সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

বিএনপি

মেরিল্যান্ড স্টেট বিএনপির উদ্যোগে ১০ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের আলোচনা সভা
মেরিল্যান্ড স্টেট বিএনপির উদ্যোগে ১০ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের আলোচনা সভা

ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), মেরিল্যান্ড স্টেট।   আয়োজকদের পক্ষে মেরিল্যান্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ কাজল জানান, আগামী ১০ নভেম্বর ২০২৬, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টায় মেরিল্যান্ডের ক্যাটনসভিলে অবস্থিত কাবাব হাটে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা সভার পাশাপাশি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন রাখা হয়েছে।   তিনি আরও জানান, অনুষ্ঠানে বিএনপির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন শহিদ খান চৌধুরী। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তিনি উপস্থিত থাকবেন। অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে থাকবেন বিএনপির মেরিল্যান্ড স্টেট শাখার সিনিয়র সহসভাপতি জাহাঙ্গীর কবির বাবুল।   অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হবে কাবাব হাট, ৬৫০২ বাল্টিমোর ন্যাশনাল পাইক, #৩৯০৫, ক্যাটনসভিল, মেরিল্যান্ড ২১২২৮ ঠিকানায়।   আয়োজকদের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি, বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ নভেম্বর ৩, ২০২৬ ১৩:০ 0
দুপুর ২টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
দুপুরে পদত্যাগের ঘোষণা দেবেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেবেন বলে জানিয়েছেন ইশরাক হোসেন। সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুর ২টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এ ঘোষণা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে ইশরাক এ তথ্য জানান। একই সঙ্গে প্রতিমন্ত্রীর পদে না থাকলেও মাদকবিরোধী কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।   ফেসবুক পোস্টে ইশরাক লিখেছেন, দুপুর ২টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেবেন এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলবেন। পোস্টে তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর পদত্যাগ নিয়ে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখেছেন। ভবিষ্যতে আন্দোলন-সংগ্রামের প্রয়োজন হলে জাতীয়তাবাদী আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা যেন দেশে ফিরে অংশ নেন, সে আশাও প্রকাশ করেন তিনি।   ইশরাক জানান, প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে না থাকলেও বিএনপির একজন কর্মী হিসেবে মাদকের বিরুদ্ধে আগের চেয়ে আরও বেশি উদ্যম নিয়ে কাজ করবেন। তাঁর ভাষ্য, পদে থাকুন বা না থাকুন, মাদক নির্মূলের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি আরও জোরদার করার এবং প্রজন্ম দলের সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে বিভিন্ন জেলা সফরের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।   এর আগে ইশরাককে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। তবে ১৮ অক্টোবর রাতে তাঁর প্রেস কর্মকর্তা মাহফুজ কবির মুক্তা এক বিবৃতিতে এ খবরকে অসত্য ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। ইশরাকও এক অডিও বার্তায় পদত্যাগের নির্দেশ পাওয়ার খবর অস্বীকার করেছিলেন। পরে মধ্যরাতে দেওয়া ফেসবুক পোস্টে তিনি জানান, তাঁর ক্ষেত্রে এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে দ্রুত সংবাদ সম্মেলন করে তা জানানো হবে। সোমবার সকালে দেওয়া নতুন পোস্টে দুপুর ২টায় পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়ার কথা বলেছেন তিনি।   সম্প্রতি রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে ইশরাকের উপস্থিতির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। ওই ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। ইশরাকের দাবি, তিনি স্থানীয় বাসিন্দা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অংশগ্রহণে আয়োজিত মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন। এ ঘটনায় আইনের কোনো ব্যত্যয় ঘটেছে কি না, তা তদন্ত করে দেখার কথা জানিয়েছে পুলিশ।   সূত্র: ইশরাক হোসেনের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ, প্রথম আলো ও জাগো নিউজ২৪।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ১৮, ২০২৬ ১৪:০ 0
হামলার শিকার হয়ে মারা গেছেন শুক্কুর আলী ব্যাপারী
মাদক-জুয়া বন্ধ করতে গিয়ে হামলার শিকার, হাসপাতালে নেওয়ার পথে বিএনপি নেতার মৃত্যু

বরিশালের মুলাদী উপজেলায় মাদক ও জুয়ার আসর বন্ধের ঘোষণা দেওয়ার পর হামলার শিকার হয়ে মারা গেছেন শুক্কুর আলী ব্যাপারী (৪০) নামে বিএনপির এক নেতা। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ভোররাতে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মীরগঞ্জ ফেরিঘাট এলাকায় তাঁর মৃত্যু হয়। পরিবারের অভিযোগ, মাদক, জুয়া ও অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের উদ্যোগ নেওয়াকে কেন্দ্র করে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়েছিল।    নিহত শুক্কুর আলী ব্যাপারী বরিশালের মুলাদী উপজেলার গাছুয়া ইউনিয়নের চরধলেশ্বর গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম আব্দুস ছত্তার ব্যাপারী। তিনি গাছুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য ছিলেন। তিনি উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক শরীয়ত উল্লাহর ভাতিজা বলেও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।    পরিবার ও স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনার আগে মঙ্গলবার ডুমুরীতলা লঞ্চঘাট এলাকায় মাদকের আড্ডা, জুয়া খেলা এবং নয়াভাঙনী নদ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধের ঘোষণা দেন শুক্কুর আলী। স্থানীয় লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে এসব কর্মকাণ্ড প্রতিহত করার কথাও জানিয়েছিলেন তিনি।   পরিবারের অভিযোগ, এর জের ধরে বুধবার সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে গাছুয়া ইউনিয়নের ডুমুরীতলা ফরাজী বাড়ি লঞ্চঘাট এলাকায় সালাউদ্দীনের দোকানে চা পান করার সময় তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়। নিহতের বাবা আব্দুস ছত্তার ব্যাপারী অভিযোগ করেছেন, রহমত ফরাজী, বারেক ফরাজী, মুজাম্মেল ফরাজীসহ কয়েকজন তাঁকে মারধর করেন।   হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার পর স্থানীয় লোকজন শুক্কুর আলীকে উদ্ধার করে মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মীরগঞ্জ ফেরিঘাট এলাকায় পৌঁছালে বৃহস্পতিবার ভোররাত ৪টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।   তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত বারেক ফরাজী। আজকের পত্রিকার প্রতিবেদনে তাঁর বক্তব্য তুলে ধরে বলা হয়েছে, লঞ্চঘাট এলাকার দোকানের সামনে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছিল। শুক্কুর আলীকে মারধর করে আহত করার অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবি করেন তিনি।    মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খন্দকার মো. সোহেল রানা জানিয়েছেন, মারধরের অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ অবগত রয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানান তিনি।   প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, প্রতিবেদন তৈরির সময় পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।    ঘটনাটি ঘিরে মাদক ও জুয়ার আসর এবং অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগের পাশাপাশি স্থানীয় বিরোধ ও সহিংসতার বিষয়টিও সামনে এসেছে। তবে এসব কর্মকাণ্ড বন্ধের ঘোষণা দেওয়াই হত্যার কারণ ছিল কি না, তা তদন্ত ও প্রমাণের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগও আইনগত প্রক্রিয়ায় যাচাই করা জরুরি।

বায়জিদ হাসান অক্টোবর ১৪, ২০২৬ ১৪:০ 0
প্রতীকী ছবি
চাঁদাবাজি ও দখলদারির বিরুদ্ধে অভিযান জোরদারের নির্দেশ বাংলাদেশ সরকারের

