রাশিয়া

ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা দিচ্ছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ
ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক হুমকির তীব্র নিন্দা রাশিয়ার, সতর্কবার্তা লাভরভের

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সামরিক হুমকির কড়া নিন্দা জানিয়েছে রাশিয়া। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো নতুন সামরিক আগ্রাসন আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে।   সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনের জন্য প্রস্তুত করা লিখিত বক্তব্যে লাভরভ এসব কথা বলেন। তিনি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে এবং চাপ কমাতে রাশিয়ার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন।   রাশিয়ার শীর্ষ এই কূটনীতিক বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক হামলার হুমকি সম্পূর্ণভাবে অগ্রহণযোগ্য। এ ধরনের আগ্রাসনের পুনরাবৃত্তি পশ্চিম এশিয়া অঞ্চল এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে গভীর সংকটে ফেলতে পারে।   লাভরভ আরও সতর্ক করে বলেন, ‘বিদেশি প্ররোচনায় সৃষ্ট অস্থিরতা’কে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে যদি ‘২০২৫ সালের জুনে ইরানের বিরুদ্ধে সংঘটিত আগ্রাসন’ আবারও পুনরাবৃত্তি করা হয়, তাহলে তা বৈশ্বিক স্থিতিশীলতাকে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।   এদিকে একই দিনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট কার্যালয় ক্রেমলিনও জানায়, ইরান ইস্যুতে উত্তেজনা কমাতে মস্কো তার কূটনৈতিক উদ্যোগ অব্যাহত রেখেছে।   ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম প্রক্রিয়াকরণ বা সংরক্ষণসংক্রান্ত বিষয়ে বাস্তবসম্মত সমাধান প্রস্তাব করে আসছে রাশিয়া, যাতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর উদ্বেগ দূর করা যায় এবং উত্তেজনা হ্রাস পায়।   পেসকভ বলেন, বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় রয়েছে। বিভিন্ন দেশের জন্য বিরক্তিকর বা উদ্বেগজনক বিষয়গুলো দূর করার একটি সম্ভাব্য পথ হিসেবে রাশিয়া ধারাবাহিকভাবে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়ে আসছে।   তিনি আরও জানান, রাশিয়া সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখছে এবং সংঘাত উসকে দেওয়ার পরিবর্তে উত্তেজনা প্রশমনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রয়েছে। সূত্র: প্রেস টিভি

শাহারিয়া নয়ন ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬ 0
ইউক্রেনে বাসে রুশ হামলার পর চলছে উদ্ধারকাজ। ছবি: রয়টার্স
ইউক্রেনে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় নিহত ১২, আহত ৭

ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল দিনিপ্রোপেত্রোভস্কে রাশিয়ার একটি ড্রোন হামলায় একটি বাসে থাকা অন্তত ১২ জন নিহত এবং আরও সাতজন আহত হয়েছেন। বাসটিতে খনিতে কর্মরতরা ছিলেন। দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী ডেনিস শেমহাল রোববার টেলিগ্রামে লিখেছেন, “আজ শত্রুরা দিনিপ্রো অঞ্চলে জ্বালানি খাতের কর্মীদের লক্ষ্য করে নিন্দনীয় হামলা চালিয়েছে। এই সন্ত্রাসী হামলায় ১২ জন নিহত এবং আরও সাতজন আহত হয়েছে।” স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, তেরনিভস্কা শহরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। জরুরি পরিষেবা অনলাইনে প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, হামলার পর একটি পোড়া বাস সড়কের পাশে উল্টে পড়ে রয়েছে। জ্বালানি প্রতিষ্ঠান ডিটিইকে জানিয়েছে, হতাহত ব্যক্তিরা তাদের প্রতিষ্ঠানের কর্মী ছিলেন। হামলার সময় তারা সবাই কর্মস্থল থেকে বাসে ফিরছিলেন। এর পাশাপাশি, রোববার আঞ্চলিক কর্মকর্তারা জানান, দক্ষিণ-পূর্ব শহর জাপোরিঝিয়ায় রাশিয়ার হামলায় একটি মাতৃসদন ও একটি আবাসিক ভবনে কমপক্ষে নয়জন আহত হয়েছেন। এই হামলার খবর আসছে এমন সময়, যখন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের ত্রিপক্ষীয় আলোচনার দ্বিতীয় পর্ব আগামী বুধবার ও বৃহস্পতিবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত হবে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রোববার এ তথ্য জানিয়েছেন। চার বছর ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এখনও অব্যাহত রয়েছে। দীর্ঘ এই যুদ্ধে ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সম্প্রতি রাশিয়া দেশের বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ওপর নতুন করে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে, যা চলতি শীতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে তীব্রভাবে প্রভাবিত করছে।

