- প্রচ্ছদ
- Topic
রাশিয়া
ইউক্রেনের দিনিপ্রো শহরের একটি ব্যস্ত রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্মে রাশিয়ার ভয়াবহ ড্রোন হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত এবং আরও ১৪ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের গভর্নর ওলেক্সান্দর গানঝা এই হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। আহতদের মধ্যে ১১ বছর বয়সী এক শিশুও রয়েছে এবং স্প্লিন্টারের আঘাতে অন্তত ছয়জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, হামলার সময় প্ল্যাটফর্মে একটি লোকাল ও একটি দূরপাল্লার যাত্রীবাহী ট্রেন দাঁড়িয়ে ছিল। বেসামরিক নাগরিকদের ওপর চালানো এই হামলাকে 'ভয়াবহ' আখ্যা দিয়ে তিনি মিত্র দেশগুলোকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার এবং মস্কোর ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা কোনোভাবেই শিথিল না করার আহ্বান জানিয়েছেন। এদিকে, এই রক্তক্ষয়ী হামলার মধ্যেই ইউক্রেনের যুদ্ধবিধ্বস্ত ওলেশকি শহরকে ঘিরে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে একটি সীমিত যুদ্ধবিরতি টানা তৃতীয় দিনে গড়িয়েছে। ২০২২ সাল থেকে রুশ নিয়ন্ত্রিত এই শহরের বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে খাদ্য, পানি ও ওষুধের তীব্র সংকটে ভুগছেন। ইউক্রেনের মানবাধিকারবিষয়ক ন্যায়পাল দিমিত্রো লুবিনেটস জানিয়েছেন, সংকট নিরসনে একটি ইউক্রেনীয় প্রতিনিধিদল নিয়ে বেলারুশ ও রাশিয়া হয়ে তিনি ওলেশকির উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। দিনিপ্রোতে রুশ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ চলমান এই সীমিত যুদ্ধবিরতির পরিবর্তে দেশটিতে আরও বিস্তৃত ও স্থায়ী যুদ্ধবিরতির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন। যাত্রীবাহী ট্রেনে চালানো এই নারকীয় হামলা ইউক্রেন যুদ্ধের ভয়াবহতাকে আবারও বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরার পাশাপাশি রাশিয়ার ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর দাবিকে আরও জোরালো করেছে।
রাশিয়া থেকে ডিজেল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দিকে যাচ্ছে তিনটি তেলবাহী ট্যাংকার। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে সমঝোতার পর এই চালান পাঠানো হচ্ছে। সামুদ্রিক জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, জাহাজ তিনটিতে মোট ৯ লাখ ২৪ হাজার ব্যারেল ডিজেল রয়েছে। আগামী ৭ থেকে ১১ নভেম্বরের মধ্যে এগুলো যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলে পৌঁছাতে পারে। তবে জাহাজগুলোর চূড়ান্ত গন্তব্য এবং চালানের আইনি অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। খবর এএফপি ও নিউজউইকের। জাহাজ তিনটির নাম অ্যাজিওই ফানেনদেস, লেরুও ও তালিসম্যান। এগুলো ১৬ থেকে ২২ অক্টোবরের মধ্যে রাশিয়ার বাল্টিক সাগর তীরবর্তী প্রিমোরস্ক বন্দর ছেড়েছে। কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, অ্যাজিওই ফানেনদেসের গন্তব্য হিসেবে প্রথমে নিউ ইয়র্কের নাম দেখা গেলেও পরে সেটি পরিবর্তন করে ‘নির্দেশের অপেক্ষায়’ দেখানো হয়। ফলে জাহাজটি শেষ পর্যন্ত কোথায় পণ্য খালাস করবে, তা নিশ্চিত নয়। অন্য দুই জাহাজের সম্ভাব্য গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টিক উপকূল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনটি জাহাজের মধ্যে লেরুও যুক্তরাজ্য, কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তালিসমানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। এসব নিষেধাজ্ঞার পেছনে রুশ পণ্য পরিবহন এবং জাহাজের অবস্থান শনাক্ত করার প্রযুক্তি বন্ধ রাখা ও জাহাজ থেকে জাহাজে পণ্য স্থানান্তরের মতো কর্মকাণ্ডের বিষয় উঠে এসেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রে এই চালান পাঠানোর ক্ষেত্রে কোন বিধান প্রযোজ্য হবে এবং মার্কিন অনুমোদন অন্য পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে কীভাবে সম্পর্কিত, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ট্রাম্প ৯ অক্টোবর পুতিনের সঙ্গে আলোচনার পর রাশিয়া থেকে ডিজেল সরবরাহের সমঝোতার কথা জানান। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, জ্বালানির দাম কমানো এবং মার্কিন কৃষক, খামারি ও পণ্য পরিবহন খাতকে স্বস্তি দেওয়া এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য। পরিকল্পনায় প্রথমে ৩ লাখ টনের বেশি ডিজেল সরবরাহের কথা বলা হয়েছিল। এরপর নভেম্বরে আরও ৫ লাখ টন এবং পরবর্তী সময়ে অতিরিক্ত চালান পাঠানোর পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় রুশ ডিজেল আমদানির নির্দিষ্ট লেনদেনের অনুমতি দিয়ে ছয় মাসের একটি সাময়িক ছাড় দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই সমঝোতার সমালোচনা করেছেন। তাঁর আশঙ্কা, রুশ জ্বালানি বিক্রির সুযোগ বাড়লে মস্কো আরও রাজস্ব পাবে, যা ইউক্রেনের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে রাশিয়ার সক্ষমতা ধরে রাখতে সহায়তা করতে পারে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্র রুশ জ্বালানি আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। সেই নীতিতে শিথিলতা আনায় কিয়েভ ও তার মিত্রদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইউক্রেনের অবস্থান, রুশ জ্বালানি থেকে আয় বন্ধ করে মস্কোর ওপর চাপ বজায় রাখা জরুরি। সমঝোতাটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও সমালোচনা দেখা দিয়েছে। রিপাবলিকান সিনেটর থম টিলিসসহ কয়েকজন আইনপ্রণেতা প্রশ্ন তুলেছেন, এই পদক্ষেপ মার্কিন আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না। দুই দলের কয়েকজন সিনেটর ট্রাম্পকে সমঝোতা প্রত্যাহারের আহ্বানও জানিয়েছেন। তাঁদের আশঙ্কা, রুশ জ্বালানি বিক্রির অনুমতি দিলে ক্রেমলিন আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারে, অথচ মার্কিন ভোক্তারা জ্বালানির দামে উল্লেখযোগ্য স্বস্তি পাবেন কি না, তা অনিশ্চিত। ট্রাম্প সমালোচনার জবাবে বলেছেন, রুশ জ্বালানি সরবরাহ সীমিত করলে বৈশ্বিক বাজারেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এই চালান যুক্তরাষ্ট্রের ডিজেলের দাম কতটা কমাতে পারবে, তা এখনই বলা কঠিন। জাহাজ তিনটির মোট ৯ লাখ ২৪ হাজার ব্যারেল ডিজেল যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহন খাতের দৈনিক ব্যবহারের প্রায় এক-তৃতীয়াংশের সমান বলে কেপলারের হিসাব উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তবে একাধিক জাহাজের চালান যুক্তরাষ্ট্রে এলেই বৈশ্বিক সরবরাহ বাড়বে, এমন নিশ্চয়তা নেই। রুশ ডিজেল অন্য ক্রেতাদের বদলে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হলে তা বাজারে নতুন জ্বালানি যোগ করার পরিবর্তে বিদ্যমান সরবরাহের গন্তব্য বদলে দিতে পারে। সূত্র: এএফপি, নিউজউইক।
রাশিয়ায় পাসপোর্ট ও নাগরিকত্বের আবেদনের ছবিতে মুসলিম নারীরা হিজাব পরতে পারবেন। তবে এ ক্ষেত্রে মুখমণ্ডল স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান রাখাসহ বেশ কিছু শর্ত মানতে হবে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নতুন সরকারি সিদ্ধান্ত হিসেবে প্রচার করা হলেও রাশিয়ায় এই অনুমতি আগে থেকেই কার্যকর রয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২০২৪ সালের বিধিমালায় বিদেশি নাগরিকত্বপ্রার্থীদের জন্যও ধর্মীয় কারণে মাথা ঢেকে ছবি জমা দেওয়ার সুযোগ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। রাশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২০২৪ সালের ২১ মার্চ জারি করা ১২৫ নম্বর আদেশ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে অপরিচিত মানুষের সামনে মাথা অনাবৃত রাখা সম্ভব না হলে তিনি ধর্মীয় পোশাক পরেই নাগরিকত্বের আবেদনের ছবি জমা দিতে পারবেন। ওই আদেশ ৫ মে থেকে কার্যকর হয়। ফলে মুসলিম নারীদের হিজাব খুলে ছবি তোলার বাধ্যবাধকতা নেই। তবে শর্ত হলো, হিজাব বা মাথার কাপড় দিয়ে মুখের স্বাভাবিক আকৃতি আড়াল করা যাবে না। বিধিমালায় বলা হয়েছে, ছবিতে আবেদনকারীর মুখের সম্পূর্ণ গঠন স্পষ্টভাবে বোঝা যেতে হবে। বিশেষ করে কপাল, চোখ ও থুতনি এমনভাবে দৃশ্যমান রাখতে হবে, যাতে পরিচয় শনাক্ত করতে সমস্যা না হয়। হিজাব বা স্কার্ফ দিয়ে থুতনির পুরোটা কিংবা কোনো অংশ ঢেকে রাখা যাবে না। একইভাবে মুখের আকৃতি আড়াল করে এমন পোশাক পরেও ছবি জমা দেওয়া যাবে না। এসব শর্ত পূরণ না হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ছবি গ্রহণ না করার সুযোগ রাখে। নাগরিকত্বের আবেদনের জন্য ছবির আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ বাই ৪ সেন্টিমিটার। আবেদনকারীকে সরাসরি ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে ছবি তুলতে হবে। ছবির পটভূমি হতে হবে সাদা এবং সেখানে কোনো ছায়া বা অপ্রয়োজনীয় বস্তু থাকা চলবে না। চোখ স্পষ্টভাবে খোলা থাকতে হবে এবং চুল দিয়ে চোখ ঢেকে রাখা যাবে না। ছবিতে মুখের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করতে কোনো ধরনের অতিরিক্ত ডিজিটাল সম্পাদনাও গ্রহণযোগ্য নয়। এই সুবিধা শুধু মুসলিম নারীদের জন্য সীমাবদ্ধ নয়। রাশিয়ার বিধিমালায় ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে মাথা ঢেকে রাখেন এমন ব্যক্তিদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ অন্য ধর্মাবলম্বীরাও নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে ধর্মীয় মাথার পোশাক পরে ছবি জমা দিতে পারবেন। তবে সাধারণ ফ্যাশন বা ব্যক্তিগত পছন্দের কারণে টুপি কিংবা মাথার অন্য কোনো পোশাক পরার ক্ষেত্রে এই বিশেষ ছাড় প্রযোজ্য নয়। রাশিয়ায় ধর্মীয় পোশাক পরে সরকারি নথির ছবি তোলার অধিকার নিয়ে বিতর্কের ইতিহাসও বেশ পুরোনো। ২০০৩ সালে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট ধর্মীয় কারণে মাথা ঢেকে পাসপোর্টের ছবি তোলার অধিকারকে স্বীকৃতি দেয়। এর পরবর্তী সময়ে পাসপোর্টসংক্রান্ত বিভিন্ন বিধিমালায় ধর্মীয় মাথার পোশাক ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়। ২০২৪ সালে নাগরিকত্বের আবেদনসংক্রান্ত আলাদা বিধিমালায় বিদেশি আবেদনকারীদের ক্ষেত্রেও বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়। ফলে সাম্প্রতিক প্রচারণায় এটিকে ২০২৬ সালের সম্পূর্ণ নতুন অনুমতি হিসেবে উপস্থাপন করা সঠিক নয়। রুশ পার্লামেন্টের নিরাপত্তা ও দুর্নীতিবিরোধী কমিটির সদস্য বিসুলতান খামজায়েভ ২০২৪ সালে জানিয়েছিলেন, এই বিধানের উদ্দেশ্য ধর্মীয় ঐতিহ্য পালনের সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করা। তাঁর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, পরিচয় শনাক্তকরণ ও ভিডিও নজরদারি ব্যবস্থায় মুখের বৈশিষ্ট্য স্পষ্ট থাকা গুরুত্বপূর্ণ। সে কারণে ধর্মীয় পোশাক ব্যবহারের অনুমতি থাকলেও মুখ ঢেকে রাখার সুযোগ দেওয়া হয়নি। রাশিয়ার সরকারি বিধিমালার এই ব্যবস্থা দেশটিতে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিক এবং ভবিষ্যতে নাগরিকত্বের আবেদন করতে আগ্রহীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে হিজাব ব্যবহার করেন এমন নারীরা নির্ধারিত নিয়ম মেনে ছবি জমা দিতে পারবেন। তবে হিজাব পরার অনুমতি মানেই নাগরিকত্ব পাওয়ার শর্ত সহজ করা নয়। নাগরিকত্বের আবেদন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অন্যান্য আইনি যোগ্যতা আগের মতোই পৃথকভাবে যাচাই করা হবে।
রাশিয়া থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হয়েছে একটি তেলবাহী জাহাজ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার মধ্যে নতুন জ্বালানি সরবরাহ চুক্তির পর এটিই যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে পাঠানো প্রথম ডিজেলের চালান। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনের আগে জ্বালানির ঊর্ধ্বমুখী দাম নিয়ন্ত্রণে আনার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এই চুক্তি করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। একই সঙ্গে রাশিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার কিছু বিধানও শিথিল করা হয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠানের তথ্যের ভিত্তিতে এ খবর জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাল্টার পতাকাবাহী মাঝারি আকারের ট্যাংকার ‘আগিওই ফানেন্দেস’ গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাশিয়ার বাল্টিক সাগরীয় প্রিমোরস্ক বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে। জাহাজটিতে রয়েছে ৪০ হাজার মেট্রিক টন অতি কম সালফারযুক্ত ডিজেল, যা প্রায় তিন লাখ ব্যারেলের সমপরিমাণ। এলএসইজি ও কেপলারের জাহাজ চলাচলসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, ট্যাংকারটির গন্তব্য নিউইয়র্ক। আগামী ৭ নভেম্বর এটি যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। তবে চালানটির ক্রেতা ও বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। এই চালান যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার জ্বালানি বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রায় সামরিক অভিযান শুরু করার পর তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। সেই নিষেধাজ্ঞার পর রাশিয়া থেকে সরাসরি জ্বালানি আমদানির পথ অনেকাংশে বন্ধ হয়ে যায়। নতুন চুক্তির মাধ্যমে কয়েক বছর পর আবার রুশ ডিজেল যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে জাহাজটি এখনো যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছায়নি। গত ৯ অক্টোবর ট্রাম্প রাশিয়া থেকে ডিজেল সরবরাহের নতুন চুক্তির ঘোষণা দেন। তাঁর ঘোষণা অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক বাজারে তিন লাখ মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহ করবে। এর পর নভেম্বরে আরও পাঁচ লাখ মেট্রিক টন এবং পরবর্তী সময়ে অতিরিক্ত ১০ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল রপ্তানির পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম পর্যায়ের তিন লাখ মেট্রিক টন ডিজেল প্রায় ২২ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেলের সমপরিমাণ। তবে ঘোষিত মোট সরবরাহের সবটুকু শুধু যুক্তরাষ্ট্রে আসবে, এমন নিশ্চয়তা দেওয়া হয়নি। চুক্তির অংশ হিসেবে রাশিয়ার ওপর নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আইনের কয়েকটি বিধান প্রয়োগ সাময়িকভাবে শিথিল করেছেন ট্রাম্প। এর ফলে নির্দিষ্ট শর্তে রুশ ডিজেল বাণিজ্যের সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে রাশিয়াও ডিজেল রপ্তানির ওপর নিজেদের আরোপিত কিছু বিধিনিষেধ তুলে নিতে সম্মত হয়েছে। এর আগে অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহ নিশ্চিত রাখতে ডিজেল রপ্তানিতে সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছিল মস্কো। নতুন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি অন্যান্য আন্তর্জাতিক বাজারেও রপ্তানি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে দেশটি। রাশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাক জানিয়েছেন, দুই দেশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো ডিজেল সরবরাহের চুক্তি চূড়ান্ত করার কাজ করছে। প্রথম চালানের পর আরও জাহাজ পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষ নাগাদ রাশিয়া ডিজেল রপ্তানি বাড়িয়ে প্রতি মাসে ৩০ লাখ থেকে ৩৫ লাখ মেট্রিক টনে নিতে পারবে। এটি দেশটির স্বাভাবিক রপ্তানি সক্ষমতার কাছাকাছি। তবে ইউক্রেনের হামলায় কিছু রুশ তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উৎপাদন ও সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক করা এখনো চ্যালেঞ্জের বিষয়। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ডিজেলের দাম কমানোর লক্ষ্যে ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপরও চাপ সৃষ্টি করেছেন ট্রাম্প। জরুরি জ্বালানি মজুত থেকে ইউরোপের দেশগুলো আরও তেল বাজারে না ছাড়লে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিজেল রপ্তানি বন্ধের হুমকি দিয়েছেন তিনি। ট্রাম্প প্রশাসনের লক্ষ্য আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলের সরবরাহ বাড়িয়ে মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে আনা। তবে রাশিয়ার সঙ্গে নতুন চুক্তি এবং ইউরোপের ওপর চাপ প্রয়োগের সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত জ্বালানি ও নিষেধাজ্ঞানীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই সিদ্ধান্তের রাজনৈতিক গুরুত্বও রয়েছে। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনের আগে জ্বালানি তেলের দাম সাধারণ ভোটারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক বিষয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে পরিবহন, পণ্য সরবরাহ, কৃষি ও নির্মাণ খাতে ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালন ব্যয় বাড়াচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন সরবরাহ বাড়ানোর মাধ্যমে এসব খাতে ব্যয় কমানোর চেষ্টা করছে। তবে নতুন চালানটি নির্বাচনের চার দিন পর, ৭ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর কথা। বিশ্লেষকেরা বলছেন, একটি জাহাজে ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহ যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল জ্বালানি বাজারের তুলনায় সীমিত। ফলে শুধু এই চালান দিয়ে দেশজুড়ে ডিজেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম, শোধনাগারের উৎপাদন, পরিবহন ব্যয় এবং জ্বালানির চাহিদাসহ একাধিক বিষয় ডিজেলের খুচরা মূল্য নির্ধারণে ভূমিকা রাখে। নতুন চুক্তির পর আরও কত চালান বাস্তবে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছায়, তার ওপরও সম্ভাব্য বাজারপ্রভাব নির্ভর করবে। ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার জ্বালানি রপ্তানির ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা কয়েক বছর ধরে কার্যকর রয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পরিশোধিত তেলজাত পণ্য আমদানিতে পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করে। এরপর রাশিয়া প্রধানত ব্রাজিল, তুরস্ক এবং আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে ডিজেল রপ্তানি করে আসছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন সরবরাহ চুক্তির ফলে রুশ জ্বালানি বাণিজ্যে নতুন বাজারের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে ইউক্রেন ও তার মিত্রদের মধ্যে সমালোচনাও দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশিসহ সাধারণ ভোক্তা, ট্রাকচালক, পরিবহন ব্যবসায়ী ও ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য ডিজেলের দামের পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ। ডিজেলের দাম বাড়লে পণ্য পরিবহন ও সরবরাহ ব্যয় বেড়ে যেতে পারে, যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত বিভিন্ন পণ্যের বাজারেও পড়তে পারে। তবে রাশিয়া থেকে নতুন চালান আসার অর্থ এই নয় যে পাম্পে ডিজেলের দাম তাৎক্ষণিকভাবে কমে যাবে। জাহাজটি যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানো, সরবরাহ সম্পন্ন হওয়া এবং বাজারে অতিরিক্ত জ্বালানি প্রবেশের পর প্রকৃত প্রভাব মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে। SOURCE - রয়টার্স
রাশিয়াকে সামরিকভাবে পরাজিত করা ইউরোপের পক্ষে সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। একই সঙ্গে ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় আলোচনা আবারও শুরু করতে মস্কো নীতিগতভাবে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন তিনি। ইউরোপের দেশগুলোর সামরিক প্রস্তুতির সমালোচনা করে পুতিন বলেছেন, রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে জড়ানোর বিষয়ে ইউরোপের বক্তব্য বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। রুশ সংবাদমাধ্যম তাসের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি এক সাংবাদিকের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে পুতিন ইউক্রেনকে রাশিয়ার ‘ভ্রাতৃপ্রতিম জাতি’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি রুশ ও ইউক্রেনীয়দের ঐতিহাসিক ও জাতিগত ঘনিষ্ঠতার কথা তুলে ধরেন। তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সরকারের সমালোচনা করে তাঁর দাবি, কিয়েভের নেতৃত্ব সাধারণ মানুষকে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠাচ্ছে। এসব বক্তব্য রুশ প্রেসিডেন্টের নিজস্ব অবস্থান হিসেবে এসেছে, স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য হিসেবে নয়। ইউরোপের দেশগুলো রাশিয়ার সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ মোকাবিলায় প্রতিরক্ষা জোরদার করছে। এর প্রতিক্রিয়ায় পুতিন ইউরোপের যুদ্ধপ্রস্তুতিকে ‘রাজনৈতিক সিজোফ্রেনিয়া’ বলে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, ইউরোপের জনগণ রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে জড়াতে চায় না এবং মস্কোরও ইউরোপের সঙ্গে যুদ্ধ করার ইচ্ছা নেই। তাঁর দাবি, অতীতে যারা রাশিয়াকে পরাজিত করার চেষ্টা করেছে, তারা শেষ পর্যন্ত দেশটির সঙ্গে শত্রুতার পরিবর্তে বন্ধুত্বের গুরুত্ব বুঝেছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় আলোচনার প্রসঙ্গে পুতিন বলেন, রাশিয়া ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ ও আলোচনা পুনরায় শুরু করতে প্রস্তুত। ক্রেমলিনের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে সেন্ট পিটার্সবার্গে বৈঠকের পর এ বিষয়ে আলোচনা এগিয়েছে। সম্ভাব্য বৈঠকে রাশিয়া, ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা অংশ নিতে পারেন। তবে আলোচনার নির্দিষ্ট সময়সূচি ও আলোচ্যসূচি সম্পর্কে চূড়ান্ত ঘোষণা না আসা পর্যন্ত বৈঠকটি নিশ্চিত বলে ধরে নেওয়া যাচ্ছে না। ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও দুই পক্ষের মধ্যে ভূখণ্ড, নিরাপত্তা নিশ্চয়তা এবং যুদ্ধ-পরবর্তী ব্যবস্থাপনা নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। ফলে নতুন করে ত্রিপক্ষীয় আলোচনা শুরু হলেও দ্রুত সমঝোতায় পৌঁছানো সহজ হবে না। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় আলোচনার উদ্যোগ যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে, তবে এর সাফল্য নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অবস্থান ও সমঝোতার ওপর। সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, তাস।
