‘বাংলাদেশ টাইমস’ নামে একটি জনপ্রিয় অনলাইন সংবাদমাধ্যমের কার্যালয়ে সেনাবাহিনীর সদস্যরা অভিযান চালিয়ে প্রতিষ্ঠানটির সব সংবাদকর্মীকে শনিবার সন্ধ্যায় আটক করে নিয়ে যাওয়ার খবর প্রকাশের পর সাংবাদিক মহলসহ বিভিন্ন স্তরে উদ্বেগ তৈরি হয়।
এই প্রেক্ষাপটে একই নামের সঙ্গে মিল থাকায় বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ায় ‘টাইমস অব বাংলাদেশ’ নামে তুলনামূলক নতুন ও কম পরিচিত একটি ইংরেজি দৈনিক তাদের ফেসবুক পেইজে একটি পোস্ট দেয়। সেখানে পাঠকদের অনুরোধ জানানো হয় যেন তারা ‘বাংলাদেশ টাইমস’ এবং ‘টাইমস অব বাংলাদেশ’-কে এক করে না দেখেন।
পোস্টে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ টাইমস’-এর কিছু সংবাদকর্মী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হয়েছেন এমন খবরে বিভ্রান্ত হয়ে অনেকে ‘টাইমস অব বাংলাদেশ’ অফিসে ফোন করছেন। একই সঙ্গে পোস্টে দাবি করা হয়, ‘ডেইলি টাইমস অব বাংলাদেশ’ একটি ইংরেজি জাতীয় দৈনিক এবং এর সঙ্গে ‘Bangladesh Times’ নামের কোনো অনিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক নেই।
তবে এই পোস্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ তথ্য অধিদফতরের (ডিআইডি) ওয়েবসাইটে প্রকাশিত “নিবন্ধিত অনলাইন মিডিয়ার তালিকা” অনুযায়ী ‘Bangladesh Times’ নামটি নিবন্ধিত অনলাইন সংবাদমাধ্যম হিসেবে তালিকাভুক্ত রয়েছে।
ফলে ‘Bangladesh Times’-কে অনিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে উল্লেখ করা তথ্যগতভাবে সঠিক নয় বলে প্রমাণিত হয়।
মিডিয়া বিশ্লেষকদের মতে, একটি সংবেদনশীল পরিস্থিতিতে দায়িত্বশীল সংবাদমাধ্যমের কাছ থেকে আরও যাচাই-বাছাই করা ভাষা ও তথ্যপ্রমাণভিত্তিক বক্তব্য প্রত্যাশিত। বিশেষ করে অন্য একটি সংবাদমাধ্যমের নিবন্ধন সংক্রান্ত বিষয়ে ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য উপস্থাপন করলে তা বিভ্রান্তি বাড়াতে পারে।
উল্লেখ্য, ‘বাংলাদেশ টাইমস’-এর সংবাদকর্মীদের আটকের ঘটনায় এখনো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা আসেনি। এ অবস্থায় নামের মিলকে কেন্দ্র করে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বিভ্রান্তিকর তথ্য আদান–প্রদান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা এবং জাতিসংঘের সাবেক অস্ত্র পরিদর্শক, ইরান-মার্কিন আলোচনার বিশ্লেষণ করতে গিয়ে জোর দিয়ে বলেছেন যে ইরানের চেয়ে ট্রাম্পেরই এই আলোচনার বেশি প্রয়োজন। পার্সটুডে- মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা এবং জাতিসংঘের সাবেক অস্ত্র পরিদর্শক, ইরান-মার্কিন আলোচনার বিশ্লেষণ করতে গিয়ে জোর দিয়ে বলেছেন যে ইরানের চেয়ে ট্রাম্পেরই এই আলোচনার বেশি প্রয়োজন। মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা স্কট রিটার সতর্ক করে বলেছেন যে পশ্চিমারা সর্বদা তার গুপ্তচর সংস্থাগুলির মাধ্যমে ইরানের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ভিত্তি ধ্বংস করতে চাইছে এবং অপর্যাপ্তভাবে নিয়ন্ত্রিত তথ্য-যোগাযোগ রুট ব্যবহার করে কিছু ইরানিকে তাদের এজেন্ট নিয়োগ করেছে। ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের জন্য একটি পছন্দসই আক্রমণাত্মক হাতিয়ার নয় পার্সটুডে অনুসারে, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরিসর সীমিত করার বিষয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের বক্তব্যের কথা উল্লেখ করে রিটার ব্যাখ্যা করেছেন যে এই শর্তটি বাস্তবে "নিরস্ত্রীকরণ" এবং ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের কাছ থেকে "কৌশলগত আত্মহত্যার" অনুরোধের সমতুল্য। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে ক্ষেপণাস্ত্র শুধুমাত্র ইরানের জন্য একটি কাঙ্ক্ষিত আক্রমণাত্মক হাতিয়ার নয়, বরং প্রতিরোধ ও বেঁচে থাকার মেরুদণ্ড এবং এই স্তম্ভটি অপসারণকারী যেকোনো চেষ্টো ইরানকে অরক্ষিত করে তুলবে। তিনি যুক্তি দেন যে ইরান যদি তার ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা এতটাই কমিয়ে দেয় যে তারা আর ইসরায়েলে আঘাত করতে পারবে না, তাহলে ইসরায়েল প্রতিশোধের ভয় ছাড়াই ইরানে আক্রমণ করবে। ইরানের সাথে যুদ্ধ নীতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অক্ষমতা আমেরিকান বিশ্লেষক স্পষ্ট করে বলেন যে ইরানের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ এড়ানোর মূল কারণ কৌশলগত অক্ষমতা। তিনি বলেন, যেকোনও সামরিক আক্রমণ ইরানকে এমন প্রতিক্রিয়ার দিকে ঠেলে দেবে যা একই সাথে মার্কিন বাহিনী এবং স্বার্থের জন্য গুরুতর ক্ষতি বয়ে আনতে পারে। রিটার জোর দিয়ে বলেন যে এই ধরনের পরিবেশে ইরানের সাথে যুদ্ধ কেবল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কৌশলগত সুবিধাতো আনবেই না বরং ট্রাম্পের জন্য একটি অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিপর্যয়ও হতে পারে। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কেবল ইসরায়েলের স্বার্থ রক্ষার জন্য। আলোচনা একটি ফাঁদ সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা পরামর্শ দেন যে ইরানের উচিত দুর্বলতা থেকে নয়, বরং ওয়াশিংটনে রাজনৈতিক অজুহাতের পথ বন্ধ করার জন্য আলোচনায় প্রবেশ করা। তবে, রিটার সতর্ক করে দেন যে ইরানি কর্মকর্তাদের সর্বদা ধরে নেওয়া উচিত যে আলোচনা "একটি ফাঁদ"। কূটনীতির মাধ্যম বজায় রেখে, ইরানের উচিত তার সামরিক ও গোয়েন্দা যন্ত্রপাতিকে পূর্ণ সতর্ক রাখা । স্কট রিটার সাম্প্রতিক নৌ সংঘর্ষকে আমেরিকার শ্রেষ্ঠত্ব বা আগ্রাসনের লক্ষণ হিসেবে নয়, বরং ইরানের প্রবেশাধিকার-বিরোধী এবং আঞ্চলিক-বিরোধী ক্ষমতার প্রতি ওয়াশিংটনের কৌশলগত ভয়ের প্রতিফলন। রিটার জোর দিয়ে বলেন যে ইরানের নতুন প্রজন্মের নির্ভুল, কৌশলগত এবং হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের সামনে মার্কিন বিমানবাহী রণতরীগুলি "অপ্রচলিত" সিস্টেমে পরিণত হয়েছে। প্রধান হুমকি: ভেতর থেকে পতনের জন্য মানসিক যুদ্ধ অবশেষে, স্কট রিটার "মানসিক যুদ্ধ" নামক একটি ধারণার কথা উল্লেখ করেছেন; এমন একটি যুদ্ধ যেখানে, তিনি যুক্তি দেন, সরাসরি সামরিক সংঘাতের চেয়ে অনেক বেশি বিপজ্জনক, কারণ এর লক্ষ্য হল একটি গুলি না চালিয়েও একটি সমাজকে ভেতর থেকে ধ্বংস করা
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাতীয় নির্বাচন। নির্বাচনের দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দল ঐতিহাসিকভাবে ভারতের সঙ্গে শেখ হাসিনার তুলনায় অনেকটাই শীতল সম্পর্ক বজায় রেখেছে। টানা ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকা শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকার ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ভারতের ঘনিষ্ঠ মিত্র ছিল। বর্তমানে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ, আর শেখ হাসিনা স্বেচ্ছায় নির্বাসনে ভারতের দিল্লিতে অবস্থান করছেন। বাংলাদেশে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি এবং রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে চীন নিজের প্রভাব আরও বিস্তৃত করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ২০২৪ সালে নয়াদিল্লির ঘনিষ্ঠ শেখ হাসিনার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ক্ষমতাচ্যুতির পর থেকেই বাংলাদেশে চীনের প্রভাব বেড়েছে, আর আসন্ন নির্বাচনের পর তা আরও গভীর হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে, রাজনীতিক ও বিশ্লেষকরা বলছেন, আকার ও ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে ভারতকে পুরোপুরি উপেক্ষা করা বাংলাদেশের পক্ষে সম্ভব নয়। এই প্রেক্ষাপটে চীন ঢাকায় বিনিয়োগ ও কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ–ভারত সীমান্তের কাছাকাছি একটি ড্রোন কারখানা নির্মাণে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বেইজিং। ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনকে নিয়মিতভাবে বাংলাদেশি রাজনীতিক, সরকারি কর্মকর্তা ও সাংবাদিকদের সঙ্গে বৈঠক করতে দেখা যাচ্ছে। চীনা দূতাবাসের ফেসবুক পোস্ট অনুযায়ী, বিলিয়ন ডলারের অবকাঠামো প্রকল্পসহ বিভিন্ন সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে এসব বৈঠকে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর প্রধান এবং প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী তারেক রহমানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ মনে করে, শেখ হাসিনার অপরাধের সঙ্গে ভারত জড়িত ছিল। যে দেশ একজন সন্ত্রাসীকে আশ্রয় দিয়ে আমাদের দেশকে অস্থিতিশীল করতে দিচ্ছে, সেই দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বা ব্যবসা করা মানুষ মেনে নেবে না।’ তবে তারেক রহমান নিজে তুলনামূলক সংযত বক্তব্য দিয়েছেন। গত সপ্তাহে রয়টার্সকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমরা সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব রাখতে চাই, তবে অবশ্যই সেটা হবে আমার জনগণ ও দেশের স্বার্থ সুরক্ষিত রেখে।’ সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ঢাকা–দিল্লি সম্পর্ক আরও অবনতি হয়েছে, বিশেষ করে ক্রিকেটকে ঘিরে। বাংলাদেশের হিন্দু সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনার পর হিন্দু সংগঠনগুলোর চাপের মুখে জনপ্রিয় বাংলাদেশি বোলার মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএলের একটি দল থেকে বাদ দেয়া হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশ মার্চ থেকে মে পর্যন্ত অনুষ্ঠিতব্য আইপিএলের সম্প্রচার নিষিদ্ধ করে। পাশাপাশি ফেব্রুয়ারি–মার্চে অনুষ্ঠেয় পুরুষদের ক্রিকেট বিশ্বকাপে নিজেদের ম্যাচ ভারত থেকে শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেয়ার অনুরোধ জানায়। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করায় বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত টুর্নামেন্ট থেকেই সরে আসে। এদিকে, উভয় দেশই একে অপরের নাগরিকদের জন্য ভিসা প্রদানের ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি আরোপ করেছে। শেখ হাসিনার পতনের পর থেকে ভারত ও বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রকাশ্য কূটনৈতিক যোগাযোগও বিরল হয়ে উঠেছে। তবে গত ডিসেম্বরে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর ঢাকায় এসে তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তার মা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় ভারতের পক্ষ থেকে সমবেদনা জানান। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার একাধিকবার শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানালেও ভারত তাতে সাড়া দেয়নি। বিশেষ করে গত বছরের শেষ দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গণ-অভ্যুত্থান দমনে প্রাণঘাতী অভিযানের নির্দেশ দেয়ার দায়ে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিলে এই দাবি আরও জোরালো হয়। জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই দমন অভিযানে প্রায় ১৪০০ মানুষ নিহত এবং হাজারো মানুষ আহত হয়। যদিও শেখ হাসিনা এসব হত্যাকাণ্ডের নির্দেশ দেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ‘ধীরে ধীরে প্রভাব বাড়াচ্ছে চীন’ নির্বাচনের আগে বিএনপি ও তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ইসলামপন্থি দল জামায়াতে ইসলামী একে অপরকে বিদেশি শক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার অভিযোগে অভিযুক্ত করেছে। জামায়াতের দাবি, বিএনপি ভারতের খুব কাছাকাছি, আর বিএনপি অভিযোগ করছে, জামায়াতের সঙ্গে ভারতের পুরোনো শত্রু পাকিস্তানের ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। সম্প্রতি এক নির্বাচনি সমাবেশে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি ও পাকিস্তানের সামরিক সদর দপ্তর রাওয়ালপিন্ডির প্রতি ইঙ্গিত করে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, ‘দিল্লি নয় পিণ্ডি নয়, সবার আগে বাংলাদেশ।’ ভারতের কর্মকর্তারা ব্যক্তিগতভাবে স্বীকার করেছেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় না থাকলে যে দলই সরকারই গঠন করুক, তাদের সঙ্গেই সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে নয়াদিল্লিকে। তবে এ বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোনো মন্তব্য করতে রয়টার্সের অনুরোধে সাড়া দেয়নি। চীন গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদার। দুই দেশের বার্ষিক দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১৮ বিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে চীনা পণ্যের আমদানি মোট আমদানির প্রায় ৯৫ শতাংশ। শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর থেকে চীনা কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে শত শত মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। শেখ হাসিনার শাসনামলে ভারতের আদানি গ্রুপসহ একাধিক ভারতীয় করপোরেট প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে ব্যবসা সম্প্রসারণ করলেও, কোম্পানিটির পতনের পর নতুন কোনো চুক্তি হয়নি। নয়াদিল্লির থিংক ট্যাংক সেন্টার ফর সোশ্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক প্রোগ্রেসের সিনিয়র ফেলো কনস্টান্টিনো জাভিয়ার বলেন, ‘ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কের সংকট থেকে সুবিধা নিয়ে চীন প্রকাশ্যে ও আড়ালে ধীরে ধীরে তার প্রভাব বাড়াচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা কমে যাওয়া এবং ট্রাম্পের শুল্কযুদ্ধের সুযোগ নিয়ে চীন নিজেকে আরও বিশ্বাসযোগ্য ও পূর্বানুমানযোগ্য অর্থনৈতিক অংশীদার হিসেবে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশ চীনের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে, কারণ চীন বেশি অর্থনৈতিক প্রণোদনা দেয়। এছাড়া হিন্দু-অধ্যুষিত ভারতের মতো মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশের সংখ্যালঘু ইস্যুতে অস্থিরতার সময় বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে না। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের থমাস কিন বলেন, ‘ঢাকা ও নয়াদিল্লি যদি সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে বাংলাদেশের পরবর্তী সরকারের জন্য বেইজিংয়ের সঙ্গে পূর্ণ গতিতে এগিয়ে যাওয়ার প্রবণতা আরও বাড়বে।’ চীনের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর হওয়া মানেই ভারতের গুরুত্ব কমে যাওয়া নয় বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লাইলুফার ইয়াসমিন বলেন, ‘বাংলাদেশের চীন ও ভারত—দু’দেশকেই প্রয়োজন। বিষয়টি বাস্তববাদী দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখতে হবে। চীনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত হলেও কোনো সরকারই ভারতের গুরুত্ব উপেক্ষা করার মতো বোকামি করবে না।’ ভৌগোলিকভাবে তিন দিক থেকে বাংলাদেশকে ঘিরে রেখেছে ভারত, আর বাকি একদিকে অর্থাৎ দক্ষিণে রয়েছে বঙ্গোপসাগর। বাণিজ্য, ট্রানজিট ও নিরাপত্তা সহযোগিতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ভারতের ওপর নির্ভরশীল। একই সঙ্গে নয়াদিল্লির জন্যও স্থলসীমান্ত ব্যবস্থাপনায় ঢাকার সঙ্গে স্থিতিশীল সম্পর্ক জরুরি। শেখ হাসিনার সরকার বাংলাদেশে অবস্থানরত ভারতবিরোধী বিদ্রোহীদের দমনেও সহায়তা করেছিল। সরকারি তথ্যমতে, রাজনৈতিক টানাপোড়েন সত্ত্বেও দুই দেশের বার্ষিক বাণিজ্য প্রায় ১৩.৫ বিলিয়ন ডলারে স্থিতিশীল রয়েছে। বাংলাদেশই ভারতের প্রধান রপ্তানির জায়গা। আদানি গ্রুপ সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহও বাড়িয়েছে, যদিও শেখ হাসিনার আমলে নির্ধারিত উচ্চ শুল্ক নিয়ে বেশ সমালোচনা করেছে বর্তমান সরকার। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের কাছ থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে ভারত সহায়তা করলেও, দীর্ঘদিন ধরে ভারতের বিরুদ্ধে বহু অভিযোগ ছিল বাংলাদেশের মানুষের। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে পানি বণ্টন বিরোধ, সীমান্তে হত্যাকাণ্ড এবং অনেক বাংলাদেশির চোখে অজনপ্রিয় শেখ হাসিনা শাসনকে ভারতের বৈধতা দেয়া। জামায়াতপন্থি ও জেন জি-সমর্থিত ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির (এনসিপি) নেতারাও ভারতের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। দলটির প্রধান নাহিদ ইসলাম রয়টার্সকে বলেন, ‘এটা শুধু নির্বাচনি বক্তব্য নয়। তরুণদের মধ্যে নয়াদিল্লির আধিপত্যবোধ গভীরভাবে অনুভূত হচ্ছে, আর এটি এই নির্বাচনের অন্যতম প্রধান ইস্যু।’ সূত্র: রয়টার্স।
২০০১–২০০৬ মেয়াদে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের কেবিনেটে জামায়াতে ইসলামীর দুইজন মন্ত্রী অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। সে সময়ের সরকারকে অনেকেই দুর্নীতিগ্রস্ত বলে সমালোচনা করেন। সেই প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন ওঠে—তাঁরা কেন পদত্যাগ করেননি? এই প্রশ্নটি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালের নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই বিষয়টি আবেগ নয়, বরং রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব, রাজনৈতিক বাস্তবতা ও জনগণের স্বার্থের আলোকে ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন। এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে তৎকালীন সময়ে রাষ্ট্র ও জনগণের প্রতি মন্ত্রীদের সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক দায়বদ্ধতার প্রেক্ষিতে বিষয়টি দেখা উচিত। ১) দায়িত্ব ছেড়ে চলে যাওয়া নয়, দায়িত্ব পালনই ছিল সঠিক পথ: তদকালীন দুইজন সম্মানিত মন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে সৎ ছিলেন এবং নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ে শৃঙ্খলা ও নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন। যে মন্ত্রী নিজের দপ্তরে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন, তার জন্য কেবল সামগ্রিক রাজনৈতিক অভিযোগের ভিত্তিতে পদত্যাগ করাই একমাত্র দায়িত্বশীল পথ হতে পারে না। বরং রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন অব্যাহত রেখে জনগণের স্বার্থ রক্ষা করাই ছিল তাদের নৈতিক ও রাজনৈতিক কর্তব্য। ২) ভেতরে থাকলেই বাংলাদেশের পরিবর্তন আনা সম্ভব ছিল: কেবিনেটের ভেতরে থাকলে নীতিনির্ধারণ, বাজেট, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও রাষ্ট্রীয় নীতিতে প্রভাব রাখা যায়। পদত্যাগ করলে সেই প্রভাব শূন্য হয়ে যায়। রাজনীতিতে পরিবর্তন আসে ভেতর থেকে চাপ সৃষ্টি করে। বাইরে দাঁড়িয়ে নৈতিক বক্তব্য দিলেও বাস্তবে রাষ্ট্র পরিচালনার কাঠামোয় কোনো পরিবর্তন আনা প্রায় অসম্ভব । দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করতে হলে সরকার কাঠামোর ভেতরে থেকেই প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হয়—এটাই বাস্তব রাজনীতি। ৩) ড্যামেজ কন্ট্রোল’ও রাষ্ট্রসেবা: তাঁরা অন্তত নিজেদের দপ্তরে দুর্নীতি সীমিত রাখতে পেরেছিলেন। পদত্যাগ করলে ঐ দপ্তরগুলো এমন ব্যক্তিদের হাতে চলে যেতে পারত, যাদের ওপর কোনো নৈতিক বা রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ থাকত না। অর্থাৎ পদত্যাগ করলে দুর্নীতি কমত না—বরং বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি ছিল। এই দৃষ্টিকোণ থেকে নিজেদের দপ্তরে থেকে ক্ষতি সীমিত রাখাও জনগণের প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ সেবা। ৪) প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির মোকাবিলা প্রাতিষ্ঠানিকভাবেই করতে হয়: রাষ্ট্রীয় দুর্নীতি সাধারণত প্রাতিষ্ঠানিক ও রাজনৈতিক কাঠামোর মধ্যেই পরিচালিত হয়।এটির মোকাবিলা করতে হলে নিয়ম-কানুন, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং মন্ত্রিপরিষদের আলোচনার মধ্য দিয়ে পরিবর্তন আনতে হয়। কেবিনেটের বাইরে দাঁড়িয়ে এসব পরিবর্তন সম্ভব নয়। তাই কেবিনেটে থেকে নীতিগত আলোচনায় অংশ নেওয়া এবং সৎ প্রস্তাবনা দেওয়া ছিল একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক ভূমিকা। ৫) পদত্যাগ রাজনৈতিকভাবে সহজ, কিন্তু রাষ্ট্রীয়ভাবে দুর্বল সিদ্ধান্ত: পদত্যাগ প্রতীকী প্রতিবাদ হতে পারে, কিন্তু তা রাষ্ট্র পরিচালনার কাঠামো বদলায় না। বরং পদত্যাগের ফলে নতুন মন্ত্রী নিয়োগের মাধ্যমে দুর্নীতির সুযোগ আরও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। রাষ্ট্র পরিচালনায় দায়িত্বশীল রাজনীতি মানে—সমস্যা দেখে পালিয়ে যাওয়া নয়, বরং সমস্যার ভেতরে থেকেই সমাধানের চেষ্টা করা। এই দৃষ্টিকোণ থেকে পদত্যাগ না করাই ছিল রাজনৈতিকভাবে পরিণত ও বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত। ৬) মূল্যায়নের মানদণ্ড হওয়া উচিত কর্মফল, অবস্থান নয়: প্রশ্ন হওয়া উচিত— (ক) কে কেবিনেটে ছিলেন তা নয়, বরং কে কী কাজ করেছেন? (খ) তাঁরা নিজেদের দপ্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বজায় রাখতে চেষ্টা করেছেন, সরকারকে সৎ পরামর্শ দিয়েছেন এবং জনগণের স্বার্থ রক্ষায় শেষ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছেন কি? (গ) ভেতরে থেকে তারা কীভাবে ও কতটা দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পেরেছিলেন? এই প্রশ্নের উত্তরই ইতিহাস ও জনগণের সামনে প্রকৃত মূল্যায়নের ভিত্তি হওয়া উচিত। উপসংহার: জামায়াতের দুই মন্ত্রীর কেবিনেটে থাকা কোনো রাজনৈতিক সুবিধাবাদ নয়; এটি ছিল রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব পালনের একটি সচেতন সিদ্ধান্ত। ভেতরে থেকে প্রভাব সৃষ্টি, নীতিগত ভূমিকা পালন, শপথ অনুযায়ী দায়িত্ব পালন এবং নিজেদের দপ্তরে শৃঙ্খলা বজায় রেখে দুর্নীতি সীমিত করার চেষ্টা—এই সবই ছিল তাঁদের বাস্তব দায়িত্ব পালন। লেখক পরিচিতি: প্রকৌশলী লুৎফর খোন্দকার সমসাময়িক রাজনৈতিক ইতিহাস, শাসনব্যবস্থা, কারিগরি, প্রকৌশল ও অবকাঠামো নিয়ে আগ্রহী গবেষক ও লেখক। তিনি বিশ্লেষণধর্মী মতামত লেখায় যুক্ত। জর্জিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, email: usaaisf@gmail.com