মধ্যপ্রাচ্য-সংকট

ছবি: সংগৃহীত
ইরানে স্থল হামলার প্রস্তুতি জোরদার করছে যুক্তরাষ্ট্র

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে সম্ভাব্য স্থল হামলার জন্য বিস্তৃত সামরিক প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম CBS News। শনিবার (২১ মার্চ) প্রকাশিত প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে এ তথ্য উঠে এসেছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তারা ইরানে স্থল অভিযান পরিচালনার জন্য বিস্তারিত পরিকল্পনা চেয়েছেন। তবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি—পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।   এর আগে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, তিনি ইরানে স্থল সেনা পাঠানোর পক্ষে নন। তবে একইসঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, প্রয়োজনে এ ধরনের সিদ্ধান্ত গোপন রাখা হতে পারে। এতে বোঝা যাচ্ছে, বিকল্প সব পথই খোলা রাখা হচ্ছে।   হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এক বিবৃতিতে বলেন, সামরিক পরিকল্পনা তৈরি করা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়-এর নিয়মিত কাজ, যাতে প্রেসিডেন্টের সামনে একাধিক কৌশলগত বিকল্প থাকে। তবে পরিকল্পনা থাকা মানেই তা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নয়।   সূত্রগুলো জানিয়েছে, পরিকল্পনাটি অত্যন্ত বিস্তারিত। সম্ভাব্য স্থল হামলার ক্ষেত্রে ইরানি সেনা বা আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যদের আটক করা হলে তাদের কীভাবে পরিচালনা করা হবে, কোথায় রাখা হবে—এসব বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।   এদিকে, যুক্তরাজ্য ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে কয়েক হাজার মেরিন সেনা পাঠানো শুরু করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে তারা পুরোপুরি ওই অঞ্চলে অবস্থান নেবে।   বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের প্রস্তুতি মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে এবং বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা বাড়িয়ে দিচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২১, ২০২৬ 0
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের কারণে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার মধ্যেই হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিয়ে ভারতের মুম্বাই বন্দরে পৌঁছায় সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেলবাহী লাইবেরিয়ার ট্যাংকার ‘শেনলং সুয়েজম্যাক্স’। ১২ মার্চ ২০২৬। ছবি: রয়টার্স
হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখার ইঙ্গিত ইরানের, জাপানি জাহাজ চলাচলে সহায়তার আশ্বাস

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেও গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালি খোলা রাখার ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, জাপানের জাহাজসহ অন্যান্য নিরপেক্ষ দেশের জাহাজ চলাচলে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত তেহরান।   জাপানের একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমরা প্রণালিটি বন্ধ করিনি, এটি উন্মুক্ত রয়েছে।” একই সঙ্গে তিনি জানান, ইরান শুধু সাময়িক যুদ্ধবিরতি নয়; বরং সংঘাতের একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্থায়ী অবসান চায়।   আরাগচি বলেন, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ না করলেও যেসব দেশ ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলায় জড়িত, তাদের জাহাজের ওপর নির্দিষ্ট বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। তবে অন্যান্য দেশের জাহাজ চলাচলে সহায়তার বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে তেহরান।   তিনি আরও জানান, জাপানের মতো দেশগুলো যদি ইরানের সঙ্গে সমন্বয় করে, তাহলে তাদের জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা সম্ভব। উল্লেখ্য, জাপানের অপরিশোধিত তেল আমদানির বড় অংশই মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে এবং এর অধিকাংশ পরিবহন হয় এই প্রণালি দিয়ে।   বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান পথ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে ইরানের এ অবস্থান আন্তর্জাতিক বাজারে কিছুটা স্বস্তি এনে দিতে পারে, যদিও সামগ্রিক পরিস্থিতি এখনো অস্থির।   তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২১, ২০২৬ 0
ছবি সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালি ১৯ দিন ধরে বন্ধ; তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১৪৭ ডলার ছাড়ানোর শঙ্কা

মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত ও জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। শুক্রবার (২০ মার্চ) তেলের দাম সামান্য কমলেও বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ ১৯ দিন ধরে কার্যত বন্ধ থাকায় এবং জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তেলের দাম দীর্ঘ সময় চড়া থাকবে। গোল্ডম্যান স্যাকসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই উচ্চমূল্য ২০২৭ সাল পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।   বর্তমানে বৈশ্বিক তেলের মানদণ্ড ‘ব্রেন্ট ক্রুড’-এর দাম ব্যারেল প্রতি ১০৮ ডলার এবং মার্কিন মানদণ্ড ‘ডব্লিউটিআই’ ৯৪.৬ ডলারে নেমেছে। তবে সংঘাতের কারণে সরবরাহ ব্যবস্থা বড় ধরনের ধাক্কার সম্মুখীন হয়েছে। বিশেষ করে ইরানের ‘সাউথ পার্স’ ফিল্ডে ইসরাইলি হামলা এবং এর জবাবে কাতারের ‘রাস লাফান’ গ্যাস কেন্দ্রে ইরানের পাল্টা হামলার পর জ্বালানি বাজারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কাতার এনার্জি জানিয়েছে, এই হামলার ফলে তাদের এলএনজি রপ্তানি ক্ষমতা ১৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, যা মেরামত করতে পাঁচ বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।   বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের ২০ শতাংশই পরিবাহিত হয় হরমুজ প্রণালি দিয়ে। গোল্ডম্যান স্যাকস আশঙ্কা করছে, যদি এই পথটি আরও দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ থাকে, তবে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২০০৮ সালের সর্বোচ্চ রেকর্ড ব্যারেল প্রতি ১৪৭ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করার আশ্বাস দিয়েছেন, কিন্তু ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে এই জলপথ সহজে যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফিরে যাবে না। জ্বালানি অবকাঠামোতে হওয়া সাম্প্রতিক হামলাগুলো ইউরোপ ও এশিয়ার বাজারে দীর্ঘমেয়াদী সংকটের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২০, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
লারিজানি হত্যার জবাবে ‘চরম মূল্য’ দেওয়ার হুঁশিয়ারি মোজতবা খামেনির

ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানিকে হত্যার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। তিনি বলেছেন, এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের ‘চরম মূল্য’ দিতে হবে।   বুধবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে মোজতবা খামেনি লারিজানিকে ইরানের রাজনৈতিক কাঠামোর একজন গুরুত্বপূর্ণ ও অঙ্গীকারবদ্ধ ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এ ধরনের ব্যক্তিত্বকে হত্যার মধ্য দিয়ে শত্রুপক্ষ তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে এবং এই রক্তের হিসাব অচিরেই নেওয়া হবে।   ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিমের খবরে বলা হয়, সোমবার রাতে তেহরানে ইসরায়েলের বিমান হামলায় জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের প্রধান আলী লারিজানি তাঁর পুত্রসহ নিহত হন। একই রাতে পৃথক হামলায় দেশটির আধা-সামরিক বাহিনী বাসিজের প্রধান গোলামরেজা সোলেইমানিও প্রাণ হারান।   এর পরদিন দিবাগত রাতে আরেক দফা হামলায় ইরানের গোয়েন্দামন্ত্রী ইসমাইল খতিব নিহত হন। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে এটিকে ‘কাপুরুষোচিত হত্যাকাণ্ড’ বলে উল্লেখ করেছেন।   চলমান সংঘাতের শুরুতে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ একাধিক শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতা নিহত হন। এরপর মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।   এদিকে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ জানিয়েছেন, তাদের সামরিক বাহিনীকে এখন থেকে যেকোনো জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তাকে লক্ষ্যবস্তু করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এতে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।   বিশ্লেষকেরা বলছেন, শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে হামলা ও পাল্টা হুমকির ফলে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বে টার্গেটেড হামলা, যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের কৌশলে নতুন মাত্রা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত তৃতীয় সপ্তাহে গড়াতেই নতুন মাত্রা পেয়েছে। ইরানের শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল—যা অঞ্চলটিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলছে।   সর্বশেষ বুধবার ইরানের গোয়েন্দামন্ত্রী ইসমাইল খতিব নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত হয়েছে। এর আগে পরপর হামলায় দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নিহত হন। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ এসব হামলাকে তাদের ‘টার্গেটেড অপারেশন’-এর অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছে।   বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলাগুলোর লক্ষ্য ইরানের নেতৃত্ব কাঠামোকে দুর্বল করা। তবে তেহরান বলছে, এতে রাষ্ট্রের কার্যক্রমে কোনো প্রভাব পড়বে না। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর কারণে নেতৃত্বের পরিবর্তন ইরানকে দুর্বল করতে পারবে না।   এদিকে এসব হামলার জবাবে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে পাল্টা আঘাত জোরদার করেছে ইরান। ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন উপসাগরীয় দেশে মার্কিন স্থাপনাও হামলার ঝুঁকিতে পড়েছে।   ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন একাধিক দেশে প্রতিহত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো জানিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বজুড়ে তাদের দূতাবাস ও কূটনৈতিক মিশনে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ দিয়েছে।   সংঘাতের প্রভাব পড়েছে জ্বালানি বাজারেও। হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে পড়ায় বৈশ্বিক তেল পরিবহনে বিঘ্ন ঘটছে এবং দাম বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক মিত্রদের সহযোগিতা চাইলেও প্রত্যাশিত সাড়া পাচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র।   বিশ্লেষকদের ধারণা, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে ইরান ভবিষ্যৎ আলোচনায় কৌশলগত সুবিধা নিতে পারে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও এ যুদ্ধ নিয়ে মতবিরোধ বাড়ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
তীব্র ক্ষমতার দ্বন্দ্ব পেরিয়ে যেভাবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হলেন মোজতবা খামেনি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর দেশটির ক্ষমতার কেন্দ্রে শুরু হয় তীব্র রাজনৈতিক ও সামরিক টানাপোড়েন। কয়েক দিনের সেই অস্থিরতা ও অভ্যন্তরীণ লড়াইয়ের মধ্য দিয়েই শেষ পর্যন্ত নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে উঠে আসেন তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনি।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম The New York Times–এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাইরে থেকে বিষয়টি সহজ বা পূর্বনির্ধারিত মনে হলেও বাস্তবে ইরানের ক্ষমতার অন্দরমহলে চলেছে তীব্র প্রতিযোগিতা। নতুন নেতা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় আলেমদের পরিষদ, সামরিক নেতৃত্ব এবং রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে বিভাজন তৈরি হয়।   উত্তরসূরি নির্বাচনে গোপন বৈঠক ইরানে সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের সাংবিধানিক দায়িত্ব রয়েছে ৮৮ সদস্যের আলেমদের পরিষদ Assembly of Experts–এর ওপর। পরিষদটি ৩ মার্চ একটি গোপন ভার্চুয়াল বৈঠকে বসে। নিয়ম অনুযায়ী কোনো প্রার্থী দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন না পাওয়া পর্যন্ত ভোট চলার কথা।   প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এর কয়েক ঘণ্টা আগে ইসরায়েলের হামলায় কুম শহরে পরিষদের সদর দপ্তরের আশপাশে ক্ষয়ক্ষতি হয়।   ক্ষমতার লড়াই: কট্টরপন্থী বনাম মধ্যপন্থী নতুন নেতা নির্বাচনকে ঘিরে ইরানের ক্ষমতার ভেতরে দুটি বড় শিবির তৈরি হয়। কট্টরপন্থী শিবিরে ছিল ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডসের প্রভাবশালী জেনারেলরা। তারা আলি খামেনির নীতির ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার পক্ষে ছিলেন এবং মোজতবা খামেনির পক্ষে অবস্থান নেন।   অন্যদিকে মধ্যপন্থী শিবিরের নেতারা নতুন নেতৃত্ব এবং তুলনামূলক নমনীয় নীতির পক্ষে যুক্তি দেন। তারা সাবেক প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি এবং আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির নাতি হাসান খোমেনি–কে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সামনে আনেন। তবে সামরিক নেতৃত্বের শক্ত অবস্থান এবং প্রতিশোধের রাজনীতির কারণে শেষ পর্যন্ত পরিষদের অধিকাংশ সদস্য এমন একজন নেতার পক্ষে মত দেন, যিনি কঠোর অবস্থান বজায় রাখতে পারবেন।   শেষ পর্যন্ত জয় মোজতবার প্রথম দফা ভোটেই মোজতবা খামেনি প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন পান। পরে নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক কারণে তাঁর নাম ঘোষণা বিলম্বিত করা হয়। এ সময় মধ্যপন্থীরা সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তা সফল হয়নি। ৮ মার্চ অনুষ্ঠিত আরেকটি বৈঠকে চূড়ান্ত ভোট গ্রহণ করা হয়। সেখানে ৮৮ সদস্যের মধ্যে ৫৯ জন মোজতবা খামেনির পক্ষে ভোট দেন। ফলে তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন নিয়ে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত হন।   এরপর রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয় এবং দেশের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব নতুন নেতার প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ ইস্যুতে ট্রাম্পের ডাকে সাড়া দিচ্ছে না ইউরোপের কয়েক দেশ

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সামরিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তাঁর এই আহ্বানে সাড়া দিচ্ছে না ইউরোপের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ। যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও গ্রিস স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তারা এ ধরনের কোনো সামরিক অভিযানে অংশ নেবে না।   ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, যুক্তরাজ্য মধ্যপ্রাচ্যে বড় পরিসরের যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে চায় না। বর্তমানে ওই অঞ্চলে অবস্থানরত ব্রিটিশ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নিজেদের ও মিত্রদের সুরক্ষা দেওয়াই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। একই সঙ্গে পরিস্থিতির দ্রুত কূটনৈতিক সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।   স্টারমারের এই বক্তব্য আসে ট্রাম্পের এক সতর্কবার্তার পর। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, যুক্তরাজ্যসহ পশ্চিমা মিত্ররা যদি চলমান সংঘাতে সামরিক সহায়তা না দেয়, তাহলে পশ্চিমা সামরিক জোট NATO-এর ভবিষ্যৎ প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।   তবে ট্রাম্পের এই অবস্থানের সঙ্গে একমত নয় জার্মানি। বার্লিনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরানকে ঘিরে যে সংঘাত তৈরি হয়েছে, তার সঙ্গে ন্যাটোর কোনো প্রত্যক্ষ সম্পর্ক নেই। জার্মান সরকারের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, জার্মানি এই যুদ্ধে অংশ নেবে না এবং সামরিক শক্তি ব্যবহার করে হরমুজ প্রণালি সচল রাখার কোনো অভিযানে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনাও তাদের নেই।   একই ধরনের অবস্থান নিয়েছে গ্রিসও। দেশটির সরকারের মুখপাত্র পাভলোস মারিনাকিস জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে কোনো সামরিক অভিযানে গ্রিস অংশ নেবে না।   এভাবে ইউরোপের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দেশের অনীহার কারণে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক উদ্যোগে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল দায়ী: ম্যাক্রোঁকে পেজেশকিয়ান

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান নিরাপত্তাহীনতা ও অস্থিতিশীলতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে দায়ী করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। একই সঙ্গে তিনি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং দেশের আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় ইরানের দৃঢ় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।   রোববার রাতে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে এক টেলিফোন আলাপে পেজেশকিয়ান এসব কথা বলেন। ইরানি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি এ তথ্য জানিয়েছে।   আলাপের সময় পেজেশকিয়ান ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ‘অবৈধ আগ্রাসী যুদ্ধের’ তীব্র নিন্দা জানান। তিনি বলেন, ইরানের বেসামরিক স্থাপনাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ধারাবাহিক হামলা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী।   ইরানের প্রেসিডেন্ট জানান, দেশটির আবু মুসা ও খার্গ দ্বীপ বর্তমানে তীব্র হামলার মুখে রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে এসব হামলা চালানো হয়েছে।   এ প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে সতর্ক করে তিনি বলেন, অন্য একটি দেশের বিরুদ্ধে হামলার জন্য নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া আন্তর্জাতিক আইন এবং প্রতিবেশীসুলভ আচরণের পরিপন্থী।   পেজেশকিয়ান বলেন, ইরান কখনোই সংঘাত বা উত্তেজনা চায় না। তবে দেশের জনগণের সমর্থন ও জাতীয় শক্তির ভিত্তিতে আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে এবং দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় ইরান কোনো দ্বিধা করবে না।   তিনি আরও দাবি করেন, গাজা ও লেবাননে সহিংসতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টাই মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতার প্রধান কারণ।   এদিকে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি এবং ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর সংঘর্ষ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি উত্তেজনা প্রশমন এবং যুদ্ধ বন্ধের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।   আলোচনায় দুই দেশের নাগরিকদের কনসুলার বিষয়, বিশেষ করে ইরান ও ফ্রান্সে আটক নাগরিকদের বিষয়েও কথা বলেন দুই নেতা।   সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালীর দখলে লক্ষ্য: কেন মধ্যপ্রাচ্যে ২,৫০০ মেরিন পাঠালেন ট্রাম্প

