যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল শুক্রবার ইরানে চলমান সামরিক অভিযান ‘গুটিয়ে আনার’ ইঙ্গিত দিয়েছেন। একই সঙ্গে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সংকট মোকাবিলায় ইরানি তেল পরিবহনের ওপর থেকে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে ওয়াশিংটন। ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক পোস্টে লিখেছেন, “মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের বিশাল সামরিক প্রচেষ্টাকে গুটিয়ে আনার কথা ভাবছি। কারণ, আমাদের লক্ষ্য অর্জনের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছি।” গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই সংঘাত শিগগিরই সমাধান হতে পারে—ট্রাম্পের এ বার্তাকে এখন পর্যন্ত ইরান যুদ্ধের পরিণতির বিষয়ে তাঁর সবচেয়ে জোরালো ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। ট্রাম্পের এ বার্তার কিছুক্ষণ পর হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এক্সে (সাবেক টুইটার) পোস্টে বলেন, “প্রেসিডেন্ট ও পেন্টাগন আগেই আভাস দিয়েছিল যে এ মিশন সফল করতে প্রায় ৪ থেকে ৬ সপ্তাহ লাগতে পারে।” এদিকে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহ ঘাটতি নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইতিমধ্যে জাহাজে তোলা হয়েছে এমন ইরানি তেলের ওপর থেকে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হচ্ছে। এই অনুমতির ফলে ২০ মার্চের আগে জাহাজে তোলা ইরানের অপরিশোধিত তেল ও অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্য আগামী ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত খালাস ও বিক্রি করা যাবে। অন্যদিকে, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি তাঁর দেশের শত্রুদের ‘মাথা ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো মোক্ষম জবাব’ দেওয়ার দাবি করার পর সৌদি আরব এবং ইসরায়েলে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের নতুন দফায় হামলা চালিয়েছে তেহরান। ইরানি এই হামলার জবাবে আজ শনিবার ভোরে তেহরানের ‘শাসকগোষ্ঠীর লক্ষ্যবস্তু’তে পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে বিগত দেড় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের (AAA) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আজ দেশটিতে প্রতি গ্যালন রেগুলার গ্যাসের দাম ৪ সেন্ট বেড়ে ৩.৮৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০২২ সালের ১৭ অক্টোবরের পর এটিই যুক্তরাষ্ট্রে তেলের সর্বোচ্চ মূল্য। এর আগে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বিশ্ববাজারে তেলের দামে যে রেকর্ড উল্লম্ফন দেখা দিয়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতি সেই ভয়াবহতাকেও মনে করিয়ে দিচ্ছে। বিশেষত, ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর মাত্র ১৯ দিনের ব্যবধানে যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসের দাম প্রতি গ্যালনে ৯০ সেন্ট পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে দেশটির আটটি অঙ্গরাজ্যে প্রতি গ্যালন তেলের গড় দাম ৪ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। ক্যালিফোর্নিয়া, হাওয়াই এবং ওয়াশিংটনের মতো তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যে এই দাম ৫ ডলারের গণ্ডি অতিক্রম করেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত এক নজিরবিহীন ও ভয়াবহ মোড় নিয়েছে। গত কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস স্থাপনা লক্ষ্য করে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে ইরান। এই ঘটনার পর পুরো অঞ্চলে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং বিশ্ব বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইরানের বিশেষ বাহিনী রেভল্যুশনারি গার্ডস (IRGC) এই হামলা পরিচালনা করে। সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, তেহরানের ওপর থেকে রিয়াদ তাদের শেষ আস্থাটুকুও হারিয়েছে। তিনি স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, সৌদি আরব নিজের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার রাখে। হামলার ক্ষয়ক্ষতির চিত্র: প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কুয়েত, কাতার এবং আরব আমিরাতের বেশ কিছু তেল শোধনাগার এবং জ্বালানি স্থাপনায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ জানা যায়নি। সৌদি আরবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেশ কিছু আক্রমণ প্রতিহত করলেও পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক। পাল্টা হামলার শিকার ইরান: এদিকে, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ দাবি করেছেন যে, ইসরায়েল ইরানের অন্যতম বৃহত্তম গ্যাস ক্ষেত্র 'সাউথ পার্স'-এ ভয়াবহ পাল্টা হামলা চালিয়েছে। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, এই হামলায় যুক্তরাষ্ট্র বা কাতারের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না; ইসরায়েল এককভাবেই এই আক্রমণ পরিচালনা করেছে। তবে এই বিষয়ে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF) থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান: সংঘাতের এমন ভয়াবহ বিস্তার দেখে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের কথা ভাবছে বাইডেন প্রশাসন। মার্কিন গোয়েন্দা প্রধান তুলসি গ্যাবার্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, চলমান অভিযানে ইরানের শাসনব্যবস্থা কিছুটা দুর্বল হলেও তারা এখনো এই অঞ্চলে মার্কিন এবং মিত্রদের স্বার্থে আঘাত হানার সক্ষমতা রাখে। মানবিক বিপর্যয় ও উদ্বেগ: এই সংঘাতের তিন সপ্তাহ পার হতে চললেও পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার কোনো লক্ষণ নেই। উল্টো প্রথমবারের মতো ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে অধিকৃত পশ্চিম তীরে তিন ফিলিস্তিনি নারীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালী এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের এই সরাসরি হস্তক্ষেপ বিশ্ব অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দ্রুত কোনো যুদ্ধবিরতির সমঝোতায় না পৌঁছালে এটি একটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কুয়েতের জ্বালানি খাতে বড় ধরনের নাশকতার খবর পাওয়া গেছে। প্রথম হামলার রেশ কাটতে না কাটতেই দেশটির দ্বিতীয় আরেকটি তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। কুয়েত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (কেপিসি) নিশ্চিত করেছে যে, ড্রোন হামলায় দক্ষিণ কুয়েতের মিনা আবদুল্লাহ শোধনাগারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়েছে। কুয়েত নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে, মিনা আবদুল্লাহ শোধনাগারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল ইউনিটে সরাসরি ড্রোনটি আঘাত হানে। হামলার পরপরই কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে। তবে কোম্পানিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং স্থাপনাটি সুরক্ষিত রাখতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, এর কিছুক্ষণ আগেই কুয়েতের অন্য একটি বড় শোধনাগার মিনা আল-আহমাদি-তে একই ধরনের ড্রোন হামলা চালানো হয়েছিল। পর পর দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় এ ধরনের আক্রমণ কুয়েতের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখা দিচ্ছে। তবে স্বস্তির বিষয় এই যে, মিনা আল-আহমাদি শোধনাগারে হওয়া অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ভারতের পর এবার পাকিস্তানকেও কম দামে জ্বালানি তেল সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে রাশিয়া। পাকিস্তানে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত অ্যালবার্ট খোরেভ জানিয়েছেন, ইসলামাবাদ যদি আনুষ্ঠানিকভাবে আগ্রহ দেখায়, তাহলে মস্কো দেশটিকে হ্রাসকৃত মূল্যে জ্বালানি তেল বিক্রি করতে প্রস্তুত। সংবাদ সম্মেলনে খোরেভ বলেন, দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হলো জ্বালানি খাত। এই খাতে যে কোনো অগ্রগতি ইসলামাবাদের উদ্যোগের ওপর নির্ভর করবে। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান পরিস্থিতি ‘জটিল ও অপ্রত্যাশিত’। ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালির অবরোধের কারণে পাকিস্তানসহ মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশই জ্বালানি তেলের যোগান নিশ্চিত করতে সমস্যার মুখে পড়েছে। এর প্রভাব সাধারণ ভোক্তা পর্যায়েও পড়েছে; পাকিস্তান ইতিমধ্যে জ্বালানি তেলের দাম প্রায় ২০ শতাংশ বাড়িয়েছে। খোরেভ বলেন, বর্তমান উত্তেজনা কখন এবং কীভাবে শেষ হবে তা পূর্বানুমান করা কঠিন।
এশিয়ার বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকালে লেনদেনের শুরুতেই আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ২.৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৩.০৮ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে লেনদেন হওয়া অপরিশোধিত তেলের দামও প্রায় ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৬.২৫ ডলারে দাঁড়ায়। বিশ্লেষকদের মতে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে কি না—এই অনিশ্চয়তা থেকেই মূলত বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক উত্তেজনার কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। যদিও সোমবার (১৬ মার্চ) কয়েকটি জাহাজ নিরাপদে প্রণালিটি অতিক্রম করেছে বলে খবর পাওয়ায় দাম কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছিল, কিন্তু মঙ্গলবার সকাল থেকেই আবার দাম বাড়তে শুরু করে। তেলের বাজারে এই অস্থিরতার মধ্যেও এশিয়ার বেশ কয়েকটি প্রধান শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশ হওয়া সত্ত্বেও জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক প্রায় ০.২৫ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপি সূচক ২.৫ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে প্রযুক্তি খাতের শেয়ারের চাঙ্গাভাব এই উত্থানে বড় ভূমিকা রেখেছে। চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়া ২০২৭ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলার বিক্রির সম্ভাবনার কথা জানানো এবং বিভিন্ন বড় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নতুন চুক্তির ঘোষণা দেওয়ায় প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেড়েছে। সূত্র: বিবিসি
ইরান যুদ্ধের ভয়াবহ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে দেশটিতে জ্বালানি তেলের দাম প্রায় ২৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন (AAA) এর তথ্য অনুযায়ী, আজ যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন গ্যাসের গড় দাম ৩.৭০ ডলারে পৌঁছেছে। মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলারের আশেপাশে অবস্থান করছে। গত শুক্রবার ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার ২.৬৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৩.১৪ ডলারে বন্ধ হয়েছে। অন্যদিকে, মার্কিন অপরিশোধিত তেলের দাম ৩.১১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৯৮.৭১ ডলারে দাঁড়িয়েছে। বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয় হরমুজ প্রণালী দিয়ে। যুদ্ধের শুরু থেকেই এই কৌশলগত জলপথটি কার্যত বন্ধ রয়েছে। ফলে এই অঞ্চল থেকে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের তেল সমৃদ্ধ দেশগুলোর বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই যুদ্ধ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত ডিসেম্বরে যেখানে গ্যাসের দাম ২০২১ সালের পর প্রথমবারের মতো ৩ ডলারের নিচে নেমেছিল, এখন তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। কেবল জ্বালানি নয়, জাহাজ ভাড়া এবং সারের দাম বাড়ার কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমনকি জ্বালানি তেলের এই ঊর্ধ্বগতির প্রভাবে বিমান ভাড়াতেও বড় ধরনের উল্লম্ফন লক্ষ্য করা গেছে।
কোনো সায়েন্স ফিকশন সিনেমা বা দুঃস্বপ্নের কাহিনি নয়, বরং এক রূঢ় বাস্তব এখন মধ্যপ্রাচ্যের দরজায় কড়া নাড়ছে। যে যুদ্ধ তেলকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছিল, তা এখন বাঁক নিচ্ছে প্রকৃতির সবচাইতে অমূল্য সম্পদ— পানির দিকে। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের পরিধি যত বাড়ছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে যে আগামীর দিনগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্যবস্তু কেবল তেলের পাইপলাইন হবে না, বরং হবে পানির পাম্প আর লবণ-মুক্তকরণ কারখানা। বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন, এই অঞ্চলে পানি এখন ‘তেলের চেয়েও ভারী’ হয়ে উঠেছে। পানির জন্য হাহাকার ও কৃত্রিম নির্ভরতা উপসাগরীয় অঞ্চলে বিশ্বের মাত্র ২% মিষ্টি পানির সরবরাহ রয়েছে। ফলে এই অঞ্চলের দেশগুলোকে টিকে থাকতে হয় সমুদ্রের পানিকে লবণ-মুক্ত (Desalination) করার ওপর নির্ভর করে। ফ্রেঞ্চ ইনস্টিটিউট অফ ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনস্-এর তথ্যমতে, কুয়েতের ৯০%, ওমানের ৮৬% এবং সৌদি আরবের ৭০% মিষ্টি পানি আসে এই প্রক্রিয়ায়। ওমানের ড. উইল লা কেন-এর মতে, ২০২১ সালে এই কারখানাগুলো প্রতিদিন যে পরিমাণ পানি টেনে নিত, তা দিয়ে অলিম্পিক মানের ৮,০০০ সুইমিং পুল ভর্তি করা সম্ভব। এই বিশাল কর্মযজ্ঞের ওপর সামান্য আঘাতও পুরো জনজীবনকে অচল করে দিতে পারে। রণকৌশল হিসেবে পানি: ইরানের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বিশ্লেষকরা বলছেন, সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলকে মোকাবিলা করার চেয়ে সংঘাতের ক্ষেত্র ছড়িয়ে দেওয়া এবং আতঙ্ক তৈরি করাই এখন ইরানের কৌশল। বাহরাইনের একটি লবণ-মুক্তকরণ কারখানায় সরাসরি হামলা এবং দুবাইয়ের জেবেল আলিতে হামলার ঘটনাগুলো এরই প্রমাণ। কাতারের নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক মার্ক ওয়েন জোন্স মনে করেন, ইরান চাইছে আরব দেশগুলোর ওপর এমন চাপ তৈরি করতে যেন তারা নিজ দেশের পানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধ বন্ধের জন্য বাধ্য করে। অধ্যাপক কাভেহ মাদানির মতে, এটি ইরানের একটি ‘সংকেত দেওয়ার কৌশল’—তারা দেখাতে চায় যে তারা কতদূর পর্যন্ত যেতে পারে। পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও কেশম দ্বীপের ক্ষত ইরান প্রতিটি হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করছে। তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র প্রথমে হরমুজ প্রণালীর কেশম দ্বীপের একটি পানি কারখানায় হামলা চালিয়ে কয়েক ডজন গ্রামের সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছিল। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি একে ‘নির্লজ্জ অপরাধ’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বাহরাইনে করা হামলাকে ‘ন্যায়সংগত প্রতিশোধ’ বলে দাবি করেছেন। এই পাল্টাপাল্টি হামলা প্রমাণ করে যে, জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী বেসামরিক স্থাপনায় হামলা নিষিদ্ধ হলেও যুদ্ধের ময়দানে তা এখন কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ। ইরানের অভ্যন্তরীণ সংকট ও ‘পানির আকাল’ প্রতিবেশীদের পানির ওপর আঘাত করলেও ইরান নিজেও শান্তিতে নেই। দেশটির জ্বালানি মন্ত্রী আব্বাস আলিয়াবাদি স্বীকার করেছেন যে, ইরান এখন ‘চূড়ান্ত জলের আকালের’ মুখোমুখি। শতাব্দী প্রাচীন পাইপলাইনে ফুটো, কম বৃষ্টিপাত এবং সংঘাতের কারণে পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নেমে গেছে। তেহরানের মতো শহর আংশিক খালি করে দেওয়ার মতো হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন সরকারি কর্মকর্তারা। এছাড়া হেলমন্দ নদী নিয়ে আফগানিস্তানের সঙ্গে এবং টাইগ্রিস-ইউফ্রেটিস নিয়ে তুরস্কের সঙ্গে ইরানের বিরোধ এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ প্রমাণ করছে যে জল-নিরাপত্তা কতটা ভঙ্গুর। ঐতিহাসিক ভাবে পানি সবসময়ই হুমকি দেওয়ার অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, কিন্তু বর্তমানের অত্যাধুনিক প্রযুক্তির যুগে এই অস্ত্রের ধ্বংসক্ষমতা অকল্পনীয়। আগামীর সংঘাত কেবল জ্বালানিবাহী জাহাজ বা তেলের খনি দিয়ে নির্ধারিত হবে না; বরং নদী, ভূগর্ভস্থ পানির আধার আর সমুদ্রের পানি শোধনকারী কারখানাই হবে প্রধান রণক্ষেত্র। পানির এই সংকট যদি প্রশমিত না হয়, তবে তেলের আগুন নেভানোর মতো পানিও হয়তো একদিন আর অবশিষ্ট থাকবে না।
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের আকাশচুম্বী দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে রাশিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প প্রশাসনের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে একদিকে যেমন বিশ্ববাজারে তেলের দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে, অন্যদিকে ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে রাশিয়ার ওপর চাপ বজায় রাখতে চাওয়া ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার (১৩ মার্চ, ২০২৬) মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ থেকে জারি করা এক নির্দেশনায় জানানো হয়, সমুদ্রে আটকা পড়া বা ট্রানজিটে থাকা রুশ তেল এবং পেট্রোলিয়াম পণ্য কেনার ক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশকে ৩০ দিনের জন্য বিশেষ ছাড় (Waiver) দেওয়া হচ্ছে। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট এক বিবৃতিতে জানান, ইরান যুদ্ধের ফলে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা স্থিতিশীল করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ওয়াশিংটনের এই ঘোষণার পর শুক্রবার সকালে এশীয় বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা কমতে দেখা গেছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্সিয়াল দূত কিরিল দিমিত্রিভ জানিয়েছেন, এই ছাড়ের ফলে প্রায় ১০ কোটি ব্যারেল রুশ অপরিশোধিত তেল বাজারে প্রবেশের সুযোগ পাবে, যা প্রায় এক দিনের বিশ্ব চাহিদার সমান। মস্কো যুক্তরাষ্ট্রের এই বাস্তবসম্মত পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপে জার্মানি ও ফ্রান্সসহ প্রধান ইউরোপীয় মিত্ররা গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। ইউরোপীয় দেশগুলোর মতে, রাশিয়ার আয়ের প্রধান উৎস তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হলে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানকে পরোক্ষভাবে সহায়তা করা হবে। তারা মনে করছে, মুদ্রাস্ফীতি এবং অভ্যন্তরীণ তেলের দাম কমাতে গিয়ে ওয়াশিংটন দীর্ঘমেয়াদী ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিচ্ছে। সম্প্রতি ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ায় এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হওয়ায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসন চাপের মুখে ছিল। সমালোচকদের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আসন্ন নির্বাচন এবং দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেই রাশিয়ার সাথে এই সাময়িক সমঝোতার পথ বেছে নিয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ৩০ দিনের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র তাদের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তার ওপরই নির্ভর করছে বিশ্ব অর্থনীতির ভবিষ্যৎ গতিপথ।
মধ্যপ্রাচ্যে সরবরাহ ব্যবস্থা ও জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর ইরানের নতুন হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্ববাজারে তেলের দামে হঠাৎ বড় ধরনের উত্থান দেখা গেছে। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম এক লাফে প্রায় ৯ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০০ দশমিক ৫০ ডলারে পৌঁছেছে। এদিকে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দামও বেড়েছে। এটি প্রায় ৮ দশমিক ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৪ দশমিক ৯২ ডলারে দাঁড়িয়েছে। তেলের বাজারে এই চাপ কমাতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)-এর ৩২টি সদস্য দেশ তাদের জরুরি মজুত থেকে প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ পরিমাণ তেল সংস্থাটির মোট সরকারি মজুতের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। অতীতে তারা যত বড় পরিমাণ তেল বাজারে ছেড়েছিল, তার তুলনায় এটিও প্রায় দ্বিগুণ। অন্যদিকে জাতিসংঘ জানিয়েছে, তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যাওয়ার প্রভাব কমাতে তারা তাদের কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুত থেকে প্রায় ১৭২ মিলিয়ন ব্যারেল তেল বাজারে সরবরাহ করার পরিকল্পনা করেছে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পারস্য উপসাগরের নীল জলরাশির বুকে মাত্র ২২ বর্গকিলোমিটারের এক প্রবালদ্বীপ, যা ইরানের অর্থনীতির প্রাণভোমরা। বুশেহর উপকূল থেকে ২৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই ‘খার্গ দ্বীপ’ আজ বিশ্বরাজনীতির অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। প্রখ্যাত ইরানি লেখক জালাল আল-এ-আহমাদ যাকে ‘পারস্য উপসাগরের এতিম মুক্তো’ বলে অভিহিত করেছিলেন, সেই দ্বীপটিই এখন ইরানের মোট তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। প্রতি বছর প্রায় ৯৫ কোটি ব্যারেল তেল এই টার্মিনাল হয়ে বিশ্ববাজারে, বিশেষ করে এশিয়ার দেশগুলোতে পৌঁছে যায়। প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের কারণে দ্বীপটির চারপাশের সমুদ্র অত্যন্ত গভীর, যা বিশাল আকৃতির সুপারট্যাংকারগুলোর যাতায়াত ও নোঙর করার জন্য আদর্শ। ইরানের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, আবুজার, ফুরুজান ও দুরুদ—এই তিনটি প্রধান অফশোর তেলক্ষেত্র থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে এখানে তেল আসে। আন্তর্জাতিক হাজারো নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইরান এই দ্বীপের সক্ষমতা বাড়িয়েই চলেছে। এমনকি ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়েও নতুন সংস্কারের মাধ্যমে এর ধারণক্ষমতা আরও ২০ লাখ ব্যারেল বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নিশ্ছিদ্র পাহারায় থাকা এই ‘নিষিদ্ধ দ্বীপে’ সাধারণের প্রবেশাধিকার নেই বললেই চলে। তবে খার্গ দ্বীপের গুরুত্ব কেবল তেলেই সীমাবদ্ধ নয়; এর মাটির নিচে চাপা পড়ে আছে হাজার বছরের ইতিহাস। এখানে এলামাইট, আকিমিনিড ও সাসানিড যুগের প্রাচীন নিদর্শনের পাশাপাশি সপ্তম শতাব্দীতে নির্মিত মির মোহাম্মাদ মাজারের মতো পবিত্র স্থান রয়েছে। একটি প্রবালশিলায় খোদাই করা ৮৫ বাই ১১৬ সেন্টিমিটারের একটি আকিমিনিড শিলালিপিকে ‘পারস্য উপসাগর’ নামের প্রাচীনতম দালিলিক প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই দ্বীপে একসময় পর্তুগিজ ও ডাচ উপনিবেশ ছিল, যার ধ্বংসাবশেষ এখনো ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আধুনিক যুগে এই দ্বীপটি যেমন রাজনৈতিক বন্দীদের নির্বাসন কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, তেমনি ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় সয়েছে ভয়াবহ বোমাবর্ষণ। প্রতিটি ধ্বংসযজ্ঞের পর ফিনিক্স পাখির মতো জেগে ওঠা এই দ্বীপটি আজ মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে আবারও সামরিক ও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। একদিকে সুপারট্যাংকারগুলোর নীরব যাতায়াত আর অন্যদিকে কড়া সামরিক প্রহরা—সব মিলিয়ে ‘এতিম মুক্তো’ খ্যাত এই খার্গ দ্বীপটিই এখন ইরানের তেলের সাম্রাজ্যের প্রধান রক্ষাকবচ।
জ্বালানি সাশ্রয় এবং তেলের দামের অস্থিরতা সামাল দিতে সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য হোম অফিস পদ্ধতি চালুর নির্দেশ দিয়েছে থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দেশ দুটির সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাসা থেকে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। থাইল্যান্ডের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয় নিশ্চিত করতে সরকার সম্পদের কার্যকর ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব দিচ্ছে। তাই যেসব ক্ষেত্রে দূর থেকে কাজ করা সম্ভব, সেখানে রিমোট ওয়ার্ক বা হোম অফিস ব্যবস্থা চালু করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের অংশ হিসেবে সরকারি দপ্তরগুলোতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের (এসি) তাপমাত্রা ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নির্ধারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত সপ্তাহে ব্যাংকক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, তাদের কাছে প্রায় দুই মাসের জ্বালানি তেলের মজুত রয়েছে। অভ্যন্তরীণ সরবরাহ বজায় রাখতে আপাতত জ্বালানি তেল রপ্তানি স্থগিত রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী ১৫ দিনের জন্য ডিজেলের দাম প্রতি লিটার ৩০ বাথের নিচে নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে প্রতিবেশী ভিয়েতনামও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। দেশটি বিভিন্ন আমদানিকৃত পেট্রোলিয়াম পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক প্রত্যাহার করেছে। পাশাপাশি কোম্পানিগুলোকে সুযোগ থাকলে কর্মীদের বাসা থেকে কাজ করার অনুমতি দিতে উৎসাহিত করা হয়েছে। হ্যানয়ের পক্ষ থেকে ব্যক্তিগত যানবাহনের ব্যবহার কমিয়ে গণপরিবহন বা সাইকেল ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ঘিরে চলমান সংঘাতের প্রভাবে ভিয়েতনামে জ্বালানির দামও বেড়েছে। খবরে বলা হয়েছে, দেশটিতে পেট্রলের দাম ২০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে মঙ্গলবার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে হাজারো মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার প্রভাব সামাল দিতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো ধীরে ধীরে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু করেছে।
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে থাকায় কিছু তেল–সম্পর্কিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয়টি বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এ কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় কয়েকটি দেশের ওপর আরোপিত তেলসংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। বিবিসির লাইভ প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, “কিছু দেশের ওপর আমাদের নিষেধাজ্ঞা আছে। পরিস্থিতি ঠিক না হওয়া পর্যন্ত আমরা সেগুলো তুলে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছি।” তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে যেখানে নতুন করে আর কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রয়োজনই হবে না। তার ভাষায়, “তারপর কে জানে? হয়তো এতটাই শান্তি থাকবে যে আর নিষেধাজ্ঞা দিতে হবে না।” একই সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প জানান, সম্প্রতি তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে একটি “খুব ভালো” ফোনালাপ করেছেন। তবে ঠিক কোন দেশের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হতে পারে সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি। খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে সাময়িকভাবে কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে, যাতে সমুদ্রপথে আটকে থাকা রুশ তেল ক্রয়ের সুযোগ তৈরি হয়। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে চাপ কমানোর চেষ্টা চলছে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ও জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থান বৈশ্বিক তেলবাজারে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
ইরানের ওপর সাম্প্রতিক হামলার জের ধরে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়ায় বড় ধরনের সংকটে পড়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ ভোক্তারা। গত এক সপ্তাহে দেশজুড়ে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় জনমনে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন (AAA) এর তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা গত কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে মার্কিন পাম্পগুলোতে। ক্যালিফোর্নিয়ার মতো অঙ্গরাজ্যগুলোতে প্রতি গ্যালন গ্যাসের দাম ৫.২০ ডলারে পৌঁছেছে, যা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন বাজেটে বড় ধরনের ধাক্কা দিচ্ছে। ভুক্তভোগী ভোক্তারা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিরতা তাদের জীবনযাত্রার ব্যয় বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে পণ্য পরিবহন ও যাতায়াত খরচ বেড়ে যাওয়ায় মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা আরও প্রকট হয়েছে। হোয়াইট হাউস এই পরিস্থিতিকে সাময়িক বিপত্তি হিসেবে বর্ণনা করলেও, সাধারণ মানুষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানাচ্ছেন। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে তেল সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি ঘোষণাই বদলে দিল জ্বালানি তেলের বাজারচিত্র। 'ইরান যুদ্ধ শিগগিরই শেষ হতে যাচ্ছে'— ট্রাম্পের এমন ইতিবাচক বার্তার পর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের ধস নেমেছে। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে তেলের দাম কমেছে প্রায় ৯ শতাংশ। বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার লেনদেনের শুরু থেকেই নিম্নমুখী তেলের বাজার। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮.৫ শতাংশ কমে ৯২.৫০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই-এর দাম ৯ শতাংশ কমে বিক্রি হচ্ছে ৮৮.৬০ ডলারে। উল্লেখ্য, ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থা এবং হরমুজ প্রণালীতে নিরাপত্তা সংকটের কারণে গত কয়েকদিন ধরেই তেলের দাম ছিল আকাশচুম্বী। গত রোববার তেলের দাম বিগত চার বছরের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছিল। সেদিন ব্রেন্ট ক্রুড ১০৮.৬৮ ডলার এবং ডব্লিউটিআই ১০৮ ডলারে বিক্রি হয়েছিল। তবে সোমবার ফ্লোরিডায় এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প যুদ্ধ থামার আভাস দেওয়ার পর থেকেই পরিস্থিতি পাল্টাতে শুরু করে। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, দাম কিছুটা কমলেও সাধারণ সময়ের তুলনায় তেলের বাজার এখনো প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি চড়া। তবে যুদ্ধের উত্তাপ কমলে সাধারণ মানুষের ওপর জ্বালানি তেলের বাড়তি চাপের বোঝা অনেকটাই লাঘব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাব দেশের জ্বালানি তেলের বাজারে এখনও স্পষ্ট। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন লক্ষ্য করা গেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে তেল সংগ্রহ করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। তবে চালকরা জানিয়েছেন, সরকার নির্ধারিত পরিমাণ অনুযায়ী বিভিন্ন স্টেশনে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। রাজধানীর আসাদগেট এলাকায় সোনার বাংলা সার্ভিস স্টেশনে মোটরসাইকেল চালক আমজাদ হোসেন বলেন, সকালে দেরি না করতে এসে দেখেছেন, তাতেও দীর্ঘ লাইন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ঘণ্টাখানেকের মধ্যে তেল নিতে পারবেন। প্রাইভেটকার চালক ইদ্রিস মিয়া জানান, সীমিত পরিমাণ তেল দেওয়ায় দৈনন্দিন চাহিদা পুরোপুরি পূরণ হচ্ছে না। বর্তমানে ব্যক্তিগত গাড়িতে ১০ লিটার এবং এসইউভি বা মাইক্রোবাসে ২০–২৫ লিটার তেল দেওয়া হচ্ছে। এ কারণে অনেক চালক এক পাম্প থেকে আরেক পাম্পে ঘুরে তেল সংগ্রহ করতে বাধ্য হচ্ছেন। মোটরসাইকেল চালক রবিউল হুসাইন বলেন, সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে এক ঘণ্টা পর তেল পেরেছেন। তিনি জানান, সোনার বাংলা স্টেশনে মোটরসাইকেলের জন্য ৫০০ টাকা মূল্যের তেল বিতরণ করা হয়েছে, যা দুই দিনের চাহিদা মেটাতে পর্যাপ্ত। ফিলিং স্টেশনের কর্মকর্তারা জানান, তাদের কাছে তেল থাকা পর্যন্ত বিক্রি করা হয়। তারা বলেন, বিপিসি থেকে চাহিদার তুলনায় তেল সরবরাহ কমানো হয়েছে, কিন্তু চাহিদা এখনও বেশি। আগের তুলনায় লাইনের দৈর্ঘ্য কিছুটা কমেছে এবং আশা করা যাচ্ছে, শিগগিরই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।
বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে দেশে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সংকট এড়াতে আজ রোববার (৮ মার্চ) থেকে কার্যকর হচ্ছে রেশনিং পদ্ধতিতে তেল বিক্রি। শুক্রবার জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত রাজধানীর বিভিন্ন পেট্রোল পাম্প পরিদর্শন শেষে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিলেন। এরই মধ্যে পেট্রোল পাম্পগুলোতে লিখিত নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সোমবার থেকে দেশজুড়ে মাঠে নামছে ভ্রাম্যমাণ আদালত বা মোবাইল কোর্ট। জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে, বর্তমানে দেশে তেলের পর্যাপ্ত মজুত থাকলেও যুদ্ধের স্থায়িত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় এই আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানিয়েছেন, আগামী ৯ মার্চ আরও দুটি জ্বালানি তেলের জাহাজ (ভেসেল) দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে, তাই আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। তবে কোনো পাম্প যাতে মজুতদারি বা কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারে, সেজন্য কঠোর মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, প্রতিটি যানবাহনের জন্য দৈনিক তেলের পরিমাণ নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে একটি মোটরসাইকেল দিনে সর্বোচ্চ ২ লিটার পেট্রল বা অকটেন সংগ্রহ করতে পারবে। ব্যক্তিগত কার বা প্রাইভেট কারের জন্য এই সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ লিটার। এছাড়া স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিক্যাল (এসইউভি) বা জিপ এবং মাইক্রোবাসের ক্ষেত্রে দিনে ২০ থেকে ২৫ লিটার তেল পাওয়া যাবে। পরিবহন খাতের জন্য ডিজেলে বরাদ্দ কিছুটা বেশি রাখা হয়েছে। লোকাল বাস বা পিকআপ দিনে ৭০ থেকে ৮০ লিটার ডিজেল নিতে পারবে। অন্যদিকে দূরপাল্লার বাস, ট্রাক বা কাভার্ড ভ্যান দৈনিক সর্বোচ্চ ২০০ থেকে ২২০ লিটার ডিজেল সংগ্রহের সুযোগ পাবে। সরকার আশা করছে, এই সুশৃঙ্খল বণ্টনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমিয়ে আনা এবং জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন ঋণের বাজারেও। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে যাওয়া এবং আর্থিক অনিশ্চয়তা বাড়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে হাউজিং লোন বা মর্টগেজের সুদের হার আবার বাড়তে শুরু করেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ৩০ বছরের দীর্ঘমেয়াদি স্থির সুদের মর্টগেজ হার তিন বছরের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এলেও চলতি সপ্তাহে তা আবার বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারণে তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় এই পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়লে মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কাও বেড়ে যায়। এতে বিনিয়োগকারীরা বেশি সুদে সরকারি বন্ড কিনতে শুরু করেন, যার ফলে বন্ডের ফলন বাড়ে। আর এই বন্ডের ফলনের সঙ্গে যুক্ত থাকে মর্টগেজ ঋণের সুদের হার। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, যদি মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং তেলের দাম আরও বাড়ে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রে আবাসন ঋণের সুদের হার আরও বাড়তে পারে। এতে বাড়ি কেনা সাধারণ মানুষের জন্য আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে। তবে পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে এবং বাজারে অনিশ্চয়তা কমলে ভবিষ্যতে সুদের হার আবার কমার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তাল সমুদ্রসীমায় আবারো বড় ধরনের হামলার ঘটনা ঘটেছে। ওমানের মুসানদাম উপকূল থেকে মাত্র পাঁচ নটিক্যাল মাইল দূরে পালাউ-এর পতাকাবাহী তেলবাহী ট্যাঙ্কার 'স্কাইলাইট' (Skylight) ভয়াবহ আক্রমণের শিকার হয়েছে। ওমানের মেরিটাইম সিকিউরিটি সেন্টার এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই হামলায় জাহাজের চারজন ক্রু গুরুত্বর আহত হয়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জাহাজে থাকা ২০ জন ক্রুকেই দ্রুততার সাথে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে হামলার ধরন বা কারা এই ঘটনার পেছনে দায়ী, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। এই ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটলো যখন এর আগে ওমানের ডুকম (Duqm) বন্দরে দুটি ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গিয়েছিল। ওই হামলায় একজন বিদেশি কর্মী আহত হন। একের পর এক এই হামলাগুলো ওই অঞ্চলের সামুদ্রিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনার মধ্যেই বড় সিদ্ধান্ত নিল হোয়াইট হাউস। দীর্ঘ টানাপোড়েনের অবসান ঘটিয়ে ভেনেজুয়েলা সরকারকে তেল বিক্রির বকেয়া ৫০ কোটি ডলার ফিরিয়ে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মূলত ভেনেজুয়েলার ধসে পড়া অর্থনীতি সচল রাখতে এবং জনসেবামূলক খাতের বেতন-ভাতা নিশ্চিত করতেই এই অর্থ ছাড় করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। কাতারে গচ্ছিত এই অর্থ এখন থেকে ভেনেজুয়েলার শিক্ষক, পুলিশ এবং জরুরি সেবা কর্মীদের কল্যাণে ব্যয় করা হবে। গত মাসে ওয়াশিংটন ও কারাকাসের মধ্যে হওয়া গোপন চুক্তির অংশ হিসেবেই এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নেওয়া হলো।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস