ইরানের নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি ইসরায়েলি হামলায় আহত হওয়ার পর চিকিৎসার জন্য রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে নেওয়া হয়েছে—এমন দাবি করেছে আন্তর্জাতিক কয়েকটি গণমাধ্যম।
কুয়েতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জারিদার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উন্নত চিকিৎসার জন্য একটি বিশেষ রুশ সামরিক বিমানে করে তাকে গোপনে মস্কোতে নেওয়া হয়। সেখানে তার পায়ে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর তার ছেলে মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই খবর আসে যে ওই হামলায় তিনিও আহত হয়েছেন।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল ও দ্য সান আল জারিদার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, রুশ প্রেসিডেন্টের উদ্যোগে মস্কোর একটি বিশেষ স্থানে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে তার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
কিছু আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, হামলায় তার শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এমনকি কিছু অসমর্থিত সূত্রে বলা হয়েছে, তিনি গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ওয়াশিংটনের কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী মোজতবা খামেনি গুরুতর আহত হতে পারেন।
তবে ইরান সরকার এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। ফলে তার বর্তমান শারীরিক অবস্থা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনায় ইরান আগ্রহী নয় বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। রোববার (তারিখ) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ফেস দ্য নেশন-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। আব্বাস আরাগচি বলেন, ইরান বর্তমানে স্থিতিশীল এবং নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় যথেষ্ট শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। তার ভাষায়, আমরা শুধু আমাদের জনগণকে রক্ষা করছি। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার কোনো কারণ আমরা দেখি না। তিনি আরও বলেন, অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চলাকালেই ইরান হামলার শিকার হয়েছে। সে কারণে মার্কিনিদের সঙ্গে আলোচনার অভিজ্ঞতা ইতিবাচক নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। এর আগে গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান যুদ্ধবিরতির আগ্রহ দেখাচ্ছে। তবে ট্রাম্পের এই বক্তব্য সরাসরি নাকচ করে দেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। আরাগচি বলেন, আমরা কখনো যুদ্ধবিরতির কথা বলিনি। এমনকি আলোচনার বিষয়েও কোনো কথা বলিনি। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্ক আরও তীব্র অবস্থায় পৌঁছেছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
ইরানে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে প্রতিবেশী দেশটিতে জরুরি মানবিক সহায়তা পাঠিয়েছে তুর্কমেনিস্তান। ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম, পোশাক ও খাদ্যসামগ্রী নিয়ে চারটি রেফ্রিজারেটেড ট্রাক রোববার (১৫ মার্চ) রাজধানী আশখাবাত থেকে ইরানের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। তুর্কমেনিস্তানের একটি দাতব্য ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে এই সহায়তা পাঠানো হয়েছে। মূলত সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে শিশুদের সহায়তার উদ্দেশ্যেই এসব সামগ্রী পাঠানো হয়েছে বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। সরকারি সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, বন্ধুপ্রতিম ও ভ্রাতৃপ্রতিম সম্পর্কের প্রতীক হিসেবেই এই মানবিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মধ্য এশিয়ার গ্যাসসমৃদ্ধ ও তুলনামূলক বিচ্ছিন্ন দেশ তুর্কমেনিস্তানের সঙ্গে ইরানের প্রায় ১ হাজার ১৪৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে নিরাপত্তা ও আশ্রয়ের খোঁজে বিভিন্ন দেশের মানুষ সীমান্ত পেরিয়ে তুর্কমেনিস্তানে প্রবেশ করছেন। দেশটির কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ১৬টি দেশের প্রায় ২৫০ জন মানুষ সেখানে আশ্রয় নিয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি মানবিক সহায়তা কার্যক্রমও চালিয়ে যাচ্ছে তুর্কমেনিস্তান। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান আঞ্চলিক অস্থিরতার মধ্যে তুর্কমেনিস্তানের এই পদক্ষেপ মানবিক সহমর্মিতার একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করছে। বিশেষ করে যুদ্ধের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের সহায়তাকে অগ্রাধিকার দেওয়াকে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি সুস্থ আছেন এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-আরাবি আলজাদিদ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, নতুন সর্বোচ্চ নেতা সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন এবং দেশের চলমান পরিস্থিতি তিনি সরাসরি তদারকি করছেন। গত ৮ মার্চ ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে মোজতবা খামেনিকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। তবে ১২ মার্চ দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে তার একটি ভাষণ প্রচার করা হয়, যা একজন উপস্থাপক পড়ে শোনান। সাক্ষাৎকারে আব্বাস আরাঘচি বলেন, চলমান যুদ্ধের ন্যায্য সমাপ্তি নিশ্চিত করতে পারে—এমন যেকোনো আঞ্চলিক উদ্যোগকে ইরান স্বাগত জানাবে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদেশগুলোর জাহাজের জন্য তা বন্ধ রাখা হবে। তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত যুদ্ধ বন্ধে কোনো নির্দিষ্ট উদ্যোগ আলোচনার টেবিলে নেই। এদিকে মোজতবা খামেনির অবস্থান ও জীবিত থাকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় শনিবার (১৪ মার্চ) এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “তিনি আদৌ বেঁচে আছেন কি না, আমি জানি না। এখন পর্যন্ত কেউ তার উপস্থিতির প্রমাণ দিতে পারেনি।” তবে একই সঙ্গে খামেনির মৃত্যুর খবরকে গুজব বলেও উল্লেখ করেন ট্রাম্প। তার ভাষ্য, যদি খামেনি জীবিত থাকেন, তাহলে নিজের দেশের স্বার্থে তার ‘বুদ্ধিমানের সিদ্ধান্ত’ নেওয়া উচিত।