শাহারিয়া নয়ন ফেব্রুয়ারি ২, ২০২৬ 0
ইরান ও রাশিয়া
ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্র থেকে কর্মীদের সরিয়ে নিতে প্রস্তুত রাশিয়া

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝে বিশ্বজুড়ে নতুন এক পারমাণবিক আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। ইরানের বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কর্মরত নিজেদের সকল কর্মীকে যেকোনো সময় সরিয়ে নেওয়ার জন্য মস্কো এখন পুরোপুরি প্রস্তুত। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা ‘রোসাটম’-এর প্রধান আলেক্সি লিখাচেভ আজ এক বিবৃতিতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছেন।   লিখাচেভ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ইরানের ভূখণ্ডে বা পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন হামলার আশঙ্কা দেখা দিলে কোনো ধরণের কালক্ষেপণ না করেই তাৎক্ষণিক এই স্থানান্তর প্রক্রিয়া কার্যকর করা হবে। রাশিয়ার পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতি মুহূর্তের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। লিখাচেভ এক ভয়াবহ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “এই কেন্দ্রে কোনো ধরণের আঘাত মানে হবে ১৯৮৬ সালের চোরনোবিল বিপর্যয়ের পুনরাবৃত্তি, যা গোটা পৃথিবীর জন্য এক মহাবিপর্যয় ডেকে আনবে।”   উল্লেখ্য, গত জুন মাসে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে মার্কিন হামলায় বুশেহর কেন্দ্রটি রক্ষা পেলেও এবারের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। বর্তমানে সেখানে শত শত রুশ বিশেষজ্ঞ কর্মরত রয়েছেন। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কঠোর অবস্থান এবং ইরানের জলসীমায় একের পর এক শক্তিশালী নৌবহর পাঠানোর ঘটনায় মস্কো আর কোনো ঝুঁকি নিতে চাইছে না।   আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের ওমান উপসাগর ও আরব সাগরে ইতিমধ্যে বিপুল পরিমাণ মারণাস্ত্র সজ্জিত মার্কিন রণতরী অবস্থান নিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নতুন করে আরও একটি বহর পাঠানোর ঘোষণা দিলেও চূড়ান্ত হামলার সময় নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত দেননি। তবে রাশিয়ার এই আকস্মিক ‘ইভাকুয়েশন’ বা সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, পর্দার আড়ালে বড় কোনো সংঘাতের মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে।   ইরানের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোর নিরাপত্তা এবং পারমাণবিক বিপর্যয়ের এই শঙ্কা এখন বিশ্ব রাজনীতির প্রধান আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তেহরান এখন ওয়াশিংটনের এই সাঁড়াশি চাপের বিপরীতে কী ধরণের প্রতিরোধ গড়ে তোলে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক জানুয়ারী ৩১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা: রাশিয়া ইরান পরিস্থিতি নিবিড় পর্যবেক্ষণে

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, ইরানের পরিস্থিতি মস্কো গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে একযোগে কাজ করার আগ্রহও প্রকাশ করেছেন। ক্রেমলিনে বৃহস্পতিবার আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে এই কথা বলেন পুতিন। খবর দিয়েছে রয়টার্স।   সম্প্রতি আমিরাতে অনুষ্ঠিত রাশিয়া-ইউক্রেন শান্তি আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। এই প্রেক্ষাপটে পুতিন ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা প্রশমনে আমিরাতের মধ্যস্থতামূলক ভূমিকা দেখতে আগ্রহী।   ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার সম্ভাবনা এখনও শেষ হয়ে যায়নি। তিনি সতর্ক করে বলেন, তেহরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক ব্যবহারের ফলে অঞ্চলে ‘অস্থিরতা’ সৃষ্টি হতে পারে এবং তা বিপজ্জনক ফলাফল ডেকে আনতে পারে।   পেসকভের মন্তব্য আসে একদিন পরে, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করেছেন যে, পারমাণবিক অস্ত্র সংক্রান্ত চুক্তি করতে আলোচনায় বসতে হবে, নয়তো মার্কিন আক্রমণের মুখোমুখি হতে হবে।   তবে ইরান এখনো তাদের অবস্থানে অনড়। তেহরান জানিয়েছে, যুদ্ধ হলে হামলার দায় আমেরিকাকে নিতে হবে।

