মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্ভবত আগামী এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যেই ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ বন্ধের ঘোষণা দিতে পারেন বলে মনে করছেন সাবেক মার্কিন কূটনীতিক এলিয়ট আব্রামস।
সিএনএনের সাংবাদিক ক্রিশ্চিয়ান আমানপুর–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আব্রামস বলেন, ট্রাম্পের সামনে ইরান পরিস্থিতি মোকাবিলায় দুটি সম্ভাব্য পথ রয়েছে।
তিনি বলেন, একটি সম্ভাবনা হলো—ইরানে কোনো ধরনের বিদ্রোহ দেখা দিতে পারে। অন্য সম্ভাবনাটি হচ্ছে, এক বা দুই সপ্তাহের মধ্যেই ট্রাম্প যুদ্ধ শেষের ঘোষণা দেবেন এবং বলবেন যে যুক্তরাষ্ট্র তাদের পরিকল্পিত সব লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে, তাই এখন অভিযানের সমাপ্তি ঘটছে।
আব্রামস, যিনি ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ভেনেজুয়েলা ও ইরান বিষয়ক বিশেষ দূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন, মনে করেন দ্বিতীয় সম্ভাবনাটিই বেশি বাস্তবসম্মত।
তিনি বলেন, ইরানের সাধারণ মানুষ বর্তমান সরকারকে তীব্রভাবে অপছন্দ করলেও সেই সরকার এক সপ্তাহের মধ্যে পতন ঘটবে নাকি পাঁচ বছর পর—এটি নিশ্চিত করে বলা কঠিন।
সূত্র: আল জাজিরা
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর কট্টর ডানপন্থি উপদেষ্টা ড্যারেন বিটি–র ভিসা বাতিল করেছে ব্রাজিল সরকার। দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারো–র সঙ্গে দেখা করার পরিকল্পনা ছিল তার। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা শুক্রবার নিশ্চিত করেন যে বিটির ভিসা প্রত্যাহার করা হয়েছে। তিনি বলেন, ওয়াশিংটনে ব্রাজিলীয় কর্মকর্তাদের ভিসা বাতিলের মার্কিন সিদ্ধান্তের পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যেসব ব্রাজিলীয় কর্মকর্তার ভিসা বাতিল করা হয়েছে তাদের মধ্যে দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী আলেকজান্দ্রে পাদিলহাও রয়েছেন। তার মার্কিন ভিসা গত বছর বাতিল করা হয়েছিল। রিও ডি জেনিরোতে এক অনুষ্ঠানে লুলা বলেন, যে আমেরিকান ব্যক্তি বলসোনারোর সঙ্গে দেখা করতে ব্রাজিলে আসতে চেয়েছিলেন, তাকে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, যতক্ষণ না যুক্তরাষ্ট্র আমার স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ভিসা ফিরিয়ে দিচ্ছে, ততক্ষণ ওই ব্যক্তিকেও ব্রাজিলে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। পৃথকভাবে ব্রাজিলীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিটি তার ভিসা আবেদনে সফরের প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে ভুল তথ্য দিয়েছিলেন। উল্লেখ্য, বলসোনারো ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মিত্র হিসেবে পরিচিত। ২০২২ সালের নির্বাচনের পর অভ্যুত্থান চেষ্টার অভিযোগে বর্তমানে তিনি ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। শুক্রবারের এই সিদ্ধান্তকে ব্রাজিল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক উত্তেজনার আরেকটি প্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প ও লুলার সম্পর্ক কিছুটা উন্নতির ইঙ্গিতও পাওয়া গিয়েছিল। এর আগে গত আগস্টে বলসোনারোর বিচার প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে ব্রাজিলের ওপর কঠোর শুল্ক আরোপ করেন ট্রাম্প। তিনি বলসোনারোর বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান এবং ব্রাজিল সরকারের বিরুদ্ধে ডানপন্থি কণ্ঠস্বর দমনের অভিযোগ তোলেন।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরান আত্মসমর্পণের দিকে এগোচ্ছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump। গত বুধবার অনুষ্ঠিত জি–৭ নেতাদের ভার্চ্যুয়াল বৈঠকে তিনি এ মন্তব্য করেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম Axios শুক্রবার এ তথ্য জানিয়েছে। এক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, “আমরা এমন একটি হুমকি থেকে মুক্তি পেয়েছি, যা সবার জন্য ক্যানসারের মতো হয়ে উঠেছিল।” তিনি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান ‘এপিক ফিউরি’-এর সাফল্য নিয়েও সন্তোষ প্রকাশ করেন। বৈঠকে ট্রাম্প আরও বলেন, “ইরানের নেতৃত্ব এখন কার হাতে রয়েছে, তা কেউ নিশ্চিতভাবে জানে না। ফলে আত্মসমর্পণ ঘোষণার মতো অবস্থায় সেখানে কেউ নেই।” এ মন্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করে Reuters, তবে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও Israel ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। এর জবাবে Iran পাল্টা হামলা চালালে সংঘাত দ্রুত পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়ে। সংঘাতের ১৪তম দিনে বৃহস্পতিবারও বিভিন্ন স্থানে হামলার ঘটনা ঘটে। এদিন ইরাকের আকাশসীমায় একটি মার্কিন জ্বালানি সরবরাহকারী সামরিক বিমান বিধ্বস্ত হয়, এতে ছয় মার্কিন সেনা নিহত হন। তবে তেহরান এখনো আত্মসমর্পণ বা যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নাকচ করে আসছে। ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই যুদ্ধ কখন শেষ হবে, তা নির্ধারণ করবে তারাই। এর আগে ট্রাম্প ইরানের নেতৃত্বের কঠোর সমালোচনা করে তাদের “উন্মাদ ও নিকৃষ্ট মানুষ” বলে মন্তব্য করেন এবং বলেন, তাদের হত্যা করা তার জন্য “বড় সম্মানের বিষয়” হবে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ তৃতীয় সপ্তাহে পদার্পণ করার সাথে সাথে পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটছে। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই ইরানের ওপর ভয়াবহ হামলা চালানোর প্রকাশ্য ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফক্স নিউজ রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি অত্যন্ত কঠোর ভাষায় মার্কিন সামরিক পরিকল্পনার কথা জানান। ট্রাম্প বলেন, "আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে আমরা তাদের ওপর অত্যন্ত শক্তিশালী এবং ভয়াবহ আক্রমণ চালাতে যাচ্ছি।" তার এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, মার্কিন বাহিনী আগামী দিনগুলোতে ইরানি লক্ষ্যবস্তুগুলোতে তীব্র বিমান হামলা বা সামরিক অভিযান পরিচালনার জন্য প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্র যখন ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে, তখন ট্রাম্পের এই সরাসরি হুমকি পুরো অঞ্চলে নতুন করে যুদ্ধের আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে।