হরমুজ প্রণালী

থাইল্যান্ডের জ্বালানি তেলবাহী জাহাজ ‘ময়ূরী নারী’ সম্প্রতি হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানের হামলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ছবি: এএফপি
পারস্য উপসাগরে জাহাজে হামলার অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলকে সতর্ক করল ইরান

পারস্য উপসাগরে ব্যক্তিগত মালিকানার জাহাজে হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করেছে ইরান। দেশটির অভিযোগ, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বেসরকারি ও যাত্রীবাহী জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। ইরানের দাবি, তাদের সামরিক প্রতিক্রিয়ার মুখে ব্যর্থ হয়ে হতাশা থেকেই যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল এমন হামলা চালাচ্ছে।   এ বিষয়ে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর এক মুখপাত্র সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের হামলা অব্যাহত থাকলে কঠোর প্রতিশোধমূলক জবাব দেওয়া হবে।   ইরানের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকে উপসাগরীয় অঞ্চলে অন্তত ১৬টি তেলবাহী জাহাজ ও ট্যাংকারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে কয়েকটির দায় ইরান স্বীকার করলেও বাকি ঘটনাগুলোর জন্য তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করছে।   গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ হরমুজ প্রণালি-কে কেন্দ্র করে উত্তেজনা আরও বাড়ছে। ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, হামলা বন্ধ না হলে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল বা তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো জাহাজকে এই প্রণালি দিয়ে চলাচল করতে দেওয়া হবে না।বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়লে আন্তর্জাতিক বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২১, ২০২৬ 0
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের কারণে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার মধ্যেই হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিয়ে ভারতের মুম্বাই বন্দরে পৌঁছায় সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেলবাহী লাইবেরিয়ার ট্যাংকার ‘শেনলং সুয়েজম্যাক্স’। ১২ মার্চ ২০২৬। ছবি: রয়টার্স
হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখার ইঙ্গিত ইরানের, জাপানি জাহাজ চলাচলে সহায়তার আশ্বাস

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেও গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালি খোলা রাখার ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, জাপানের জাহাজসহ অন্যান্য নিরপেক্ষ দেশের জাহাজ চলাচলে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত তেহরান।   জাপানের একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমরা প্রণালিটি বন্ধ করিনি, এটি উন্মুক্ত রয়েছে।” একই সঙ্গে তিনি জানান, ইরান শুধু সাময়িক যুদ্ধবিরতি নয়; বরং সংঘাতের একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্থায়ী অবসান চায়।   আরাগচি বলেন, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ না করলেও যেসব দেশ ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলায় জড়িত, তাদের জাহাজের ওপর নির্দিষ্ট বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। তবে অন্যান্য দেশের জাহাজ চলাচলে সহায়তার বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে তেহরান।   তিনি আরও জানান, জাপানের মতো দেশগুলো যদি ইরানের সঙ্গে সমন্বয় করে, তাহলে তাদের জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা সম্ভব। উল্লেখ্য, জাপানের অপরিশোধিত তেল আমদানির বড় অংশই মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে এবং এর অধিকাংশ পরিবহন হয় এই প্রণালি দিয়ে।   বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান পথ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে ইরানের এ অবস্থান আন্তর্জাতিক বাজারে কিছুটা স্বস্তি এনে দিতে পারে, যদিও সামগ্রিক পরিস্থিতি এখনো অস্থির।   তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্ব জ্বালানি বাজারে নজিরবিহীন সংকটের আশঙ্কা, সতর্ক করল আইইএ

ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের প্রভাবে বিশ্ব নজিরবিহীন জ্বালানি সংকটের মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)। সংস্থাটির প্রধান ফাতিহ বিরোল বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতি অতীতের যেকোনো জ্বালানি সংকটের তুলনায় আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।   শুক্রবার (২০ মার্চ) প্রকাশিত আইইএ’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারগুলোকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। এতে জ্বালানি ব্যবহার কমাতে মহাসড়কে গতিসীমা কমানো, ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ বাড়ানো এবং শিল্প ও গৃহস্থালিতে জ্বালানি সাশ্রয়ের ওপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফাতিহ বিরোল বলেন, বর্তমান সংকট ১৯৭০-এর দশকের বৈশ্বিক তেল সংকট কিংবা ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার পর সৃষ্ট গ্যাস সংকটের চেয়েও বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।   তার মতে, এই সংকট মোকাবিলার অন্যতম প্রধান উপায় হলো হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা। কারণ বিশ্বের একটি বড় অংশের তেল ও গ্যাস পরিবহন এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের ওপর নির্ভরশীল।   তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, চলমান যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত জ্বালানি অবকাঠামো পুনরুদ্ধারে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। এর ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতি, বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলো, বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়বে।   বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাত, জ্বালানি স্থাপনায় হামলা এবং হরমুজ প্রণালিতে অচলাবস্থা—সব মিলিয়ে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।   সূত্র: মিডল ইস্ট আই

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রকে ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিল যুক্তরাজ্য

পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে যুক্তরাজ্য। সম্ভাব্য ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে প্রতিরক্ষামূলক অভিযানের প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   শুক্রবার (২০ মার্চ) অনুষ্ঠিত ব্রিটিশ মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র এখন হরমুজ প্রণালিতে জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষামূলক অভিযানে ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহার করতে পারবে।   তবে ডাউনিং স্ট্রিট স্পষ্ট করেছে, যুক্তরাজ্য সরাসরি কোনো হামলায় অংশ নেবে না এবং তাদের নীতি অপরিবর্তিত রয়েছে। সরকার জানিয়েছে, এই অনুমতি মূলত প্রতিরক্ষামূলক সহযোগিতার অংশ হিসেবেই দেওয়া হয়েছে।   এর আগে ব্রিটিশ স্বার্থ বা নাগরিকদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কায় ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিরোধে যুক্তরাষ্ট্রকে সীমিত আকারে ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। নতুন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সেই সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করা হলো।   ডাউনিং স্ট্রিটের এক মুখপাত্র বলেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলার সক্ষমতাগুলো মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহার করতে পারবে—এ বিষয়ে মন্ত্রীরা একমত হয়েছেন।   বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে এই ধরনের সামরিক সহযোগিতা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২১, ২০২৬ 0
ছবি সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালি ১৯ দিন ধরে বন্ধ; তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১৪৭ ডলার ছাড়ানোর শঙ্কা

মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত ও জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। শুক্রবার (২০ মার্চ) তেলের দাম সামান্য কমলেও বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ ১৯ দিন ধরে কার্যত বন্ধ থাকায় এবং জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তেলের দাম দীর্ঘ সময় চড়া থাকবে। গোল্ডম্যান স্যাকসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই উচ্চমূল্য ২০২৭ সাল পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।   বর্তমানে বৈশ্বিক তেলের মানদণ্ড ‘ব্রেন্ট ক্রুড’-এর দাম ব্যারেল প্রতি ১০৮ ডলার এবং মার্কিন মানদণ্ড ‘ডব্লিউটিআই’ ৯৪.৬ ডলারে নেমেছে। তবে সংঘাতের কারণে সরবরাহ ব্যবস্থা বড় ধরনের ধাক্কার সম্মুখীন হয়েছে। বিশেষ করে ইরানের ‘সাউথ পার্স’ ফিল্ডে ইসরাইলি হামলা এবং এর জবাবে কাতারের ‘রাস লাফান’ গ্যাস কেন্দ্রে ইরানের পাল্টা হামলার পর জ্বালানি বাজারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কাতার এনার্জি জানিয়েছে, এই হামলার ফলে তাদের এলএনজি রপ্তানি ক্ষমতা ১৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, যা মেরামত করতে পাঁচ বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।   বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের ২০ শতাংশই পরিবাহিত হয় হরমুজ প্রণালি দিয়ে। গোল্ডম্যান স্যাকস আশঙ্কা করছে, যদি এই পথটি আরও দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ থাকে, তবে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২০০৮ সালের সর্বোচ্চ রেকর্ড ব্যারেল প্রতি ১৪৭ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করার আশ্বাস দিয়েছেন, কিন্তু ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে এই জলপথ সহজে যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফিরে যাবে না। জ্বালানি অবকাঠামোতে হওয়া সাম্প্রতিক হামলাগুলো ইউরোপ ও এশিয়ার বাজারে দীর্ঘমেয়াদী সংকটের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২০, ২০২৬ 0
ছবি সংগৃহীত
ইরানের খারগ দ্বীপ দখলের পরিকল্পনা ট্রাম্পের

হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করতে ইরানকে বাধ্য করার কৌশল হিসেবে দেশটির প্রধান তেল অবকাঠামো হাব ‘খারগ দ্বীপ’ দখল বা অবরোধের পরিকল্পনা করছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। শুক্রবার (২০ মার্চ) মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এই বিষয়ে অবগত চারটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে এ চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে। তেহরান যদি হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলা বন্ধ না করে, তবে ট্রাম্প এই কৌশলগত দ্বীপে সরাসরি আঘাত হানার হুমকিও দিয়েছেন।   গত সপ্তাহে মার্কিন বাহিনী ইতিমধ্যে খারগ দ্বীপে একটি বড় ধরনের সূক্ষ্ম লক্ষ্যভেদী হামলা চালিয়েছে। মার্কিন সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৪ মার্চ পরিচালিত ওই অভিযানে তেল অবকাঠামোর ক্ষতি না করেই দ্বীপের ভেতরে থাকা ৯০টিরও বেশি ইরানি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হানা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এই হামলায় ইরানের নৌ-মাইন ও ক্ষেপণাস্ত্র মজুত করার বাঙ্কারসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা ধ্বংস করা হয়েছে।   তেল সমৃদ্ধ এই দ্বীপটি ইরানের অর্থনীতি ও জ্বালানি রপ্তানির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্প প্রশাসন মনে করছে, খারগ দ্বীপ অবরোধ বা দখল করলে ইরান চাপের মুখে পড়বে এবং হরমুজ প্রণালিতে তাদের আধিপত্য কমাতে বাধ্য হবে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন পরিকল্পনা সংঘাতের মাত্রাকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়ার শঙ্কা তৈরি করেছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২০, ২০২৬ 0
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
ইরান ইস্যুতে ন্যাটো মিত্রদের ‘কাপুরুষ’ বললেন ট্রাম্প

ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত নিয়ে ন্যাটো মিত্রদের তীব্র সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি অভিযোগ করেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপে সহযোগিতা না করায় মিত্ররা ‘কাপুরুষের’ আচরণ করছে।   শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, এই সংঘাত সামরিকভাবে ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে “জয়ী” হয়েছে। তবে একই সঙ্গে তিনি বলেন, ন্যাটো মিত্ররা তেলের উচ্চমূল্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না।   ট্রাম্পের ভাষায়, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া একটি “সহজ সামরিক পদক্ষেপ”, যা তেলের দাম বৃদ্ধির অন্যতম কারণ দূর করতে পারে। কিন্তু মিত্ররা এতে এগিয়ে না এসে দায় এড়িয়ে যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।   তিনি আরও অভিযোগ করেন, ইরানের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার ক্ষেত্রে ন্যাটো জোট কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া এই জোটকে “কাগুজে বাঘ” বলেও আখ্যা দেন ট্রাম্প।   সপ্তাহের শুরুতে মিত্রদের সহায়তা চাইলেও পরে নিজের অবস্থান পরিবর্তন করে ট্রাম্প বলেন, এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যদের সহায়তার প্রয়োজন নেই। তাঁর মতে, যুক্তরাষ্ট্র একাই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে সক্ষম।   বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই বক্তব্য ন্যাটো জোটের ভেতরে বিদ্যমান মতপার্থক্যকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে এবং মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২০, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলা

বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি-তে একটি জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানিয়েছে ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস।   সংস্থাটি জানায়, একটি জাহাজ অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এতে আগুন ধরে যায়। সংযুক্ত আরব আমিরাত-এর খাওর ফাক্কান শহরের পূর্বে এ হামলার ঘটনা ঘটে।   ইউকেএমটিও জানায়, তারা বিশ্বজুড়ে জাহাজ থেকে বিপদ সংকেত গ্রহণ করে এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি ওই অঞ্চলে চলাচলকারী সব জাহাজকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে।   এদিকে ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালিতে চলাচল সীমিত করে দিয়েছে, যা বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত তেল পরিবহন পথ। এর ফলে বহু জাহাজ ও নাবিক সেখানে আটকা পড়েছে বলে জানা গেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৯, ২০২৬ 0
ফাইল ছবি
নতুন হামলা হলে আরব জ্বালানি স্থাপনায় বড় আঘাতের হুঁশিয়ারি ইরানের

ইরানের সামরিক বাহিনীর অন্যতম শক্তিশালী ইউনিট ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে। তারা জানায়, ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় আবার কোনো হামলা হলে উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল ও গ্যাস অবকাঠামোর ওপর আরও বড় ধরনের আঘাত হানা হবে।   রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি দাবি করে, ইরানের জ্বালানি খাতকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে বড় ভুল করা হয়েছে এবং এর প্রতিক্রিয়া ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে। তারা আরও জানায়, ভবিষ্যতে একই ধরনের আক্রমণ হলে পাল্টা অভিযান আরও তীব্র হবে এবং তা প্রতিপক্ষের জ্বালানি স্থাপনা পুরোপুরি অকার্যকর না হওয়া পর্যন্ত চলতে পারে।   এই হুঁশিয়ারি আসে সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে হামলার ঘটনার পর, যার জন্য ইসরাইলকে দায়ী করা হচ্ছে। এই ঘটনার প্রভাব পড়ে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও—ব্রেন্ট ক্রুডের দাম হঠাৎ করে ৬ শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১১০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে যায়।   আইআরজিসি সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে সৌদি আরবের কিছু তেল শোধনাগার ও শিল্প কমপ্লেক্স, সংযুক্ত আরব আমিরাতের গ্যাসক্ষেত্র এবং কাতারের পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনাগুলোর নাম উল্লেখ করে সতর্কতা জারি করেছে।   অন্যদিকে, কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল আনসারি সাউথ পার্সে হামলাকে “বিপজ্জনক ও দায়িত্বহীন” পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করে নিন্দা জানিয়েছেন।   পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন ইরান সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও কুয়েতে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। একই সঙ্গে ইরাকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেয় তেহরান, যার ফলে দেশটির জ্বালানি খাতে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়—কারণ ইরাক তাদের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গ্যাস ও বিদ্যুতের জন্য ইরানের ওপর নির্ভরশীল।   এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হরমুজ প্রণালী নিয়ে মার্কিন মিত্রদের সমালোচনা করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।   সংঘাত শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড ইরানের ভেতরে হাজার হাজার লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে। এর প্রভাব পড়েছে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতেও, যেখানে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৯, ২০২৬ 0
মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ফাইল ছবি: রয়টার্স
জ্বালানির দাম বেড়ে চাপের মুখে যুক্তরাষ্ট্র, সমস্যার কথা স্বীকার ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সের

