ইরান-এ চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে সংবাদমাধ্যম, সাংবাদিক ও জনপরিচিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির বিচার বিভাগ। রোববার রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বিচার বিভাগ জানায়, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার, সম্পদ বাজেয়াপ্ত এবং কিছু সংবাদ সংস্থা বন্ধ করার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ‘শিক্ষামূলক’ সভার আয়োজনও করা হয়েছে। তবে অনেক ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রকাশ করা হয়নি। এদিকে ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণ সংস্থা নেটব্লকস জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে টানা ২৩ দিন ধরে দেশটিতে ইন্টারনেট সংযোগ ব্যাপকভাবে বিচ্ছিন্ন রয়েছে। সীমিত পরিসরে কিছু মানুষ স্টারলিংক ব্যবহার করে গোপনে ইন্টারনেট সংযোগ চালু রাখার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে অভিযানও জোরদার করা হয়েছে। ইরানের গোয়েন্দা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মারকাজি প্রদেশ থেকে ২৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সামরিক তথ্য বিদেশি ও ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমে সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া গোলেস্তান প্রদেশে পুলিশের স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে আরও দুজনকে আটক করা হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বিভিন্ন অভিযোগে কয়েক শ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি বিদেশে অবস্থানরত ১৫ জন ইরানি নাগরিকের বিরুদ্ধে ‘অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের’ তথ্য সংগ্রহ করে বিচার বিভাগের কাছে পাঠানো হয়েছে। এর আগে সরকার সতর্ক করে জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল-এর সঙ্গে সহযোগিতা করলে প্রবাসীদের দেশের ভেতরে থাকা সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হতে পারে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা শাখার সদস্য সচিব মাহদী হাসান ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বাংলার বিরুদ্ধে মানহানির অভিযোগ তুলে এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। এ দাবিতে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একটি আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন। মাহদী হাসান জানান, গত ২১ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে তার কাছে ৪০ লাখ টাকা সমমূল্যের ক্রিপ্টোকারেন্সি থাকার তথ্য উল্লেখ করা হয়, যা তিনি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করেছেন। এ তথ্য তার ব্যক্তিগত সুনাম ও সামাজিক মর্যাদাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। গত ৮ মার্চ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এস এম শাহরিয়ার কবিরের মাধ্যমে লন্ডনে অবস্থিত বিবিসির মহাপরিচালক টিম ডেভি এবং ঢাকার কার্যালয়ের প্রধান সম্পাদক মীর সাব্বিরের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে এই আইনি নোটিশ পাঠানো হয়। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাত সাড়ে আটটার দিকে মাহদী হাসান নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তার বিরুদ্ধে প্রকাশিত প্রতিবেদনের প্রতিবাদ জানাতে এবং মানহানিকর তথ্যের প্রতিকার পেতেই এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নোটিশে অভিযোগ করা হয়েছে, পর্যাপ্ত যাচাই-বাছাই ছাড়াই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে, যার ফলে তার ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে। নিজেকে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের একজন সক্রিয় কর্মী উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, ভিত্তিহীন এ তথ্যের কারণে তিনি সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। আইনি নোটিশে বিবিসি বাংলাকে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনটির বিষয়ে ব্যাখ্যা দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে নোটিশ পাওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদনটি প্রত্যাহার বা সন্তোষজনক ব্যবস্থা না নেওয়া হলে সংবাদমাধ্যমটির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