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে প্রায় ২,৫০০ মার্কিন মেরিন সদস্য মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ‘৩১তম মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিট’ নামে পরিচিত এই বিশেষ বাহিনীকে মূলত হরমুজ প্রণালী ঘিরে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে পাঠানো হচ্ছে বলে সামরিক বিশ্লেষকদের ধারণা।   বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে ইরানের মাইন পেতে রাখার সক্ষমতাকে যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে বড় নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে দেখছে। পেন্টাগনের আশঙ্কা, ছোট ও দ্রুতগামী নৌযান ব্যবহার করে ইরান সহজেই এ ধরনের মাইন স্থাপন করতে পারে, যা বিমান নজরদারি এড়িয়ে যেতে সক্ষম।   মার্কিন সামরিক সূত্রের মতে, ইরান এসব ছোট বোট কাছাকাছি দ্বীপপুঞ্জ থেকে পরিচালনা করতে পারে। ফলে ওই দ্বীপগুলোকে সামরিকভাবে নিয়ন্ত্রণে নেওয়া বা ‘নিউট্রালাইজ’ করাই মেরিন ইউনিটটির প্রধান লক্ষ্য হতে পারে। এ জন্য ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল থেকে ৩১তম মেরিন ইউনিটকে দ্রুত আরব সাগরে পাঠানো হয়েছে, যাতে প্রয়োজন হলে অল্প সময়ের মধ্যে অভিযান চালানো যায়।   এই মেরিন ইউনিটের সঙ্গে থাকবে লজিস্টিক সহায়তা, যুদ্ধবিমান এবং উভচর যুদ্ধজাহাজ। সাধারণত এ ধরনের ইউনিটের বহরে একটি উভচর আক্রমণকারী জাহাজ থাকে, যা এমভি–২২ ওসপ্রে, পরিবহন হেলিকপ্টার এবং এফ–৩৫ যুদ্ধবিমান বহন করতে পারে। পাশাপাশি পদাতিক বাহিনী ও উভচর সাঁজোয়া যানও মোতায়েনের জন্য প্রস্তুত থাকে।   অতীতে মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিটগুলো যুদ্ধক্ষেত্র ছাড়াও বিভিন্ন জরুরি অভিযানে ব্যবহৃত হয়েছে। দূতাবাস থেকে নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়া, জলদস্যু দমন কিংবা দ্রুত সামরিক হস্তক্ষেপের মতো অভিযানে এই বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।   এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি দাবি করেছেন, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপে মার্কিন বাহিনী বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে ইরানের সামরিক সক্ষমতা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যদিও তেল অবকাঠামোতে আঘাত না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।   বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ঘাঁটিতে প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করছে। সংখ্যায় তুলনামূলক কম হলেও মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিটকে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে সক্ষম বিশেষ বাহিনী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তারা প্রণালী এলাকায় ড্রোন প্রতিরোধ ব্যবস্থা ব্যবহার করে বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেল ট্যাংকারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও ভূমিকা রাখতে পারে।   তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই মোতায়েনের ফলে অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ছোট আকারের দ্রুত সামরিক অভিযান কখনো কখনো তাৎক্ষণিক সাফল্য আনতে পারে, কিন্তু কোনো ভুল সিদ্ধান্ত বড় ধরনের সংঘাতে রূপ নিতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তারা।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহ নেই: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনায় ইরান আগ্রহী নয় বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। রোববার (তারিখ) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ফেস দ্য নেশন-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।   আব্বাস আরাগচি বলেন, ইরান বর্তমানে স্থিতিশীল এবং নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় যথেষ্ট শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। তার ভাষায়, আমরা শুধু আমাদের জনগণকে রক্ষা করছি। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার কোনো কারণ আমরা দেখি না।   তিনি আরও বলেন, অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চলাকালেই ইরান হামলার শিকার হয়েছে। সে কারণে মার্কিনিদের সঙ্গে আলোচনার অভিজ্ঞতা ইতিবাচক নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।   এর আগে গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান যুদ্ধবিরতির আগ্রহ দেখাচ্ছে। তবে ট্রাম্পের এই বক্তব্য সরাসরি নাকচ করে দেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।   আরাগচি বলেন, আমরা কখনো যুদ্ধবিরতির কথা বলিনি। এমনকি আলোচনার বিষয়েও কোনো কথা বলিনি। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্ক আরও তীব্র অবস্থায় পৌঁছেছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
বাহরাইনে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের ফেরাতে বিশেষ ফ্লাইটের উদ্যোগ

