রাশিয়া

ছবি: সংগৃহীত
দুই বছরে সর্বোচ্চ ড্রোন হামলা, মস্কোকে লক্ষ্য করে ইউক্রেনের আক্রমণ—দাবি রুশ গণমাধ্যমের

ইউক্রেন রাশিয়ার রাজধানী মস্কোকে লক্ষ্য করে গত দুই বছরে সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা টাস। হামলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে অগ্নিকাণ্ড ও ধ্বংসাবশেষ পড়ে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে রুশ কর্তৃপক্ষ।   মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন বলেন, রাতভর অন্তত ১৯৪টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে, যেগুলো রাজধানীকে লক্ষ্য করে পাঠানো হয়েছিল। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে হওয়া হামলার তুলনায় এই সংখ্যা অনেক বেশি, যেখানে সাধারণত ড্রোনের সংখ্যা কয়েক ডজনের মধ্যে সীমিত থাকত।   রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মোট ৫৫৫টি ড্রোন বিভিন্ন অঞ্চলে প্রতিহত করা হয়েছে, যার মধ্যে কিছু ড্রোন আজভ সাগরের ওপরেও ধ্বংস করা হয়। হামলার পর মস্কোর সব প্রধান বিমানবন্দরে সাময়িকভাবে ফ্লাইট চলাচল স্থগিত করা হয় বলে জানিয়েছে রুশ বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।   রাশিয়ার দাবি অনুযায়ী, ইউক্রেনের হামলার লক্ষ্য ছিল জ্বালানি অবকাঠামো। এর মধ্যে মস্কোর দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় কাপোতনিয়া এলাকায় অবস্থিত একটি তেল শোধনাগারও রয়েছে, যেটি মঙ্গলবারও হামলার শিকার হয়েছিল। প্রত্যক্ষদর্শী ভিডিওতে দেখা যায়, ড্রোন আসার সময় আকাশে ঘন কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ছে এবং একটি বড় বিস্ফোরণ ঘটে।   এছাড়া মস্কোর সাদোভোদ ট্রেড সেন্টারের কাছে বড় ধরনের ধোঁয়ার কুণ্ডলি দেখা গেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যম। একটি আবাসিক ভবন ও একটি ফিটনেস সেন্টারেও ধ্বংসাবশেষ পড়ে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। রুশ ও ইউক্রেনীয় সূত্রের বরাত অনুযায়ী, ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনী রাশিয়ার রোস্তভ অঞ্চলের একটি তেল ডিপোতেও হামলা চালিয়েছে।   অন্যদিকে ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, রাশিয়া পাল্টা হামলায় সাতটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ২৩৯টি ড্রোন ব্যবহার করেছে। এতে কিয়েভ ও পোলতাভা অঞ্চলের কয়েকটি স্থানে বাড়ি, জ্বালানি অবকাঠামো ও শিল্প স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।   ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়ার হামলার জবাবে এই আক্রমণ চালানো হয়েছে এবং এটি “সম্পূর্ণ ন্যায্য প্রতিক্রিয়া”। তিনি আরও দাবি করেন, সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনের দূরপাল্লার হামলা রাশিয়ার জ্বালানি খাতকে লক্ষ্য করে কার্যকর প্রভাব ফেলছে।   ন্যাটো ও জি-৭ বৈঠকের সময় এই হামলা সংঘটিত হয়। ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে জানান, ইউক্রেনকে আরও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের বিষয়ে আলোচনা চলছে।   বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেনের এই ধরনের হামলা রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে চাপ বাড়ানোর কৌশলের অংশ, যা যুদ্ধের গতিপথে নতুন মাত্রা যোগ করছে।

শাহারিয়া নয়ন জুন ১৭, ২০২৬ ১৪:০ 0
এস-৩০০ভি ক্ষেপণাস্ত্র l ছবি: সংগৃহীত
ইউক্রেনের জোরালো হামলায় রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষায় মিসাইল ঘাটতি, যুদ্ধের মোড় ঘোরার ইঙ্গিত

সাড়ে চার বছর ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে এবার দৃশ্যপট পরিবর্তনের জোরালো ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। সিবিএস নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেনের টানা ও গভীর হামলায় রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ এস-৩০০ মিসাইলের মজুতে চরম ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এই সংকটের সুযোগ নিয়ে ইউক্রেনীয় বাহিনী এখন আরও সহজে রাশিয়ার অভ্যন্তরে সফল আক্রমণ চালাতে সক্ষম হচ্ছে বলে দাবি করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।   ইউক্রেনের গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত শতকের ষাট ও সত্তরের দশকে তৈরি সোভিয়েত আমলের এস-৩০০ মিসাইল রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষার অন্যতম প্রধান হাতিয়ার। যুদ্ধক্ষেত্রে বর্তমানে রাশিয়া এস-৩৫০, এস-৪০০ এবং প্যান্টসির-এস১-এর মতো অত্যাধুনিক ব্যবস্থা ব্যবহার করলেও এস-৩০০ মিসাইলের ওপর তাদের নির্ভরতা একেবারেই কমেনি।   ইউক্রেনীয় গোয়েন্দাদের ২০২৫ সালের এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ওই সময়ে রাশিয়ার হাতে অন্তত ৪০০টির বেশি এস-৩০০ ও এস-৪০০ ইন্টারসেপ্টর ছিল। তবে বর্তমানে এই মজুত উদ্বেগজনক হারে কমে আসছে। এর প্রধান কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, রাশিয়া সম্প্রতি তাদের আকাশ প্রতিরক্ষার কাজে ব্যবহৃত এস-৩০০ মিসাইলগুলোকে ইউক্রেনে আক্রমণ চালানোর জন্য ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। পাশাপাশি, ইউক্রেনের জেট ইঞ্জিনযুক্ত অত্যাধুনিক ও দ্রুতগতির ড্রোনগুলোকে ঠেকাতেও রাশিয়াকে তাদের এই মূল্যবান মিসাইলগুলোর বিশাল একটি অংশ খরচ করতে হচ্ছে।   রাশিয়ার এই আকাশ প্রতিরক্ষা সংকটকে আরও ঘনীভূত করতে ইউক্রেন এখন সরাসরি তাদের মিসাইল সাইটগুলোতে লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করছে। ফরেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের রুশ সামরিক বিশেষজ্ঞ রব লি জানান, গত কয়েক মাসে ক্রিমিয়া, লুহানস্কসহ বিভিন্ন অধিকৃত অঞ্চলে রাশিয়ার বিপুল সংখ্যক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে কিয়েভ। পশ্চিমা দেশগুলোর কঠোর নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়া এই মিসাইলগুলোর প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ, বিশেষ করে গাইডেন্স সিকার এবং কন্ট্রোল মডিউলের তীব্র সংকটে পড়েছে।   চীন বা পশ্চিমা বাজার থেকে এসব যন্ত্রাংশ সংগ্রহ করতে না পারায় মস্কোর পক্ষে দ্রুত এই বিপুল ঘাটতি পূরণ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।   তবে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার (জিইউআর) ভারপ্রাপ্ত প্রধান ওলেহ চোরনি সতর্ক করে বলেছেন যে, ড্রোন হামলা মোকাবিলার জন্য রাশিয়ার হাতে এখনও বেশ কিছু অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সচল রয়েছে। অন্যদিকে, এই দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে ইউক্রেনও নিজস্ব আকাশ প্রতিরক্ষা সংকটে ভুগছে। বিশেষ করে রুশ ব্যালিস্টিক মিসাইল প্রতিহত করতে সক্ষম মার্কিন প্যাক-৩ ইন্টারসেপ্টরের তীব্র অভাব কিয়েভকে বেশ চিন্তায় ফেলেছে।   নরওয়েজিয়ান ইনস্টিটিউট ফর ডিফেন্স স্টাডিজের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, রাশিয়া যেখানে বছরে ৬০০ থেকে ৮০০ ব্যালিস্টিক মিসাইল তৈরির সক্ষমতা অর্জন করতে যাচ্ছে, সেখানে বিশ্বব্যাপী প্যাক-৩ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিন গত বছর মাত্র ৬২০টি ইন্টারসেপ্টর সরবরাহ করেছে। তারপরও রাশিয়ার এই মিসাইল ঘাটতির খবর যুদ্ধক্ষেত্রে কিয়েভের অবস্থানকে মানসিকভাবে শক্তিশালী করেছে।   সম্প্রতি ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, রাশিয়ার অভ্যন্তরে দূরপাল্লার অস্ত্র দিয়ে এই ধরনের জোরালো হামলাই মূলত যুদ্ধ বন্ধে মস্কোকে বাধ্য করার অন্যতম প্রধান উপায়।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ১৭, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: রয়টার্স
রাশিয়াকে প্রতিরোধে লাটভিয়ায় ৮৫০ সেনা পাঠাবে ডেনমার্ক

 ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলীয় প্রতিরক্ষা জোরদারের অংশ হিসেবে আগামী শরৎ মৌসুমে লাটভিয়ায় ৮৫০ সদস্যের একটি সামরিক ব্যাটালিয়ন মোতায়েন করবে ডেনমার্ক। বর্তমানে দেশটিতে অবস্থানরত সুইডিশ সেনা কন্টিনজেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করবে ডেনিশ বাহিনী।   বুধবার ডেনমার্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়েপে ব্রুস দেশটির পার্লামেন্ট সদস্যদের সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।   প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, “রাশিয়াকে প্রতিরোধের ক্ষেত্রে আমাদের ভূমিকা পালন করা গুরুত্বপূর্ণ। পরিস্থিতি যেভাবে এগোচ্ছে, তা সবাই দেখতে পাচ্ছে এবং বিষয়টি নিঃসন্দেহে অত্যন্ত গুরুতর।”   ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোপেনহেগেন। ইউক্রেনে যুদ্ধ অব্যাহত থাকায় ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলীয় সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে জোটভুক্ত দেশগুলো সামরিক উপস্থিতি জোরদারের উদ্যোগ নিয়েছে।   লাটভিয়াসহ বাল্টিক অঞ্চলের দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরেই রাশিয়ার সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ন্যাটো সদস্য রাষ্ট্রগুলো ওই অঞ্চলে সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন বৃদ্ধি করছে।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইরান যুদ্ধের সময় পর্যাপ্ত সমর্থন না দেওয়ার অভিযোগ তুলে ইউরোপীয় ন্যাটো সদস্যদের সমালোচনা করেন। পাশাপাশি তিনি জার্মানিতে মোতায়েন মার্কিন সেনার সংখ্যা কমানোর পরিকল্পনার কথাও জানান।   এমন পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় দেশগুলো নিজেদের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার চেষ্টা করছে। লাটভিয়ায় ডেনমার্কের নতুন সেনা মোতায়েনকে ন্যাটোর পূর্ব সীমান্তে সামরিক উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর মাধ্যমে জোটটি সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ সক্ষমতা বাড়াতে চায়।

শাহারিয়া নয়ন জুন ১৬, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইংলিশ চ্যানেলে ব্রিটিশ নৌযানের কাছে রুশ যুদ্ধজাহাজে গুলি, ক্ষুব্ধ স্টারমার

ইংলিশ চ্যানেলে একটি ব্রিটিশ পতাকাবাহী নৌযানের কাছে রুশ নৌবাহিনীর একটি ফ্রিগেটের ‘হুঁশিয়ারি গুলি’ ছোড়ার ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ঘটনাটিকে “বেপরোয়া” এবং “গভীরভাবে উদ্বেগজনক” বলে মন্তব্য করেছেন।   বুধবার ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি৭ শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে তিনি বলেন, রুশ নৌবাহিনীর জাহাজের এমন আচরণ “ঘটা উচিত ছিল না”। তার ভাষায়, “এটি বেপরোয়া। নৌযানে থাকা দম্পতি নিশ্চিতভাবে ভীষণ আতঙ্কিত হয়েছিলেন।”   ঘটনার সময় ‘ব্রাইট ফিউচার’ নামের ব্রিটিশ পতাকাবাহী একটি ইয়ট ইংলিশ চ্যানেলে চলছিল। ইয়টটিতে থাকা নাবিক জেন কেলভি বিবিসিকে জানান, রুশ যুদ্ধজাহাজটি শুরুতে পাঁচবার হর্ন বাজিয়ে সতর্ক সংকেত দেয়, এরপর ছোট অস্ত্র দিয়ে হুঁশিয়ারি গুলি ছোড়ে।   তিনি বলেন, নৌযান দুটি কোনোভাবেই সংঘর্ষের পথে ছিল না। তার দাবি অনুযায়ী, পরিস্থিতি তখনই উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে যখন গুলি ছোড়া হয়, যা “সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয়” ছিল।   তবে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ভিন্ন অবস্থান জানিয়েছে। তাদের দাবি, ইয়টটি বিপজ্জনকভাবে যুদ্ধজাহাজের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল এবং একাধিক রেডিও সতর্কবার্তার পরও অবস্থান পরিবর্তন করেনি। পরে সংঘর্ষ এড়াতে সতর্ক গুলি ছোড়া হয় এবং শেষ পর্যন্ত ইয়টটি দিক পরিবর্তন করে।   যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গুলিটি সরাসরি নৌযানকে লক্ষ্য করে নয়, বরং সম্ভাব্য সংঘর্ষ এড়াতে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে নেওয়া হয়েছে। স্টারমার আরও বলেন, ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটল যখন দুই দিন আগে ইংলিশ চ্যানেলে রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত একটি তেলবাহী জাহাজ আটক করে যুক্তরাজ্যের বাহিনী।   ঘটনার সময় রুশ ফ্রিগেট ‘অ্যাডমিরাল গ্রিগোরোভিচ’-কে ব্রিটিশ নৌবাহিনীর জাহাজ এইচএমএস মার্সি পর্যবেক্ষণ করছিল বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।   এখন পর্যন্ত দুই পক্ষই ঘটনাটিকে আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন অনুযায়ী নিজেদের অবস্থান সঠিক বলে দাবি করছে। তবে বিষয়টি ঘিরে কূটনৈতিক টানাপোড়েন বাড়ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শাহারিয়া নয়ন জুন ১৬, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবিঃ রয়টার্স
মস্কোসহ রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনায় ইউক্রেনের ভয়াবহ ড্রোন হামলা, একাধিক স্থানে আগুন

রাতের আঁধারে ইউক্রেনের ভয়াবহ ড্রোন হামলায় রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর একটি বড় তেল শোধনাগার এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় ক্রাসনোদার অঞ্চলের একটি জ্বালানি তেলের ডিপোতে আগুন ধরে গেছে। এই হামলার ফলে রাশিয়ার জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন জানিয়েছেন, মধ্য মস্কো থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত গ্যাজপ্রম নেফ্ট পরিচালিত একটি তেল শোধনাগারে অন্তত একটি ড্রোন আঘাত হেনেছে। তাঁর মতে, ইউক্রেন রাতারাতি রুশ রাজধানীর দিকে প্রায় ৬০টি ড্রোন নিক্ষেপ করেছিল। অন্যদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন, যেখানে দেখা যায় ড্রোনটি ওই শোধনাগারে আঘাত হানার সাথে সাথেই সেটি বিশাল অগ্নিকুণ্ডে পরিণত হচ্ছে।   তিনি এই হামলাকে ইউক্রেনে রাশিয়ার অব্যাহত আক্রমণ এবং দীর্ঘস্থায়ী আগ্রাসনের একটি 'ন্যায্য জবাব' হিসেবে অভিহিত করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে জেলেনস্কি লেখেন, "মস্কো অঞ্চল আজ ইউক্রেনের দূরপাল্লার সক্ষমতার আঁচ টের পেয়েছে।"   মেয়র সোবিয়ানিন জানান, এই ড্রোন হামলায় কেউ হতাহত হয়নি। তবে এই ঘটনার ফলে ওই তেল শোধনাগারের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট নয়। উল্লেখ্য, পুরো মস্কোর প্রয়োজনীয় জ্বালানির প্রায় এক-তৃতীয়াংশই সরবরাহ করে এই শোধনাগারটি। পরবর্তীতে জরুরি সেবার কর্মকর্তারা জানান, গ্যাজপ্রম নেফ্ট স্থাপনার আগুন নিভিয়ে ফেলা হয়েছে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে হামলার পর ওই এলাকায় যান চলাচল সীমিত করে দেন পরিবহন কর্মকর্তারা।   অন্যদিকে, ক্রাসনোদার অঞ্চলের স্থানীয় ক্রাইসিস রেসপন্স সেন্টার জানিয়েছে যে, একটি ড্রোনের আছড়ে পড়ার ফলে পোলতাভস্কায়া তেল ডিপোতে আগুন ধরে যায়। এই ডিপোটি মূলত ওই অঞ্চলের বিভিন্ন গ্যাস স্টেশনে জ্বালানি সরবরাহ করে থাকে। প্রায় সাত ঘণ্টা চেষ্টার পর সেখানকার আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। এছাড়া রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তারা সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার সকালের মধ্যে ১৪টি অঞ্চল এবং সংযুক্ত ক্রিমিয়ায় ইউক্রেনের নিক্ষেপ করা অন্তত ১৭২টি ড্রোন ধ্বংস করেছে।   চলতি বসন্তকাল থেকেই ইউক্রেন রাশিয়ার তেল শোধনাগার এবং সরবরাহ লাইনগুলোর ওপর তাদের আক্রমণ ব্যাপকভাবে বাড়িয়েছে। বিশ্ববাজারে তেলের ক্রমবর্ধমান দাম থেকে ক্রেমলিন যেন কোনো অতিরিক্ত মুনাফা বা সুবিধা নিতে না পারে, সেই লক্ষ্যেই এই কৌশল বেছে নিয়েছে কিয়েভ। অব্যাহত এই ড্রোন হামলার কারণে রাশিয়ার পেট্রোলিয়াম উৎপাদনের বড় অংশের জন্য দায়ী স্থাপনাগুলোতে উৎপাদন হয় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে, নয়তো উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে।   রাশিয়ান শোধনাগারগুলোতে হামলার পাশাপাশি ইউক্রেন সংযুক্ত ক্রিমিয়া উপদ্বীপে জ্বালানি সরবরাহকারী ট্রাকগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে, যার ফলে ওই অঞ্চলে তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ১৬, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
পোল্যান্ডে গুলিতে নিহত রুশ ভিন্নমতাবলম্বী শিল্পী, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের সন্দেহ

পোল্যান্ডে আশ্রয় নেওয়া রুশ ভিন্নমতাবলম্বী শিল্পী ও কার্টুনিস্ট সেমিওন স্ক্রেপেটস্কি গুলিতে নিহত হয়েছেন। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ক্রেমলিনপন্থী নেতৃত্বের কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত এই শিল্পীর মৃত্যু ঘিরে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ ও নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।   পোলিশ গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ৪৪ বছর বয়সী স্ক্রেপেটস্কি সোমবার সকালে পূর্ব পোল্যান্ডের বিয়ালা পোডলাস্কা শহরে হামলার শিকার হন। বেলারুশ সীমান্তের কাছাকাছি ওই শহরের একটি সড়কে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়।   ঘটনার পর হামলাকারীরা দ্রুত পালিয়ে যায়। স্থানীয় পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটিকে পরিকল্পিত ও নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে চালানো হামলা হিসেবে বিবেচনা করছে। পুলিশের মুখপাত্র আন্দ্রে ফিজোলেক জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য এখনো স্পষ্ট নয়, তবে ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি পূর্বপরিকল্পনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।   এদিকে কয়েকটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ঘটনার পর একজন বেলারুশ নাগরিককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি পোলিশ কর্তৃপক্ষ।   স্ক্রেপেটস্কি দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ব্যঙ্গচিত্রের মাধ্যমে পুতিন, চেচেন নেতা রমজান কাদিরভসহ রাশিয়ার শীর্ষ নেতৃত্বের সমালোচনা করে আসছিলেন। রাজনৈতিক চাপ ও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে ২০২১ সালে তিনি রাশিয়া ছেড়ে পোল্যান্ডে আশ্রয় নেন।   জানা গেছে, মৃত্যুর কিছুদিন আগে তিনি জার্মানির বার্লিনে রুশ দূতাবাসের সামনে অনুষ্ঠিত একটি সরকারবিরোধী সমাবেশে অংশ নেন। সেখানে তার একটি বিতর্কিত রাজনৈতিক চিত্রকর্ম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দেয়।   ঘটনার পর পোল্যান্ডের রাষ্ট্রীয় প্রসিকিউটর ও পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত শুরু করেছে। এখন পর্যন্ত কোনো রাষ্ট্রীয় সংস্থার সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে ইউরোপে অবস্থানরত রুশ ভিন্নমতাবলম্বীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

শাহারিয়া নয়ন জুন ১৫, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
রাশিয়ার ৭০০ কিলোমিটার গভীরে ইউক্রেনের ভয়াবহ হামলা, জ্বলছে তেল ডিপো ও কারখানা

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের ময়দানে এবার দৃশ্যপট পাল্টাতে শুরু করেছে। সীমান্ত থেকে ৭০০ কিলোমিটারেরও বেশি গভীরে রাশিয়ার মূল ভূখণ্ডে ভয়াবহ ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেনীয় বাহিনী। রবিবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন যে, তাদের বিশেষ বাহিনী রাশিয়ার ইয়ারোস্লাভল অঞ্চলে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তেলের মজুত বা রিজার্ভ স্থাপনা এবং তুলা অঞ্চলের 'আজোট' রাসায়নিক কারখানায় সফল ও সুনির্দিষ্ট আঘাত হেনেছে।   উল্লেখ্য, এই রাসায়নিক কারখানাটি রুশ সামরিক বাহিনীর জন্য গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক তৈরির অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।   এই আকস্মিক ও দূরপাল্লার জোরালো হামলায় রীতিমতো কেঁপে উঠেছে রাশিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন ও সামরিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই নজিরবিহীন হামলার জেরে রাশিয়ার অন্তত ২৮টি অঞ্চলে জরুরি বিমান হামলার সতর্কতা (এয়ার রেইড অ্যালার্ট) জারি করতে বাধ্য হয় পুতিন প্রশাসন।   উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার স্বার্থে রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ ছয়টি বিমানবন্দরে উড়ান চলাচলে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। মূল ভূখণ্ডের পাশাপাশি, ইউক্রেনের ভেতরে রুশ বাহিনীর দখলকৃত অঞ্চলগুলোতে থাকা সামরিক লজিস্টিকস ও রসদ সরবরাহ কেন্দ্রগুলোতেও সফল আঘাত হেনেছে কিয়েভ। ইয়ারোস্লাভল ও তুলা অঞ্চলের স্থানীয় রুশ গভর্নররা হামলার বিষয়টি স্বীকার করে জানিয়েছেন, ড্রোনের আঘাতে শিল্পাঞ্চলে আগুন ধরে যায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জরুরি পরিষেবা দল কাজ করছে।   এই পরিকল্পিত সামরিক অভিযানকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনের কার্যকর 'দূরপাল্লার নিষেধাজ্ঞা' বা 'লং-রেঞ্জ স্যাংশনস'-এর অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি। তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানান, যুদ্ধ বন্ধের জন্য কিয়েভের পক্ষ থেকে বারবার আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হলেও মস্কো তা বারবার প্রত্যাখ্যান করে উল্টো আগ্রাসন বাড়ানোর পথই বেছে নিয়েছে।   তারই সমুচিত জবাব হিসেবে এই দূরপাল্লার আঘাত হানা হচ্ছে। জেলেনস্কি তার বার্তায় দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, "যুদ্ধ এখন সেখানেই ফিরে যাচ্ছে, যেখান থেকে এর শুরু হয়েছিল।" যুদ্ধের ময়দানে নিজেদের শক্তিমত্তার প্রমাণ দেওয়ার পাশাপাশি ইউক্রেনের শান্তির প্রতি অবিচল অবস্থানের কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ১৩, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইংলিশ চ্যানেলে ছয় ঘণ্টার বিশেষ অভিযানে রাশিয়ার তেলবাহী ট্যাঙ্কার জব্দ করল যুক্তরাজ্য

ইংলিশ চ্যানেলে অত্যন্ত নাটকীয় ও সুনির্দিষ্ট এক অভিযান পরিচালনা করে রাশিয়ার একটি সন্দেহভাজন ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা ছায়া বহরের তেলবাহী ট্যাঙ্কার জব্দ করেছে যুক্তরাজ্যের সশস্ত্র বাহিনী। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে যে, প্রায় ছয় ঘণ্টাব্যাপী পরিচালিত একটি অত্যন্ত জটিল ও বিশেষ সামরিক অভিযানের মাধ্যমে এই বিশাল জাহাজটিকে সফলভাবে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় ব্রিটিশ যৌথ বাহিনী।   যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এই সফল অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে একে ক্রেমলিনের ওপর একটি বড় আঘাত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি অত্যন্ত কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, এই ধরনের সফল সামরিক পদক্ষেপ রাশিয়ার জন্য একটি বড় ধাক্কা এবং যারা ইউক্রেনে পুতিনের অবৈধ যুদ্ধকে বিভিন্ন উপায়ে অর্থায়ন করছে তাদের সবার জন্য এটি একটি চরম সতর্কবার্তা। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়াতে চেষ্টা করলেও অপরাধীদের আমরা কোনোভাবেই লুকিয়ে থাকতে দেব না।   অন্যদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি যুক্তরাজ্যের এই সাহসী ও সময়োপযোগী পদক্ষেপকে ‘নীতিগত দৃঢ়তা’ হিসেবে উল্লেখ করে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এবং সে দেশের জনগণকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন। জেলেনস্কি আরও জোর দিয়ে বলেন, ইউরোপীয় অঞ্চলের দেশগুলোকে এখনই এমন কঠোর আইনগত পদক্ষেপ ও সম্মিলিত নীতি গ্রহণ করতে হবে যাতে ভবিষ্যতে শুধু ট্যাঙ্কার আটক করাই নয়, বরং জাহাজে থাকা সমস্ত খনিজ তেল সরাসরি জব্দ করা সম্ভব হয়।   এই ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আন্তর্জাতিক জলসীমায় এই ধরনের জাহাজ জব্দ করার ঘটনাকে সরাসরি ‘দস্যুতা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রোববার ভোরে ক্যামেরুনের পতাকাবাহী ‘স্মিরটোস’ নামের এই তেলবাহী ট্যাঙ্কারটি আটক করা হয়। এই বিশেষ অভিযানে রয়্যাল মেরিন কমান্ডো এবং ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সির শীর্ষ কর্মকর্তারা অংশ নেন, যাদের সরাসরি সহায়তা করে চিনুক হেলিকপ্টার, একটি অত্যাধুনিক ফ্রিগেট যুদ্ধজাহাজ এবং একটি মাইনহান্টার ইউনিট।   যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ড্যান জার্ভিস বলেন, সাগরের বুকে এই ধরনের একটি আন্তর্জাতিক অভিযান পরিচালনা করা অত্যন্ত উচ্চমানের দক্ষতা, পেশাদারিত্ব ও চরম সাহসের দাবি রাখে। তিনি সফল অভিযানের জন্য অংশগ্রহণকারী সেনাবাহিনীর বীর সদস্যদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বলেন, রাশিয়া তার যুদ্ধ পরিচালনার অর্থ জোগাতে এই ধরনের ‘শ্যাডো ফ্লিট’ ব্যবহার করছে, যা রুখে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি ছিল।   মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রায় ছয় ঘণ্টা স্থায়ী এই রোমাঞ্চকর অভিযান শেষে জাহাজটিকে দক্ষিণ ইংল্যান্ডের উপকূলের কাছে একটি নিরাপদ নোঙরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বর্তমানে সেখানে জাহাজটির সার্বিক পরিবেশগত নিরাপত্তা ও অন্যান্য সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলো গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। জানা গেছে, গত ৫ জুন জাহাজটি রাশিয়ার বাল্টিক বন্দর উস্ত-লুগা থেকে যাত্রা শুরু করে মিসরের পোর্ট সাইদের দিকে যাচ্ছিল। যুক্তরাজ্য ইতোমধ্যে এই প্রক্রিয়ায় ৫০০টিরও বেশি রুশ সংশ্লিষ্ট জাহাজের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, যার ফলে রাশিয়ার তেল ও গ্যাস খাতের সামগ্রিক আয় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ জুন ১৩, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তির আগে তেহরানে রাশিয়া ও চীনের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে ইরানের জরুরি বৈঠক