দীর্ঘ দুই বছরের মালিকানা সংকট ও টানাপড়েনের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বিক্রি হলো ব্রিটেনের প্রভাবশালী রক্ষণশীল সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টেলিগ্রাফ’। জার্মানির প্রখ্যাত মিডিয়া জায়ান্ট ‘অ্যাক্সেল স্প্রিঙ্গার’ ৫৭৫ মিলিয়ন পাউন্ড (বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ৯৩৬৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা) নগদ অর্থের বিনিময়ে এটি কিনে নিয়েছে। শুক্রবার (৬ মার্চ, ২০২৬) এক যৌথ বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানগুলো এই চুক্তির ঘোষণা দেয়। ১৭১ বছরের পুরনো এই সংবাদমাধ্যমটির মালিকানা পাওয়ার দৌড়ে আরও অনেক প্রতিষ্ঠান থাকলেও শেষ পর্যন্ত বাজিমাত করল বার্লিন-ভিত্তিক এই কোম্পানিটি। এর আগে ‘ডেইলি মেইল’-এর মালিকপক্ষ ৫০০ মিলিয়ন পাউন্ডের একটি প্রস্তাব দিলেও শেষ পর্যন্ত অ্যাক্সেল স্প্রিঙ্গারের বড় অঙ্কের অফারের কাছে তারা পিছিয়ে পড়ে। অ্যাক্সেল স্প্রিঙ্গারের প্রধান নির্বাহী ম্যাথিয়াস ডফনার এই অর্জনকে একটি ‘স্বপ্ন পূরণ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, ২০০৪ সালেও তারা একবার দ্য টেলিগ্রাফ কেনার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছিলেন। ডফনার বলেন, “দ্য টেলিগ্রাফের মতো একটি মানসম্মত ব্রিটিশ সাংবাদিকতার প্রতিষ্ঠানের মালিক হওয়া একইসঙ্গে একটি বিশেষ সুযোগ এবং বড় দায়িত্ব। আমাদের লক্ষ্য হলো এই সংবাদপত্রটিকে ইংরেজিভাষী বিশ্বের সর্বাধিক পঠিত এবং বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে অনুপ্রেরণাদায়ক সেন্টার-রাইট (মধ্য-ডানপন্থী) গণমাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা।” চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, অ্যাক্সেল স্প্রিঙ্গার সংবাদপত্রের ঐতিহ্য ও স্বকীয়তা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সেই সঙ্গে তারা ‘দ্য টেলিগ্রাফ’-কে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তির মাধ্যমে আরও আধুনিকীকরণ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে এর বিস্তার ঘটানোর পরিকল্পনা করছে। উল্লেখ্য, বার্কলে পরিবারের ঋণের দায়ে ২০২৩ সালে টেলিগ্রাফ মিডিয়া গ্রুপ বিক্রির তালিকায় ওঠে। এর আগে আবুধাবি-ভিত্তিক একটি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান এটি কেনার চেষ্টা করলে ব্রিটিশ সরকার ‘বিদেশি রাষ্ট্রীয় মালিকানা’ সংক্রান্ত আইন এনে তা আটকে দেয়। পরবর্তীতে ডেইলি মেইল গ্রুপ (DMGT) চেষ্টা চালালেও প্রতিযোগিতামূলক বাজারের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় সরকার সেটির ওপরও তদন্ত শুরু করে। অবশেষে অ্যাক্সেল স্প্রিঙ্গারের এই চুক্তির মাধ্যমে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার অবসান ঘটল। অ্যাক্সেল স্প্রিঙ্গার বর্তমানে বিশ্ববিখ্যাত পলিটিকো (Politico), বিজনেস ইনসাইডার (Business Insider) এবং জার্মানির শীর্ষ সংবাদপত্র বিল্ড (Bild)-এর মালিক। দ্য টেলিগ্রাফের অন্তর্ভুক্তি তাদের বৈশ্বিক মিডিয়া সাম্রাজ্যকে আরও শক্তিশালী করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে চুক্তিটি চূড়ান্তভাবে কার্যকর হওয়ার আগে ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনের প্রয়োজন হবে।
‘বাংলাদেশ টাইমস’ নামে একটি জনপ্রিয় অনলাইন সংবাদমাধ্যমের কার্যালয়ে সেনাবাহিনীর সদস্যরা অভিযান চালিয়ে প্রতিষ্ঠানটির সব সংবাদকর্মীকে শনিবার সন্ধ্যায় আটক করে নিয়ে যাওয়ার খবর প্রকাশের পর সাংবাদিক মহলসহ বিভিন্ন স্তরে উদ্বেগ তৈরি হয়। এই প্রেক্ষাপটে একই নামের সঙ্গে মিল থাকায় বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ায় ‘টাইমস অব বাংলাদেশ’ নামে তুলনামূলক নতুন ও কম পরিচিত একটি ইংরেজি দৈনিক তাদের ফেসবুক পেইজে একটি পোস্ট দেয়। সেখানে পাঠকদের অনুরোধ জানানো হয় যেন তারা ‘বাংলাদেশ টাইমস’ এবং ‘টাইমস অব বাংলাদেশ’-কে এক করে না দেখেন। পোস্টে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ টাইমস’-এর কিছু সংবাদকর্মী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হয়েছেন এমন খবরে বিভ্রান্ত হয়ে অনেকে ‘টাইমস অব বাংলাদেশ’ অফিসে ফোন করছেন। একই সঙ্গে পোস্টে দাবি করা হয়, ‘ডেইলি টাইমস অব বাংলাদেশ’ একটি ইংরেজি জাতীয় দৈনিক এবং এর সঙ্গে ‘Bangladesh Times’ নামের কোনো অনিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক নেই। তবে এই পোস্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ তথ্য অধিদফতরের (ডিআইডি) ওয়েবসাইটে প্রকাশিত “নিবন্ধিত অনলাইন মিডিয়ার তালিকা” অনুযায়ী ‘Bangladesh Times’ নামটি নিবন্ধিত অনলাইন সংবাদমাধ্যম হিসেবে তালিকাভুক্ত রয়েছে। ফলে ‘Bangladesh Times’-কে অনিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে উল্লেখ করা তথ্যগতভাবে সঠিক নয় বলে প্রমাণিত হয়। মিডিয়া বিশ্লেষকদের মতে, একটি সংবেদনশীল পরিস্থিতিতে দায়িত্বশীল সংবাদমাধ্যমের কাছ থেকে আরও যাচাই-বাছাই করা ভাষা ও তথ্যপ্রমাণভিত্তিক বক্তব্য প্রত্যাশিত। বিশেষ করে অন্য একটি সংবাদমাধ্যমের নিবন্ধন সংক্রান্ত বিষয়ে ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য উপস্থাপন করলে তা বিভ্রান্তি বাড়াতে পারে। উল্লেখ্য, ‘বাংলাদেশ টাইমস’-এর সংবাদকর্মীদের আটকের ঘটনায় এখনো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা আসেনি। এ অবস্থায় নামের মিলকে কেন্দ্র করে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বিভ্রান্তিকর তথ্য আদান–প্রদান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড পাওয়ার নিয়ম বন্ধ হয়ে গেছে। তবে মার্কিন ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ইউএস সিটিজেনশিপ এন্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিস এর অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী এই দাবি সঠিক নয়। সংস্থাটি জানিয়েছে, বিয়ের মাধ্যমে এখনও গ্রীন কার্ড এবং পরে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ রয়েছে, তবে আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হবে এবং বর্তমানে যাচাই-বাছাই আগের তুলনায় বেশি কঠোর করা হয়েছে। ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, একজন মার্কিন নাগরিক বা গ্রীন কার্ডধারী তার স্বামী বা স্ত্রীর জন্য পারিবারিক ভিত্তিতে অভিবাসনের আবেদন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে প্রথমে বৈধ বিয়ের প্রমাণসহ আবেদন জমা দিতে হয়। আবেদন অনুমোদিত হলে বিদেশি স্বামী বা স্ত্রী গ্রীন কার্ড পেতে পারেন এবং স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি পাবেন। সাধারণত মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করলে প্রক্রিয়া তুলনামূলক দ্রুত হয়, আর গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করলে অপেক্ষার সময় কিছুটা বেশি হতে পারে। গ্রীন কার্ড পাওয়ার পর নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার নিয়মও আগের মতোই রয়েছে। ইমিগ্রেশন নীতিমালা অনুযায়ী, যদি কেউ মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করে গ্রীন কার্ড পান এবং কমপক্ষে তিন বছর একসাথে বসবাস করেন, তাহলে তিনি নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন। আর যদি গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করেন, তাহলে সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে পাঁচ বছর পূর্ণ হলে নাগরিকত্বের আবেদন করা যায়। ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে বেশি সাক্ষাৎকার নেওয়া হচ্ছে, অতিরিক্ত কাগজপত্র চাওয়া হচ্ছে এবং যৌথ ব্যাংক হিসাব, বাসার ঠিকানা, ট্যাক্স নথি ও পারিবারিক প্রমাণ জমা দিতে হচ্ছে। ভুয়া বিয়ের মাধ্যমে সুবিধা নেওয়া ঠেকাতে এই যাচাই-বাছাই বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া আবেদন প্রক্রিয়ায় সময় বেশি লাগার কারণেও অনেকের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে যে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বন্ধ হয়ে গেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিয়ের মাধ্যমে আমেরিকার নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড বন্ধ হয়নি। তবে বর্তমানে আবেদন প্রক্রিয়া কঠোর হয়েছে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে বৈধ বিবাহ, একসাথে বসবাস এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রমাণ করা বাধ্যতামূলক।