বিএনপি

তারেক রহমান
প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে তারেক রহমান

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান শীর্ষ অবস্থানে রয়েছেন বলে দাবি করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক বিশ্বখ্যাত সাময়িকী ‘দ্য ইকোনমিস্ট’। গত ২ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত এক বিশেষ বিশ্লেষণে সাময়িকীটি বর্তমান বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও জনমতের প্রতিফলন তুলে ধরে এই তথ্য জানিয়েছে।   ইকোনমিস্ট-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনা সরকারের ১৫ বছরের দুঃশাসন ও দুর্নীতির অবসানের পর এটিই হবে বাংলাদেশের প্রথম প্রকৃত গণতান্ত্রিক নির্বাচন। সাময়িকীটি তারেক রহমানকে ‘খ্যাতানামা রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান’ ও ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর শীর্ষ দাবিদার’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। এর আগে টাইম ম্যাগাজিন ও ব্লুমবার্গের মতো প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোও তারেক রহমানের রাজনৈতিক উত্থান ও জনপ্রিয়তা নিয়ে একই ধরনের বিশ্লেষণ প্রচার করেছিল।   প্রতিবেদনে গুরুত্ব দিয়ে বলা হয়েছে যে, ২০০৮ সালের পর থেকে বাংলাদেশে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হয়নি। ফলে দেশের প্রায় ১২ কোটি ৮০ লাখ ভোটারের মধ্যে ৪০ শতাংশই আগে কখনো তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করার সুযোগ পায়নি। এই বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীর বড় অংশই এখন পরিবর্তনের আশায় বিএনপির দিকে তাকিয়ে আছে। দ্য ইকোনমিস্ট জামায়াতে ইসলামীর বর্তমান অবস্থান নিয়েও বিশ্লেষণ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জামায়াত নির্বাচনে কোনো নারী প্রার্থী না দেওয়ায় এবং দেশ পরিচালনার অভিজ্ঞতায় পিছিয়ে থাকায় শহুরে মধ্যবিত্ত শ্রেণির মধ্যে এক ধরনের সংশয় কাজ করছে। আর এই শূন্যস্থানটিকেই তারেক রহমানের জন্য বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে সাময়িকীটি।   তারেক রহমানের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে ইকোনমিস্ট লিখেছে, তিনি কেবল ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্নই দেখাচ্ছেন না, বরং দেশের টেকসই উন্নয়নের জন্য একটি নির্দিষ্ট রোডম্যাপ তুলে ধরছেন। তার উল্লেখযোগ্য প্রতিশ্রুতির মধ্যে রয়েছে: তরুণদের বিদেশে উচ্চ বেতনের চাকরির জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা। বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা। পানি সংকট মোকাবিলায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন এবং বছরে ৫ কোটি বৃক্ষরোপণ। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।   সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, তারেক রহমান রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে বেরিয়ে আসার দৃঢ় অঙ্গীকার করেছেন। তিনি ইকোনমিস্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ২০২৪ সালের বিপ্লব প্রমাণ করেছে যে জনবিচ্ছিন্ন সরকারের পরিণতি কী হয়। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন করতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার তিনি করবেন না, কারণ ‘প্রতিশোধপরায়ণ হওয়া কারো জন্যই মঙ্গল বয়ে আনে না।’   দ্য ইকোনমিস্টের এই বিশ্লেষণ বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারী ও কূটনীতিকদের মধ্যেও ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। প্রতিবেদনে আশা প্রকাশ করা হয়েছে যে, বাংলাদেশে গণতন্ত্রের পূর্ণ প্রত্যাবর্তন কেবল অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিরই উন্নতি ঘটাবে না, বরং প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে বিদ্যমান টানাপোড়েনের সম্পর্ক মেরামতেও সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬ 0
তারেক রহমান
মায়ের ২৫ বছর পর বেলস পার্কে বক্তব্য রাখবেন তারেক রহমান

বরিশালের ঐতিহাসিক বেলস পার্ক মাঠে আজ এক নতুন ইতিহাসের সাক্ষী হতে যাচ্ছে গোটা দক্ষিণাঞ্চল। দীর্ঘ ২০ বছর পর সরাসরি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে বরিশালে আসছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ২০০১ সালে এই মাঠে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ভাষণের ঠিক ২৫ বছর পর দলটির শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে পুরো বিভাগে এখন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।   তারেক রহমানকে বরণ করতে গতকাল মঙ্গলবার বিকেল থেকেই বরিশাল নগরীতে আছড়ে পড়ছে মানুষের ঢল। বিভাগের ৬টি জেলা ও ৪২টি উপজেলা থেকে আসা নেতাকর্মীদের ভিড়ে নগরীর আবাসিক হোটেলগুলো ইতোমধ্যেই কানায় কানায় পূর্ণ। মাঠজুড়ে ধানের শীষের সাজে সজ্জিত হাজারো সমর্থকের স্লোগানে স্লোগানে প্রকম্পিত হচ্ছে কীর্তনখোলা তীরবর্তী এই শহর। অনেকেই গত রাত থেকেই জনসভাস্থলে অবস্থান নিয়েছেন প্রিয় নেতাকে একনজর দেখার অপেক্ষায়।   ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগে আয়োজিত এই জনসভাকে দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নের টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। জনসভা থেকে ভোলার গ্যাস বরিশালে সরবরাহ, বরিশাল-ভোলা সেতু নির্মাণ এবং ভাঙ্গা-কুয়াকাটা ছয় লেন মহাসড়ক বাস্তবায়নের মতো মেগা প্রকল্পগুলোর বিষয়ে তারেক রহমানের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট ঘোষণা আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।   জনসভা উপলক্ষে মাঠের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে তিন স্তরের বলয় তৈরি করা হয়েছে। সেনাবাহিনী ও পুলিশের পাশাপাশি বিএনপির নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী মাঠের শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত রয়েছে। মূল মঞ্চ বড় করার পাশাপাশি পুরো মাঠে প্রায় ২০০টি মাইক ও শক্তিশালী সাউন্ড সিস্টেম বসানো হয়েছে। নারী সমর্থকদের জন্য রাখা হয়েছে আলাদা বসার ব্যবস্থা। এছাড়া তীব্র ভিড় মোকাবিলায় পানির বুথ ও জরুরি মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে।   বিএনপি সূত্র জানিয়েছে, আজ বেলা ১২টার দিকে হেলিকপ্টারযোগে তারেক রহমান বরিশাল পৌঁছাবেন। প্রধান অতিথির ভাষণ শেষ করে তিনি ফরিদপুরের জনসভার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। দীর্ঘ সময় পর প্রিয় নেতার এই সরাসরি সফর বরিশাল বিভাগের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬ 0
আবদুল আউয়াল মিন্টু
যতদিন বেঁচে আছি, জামায়াতকে ক্ষমতায় আসতে দেওয়া হবে না: মিন্টু

ফেনী-৩ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এবং দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু জামায়াতে ইসলামীকে ‘মুনাফেকের দল’ হিসেবে অভিহিত করে অত্যন্ত কঠোর ভাষায় আক্রমণ করেছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এই শক্তিকে কোনোভাবেই বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় আসতে দেওয়া হবে না। গত মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ফেনীর সোনাগাজী পৌরসভা চত্বরে আয়োজিত এক নির্বাচনী পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।   আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, “জামায়াতে ইসলাম একটি মুনাফেকের দল। এদের কোনোদিন বাংলাদেশের ক্ষমতায় আসতে দেওয়া হবে না। অন্তত যতদিন আমি বেঁচে আছি, এদেরকে ক্ষমতায় আসতে দেব না।” তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, জামায়াত এ দেশের কোনো উন্নয়ন তো করবেই না, বরং তাদের হঠকারী রাজনীতি এ দেশকে সিরিয়া বা লেবাননের মতো ধ্বংসস্তূপে পরিণত করবে। সোনাগাজী ও দাগনভূঞার ভোটারদের প্রতি আকুল আবেদন জানিয়ে তিনি বলেন, “জামায়াতে ইসলামীর কেউ যেন কোনোদিন একটি মেম্বারও (ইউপি সদস্য) হতে না পারে। তারা সবসময় মানুষের পেছনে খোঁচাখুঁচি করে এবং তারা মূলত সুযোগসন্ধানী। তারা জনগণের উন্নয়ন চায় না, চায় মারামারি আর মুনাফেকি।”   বক্তব্যে তিনি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বলেন, ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিএনপিকে ক্ষমতায় আনতে পারলে এবং তারেক রহমান সরকারপ্রধান হলে বাংলাদেশ প্রকৃত অর্থে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। তিনি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে মা-বোনদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ধানের শীষের পক্ষে ভোট সংগ্রহের জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেন।   পথসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মহিলা দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহেনা আক্তার শানু, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী হাবিব উল্যাহ মানিক, সোনাগাজী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জায়নাল আবেদীন বাবলু, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জামাল উদ্দিন সেন্টু, সদস্য সচিব সৈয়দ আলম ভূঞাসহ উপজেলা যুবদল ও অন্যান্য অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬ 0
নওগাঁয় বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষ
নওগাঁয় বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষে আহত ১০

নওগাঁ সদর উপজেলার হাঁসাইগাড়ি ইউনিয়নের মাখনা কোমলগোটা গ্রামে নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার বিকেলের এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি এতটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় যে, শেষ পর্যন্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনীকে হস্তক্ষেপ করতে হয়।   ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহতদের মধ্যে ৫ জনকে নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৪ জন জামায়াত কর্মী এবং ১ জন বিএনপি কর্মী। বাকিরা স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জামায়াত কর্মীরা হলেন—হাসান প্রামাণিক, জাহিদ হাসান, মোস্তাফিজুর এবং রুস্তম আলী। অন্যদিকে আহত বিএনপি কর্মী রাকিব হাসানও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।   ঘটনার সূত্রপাত হয় জামায়াত প্রার্থী আ স ম সায়েমের গণসংযোগকে কেন্দ্র করে। জামায়াত কর্মীরা দাবি করেন, প্রার্থী প্রচার শেষে স্থানীয় এক কর্মীর বাড়িতে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। এ সময় পার্শ্ববর্তী গোপাই গ্রামের কিছু যুবক সেখানে গিয়ে খাবারের আয়োজন হচ্ছে বলে ভিডিও ধারণ করতে থাকে। এটি নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে উভয় পক্ষ লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।   তবে বিএনপির আহত কর্মী রাকিব হাসানের দাবি ভিন্ন। তিনি জানান, জামায়াত কর্মীরা রান্নার বড় আয়োজন করছিল, যা তারা ভিডিও করতে গেলে জামায়াতের ৫০-৬০ জন কর্মী তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। নওগাঁ সদর উপজেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট আব্দুর রহিম এই ঘটনাকে ‘পরিকল্পিত হামলা’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, “আমাদের প্রার্থীকে হত্যার উদ্দেশ্যেই পাইপ ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সন্ত্রাসীরা হামলা করেছে।” অন্যদিকে নওগাঁ জেলা বিএনপির সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক নান্নু দাবি করেন, জামায়াতের লোকেরাই প্রথমে হামলা করে তাদের কর্মীদের আহত করেছে।   উত্তপ্ত এই পরিস্থিতিতে বিএনপি কর্মীরা জামায়াত প্রার্থীসহ নেতাকর্মীদের কিছুক্ষণ ঘরবন্দি করে রাখে। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের উদ্ধার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নওগাঁ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিয়ামুল হক জানিয়েছেন, বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬ 0
দেশ গড়ার পরিকল্পনায় প্রতিবন্ধী মানুষের অংশগ্রহণ চান জাইমা রহমান
দেশ গড়ার পরিকল্পনায় প্রতিবন্ধী মানুষের অংশগ্রহণ চান জাইমা রহমান

দেশ গড়ার পরিকল্পনায় প্রতিবন্ধী মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ চান বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমান। তিনি বলেন, প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য কী কী করা দরকার, তা তাঁরাই সবচেয়ে ভালো জানেন। তাঁদের কাছ থেকে জানার ও শেখার অনেক কিছু রয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর গুলশান সোসাইটি লেক পার্কে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন জাইমা রহমান। বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের শিরোনাম ছিল ‘প্রোসপারিং টুগেদার: অ্যান ইনক্লুসিভ বাংলাদেশ’ (একসঙ্গে সমৃদ্ধি: অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ)।   অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা নানা বয়সী ২২ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি তাঁদের অভিজ্ঞতা, সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন। খোলা পার্ক চত্বরে আয়োজিত এই সভায় কয়েকটি প্লাস্টিকের চেয়ার পেতে মাঝখানে বসেন জাইমা রহমান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ইশারা ভাষা অনুবাদকারী আফরোজা খাতুন। দেড় ঘণ্টাব্যাপী এই মতবিনিময়ে জাইমা রহমান মনোযোগ দিয়ে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বক্তব্য শোনেন।   অনুষ্ঠানের শেষ দিকে সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় জাইমা রহমান বলেন, প্রতিবন্ধী মানুষের সীমাবদ্ধতার মধ্যেও যে সক্ষমতা ও সাফল্য রয়েছে, তা দেশ ও জাতির জন্য গর্বের। তাঁদের বক্তব্য থেকে তিনি অনেক কিছু জেনেছেন ও শিখেছেন বলেও উল্লেখ করেন।   মতবিনিময়ে অংশ নেওয়া প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা শিক্ষা, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা এবং কর্মক্ষেত্রে বৈষম্যের নানা বিষয় তুলে ধরেন। কেউ কেউ বলেন, সরকারি স্কুলে ভর্তি হতে গিয়ে প্রতিবন্ধী শিশুরা নানা বাধার মুখে পড়ে। কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত হওয়ায় অনেক প্রতিবন্ধী মানুষ আর্থিক সংকটে ভোগেন। এ সময় প্রতিবন্ধী ভাতা বাড়িয়ে মাসে অন্তত পাঁচ হাজার টাকা করার দাবি ওঠে। ময়মনসিংহ থেকে আসা মোকাম্মল হোসেন বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাজ করতে গিয়ে সরকারি দপ্তর থেকে তেমন সহযোগিতা পাওয়া যায় না। তিনি উপজেলা পর্যায়ের উন্নয়ন বাজেটের একটি অংশ প্রতিবন্ধী মানুষের উন্নয়নে বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব দেন। কুমিল্লা থেকে আসা এক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি জানান, দুর্ঘটনায় একটি হাত হারানোর পরও তিনি কর্মজীবনে সক্রিয় রয়েছেন। প্রতিবন্ধী নাগরিকদের অধিকার বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান তিনি।   মতবিনিময়ে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন যথাযথভাবে প্রয়োগ না হওয়ার বিষয়টিও উঠে আসে। বক্তারা কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য, চাকরি স্থায়ী করতে গড়িমসি এবং প্রতিবাদ করলে চাকরি হারানোর হুমকির অভিযোগ করেন।   একজন শ্রবণ ও বাক্‌প্রতিবন্ধী নারী কর্মস্থলে হয়রানির অভিযোগ তুলে ধরে বলেন, প্রতিবন্ধী নারীদের সুরক্ষায় কঠোর আইন ও তার বাস্তব প্রয়োগ প্রয়োজন। চিকিৎসাসেবার সময় ইশারা ভাষা না বোঝার কারণে ভুল চিকিৎসার ঝুঁকি তৈরি হয় বলেও তিনি জানান।   এ সময় সরকারি প্রতিটি দপ্তর ও হাসপাতালে ইশারা ভাষার অনুবাদকারী নিয়োগের দাবি জানান অংশগ্রহণকারীরা। তাঁদের মতে, প্রতিবন্ধী মানুষের উন্নয়নে বরাদ্দ অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে কার্যকর নজরদারিও জরুরি।   ইশারা ভাষা অনুবাদকারী আফরোজা খাতুন বলেন, তাঁর পরিবারের একাধিক সদস্য শ্রবণ ও বাক্‌প্রতিবন্ধী হওয়ায় যোগাযোগের সীমাবদ্ধতার কষ্ট তিনি কাছ থেকে দেখেছেন। সরকারি দপ্তর, হাসপাতাল ও সেবাকেন্দ্রে দোভাষী নিয়োগে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।   অনুষ্ঠানে বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা জিয়াউদ্দিন হায়দার, পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজসহ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

শাহারিয়া নয়ন ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬ 0
বিএনপি–জামায়াত সংঘর্ষ । ছবি: সংগৃহীত
ভোলায় নির্বাচনী প্রচারকে কেন্দ্র করে বিএনপি–জামায়াত সংঘর্ষ, আহত ৯

ভোলার দৌলতখান উপজেলায় নির্বাচনী প্রচারকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা–কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৯ জন আহত হয়েছেন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।   মঙ্গলবার (তারিখ) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার মেদুয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মুন্সিরহাট এলাকায় এ সংঘর্ষ ঘটে।   পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ভোলা–২ (দৌলতখান–বোরহানউদ্দিন) আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মুফতি ফজলুল করিমের পক্ষে জামায়াতের নেতা–কর্মীরা ওই এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। একই সময় বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হাফিজ ইব্রাহিমের কর্মী–সমর্থকেরাও সেখানে অবস্থান করছিলেন। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়, যা পরে সংঘর্ষে রূপ নেয়।   সংঘর্ষে গুরুতর আহত জামায়াতের পাঁচজনকে ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতরা হলেন মো. রাসেল, মো. নাঈম, মো. বিল্লাল, মো. মিজান ও মো. সিফাত। তাঁরা সবাই স্থানীয় জামায়াতের কর্মী–সমর্থক।   অন্যদিকে বিএনপির আহতদের মধ্যে রয়েছেন রাসেল (২৬), মিজান (৩৫), রাকিব (২৭) ও রিয়াজ (২৭)। তাঁদের মধ্যে তিনজন দৌলতখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।   দৌলতখান উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আশ্রাফ উদ্দিন ফারুক অভিযোগ করে বলেন, পূর্বপরিকল্পিতভাবে বিএনপির নেতা–কর্মীরা লাঠিসোঁটা ও রড নিয়ে জামায়াতের কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এতে তাঁদের অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।   তবে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাজাহান সাজু পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, জামায়াতের নেতা–কর্মীরা প্রচারের নামে পরিকল্পিতভাবে বিএনপির কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এতে তাঁদের তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁরাও আইনি পদক্ষেপ নেবেন বলে জানান।   দৌলতখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম শিকদার বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি।   এদিকে বোরহানউদ্দিন উপজেলায় নির্বাচনী প্রচারণায় নারী কর্মীদের হেনস্তার অভিযোগে মানববন্ধন করেছে জামায়াতে ইসলামীর মহিলা শাখা। মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে উপজেলা থানা মোড় এলাকায় এ কর্মসূচি পালিত হয়।   মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বোরহানউদ্দিন পৌর জামায়াতের আমির মাওলানা মো. আমান উল্যাহ, সেক্রেটারি মো. মাকসুদুর রহমান এবং মহিলা শাখার কর্মী নাসরিন বেগম।   বক্তারা অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা–কর্মীরা নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণকারী নারীদের বাধা দিচ্ছেন এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন। তাঁরা এ ধরনের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা এবং ভবিষ্যতে নির্বাচনী প্রচারে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

শাহারিয়া নয়ন ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬ 0
সালাহউদ্দিন আহমদ
আগামীতে এমনও শুনতে হবে জামায়াত দেশের স্বাধীনতার পক্ষে যুদ্ধ করেছিল: সালাহউদ্দিন আহমদ

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যও কক্সবাজার-১ (চকরিয়াও পেকুয়া) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, আগামীতে কোন দিন হয়তো এমনও শুনতে হবে জামায়াতে ইসলামীএদেশের স্বাধীনতার পক্ষে যুদ্ধ করেছিল!  বাংলাদেশে আজ নতুন করে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করার একটি অপচেষ্টা চলছে দাবি করে সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন,একটি রাজনৈতিক দল-বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-যারা এই দেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল,তারাই আজ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বর্ণনা করার চেষ্টা করছে। গতকাল তাদের দলের আমির সাহেব যে বক্তব্য দিয়েছেন, সেখানে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাকে নিয়ে বিভ্রান্তিকরও অসত্য তথ্য উপস্থাপন করেছেন।তিনি দাবি করেছেন- শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি, অলি সাহেব দিয়েছেন। তিনি বলে,এই ধরনের বক্তব্য অস্বাভাবিক নয়। কারণ যারা একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধীতা করেছিল,তারাই আজ ইতিহাস বিকৃত করবে-এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ সব জানে। জনগণ জানে, আজ তারা নতুন রূপে নিজেদের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার যে চেষ্টা করছে,তা সম্পূর্ণ প্রতারণাওভণ্ডামি মঙ্গলবার দুপুরে কক্সবাজারের চকরিয়ার মাতামুহুরী সাংগঠনিক উপজেলা কোনাখালী ইউনিয়নের জংগলকাটা নির্বাচনী পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জামায়াতে ইসলাম একজন মুক্তিযোদ্ধাকে দলে যুক্ত করে, কার্যত ভাড়া করে,একটি সাইনবোর্ড দেখাতে চাইছে যে তাদেরও মুক্তিযোদ্ধা আছে। সেই মুক্তিযোদ্ধাকে ব্যবহার করে তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে নিজেদের অবস্থান দেখানোর চেষ্টা করছে।কিন্তু দেশের প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা এটা কখনোই মেনে নেবে না এবং আমরা বিশ্বাস করি, তারা এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাবেন। তিনি বলেন,এই দেশের সকল দেশপ্রেমিক মানুষ, স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি-সবাইএই ইতিহাস বিকৃতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ঝড় তুলবে। একজন রাজনৈতিক দলের কর্মী হিসেবে আমাদের দায়িত্ব হলো-যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে চায়, মিথ্যা তথ্য ছড়াতে চায়, ইতিহাস বিকৃত করতে চায়-তাদের বিরুদ্ধে শালীন ভাষায় হলেও দৃঢ়ভাবে নিন্দাও প্রতিবাদ জানানো। সেই দায়িত্ব থেকেই আমি আজ তাদের বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন,গত কয়েকদিন আগে তারা এই দেশের নারী সমাজকে চরমভাবেু অপমান করেছে। সাক্ষাৎকারে কর্মজীবী নারীদের পতিতাদের সঙ্গে তুলনা করেছে। তারা নারীদের কর্মঘণ্টা কমিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। বাস্তবে এই প্রস্তাব নারীদের কল্যাণ নয়-এটি নারীদের কর্মসংস্থান ধ্বংস করার একটি পরিকল্পনা। এসময় উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার জেলা বিএনপি সাংগঠনিক সম্পাদক জামিল ইব্রাহীম চৌধুরী, দফতর সম্পাদক ইউসুফ বদরী, মাতামুহুরি সাংগঠনিক উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হেফাজুতুর রহমান চৌধুরী টিপু, সাংগঠনিক সম্পাদক শোয়াইবুল ইসলাম সবুজ প্রমুখ।   প্রতিবেদক: শ্যামল সান্যাল

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬ 0
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান
বিটিভিতে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান, জানা গেল সময়

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) ভাষণ দেবেন। নির্বাচন কমিশন বিটিভি মহাপরিচালককে এ সংক্রান্ত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলেছে।   মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক বিটিভি মহাপরিচালককে এ বিষয়ে চিঠি দেন। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য নির্বাচনী পরিবেশ সৃষ্টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারণার ক্ষেত্রে সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নির্বাচনী পরিবেশ সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখতে পারে।   বিটিভিতে দলীয় প্রধানের নির্বাচনী প্রচারের স্লট বরাদ্দ সংক্রান্ত কমিশনের নির্দেশনা অনুসরণের কথাও চিঠিতে বলা হয়। এক্ষেত্রে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আচরণ বিধিমালা, ২০২৫-এর বিধি ৬ (জনসভা, পথসভা ও সমাবেশ অনুষ্ঠান)-এর উপবিধি (গ)-এর অনুসরণে লিখিত আবেদন প্রাপ্তির সময়ের ক্রমানুসারে স্লট নির্ধারণ করতে হবে।   এছাড়া বিটিভি কর্তৃক প্রতি রাজনৈতিক দলের প্রধানের জন্য স্লট বরাদ্দ এবং স্লটের মেয়াদ নির্ধারণ করতে হবে। প্রচারণা রেকর্ডিংয়ের তারিখ ও সময় সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে বিটিভি নিষ্পত্তি করবে।   চিঠিতে আরো বলা হয়, যেসব রাজনৈতিক দল বিটিভিতে প্রচারণার সুযোগ চাইবে, তাদের আবেদনের সময়ের ক্রমানুয়ায়ী বক্তব্য প্রদানের সুযোগ দিতে হবে। তবে বিএনপি ছাড়া অন্য কোনো রাজনৈতিক দল হতে আবেদন পাওয়া যায়নি। তাই বিএনপির দলীয় প্রধানকে তাদের চাহিদা মোতাবেক ৯ ফেব্রুয়ারি শেষ স্লটে বক্তব্য প্রদানের সুযোগ দেওয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কমিশন বিটিভিকে বলেছে।   এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৫১টি দল প্রার্থী দিয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটে তারা ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত প্রচার চালাতে পারবে।   এবার বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে সর্বোচ্চ ২৯২ জন ভোটের মাঠে রয়েছে। এরপর আছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, দলটির প্রার্থী সংখ্যা ২৫৩। এই হিসাবে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সংখ্যায় তৃতীয় সর্বোচ্চ। আর জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে মোট ২২৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এছাড়া জাতীয় পার্টির ১৯২ জন, গণঅধিকার পরিষদের ৯০ জন এবং এনসিপির ৩২ জন প্রার্থী ভোটে রয়েছেন।   এর আগে ২০০৮ সালে নবম সংসদ নির্বাচনের আগে প্রচারণার শেষ সময়ে এসে প্রধান কয়েকটি দলের প্রধানদের ভাষণ প্রচার করা হয়। এ ধারাবাহিকতায় ২০১৩ সালে দশম সংসদ নির্বাচনের আগেও দলীয় প্রধানদের ভাষণ প্রচার করা হয়েছে।  

ইসতিয়াক মাহমুদ ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬ 0
রায়পুরে অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীর বিএনপিতে যোগদান
রায়পুরে আ.লীগের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীর বিএনপিতে যোগদান

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে বড় ধরনের ধস নেমেছে। সোমবার বিকেলে এক স্থানীয় সমাবেশে ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগদান করেছেন। নির্বাচনের আগে তৃণমূল পর্যায়ে এমন দলবদলকে ওই এলাকার রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।   বিএনপিতে যোগ দেওয়া নেতাকর্মীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন—আবুল হোসেন মেম্বার, আনোয়ার গাজী, সামছুল হক গাজী, জাহাঙ্গীর গাজী, শাহজালাল বেপারী ও জিয়াউল রহমান বেপারী। চরবংশী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হারুন অর রশীদ হাওলাদারসহ স্থানীয় শীর্ষ নেতারা তাদের হাতে ধানের শীষের প্রতীক তুলে দিয়ে সাদরে বরণ করে নেন।   যোগদানকারী নেতারা তাদের প্রতিক্রিয়ায় জানান, দীর্ঘদিন ধরে দেশের গণতন্ত্র ও জনগণের মৌলিক অধিকার খর্ব করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগের অপরাজনীতি থেকে মুক্তি পেতে এবং বিএনপির নেতৃত্বে চলমান গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতেই তারা দল ত্যাগের এই বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তারা এখন থেকে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে রাজপথে থাকার অঙ্গীকার করেন।   চরবংশী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হারুন অর রশীদ হাওলাদার বলেন, "তৃণমূলে বিএনপির জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা প্রতিদিন বাড়ছে। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সচেতন নেতাকর্মীরাও এখন বিএনপির পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছেন। এই গণযোগদান আগামী দিনে আমাদের সাংগঠনিক শক্তিকে আরও মজবুত করবে এবং যেকোনো ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় সাহস জোগাবে।"   রায়পুরে আওয়ামী লীগের এই গণপদত্যাগ ও বিএনপিতে যোগদান নিয়ে পুরো উপজেলায় ব্যাপক আলোচনা চলছে। বিএনপি নেতারা একে ‘পরিবর্তনের বার্তা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬ 0
বিএনপির নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গতকাল যশোর উপশহর কলেজ মাঠে | ছবি: বিএনপির প্রেস উইং
খুলনায় তারেক রহমান: একটি দল নারীদের ঘরে আটকে রাখতে চায়

একটি দল নারীদের ঘরের ভেতর আটকে রাখতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ‘একটি রাজনৈতিক দল বাংলাদেশের অর্ধেক নারী গোষ্ঠীকে ঘরে আটক রাখতে চায়, সেই কথা তারা বলেছে। একটি রাজনৈতিক দলের নেতা পরিষ্কার বলে দিয়েছেন, তারা কোনোভাবেই নারীর নেতৃত্বে বিশ্বাস করে না।’ গতকাল দুপুরে খুলনা নগরের খালিশপুরের প্রভাতি স্কুল মাঠে নির্বাচনী জনসভায় তারেক রহমান এ কথা বলেন। জামায়াতকে ইঙ্গিত করে কথাগুলো বলা হলেও তিনি দলটির নাম উল্লেখ করেননি। দীর্ঘ ২২ বছর পর খুলনায় এলেন বিএনপির চেয়ারম্যান। গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টায় তিনি খালিশপুরের প্রভাতি স্কুল মাঠে পৌঁছান। মঞ্চে উঠলে নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা করতালি দিয়ে তাঁকে স্বাগত জানান। তারেক রহমান হাত নেড়ে শুভেচ্ছার জবাব দেন। প্রায় ২৭ মিনিট বক্তব্য দেন তিনি। কারও নাম উল্লেখ না করে জনসভায় তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা দেখেছি, একটি রাজনৈতিক দলের নেতা দুই দিন আগে পরিষ্কারভাবে বলেছেন, যে সকল মহিলা, যে সকল মা-বোন কর্মসংস্থানের জন্য যান, আপনাদের সামনে বলতে রীতিমতো লজ্জা হচ্ছে, এমন একটি শব্দ মা-বোনদের জন্য ব্যবহার করেছেন, যা এ দেশের জন্য কলঙ্কস্বরূপ।’ বিএনপির চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘আমরা খেয়াল করছি, একটা মহল বলার চেষ্টা করছে এবার ভোট গণনায় অনেক সময় লাগবে। ষড়যন্ত্র কিন্তু আবার শুরু করেছে। এই যে যাদের কথা বলেছি, প্রথমে যারা জনগণের সামনে সকাল-বিকেল মিথ্যে কথা বলছে, যারা দেশের নারী সমাজকে হেয়প্রতিপন্ন করছে। এরাই আবার ষড়যন্ত্র শুরু করেছে বিভিন্নভাবে। কারণ, তারা জানে, তাদের এসব কথাবার্তা, কাজকর্ম এসব ফাঁকিজুঁকি মানুষ ধরে ফেলেছে। সে জন্য তারা বিভিন্ন ছলচাতুরীর চেষ্টা করছে। সে জন্য দল-মত-ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।’ বর্তমানে একমাত্র বিএনপির দেশ পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘যেহেতু বিএনপির দেশ পরিচালনার অভিজ্ঞতা আছে, বিএনপির পক্ষেই সম্ভব বাংলাদেশকে সঠিক পথে পরিচালনা করার। একই সঙ্গে বিএনপির আরেকটি অভিজ্ঞতা আছে কীভাবে দেশকে দুর্নীতির করাল গ্রাস থেকে বের করে নিয়ে আসতে হয়।’ প্রশ্ন রেখে তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের লাখ লাখ নারী পোশাকশিল্পে কাজ করে দেশের অর্থনীতি সচল রেখেছেন। নিম্নমধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের নারীরা দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে সংসার চালাতে স্বামীর পাশাপাশি বিভিন্ন কাজ করছেন। অথচ তাঁদেরই আজ অসম্মানিত করা হয়েছে।’ এ সময় তারেক রহমান মহানবী (সা.)-এর স্ত্রী হজরত বিবি খাদিজা (রা.) একজন সফল ব্যবসায়ী ছিলেন বলে উল্লেখ করেন বিএনপির চেয়ারপারসন। তিনি বলেন, ‘যে দলটি নির্বাচনের আগে দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে ঘরের মধ্যে বন্দী করতে চায়, অসম্মানজনকভাবে কথা বলে, নির্বাচনে যদি কোনোভাবে তারা সুযোগ পায়, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে তাদের আচরণ তাহলে কী হতে পারে!’ প্রসঙ্গত, জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের এক্স পোস্টে কর্মজীবী নারীদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। তবে জামায়াতের দাবি, শফিকুরের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে ওই পোস্ট দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় দলটি শনিবার দিবাগত রাতে রাজধানীর হাতিরঝিল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে। বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘যখন নারী সমাজে তীব্র সমালোচনা শুরু হলো, সমাজের প্রত্যেকটি মানুষের কাছ থেকে সমালোচনা শুরু হলো, তখন তারা বলছে, তাদের আইডি হ্যাক হয়ে গিয়েছিল। এই বিষয়ের বিশেষজ্ঞ পরিষ্কারভাবে বলেছে—আইডি এভাবে হ্যাক হতে পারে না।...এদের একটাই পরিচয়, এরা মিথ্যাবাদী। এরা নিজেদের প্রয়োজনে নিজেদের স্বার্থে এরা মিথ্যা কথা বলে। এরা আর যা-ই হোক দেশদরদি হতে পারে না।’ জামায়াতে ইসলামীর উদ্দেশে তারেক রহমান আরও বলেন, ‘এরা (জামায়াতে ইসলামী) শুধু নিজের স্বার্থের কথা বোঝে। এরা ধর্মকে ব্যবহার করে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করার জন্য। যেখানে প্রয়োজন সেখানে তারা তাদের মতো করে ধর্মকে ব্যবহার করে। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের জনসংখ্যা প্রায় ২০ কোটি। এর মধ্যে অন্তত ১০ কোটি নারী। এই বিশাল নারী সমাজকে পেছনে রেখে যত বড় পরিকল্পনাই করা হোক না কেন, দেশকে সামনে নেওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়। বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রত্যেক গৃহিণীর কাছে “ফ্যামিলি কার্ড” পৌঁছে দেবে। এই কার্ডের মাধ্যমে নারীদের ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী করে তোলা হবে, যাতে নারী সমাজ কারও মুখাপেক্ষী হয়ে না থাকে।’ খুলনা অঞ্চলের উন্নয়ন প্রসঙ্গে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে এই অঞ্চলকে আবার জীবন্ত শিল্পনগরীতে রূপান্তর করা হবে, নারী-পুরুষ উভয়ের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা হবে। জনসভার শেষ পর্যায়ে খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরার ১৪ জন বিএনপির প্রার্থীর হাতে ধানের শীষ তুলে দিয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান। ‘আপনাদের অত্যন্ত সতর্ক ও সজাগ থাকতে হবে’ খুলনায় জনসভায় ভাষণ দেওয়ার পর যশোরে আসেন তারেক রহমান। যশোর উপশহর ডিগ্রি কলেজ মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় তিনি বলেন, ‘নির্বাচনকে বিতর্কিত ও বাধাগ্রস্ত করতে একটি রাজনৈতিক দল উঠেপড়ে লেগেছে। আপনাদের অত্যন্ত সতর্ক ও সজাগ থাকতে হবে।’ জনসভায় তারেক রহমান এ অঞ্চলের সাত জেলার বিএনপির ২২ জন প্রার্থীকে পরিচয় করিয়ে দিয়ে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। বেলা আড়াইটায় মঞ্চে ওঠেন বিএনপির এই শীর্ষ নেতা। তখন স্লোগান আর মুহুর্মুহু করতালিতে সভাস্থল প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। জনতার উদ্দেশে হাত নেড়ে তিনি অভিবাদন গ্রহণ করেন। ৩২ মিনিট ভাষণ দেন তারেক রহমান। এ জনসভায় দেওয়া ভাষণেও তারেক রহমান জামায়াতের আমিরের এক্স অ্যাকাউন্টে দেওয়া নারী অবমাননাকর পোস্টের উল্লেখ করে সমালোচনা করেন। উপস্থিত জনতার উদ্দেশে তারেক রহমান আরও বলেন, ‘যারা দেশের মানুষের কাছে মিথ্যা কথা বলে, তারা বিকাশ নম্বর নিচ্ছে। এটাই তাদের ক্যারেক্টার (চরিত্র)। তাদের বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে। তাদের ভূমিকার কারণে একাত্তর সালে লাখ লাখ মা-বোন ইজ্জত হারিয়েছে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তাদের ষড়যন্ত্র রুখে দিতে হবে।’ জামায়াতে ইসলামীকে ইঙ্গিত করে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেছেন, ‘তারা বলে সৎ লোকের শাসন কায়েম করবে। আরে ভাই, এটাই তো অসৎ প্রস্তাব। কীভাবে আপনারা মনে করেন যে অসৎ প্রস্তাব দিয়ে সৎ লোকের শাসন কায়েম করবেন।’

শাহারিয়া নয়ন ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬ 0
জামায়াতে যোগ দিলেন দুই দলের ১৩ নেতাকর্মী

যশোরের শার্শা উপজেলায় বিএনপি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ১৩ জন নেতাকর্মী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছেন।   সোমবার (২ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপজেলার নিজামপুর ইউনিয়নের উদ্যোগে আয়োজিত দাঁড়িপাল্লার নির্বাচনি জনসভায় আনুষ্ঠানিকভাবে তারা জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন। এ সময় জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাওলানা আজীজুর রহমান নবাগতদের ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নেন।   জানা গেছে, যোগদানকারীদের মধ্যে রয়েছেন— নিজামপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি জালাল উদ্দীন, বিএনপি কর্মী রাব্বানী মল্লিক, বীরশ্রেষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধা আতিয়ার রহমান, আবু সুফিয়ান, হাফিজুর রহমান, সেলিম রেজা, আব্দুল খালেক, ইউনুস আলী, গোলাম হোসেন, মোস্তফা আহমেদ এবং শার্শা উপজেলা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের দপ্তর সম্পাদক মাওলানা আব্দুর রশিদ।    এর আগে সকালে পুটখালী ইউনিয়নের পুটখালী গ্রামের সেলিম উদ্দীন, গিয়াসউদ্দিন ও দারজুল ইসলামসহ মোট ১৩ জন নেতাকর্মী জামায়াতে যোগদান করেছেন।   যোগদানের বিষয়ে নিজামপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি জালাল উদ্দীন বলেন,আমি দীর্ঘদিন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলাম। জামায়াতে ইসলামীর সুশৃঙ্খল ও আদর্শিক কার্যক্রমে অনুপ্রাণিত হয়ে আমি এ দলে যোগ দিয়েছি।   শার্শা উপজেলা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের দপ্তর সম্পাদক মাওলানা আব্দুর রশিদ বলেন, জামায়াতে ইসলামী একটি দেশপ্রেমিক ও আদর্শিক সংগঠন। সকল সচেতন ও দেশপ্রেমিক মানুষকে সঙ্গে নিয়ে জামায়াতে ইসলামী জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাবে।   শার্শা উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, জামায়াতে ইসলামী একটি আদর্শিক, সুশৃঙ্খল ও গণমুখী সংগঠন। আজ বিএনপি ও ইসলামি আন্দোলন থেকে আগত যে নেতাকর্মীরা জামায়াতে যোগদান করেছেন, আমরা তাদের আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাই। ইনশাআল্লাহ তারা জামায়াতের আদর্শ ও কর্মসূচির সঙ্গে একাত্ম হয়ে জনগণের কল্যাণে কাজ করবেন। দেশ ও সমাজের নৈতিক পরিবর্তনে জামায়াতে ইসলামী আগামীতেও ঐক্যবদ্ধভাবে ভূমিকা রাখবে।   অনুষ্ঠানে যশোর জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী তৈয়বুর রহমান জাহাঙ্গীর, উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য হাবিবুর রহমান, শার্শা উপজেলা যুববিভাগের সভাপতি আবুল কালাম আজাদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

তাবাস্সুম ফেব্রুয়ারি ২, ২০২৬ 0
পথসভায় বক্তব্য দিচ্ছেন হাসনাত আবদুল্লাহ
‘যারা মা-বোনদের কাপড় খুলে ফেলতে চায়, তাদের ভোটের মাধ্যমে লাল কার্ড দেখাবেন’

যারা মা-বোনদের কাপড় খুলে ফেলতে চায়, তাদের ভোটের মাধ্যমে লাল কার্ড দেখানোর আহ্বান জানিয়েছে এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দিনাজপুরে এক নির্বাচনী পথসভায় তিনি এই আহ্বান জানান।    হাসনাত বলেন, আমরা প্রত্যেকটা ভোটারের কাছে যাবো। বার বার যাবো। এই জুলাই যোদ্ধারা, যারা মৃত্যুভয়কে উপেক্ষা করে এসেছে, তাদেরকে ভাট দখলের ভয় দেখায়েন না। যারা ভোট দখল করতে চায়, তাদের প্রতিহত করতে আমাদের ছাত্র শক্তি ও শিবিরের ভাইয়েরাই যথেষ্ট।    সমাবেশে উপস্থিত মা-বোনদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনাদের সন্তান নির্বাচনে দাঁড়িয়েছে। জুলাইয়ে আপনারা যেভাবে রাস্তায় নেমে এসেছিলেন, সেভাবে এই শাপলা কলিকে জেতানোর জন্য ফজরের নামাজ পড়ে ভোট দিয়ে বাসায় গিয়ে নাস্তা করবেন।’      তিনি বলেন, ‘আপনাদের আচলে পরম মমতায় আমাদের আগলে রাখবেন। যারা মা-বোনের কাপড় খুলে ফেলতে চায়, তাদের ভোটের মাধ্যমে লাল কার্ড দেখাবেন। যারা আপনাদের বিবস্ত্র করতে চাই, তারা ক্ষমতায় এলে সমগ্র বাংলাদেশকে বিবস্ত্র করে ফেলবে। যারা আমাদের মা-বোনদের সম্ভ্রমহানি করতে চাই, মাথার হিজাব খুলে ফেলতে চাই, তাদের ভোট দিয়ে জবাব দেবেন।’    

তাবাস্সুম ফেব্রুয়ারি ২, ২০২৬ 0
জামায়াতে আমিরের অ্যাকাউন্টের প্রসঙ্গে তারেক রহমান
বিশেষজ্ঞরা প্রমাণ করেছেন আপনাদের অ্যাকাউন্ট হ্যাক-ম্যাক কিছুই হয়নি

জামায়াতে ইসলামীর আমিরের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট থেকে নারী-বিদ্বেষী বক্তব্য প্রচারের ঘটনায় কঠোর সমালোচনা করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘আপনারা জাতির সামনে বলছেন, আপনাদের অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছিল। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা প্রমাণ করেছেন, আপনাদের কোনো হ্যাকিং হয়নি। বাঁচার জন্য আপনারা মিথ্যা কথা বলছেন। যারা নির্বাচনের আগে জনগণের সঙ্গে মিথ্যা বলতে পারে, তারা নির্বাচনের পরে কী পরিমাণ মিথ্যা বলতে পারে—তা সহজেই অনুমেয়।’   সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে যশোর সদর উপজেলার উপশহর কলেজ মাঠে জেলা বিএনপি আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় এসব কথা বলেন তিনি। তারেক রহমান বলেন, জামায়াতে ইসলামী দেশের নারীদের ঘরের ভেতর আটকে রাখতে চায়। সে কারণেই দলটির শীর্ষ নেতা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে নারীদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাখো কর্মজীবী মা-বোনদের নিয়েও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। অথচ এখন সেই দলই আবার নিজেদের নারী কর্মীদের গ্রামে গ্রামে পাঠাচ্ছে এনআইডি নম্বর ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহের জন্য। তিনি অভিযোগ করেন, হয়তো কাউকে সামান্য অর্থও দেওয়া হতে পারে, কিন্তু পরে তাদের আর খুঁজে পাওয়া যাবে না।   তিনি বলেন, জামায়াতের নারী কর্মীরাও ঘর থেকে বের হয়ে দলের কাজে অংশ নেন। সে ক্ষেত্রে তাদের দলের নেতারা নারীদের সম্পর্কে কী ধরনের মানসিকতা পোষণ করেন, সে প্রশ্ন তোলার অধিকার সবার রয়েছে। তারেক রহমান ইসলামের ইতিহাস উল্লেখ করে বলেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)–এর স্ত্রী হজরত খাদিজা (রা.) ছিলেন একজন কর্মজীবী ও সফল ব্যবসায়ী নারী। বদরের যুদ্ধে মুসলমান বাহিনীর জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও রসদের ব্যবস্থাপনা তিনি করেছিলেন। একই যুদ্ধে আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থাও হজরত আয়েশা (রা.)–এর নেতৃত্বে পরিচালিত হয়েছিল, যা আজকের নার্সিং ব্যবস্থার প্রাথমিক রূপ।   তিনি বলেন, সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামের এক নেতা বাংলাদেশের কর্মজীবী নারী, মা ও কন্যাদের সম্পর্কে অত্যন্ত আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন। যারা নিজেদের দেশের মানুষকে এভাবে অবমাননাকর ভাষায় চিহ্নিত করে, তাদের কাছ থেকে জনগণ ভালো কিছু আশা করতে পারে না। নারী উন্নয়ন প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, নারী সমাজকে সহযোগিতার পাশাপাশি শিক্ষিত করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সরকারে থাকাকালে মেয়েদের ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত শিক্ষা বিনা মূল্যে চালু করেছিলেন। তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে প্রতিটি পরিবারের একজন মা বা গৃহিণীর কাছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পৌঁছে দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে তারা সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাবেন।   তিনি বলেন, নারী-পুরুষ উভয়ের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বন ছাড়া দেশের অগ্রগতি সম্ভব নয়। দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে পিছিয়ে রেখে বাংলাদেশ কখনো এগোতে পারবে না। নারী-পুরুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করলেই কেবল দেশ এগোবে। নির্বাচন প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, অতীতে যেভাবে মানুষের ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছে এবং বিতর্কিত নির্বাচন হয়েছে, এখন আবার একটি মহল নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার ষড়যন্ত্র করছে। তিনি অভিযোগ করেন, এ উদ্দেশ্যে জামায়াত তাদের লোকজনকে এনআইডি ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহে পাঠাচ্ছে। এ বিষয়ে জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।   ভোট গণনা নিয়ে সাম্প্রতিক আলোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভোট গণনায় দেরি হওয়ার অজুহাতে কেউ যদি সুযোগ নিতে চায়, তাহলে তা প্রতিরোধ করতে হবে। বাংলাদেশের মানুষের ভোট দেওয়ার ও ভোট গণনার অভিজ্ঞতা রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। জনসভায় তারেক রহমান ঘোষণা দেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে সব কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হবে। কৃষিকার্ডের মাধ্যমে সার, বীজসহ কৃষি উপকরণ সরবরাহ এবং স্বল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থাও করা হবে। যুবক-যুবতীদের জন্য আইটি পার্ক স্থাপনসহ কর্মসংস্থানের বিকল্প সুযোগ তৈরির প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।   তিনি আরও বলেন, বিএনপি সরকারে এলে যশোরের উলাশী খাল পুনঃখননসহ সারাদেশে হাজার হাজার খাল খনন করে কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে এবং জিয়াউর রহমানের আমলে চালু ‘জিকে প্রকল্প’ পুনরায় কার্যকর করা হবে। পাশাপাশি ইমাম, মুয়াজ্জিনসহ সব ধর্মের সম্মানিত ব্যক্তিদের জন্য সম্মানী ভাতা চালুর প্রতিশ্রুতিও দেন।   মুক্তিযুদ্ধে সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণের কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ সবার—মুসলমান, হিন্দু, খ্রিস্টানসহ সব ধর্মের মানুষের। ঐক্যবদ্ধভাবেই দেশ স্বাধীন করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও ঐক্যবদ্ধ হয়েই কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। জনসভার শেষ পর্বে তিনি যশোরের ছয়টি আসনসহ বৃহত্তর যশোর-কুষ্টিয়ার ২২টি আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন এবং তাদের বিজয়ের জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।   যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকনের সঞ্চালনায় জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী, ভাইস চেয়ারম্যান নার্গিস বেগমসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক ফেব্রুয়ারি ২, ২০২৬ 0
মির্জা ফখরুল
আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা, জামায়াতকে রাষ্ট্রের ক্ষমতা দিতে পারি না: মির্জা ফখরুল

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের নির্বাচনি লড়াইয়ে নতুন মাত্রা যোগ করলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আখনগর ইউনিয়নের দোলুয়াপাড়ায় আয়োজিত এক পথসভায় তিনি জামায়াতে ইসলামীকে রাষ্ট্রক্ষমতায় বসানোর ঘোর বিরোধিতা করেন।   নিজেকে একজন গর্বিত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পরিচয় দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, "আমি ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন করতে যুদ্ধ করেছি। যারা সেই সময়ে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল, তাদের হাতে রাষ্ট্রের দায়িত্ব তুলে দেওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ কারণেই আমরা জামায়াতে ইসলামীকে ক্ষমতার আসনে দেখতে চাই না।"   সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে হিন্দু ধর্মাবলম্বী ভোটারদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, "আপনারা সুরক্ষার প্রশ্নে অনেকেই চিন্তিত। আমি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গ্যারান্টি দিচ্ছি—আপনাদের সুরক্ষায় কোনো গাফিলতি হবে না। আসুন, আমরা হিন্দু-মুসলিম এক হয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়নের জন্য ধানের শীষে ভোট দেই।"   জনসভায় তিনি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে জানান, দীর্ঘ প্রবাস জীবন শেষে দেশে ফিরে তারেক রহমান সাধারণ মানুষের কষ্টের কথা ভাবছেন। ক্ষমতায় আসলে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হবে, যার মাধ্যমে স্বল্পমূল্যে নিত্যপণ্য, শিক্ষা ও উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত হবে। এছাড়া কৃষকদের জন্য ‘কৃষি কার্ড’ চালুর প্রতিশ্রুতি দেন তিনি, যাতে ন্যায্যমূল্যে সার ও বীজ পাওয়া সম্ভব হয়।   ঠাকুরগাঁওয়ের স্থানীয় উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ফখরুল বলেন, "এবার নির্বাচিত হলে আমরা ঠাকুরগাঁওয়ে পরিত্যক্ত বিমানবন্দরটি চালু করব এবং একটি আধুনিক মেডিকেল কলেজ নির্মাণ করব। বেকারত্ব দূর করতে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি মা-বোনদের বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে যাতে তারা ঘরে বসেই আয় করতে পারেন।"   পথসভায় স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। প্রবীণ এই নেতার বক্তব্যে নির্বাচনি এলাকায় ব্যাপক উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক ফেব্রুয়ারি ২, ২০২৬ 0
মির্জা আব্বাস
যাদের জনসম্পৃক্ততা নেই তারা কিভাবে জয়ের কথা বলছে

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৮ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মির্জা আব্বাস আসন্ন নির্বাচনে কারচুপির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। সোমবার রাজারবাগ সেন্ট্রাল পুলিশ হাসপাতাল মসজিদে জোহরের নামাজ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বর্তমান নির্বাচনী পরিস্থিতির কড়া সমালোচনা করেন।   মির্জা আব্বাস বলেন, “১৯৭৭ সাল থেকে আমি এই এলাকায় নির্বাচন করে আসছি। একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ হওয়া সত্ত্বেও আমি কখনোই নির্বাচনের আগে নিশ্চিত করে বলতে পারিনি যে আমিই জয়লাভ করব। অথচ যারা জীবনে কোনোদিন নির্বাচন করেনি, এলাকায় যাদের কোনো পরিচিতি বা উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড নেই, তারা এখন দাবি করছে যে তারা জিতেই আছে। এই অতি-আত্মবিশ্বাস আমাকে সন্দিহান করে তুলেছে।”   তিনি আরও অভিযোগ করেন, যারা কখনোই জয়ী হবার কথা নয়, তাদের এই নিশ্চিত জয়ের দাবি আসলে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ বা ভোট কারচুপির কোনো গোপন পরিকল্পনারই বহিঃপ্রকাশ হতে পারে। জামায়াত আমিরের ফেসবুক পোস্ট এবং আইডি হ্যাক হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি কিছুটা বিদ্রুপের সুরে বলেন, “আইডি হ্যাক হওয়ার এত দ্রুততম সময়ের মধ্যে তা আবার ফেরত পাওয়া যায়, এটা আমার জানা ছিল না।”   গণসংযোগ চলাকালে মির্জা আব্বাস শাহজাহানপুর ইনকামট্যাক্স কলোনী ও এর আশেপাশের মার্কেট এলাকায় সাধারণ মানুষের কাছে ধানের শীষের পক্ষে ভোট প্রার্থনা করেন। রাতে তিনি শাহজাহানপুর জাহাজ বিল্ডিং রোড এলাকায় স্থানীয় ভোটারদের সাথে মতবিনিময় করবেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। প্রবীণ এই নেতার নির্বাচনি মাঠে নামার ফলে এলাকায় কর্মী-সমর্থকদের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনা দেখা গেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক ফেব্রুয়ারি ২, ২০২৬ 0
বিএনপি কর্মীদের উপর অস্ত্র তাক করলো জাপা প্রার্থীর গানম্যান

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় রাস্তা পারাপারকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জাতীয় পার্টির (জাপা) কর্মীদের মধ্যে ভয়াবহ উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। এ সময় জাতীয় পার্টির প্রার্থীর নিরাপত্তারক্ষীর (গানম্যান) বিরুদ্ধে বিএনপি কর্মীদের ওপর অস্ত্র তাক করে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ উঠেছে। গত ১ ফেব্রুয়ারি (রোববার) রাত পৌনে ১২টার দিকে উপজেলার বাফলা মাস্টারপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।   স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নীলফামারী-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী অধ্যক্ষ আব্দুল গফুর সরকার একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান শেষ করে বাড়ি ফিরছিলেন। বাফলা মাস্টারপাড়ার একটি সরু রাস্তায় তার গাড়িবহর পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা জাপা প্রার্থী সিদ্দিকুল আলমের গাড়িবহরের সঙ্গে মুখোমুখি হয়। গাড়ি পারাপারের জায়গা দেওয়া নিয়ে দুই পক্ষের কর্মীদের মধ্যে প্রথমে কথা কাটাকাটি শুরু হয়।   একপর্যায়ে উত্তেজনার মুখে জাপা প্রার্থীর গানম্যান আব্দুর রাজ্জাক বিএনপি কর্মীদের লক্ষ্য করে তার অস্ত্র তাক করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং বিক্ষুব্ধ বিএনপি কর্মীরা ওই গানম্যানকে তাৎক্ষণিকভাবে আটকে রাখেন। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও কিশোরগঞ্জ থানা পুলিশের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করেন এবং গানম্যানকে হেফাজতে নেন।   রণচন্ডি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোশফিকুর রহমান জুয়েল এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, তুচ্ছ ঘটনায় অস্ত্র তাক করা সাধারণ ভোটার ও কর্মীদের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও ভীতিপ্রদ। অন্যদিকে, উপজেলা জামায়াতের আমির আব্দুর রশিদ শাহ নির্বাচনে জাপা প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবৈধ অর্থ ব্যবহারের অভিযোগ তুলে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।   তবে জাপা প্রার্থীর ভাই তারিক আহমেদ সকল অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, তাদের বৈধ লাইসেন্সধারী নিরাপত্তারক্ষী নিয়ম মেনেই কাজ করছিলেন। উল্টো বিএনপি কর্মীরাই তাদের গাড়ি ভাঙচুর করেছে বলে তিনি পাল্টা অভিযোগ করেন এবং বিষয়টিকে রাজনৈতিক অপপ্রচার হিসেবে অভিহিত করেন।   কিশোরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল কুদ্দুছ জানিয়েছেন, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের করেনি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক ফেব্রুয়ারি ২, ২০২৬ 0
খুলনায় নির্বাচনী জনসভায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান
জামায়াতের উদ্দেশে তারেক রহমান আইডি হ্যাক হয়নি, তারা মিথ্যাবাদী

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের অফিশিয়াল ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডলে প্রকাশিত নারীবিরোধী মন্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) খুলনার প্রভাতী স্কুল মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনি জনসভায় তিনি জামায়াতের ‘আইডি হ্যাক’ হওয়ার দাবিকে ‘ডাহা মিথ্যা’ ও ‘সুবিধাবাদ’ হিসেবে অভিহিত করেন।   প্রায় ২৭ মিনিটের দীর্ঘ বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, “একটি রাজনৈতিক দলের সিনিয়র নেতা দুই দিন আগে কর্মজীবী নারীদের উদ্দেশ্যে এমন শব্দ ব্যবহার করেছেন যা পুরো জাতির জন্য কলঙ্কজনক। যখনই এর বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা শুরু হলো, তখনই তারা বলছে আইডি নাকি হ্যাক হয়ে গিয়েছিল। অথচ প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা পরিষ্কার বলেছেন, ভেরিফাইড আইডি এভাবে হ্যাক হতে পারে না। এরা নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য মানুষের কাছে অবলীলায় মিথ্যা বলছে।”   জামায়াতের কড়া সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, “একটি পক্ষ বাংলাদেশের অর্ধেক নারী জনগোষ্ঠীকে ঘরের মধ্যে আটকে রাখতে চায়। তারা বলছে তারা নারী নেতৃত্বে বিশ্বাস করে না। অথচ আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর স্ত্রী বিবি খাদিজা (রা.) ছিলেন একজন সফল নারী ব্যবসায়ী। যারা ইসলাম কায়েমের কথা বলে নারীদের অসম্মান করে, তারা আসলে নিজেদের প্রয়োজনে ধর্মকে ব্যবহার করে।”   ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি সম্পর্কে ভোটারদের সতর্ক করে বিএনপি চেয়ারম্যান প্রশ্ন তোলেন, “যে দলটি নির্বাচনের আগে দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে অসম্মানজনক ভাষায় কথা বলে, তারা যদি কোনোভাবে সুযোগ পায়, তবে নির্বাচনের পর তাদের আচরণ কেমন হতে পারে? এরা শুধু নিজেদের স্বার্থ বোঝে এবং ধর্মের দোহাই দিয়ে ফায়দা লোটে।”   খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম মনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুল, খুলনা-২ আসনের নজরুল ইসলাম মঞ্জু, খুলনা-৪ আসনের আজিজুল বারী হেলাল এবং যুবদল সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্নাসহ স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। জনসভায় আগত বিশাল জনস্রোতের উদ্দেশ্যে তারেক রহমান ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে দেশে গণতন্ত্র ও জনমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক ফেব্রুয়ারি ২, ২০২৬ 0
খুলনা নগরের প্রভাতী স্কুল মাঠে বিএনপির নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য দিচ্ছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান
কর্মজীবী নারীদের নিয়ে একটি রাজনৈতিক দলের মন্তব্য কলঙ্কজনক: তারেক রহমান

নির্বাচনের আগে কর্মজীবী নারীদের উদ্দেশ্য করে একটি রাজনৈতিক দলের নেতার করা মন্তব্যকে ‘কলঙ্কজনক’ বলে আখ্যায়িত করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে খুলনা নগরের প্রভাতী স্কুল মাঠে আয়োজিত বিএনপির বিশাল নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।   জনসভায় উপস্থিত হাজার হাজার মানুষের উদ্দেশ্যে তারেক রহমান বলেন, "বাংলাদেশের সকল মা-বোনদের বলব, যারা আপনাদের এভাবে অপমানিত করে, আজ তাদের জবাব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে। একজন রাজনৈতিক নেতা কর্মসংস্থানের সন্ধানে বের হওয়া মা-বোনদের নিয়ে যে শব্দ ব্যবহার করেছেন, তা উচ্চারণ করতেও আমার লজ্জা হচ্ছে। এটি এদেশের নারী সমাজের জন্য চরম অবমাননাকর এবং জাতির জন্য কলঙ্কস্বরূপ।"   কারও নাম উল্লেখ না করে বিএনপি চেয়ারম্যান তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "যে দলটি নির্বাচনের আগেই দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে এমন অসম্মানজনক কথা বলতে পারে, তারা যদি কোনোভাবে ক্ষমতায় আসার সুযোগ পায়, তবে তাদের আচরণ কতটা ভয়াবহ হতে পারে তা সহজেই অনুমেয়। এরা কেবল নিজেদের সংকীর্ণ স্বার্থ বোঝে এবং রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য ধর্মকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে।"   তারেক রহমান আরও যোগ করেন, এই ধরনের পশ্চাৎপদ মানসিকতা সম্পন্ন দলগুলো নারীদের অধিকার ও ক্ষমতায়নের পথে বড় অন্তরায়। তিনি ভোটারদের বিশেষ করে নারী ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান, তারা যেন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে এই অপমানের যোগ্য জবাব দেন। খুলনার এই জনসভা থেকে তিনি আগামীর এক উন্নত ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন, যেখানে প্রতিটি নাগরিকের মর্যাদা ও অধিকার সুরক্ষিত থাকবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক ফেব্রুয়ারি ২, ২০২৬ 0
যশোরে কানায় কানায় পূর্ণ তারেক রহমানের জনসভা মাঠ
যশোরে কানায় কানায় পূর্ণ তারেক রহমানের জনসভা মাঠ