রাশিয়ায় চার বছরের বেশি সময় ধরে বন্দি থাকা ৭৪ বছর বয়সী মার্কিন নাগরিক স্টিফেন হাবার্ডকে মুক্তি দিয়েছে মস্কো। বুধবার (২১ অক্টোবর) রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এ তথ্য জানান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুরোধের পর হাবার্ডকে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। মুক্তির পর হাবার্ডকে রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গের পুলকোভো বিমানবন্দরে রাখা হয়। সেখান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। হাবার্ডকে মুক্তি দেওয়ার জন্য পুতিনকে ধন্যবাদ জানান তিনি। ইউক্রেনের সঙ্গে রাশিয়ার চলমান যু দ্ধ বন্ধে নতুন উদ্যোগ নিয়ে আলোচনার জন্য বুধবার সকালে সেন্ট পিটার্সবার্গে পৌঁছান উইটকফ। তাঁর এই সফরে হাবার্ডের মুক্তির বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এর আগের দিনই হাবার্ডের মুক্তির বিষয়ে পুতিনের সঙ্গে কথা বলার কথা প্রকাশ্যে জানান। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, হাবার্ডের বিষয়টি নিয়ে পুতিনের সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা করেছেন এবং তাঁকে মুক্তি দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। তখনই ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, কয়েক দিনের মধ্যে এ বিষয়ে অগ্রগতি হতে পারে। পরদিনই রাশিয়ার পক্ষ থেকে মুক্তির ঘোষণা আসে। মিশিগানের বাসিন্দা হাবার্ড পেশায় একজন অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক। ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় শহর ইজিয়ামে বসবাস করতেন তিনি। ২০২২ সালের এপ্রিলে শহরটিতে রুশ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর তাঁকে আ ট ক করা হয়। রুশ কর্তৃপক্ষের অভিযোগ ছিল, তিনি ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর পক্ষে ভাড়াটে যোদ্ধা হিসেবে কাজ করেছেন। ইউক্রেনের একটি সামরিক চৌকিতে দায়িত্ব পালনের অভিযোগও আনা হয় তাঁর বিরুদ্ধে। ২০২৪ সালে রাশিয়ার একটি আদালত রুদ্ধদ্বার বিচার শেষে হাবার্ডকে প্রায় সাত বছরের কারাদণ্ড দেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার আ ক্র ম ণ শুরুর পর তিনি ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন। পরে রুশ বাহিনীর হাতে ধরা পড়েন তিনি। তবে হাবার্ডের মার্কিন আইনজীবী মার্টিন ডি লুকা অভিযোগগুলোকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, হাবার্ড জানিয়েছিলেন যে তিনি কোনো যু দ্ধ বা সামরিক ইউনিটের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। রুশ গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হাবার্ড অভিযোগ স্বীকার করেছিলেন। তবে তাঁর পরিবার এ বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। পরিবারের সদস্যরা তাঁর দীর্ঘদিনের শান্তিবাদী মনোভাবের কথা উল্লেখ করে অভিযোগের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তৎকালীন বাইডেন প্রশাসন হাবার্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের মধ্যে অন্যায়ভাবে আটক ব্যক্তি হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে চিহ্নিত করে। এর ফলে তাঁকে মুক্ত করতে মার্কিন সরকারের কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। মুক্তির আগ পর্যন্ত রাশিয়ায় আটক মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে তিনিই ছিলেন ওয়াশিংটনের এই শ্রেণিতে আনুষ্ঠানিকভাবে চিহ্নিত একমাত্র ব্যক্তি। হাবার্ডের মুক্তির ঘটনা এমন সময়ে ঘটল, যখন ট্রাম্প প্রশাসন রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যু দ্ধ বন্ধে সমঝোতার চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে দুই দেশের মধ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সমাধান আসেনি। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির ওপর সমঝোতায় পৌঁছানোর চাপও বাড়িয়েছেন ট্রাম্প। এ অবস্থায় হাবার্ডের মুক্তিকে দুই দেশের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক আলোচনার একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ শুরুর পর প্রথমবারের মতো দেশটি সফরে গেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ। সোমবার (১৯ অক্টোবর) তিনি রাজধানী তেহরানে পৌঁছেছেন বলে জানিয়েছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাস। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা কমানোর উদ্যোগ নিয়ে ইরানি নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর আলোচনার কথা রয়েছে। সফরকালে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে লাভরভের বৈঠকের সূচি রয়েছে। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আগের দিন এক ঘোষণায় এই কর্মসূচির কথা জানিয়েছিল। বাহরাইন থেকে তেহরানে পৌঁছান লাভরভ। এর আগে বাহরাইনে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ বা জিসিসির সদস্যদেশগুলোর কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। রয়া নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এর আগে পেজেশকিয়ানকে জানিয়েছিলেন, ইরানকে ঘিরে যুদ্ধের অবসানে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টায় ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত মস্কো। সেই কূটনৈতিক তৎপরতার ধারাবাহিকতায় লাভরভের এই সফর হচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া বারণ সত্ত্বেও রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে স্মরণকালের অন্যতম বৃহৎ ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। রোববার (১৮ অক্টোবর) ইউক্রেনীয় বাহিনীর পরিচালিত এই বিশাল হামলায় রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সেন্ট পিটার্সবার্গ তেল টার্মিনালে আগুন ধরে যায়। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি অনুযায়ী, দেশের ১৫টি ভিন্ন অঞ্চল, অধিকৃত ক্রিমিয়া এবং কৃষ্ণ সাগর এলাকা থেকে তারা মোট ১,০১৫টি ইউক্রেনীয় ড্রোন সফলভাবে গুলি করে ভূপাতিত করেছে। এত বিপুল সংখ্যক ড্রোন ধ্বংসের দাবি করা হলেও, এই হামলায় সেন্ট পিটার্সবার্গের ওই মূল তেল টার্মিনালের পাশাপাশি রাশিয়ার সর্ববৃহৎ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ভিকে-এর (VK) একটি ডেটা সেন্টারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তিকে পাশ কাটিয়ে চালানো এই হামলার ফলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির মধ্যকার সম্পর্ক নতুন করে আরও তিক্ততার মুখে পড়েছে। ট্রাম্প সম্প্রতি রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলাকে অনুচিত বলে মন্তব্য করে দাবি করেছিলেন যে, দুই দেশ জ্বালানি খাতে হামলা না চালানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছে। তবে কিয়েভ কিংবা মস্কো—কোনো পক্ষই এখন পর্যন্ত এমন কোনো চুক্তির কথা স্বীকার করেনি। উল্টো জেলেনস্কি জানিয়েছেন, ট্রাম্পের ওই তথাকথিত আলোচনার ঘোষণার পরও রাশিয়া গত এক সপ্তাহে ইউক্রেনের জ্বালানি, তেল ও গ্যাস খাতে অন্তত ৭৬ বার হামলা চালিয়েছে। নিজের দেশের অস্তিত্ব রক্ষায় পাল্টা জবাব দেওয়ার কথা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট। মার্কিন সমর্থন ও গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে নানা বাধা সত্ত্বেও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়েছে কিয়েভ। সম্প্রতি ট্রাম্প রাশিয়ার ওপর থেকে কিছু অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ায় এর কড়া সমালোচনা করেছেন জেলেনস্কি। তিনি অভিযোগ করেছেন, রাশিয়াকে ছাড় দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত একটি 'ঐতিহাসিক ভুল', যা মস্কোর যুদ্ধ ও আগ্রাসনকে কেবল আরও উৎসাহিতই করবে।
রাশিয়ায় বড় পরিবার গড়ে তোলা ও সন্তান লালন-পালনের স্বীকৃতি হিসেবে একাধিক মাকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মুসলিম-অধ্যুষিত দাগেস্তান অঞ্চলের ১২ সন্তানের জননী বুরলিয়াত মেজিদোভা। ২০২৬ সালের ১ জুন আন্তর্জাতিক শিশু দিবস উপলক্ষে মস্কোর ক্রেমলিনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাঁকে ‘মাদার হিরোইন’ বা ‘বীরমাতা’ পদক দেওয়া হয়। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধি দপ্তর ও সংবাদমাধ্যম ভেদোমস্তির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বড় পরিবারগুলোর সন্তান লালন-পালন এবং পারিবারিক দায়িত্ব পালনের স্বীকৃতি দিতেই এই সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। দাগেস্তানের দেরবেন্ট শহরের বাসিন্দা বুরলিয়াত মেজিদোভা তাঁর স্বামীর সঙ্গে সাত ছেলে ও পাঁচ মেয়েকে বড় করছেন। তাঁর সন্তানদের মধ্যে বড়টির বয়স ১৭ বছর, আর ছোটটির জন্ম ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে পাওয়া ‘বীরমাতা’ সম্মাননা দেশটিতে বহু সন্তান লালন-পালনকারী মায়েদের জন্য অন্যতম উচ্চ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি। রাশিয়ায় ১০ বা তার বেশি সন্তান জন্ম দিয়ে লালন-পালন করা নারীরা এই পদকের জন্য বিবেচিত হন। অনুষ্ঠানে শুধু দাগেস্তানের এই পরিবারই নয়, রাশিয়ার আরও কয়েকটি অঞ্চলের বহু সন্তানবিশিষ্ট পরিবারকে সম্মানিত করা হয়। ‘বীরমাতা’ পদকের পাশাপাশি সাত বা তার বেশি সন্তান লালন-পালনকারী পরিবারগুলোকে ‘প্যারেন্টাল গ্লোরি’ বা ‘পিতামাতার গৌরব’ পদক দেওয়া হয়। ক্রেমলিনের অনুষ্ঠানে মস্কো, পস্কভ, রোস্তভ, তিউমেন, নোভোসিবিরস্কসহ বিভিন্ন অঞ্চল এবং দাগেস্তান ও উত্তর ওসেটিয়ার পরিবারগুলো অংশ নেয়। রাশিয়ায় ‘বীরমাতা’ উপাধি ২০২২ সালে পুনরায় চালু করা হয়। এর আওতায় ১০ বা তার বেশি সন্তান লালন-পালনকারী মায়েদের বিশেষ পদক দেওয়া হয়। অন্যদিকে, ‘পিতামাতার গৌরব’ পদক চালু হয়েছিল ২০০৮ সালে। এ সম্মাননা পেতে হলে বাবা-মা বা দত্তক অভিভাবকদের অন্তত সাত সন্তানকে লালন-পালন করতে হয় এবং তাঁদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামগ্রিক বিকাশের জন্য যথাযথ যত্ন নিশ্চিত করতে হয়। দাগেস্তানের আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, অঞ্চলটিতে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার বহু সন্তানবিশিষ্ট পরিবার রয়েছে। স্থানীয় নেতৃত্ব বড় পরিবার ও সন্তান লালন-পালনে মায়েদের অবদানকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছে। রুশ সরকারও জন্মহার বাড়ানো এবং পরিবারকেন্দ্রিক নীতি এগিয়ে নেওয়ার অংশ হিসেবে বহু সন্তানবিশিষ্ট পরিবারকে উৎসাহিত করে আসছে। তবে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা পাওয়ার পাশাপাশি এসব পরিবারের জন্য সামাজিক ও আর্থিক সহায়তার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন পর্যবেক্ষকেরা। সূত্র: দাগেস্তান প্রজাতন্ত্রের রুশ প্রেসিডেন্টের কাছে স্থায়ী প্রতিনিধি দপ্তর, ভেদোমস্তি।
রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকা ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় ওলেশকি শহরে খাদ্য ও ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। শহরটির বাসিন্দারা অনাহার ও চিকিৎসাসংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা। শনিবার, ১৭ অক্টোবর তিনি শহরটিকে ‘মৃ ত্যুফাঁদ’ হিসেবে বর্ণনা করে বাসিন্দাদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর জরুরি সহায়তা চেয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় সিবিহা বলেন, রুশ দখলদার বাহিনী ওলেশকিকে এমন এক পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে, যেখানে বাসিন্দাদের বেঁচে থাকাই কঠিন হয়ে পড়েছে। তাঁর অভিযোগ, শহরের হাসপাতালে ওষুধ শেষ হয়ে গেছে। রাস্তায় এবং বাড়ির ভেতরে বহু মানুষের মর দেহ পড়ে থাকলেও সেগুলো দাফন করতে বাসিন্দাদের বাধা দেওয়া হচ্ছে। খাদ্যসংকটের ভয়াবহতা তুলে ধরে সিবিহা বলেন, অনেক পরিবার বাগানে অবশিষ্ট থাকা শাকসবজি, সংরক্ষিত খাবার এমনকি শামুক খেয়েও বেঁচে থাকার চেষ্টা করছে। তাঁর ভাষ্য, ইউক্রেন বারবার নিরাপদে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া এবং মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। এসব আবেদন আর উপেক্ষা করা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ওলেশকির পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও উদ্বেগ বাড়ছে। শহরটিতে যুদ্ধের আগে প্রায় ২৪ হাজার মানুষ বসবাস করতেন। কিন্তু বর্তমানে সেখানে প্রায় ১ হাজার ৭০০ বাসিন্দা রয়েছেন, যাঁদের মধ্যে ৪৭টি শিশু রয়েছে। ইউক্রেনে জাতিসংঘের মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান ড্যানিয়েল বেল এই জনসংখ্যার তথ্য জানিয়েছেন। শহরটির অবস্থানও মানবিক সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে। দক্ষিণ ইউক্রেনের খেরসন অঞ্চলে নিপ্রো নদীর পূর্ব তীরে অবস্থিত ওলেশকি। ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আক্রমণ শুরুর পরপরই অঞ্চলটির বড় অংশ রুশ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। পরে ইউক্রেনীয় বাহিনী পাল্টা অভিযানে খেরসন শহরসহ বেশ কিছু এলাকা পুনর্দখল করে। তবে ওলেশকি এখনো রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। শহরটিতে খাবার ও চিকিৎসাসামগ্রীর সংকটের কথা রাশিয়াও এর আগে স্বীকার করেছে। সেপ্টেম্বরে ক্রেমলিন জানায়, ওলেশকিতে খাদ্য ও ওষুধ সরবরাহে গুরুতর সমস্যা রয়েছে। তবে রুশ সামরিক বাহিনী পরিস্থিতি সমাধানে কাজ করছে বলেও দাবি করা হয়। অন্যদিকে, ইউক্রেনীয় বাহিনী ড্রোনের মাধ্যমে শহরটিতে খাবার ও ওষুধ পৌঁছানোর চেষ্টা করেছে। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে এক অভিযানে ভারী মালামাল বহনে সক্ষম ড্রোন ব্যবহার করে প্রায় চার টন খাদ্য ও চিকিৎসাসামগ্রী শহরের বিভিন্ন স্থানে পৌঁছে দেওয়া হয় বলে ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন। তবে বিচ্ছিন্নভাবে এসব সরবরাহ পৌঁছালেও তা দীর্ঘস্থায়ী সংকট মোকাবিলায় যথেষ্ট কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। এদিকে, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ১৬ অক্টোবর পোপ লিওর সঙ্গে আলোচনায় ওলেশকিতে জরুরি সরবরাহ পৌঁছাতে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন। পোপ শহরটির বেসামরিক মানুষের জন্য খাদ্য ও মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতে রাশিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন। পুতিনের প্রতিশ্রুতিকে সম্ভাব্য সহায়তা উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হলেও বাস্তবে নিরাপদ সরবরাহ ও সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা কত দ্রুত কার্যকর হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি এবং অন্যান্য মানবিক সংস্থাকে দ্রুত নিরাপদে মানুষ সরিয়ে নেওয়ার পথ তৈরি ও জরুরি সহায়তা পৌঁছানোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি চলতি সপ্তাহে ওলেশকির পরিস্থিতিকে ‘গণহত্যা’ বলে বর্ণনা করেছেন। এটি তাঁর অভিযোগ; স্বাধীনভাবে আইনি সিদ্ধান্ত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত কোনো ঘোষণা নয়। ওলেশকির সংকটের পাশাপাশি খেরসন অঞ্চলেও সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় কৌঁসুলিদের বরাতে জানা গেছে, শনিবার নিপ্রো নদীর অপর তীরে অবস্থিত খেরসন শহরে রুশ বাহিনী আকাশ থেকে বোমা নিক্ষেপ করে। এতে একজন অ্যাম্বুলেন্সচালক প্রাণ হারান এবং আরও ৪০ জন আহত হন। সব মিলিয়ে ওলেশকিতে খাদ্য, ওষুধ ও নিরাপদে সরে যাওয়ার সুযোগের অভাব একটি বড় মানবিক সংকটে রূপ নিয়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সহায়তা এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমঝোতা ছাড়া সেখানকার বেসামরিক মানুষের দুর্দশা কমানো কঠিন হতে পারে।
প্রেমের টানে হাজার হাজার কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে সুদূর রাশিয়া থেকে ভারতের বিহারে প্রেমিকের বাড়িতে হাজির হয়েছেন জুলি নামের এক তরুণী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় থেকে শুরু হওয়া তাঁদের সম্পর্ক এখন বিয়ের দিকে এগোচ্ছে। প্রেমিকার এমন আকস্মিক উপস্থিতিতে প্রথমে চমকে যান প্রেমিক রাহুল যাদব ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। পরে বিষয়টি জানার পর পরিবার তাঁকে স্বাগত জানায়। ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। ১৪ অক্টোবর ২০২৬ প্রকাশিত স্টার নিউজের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের বিহার রাজ্যের ভাগলপুরের বাসিন্দা রাহুল যাদবের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় হয় রাশিয়ার তরুণী জুলির। প্রথমে তাঁদের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। নিয়মিত কথোপকথনের মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে সেই সম্পর্ক প্রেমে রূপ নেয়। দুই দেশের ভৌগোলিক দূরত্ব তাঁদের সম্পর্কের বড় বাধা হলেও শেষ পর্যন্ত তা উপেক্ষা করে ভারতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন জুলি। তিনি প্রেমিকের বাড়িতে পৌঁছালে পরিবারের সদস্যরা প্রথমে বিস্মিত হয়ে পড়েন। পরে রাহুল তাঁদের সম্পর্কের বিষয়টি ব্যাখ্যা করলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, রাহুলের পরিবার জুলিকে প্রচলিত রীতি অনুযায়ী তিলক পরিয়ে স্বাগত জানায়। তাঁদের আগমনের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে রাহুলের বাড়িতে ভিড় করেন। বিদেশি তরুণীকে দেখতে আসা মানুষের মধ্যে নতুন এই সম্পর্ক নিয়ে কৌতূহল দেখা যায়। সংবাদমাধ্যমটির তথ্য অনুযায়ী, দুই পরিবারের সম্মতিতে তাঁদের বিয়ের প্রস্তুতি চলছে। তবে বিয়ের নির্দিষ্ট তারিখ, আনুষ্ঠানিক আয়োজনের বিস্তারিত কিংবা জুলির ভারতে যাওয়ার ভ্রমণসংক্রান্ত তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিচয় থেকে আন্তদেশীয় প্রেমের সম্পর্ক—জুলি ও রাহুলের ঘটনা আবারও দেখিয়েছে, অনলাইন যোগাযোগ কীভাবে ভিন্ন দেশের মানুষের মধ্যে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে। তবে তাঁদের সম্পর্কের পরবর্তী অগ্রগতি সম্পর্কে নিশ্চিত হতে আরও তথ্যের অপেক্ষা করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়া থেকে ডিজেল জ্বালানি সংগ্রহের একটি চুক্তি করেছেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির উচ্চমূল্য মোকাবিলা এবং সরবরাহ বাড়ানোর প্রচেষ্টার সঙ্গে এ উদ্যোগের সম্পর্ক রয়েছে বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে চুক্তির পূর্ণাঙ্গ শর্ত, সরবরাহের পরিমাণ এবং অর্থ পরিশোধের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত প্রতিবেদনে স্পষ্ট নয়। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ১১ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়া থেকে ডিজেল কেনার এই ঘোষণা ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে মস্কোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের চাপের নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের প্রশ্ন তুলেছে। রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং দেশটির জ্বালানি আয় সীমিত করার প্রচেষ্টা পশ্চিমা দেশগুলোর নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। ডিজেল যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহন ও উৎপাদন অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি। ভারী ট্রাক, কৃষিযন্ত্র, নির্মাণ সরঞ্জাম এবং বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ডিজেলের ব্যবহার রয়েছে। ডিজেলের দাম বেড়ে গেলে পণ্য পরিবহন ও উৎপাদনের ব্যয় বাড়তে পারে। এর প্রভাব খাদ্য, নির্মাণসামগ্রী এবং অন্যান্য ভোগ্যপণ্যের দামেও পড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। নির্বাচনের আগে জ্বালানির দাম ও জীবনযাত্রার ব্যয় ভোটারদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। ট্রাম্প প্রশাসন জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগকে অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলার পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরতে পারে। তবে রাশিয়া থেকে জ্বালানি কেনার ঘোষণা দিলেই যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের খুচরা দাম দ্রুত কমে যাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। আন্তর্জাতিক বাজারদর, পরিবহন ব্যয়, শোধনাগারের উৎপাদন, মজুত এবং আমদানির নিয়মসহ বিভিন্ন বিষয় জ্বালানির দাম নির্ধারণ করে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সঙ্গে সম্পর্ক ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার ইউক্রেন আক্রমণের পর যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা মস্কোর ওপর বিভিন্ন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। রাশিয়ার জ্বালানি আয় কমানো এবং দেশটির যুদ্ধ পরিচালনার অর্থনৈতিক সক্ষমতা সীমিত করা ছিল এসব ব্যবস্থার অন্যতম উদ্দেশ্য। এই প্রেক্ষাপটে রাশিয়া থেকে ডিজেল কেনার নতুন ঘোষণা বাস্তবায়িত হলে তা নিষেধাজ্ঞা, জ্বালানি বাণিজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির মধ্যে নতুন সমন্বয়ের প্রয়োজন তৈরি করতে পারে। তবে ঘোষিত চুক্তিটি কী আইনি কাঠামোর আওতায় কার্যকর হবে এবং বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞার কোন বিধান প্রযোজ্য হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য ছাড়া চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। ট্রাম্প সম্প্রতি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সমালোচনা করেছেন এবং বলেছেন, যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ইউক্রেনের নতুন নেতৃত্ব প্রয়োজন হতে পারে। একই সময়ে তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ইউক্রেনের যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চললেও রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে আস্থা, ভূখণ্ড, নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ সামরিক ব্যবস্থার প্রশ্নে মতপার্থক্য রয়েছে। ফলে জ্বালানি কেনার চুক্তি ও যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা একই সময়ে সামনে এলেও দুটির মধ্যে সরাসরি সমঝোতা হয়েছে—এমন দাবি করার মতো পর্যাপ্ত তথ্য নেই। কী কী তথ্য এখনো পরিষ্কার নয়? অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প চুক্তির ঘোষণা দিয়েছেন; তবে প্রকাশিত তথ্য থেকে চুক্তির মোট মূল্য, ডিজেলের পরিমাণ, সরবরাহের সময়সূচি এবং কোন প্রতিষ্ঠানগুলো এতে অংশ নেবে, তা নিশ্চিত করা যায় না। এ ছাড়া রাশিয়া থেকে জ্বালানি সংগ্রহের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নিষেধাজ্ঞা, অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা এবং পরিবহনসংক্রান্ত শর্তও গুরুত্বপূর্ণ। এসব বিষয়ের আনুষ্ঠানিক নথি প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত চুক্তিটির অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রভাব নির্ভুলভাবে নির্ধারণ করা কঠিন। সামগ্রিকভাবে, রাশিয়া থেকে ডিজেল কেনার ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি নিরাপত্তা, ভোক্তাদের ব্যয় এবং ইউক্রেন যুদ্ধসংক্রান্ত নীতির সংযোগকে সামনে এনেছে। চুক্তিটি বাস্তবায়িত হয় কি না এবং বাজারে এর প্রভাব কী হয়, তা নির্ভর করবে পরবর্তী সরকারি ঘোষণা ও বাস্তব সরবরাহের ওপর।
যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের বাড়তি দাম নিয়ন্ত্রণ এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ বাড়াতে রাশিয়ার সঙ্গে সমঝোতার ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক বাজারে অবিলম্বে তিন লাখ টনের বেশি ডিজেল সরবরাহ করতে রাজি হয়েছে মস্কো। আগামী নভেম্বরেও আরও কয়েক দফায় বিপুল পরিমাণ ডিজেল সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এই উদ্যোগে জ্বালানির দাম কতটা কমবে, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকদের কেউ কেউ। শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, পুতিনের সঙ্গে তাঁর আলোচনা অত্যন্ত সফল হয়েছে। সমঝোতা অনুযায়ী, রাশিয়া তাৎক্ষণিকভাবে তিন লাখ টনের বেশি ডিজেল সরবরাহ করবে। নভেম্বরে আরও পাঁচ লাখ টন এবং এরপরপরই আরও ১০ লাখ টন ডিজেল পাঠানোর কথা রয়েছে। রাশিয়ার ডিজেল শোধনাগারগুলোর অবস্থা অনুকূলে থাকলে স্বল্প সময়ের মধ্যে আরও ৩০ লাখ টন জ্বালানি সরবরাহ করা হতে পারে বলেও জানান তিনি। রুশ প্রেসিডেন্টের দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভও দুই দেশের মধ্যে ডিজেল ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতার প্রশংসা করেছেন। তবে রাশিয়ার পক্ষ থেকে প্রকাশিত বক্তব্যে ট্রাম্প ঘোষিত সব চালানের নির্দিষ্ট পরিমাণ ও সময়সূচি নিশ্চিত করা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম প্রায় রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছানোর মধ্যে এই ঘোষণা এলো। কৃষিকাজ, পণ্য পরিবহন এবং বাড়ি গরম রাখার কাজে ডিজেল গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি। ফলে এর দাম বাড়লে শুধু পরিবহন খরচ নয়, কৃষিপণ্য উৎপাদন ও সরবরাহের ব্যয়ও বেড়ে যেতে পারে। শেষ পর্যন্ত তার প্রভাব পড়তে পারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে। যুক্তরাষ্ট্রের মোটরচালক সংগঠন এএএর হিসাবে, গত বৃহস্পতিবার দেশটিতে ডিজেলের গড় দাম প্রতি গ্যালন ৬ ডলার ২৮ সেন্টে পৌঁছায়। চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যু দ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ডিজেলের দাম প্রায় ৭০ শতাংশ বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইরান ও ইউক্রেনকে ঘিরে চলমান যু দ্ধ এবং জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন এই মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ। এ পরিস্থিতিতে আগামী ৩ নভেম্বরের কংগ্রেস নির্বাচনের আগে জ্বালানির দাম কমানো ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে থাকবে, তা নির্ধারিত হবে। জ্বালানি ও পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ ভোক্তা, কৃষক, খামারমালিক ও ট্রাকচালকদের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের—বিশেষ করে কৃষক, খামারমালিক ও ট্রাকচালকদের—জন্য দাম কমানো তাঁর প্রধান অগ্রাধিকার। রাশিয়ার কাছ থেকে ডিজেল আমদানির সিদ্ধান্তটি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ ইউক্রেনে রুশ আক্রমণের পর মস্কোর জ্বালানি খাতের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গত শুক্রবার মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় রুশ ডিজেল বিক্রি, সরবরাহ ও আমদানির অনুমতি দিয়ে একটি সাধারণ লাইসেন্স জারি করে। এর ফলে ২০২৭ সালের ৭ এপ্রিল পর্যন্ত নির্দিষ্ট শর্তে রাশিয়ার ডিজেল আমদানি করা যাবে। অর্থাৎ, জ্বালানির দাম কমানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবে রাশিয়ার ডিজেলের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করা হয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্তের প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের মোট ডিজেল উৎপাদন ও ব্যবহারের তুলনায় ঘোষিত প্রাথমিক চালানের পরিমাণ সীমিত। ফলে বাজারে তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের পরিবর্তন নাও আসতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহের ঘাটতি অব্যাহত থাকলে রাশিয়ার কাছ থেকে অতিরিক্ত ডিজেল এলেও দাম দীর্ঘ সময় কম থাকবে কি না, তা নিশ্চিত নয়। এদিকে ডিজেলের উৎপাদন বাড়াতে অভ্যন্তরীণ পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও ভাবছে ট্রাম্প প্রশাসন। শিল্প খাতের তিনটি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে প্রেসিডেন্ট বিভিন্ন সরকারি বিভাগের প্রধানদের ডিজেলের দাম নিয়ন্ত্রণের উপায় খুঁজে বের করার নির্দেশ দিতে পারেন। এ নির্দেশনা প্রেসিডেন্টের স্মারকলিপির আকারে আসতে পারে। এ ক্ষেত্রে শীতল যু দ্ধের সময়কার প্রতিরক্ষা উৎপাদন আইনের আওতায় প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা কাজে লাগানোর বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। এই আইনের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের উৎপাদন বাড়াতে ঋণ বা ঋণের নিশ্চয়তা দেওয়া এবং জরুরি পণ্য সরবরাহে সরকারি চুক্তিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ব্যবস্থা করা যায়। পাশাপাশি জ্বালানি উৎপাদন বাধাগ্রস্ত করছে—এমন কিছু স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের বিধিনিষেধ পাশ কাটানোর উপায়ও খোঁজা হতে পারে। ইরানকে ঘিরে যু দ্ধের কারণে সরবরাহে বিঘ্ন এবং মূল্যবৃদ্ধির ঝুঁকি সামনে আসায় যুক্তরাষ্ট্রে তেল পরিশোধনের সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে নতুন শোধনাগার নির্মাণের চেয়ে বিদ্যমান স্থাপনাগুলোর দক্ষতা বাড়ানো বা সেগুলোর সম্প্রসারণে সরকারি অর্থ ব্যয় করা বেশি কার্যকর হতে পারে বলে গত মাসে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন জ্বালানি খাতের নির্বাহীরা। নতুন শোধনাগার নির্মাণে ব্যয় বেশি এবং কাজ শেষ করতেও কয়েক বছর সময় লাগতে পারে। ডিজেলের পাশাপাশি পেট্রলের দামও কমার পূর্বাভাস দিয়েছেন ট্রাম্প। তাঁর আশা, শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রলের দাম প্রতি গ্যালন ১ ডলার ৮৫ সেন্ট থেকে ১ ডলার ৯৫ সেন্টে নেমে আসবে। তবে শুক্রবার এএএর হিসাবে গড় দাম ছিল প্রায় ৪ ডলার ৩৭ সেন্ট। ফলে ট্রাম্পের এই লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়িত হবে কি না, তা নির্ভর করছে জ্বালানি সরবরাহ, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং বাজারের প্রতিক্রিয়ার ওপর।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে সরিয়ে নতুন নেতা নির্বাচনের আহ্বান জানিয়েছেন। রাশিয়ার সঙ্গে যু দ্ধ বন্ধে জেলেনস্কি একাধিক সুযোগ কাজে লাগাননি বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। একই সঙ্গে রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনায় ইউক্রেনের হা মলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন ট্রাম্প। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ডিজেল সরবরাহ নিয়ে সমঝোতার পর দুই নেতার মধ্যে নতুন করে বিরোধ তৈরি হয়েছে। শনিবার, ১০ অক্টোবর হোয়াইট হাউসের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, ইউক্রেনের এখন নতুন প্রেসিডেন্ট পাওয়ার সময় এসেছে। তাঁর মতে, এমন একজন নেতার প্রয়োজন, যিনি রাশিয়ার সঙ্গে সমঝোতা করে যু দ্ধের অবসান ঘটাতে পারবেন। ট্রাম্পের অভিযোগ, জেলেনস্কি বহুবার চুক্তিতে পৌঁছানোর সুযোগ পেয়েও তা গ্রহণ করেননি। ট্রাম্প বলেন, জেলেনস্কি চাইলে বহুবার যু দ্ধের সমাধান করতে পারতেন, কিন্তু তিনি তা করেননি। তাঁর দাবি, এ যু দ্ধ শুরু হওয়ারই কথা ছিল না। তিনি আরও বলেন, ২০২২ সালে যু দ্ধ শুরুর সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট থাকলে সংঘাতটি ঘটত না। জেলেনস্কিকে সরিয়ে নতুন নেতৃত্ব আনার বিষয়ে ট্রাম্পের এ বক্তব্য ইউক্রেনের নেতৃত্ব নিয়ে তাঁর প্রকাশ্য সমালোচনার অন্যতম কঠোর উদাহরণ। তবে ইউক্রেনে নেতৃত্ব পরিবর্তনের কোনো নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া বা পরিকল্পনার কথা তিনি জানাননি। দেশটির নেতৃত্ব নির্ধারণের বিষয়টি ইউক্রেনের নিজস্ব সাংবিধানিক ও নির্বাচনী ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত। ডিজেল চুক্তি ঘিরে নতুন বিরোধ শুক্রবার পুতিনের সঙ্গে আলোচনার পর ট্রাম্প ঘোষণা দেন, রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেল সরবরাহ করবে। তাঁর ঘোষণায় বলা হয়, প্রথম ধাপে ৩ লাখ টনের বেশি ডিজেল সরবরাহ করা হবে। নভেম্বরে আরও ৫ লাখ টন এবং এরপর আরও ১০ লাখ টন সরবরাহের পরিকল্পনার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। পরবর্তী সময়ে আরও বড় পরিমাণ জ্বালানি সরবরাহের কথা বলা হয়েছে। তবে চুক্তির বিস্তারিত বাস্তবায়ন ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। ট্রাম্পের দাবি, বিশ্ববাজারে ডিজেলের সরবরাহ বাড়িয়ে জ্বালানির দাম কমানোই এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য। তাঁর মতে, রাশিয়ার তেল পরিশোধন সক্ষমতার ওপর হা মলা হলে আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলের সরবরাহ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষক, খামারির পাশাপাশি অন্যান্য দেশের ভোক্তারাও সমস্যায় পড়তে পারেন। ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, রাশিয়ার বিভিন্ন স্থাপনায় ইউক্রেন হা মলা চালাতে পারলেও তেল পরিশোধনাগারগুলোকে লক্ষ্যবস্তু না করার বিষয়ে তিনি জেলেনস্কিকে সতর্ক করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ, সতর্কবার্তা দেওয়ার পরও ইউক্রেন রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোতে হা মলা চালিয়েছে। চুক্তি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ইউক্রেন রাশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনায় হা মলা চালায় বলে খবর প্রকাশিত হয়। তবে হামলার লক্ষ্যবস্তু ও চুক্তির শর্তের সঙ্গে এর সম্পর্ক নিয়ে সব তথ্য এখনো পরিষ্কার নয়। ইউক্রেন আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তির শর্ত মেনে হা মলা বন্ধে সম্মত হয়েছিল কি না, সে বিষয়েও নিশ্চিত তথ্য নেই। ইউক্রেনের আপত্তি রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেল সরবরাহ নিয়ে সমঝোতার সমালোচনা করেছে ইউক্রেন। দেশটির অবস্থান, রাশিয়ার জ্বালানি রপ্তানির সুযোগ বাড়লে দেশটি আরও বেশি অর্থ পাবে, যা চলমান যু দ্ধ চালিয়ে যেতে সহায়তা করতে পারে। ইউক্রেনের মতে, রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক চাপ কমানো হলে মস্কোর সামরিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ইউক্রেনের যুক্তি, রাশিয়ার তেল ও জ্বালানি অবকাঠামোতে হা মলা দেশটির যু দ্ধ পরিচালনার অর্থনৈতিক ভিত্তিকে দুর্বল করার একটি উপায়। অন্যদিকে, ট্রাম্প মনে করছেন এসব হা মলা ডিজেলের আন্তর্জাতিক সরবরাহে সমস্যা তৈরি করতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিতে চাপ বাড়াতে পারে। দুই পক্ষের এই ভিন্ন অবস্থানই নতুন বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে। জ্বালানি অর্থনীতির বিশেষজ্ঞ মার্গারিটা বালমাসেদার মূল্যায়ন অনুযায়ী, এই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় রাশিয়াকে বেশি সুবিধা দিতে পারে। তাঁর আশঙ্কা, রাশিয়া কম দামে জ্বালানি সরবরাহের মাধ্যমে অন্য দেশগুলোর ওপর অর্থনৈতিক প্রভাব বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে রুশ তেল পরিশোধনাগারগুলোতে ইউক্রেনের ড্রোন হা মলা অব্যাহত থাকলে রাশিয়ার পক্ষে প্রতিশ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করাও কঠিন হতে পারে। ট্রাম্প-জেলেনস্কি সম্পর্কে আগের টানাপোড়েন ট্রাম্প ও জেলেনস্কির সম্পর্কে এর আগেও প্রকাশ্য বিরোধ দেখা গেছে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে বৈঠকের সময় ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে জেলেনস্কির তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। ওই বৈঠকে ট্রাম্প ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের আচরণের সমালোচনা করেন এবং সতর্ক করে বলেন, তিনি তৃতীয় বিশ্বযু দ্ধের ঝুঁকি নিয়ে খেলছেন। বৈঠকে পরিকল্পিত খনিজ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি এবং যৌথ সংবাদ সম্মেলনও বাতিল করা হয়। পরে দুই নেতার সম্পর্কে কিছুটা উন্নতির ইঙ্গিত দেখা গেলেও রাশিয়ার সঙ্গে যু দ্ধ বন্ধের শর্ত এবং ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ নিয়ে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। ২০২৫ সালের আগস্টে ইউক্রেন ও ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় ট্রাম্প জেলেনস্কি ও পুতিনের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের সম্ভাবনা তুলে ধরেছিলেন। একই বছরের ডিসেম্বরে মার-আ-লাগোতে বৈঠকের পর দুই পক্ষই যু দ্ধের সমাধানের দিকে অগ্রগতির কথা বলেছিল। পুতিনের সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্কও দীর্ঘদিন ধরে আলোচনার বিষয়। ২০১৮ সালে হেলসিঙ্কিতে দুই নেতার বৈঠক এবং ২০২৫ সালে তাঁদের একাধিক যোগাযোগের পরও রাশিয়া-ইউক্রেন যু দ্ধ বন্ধে স্থায়ী সমাধান আসেনি। ২০২৫ সালের আগস্টে আলাস্কায় ট্রাম্প-পুতিন বৈঠকও যুদ্ধবিরতি ছাড়াই শেষ হয়। ট্রাম্প এবারও যু দ্ধ অব্যাহত থাকার দায় জেলেনস্কির ওপর চাপিয়েছেন। তবে যু দ্ধ বন্ধের জন্য দুই পক্ষের মধ্যে কী ধরনের চুক্তি সম্ভব, কিংবা নতুন নেতৃত্ব এ ক্ষেত্রে কী পরিবর্তন আনতে পারে—সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কোনো পরিকল্পনা দেননি। রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেল চুক্তির পর যুক্তরাষ্ট্রের ইউক্রেন নীতিতে কী পরিবর্তন আসে, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ভবিষ্যতে রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনায় ইউক্রেনের হা মলা অব্যাহত থাকলে দুই দেশের মধ্যে বিরোধ আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে চুক্তির আওতায় রাশিয়ার ডিজেল সরবরাহ কতটা কার্যকর হবে এবং তা আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা সময়ের সঙ্গে পরিষ্কার হবে।
রাশিয়ার রিয়াজান অঞ্চলে দেশটির অন্যতম শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ইয়ানডেক্সের একটি বড় ডেটা সেন্টারে ড্রোন হা ম লার ঘটনা ঘটেছে। এতে ডেটা সেন্টারটিতে আ গু ন ধরে যায় এবং প্রতিষ্ঠানটিকে সাময়িকভাবে পুরো কার্যক্রম বন্ধ করতে হয়। রাশিয়ার কোনো ডেটা সেন্টারে ইউক্রেনীয় ড্রোনের এমন বড় হা ম লার ঘটনা এর আগে নিশ্চিতভাবে সামনে আসেনি বলে জানিয়েছে রয়টার্স। ইয়ানডেক্স জানিয়েছে, হা ম লার পর ডেটা সেন্টারের কার্যক্রম পুরোপুরি স্থগিত করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সেবাগুলো পুনরুদ্ধারের কাজ চলছে। তবে প্রতিষ্ঠানটির গুরুত্বপূর্ণ ভোক্তা সেবাগুলো চালু রয়েছে। ইয়ানডেক্সের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক জেনারেটিভ মডেল ইয়ানডেক্সজিপিটিও এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি বলে জানানো হয়েছে। ইয়ানডেক্স ক্লাউডের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ডেটা সেন্টারের একটি অংশে বিদ্যুৎ সরবরাহে সমস্যা তৈরি হয়েছে। এ কারণে গ্রাহকদের বিকল্প ডেটা সেন্টার ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ড্রোন হা ম লায় ঠিক কতটা ভৌত ক্ষতি হয়েছে, তা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি প্রতিষ্ঠানটি। এই ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন ইউক্রেনের ডেটা অবকাঠামোর বিরুদ্ধেও রাশিয়া সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে একাধিক হা ম লা চালিয়েছে। ফলে ডেটা সেন্টার ও প্রযুক্তি অবকাঠামোকে ঘিরে দুই দেশের পাল্টাপাল্টি হা ম লার নতুন মাত্রা তৈরি হয়েছে। ইয়ানডেক্সের স্থাপনাকে লক্ষ্য করে এবারের ড্রোন হা ম লা সেই সংঘাতকে আরও বিস্তৃত প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর দিকে নিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এদিকে একই সময়ে ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে রাশিয়া ব্যাপক ক্ষে প ণাস্ত্র ও ড্রোন হা ম লা চালিয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, রাশিয়া এক রাতেই প্রায় ৭০টি ক্ষে প ণাস্ত্র এবং কয়েক ডজন শাহেদ ড্রোন ব্যবহার করেছে। হা ম লায় দেশটির শিল্প ও জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উত্তর ইউক্রেনের চেরনিহিভ অঞ্চলের প্রিলুকি শহরেই সবচেয়ে বেশি হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। সেখানে রুশ ক্ষে প ণাস্ত্রের আঘাতে একটি পাঁচতলা আবাসিক ভবন ধ্বংস হয়ে যায়। বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত শহরটিতে নি হ তের সংখ্যা ২২ জনে পৌঁছেছে বলে ইউক্রেনের জরুরি সেবা বিভাগ জানিয়েছে। রাজধানী কিয়েভেও একটি আবাসিক ভবনে রুশ হা ম লার পর আরও দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। রয়টার্সের সর্বশেষ হিসাবে, ইউক্রেনজুড়ে ওই রুশ হা ম লায় অন্তত ৩২ জন নি হ ত হয়েছেন এবং ১০০ জনের বেশি আ হ ত হয়েছেন। এর আগে ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা মৃতের সংখ্যা ২৫ ও পরে ২৮ জন বলে জানিয়েছিলেন। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে হতাহতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা রয়েছে। প্রিলুকিতে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে জরুরি বিভাগের কর্মীরা রাতভর কাজ করেন। উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে অন্তত ১৫ জনকে জীবিত বের করে আনেন। শহরটিতে প্রায় ৫৫ জন আ হ ত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আরও মানুষকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছিল। জেলেনস্কি এই হা ম লাকে রাশিয়ার অন্যতম ভয়াবহ ও ‘জঘন্য’ আ ঘা ত হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ঘটনাটি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের জন্মদিনের সঙ্গে মিলে যাওয়ায় তিনি বিষয়টি নিয়ে তীব্র মন্তব্যও করেন। জেলেনস্কি বলেন, শিশু ও সাধারণ মানুষকে হ ত্যা করাই যেন পুতিনের নিজের জন্য দেওয়া জন্মদিনের উপহার। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় অবশ্য দাবি করেছে, তাদের হা ম লার লক্ষ্য ছিল ইউক্রেনের সামরিক-শিল্প অবকাঠামো। দেশটি উচ্চনির্ভুলতার স্থল, সমুদ্র ও আকাশপথের ক্ষে প ণাস্ত্র এবং ড্রোন ব্যবহার করেছে বলে মস্কো জানিয়েছে। ইউক্রেনের বিমানবাহিনী বলেছে, রাশিয়ার ছোড়া ৪৬টি জেটচালিত ড্রোনের ৮০ শতাংশের কিছু বেশি তারা ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে। তবে ইউক্রেনের জন্য ব্যালিস্টিক ক্ষে প ণাস্ত্র এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে বলে জেলেনস্কি জানিয়েছেন। দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন। একই দিনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইউক্রেনকে প্রতিরক্ষা ব্যয়ের জন্য ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ইউরোর একটি নতুন অর্থ ছাড় করেছে। অন্যদিকে ইউক্রেনও রাশিয়ার ভূখণ্ডে পাল্টা আ ঘা ত চালিয়েছে। জেলেনস্কির দাবি, গত ২৪ ঘণ্টায় ইউক্রেনীয় বাহিনী রাশিয়ার চারটি লক্ষ্যবস্তুতে আ ঘা ত হেনেছে। এর মধ্যে দুটি জ্বালানি স্থাপনা এবং একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্র ছিল। ইয়ানডেক্সের ডেটা সেন্টারে ড্রোন হা ম লা এবং ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার ব্যাপক ক্ষে প ণাস্ত্র ও ড্রোন হা ম লা একই সময়ে সংঘটিত হওয়ায় সংঘাতের নতুন দিক সামনে এসেছে। সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি এখন দুই পক্ষের গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি, জ্বালানি ও যোগাযোগ অবকাঠামোও ক্রমেই লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল সেবা ও অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়েও নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
রাশিয়ায় প্লেগ গবেষণাগারের এক নারী কর্মীর মৃ ত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রোগটি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রকাশিত মানচিত্রে গত সাত বছরে কোন কোন দেশে মানুষের মধ্যে প্লেগের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, সেই চিত্র সামনে এসেছে। তবে শুরুতেই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, রাশিয়ায় মৃ ত্যু হওয়া ওই ল্যাবকর্মীর প্লেগে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি এখনো দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। রুশ সরকারি স্বাস্থ্য নজরদারি সংস্থা রসপোট্রেবনাদজর জানিয়েছে, ওই গবেষণাগারে রোগজীবাণু ছড়িয়ে পড়ার কোনো দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। স্বাধীন ও রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন রুশ সংবাদমাধ্যমে অবশ্য ওই ঘটনাকে সম্ভাব্য প্লেগ সংক্রমণের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাইবেরিয়ার ইরকুতস্কে প্লেগ গবেষণা প্রতিষ্ঠানে কাজ করা ২৮ বছর বয়সী দারিয়া শিপিলোভা গুরুতর নিউমোনিয়ার উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে ২ অক্টোবর তার মৃ ত্যু হয়। তার মৃ ত্যুর কারণ হিসেবে কর্তৃপক্ষ ‘অজ্ঞাত কারণে নিউমোনিয়া’র কথা জানিয়েছে। রুশ সংবাদমাধ্যমের কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, নমুনা সংগ্রহের সময় জীবিত প্লেগ ব্যাকটেরিয়া থাকা একটি টেস্ট টিউব ভেঙে যাওয়ার পর শিপিলোভা তার সহকর্মীদের বিষয়টি জানিয়েছিলেন। তবে এই দাবির স্বাধীন বা সরকারি কোনো নিশ্চিত প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। অন্য একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি বুরিয়াতিয়া থেকে কাজের সফর শেষে ফেরার পর অসুস্থ হয়েছিলেন। বুরিয়াতিয়ার আঞ্চলিক সরকার অবশ্য দাবি করেছে, তিনি ওই অঞ্চলে গিয়েছিলেন—এমন তথ্য তাদের কাছে নেই। ঘটনাটি ঘিরে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রায় ২০০ জনের মতো মানুষ, যারা ওই নারীর সংস্পর্শে এসেছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, তাদের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, তাদের বড় একটি অংশকে পরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। রাশিয়ার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই ব্যক্তিদের মধ্যে প্লেগ সংক্রমণের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। প্লেগ কী এবং কত দেশে ছড়িয়েছে—এ প্রশ্নও সামনে এসেছে। ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, প্লেগ একটি ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রামক রোগ। এর জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়ার নাম ‘ইয়ারসিনিয়া পেস্টিস’। সাধারণত ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণী ও তাদের শরীরে থাকা মাছির মাধ্যমে এটি ছড়ায়। আক্রান্ত প্রাণীর সংস্পর্শ, সংক্রমিত তরল বা উপাদানের সংস্পর্শ এবং বিশেষ করে নিউমোনিক প্লেগের ক্ষেত্রে শ্বাসতন্ত্রের মাধ্যমে ছড়ানো কণার সংস্পর্শেও মানুষ আক্রান্ত হতে পারে। প্লেগের প্রধান তিনটি ধরন হলো বুবোনিক, নিউমোনিক এবং সেপটিসেমিক প্লেগ। এর মধ্যে নিউমোনিক প্লেগ সবচেয়ে সংক্রামক এবং গুরুতর ধরনগুলোর একটি। এটি ফুসফুসে সংক্রমণ ঘটায় এবং আক্রান্ত ব্যক্তির শ্বাসতন্ত্র থেকে বের হওয়া সংক্রমিত কণার মাধ্যমে অন্য মানুষের মধ্যে ছড়াতে পারে। দ্রুত চিকিৎসা না হলে রোগটি প্রাণঘাতী হতে পারে। ডব্লিউএইচওর ২০১৯ থেকে ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, ওই সময়ে বিশ্বের ১০টি দেশ মানুষের মধ্যে সন্দেহভাজন প্লেগের ঘটনা জানিয়েছে। এর মধ্যে ছয়টি দেশে নিশ্চিত প্লেগ সংক্রমণও নথিভুক্ত হয়েছে। মোট ৩ হাজার ৮৬০টি সন্দেহভাজন ঘটনা এবং ৪২৩ জনের মৃ ত্যুর তথ্য সংস্থাটির কাছে জমা পড়েছে। এই সময়ের নিশ্চিত সংক্রমণের বড় অংশই আফ্রিকার দেশগুলোর। গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র এবং মাদাগাস্কারে সবচেয়ে বেশি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এছাড়া কেনিয়া, উগান্ডা, চীন ও মঙ্গোলিয়াতেও নিশ্চিত মানব প্লেগের ঘটনা রিপোর্ট করা হয়েছে। ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, ২০১৯ থেকে ২০২৫ সালের নিশ্চিত সংক্রমণের প্রায় ৯৭ দশমিক ৭ শতাংশই গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র ও মাদাগাস্কারে পাওয়া গেছে। ডব্লিউএইচওর মানচিত্রে থাকা তথ্যের অর্থ অবশ্য সব দেশের পরিস্থিতি একই রকম—এমন নয়। কোনো দেশ ওই সময়ে কোনো ঘটনা রিপোর্ট না করলেও সেখানে প্লেগের প্রাকৃতিক উৎস থাকতে পারে। সংস্থাটি জানিয়েছে, রোগটি ওশেনিয়া ছাড়া বিশ্বের সব মহাদেশেই প্রাণীদের মধ্যে পাওয়া যায়। তবে মানুষের মধ্যে সাম্প্রতিক অধিকাংশ ঘটনা আফ্রিকাতেই ঘটেছে, বিশেষ করে গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র ও মাদাগাস্কারে। রাশিয়ার বর্তমান ঘটনাটিও তাই এখনো সতর্কতার সঙ্গে দেখছে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য মহল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা রাশিয়ায় সম্ভাব্য প্লেগ পরিস্থিতির ঝুঁকি কম বলে মূল্যায়ন করেছে। একই সঙ্গে আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা মানুষদের পর্যবেক্ষণ এবং ঘটনাটির বিষয়ে আরও তথ্য সংগ্রহের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। রাশিয়ার ইরকুতস্ক অঞ্চলের ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে নানা দাবি ছড়ালেও এখন পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—ল্যাবকর্মীর মৃ ত্যুর সঙ্গে প্লেগের সরাসরি সম্পর্ক সরকারি ভাবে নিশ্চিত হয়নি। ফলে ঘটনাটিকে নিশ্চিত প্লেগ প্রাদুর্ভাব হিসেবে না দেখে সম্ভাব্য সংক্রমণের ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে ডব্লিউএইচওর বৈশ্বিক তথ্য বলছে, প্লেগ এখনো বিশ্বের কিছু অঞ্চলে সক্রিয় থাকলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোর অধিকাংশ মানব সংক্রমণ নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।
লিথুয়ানিয়ায় স্থায়ী মার্কিন সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের সম্ভাবনা এবং দেশটিতে পারমাণবিক অস্ত্র রাখার সাংবিধানিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার উদ্যোগ ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লিথুয়ানিয়ায় স্থায়ী মার্কিন সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের প্রস্তাব বিবেচনার কথা বলার পর দেশটির প্রধানমন্ত্রী মিনদাউগাস সিনকেভিচিয়াস জানিয়েছেন, ঘাঁটি স্থাপনে প্রয়োজনীয় খরচ বহন করতে প্রস্তুত ভিলনিয়াস। একই দিনে লিথুয়ানিয়ার পার্লামেন্ট পারমাণবিক অস্ত্র ও অন্যান্য গণবিধ্বংসী অস্ত্র মোতায়েনের ওপর সাংবিধানিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার প্রস্তাবের প্রথম ধাপের অনুমোদন দিয়েছে। এসব পদক্ষেপকে রাশিয়ার সীমান্তের কাছে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর উদ্যোগ হিসেবে দেখছে মস্কো। ৬ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী সিনকেভিচিয়াস বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি লিথুয়ানিয়ায় স্থায়ী সামরিক ঘাঁটি স্থাপনে সম্মত হয়, তাহলে এর খরচ বহন করতে প্রস্তুত তার দেশ। এর আগে সোমবার ট্রাম্পকে লিথুয়ানিয়ায় স্থায়ী মার্কিন ঘাঁটি স্থাপনের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বিষয়টি অবশ্যই বিবেচনা করবে। ট্রাম্প লিথুয়ানিয়ার মানুষকে নিজের বন্ধু এবং চমৎকার মানুষ হিসেবেও উল্লেখ করেন। লিথুয়ানিয়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোর সদস্য। দেশটির সীমান্ত রয়েছে রাশিয়া ও রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র বেলারুশের সঙ্গে। ২০১৯ সাল থেকে দেশটিতে প্রায় ১ হাজার মার্কিন সেনার একটি সাঁজোয়া ব্যাটালিয়ন পালাক্রমে মোতায়েন রয়েছে। অর্থাৎ সেনারা নির্দিষ্ট সময় পরপর সেখানে আসে এবং অন্য ইউনিট তাদের জায়গা নেয়। লিথুয়ানিয়ার প্রধানমন্ত্রী গত মাসে ট্রাম্পের দূত জন কোয়েলের সঙ্গে ভিলনিয়াসে বৈঠকের সময় এই ঘূর্ণায়মান মার্কিন উপস্থিতিকে স্থায়ী করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। লিথুয়ানিয়া বলছে, দেশটিতে স্থায়ী মার্কিন সামরিক উপস্থিতি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও প্রতিরোধ সক্ষমতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে। প্রধানমন্ত্রী সিনকেভিচিয়াসের ভাষায়, স্থায়ীভাবে মার্কিন সেনা মোতায়েনের বিষয়ে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেই প্রয়োজনীয় খরচ বহনে প্রস্তুত লিথুয়ানিয়া। এর পাশাপাশি লিথুয়ানিয়ার পার্লামেন্ট মঙ্গলবার সংবিধানের ১৩৭ নম্বর অনুচ্ছেদ পরিবর্তনের প্রস্তাবের প্রথম ধাপে অনুমোদন দিয়েছে। বর্তমান সংবিধানে দেশটির ভূখণ্ডে গণবিধ্বংসী অস্ত্র এবং বিদেশি রাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি মোতায়েন নিষিদ্ধ। মঙ্গলবারের ভোটে ১০৬ জন আইনপ্রণেতা প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন, ১৮ জন বিপক্ষে এবং ৬ জন ভোটদানে বিরত থাকেন। চূড়ান্ত ভোটের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৭ সালের ১২ জানুয়ারি। প্রস্তাবটি চূড়ান্তভাবে পাস হলে লিথুয়ানিয়ার ভূখণ্ডে মিত্র দেশগুলোর পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েনের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে লিথুয়ানিয়া নিজস্ব পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা নিয়ন্ত্রণ করবে। ন্যাটোর পারমাণবিক অংশীদারত্ব ব্যবস্থায় ইউরোপের কয়েকটি দেশে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক অস্ত্র রাখা হলেও সেগুলোর নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতেই থাকে। লিথুয়ানিয়ার এই সাংবিধানিক পরিবর্তন এবং সম্ভাব্য মার্কিন ঘাঁটির পরিকল্পনা নিয়ে রাশিয়া ইতিমধ্যে সতর্ক করেছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, রাশিয়ার সীমান্তের কাছে ন্যাটোর সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোকে মস্কো উত্তেজনা বাড়ানোর পদক্ষেপ ছাড়া অন্যভাবে দেখতে পারে না। একইভাবে প্রতিবেশী দেশে পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েনের সম্ভাবনাকেও রাশিয়া নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণ হিসেবে দেখছে। পেসকভ আরও বলেছেন, এ ধরনের পদক্ষেপের কারণে মস্কো নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হতে পারে। ক্রেমলিনের এই বক্তব্য এসেছে এমন এক সময়ে, যখন ইউরোপের পূর্বাঞ্চলে ন্যাটোর সামরিক উপস্থিতি এবং প্রতিরক্ষা ব্যয় দ্রুত বাড়ছে। রাশিয়ার সঙ্গে লিথুয়ানিয়ার নিরাপত্তা উদ্বেগের পেছনে দেশটির ভৌগোলিক অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ। লিথুয়ানিয়া রাশিয়ার কালিনিনগ্রাদ অঞ্চলের কাছাকাছি এবং বেলারুশের সঙ্গেও সীমান্ত ভাগ করে নিয়েছে। কালিনিনগ্রাদ রাশিয়ার একটি বিচ্ছিন্ন ভূখণ্ড, যা পোল্যান্ড ও লিথুয়ানিয়ার মাঝখানে বাল্টিক সাগরের তীরে অবস্থিত। সেখানে রাশিয়ার সামরিক অবকাঠামো রয়েছে। এদিকে লিথুয়ানিয়া সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রতিরক্ষা ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। ২০২৬ সালের বাজেটে দেশটি প্রতিরক্ষায় মোট দেশজ উৎপাদনের ৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ বরাদ্দ করেছে। এ অর্থ সামরিক সক্ষমতা বাড়ানো, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং মিত্র বাহিনীর উপস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিতে ব্যবহার করা হচ্ছে। লিথুয়ানিয়ায় জার্মানির একটি বড় সামরিক ব্রিগেডও গড়ে তোলা হচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রায় ৫ হাজার সদস্যের জার্মান ব্রিগেড ২০২৭ সালের মধ্যে পূর্ণ সক্ষমতায় যাওয়ার কথা। এর অবকাঠামো ও স্থায়ী উপস্থিতির প্রস্তুতিও দেশটির সামরিক পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। গত কয়েক মাসে লিথুয়ানিয়া ও বাল্টিক অঞ্চলে আকাশসীমা লঙ্ঘন, ড্রোন এবং তথাকথিত হাইব্রিড হামলা নিয়ে উদ্বেগও বেড়েছে। এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে লিথুয়ানিয়া ও তার মিত্ররা পূর্বাঞ্চলীয় ন্যাটো সীমান্তে প্রতিরক্ষা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। একই সময়ে রাশিয়া ন্যাটোর সামরিক অবকাঠামো তার সীমান্তের কাছে আরও এগিয়ে আসাকে নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখছে। ফলে লিথুয়ানিয়ায় সম্ভাব্য স্থায়ী মার্কিন ঘাঁটি এবং পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েনের আইনি পথ খুলে দেওয়ার উদ্যোগ ইউরোপের পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তবে মার্কিন ঘাঁটি স্থাপনের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি এবং পারমাণবিক অস্ত্রসংক্রান্ত সাংবিধানিক পরিবর্তনও এখনো চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হয়নি।
ইরানকে ১০০ কোটি বা এক বিলিয়ন ডলার ঋণ দেওয়ার চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে রাশিয়া। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সি জানায়, তেহরান তাদের ব্যাংক হিসাবের প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করলেই এই অর্থ হস্তান্তর করা হবে। ধারণা করা হচ্ছে, এটি মূলত ইরানকে রাশিয়ার দেওয়ার প্রতিশ্রুত ২০ বিলিয়ন বা ২ হাজার কোটি ডলার ঋণ প্যাকেজের প্রথম কিস্তি। তবে ঋণের অর্থ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হলেও, এই বিপুল পরিমাণ অর্থ ঠিক কোন খাতে ব্যয় করা হবে তা নিয়ে ইরান সরকারের বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে তৈরি হওয়া মতবিরোধের জেরে লেনদেনটি বর্তমানে আটকে আছে। ফার্স নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অর্থ ব্যয়ের খাত নিয়ে ইরানের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ভিন্ন ভিন্ন প্রস্তাব দিয়েছে। দেশটির পরিকল্পনা ও বাজেট সংস্থা ঋণের অর্থ দিয়ে যানবাহন আমদানি করার পক্ষে মত দিয়েছে। অন্যদিকে, তেল মন্ত্রণালয় তাদের শিল্পের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কেনার জন্য এই অর্থ ব্যবহারের দাবি জানিয়েছে। আবার কৃষি মন্ত্রণালয় চায়, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানিতে সম্পূর্ণ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হোক। এমন বহুমুখী দাবির কারণে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি ইরান সরকার এবং এর ফলেই রাশিয়াকে অর্থ স্থানান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যাংক হিসাবের তথ্য সরবরাহ করতে পারেনি তারা। পশ্চিমা নিয়ন্ত্রিত আর্থিক ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে নিজস্ব মুদ্রার ব্যবহার বাড়ানোর মাধ্যমে ইরান ও রাশিয়া তাদের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার চেষ্টা চালিয়ে আসছে। গত জুনে ব্যাংকিং ও মুদ্রা সহযোগিতা জোরদার করার অংশ হিসেবে রুবলভিত্তিক বাণিজ্য বোর্ড প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল ইরান। সেসময় দেশটির একজন আইনপ্রণেতা জানিয়েছিলেন যে, তেহরানকে ২০ বিলিয়ন ডলারের রুবলভিত্তিক ঋণ দিতে পারে মস্কো, যার বার্ষিক সুদের হার হতে পারে ৬ শতাংশ। বর্তমানে ইরানের তেল রপ্তানি, ব্যাংকিং খাত ও আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকারের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তেহরানের ওপর এই অর্থনৈতিক চাপ আরও তীব্র করেছে ওয়াশিংটন। ইরানের সঙ্গে লেনদেনে সহায়তার অভিযোগে বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওপরও মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হচ্ছে। গত সেপ্টেম্বরে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় রাশিয়ার ভিটিবি ব্যাংকের (VTB) ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ওয়াশিংটনের অভিযোগ ছিল, ব্যাংকটি নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত ইরানি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে ব্যাংকিং সম্পর্ক বজায় রেখেছিল। এছাড়াও, ইরানকে অর্থ স্থানান্তরে ও নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সাহায্য করার অভিযোগে বিভিন্ন আর্থিক নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
রাশিয়ার সাইবেরিয়ার ইরকুতস্ক অঞ্চলে সম্ভাব্য প্লেগ সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে এবার দ্বিতীয় একজনের মৃত্যুর দাবি সামনে এসেছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইউনিল্যাড জানিয়েছে, ইরকুতস্ক ডিস্ট্রিক্ট হাসপাতালে এক ব্যক্তি মারা গেছেন এবং তার মৃত্যুর কারণ প্লেগ হতে পারে বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে মঙ্গলবার পর্যন্ত রুশ স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ কিংবা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই দ্বিতীয় মৃত্যুকে প্লেগজনিত মৃত্যু হিসেবে নিশ্চিত করেনি। বরং রাশিয়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে জানিয়েছে, ইরকুতস্কে কোনো নিশ্চিত প্লেগ রোগী শনাক্ত হয়নি। ঘটনাটি নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ শুরু হয় ইরকুতস্ক অ্যান্টি-প্লেগ রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ২৮ বছর বয়সী কর্মী দারিয়া শিপিলোভার মৃত্যুর পর। বিভিন্ন স্থানীয় প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, তিনি গবেষণাগারে কাজ করার সময় প্লেগের জীবাণু ইয়েরসিনিয়া পেস্টিসের সংস্পর্শে এসে থাকতে পারেন। তবে এই দাবিও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। রুশ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, শিপিলোভা অজানা উৎসের নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান। রাশিয়ার জনস্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ সংস্থা রসপোত্রেবনাদজর জানিয়েছে, তার সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের মধ্যে বিপজ্জনক সংক্রামক রোগের জীবাণু পাওয়া যায়নি এবং অঞ্চলের পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে। মঙ্গলবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও জানায়, রাশিয়া তাদের কাছে ইরকুতস্কে কোনো নিশ্চিত প্লেগ সংক্রমণ নেই বলে জানিয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মুখপাত্র ক্রিশ্চিয়ান লিন্ডমায়ার বলেন, মৃত কর্মীর সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের পরীক্ষা করা হয়েছে এবং তাদের নমুনায় বিপজ্জনক সংক্রামক জীবাণু শনাক্ত হয়নি। সাধারণ মানুষের জন্য ঝুঁকি কম বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি। তবে শিপিলোভার নিজের নমুনায় প্লেগের জীবাণু পাওয়া গিয়েছিল কি না কিংবা তার ক্ষেত্রে প্লেগকে চূড়ান্তভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো পুরোপুরি পরিষ্কার তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এই অনিশ্চয়তার মধ্যেই স্থানীয় গণমাধ্যমে দ্বিতীয় মৃত্যুর দাবি ছড়িয়ে পড়ে। ইউনিল্যাড জানিয়েছে, কয়েকটি রুশ সংবাদমাধ্যমে এ নিয়ে প্রকাশিত খবর পরে আর দেখা যায়নি। তবে ওই প্রতিবেদন সরিয়ে নেওয়ার কারণ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। শিপিলোভার মৃত্যুর পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ইরকুতস্কের কয়েকটি হাসপাতালের কার্যক্রমে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ২০০ জনকে চিকিৎসা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। ইরকুতস্ক অ্যান্টি-প্লেগ ইনস্টিটিউটের ৬০ জনের বেশি কর্মীকেও কিছু সময়ের জন্য আলাদা করে রাখা হয়। ইরকুতস্কের কয়েকটি হাসপাতাল এবং মাতৃসেবা প্রতিষ্ঠানেও বাড়তি স্বাস্থ্য পরীক্ষা চালু হয়েছে। দ্য মস্কো টাইমস জানিয়েছে, একটি মাতৃসেবা কেন্দ্রে রোগীদের সম্ভাব্য প্লেগ সংস্পর্শ নিয়ে প্রশ্নপত্র পূরণ করতে দেওয়া হচ্ছে এবং দর্শনার্থীদের প্রবেশেও বিধিনিষেধ দেওয়া হয়েছে। তবে এসব পদক্ষেপকে কর্তৃপক্ষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বর্ণনা করেছে। রসপোত্রেবনাদজর মঙ্গলবার ইরকুতস্ক অঞ্চলে কঠোর স্যানিটারি বিধিনিষেধ জারির খবরও অস্বীকার করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি দাবি সত্য নয় এবং অঞ্চলের মহামারি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনার পর প্রতিবেশী কয়েকটি দেশও বাড়তি সতর্কতা নিয়েছে। কিরগিজস্তানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সীমান্তের স্যানিটারি ও কোয়ারেন্টাইন পয়েন্টগুলোতে নজরদারি বাড়িয়েছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মানুষের পাশাপাশি যানবাহন ও পণ্য পরিবহনেও স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ জোরদার করা হয়েছে। কাজাখস্তানও রাশিয়ার ইরকুতস্ক অঞ্চলের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। প্লেগ ইয়েরসিনিয়া পেস্টিস নামের ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয়ে থাকে। এর নিউমোনিক ধরন ফুসফুসে সংক্রমণ ঘটায় এবং দ্রুত চিকিৎসা না হলে গুরুতর হতে পারে। তবে আধুনিক অ্যান্টিবায়োটিকের মাধ্যমে দ্রুত শনাক্ত হলে রোগটির চিকিৎসা সম্ভব। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, নিউমোনিক প্লেগ সাধারণত আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শ এবং সংক্রমিত শ্বাসতন্ত্রের ড্রপলেটের মাধ্যমে ছড়াতে পারে। বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, ইরকুতস্কে প্লেগের প্রাদুর্ভাব বা দ্বিতীয় প্লেগজনিত মৃত্যুর কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ নেই। ফলে দ্বিতীয় মৃত্যুর দাবিকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে নয়, স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত একটি অযাচাইকৃত দাবি হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে। রুশ কর্তৃপক্ষ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা উভয়ই এখন পর্যন্ত জানিয়েছে, নিশ্চিত সংক্রমণের প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং সাধারণ মানুষের জন্য ঝুঁকি কম।
রাশিয়ার সাইবেরিয়ায় প্লেগ গবেষণা প্রতিষ্ঠানের এক কর্মীর মৃ ত্যুর পর দেশটিকে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ ধরনের সমস্যায় পড়লে যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা করতে প্রস্তুত। তবে ওই কর্মী প্লেগে আ ক্রা ন্ত হয়েছিলেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত করেনি রুশ কর্তৃপক্ষ। ইরকুতস্ক অঞ্চলের গভর্নর ইগর কোবজেভের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই কর্মী নিউমোনিয়ায় মৃ ত্যু বরণ করেছেন। তবে তাঁর অসুস্থতার কারণ এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তাঁর সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের শনাক্ত করে স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। গভর্নর কোবজেভ জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠানের অন্য কর্মীদের মধ্যে নতুন করে অসুস্থ হয়ে চিকিৎসা নেওয়ার ঘটনাও শনাক্ত হয়নি। সাইবেরিয়ার ওই ঘটনার বিষয়ে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজন হলে রাশিয়াকে সহায়তা করবে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন বিষয়টির ওপর নজর রাখছে। তবে ট্রাম্পের সহায়তার প্রস্তাবের পর যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো নির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, তা জানা যায়নি। রুশ স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই কর্মীর মৃ ত্যুর সঙ্গে তাঁর গবেষণাগারের কাজের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে—এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পরীক্ষাগারে জীবাণু ব্যবস্থাপনার সময় কোনো দুর্ঘটনা ঘটেছিল বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে আলোচনা চলছে, তার পক্ষেও কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী সাধারণ মানুষের জন্য জনস্বাস্থ্যঝুঁকি কম বলে মনে হচ্ছে। তবে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে ঝুঁকির মাত্রা আবার মূল্যায়ন করা হবে। রাশিয়ার সাইবেরিয়া অঞ্চলে প্লেগ নিয়ে গবেষণা করা প্রতিষ্ঠানটির এক কর্মীর মৃ ত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিষয়টি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও নজর কেড়েছে। বিশেষ করে কর্মীর অসুস্থতার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত না হওয়ায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তবে রুশ কর্তৃপক্ষের বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, ওই কর্মীর মৃ ত্যু প্লেগ সংক্রমণের কারণে হয়েছে—এমন কোনো নিশ্চিত প্রমাণ নেই। একইভাবে গবেষণাগারে কোনো দুর্ঘটনা থেকে সংক্রমণ ছড়িয়েছে, এমন দাবিরও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প ও রুবিও। অন্যদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও বলছে, এখন পর্যন্ত সাধারণ মানুষের জন্য ঝুঁকি কম বলেই মনে হচ্ছে। নতুন তথ্যের ভিত্তিতে পরিস্থিতি পরিবর্তিত হলে জনস্বাস্থ্যঝুঁকির মূল্যায়নও পরিবর্তন করা হতে পারে।
রাশিয়ার একটি গবেষণাগারে কাজ করার সময় দুর্ঘটনাবশত একটি টেস্টটিউব ভেঙে যায়। ওই টেস্টটিউবে ভয়াবহ ‘ব্ল্যাক ডেথ’ বা প্লেগের জীবাণু ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, সেই টেস্টটিউব ভাঙার কারণেই প্লেগ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ওই ল্যাব সহকারীর মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনার পর সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে প্রায় ২০০ জনকে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং তিনটি হাসপাতাল লকডাউন করা হয়েছে। পূর্ব সাইবেরিয়ার ইরকুটস্কে অবস্থিত একটি অ্যান্টি-প্লেগ ল্যাবরেটরিতে এই ঘটনা ঘটে। এই গবেষণাগারটি মূলত বিরল রোগ নিয়ে কাজ করে। ইনডিপেনডেন্ট নিউজ আউটলেট ‘পিপল অব বৈকাল’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৮ বছর বয়সী দারিয়া শিপিলোভা গত সপ্তাহে ওই ল্যাবে টেকনিশিয়ান হিসেবে কাজ করার সময় ভুলবশত নিউমোনিক প্লেগ ধারণকারী টেস্টটিউবটি ভেঙে ফেলেন। এরপরই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। মস্কো টাইমসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, নিউমোনিয়ার উপসর্গ নিয়ে গত ২৯ সেপ্টেম্বর শেলেখভ শহরের একটি হাসপাতালে দারিয়াকে ভর্তি করা হয়। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ভেন্টিলেটরে রাখা হয়েছিল। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। হাসপাতালে ভর্তির দুই দিনের মাথায় ১ অক্টোবর রাতে তিনি মারা যান। দারিয়া শিপিলোভার মৃত্যুর পর সতর্কতা হিসেবে অ্যান্টি-প্লেগ ইনস্টিটিউটের অন্যান্য কর্মীসহ প্রায় ১৮৯ জনকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, দারিয়ার অসুস্থ হওয়ার পর এরা তার সংস্পর্শে এসেছিলেন। ইরকুটস্কের গভর্নর ইগর কোবজেভ জানিয়েছেন, ল্যাবের এই ‘বিশেষত বিপজ্জনক সংক্রমণ’ নিয়ে আলোচনার জন্য সপ্তাহান্তে একটি জরুরি বৈঠক ডেকেছে কর্তৃপক্ষ। ইরকুটস্ক হলো মঙ্গোলিয়ার উত্তরের একটি বিশাল অঞ্চল। গভর্নর ইগর কোবজেভ আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, বর্তমানে কোয়ারেন্টাইনে থাকা আর কারও মধ্যে এই রোগের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। তবে রাশিয়ায় সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার অভাব থাকায় সেখানকার এই প্রাদুর্ভাবের বিস্তারিত তথ্য খুব একটা প্রকাশ পায়নি। এদিকে, রুশ ট্যাবলয়েড ম্যাশের একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, প্রতিবেশী অঞ্চল বুরিয়াটিয়া থেকে ফেরার পর ওই ল্যাব সহকারী অসুস্থ হয়ে পড়েন, যেখানে আগে প্লেগের প্রাদুর্ভাব দেখা গিয়েছিল। সাধারণত ইঁদুরের মতো প্রাণীর শরীরে থাকা সংক্রমিত মাছির কামড়ের মাধ্যমে প্লেগ ছড়ায়। ১৪ শতকে বিশ্বব্যাপী যে ব্ল্যাক ডেথ বা প্লেগ ছড়িয়ে পড়েছিল তাতে প্রায় সাড়ে ৭ থেকে ২০ কোটি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল, যা ছিল ইউরোপের মোট জনসংখ্যার ৩০ থেকে ৬০ শতাংশ। তবে বর্তমান ক্ষেত্রে যে প্লেগের কথা বলা হচ্ছে তা হলো নিউমোনিক প্লেগ। এটি শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে একজন থেকে অন্যজনে ছড়াতে পারে। তথ্যসূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।