগারের অন্ধকার জগৎ: নির্যাতন, চিকিৎসা অবহেলা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ভয়াবহ চিত্র

নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের কারাগারগুলোতে বন্দীদের ওপর নির্যাতন, চিকিৎসা অবহেলা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে গত পাঁচ বছরে অন্তত ১৭০টি মামলা আদালতের বাইরে নিষ্পত্তি করেছে রাজ্য সরকার। এসব মামলায় মোট ২৫ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৮০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হলেও কোনো ক্ষেত্রেই আনুষ্ঠানিকভাবে দায় স্বীকার করা হয়নি। তথ্য অধিকার আইনের মাধ্যমে পাওয়া নথির ভিত্তিতে দ্যা সিটি রিপোর্টারের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এই চিত্র।   অ্যান্টোয়ান গ্যালোওয়ে এখনও স্পষ্টভাবে মনে করতে পারেন ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারির সেই দিনটির কথা। নিউইয়র্কের ক্লিনটন কারেকশনাল ফ্যাসিলিটিতে এক কারারক্ষীর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করার পর সাতজন কারারক্ষী তাকে ঘিরে ধরেন।   তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে মুখে ঘুষি মারা হয়। এরপর বুকে কিল, স্টিলের বুট দিয়ে লাথি এবং ব্যাটন দিয়ে পায়ের গোড়ালিতে আঘাত করা হয়। একপর্যায়ে তিনি বারবার জ্ঞান হারাতে থাকেন। বর্তমানে ৪৮ বছর বয়সী ইস্ট ফ্ল্যাটবুশের বাসিন্দা গ্যালোওয়ে দ্যা সিটি রিপোর্টারকে বলেন, "আমি মাথা ঢাকার চেষ্টা করছিলাম। দুইবার জ্ঞান হারিয়েছিলাম। ফিরে আসছিলাম, আবার হারাচ্ছিলাম। ওরা লাথি মারছিল, পা দিয়ে মাড়াচ্ছিল, জাতিবিদ্বেষী গালি দিচ্ছিল।"   ঘটনার আট বছর পর নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য তার মামলা ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার দিয়ে নিষ্পত্তি করে। তবে সেই সমঝোতায় কোনো দায় স্বীকার করা হয়নি। দ্যা সিটি রিপোর্টার তথ্য অধিকার আইনের মাধ্যমে যে নথি সংগ্রহ করেছে, তাতে দেখা যায় গত পাঁচ বছরে অন্তত ১৭০টি মামলায় নিউইয়র্ক সরকার ২৫ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দিয়েছে।   মামলাগুলোর অভিযোগের মধ্যে ছিল কারারক্ষীদের মারধর, নির্যাতন, চিকিৎসা অবহেলা এবং এমন ঘটনা, যেখানে চিকিৎসা না পাওয়ায় বন্দীদের কারও কারও অঙ্গ কেটে ফেলতে হয়েছে।   এসব মামলার বেশিরভাগই আদালতের বাইরে সমঝোতার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়েছে। অর্থাৎ ক্ষতিপূরণ দেওয়া হলেও কোনো ক্ষেত্রেই সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে দায় স্বীকার করেনি।   গ্যালোওয়ের আইনজীবী ব্রায়ান ড্র্যাচ বলেন, "আমি রাজ্যের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করি। সপ্তাহে দুইবারও করি।" প্রায় ১৫ বছর ধরে তিনি এই ধরনের মামলা পরিচালনা করছেন। তার দাবি, এ ধরনের মামলার সংখ্যা কমেনি, বরং বেড়েছে। পাঁচ মাস চিকিৎসা না পেয়ে ক্যানসারের শেষ পর্যায়ে পৌঁছান বন্দী দ্যা সিটি রিপোর্টারের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে জর্ডান ওয়ার্নারের ঘটনাও।   মাত্র ২০ বছর বয়সে তিনি আপস্টেট কারেকশনাল ফ্যাসিলিটিতে সাজা ভোগ করছিলেন। একসময় তার গলার পাশে মাংস ফুলে ওঠে, দ্রুত ওজন কমতে থাকে, দাঁড়িয়ে থাকতে কষ্ট হয় এবং রাতে অতিরিক্ত ঘামে ভিজে যেতেন। ওয়ার্নার বলেন, "আমি প্রতিদিন ডাক্তার দেখাতে চাইতাম। পাঁচ মাস ধরে আবেদন করেছি। কারারক্ষীরা বলেছে আমি মিথ্যা বলছি।"   তার অভিযোগ, ওষুধ বিতরণকারী নার্সরাও তার সেলের সামনে দিয়ে চলে যেতেন।   একদিন করিডরে জ্ঞান হারিয়ে পড়ে যাওয়ার পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। অ্যালবেনি মেডিকেল সেন্টারে জরুরি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ফুসফুসের চারপাশে জমে থাকা তরল বের করা হয়। পরে চিকিৎসকেরা শনাক্ত করেন স্টেজ ফোর-বি হজকিন্স লিম্ফোমা, যা ক্যানসারের অত্যন্ত অগ্রসর পর্যায়।   মায়ের জন্মদিনে ফোন করে তিনি প্রথম নিজের অসুস্থতার কথা জানান। তার ভাষায়, "মা ভেবেছিলেন আমি জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে ফোন করেছি। আমি বললাম, আমার স্টেজ ফোর ক্যানসার। একজন আইনজীবী ধর, এখনই।" তার অভিযোগ, এরপরও কারা কর্তৃপক্ষ তিনবার কেমোথেরাপি নিতে অস্বীকৃতি জানানোর মিথ্যা প্রতিবেদন তৈরি করেছিল।   তিনি বলেন, "বেঁচে থাকার জন্য কে কেমোথেরাপি নিতে অস্বীকৃতি জানায়?" ২০২১ সালে করা মামলার চার বছর পর নিউইয়র্ক সরকার তাকে ৯ লাখ ৫০ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণ দেয়।   ওয়ার্নার বলেন, "আমি টাকার চেয়ে চেয়েছিলাম যারা দায়ী, তারা চাকরি হারাক।" ২০২০ সালে মুক্তি পাওয়া ওয়ার্নার বর্তমানে পরিবারের সঙ্গে বসবাস করছেন। সম্প্রতি তিনি ছেলের প্রথম জন্মদিন উদ্‌যাপন করেছেন।   অনুসন্ধানে আরও কয়েকটি গুরুতর ঘটনার তথ্য উঠে এসেছে। গ্রিন হেভেন কারেকশনাল ফ্যাসিলিটিতে এক বন্দীকে হাতকড়া পরা অবস্থায় দেয়াল ও লোহার রডে বারবার মাথা ঠুকেছিলেন এক কারারক্ষী। পরে বডি ক্যামেরার ভিডিওতে প্রমাণ হয়, কর্মকর্তাদের লিখিত প্রতিবেদন সত্যের সঙ্গে মিলছিল না।   ঘটনায় এক কর্মকর্তা ফেডারেল আদালতে দোষ স্বীকার করলেও মিথ্যা প্রতিবেদন তৈরি করা আরেক কর্মকর্তা এখনও চাকরিতে রয়েছেন। ওই মামলায় ৮ লাখ ৫০ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণ দেয় রাজ্য।   ক্লিনটন কারেকশনাল ফ্যাসিলিটিতে রিকো সান্তানা নামের এক বন্দীর চোয়াল দুটি পৃথক হামলায় দুইবার ভেঙে দেওয়া হয়। প্রথম হামলার পর অস্ত্রোপচার এক সপ্তাহ বিলম্বিত হয়। সুস্থ হওয়ার আগেই তাকে সাধারণ কক্ষে ফেরত পাঠানো হলে আবার হামলার শিকার হন। এ মামলায় ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয় ২ লাখ ডলার। ওয়াশিংটন কারেকশনাল ফ্যাসিলিটিতে আরেক বন্দীর অণ্ডকোষে তীব্র ব্যথা ও ফোলাভাব দেখা দিলেও সময়মতো চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। পরে অস্ত্রোপচার করে অণ্ডকোষটি অপসারণ করতে হয়। এ ঘটনায় ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয় ৯০ হাজার ডলার। নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল রাজ্যের ৪৪টি কারাগারে নিরাপত্তা ক্যামেরা স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত মাত্র ১১টি কারাগারে ক্যামেরা স্থাপনের কাজ শেষ হয়েছে। বাকি প্রকল্পগুলো এখনও নকশা বা নির্মাণ পর্যায়ে রয়েছে।   কারা প্রশাসন বিশেষজ্ঞ ডিন উইলিয়ামস, যিনি কলোরাডো ও আলাস্কার কারাব্যবস্থা পরিচালনা করেছেন, দ্যা সিটি রিপোর্টারকে বলেন, একটি সুস্থ কারাব্যবস্থায় বিচ্ছিন্ন ঘটনা ব্যতিক্রম হিসেবে বিবেচিত হয়। তার ভাষায়, "একটা ঘটনা, তারপর আরেকটা, তারপর আরেকটা। এটা স্বাভাবিক নয়। কিন্তু অকার্যকর ব্যবস্থায় এটাই স্বাভাবিক হয়ে যায়।"   নথি অনুযায়ী, এসব মামলা নিষ্পত্তি হতে গড়ে ছয় বছর সময় লাগে। এমন একটি মামলাও রয়েছে, যা নিষ্পত্তি হতে ১৫ বছর লেগেছে। অভিযোগ ছিল একজন বন্দীকে ১২ দিন অতিরিক্ত একাকী কারাবাসে রাখা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত তিনি ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন মাত্র ৭৪৮ ডলার।   বর্তমানে অ্যান্টোয়ান গ্যালোওয়ে ইস্ট ফ্ল্যাটবুশে বসবাস করেন। গৃহহীনদের আশ্রয়কেন্দ্রে কাজ করেন। নিজের এলাকায় শিশুদের জন্য উৎসবের আয়োজন করেন, খাবার ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করেন। তবে প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠলেই তিনি পায়ের গোড়ালির ব্যথা অনুভব করেন। গ্যালোওয়ে বলেন, "আমি কখনো সন্তুষ্ট হব না। আমি সারাজীবনের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি, আর ওরা এখনও চাকরি করছে। আমি জানি, ওরা এখনও অনেকের সঙ্গে একই কাজ করছে। কয়েক হাজার ডলার দিয়ে এটা ঠিক হয় না।" তার কথায়, "আমি ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার পেয়েছি। কিন্তু বিচার পাইনি। এই দুইয়ের পার্থক্য অনেক বড়।"

