সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

ইসরায়েল

ইয়াইর নেতানিয়াহু ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু
ইরানি গুপ্তহত্যার আশঙ্কায় তড়িঘড়ি করে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইসরায়েলে ফেরানো হলো নেতানিয়াহু-পুত্রকে

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ছেলে ইয়াইর নেতানিয়াহুকে জরুরি ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। গত ৩০ আগস্ট তাকে ইসরায়েলে ফিরিয়ে নেওয়া হয় বলে জানিয়েছে দেশটির স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো।   মূলত যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় অবস্থানকালে তিনি ইরানের গুপ্তহত্যার শিকার হতে পারেন—এমন গুরুতর আশঙ্কার কারণেই তড়িঘড়ি করে এই সুরক্ষামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে ইসরায়েলি প্রশাসন।   কয়েকদিন আগেই মার্কিন সংবাদমাধ্যম 'নিউজম্যাক্স'-এর এক প্রতিবেদনে ইয়াইর নেতানিয়াহুকে নিয়ে এই চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয়েছিল। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ ফ্লোরিডায় অবস্থান করার সময় তিনি ইরানি গুপ্তঘাতকদের প্রধান নিশানায় পরিণত হয়েছিলেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যমে এই খবর প্রকাশিত হওয়ার পরপরই তার নিরাপত্তা নিয়ে উচ্চপর্যায়ে উদ্বেগ তৈরি হয়, যার চূড়ান্ত পরিণতি হিসেবে তাকে ত্বরিতগতিতে দেশে ফেরানো হলো।   অন্যদিকে, ইয়াইর নেতানিয়াহুর পিতা ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিজেও বর্তমানে মারাত্মক আন্তর্জাতিক আইনি চাপের মুখে রয়েছেন।   ফিলিস্তিনের গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটনের দায়ে ২০২৪ সালের নভেম্বরে তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)।   একদিকে আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, অন্যদিকে ছেলের ওপর সম্ভাব্য গুপ্তহত্যার শঙ্কা—সব মিলিয়ে নেতানিয়াহু পরিবার এখন বহুমুখী সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ৩০, ২০২৬ ১৪:০
হামলার শিকার ফিলিস্তিনিদের সাহায্য করায়  ব্রিটিশ কর্মীকে আটক ইসরায়েলি পুলিশের
হামলার শিকার ফিলিস্তিনিদের সাহায্য করায় ব্রিটিশ কর্মীকে আটক ইসরায়েলি পুলিশের

অধিকৃত পশ্চিম তীরের উম্ম আল-খায়ের গ্রামে এক ব্রিটিশ অধিকারকর্মীকে সশস্ত্র ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীরা আটক করে পরে ইসরায়েলি পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।   ইসরায়েলি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে ওই কর্মীর নাম ফিন জফিন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি মাসাফের ইয়াত্তায় ফিলিস্তিনি বাসিন্দাদের ওপর বসতিস্থাপনকারীদের হামলার মধ্যে তাদের পাশে থাকার জন্য পরিচালিত একটি ‘প্রটেকটিভ প্রেজেন্স’ উদ্যোগের অংশ হিসেবে সেখানে অবস্থান করছিলেন।   ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফার (WAFA) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বসতিস্থাপনকারীরা ওই বিদেশি কর্মীকে উম্ম আল-খায়ের থেকে জোর করে নিয়ে গিয়ে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে স্থাপিত একটি ইসরায়েলি বসতিতে নিয়ে যায়।   এ সময় এক বসতিস্থাপনকারী তার মুখে পিপার স্প্রে করলে ওই কর্মীর শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। আহতদের ঘটনাস্থলেই চিকিৎসা দেওয়া হয় বলে জানায় ওয়াফা।   পরে ইসরায়েলি পুলিশ ওই কর্মীকে আটক করে অজ্ঞাত একটি স্থানে নিয়ে যায়।   তবে ঘটনার বিষয়ে ইসরায়েলি পুলিশের বক্তব্য ভিন্ন। পুলিশের দাবি, মাওন এলাকার একটি বসতির নিরাপত্তা দলের প্রধান ওই ব্যক্তিকে এক অপ্রাপ্তবয়স্কের বিরুদ্ধে অশালীন আচরণের সন্দেহে আটক করেন। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেওয়া হয়েছে এবং তদন্ত প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।   ইসরায়েলি সংগঠন ব্রেকিং দ্য সাইলেন্সের নাদাভ ওয়েইমান অবশ্য বসতিস্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে ওই কর্মীকে অপহরণের অভিযোগ তুলেছেন। তার দাবি, বসতির শিশুরা উম্ম আল-খায়েরের ফিলিস্তিনি শিশুদের একটি বল নিয়ে নেয়। এরপর সশস্ত্র প্রাপ্তবয়স্কদের ডেকে এনে ওই কর্মীকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়।   ঘটনার দিন অধিকৃত পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকাতেও ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের হামলার একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে।   তবে ব্রিটিশ কর্মীকে অপহরণের অভিযোগ এবং তার বিরুদ্ধে ইসরায়েলি পুলিশের অভিযোগ—দুই পক্ষের বক্তব্যই আলাদাভাবে উল্লেখ করা হচ্ছে; বিষয়টির স্বাধীন যাচাই এখনো স্পষ্ট নয়।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ২৯, ২০২৬ ১৪:০
ইরানের ক্ষে পণাস্ত্র ঠেকানোর ক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের নেই, দাবি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচির
ইরানের ক্ষে পণাস্ত্র ঠেকানোর ক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের নেই, দাবি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচির

ইরানের নিজস্ব ও দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো মোকাবিলা করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল পুরোপুরি ব্যর্থ ও অক্ষম বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।   তিনি দাবি করেছেন, এই পরাশক্তিগুলোর কাছে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণ প্রতিহত করার মতো কোনো কার্যকর উপায় নেই। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ-এর (IRNA) বরাত দিয়ে সম্প্রতি এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।   পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি তার বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, এটি নিছক কোনো রাজনৈতিক স্লোগান বা ফাঁকা বুলি নয়, বরং এটি একটি প্রমাণিত ও দৃশ্যমান বাস্তবতা।   তিনি জোর দিয়ে বলেন, মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং ইসরায়েলের (অধিকৃত অঞ্চল) বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে সফল হামলার চিত্রগুলোই বিশ্ববাসীর কাছে প্রমাণ করেছে যে, তারা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ও আক্রমণ প্রতিহত করতে কতটা অক্ষম।   নিজস্ব প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করে তৈরি এই মিসাইলগুলোর নিখুঁত আঘাত হানার ক্ষমতা এবং গতির সামনে পশ্চিমা দেশগুলোর বর্তমান প্রতিরোধ ব্যবস্থা যে কার্যত অকার্যকর, সেটাই আরাগচি এই বার্তার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে তুলে ধরেছেন।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ২৮, ২০২৬ ১৪:০
ইসরায়েলি কারাগার থেকে দুই বছর পর মুক্তি
ইসরায়েলি কারাগার থেকে দুই বছর পর মুক্তি, চেহারায় যেন ২০ বছরের ছাপ ফিলিস্তিনি সাংবাদিকের

প্রায় দুই বছর ইসরায়েলি কারাগারে আটক থাকার পর মুক্তি পেয়েছেন ফিলিস্তিনি ফটোসাংবাদিক রামেজ আওয়াদ। মুক্তির পর পশ্চিম তীরের জিফনা গ্রামে ফিরলে দীর্ঘদিন পর মায়ের সঙ্গে তার আবেগঘন পুনর্মিলনের দৃশ্য ছড়িয়ে পড়ে। রোয়া নিউজের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।    ৩১ বছর বয়সী আওয়াদকে ২০২৪ সালের ৩০ আগস্ট জিফনায় তার পারিবারিক বাড়ি থেকে ইসরায়েলি বাহিনী আটক করে বলে জানিয়েছে কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)। তার পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, সেনারা বাড়িতে ঢুকে তার পরিচয়পত্র পরীক্ষা করার পর তাকে নিয়ে যায়। সে সময় পরিবারকে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ বা কোথায় তাকে নেওয়া হচ্ছে, তা জানানো হয়নি।    আওয়াদের আটকের ঘটনাই তার জীবনে প্রথম ইসরায়েলি বাহিনীর হয়রানি নয়। ২০২৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর পশ্চিম তীরের জিফনায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের খবর সংগ্রহ করার সময় তার উরুতে গুলি লাগে বলে সিপিজে ও ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।    আটকের পর তাকে ওফের কারাগারে রাখা হয়েছিল। পরে তার বিরুদ্ধে উসকানির অভিযোগ আনা হয় এবং ২০২৫ সালের নভেম্বরে একটি আদালত তাকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেয় বলে সিপিজের তথ্য থেকে জানা যায়।    ফলে আওয়াদের ঘটনাটি শুধু একজন সাংবাদিকের মুক্তির খবর নয়, পশ্চিম তীরে সাংবাদিকদের কাজ করতে গিয়ে আটক ও হামলার ঝুঁকিরও একটি উদাহরণ। সাংবাদিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন এর আগে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের আটক, গুলিবিদ্ধ ও অন্যান্য হয়রানির ঘটনাও নথিভুক্ত করেছে।    দুই বছর পর বাড়িতে ফিরে মায়ের সঙ্গে আওয়াদের সেই পুনর্মিলনের দৃশ্য তাই তার দীর্ঘ বন্দিজীবনের পর পরিবারের কাছে ফিরে আসার প্রতীকী মুহূর্ত হয়ে উঠেছে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ২৭, ২০২৬ ১৪:০
গাজা উপত্যকায় হামাসবিরোধী সশস্ত্র ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী
গাজায় হামাসবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীকে শেল্টার দিয়ে কাজে লাগাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী

গাজা উপত্যকায় হামাসবিরোধী কয়েকটি সশস্ত্র ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) ও শিন বেতের কার্যক্রমের কার্যত সহযোগী শক্তি হিসেবে কাজ করছে বলে এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।   ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজের ওই অনুসন্ধানে স্যাটেলাইট ছবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য এবং ইসরায়েলি সামরিক সদস্যদের সাক্ষ্য বিশ্লেষণ করে বলা হয়েছে, গাজার বিভিন্ন এলাকায় এসব গোষ্ঠীকে ইসরায়েলি বাহিনী সামরিক সহায়তা ও নিরাপত্তা দিচ্ছে। এর মধ্যে আর্টিলারি ও ড্রোন সহায়তা এবং অভিযানের সময় নিরাপত্তা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এর আগে হামাসকে মোকাবিলায় স্থানীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সক্রিয় করার কথা স্বীকার করেছিলেন। তার ভাষ্য ছিল, হামাসের বিরুদ্ধে এসব গোষ্ঠীর সঙ্গে ইসরায়েলের স্বার্থের মিল রয়েছে।   তবে ইসরায়েলি সামরিক সদস্যদের বক্তব্যের বরাতে হারেৎজ জানিয়েছে, এই সহযোগিতার ফলে ইসরায়েলি বাহিনী ও স্থানীয় মিলিশিয়াদের কর্মকাণ্ডের সীমারেখা ক্রমেই অস্পষ্ট হয়ে উঠছে। কিছু এলাকায় এসব সশস্ত্র সদস্যকে ইসরায়েলি সামরিক অবস্থানের কাছাকাছি অবাধে চলাফেরা করতে এবং শক্তি প্রদর্শন করতে দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।   এক ইসরায়েলি সেনার সাক্ষ্যের বরাতে প্রতিবেদনে একটি ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে স্থানীয় একটি গোষ্ঠীর বিরোধের সময় এক বন্দুকধারী অন্য এক ব্যক্তির পায়ে গুলি করেন। ওই সেনার দাবি, ঘটনাটি সেখানে শাস্তির একটি গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল এবং ইসরায়েলি সেনারা ঘটনাটি দেখে হতবাক হয়ে যান।   আরেক ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, কিছু মিলিশিয়া সদস্য পিকআপ ট্রাকে করে আবাসিক এলাকায় ঢুকে গুলি চালানো, বাড়িঘরে লুটপাট এবং স্থাপনা পুড়িয়ে দেওয়ার মতো কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছে। এসব অভিযানের সময় ইসরায়েলি বাহিনী তাদের নিরাপত্তা দিয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।   হারেৎজের অনুসন্ধানে গাজার বেইত হানুন, শুজাইয়া, দেইর আল বালাহ, খান ইউনিস ও রাফাহ এলাকায় অন্তত পাঁচটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর ঘাঁটির অস্তিত্বের কথা বলা হয়েছে। স্যাটেলাইট ছবির বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গাজার অন্যান্য এলাকায় পুনর্গঠন কার্যক্রম থমকে থাকলেও এসব ঘাঁটির কিছু সম্প্রসারিত হচ্ছে। সেখানে ভারী যন্ত্রপাতি, কংক্রিটের প্রতিরক্ষা দেয়াল এবং মোবাইল আবাসন স্থাপন করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ‘পপুলার ফোর্সেস’ ও ‘কাউন্টার টেররিজম স্ট্রাইক ফোর্স’ নামে পরিচিত কয়েকটি গোষ্ঠী ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রিত এলাকার বিভাজনরেখার কাছে মোতায়েন রয়েছে। তারা হামাসের বিরুদ্ধে অভিযান, নিষিদ্ধ পণ্য উদ্ধারের পাশাপাশি ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের জোর করে সরিয়ে দেওয়ার কাজে জড়িত বলে দাবি করা হয়েছে।   হারেৎজের সঙ্গে কথা বলা ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের কেউ কেউ এসব গোষ্ঠীর নেতাদের রাজনৈতিক আদর্শে অনুপ্রাণিত নেতা হিসেবে দেখছেন না বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে সাবেক গ্যাং সদস্য, মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি এবং সাবেক নিরাপত্তা কর্মকর্তা রয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা কিংবা হামাসের বিরুদ্ধে প্রতিশোধের আকাঙ্ক্ষাও তাদের কর্মকাণ্ডের পেছনে ভূমিকা রাখছে বলে কয়েকজন কর্মকর্তা মনে করেন।   ইসরায়েলি সামরিক নেতৃত্বের দৃষ্টিতে এসব গোষ্ঠী নির্দিষ্ট এলাকায় নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য একটি সাময়িক ব্যবস্থা। তবে ইসরায়েলি সামরিক সুরক্ষা ও সহায়তা ছাড়া এসব গোষ্ঠীর দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকার সক্ষমতা সীমিত বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   এদিকে, হামাসবিরোধী এসব সশস্ত্র গোষ্ঠীকে ঘিরে গাজায় যুদ্ধবিরতি ও শান্তি প্রচেষ্টায় নতুন জটিলতা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রস্তাবে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ, এসব ইসরায়েল-সমর্থিত গোষ্ঠীর বিলুপ্তি এবং গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারকে একই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।   তবে নেতানিয়াহু ওই শর্ত প্রত্যাখ্যান করেছেন। অন্যদিকে হামাসও জানিয়েছে, গাজায় ইসরায়েল-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো সক্রিয় থাকা অবস্থায় তারা অস্ত্র ত্যাগ করতে রাজি নয়। ফলে এসব স্থানীয় মিলিশিয়াকে ঘিরে ইসরায়েল ও হামাসের অবস্থান শান্তি আলোচনার পথকে আরও কঠিন করে তুলছে।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ২৬, ২০২৬ ১৪:০
জর্ডানের বাদশাহ আবদুল্লাহ দ্বিতীয় ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং
ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাত সমাধানে ‘একমাত্র পথ’ দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান: জর্ডান-চীন

ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাতের স্থায়ী সমাধানে দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানই একমাত্র পথ বলে মন্তব্য করেছেন জর্ডানের বাদশাহ আবদুল্লাহ দ্বিতীয় ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।   সোমবার বেইজিংয়ে বৈঠকে দুই নেতা মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠায় ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলি জনগণের জন্য পৃথক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ভিত্তিতে সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেন।   চীন সফরে বাদশাহ আবদুল্লাহ দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াং এবং ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ঝাও লেজির সঙ্গেও বৈঠক করেন।   বৈঠকে জর্ডান ও চীনের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও গভীর করার বিষয়েও আলোচনা হয়। দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে গত মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া ধারাবাহিক আলোচনার পর বেইজিংয়ে এসব বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।   আগামী বছর জর্ডান ও চীন তাদের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন করবে। এই সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্যে দুই দেশ বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি ও খনিজ, কৃষি, পর্যটন, শিক্ষা, সংস্কৃতি, স্বাস্থ্য, গণমাধ্যম, মানবসম্পদ ও সামাজিক কল্যাণসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছে।   যৌথ বিবৃতিতে দুই দেশ জানায়, তাদের অংশীদারত্ব ভবিষ্যতে সবুজ অর্থনীতি, ডিজিটাল অর্থনীতি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং অন্যান্য উন্নত শিল্পখাতেও সম্প্রসারিত হবে।   বৈঠকে জর্ডান চীনের ‘ওয়ান-চায়না’ নীতির প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। এ নীতির আওতায় তাইওয়ানকে চীনের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে বিবেচনা করে বেইজিং।   এদিকে, ফিলিস্তিন ইস্যুতেও দুই দেশের অবস্থান তুলে ধরা হয়। জর্ডান ও চীন অধিকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি হিসেবে উল্লেখ করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।   গাজায় পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দিয়েছে দুই দেশ। তাদের মতে, গাজায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাতের রাজনৈতিক সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান বাস্তবায়নের পথেই এগোতে হবে।   এ বৈঠকের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে জর্ডান ও চীনের অভিন্ন অবস্থানের পাশাপাশি দুই দেশের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়টিও সামনে এসেছে।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ২৪, ২০২৬ ১৪:০
৬০ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি নাগরিক আব্দুল জাব্বার জারার I ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলি কারাগারে ৩০ মাস, ১৪০ কেজি থেকে অর্ধেক ওজনে নেমে এলেন ফিলিস্তিনি বন্দি; হারালেন স্ত্রীকেও

দীর্ঘ ৩০ মাস ইসরায়েলি কারাগারে বিনা বিচারে (অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ডিটেনশন) আটক থাকার পর মুক্তি পেয়েছেন ৬০ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি নাগরিক আব্দুল জাব্বার জারার। তবে তাঁর এই মুক্তি কোনো স্বস্তি বা আনন্দ বয়ে আনেনি, বরং সামনে এনেছে এক হৃদয়বিদারক ট্র্যাজেডি।   জীবনের বিভিন্ন সময়ে ৩০ বারেরও বেশি গ্রেপ্তার হওয়া জারার তাঁর জীবনের মোট ১৬টি বছরই কাটিয়েছেন ইসরায়েলি বন্দিশালায়। মুক্তির পর সংবাদমাধ্যমের কাছে তিনি জানান, ২০২৪ সালে সর্বশেষ গ্রেপ্তারের আগে তাঁর শারীরিক ওজন ছিল ১৪০ কেজি।   কিন্তু দীর্ঘ এই বন্দিজীবনে চরম অবহেলা ও অমানবিক পরিস্থিতির কারণে তিনি এতটাই শুকিয়ে গেছেন যে, তাঁকে এখন চেনাই দায়। তবে শারীরিক এই কষ্টের চেয়েও তাঁকে বেশি কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছে স্ত্রীর মৃত্যুশোক।   জারার যখন কারাগারে বন্দি ছিলেন, তখন তাঁর স্ত্রী ওয়াফা জারারকেও ইসরায়েলি বাহিনী আটক করেছিল। পরবর্তীতে আটক অবস্থায় একটি বিস্ফোরণে ওয়াফা নিহত হন। কারাগারের চার দেয়ালে বন্দি থাকার কারণে প্রিয় স্ত্রীকে শেষ বিদায়টুকুও জানাতে পারেননি এই হতভাগ্য ফিলিস্তিনি।   তাঁর এই করুন পরিণতি ও চোখের জল ইসরায়েলি কারাগারে ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর চলা নির্মম অমানবিকতার এক জীবন্ত প্রমাণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সম্প্রদায়কে নতুন করে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ২৩, ২০২৬ ১৪:০
গাজা থেকে ঘুড়ি ওড়ালেও মিলবে ড্রোনের মতো জবাব, হুঁশিয়ারি ইসরায়েলের
গাজা থেকে ঘুড়ি ওড়ালেও মিলবে ড্রোনের মতো জবাব, হুঁশিয়ারি ইসরায়েলের