চাঁদাবাজি, দখলচেষ্টা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে জড়িত ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে শনিবার (৩ অক্টোবর) যুগান্তর এ খবর জানিয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের কর্মকর্তারাও চলমান অভিযান জোরদারের কথা বলেছেন।   এই অবস্থানের আলোচিত উদাহরণ হয়ে উঠেছে রাজধানীর মিরপুরের রাড্ডা মা ও শিশুস্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও স্থাপনা ভাঙচুরের ঘটনা। ২৪ সেপ্টেম্বর গভীর রাত থেকে পরদিন ভোরের মধ্যে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে হামলা হয়। পরে ভারী যন্ত্র দিয়ে এর স্থাপনার অংশ ভেঙে ফেলা হয়। ঘটনার তদন্তে গ্রেপ্তার ও দলীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা - দুই প্রক্রিয়াই চলছে।   রাড্ডার ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠার পর বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি ১ অক্টোবর স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। সংসদ সচিবালয় তাঁর আসন শূন্য ঘোষণা করেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত চলবে; সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   রাড্ডার ঘটনা নিয়ে আলোচনার মধ্যে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি এবং যুবদল ও ছাত্রদলের সংশ্লিষ্ট দুটি কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। কয়েকজন নেতা-কর্মীকে বহিষ্কারও করা হয়েছে। কমিটি বিলুপ্তি ও বহিষ্কারের বিজ্ঞপ্তিগুলোতে সব সিদ্ধান্তের সঙ্গে রাড্ডার ঘটনার সরাসরি সম্পর্কের কথা বলা হয়নি।   তদন্তের সর্বশেষ অগ্রগতিতে শনিবার আরও তিনজনকে গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া গেছে। lএ নিয়ে রাড্ডার ঘটনায় মোট গ্রেপ্তার হয়েছেন ১৯ জন। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের সাবেক ও বর্তমান নেতা-কর্মীও রয়েছেন। গ্রেপ্তার হওয়া আর আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়া পৃথক বিষয়।   স্পেশাল অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের মহাপরিচালক আহসান হাবীব পলাশ বলেছেন, গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদও বলেছেন, অপরাধের অভিযোগে কাউকে রাজনৈতিক বা সামাজিক প্রভাবের কারণে ছাড় দেওয়া হবে না এবং নগরীতে অভিযান জোরদার করা হবে।   একই সময়ে ইসিবি চত্বরের কাছে নিউ গিনি প্রোপার্টিজ ও সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার মামলার তদন্তও চলছে। এটি রাড্ডার ঘটনা থেকে পৃথক মামলা। ওই মামলায় তখন পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। দুটি মামলার গ্রেপ্তারের সংখ্যা একসঙ্গে হিসাব করা যাবে না।   সূত্র: যুগান্তর, প্রথম আলো

বায়জিদ হাসান অক্টোবর ৩, ২০২৬ ১৪:০ 0
সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করা বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। ছবি: সংগৃহীত
রাড্ডাকান্ডের সমালোচনার মাঝেই পদত্যাগ করলেন বিএনপির এমপি ফেরদৌসী মিষ্টি

ঢাকার মিরপুরে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘিরে আলোচনায় থাকা বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি পদত্যাগ করেছেন। বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর তিনি স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে লিখিত পদত্যাগপত্র দেন। সংসদ সচিবালয় সংবিধানের ৬৭(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তাঁর নারী আসন-২৩ শূন্য ঘোষণা করেছে।    বিকেলে স্পিকার সাংবাদিকদের বলেন, পদত্যাগপত্র পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আসনটি শূন্য হয়েছে এবং পদত্যাগ সেদিন থেকেই কার্যকর। শূন্য আসন পূরণের জন্য নির্বাচন কমিশনকে জানানো হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, আইন অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে আসনটি পূরণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একাধিক প্রার্থী থাকলে ভোট হবে; একক প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে পারেন।    গত ২৪ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এতে চিকিৎসা সরঞ্জামসহ ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে মিষ্টির ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কয়েকজনের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর তাঁর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। মিষ্টি আগে দাবি করেছিলেন, হামলা বা ভাঙচুরে তাঁর কোনো হাত নেই।   বৃহস্পতিবার দুপুরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মিষ্টির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তে প্রাথমিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দলীয় সিদ্ধান্ত ও ফৌজদারি তদন্ত পৃথক বিষয় বলেও তিনি জানান। এদিকে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব নিশ্চিত করেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁকে সংসদ সদস্য পদ ছাড়তে নির্দেশ দিয়েছিলেন।    স্পিকারের দপ্তর থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে মিষ্টি তখন পদত্যাগের কথা নিশ্চিত করেননি। তিনি তদন্ত হওয়ার কথা বলেন এবং দল যে সিদ্ধান্ত নেবে, সেটিই হবে বলে মন্তব্য করেন। পরে স্পিকারের বক্তব্য ও সংসদ সচিবালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে তাঁর পদত্যাগ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়। 

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ১৪:০ 0
নিউ ইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ‘ভাইয়া’ সম্বোধনে বিএনপি নেতাকর্মীদের আকুতি
নিউ ইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ‘ভাইয়া’ সম্বোধনে বিএনপি নেতাকর্মীদের আকুতি

জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউ ইয়র্কে অবস্থান করছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর সফরকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যসহ কানাডা থেকেও বিএনপির নেতাকর্মীদের নিউ ইয়র্কে উপস্থিত হতে দেখা গেছে।   নিউ ইয়র্কে অবস্থানকালে হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউ ইয়র্ক হোটেলে তারেক রহমানকে দেখতে পেয়ে বাইরে জড়ো হওয়া নেতাকর্মীদের একাংশ বিভিন্ন স্লোগান ও বক্তব্য দিতে থাকেন। এ সময় তাঁকে ‘ভাইয়া’ সম্বোধন করে সরাসরি দেখা করার আকুতি জানাতেও শোনা যায়।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে একজনকে বলতে শোনা যায়, “যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি কি দেউলে হয়ে গেছে, ভাইয়া?” আরেকজন বলেন, “ভাইয়া, আমরা আপনার সঙ্গে দেখা করতে চাই।”   ভিডিওতে আরও একজনকে বলতে শোনা যায়, “আমরা ১৭ বছর আওয়ামী লীগ সরকারের নির্যাতনে পালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছি। আমরা আপনাদের সঙ্গে দেখা করতে চাই।” কানাডা থেকে আসা একজনকেও বলতে শোনা যায়, “আমরা কানাডা থেকে আসছি, ভাইয়া।”   এ সময় হোটেলের ওপরের দিক থেকে নেতাকর্মীদের বক্তব্য শুনছিলেন তারেক রহমান। ভিডিওতে তাঁকে কিছু সময় দাঁড়িয়ে থাকতে, মুচকি হাসতে এবং মাঝে মাঝে হাত নাড়তে দেখা যায়।   পরে নিচে থাকা নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তারেক রহমানকে কিছু বলতে দেখা গেলেও দূরত্বের কারণে তাঁর বক্তব্যের সুনির্দিষ্ট শব্দ ভিডিওতে স্পষ্টভাবে শোনা যায়নি।   এর আগে ২১ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কে পৌঁছান তারেক রহমান। জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাঁকে হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউ ইয়র্কে নেওয়া হয়। তাঁর সফরকে ঘিরে নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশি প্রবাসী এবং বিএনপির নেতাকর্মীদের বিভিন্ন স্বাগত কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।   গতকাল সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বক্তব্য দেন তারেক রহমান। নিউ ইয়র্কে তাঁর সফর ঘিরে বিভিন্ন কর্মসূচির পাশাপাশি বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ ও যোগাযোগও প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে আলোচনায় এসেছে।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ১৪:০ 0
তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফর ঘিরে মুখোমুখি বিএনপি-আওয়ামী লীগ
তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফর ঘিরে মুখোমুখি বিএনপি-আওয়ামী লীগ, জ্যাকসন হাইটসে বাড়ল পুলিশ

তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফরকে কেন্দ্র করে জ্যাকসন হাইটসে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে স্বাগত ফেস্টুন ছেঁড়া নিয়ে অভিযোগ, পাল্টাপাল্টি স্লোগান এবং দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মুখোমুখি অবস্থানের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পরে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।   এর আগে জ্যাকসন হাইটসের একটি সড়কের পাশে তারেক রহমানকে স্বাগত জানিয়ে টাঙানো একটি ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ ওঠে আওয়ামী লীগ-সমর্থকদের বিরুদ্ধে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে ফেস্টুনটি ছেঁড়া অবস্থায় দেখা যায়। বিএনপির নেতাকর্মীরা এ ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে ব্যানার বা ফেস্টুন না ছিঁড়ে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানান।   এর কয়েক ঘণ্টা পর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে তারেক রহমানের অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে জ্যাকসন হাইটসে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা পৃথক অবস্থান নেন। আওয়ামী লীগ-সমর্থকদের বিভিন্ন স্লোগানের মধ্যে ‘ডিসেম্বরে আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’ স্লোগান শোনা যায়। অন্যদিকে বিএনপির নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকেও আওয়ামী লীগবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়।   পরে দুই দলের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সেখানে জড়ো হতে থাকলে পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগানসহ বিভিন্ন ব্যঙ্গাত্মক স্লোগান দেওয়া হয়। আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ‘জয় বাংলা’ স্লোগানও শোনা যায়।   পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে এবং শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানায়। পরে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির পরিস্থিতি তৈরি হলে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।   তারেক রহমান সোমবার নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে তাঁর এই সফর। ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে বাংলাদেশের পক্ষে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। সফরকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্কের বাংলাদেশি অধ্যুষিত জ্যাকসন হাইটসসহ বিভিন্ন এলাকায় আগে থেকেই বিএনপির পক্ষ থেকে স্বাগত কর্মসূচির প্রস্তুতি চলছিল।   অন্যদিকে তারেক রহমানের সফরকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সংগঠনও পাল্টা কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছিল। ফলে তাঁর আগমনকে ঘিরে নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে রাজনৈতিক তৎপরতা কয়েক দিন ধরেই বাড়ছিল।   জাতিসংঘের অধিবেশনকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্কে সামগ্রিকভাবেও বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জাতিসংঘ সদর দপ্তর ও আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন সড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের কর্মসূচি ঘিরে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে।   জ্যাকসন হাইটসের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের হতাহত বা গুরুতর সংঘর্ষের তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ও নেতাকর্মীদের মুখোমুখি অবস্থানের কারণে স্থানীয়ভাবে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে।  

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ১৪:০ 0
কাবা শরীফকে সাক্ষী রেখে বিএনপির রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা
কাবা শরীফকে সাক্ষী রেখে বিএনপির রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা

সৌদি আরবে পবিত্র কাবা শরীফের সামনে দাঁড়িয়ে বিএনপির রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন মো. সাদ্দাম হাওলাদার নামে এক সক্রিয় বিএনপি কর্মী। তিনি বর্তমানে জিয়া সাইবার ফোর্সের বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা শাখার সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।   গত ৩১ আগস্ট নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি ভিডিও পোস্ট করে রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দেন সাদ্দাম। একই সঙ্গে বিএনপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সাংগঠনিক পদ ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকেও সরে দাঁড়ানোর কথা জানান তিনি।   ফেসবুক পোস্টে সাদ্দাম হাওলাদার বলেন, তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। নিজেও দলের বিভিন্ন সাংগঠনিক কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন। তবে বর্তমানে তিনি সৌদি প্রবাসী হওয়ায় বাংলাদেশের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান।   তিনি লেখেন, “আমি স্ব-সম্মানে সজ্ঞানে বাংলাদেশ নামক সকল রাজনীতি থেকে দূরে সরে যাচ্ছি এবং পদত্যাগ করলাম।” একই সঙ্গে পবিত্র কাবা শরীফকে সামনে রেখে রাজনীতি থেকে দূরে থাকার ঘোষণা দেওয়ার কথাও জানান তিনি।   সাদ্দাম আরও বলেন, বিএনপির প্রতি তার কোনো অভিযোগ নেই। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত এবং দলের নেত্রী ও নেতাদের প্রতি তার শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন।   রাজনীতি ছাড়লেও মানুষের সেবা থেকে সরে যাবেন না জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনীতির বাইরে থেকেও মানবসেবা করা সম্ভব। ভবিষ্যতে অসহায় ও হতদরিদ্র মানুষের পাশে সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে থাকার চেষ্টা করবেন।   সাদ্দামের এই ঘোষণা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে হঠাৎ করে তার রাজনীতি ছাড়ার পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, সে বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে তিনি সৌদি আরবে অবস্থান করছেন।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ৩১, ২০২৬ ১৪:০ 0
দুর্নীতির ১৫ মামলায় খালাস পেলেন মির্জা আব্বাস
দুর্নীতির ১৫ মামলায় খালাস পেলেন মির্জা আব্বাস

বিনা দরপত্রে ১৮টি সরকারি বাড়ি বিক্রির মাধ্যমে ১২৭ কোটি ৬৪ লাখ ১৯ হাজার ৫৯ টাকা দুর্নীতির অভিযোগে ২০০৭ সালে দায়ের করা ১৫টি মামলায় খালাস পেয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস। বৃহস্পতিবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩ এর বিচারক মুহাম্মদ কামরুল হাসান খান এসব মামলার রায় দেন।    মামলাগুলোতে অভিযোগ ছিল, সরকারি বাড়ি বিক্রির ক্ষেত্রে নিয়ম অনুযায়ী দরপত্র প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে সরকারের আর্থিক ক্ষতি করা হয়েছে। ২০০৭ সালে এসব অভিযোগে মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে ১৫টি মামলা দায়ের করা হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আজ আদালত তাকে সবগুলো মামলায় খালাস দেন।    মির্জা আব্বাস বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য। তিনি এর আগে সরকারের গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। সরকারি সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা ও বিক্রির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সময়ে তার বিরুদ্ধে এসব মামলা করা হয়েছিল।   এর আগে ২০২৪ সালের আগস্টেও সম্পদের তথ্য গোপন এবং জ্ঞাত আয়ের বাইরে সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের করা একটি মামলায় মির্জা আব্বাসকে খালাস দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬। ওই মামলাটি ২০০৭ সালে করা হয়েছিল এবং বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষের ২৪ জন সাক্ষ্য দেন। আদালত তখন বলেছিলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।    এদিকে ২০২৬ সালের নির্বাচনী হলফনামা সংক্রান্ত প্রতিবেদনে মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে বিচারাধীন মামলার তথ্যও উঠে এসেছিল। তবে আজকের ১৫ মামলার রায়ে তিনি এসব দুর্নীতির অভিযোগ থেকে খালাস পেলেন।    আজকের রায়ের ফলে ২০০৭ সালে দায়ের হওয়া সরকারি বাড়ি বিক্রির অভিযোগসংক্রান্ত এই ১৫ মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া মির্জা আব্বাসের পক্ষে নিষ্পত্তি হলো। আদালতের পূর্ণাঙ্গ রায়ে খালাসের কারণ ও মামলাগুলোর পৃথক অভিযোগ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ২৬, ২০২৬ ১৪:০ 0
বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় নতুন ছয় মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী হিসেবে বঙ্গভবনে শপথ
বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় নতুন ছয় মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী হিসেবে বঙ্গভবনে শপথ

বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় নতুন করে ছয়জন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী যুক্ত হয়েছেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের দরবার হলে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাদের শপথ পড়ান।   নতুন চার মন্ত্রী হলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ, বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী এবং জামালপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য রশিদুজ্জামান মিল্লাত। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন ও প্রধানমন্ত্রীর সাবেক পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।   এর আগে সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের একই দরবার হলে রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল তাকে শপথবাক্য পাঠ করান।   আবদুল মঈন খান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং নরসিংদী-২ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য। আন্দালিভ রহমান পার্থ বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী হিসেবে ভোলা-১ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান।   বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক। অন্যদিকে রশিদুজ্জামান মিল্লাত জামালপুর-১ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য। এর আগে তিনি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন।   প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়া মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন গাইবান্ধা-৪ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য। হুমায়ুন কবির এর আগে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।   নতুন ছয় সদস্যের শপথের মধ্য দিয়ে বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় আরও বিস্তৃতি ঘটল। তাদের দায়িত্ব বণ্টন ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমে নতুন করে দায়িত্ব পুনর্বণ্টন করা হবে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ২০, ২০২৬ ১৪:০ 0
লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি এবং ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ফলাফল আগেই নির্ধারিত, গণতন্ত্র নিয়ন্ত্রিত: অলি আহমদ

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি এবং ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ অভিযোগ করেছেন যে, বিএনপি তড়িঘড়ি করে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজন করেছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর মহাখালী ডিওএইচএসে নিজ বাসভবনে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে তিনি বলেন, "রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারিত, এখানে অন্য কিছু হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।   কোনো সংসদ সদস্য তাঁর ইচ্ছা অনুযায়ী ভোট দিতে পারবেন না, এখানে গণতন্ত্র নিয়ন্ত্রিত। কর্তার ইচ্ছাই কর্ম হবে, দলের পক্ষ থেকে যেখানে ভোট দিতে বলা হবে, সেখানেই ভোট দিতে হবে।"   সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করে অলি আহমদ বলেন, কেউ দলের মতামতের বাইরে ভোট দিলে তাঁর সংসদ সদস্যপদ বাতিল হয়ে যাবে। তিনি আরও বলেন যে, বিএনপি ক্ষমতায় এলে তাদের ৩১ দফা অনুযায়ী সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ তুলে দেওয়ার কথা বলেছিল।   ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও, বিএনপি কেন এত দ্রুত নির্বাচন আয়োজন করল তা নিয়ে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন। তাঁর মতে, বিএনপি হয়তো ভেবেছিল সংশোধন না করে নির্বাচন করলে তাদের প্রার্থী জয়লাভ করবে, আর সংশোধন হলে সমস্যা হতে পারে।   অলি আহমদের এই প্রতিক্রিয়ার কিছুক্ষণ পরই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায়, বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন এবং অলি আহমদ ৮৮ ভোট পেয়েছেন। ৩৫০ সদস্যের সংসদে ৩৪৯ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ৩৪৩ জন ভোট প্রদান করেন। তবে সংসদ সদস্য না হওয়ায় অলি আহমদ নিজে ভোট দিতে পারেননি।   রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে এলডিপি সভাপতি বলেন, বঙ্গভবনে তিনটি মাজার ও একটি মসজিদ আছে, আর সেখানে মাজার জিয়ারত ও নামাজ পড়া ছাড়া রাষ্ট্রপতির স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ খুবই সীমিত। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে আগামী দিনে ক্ষমতার ভারসাম্য তৈরি হবে।   মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ধন্যবাদ জানিয়ে অলি আহমদ বলেন, "একসঙ্গে অনেক দিন কাজ করেছি; আপনার কাছ থেকে আমরা কিছু ভালো জিনিস আশা করি। সব জিনিসের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের মঙ্গলের জন্য কাজ করবেন, এটাই প্রত্যাশা।"

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ২০, ২০২৬ ১৪:০ 0
মির্জা ফখরুলকেই রাষ্ট্রপতি পদে বেছে নিলেন তারেক রহমান
মির্জা ফখরুলকেই রাষ্ট্রপতি পদে বেছে নিলেন তারেক রহমান

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে বিএনপি মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে মনোনীত করেছে ক্ষমতাসীন বিএনপি। বৃহস্পতিবার বিএনপির উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে তার নাম ঘোষণা করেন।   জাতীয় সংসদে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মির্জা ফখরুলের জয়ের সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি। তবে এবার বিরোধী জোটও প্রার্থী দেওয়ায় নির্বাচন হলে সংসদ সদস্যদের ভোটের মধ্য দিয়েই দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন।   বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের নিয়ে বৈঠকে বসেন তারেক রহমান। সেখানেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুলের নাম ঘোষণা করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।   এর আগে গত ১ আগস্ট বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে রাষ্ট্রপতি পদে দলের প্রার্থী চূড়ান্ত করার দায়িত্ব তারেক রহমানের ওপর দেওয়া হয়েছিল। এরপর কয়েক দিন ধরে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের মতামত নেন তিনি। সেই আলোচনার ভিত্তিতেই শেষ পর্যন্ত মির্জা ফখরুলকে বেছে নেওয়া হয়।   রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলের নাম কয়েক দিন ধরেই আলোচনার কেন্দ্রে ছিল। দলীয় সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিক হওয়ার আগেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে প্রয়োজনীয় সম্মতিপত্রে তিনি স্বাক্ষর করেছেন বলে বিএনপির একাধিক সূত্র জানিয়েছিল।   বৃহস্পতিবারের বৈঠকের আগে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়ন ফরম নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে যান সংসদের প্রধান হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। বিএনপির পক্ষ থেকে দুটি মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করা হয়েছে। দলীয় বৈঠক শেষে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।   রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন অনুযায়ী, প্রার্থীর মনোনয়নপত্রে একজন সংসদ সদস্যকে প্রস্তাবক এবং আরেকজনকে সমর্থক হতে হয়। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং নির্বাচিত হলে দায়িত্ব গ্রহণে সম্মত থাকার বিষয়ে প্রার্থীর স্বাক্ষরিত ঘোষণা জমা দিতে হয়।   নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সরাসরি সাধারণ ভোটাররা ভোট দেন না। জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।   এবার মির্জা ফখরুলের বিপরীতে বিরোধী ১১ দলীয় ঐক্য এলডিপি সভাপতি কর্নেল অবসরপ্রাপ্ত অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে উভয় প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ হলে রাষ্ট্রপতি পদে ভোটের সম্ভাবনা রয়েছে।   বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তনের পর ১৯৯১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একাধিক প্রার্থী থাকায় সংসদে ভোট হয়েছিল। এরপর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীর বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় ভোটের প্রয়োজন হয়নি। এবার দুই পক্ষের প্রার্থী থাকলে দীর্ঘ সময় পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের ভোট দিতে হবে।   সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গত ২৪ জুলাই পদত্যাগ করার পর রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হয়। এরপর থেকে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন।   মির্জা ফখরুল দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বে রয়েছেন। ২০১১ সালে তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পান এবং ২০১৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে মহাসচিব হন। বর্তমানে তিনি ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্য এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন।   বৃহস্পতিবারের বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান ও এ জেড এম জাহিদ হোসেনসহ দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।   দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত হওয়ার পর এখন নজর নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র জমা ও যাচাইয়ের দিকে। মনোনয়ন বৈধ হওয়ার পর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বহাল থাকলে ২০ আগস্ট সংসদে ভোটের মাধ্যমে বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১২, ২০২৬ ১৪:০ 0
বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
মির্জা ফখরুলই হচ্ছেন বিএনপির রাষ্ট্রপতি প্রার্থী, ঘোষণা বুধবার

বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে দলের মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা।   দলীয় সূত্রের বরাত দিয়ে ‘ডেইলি ওয়াদা’ জানিয়েছে, বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মির্জা ফখরুলের নাম রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করেছেন। বুধবার (১২ আগস্ট) দলীয়ভাবে তার নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হতে পারে।   বিএনপির এক জ্যেষ্ঠ নেতা সংবাদমাধ্যমটিকে জানিয়েছেন, দীর্ঘদিনের মহাসচিব মির্জা ফখরুলকেই রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ আরেক নেতাও ফখরুলের মনোনয়নের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   তবে বিএনপির আরও কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি পদে চূড়ান্ত প্রার্থী বাছাইয়ের সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ওপরই নির্ভর করছে। তাদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীর নাম জানানো হয়নি বলেও জানিয়েছেন কেউ কেউ।   এদিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সামনে রেখে রোববার (৯ আগস্ট) নির্বাচন কমিশন থেকে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে বিএনপি। দলটির ভাইস চেয়ারম্যান ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি এবং জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন সদর দপ্তরে গিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন।   এর আগে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলের প্রার্থী মনোনয়নের দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর ন্যস্ত করে।   সংসদে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলীয় প্রার্থী নিয়ে শেষ মুহূর্তে বড় কোনো পরিবর্তন না হলে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তবে চূড়ান্ত ফল নির্ভর করবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া ও বৈধ প্রার্থিতার ওপর।   নির্বাচন কমিশন আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করেছে। প্রয়োজন হলে ওই দিন দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।   তবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরই যদি একমাত্র বৈধ প্রার্থী হন, তাহলে সংসদে ভোটগ্রহণের প্রয়োজন হবে না। সে ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন তাকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করতে পারে।   রাষ্ট্রপতি পদটি শূন্য হওয়ার পর থেকেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। এর আগে গত ২৪ জুলাই মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর থেকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন।   সংবিধান ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।   বুধবার বিএনপির আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ঘিরে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সমীকরণ আরও স্পষ্ট হবে। শেষ পর্যন্ত তিনি একক বৈধ প্রার্থী হলে ২০ আগস্টের ভোট ছাড়াই দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার নির্বাচিত হওয়ার পথ তৈরি হবে।

তাবাস্সুম আগস্ট ৮, ২০২৬ ১৪:০ 0
প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে প্রকাশিত খোলা চিঠিতে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরেছেন মতিউর রহমান লিটু। ছবি: সংগৃহীত
জুলাই সনদ ও গণভোট নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে মতিউর রহমান লিটুর খোলা চিঠি।

নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ওয়েস্টার্ন নিউইয়র্ক বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রধান সমন্বয়ক মতিউর রহমান লিটু, বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্দেশে একটি খোলা চিঠি প্রকাশ করেছেন। চিঠিতে তিনি দলের প্রতি নিজের দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা, বিভিন্ন নেতার সহযোগিতার স্মৃতিচারণ এবং দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ব্যক্তিগত মতামত তুলে ধরেছেন।   খোলা চিঠিতে মতিউর রহমান লিটু জানান, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে নিয়ে নির্মিত একটি ভিডিও ডকুমেন্টারি দেখার পর তারেক রহমানের নির্দেশে দলের কয়েকজন নেতা তাকে সহযোগিতা করেছিলেন। তিনি আশিক ইসলাম, শামসুল আলম, মোখলেসুর রহমান চৌধুরী, শিমুল বিশ্বাস সহ বিএনপির বিভিন্ন সিনিয়র নেতার সহযোগিতার কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন।   চিঠিতে তিনি বলেন, বিএনপির প্রতি তার ভালোবাসা শৈশব থেকেই। পারিবারিকভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় দলটির সঙ্গে তার আবেগ ও আদর্শিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তিনি তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জাতীয় ঐক্যের স্বার্থে কয়েকটি বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।   বিশেষ করে তিনি ‘জুলাই সনদ’ ও ‘গণভোটের রায়’ গ্রহণের ঘোষণা দিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তার মতে, এ ধরনের উদ্যোগ দেশের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কমাতে এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ আরও শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখতে পারে।   চিঠিতে তিনি আরও অভিযোগ করেন, একটি মহল বিএনপিকে জুলাই আন্দোলনের বিপরীতে দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় তদন্তেরও আহ্বান জানান তিনি।   চিঠির শেষাংশে মতিউর রহমান লিটু স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, এটি সম্পূর্ণ তার ব্যক্তিগত মতামত। এ বক্তব্যের সঙ্গে বিএনপির কোনো সিনিয়র নেতা বা অন্য কোনো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্পৃক্ততা নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।   নিচে Motiur Rahman Litu 'র লিখা #চিঠি দেয়া হলোঃ   মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি খোলা চিঠি, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও একটি অনুরোধ; -মতিউর রহমান লিটু   সালাম নিবেন, আশাকরি আপনি ভালো আছেন। আজ কয়েকটি কথা বলার জন্য একটি খোলা চিঠি লিখছি। শহীদ জিয়াকে নিয়ে ১৭বছর আগে আনাড়ি হাতে একটি ভিডিও ডকুমেন্টারি বানিয়েছিলাম, ইউটিউবে সেটা দেখে আপনি আপনার তৎকালীন মুখপাত্র আশিক ইসলামকে বলেছিলেন আমাকে সহযোগিতা করার জন্য।   হ্যা, তিনি আমাকে অনেক সহযোগিতা করেছেন, ম্যাডামের সাবেক এপিএস শামসুল আলম ভাই নিজের মতো করেই আমাকে গড়ে তুলেছেন। রাষ্ট্রপতির সাবেক উপদেষ্টা মোখলেসুর রহমান চৌধুরী আপন ভাইয়ের মতো করেই বিএনপিতে আমাকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। এরপরে শতাধিক সিনিয়র নেতারা আমাকে সর্বদিক দিয়ে, সব সময় সহযোগিতা করেছেন। ম্যাডামের “Mother of democracy" উপাদি প্রাপ্তির পরে গুলশান অফিসে শিমুল বিশ্বাস ভাইয়ের দেয়া বৈঠকে সাবেক উপ রাষ্ট্রপতি মওদুদ আহম্মেদ সাহেব বুকে জড়িয়ে অলমোস্ট কেঁদে দিয়েছিলেন।   গুলশান অফিসের দ্বিতীয় তলায় শিমুল ভাইয়ের সেই বৈঠকে প্রায় ৩০জনের মতো সিনিয়র নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। আমি একজন সাধারণ বাবার সন্তান হয়ে এর চেয়ে বেশি কিছু কোনোদিন আশাকরিনি। শহীদ জিয়ার মৃত্যুর দিন আমার বাবার চিৎকার দিয়ে কান্নার স্মৃতি থেকে বিএনপির প্রতি আমার মায়া, ভালোবাসা জন্ম হয়েছে। সেই থেকেই বিএনপি করি। বেড়ে ওঠার সাথে সাথে রক্ত মাংস মজ্জায় একটি মাত্র দল মিশে আছে সেটি হলো বিএনপি আর দেশনেত্রী বেগম জিয়ার স্মৃতি। তাই মৃত্যুর আগে পর্যন্ত হয়তো ভুলতে পারবোনা এই দলের ভালোবাসা।   যদিও পরিবারের প্রায় সকল সদস্য বিএনপি রাজনীতির সাথে জড়িত। বিএনপির জন্য অনেক রক্ত ঝরেছে, অনেক কষ্টের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে, সেসব কথা আজ বলতে চাইনা। আজ জীবনের খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি কথা বলতে চাই- আপনি শহীদ জিয়ার সন্তান, আপনার জন্য জীবন দিতেও কুন্ঠাবোধ করবোনা। সব সময় আপনার ভালো চাই এবং চাইবো।   হাসিনাকে হটানোর জন্য আমরা ১৬বছর আন্দোলন করেছি কিন্তু শেষের একমাসে নিষ্পাপ তরুণ ছাত্ররা রাস্তায় নেমে আসায় হাসিনা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। যেই আন্দোলনটাকে আমরা জুলাই আন্দোলন হিসাবে চিনি, যেই আন্দোলনের জন্য দেশে একটি নির্বাচন হয়েছে, আপনি প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। জাতি মুক্তির স্বাধ গ্রহণ করেছে।   দেশের মানুষ আপনাকে ভালোবাসে- সেই ভালোবাসাটুকু যেন সারাজীবন টিকে থাকে, বিএনপি যেন দীর্ঘদিন বাংলাদেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে সেজন্য আপনাকে একটা বিশেষ অনুরোধ করতে চাই- কে কি পরামর্শ দিলো সেদিকে না তাকিয়ে এক বাক্যে জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় মেনে নেয়ার ঘোষণা দিন। এরপরে বিরোধীদলের সিনিয়র নেতাদের নিয়ে বসুন, সংসদে যেহেতু দুই তৃতীয়াংশ আছে, দেশ চালানোর মতো করে সংবিধানকে সাজিয়ে নিন।   দেখবেন বর্তমান বিরোধীদল আপনাকে সর্বাত্বক সহযোগিতা করছে। কারণ, সবার কিন্তু একটাই লক্ষ্য হাসিনার মতো একটা খুনি যেন কোনোদিন ফিরতে না পারে! আর কিছুনা।   বিরোধীদলের জীবনে যে সাফল্য এখন আছে সেটা তাদের জীবনের সর্বোচ্চ সাফল্য, তারাও সেটা হারাতে চাইবেননা। জুলাই বিষয়ে দূরত্বটা মীমাংসিত হলে বাংলাদেশটা হতে পারে সৌহার্দপূর্ণ একটি দেশ। যেখানে আমরা সুখে শান্তিতে সবাই বসবাস করতে পারবো। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আপনাকে যারা জুলাই এর মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্র করছে তারা কোনোভাবেই বিএনপির ভালো চাইতে পারে বলে আমি বিশ্বাস করিনা। আমার সন্দেহ তাঁরা হয়তো ভারতের উদ্দেশ্য কার্যকর করতে এমন খেলা খেলছে। গোয়েন্দা সংস্থা দিয়ে সেটাই এখন খুঁজে বের করা দরকার! আমার চিঠিটি আপনার দৃষ্টিগোচর হবে বলে আমি আশাকরি। ভুল বোঝেন, রাগ করেন আর অভিমান করেন যেভাবেই গ্রহণ করেন- “জুলাই সনদ ও গণভোট” নিয়ে অন্তত সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশটাকে একটা অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ থেকে রক্ষা করবেন বলে আমি বিশ্বাস করি।   এছাড়া জুলাই বিষয়ে একটা সমাধান হলে- তরুণ একটা প্রজন্ম তৈরী হয়েছে যারা  আপনার দূরদর্শিতার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে বিএনপির রাজনীতিতে আরো বেশী সচল হবে বলে আমি বিশ্বাস করি। ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। আল্লাহ হাফেজ। বাংলাদেশ জিন্দাবাদ। (উল্লেখ্যঃ আমার লেখা এই খোলা চিঠিতে বিএনপির কোনো সিনিয়র নেতা কিংবা অন্যকোন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের ইনফ্লুয়েন্স নেই! সম্পূর্ণ আমার ব্যক্তিগত অভিমত! তাই এই চিঠির জন্য আমার কোন শুভাকাংখীর ব্যাপারে ভুল ধারণা পোষণ করবেননা, অনুরোধ রইলো)