তাবাস্সুম জুন ২৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ফাঁকা করা হলো ফ্লোরিডার বিতর্কিত ‘অ্যালিগেটর অ্যালকাট্রেজ’ অভিবাসী আটক কেন্দ্র

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের বিতর্কিত ‘অ্যালিগেটর অ্যালকাট্রেজ’ অভিবাসী আটক কেন্দ্র থেকে সব বন্দিকে সরিয়ে নিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। এর ফলে কেন্দ্রটি কার্যত ফাঁকা হয়ে পড়েছে এবং কার্যক্রম স্থগিত অবস্থায় রয়েছে।   মার্কিন অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ (ডিএইচএস) জানিয়েছে, আটলান্টিক মহাসাগরে ঘূর্ণিঝড় মৌসুম শুরু হওয়ার কারণে নিরাপত্তা বিবেচনায় বন্দিদের অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়েছে।   বিভাগের মুখপাত্র লরেন বিস অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বলেন, ‘অবৈধ অভিবাসী বন্দিদের নিরাপত্তার স্বার্থে আমরা তাদের অন্য কেন্দ্রে স্থানান্তর করেছি।’ তবে কতজনকে সরানো হয়েছে এবং তাদের কোথায় পাঠানো হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। কেন্দ্রটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হয়েছে কি না, সে বিষয়েও কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।   গত মে মাসে দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, ফ্লোরিডার ‘বিগ সাইপ্রেস ন্যাচারাল প্রিজার্ভ’-এর ভেতরে অবস্থিত এই কেন্দ্রটি পরিচালনা ব্যয় অত্যন্ত বেশি ছিল।   ২০২৫ সালের ১৯ জুন এই আটক কেন্দ্রটি চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়। সান ফ্রান্সিসকোর কুখ্যাত ‘অ্যালকাট্রেজ’ কারাগারের আদলে এর নামকরণ করা হয়। জলাভূমিবেষ্টিত দুর্গম এলাকায় নির্মিত এই কেন্দ্রটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল যাতে পালিয়ে যাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়।   ফ্লোরিডার অ্যাটর্নি জেনারেল জেমস উথমিয়ার এক সময় বলেছিলেন, ‘কেউ যদি এখান থেকে পালায়, তবে বাইরে কুমির ও অজগর ছাড়া কিছুই অপেক্ষা করছে না।’   গত জুলাইয়ে কেন্দ্রটি চালুর পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডিসান্টিসকে সঙ্গে নিয়ে এটি পরিদর্শন করেন। ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদে গণ-ডিপোর্টেশন নীতির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।   চালুর পর থেকেই এই কেন্দ্রটি ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়। স্থানীয় মিকোসুকে ও সেমিনোল আদিবাসী নেতারা অভিযোগ করেন, এটি এভারগ্লেডস অঞ্চলে তাদের আবাসস্থল ও ধর্মীয় স্থানে ক্ষতি করছে।   মানবাধিকার সংস্থাগুলোও কেন্দ্রটির অবস্থান, জলবায়ু ঝুঁকি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। ফ্লোরিডায় তীব্র গরম, ভারী বৃষ্টি এবং ঘূর্ণিঝড় পরিস্থিতিতে এটি কতটা নিরাপদ, তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।   এক বছরের কার্যক্রমে কেন্দ্রটির বিরুদ্ধে একাধিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে। বন্দিদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, তাদের আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেওয়া হতো না। চিকিৎসা অবহেলা এবং খাবারে পোকা থাকার অভিযোগও উঠে আসে।   আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নের (এসিএলইউ) আইনজীবী অ্যামি গডশাল বলেন, ‘এই নিষ্ঠুর কেন্দ্র থেকে মানুষকে সরিয়ে নেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, তবে এতে পূর্বের ক্ষতি মুছে যায় না।’ তিনি কেন্দ্রটি স্থায়ীভাবে বন্ধের দাবি জানান।   প্রায় ৩ হাজার ধারণক্ষমতার এই কেন্দ্রটি হারিকেন প্রতিরোধে শক্তিশালী কাঠামো হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও নতুন করে তৈরি হওয়া ‘ট্রপিক্যাল স্টর্ম আর্থার’-এর পরিপ্রেক্ষিতে বন্দি সরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।   সূত্র: আল-জাজিরা