গাজা উপত্যকা থেকে ইসরায়েলের দিকে সাধারণ ঘুড়ি ওড়ানোর ঘটনাকেও আর হালকাভাবে নিচ্ছে না তেল আবিব। গাজা থেকে যেকোনো ধরনের উড়ন্ত বস্তু বা নিক্ষেপের ঘটনা মোকাবিলায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনীকে তাৎক্ষণিক ও সর্বোচ্চ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ।   সাম্প্রতিক সময়ে গাজা থেকে ওড়ানো অন্তত চারটি ঘুড়ি ইসরায়েলের নাহাল ওজ কিবুতস এলাকায় এসে পড়ার পর এই কড়া নির্দেশনা দেওয়া হলো। যদিও ইসরায়েলি সেনাবাহিনী নিশ্চিত করেছে যে, ওই ঘুড়িগুলোতে সন্দেহজনক বা বিস্ফোরক কোনো বস্তু ছিল না এবং তা থেকে সাধারণ মানুষের জন্য কোনো ঝুঁকিও তৈরি হয়নি।   তবে অতীতে গাজা থেকে দাহ্য পদার্থ বহনকারী ঘুড়ি ও বেলুন পাঠানোর মাধ্যমে ইসরায়েলের সীমান্তবর্তী এলাকায় আগুন লাগানোর একাধিক নজির রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটেই প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাটজ এক কড়া বিবৃতিতে জানিয়েছেন, পশ্চিম নেগেভের ইসরায়েলি বসতিগুলোর দিকে গাজা থেকে আসা যেকোনো বস্তুকে তিনি সরাসরি ‘যুদ্ধের কর্মকাণ্ড’ হিসেবে বিবেচনা করছেন।   তার স্পষ্ট বার্তা হলো—বেলুনকে এখন থেকে ঘুড়ি এবং ঘুড়িকে ড্রোন হিসেবে গণ্য করা হবে, সেগুলোর সঙ্গে বিস্ফোরক থাকুক বা না থাকুক। যারা এসব বস্তু তৈরি, উৎক্ষেপণ বা কাজে সহায়তা করবে, তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ কঠোরতার সঙ্গে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। ইসরায়েলি বসতিগুলোর পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি তাঁর।   উল্লেখ্য, ২০১৮ সাল থেকেই গাজার ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের দিকে দাহ্য পদার্থযুক্ত ঘুড়ি ও বেলুন ওড়ানোর অভিযোগ করে আসছে তেল আবিব। এসবের কারণে বিভিন্ন সময়ে সীমান্তবর্তী ইসরায়েলি বসতি এবং বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সাধারণ ঘুড়ি ও বেলুনের আড়ালে এমন নাশকতা ঠেকাতেই এবার শূন্য সহনশীলতার (জিরো টলারেন্স) নীতি গ্রহণ করল ইসরায়েল।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ২৩, ২০২৬ ১৪:০
গাজায়  মৃতদেরও নেই শেষ ঠিকানা, ফুরিয়ে যাচ্ছে দাফনের জায়গাও
গাজায় জীবিতদের আশ্রয় নেই, মৃতদেরও নেই শেষ ঠিকানা, ফুরিয়ে যাচ্ছে দাফনের জায়গাও

ইসরায়েলের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের কারণে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় নিহতদের দাফনের জায়গাও দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলা যুদ্ধে উপত্যকার ৪০টির বেশি কবরস্থান পুরোপুরি বা আংশিক ধ্বংস হয়েছে। ফলে অনেক পরিবারকে বাগান, তাঁবু, স্কুল, হাসপাতাল ও বাস্তুচ্যুতদের আশ্রয়কেন্দ্রের মতো অস্থায়ী জায়গায় স্বজনদের দাফন করতে হচ্ছে। আলজাজিরার সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।   গাজার জেইতুন এলাকার ৪০ বছর বয়সী মোহাম্মদ আল-সাওহি গত ১০ জুন গুলিতে নিহত হন। তাঁর ছেলে ওমর বাবাকে দাফনের জন্য জেইতুন কবরস্থানে গেলে দেখতে পান, সেখানে নতুন কবর দেওয়ার মতো জায়গা প্রায় নেই। শেষ পর্যন্ত পরিবারের পুরোনো একটি কবরেই বাবাকে দাফন করতে হয়।   যুদ্ধের কারণে শুধু কবরের জায়গার সংকটই নয়, মৃতদের পরিচয় সংরক্ষণও কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে কবরের ওপর পাথর, কাগজ বা ধ্বংস হওয়া ভবনের ইট-পাথর ব্যবহার করে মৃত ব্যক্তির নাম লেখা হচ্ছে। নির্মাণসামগ্রীর তীব্র সংকটের কারণে কোথাও কাদা ও ঢেউটিন দিয়েও অস্থায়ীভাবে কবর চিহ্নিত করা হচ্ছে।   গাজার ধর্মবিষয়ক কর্তৃপক্ষের হিসাবে, উপত্যকায় যুদ্ধের আগে প্রায় ৬০টি কবরস্থান ছিল। এর মধ্যে ৪০টির বেশি কবরস্থান ধ্বংস হয়েছে। ফলে যেসব কবরস্থান এখনো ব্যবহারযোগ্য, সেগুলোতেও দ্রুত জায়গা ফুরিয়ে যাচ্ছে। কবরস্থানে প্রবেশের ওপর বিভিন্ন এলাকায় বিধিনিষেধ থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।   খান ইউনিসের একটি কবরস্থানের কবরখোদক তাফেশ আবু হাতাব জানান, যুদ্ধের আগে সেখানে প্রায় ৬০টি কবর ছিল। এখন সেখানে কবরের সংখ্যা প্রায় ৬ হাজারে পৌঁছেছে। যুদ্ধের সবচেয়ে তীব্র সময়ে তাকে দিনে প্রায় ৩৫টি পর্যন্ত কবর প্রস্তুত করতে হয়েছে।   হাসপাতালগুলোর প্রাঙ্গণও একপর্যায়ে অস্থায়ী দাফনস্থলে পরিণত হয়। গাজার কর্তৃপক্ষের হিসাবে, হাসপাতাল এলাকায় তৈরি সাতটি গণকবর থেকে ৫২৯টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। যুদ্ধ ও অবরোধের কারণে অনেক মরদেহ দীর্ঘ সময় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি এবং কিছু মরদেহ গণকবরেও দাফন করা হয়েছে। জাতিসংঘের একটি তদন্ত প্রতিবেদনেও গাজার হাসপাতাল এলাকায় ৫০০-এর বেশি মরদেহ গণকবরে পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।    পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার সুযোগ পেলেই অনেক পরিবার অস্থায়ী জায়গায় দাফন করা স্বজনদের মরদেহ তুলে স্থায়ী কবরস্থানে নেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে ধ্বংস হওয়া কবরস্থান, নতুন মরদেহের সংখ্যা এবং অনেক এলাকায় প্রবেশের সীমাবদ্ধতার কারণে সেই কাজও সহজ হচ্ছে না।   আলজাজিরার সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর গাজায় ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও অন্তত ১ হাজার ২০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে গাজার কর্তৃপক্ষের তথ্য উদ্ধৃত করেছে সংবাদমাধ্যমটি। ফলে প্রতিদিনের প্রাণহানির সঙ্গে দাফনের জায়গার সংকটও আরও গভীর হচ্ছে।    এভাবে গাজায় যুদ্ধের প্রভাব শুধু জীবিত মানুষের বাসস্থান ও অবকাঠামোতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। ধ্বংস হচ্ছে কবরস্থানও, আর বহু পরিবার তাদের স্বজনদের শেষ ঠিকানাটুকু নিশ্চিত করতেও সংগ্রাম করছে।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ২২, ২০২৬ ১৪:০
গাজায় হাসপাতালে হামলায় ৫ সাংবাদিক নিহত ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
গাজায় হাসপাতালে হামলায় ৫ সাংবাদিক নিহত, তাদের একজন মরিয়ম আবু দাগ্গা

গাজার খান ইউনিসে নাসের হাসপাতালে ইসরায়েলি হামলায় পাঁচ সাংবাদিকসহ অন্তত ২১ জন নিহত হন। নিহত সাংবাদিকদের একজন ছিলেন ৩৩ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি ফটোসাংবাদিক মরিয়ম আবু দাগ্গা, যিনি অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও ইন্ডিপেনডেন্ট আরাবিয়ার হয়ে কাজ করছিলেন।   ২০২৫ সালের ২৫ আগস্ট নাসের হাসপাতালে পরপর দুটি হামলা হয়। প্রথম হামলার পর সাংবাদিক ও উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে ছুটে গেলে কয়েক মিনিটের মধ্যে দ্বিতীয় হামলা হয়। এতে সাংবাদিক ও উদ্ধারকর্মীদের মধ্যে হতাহতের ঘটনা ঘটে।   নিহত সাংবাদিকদের মধ্যে মরিয়ম আবু দাগ্গা ছাড়াও ছিলেন রয়টার্সের ক্যামেরাম্যান হুসাম আল-মাসরি, আলজাজিরার ক্যামেরাম্যান মোহাম্মদ সালামা এবং ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক মোয়াজ আবু তাহা ও আহমদ আবু আজিজ। হামলায় রয়টার্সের ফ্রিল্যান্স ফটোগ্রাফার হাতেম খালেদ আহত হন।   মরিয়ম গাজায় যুদ্ধের শুরু থেকেই সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ, আহতদের চিকিৎসা এবং শিশুদের অপুষ্টির চিত্র তুলে ধরছিলেন। হামলার কয়েক দিন আগেও নাসের হাসপাতালে অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের নিয়ে তিনি অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের জন্য প্রতিবেদন ও ছবি তৈরি করেছিলেন।   খান ইউনিসের বাসিন্দা মরিয়ম ছিলেন এক সন্তানের মা। যুদ্ধের কারণে নিরাপত্তার জন্য তার ১৩ বছর বয়সী ছেলে গাইথকে বাবার সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতে পাঠানো হয়েছিল। মরিয়ম নিজে গাজায় থেকে সাংবাদিকতা চালিয়ে যান।   তার সহকর্মীদের কাছে মরিয়ম পরিচিত ছিলেন গাজার মানুষের দুর্ভোগের ছবি তুলে ধরার জন্য। তিনি যুদ্ধের মধ্যে নাসের হাসপাতালকেই প্রায়ই সাংবাদিকতার অন্যতম ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করতেন।   হামলার পর অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও রয়টার্স যৌথভাবে ঘটনাটির স্বচ্ছ ব্যাখ্যা এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানায়। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে পেশাগত দায়িত্ব পালন করছিলেন।   ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী হামলার বিষয়টি স্বীকার করে জানিয়েছে, তারা সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালায় না এবং ঘটনায় কোনো অনিচ্ছাকৃত ক্ষতি হয়ে থাকলে তারা দুঃখিত। পরে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি তদন্তের কথা জানায়।   তবে ২০২৬ সালের ২৩ আগস্ট প্রকাশিত দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট ও ইন্ডিপেনডেন্ট আরাবিয়ার যৌথ অনুসন্ধানে প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, ভিডিও ও ছবির বিশ্লেষণের ভিত্তিতে হামলাটি নতুন করে পর্যালোচনা করা হয়েছে। প্রতিবেদনে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলার ব্যাখ্যা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলা হয়েছে এবং সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধের প্রমাণ থাকার দাবি করা হয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী নির্দিষ্ট অনুসন্ধান নিয়ে মন্তব্য না করে জানিয়েছে, তাদের পর্যালোচনা এখনো চলছে।   মরিয়মের মৃত্যু গাজায় সাংবাদিকদের জন্য তৈরি হওয়া ভয়াবহ পরিস্থিতিকেও সামনে এনেছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও রয়টার্সের হিসাবে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর যুদ্ধ শুরুর পর অঞ্চলটিতে সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী নিহতের সংখ্যা নজিরবিহীন পর্যায়ে পৌঁছেছে।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ২২, ২০২৬ ১৪:০
যুদ্ধ আরও বাড়লে রাষ্ট্র হিসেবে বিলুপ্ত হতে পারে ইসরায়েল - রুশ জেনারেলের
যুদ্ধ আরও বাড়লে রাষ্ট্র হিসেবে বিলুপ্ত হতে পারে ইসরায়েল - রুশ জেনারেলের

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত আরও ভয়াবহ আকার নিলে শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্র হিসেবে ইসরায়েলের অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে মন্তব্য করেছেন রাশিয়ার জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল আপতি আলাউদিনভ। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তার দাবি, সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করে যুক্তরাষ্ট্র ও পুরো ন্যাটো জোটকে যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলতে চাইছে ইসরায়েল।    আলাউদিনভ রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান সামরিক-রাজনৈতিক অধিদপ্তরের উপপ্রধান। একই সঙ্গে তিনি রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন আখমাত বিশেষ বাহিনীর কমান্ডার।   তাসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আলাউদিনভ বলেন, তার ধারণা মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এখানেই থামবে না, বরং আরও তীব্র হবে। তার অভিযোগ, সংঘাতকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি পুরো ন্যাটো জোটকে এতে জড়ানোই ইসরায়েলের লক্ষ্য। তার মতে, সেই চেষ্টা ইতোমধ্যে অনেকটাই সফল হচ্ছে।    এরপরই ইসরায়েলের ভবিষ্যৎ নিয়ে সবচেয়ে কঠোর মন্তব্যটি করেন রুশ এই জেনারেল। আলাউদিনভের ভাষ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে ইসরায়েল নিজেদের সামরিক সক্ষমতাকে অতিমূল্যায়ন করতে পারে এবং তার পরিণতিতে রাষ্ট্র হিসেবে অস্তিত্ব হারানোর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। অন্যের জন্য গর্ত খুঁড়লে শেষ পর্যন্ত নিজেকেই সেখানে পড়তে হয় - এমন মন্তব্যও করেন তিনি।    আলাউদিনভ অবশ্য ইরানকে ঘিরে আগেও প্রকাশ্যে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। চলতি বছরের মার্চে তিনি বলেছিলেন, ইরানকে সম্ভাব্য সব উপায়ে সহায়তা করা উচিত রাশিয়ার। এমনকি রুশ নেতৃত্ব সিদ্ধান্ত নিলে নিজেও ইরানে গিয়ে সহায়তা করতে প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছিলেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো ইউক্রেনকে যেভাবে সহায়তা করছে, তার পাল্টা হিসেবে ইরানকে সমর্থনের যুক্তিও তুলে ধরেছিলেন এই রুশ কমান্ডার।    রাশিয়া এর আগে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত কমাতে ভূমিকা রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। জুলাইয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইরান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। রুশ পক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই আলোচনায় মস্কো সংঘাত কমানো এবং অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফেরাতে সহায়তা করতে প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছিল।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১৮, ২০২৬ ১৪:০
ইসরায়েলি দখলদার থেকে রক্ষা পেতে বাড়ির ছাদে মার্কিন পতাকা
ইসরায়েলি দখলদার থেকে রক্ষা পেতে বাড়ির ছাদে মার্কিন পতাকা

নিজের বাড়ির ছাদে উড়ছে বিশাল মার্কিন পতাকা। তবে এটি কোনো উৎসব কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি সমর্থন জানানোর আয়োজন নয়। ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হাত থেকে নিজের বাড়ি ও পরিবারকে রক্ষা করতে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকাকেই এক ধরনের প্রতীকী নিরাপত্তাবলয় হিসেবে ব্যবহার করছেন ফিলিস্তিনি-মার্কিন নাগরিক লুই রিদি। ঘটনাটি ঘটেছে ইসরায়েল-অধিকৃত পশ্চিম তীরের নাবলুসের কাছে কুসরা গ্রামে।    ৪৬ বছর বয়সী লুই রিদি পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যে বসবাস করেন। কুসরাতেও তার একটি বাড়ি রয়েছে। এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে তার পরিবারসহ কয়েকটি ফিলিস্তিনি পরিবারের বাড়ি ঘিরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের অবস্থানের খবর পেয়ে সোমবার যুক্তরাষ্ট্র থেকে পশ্চিম তীরে ফিরে যান তিনি। বাড়িতে পৌঁছেই ছাদে বড় একটি মার্কিন পতাকা উড়িয়ে দেন রিদি।   পতাকাটি টাঙানোর পেছনে তার প্রত্যাশা ছিল পরিষ্কার - বাড়িটির মালিক একজন মার্কিন নাগরিক, এটি বুঝতে পারলে হয়তো বসতি স্থাপনকারীরা সেখানে হামলা বা দখলের চেষ্টা থেকে বিরত থাকবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের কাছেও নিজের পরিবারের নিরাপত্তার বিষয়টি দৃশ্যমান করতে চেয়েছেন তিনি। কিন্তু বাস্তবে মার্কিন পতাকাও তাকে পুরোপুরি নিরাপত্তা দিতে পারেনি।   মঙ্গলবার পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। রয়টার্সের প্রত্যক্ষ করা ঘটনায় একজন ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী রিদির জমিতে প্রবেশ করেন। তার হাতে একটি তোরাহ ছিল এবং তিনি ওই জায়গায় নিজের উপস্থিতির পক্ষে যুক্তি দিতে থাকেন। রিদি তাকে নিজের সম্পত্তি ছেড়ে চলে যেতে বলেন। একপর্যায়ে সেখানে থাকা ইসরায়েলি সেনারা ওই বসতি স্থাপনকারীকে এলাকা ছাড়তে বলে।   অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ভিডিওতেও রিদিকে বসতি স্থাপনকারীদের উদ্দেশে নিজের জমি থেকে সরে যেতে বলতে দেখা গেছে। তিনি ইসরায়েলি সেনাদের কাছেও তাদের সরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান। কিন্তু শেষ পর্যন্ত রিদিকেই নিজের বাড়ির ভেতরে ফিরে যেতে বলা হয়। কারণ এলাকাটিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ‘ক্লোজড মিলিটারি জোন’ বা বন্ধ সামরিক এলাকা হিসেবে ঘোষণা করেছে।   রিদির অভিযোগ, নিজের বাড়িতে থেকেও তিনি এখন স্বাধীনভাবে বাইরে যেতে পারছেন না। বাড়ি থেকে বের হওয়ার প্রয়োজন হলেও ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় ও অনুমতির প্রয়োজন হচ্ছে। অন্যদিকে কয়েকজন বসতি স্থাপনকারী এখনো এত কাছাকাছি অবস্থান করছেন যে সেনাবাহিনী চলে গেলে তারা আবার ফিরে আসতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।   কুসরার পরিস্থিতি কয়েক দিন ধরেই উত্তপ্ত। বসতি স্থাপনকারীরা তিনটি ফিলিস্তিনি বাড়ির আশপাশে অবস্থান নিয়ে বাসিন্দাদের চলাচলে বাধা দিয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো। খাবার ও পানির সরবরাহ নিয়েও সংকট তৈরি হয়েছিল। স্থানীয়দের আশঙ্কা, তাদের সরিয়ে দিয়ে শেষ পর্যন্ত বাড়ি ও জমি দখল করাই এই চাপের উদ্দেশ্য।   এই ঘটনায় বিরলভাবে কঠোর ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি। কুসরার ঘটনায় জড়িত কিছু বসতি স্থাপনকারীকে তিনি ‘ইসরায়েলি সন্ত্রাসী’ বলে উল্লেখ করেন। বিশেষ করে একজন মার্কিন নাগরিকের বাড়ি ও পরিবারের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ায় ঘটনাটি ওয়াশিংটনেরও নজরে এসেছে।   তবে ঘটনাটি শুধু একটি মার্কিন নাগরিকের বাড়িকে কেন্দ্র করে নয়। পশ্চিম তীরে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা ও ফিলিস্তিনি গ্রামগুলোতে হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের ১ হাজার ৪৭৬টি হামলার ঘটনা নথিভুক্ত করেছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ। একই সময়ে ইসরায়েলি সেনা ও বসতি স্থাপনকারীদের হাতে ৮৭ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে তারা।   কুসরার কাছাকাছি জালুদ গ্রামেও গত মাসে একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল। সেখানে বসতি স্থাপনকারীরা একটি ফিলিস্তিনি বাড়ি ঘিরে বাসিন্দাদের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ আটকে দেয়। শেষ পর্যন্ত পরিবারটি বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয় এবং আর ফিরে আসেনি। ফলে কুসরার পরিবারগুলোর আশঙ্কা - তাদের ক্ষেত্রেও একই পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।   পশ্চিম তীরে মার্কিন পতাকাকে নিরাপত্তার প্রতীক হিসেবে ব্যবহারের ঘটনা কুসরাতেই সীমাবদ্ধ নয়। তুরমুস আইয়া নামে আরেকটি ফিলিস্তিনি এলাকায় বিপুলসংখ্যক বাসিন্দা মার্কিন নাগরিক। সেখানকার অনেক বাড়ির বারান্দা ও ছাদেও যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা দেখা যায়। বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বাড়তে থাকায় নিজেদের মার্কিন নাগরিকত্ব দৃশ্যমান করাকেও অনেকে নিরাপত্তার একটি উপায় হিসেবে দেখছেন।   আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অধিকাংশই অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিগুলোকে আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে অবৈধ বলে মনে করে। ইসরায়েল এ অবস্থানের সঙ্গে একমত নয় এবং পশ্চিম তীরের সঙ্গে ঐতিহাসিক ও নিরাপত্তাগত সম্পর্কের যুক্তি তুলে ধরে। বর্তমানে সেখানে ২৮ লাখের বেশি ফিলিস্তিনির পাশাপাশি পাঁচ লাখের বেশি ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী বসবাস করছেন।   সবচেয়ে প্রতীকী হয়ে উঠেছে লুই রিদির বাড়ির ছাদের সেই মার্কিন পতাকা। বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশের নাগরিক হিসেবে নিজের পরিচয় দৃশ্যমান করে তিনি আশা করেছিলেন, অন্তত তার বাড়ি ও পরিবার নিরাপদ থাকবে। কিন্তু বাড়ির ছাদে পতাকা ওড়ানোর পরও যখন নিজের উঠানে দাঁড়ানোর স্বাধীনতা নিয়ে তাকে লড়তে হচ্ছে, তখন কুসরার ঘটনাটি পশ্চিম তীরে চলমান সংঘাতের আরও বড় একটি বাস্তবতাকেই সামনে আনছে।   মার্কিন পতাকা তাই সেখানে শুধু একটি দেশের প্রতীক হয়ে থাকেনি - একটি ফিলিস্তিনি পরিবারের কাছে সেটি এখন নিজের বাড়ি রক্ষার শেষ দিকের প্রতীকী ঢাল। কিন্তু লুই রিদির অভিজ্ঞতা দেখাচ্ছে, ছাদের ওপর সেই পতাকা উড়লেও নিচের মাটিতে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা এখনো আসেনি।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১৮, ২০২৬ ১৪:০
ইসরায়েলি পর্যটকের বারবিকিউর আগুন থেকে গ্রিসে ভয়াবহ দাবানল!
ইসরায়েলি পর্যটকের বারবিকিউর আগুন থেকে গ্রিসে ভয়াবহ দাবানল!