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ৪, ২০২৬ ১৪:০ 0
আশরাফ উদ্দিন আকন্দ শিবপুর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক
‘নিশি রাতে পুকুরপাড়ে দেখা করলে মিলবে ফ্যামিলি কার্ড’, বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে নারীর অভিযোগ

নরসিংদীর শিবপুরে সরকারি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক নারীকে মধ্যরাতে পুকুরপাড়ে ডাকার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত আশরাফ উদ্দিন আকন্দ শিবপুর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। সম্প্রতি ভুক্তভোগী ওই নারীর অভিযোগসংবলিত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনসহ জনমনে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ভুক্তভোগীর দাবি, ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার শর্ত হিসেবে তাকে এই কুপ্রস্তাব দেওয়া হয়। এর আগেও অনৈতিক প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় তাকে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর বিভিন্ন সরকারি সুবিধা থেকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বঞ্চিত করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।   অন্যদিকে, নিজের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও চক্রান্ত বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত বিএনপি নেতা আশরাফ উদ্দিন আকন্দ। তার ভাষ্যমতে, সামাজিকভাবে তাকে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে দলেরই একটি প্রতিপক্ষ ওই নারীকে ব্যবহার করে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে। শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, প্রায় পাঁচ মাস আগে পা ভেঙে যাওয়ায় তিনি এখনও পুরোপুরি সুস্থ নন; তাই মধ্যরাতে পুকুরপাড়ে যাওয়ার অভিযোগটি একেবারেই অবান্তর। এছাড়া গত ঈদে ওই নারীকে জাকাতের কাপড় ও চালের স্লিপ দিতে না পারার ক্ষোভ থেকে এই মিথ্যা নাটক সাজানো হতে পারে বলেও তিনি দাবি করেন।   পুরো ঘটনাটি নিয়ে শিবপুর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি তাদের নজরে এসেছে এবং অভিযুক্ত আশরাফ উদ্দিনও যোগাযোগ করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। তবে দল থেকে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। একটি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত নেতার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন। পাশাপাশি এটি যদি নিছক চক্রান্ত প্রমাণিত হয়, তবে সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২৭, ২০২৬ ১৪:০ 0
পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত
পরবর্তী রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুল

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা জোরালো হয়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচিত হলেও দলটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কাউকে মনোনয়ন দেয়নি।   বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের বরাত দিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম জানিয়েছে, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, গ্রহণযোগ্যতা, সততা এবং সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের সক্ষমতাকে গুরুত্ব দিচ্ছে ক্ষমতাসীন দলটি। মির্জা ফখরুল ছাড়াও বিএনপির স্থায়ী কমিটির কয়েকজন প্রবীণ নেতা এবং দলবহির্ভূত একাধিক ব্যক্তির নাম বিবেচনায় রয়েছে।   রাষ্ট্রপতি পদে নিজের সম্ভাব্য মনোনয়ন নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করেননি মির্জা ফখরুল। তবে তিনি জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী দলীয় ফোরামের আলোচনার মাধ্যমেই নির্ধারণ করা হবে। জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বিষয়টি চূড়ান্ত হওয়ার কথা রয়েছে।   দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, তুলনামূলক পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কাজ করার সক্ষমতার কারণে মির্জা ফখরুলকে শক্তিশালী সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দেখছেন দলের একটি অংশ। বিএনপির সংকটকালে দলকে সংগঠিত রাখা, দীর্ঘদিন মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দলের অবস্থান তুলে ধরায় তার ভূমিকার কথাও সামনে আনছেন সমর্থকেরা। তবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে তাকে সক্রিয় দলীয় রাজনীতি ও মন্ত্রিসভার দায়িত্ব ছাড়তে হবে। এ কারণে বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রমে তার প্রয়োজনীয়তা এবং রাষ্ট্রপতি পদে তার সম্ভাব্য ভূমিকা দুই দিক বিবেচনায় নিয়ে দলের ভেতরে আলোচনা চলছে।   রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় নতুন রাষ্ট্রপতির জন্য দলীয় আনুগত্যের পাশাপাশি সর্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা, সাংবিধানিক জ্ঞান এবং সংকট মোকাবিলার দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ হবে। রাষ্ট্রপতির পদটি প্রধানত সাংবিধানিক ও আনুষ্ঠানিক হলেও বিশেষ পরিস্থিতিতে এ পদধারীর সিদ্ধান্ত রাষ্ট্র পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।   ১৯৪৮ সালে ঠাকুরগাঁওয়ে জন্ম নেওয়া মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পেশাজীবনের শুরুতে শিক্ষকতা করেন। পরে সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দিয়ে সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ সালের নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি কৃষি এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন। পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিলে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে তিনি গত ২৪ জুলাই পদত্যাগ করেন। তার পদত্যাগের পর জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ অস্থায়ীভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন।   সংবিধান ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী, জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। নির্বাচন কমিশন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে এবং সংসদ সদস্যদের তালিকার ভিত্তিতে ভোটার তালিকা প্রস্তুত করবে। ক্ষমতাসীন বিএনপির সংসদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত প্রার্থীর নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি।   তবে দলীয় সিদ্ধান্ত ও আনুষ্ঠানিক মনোনয়ন ঘোষণার আগে মির্জা ফখরুলকেই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে নিশ্চিত করে বলার সুযোগ নেই। আপাতত তিনি সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে অন্যতম প্রধান নাম চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের ওপর।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৭, ২০২৬ ১৪:০ 0
সাবেক স্পিকার ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার। ছবি: সংগৃহীত
সাবেক স্পিকার ও প্রবীণ রাজনীতিক ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার আর নেই