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাবের মধ্যে বাহরাইনে আটকে পড়া প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকদের দেশে ফেরাতে বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সৌদি আরবের দাম্মাম বিমানবন্দর হয়ে তারা দেশে ফিরতে পারবেন।   রোববার (১৫ মার্চ) মানামায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, দূতাবাসের সমন্বয়ে গালফ এয়ারের মাধ্যমে দাম্মাম থেকে ঢাকাগামী একটি বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই ফ্লাইটে আগ্রহী প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে ফিরতে পারবেন।   দূতাবাস জানিয়েছে, এই ফ্লাইটে ভ্রমণ করতে আগ্রহীদের দূতাবাসের ফেসবুক পেজে দেওয়া গুগল ফরমের মাধ্যমে নিবন্ধন করতে হবে। তবে চূড়ান্তভাবে আসন বরাদ্দের বিষয়টি গালফ এয়ার কর্তৃপক্ষের ওপর নির্ভর করবে।   ভ্রমণের সম্ভাব্য তারিখ আগামী ২০ মার্চ বা এর কাছাকাছি সময় নির্ধারণ করা হতে পারে। প্রতিটি আসনের আনুমানিক ভাড়া ধরা হয়েছে প্রায় ৩০০ বাহরাইনি দিনার।   এই ফ্লাইটে ভ্রমণকারীরা ২৩ কেজি ওজনের একটি ব্যাগেজ ও একটি হ্যান্ডব্যাগ বহনের সুযোগ পাবেন। বাহরাইন থেকে সৌদি আরবের দাম্মাম পর্যন্ত বাসে যাতায়াত এবং প্রয়োজনীয় সৌদি ট্রানজিট ভিসার ব্যবস্থাও একই ভাড়ার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকবে।   দূতাবাস জানায়, যাত্রীদের টিকিট নিশ্চিত হলে গালফ এয়ার কর্তৃপক্ষ সরাসরি সংশ্লিষ্ট যাত্রীদের সঙ্গে যোগাযোগ করবে।   এদিকে আগ্রহী বাংলাদেশিদের সোমবার (১৬ মার্চ) সকাল ১০টার মধ্যে নিবন্ধন সম্পন্ন করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ দূতাবাস।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
মোজতবা খামেনি সুস্থ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় সক্রিয়: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি সুস্থ আছেন এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।   লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-আরাবি আলজাদিদ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, নতুন সর্বোচ্চ নেতা সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন এবং দেশের চলমান পরিস্থিতি তিনি সরাসরি তদারকি করছেন।   গত ৮ মার্চ ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে মোজতবা খামেনিকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। তবে ১২ মার্চ দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে তার একটি ভাষণ প্রচার করা হয়, যা একজন উপস্থাপক পড়ে শোনান।   সাক্ষাৎকারে আব্বাস আরাঘচি বলেন, চলমান যুদ্ধের ন্যায্য সমাপ্তি নিশ্চিত করতে পারে—এমন যেকোনো আঞ্চলিক উদ্যোগকে ইরান স্বাগত জানাবে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদেশগুলোর জাহাজের জন্য তা বন্ধ রাখা হবে।   তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত যুদ্ধ বন্ধে কোনো নির্দিষ্ট উদ্যোগ আলোচনার টেবিলে নেই।   এদিকে মোজতবা খামেনির অবস্থান ও জীবিত থাকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় শনিবার (১৪ মার্চ) এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “তিনি আদৌ বেঁচে আছেন কি না, আমি জানি না। এখন পর্যন্ত কেউ তার উপস্থিতির প্রমাণ দিতে পারেনি।”   তবে একই সঙ্গে খামেনির মৃত্যুর খবরকে গুজব বলেও উল্লেখ করেন ট্রাম্প। তার ভাষ্য, যদি খামেনি জীবিত থাকেন, তাহলে নিজের দেশের স্বার্থে তার ‘বুদ্ধিমানের সিদ্ধান্ত’ নেওয়া উচিত।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালি নিরাপদ রাখতে বিভিন্ন দেশকে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান ট্রাম্পের

বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান ধমনী হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার (১৪ মার্চ) ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে তেল সরবরাহ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হওয়ায় ট্রাম্প এই পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছেন।   শনিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং যুক্তরাজ্যের মতো দেশগুলো—যারা ইরানের এই কৃত্রিম বাধার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিলে এই পথটি উন্মুক্ত রাখতে নিজেদের যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে বলে তিনি প্রত্যাশা করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরান এই প্রণালি বন্ধের যে চেষ্টা করছে তা প্রতিহত করতে সম্মিলিত শক্তির প্রয়োজন।   এর আগে ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, যুক্তরাষ্ট্র খুব শীঘ্রই এই প্রণালি দিয়ে চলাচল করা সব তেলবাহী ট্যাঙ্কারকে মার্কিন নৌবাহিনীর পাহারায় পারাপারের ব্যবস্থা করবে। তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতা অনেকাংশে ধ্বংস করা হলেও ছোট ড্রোন বা মাইনের মাধ্যমে তারা এখনও নৌপথে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে। তাই বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল রাখতে এবং তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই অঞ্চলে আন্তর্জাতিক নৌ-উপস্থিতি বাড়ানো জরুরি হয়ে পড়েছে। তবে কোন দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে এই আহ্বানে সাড়া দিচ্ছে, সে বিষয়ে হোয়াইট হাউস থেকে এখনও কোনো চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়নি।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৪, ২০২৬ 0
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি
হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার ঘোষণা ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির

হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখা অব্যাহত থাকবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। নেতা হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথম বক্তৃতায় তিনি এ ঘোষণা দেন। বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ এই প্রণালির মাধ্যমে পরিবহন করা হয়। এই পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ইতিমধ্যে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।   বক্তৃতায় মোজতবা খামেনি জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে বলেন, শত্রুদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালি বন্ধ রাখা অব্যাহত থাকবে।   ইরানের পাশে ইয়েমেন ও ইরাকের সশস্ত্র গোষ্ঠী খামেনি বলেন, হুতি বিদ্রোহী–সহ ইয়েমেনের মিত্র গোষ্ঠীগুলোও তাদের ‘দায়িত্ব পালন করবে’। পাশাপাশি ইরাক–এর বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীও ইরানকে সহায়তা করতে প্রস্তুত বলে উল্লেখ করেন তিনি।   বক্তৃতায় ইরানের সামরিক বাহিনীর ভূয়সী প্রশংসা করেন মোজতবা খামেনি। তিনি বলেন, হামলার মুখেও সেনাবাহিনী দেশকে পরাধীনতা ও বিভক্তির হাত থেকে রক্ষা করেছে।   তিনি বলেন, “দেশ যখন চাপের মুখে এবং আক্রান্ত, তখন যারা সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন, সেই যোদ্ধাদের আমি ধন্যবাদ জানাই।”   নতুন সর্বোচ্চ নেতা আরও বলেন, “আমরা আমাদের শহীদদের রক্তের প্রতিশোধ নেব।” মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা অব্যাহত থাকবে   মোজতবা খামেনি বলেন, ইরান প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। তবে কেবল মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করেই হামলা চালানো হচ্ছে এবং এই হামলা চলতে থাকবে।   গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরু করে। প্রথম দিনের হামলায় নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। এরপর ৮ মার্চ তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়।   সূত্র: Al Jazeera

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১২, ২০২৬ 0
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। ফাইল ছবি: রয়টার্স
শহীদদের রক্তের বদলা নেওয়ার ঘোষণা মোজতবা খামেনির

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত ইরানিদের রক্তের বদলা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দায়িত্ব গ্রহণের পর নিজের প্রথম বিবৃতিতে তিনি স্পষ্ট করেন যে, শহীদদের প্রতিদান দিতে ইরান কোনো দ্বিধা করবে না। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইসরাইলি হামলায় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর ৮ মার্চ তার ছেলে মোজতবা খামেনিকে দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করা হয়।   বিবৃতিতে মোজতবা খামেনি হরমুজগান প্রদেশের মিনাব শহরের একটি স্কুলে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনাটি উল্লেখ করেন। ওই হামলায় ১১০ জন শিশুসহ মোট ১৬৮ জন নিহত হয়েছে বলে তিনি জানান। যদিও যুক্তরাষ্ট্র এই হামলার দায় এড়ানোর চেষ্টা করছে এবং তাদের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ঘটনাটি তদন্তাধীন বলে জানিয়েছেন। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এই ভাষণে নতুন নেতা মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক বাহিনীকে অবিলম্বে সব ঘাঁটি বন্ধ করার আলটিমেটাম দিয়েছেন, অন্যথায় সেগুলোকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি দিয়েছেন।   আঞ্চলিক পরিস্থিতির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত পুনর্ব্যক্ত করেছেন মোজতবা খামেনি। তিনি জানান, ইরান প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে বিশ্বাসী এবং তাদের লক্ষ্য কেবল মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো। যতদিন ইরানের জাতীয় স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হবে, ততদিন এই প্রতিরোধ ও হামলা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন। ইরানের ভবিষ্যতের স্বার্থে সর্বোচ্চ নেতার পদের গুরুত্ব বজায় রাখার ওপরও তিনি জোর দিয়েছেন।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১২, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ সংকটে অন্যদের রপ্তানি ব্যাহত, ইরানের তেল রপ্তানি প্রায় স্বাভাবিক

ইরানের উপকূলবর্তী সংকীর্ণ জলপথে তেহরান-সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলোর হামলায় উপসাগরীয় অন্যান্য দেশের রপ্তানি বাণিজ্য ব্যাহত হলেও ইরানের অপরিশোধিত তেল রপ্তানি প্রায় স্বাভাবিক গতিতেই চলছে। রয়টার্সের একটি ট্যাঙ্কার ট্র্যাকিং ডেটা বিশ্লেষণে এ তথ্য উঠে এসেছে।   মেরিটাইম ইন্টেলিজেন্স কোম্পানি ‘ট্যাঙ্কার ট্র্যাকার্স ডটকম’-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানকে লক্ষ্য করে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলা শুরুর পর থেকে দেশটি প্রায় এক কোটি ৩৭ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করেছে। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দেশগুলোর তেল ও গ্যাস পরিবহনে ব্যবহৃত ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা ছায়া জাহাজ বহরের গতিবিধি শনাক্ত করে এই প্রতিষ্ঠানটি। অন্যদিকে ভেসেল ট্র্যাকিং সেবা ‘কেপলার’-এর তথ্য অনুযায়ী, মার্চের প্রথম ১১ দিনে ইরানের রপ্তানির পরিমাণ আরও বেশি, প্রায় এক কোটি ৬৫ লাখ ব্যারেল।     ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতিশোধ হিসেবে ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ এবং মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা শুরু করেছে। এর ফলে ওই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে অন্যান্য দেশের জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে এবং অঞ্চলের তেল উৎপাদনকারীরা উৎপাদন কমাতে বাধ্য হয়েছে।   তবে ইরানের তেল রপ্তানি ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের উল্লেখযোগ্য কোনো হস্তক্ষেপ বা জাহাজ জব্দের ঘটনা না ঘটায় অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। ব্ল্যাকস্টোন কমপ্লায়েন্স সার্ভিসেসের পরিচালক ডেভিড টানেনবাম বলেন, গত ডিসেম্বরে ভেনেজুয়েলা-সংশ্লিষ্ট জাহাজ জব্দের পরও ইরানের ক্ষেত্রে একই ধরনের পদক্ষেপ না নেওয়া আশ্চর্যজনক।     জাহাজ ও নৌ-বিশেষজ্ঞ মাতিয়াস টোনি মনে করেন, ইরান-সংশ্লিষ্ট ট্যাঙ্কার থামানোর চেষ্টা করলে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর আরও বড় ধরনের হামলার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। শিপিং ফাইন্যান্সিয়ার জেমস লাইটবোর্ন বলেন, যতদিন ইরান এই অঞ্চলে নিজেদের জাহাজ সচল রাখতে পারছে, ততদিন তারা প্রণালী আংশিকভাবে উন্মুক্ত রাখতে চাইবে। তবে যুক্তরাষ্ট্র যদি ট্যাঙ্কার জব্দ করা শুরু করে, তাহলে ইরান মাইন পেতে পুরো প্রণালী বন্ধ করে দিতে পারে।     ট্যাঙ্কার ট্র্যাকার্স ও কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১১ মার্চের মধ্যে ইরান প্রতিদিন গড়ে ১১ লাখ থেকে ১৫ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করেছে। গত বছর দেশটির গড় দৈনিক রপ্তানি ছিল ১৬.৯ লাখ ব্যারেল। স্যাটেলাইট ছবিতে ইরানের খার্গ আইল্যান্ড রপ্তানি কেন্দ্রে এখনও বড় বড় তেলবাহী জাহাজে তেল লোড করতে দেখা গেছে, যা ইঙ্গিত দেয় যে সামনে রপ্তানির গতি আরও বাড়তে পারে।   কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় ফেব্রুয়ারিতেই ইরান তাদের রপ্তানি বাড়িয়ে দৈনিক ২১.৭ লাখ ব্যারেলে উন্নীত করেছিল। এমনকি ১৬ ফেব্রুয়ারি সমাপ্ত সপ্তাহে দেশটি রেকর্ড ৩৭.৯ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করেছিল।   গত ২৮ ফেব্রুয়ারির পর থেকে অন্তত ছয়টি তেলের ট্যাঙ্কার ইরান ছেড়েছে, যার মধ্যে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা ‘কুমা’ নামের জাহাজও রয়েছে। এছাড়া গত শুক্রবার আরও দুটি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস ট্যাঙ্কার কার্গো নিয়ে ইরান ত্যাগ করেছে। শিপিং সূত্র জানায়, এসব জাহাজ মূলত ইরানের একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং ১২ নটিক্যাল মাইল জলসীমার ভেতর দিয়ে চলাচল করছে, যা তাদের কিছুটা সুরক্ষা দিচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১২, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
এক সপ্তাহে দ্বিতীয়বার পুতিন–পেজেশকিয়ান ফোনালাপ, মধ্যপ্রাচ্য সংকট নিয়ে আলোচনা