Unknown জুন ১৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
নিখোঁজ ছেলের খোঁজে ৫০ বছর লড়াই করা আর্জেন্টিনার মানবাধিকার কর্মী তাতি আলমেইদার মৃত্যু

আর্জেন্টিনার সামরিক জান্তার আমলে জোরপূর্বক নিখোঁজ হওয়া নিজের ছেলের খোঁজে অর্ধ শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে লড়াই চালিয়ে যাওয়া কিংবদন্তি মানবাধিকার কর্মী লিদিয়া 'তাতি' আলমেইদা মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৫ বছর। তার এই প্রয়াণে আর্জেন্টিনা জুড়ে সাধারণ মানুষের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আলমেইদা ছিলেন দেশটির বিখ্যাত অধিকার রক্ষা সংগঠন 'মাদার্স অব প্লাজা দে মায়ো'-র সভাপতি। ১৯৭৬ থেকে ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত চলা দেশটির রক্তক্ষয়ী একনায়কতন্ত্রের সময় নিখোঁজ হওয়া সন্তানদের ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে এই মায়েরা ১৯৭৭ সাল থেকে প্রতি বৃহস্পতিবার আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রপতি প্রাসাদের সামনের চত্বরে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতীকী পদযাত্রা করে আসছিলেন।   ১৯৭৫ সালের জুন মাসে আর্জেন্টিনার সামরিক অভ্যুত্থানের ঠিক নয় মাস আগে আলমেইদার ছেলে আলেহান্দ্রোকে কমিউনিস্ট-বিরোধী আধাসামরিক বাহিনী অপহরণ করে। এরপর থেকে দীর্ঘ পাঁচ দশক ধরে আলমেইদা তার সন্তানের ভাগ্যে ঠিক কী ঘটেছিল, সেই সত্য উন্মোচনের জন্য অবিরাম সন্ধান চালিয়ে যান। আলেহান্দ্রোকে আর কখনোই খুঁজে পাওয়া যায়নি, তবে এই দীর্ঘ পথচলায় আলমেইদা হয়ে উঠেছিলেন এক অনুকরণীয় নৈতিক শক্তির প্রতীক এবং ন্যায়বিচারের দীর্ঘস্থায়ী লড়াইয়ের এক অন্যতম বাতিঘর। তিনি জীবনের শেষ বছর পর্যন্ত একনায়কতন্ত্রের বর্বরতার বিচার দাবির পাশাপাশি সমসাময়িক বিভিন্ন সামাজিক ন্যায়বিচারের আন্দোলনে প্রকাশ্যে সক্রিয় ভূমিকা রেখে গেছেন।   আলমেইদার পরিবার জানিয়েছে, রবিবার গভীর রাতে বুয়েনস আইরেসের একটি হাসপাতালে প্রিয়জনদের উপস্থিতিতে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মাদার্স অব প্লাজা দে মায়ো জানিয়েছে, গত কয়েক দিন আগে অসুস্থ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত তিনি তার এই মানবিক কাজ চালিয়ে গেছেন। সংগঠনটির পক্ষ থেকে এক আবেগঘন শ্রদ্ধাবার্তায় বলা হয়, "আমাদের এটি শেখানোর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ যে ভালোবাসার অপর নামই হলো প্রতিরোধ করা। আমরা কেবল সেই লড়াইয়েই হেরে যাই যা আমরা ছেড়ে দিই এবং ভালোবাসার চেয়ে বড় কোনো শক্তি পৃথিবীতে আর নেই।"   লিদিয়া স্তেলা মার্সিডিজ মি উরাঙ্গা নামের এই সাহসী নারী ১৯৩০ সালের ২৮ জুন বুয়েনস আইরেসে জন্মগ্রহণ করেন। স্বামী হোর্হে আলমেইদার সাথে সংসারে তাদের তিনটি সন্তান ছিল। সমাজকর্মী বা আন্দোলনের কর্মী হওয়ার আগে তিনি মূলত একজন শিক্ষক ছিলেন এবং পরবর্তীতে নিজের পরিবার লালন-পালনেই ব্যস্ত ছিলেন। আলমেইদার বাবা ছিলেন একজন সামরিক ক্যাভালরি অফিসার। ফলে ১৯৭৫ সালে যখন আলেহান্দ্রো নিখোঁজ হন, তখন তার প্রথম সহজাত তাগিদ ছিল সহায়তার জন্য সামরিক জানাশোনা লোকদের কাছে যাওয়া। কিন্তু পরবর্তীতে যখন তিনি স্বৈরাচারের ভয়াবহ নৃশংসতার সত্য জানতে পারেন এবং নিজের প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের খোঁজে থাকা অন্যান্য মায়েদের সাথে পরিচিত হন, তখন তার জীবন সম্পূর্ণ বদলে যায়। তিনি রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের এক মূর্ত প্রতীক হয়ে ওঠেন।   নিখোঁজ হওয়ার সময় আলেহান্দ্রো বুয়েনস আইরেস বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন চিকিৎসা বিজ্ঞানের ছাত্র ছিলেন এবং একই সাথে তিনি একটি মার্ক্সবাদী-লেনিনবাদী গেরিলা দল 'পিপলস রেভল্যুশনারি আর্মি'-র সদস্য ছিলেন। তিনি একাধারে একজন কবিও ছিলেন। ২০০৮ সালে আলমেইদা তার ছেলের একটি ডায়েরি থেকে খুঁজে পাওয়া কবিতার সংকলন বই আকারে প্রকাশ করেছিলেন, যা তিনি ছেলের অপহরণের পর উদ্ধার করেন। রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে ১৯৮০-এর দশকে মূল সংগঠনটি দুটি ভাগে বিভক্ত হয়ে যাওয়ার পর ২০২৪ সালে আলমেইদা 'মাদার্স অব প্লাজা দে মায়ো ফাউন্ডিং লাইন'-এর সভাপতি নির্বাচিত হন। আর্জেন্টিনার সাবেক প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিনা ফার্নান্দেজ ডি কির্চনারসহ দেশটির বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব এই মহান নেত্রীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে তাকে এমন একজন অক্লান্ত যোদ্ধা হিসেবে বর্ণনা করেছেন যিনি জীবনকে সম্মানিত করে গেছেন।

তাবাস্সুম জুন ১৫, ২০২৬ ১৪:০
কারাবন্দী অবস্থায় মানবাধিকারকর্মী নার্গিস মোহাম্মদির । ছবি: সংগৃহীত
কারাগারে অসুস্থ নোবেলজয়ী নার্গিস মোহাম্মদি, তেহরানে উন্নত চিকিৎসার আহ্বান