বাংলাদেশের সাবেক স্পিকার, প্রবীণ আইনজীবী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মুহাম্মদ জমির উদ্দিন সরকার ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। রোববার (১২ জুলাই) ভোর ৪টা ১৯ মিনিটে রাজধানীর শ্যামলীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।   বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন অসীম তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় তিনি বেশ কিছুদিন ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।   ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার বাংলাদেশের আইন, রাজনীতি এবং সংসদীয় গণতন্ত্রের অন্যতম পরিচিত ব্যক্তিত্ব ছিলেন। ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তিনি অষ্টম জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হন এবং ২৫ জানুয়ারি ২০০৯ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। স্পিকার হিসেবে সংসদীয় রীতি-নীতি অনুসরণ, সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে নিষ্ঠা এবং সংসদ পরিচালনায় তার ভূমিকা ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়।   ২০০২ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক এ. কিউ. এম. বদরুদ্দোজা চৌধুরীর পদত্যাগের পর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত, ২১ জুন থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বও পালন করেন।   ১৯৩১ সালের ১ ডিসেম্বর তৎকালীন জলপাইগুড়ি জেলার (বর্তমান পঞ্চগড় জেলার) তেতুলিয়া উপজেলার নয়াবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার। তার বাবা ছিলেন মৌলভী আলী বক্স এবং মা বেগম ফখরুন্নেছা।   তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে সম্মান ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর আইন বিষয়ে স্নাতক (এলএলবি) সম্পন্ন করেন। পরে ১৯৬১ সালে যুক্তরাজ্যে গিয়ে লন্ডনের লিংকনস ইন থেকে ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল ডিগ্রি অর্জন করেন। দেশে ফিরে তিনি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে সংবিধান, দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইন বিষয়ে দীর্ঘদিন সুনামের সঙ্গে আইন পেশা পরিচালনা করেন।   রাজনৈতিক জীবনের শুরু ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমে হলেও পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠার পর তিনি দলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং দীর্ঘদিন দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন।   তিনি একাধিকবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বিভিন্ন সময়ে ভূমি, শিক্ষা, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। রাজনীতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আইন, সমুদ্র আইন, জাতিসংঘ এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস নিয়ে একাধিক গ্রন্থও রচনা করেন।   শিক্ষা বিস্তারেও তার উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। নিজ জেলা পঞ্চগড়ে তিনি ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার কলেজিয়েট ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করেন, যা স্থানীয় শিক্ষার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।   ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বেগম নুর আখতারের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের এক মেয়ে ও দুই ছেলে রয়েছেন। তার দুই ছেলেই ব্যারিস্টার হিসেবে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে আইন পেশায় নিয়োজিত।   দীর্ঘ কর্মজীবনে আইন, রাজনীতি এবং সংসদীয় গণতন্ত্রের বিকাশে তার অবদান দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সহকর্মীরা।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১১, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: দ্য ডিসেন্ট
বসুন্ধরা গ্রুপের সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে বিএনপিবিরোধী প্রচারের অভিযোগ, দাবি দ্য ডিসেন্টের

বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকানাধীন কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে দীর্ঘ সময় ধরে বিএনপি, দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে ভিত্তিহীন, একপেশে ও ষড়যন্ত্রমূলক বয়ান প্রচার করা হয়েছিল বলে দাবি করেছে অনলাইনভিত্তিক অনুসন্ধানী প্ল্যাটফর্ম দ্য ডিসেন্ট।   সম্প্রতি প্রকাশিত একটি 'মিডিয়া ওয়াচ' প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের আগে কালের কণ্ঠ, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ডেইলি সান ও বাংলানিউজ২৪.কমে প্রকাশিত অসংখ্য সংবাদ ও মতামতধর্মী লেখায় বিএনপি এবং দলটির শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অর্থ পাচার, বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ, ষড়যন্ত্র, ক্যাসিনো-সংশ্লিষ্টতা ও দল পরিচালনায় ব্যর্থতার মতো অভিযোগ নিয়মিতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৩ সাল থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত প্রকাশিত সংবাদ ও নিবন্ধ বিশ্লেষণ করে অন্তত ৮১টি প্রতিবেদন শনাক্ত করেছে দ্য ডিসেন্ট। এর মধ্যে ৫২টি সংবাদ প্রতিবেদন এবং ২৮টি মতামতধর্মী লেখা রয়েছে। প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, এসব সংবাদের উল্লেখযোগ্য অংশে নির্ভরযোগ্য বা নাম প্রকাশিত কোনো সূত্রের উদ্ধৃতি ছিল না।   দ্য ডিসেন্টের ভাষ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর একই সংবাদমাধ্যমগুলোতে বিএনপি, তারেক রহমান ও খালেদা জিয়াকে নিয়ে ইতিবাচক প্রতিবেদন ও নিবন্ধ প্রকাশের প্রবণতা দেখা যায়। প্রতিবেদনে এই পরিবর্তনকে সম্পাদকীয় অবস্থানের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।   অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি আওয়ামী লীগ-সমর্থক বিভিন্ন পেজে তারেক রহমানকে নিয়ে যে নেতিবাচক পোস্ট ছড়ানো হয়েছে, সেগুলোর অনেক ক্ষেত্রেই অতীতে প্রকাশিত এসব সংবাদকে সূত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।   দ্য ডিসেন্ট দাবি করেছে, তাদের অনুসন্ধানে পাওয়া প্রতিবেদনগুলোর বিষয়বস্তু ছিল মূলত তারেক রহমানের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার, লন্ডনে বিলাসী জীবন, ক্যাসিনো-সংশ্লিষ্টতা, বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ এবং বিএনপির নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ।   প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, কালের কণ্ঠ, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ডেইলি সান ও বাংলানিউজ২৪.কমে প্রকাশিত একাধিক বিশেষ প্রতিবেদন ও কলামে এসব অভিযোগ উপস্থাপন করা হলেও অনেক ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ বা পরিচয়যুক্ত সূত্রের উল্লেখ পাওয়া যায়নি বলে তাদের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।   দ্য ডিসেন্ট আরও দাবি করেছে, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা, ক্যাসিনো কেলেঙ্কারি, হাওয়া ভবন, বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ, বিএনপির নেতৃত্বের সংকট, দল পরিচালনায় ব্যর্থতা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত বহু প্রতিবেদনে একই ধরনের বয়ান অনুসরণ করা হয়েছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়, তাদের এই 'মিডিয়া ওয়াচ'-এর উদ্দেশ্য ছিল ৫ আগস্টের আগে ও পরে একই রাজনৈতিক ব্যক্তি ও দলকে ঘিরে সংবাদ পরিবেশনের ধরনে কোনো পরিবর্তন এসেছে কি না এবং প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো কতটা তথ্যনির্ভর ছিল, তা পর্যালোচনা করা।   তবে প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে কালের কণ্ঠ, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ডেইলি সান, বাংলানিউজ২৪.কম কিংবা সংশ্লিষ্ট ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপের কোনো বক্তব্য প্রকাশ করা হয়নি। এই অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিক্রিয়াও প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।

