সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

হরমুজ প্রণালী

ইরানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের সীমিত সামরিক হামলার খবর জানিয়েছে মার্কিন কর্মকর্তারা। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ইরানে আবারও হামলা চালাল যুক্তরাষ্ট্র, ৩ মার্কিন ড্রোন ভূপাতিতের দাবি ইরানের

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপে সীমিত সামরিক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ভোরে দ্বীপটিতে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাওয়ার পর মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালির কাছে তিনটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। তবে ড্রোন ভূপাতিতের দাবি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএর বরাতে আল জাজিরা জানিয়েছে, কেশম দ্বীপে পাঁচটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। একই সময়ে হরমোজগান প্রদেশের উপকূলীয় শহর বন্দর লেঙ্গেহেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। কেশম দ্বীপের বাসিন্দারা আকাশে দুটি উড়োজাহাজ উড়তে দেখেছেন বলেও জানিয়েছে আইআরএনএ। বিস্ফোরণে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।   ইরানের সামরিক বাহিনীর দাবি, কেশম দ্বীপের দক্ষিণে ইলেকট্রনিক যুদ্ধপ্রযুক্তি ব্যবহার করে দুটি মার্কিন এমকিউএম-১৭০ গোয়েন্দা ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। এ ধরনের ড্রোন ইরানের হাতে জব্দের সংখ্যা চারটিতে পৌঁছেছে বলেও দাবি করেছে আইআরজিসি। এ ছাড়া হরমুজ প্রণালির পূর্বদিকে একটি মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোন শনাক্ত করে নতুন আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে ধ্বংস করার কথা জানিয়েছে বাহিনীটি। সব মিলিয়ে তিনটি ড্রোন ভূপাতিতের দাবি করেছে তেহরান। তবে এসব ঘটনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো নিশ্চিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে সীমিত ও প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এক কর্মকর্তা বলেছেন, ইরানের বাহিনী মার্কিন সামরিক সম্পদের দিকে ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করায় এই হামলা চালানো হয়। তবে এটি বড় ধরনের সামরিক অভিযান পুনরায় শুরুর ইঙ্গিত নয় বলেও জানিয়েছেন তিনি। পেন্টাগন এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের কাছে পাঠালেও তাদের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।   সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগও চলছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে পরোক্ষ আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তাঁর ভাষায়, পরিস্থিতির সংবেদনশীলতা ও গুরুত্ব বিবেচনায় আলোচনা ও পরামর্শ চলছে নিবিড়ভাবে। এ ক্ষেত্রে কাতার ও পাকিস্তান সক্রিয় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।   যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইরানের সঙ্গে সমঝোতার সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন। সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তি হতে পারে এবং তেহরান দ্রুত সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও আলোচনায় কিছুটা অগ্রগতির কথা জানিয়েছেন। কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনায় সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ৬ শতাংশের বেশি কমে যায় বলে জানিয়েছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।   তবে আলোচনার পাশাপাশি সামরিক প্রস্তুতির কথাও জানাচ্ছে তেহরান। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি বলেছেন, ইরান কূটনৈতিক সমাধান চাইলেও সম্ভাব্য সামরিক সংঘাত মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে। নতুন করে হামলা হলে তার জবাব দেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি। ফলে একদিকে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে সমঝোতার চেষ্টা, অন্যদিকে হরমুজ প্রণালি ঘিরে সামরিক তৎপরতা, দুই দেশের সম্পর্ককে অনিশ্চিত পরিস্থিতির মধ্যে রেখেছে।   সূত্র: রয়টার্স, আনাদোলু এজেন্সি, এবিসি নিউজ।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম নভেম্বর ২, ২০২৬ ১৩:০
ইরান পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার আলী নিকজাদ
ইরানের শক্তি মেনে নেওয়া ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের কোনো পথ নেই, হুঁশিয়ারি তেহরানের

যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক শক্তির বাস্তবতা মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার আলী নিকজাদ। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সামনে ইরানের শক্তি স্বীকার করা ছাড়া অন্য কোনো পথ নেই। একই সঙ্গে মার্কিন চাপের মুখে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে আলোচনায় বসার সম্ভাবনা নাকচ করেছেন তিনি। রোববার (১ নভেম্বর) ইরানের পার্লামেন্টের এক অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন নিকজাদ। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে তাঁর এই বক্তব্য সামনে এসেছে।   মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম রয়া নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পার্লামেন্টে বক্তব্য দেওয়ার সময় নিকজাদ দাবি করেন, ইরানের প্রতিরোধ সক্ষমতা ও সামরিক শক্তির কারণে যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্ররা নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে। তাঁর মতে, ওয়াশিংটনকে এখন ইরানের অবস্থান মেনে নিতে হবে। ইরানের সামরিক সক্ষমতা উপেক্ষা করে আঞ্চলিক সংকটের সমাধান সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।   যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে নিকজাদ বলেন, ইরানের শক্তি স্বীকার করা ছাড়া তাদের আর কোনো পথ নেই। তিনি আরও দাবি করেন, চলমান সংঘাতে শেষ পর্যন্ত ইরান নয়, যুক্তরাষ্ট্রকেই আত্মসমর্পণ করতে হবে। তবে তাঁর এই বক্তব্য রাজনৈতিক ও সামরিক অবস্থানসংক্রান্ত দাবি। যুক্তরাষ্ট্র আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কিংবা এমন কোনো আলোচনা চলছে, তার স্বাধীনভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।   ইরানের পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার বলেন, কোনো ধরনের চাপ বা পরিস্থিতির মুখেই তাঁর দেশ পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন আলোচনা করতে আগ্রহী নয়। তাঁর অভিযোগ, অতীতে তেহরান আলোচনার যথেষ্ট সুযোগ দিলেও ওয়াশিংটন বারবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে। একই সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় সামরিক হামলার ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে বর্ণনা করেন তিনি।   তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনার সুযোগ বর্তমানে বন্ধ হয়ে গেছে। তাঁর যুক্তি, ওয়াশিংটনের কাছে নতুন করে উপস্থাপন করার মতো কোনো প্রস্তাব নেই। অতীতের আলোচনা ও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়ার কারণেই তেহরান এই অবস্থান নিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।   নিকজাদ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা যদি আবার ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তাহলে তাৎক্ষণিক ও কার্যকর জবাব দেওয়া হবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য পাল্টা প্রতিক্রিয়া শুধু নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। তবে তিনি নতুন কোনো সামরিক অভিযান শুরুর নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা করেননি।   হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের সমালোচনা করেন ইরানের এই আইনপ্রণেতা। তিনি দাবি করেন, গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথে ইরানের সামরিক সক্ষমতা ও প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রকে বিবেচনায় নিতে হবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নির্ধারিত ব্যবস্থা মেনে নেওয়া এবং তেহরানের সাত দফা শর্ত পূরণ করাই চলমান সংঘাত নিরসনের পথ।   তবে নিকজাদের বক্তব্যে উল্লেখ করা সাত দফা শর্তের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ রয়া নিউজের প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়নি। ইরানের অন্যান্য সংবাদমাধ্যমে এসব শর্তের কথা উল্লেখ থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র সেগুলো গ্রহণ করেছে, এমন কোনো নিশ্চিত তথ্য নেই।    হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ। পারস্য উপসাগর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাস সরবরাহের ক্ষেত্রে এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বিরোধের কারণে এই জলপথে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব পড়তে পারে। এ কারণেই হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ ব্যবস্থা দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক বিরোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে রয়েছে।   ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মতবিরোধ চলছে। ওয়াশিংটন ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রমের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও যাচাইয়ের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে। অন্যদিকে তেহরান দাবি করে, তার পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে। ইরানের এই দাবি এবং পারমাণবিক কার্যক্রম নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ পৃথক বিষয়। ফলে কর্মসূচিটির ভবিষ্যৎ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে এখনো গুরুত্বপূর্ণ মতপার্থক্য রয়েছে।   নিকজাদের সর্বশেষ বক্তব্যের বিশেষ দিক হলো, তিনি শুধু পারমাণবিক আলোচনায় অনাগ্রহ প্রকাশ করেননি, বরং যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সামরিক সক্ষমতা মেনে নেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন। একই সঙ্গে নতুন হামলা হলে কঠোর পাল্টা প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তবে তাঁর বক্তব্যকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সব ধরনের কূটনৈতিক যোগাযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ হওয়ার ঘোষণা হিসেবে দেখা যাবে না। ইরানের অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তাদের অবস্থান ও পরবর্তী কূটনৈতিক কার্যক্রমও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।   ইরানের পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার আলী নিকজাদের বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান বিরোধে তেহরানের কঠোর অবস্থান নতুন করে সামনে এসেছে। পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় না বসার কথা জানানোর পাশাপাশি ইরানের সাত দফা শর্ত ও হরমুজ প্রণালিসংক্রান্ত ব্যবস্থা মেনে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।   সূত্র: রয়া নিউজ।

নুরুল্লাহ সাইদ অক্টোবর ৩১, ২০২৬ ১৪:০
ইরানের দাবি, কেশম দ্বীপের আকাশে মার্কিন এমকিউএম-১৭০ ড্রোন আটক করা হয়েছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
কেশম দ্বীপে অক্ষত অবস্থায় মার্কিন গোয়েন্দা ড্রোন আটক করল ইরান

দক্ষিণ ইরানের কেশম দ্বীপের আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি একটি এমকিউএম-১৭০ ড্রোন অক্ষত অবস্থায় আটক করার দাবি করেছে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। শুক্রবার বিকেলে উন্নত ইলেকট্রনিক যুদ্ধব্যবস্থা ব্যবহার করে ড্রোনটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর সেটি ভূপাতিত করা হয় বলে জানিয়েছে বাহিনীটির মহাকাশ বিভাগ। আইআরজিসির দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে এটি দ্বিতীয়বারের মতো এ ধরনের মার্কিন ড্রোন অক্ষত অবস্থায় তাদের নিয়ন্ত্রণে এসেছে।   আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ড্রোনটি কেশম দ্বীপের আকাশে শনাক্ত করার পর ইলেকট্রনিক যুদ্ধপ্রযুক্তির মাধ্যমে এর নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হয়। পরে বাহিনীর সদস্যরা সেটি অক্ষত অবস্থায় জব্দ করেন। তবে ড্রোনটি কী ধরনের নজরদারি কার্যক্রম চালাচ্ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেয়নি বাহিনীটি। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম পার্স টুডে এ খবর প্রকাশ করেছে।   এর আগে চলতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার হরমুজ প্রণালির পশ্চিম অংশে একই মডেলের আরেকটি মার্কিন ড্রোন নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করেছিল আইআরজিসির নৌবাহিনী। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ইউনিট ড্রোনটির দিকনির্ণয় ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সেটিকে নিরাপদে অবতরণ করায়। ড্রোনটি পারস্য উপসাগরীয় উপকূল এবং হরমুজ প্রণালির আশপাশে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা শনাক্ত করার কাজে নিয়োজিত ছিল বলেও দাবি করে বাহিনীটি।   আইআরজিসি নৌবাহিনীর দাবি, ড্রোন থেকে উদ্ধার করা তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এটি পারস্য উপসাগরের দক্ষিণ উপকূলের একটি দেশ থেকে উড্ডয়ন করেছিল। তবে কোন দেশ থেকে এটি উড়েছিল, তা প্রকাশ করা হয়নি। বৃহস্পতিবারের ড্রোন আটকের দাবি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী প্রত্যাখ্যান করেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স ইরানের বক্তব্যকে মিথ্যা বলে উল্লেখ করেন। শুক্রবার কেশম দ্বীপে ড্রোন আটকের নতুন দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।   এমকিউএম-১৭০ মডেলের ড্রোনটি যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিফন অ্যারোস্পেস নির্মিত ‘আউটল’ সিরিজের একটি চালকবিহীন আকাশযান। নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, এটি মূলত আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার পরীক্ষা, প্রশিক্ষণ এবং আকাশপথে সম্ভাব্য হুমকির অনুকরণে ব্যবহারের জন্য তৈরি। তবে প্রয়োজন অনুযায়ী এতে বিভিন্ন ধরনের সেন্সর ও ক্যামেরা যুক্ত করা যায়। ফলে ড্রোনটির প্রকৃত ব্যবহার সম্পর্কে নিশ্চিত হতে এর নির্দিষ্ট সরঞ্জাম ও মিশনসংক্রান্ত তথ্য জানা প্রয়োজন।   হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। পারস্য উপসাগর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাস পরিবহনের বড় অংশ এ পথ দিয়ে চলাচল করে। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার পাশাপাশি এ অঞ্চলে সামরিক তৎপরতা এবং ড্রোনসংক্রান্ত পাল্টাপাল্টি দাবি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। তবে কেশম দ্বীপে ড্রোন আটকের সর্বশেষ দাবির সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।   সূত্র: পার্স টুডে, আনাদোলু এজেন্সি ও যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের বক্তব্য।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ৩১, ২০২৬ ১৪:০
হরমুজ প্রণালিতে মাইনের আঘাতে ডুবল জাহাজ, সাগরে ভাসছে আইফোন-দামি পারফিউম
হরমুজ প্রণালিতে মাইনের আঘাতে ডুবল জাহাজ, সাগরে ভাসছে আইফোন-দামি পারফিউম

হরমুজ প্রণালিতে সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত পরিচালিত কন্টেইনার জাহাজ 'জিএফএস প্রাইড' ডুবে যাওয়ার পর ওই অঞ্চলে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। গত ১৩ ও ১৪ অক্টোবরের দিকে অজানা প্রজেক্টাইল বা মাইনের আঘাতে বিধ্বস্ত হয়ে জাহাজটিতে আগুন ধরে যায় এবং শেষ পর্যন্ত সেটি সাগরে তলিয়ে যায়। সিঙ্গাপুরের মেরিটাইম অ্যান্ড পোর্ট অথরিটি (এমপিএ) নিশ্চিত করেছে যে, জাহাজে থাকা ২১ জন ক্রুকে সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।   ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) এই ঘটনার পর দাবি করেছে, জাহাজটি একটি "অননুমোদিত এবং বিপজ্জনক" রুট ব্যবহার করার কারণে নৌ-মাইনের আঘাতে ডুবে গেছে। মূলত তেল প্রবাহ ও আঞ্চলিক বাণিজ্যে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর তেহরানের ক্রমবর্ধমান হামলার অংশ হিসেবেই এই ঘটনাকে দেখছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। ট্যাঙ্কারের পাশাপাশি এ ধরনের কন্টেইনারবাহী জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা আন্তর্জাতিক নৌ-বাণিজ্যে নতুন করে ভীতির সঞ্চার করেছে।   তবে জাহাজডুবির পর সাগরে এক চাঞ্চল্যকর দৃশ্যের অবতারণা হয়। দুবাই থেকে আরব বাজারগুলোর উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া বিলাসবহুল পণ্যবাহী এই জাহাজটি ডুবে যাওয়ার পর এর কন্টেইনারগুলো ও ভেতরের পণ্য সাগরে ভাসতে থাকে।   বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ফুটেজে দেখা যায়, স্থানীয়রা ছোট ছোট নৌকায় করে সাগরে ভাসমান আইফোন ও দামি পারফিউম লুট বা সংগ্রহ করছে। এই অপ্রত্যাশিত দৃশ্য এবং বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর এমন ধ্বংসাত্মক হামলা আন্তর্জাতিক শিপিং রুটের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ১৪, ২০২৬ ১৪:০
হরমুজে স্বাভাবিক চলাচল ফেরাতে সাত শর্তে অনড় ইরান
হরমুজে স্বাভাবিক চলাচল ফেরাতে সাত শর্তে অনড় ইরান, হামলার মধ্যেও বেড়েছে তেল রপ্তানি

হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল ফিরিয়ে আনতে যুক্তরাষ্ট্রকে সাতটি শর্ত মানতে হবে বলে জানিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ। এদিকে জাহাজে হামলার ঝুঁকি অব্যাহত থাকলেও মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহের কয়েকটি দিনে যুদ্ধ শুরুর আগের দৈনিক গড় ছাড়িয়েছে। সোমবার, ৫ অক্টোবর প্রকাশিত জাহাজ চলাচলের তথ্যের ভিত্তিতে রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।   গালিবাফ রোববার বলেন, জুনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া অন্তর্বর্তী সমঝোতায় ইরান যে সাতটি শর্ত দিয়েছিল, সেগুলো পূরণ না হলে হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক চলাচল ফিরবে না। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে ইরান একটি প্রস্তাব দিয়েছিল। তাতে শর্ত পূরণ হলে সাত দিনের মধ্যে স্বাভাবিক নৌচলাচল ফেরানোর কথা বলা হয়। কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র গত সপ্তাহে ওই প্রস্তাবের জবাব দিয়েছে।   ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি বলেছেন, ওয়াশিংটনের জবাবের বিষয়ে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তেহরানের অবস্থান জানানো হয়েছে; আরও কিছু বিষয় জানানো বাকি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এই পর্যায়ে ইরানের মনোযোগ হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ফেরানোর দিকে। অন্যদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, ইরান কূটনৈতিক পথেই অগ্রগতি চায়, তবে নতুন মার্কিন সামরিক হামলা হলে জবাব দিতে প্রস্তুত।   কূটনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যেও তেল পরিবহন পুরোপুরি বন্ধ নেই। জাহাজ চলাচলের তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের প্রাথমিক হিসাবে, সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহের সাত দিনের মধ্যে চার দিন মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি যুদ্ধের আগের দৈনিক গড় ছাড়ায়। ওই দিনগুলোতে রপ্তানির পরিমাণ ছিল দিনে প্রায় ১ কোটি ৯৫ লাখ থেকে ২ কোটি ২৫ লাখ ব্যারেল। যুদ্ধ শুরুর আগের বছরটিতে দৈনিক গড় ছিল প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ ব্যারেল। তবে এই আঞ্চলিক হিসাবে হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি অন্য পথ ও টার্মিনাল দিয়ে যাওয়া তেলও রয়েছে।   রপ্তানি বাড়লেও জাহাজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ কাটেনি। সামুদ্রিক নিরাপত্তাবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ম্যারিস্কস জানিয়েছে, হরমুজ ও আশপাশে অন্তত সাতটি জাহাজে হামলার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য পরিচালনা সংস্থা জানিয়েছে, ২ অক্টোবর থেকে হরমুজ প্রণালি অথবা এডেন উপসাগরে প্রতিদিন অন্তত একটি হামলার খবর পেয়েছে তারা। তাই তেল রপ্তানির সাময়িক বৃদ্ধি দিয়ে নৌপথটি পুরোপুরি নিরাপদ হয়ে গেছে বলা যায় না।   যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হয় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি। তার আগে বৈশ্বিক তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো। এখন এই নৌপথে স্বাভাবিক চলাচল ফেরানোই ওয়াশিংটন ও তেহরানের আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয়।   সূত্র: রয়টার্সের ৪ ও ৫ অক্টোবরের প্রতিবেদন।

নীলুফা নিশাত অক্টোবর ৪, ২০২৬ ১৪:০
ইরানের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর কার্যক্রম। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ইরান থেকে এক হাজার কিলোমিটার দূরে পালিয়েছে মার্কিন বাহিনী: দাবি আইআরজিসির

ইরানের সীমান্ত থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনী ১ হাজার কিলোমিটারের বেশি দূরে সরে গেছে বলে দাবি করেছেন দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) জ্যেষ্ঠ কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল আলী ফাদাভি। তার দাবি, ইরানের সামরিক সক্ষমতা এবং আইআরজিসির শক্তির কারণেই যুক্তরাষ্ট্রকে এভাবে পিছু হটতে হয়েছে। তবে ফাদাভির এই বক্তব্যের স্বাধীন কোনো নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম প্রেস টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।   ফাদাভি বলেন, “আমেরিকানরা পালিয়ে গেছে এবং আমাদের সীমান্ত থেকে ১ হাজার কিলোমিটারের বেশি দূরে সরে গেছে।” তার ভাষ্য অনুযায়ী, এটি যুক্তরাষ্ট্রের স্বেচ্ছায় নেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত ছিল না। ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সামরিক সক্ষমতা এবং আইআরজিসির স্থল ও নৌ শক্তির কারণে মার্কিন বাহিনীকে এমন অবস্থান নিতে হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে তিনি কোন মার্কিন ইউনিট বা ঘাঁটি থেকে ঠিক কত দূরে সরে গেছে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো স্থান বা সামরিক তথ্য দেননি।   ফাদাভি আরও দাবি করেন, বর্তমানে পারস্য উপসাগর, হরমুজ প্রণালি, ওমান সাগর এমনকি উত্তর ভারত মহাসাগরেও কোনো মার্কিন নৌযান নেই। তার বক্তব্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ বজায় রয়েছে। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে ওই অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখলেও এবার পরিস্থিতি ভিন্ন হয়েছে এবং মার্কিন বাহিনী নিজেদের অবস্থান অনেকটা পেছনে সরিয়ে নিয়েছে।   তবে ফাদাভির বক্তব্যের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রকাশ্য সামরিক তথ্যের পুরোপুরি মিল পাওয়া যাচ্ছে না। ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ বিমানবাহী রণতরী আরব সাগরে অবস্থান করে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন নৌ অবরোধ কার্যকরে সহায়তা করছে। ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সেন্টকমের বাহিনী ১২৫টি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করেছে বলে মার্কিন কমান্ড জানিয়েছে। এর অর্থ, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ উপস্থিতি অঞ্চলটিতে এখনও সক্রিয় রয়েছে, যদিও ফাদাভির দাবি করা নির্দিষ্ট ১ হাজার কিলোমিটার দূরত্বের বিষয়টি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।   ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের কার্যক্রমও সাম্প্রতিক সময়ে অব্যাহত রয়েছে। ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড জুলাই মাসে জানিয়েছিল, ইরানের বন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় যাতায়াতকারী জাহাজের ওপর অবরোধ পুনরায় কার্যকর করা হয়েছে। এর আগে এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত চালানো প্রথম দফার অবরোধে ১৪০টির বেশি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করা হয়েছিল এবং নয়টি জাহাজকে অচল করা হয়েছিল বলে জানিয়েছিল সেন্টকম। জুলাইয়ে অবরোধ পুনরায় কার্যকর হওয়ার পরও মার্কিন বাহিনী ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সামুদ্রিক চলাচল নিয়ন্ত্রণে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।   হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহও বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রণালির আশপাশে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার একাধিক ঘটনা ঘটেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বরের শেষ দিক থেকে হরমুজ ও আশপাশের জলসীমায় জাহাজে হামলার ঘটনা বেড়েছে এবং ২ অক্টোবরের পর প্রতিদিনই নতুন ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল রপ্তানি আবারও বাড়লেও জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।   এদিকে হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ নিয়েও তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে টানাপোড়েন অব্যাহত রয়েছে। ইরান জানিয়েছে, নির্দিষ্ট কয়েকটি শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত প্রণালিটি পুরোপুরি খুলবে না। কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যোগাযোগ চললেও পরমাণু কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থানে এখনও বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। ফলে আইআরজিসির পক্ষ থেকে মার্কিন বাহিনী পিছু হটার দাবি সামনে এলেও অঞ্চলটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও নৌ তৎপরতা যে পুরোপুরি বন্ধ হয়নি, তা মার্কিন সামরিক কমান্ডের প্রকাশ্য তথ্যেই দেখা যাচ্ছে।   সূত্র: প্রেস টিভি, ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ৪, ২০২৬ ১৪:০
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত নতুন করে আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার ঘোষণা ইরানের, সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় হামলার দাবি হুতিদের

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত নতুন করে আরও জটিল হয়ে উঠেছে। রোববার ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার জন্য নির্ধারিত সাতটি শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কৌশলগত হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলবে না। একই দিনে ইয়েমেনের হুতি বাহিনী সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ ও খুরাইস এলাকায় রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ইয়েমেনের সৌদি-সমর্থিত সরকার হুতিদের নিয়ন্ত্রিত এলাকা পুনর্দখলে বড় সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে।    ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রস্তাব দিলেও তেহরান একতরফা শর্ত মেনে নেবে না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, জুনের অন্তর্বর্তী সমঝোতায় নির্ধারিত সাতটি শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খোলা হবে না।  ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি অবশ্য জানিয়েছেন, কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ এখনো রয়েছে। তেহরানের প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্র গ্রহণ করলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা সম্ভব হতে পারে বলে তিনি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপে ফিরলে ইরানও প্রতিক্রিয়া জানাতে প্রস্তুত।  হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। পারস্য উপসাগর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও অন্যান্য জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম প্রধান সমুদ্রপথ এটি। ফলে দীর্ঘ সময় এই পথ দিয়ে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ, পরিবহন খরচ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে। ইতোমধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলের সামুদ্রিক বাণিজ্য নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।  সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় হামলার দাবি হরমুজ নিয়ে উত্তেজনার মধ্যেই ইয়েমেনের হুতি বাহিনী সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনায় হামলার দাবি করেছে। হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানিয়েছেন, রিয়াদ ও খুরাইস এলাকায় সৌদি আরামকোর স্থাপনা লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। হুতিদের দাবি, ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন বাহিনীর হামলার প্রতিশোধ হিসেবে এই আক্রমণ চালানো হয়।  আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে রিয়াদের দক্ষিণে একটি আরামকো স্থাপনার কাছে আগুন ও ধোঁয়া দেখা গেছে। তবে হামলার কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা সম্পর্কে সৌদি কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে পূর্ণাঙ্গ নিশ্চিতকরণ দেয়নি। ফলে হুতিদের দাবির সব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।  ইয়েমেনে শুরু বড় সামরিক অভিযান এর মধ্যেই ইয়েমেনের সৌদি-সমর্থিত প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান রাশাদ আল-আলিমি হুতিদের বিরুদ্ধে বড় সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন। রোববার টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, হুতিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা অবশিষ্ট ভূখণ্ড পুনরুদ্ধার এবং পুরো দেশে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অভিযান শুরু করা হয়েছে।    ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী এরই মধ্যে রাজধানী সানা ও উত্তরাঞ্চলের সাদা প্রদেশে হুতি অবস্থানে হামলার কথা জানিয়েছে। একই সময়ে তাইজ শহরের আশপাশে সরকারি বাহিনী ও হুতিদের মধ্যে তীব্র লড়াই চলছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ তাইজের সঙ্গে এডেনের যোগাযোগপথ নিয়ন্ত্রণের লড়াইও পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করেছে।   হুতিরা সাম্প্রতিক সময়ে লোহিত সাগরের উপকূল এবং বাব আল-মান্দাব প্রণালির আশপাশে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করেছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। ফলে হরমুজের পাশাপাশি বাব আল-মান্দাব ঘিরেও সামুদ্রিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের ঝুঁকি বাড়ছে।   বিশ্লেষকদের কাছে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হচ্ছে, একই সময়ে হরমুজ ও লোহিত সাগর অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বাড়তে থাকলে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ, আর বাব আল-মান্দাব লোহিত সাগর ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার। ইরান বলছে তারা কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা রেখেছে। অন্যদিকে ইয়েমেনে নতুন সামরিক অভিযান শুরু হওয়ায় সৌদি আরব ও হুতিদের সংঘাত আবার বড় আকার ধারণ করার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

তাবাস্সুম অক্টোবর ৩, ২০২৬ ১৪:০
হরমুজ প্রণালিতে সামরিক ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিয়ে বাড়ছে নিরাপত্তা উদ্বেগ। ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালীতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৮ মার্কিন মেরিন সেনা আহত

হরমুজ প্রণালিতে একটি সামুদ্রিক জাহাজে ইরানের ছোড়া জাহাজবিধ্বংসী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার ঘটনায় আট মার্কিন মেরিন আহত হয়েছেন। এনবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৪ সেপ্টেম্বর হরমুজ প্রণালিতে ওই হামলার ঘটনা ঘটে। আহত আট মেরিনের মধ্যে সাতজন তালিকাভুক্ত সদস্য এবং একজন কর্মকর্তা ছিলেন। তারা একটি ব্যাটালিয়ন ল্যান্ডিং দলের অংশ হিসেবে ওই জাহাজে দায়িত্ব পালন করছিলেন।   মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে এনবিসি জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতের পর আহতদের ধোঁয়া শ্বাস নেওয়ার কারণে অসুস্থতা এবং মাথায় আঘাতজনিত সমস্যার সম্ভাব্য লক্ষণ দেখা দেয়। তাদের কয়েকজন মাথাব্যথাসহ মস্তিষ্কে আঘাতের মতো উপসর্গ অনুভব করেন। তবে আহতদের কারও অবস্থা গুরুতর ছিল না এবং অল্প সময়ের মধ্যেই আটজনই আবার দায়িত্বে ফিরে যান।   ঘটনাটির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, মেরিনরা ওই সময় মার্কিন নৌবাহিনীর কোনো জাহাজে ছিলেন না। মার্কিন কর্মকর্তারা জাহাজটির মালিকানা বা ধরন সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়ে এটিকে শুধু একটি সামুদ্রিক জাহাজ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এনবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার সময় ওই জাহাজে থাকা মার্কিন সেনাদের উপস্থিতির বিষয়টি তখন প্রকাশ্যে জানানো হয়নি।   মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে এনবিসি আরও জানিয়েছে, ১৪ সেপ্টেম্বরের হামলার বিষয়ে সে সময় পেন্টাগনের পক্ষ থেকে মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে কোনো প্রকাশ্য ঘোষণা দেওয়া হয়নি। পরে প্রতিরক্ষা বিভাগের সামরিক হতাহত সংক্রান্ত তথ্যভান্ডারে আহত আট মেরিনের তথ্য যুক্ত করা হয়।   পেন্টাগনের ডিফেন্স ক্যাজুয়ালটি অ্যানালাইসিস সিস্টেম বা ডিসিএএসের তথ্য অনুযায়ী, এই আটজনকে যুক্ত করার পর ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতে আহত মার্কিন সামরিক সদস্যের সংখ্যা ৮৬১ জনে পৌঁছায়। ওয়াশিংটন পোস্টের পর্যালোচনা অনুযায়ী, একই সময়ে আরও ২৯ জন মার্কিন নৌসদস্যের তথ্য যোগ হওয়ায় মোট আহতের সংখ্যা এক সপ্তাহে ৩৭ জন বেড়েছিল।   মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সামরিক সদস্য আহত হওয়ার তথ্য প্রকাশে অনেক সময় বিলম্ব হতে পারে। কোনো আঘাতের উপসর্গ তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ না পাওয়ায় এবং তথ্যভান্ডার তাৎক্ষণিকভাবে হালনাগাদ না হওয়ায় এমন বিলম্ব হয়। প্রকাশ্য ডিসিএএস তথ্যভান্ডারে ওই আট মেরিন কোথায়, কখন এবং কীভাবে আহত হয়েছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।   হরমুজ প্রণালি সামরিক ও বাণিজ্যিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নৌপথ। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মধ্যে সংযোগ তৈরি করা এই প্রণালির মধ্য দিয়ে বিশ্বের জ্বালানি বাণিজ্যের বড় একটি অংশ পরিবাহিত হয়। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে অঞ্চলটিতে সংঘাত বাড়ার পর বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ও নৌনিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগও বেড়েছে।   মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল সচল রাখতে তারা সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছে। জুলাইয়ে সেন্টকম জানিয়েছিল, ইরানি হামলার পরও প্রণালিটি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য খোলা রয়েছে এবং মার্কিন বাহিনী সেখানে জাহাজ চলাচলে সহায়তা করছে।   সেন্টকমের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ইরানের সামরিক সক্ষমতা এবং বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঝুঁকি কমাতে যুক্তরাষ্ট্র এর আগে ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবস্থা এবং নৌ সক্ষমতার ওপর হামলা চালিয়েছে। মার্কিন বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, এসব অভিযান হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়েছে।   সাম্প্রতিক ঘটনায় মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আহত আট মেরিন গুরুতর অবস্থায় ছিলেন না এবং হামলার পর দ্রুত দায়িত্বে ফিরে যান। তবে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সংঘাতে মার্কিন সামরিক সদস্যদের হতাহতের প্রকৃত চিত্র নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।   সূত্র: এনবিসি নিউজ

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬ ১৪:০
ইরানের ৭ দিনের শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ট্রাম্পের, নির্বাচনের পর ফের হামলার আভাস
ইরানের ৭ দিনের শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ট্রাম্পের, নির্বাচনের পর ফের হামলার আভাস

হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত বন্ধে ইরানের দেওয়া সাত দিনের শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প—এমন তথ্য জানিয়েছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে পত্রিকাটি বলেছে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মানবে কি না তা নিয়ে ট্রাম্প সংশয়ী এবং নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে আবার মার্কিন বোমা হামলা শুরু হতে পারে বলে সহযোগীদের জানিয়েছেন তিনি। তবে হোয়াইট হাউস এখনো প্রকাশ্যে প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দেয়নি।   ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি শুক্রবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাংবাদিকদের জানান, কাতারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি ‘সুনির্দিষ্ট সাত দিনের পরিকল্পনা’ পাঠিয়েছে তেহরান। যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনীয় শর্তগুলো মেনে নিলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলে তিনি জানান। আরাঘচির ভাষায়, সিদ্ধান্ত এখন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে।   প্রস্তাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ তুলে নিতে হবে, ইরানের আটকে থাকা অর্থ ছাড় করতে হবে এবং দেশটির তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞায় ছাড় দিতে হবে। একই সঙ্গে লেবাননসহ আঞ্চলিক বিভিন্ন ফ্রন্টে সংঘাত বন্ধের শর্ত রয়েছে। বিনিময়ে ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে দেবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৃহত্তর আলোচনা শুরু করবে।   অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্য অনুযায়ী, পরিকল্পনাটি সাত দিনের একটি ধাপে বাস্তবায়নের প্রস্তাব দিয়েছে তেহরান। আরাঘচি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র সম্মতি দেওয়ার পর সময় গণনা শুরু হবে; প্রাথমিক পদক্ষেপগুলো কয়েক দিনের মধ্যে নেওয়ার পর ষষ্ঠ দিনে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং সপ্তম দিনে পারস্পরিকভাবে সম্মত বিষয় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।   তবে পারমাণবিক কর্মসূচির ক্ষেত্রে বড় ধরনের ছাড় দেওয়ার ইঙ্গিত দেয়নি ইরান। একজন জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র সাত দিনের প্রস্তাব গ্রহণ করলেও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার কিংবা উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে পাঠানোর প্রশ্নে তেহরান নমনীয় হবে না। প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানও বলেছেন, ইরান আলোচনা করতে প্রস্তুত, কিন্তু চাপ বা জবরদস্তি মেনে নেবে না।   কূটনৈতিক প্রক্রিয়া পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে—এমনটিও এখন পর্যন্ত নিশ্চিত নয়। রয়টার্স জানিয়েছে, এর আগে একজন মার্কিন কর্মকর্তা মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে আলোচনা ‘ইতিবাচক ও গঠনমূলক’ বলে বর্ণনা করেছিলেন। অন্যদিকে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রত্যাখ্যানের খবর প্রকাশের পরও তেহরান বলছে, তারা ওয়াশিংটনের আনুষ্ঠানিক জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে।   সাত দিনের এই প্রস্তাবের পেছনে জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া সমঝোতার কাঠামোও রয়েছে। আরাঘচি বলেছেন, ওয়াশিংটনের কাছে নতুন কোনো দাবি তোলা হয়নি; যুক্তরাষ্ট্রের যেসব পদক্ষেপ চাওয়া হচ্ছে, সেগুলো আগের সমঝোতাতেই ছিল। সেই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ থামাতে পারেনি এবং পরে আবার হামলা-পাল্টা হামলা শুরু হয়।   হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বিষয় নয়। প্রায় সাত মাসের সংঘাতে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথটিতে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। একই সময়ে ইয়েমেনে হুতিদের হামলা সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো ও বিকল্প রেড সি রুটের নিরাপত্তা নিয়েও নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।   এর মধ্যেই ট্রাম্প চলতি সপ্তাহে জাতিসংঘে ইরানকে আরও অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি একই সঙ্গে বলেছিলেন, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর একটি চুক্তি হতে পারে বলে তিনি মনে করেন। ফলে একদিকে ইরানের সাত দিনের দ্রুত সমঝোতার প্রস্তাব, অন্যদিকে নির্বাচনের পর সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে ট্রাম্পের প্রকাশ্য বক্তব্য—দুই পক্ষের সময়সীমা ও শর্তে এখনো বড় ব্যবধান রয়েছে।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ১৪:০
ইরানের সাত দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
ইরানের সাত দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ট্রাম্পের, নতুন হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে মার্কিন বাহিনী