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি খসড়া সমঝোতা চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার জোর গুঞ্জনের মধ্যেই ইরান তেহরানে রাশিয়া ও চীনের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে জরুরি ত্রিপক্ষীয় বৈঠক করেছে। শনিবার অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে অংশ নেন ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিভাবাদি।   ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ইসনা (ISNA)-এর বরাতে জানা গেছে, বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারক (MoU) এবং সাম্প্রতিক কূটনৈতিক অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে দেওয়া বিবৃতিতে কাজেম ঘারিভাবাদি বলেন, ইরান, চীন এবং রাশিয়ার মধ্যকার কৌশলগত অংশীদারিত্ব ও পারস্পরিক সহযোগিতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।   গত কয়েকদিন ধরে ওয়াশিংটন, তেহরান এবং পাকিস্তানের কর্মকর্তাদের বিভিন্ন বক্তব্যে সম্ভাব্য এই সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা চললেও এখন পর্যন্ত চুক্তির সুনির্দিষ্ট শর্ত প্রকাশ করা হয়নি।   আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া ও চীন দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদার হিসেবে ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে চীন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। গত মাসে বেইজিং সফরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে আলোচনায় পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাসও দেয় চীন।   অন্যদিকে রাশিয়ার সঙ্গে ইরানের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিভিন্ন পর্যায়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি সংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদানের বিষয়েও সহযোগিতার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ জুন ১২, ২০২৬ ১৪:০ 0
প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন
ইউক্রেনের হামলায় অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত, স্বীকার করলেন পুতিন

রাশিয়ার ভেতরে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে ইউক্রেনের সাম্প্রতিক হামলায় দেশটির অর্থনীতি ও সামাজিক পরিস্থিতিতে প্রভাব পড়েছে বলে স্বীকার করেছেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তবে এসব আঘাত সত্ত্বেও পরিস্থিতি দ্রুত সামাল দেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।   শুক্রবার (১২ জুন) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। রাশিয়ার নিজনেকামস্কের একটি বড় তেল শোধনাগারে হামলার দাবির পর পুতিন এ মন্তব্য করেন।   ক্রেমলিনের ভাষ্য অনুযায়ী, ইউক্রেনের এই হামলাগুলো সমাজে বিভাজন তৈরি করতে পারবে না এবং অর্থনীতিও দ্রুত ঘুরে দাঁড়াবে। পুতিন বলেন, “তারা আমাদের অর্থনীতির ক্ষতি করছে, তবে আমরা এটি কাটিয়ে উঠব। এসব হামলার লক্ষ্য সমাজে বিভ্রান্তি তৈরি করা।”   প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেন রাশিয়ার অভ্যন্তরে তেল শোধনাগার, জ্বালানি ডিপো ও পাইপলাইনগুলোতে হামলা জোরদার করেছে। দীর্ঘদিনের যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এবং পূর্বাঞ্চলের ফ্রন্টলাইনে রাশিয়ার অগ্রগতি কিছুটা ধীর হয়ে পড়ায় এসব হামলা মস্কোর ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।   অন্যদিকে ইউক্রেনের দাবি, রাশিয়া প্রতিদিন ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে তাদের শহরগুলো ধ্বংস করছে। এর জবাব হিসেবেই তারা রাশিয়ার ভেতরে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে।   এছাড়া অধিকৃত ক্রিমিয়াতেও সরবরাহ ব্যবস্থাকে লক্ষ্যবস্তু করছে ইউক্রেন। জ্বালানি বহনকারী ট্রাক ও অবকাঠামোতে হামলার কারণে সেখানে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে, যা ২০১৪ সালে রাশিয়া উপদ্বীপটি দখলের পর সবচেয়ে গুরুতর বলে মনে করা হচ্ছে।   ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার’ জানিয়েছে, ইউক্রেনের দূরপাল্লা ও মধ্যপাল্লার হামলার মধ্যে সমন্বয় রয়েছে। দূরপাল্লার আঘাতে রাশিয়ার উৎপাদন সক্ষমতা কমছে, আর মধ্যপাল্লার হামলায় সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে।   চলতি সপ্তাহের শুরুতে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভও ক্রিমিয়ায় জ্বালানি সংকটের কথা স্বীকার করে জানিয়েছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।   এদিকে ইউক্রেনের সেনাপ্রধান ওলেক্সান্ডার সিরস্কি দাবি করেছেন, মে মাসে রাশিয়ার দখল করা এলাকার চেয়ে বেশি ভূখণ্ড পুনরুদ্ধার করেছে ইউক্রেন। এতে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ফ্রন্টলাইনে রাশিয়ার অগ্রগতির ধারায় পরিবর্তন এসেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

নীলুফা নিশাত জুন ১২, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, নিহত অন্তত ২২ সেনা

পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে এক ভয়াবহ সামরিক হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় অন্তত ২২ জন সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন। বুধবার অঞ্চলটির রাজধানী মুজাফফরাবাদের কাছে রাশিয়ার তৈরি 'এমআই-১৭' মডেলের এই সামরিক পরিবহন হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়। উড্ডয়নের পরপরই যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করেছে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর মিডিয়া উইং, ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর)। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজে দুর্ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলের ভবনগুলোর পেছন থেকে প্রচণ্ড কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশে উড়তে দেখা যায়।   নিহতদের মধ্যে একজন কর্নেল, দুজন মেজর পদমর্যাদার কর্মকর্তা এবং ১৯ জন সেনা সদস্য রয়েছেন বলে রয়টার্স, আনাদোলু এবং অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) জানিয়েছে বিভিন্ন নিরাপত্তা সূত্র। সামরিক বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে নিহতের নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ না করলেও, তারা নিশ্চিত করেছে যে ওই হেলিকপ্টারে থাকা সব আরোহীই প্রাণ হারিয়েছেন। বৃহস্পতিবার কাশ্মীরে অবস্থানরত একটি আর্টিলারি ইউনিটের তত্ত্বাবধানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ও জাতীয় পতাকায় মোড়ানো কফিনে নিহত এই সেনা সদস্যদের সামরিক অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।   কাশ্মীরের এই অতি-স্পর্শকাতর সীমান্ত অঞ্চলে বর্তমানে কঠোর নিরাপত্তাজনিত বিধিনিষেধ চলছে। গত সপ্তাহান্তে নিরাপত্তা বাহিনী এবং সদ্য নিষিদ্ধ হওয়া সুশীল সমাজের একটি জোটের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১১ জন নিহতের ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন এই কড়াকড়ি আরোপ করে। তবে স্থানীয় এই অস্থিরতার সঙ্গে এভিয়েশন বা হেলিকপ্টার দুর্ঘটনার কোনো ধরনের সম্পর্ক থাকার কথা জোরালোভাবে নাকচ করে দিয়েছেন কর্মকর্তারা। আইএসপিআর জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত যান্ত্রিক কারণ অনুসন্ধানে এরই মধ্যে একটি তদন্ত বোর্ড গঠন করা হয়েছে।   এই মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির, প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি এবং প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। উল্লেখ্য, গত এক দশক ধরে পাকিস্তানের দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে সেনা মোতায়েন ও চলাচলের জন্য সোভিয়েত নকশার এই এমআই-১৭ হেলিকপ্টারগুলোর ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করে আসছে দেশটির সেনাবাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় পাকিস্তান এর আগে তাদের ২২টি এমআই-১৭ হেলিকপ্টার সংস্কার ও আধুনিকায়ন করলেও, প্রায়শই এই দুর্গম ভূখণ্ডে এ ধরনের মারাত্মক দুর্ঘটনার সম্মুখীন হতে হয়েছে তাদের।

বায়জিদ হাসান জুন ১১, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
মস্কোতে ভয়াবহ গাড়ি বোমা হামলা, নিহত ক্রেমলিনের শীর্ষ আর্টিলারি চিফ দামির দাভিদভ

রাশিয়ার রাজধানী মস্কোয় এক ভয়াবহ গাড়ি বোমা হামলায় দেশটির শীর্ষস্থানীয় সামরিক কর্মকর্তা দামির দাভিদভ নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার ভোরে মস্কোর বালাশিখা এলাকায় নিজ বাড়ির কাছে এই প্রাণঘাতী হামলার শিকার হন তিনি।   নিহত দাভিদভ ক্রেমলিনের শীর্ষ আর্টিলারি চিফ এবং সামরিক বাহিনীর একজন সিনিয়র কর্নেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৫টার দিকে দাভিদভ তার বিএমডব্লিউ গাড়ি নিয়ে যাওয়ার সময় আচমকা এই বিস্ফোরণ ঘটে।   রুশ সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, চলন্ত গাড়িটি হঠাৎই বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়ে আগুনের কুণ্ডলীতে পরিণত হয় এবং নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে পার্ক করা অন্য একটি গাড়ির ওপর আছড়ে পড়ে।   তাৎক্ষণিকভাবে পথচারীরা ছুটে এসে জ্বলন্ত ধ্বংসস্তূপ থেকে দাভিদভকে উদ্ধার করেন। তবে টেলিগ্রাম চ্যানেল ম্যাশ জানিয়েছে, গুরুতর আহত অবস্থায় পরবর্তীতে তার মৃত্যু হয়।   রুশ টেলিগ্রাম চ্যানেল '১১২'-এর তথ্যমতে, চালকের আসনের ঠিক নিচে রিমোট কন্ট্রোল নিয়ন্ত্রিত ওই বিস্ফোরক ডিভাইসটি পুতে রাখা হয়েছিল। এর ধ্বংসক্ষমতা ছিল ৩০০ থেকে ৪০০ গ্রাম টিএনটি এর সমতুল্য।   ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে বুধবার এই বিস্ফোরণের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং জানানো হয়েছে যে, প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে এ বিষয়ে বিস্তারিত অবহিত করা হয়েছে। তবে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ নিহত ব্যক্তির পরিচয় নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।   তদন্তের স্বার্থে তথ্য প্রকাশে বিধিনিষেধের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি এখন বিশেষ গোয়েন্দা বাহিনীর আওতাভুক্ত বিষয়।   স্বাধীন সংবাদমাধ্যম অ্যাস্ট্রা জানিয়েছে, গত ২০২৫ সালের এপ্রিলে যেখানে ইয়ারোস্লাভ মোসকালিক নামের আরেক শীর্ষ রুশ সামরিক কর্মকর্তা প্রায় একই কায়দায় গাড়ি বোমা হামলায় নিহত হয়েছিলেন, এই বিস্ফোরণের ঘটনাস্থল সেখান থেকে এক মাইলেরও কম দূরত্বে অবস্থিত। রুশ তদন্তকারীরা এরই মধ্যে এই প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছেন।   প্রায় চার বছর আগে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে রুশ ভূখণ্ডে উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে হামলার যে ধারা তৈরি হয়েছে, এটি তারই সর্বশেষ উদাহরণ। এর আগেও রাশিয়ার মাটিতে রুশ সামরিক কর্মকর্তাদের লক্ষ্যবস্তু করার বেশ কয়েকটি ঘটনার দায় স্বীকার করেছিল কিয়েভ।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ১০, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবিঃ নিউইয়র্ক পোস্ট
হানিপট ট্র্যাপ পেতে ইউক্রেনীয় সেনাদের টার্গেট করছে রাশিয়া, অভিযোগ কিয়েভের

ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনীর সদস্যদের গুপ্তহত্যা করতে রাশিয়া অভিনব ও ভয়ংকর এক 'হানিপট' বা প্রলোভনের ফাঁদ তৈরি করেছে। ইউক্রেনের জাতীয় পুলিশ প্রধান ইভান ভিহিভস্কি চাঞ্চল্যকর এক অভিযোগে জানিয়েছেন, রাশিয়ান গোয়েন্দারা এই জঘন্য কাজে ইউক্রেনের তরুণী এবং উঠতি বয়সি কিশোরীদের নিয়োগ করছে।   মূলত টেলিগ্রাম অ্যাপের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের অর্থের লোভ দেখিয়ে এসব নারীদের ফাঁদে ফেলা হচ্ছে এবং দূর থেকে পুরো হত্যা মিশনটি সুকৌশলে পরিচালনা করা হচ্ছে।   ইউক্রেন পুলিশের তথ্যমতে, এ পর্যন্ত টেলিগ্রামের মাধ্যমে কমপক্ষে ছয়টি চুক্তিবদ্ধ হত্যার ঘটনা সামনে এসেছে, যার মধ্যে মাত্র একটি প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে।   পুলিশ প্রধান ভিহিভস্কি জানান, রাশিয়ান এজেন্টরা এই নারীদের প্রাপ্তবয়স্কদের ডেটিং সাইটগুলোতে গিয়ে ইউক্রেনীয় সামরিক সদস্যদের খুঁজে বের করার নির্দেশ দেয়। এরপর সেনাদের সাথে একান্তে দেখা করার জন্য বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়ার টাকাও সরাসরি সরবরাহ করে তারা।   সাক্ষাতের আগে মেয়েদের কাছে পার্সেলের মাধ্যমে মেথাডোন নামের উচ্চমাত্রার সিন্থেটিক ওপিওড বা ব্যথানাশক ওষুধ পাঠানো হয়, যা অতিরিক্ত মাত্রায় প্রয়োগ করলে মানুষের মৃত্যু হতে পারে।   পরবর্তীতে সুযোগ বুঝে ডেটিংয়ে আসা ওই সেনাদের পানীয়ের সাথে সেই বিষাক্ত ওষুধ মিশিয়ে দেওয়ার প্রশিক্ষণও দেওয়া হয় তাদের।   সম্প্রতি ইউক্রেনের জাইতোমির অঞ্চলে এমনই এক মর্মান্তিক হত্যার ঘটনা ঘটেছে। গত সপ্তাহে সেখানকার একটি বাড়ি থেকে ২৭ বছর বয়সী এক ইউক্রেনীয় সেনার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়, যার ব্যবহৃত পাত্রে পাউডার জাতীয় পদার্থের উপস্থিতি পাওয়া যায়। এই ঘটনার তদন্তে নেমে গত ৪ জুন বারদিচিভ শহরের ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।   ওই কিশোরী পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে যে, সে টেলিগ্রামে এক সন্দেহভাজন রাশিয়ান এজেন্টের নির্দেশে ওই সেনার অ্যালকোহলের সাথে মেথাডোন মিশিয়েছিল।   সেনা সদস্যটি অচেতন হয়ে পড়ার পরপরই সে ওই অ্যাপার্টমেন্ট থেকে পালিয়ে যায়। উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত এক হাজার একশরও বেশি ইউক্রেনীয় নাগরিকের বিরুদ্ধে নিজ দেশের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা এবং রাশিয়ার হয়ে অগ্নিসংযোগ, সন্ত্রাসবাদ বা নাশকতামূলক কাজে যুক্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ১০, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
রাশিয়ায় এক লাখ বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর প্রস্তাবে সম্মতি, দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার

বাংলাদেশ থেকে আগামী বছরের মধ্যে রাশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকের সংখ্যা এক লাখে উন্নীত করার প্রস্তাবে নীতিগত সম্মতি দিয়েছে রুশ কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা দ্রুত সম্পন্ন করতে উভয় দেশ কাজ করবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে। মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।   বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমানে প্রায় ১০ হাজার বাংলাদেশি রাশিয়ায় বিভিন্ন খাতে কর্মরত রয়েছেন। এ সংখ্যা আগামী বছরের মধ্যে এক লাখে উন্নীত করার প্রস্তাব রুশ কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। প্রস্তাবটি ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করে রাশিয়া দ্রুত এ বিষয়ে কাজ করতে সম্মত হয়েছে।   পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, রাশিয়ান ফেডারেশনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের আমন্ত্রণে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের নেতৃত্বে এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের অংশগ্রহণে একটি উচ্চপর্যায়ের বাংলাদেশি প্রতিনিধিদল মস্কো সফর করে।   সফরকালে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে রাজনৈতিক সম্পর্ক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জ্বালানি সহযোগিতা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, শিক্ষা, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যুসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে বিস্তৃত ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।   আলোচনায় দুই দেশই বিদ্যমান সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও সম্প্রসারণ এবং নতুন সম্ভাবনাময় খাতে অংশীদারিত্ব বৃদ্ধির বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে। বৈঠক শেষে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বাংলাদেশি প্রতিনিধিদলের সম্মানে এক মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করেন।   পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যকার দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। বৈঠকে উভয়পক্ষই এই সম্পর্ককে আগামী দিনে আরও শক্তিশালী, গতিশীল ও ফলপ্রসূ পর্যায়ে উন্নীত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।   সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত সাত বছরের মধ্যে এই প্রথম বাংলাদেশ থেকে এত উচ্চপর্যায়ের কোনো প্রতিনিধিদলকে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছে রাশিয়া। তাদের মতে, এই সফর বাংলাদেশ-রাশিয়া সম্পর্কের ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব, পারস্পরিক আস্থা এবং দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও সুদৃঢ় করার অভিন্ন আগ্রহের প্রতিফলন।

শাহারিয়া নয়ন জুন ৮, ২০২৬ ১৪:০ 0
রাশিয়ান পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সঙ্গে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত
ব্রিকস ও এসসিওতে বাংলাদেশের সদস্যপদে রাশিয়ার সমর্থন চাইলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলাদেশকে ব্রিকস ও সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও)-এর পূর্ণাঙ্গ সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে রাশিয়ার সমর্থন কামনা করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। মস্কো সফরকালে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে তিনি এ আহ্বান জানান।   সোমবার (৮ জুন) মস্কোতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা, জ্বালানি, প্রতিরক্ষা, শিক্ষা, প্রযুক্তি এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।   বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে ড. খলিলুর রহমান রাশিয়ার কাছে ব্রিকস ও এসসিওতে বাংলাদেশের সদস্যপদ অর্জনের প্রচেষ্টায় সমর্থন চেয়েছেন। বর্তমানে ব্রিকস বিশ্বের উদীয়মান অর্থনীতিগুলোর অন্যতম প্রভাবশালী জোট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অন্যদিকে এসসিও ইউরেশীয় অঞ্চলের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম।   বৈঠকে উভয় নেতা জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে মতবিনিময় করেন। আলোচনার এক পর্যায়ে তারা চার দশকেরও বেশি আগে জাতিসংঘে নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময়কার ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও স্মৃতিচারণও করেন।   বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং রাশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত নজরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।   ড. খলিলুর রহমান বৈঠকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের অবদানের কথা স্মরণ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম দেশগুলোর অন্যতম ছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন। দুই দেশই ২০২৭ সালে কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫৫ বছর পূর্তি উদযাপনের অপেক্ষায় রয়েছে।   জবাবে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বাংলাদেশের সঙ্গে বিদ্যমান সম্পর্ক আরও বিস্তৃত ও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে তিনি ড. খলিলুর রহমানকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান।   এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাশিয়াকে ধন্যবাদ জানান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতাকে সমর্থন দেওয়ার জন্য।   বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাশিয়ার বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের জন্য শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি বাংলাদেশি পণ্যের নিবন্ধন প্রক্রিয়া দ্রুততর করার জন্যও রাশিয়ার সহযোগিতা কামনা করেন।   তিনি রাশিয়ার বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল ও হাই-টেক পার্কগুলোতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। বিশেষ করে হালকা ও ভারী প্রকৌশল শিল্প, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, কৃষিভিত্তিক শিল্প, পেট্রোকেমিক্যাল, ইস্পাত উৎপাদন এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।   আলোচনায় ইউরেশিয়ান ইকোনমিক কমিশনের (ইইসি) সঙ্গে বাংলাদেশের সম্ভাব্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়েও কথা হয়। বাংলাদেশ এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে রাশিয়ার সহযোগিতা চেয়েছে। বর্তমানে রাশিয়া, বেলারুশ, আর্মেনিয়া, কাজাখস্তান ও কিরগিজস্তান ইইসির সদস্য।   রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। প্রকল্পের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি সরবরাহ সম্পন্ন হওয়ায় রাশিয়া সরকারকে ধন্যবাদ জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। পাশাপাশি নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী দ্বিতীয় ইউনিট চালু করতে রাশিয়ার অব্যাহত সহযোগিতা কামনা করেন।   দুই দেশের মধ্যে শ্রমশক্তি রপ্তানি ও জনশক্তি নিয়োগের বিষয়েও আলোচনা হয়। নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল অভিবাসন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ থেকে আরও দক্ষ জনবল নিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় করেন দুই মন্ত্রী। একই সঙ্গে পুনর্বাসন চুক্তি ও মানবসম্পদ সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারকসহ বিভিন্ন বিচারাধীন চুক্তি দ্রুত সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।   বৈঠকে রাশিয়ায় বিভিন্ন কারণে আটকে পড়া কয়েকজন বাংলাদেশিকে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়টিও উত্থাপন করেন ড. খলিলুর রহমান। এ বিষয়ে রাশিয়া সরকার প্রয়োজনীয় বিবেচনা করবে বলে আশ্বাস দেন সের্গেই ল্যাভরভ।   এ ছাড়া মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। ল্যাভরভ জানান, রোহিঙ্গা সংকটের একটি স্থায়ী ও টেকসই সমাধানে রাশিয়া সহযোগিতা করতে আগ্রহী।   বৈঠকের শেষে মস্কো সফরে উষ্ণ অভ্যর্থনার জন্য রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ৮, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
রাশিয়ার বলয় থেকে বের হয়ে ইউরোপের দিকে ঝুঁকছে আর্মেনিয়া

আর্মেনিয়ার সংসদীয় নির্বাচনে বড় জয় পেয়েছে দেশটির ক্ষমতাসীন ইউরোপপন্থী দল। এর মাধ্যমে ঐতিহ্যগত মিত্র রাশিয়ার বলয় থেকে বের হয়ে ইউরোপের দিকে দেশটির চূড়ান্তভাবে ঝুঁকে পড়ার বিষয়টি নিশ্চিত হলো। বুথফেরত ও চূড়ান্ত ফলাফলে দেখা গেছে, প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ানের 'সিভিল কন্ট্রাক্ট' পার্টি অল্প ব্যবধানে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। অন্যদিকে, রুশ-আর্মেনীয় বিলিয়নেয়ার সামভেল কারাপেতিয়ানের নেতৃত্বাধীন 'স্ট্রং আর্মেনিয়া' জোট ২৫ শতাংশ আসন পেয়েছে।   এই বিজয়ের ফলে প্রধানমন্ত্রী পাশিনিয়ান এখন আরও শক্তিশালী অবস্থানে থেকে তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়ন করতে পারবেন। এর মধ্যে রয়েছে আজারবাইজানের সাথে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর এবং তুরস্কের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা। ২০১৮ সালের 'ভেলভেট রেভল্যুশন'-এর মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা সাবেক সাংবাদিক পাশিনিয়ান দাবি করেন, প্রতিবেশীদের সাথে শত্রুতার অবসান ঘটলে আর্মেনিয়ার অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আসবে এবং রাশিয়ার ওপর নির্ভরতা কমবে।   পাশিনিয়ানের এই জয়কে ব্রাসেলস স্বাগত জানালেও মস্কো বেশ অসন্তোষের সাথে দেখছে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেইন এই বিজয়কে অভিনন্দন জানিয়ে একে 'গণতান্ত্রিক আর্মেনিয়ার' প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এমনকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও পাশিনিয়ানকে সমর্থন জানিয়ে তাঁকে একজন 'মহান বন্ধু ও নেতা' হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তবে ২০২৩ সালে আজারবাইজানের কাছে নাগর্নো-কারাবাখ হারানোর পর এটিই ছিল দেশটিতে প্রথম জাতীয় নির্বাচন, যা নিয়ে বিরোধী দলগুলো পাশিনিয়ানকে তুলোধুনো করার চেষ্টা করেছিল।   এই নির্বাচনের আগে থেকেই রাশিয়ার সাথে আর্মেনিয়ার সম্পর্কের ব্যাপক টানাপোড়েন তৈরি হয়। নাগর্নো-কারাবাখ সংকটে রুশ শান্তিরক্ষীরা এগিয়ে না আসায় আর্মেনিয়ার জনগণ রাশিয়ার প্রতি ক্ষুব্ধ হয়। এর জবাবে পাশিনিয়ান রাশিয়ার নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট সিএসটিও থেকে আর্মেনিয়ার সদস্যপদ স্থগিত করেন। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও সতর্ক করেছিলেন যে আর্মেনিয়া ইউক্রেনের পথেই হাঁটছে। নির্বাচনের আগে রাশিয়া আর্মেনিয়ার ওপর বেশ কিছু বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করেছিল।   তবে নির্বাচনে কারচুপির চেষ্টা ও বিরোধী দলীয় নেতাদের গ্রেপ্তারের অভিযোগ এনে পাশিনিয়ানের বিরুদ্ধে কিছুটা স্বৈরাচারী আচরণেরও সমালোচনা রয়েছে। যদিও বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশটির সাধারণ ভোটাররা রাশিয়ারপন্থী দলগুলোর চেয়ে পাশিনিয়ানকেই কম ক্ষতিকর বিকল্প হিসেবে বেছে নিয়েছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন রাশিয়ার অর্থনৈতিক চাপ সামলাতে ইতিমধ্যে আর্মেনিয়াকে ৫০ মিলিয়ন ইউরোর একটি সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ জুন ৭, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইউক্রেনে রুশ ড্রোন হামলায় নিহত ৫, চেরনোবিল পারমাণবিক স্থাপনাতেও হামলার দাবি

ইউক্রেনে রাশিয়ার ভয়াবহ ড্রোন হামলায় অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। চার বছর ধরে চলা এই যুদ্ধে মস্কোর ওপর আরও চাপ প্রয়োগের বিষয়ে আলোচনার জন্য বিশ্বনেতারা যখন লন্ডনে জড়ো হয়েছেন, ঠিক তখনই রোববার এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটল। এদিকে, রুশ বাহিনীর সাম্প্রতিক সামরিক বিপর্যয়ের প্রেক্ষাপটে যুদ্ধের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করতে এদিন ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।   ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় জাপোরিঝিয়া এলাকায় একটি বাস স্টপেজে রুশ বোমা হামলায় অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন। এর কাছাকাছি এলাকায় আরেকটি ড্রোন হামলায় ৫৬ বছর বয়সী এক মিনিবাস চালক প্রাণ হারান। অন্যদিকে, মধ্যাঞ্চলীয় দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলে রাশিয়ার পৃথক হামলায় আরও দুই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে বলে টেলিগ্রামে নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় গভর্নর ওলেক্সান্ডার গাঞ্জা।   হামলার তীব্রতা থেকে বাদ যায়নি চেরনোবিলও। ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থা এনার্গোঅ্যাটম জানিয়েছে, চেরনোবিলের এক্সক্লুশন জোনে ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানি সংরক্ষণের একটি স্থাপনা রুশ হামলায় 'আংশিকভাবে ধ্বংস' হয়েছে। তবে ভবনটি খালি থাকায় বিকিরণের মাত্রা স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিগা এক্সে (সাবেক টুইটার) বলেন, রুশ বাহিনী এর আগেও পারমাণবিক নিরাপত্তাকে চরম হুমকিতে ফেলেছে।   ইউক্রেনের বিমানবাহিনীর তথ্যমতে, রাতভর দেশটিতে ২৩৬টি ড্রোন ছুড়েছে রাশিয়া, যার মধ্যে ২১৫টিই প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে কিয়েভ।   ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার-এর তথ্যের ভিত্তিতে এএফপি জানিয়েছে, মে মাসে টানা দ্বিতীয় মাসের মতো হারানোর চেয়ে বেশি ভূখণ্ড পুনরুদ্ধার করেছে ইউক্রেন। অন্যদিকে, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে সর্বাত্মক হামলার পর এই মুহূর্তে সবচেয়ে কঠিন অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে রাশিয়া। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, কর বৃদ্ধি, দুই দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ ঋণের সুদ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ও চরম শ্রমিক সংকটে ভুগছে মস্কো।   এমন পরিস্থিতিতে গত বৃহস্পতিবার রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনকে লেখা এক খোলা চিঠিতে সরাসরি বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছেন জেলেনস্কি। তিনি জানিয়েছেন যে, একটি 'পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি'র জন্যও তিনি প্রস্তুত রয়েছেন। যদিও শুক্রবার রাশিয়ার প্রধান অর্থনৈতিক ফোরামে অংশ নিয়ে পুতিন রুশ অর্থনীতি ভেঙে পড়ার দাবি সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছেন।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ৭, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
সাত বছর পর উত্তর কোরিয়ায় শি জিনপিং, নেপথ্যে কি রুশ প্রভাবের উদ্বেগ?