কারাবন্দী ইরানি মানবাধিকারকর্মী ও নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী নার্গিস মোহাম্মদি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তার পরিবার ও নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে তেহরানে স্থানান্তরের আহ্বান জানিয়েছে।   রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তার ভাই হামিদরেজা মোহাম্মদি জানান, হৃদরোগজনিত জটিলতায় তার অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, মার্চের শেষ দিক থেকে অসুস্থতা শুরু হলেও পরিস্থিতির অবনতি ঘটায় গত ১ মে তাকে উত্তর-পশ্চিম ইরানের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়।   পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমানে তিনি তীব্র মাথাব্যথা, বমিভাব ও বুকে ব্যথায় ভুগছেন। তার ভাই বলেন, “আমরা সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন তার হৃদ্‌যন্ত্র নিয়ে।”   তিনি অভিযোগ করেন, যে প্রাদেশিক হাসপাতালে বর্তমানে চিকিৎসা চলছে, সেখানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পাওয়া যাচ্ছে না।  পরিবারের দাবি, তার পূর্বের চিকিৎসকরা তার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে অবগত থাকায় তাদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা প্রয়োজন।   এ প্রেক্ষাপটে পরিবার এবং নোবেল কমিটি তাকে তেহরান-এ স্থানান্তরের আহ্বান জানিয়েছে। নারী অধিকার প্রতিষ্ঠা ও মৃত্যুদণ্ড বিলোপের দাবিতে আন্দোলনের জন্য ২০২৩ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার পান নার্গিস মোহাম্মদি। তবে মানবাধিকার ইস্যুতে সক্রিয় থাকার কারণে তাকে বহুবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে।   জানা গেছে, তিনি জীবনে ১৩ বার গ্রেপ্তার হয়েছেন এবং মোট ৩১ বছরের কারাদণ্ড ও ১৫৪টি বেত্রাঘাতের সাজা পেয়েছেন। ২০২১ সালে রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারণা ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগে ১৩ বছরের সাজা ভোগ শুরু করেন তিনি, যদিও এসব অভিযোগ তিনি অস্বীকার করে আসছেন।   সর্বশেষ গত ডিসেম্বর গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে তিনি কারাগারেই ছিলেন।

Unknown মে ৩, ২০২৬ ১৪:০
গত মাসের বিক্ষোভে নিহত ২০০ জনেরও বেশি মানুষের ন্যায়বিচারের দাবিতে ২০২৪ সালের ২ আগস্ট বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে একটি প্রতিবাদ মিছিলে অংশ নেন আন্দোলনকারীরা। ছবি: রাজীব ধর- এপি ফটো
সংস্কার থেকে পিছু হটছে কি বাংলাদেশ? নতুন সংসদের সিদ্ধান্তে উঠছে প্রশ্ন

২০২৪ সালের ছাত্র-নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের পর প্রণীত জবাবদিহি বৃদ্ধির লক্ষ্যে নেওয়া একাধিক সংস্কার বাতিল বা স্থগিত করেছে বাংলাদেশের নতুন সংসদ। এতে করে গণতান্ত্রিক অগ্রগতি থেকে দেশ পিছিয়ে যাচ্ছে কি না- তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিরোধী দল, নাগরিক সমাজ ও বিশ্লেষকেরা।   ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ক্ষমতায় আসা বিএনপি-প্রধান নতুন সংসদ সম্প্রতি অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনা করে। নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সেই অন্তর্বর্তী সরকার সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশত্যাগের পর দায়িত্ব নিয়েছিল।   সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এসব অধ্যাদেশের মধ্যে ১১০টি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে- কিছু ক্ষেত্রে সংশোধনসহ। তবে অন্তত ২৩টি অধ্যাদেশ বাতিল হয়েছে বা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনুমোদন না পাওয়ায় অকার্যকর হয়ে গেছে। এর মধ্যে মানবাধিকার, বিচারব্যবস্থা, দুর্নীতি দমন ও পুলিশ সংস্কারসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিধানও রয়েছে।   সমালোচকদের মতে, বাতিল হওয়া এসব অধ্যাদেশ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও রাজনৈতিক প্রভাব কমানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। বিরোধী দলগুলোর দাবি, এসব সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সংস্কারের মূল কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়তে পারে এবং ক্ষমতা আবার কেন্দ্রীভূত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।   তবে সরকার বলছে, এটি সংস্কার বাতিল নয়; বরং আইনগুলো আরও পরিপূর্ণ ও কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় পর্যালোচনা। আলোচনার মাধ্যমে সংশোধিত আইন পুনরায় আনা হবে বলেও জানিয়েছে তারা।   পটভূমি: আন্দোলন থেকে সংস্কার ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্রদের নেতৃত্বে গণআন্দোলনের মাধ্যমে শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটে। দীর্ঘদিনের স্বেচ্ছাচারিতা, মতপ্রকাশের দমন, গুম ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে এই আন্দোলন গড়ে ওঠে।   এরপর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার ‘জুলাই ন্যাশনাল চার্টার’ নামে একটি সংস্কার কাঠামো প্রণয়ন করে, যাতে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মানবাধিকার, নির্বাচনব্যবস্থা ও বিকেন্দ্রীকরণের মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল। ২০২৬ সালের নির্বাচনের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ সমর্থন পায় এই চার্টার।   তবে সংসদ না থাকায় অন্তর্বর্তী সরকার পূর্ণাঙ্গ আইন প্রণয়ন করতে পারেনি; পরিবর্তে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অধ্যাদেশ জারি করে। সংবিধান অনুযায়ী, এসব অধ্যাদেশ নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনের ৩০ দিনের মধ্যে অনুমোদন বা বাতিল করতে হয়।   মানবাধিকার কমিশন: কী পরিবর্তন হলো বাতিল হওয়া গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলোর একটি ছিল জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (এনএইচআরসি) সংক্রান্ত। ২০২৫ সালের অধ্যাদেশে কমিশনকে আরও স্বাধীন ও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্ত, নির্দিষ্ট সময়সীমা, ক্ষতিপূরণ ও প্রশাসনিক স্বাধীনতার বিধান ছিল। কিন্তু তা বাতিল হওয়ায় ২০০৯ সালের পুরোনো আইন পুনর্বহাল হয়েছে, যেখানে কমিশনের ক্ষমতা সীমিত।   সরকার বলছে, ওই অধ্যাদেশে আইনি অস্পষ্টতা ছিল। তবে সাবেক কমিশনারদের অভিযোগ, সরকারের যুক্তি বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।   গুমের আইনগত স্বীকৃতি: শূন্যতা তৈরি গুমের ঘটনাকে আলাদা অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করার উদ্যোগও বাতিল হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের কমিশন ১ হাজার ৯০০-এর বেশি অভিযোগ পায়, যার মধ্যে অন্তত ১ হাজার ৫৬৯টি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, গুমকে স্পষ্টভাবে আইনে সংজ্ঞায়িত না করলে বিচার প্রক্রিয়া দুর্বল হয়ে পড়ে এবং দায়মুক্তির ঝুঁকি তৈরি হয়।   বিচার বিভাগীয় সংস্কার বাতিল হওয়া আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব ছিল সুপ্রিম কোর্টের জন্য স্বাধীন সচিবালয় গঠন এবং বিচারক নিয়োগে নতুন পদ্ধতি চালু করা। এর লক্ষ্য ছিল নির্বাহী বিভাগের প্রভাব কমানো। এসব প্রস্তাব বাতিল হওয়ায় আগের ব্যবস্থাই বহাল থাকছে।   সরকারের অবস্থান: ‘পুনর্মূল্যায়ন, বাতিল নয়’ সরকার বলছে, স্বল্প সময়ে ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনা করা কঠিন ছিল। তাই কিছু আইন পরে আলোচনা করে পুনরায় আনা হবে। আইনমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধান হুইপের যৌথ সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আইনগুলো আরও পরিশীলিত করে পুনরায় প্রণয়ন করা হবে।   বিরোধীদের প্রতিক্রিয়া বিরোধী দলগুলোর মতে, এটি সংস্কারের পথ থেকে সরে আসার ইঙ্গিত। তাদের দাবি, গণভোটে জনগণের যে প্রত্যাশা প্রকাশ পেয়েছিল, তা উপেক্ষা করা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিষয়টি কেবল আইন বাতিল নয়; বরং ক্ষমতার কাঠামো পুনর্গঠনের প্রশ্ন।   বিশ্লেষকেরা বলছেন, এসব পদক্ষেপ জবাবদিহি ও ক্ষমতার ভারসাম্য দুর্বল করতে পারে। এতে করে আগের মতোই নির্বাহী বিভাগের প্রভাব বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে তারা এটিও মনে করেন, সরকার চাইলে আলোচনার মাধ্যমে সংস্কারগুলো আরও শক্তিশালী করে ফিরিয়ে আনার সুযোগ এখনো রয়েছে।   সূত্র: আল জাজিরা

Unknown এপ্রিল ২১, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
ট্রাম্প, পুতিন ও নেতানিয়াহুকে ‘শিকারী’ আখ্যা দিল অ্যামনেস্টি

বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক আইনের কার্যকারিতা নিয়ে এক ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।  ২০২৬ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে সংস্থাটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মতো বিশ্বনেতাদের তীব্র সমালোচনা করেছে। অ্যামনেস্টি তাঁদের ‘মানবাধিকারের শিকারী’ (Predators) হিসেবে অভিহিত করে বলেছে, তাঁদের কর্মকাণ্ডের ফলে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ব্যবস্থা ধ্বংসের মুখে পড়েছে। সোমবার প্রকাশিত সংস্থাটির বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়, এই শীর্ষ নেতারা আন্তর্জাতিক নিয়ম-নীতি ও বিচার ব্যবস্থার তোয়াক্কা না করে ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন। অ্যামনেস্টির মহাসচিব অ্যাগনেস ক্যালামার্ড বলেন, "আমরা এমন এক সময়ে দাঁড়িয়ে আছি যেখানে শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলো মানবাধিকারের সংজ্ঞাকে নিজেদের সুবিধামতো ব্যবহার করছে। ট্রাম্প, পুতিন এবং নেতানিয়াহুর মতো নেতারা আন্তর্জাতিক আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বিশ্বকে এক অন্ধকার ও অস্থিতিশীল ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন।" প্রতিবেদনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের কর্মকাণ্ডকে ‘গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। বিশেষ করে অভিবাসন নীতি, নাগরিক অধিকার খর্ব এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে মার্কিন সমর্থন প্রত্যাহারের সমালোচনা করা হয়েছে। অন্যদিকে, ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার আগ্রাসন এবং গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর নির্বিচার হামলা ও যুদ্ধাপরাধের বিষয়গুলো মানবাধিকার লঙ্ঘনের চরম উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অ্যামনেস্টি সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, এই প্রভাবশালী দেশগুলোর ‘শিকারী সুলভ’ আচরণের কারণে বিশ্বের অন্যান্য ছোট দেশগুলোও মানবাধিকার লঙ্ঘনের সাহস পাচ্ছে। যদি এখনই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই ধারা প্রতিহত না করে, তবে আগামী দিনে বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার রক্ষা করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। সংস্থাটি আরও জানায়, ২০২৩ ও ২০২৪ সাল থেকে শুরু হওয়া এই নিম্নমুখী প্রবণতা ২০২৬ সালে এসে এক ভয়াবহ রূপ নিয়েছে, যেখানে বাকস্বাধীনতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং জীবনের নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ২০, ২০২৬ ১৪:০
ইনাম আল-দাহদুহ
অন্তহীন প্রতীক্ষা: ইসরায়েলি কারাগারে বন্দি তিন সন্তানকে নিয়ে গাজাবাসী এক মায়ের আর্তনাদ

গাজার এক অস্থায়ী তাবু। ভেতরে বসে আছেন ৬২ বছর বয়সী বৃদ্ধা ইনাম আল-দাহদুহ। কোলে তার ছয় নাতি-নাতনি। হাতে একটি ছবি—যাতে রয়েছে তার আদরের তিন ছেলের মুখ। আজ ১৭ এপ্রিল, ফিলিস্তিনি বন্দি দিবস। কিন্তু ইনামের জন্য এই দিনটি উৎসবের নয়, বরং সীমাহীন যন্ত্রণার। গত দুই বছর ধরে ইসরায়েলি কারাগারে বন্দি তার তিন সন্তান মাহমুদ, আলা এবং দিয়া। তারা বেঁচে আছেন কি না, কেমন আছেন—তার কোনো সঠিক উত্তর নেই এই মায়ের কাছে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে গাজার আল-শিফা হাসপাতালের কাছে নিজ বাড়ি থেকে তাদের ধরে নিয়ে যায় ইসরায়েলি বাহিনী। সেই অভিযানে নিহত হন ইনামের স্বামী নাঈমও। এরপর থেকে যাযাবর জীবন আর সন্তানদের ফেরার প্রতীক্ষায় দিন কাটছে এই বৃদ্ধার। তবে ইনামের উদ্বেগ এখন বহুগুণ বেড়ে গেছে। সম্প্রতি ইসরায়েলি পার্লামেন্টে বন্দিদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার বিধান রেখে একটি নতুন আইন পাস হয়েছে। ইনাম বলেন, "ক্ষুধা, কষ্ট বা নির্যাতন—সবই হয়তো ওরা সহ্য করে নেবে। কিন্তু মৃত্যুদণ্ড? একজন মা হিসেবে এই আতঙ্ক নিয়ে আমি কীভাবে শান্তিতে থাকি?" বন্দি অধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত প্রায় ৯,৬০০ ফিলিস্তিনি ইসরায়েলি কারাগারে বন্দি রয়েছেন, যা যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় প্রায় ৮৩ শতাংশ বেশি। এদের মধ্যে ৩৫০ জন শিশুও রয়েছে। কারাগারের ভেতর অমানবিক পরিবেশ এবং বন্দিদের মৃত্যুর খবরে ইনামের মতো হাজারো ফিলিস্তিনি মা আজ দিশেহারা। ইনম তার বড় ছেলে মাহমুদের সন্তানদের পবিত্র কোরআন শেখাচ্ছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, তার ছেলেরা নির্দোষ এবং একদিন তারা ফিরে আসবে। বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে তার আকুতি, "একজন বন্দিরও বেঁচে থাকার এবং সম্মানের অধিকার আছে। এই নিষ্ঠুরতা বন্ধ করতে বিশ্বকে এখনই রুখে দাঁড়াতে হবে।"

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১৬, ২০২৬ ১৪:০
মীনু বাত্রা। ছবি: এক্স
৩৫ বছর যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের পর আটক ভারতীয় নারী, ২৪ ঘণ্টা খাবার-পানি ছাড়া থাকার অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘ ৩৫ বছর বসবাসের পর ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক নারীকে আটক করেছে দেশটির অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। আটক ওই নারী মীনু বাত্রা (৫৩) বর্তমানে টেক্সাসের একটি ডিটেনশন সেন্টারে রয়েছেন। জানা গেছে, গত ১৭ মার্চ টেক্সাসের হারলিনজেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে আটক করে আইসিই। বর্তমানে তিনি রেমন্ডভিলের এল ভ্যালে ডিটেনশন সেন্টারে বন্দী আছেন।   মীনু বাত্রা পেশায় একজন লাইসেন্সধারী দোভাষী। পাঞ্জাবি, হিন্দি ও উর্দু ভাষার দোভাষী হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে অভিবাসন আদালতে কাজ করে আসছিলেন। মিলওয়াকিতে আদালতের একটি দায়িত্ব পালনের উদ্দেশ্যে যাত্রাপথে তাকে হাতকড়া পরিয়ে আটক করা হয়।   কারাগার থেকে দ্য গার্ডিয়ান-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মীনু অভিযোগ করেন, তাকে অপরাধীর মতো আচরণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, “২৪ ঘণ্টা আমাকে খাবার ও পানি ছাড়া রাখা হয়েছিল, এমনকি জরুরি ওষুধও দেওয়া হয়নি।”   তিনি আরও অভিযোগ করেন, হাতকড়া পরা অবস্থায় তাকে ছবি তুলতে বাধ্য করা হয় এবং তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যবহারের কথা বলা হয়, যা তিনি চরম অপমানজনক বলে উল্লেখ করেন।   ১৯৮৪ সালের শিখবিরোধী দাঙ্গায় বাবা-মাকে হারানোর পর ১৯৯১ সালে শিশু অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান মীনু। দক্ষিণ টেক্সাসে বসবাস করে তিনি চার সন্তানকে বড় করেছেন। তাঁর এক ছেলে বর্তমানে মার্কিন সেনাবাহিনীতে কর্মরত।   মীনুর আইনজীবী দীপক আহলুওয়ালিয়া জানান, ২০০০ সালে একটি অভিবাসন আদালত তাকে ভারতে ফেরত না পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিল, কারণ সেখানে তার নির্যাতনের ঝুঁকি রয়েছে বলে প্রমাণিত হয়।   আইনজীবীর আশঙ্কা, তার অভিবাসন মামলাটি পুনরায় চালু না হওয়ায় তাকে তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানো হতে পারে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র কয়েকটি দেশের সঙ্গে বহিষ্কৃত ব্যক্তিদের গ্রহণসংক্রান্ত চুক্তিও করেছে।   বর্তমানে মীনু একটি হ্যাবিয়াস কর্পাস আবেদন করে তার আটকাদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেছেন। তবে আটক হওয়ার এক মাস পার হলেও এখনো তাকে কোথায় পাঠানো হবে, সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী।

Unknown এপ্রিল ১৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
দেশে ফিরলেন ফিলিস্তিনের পক্ষে কথা বলে ফ্রান্সে কারাবন্দী সেই ইরানি তরুণী

ফিলিস্তিনের সমর্থনে এবং ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করার জেরে ফ্রান্সে এক বছরের বেশি সময় বন্দী থাকার পর অবশেষে দেশে ফিরেছেন ইরানি নাগরিক মাহদিয়া এসফানদিয়ারি। বুধবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে তাঁর স্বদেশে প্রত্যাবর্তনের খবরটি নিশ্চিত করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, দুই দেশের মধ্যে বন্দী বিনিময়ের অংশ হিসেবেই তিনি মুক্তি পেয়েছেন। মাহদিয়া এসফানদিয়ারি ২০১৮ সাল থেকে ফ্রান্সে বসবাস করছিলেন এবং লিঁও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করে সেখানে অনুবাদক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের অভিযানের পর গাজায় ইসরায়েলের নির্বিচার হামলার প্রতিবাদে এবং ফিলিস্তিনের সমর্থনে অনলাইনে সরব হওয়ায় গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে ফরাসি কর্তৃপক্ষ তাঁকে ‘সন্ত্রাসবাদে উস্কানি’ দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার করে। তেহরানে পৌঁছানোর পর রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মাহদিয়া ফ্রান্সের বিচারব্যবস্থার কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “সবার কাছে এখন এটা পরিষ্কার যে, অন্তত ফ্রান্সে মতপ্রকাশের কোনো স্বাধীনতা নেই। আমার বিরুদ্ধে আদালতের রায়টি ছিল চরম অন্যায়।” উল্লেখ্য, গত বছর অক্টোবরে জামিনে মুক্তি পেলেও তাঁর ওপর নানা বিধিনিষেধ ছিল। মাহদিয়ার এই মুক্তি এমন এক সময়ে এলো, যখন এক সপ্তাহ আগেই ইরান তাদের দেশে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে বন্দী দুই ফরাসি নাগরিক সিসিল কোহলার এবং জ্যাক প্যারিসকে মুক্তি দিয়েছে। যদিও ফ্রান্স সরাসরি এটিকে ‘বন্দী বিনিময়’ হিসেবে স্বীকার করেনি, তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা আগেই জানিয়েছিল যে, ফরাসি নাগরিকদের মুক্তির বিনিময়ে মাহদিয়াকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। ফ্রান্সে মাহদিয়ার মুক্তির দাবিতে এর আগে তেহরানে ফরাসি দূতাবাসের সামনে শিক্ষার্থীরা ব্যাপক বিক্ষোভও প্রদর্শন করেছিল।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১৪, ২০২৬ ১৪:০
ফিলিস্তিনের কিংবদন্তি ফাতাহ নেতা মারওয়ান বারঘোতি
ইসরায়েলি কারাগারে 'ফিলিস্তিনের নেলসন ম্যান্ডেলা'র ওপর অমানবিক নির্যাতন

ইসরায়েলি কারাগারে বন্দি ফিলিস্তিনের কিংবদন্তি ফাতাহ নেতা মারওয়ান বারঘোতির ওপর ভয়াবহ শারীরিক নির্যাতনের খবর নিশ্চিত করেছেন তার আইনজীবী। সম্প্রতি বারঘোতির সাথে কারাগারে দেখা করার পর আইনজীবী বেন মারমারেলে জানান, গত কয়েক সপ্তাহে তার মক্কেল অন্তত তিনবার বড় ধরনের সহিংস হামলার শিকার হয়েছেন। আইনজীবী মারমারেলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক পোস্টে এই পরিস্থিতিকে "গভীর উদ্বেগজনক" বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, গত ২৪শে মার্চ বারঘোতির সেলে ইচ্ছাকৃতভাবে একটি কুকুর লেলিয়ে দেয় ইসরায়েলি কারারক্ষীরা। এছাড়া গত ৮ই এপ্রিল তাকে অত্যন্ত নৃশংসভাবে মারধর করা হয়। এর ফলে তিনি দীর্ঘক্ষণ রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকলেও প্রায় দুই ঘণ্টা তাকে কোনো চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়নি। মারমারেলে বলেন, "এগুলো কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি একটি পরিকল্পিত নির্যাতনের অংশ। সহিংসতা এবং সুচিকিৎসার অভাব তার জীবনকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলে দিয়েছে।" উল্লেখ্য, ২০০০ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত চলা দ্বিতীয় ইন্তিফাদার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ২০০২ সালে ইসরায়েল বারঘোতিকে গ্রেপ্তার করে। তাকে পাঁচটি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হলেও বারঘোতি বরাবরই তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। ফিলিস্তিনিদের কাছে তিনি অত্যন্ত জনপ্রিয় একজন নেতা এবং অনেকেই তাকে 'ফিলিস্তিনের নেলসন ম্যান্ডেলা' হিসেবে গণ্য করেন।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১৪, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
নাইজেরিয়ায় বিমান হামলার ‘ভুল’: বাজারে বোমা পড়ে শতাধিক নিহত

নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বিদ্রোহীদের লক্ষ্য করে চালানো বিমান বাহিনীর এক হামলা ‘ভুলবশত’ একটি জনবহুল বাজারে আঘাত হানায় শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ।   মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্যের বরাতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষ হামলাটি ভুলবশত হয়েছে বলে স্বীকার করলেও বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।   অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, বর্নো রাজ্যের সীমান্তবর্তী ইয়োবি রাজ্যের একটি গ্রামে এই হামলা চালানো হয়, যেখানে অন্তত ১০০ জন নিহত হয়েছেন বলে জীবিতদের কাছ থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে জিহাদি সহিংসতায় এই অঞ্চলটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত।   স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলার লক্ষ্য ছিল জঙ্গিগোষ্ঠী বোকো হারামের একটি ঘাঁটি। তবে ভুলবশত কাছাকাছি একটি সাপ্তাহিক বাজারে অবস্থানরত সাধারণ মানুষ এতে হতাহত হন।   নাইজেরিয়ার সামরিক বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে দুর্গম বনাঞ্চলে অবস্থান নেওয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালিয়ে আসছে। তবে এসব অভিযানে বেসামরিক হতাহতের ঘটনাও নতুন নয়। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের হিসাব অনুযায়ী, ২০১৭ সাল থেকে এ ধরনের অভিযানে অন্তত ৫০০ সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছে।   নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, দুর্বল গোয়েন্দা তথ্য, লক্ষ্য নির্ধারণে ভুল এবং স্থলবাহিনী ও বিমান ইউনিটের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি—এসব কারণেই এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা ঘটছে। এ বিষয়ে নাইজেরিয়ার বিমান বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

Unknown এপ্রিল ১২, ২০২৬ ১৪:০
এক বছরে ১৬৩৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর ইরানে
এক বছরে ১৬৩৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর ইরানে

২০২৫ সালে ইরান এ অন্তত ১ হাজার ৬৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে, যা গত কয়েক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো। ১৯৮৯ সালের পর এটাই সর্বোচ্চ সংখ্যক ফাঁসি কার্যকর হওয়ার ঘটনা।   নরওয়ে-ভিত্তিক ইরান হিউম্যান রাইটস এবং প্যারিসভিত্তিক টুগেদার অ্যাগেইনস্ট দ্য ডেথ পেনাল্টি যৌথভাবে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালে যেখানে ৯৭৫ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছিল, সেখানে এক বছরের ব্যবধানে ২০২৫ সালে তা বেড়ে ৬৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৪৮ জন নারীও ছিলেন।   এতে আরও বলা হয়েছে, ইসলামি প্রজাতন্ত্র যদি বর্তমান সংকট থেকে টিকে যায়, তাহলে দমন-পীড়নের হাতিয়ার হিসেবে মৃত্যুদণ্ড আরও ব্যাপকভাবে ব্যবহারের ঝুঁকি রয়েছে।   তাদের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সরকার টিকে থাকলে দমন-পীড়নের উপায় হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের প্রয়োগ আরও বিস্তৃত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

নীলুফা নিশাত এপ্রিল ১২, ২০২৬ ১৪:০
ফাইল ছবি
ইরানের আন্দোলনে ‘মোসাদ এজেন্ট’ ঢুকে সাধারণ মানুষ হত্যার অভিযোগ

মাত্র কয়েক মাস আগের ঘটনা হলেও ইরানের সাম্প্রতিক বিক্ষোভ এখন অনেকের কাছে যেন পুরোনো স্মৃতি। জানুয়ারিতে তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারে মূল্যস্ফীতির প্রতিবাদ দিয়ে শুরু হওয়া আন্দোলন দ্রুতই সরকারবিরোধী বিস্তৃত ক্ষোভে রূপ নেয়। তবে এই বিক্ষোভ চলাকালে কিছু রহস্যময় ও সহিংস ঘটনার বর্ণনা এখনো আলোচনায় রয়েছে।   একজন প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, তেহরানের একটি নিরিবিলি গলিতে তিনি দেখেছেন—পরিচ্ছন্নতাকর্মীর বেশে থাকা এক ব্যক্তি আচমকা আগ্নেয়াস্ত্র বের করে দুই তরুণীকে গুলি করে পালিয়ে যায়। একই ধরনের আরেকটি ঘটনার কথা জানা গেছে কাস্পিয়ান সাগরসংলগ্ন একটি শহর থেকেও, যেখানে একটি বাসার ছাদ থেকে এমন দৃশ্য দেখার কথা জানানো হয়েছে।   এছাড়া তেহরান থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দূরের কাজভিন শহরেও অস্বাভাবিক একটি হত্যাকাণ্ডের তথ্য উঠে এসেছে। সেখানে কোনো বিক্ষোভ না থাকলেও একটি রাস্তায় এক মা ও তার শিশুকে গুলি করে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ব্যবহৃত অস্ত্রটি ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে মিল নেই বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র।   বিক্ষোভে অংশ নেওয়া আরেকজন জানান, পূর্ব তেহরানে তিনি মুখোশধারী একটি দলের উপস্থিতি লক্ষ্য করেন। তারা মিছিলের নেতৃত্ব দিচ্ছিল এবং স্লোগান দিচ্ছিল। তবে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হলেই তারা হঠাৎ করে ছত্রভঙ্গ হয়ে যেত। এই ধরনের কৌশল ইউরোপের ‘ব্ল্যাক ব্লক’ পদ্ধতির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ, যা ইরানের জন্য নতুন বলে মনে করা হচ্ছে।   ইরান সরকার জানিয়েছে, এসব বিক্ষোভে তিন হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।   এদিকে সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও ইরানে মোসাদের উপস্থিতি নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন। পাশাপাশি ইসরায়েলের এক মন্ত্রীও দাবি করেন, তাদের লোকজন ইরানে সক্রিয় রয়েছে। এসব বক্তব্য নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

নীলুফা নিশাত এপ্রিল ১১, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ভারতে বাড়ছে মুসলিম নিগ্রহ: আন্তর্জাতিক প্যানেলের পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞার দাবি