ইরানের প্রস্তাবিত সাত দিনের যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে আবারও বিমান হামলা শুরু হতে পারে বলে ট্রাম্প তাঁর সহযোগীদের জানিয়েছেন বলে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান সাত দিনের জন্য সংঘাত বন্ধ রাখার বিনিময়ে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরুর প্রস্তাব দিয়েছে। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপ করা নৌ অবরোধ তুলে নিতে হবে।   হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মধ্যে অবস্থিত এই জলপথ দিয়ে বিশ্বের বিপুল পরিমাণ তেল ও জ্বালানি পরিবহন হয়। ফলে দীর্ঘ সময় এটি বন্ধ বা সীমিত থাকলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বিশ্ববাজারেও জ্বালানি সরবরাহ ও দামের ওপর প্রভাব পড়তে পারে।   ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ট্রাম্প ইরানের প্রস্তাবে রাজি হননি। তবে দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। কাতারসহ কয়েকটি দেশ সংঘাত কমাতে আলোচনার উদ্যোগে যুক্ত রয়েছে।   ইরানের প্রস্তাবটি এমন সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ ও যুদ্ধের কারণে দেশটির অর্থনীতিতে চাপ বাড়ছে। তেহরান দ্রুত হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা পুনরায় শুরু করার বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়ে সমঝোতার পথ খুঁজছে।   সিবিএস নিউজও জানিয়েছে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং সাত দিনের একটি পরিকল্পনার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু ও বৃহত্তর শান্তি আলোচনা শুরুর প্রস্তাব দিয়েছে।   তবে ওয়াশিংটনের অবস্থান এখনও কঠোর। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ট্রাম্প মনে করছেন ইরান তাঁর দাবিগুলো মেনে নেওয়ার ব্যাপারে অনিচ্ছুক। তাঁর প্রশাসন অর্থনৈতিক চাপ ও নৌ অবরোধ অব্যাহত রাখার মাধ্যমে তেহরানকে আরও অনুকূল শর্তে আলোচনায় আনতে চায়।   ট্রাম্পের অবস্থান নিয়ে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প তাঁর সহযোগীদের জানিয়েছেন, নির্বাচনের পর ইরানে আবার বিমান হামলা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কী ধরনের বা কতটা মাত্রার হামলার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।   এটি ট্রাম্পের সাম্প্রতিক প্রকাশ্য বক্তব্যের সঙ্গেও সম্পর্কিত। ২২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হলে দেশটির বিরুদ্ধে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত তাঁর সামনে রয়েছে। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের পর ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।   তবে ট্রাম্প জাতিসংঘে দাবি করেছেন, তাঁর ইরান নীতি নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছে না। তিনি বলেন, নির্বাচনের সঙ্গে তাঁর সিদ্ধান্তের সম্পর্ক নেই এবং ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বা সংঘাতের অবসান নিয়ে তাঁর অবস্থান একই রয়েছে।   অন্যদিকে, ইরানের পক্ষ থেকেও আলোচনার বিষয়ে কিছু শর্ত দেওয়া হয়েছে। দেশটির কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রকে আগের সমঝোতার কাঠামোর দিকে ফিরে আসার আহ্বান জানাচ্ছেন। তেহরানের অবস্থানের মধ্যে তেল নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা, আটকে থাকা সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ এবং হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনায় ইরানের ভূমিকার মতো বিষয় রয়েছে বলে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   এই অবস্থায় সাত দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব গ্রহণ না করায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক সমঝোতার পথ আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। একই সময়ে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো যুদ্ধ বন্ধ ও হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।   সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এর প্রভাব জ্বালানি বাজারেও পড়তে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্পের বক্তব্যের পর বিশ্ববাজারে তেলের দামের ওঠানামা দেখা গেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও হরমুজ প্রণালি নিয়ে অনিশ্চয়তা বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের ওপর চাপ তৈরি করছে।   এখন পর্যন্ত ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সাত দিনের প্রস্তাব গ্রহণ করেনি। একই সঙ্গে নির্বাচনের পর নতুন করে হামলা হবে কি না, সেটিও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। ফলে যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ, মধ্যস্থতাকারীদের আলোচনা এবং নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, সেটিই এখন নজরে রয়েছে।   সূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, সিবিএস নিউজ, রয়টার্স

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ১৪:০
মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তিতে ফিরতে চায় ইরান। ছবি: সংগৃহীত
মিডটার্ম নির্বাচনের আগেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি চায় ইরান, জাতিসংঘে বার্তা প্রেসিডেন্টের

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তিতে ফিরতে চায় ইরান। বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে এনবিসি নিউজসহ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এ কথা জানান। তিনি জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া সাময়িক যুদ্ধবিরতির সমঝোতায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন।   পেজেশকিয়ান বলেন, বিষয়টি যেন নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মিডটার্ম নির্বাচন পর্যন্ত গড়ায়, তা ইরান চায় না। তিনি জুনের সমঝোতার প্রসঙ্গ তুলে বলেন, নির্বাচনের আগেই যুক্তরাষ্ট্র ওই সমঝোতায় ফিরে আসুক, এটাই তেহরানের প্রত্যাশা। জুনে স্বাক্ষরিত ওই সমঝোতায় সাময়িক যুদ্ধবিরতির কাঠামো ছিল, তবে পরে সেটি ভেঙে যায়।   পেজেশকিয়ানের এই বক্তব্যের দুই দিন আগে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তি সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর হবে। ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরান নির্বাচনের ফলাফল দেখার অপেক্ষায় রয়েছে। তবে একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যোগাযোগ চলছিল।   ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিও বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে সাংবাদিকদের জানান, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি সাত দিনের পরিকল্পনা পাঠিয়েছে। মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে পাঠানো ওই প্রস্তাবে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে সাত দিনের শেষে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা পুনরায় শুরুর কথা বলা হয়েছে।   আরাঘচির ভাষ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবটির শর্তগুলো মূলত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া সমঝোতার কাঠামোর মধ্যেই রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাবে সম্মতি দিলে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন শুরু করার জন্য তেহরান প্রস্তুত রয়েছে। হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর পাশাপাশি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরুর বিষয়টিও প্রস্তাবের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে।   হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরানের এই প্রস্তাব এমন সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাতের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে জাহাজ চলাচলও ঝুঁকির মুখে রয়েছে। ইরানের প্রস্তাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র নির্দিষ্ট শর্ত মেনে নিলে সাত দিনের মধ্যে প্রণালিটি পুনরায় খুলে দেওয়া হতে পারে।   এদিকে পেজেশকিয়ান একই আলোচনায় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পরিদর্শনের বিষয়ে দেশটি উন্মুক্ত রয়েছে বলেও জানান। তিনি আরও বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বা তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার চেষ্টা করা ইরান সরকারের অবস্থান নয়। এর আগে মার্কিন কর্তৃপক্ষ ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পকে হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছিল, যা তেহরান অস্বীকার করেছে।   তবে ইরানের প্রেসিডেন্টের বক্তব্য এখনো কোনো নতুন চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার ঘোষণা নয়। তেহরান আগের সমঝোতায় ফেরার আগ্রহ প্রকাশ করলেও ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে নতুন প্রস্তাবটি গ্রহণের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। ফলে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ চললেও যুদ্ধের অবসান ও নতুন চুক্তির বিষয়ে চূড়ান্ত সমঝোতা এখনো হয়নি।   সূত্র: এনবিসি নিউজ

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ১৪:০
হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানের হাতে আটক মার্কিন চালকবিহীন ডুবো যান। ছবি: সংগৃহীত
আটক মার্কিন ডুবো ড্রোনের প্রযুক্তি রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে নকল করবে ইরান

হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে আটক করা মার্কিন চালকবিহীন ডুবো ড্রোনের প্রযুক্তি বিশ্লেষণ করে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, ড্রোনটির প্রযুক্তি ও কাঠামো পরীক্ষা করে এর রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং শুরু করা হবে।   মঙ্গলবার দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেবি এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সংঘাতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের উন্নত সামরিক প্রযুক্তির মোকাবিলা করার সক্ষমতা দেখিয়েছে। তার দাবি, এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও প্রতিরক্ষা শিল্পে ব্যবহৃত উন্নত প্রযুক্তির কিছু অংশ এখন ইরানের হাতে এসেছে।   মোহেবি বিশেষভাবে মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের কথা উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই যুদ্ধবিমানে উন্নত ধাতব কাঠামো, রাডারে শনাক্ত হওয়া কঠিন করার প্রযুক্তি, উচ্চ উচ্চতায় উড্ডয়ন এবং অস্ত্র বহনের সক্ষমতার মতো প্রযুক্তি রয়েছে। আইআরজিসির এ কর্মকর্তা দাবি করেন, ইরানের উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এফ-৩৫কে লক্ষ্যবস্তু করতে সক্ষম হয়েছে।   ডুবো ড্রোনটি নিয়ে ইরানের বক্তব্যের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও ভিন্ন তথ্য দেওয়া হয়েছে। সেপ্টেম্বরের শুরুতে আইআরজিসি জানায়, তারা হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে একটি মার্কিন চালকবিহীন ডুবো যান আটক করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের ডাইভ-এলডি মডেলের ডুবো যান হিসেবে শনাক্ত করে।   প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ডাইভ-এলডি প্রায় ৫ দশমিক ৮ মিটার দীর্ঘ একটি স্বয়ংক্রিয় ডুবো যান। এটি সমুদ্রতলের মানচিত্র তৈরি, গোয়েন্দা ও নজরদারি কার্যক্রম, পানির নিচের অবকাঠামো পরিদর্শন এবং সমুদ্রপথে মাইন শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করার মতো বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে। যানটি দীর্ঘ সময় পানির নিচে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করার জন্য তৈরি।   তবে ড্রোনটি আটকের গুরুত্ব নিয়ে ওয়াশিংটনের বক্তব্য ইরানের দাবির চেয়ে ভিন্ন। মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ড্রোনটি আটকের আগে ত্রুটির কারণে অচল হয়ে পড়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, এটি পুরোনো মডেলের একটি ড্রোন এবং এতে সংবেদনশীল তথ্য বা শ্রেণিবদ্ধ সোনার ও রাডার সরঞ্জাম ছিল না।   এ কারণে ড্রোনটি ইরানের হাতে যাওয়ার পর দেশটি এর মাধ্যমে কতটা সামরিক সুবিধা নিতে পারবে, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে সতর্কতা রয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে সামরিক প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ব্রায়ান ক্লার্ক বলেছেন, ইরানি প্রকৌশলীরা ড্রোনটির যান্ত্রিক কাঠামো বিশ্লেষণ করতে সক্ষম হতে পারেন। তবে এর সফটওয়্যার ও সুরক্ষা ব্যবস্থা একইভাবে অনুকরণ করা অনেক বেশি কঠিন হতে পারে।   তবে ইরানের জন্য এমন প্রযুক্তি বিশ্লেষণের ঘটনা নতুন নয়। ২০১১ সালে দেশটি মার্কিন আরকিউ-১৭০ সেনটিনেল চালকবিহীন গোয়েন্দা বিমান আটক করার পর সেটির নকশা বিশ্লেষণ করে নিজস্ব সংস্করণ তৈরির দাবি করেছিল। সেই ঘটনার পর থেকে আটক করা মার্কিন প্রযুক্তি ইরানের নিজস্ব সামরিক সরঞ্জাম উন্নয়নে কতটা ভূমিকা রাখে, তা নিয়ে নিয়মিত আলোচনা হয়ে আসছে।   এবারের ডুবো ড্রোন আটকের ঘটনাটি হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ঘটেছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধ রয়েছে। ফলে একটি উন্নত চালকবিহীন ডুবো যান ইরানের হাতে চলে যাওয়ার ঘটনাটি সামরিক প্রযুক্তির পাশাপাশি কৌশলগত দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।   আইআরজিসির মুখপাত্র মোহেবি দাবি করেছেন, ইরানের হাতে বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের যুদ্ধবিমান, সহায়ক ও পরিবহন বিমান, নজরদারি উড়োজাহাজ, ডুবো যান এবং চালকবিহীন যান রয়েছে। তবে এসব দাবির সবকটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।   বিশ্লেষকদের মতে, ড্রোনটির যান্ত্রিক প্রযুক্তি ইরান কিছুটা কাজে লাগাতে পারলেও এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতার বড় কোনো অংশ হুবহু অনুকরণ করা সম্ভব হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। বরং ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের উন্নত চালকবিহীন সামরিক প্রযুক্তি নিয়ে ওয়াশিংটনের প্রচারিত সক্ষমতার ভাবমূর্তির ওপর প্রতীকী প্রভাব ফেলতে পারে।   সূত্র: রয়টার্স, প্রেস টিভি, দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ১৪:০
ট্রাম্প-নেতানিয়াহু ক্ষমতা ছাড়লেই খুলবে হরমুজ
ট্রাম্প-নেতানিয়াহু ক্ষমতা ছাড়লেই খুলবে হরমুজ, ইরানি কর্মকর্তার কড়া বার্তা

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির রাজনৈতিক উপদেষ্টা মোহাম্মদ বাঘের জোলঘাদর বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ক্ষমতা থেকে সরে না যাওয়া পর্যন্ত ইরান হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলবে না। ইরানি সংবাদমাধ্যম ডব্লিউএএনএতে প্রকাশিত বক্তব্যে তিনি এটিকে ইরানের চলমান প্রতিরোধের অংশ হিসেবে তুলে ধরেছেন। তবে এটি ইরানের আনুষ্ঠানিক আলোচনার শর্ত কি না, তা স্পষ্ট নয়।    জোলঘাদরের বক্তব্যে হরমুজ প্রণালির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তিনি প্রণালি বন্ধ রাখাকে ইরানের প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপের প্রথম ধাপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এর আগে আগস্টে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান বন্ধ, মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহার, নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, জব্দ করা সম্পদ ফেরত দেওয়া এবং ক্ষতিপূরণের মতো শর্তের কথা বলেছিলেন। নতুন বক্তব্যে দুই নেতার ক্ষমতা ছাড়ার দাবি যুক্ত হয়েছে।   হরমুজে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ইতোমধ্যে ব্যাপকভাবে কমেছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ১৬ সেপ্টেম্বর মাত্র তিনটি পণ্যবাহী জাহাজ প্রণালিটি অতিক্রম করেছে। আগের ১০ দিনের গড় ছিল প্রায় ১৭টি জাহাজ। তবে কিছু জাহাজ ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রেখে চলাচল করতে পারে, ফলে প্রকাশ্য তথ্য প্রকৃত চলাচলের পুরো চিত্র নাও দেখাতে পারে।   হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি পথ। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হতো। চলাচল কমে যাওয়ায় জ্বালানি সরবরাহ, পরিবহন ব্যয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলোর নেতাদের মধ্যে আলোচনার প্রস্তুতিও চলছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় নিউইয়র্কে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত ও ওমানের নেতাদের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে। আলোচনায় যুদ্ধের পরবর্তী পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা।   ইরানি কর্মকর্তার এই বক্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত সপ্তম মাসে প্রবেশ করেছে। ট্রাম্প সম্প্রতি বলেছেন, তিনি আশা করছেন যুদ্ধ শেষ হওয়ার কাছাকাছি পৌঁছেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত যুদ্ধবিরতি বা শান্তিচুক্তি ঘোষণা হয়নি।   তাই জোলঘাদরের বক্তব্যকে আপাতত একজন শীর্ষ ইরানি কর্মকর্তার প্রকাশ্য অবস্থান হিসেবে দেখা হচ্ছে। এটি পুরো ইরানি সরকারের আনুষ্ঠানিক ও চূড়ান্ত আলোচনার শর্ত কি না, তা নিশ্চিত করতে আরও সরকারি বক্তব্য বা চুক্তির তথ্য প্রয়োজন।   Source: ডব্লিউএএনএ, রয়টার্স

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের পর অস্ট্রেলিয়াতেও অভিবাসন নীতিতে কড়াকড়ি, উদ্বেগে অভিবাসী ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা
যুক্তরাষ্ট্রের পর অস্ট্রেলিয়াতেও অভিবাসন নীতিতে কড়াকড়ি, উদ্বেগে অভিবাসী ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা

হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নৌ-অবরোধের কারণে ইরানের অর্থনীতি ও বাণিজ্যে বড় ধরনের ধস নেমেছে। সমুদ্রপথের এই অবরোধ এড়াতে স্থলপথে তেল ও পণ্য পরিবহনের উদ্যোগ নিলেও সেখানে চরম আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় পড়েছে দেশটি। ইরানের আধা-সরকারি মেহের নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে, তাড়াহুড়ো করে স্থলপথে বাণিজ্য বাড়ানোর চেষ্টার ফলে তুরস্ক ও পাকিস্তান সীমান্তে বর্তমানে প্রায় ৩,৭০০ কার্গো ট্রাক আটকে আছে।   'ইউনিয়ন অব ট্রাকার্স অ্যান্ড ড্রাইভার্স অর্গানাইজেশনস অ্যাক্রস ইরান'-এর পোস্ট করা একটি ভিডিওতে এক চালক অভিযোগ করেছেন, ইরান এই পরিস্থিতির দায় নিচ্ছে না, আবার পাকিস্তানও তাদের কার্গো খালাস করতে দিচ্ছে না। নিজেদের তৈরি করা এই সংকটের কারণে লোহা, সিমেন্ট এবং গ্যাস বহনকারী ট্রাক চালকদের সীমান্তে প্রায় ২০ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে।   রেকর্ড উচ্চমূল্যের জ্বালানির পাশাপাশি ১২০ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রার মধ্যে খাবার, পানি ও স্যানিটেশন সুবিধা ছাড়াই মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন তারা। এর পাশাপাশি ইরাক সীমান্ত থেকেও সৌদি আরবের পাইপলাইনে হামলার কারণে সাময়িকভাবে টার্মিনাল বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন ইরানি চালকরা।   অবরোধের প্রভাব ইরানের সামগ্রিক আমদানি-রপ্তানি খাতকে পঙ্গু করে দিয়েছে। স্যাটেলাইট চিত্র ও কাস্টমস ডেটা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ১৬ আগস্ট পর্যন্ত চলতি ইরানি পঞ্জিকাবর্ষের প্রথম পাঁচ মাসে দেশটির নন-অয়েল বা তেল-বহির্ভূত পণ্য রপ্তানি প্রায় ৩০ শতাংশ কমে মাত্র ১৫ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা আগের অর্থবছরে ছিল ৪৫ বিলিয়ন ডলার।   মেরিটাইম ইন্টেলিজেন্স ফার্ম ভরটেক্সার মতে, আগস্ট মাসে ইরানের তেল রপ্তানি কমে দাঁড়িয়েছে প্রতিদিন প্রায় ২ লাখ ১০ হাজার ব্যারেলে, যা যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় মাত্র ১০ শতাংশ এবং ২০২০ সালের পর সর্বনিম্ন। অন্যদিকে, ইরানের আমদানিও প্রায় ২৫ শতাংশ কমে ১৭ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। এমন পরিস্থিতিতে ৯ কোটি ৩০ লাখ মানুষের দেশটিতে মূল্যস্ফীতি চরম আকার ধারণ করেছে এবং ইরানি মুদ্রার মান ডলারের বিপরীতে রেকর্ড ২.২ মিলিয়নে নেমে এসেছে।   বাণিজ্যিক এই অচলাবস্থা কাটাতে বিকল্প পথের সন্ধান করছে তেহরান। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাশিয়া থেকে গম, ভুট্টা এবং ভোজ্যতেল আমদানির জন্য গত পাঁচ মাসে কাস্পিয়ান সাগর দিয়ে ট্রানজিট প্রায় ৭০ শতাংশ বাড়িয়েছে তারা।   তেহরান টাইমসের মতে, চীনের সাথে রেল যোগাযোগও আগের সাপ্তাহিক সূচির বদলে এখন প্রতি তিন-চার দিন অন্তর চলছে। তা সত্ত্বেও আমদানি খাতের বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, রেল ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাসহ স্থলপথের এই বাধাগুলোর কারণে ইরানে আসা পণ্যের দাম প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বেড়ে যাচ্ছে।   এত কিছুর পরও ইরানের কট্টরপন্থীরা দাবি করছেন যে, আরব উপদ্বীপের দুই পাশেই তাদের প্রক্সি বাহিনী তেল ও কার্গো পরিবহনে যে ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে, তার মাধ্যমে তারা যেকোনো অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলা করে টিকে থাকতে সক্ষম হবে।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১৪:০
মার্কিন অবরোধে ধসে পড়ছে ইরানের অর্থনীতি, সীমান্তে আটকা হাজারো ট্রাক
মার্কিন অবরোধে ধসে পড়ছে ইরানের অর্থনীতি, সীমান্তে আটকা হাজারো ট্রাক

হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নৌ-অবরোধের কারণে ইরানের অর্থনীতি ও বাণিজ্যে বড় ধরনের ধস নেমেছে। সমুদ্রপথের এই অবরোধ এড়াতে স্থলপথে তেল ও পণ্য পরিবহনের উদ্যোগ নিলেও সেখানে চরম আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় পড়েছে দেশটি। ইরানের আধা-সরকারি মেহের নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে, তাড়াহুড়ো করে স্থলপথে বাণিজ্য বাড়ানোর চেষ্টার ফলে তুরস্ক ও পাকিস্তান সীমান্তে বর্তমানে প্রায় ৩,৭০০ কার্গো ট্রাক আটকে আছে।   'ইউনিয়ন অব ট্রাকার্স অ্যান্ড ড্রাইভার্স অর্গানাইজেশনস অ্যাক্রস ইরান'-এর পোস্ট করা একটি ভিডিওতে এক চালক অভিযোগ করেছেন, ইরান এই পরিস্থিতির দায় নিচ্ছে না, আবার পাকিস্তানও তাদের কার্গো খালাস করতে দিচ্ছে না। নিজেদের তৈরি করা এই সংকটের কারণে লোহা, সিমেন্ট এবং গ্যাস বহনকারী ট্রাক চালকদের সীমান্তে প্রায় ২০ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে।   রেকর্ড উচ্চমূল্যের জ্বালানির পাশাপাশি ১২০ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রার মধ্যে খাবার, পানি ও স্যানিটেশন সুবিধা ছাড়াই মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন তারা। এর পাশাপাশি ইরাক সীমান্ত থেকেও সৌদি আরবের পাইপলাইনে হামলার কারণে সাময়িকভাবে টার্মিনাল বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন ইরানি চালকরা।   অবরোধের প্রভাব ইরানের সামগ্রিক আমদানি-রপ্তানি খাতকে পঙ্গু করে দিয়েছে। স্যাটেলাইট চিত্র ও কাস্টমস ডেটা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ১৬ আগস্ট পর্যন্ত চলতি ইরানি পঞ্জিকাবর্ষের প্রথম পাঁচ মাসে দেশটির নন-অয়েল বা তেল-বহির্ভূত পণ্য রপ্তানি প্রায় ৩০ শতাংশ কমে মাত্র ১৫ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা আগের অর্থবছরে ছিল ৪৫ বিলিয়ন ডলার।   মেরিটাইম ইন্টেলিজেন্স ফার্ম ভরটেক্সার মতে, আগস্ট মাসে ইরানের তেল রপ্তানি কমে দাঁড়িয়েছে প্রতিদিন প্রায় ২ লাখ ১০ হাজার ব্যারেলে, যা যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় মাত্র ১০ শতাংশ এবং ২০২০ সালের পর সর্বনিম্ন। অন্যদিকে, ইরানের আমদানিও প্রায় ২৫ শতাংশ কমে ১৭ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। এমন পরিস্থিতিতে ৯ কোটি ৩০ লাখ মানুষের দেশটিতে মূল্যস্ফীতি চরম আকার ধারণ করেছে এবং ইরানি মুদ্রার মান ডলারের বিপরীতে রেকর্ড ২.২ মিলিয়নে নেমে এসেছে।   বাণিজ্যিক এই অচলাবস্থা কাটাতে বিকল্প পথের সন্ধান করছে তেহরান। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাশিয়া থেকে গম, ভুট্টা এবং ভোজ্যতেল আমদানির জন্য গত পাঁচ মাসে কাস্পিয়ান সাগর দিয়ে ট্রানজিট প্রায় ৭০ শতাংশ বাড়িয়েছে তারা।   তেহরান টাইমসের মতে, চীনের সাথে রেল যোগাযোগও আগের সাপ্তাহিক সূচির বদলে এখন প্রতি তিন-চার দিন অন্তর চলছে। তা সত্ত্বেও আমদানি খাতের বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, রেল ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাসহ স্থলপথের এই বাধাগুলোর কারণে ইরানে আসা পণ্যের দাম প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বেড়ে যাচ্ছে।   এত কিছুর পরও ইরানের কট্টরপন্থীরা দাবি করছেন যে, আরব উপদ্বীপের দুই পাশেই তাদের প্রক্সি বাহিনী তেল ও কার্গো পরিবহনে যে ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে, তার মাধ্যমে তারা যেকোনো অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলা করে টিকে থাকতে সক্ষম হবে।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১৪:০
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের অবসান নিয়ে কথা বলছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ একদম শেষের পথে, ইরানি কর্মকর্তাদের সাথে সরাসরি চুক্তির দাবি ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ ‘আশা করছি শেষের দিকে’ এগোচ্ছে। বুধবার তিনি দাবি করেন, ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁর সরাসরি কথা হয়েছে এবং তেহরান একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী। তবে ইরানের পক্ষ থেকে ট্রাম্পের এই বক্তব্যের বিষয়ে একই ধরনের নিশ্চিত ঘোষণা পাওয়া যায়নি।    ট্রাম্পের বক্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত সপ্তম মাসে গড়িয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথিদের সঙ্গে সৌদি আরবের লড়াইও সাম্প্রতিক সময়ে তীব্র হয়েছে। এতে আঞ্চলিক সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।    ট্রাম্প এর আগে একাধিকবার দাবি করেছেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করতে আগ্রহী। জুনে তিনি বলেছিলেন, দুই দেশের আলোচনায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে। তবে আলোচনার কাঠামো, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে।    ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগের সম্ভাবনা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে আঞ্চলিক পর্যায়েও তৎপরতা বেড়েছে। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ১৬ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে সংযত হয়ে আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি জুনে হওয়া অন্তর্বর্তী শান্তি সমঝোতার কাঠামোয় ফিরে যাওয়ার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি পুনরায় স্বাভাবিকভাবে চালুর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।    তবে যুদ্ধ শেষ হওয়ার বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত চুক্তি বা আনুষ্ঠানিক শান্তি ঘোষণা হয়নি। বরং একই সময়ে ইরান-সমর্থিত হুথিদের সঙ্গে সৌদি বাহিনীর সংঘর্ষ এবং মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো ঘিরে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। ফলে ট্রাম্পের বক্তব্যকে সম্ভাব্য কূটনৈতিক অগ্রগতির ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হলেও যুদ্ধের সমাপ্তি নিশ্চিত হয়েছে এমন তথ্য এখনো নেই।    যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা হলে এর প্রভাব শুধু দুই দেশের সম্পর্কেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার এবং মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তার ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে। তবে কোনো চুক্তি হলে তার শর্ত এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াই পরবর্তী পরিস্থিতি নির্ধারণ করবে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ১৪:০
হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে মার্কিন চালকবিহীন ডুবোযান জব্দের দাবি করেছে ইরান। ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক সাবমেরিন ড্রোন আটকের দাবি ইরানের

হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে একটি মার্কিন চালকবিহীন ডুবোজাহাজ জব্দ করার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসি। মঙ্গলবার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে এ দাবি প্রকাশের পর ঘটনাটি নিয়ে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, ওই ডুবোযানটি এক দিনেরও বেশি সময় আগে ত্রুটির কারণে অচল হয়ে পড়েছিল এবং এতে কোনো সংবেদনশীল তথ্য বা শ্রেণিবদ্ধ সরঞ্জাম ছিল না।   ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে আইআরজিসির নৌবাহিনীর এক বিবৃতি উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে তারা যুক্তরাষ্ট্রের একটি আধুনিক চালকবিহীন ডুবোজাহাজ আটক করেছে। ইরানের দাবি, ডুবোযানটিতে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।   ইরানি সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ডুবোযানটি ‘ডাইভ-এলডি’ মডেলের একটি স্বয়ংক্রিয় ডুবোযান। এটি ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যান্ডুরিল তৈরি করেছে। প্রায় ৫ দশমিক ৮ মিটার দীর্ঘ এই যানটি মানুষের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই সমুদ্রের নিচে বিভিন্ন ধরনের অভিযান পরিচালনা করতে পারে।   অ্যান্ডুরিলের তথ্য অনুযায়ী, ডাইভ-এলডি সমুদ্রের তলদেশের মানচিত্র তৈরি, সমুদ্রের নিচে মাইন শনাক্ত ও অপসারণে সহায়তা, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং কেবল ও পাইপলাইনের মতো পানির নিচের অবকাঠামো পরিদর্শনের কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি একবার ঘাঁটি থেকে বের হওয়ার পর সর্বোচ্চ ১০ দিন পর্যন্ত কার্যক্রম চালাতে সক্ষম এবং প্রায় ৬ হাজার মিটার গভীরতায় নামার জন্য নকশা করা হয়েছে।   তবে ইরানের ‘জব্দ’ করার দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর বা পেন্টাগনের বক্তব্য ভিন্ন। পেন্টাগনের এক মুখপাত্র রয়টার্সকে জানিয়েছেন, একটি ডুবো ড্রোন এক দিনেরও বেশি সময় আগে ত্রুটির কারণে অচল হয়ে পড়েছিল। সেটি আঞ্চলিক জলসীমা পর্যবেক্ষণের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল। মার্কিন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, ড্রোনটি পুরোনো একটি মডেল ছিল এবং এতে কোনো সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করা হয়নি। একই সঙ্গে এতে শ্রেণিবদ্ধ সোনার বা রাডার সরঞ্জামও ছিল না বলে পেন্টাগন জানিয়েছে।   তবে পেন্টাগনের বক্তব্যে ডুবোযানটি কীভাবে ইরানের হাতে পৌঁছেছে বা ইরান সেটি জব্দ করেছে কি না, সে বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য করা হয়নি। রয়টার্সও ঘটনাটি স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। অ্যান্ডুরিলের কাছ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।   ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা তীব্র। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ এই প্রণালির মধ্য দিয়ে যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ যাতায়াত করত। সাম্প্রতিক সংঘাত ও নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে এই পথে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে মাত্র সাতটি পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করেছে, আগের দিন যা ছিল আটটি।   হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব শুধু জ্বালানি পরিবহনের জন্য নয়। পারস্য উপসাগর থেকে এশিয়া ও বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের অন্যতম প্রধান পথ এটি। ফলে এই অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে জ্বালানি সরবরাহ, পরিবহন ব্যয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়ে।   মার্কিন সামরিক বাহিনী সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চালকবিহীন নৌযান ও ডুবোযানের ব্যবহার বাড়ানোর দিকে জোর দিচ্ছে। এর অন্যতম কারণ হলো, মানুষের জীবন ঝুঁকিতে না ফেলে সমুদ্রের বিশাল এলাকায় নজরদারি, তথ্য সংগ্রহ এবং সম্ভাব্য হুমকি শনাক্ত করা। এসব প্রযুক্তি প্রচলিত সামরিক সরঞ্জামের তুলনায় অনেক ক্ষেত্রে কম খরচে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করতে পারে।   ডাইভ-এলডি সেই নতুন প্রজন্মের স্বয়ংক্রিয় ডুবোযানগুলোর একটি। অ্যান্ডুরিলের তথ্য অনুযায়ী, এটি দীর্ঘ সময় পানির নিচে অবস্থান করে বিভিন্ন ধরনের তথ্য সংগ্রহ করতে পারে। ২০২৪ সালে মার্কিন সামরিকবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ডিফেন্সস্কুপ জানিয়েছিল, প্রতিটি ডাইভ-এলডির মূল্য প্রায় ২৫ লাখ ডলার।   ইরানের হাতে এমন একটি মার্কিন ডুবোযান চলে যাওয়ার দাবি সত্য হলে ঘটনাটি সামরিক প্রযুক্তির দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে। কারণ একটি স্বয়ংক্রিয় ডুবোযান কী ধরনের সেন্সর, যোগাযোগব্যবস্থা ও নেভিগেশন প্রযুক্তি ব্যবহার করে, তা প্রতিপক্ষের হাতে গেলে সেগুলো বিশ্লেষণের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে বর্তমান ঘটনায় ইরান আসলে কী ধরনের ডুবোযান জব্দ করেছে এবং সেটির ভেতরের প্রযুক্তি কতটা অক্ষত রয়েছে, তা এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রভাব হরমুজ প্রণালির বাইরেও ছড়িয়ে পড়ছে। মঙ্গলবার সৌদি আরবের কয়েকটি শহরে ইরান-সমর্থিত হুথিদের হামলায় ৭০ জনের বেশি মানুষ আহত হওয়ার খবর এসেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে জাহাজ ও তেল পরিবহনকে ঘিরে পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপও হয়েছে। এসব ঘটনায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ছয় সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে।   ফলে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন ডুবোযান নিয়ে ইরানের দাবি কেবল একটি সামরিক সরঞ্জাম আটকের ঘটনা নয়, বরং দুই দেশের চলমান সংঘাতে পানির নিচের স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহার কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে, তারও একটি উদাহরণ। তবে ডুবোযানটির প্রকৃত অবস্থা এবং এটি কীভাবে ইরানের হাতে এসেছে, সে বিষয়ে পেন্টাগন ও ইরানের বক্তব্যের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। স্বাধীনভাবে যাচাই না হওয়া পর্যন্ত ইরানের ‘জব্দ’ করার দাবিকে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা যাচ্ছে না।   সূত্র: রয়টার্স

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ১৪:০
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় উদ্ভূত পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় দেশগুলোর কৌশলগত সক্ষমতা বাড়ানোর জোর তাগিদ দিয়েছেন আমিরাতের কর্মকর্তা আনোয়ার গারগাশ। ছবি: সংগৃহীত
‘হরমুজ এড়াতে বিকল্প পথ!’ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় নতুন কৌশলে উপসাগরীয় দেশগুলো

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালির বিকল্প পথ খুঁজছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের কর্মকর্তারা বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য কৌশলগতভাবে নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল এসব দেশ এখন দক্ষিণ কোরিয়া, ইউক্রেন ও তুরস্কের মতো অন্যান্য দেশের সঙ্গেও সামরিক সহযোগিতা বাড়াচ্ছে।   আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত হিলি ফোরাম ২০২৬-এ সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে এর অর্থ যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া নয়। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘদিনের ও আস্থাভিত্তিক অংশীদারত্ব সংযুক্ত আরব আমিরাতের নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং শক্তির উৎস হিসেবে থাকবে। নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানো এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অংশীদারত্ব বজায় রাখা পরস্পরবিরোধী নয় বলেও তিনি জানান।   গারগাশ বলেন, ইরান তাদের প্রতিবেশী দেশ এবং কোনো এক পর্যায়ে দেশটির সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের পথ খুঁজে বের করতে হবে। ভৌগোলিক বাস্তবতার কারণে ইরানের সঙ্গে যোগাযোগের কোনো বিকল্প নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তবে প্রয়োজনীয় ও কার্যকর সম্পর্ক পুনর্গঠন করা এবং ভেঙে যাওয়া আস্থা পুনর্গঠন করা এক বিষয় নয়। তার মতে, সম্পর্ক পুনর্গঠন প্রয়োজনীয় হলেও আস্থা ফিরিয়ে আনা অনেক বেশি কঠিন হবে।   যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও পরিস্থিতি সামলানো কঠিন হয়ে উঠেছে। ওয়াশিংটন ইরানের ওপর সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করছে। একই সময়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর অর্থনীতি ও জনগণের সঙ্গে ইরানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় মার্কিন চাপের প্রভাব যেন তাদের ওপর বড় ধরনের ক্ষতি না করে, সেটিও বিবেচনায় রাখতে হচ্ছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সীমিত পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়েছে। শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানায়, তারা ইরানের তিনটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে। এর একটি ছিল দেশটির প্রধান তেল টার্মিনাল খার্গ দ্বীপের কাছে। এর আগে ইরান দুটি মার্কিন নৌযানের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে।   ট্রাম্প প্রশাসন ইঙ্গিত দিয়েছে, নতুন করে ব্যাপক সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনা কম। এর পরিবর্তে নৌ অবরোধ ও একাধিক নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে ইরানের ওপর চাপ বাড়িয়ে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়াসহ বিভিন্ন বিষয়ে ছাড় আদায়ের চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অর্থনৈতিক চাপ ইরানকে নতি স্বীকারে বাধ্য করবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। ইরানি কর্মকর্তারাও সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে অর্থনীতিতে চাপের কথা স্বীকার করেছেন। কিন্তু আলোচনায় আগ্রহ বাড়ানোর পরিবর্তে দেশটি হামলা ও কঠোর বক্তব্য আরও বাড়িয়েছে।   কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানির উপদেষ্টা মাজেদ আল-আনসারি বলেন, সংকটটি ধীরে ধীরে নতুন স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে পরিণত হওয়ার আশঙ্কাই এখন বড় হুমকি। তার মতে, পরিস্থিতিকে আর শুরু ও শেষের নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকা সাময়িক সংকট হিসেবে দেখা হচ্ছে না। তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নিষেধাজ্ঞা কর্মসূচি ইরানের ওপর কাঙ্ক্ষিত প্রভাব ফেলবে কি না, তা নিশ্চিত নয়। কারণ ইরান দীর্ঘদিন ধরে নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলা করে আসছে এবং নতুন চাপ উল্টো দেশটির মানুষের মধ্যে ঐক্য বাড়াতে পারে।   যুদ্ধ শেষ করার ক্ষেত্রেও বড় বাধা রয়েছে বলে মনে করেন আল-আনসারি। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কিংবা ইরান, কোনো পক্ষই যুদ্ধে নিজেদের ব্যর্থ হিসেবে দেখাতে চায় না। ফলে উভয় পক্ষের জন্য গ্রহণযোগ্য ফল নির্ধারণ করে যুদ্ধ শেষ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, অঞ্চলে আন্তর্জাতিক বাহিনী ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত জোট গুরুত্বপূর্ণ হলেও তা যথেষ্ট নয়। নিরাপত্তার ক্ষেত্রে স্বনির্ভরতাই সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ বলে তিনি মন্তব্য করেন।   যুদ্ধের প্রভাব শুধু উপসাগরীয় অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ নেই। হরমুজ প্রণালিতে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে খাদ্য, জ্বালানি ও সার পণ্যের দাম বেড়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও ওমান হরমুজ প্রণালির বাইরে থাকা বন্দর ব্যবহার করে তেল রপ্তানি এবং অন্যান্য পণ্য আমদানি চালিয়ে যেতে পারছে। অন্যদিকে কুয়েত, কাতার ও বাহরাইনের মতো দেশগুলো বেশি সমস্যায় পড়েছে, কারণ তাদের এমন স্থলসীমান্ত নেই, যার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে সহজে পণ্য পরিবহন করা যায়।   কাতারের ক্ষেত্রে পরিস্থিতির প্রভাব আরও স্পষ্ট হয়েছে। আল-আনসারি বলেন, একটি ড্রোন হামলার মাধ্যমে ইরান কাতারের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের প্রায় ৭০ শতাংশ অচল করে দিতে সক্ষম হয়েছিল। কাতারের এই গ্যাস সরবরাহ বিশ্বের মোট তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশের সমান।   যুদ্ধ থেকে সামুদ্রিক শক্তির সীমাবদ্ধতাও স্পষ্ট হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অবসরপ্রাপ্ত ভাইস অ্যাডমিরাল জন ডব্লিউ. মিলার। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড ও পঞ্চম নৌবহরের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী স্থল ও সমুদ্রে ইরানের উল্লেখযোগ্য লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসে সাফল্য পেলেও ইরান থেকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এখনও হরমুজ প্রণালিতে পৌঁছাতে পারছে।   মিলার বলেন, সামরিক সাফল্য থাকলেও এর সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। তিনি সোমালিয়ার জলদস্যুদের উদাহরণ দিয়ে বলেন, ছোট নৌযান ব্যবহার করেও তারা বড় পণ্যবাহী জাহাজ দখল করে জিম্মি করতে এবং মুক্তিপণ দাবি করতে সক্ষম হয়েছিল। তার মতে, সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকে এখন কী করা সম্ভব, তা নতুন করে বিবেচনা করতে হবে। হুমকি শুধু হরমুজ প্রণালিতেই সীমাবদ্ধ নয়, বাব আল-মান্দাব প্রণালিতেও রয়েছে। ওই এলাকাতেও হুথি বিদ্রোহীদের হামলা বাড়ছে।   সূত্র: ওয়াশিংটন পোস্ট

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের একটি যুদ্ধজাহাজকে লক্ষ্য করে নতুন ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার দাবি করেছে ইরান। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে প্রথমবার ডেস্ট্রয়ার-বিধ্বংসী ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

যুক্তরাষ্ট্রের একটি যুদ্ধজাহাজকে লক্ষ্য করে প্রথমবারের মতো ইরানে তৈরি নতুন একটি জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করার দাবি করেছে তেহরান। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজায়ী বলেছেন, প্রায় ৪৮ ঘণ্টা আগে মার্কিন একটি যুদ্ধজাহাজের ওপর ওই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করা হয় এবং এর পর জাহাজটি সরে যায়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের এই নির্দিষ্ট দাবির সত্যতা নিশ্চিত করা হয়নি।   রোববার ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রেজায়ী বলেন, প্রথমবারের মতো একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজের বিরুদ্ধে ইরানের তৈরি জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করা হয়েছে। তাঁর দাবি, ক্ষেপণাস্ত্রটি মার্কিন বাহিনীর জন্য বড় ধরনের হুমকি তৈরি করেছিল এবং জাহাজটি এলাকা ছেড়ে চলে যায়। তিনি অবশ্য কোন জাহাজকে লক্ষ্য করা হয়েছিল বা ঠিক কোথায় এই পরীক্ষা চালানো হয়েছে, তা জানাননি।   ইরানের এই দাবির পর যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার বিষয়ে মন্তব্য করেনি। তবে মার্কিন বাহিনী জানিয়েছে, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী এর আগে দুটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ওই দুটি যুদ্ধজাহাজ হামলা এড়িয়ে যেতে সক্ষম হয় এবং কোনো মার্কিন সেনা হতাহত হয়নি।   সেন্টকম আরও জানিয়েছে, ইরানের হামলার পর তারা তিনটি ইরানি তেলবাহী জাহাজ অচল করে দিয়েছে। মার্কিন বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাব হিসেবেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ফলে রেজায়ীর নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের দাবি এমন এক সময়ে এসেছে, যখন হরমুজ প্রণালি ও আশপাশের জলসীমায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা দ্রুত বাড়ছে।   রেজায়ী একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়েও কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, ইরান শিগগিরই প্রণালির বাইরে একটি নতুন ‘নিষিদ্ধ বা সীমিত’ নৌ চলাচল অঞ্চল ঘোষণা করবে। ওই এলাকায় অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করা জাহাজকে ইরানের নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হতে পারে। এতে বিমা পাওয়া ও পরবর্তী সময়ে সমুদ্রপথে চলাচলের ক্ষেত্রেও জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেছেন।   হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। পারস্য উপসাগর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহনে এই জলপথ ব্যবহৃত হয়। ফলে সেখানে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও সমুদ্রবাণিজ্যেও এর প্রভাব পড়তে পারে।   এর মধ্যেই ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে আন্তর্জাতিক চাপ তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার পরিচালনা পর্ষদে এমন একটি খসড়া প্রস্তাব তুলেছে, যাতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়টি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পাঠানোর পথ তৈরি হতে পারে। প্রস্তাবটির মূল লক্ষ্য ইরানকে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আরও তথ্য দিতে এবং আইএইএ পরিদর্শকদের পূর্ণাঙ্গভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে চাপ দেওয়া।   আইএইএর মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি জানিয়েছেন, ইরান এখনো সংস্থাটিকে তার পারমাণবিক কর্মসূচি ও পারমাণবিক উপাদানের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পূর্ণাঙ্গ তথ্য ও প্রবেশাধিকার দিচ্ছে না। তাঁর মতে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর পূর্ণ নজরদারি পুনরায় চালু করা জরুরি।   তবে তেহরান এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় দেশটির পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর সেখানে আইএইএর পরিদর্শন চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তাঁর দাবি, পশ্চিমা দেশগুলো রাজনৈতিক চাপ তৈরির জন্য আইএইএর পারমাণবিক ইস্যুকে ব্যবহার করছে।   বাঘাই আরও সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে নতুন কোনো প্রস্তাব পাস হলে তেহরান প্রয়োজনীয় পালটা পদক্ষেপ নেবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর তৈরি পরিস্থিতি বিবেচনায় না নিয়ে পরিদর্শন পুনরায় চালুর দাবি গ্রহণযোগ্য নয়।   এদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি কূটনৈতিক চাপও বাড়ছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল, ইরানের তেল রপ্তানি এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দুই দেশের অবস্থান এখনও অনেক দূরে। সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র ও জাহাজকেন্দ্রিক পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।   তবে ইরানের দাবি অনুযায়ী নতুন জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রটি কোনো মার্কিন যুদ্ধজাহাজে আঘাত করেছে কি না, কিংবা কোনো জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের এই নির্দিষ্ট দাবি স্বীকার করেনি। ফলে ঘটনাটি আপাতত ইরানের পক্ষ থেকে করা একটি সামরিক দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১৪:০
হরমুজ প্রণালির নাম পরিবর্তন করে ‘ট্রাম্প স্ট্রেইট’ করার প্রস্তাব  প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের
হরমুজ প্রণালির নাম পরিবর্তন করে ‘ট্রাম্প স্ট্রেইট’ করার প্রস্তাব প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ভৌগোলিক স্থান, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনার নাম পরিবর্তন বা পুনঃনামকরণের উদ্যোগ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। লেক অন্টারিওর নাম ‘লেক আমেরিকা’ করার পর এবার হরমুজ প্রণালির নাম ‘ট্রাম্প স্ট্রেইট’ করার প্রস্তাবও সামনে এসেছে। তবে এসব উদ্যোগের সবগুলো একই ধরনের নয় - কিছু ইতোমধ্যে ফেডারেল পর্যায়ে কার্যকর হয়েছে, আবার কিছু এখনো প্রস্তাব বা রাজনৈতিক উদ্যোগের পর্যায়ে রয়েছে।    সবচেয়ে আলোচিত পরিবর্তনগুলোর একটি হলো লেক অন্টারিওকে ‘লেক আমেরিকা’ নাম দেওয়া। ২৭ আগস্ট জারি করা নির্বাহী আদেশে ট্রাম্প মার্কিন ফেডারেল নথি ও জিওগ্রাফিক নেমস ইনফরমেশন সিস্টেম (জিএনআইএস)-এ নতুন নাম ব্যবহারের নির্দেশ দেন। তবে লেকটি যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে অবস্থিত হওয়ায় কানাডা এই নাম গ্রহণ করেনি এবং দেশটি এখনো ‘লেক অন্টারিও’ নামই ব্যবহার করছে।    এর আগে ২০২৫ সালে ট্রাম্প গালফ অব মেক্সিকোকে ‘গালফ অব আমেরিকা’ নামে অভিহিত করার উদ্যোগ নেন। একই সময়ে উত্তর আমেরিকার সর্বোচ্চ পর্বত ডেনালির ফেডারেল নাম আবার ‘মাউন্ট ম্যাককিনলি’ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে ডেনালি ন্যাশনাল পার্ক অ্যান্ড প্রিজার্ভের নাম অপরিবর্তিত রয়েছে।    সামরিক স্থাপনাতেও নাম পরিবর্তন হয়েছে। ২০২৫ সালে ট্রাম্প প্রশাসন নয়টি আর্মি ঘাঁটির নাম পরিবর্তন বা আগের নাম ফিরিয়ে আনে। এর মধ্যে ফোর্ট লিবার্টিকে আবার ফোর্ট ব্র্যাগ এবং ফোর্ট মুরকে ফোর্ট বেনিং করা হয়। এগুলো ট্রাম্পের নিজের নামে করা হয়নি; বরং আগের নাম ফিরিয়ে দেওয়া বা নতুন ব্যক্তির নামে নামকরণ করা হয়েছে।    সরকারি ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান নিয়েও একই ধরনের বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কেনেডি সেন্টারের বোর্ডে ট্রাম্পের সমর্থকেরা তাঁর নাম যুক্ত করে প্রতিষ্ঠানটিকে ‘ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প অ্যান্ড জন এফ. কেনেডি মেমোরিয়াল সেন্টার ফর দ্য পারফর্মিং আর্টস’ হিসেবে পরিচিত করার উদ্যোগ নিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আইনি চ্যালেঞ্জও হয়েছে, কারণ প্রতিষ্ঠানটি কংগ্রেসের আইনে প্রতিষ্ঠিত।    এদিকে ইউনাইটেড স্টেটস ইনস্টিটিউট অব পিস-এর ওয়াশিংটন সদর দপ্তরকেও ট্রাম্পের নামে পরিচিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আইনি বিরোধ চলার মধ্যেই এই নাম ব্যবহারের পদক্ষেপ নেওয়া হয়।    সবচেয়ে সাম্প্রতিক প্রস্তাবগুলোর একটি হরমুজ প্রণালি নিয়ে। ২ সেপ্টেম্বর ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৌশলগত এই জলপথের নাম ‘ট্রাম্প স্ট্রেইট’ করার কথা বলেন। পরে ওভাল অফিসে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি তিনি শুধু ‘উত্থাপন’ করেছিলেন। ফলে এটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নয়।    এ ছাড়া নিউইয়র্কের পেন স্টেশন ও ওয়াশিংটন ডালেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ট্রাম্পের নামে করার ধারণাও আলোচনায় এসেছে। তবে এগুলোও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর নাম পরিবর্তন নয়।    ট্রাম্পের নাম যুক্ত হয়েছে এমন আরও কিছু উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে ভবিষ্যৎ ‘ট্রাম্প-ক্লাস’ যুদ্ধজাহাজ, ২০২৬ সালের একটি ট্রাম্পের প্রতিকৃতিযুক্ত ১ ডলারের মুদ্রা এবং আর্মেনিয়ার একটি প্রস্তাবিত পরিবহন করিডোরের নাম ‘ট্রাম্প রুট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিস অ্যান্ড প্রসপারিটি’। ফ্লোরিডায় পাম বিচ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম ট্রাম্পের নামে পরিবর্তনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে, যদিও সেটি রাজ্য পর্যায়ের উদ্যোগ এবং ফেডারেল অনুমোদনের বিষয় রয়েছে।    তবে প্রেসিডেন্টের নির্বাহী আদেশের ক্ষমতারও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ফেডারেল সরকার তার নিজস্ব নথি, মানচিত্র ও সরকারি যোগাযোগে নতুন নাম ব্যবহার করতে পারে। কিন্তু কোনো নির্বাহী আদেশ অন্য দেশ, অঙ্গরাজ্য, আন্তর্জাতিক সংস্থা বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপর স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাধ্যতামূলক নয়। লেক অন্টারিওর ক্ষেত্রে কানাডা এখনো পুরোনো নাম ব্যবহার করছে - যা এই সীমাবদ্ধতার একটি স্পষ্ট উদাহরণ।    নাম পরিবর্তনের উদ্যোগগুলো নিয়ে জনমতও বিভক্ত নয়, বরং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বিরোধিতার চিত্র পাওয়া গেছে। রয়টার্স/ইপসোসের ২৮-৩০ আগস্টের জরিপে ৬৩ শতাংশ মার্কিন নাগরিক লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তনের বিরোধিতা করেছেন, বিপরীতে সমর্থন করেছেন ১৪ শতাংশ। 

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজসহ ছয়টি জাহাজে ইরানের বিপ্লবী গার্ডের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ৩ যুদ্ধজাহাজসহ ৬ জাহাজে ইরানের বিপ্লবী গার্ডের হামলা

যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার পর পাল্টা হামলার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড। শনিবার ইরানি বাহিনী জানিয়েছে, তারা তিনটি মার্কিন জাহাজ এবং হরমুজ প্রণালিতে অনুমোদনহীন পথে চলাচল করা আরও তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে। তবে মার্কিন কর্তৃপক্ষ এখনো ইরানের এই দাবি নিশ্চিত করেনি।   এর আগে শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম জানায়, ইরানের বিপ্লবী গার্ড দুটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার পর তিনটি ইরানি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এসব হামলায় কোনো মার্কিন সেনা হতাহত হয়নি। মার্কিন সামরিক বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার লক্ষ্য ছিল খার্গ দ্বীপের কাছে থাকা এমটি ডাউনি, জাস্কের কাছে এমটি স্টার্ক-১ এবং ওমান উপসাগরে থাকা এমটি কাইলো, যেটি নক্সেন নামেও পরিচিত। সেন্টকম জানিয়েছে, প্রথম দুটি ট্যাংকারকে স্থায়ীভাবে অচল করে দেওয়া হয়েছে এবং তৃতীয়টি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ট্যাংকারগুলো ইরানের একটি বৃহৎ গোপন তেল বাণিজ্য নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত ছিল এবং এই নেটওয়ার্ক থেকে বিপ্লবী গার্ড ও তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের অর্থায়ন করা হয়। তবে ইরান এই অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করেনি। এরপর ইরানের বিপ্লবী গার্ড পাল্টা হামলার দাবি করে। ইরানি কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, হরমুজ প্রণালির নির্ধারিত রুটের বাইরে চলাচল করা তিনটি বাণিজ্যিক তেলবাহী জাহাজেও হামলা চালানো হয়েছে। পাশাপাশি তিনটি মার্কিন জাহাজকে অন্য এলাকায় লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। ইরান সতর্ক করে বলেছে, উপসাগর ও হরমুজের আশপাশে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে অনুমোদিত পথ ব্যবহার না করলে সেগুলোও হামলার লক্ষ্য হতে পারে।   যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য পরিচালনা সংস্থা ইউকেএমটিওও শনিবার উত্তর আরব উপসাগর ও ওমান উপসাগরে একাধিক বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার খবর পাওয়ার কথা জানিয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, এসব হামলায় এমন শক্তিশালী আঘাতের তথ্য পাওয়া গেছে, যা জাহাজগুলোকে অচল করে দিতে সক্ষম। তবে হামলায় কেউ হতাহত হয়েছেন কি না কিংবা পরিবেশের কোনো ক্ষতি হয়েছে কি না, তা তখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এই পরিস্থিতির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ইরানকে আরও কঠোর পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, ইরান যদি মার্কিন জাহাজে হামলা চালায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেলবাহী ট্যাংকার ধ্বংস ও ডুবিয়ে দেবে।.   হেগসেথ আরও দাবি করেন, ইরানের তেলবাহী জাহাজগুলোর বহর খুবই অরক্ষিত এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিমান, যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিন এসব জাহাজে হামলা চালাতে সক্ষম। তাঁর বক্তব্যের পর দুই দেশের মধ্যে সমুদ্রপথে সংঘাত আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সেন্টকমের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারও ইরানকে সতর্ক করে বলেছেন, ইরান যদি দুটি মার্কিন জাহাজে হামলা চালায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র আরও বড় অর্থনৈতিক মূল্য চাপিয়ে তিনটি ইরানি জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করবে। তাঁর ভাষ্য, প্রয়োজন হলে ইরানের তেলবাহী জাহাজের বহরের বিরুদ্ধেও আরও অভিযান চালানো হবে।   হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। পারস্য উপসাগর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল পরিবহনের বড় একটি অংশ এই সরু জলপথের ওপর নির্ভরশীল। ফলে এখানে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে শুধু ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সংঘাত নয়, আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহ ও জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে।   এদিকে, দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলার খবর এমন সময়ে সামনে এলো, যখন কয়েক সপ্তাহের তুলনামূলক বিরতির পর আবারও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা বেড়েছে। শনিবারের ঘটনাগুলো এই সংঘাতকে আরও বিস্তৃত সমুদ্র সংঘর্ষের দিকে নিয়ে যায় কি না, সেটিই এখন আন্তর্জাতিক মহলের অন্যতম উদ্বেগের বিষয়।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক রাইয়ান আবদুল বাতেন। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

নভেম্বর ২, ২০২৬ ১৩:০