যশোরে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে এক অভূতপূর্ব উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। আজ সোমবার দুপুর ২টার পর যশোর উপশহর কলেজ মাঠে তার পৌঁছানোর কথা থাকলেও সকাল থেকেই মাঠ পেরিয়ে জনস্রোত ছড়িয়ে পড়েছে আশপাশের এলাকাগুলোতে। পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে ইতোমধ্যে সমাবেশের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে।   খুলনার সফল জনসভা শেষে তারেক রহমান এখন যশোরের পথে। এদিকে, ভোর থেকেই যশোর ছাড়াও মাগুরা, ঝিনাইদহ ও নড়াইল থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী ব্যানার, ফেস্টুন আর বাদ্যযন্ত্র নিয়ে সভাস্থলে জড়ো হতে থাকেন। যশোর শহর এখন ‘তারেক জিয়া আসছে, বাংলাদেশ হাসছে’—এই স্লোগানে প্রকম্পিত।   সমাবেশস্থলে বিশেষ নজর কাড়ছে নারী ও শিশুদের উপস্থিতি। ছোট ছোট শিশুদের প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আদলে সাজিয়ে নিয়ে এসেছেন অভিভাবকরা। নেতাকর্মীদের পরনে বর্ণিল সাজ, মাথায় ‘ধানের শীষ’ খচিত টুপি এবং গায়ে জাতীয় পতাকায় এক অন্যরকম দৃশ্যের অবতারণা হয়েছে। অনেকে সারা শরীরে পাকা ধানের শীষ জড়িয়ে নেচে-গেয়ে তাদের প্রিয় নেতাকে বরণ করার অপেক্ষা করছেন।   প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিন স্তরের কঠোর নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলা হয়েছে। যশোর উপশহর বিরামপুর প্রাইমারি স্কুল মাঠে তৈরি করা হয়েছে অস্থায়ী হেলিপ্যাড, যেখানে তারেক রহমানের হেলিকপ্টার অবতরণ করবে। সেখান থেকে তিনি লাল-সবুজ রঙের বিশেষ বাসে চড়ে সরাসরি জনসভাস্থলে হাজির হবেন। ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে জেলা পুলিশ এবং র‍্যাবের বিশেষ ডগ স্কোয়াড পুরো এলাকা রেকি করেছে।   দীর্ঘদিন পর প্রিয় নেতাকে সামনে থেকে দেখার সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বসিত তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। তারা আশা করছেন, এই জনসভা থেকেই তারেক রহমান আগামীর ‘স্মার্ট ও গণতান্ত্রিক’ বাংলাদেশ বিনির্মাণের নতুন রোডম্যাপ ঘোষণা করবেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক ফেব্রুয়ারি ২, ২০২৬ 0
বিএনপি নেতার হুমকির ভিডিও ভাইরাল
ধানের শীষ ছাড়া অন্য মার্কায় ভোট দিলে রেহাই নেই: সোনারগাঁয়ে বিএনপি নেতার হুমকিতে ভোটারদের মাঝে চরম আতঙ্ক!

নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের নির্বাচনি পরিবেশ এখন এক অপ্রত্যাশিত হুমকির মুখে। ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে প্রচারণা চালাতে গিয়ে সোনারগাঁ থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নিজাম উদ্দিনের একটি উস্কানিমূলক ও হুমকিমূলক বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় সাধারণ ভোটারদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা সৃষ্টি হয়েছে।   স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার সোনারগাঁ উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ছোট সাদীপুর এলাকায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানের নির্বাচনি সভায় বক্তব্য রাখছিলেন নিজাম উদ্দিন। সেখানে তিনি খোলাখুলিভাবে হুমকি দিয়ে বলেন, ধানের শীষ প্রতীক ছাড়া অন্য কোনো প্রতীকে ভোট দিলে নির্বাচনের পর কাউকে রেহাই দেওয়া হবে না। মোবাইল ফোনে ধারণ করা এই বক্তব্যের ভিডিওটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে পড়লে এলাকার সাধারণ মানুষ এবং বিরোধী প্রার্থীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।   ভোটাররা অভিযোগ করেছেন, এ ধরনের বক্তব্য স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগের পথে বড় বাধা এবং সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশকে মারাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থী অঞ্জন দাস উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, এই হুমকির ফলে ভোটাররা কেন্দ্রমুখী হওয়ার সাহস হারাতে পারেন, যা গণতন্ত্রের জন্য শুভ নয়।   তবে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা নিজাম উদ্দিনের দাবি, তিনি মূলত তার আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে একটি উঠান বৈঠক করছিলেন এবং যারা প্রকাশ্যে দলের সঙ্গে থাকলেও গোপনে অন্য প্রার্থীর হয়ে কাজ করছেন, তাদের উদ্দেশ্যেই এই ‘শাসনমূলক’ কথা বলেছেন।   এদিকে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে। সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার আসিফ আল জিনাত জানিয়েছেন, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি তারা খতিয়ে দেখছেন এবং নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।   সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে এই ধরনের ভীতি প্রদর্শনমূলক বক্তব্য বন্ধে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সাধারণ ভোটার ও অন্যান্য প্রার্থীরা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক ফেব্রুয়ারি ২, ২০২৬ 0
রংপুরে জাতীয় নাগরিক পার্টির নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দেন দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। আজ রোববার রাতে রংপুরের কাউনিয়া বালিকা উচ্চবিদ্যালয় মাঠে। ছবি: সংগৃহীত
গণভোটে প্রকাশ্যে ‘হ্যাঁ’ বললেও গোপনে না-এর কার্যক্রম চালাচ্ছে বিএনপি: হাসনাত আবদুল্লাহ

আসন্ন গণভোটে বিএনপি প্রকাশ্যে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিলেও গোপনে ‘না’-এর কার্যক্রম চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ।   রোববার রাতে রংপুর-৪ (কাউনিয়া-পীরগাছা) আসনে ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী ও এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেনের নির্বাচনী পথসভায় এসব কথা বলেন হাসনাত আবদুল্লাহ। রাত আটটার দিকে কাউনিয়া বালিকা উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এ পথসভায় তিনি বলেন, বিএনপি ওপেনে হ্যাঁ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। কিন্তু গোপনে তারা না-এর কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এই ওপেন-গোপনের খেলা বন্ধ করে জনতার কাতারে নেমে এসে গণভোটে মুখে যেটা বলবেন, কাজে সেটাই করে হ্যাঁকে জিতিয়ে আগামী সংসদে ক্ষমতার কাঠামোয় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হবে।   দেশে দুর্নীতি বন্ধ এবং স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ভোটারদের গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।   হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, ভারতের যে রাজনৈতিক দলের বাংলাদেশ শাখা জাতীয় পার্টি ‘না’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এই জাতীয় পার্টিকে ১২ তারিখ ভোটের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে দাফন করতে হবে। তারা ইতোমধ্যে রাজনৈতিকভাবে মৃত; ১২ তারিখ হবে তাদের জানাজা।   এ পথসভায় আরও বক্তব্য দেন এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন, দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া, উত্তরাঞ্চলের যুগ্ম মুখ্য সংগঠক সাদিয়া ফারজানা, কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন এবং জামায়াতে ইসলামীর রংপুর মহানগর আমির এ টি এম আজম খানসহ দলটির অন্যান্য নেতারা।   সভায় হাসনাত আবদুল্লাহ রংপুর-৪ আসনের ভোটারদের উদ্দেশে আখতার হোসেনকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আখতার হোসেন শুধু কাউনিয়ার জন্য নয়, বরং দেশের যেকোনো আসন থেকে নির্বাচন করার যোগ্যতা রাখেন।   হাসনাত বলেন, “তিনি শুধু নির্বাচনের জন্য প্রার্থী হননি। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে তাঁর জীবনের দীর্ঘ সময় কেটেছে। যখন মিডিয়া নীরব ছিল, প্রশাসন ও মূলধারার শক্তিগুলো হাসিনাকে সমর্থন দিচ্ছিল এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিরাপদ ক্যারিয়ারের চিন্তায় নির্যাতনের বিষয় উপেক্ষা করছিল, তখন একাই যিনি দাঁড়িয়েছিলেন নিপীড়নের বিরুদ্ধে—তিনি আমাদের মজলুম নেতা আখতার হোসেন।”

শাহারিয়া নয়ন ফেব্রুয়ারি ১, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা: এবার মেইনে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযানের ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)।   ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে।   কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না।   তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে।  সূত্র: ABC News

ভিসা নিয়ে বড় সুখবর দিলো যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে।   নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা।   ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল।   তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে।   এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস

যুক্তরাষ্ট্রে ধেয়ে আসছে বিশাল বরফ ও তুষার ঝড় — সবচেয়ে বিপদগ্রস্ত থেকে কম বিপদগ্রস্ত রাজ্য

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রায় ২,০০০ মাইল দীর্ঘ এক ভয়াবহ বরফ ও তুষার ঝড় দ্রুত বিস্তার লাভ করছে। আবহাওয়াবিদদের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, এই ঝড়ে বরফ, তুষারপাত ও হিমশীতল বৃষ্টির সম্মিলিত প্রভাব পড়তে পারে দেশের মধ্য-পশ্চিম, দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের বহু রাজ্যে। ঝড়ের আগেই শত শত ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে এবং সড়ক যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ধরনের ব্যাঘাতের আশঙ্কা করা হচ্ছে।   CNN–এর আবহাওয়া প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ঝড়ের তীব্রতা অঞ্চলভেদে ভিন্ন হলেও কিছু রাজ্যে পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে।   সবচেয়ে বেশি বিপদগ্রস্ত রাজ্য (High Impact) টেক্সাস (Texas) ঝড়ের সূচনা এখান থেকেই। ভারী বরফ জমে বিদ্যুৎ লাইন ভেঙে পড়া, ব্ল্যাকআউট ও মহাসড়ক বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। ওকলাহোমা (Oklahoma) বরফালার সঙ্গে তীব্র ঠান্ডা। গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার আশঙ্কা। আর্কানসাস (Arkansas) হিমশীতল বৃষ্টি ও বরফের স্তর জমে চলাচল প্রায় অচল হতে পারে। কেন্টাকি (Kentucky) মধ্য-পশ্চিম থেকে পূর্বাঞ্চলের সংযোগস্থল হওয়ায় তুষারপাত ও বরফের যুগপৎ প্রভাব পড়তে পারে। ওহাইও (Ohio) ভারী তুষার ও তীব্র ঠান্ডায় বিমান ও সড়ক যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা। মাঝারি ঝুঁকির রাজ্য (Moderate Impact) টেনেসি (Tennessee) – বরফ ও তুষারের মিশ্র প্রভাব জর্জিয়া (Georgia) – বিশেষ করে উত্তর জর্জিয়ায় বরফ ঝড়ের সতর্কতা নর্থ ক্যারোলিনা (North Carolina) – হিমশীতল বৃষ্টি ও বরফ জমার ঝুঁকি সাউথ ক্যারোলিনা (South Carolina) – সীমিত এলাকায় বরফালার সম্ভাবনা ভার্জিনিয়া (Virginia) – তুষার ও ঠান্ডার প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে তুলনামূলক কম ঝুঁকির রাজ্য (Lower Impact) মেরিল্যান্ড (Maryland), ওয়াশিংটন ডিসি, পেনসিলভানিয়া (Pennsylvania), নিউ ইয়র্ক (New York), ম্যাসাচুসেটস (Massachusetts) — এসব রাজ্যে ঝড় পৌঁছালেও প্রভাব তুলনামূলক কম হতে পারে, তবে তুষারপাত ও শীতজনিত দুর্ভোগ পুরোপুরি এড়ানো যাবে না। পরিবহন ও জনজীবনে প্রভাব ঝড়ের আশঙ্কায় ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন বড় বিমানবন্দরে শত শত ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার এবং জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সড়কে না নামার পরামর্শ দিচ্ছে। প্রস্তুতি ও সতর্কতা জরুরি খাবার, পানি ও ওষুধ মজুত রাখুন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার প্রস্তুতি নিন স্থানীয় আবহাওয়া সতর্কতা ও নির্দেশনা নিয়মিত অনুসরণ করুন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঝড় আগামী কয়েক দিন ধরে ধাপে ধাপে বিভিন্ন রাজ্যে প্রভাব ফেলতে পারে। পরিস্থিতির অবনতি হলে আরও জরুরি সতর্কতা জারি করা হতে পারে।

নির্বাচন উপলক্ষে সাধারণ ছুটি আরও বাড়ল

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতেই দীর্ঘ ছুটি কাটানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। ইসলামী ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) দিবাগত রাতে পবিত্র শবেবরাত পালিত হবে। এ উপলক্ষে ৪ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এর পরদিন ৫ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) হওয়ায়, মাত্র এক দিনের ছুটি নিলেই টানা চার দিনের অবকাশ উপভোগ করা সম্ভব হবে। কারণ ৬ ও ৭ ফেব্রুয়ারি যথাক্রমে শুক্রবার ও শনিবার—সাপ্তাহিক ছুটি।   এদিকে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচন উপলক্ষে সরকার ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে এখানেও টানা চার দিনের ছুটি মিলছে।   প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ১১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের জন্য ১০ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি থাকবে। নির্বাচনের দিন ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি আগেই ঘোষণা করা হয়েছিল।   অন্যদিকে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত ২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, বছরটিতে মোট ১৪ দিন সাধারণ ছুটি এবং ১৪ দিন নির্বাহী আদেশে ছুটি নির্ধারিত রয়েছে। এর মধ্যে ৯ দিন শুক্রবার ও শনিবারের সঙ্গে মিলেছে। এছাড়া, ২০২৬ সালে ধর্মভিত্তিক ঐচ্ছিক ছুটিও নির্ধারণ করা হয়েছে।   সে অনুযায়ী মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৫ দিন; হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৯ দিন; খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৮ দিন; বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৭ দিন এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সরকারি কর্মচারীদের জন্য ২ দিন।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়াতে পারে যৌনাঙ্গ আক্রান্তকারী পরজীবী, সতর্ক করেছেন বিজ্ঞানিরা

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়াতে পারে যৌনাঙ্গ আক্রান্তকারী পরজীবী,সতর্ক করলেন বিজ্ঞানীরা স্নেইল ফিভার’ নামে পরিচিত এক ধরনের পরজীবী বিশ্বজুড়ে নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে। ত্বকের ভেতর দিয়ে মানবদেহে প্রবেশ করা এই পরজীবী দীর্ঘদিন রক্তে নীরবে অবস্থান করে এবং পরে ডিম পাড়ে,যা লিভার, ফুসফুসও যৌনাঙ্গসহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে জমা হতে পারে। ভয়াবহ বিষয় হলো,বছরের পর বছর শরীরে অবস্থান করলেও অনেক ক্ষেত্রে এটি শনাক্তই নাও হতে পারে। শামুকের মাধ্যমে ছড়ানোএ পরজীবীর কারণেই রোগটির নামকরণ করা হয়েছে স্নেইল ফিভার।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, রোগটি এখন বৈশ্বিক উদ্বেগে পরিণত হয়েছে। কারণ পরজীবীটির গঠন ও বৈশিষ্ট্যে পরিবর্তন ঘটছে, যার ফলে এটি নতুন নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি করছে। বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এমন এক সময়ে এই সতর্কবার্তা এলো,যখন৩০ জানুয়ারি ওয়ার্ল্ড নেগলেক্টেড ট্রপিক্যাল ডিজিজ ডে পালন করছে ডব্লিউএইচও।এ দিবসের লক্ষ্য হচ্ছে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, পরজীবীও ছত্রাকজনিত রোগগুলোর বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো,যা সাধারণত দরিদ্র অঞ্চলের শত কোটিরও বেশি মানুষকে আক্রান্ত করে। কীভাবে ছড়ায় স্নেইল ফিভার :  এই পরজীবী বহন করে নির্দিষ্ট এক ধরনের শামুক।যেসব পানিতে ওই শামুক বসবাস করে,সেখানে পরজীবীর লার্ভা ছড়িয়ে পড়ে। কেউ যদি সেই পানিতে গোসল করেন বা সংস্পর্শে আসেন,তবে লার্ভা ত্বকের ভেতর প্রবেশ করতে পারে। পরজীবীগুলো এমন এনজাইম নিঃসরণ করে,যা ত্বক ভেদ করতে সক্ষম। দেহে প্রবেশের পর লার্ভাগুলো ধীরে ধীরে পূর্ণবয়স্ক কৃমিতে পরিণত হয় এবং রক্তনালিতে বাসা বাঁধে।স্ত্রী কৃমিগুলো ডিম পাড়ে। কিছু ডিম মল বা প্রস্রাবের সঙ্গে বের হয়ে গেলেও বহু ডিম শরীরের ভেতরের টিস্যুতে আটকে থাকে। এতে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে আশপাশের সুস্থ টিস্যুকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। ফলে বিভিন্ন অঙ্গের মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দেয়। বিশেষ করে তলপেট যৌনাঙ্গে ডিম জমে থাকলে ইউরোজেনিটাল স্কিস্টোসোমিয়াসিস নামের জটিল রোগ দেখা দেয়। এতে পেটব্যথা, ক্যানসার এমনকি মৃত্যুর ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। চিকিৎসাওনতুন উদ্বেগ: সাধারণত অ্যান্টি-প্যারাসাইটিক ওষুধে স্নেইল ফিভার চিকিৎসাযোগ্য। ডব্লিউএইচও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী—যেমন শিশু কৃষিশ্রমিকও জেলেদের প্রতি বছর এই ওষুধ গ্রহণের পরামর্শ দিয়ে আসছে। তবে মালাউই লিভারপুল ওয়েলকাম ক্লিনিক্যাল রিসার্চ প্রোগ্রামের সহযোগী পরিচালক অধ্যাপক জানেলিসা মুসায়া সতর্ক করেছেন, নতুন কিছু ধরন শনাক্ত হয়েছে, যেগুলো প্রচলিত পরীক্ষায় ধরা নাও পড়তে পারে। হাইব্রিড পরজীবীর আশঙ্কা: গবেষণায় দেখা গেছে,মানুষের শরীরের পরজীবীওপ্রাণীর শরীরের পরজীবী একে অপরের সঙ্গে মিশে ‘হাইব্রিড’ বা মিশ্র ধরন তৈরি করছে। এসব হাইব্রিড পরজীবী মানুষ ওপ্রাণী—উভয়কেই আক্রান্ত করতে পারে।মালাউইতে করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, নমুনার সাত শতাংশ পরজীবীই ছিল হাইব্রিড,যা গবেষকদের প্রত্যাশার চেয়েও বেশি। অধ্যাপক মুসায়া বলেন,এভাবে যদি প্রকৃতিতে সংক্রমণ চলতেই থাকে, তাহলে সংখ্যাটা এক সময় বেশ বড় হয়ে যাবে।তিনি আরও বলেন, গবেষণা যেহেতু নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় করা হয়েছে,এজন্য এটি হয়তো হিমশৈলের চূড়া মাত্র। শনাক্তকরণে জটিলতা: গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, হাইব্রিড পরজীবীগুলো মানুষের যৌনাঙ্গে সংক্রমণ ঘটালেও তা শনাক্ত করা কঠিন। কারণ এসব ডিম মাইক্রোস্কোপে সাধারণ পরজীবীর মতো দেখায় না। অনেক সময় উপসর্গগুলোকে যৌনবাহিত রোগ ভেবে ভুল করা হয়।চিকিৎসা না হলে বন্ধ্যত্ব, যৌনাঙ্গে ক্ষত এবং এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। এপ্রসঙ্গে অধ্যাপক মুসায়া বলেন,“ভাবুন তো,কোনো নারী যদি সন্তান ধারণ করতে না পারেন... আমাদের সংস্কৃতিতে সন্তান হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। সন্তান না হলে ওই নারীকে নানাভাবে কটূক্তি করেন মানুষরা। যা খারাপ এবং খুবই কষ্টের একটি রোগ। বৈশ্বিক প্রস্তুতি: ডব্লিউএইচও’র স্কিস্টোসোমিয়াসিস নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির প্রধান ডা.আমাদু গারবা জিরমে বলেন,রোগটি একটি বৈশ্বিক উদ্বেগ।তিনি জানান,কিছু দেশে মানুষের মধ্যে সংক্রমণ না থাকলেও প্রাণীদের শরীরে পরজীবী রয়ে গেছে, যা ভবিষ্যতে বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। নতুন এই হুমকি মোকাবিলায় ডব্লিউএইচও কৌশল পরিবর্তন করছে।সংস্থাটি প্রাণীদের মধ্যে রোগ নিয়ন্ত্রণে নতুন নির্দেশনা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং বিভিন্ন দেশকে হাইব্রিড পরজীবী নিয়ে আন্তর্জাতিক সতর্কবার্তা দিয়েছে। যদিও ২০০৬থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ব্যাপক ওষুধ বিতরণের ফলে সংক্রমণ ৬০শতাংশ কমেছে, তবে অর্থায়ন কমে যাওয়ায় এই অগ্রগতি হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।   প্রতিবেদকঃ শ্যামল সান্যাল

Top week

ভিসা নিয়ে বড় সুখবর দিলো যুক্তরাষ্ট্র
আমেরিকা

ভিসা নিয়ে বড় সুখবর দিলো যুক্তরাষ্ট্র

তাবাস্সুম জানুয়ারী ৩১, ২০২৬ 0