ইরান–যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল সংঘাতের প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বাড়তে থাকায় যুক্তরাষ্ট্রেও এর প্রভাব পড়েছে। দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স স্বীকার করেছেন, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি নিয়ে নিজেদের অভ্যন্তরীণ চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে।   বুধবার মিশিগান অঙ্গরাজ্যের একটি উৎপাদন কারখানায় বক্তব্যে তিনি বলেন, গ্যাসের দাম বাড়ছে এবং এর ফলে সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন কাজ করছে এবং দ্রুত কিছু পদক্ষেপ ঘোষণা করা হবে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি।   সংঘাত শুরুর পর থেকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে পড়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। যুদ্ধের আগে বিশ্বে ব্যবহৃত জ্বালানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো।   এই পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম ১০৮ ডলার ছাড়িয়েছে, যা যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি।   এদিকে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে মিত্রদেশগুলোর ওপর চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করেছেন। তিনি মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি এই প্রণালির ওপর নির্ভরশীল না হলেও অন্যান্য দেশকে এতে ভূমিকা নিতে বাধ্য করা যেতে পারে।   তবে যুক্তরাষ্ট্রের আহ্বানে সাড়া দিচ্ছে না অধিকাংশ মিত্রদেশ। ইউরোপের ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো এবং এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ মিত্র যেমন জাপান ও অস্ট্রেলিয়া সেখানে যুদ্ধজাহাজ পাঠাতে অনীহা প্রকাশ করেছে। কেবল দক্ষিণ কোরিয়া বিষয়টি বিবেচনার কথা জানিয়েছে।   পরিস্থিতি বিবেচনায় বিশ্লেষকেরা বলছেন, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তা আরও বড় ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বে টার্গেটেড হামলা, যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের কৌশলে নতুন মাত্রা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত তৃতীয় সপ্তাহে গড়াতেই নতুন মাত্রা পেয়েছে। ইরানের শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল—যা অঞ্চলটিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলছে।   সর্বশেষ বুধবার ইরানের গোয়েন্দামন্ত্রী ইসমাইল খতিব নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত হয়েছে। এর আগে পরপর হামলায় দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নিহত হন। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ এসব হামলাকে তাদের ‘টার্গেটেড অপারেশন’-এর অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছে।   বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলাগুলোর লক্ষ্য ইরানের নেতৃত্ব কাঠামোকে দুর্বল করা। তবে তেহরান বলছে, এতে রাষ্ট্রের কার্যক্রমে কোনো প্রভাব পড়বে না। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর কারণে নেতৃত্বের পরিবর্তন ইরানকে দুর্বল করতে পারবে না।   এদিকে এসব হামলার জবাবে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে পাল্টা আঘাত জোরদার করেছে ইরান। ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন উপসাগরীয় দেশে মার্কিন স্থাপনাও হামলার ঝুঁকিতে পড়েছে।   ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন একাধিক দেশে প্রতিহত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো জানিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বজুড়ে তাদের দূতাবাস ও কূটনৈতিক মিশনে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ দিয়েছে।   সংঘাতের প্রভাব পড়েছে জ্বালানি বাজারেও। হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে পড়ায় বৈশ্বিক তেল পরিবহনে বিঘ্ন ঘটছে এবং দাম বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক মিত্রদের সহযোগিতা চাইলেও প্রত্যাশিত সাড়া পাচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র।   বিশ্লেষকদের ধারণা, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে ইরান ভবিষ্যৎ আলোচনায় কৌশলগত সুবিধা নিতে পারে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও এ যুদ্ধ নিয়ে মতবিরোধ বাড়ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন উদ্যোগে সাড়া দেওয়ার ইঙ্গিত আমিরাতের

ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সংঘাতের মধ্যে হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে নতুন কূটনৈতিক ও সামরিক তৎপরতার ইঙ্গিত মিলেছে। গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে নৌ-চলাচল সচল রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন উদ্যোগে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।   মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দেশটির প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক উপদেষ্টা Anwar Gargash এ তথ্য জানান। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান Council on Foreign Relations আয়োজিত এক অনলাইন আলোচনায় তিনি বলেন, বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখা কেবল একটি দেশের দায়িত্ব নয়, বরং এটি সবার সম্মিলিত দায়িত্ব।   তিনি জানান, এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি, তবে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি যুদ্ধ-পরবর্তী দীর্ঘমেয়াদি আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন।   এর আগে হোয়াইট হাউসে এক অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump বলেন, হরমুজ প্রণালী সচল রাখতে তিনি ফ্রান্সসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তবে ফ্রান্স এই উদ্যোগে সরাসরি সামরিক অংশগ্রহণে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছে।   বর্তমানে হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা বিরাজ করায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন দেশকে তাদের তেলবাহী জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের আহ্বান জানালেও বেশ কয়েকটি দেশ তাতে সাড়া দেয়নি।   অন্যদিকে, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী ইতোমধ্যে সতর্ক করে দিয়েছে, কোনো বিদেশি যুদ্ধজাহাজ তাদের জলসীমায় প্রবেশের চেষ্টা করলে তা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
রাশিয়া বলছে: হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল কেবল আলোচনার মাধ্যমে ফিরে আসবে

রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে জাহাজ চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করার একমাত্র উপায় হলো কূটনৈতিক আলোচনা।   এর আগে ইরানের হুমকি ও জাহাজে হামলার কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে সব ধরনের সামুদ্রিক চলাচল স্থগিত করা হয়েছিল। রাশিয়া আশা করছে, আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধান করলে নিরাপদে জাহাজ চলাচল আবার শুরু করা সম্ভব হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকাকে ইরানের উপর হামলা করতে না বলছে জার্মানি: ফ্রিডরিখ মের্জ

জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ বলেছেন, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার আগে যদি জার্মানিকে পরামর্শের জন্য বলা হতো, তবে দেশটি এমন পদক্ষেপ নেওয়া থেকে বিরত রাখার পরামর্শ দিত। তিনি বার্লিনে নিন্ম সংসদ বুন্ডেস্টাগে বলেন, এই অভিযান সম্পর্কে এখনও “অনেক প্রশ্ন” রয়ে গেছে।   তিনি বলেন, “আজও কোনো স্পষ্ট পরিকল্পনা নেই যে এই অভিযান কীভাবে সফল হবে।” মের্জ অভিযোগ করেন, “ওয়াশিংটন আমাদের সঙ্গে পরামর্শ করেনি এবং ইউরোপীয় সহায়তাকে প্রয়োজন মনে করেনি।”   চ্যান্সেলর আরও বলেন, “মহোদয়গণ, যদি আমাদের পরামর্শ নেওয়া হতো, আমরা এই পদক্ষেপ নেওয়ার বিরুদ্ধে পরামর্শ দিতাম।” তিনি এই মন্তব্য করেছেন এমন সময়ে, যখন মার্কিন ও ইসরাইলি হামলা ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম নিয়ে চলমান আলোচনার সময় ঘটে।   মের্জ স্পষ্ট করেছেন যে, তিনি জার্মান যুদ্ধজাহাজ হরমুজ প্রণালয়ে পাঠানোর প্রস্তাবে সম্মতি দেবেন না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট দেশগুলোকে এই প্রণালী রক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছেন, যেখানে ইরানের হামলার কারণে বৈশ্বিক তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৮, ২০২৬ 0
দ্বীপ
ইরানের অজেয় ক্ষেপণাস্ত্র দুর্গ কেশম দ্বীপ: প্রাকৃতিক বিস্ময় ও রণকৌশলের মেলবন্ধন

পারস্য উপসাগরের প্রবেশদ্বার হরমুজ প্রণালীর নীল জলরাশির নিচে লুকিয়ে আছে এক রহস্যময় জগৎ। ইরানের বৃহত্তম দ্বীপ ‘কেশম’ (Qeshm) একসময় পর্যটকদের কাছে পরিচিত ছিল এর অদ্ভুতুড়ে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর লবণের গুহার জন্য। কিন্তু বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই দ্বীপটি এখন পরিচিতি পাচ্ছে ইরানের এক ‘অজেয় ক্ষেপণাস্ত্র শহর’ বা ভূগর্ভস্থ সামরিক দুর্গ হিসেবে।   ইউনেস্কো স্বীকৃত এই জিওপার্কটিতে রয়েছে স্টারের উপত্যকা এবং বিশ্বের দীর্ঘতম লবণ গুহাগুলোর একটি। তবে উপরিভাগের এই সৌন্দর্যের নিচেই ইরান গড়ে তুলেছে এক বিশাল সামরিক নেটওয়ার্ক। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এই দ্বীপটিকে একটি ‘অনিমজ্জনীয় বিমানবাহী রণতরি’ (Unsinkable Aircraft Carrier) হিসেবে ব্যবহার করছে। এখানে মাটির নিচে কয়েক স্তরের সুড়ঙ্গে লুকানো রয়েছে অসংখ্য দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এবং দ্রুতগামী হামলাকারী বোট।   কেশম দ্বীপের অবস্থান ঠিক হরমুজ প্রণালীর মুখে, যা বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান ধমনী। প্রায় ১,৪৪৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই দ্বীপটি থেকে ইরান সহজেই পুরো প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারে। বর্তমানে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান উত্তেজনার মধ্যে এই দ্বীপটিই হয়ে উঠেছে তেহরানের প্রধান প্রতিরক্ষা ঢাল। সাম্প্রতিক যুদ্ধের আঁচ লেগেছে এই দ্বীপেও। গত ৭ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় দ্বীপটির একটি প্রধান পানি শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার ফলে প্রায় ৩০টি গ্রাম বিশুদ্ধ পানি সংকটে পড়ে। এর জবাবে ইরানও পাল্টা হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে। দ্বীপের প্রায় ১ লাখ ৪৮ হাজার বাসিন্দার অধিকাংশরই জীবিকা সমুদ্রের ওপর নির্ভরশীল। একদিকে হাজার বছরের প্রাচীন সংস্কৃতি আর অন্যদিকে আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার—এই দুইয়ের মাঝেই এখন দিন কাটছে কেশম দ্বীপের বাসিন্দাদের। কেশম দ্বীপের ইতিহাসও বেশ সমৃদ্ধ। একসময় এটি পর্তুগিজ ও ব্রিটিশদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। ১৯৩৫ সালে রেজা শাহ পাহলভির আমলে এটি পুনরায় ইরানের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে। প্রাচীনকাল থেকেই এর কৌশলগত অবস্থানের কারণে একে ‘উপসাগরের চাবিকাঠি’ বলা হতো। বর্তমান বিশ্বে যখন জ্বালানি যুদ্ধ চরমে, তখন কেশম দ্বীপের এই ভূগর্ভস্থ ‘ক্ষেপণাস্ত্র শহর’ কেবল ইরানের প্রতিরক্ষাই নয়, বরং বৈশ্বিক রাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের হুমকির মুখে ইউরোপীয় নেতারা: ‘ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যুক্ত হবেন না আমরা’

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে চলমান যুদ্ধে ইউরোপীয় দেশগুলো জটিল অবস্থার মুখে পড়েছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করার জন্য ট্রাম্পের পক্ষ থেকে সাহায্যের আহ্বান করা হলেও, ইউরোপীয় নেতারা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তারা যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল নেতৃত্বাধীন যুদ্ধে সরাসরি অংশ নেবেন না।   জার্মানির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস বলেন, “এটি আমাদের যুদ্ধ নয়। আমরা এটি শুরু করিনি এবং আমরা কূটনৈতিক সমাধান চাই।” ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের নৌবাহিনী পূর্ব ভূমধ্যসাগরে অবস্থান করছে, কিন্তু কোনো পরিবর্তন করা হবে না। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারও বলেছেন, “আমার নেতৃত্বের লক্ষ্য হলো ব্রিটিশ স্বার্থ অটল রাখা। হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার জন্য আমরা ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করছি, কিন্তু যুদ্ধে জড়ানো হবে না।”   ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি ও পোল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাডোস্লাভ সিকোরস্কিও একইভাবে জানিয়েছেন, তাদের দেশের নৌবাহিনী হরমুজে কোনো সামরিক অভিযান চালাবে না। ইতালির একটি যুদ্ধজাহাজ যদিও ফ্রান্সের বিমানবাহী রণতরির সঙ্গে উপস্থিত, তবে কার্যক্রম কেবল পূর্ব ভূমধ্যসাগরে সীমিত।   বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউরোপীয় নেতারা একটি দ্বিমুখী সংকটে রয়েছেন। যদি তারা কোনো পদক্ষেপ না নেন, তবে জ্বালানির দাম আরও বৃদ্ধি পাবে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেবে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশে সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেওয়া হলে সামরিক ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি রয়েছে এবং ইরানের সঙ্গে সংঘাত বাড়তে পারে।   ইউরোপীয় নেতাদের ওপর আরেকটি চাপ ট্রাম্পের অভিযোগের মাধ্যমে এসেছে যে, ন্যাটোর দেশগুলো প্রতিরক্ষার জন্য যথাযথ ব্যয় করছে না। রোববার ট্রাম্প বলেন, “কোনো দেশ আমাদের এই ছোট প্রচেষ্টায় সাহায্য করবে না, সেটা দেখাটা বেশ মজার হবে।”   বর্তমানে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলার পর তেহরানে ধ্বংসস্থলে উদ্ধার অভিযান চলছে। তবে ইউরোপীয় দেশগুলোর যুদ্ধজাহাজ ও বিমান বাহিনী হরমুজ প্রণালির বাইরে নিরাপত্তা বজায় রাখতে সীমাবদ্ধ।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র-ইস’রায়েল নতজানু না হলে কোনো আলোচনার সুযোগ নেই: মোজতবা খামেনি