গ্রিসের ক্রিট দ্বীপে ভাড়া নেওয়া একটি ভিলায় বারবিকিউ করার পর সেখান থেকে দাবানল ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগে ৩৫ বছর বয়সী এক ইসরায়েলি পর্যটককে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। ১৪ আগস্ট শুক্রবার সন্ধ্যায় রেথিমনো অঞ্চলের সেলিয়া গ্রামের কাছে আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রবল বাতাসে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় কাছাকাছি কয়েকটি এলাকার বাসিন্দাদের সতর্কতামূলকভাবে সরিয়ে নিতে হয়।   গ্রিক ফায়ার সার্ভিসের অগ্নিসংযোগ তদন্ত ইউনিটের প্রাথমিক অনুসন্ধানে বলা হয়েছে, পর্যটকদের দলটি যে ভিলায় অবস্থান করছিল, তার উঠান থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। তদন্তকারীদের ধারণা, বারবিকিউ গ্রিল থেকে উড়ে যাওয়া আগুনের ফুলকি প্রবল বাতাসে পাশের শুকনো ঘাস ও গাছপালায় পড়ে আগুন ছড়িয়ে দেয়।    আগুনের সময় ওই এলাকায় বাতাসের গতিবেগ ছিল বেশ বেশি। দ্রুত ছড়িয়ে পড়া আগুনে আশপাশের কৃষিজমি ও জলপাই বাগান হুমকির মুখে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ৬০ জনের বেশি ফায়ারফাইটার, তিনটি বিশেষ দাবানল ইউনিট, একাধিক গাড়ি, হেলিকপ্টার, পানির ট্যাংকার এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের মোতায়েন করা হয়। প্রায় চার ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।   আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর গ্রিসের ১১২ জরুরি সতর্কতা ব্যবস্থার মাধ্যমে আশপাশের বাসিন্দাদের বার্তা পাঠানো হয়। ফোতিনারি ও সৌদা এলাকার বাসিন্দাদের সতর্কতামূলকভাবে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার আগেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন ফায়ারফাইটাররা।    তদন্তে ভিলার মালিক দাবি করেছেন, তীব্র দাবানল ঝুঁকির কারণে অতিথিদের সেখানে বারবিকিউ ব্যবহার করতে নিষেধ করা হয়েছিল। তিনি জানিয়েছেন, অতিথিরা পৌঁছানোর পর মৌখিকভাবে সতর্ক করার পাশাপাশি লিখিতভাবেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। এরপরও পর্যটকদের দলটি গ্রিল ব্যবহার করে বলে তদন্তকারীদের অভিযোগ।    গ্রিসে উচ্চ দাবানল ঝুঁকির দিনগুলোতে বারবিকিউ, শুকনো গাছপালা পোড়ানো এবং আগুনের ফুলকি তৈরি করতে পারে এমন বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভয়াবহ দাবানলের কারণে দেশটির কর্তৃপক্ষ এসব নিয়ম ভঙ্গের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে।    অভিযুক্ত পর্যটক অবশ্য নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার বক্তব্য, প্রবল বাতাসের মধ্যে বারবিকিউ ব্যবহার করা যাবে না, এমন কোনো স্পষ্ট মৌখিক বা দৃশ্যমান লিখিত সতর্কতা তিনি পাননি। তার আইনজীবী ইভ্যানজেলোস ফানোরগাকিস দাবি করেছেন, ডিফেন্সের পক্ষ থেকে এমন তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে যাতে দেখা যায়, আগুনের সূচনা গ্রিলের অবস্থান থেকে কিছুটা দূরে এবং মাঝখানে আগুন ছড়িয়ে যাওয়ার ধারাবাহিক চিহ্ন ছিল না।    আটকের পর ওই ব্যক্তিকে রেথিমনোর বিচারিক কর্তৃপক্ষের সামনে হাজির করা হয়। পরবর্তী সময়ে তাকে ১০ হাজার ইউরো জামানতে মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। মামলার তদন্ত চলবে এবং চূড়ান্তভাবে আগুনের জন্য কে দায়ী তা বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে।    ভিলার মালিক স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তবে একই সঙ্গে তিনি অতিথিদের আগেই বারবিকিউ ব্যবহার না করার বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন বলে নিজের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। অন্যদিকে অভিযুক্তের আইনজীবী বলছেন, ঘটনার প্রাথমিক বর্ণনার সঙ্গে তাদের হাতে থাকা তথ্যের গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে।    ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন গ্রিসে দাবানলের ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি। শুষ্ক আবহাওয়া, দীর্ঘ সময় বৃষ্টির অভাব এবং প্রবল বাতাসের কারণে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ছে। ১৬ আগস্ট সালামিনা দ্বীপে আরেকটি ভয়াবহ দাবানলে এক বৃদ্ধ দম্পতির মৃত্যু হয় এবং পাঁচ শতাধিক মানুষকে সরিয়ে নিতে হয়েছিল।    চলতি বছরের শুরু থেকে আগস্টের মাঝামাঝি পর্যন্ত আগুন লাগানোর ঘটনায় গ্রিসে ২৯৭ জনকে আটক করা হয়েছে বলে দেশটির প্রকাশিত পরিসংখ্যান উদ্ধৃত করে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। তাদের মধ্যে ২৬৭ জনের বিরুদ্ধে অবহেলার কারণে এবং ৩০ জনের বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন লাগানোর অভিযোগ রয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে কিছু ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ড এবং দুই লাখ ইউরো পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে।    কর্তৃপক্ষ বলছে, দাবানলের উচ্চ ঝুঁকির সময়ে খোলা জায়গায় আগুন ব্যবহার নিয়ে কোনো ধরনের শিথিলতা দেখানো হবে না। বিশেষ করে পর্যটন এলাকাগুলোতে স্থানীয় নিষেধাজ্ঞা ও ফায়ার সেফটি নির্দেশনা অমান্য করলে ফৌজদারি তদন্ত এবং বড় অঙ্কের জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১৮, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্কের স্কুলগুলোতে ২৫০টির বেশি ই হুদি বি দ্বেষী ঘটনার অভিযোগ
নিউইয়র্কের স্কুলগুলোতে ২৫০টির বেশি ই হুদি বি দ্বেষী ঘটনার অভিযোগ, উদ্বিগ্ন শিক্ষকরা