শাহারিয়া নয়ন জানুয়ারী ৩০, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা: এবার মেইনে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযানের ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)।   ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে।   কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না।   তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে।  সূত্র: ABC News

ভিসা নিয়ে বড় সুখবর দিলো যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে।   নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা।   ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল।   তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে।   এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস

যুক্তরাষ্ট্রে ধেয়ে আসছে বিশাল বরফ ও তুষার ঝড় — সবচেয়ে বিপদগ্রস্ত থেকে কম বিপদগ্রস্ত রাজ্য

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রায় ২,০০০ মাইল দীর্ঘ এক ভয়াবহ বরফ ও তুষার ঝড় দ্রুত বিস্তার লাভ করছে। আবহাওয়াবিদদের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, এই ঝড়ে বরফ, তুষারপাত ও হিমশীতল বৃষ্টির সম্মিলিত প্রভাব পড়তে পারে দেশের মধ্য-পশ্চিম, দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের বহু রাজ্যে। ঝড়ের আগেই শত শত ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে এবং সড়ক যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ধরনের ব্যাঘাতের আশঙ্কা করা হচ্ছে।   CNN–এর আবহাওয়া প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ঝড়ের তীব্রতা অঞ্চলভেদে ভিন্ন হলেও কিছু রাজ্যে পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে।   সবচেয়ে বেশি বিপদগ্রস্ত রাজ্য (High Impact) টেক্সাস (Texas) ঝড়ের সূচনা এখান থেকেই। ভারী বরফ জমে বিদ্যুৎ লাইন ভেঙে পড়া, ব্ল্যাকআউট ও মহাসড়ক বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। ওকলাহোমা (Oklahoma) বরফালার সঙ্গে তীব্র ঠান্ডা। গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার আশঙ্কা। আর্কানসাস (Arkansas) হিমশীতল বৃষ্টি ও বরফের স্তর জমে চলাচল প্রায় অচল হতে পারে। কেন্টাকি (Kentucky) মধ্য-পশ্চিম থেকে পূর্বাঞ্চলের সংযোগস্থল হওয়ায় তুষারপাত ও বরফের যুগপৎ প্রভাব পড়তে পারে। ওহাইও (Ohio) ভারী তুষার ও তীব্র ঠান্ডায় বিমান ও সড়ক যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা। মাঝারি ঝুঁকির রাজ্য (Moderate Impact) টেনেসি (Tennessee) – বরফ ও তুষারের মিশ্র প্রভাব জর্জিয়া (Georgia) – বিশেষ করে উত্তর জর্জিয়ায় বরফ ঝড়ের সতর্কতা নর্থ ক্যারোলিনা (North Carolina) – হিমশীতল বৃষ্টি ও বরফ জমার ঝুঁকি সাউথ ক্যারোলিনা (South Carolina) – সীমিত এলাকায় বরফালার সম্ভাবনা ভার্জিনিয়া (Virginia) – তুষার ও ঠান্ডার প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে তুলনামূলক কম ঝুঁকির রাজ্য (Lower Impact) মেরিল্যান্ড (Maryland), ওয়াশিংটন ডিসি, পেনসিলভানিয়া (Pennsylvania), নিউ ইয়র্ক (New York), ম্যাসাচুসেটস (Massachusetts) — এসব রাজ্যে ঝড় পৌঁছালেও প্রভাব তুলনামূলক কম হতে পারে, তবে তুষারপাত ও শীতজনিত দুর্ভোগ পুরোপুরি এড়ানো যাবে না। পরিবহন ও জনজীবনে প্রভাব ঝড়ের আশঙ্কায় ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন বড় বিমানবন্দরে শত শত ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার এবং জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সড়কে না নামার পরামর্শ দিচ্ছে। প্রস্তুতি ও সতর্কতা জরুরি খাবার, পানি ও ওষুধ মজুত রাখুন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার প্রস্তুতি নিন স্থানীয় আবহাওয়া সতর্কতা ও নির্দেশনা নিয়মিত অনুসরণ করুন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঝড় আগামী কয়েক দিন ধরে ধাপে ধাপে বিভিন্ন রাজ্যে প্রভাব ফেলতে পারে। পরিস্থিতির অবনতি হলে আরও জরুরি সতর্কতা জারি করা হতে পারে।

নির্বাচন উপলক্ষে সাধারণ ছুটি আরও বাড়ল

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতেই দীর্ঘ ছুটি কাটানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। ইসলামী ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) দিবাগত রাতে পবিত্র শবেবরাত পালিত হবে। এ উপলক্ষে ৪ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এর পরদিন ৫ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) হওয়ায়, মাত্র এক দিনের ছুটি নিলেই টানা চার দিনের অবকাশ উপভোগ করা সম্ভব হবে। কারণ ৬ ও ৭ ফেব্রুয়ারি যথাক্রমে শুক্রবার ও শনিবার—সাপ্তাহিক ছুটি।   এদিকে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচন উপলক্ষে সরকার ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে এখানেও টানা চার দিনের ছুটি মিলছে।   প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ১১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের জন্য ১০ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি থাকবে। নির্বাচনের দিন ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি আগেই ঘোষণা করা হয়েছিল।   অন্যদিকে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত ২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, বছরটিতে মোট ১৪ দিন সাধারণ ছুটি এবং ১৪ দিন নির্বাহী আদেশে ছুটি নির্ধারিত রয়েছে। এর মধ্যে ৯ দিন শুক্রবার ও শনিবারের সঙ্গে মিলেছে। এছাড়া, ২০২৬ সালে ধর্মভিত্তিক ঐচ্ছিক ছুটিও নির্ধারণ করা হয়েছে।   সে অনুযায়ী মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৫ দিন; হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৯ দিন; খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৮ দিন; বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৭ দিন এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সরকারি কর্মচারীদের জন্য ২ দিন।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়াতে পারে যৌনাঙ্গ আক্রান্তকারী পরজীবী, সতর্ক করেছেন বিজ্ঞানিরা

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়াতে পারে যৌনাঙ্গ আক্রান্তকারী পরজীবী,সতর্ক করলেন বিজ্ঞানীরা স্নেইল ফিভার’ নামে পরিচিত এক ধরনের পরজীবী বিশ্বজুড়ে নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে। ত্বকের ভেতর দিয়ে মানবদেহে প্রবেশ করা এই পরজীবী দীর্ঘদিন রক্তে নীরবে অবস্থান করে এবং পরে ডিম পাড়ে,যা লিভার, ফুসফুসও যৌনাঙ্গসহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে জমা হতে পারে। ভয়াবহ বিষয় হলো,বছরের পর বছর শরীরে অবস্থান করলেও অনেক ক্ষেত্রে এটি শনাক্তই নাও হতে পারে। শামুকের মাধ্যমে ছড়ানোএ পরজীবীর কারণেই রোগটির নামকরণ করা হয়েছে স্নেইল ফিভার।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, রোগটি এখন বৈশ্বিক উদ্বেগে পরিণত হয়েছে। কারণ পরজীবীটির গঠন ও বৈশিষ্ট্যে পরিবর্তন ঘটছে, যার ফলে এটি নতুন নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি করছে। বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এমন এক সময়ে এই সতর্কবার্তা এলো,যখন৩০ জানুয়ারি ওয়ার্ল্ড নেগলেক্টেড ট্রপিক্যাল ডিজিজ ডে পালন করছে ডব্লিউএইচও।এ দিবসের লক্ষ্য হচ্ছে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, পরজীবীও ছত্রাকজনিত রোগগুলোর বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো,যা সাধারণত দরিদ্র অঞ্চলের শত কোটিরও বেশি মানুষকে আক্রান্ত করে। কীভাবে ছড়ায় স্নেইল ফিভার :  এই পরজীবী বহন করে নির্দিষ্ট এক ধরনের শামুক।যেসব পানিতে ওই শামুক বসবাস করে,সেখানে পরজীবীর লার্ভা ছড়িয়ে পড়ে। কেউ যদি সেই পানিতে গোসল করেন বা সংস্পর্শে আসেন,তবে লার্ভা ত্বকের ভেতর প্রবেশ করতে পারে। পরজীবীগুলো এমন এনজাইম নিঃসরণ করে,যা ত্বক ভেদ করতে সক্ষম। দেহে প্রবেশের পর লার্ভাগুলো ধীরে ধীরে পূর্ণবয়স্ক কৃমিতে পরিণত হয় এবং রক্তনালিতে বাসা বাঁধে।স্ত্রী কৃমিগুলো ডিম পাড়ে। কিছু ডিম মল বা প্রস্রাবের সঙ্গে বের হয়ে গেলেও বহু ডিম শরীরের ভেতরের টিস্যুতে আটকে থাকে। এতে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে আশপাশের সুস্থ টিস্যুকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। ফলে বিভিন্ন অঙ্গের মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দেয়। বিশেষ করে তলপেট যৌনাঙ্গে ডিম জমে থাকলে ইউরোজেনিটাল স্কিস্টোসোমিয়াসিস নামের জটিল রোগ দেখা দেয়। এতে পেটব্যথা, ক্যানসার এমনকি মৃত্যুর ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। চিকিৎসাওনতুন উদ্বেগ: সাধারণত অ্যান্টি-প্যারাসাইটিক ওষুধে স্নেইল ফিভার চিকিৎসাযোগ্য। ডব্লিউএইচও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী—যেমন শিশু কৃষিশ্রমিকও জেলেদের প্রতি বছর এই ওষুধ গ্রহণের পরামর্শ দিয়ে আসছে। তবে মালাউই লিভারপুল ওয়েলকাম ক্লিনিক্যাল রিসার্চ প্রোগ্রামের সহযোগী পরিচালক অধ্যাপক জানেলিসা মুসায়া সতর্ক করেছেন, নতুন কিছু ধরন শনাক্ত হয়েছে, যেগুলো প্রচলিত পরীক্ষায় ধরা নাও পড়তে পারে। হাইব্রিড পরজীবীর আশঙ্কা: গবেষণায় দেখা গেছে,মানুষের শরীরের পরজীবীওপ্রাণীর শরীরের পরজীবী একে অপরের সঙ্গে মিশে ‘হাইব্রিড’ বা মিশ্র ধরন তৈরি করছে। এসব হাইব্রিড পরজীবী মানুষ ওপ্রাণী—উভয়কেই আক্রান্ত করতে পারে।মালাউইতে করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, নমুনার সাত শতাংশ পরজীবীই ছিল হাইব্রিড,যা গবেষকদের প্রত্যাশার চেয়েও বেশি। অধ্যাপক মুসায়া বলেন,এভাবে যদি প্রকৃতিতে সংক্রমণ চলতেই থাকে, তাহলে সংখ্যাটা এক সময় বেশ বড় হয়ে যাবে।তিনি আরও বলেন, গবেষণা যেহেতু নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় করা হয়েছে,এজন্য এটি হয়তো হিমশৈলের চূড়া মাত্র। শনাক্তকরণে জটিলতা: গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, হাইব্রিড পরজীবীগুলো মানুষের যৌনাঙ্গে সংক্রমণ ঘটালেও তা শনাক্ত করা কঠিন। কারণ এসব ডিম মাইক্রোস্কোপে সাধারণ পরজীবীর মতো দেখায় না। অনেক সময় উপসর্গগুলোকে যৌনবাহিত রোগ ভেবে ভুল করা হয়।চিকিৎসা না হলে বন্ধ্যত্ব, যৌনাঙ্গে ক্ষত এবং এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। এপ্রসঙ্গে অধ্যাপক মুসায়া বলেন,“ভাবুন তো,কোনো নারী যদি সন্তান ধারণ করতে না পারেন... আমাদের সংস্কৃতিতে সন্তান হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। সন্তান না হলে ওই নারীকে নানাভাবে কটূক্তি করেন মানুষরা। যা খারাপ এবং খুবই কষ্টের একটি রোগ। বৈশ্বিক প্রস্তুতি: ডব্লিউএইচও’র স্কিস্টোসোমিয়াসিস নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির প্রধান ডা.আমাদু গারবা জিরমে বলেন,রোগটি একটি বৈশ্বিক উদ্বেগ।তিনি জানান,কিছু দেশে মানুষের মধ্যে সংক্রমণ না থাকলেও প্রাণীদের শরীরে পরজীবী রয়ে গেছে, যা ভবিষ্যতে বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। নতুন এই হুমকি মোকাবিলায় ডব্লিউএইচও কৌশল পরিবর্তন করছে।সংস্থাটি প্রাণীদের মধ্যে রোগ নিয়ন্ত্রণে নতুন নির্দেশনা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং বিভিন্ন দেশকে হাইব্রিড পরজীবী নিয়ে আন্তর্জাতিক সতর্কবার্তা দিয়েছে। যদিও ২০০৬থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ব্যাপক ওষুধ বিতরণের ফলে সংক্রমণ ৬০শতাংশ কমেছে, তবে অর্থায়ন কমে যাওয়ায় এই অগ্রগতি হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।   প্রতিবেদকঃ শ্যামল সান্যাল

Top week

ভিসা নিয়ে বড় সুখবর দিলো যুক্তরাষ্ট্র
আমেরিকা

ভিসা নিয়ে বড় সুখবর দিলো যুক্তরাষ্ট্র

তাবাস্সুম মোহাম্মদ জানুয়ারী ৩১, ২০২৬ 0