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা বা যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের কিছু মধ্যস্থতাকারী দেশ ইতিমধ্যে যুদ্ধবিরতি বা উত্তেজনা কমানোর প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে। তবে মোজতবা খামেনি তা সরাসরি নাকচ করেছেন।   তিনি বলেছেন, “যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যতক্ষণ পর্যন্ত পরাজয় স্বীকার করছে, নতজানু হচ্ছে এবং ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত কোনো আলোচনা হবে না।”   ওই কর্মকর্তা আরও জানান, প্রথম বৈঠকেই খামেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার বিষয়ে দৃঢ় ও কঠোর অবস্থান নেন। বৈঠকের স্থান ও খামেনির সরাসরি উপস্থিতি সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।   এর আগে মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশগুলো গত সপ্তাহেও যুদ্ধ বন্ধের জন্য কূটনৈতিক আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত তৃতীয় সপ্তাহে পৌঁছেছে। হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা দিতে মিত্র দেশগুলো এখনও সরাসরি এগোয়নি, ফলে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ অভিযানে না বলায় ন্যাটোকে ‘বোকামি’ বললেন ট্রাম্প

হরমুজ প্রণালিতে সামরিক অভিযানে অংশ নিতে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর অনীহাকে ‘মারাত্মক বোকামি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump।   মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) হোয়াইট হাউসে দেওয়া এক বক্তব্যে ন্যাটোর সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আহ্বান সত্ত্বেও মিত্র দেশগুলো হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এগিয়ে আসছে না, যা তার কাছে বিস্ময়কর।   ন্যাটো ও পশ্চিমা মিত্রদের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, “আমরা তাদের রক্ষা করি, কিন্তু প্রয়োজনের সময় তারা আমাদের পাশে দাঁড়ায় না।” তিনি আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র সামরিকভাবে যথেষ্ট শক্তিশালী হওয়ায় ন্যাটো দেশগুলোর সহায়তা এখন আর প্রয়োজন নেই।   এর আগে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালেও ন্যাটোর সমালোচনা করেন ট্রাম্প। সেখানে তিনি দাবি করেন, বেশিরভাগ মিত্র দেশ ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।   বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিতে মিত্র দেশগুলোকে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে ইউরোপের বেশিরভাগ দেশ সেই আহ্বানে সাড়া দেয়নি।   এ বিষয়ে European Union-এর ২৭টি সদস্যরাষ্ট্র বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে বৈঠক করে। বৈঠক শেষে ইইউর পররাষ্ট্রনীতি বিভাগের প্রধান কাজা কাল্লাস জানান, চলমান সংঘাতে জড়ানোর কোনও আগ্রহ ইউরোপীয় দেশগুলোর নেই এবং তারা ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপে অংশ নিতে চায় না।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালিতে সামরিক অভিযানে অংশ নেবে না ফ্রান্স: ম্যাক্রোঁ

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জানিয়েছেন, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালি সচল রাখতে কোনো সামরিক অভিযানে ফ্রান্স অংশ নেবে না। তবে সংঘাত শেষে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে একটি আন্তর্জাতিক জোট গঠনের উদ্যোগ চালিয়ে যাচ্ছে প্যারিস।   মঙ্গলবার মন্ত্রিসভার বৈঠকের শুরুতে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে ম্যাক্রোঁ বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ফ্রান্স কোনো পক্ষের হয়ে সামরিক অভিযানে যুক্ত হবে না। তিনি স্পষ্ট করে জানান, হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করার লক্ষ্যে চলমান বা সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপে ফ্রান্সের অংশগ্রহণের প্রশ্নই ওঠে না।   ম্যাক্রোঁ বলেন, “আমরা এই যুদ্ধের কোনো পক্ষ নই। তাই বর্তমান প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালিতে কোনো সামরিক অভিযানে অংশ নেব না।”   তবে তিনি ইঙ্গিত দেন, সংঘাতের অবসান হলে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে অন্যান্য দেশের সঙ্গে সমন্বয় করে নৌ-চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফ্রান্স প্রস্তুত থাকবে। এ লক্ষ্যে একটি আন্তর্জাতিক জোট গঠনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।   এর আগে সোমবার হোয়াইট হাউসে এক অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালি সচল রাখতে মিত্রদের রাজি করানোর বিষয়ে ম্যাক্রোঁর অবস্থান ইতিবাচক। তিনি আশা প্রকাশ করেছিলেন, শেষ পর্যন্ত ফ্রান্স যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন উদ্যোগে যুক্ত হবে।   তবে সর্বশেষ বক্তব্যে ম্যাক্রোঁ স্পষ্ট করেছেন, বর্তমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ফ্রান্স কোনো সামরিক অভিযানে অংশ নেবে না। ফরাসি কর্মকর্তাদের মতে, পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থেকেও একটি আন্তর্জাতিক কাঠামোর মাধ্যমে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।   সূত্র: আল জাজিরা

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৭, ২০২৬ 0
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ট্রাম্পের প্রস্তাবে সাড়া দিল না ইউরোপের আরেক দেশ

ইরান ও ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাতে পোল্যান্ড কোনো ধরনের সামরিক অংশগ্রহণ করবে না বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি নিরাপদ রাখতে মিত্রদের নিয়ে জোট গঠনের আহ্বান জানানোর পরই এ অবস্থান স্পষ্ট করে ওয়ারশ।   দেশটির প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড তুস্ক জানিয়েছেন, ইরান যুদ্ধে অংশ নিতে পোল্যান্ড কোনো সৈন্য পাঠাবে না। তিনি বলেন, ইরানে কোনো অভিযানে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা তাদের নেই এবং এ বিষয়ে মিত্রদের মধ্যেও কোনো বিভ্রান্তি নেই।   সরকারি এক বৈঠকের আগে তুস্ক আরও বলেন, এই সিদ্ধান্তের আওতায় পোল্যান্ডের স্থল, বিমান ও নৌবাহিনী অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। একই সঙ্গে ইউক্রেন সীমান্ত সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এসব বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করার কাজ চলছে।   এদিকে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে গেছে এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে যুক্তরাষ্ট্র মিত্রদের সহায়তা চাইছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৭, ২০২৬ 0
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি।
যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলেন মোজতবা খামেনি

মধ্যস্থতাকারীদের পাঠানো উত্তেজনা কমানো বা যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে আগে পরাজয় স্বীকার করতে হবে, অন্যথায় শান্তি নিয়ে কোনো আলোচনা সম্ভব নয়। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানা গেছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রথম বৈঠকেই তিনি এই কঠোর ও প্রতিশোধমূলক অবস্থানের কথা জানান।   জানা গেছে, অন্তত দুটি দেশ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এই যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পৌঁছে দিয়েছিল। তবে মোজতবা খামেনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র ক্ষতিপূরণ না দেওয়া পর্যন্ত শান্তির সময় আসেনি। ইরানি শাসনব্যবস্থায় সর্বোচ্চ নেতাই রাষ্ট্রের সকল গুরুত্বপূর্ণ ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অধিকারী, ফলে তার এই অবস্থান সংঘাত নিরসনের পথকে আরও জটিল করে তুলেছে।   এক সপ্তাহের কিছু সময় আগে ধর্মীয় পরিষদের মাধ্যমে বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির স্থলাভিষিক্ত হন মোজতবা খামেনি। দায়িত্ব নেওয়ার পর এখন পর্যন্ত তার কোনো নতুন ছবি প্রকাশ্যে আসেনি। তিনি হামলায় আহত হয়েছেন বলে গুঞ্জন থাকলেও তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন দাবি রয়েছে। এদিকে ইরান, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার এই সংঘাত তৃতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে, যাতে এখন পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।   চলমান এই যুদ্ধের প্রভাবে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পথ হরমুজ প্রণালি এখনো প্রায় বন্ধ রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এটি চালুর বিষয়ে মিত্রদের সহায়তা চাইলেও আশানুরূপ সাড়া পাননি। এর ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং ভয়াবহ মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা প্রকট হচ্ছে। সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যসহ সারা বিশ্বে মানবিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৭, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

১২ ঘণ্টারও কম সময়ে দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।   শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে।   এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।   নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।   এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।

অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা: এবার মেইনে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযানের ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)।   ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে।   কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না।   তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে।  সূত্র: ABC News

ভিসা নিয়ে বড় সুখবর দিলো যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে।   নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা।   ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল।   তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে।   এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস

Top week

ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক

হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ পারাপারের বিনিময়ে ভারতের কাছে তিন ট্যাংকার ফেরত চাইল ইরান

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৬, ২০২৬ 0