হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখা অব্যাহত থাকবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। নেতা হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথম বক্তৃতায় তিনি এ ঘোষণা দেন। বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ এই প্রণালির মাধ্যমে পরিবহন করা হয়। এই পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ইতিমধ্যে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
বক্তৃতায় মোজতবা খামেনি জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে বলেন, শত্রুদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালি বন্ধ রাখা অব্যাহত থাকবে।
ইরানের পাশে ইয়েমেন ও ইরাকের সশস্ত্র গোষ্ঠী খামেনি বলেন, হুতি বিদ্রোহী–সহ ইয়েমেনের মিত্র গোষ্ঠীগুলোও তাদের ‘দায়িত্ব পালন করবে’। পাশাপাশি ইরাক–এর বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীও ইরানকে সহায়তা করতে প্রস্তুত বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বক্তৃতায় ইরানের সামরিক বাহিনীর ভূয়সী প্রশংসা করেন মোজতবা খামেনি। তিনি বলেন, হামলার মুখেও সেনাবাহিনী দেশকে পরাধীনতা ও বিভক্তির হাত থেকে রক্ষা করেছে।
তিনি বলেন, “দেশ যখন চাপের মুখে এবং আক্রান্ত, তখন যারা সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন, সেই যোদ্ধাদের আমি ধন্যবাদ জানাই।”
নতুন সর্বোচ্চ নেতা আরও বলেন, “আমরা আমাদের শহীদদের রক্তের প্রতিশোধ নেব।”
মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা অব্যাহত থাকবে
মোজতবা খামেনি বলেন, ইরান প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। তবে কেবল মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করেই হামলা চালানো হচ্ছে এবং এই হামলা চলতে থাকবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরু করে। প্রথম দিনের হামলায় নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। এরপর ৮ মার্চ তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়।
সূত্র: Al Jazeera
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি–এর স্ত্রী মানসুরেহ খোজাস্তেহ বাগেরজাদেহ জীবিত আছেন বলে জানিয়েছে ইরানের গণমাধ্যম। তাঁকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া মৃত্যুর খবর সঠিক নয় বলে দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)–ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ফার্স নিউজ জানায়, খামেনির স্ত্রীর মৃত্যুর বিষয়ে যে খবরগুলো ছড়িয়ে পড়েছে, সেগুলোর কোনো ভিত্তি নেই। তিনি এখনো জীবিত রয়েছেন। এর আগে যুদ্ধের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল–এর হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন মাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। পরে কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ওই হামলায় তাঁর স্ত্রীও নিহত হয়েছেন। তবে ফার্স নিউজের দাবি, এসব তথ্য সঠিক নয় এবং মানসুরেহ খোজাস্তেহ বাগেরজাদেহ জীবিত আছেন। তিনি সাধারণত জনসম্মুখে খুব কমই উপস্থিত হন এবং ইরানের শাসক পরিবারের সবচেয়ে ব্যক্তিগত জীবনযাপনকারী সদস্যদের একজন হিসেবে পরিচিত। এদিকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বৃহস্পতিবার দেওয়া তাঁর প্রথম বিবৃতিতে মায়ের মৃত্যুর কোনো উল্লেখ না করায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। স্থানীয় কয়েকটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের প্রথম দিনে হওয়া হামলায় আলী খামেনির পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে পুত্রবধূ, জামাতা, মেয়ে ও নাতি–নাতনিও রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। অন্যদিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে প্রথম জনসম্মুখের ভাষণে মোজতবা খামেনি চলমান যুদ্ধে নিহত ইরানিদের রক্তের প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেন। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত ওই বিবৃতিতে তিনি তেহরানের অবস্থান তুলে ধরেন এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকার বিষয়টিও উল্লেখ করেন। সূত্র: ইরান ইন্টারন্যাশনাল।
মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ডে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রণতরীটির প্রধান লন্ড্রি স্পেস থেকে এই আগুনের সূত্রপাত হয়। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে, আগুনের কারণ যুদ্ধ-সম্পর্কিত ছিল না এবং দ্রুতই তা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। এ ঘটনায় দুইজন নৌসেনা আহত হয়েছেন, তবে তাদের আঘাত প্রাণঘাতী নয় এবং বর্তমানে তারা স্থিতিশীল অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডে জাহাজের প্রপালশন প্ল্যান্ট বা ইঞ্জিন রুমের কোনো ক্ষতি হয়নি এবং রণতরীটি বর্তমানে সম্পূর্ণ সচল রয়েছে। প্রাথমিক আগুন নেভানো হলেও ক্রু সদস্যরা এখনও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ ও নিয়ন্ত্রণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া নেভাল সি সিস্টেমস কমান্ডের রিজিওনাল মেইনটেন্যান্স সেন্টার বহরটিকে প্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক সহায়তা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। জাহাজ পর্যবেক্ষকদের তথ্য মতে, অগ্নিকাণ্ডের সময় রণতরীটি সৌদি আরবের আল ওয়াজ উপকূলে লোহিত সাগরের উত্তরাঞ্চলে অবস্থান করছিল। ফোর্ড এবং এর তিনটি সহায়ক যুদ্ধজাহাজ—ইউএসএস মাহান, ইউএসএস বেইনব্রিজ ও ইউএসএস উইনস্টন এস. চার্চিল—গত সপ্তাহে সুয়েজ খাল অতিক্রম করেছিল। ঘটনার বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য পরবর্তীতে জানানো হবে বলে জানিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।
ইরানের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে মোজতবা খামেনির উত্থানকে মোটেও ইতিবাচকভাবে নিচ্ছেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মোজতবাকে নিয়ে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে বেশ শোরগোল ফেলে দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার নিয়োগ নিশ্চিত হওয়ার আগেই মোজতবা খামেনিকে ‘লাইটওয়েট’ বা ‘অযোগ্য’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। কূটনৈতিক ভাষায় কাউকে এভাবে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা বেশ বিরল হলেও, ট্রাম্পের এই অবস্থানে পরিষ্কার যে তিনি এই নিয়োগের ব্যাপারে মোটেও আগ্রহী ছিলেন না। পরবর্তীতে সরাসরি একটি প্রশ্নে ট্রাম্পকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, মোজতবা ক্ষমতায় থাকাকালীন তিনি কি নিজের জয় ঘোষণা করতে পারবেন? এর উত্তরে ট্রাম্প কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। বিষয়টি নিয়ে তার এই নীরবতা এবং আগের অবজ্ঞাসূচক মন্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ইরানের নতুন নেতৃত্বের সাথে ট্রাম্প প্রশাসনের সম্পর্ক এক কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে যাচ্ছে। মোজতবার এই 'অবাধ্য' ইমেজ বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের জন্য বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।