নীলুফা নিশাত জুন ২৭, ২০২৬ ১৪:০ 0
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় কর্মস্থলে দুর্বৃত্তের হামলায় প্রবাসী বিএনপি নেতার মৃত্যু l ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় কর্মস্থলে দুর্বৃত্তের হামলায় প্রবাসী বিএনপি নেতার মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দুর্বৃত্তের হামলায় মোঃ কবির হোসেন মৃধা নামে এক প্রবাসী বাংলাদেশির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ফ্লোরিডা স্টেট কমিটির একজন অত্যন্ত দায়িত্বশীল ও সক্রিয় সদস্য ছিলেন। মরহুমের পৈতৃক নিবাস বাংলাদেশের পটুয়াখালী জেলায়।   প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ফ্লোরিডার পম্পানো বিচ (Pompano Beach) এলাকায় নিজের কর্মস্থলে অবস্থানকালে দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন কবির হোসেন মৃধা। সেখানেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তবে ঠিক কী কারণে, কখন বা কারা এই প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কোনো তথ্য জানা যায়নি। স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ইতোমধ্যেই এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শুরু করেছে।   জনাব মৃধার এই অকাল ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা স্টেট বিএনপির পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে। নেতৃবৃন্দ মরহুমের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন এবং তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করে সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন।   প্রবাসের মাটিতে নিজ কর্মস্থলে এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সাধারণ প্রবাসীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২০, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী
সময় শেষ হয়ে আসছে, পরিবর্তন না এলে পরিণতির জন্য প্রস্তুত থাকুন: শফিকুর রহমান

গণভোটের মাধ্যমে প্রকাশিত জনগণের রায় বাস্তবায়নে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারকে আর খুব বেশি সময় দেওয়া হবে না বলে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের লালদীঘি ময়দানে ১১–দলীয় ঐক্যের এক বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন।   গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ নিরসন ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবিতে আয়োজিত এই সমাবেশে তিনি সরকারকে সতর্ক করে বলেন, সময় অত্যন্ত সীমিত এবং তা দ্রুত ফুরিয়ে আসছে; এই সময়ের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন না এলে চরম পরিণতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।   সরকারকে ১৯৯৬ সালের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বর্তমান সরকার যদি স্বেচ্ছায় জনদাবি মেনে না নেয়, তবে বাধ্য হয়েই তাদের দাবি মানতে হবে। নেতা-কর্মীদের জেল-জুলুম বা ফাঁসির ভয় দেখিয়ে কোনো লাভ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশ ও জনগণের স্বার্থে তারা বারবার জীবন দিতে প্রস্তুত।   এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক কিছু বক্তব্যেরও কড়া সমালোচনা করেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন জেলায় গিয়ে বিরোধী দল সম্পর্কে মিথ্যা ও ভুয়া তথ্য দিচ্ছেন, যা একটি রাষ্ট্রীয় পদের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক। নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পরও চাঁদাবাজি না কমে উল্টো বেড়েছে এবং দুর্নীতিকে 'জাতীয়করণ' করা হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।   সমাবেশে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামও প্রস্তাবিত বাজেটের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি এই বাজেটকে 'বাস্তবতা-বিবর্জিত' আখ্যা দিয়ে বলেন, এতে দুর্নীতি, লুটপাট এবং ব্যাংক দখল বন্ধের কোনো রূপরেখা নেই। ব্যাংকিং খাতের চরম বিশৃঙ্খলার কথা তুলে ধরে তিনি অভিযোগ করেন, ইসলামী ব্যাংককে আবারও এস আলমের হাতে তুলে দেওয়ার চক্রান্ত চলছে, যা জনগণ কোনোভাবেই মেনে নেবে না।   এছাড়া, চট্টগ্রামে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) কর্তৃক জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে তুলে নিয়ে নির্যাতনের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, পুলিশ, দুদক ও বিচার বিভাগের সংস্কার না হওয়ায় জনগণের ওপর আবারও জুলুম শুরু হয়েছে। সরকার স্বৈরতন্ত্রের পথে হাঁটলে জনগণ আবারও গণ-অভ্যুত্থানের পথে হাঁটতে বাধ্য হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।   একইসঙ্গে সীমান্তে বাংলাদেশিদের হত্যার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, কাঁটাতার আর বন্দুকের গুলি দিয়ে কখনো বন্ধুত্ব হয় না; আধিপত্যবাদী কোনো শক্তিই বাংলাদেশে টিকতে পারবে না।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ১৩, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী
সময় শেষ হয়ে আসছে, পরিবর্তন না এলে পরিণতির জন্য প্রস্তুত থাকুন: শফিকুর রহমান

গণভোটের মাধ্যমে প্রকাশিত জনগণের রায় বাস্তবায়নে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারকে আর খুব বেশি সময় দেওয়া হবে না বলে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।   শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের লালদীঘি ময়দানে ১১–দলীয় ঐক্যের এক বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন।   গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ নিরসন ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবিতে আয়োজিত এই সমাবেশে তিনি সরকারকে সতর্ক করে বলেন, সময় অত্যন্ত সীমিত এবং তা দ্রুত ফুরিয়ে আসছে; এই সময়ের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন না এলে চরম পরিণতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।   সরকারকে ১৯৯৬ সালের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বর্তমান সরকার যদি স্বেচ্ছায় জনদাবি মেনে না নেয়, তবে বাধ্য হয়েই তাদের দাবি মানতে হবে।   নেতা-কর্মীদের জেল-জুলুম বা ফাঁসির ভয় দেখিয়ে কোনো লাভ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশ ও জনগণের স্বার্থে তারা বারবার জীবন দিতে প্রস্তুত। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক কিছু বক্তব্যেরও কড়া সমালোচনা করেন বিরোধীদলীয় নেতা।   তিনি অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন জেলায় গিয়ে বিরোধী দল সম্পর্কে মিথ্যা ও ভুয়া তথ্য দিচ্ছেন, যা একটি রাষ্ট্রীয় পদের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক। নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পরও চাঁদাবাজি না কমে উল্টো বেড়েছে এবং দুর্নীতিকে 'জাতীয়করণ' করা হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।   সমাবেশে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামও প্রস্তাবিত বাজেটের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি এই বাজেটকে 'বাস্তবতা-বিবর্জিত' আখ্যা দিয়ে বলেন, এতে দুর্নীতি, লুটপাট এবং ব্যাংক দখল বন্ধের কোনো রূপরেখা নেই। ব্যাংকিং খাতের চরম বিশৃঙ্খলার কথা তুলে ধরে তিনি অভিযোগ করেন, ইসলামী ব্যাংককে আবারও এস আলমের হাতে তুলে দেওয়ার চক্রান্ত চলছে, যা জনগণ কোনোভাবেই মেনে নেবে না।   এছাড়া, চট্টগ্রামে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) কর্তৃক জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে তুলে নিয়ে নির্যাতনের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, পুলিশ, দুদক ও বিচার বিভাগের সংস্কার না হওয়ায় জনগণের ওপর আবারও জুলুম শুরু হয়েছে।   সরকার স্বৈরতন্ত্রের পথে হাঁটলে জনগণ আবারও গণ-অভ্যুত্থানের পথে হাঁটতে বাধ্য হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন। একইসঙ্গে সীমান্তে বাংলাদেশিদের হত্যার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, কাঁটাতার আর বন্দুকের গুলি দিয়ে কখনো বন্ধুত্ব হয় না; আধিপত্যবাদী কোনো শক্তিই বাংলাদেশে টিকতে পারবে না।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ১৩, ২০২৬ ১৪:০ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক।   হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।   গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক রাইয়ান আবদুল বাতেন। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

নভেম্বর ২, ২০২৬ ১৩:০