যশোরের শার্শা উপজেলায় বিএনপি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ১৩ জন নেতাকর্মী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছেন।
সোমবার (২ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপজেলার নিজামপুর ইউনিয়নের উদ্যোগে আয়োজিত দাঁড়িপাল্লার নির্বাচনি জনসভায় আনুষ্ঠানিকভাবে তারা জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন। এ সময় জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাওলানা আজীজুর রহমান নবাগতদের ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নেন।
জানা গেছে, যোগদানকারীদের মধ্যে রয়েছেন— নিজামপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি জালাল উদ্দীন, বিএনপি কর্মী রাব্বানী মল্লিক, বীরশ্রেষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধা আতিয়ার রহমান, আবু সুফিয়ান, হাফিজুর রহমান, সেলিম রেজা, আব্দুল খালেক, ইউনুস আলী, গোলাম হোসেন, মোস্তফা আহমেদ এবং শার্শা উপজেলা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের দপ্তর সম্পাদক মাওলানা আব্দুর রশিদ।
এর আগে সকালে পুটখালী ইউনিয়নের পুটখালী গ্রামের সেলিম উদ্দীন, গিয়াসউদ্দিন ও দারজুল ইসলামসহ মোট ১৩ জন নেতাকর্মী জামায়াতে যোগদান করেছেন।
যোগদানের বিষয়ে নিজামপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি জালাল উদ্দীন বলেন,আমি দীর্ঘদিন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলাম। জামায়াতে ইসলামীর সুশৃঙ্খল ও আদর্শিক কার্যক্রমে অনুপ্রাণিত হয়ে আমি এ দলে যোগ দিয়েছি।
শার্শা উপজেলা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের দপ্তর সম্পাদক মাওলানা আব্দুর রশিদ বলেন, জামায়াতে ইসলামী একটি দেশপ্রেমিক ও আদর্শিক সংগঠন। সকল সচেতন ও দেশপ্রেমিক মানুষকে সঙ্গে নিয়ে জামায়াতে ইসলামী জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাবে।
শার্শা উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, জামায়াতে ইসলামী একটি আদর্শিক, সুশৃঙ্খল ও গণমুখী সংগঠন। আজ বিএনপি ও ইসলামি আন্দোলন থেকে আগত যে নেতাকর্মীরা জামায়াতে যোগদান করেছেন, আমরা তাদের আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাই। ইনশাআল্লাহ তারা জামায়াতের আদর্শ ও কর্মসূচির সঙ্গে একাত্ম হয়ে জনগণের কল্যাণে কাজ করবেন। দেশ ও সমাজের নৈতিক পরিবর্তনে জামায়াতে ইসলামী আগামীতেও ঐক্যবদ্ধভাবে ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে যশোর জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী তৈয়বুর রহমান জাহাঙ্গীর, উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য হাবিবুর রহমান, শার্শা উপজেলা যুববিভাগের সভাপতি আবুল কালাম আজাদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশের মানুষসহ বিশ্বের মুসলিম উম্মাহকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি-এর আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম। শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় নাহিদ ইসলাম বলেন, এক মাসের সিয়াম সাধনার পর ঈদুল ফিতর মুসলিম উম্মাহর জন্য আনন্দ ও সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে আসে। তিনি উল্লেখ করেন, এই উৎসব সমাজের সব ভেদাভেদ ভুলিয়ে দিয়ে শান্তি, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করে। নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, “ঈদ মানুষের হৃদয়ে প্রশান্তি এনে দেয়, হিংসা-বিদ্বেষ দূর করে এবং পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে।” তিনি বলেন, এবারের ঈদ দেশের মুসলিমদের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, যা তিনি ‘ফ্যাসিবাদ-উত্তর দ্বিতীয় ঈদ’ হিসেবে উল্লেখ করেন। দীর্ঘ সময় রাজনৈতিক কারণে অনেক নেতা-কর্মী ঈদের প্রকৃত আনন্দ থেকে বঞ্চিত ছিলেন। বার্তায় তিনি শহীদদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে বলেন, “শত শত শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা আজ মুক্ত পরিবেশে ঈদ উদযাপন করছি। তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং আহতদের খোঁজখবর নেওয়া আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।” প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদানের কথাও স্মরণ করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, “যারা পরিবার-পরিজন থেকে দূরে থেকে দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখছেন, তাদের প্রতি আমাদের গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা উচিত।” সর্বশেষে নাহিদ ইসলাম সমাজের দরিদ্র, অসহায় ও বঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটি শুধুমাত্র ধর্মীয় নয়, মানবিক দায়িত্বও বটে।
তিস্তা নদী সংশ্লিষ্ট মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে চীন এগিয়ে এলে পূর্ণ সমর্থন দেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী—এমনটাই জানিয়েছেন দলটির আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, দেশের কল্যাণে প্রয়োজন হলে এই প্রকল্প বাস্তবায়নে সক্রিয়ভাবে সহযোগিতাও করবে তার দল। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকালে রাজধানীর ঢাকা-১৫ আসনের আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় মাঠে দুস্থদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন তিনি। অনুষ্ঠানে ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনও উপস্থিত ছিলেন। শফিকুর রহমান তিস্তা নদীকে ‘উত্তরাঞ্চলের কান্না’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যার সমাধান না হওয়ায় মানুষ ভোগান্তিতে রয়েছে। অতীতে কেন এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়নি, তা সবার জানা বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ভারতের সঙ্গে তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি ঝুলে থাকার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সরকার ‘তিস্তা নদীর সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প’ গ্রহণ করে, যা ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ নামে পরিচিত। ২০১৬ সালে সমীক্ষার মাধ্যমে এই প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয়। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে বিভিন্ন সময়ে চীন ও ভারত আগ্রহ প্রকাশ করেছে। চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, চীন বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রসহ বিভিন্ন বড় অবকাঠামো চীনের সহযোগিতায় নির্মিত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, চীন বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করেই সহযোগিতা করে আসছে, যা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের উদাহরণ। ভবিষ্যতে এই সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। এ সময় তিনি চীনের অর্থায়নে হাসপাতাল নির্মাণ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসন সুবিধা তৈরির ঘোষণার কথাও উল্লেখ করেন।
ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করার পর পশ্চিম জেরুজালেমের আকাশে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। শনিবার (১৪ মার্চ) রাতে সংবাদ সংস্থা এএফপি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। ইরান ও ইসরাইলের মধ্যকার চলমান উত্তেজনা এবং মার্কিন-ইসরাইলি বাহিনীর তেহরানে হামলার প্রতিক্রিয়ায় শুরু হওয়া এই যুদ্ধ এখন তৃতীয় সপ্তাহে প্রবেশের পথে। ইসরাইলি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের ‘আয়রন ডোম’সহ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো সক্রিয় রয়েছে এবং সম্ভাব্য হুমকি প্রতিহত করতে কাজ করছে। জেরুজালেমের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্তের পর আকাশপথে বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণ দেখা গেছে, যা মূলত ইন্টারসেপ্টর বা ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসকারী ব্যবস্থার কার্যকারিতার ফলে সৃষ্ট। বিগত কয়েক দিন ধরেই মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। ইরান ও তার মিত্র দেশগুলো ইসরাইলের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রেখেছে। অন্যদিকে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে জেরুজালেমের আকাশে বিস্ফোরণের ঘটনা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।