ইউনাইটেড জিউইশ টিচার্স নামের একটি ইহুদি শিক্ষকদের সংগঠনের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে যে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে সন্ত্রাসী হামলার পর থেকে নিউইয়র্ক সিটির পাবলিক স্কুলগুলোতে অন্তত ২৫০টি ইহুদি বিদ্বেষী এবং ইসরায়েলবিরোধী ঘটনা ঘটেছে।   গত জানুয়ারিতে মেয়র জোহরান মামদানী এবং স্কুল চ্যান্সেলর কামার স্যামুয়েলসের কাছে পাঠানো এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, সিটিতে সামগ্রিক ঘৃণাত্মক অপরাধ উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যার অর্ধেকের বেশি ঘটনাই ইহুদি বিদ্বেষী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। সংগঠনের ভাষ্য অনুযায়ী, এই তথ্যগুলো ইহুদি শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং কর্মীদের বিরুদ্ধে পরিচালিত শত্রুতার একটি স্থায়ী প্রবণতা প্রকাশ করে।   নথিবদ্ধ ঘটনার বেশিরভাগ জুড়েই রয়েছে সরাসরি হয়রানি, ভাঙচুর ও হুমকি। এর পাশাপাশি পক্ষপাতদুষ্ট পাঠ্যক্রম, নির্দেশনামূলক উপকরণ এবং ওয়াকআউট বা বিক্ষোভের মতো বিঘ্ন সৃষ্টিকারী ঘটনাও উল্লেখযোগ্য হারে রয়েছে। এসব ঘটনার কারণে পুরো শিক্ষাব্যবস্থাজড়ে একটি প্রতিকূল শিক্ষণ ও কর্মপরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। যদিও সিটি স্কুলগুলো নির্দিষ্ট কোনো ধর্মের ভিত্তিতে ঘৃণাত্মক ঘটনার আলাদা পরিসংখ্যান প্রকাশ করে না, তবে ধর্মভিত্তিক বুলিং, হয়রানি এবং বৈষম্যের সামগ্রিক ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।   উপাত্ত অনুযায়ী, প্রি-কোভিড সময়কালের ২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষে এমন ১৫১টি ঘটনা ঘটেছিল, যা পরবর্তীতে বেড়ে ২০২২-২০২৩ শিক্ষাবর্ষে ৩৬৭টি, ২০২৩-২০২৪ শিক্ষাবর্ষে ৩৯৮টি এবং ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষে ৩১৯টিতে দাঁড়ায়।   সংগঠনের সভাপতি মোশে স্পার্ন জানান, নথিভুক্ত ঘটনার প্রায় এক চতুর্থাংশ বা ২৩ শতাংশ ছিল ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্য সম্পর্কিত পক্ষপাতদুষ্ট শিক্ষা, ১০ শতাংশ ওয়াকআউট এবং বাকিগুলো অনলাইন পোস্টসহ অন্যান্য স্টাফ অ্যাকশনের সাথে সম্পর্কিত। ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী, প্রতিবেদনের ৩৭ শতাংশ ঘটনা ব্রুকলিনের স্কুলগুলোতে, ২৭ শতাংশ কুইন্সে, ২৫ শতাংশ ম্যানহাটনে, ৯ শতাংশ ব্রংক্সে এবং ২ শতাংশ স্টেটান দ্বীপে সংঘটিত হয়েছে।   মৌখিক হয়রানির বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ইহুদিবিদ্বেষী ট্রপ, হলোকাস্টের প্রসঙ্গ এবং ইসরায়েলি ইহুদিদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে। এ ছাড়া ভাঙচুরের ঘটনায় স্বস্তিকা চিহ্ন ও অন্যান্য ঘৃণাত্মক প্রতীক অঙ্কনের পাশাপাশি শারীরিক হুমকি এবং হামলার ঘটনাও ঘটেছে।   অভিযোগ রয়েছে যে, অনেক ক্ষেত্রে ইহুদিদের ধর্মীয় সুবিধা এবং স্কুল জীবনের বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ বাধাগ্রস্ত বা অস্বীকৃত হয়েছে। ইউনাইটেড জিউইশ টিচার্স জানিয়েছে, স্কুল বা জেলা নেতৃত্ব এ ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি, যার ফলে প্রতিকূল পরিবেশ বহাল রয়েছে।   কুইন্সের টাউনসেন্ড হাই স্কুলে গ্র্যাজুয়েশনের পর ইসরায়েলি ডিফেন্স ফোর্সে যোগদানের কারণে এক শিক্ষার্থীকে হয়রানি করা এবং ব্রুকলিন টেক হাই স্কুলের ব্ল্যাকবোর্ডে স্বস্তিকা খোদাই করার মতো ঘটনা এর কিছু উদাহরণ। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংগঠনটি শিক্ষা বিভাগের সমস্ত নিয়ম নীতি এবং পেশাদার প্রশিক্ষণে আন্তর্জাতিক হলোকাস্ট স্মরণ জোটের (IHRA) ইহুদিবিদ্বেষের সংজ্ঞা গ্রহণের সুপারিশ করেছে।   অন্যদিকে, শিক্ষা বিভাগের একজন প্রতিনিধি জানিয়েছেন যে বৈষম্য ও ইহুদিবিদ্বেষের বিরুদ্ধে তাদের 'শূন্য সহনশীলতা' (zero tolerance) নীতি রয়েছে। প্রতিটি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং যেকোনো রিপোর্ট করা ঘটনার যথাযথ তদন্ত ও প্রতিক্রিয়া জানাতে তারা বদ্ধপরিকর। ‘রেসপেক্ট ফর অল’ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিটি স্কুলে বুলিং ও পক্ষপাত প্রতিরোধে ডেডিকেটেড স্টাফ এবং অভিযোগ জানানোর নানা মাধ্যম চালু রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ১৮, ২০২৬ ১৪:০
গাজার ভয়াবহতা ভুলতে না পেরে আত্মহ ত্যা করলেন ২৪ বছর বয়সী ইসরায়েলি সেনা
গাজার ভয়াবহতা ভুলতে না পেরে আত্মহ ত্যা করলেন ২৪ বছর বয়সী ইসরায়েলি সেনা

গাজায় যুদ্ধ শেষে দেশে ফেরার পর ইসরায়েলি সেনাদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। সম্প্রতি উরিয়েল মোল্তো গেতাহোন নামের ২৪ বছর বয়সী এক মাস্টার সার্জেন্ট (রিজার্ভ) আত্মহত্যা করেছেন। গত বৃহস্পতিবার কর্মরত না থাকা অবস্থায় তিনি নিজের জীবন কেড়ে নেন বলে হিব্রু সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেট (Ynet) তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে।   গাজায় অভিযানের ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে বলতে গিয়ে নিহত ওই সেনাসদস্যের এক আত্মীয় জানান, সেনারা শারীরিকভাবে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও তাদের মনের ভেতর এমন গভীর ক্ষত তৈরি হয়, যা বাইরের কেউ দেখতে পায় না।   এ বিষয়ে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় গঠিত একটি কমিটির প্রাথমিক পর্যালোচনায় ধারণা করা হচ্ছে, গেতাহোনের মৃত্যুর সঙ্গে তাঁর সামরিক দায়িত্ব পালনের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। মূলত গত ৭ অক্টোবরের পর থেকে ইসরায়েলি সেনাসদস্যদের মধ্যে আত্মহত্যার হার উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।   সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালে প্রায় ১৭ জন সেনাসদস্য আত্মহত্যা করেন, যার মধ্যে ৭ জনই ৭ অক্টোবরের পরের ঘটনা। এরপর ২০২৪ সালে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২১ জনে এবং ২০২৫ সালে তা ২১ থেকে ২২ জনে পৌঁছায়, যা গত প্রায় ১৫ বছরের মধ্যে বার্ষিক সর্বোচ্চ আত্মহত্যার রেকর্ড। এছাড়া ২০২৬ সালের জুলাইয়ের শেষভাগ পর্যন্ত অন্তত ১৬ জন সক্রিয় সেনাসদস্য প্রাণ হারিয়েছেন।   দীর্ঘমেয়াদি পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০১৭ সাল থেকে ২০২৫ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত মোট ১২৪ জন সক্রিয় সেনা (বাধ্যতামূলক চাকরি, ক্যারিয়ার এবং সক্রিয় রিজার্ভ) আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় লাফ দেখা যায় ২০২৪ সালে, যেখানে আত্মহত্যাকারীদের ৭৮ শতাংশই ছিলেন যুদ্ধক্ষেত্রে থাকা সেনা; পূর্ববর্তী বছরগুলোতে এই হার ছিল মাত্র ৪২ থেকে ৪৫ শতাংশ।   গাজা, লেবানন এবং অন্যান্য ফ্রন্টে দীর্ঘমেয়াদি হামলার জন্য বিপুলসংখ্যক রিজার্ভ সেনাকে তলব করায় আত্মহত্যার ঘটনায় তাদের হারও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি এই পরিসংখ্যানে কেবল কর্মরত সেনাদের তথ্য থাকায় প্রকৃত চিত্র আরও ভয়াবহ হতে পারে। বিভিন্ন পৃথক প্রতিবেদন ও তথ্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, যুদ্ধে অংশ নেওয়া এক ডজনেরও বেশি সাবেক সেনাসদস্য চাকরি ছাড়ার পর মানসিক অবসাদগ্রস্ত হয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ১৬, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাজ্যকে ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ব্রিটেন’ আখ্যা দিয়ে কটাক্ষ নেতানিয়াহুর
যুক্তরাজ্যকে ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ব্রিটেন’ আখ্যা দিয়ে কটাক্ষ নেতানিয়াহুর

ঐতিহাসিকভাবে ইসরায়েলের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত যুক্তরাজ্যকে এবার ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ব্রিটেন’ বলে তীব্র কটাক্ষ করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। গত বৃহস্পতিবার সম্প্রচারিত ইসরায়েলের আর্মি রেডিওর (গ্যালি জাজাল) পডকাস্ট ‘মেলেখ ব্লিটজার হাইম’-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই বিতর্কিত মন্তব্য করেন।   গাজা যুদ্ধসহ সাম্প্রতিক বিভিন্ন ইস্যুতে ব্রিটিশ গণমাধ্যমের সংবাদ পরিবেশনের কড়া সমালোচনা করতে গিয়েই মূলত তিনি এই প্রসঙ্গটি টেনে আনেন। ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় ব্রিটিশ সাংবাদিক ও উইনস্টন চার্চিলের ছেলে র‍্যান্ডলফ চার্চিলের ইতিবাচক সংবাদ পরিবেশনের প্রশংসা করে নেতানিয়াহু বলেন, বর্তমান ব্রিটেনে এ ধরনের ইসরায়েলপন্থি অবস্থান খুঁজে পাওয়া একেবারেই বিরল। এ সময় তিনি চরম ব্যঙ্গাত্মক সুরে বর্তমান যুক্তরাজ্যকে ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ব্রিটেন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।   সাক্ষাৎকার চলাকালে মার্কিন রাজনীতিক জেডি ভ্যান্সের করা পূর্বের একটি বিতর্কিত মন্তব্যের প্রসঙ্গও টেনে আনেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, কেউ একজন বলেছিলেন যে, পারমাণবিক অস্ত্রধারী বিশ্বের প্রথম ইসলামি প্রজাতন্ত্র হতে যাচ্ছে এই ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ব্রিটেন’। তবে ইসরায়েল যে কোনো মূল্যে নিশ্চিত করবে যেন ইরানে এমন কিছুর পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেই কড়া হুঁশিয়ারিও তিনি তার বক্তব্যে যোগ করেন।   নেতানিয়াহুর এমন ইসলামোফোবিক ও চরম ডানপন্থি বাগাড়ম্বরের পর যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ডের প্রগতিশীল ইহুদি সংগঠনগুলোর পাশাপাশি খোদ ইসরায়েলের বিরোধী রাজনীতিকরাও এর তীব্র সমালোচনা করেছেন।   ‘মুভমেন্ট ফর প্রগ্রেসিভ জুডাইজম’-এর নেতা রাব্বি চার্লি বাগিনস্কি ও রাব্বি জশ লেভ এক যৌথ বিবৃতিতে এই মন্তব্যকে চরম বিদ্বেষপূর্ণ ও দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে আখ্যা দিয়ে জানিয়েছেন, বর্তমান এই সামাজিক বিভাজনের সময়ে এ ধরনের বিপজ্জনক ভাষা ব্যবহার অনুচিত এবং নেতানিয়াহু কোনোভাবেই ব্রিটিশ ইহুদিদের প্রতিনিধিত্ব করেন না। ইসরায়েলি বিরোধী নেতা আভি দাবুশও এই মন্তব্যের জেরে নেতানিয়াহুর তীব্র সমালোচনা করেছেন।   ইসরায়েল ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে দীর্ঘদিনের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকলেও, ২০২৪ সালে যুক্তরাজ্যে লেবার পার্টি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্কে স্পষ্ট টানাপোড়েন শুরু হয়। সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সরকারের সময় আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের আশঙ্কায় ইসরায়েলের কিছু অস্ত্র রপ্তানি লাইসেন্স বাতিল করা হয় এবং ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থি মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির ও বেজালেল স্মোট্রিচের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের উদ্যোগ নেওয়া হয়।   এছাড়া ফ্রান্স ও কানাডার মতো বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক মিত্রের সঙ্গে যুক্তরাজ্য স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার পথে হেঁটেছে।   সম্প্রতি বর্তমান ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযান বন্ধে আরও কঠোর চাপ প্রয়োগ এবং অস্ত্র ও বাণিজ্যসংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন। মূলত এই ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক দূরত্বের কারণেই নেতানিয়াহু যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে এমন আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহার করেছেন বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ১৪, ২০২৬ ১৪:০
ভবিষ্যৎ চুক্তির উদ্দেশ্যে ১৭০০ ফিলিস্তিনির মরদেহ আটকে রেখেছে ইসরায়েল
ভবিষ্যৎ চুক্তির উদ্দেশ্যে ১৭০০ ফিলিস্তিনির মরদেহ আটকে রেখেছে ইসরায়েল

হামাসের কাছে কোনো ইসরায়েলি বন্দি না থাকা সত্ত্বেও ভবিষ্যতে বন্দি বিনিময় চুক্তিতে দর-কষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের জন্য প্রায় ১ হাজার ৭০০ ফিলিস্তিনির মরদেহ আটকে রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন ইসরায়েলের শিন বেত প্রধান। ইসরায়েলি দৈনিক হারেৎস মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে শীর্ষ পর্যায়ের ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের সাম্প্রতিক আলোচনার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে।   হারেৎসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের হাতে থাকা মরদেহগুলোর বেশিরভাগই ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলা এবং পরবর্তী যুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের। তবে এসব মরদেহের মধ্যে বেসামরিক ফিলিস্তিনিও রয়েছেন। মরদেহগুলো ভবিষ্যতে কোনো বন্দি বা মরদেহ বিনিময় চুক্তিতে ইসরায়েলের জন্য আলোচনার হাতিয়ার হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।   ফিলিস্তিনিদের মরদেহ আটকে রাখা ইসরায়েলের নতুন কোনো নীতি নয়। পশ্চিম তীর ও গাজায় নিহত ফিলিস্তিনিদের মরদেহ দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের কাছে হস্তান্তর না করে রাখার অভিযোগ রয়েছে ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলোও বহু বছর ধরে আপত্তি জানিয়ে আসছে।   হারেৎসের তথ্য অনুযায়ী, মরদেহ আটকে রাখার বিষয়টি নিয়ে ইসরায়েলের শীর্ষ পর্যায়ে সাম্প্রতিক আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে ভবিষ্যতে কোনো বিনিময় চুক্তির প্রয়োজন হলে এসব মরদেহকে আলোচনার অংশ হিসেবে ব্যবহার করার সম্ভাবনা বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।   মরদেহ আটকে রাখার এই নীতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও মানবিক আইন বিশেষজ্ঞদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবিক আইনে মৃতদের মর্যাদা রক্ষা এবং যথাযথভাবে তাদের দাফন বা সৎকারের সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।   ফিলিস্তিনি পরিবারগুলোর জন্য বিষয়টি আরও গভীর মানবিক সংকট তৈরি করেছে। স্বজনের মৃত্যুর পরও মরদেহ ফিরে না পাওয়ায় অনেক পরিবার তাদের প্রিয়জনকে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী দাফন করতে পারছে না। একই সঙ্গে মরদেহগুলোকে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক বা সামরিক দর-কষাকষিতে ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।   হারেৎসের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের হাতে থাকা প্রায় ১ হাজার ৭০০ মরদেহের বিষয়টি এখন ভবিষ্যৎ বিনিময় আলোচনার সম্ভাব্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে সামনে এসেছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা মরদেহ আটকে রাখার নীতি নতুন করে আন্তর্জাতিক ও মানবাধিকার মহলের নজরে এসেছে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১০, ২০২৬ ১৪:০
গ্রিসজুড়ে ৩৬ স্থানে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভ, নাগরিকদের পরিচয় প্রকাশেও সতর্ক করল ইসরায়েল
গ্রিসজুড়ে ৩৬ স্থানে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভ, নাগরিকদের পরিচয় প্রকাশেও সতর্ক করল ইসরায়েল

গাজায় চলমান ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের প্রতিবাদে গ্রিসজুড়ে অন্তত ৩৬টি স্থানে একযোগে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছে। রাজধানী এথেন্সসহ দেশটির বিভিন্ন শহর ও জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে এই কর্মসূচি পালিত হবে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গ্রিসে অবস্থানরত ও ভ্রমণরত ইসরায়েলি নাগরিকদের জন্য বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করেছে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।   ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সতর্কবার্তায় নাগরিকদের বিক্ষোভস্থল ও বড় জমায়েত থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রকাশ্যে ইসরায়েলি বা ইহুদি পরিচয় বহন করে এমন কোনো প্রতীক বা চিহ্ন প্রদর্শন না করারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে নাগরিকদের গ্রিস ভ্রমণ বাতিল করতে বলা হয়নি; মূলত বিক্ষোভ চলাকালে যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি বা সম্ভাব্য উত্তেজনা এড়াতেই এই আগাম সতর্কতা জারি করা হয়েছে।   ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, ফিলিস্তিনপন্থী বিভিন্ন সংগঠন সমন্বিতভাবে এই বিশাল কর্মসূচির আয়োজন করেছে। বিশেষ করে যেসব পর্যটন এলাকায় ইসরায়েলিদের আনাগোনা বেশি, সেগুলোকে এই কর্মসূচিতে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ফলে বিক্ষোভ শুধু বড় শহরের কেন্দ্রস্থলেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, তা ছড়িয়ে পড়ছে পর্যটকদের উপস্থিতিবহুল এলাকাগুলোতেও। গাজায় ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি প্রকাশ এবং চলমান যুদ্ধের প্রতিবাদই এই কর্মসূচির প্রধান লক্ষ্য।   তবে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভ হলেই ইসরায়েলি নাগরিকদের ওপর হামলা হবে—এমন কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। এর আগে গত বছরও একই ধরনের কর্মসূচির সময় ইসরায়েল এমন সতর্কতা জারি করেছিল, যা কোনো ধরনের সহিংসতা ছাড়াই শেষ হয়েছিল। তাই এবারের নির্দেশনাকেও একটি আগাম নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে প্রকাশ্যে ইহুদি পরিচয় গোপনের নির্দেশনার বিষয়টি স্পষ্ট করে যে, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ এই বিক্ষোভ কর্মসূচিকে নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে বেশ গুরুত্বের সঙ্গেই দেখছে।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ৯, ২০২৬ ১৪:০
ফিলিস্তিনের অসহায় শিশু ও ফোর্স।ছবি:সংগৃহীত
গড়ে প্রতিদিন ছয়টিরও বেশি ইসরায়েলি হামলার ঘটনা, চলতি বছর বাস্তুচ্যুত ২,৩০০ ফিলিস্তিনি

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর বসতি স্থাপনকারীদের হামলা, সম্পত্তি ধ্বংস ও বাস্তুচ্যুতির ঘটনা চলতি বছরে আরও বেড়েছে। জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় দপ্তর ওসিএইচএ’র সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের শুরু থেকে পশ্চিম তীরজুড়ে ১ হাজার ৩৩০টির বেশি বসতি স্থাপনকারী-সংশ্লিষ্ট হামলার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এসব ঘটনা ঘটেছে প্রায় ২৫০টি ফিলিস্তিনি সম্প্রদায়ে গড়ে প্রতিদিন ছয়টিরও বেশি হামলার ঘটনা।    এই পরিস্থিতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বাস্তুচ্যুতি। ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ৬ জুলাই পর্যন্ত পশ্চিম তীরের ১২৩টি ফিলিস্তিনি সম্প্রদায় পুরোপুরি বা আংশিকভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এর মধ্যে ৪৭টি সম্প্রদায় পুরোপুরি জনশূন্য হয়ে পড়েছে। এই সময়ে ৬ হাজার ২০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি ঘরবাড়ি হারিয়েছেন, যাদের মধ্যে ৩ হাজারের বেশি শিশু। শুধু ২০২৬ সালেই বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ২ হাজার ৩০০-এর বেশি মানুষ।   হামলার প্রভাব শুধু বাড়িঘরেই সীমাবদ্ধ নেই। পানি সরবরাহের ব্যবস্থা, কৃষিজমি, জীবিকার অবকাঠামো, স্কুল ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। চলতি বছরে বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় প্রায় ১৬০টি পানি ও স্যানিটেশন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত, ধ্বংস বা দখল হয়েছে। এর মধ্যে পানির ট্যাংকই অর্ধেকের বেশি।   জাতিসংঘ বলছে, বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় হতাহতের ঘটনাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০ জুলাই পর্যন্ত ২০২৬ সালে এ ধরনের হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঘটনায় ১৮ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যেখানে ২০২৫ সালের পুরো বছরে নিহতের সংখ্যা ছিল ১৭। নিহতদের মধ্যে ১২ জনকে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা হত্যা করেছে বলে ওসিএইচএ জানিয়েছে; তিনজন ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে নিহত এবং আরও তিনজনের ক্ষেত্রে দায় কার, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।   চলতি বছর এখন পর্যন্ত প্রায় ৮৮০ ফিলিস্তিনি বসতি স্থাপনকারী-সংশ্লিষ্ট হামলায় আহত হয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় ৭২০ জন সরাসরি বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় আহত হয়েছেন।   সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতেও পরিস্থিতির ভয়াবহতা স্পষ্ট হয়েছে। রামাল্লার পূর্বে দেইর জারির গ্রামে জুলাইয়ের মাঝামাঝি বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় দুই ফিলিস্তিনি নিহত ও আরও কয়েকজন আহত হন। আবার নাবলুসের দক্ষিণে তেল গ্রামে প্রায় ৪০ জন মুখোশধারী বসতি স্থাপনকারী একটি ফিলিস্তিনি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে ওসিএইচএ জানিয়েছে। পরিবারটি আগুনে বাড়িটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হওয়ার কয়েক মিনিট আগে পালিয়ে যায় এবং পাঁচজন বাস্তুচ্যুত হন।   পশ্চিম তীরের বেদুইন ও পশুপালননির্ভর সম্প্রদায়গুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। হামলা, জমিতে প্রবেশের বাধা, বাড়িঘর ও অবকাঠামো ধ্বংস এবং পানির উৎসে প্রবেশের সীমাবদ্ধতা তাদের জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তুলছে।   জাতিসংঘের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, পরিস্থিতি শুধু তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা সংকট তৈরি করছে না; বারবার বাস্তুচ্যুতি ও জীবিকার অবকাঠামো হারানোর কারণে এসব সম্প্রদায়ের দীর্ঘমেয়াদি টিকে থাকার সক্ষমতাও দুর্বল হয়ে পড়ছে।

Unknown আগস্ট ৭, ২০২৬ ১৪:০
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও জেডি ভ্যান্স
ইসরায়েল নিয়ে সমালোচনার ব্যাখ্যা চাইতে ভ্যান্সের সঙ্গে বৈঠকে নেতানিয়াহু

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সাম্প্রতিক ইসরায়েল-বিষয়ক সমালোচনা নিয়ে ওয়াশিংটনে একান্ত বৈঠকে আলোচনা করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় মঙ্গলবার ব্লেয়ার হাউসে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিষয়টি সরাসরি উত্থাপন করেন তিনি বলে জানিয়েছে অ্যাক্সিওস।   অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে ইসরায়েলি ও মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বলা হয়, বৈঠকে ভ্যান্সের সাম্প্রতিক প্রকাশ্য মন্তব্য নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়। এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা এটিকে “স্পষ্ট ও খোলামেলা” আলোচনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, আলোচনা সরাসরি হলেও সেটি কোনোভাবেই সংঘাতপূর্ণ ছিল না।   এক মার্কিন কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে জানান, বৈঠকে দুই নেতা ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের অভিন্ন স্বার্থ ও লক্ষ্য অর্জনে পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে একমত হন। তার ভাষায়, বৈঠকটি ছিল সৌহার্দ্যপূর্ণ ও ফলপ্রসূ।   মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যে তুলনামূলক সংযত অবস্থানের অন্যতম প্রবক্তা হিসেবে সম্প্রতি আলোচনায় আসেন জেডি ভ্যান্স। জুন মাসে তিনি ইরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার বিরোধিতা করা কিছু ইসরায়েলি কর্মকর্তার সমালোচনা করে বলেন, তিনি ইসরায়েল সরকারের সদস্য হলে দেশটির “একমাত্র শক্তিশালী মিত্র” যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এমন অবস্থান নিতেন না।   চলতি মাসের শুরুতে জনপ্রিয় পডকাস্ট দ্য জো রোগান এক্সপেরিয়েন্স-এ ভ্যান্স আরও বলেন, ইসরায়েলের কিছু নেতা যুক্তরাষ্ট্রকে কূটনৈতিক পথ থেকে সরে এসে তেহরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নিতে উৎসাহিত করেছিলেন।   এর আগে বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে দাবি করা হয়, চলতি বছরের শুরুতে ইরানকে ঘিরে টেলিফোনে নেতানিয়াহু ও ভ্যান্সের মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ আলোচনা হয়েছিল। সে সময় ভ্যান্স নাকি ইসরায়েলের সেই মূল্যায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন, যেখানে বলা হয়েছিল ইরান দ্রুত নতি স্বীকার করবে।   তবে মতপার্থক্য থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্ককে শক্তিশালী বলেই উল্লেখ করে আসছেন ভ্যান্স। গত মাসে সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “নেতানিয়াহু অবশ্যই কিছু বিষয়ে ভুল করেছেন, কিন্তু তিনি এখনো একজন ভালো অংশীদার। আমরা একসঙ্গে কাজ চালিয়ে যাব। তবে যেখানে দুই দেশের স্বার্থ ভিন্ন হবে, সেখানে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের জাতীয় স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দেবে।”   হোয়াইট হাউস ও ইসরায়েল সরকার এখন পর্যন্ত মঙ্গলবারের ওই বৈঠকের বিস্তারিত বিষয়বস্তু নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি। প্রথমে এ তথ্য প্রকাশ করে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ৫, ২০২৬ ১৪:০
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা সহায়তা নিয়ে পেন্টাগনকে সতর্ক করেছেন জেনারেল অ্যালেক্সাস গ্রিনকিউইচ। ছবি: সংগৃহীত
ইরানি হামলা থেকে ইসরায়েলকে বাঁচাতে পর্যাপ্ত অস্ত্র নেই যুক্তরাষ্ট্রের হাতে!

ইরানের সম্ভাব্য আকস্মিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে ইসরায়েলকে সুরক্ষা দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত অস্ত্র ও সামরিক সক্ষমতা এই মুহূর্তে মার্কিন সামরিক বাহিনীর হাতে নেই বলে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। পেন্টাগনে পাঠানো মার্কিন সামরিক বাহিনীর শীর্ষপর্যায়ের একটি গোপন চিঠির বরাতে এই উদ্বেগজনক খবরটি সামনে এনেছে আমেরিকার প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’।   সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পেন্টাগনে সম্প্রতি পাঠানো এক গোপন বার্তায় সরাসরি এই শঙ্কার কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপীয় কমান্ডের প্রধান জেনারেল অ্যালেক্সাস গ্রিনকিউইচ। তিনি উল্লেখ করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশে ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় যে নজিরবিহীন নৌ অবরোধ বা অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করা হয়েছে, তার ফলেই মূলত এই জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে।   প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, মধ্যপ্রাচ্যের বিশাল এলাকাজুড়ে মার্কিন সামরিক সম্পদ ও প্রযুক্তি ছড়িয়ে দেওয়ার কারণে সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে ইসরায়েলকে প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষা সহায়তা দেওয়ার সক্ষমতার ওপর। পরিস্থিতির গুরুত্ব তুলে ধরে জেনারেল গ্রিনকিউইচ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, বিদ্যমান অস্ত্রসংকটের কারণে ইউরোপে মোতায়েন থাকা মার্কিন বাহিনীকে হয়তো একপর্যায়ে ইসরায়েলকে সুরক্ষিত রাখার চেয়ে নিজেদের বাহিনীর সুরক্ষাকেই বেশি প্রাধান্য দিতে হবে।   ওয়াশিংটন পোস্টের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলকে আকাশপথে সুরক্ষা দিতে দীর্ঘদিন ধরেই পূর্ব ভূমধ্যসাগরে শক্তিশালী রাডার ও আধুনিক সামরিক প্রযুক্তি সম্বলিত যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচটি অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ বন্ধ করে দেওয়ার জবাবে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে কোণঠাসা করতে আরব সাগরে ১১টি যুদ্ধজাহাজ এবং দুটি বিশাল বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন করে। উল্লেখ্য, বিশ্বজুড়ে মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়েই পরিবাহিত হয়। এভাবে পুরো অঞ্চলজুড়ে অতিরিক্ত সামরিক শক্তি ছড়িয়ে দেওয়াই যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান অস্ত্রসংকটের মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।   পেন্টাগনের এই গোপন বার্তা ফাঁস হওয়ার আগেও অন্য এক মার্কিন কর্মকর্তা বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং দূরপাল্লার অস্ত্রের যে মজুত ছিল, তা ধীরে ধীরে কমে আসছে। বর্তমান চিত্র অনুধাবন করে সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যদি দীর্ঘমেয়াদি বা সর্বাত্মক কোনো সংঘাত তৈরি হয়, তবে সে পরিস্থিতিতে টানা যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া ওয়াশিংটনের জন্য অত্যন্ত কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়াবে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ৩, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

মার্কিন নাগরিকত্ব

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা যে ৪ ধরনের আত্মীয়কে পারিবারিক ভিসায় নিতে পারেন, জেনে নিন

বায়জিদ হাসান আগস্ট ২৮, ২০২৬ ১৪:০