দীর্ঘ সাত বছর পর উত্তর কোরিয়া সফরে যাচ্ছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। সোমবার (৮ জুন) পিয়ংইয়ংয়ে উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের সঙ্গে তার এই ঐতিহাসিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। উত্তর কোরিয়ার ক্রমবর্ধমান সামরিক কর্মসূচি এবং এশীয় অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিতে দ্রুত পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে চীনা প্রেসিডেন্টের এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।   সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শি জিনপিংয়ের বিদেশ সফরের হার উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৩ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত তিনি প্রতি বছর গড়ে ১৪টি বিদেশ সফর করলেও, ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে তা বার্ষিক মাত্র ৬টিতে নেমে আসে। বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষ নেতারা যেখানে বেইজিংয়ে গিয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন, সেখানে স্বয়ং শি জিনপিংয়ের পিয়ংইয়ং সফর বেইজিংয়ের কাছে এই অঞ্চলটির ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্বেরই সুস্পষ্ট প্রমাণ দেয়।   বিশ্লেষকদের মতে, শি জিনপিংয়ের এই আকস্মিক সফরের নেপথ্যে মূল কারণ হতে পারে পিয়ংইয়ংয়ের ওপর রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে বেইজিংয়ের গভীর উদ্বেগ। ঐতিহ্যগতভাবে চীন উত্তর কোরিয়ার প্রধান মিত্র ও অর্থনৈতিক অংশীদার হলেও, ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকে এই সমীকরণে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসতে শুরু করে। ইউক্রেন যুদ্ধে রুশ বাহিনীকে সচল রাখতে উত্তর কোরিয়া বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও সেনা সরবরাহ করে আসছে। দক্ষিণ কোরিয়ার ‘ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্ট্র্যাটেজি’র তথ্যমতে, ২০২৩ সাল থেকে উত্তর কোরিয়াকে এর বিনিময়ে প্রায় ১৪.৪ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করেছে মস্কো। ধারণা করা হচ্ছে, এই অর্থের বড় অংশই স্যাটেলাইটের নজরদারি এড়িয়ে গোপন সামরিক প্রযুক্তি হিসেবে পিয়ংইয়ংয়ের হাতে পৌঁছেছে।   দক্ষিণ কোরিয়াভিত্তিক বিশ্লেষকদের ধারণা, মস্কো-পিয়ংইয়ংয়ের এই অতি-ঘনিষ্ঠতায় বেইজিং বেশ সতর্ক। নিজেদের হারানো প্রভাব পুনরুদ্ধার করতে এবং উত্তর কোরিয়া যেন পুরোপুরি রাশিয়ার বলয়ে চলে না যায়, তা নিশ্চিত করতেই চীন নতুন করে বড় অর্থনৈতিক প্রণোদনার প্রস্তাব দিতে পারে। এছাড়া উত্তর কোরিয়ার হাতে রাশিয়ার উন্নত সামরিক প্রযুক্তি চলে আসাও চীনের জন্য বড় চিন্তার কারণ। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের মতে, বেইজিং সবসময়ই পিয়ংইয়ংকে সামরিক সহায়তার ক্ষেত্রে সতর্ক ছিল; কারণ উত্তর কোরিয়া অতিরিক্ত শক্তিশালী হয়ে উঠলে তা কোরীয় উপদ্বীপের স্থিতিশীলতা ও ক্ষমতার ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। ইতিমধ্যে পিয়ংইয়ং চলতি বছর আটটি ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত ট্যাক্টিক্যাল ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রকাশ্যে এনেছে।   কোরীয় উপদ্বীপের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে দক্ষিণ কোরিয়াও চীনা প্রেসিডেন্টের এই সফরকে ইতিবাচক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছে। সিউলের প্রত্যাশা, শি জিনপিংয়ের এই সফর উপদ্বীপের চলমান সংকট নিরসনে গঠনমূলক ভূমিকা রাখবে। এছাড়া এশিয়ায় মার্কিন মিত্রদের তৎপরতা বৃদ্ধি এবং দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের মধ্যে সম্ভাব্য সামরিক চুক্তির প্রেক্ষাপটে বেইজিং নিজেদের বলয় মজবুত করতে চাইছে। সব মিলিয়ে, কিম জং উনের ওপর রাশিয়ার ছায়া নিয়ন্ত্রণ এবং পূর্ব এশিয়ায় নিজস্ব ভূ-রাজনৈতিক আধিপত্য ধরে রাখাই এখন শি জিনপিংয়ের এই সফরের প্রধান লক্ষ্য বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ৭, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবিঃ কোলাজ আমেরিকা বাংলা
১,০০০ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে রুশ নৌঘাঁটিতে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা

রাশিয়ার বার্ষিক আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামের সমাপনী দিনে সেন্ট পিটার্সবার্গ ও এর আশপাশের এলাকায় এক নজিরবিহীন ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। হামলার তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধে প্রথমবারের মতো সেন্ট পিটার্সবার্গের গভর্নর আলেকজান্ডার বেগলোভ স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘরের ভেতরে থাকার জরুরি নির্দেশ দিয়েছেন।   রাশিয়ার লেলিনগ্রাদ অঞ্চলের গভর্নর আলেকসান্দর দ্রোজদেন্দো জানিয়েছেন, ওই অঞ্চলে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ১৪০টিরও বেশি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। তবে এই ব্যাপক হামলার কারণে একটি সামরিক স্থাপনায় আগুন ধরে যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।   এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ড্রোন ও বিস্ফোরণের ভিডিও প্রকাশ করে এই হামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ইউক্রেনীয় ড্রোনগুলো প্রায় ১,০০০ কিলোমিটার (৬২০ মাইল) পথ পাড়ি দিয়ে সেন্ট পিটার্সবার্গ অঞ্চলের ক্রনশটাদে অবস্থিত রুশ নৌবাহিনীর বাল্টিক ফ্লিটের প্রধান ঘাঁটি এবং অস্ত্রাগারে নিখুঁতভাবে আঘাত হেনেছে। রুশ আগ্রাসনের উপযুক্ত জবাব দিতেই দূরপাল্লার বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে।   এছাড়া ক্রাসনোদার অঞ্চলের একটি তেল ডিপোতেও সফলভাবে আঘাত করা হয়েছে বলে ইউক্রেন দাবি করেছে। ইউক্রেনের চালকবিহীন বিমান বাহিনীর ৪১৩তম রেজিমেন্টের কমান্ডার ইয়েভহেন কারাস জানান, রুশ আকাশসীমায় তারা এখন প্রায় কোনো প্রতিরোধ ছাড়াই অনায়াসে প্রবেশ করতে পারছেন। রাশিয়ার এই গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ফোরাম চলাকালীনই ভলোদিমির জেলেনস্কি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কাছে সরাসরি আলোচনা ও যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে একটি খোলা চিঠি পাঠিয়েছিলেন। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের কারণে মার্কিন মনোযোগ এখন সেদিকে থাকায়, কেবল ওয়াশিংটনের ওপর ভরসা না করে সরাসরি আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন জেলেনস্কি।   তবে ফোরামের বক্তব্যে পুতিন ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্টের এই আলোচনার প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, এই মুহূর্তে যুদ্ধবিরতি দিলে ইউক্রেন নিজেদের সামরিকভাবে নতুন করে গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাবে। রুশ লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত এই যুদ্ধ থামবে না বলে পুতিন তার আগের অবস্থানেই অনড় রয়েছেন। মস্কোর দাবি, ইউক্রেনকে দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, খেরসন ও জাপোরিঝিয়া অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে হবে এবং ন্যাটোতে যোগদানের প্রক্রিয়া ত্যাগ করতে হবে, যা মানতে পরিষ্কার অস্বীকৃতি জানিয়েছে কিয়েভ।   সেন্ট পিটার্সবার্গের পাশাপাশি ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে রুশ নিয়ন্ত্রিত লুহানস্কেও ইউক্রেনীয় ড্রোন বাহিনী ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছে। রাশিয়ার সামরিক রসদ সরবরাহের পথগুলো লক্ষ্য করে একের পর এক হামলা চলায় নিরাপত্তার স্বার্থে লুহানস্কের দুটি প্রধান মহাসড়কে বাস চলাচল এবং যাত্রীবাহী ট্রেন পরিষেবা স্থগিত করেছে মস্কো-মনোনীত স্থানীয় প্রশাসন।   সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, গত মে মাসের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ইউক্রেনীয় হামলায় রাশিয়ার ২০০টিরও বেশি লরি এবং ৩০টির বেশি তেলের ট্যাংকার ধ্বংস হয়েছে। ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণাঙ্গ আক্রমণের পর গত চার বছরে ইউক্রেন নিজস্ব প্রতিরক্ষা খাতকে ব্যাপকভাবে শক্তিশালী করেছে। ফলে তারা এখন নিয়মিতভাবেই রাশিয়ার অভ্যন্তরে জ্বালানি অবকাঠামো ও সামরিক লজিস্টিকস লক্ষ্য করে সফলভাবে দূরপাল্লার হামলা চালাতে সক্ষম হচ্ছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ৬, ২০২৬ ১৪:০ 0
২০১৮ সালে ফ্রান্সের কানে তোলা ছবিতে রুশ বিউটি ইনফ্লুয়েন্সার ভিক্টোরিয়া বোনিয়া।
নতুন ইন্টারনেট সেন্সরশিপ: বিপাকে রাশিয়ার সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সাররা

রাশিয়ায় ইন্টারনেটের ওপর ক্রেমলিনের ক্রমবর্ধমান কড়াকড়ি এবং নতুন আইনি বিধিনিষেধের কারণে চরম অস্তিত্ব সংকটে পড়েছেন দেশটির জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সাররা। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রশাসন সম্প্রতি ইন্টারনেটে তথ্য নিয়ন্ত্রণ এবং পশ্চিমা প্ল্যাটফর্মগুলোর ওপর প্রভাব কমাতে যে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে, তার ফলে আয়ের উৎস হারানোর পাশাপাশি আইনি জটিলতায় পড়ার শঙ্কায় আছেন হাজারো কন্টেন্ট ক্রিয়েটর। সিএনএন-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, রাশিয়ার নতুন এই নীতিমালার আওতায় অনেক বিদেশি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এবং ভিপিএন (VPN) ব্যবহারের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকেই ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকের মতো প্ল্যাটফর্মগুলো রাশিয়ায় নিষিদ্ধ ছিল, তবে অনেক ইনফ্লুয়েন্সার ভিপিএন ব্যবহার করে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিলেন। সরকারের নতুন সেন্সরশিপ আইন এখন সেই পথও বন্ধ করে দিচ্ছে। রুশ ইনফ্লুয়েন্সারদের মতে, এই বিধিনিষেধ কেবল তাদের বাকস্বাধীনতাই কেড়ে নিচ্ছে না, বরং তাদের দীর্ঘদিনের গড়ে তোলা ক্যারিয়ার ধ্বংস করে দিচ্ছে। রাশিয়ার নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম 'ভিকে' (VK) বা 'টেলিগ্রাম' ব্যবহারের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে চাপ দেওয়া হলেও, সেখানে আন্তর্জাতিক বাজারের মতো বিজ্ঞাপনের সুযোগ বা আয়ের সংস্থান নেই বলে দাবি করছেন তারা। বিশ্লেষকরা বলছেন, পুতিন প্রশাসন মূলত ইন্টারনেটে একটি 'ডিজিটাল দেয়াল' তৈরি করতে চাইছে, যাতে বাইরের বিশ্বের কোনো তথ্য বা প্রভাব রুশ নাগরিকদের কাছে পৌঁছাতে না পারে। এই সেন্সরশিপের ফলে রাশিয়ার তরুণ প্রজন্মের একটি বড় অংশ বৈশ্বিক ডিজিটাল অর্থনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১৭, ২০২৬ ১৪:০ 0
রাশিয়ার তেল আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আসলে সংকটে পড়তে পারে ভারত।
রাশিয়ার তেল কেনায় ভারতের জন্য কড়া বার্তা যুক্তরাষ্ট্রের

বিশ্ববাজারের অস্থিরতার মধ্যে রাশিয়া ও ইরান থেকে তেল আমদানির ক্ষেত্রে ভারতসহ কয়েকটি দেশকে সাময়িক ছাড় দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে সেই সুবিধা আর বাড়ানো হবে না বলে জানিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ফলে ভারতের জ্বালানি সরবরাহে নতুন করে চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।   বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ভারতীয় গণমাধ্যম জানায়, এই ছাড়ের বড় সুবিধাভোগী ছিল ভারত। হরমুজ প্রণালির আশপাশে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি থাকা সত্ত্বেও দিল্লি রাশিয়া থেকে তেল আমদানি চালিয়ে যেতে পেরেছিল। কিন্তু ছাড়ের মেয়াদ শেষ হলে সেই সুযোগ আর থাকবে না।   সরকারি সূত্রের বরাতে বলা হয়, নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ার পর ভারত রাশিয়া থেকে প্রায় ৩ কোটি ব্যারেল তেল কেনার অর্ডার দেয়। এর আগে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ভারতের শোধনাগারগুলো—যেমন রিলায়েন্স—রাশিয়ার রসনেফট ও লুকওইলের মতো কোম্পানি থেকে তেল সংগ্রহ করেছিল।   এদিকে, মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, রাশিয়া ও ইরানের তেলের ওপর দেওয়া সাধারণ লাইসেন্স আর নবায়ন করা হবে না।   উল্লেখ্য, মার্চ মাসে যুক্তরাষ্ট্র ভারতের শোধনাগারগুলোকে সমুদ্রে থাকা রাশিয়ার তেলবাহী ট্যাঙ্কার থেকে তেল কেনার অনুমতি দিয়েছিল। পরবর্তীতে ইরানের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ছাড় দেওয়া হয়। রাশিয়ার তেলের ক্ষেত্রে এই সুবিধার মেয়াদ ছিল ১১ এপ্রিল পর্যন্ত, আর ইরানের তেলের জন্য তা ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত নির্ধারিত ছিল।

নীলুফা নিশাত এপ্রিল ১৫, ২০২৬ ১৪:০ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে গুগল প্রধান সুন্দর পিচাইকে দেখে শিক্ষার্থীদের মঞ্চ বর্জন

যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যবাহী স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে গুগলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সুন্দর পিচাইয়ের বক্তব্য চলাকালীন ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থীদের তীব্র বিক্ষোভ ও অনুষ্ঠান বর্জনের (ওয়াকআউট) ঘটনা ঘটেছে। রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩৫তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সুন্দর পিচাই প্রধান বক্তা হিসেবে মঞ্চে ওঠার পরপরই এই ঘটনা ঘটে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, সুন্দর পিচাই বক্তব্য শুরু করার মুহূর্তেই সমাবর্তনস্থলে উপস্থিত ১০০ জনেরও বেশি গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থী তাদের আসন ছেড়ে উঠে দাঁড়ান। এ সময় তারা "ফ্রি, ফ্রি প্যালেস্টাইন" (ফিলিস্তিনের মুক্তি চাই) বলে উচ্চকণ্ঠে স্লোগান দিতে দিতে স্টেডিয়াম ত্যাগ করেন। কট্টর বামপন্থী ছাত্র সংগঠন 'স্টুডেন্টস ফর জাস্টিস ইন প্যালেস্টাইন' এবং 'নো টেক ফর অ্যাপার্থাইড'-এর যৌথ আহ্বানে এই প্রতিবাদের আয়োজন করা হয়।   বিক্ষোভের মূল কারণ হিসেবে ইসরায়েল সরকারের সাথে গুগলের ১.২ বিলিয়ন ডলারের ক্লাউড কম্পিউটিং চুক্তি 'প্রজেক্ট নিম্বাস'-কে দায়ী করা হচ্ছে। আমাজনের সাথে যৌথভাবে পরিচালিত এই প্রকল্পের মাধ্যমে গুগল ইসরায়েল সরকারকে ক্লাউড ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি সরবরাহ করে আসছে। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও মানবাধিকার কর্মীদের অভিযোগ, গুগলের এই প্রযুক্তি ফিলিস্তিনিদের ওপর নজরদারি এবং ইসরায়েলের সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর বিভিন্ন ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপে ব্যবহৃত হতে পারে। যদিও গুগল বরাবরই এই দাবি অস্বীকার করে বলেছে, এটি কেবল সরকারি বেসামরিক কাজের জন্য একটি ক্লাউড সেবা।   উল্লেখ্য, সুন্দর পিচাই নিজে ১৯৯৫ সালে এই স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই মেটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন। নিজের সাবেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে এসে তাকে এমন নজিরবিহীন প্রতিবাদের মুখে পড়তে হলো। এর আগে ২০২৪ সালেও এই প্রজেক্ট নিম্বাসের বিরুদ্ধে গুগলের ক্যালিফোর্নিয়া ও নিউইয়র্ক অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অবস্থান ধর্মঘট করলে গুগল কয়েক ডজন কর্মীকে চাকরিচ্যুত করেছিল।   চলতি বছর আমেরিকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের লক্ষ্য করে শিক্ষার্থীদের এমন ক্ষোভ প্রকাশের ঘটনা নিয়মিত চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিছুদিন আগেই অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে গুগলের সাবেক সিইও এরিক শ্মিড বক্তব্য দিতে গেলে এআই প্রযুক্তির ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে শিক্ষার্থীরা তাকে ধুয়ে দেয়। তবে স্ট্যানফোর্ডের অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের এই তুমুল হট্টগোল ও কক্ষ ত্যাগের মাঝেও সুন্দর পিচাই তাঁর বক্তব্য চালিয়ে যান, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ভূ-রাজনীতির চেয়ে দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে শিক্ষার্থীদের আশাবাদী থাকার পরামর্শই বেশি প্রাধান্য পায়।

Top week

ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে গুগল প্রধান সুন্দর পিচাইকে দেখে শিক্ষার্থীদের মঞ্চ বর্জন

তাবাস্সুম মোহাম্মদ জুন ১৪, ২০২৬ ১৪:০ 0