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এক সপ্তাহের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ক্রেমলিন জানিয়েছে, দুই নেতার আলোচনায় মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বসহকারে মতবিনিময় হয়েছে।   ক্রেমলিনের বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের ফলে ইরানকেন্দ্রিক যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে দুই নেতা বিস্তারিত আলোচনা করেন। এই পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন প্রেসিডেন্ট পুতিন।   রুশ প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানায়, গত ৬ মার্চ পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশের নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পর পুতিন ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। একই ধারাবাহিকতায় ৯ মার্চ তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গেও ফোনে কথা বলেন।   উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। তেহরানসহ দেশটির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শহরে হামলার ঘটনা ঘটে। এরপর ইরানও পাল্টা প্রতিক্রিয়ার অংশ হিসেবে ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলার ঘোষণা দেয়।   এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, চলমান সংকট মোকাবিলায় রাশিয়া বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
আমিরাতে সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, নিহত ২ সেনাসদস্য

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতে একটি সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে দুই সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। সোমবার দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।   প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, দেশের অভ্যন্তরে দায়িত্ব পালনকালে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে হেলিকপ্টারটি দুর্ঘটনার শিকার হয়। এতে সশস্ত্র বাহিনীর দুই সদস্য নিহত হন।   তবে দুর্ঘটনাটি কোথায় ঘটেছে বা নিহত সেনাদের পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।   এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ‘অযাচিতভাবে’ লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছে দেশটি। জাতিসংঘে নিযুক্ত আমিরাতের রাষ্ট্রদূত জামাল আল মুশারখ বলেন, আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে তাদের অবস্থান আগেও স্পষ্ট ছিল এবং এখনও একই রয়েছে।   জেনেভায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত তার ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের হামলায় অংশ নেবে না এবং এ ধরনের সংঘাতে জড়ানোরও কোনো পরিকল্পনা নেই।   মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এই হেলিকপ্টার দুর্ঘটনা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে হামলার লক্ষ্যে ইরানকে গোয়েন্দা তথ্য দিচ্ছে রাশিয়া

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার পরিকল্পনায় Iran–কে গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা করছে Russia—এমন দাবি করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম The Washington Post।   সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট তিনজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত United States–এর যুদ্ধজাহাজ ও সামরিক বিমানের অবস্থান সংক্রান্ত তথ্য মস্কো তেহরানে সরবরাহ করছে।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সম্ভাব্য মার্কিন লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করতে ইরানকে সহায়তা করছে রাশিয়া। তবে মস্কো ঠিক কী পরিমাণ তথ্য ইরানকে দিচ্ছে, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।   ওয়াশিংটন পোস্টের তথ্যমতে, গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও Israel তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করার পর ইরানের সামরিক বাহিনীর মার্কিন লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করার সক্ষমতা কিছুটা কমে গেছে।   এ বিষয়ে The White House–এর এক মুখপাত্র রাশিয়ার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করতে রাজি হননি।   এ ছাড়া ওয়াশিংটনে অবস্থিত রুশ দূতাবাস এবং United Nations–এ রাশিয়ার স্থায়ী মিশনের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইরান যুদ্ধে প্রথম ১০০ ঘণ্টাতেই ৩৭০ কোটি ডলার ছাড়াল যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয়

ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া সামরিক অভিযানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের খরচের এক ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক থিঙ্ক-ট্যাঙ্ক ‘সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ’ (CSIS)-এর সাম্প্রতিক এক গবেষণা অনুযায়ী, যুদ্ধের প্রথম ১০০ ঘণ্টাতেই পেন্টাগনের ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৩.৭ বিলিয়ন (৩৭০ কোটি) মার্কিন ডলার। অর্থাৎ, প্রতিদিন গড়ে খরচ হচ্ছে প্রায় ৯০ কোটি ডলার। গবেষক মার্ক কানসিয়ান এবং ক্রিস পার্কের বিশ্লেষণ বলছে, এই বিশাল ব্যয়ের সিংহভাগই (প্রায় ৩.৫ বিলিয়ন ডলার) নিয়মিত বাজেটের বাইরে। মূলত অত্যাধুনিক স্টিলথ বোমারু বিমান পরিচালনা এবং বিপুল পরিমাণ উন্নতমানের যুদ্ধাস্ত্র ব্যবহারের কারণেই এই উচ্চ ব্যয় হচ্ছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, যুদ্ধের প্রথম চার দিনে যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন ধরনের ২ হাজারেরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও বোমা ব্যবহার করেছে, যা পুনরায় মজুত করতে খরচ হবে আরও ৩.১ বিলিয়ন ডলার। বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, যুদ্ধের এই উচ্চ ব্যয় ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। পেন্টাগনকে শীঘ্রই অতিরিক্ত তহবিলের জন্য কংগ্রেসের দ্বারস্থ হতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমান জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতি এবং তেলের দাম বাড়তে থাকায় এই যুদ্ধ দেশীয় রাজনীতিতে জনরোষ তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির অনুসারীরা, যারা বিদেশের যুদ্ধে জড়ানোর বিরোধী, তাদের মধ্যেও এই ব্যয় নিয়ে অসন্তোষ দেখা দিচ্ছে। আল জাজিরার ওয়াশিংটন প্রতিনিধি রোজিল্যান্ড জর্ডান জানিয়েছেন, টমাহক (Tomahawk), প্যাট্রিয়ট (Patriot) এবং থাড (THAAD) ইন্টারসেপ্টরের মতো ব্যয়বহুল ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি মেটাতে পেন্টাগন ইতিমধ্যে ৫০ বিলিয়ন ডলারের একটি সম্পূরক বাজেট অনুরোধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। অর্থনৈতিক ব্যয়ের পাশাপাশি এই যুদ্ধের মানবিক ক্ষয়ক্ষতির চিত্রও অত্যন্ত ভয়াবহ। ইরানের রেড ক্রিসেন্টের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার হামলা শুরুর পর থেকে ইরানে শিশুসহ অন্তত ১,৩৩২ জন নিহত হয়েছেন। লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১২৩ জন। এছাড়া যুদ্ধে ৬ মার্কিন সেনাসহ ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলোতেও বেশ কিছু প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। সামরিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ ইরানের ওপর হামলা আরও জোরালো করার ঘোষণা দেয়ায় আগামী দিনগুলোতে যুদ্ধের খরচ এবং ক্ষয়ক্ষতি আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় ‘মানবিক বিপর্যয়’: তদন্তের দাবি জাতিসংঘের

লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত বিমান হামলায় পরিস্থিতি চরম অবনতির দিকে যাচ্ছে। এই প্রাণঘাতী হামলার প্রেক্ষাপটে একটি জরুরি আইনি তদন্তের দাবি জানিয়েছে জাতিসংঘ।  সংস্থাটির মতে, ইসরায়েলি হামলাগুলো আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে চলছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এদিকে, হামলার মুখে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাচ্ছেন লাখ লাখ মানুষ, যা দেশটিতে এক ভয়াবহ মানবিক সংকটের জন্ম দিয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্ক এক বিবৃতিতে লেবাননের পরিস্থিতির ওপর গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “লেবানন এখন যুদ্ধের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।” ইসরায়েলি হামলার ফলে বেসামরিক প্রাণহানির ঘটনা উল্লেখ করে তিনি অবিলম্বে শত্রুতা বন্ধের আহ্বান জানান।  জাতিসংঘের পক্ষ থেকে বিশেষ করে বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলি এবং দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের জারি করা ‘ব্যাপক উচ্ছেদ আদেশের’ তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে। সংস্থাটির মতে, এই ধরনের বাধ্যতামূলক উচ্ছেদ আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের লঙ্ঘন এবং ‘নিষিদ্ধ জোরপূর্বক স্থানান্তর’ হিসেবে গণ্য হতে পারে। লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, দেশটিতে একটি ‘মানবিক বিপর্যয়’ ধেয়ে আসছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বৈরুতের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলো খালি করার নির্দেশ দেওয়ার পর থেকে লাখ লাখ মানুষ সহায়-সম্বলহীন অবস্থায় ঘরবাড়ি ছাড়ছেন। অনেকে কেবল পরনের কাপড়টুকু নিয়েই পথে নেমেছেন। ইতিমধ্যে লক্ষাধিক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে। গত সোমবার থেকে শুরু হওয়া এই নতুন দফার সংঘাত এখন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি হামলায় ইতিমধ্যে ১২৩ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। হিজবুল্লাহর সামরিক অবকাঠামো ধ্বংসের নামে ইসরায়েল বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলিতে গত চার দিনে অন্তত ২৬ দফা বিমান হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে, ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহও উত্তর ইসরায়েল লক্ষ্য করে রকেট হামলা অব্যাহত রেখেছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনেয়ির মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করলে এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়। এরপর থেকে ইসরায়েল লেবাননের ওপর ব্যাপক বিমান হামলা শুরু করে, যা এখন মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, বৈরুতের কেন্দ্রস্থল এবং আবাসিক এলাকায় এভাবে হামলা চলতে থাকলে হতাহতের সংখ্যা আরও বহুগুণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। জাতিসংঘ এখন আন্তর্জাতিক মহলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যেন দ্রুত এই উত্তেজনা প্রশমনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৬, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

১২ ঘণ্টারও কম সময়ে দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।   শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে।   এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।   নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।   এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।

অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা: এবার মেইনে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযানের ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)।   ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে।   কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না।   তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে।  সূত্র: ABC News

ভিসা নিয়ে বড় সুখবর দিলো যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে।   নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা।   ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল।   তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে।   এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস

Top week

ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক

হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ পারাপারের বিনিময়ে ভারতের কাছে তিন ট্যাংকার ফেরত চাইল ইরান

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৬, ২০২৬ 0