ভারতের উত্তরপ্রদেশ এবং আসাম রাজ্যে মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের ওপর পদ্ধতিগত মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে একটি উচ্চপর্যায়ের আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ প্যানেল।  'প্যানেল অফ ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইন্টারন্যাশনাল এক্সপার্টস' (PIIE) তাদের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে এই দুই রাজ্যে মুসলিমদের বিরুদ্ধে 'মানবতাবিরোধী অপরাধ' সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে। বিশেষ করে আসামে মুসলিমদের ওপর নির্যাতনের মাত্রা ‘বর্ণবৈষম্য’ বা অ্যাপার্থাইড-এর পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কিংস কলেজ লন্ডনের ডিকসন পুন স্কুল অফ ল-এর ট্রান্সন্যাশনাল লিগ্যাল ক্লিনিক থেকে প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক আদালতের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন তিনজন বিশেষজ্ঞ কাজ করেছেন।  প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আসামে বাঙালি মুসলিমদের লক্ষ্য করে নির্বিচারে হত্যা, উচ্ছেদ অভিযান, নাগরিকত্ব হরণ এবং নির্বাসনের মতো ঘটনা ঘটছে। আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার উস্কানিমূলক বক্তব্যকে ‘জাতিগত নিধনের’ পটভূমি তৈরির প্রচেষ্টা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অন্যদিকে, উত্তরপ্রদেশে পুলিশি এনকাউন্টার, বাড়িঘর বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া এবং নির্বিচারে গ্রেপ্তারের ঘটনাগুলোকে পদ্ধতিগত নিপীড়ন হিসেবে আখ্যা দিয়েছে প্যানেল। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, ভারতের অভ্যন্তরীণ বিচার ব্যবস্থা ও প্রতিকারমূলক ব্যবস্থাগুলো মুসলিমদের নিরাপত্তা দিতে অনেকাংশেই ব্যর্থ হচ্ছে।  এমতাবস্থায়, প্যানেল জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলকে ভারতের সংখ্যালঘু পরিস্থিতির ওপর নজরদারি করতে এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছে।

Unknown এপ্রিল ৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
লেবাননে ইসরায়েলের হামলা ‘নৃশংস’, উদ্বেগ জানালেন জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান

লেবাননে একদিনে ইসরায়েলের চালানো ব্যাপক হামলায় প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞকে ‘নৃশংস’ বলে আখ্যা দিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক। বুধবার (৮ এপ্রিল) দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন।   বিবৃতিতে তিনি বলেন, লেবাননে ওই দিনের হামলায় অন্তত ২৫৪ জন নিহত হওয়ার ঘটনা অত্যন্ত ভয়াবহ। তার ভাষায়, এই হত্যাকাণ্ড ও ধ্বংসযজ্ঞের মাত্রা বর্ণনার অতীত।   ভলকার তুর্ক আরও বলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এমন হামলা চালানো অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এতে ভঙ্গুর শান্তি আরও চাপে পড়েছে, যা বেসামরিক নাগরিকদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে।   তিনি জোর দিয়ে বলেন, যেকোনো সামরিক অভিযানে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের মৌলিক নীতিগুলো মানা বাধ্যতামূলক। এর মধ্যে রয়েছে লক্ষ্যবস্তুর পার্থক্য নির্ধারণ, আক্রমণের আনুপাতিকতা এবং সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন।   তিনি সতর্ক করে বলেন, এসব নীতির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপসের সুযোগ নেই। যেকোনো পরিস্থিতিতে এবং যেকোনো সশস্ত্র সংঘাতে এগুলো মেনে চলা অপরিহার্য। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

Unknown এপ্রিল ৮, ২০২৬ ১৪:০
অস্ট্রেলিয়ার সাবেক সেনাসদস্য বেন রবার্টস-স্মিথ
যুদ্ধনায়ক থেকে যুদ্ধাপরাধী: অস্ট্রেলিয়ার সাবেক সেনাসদস্য গ্রেপ্তার

আফগানিস্তানে মোতায়েন থাকাকালীন নিরস্ত্র বেসামরিক নাগরিকদের হত্যার দায়ে অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে আলোচিত ও সম্মানজনক পদকপ্রাপ্ত সাবেক সেনাসদস্য বেন রবার্টস-স্মিথকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ৪৭ বছর বয়সী এই সাবেক স্পেশাল ফোর্স সদস্যের বিরুদ্ধে পাঁচটি খুনের অভিযোগ আনা হয়েছে।  মঙ্গলবার সিডনি বিমানবন্দর থেকে অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, ২০০৯ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে আফগানিস্তানের উরুজগান প্রদেশে দায়িত্ব পালনের সময় রবার্টস-স্মিথ এই নৃশংস অপরাধগুলো সংঘটিত করেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিরস্ত্র বন্দিদের সরাসরি গুলি করে অথবা তার অধীনস্থদের দিয়ে গুলি করিয়ে হত্যা করেছেন।  এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি এক আফগান বেসামরিক ব্যক্তিকে পাহাড়ের খাদ থেকে লাথি মেরে ফেলে দিয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে তাকে গুলি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান 'ভিক্টোরিয়া ক্রস' জয়ী এই সেনাসদস্য এতদিন নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আসলেও, দীর্ঘ তদন্তের পর পুলিশ তার বিরুদ্ধে শক্ত প্রমাণ পায়।  যদি এই অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণিত হয়, তবে তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই গ্রেপ্তারকে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখছে।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ইরানে হামলা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন, ১০০ মার্কিন আইন বিশেষজ্ঞের হুঁশিয়ারি

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ নিয়ে এবার মুখ খুলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ১০০ জন আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ। এক খোলা চিঠিতে তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, এই সংঘাতের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক আইনের মারাত্মক লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে যা বিশ্বশান্তির জন্য চরম হুমকিস্বরূপ। যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা এবং সামরিক আইন বিশেষজ্ঞদের স্বাক্ষরিত এই চিঠিটি সম্প্রতি 'জাস্ট সিকিউরিটি ফোরাম'-এ প্রকাশিত হয়েছে। চিঠিতে বিশেষজ্ঞরা দাবি করেছেন, এই সামরিক অভিযান শুরু করাই ছিল জাতিসংঘ সনদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।  এছাড়া মার্কিন বাহিনীর বর্তমান কার্যক্রম এবং সরকারি কর্মকর্তাদের দেওয়া বক্তব্য আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও মানবিক আইনের পরিপন্থী, যা যুদ্ধাপরাধের শামিল হতে পারে বলেও তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। বিশেষজ্ঞরা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন যে, এই যুদ্ধের ফলে বেসামরিক নাগরিকদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, পরিবেশগত বিপর্যয় এবং আঞ্চলিক অস্থিরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে মার্কিন প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের আইনকে তোয়াক্কা না করে কেবল 'মারাত্মক আক্রমণ' এর ওপর জোর দেওয়ার প্রবণতাকে তারা 'বিপজ্জনক ও হ্রস্বদৃষ্টিসম্পন্ন' বলে অভিহিত করেছেন। তাদের মতে, নিয়ম-নীতিকে উপেক্ষা করার এই মানসিকতা বেসামরিক সুরক্ষার বৈশ্বিক মানদণ্ডকে ধ্বংস করে দিচ্ছে।

Unknown এপ্রিল ২, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Top week

নিহত গুগল কর্মকর্তা শীতল রজেসিয়েন। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে গুগলের শীর্ষ ভারতীয় নারী কর্মকর্তাকে গুলি করে হত্যা করলেন স্বামী, ছেলেও হাসপাতালে

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১২, ২০২৬ ১৪:০