মস্কো

অনলাইন কনটেন্ট সংক্রান্ত মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন রুশ মডেল সোফিয়া ভারশিনিনা। ছবি: সংগৃহীত
পুতিনের পর্নবিরোধী অভিযানে কারাদণ্ড এড়ালেও ৩ বছর ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন না রুশ মডেল

রাশিয়ায় অনলাইনে প্রাপ্তবয়স্ক কনটেন্ট তৈরি ও বিতরণের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়া ২১ বছর বয়সী এক মডেল কারাদণ্ড এড়িয়েছেন। তবে আদালত তাকে প্রায় ৬০ হাজার মার্কিন ডলার জরিমানা এবং তিন বছরের জন্য ইন্টারনেট ব্যবহার ও অনলাইনে উপস্থিত থাকার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য ইউএস সানের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   মস্কোর একটি আদালত সোফিয়া ভারশিনিনা নামের ওই মডেলকে অনলাইনে যৌনস্পষ্ট কনটেন্ট তৈরি ও বিতরণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেন। রুশ আইনে এ ধরনের কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার নিষিদ্ধ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়ায় তথাকথিত ‘ঐতিহ্যবাহী মূল্যবোধ’ রক্ষার নীতির অংশ হিসেবে অবৈধ পর্নোগ্রাফির বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের মধ্যে এই মামলার বিচার হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা তার বিরুদ্ধে সাড়ে তিন বছরের কারাদণ্ডের আবেদন করেছিলেন।   তবে আদালতে অভিযোগ স্বীকার করে অনুশোচনা প্রকাশ করায় সোফিয়া ভারশিনিনাকে তিন বছরের স্থগিত কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অর্থাৎ, তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কারাগারে যাচ্ছেন না। তবে আদালতের নির্ধারিত শর্ত ভঙ্গ করলে এই স্থগিত দণ্ড কার্যকর হতে পারে। রায়ের অংশ হিসেবে তাকে প্রায় ৬০ হাজার মার্কিন ডলার জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি আগামী তিন বছর তিনি ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন না এবং অনলাইনে কোনো ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা বা উপস্থিত থাকতে পারবেন না। ফলে তার অনলাইনভিত্তিক আয়ের কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে যাবে।   রুশ প্রসিকিউটরদের দাবি, সোফিয়া ভারশিনিনা অনলাইনে প্রাপ্তবয়স্ক কনটেন্ট বিক্রি করে চার লাখ ডলারের বেশি আয় করেছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি একটি জনপ্রিয় সাবস্ক্রিপশনভিত্তিক প্ল্যাটফর্মের পাশাপাশি টেলিগ্রামেও অর্থের বিনিময়ে ব্যক্তিগত কনটেন্ট সরবরাহ করতেন। তদন্তের সময় জব্দ করা তার আইফোন ১৬ প্রো ম্যাক্স এখনো তদন্ত সংস্থার হেফাজতে রয়েছে। তবে মামলার আলামত হিসেবে জব্দ করা অন্যান্য ব্যক্তিগত সামগ্রীর কিছু অংশ পরে তাকে ফেরত দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   সোফিয়া ভারশিনিনা একমাত্র নন। সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ায় অনলাইনে প্রাপ্তবয়স্ক কনটেন্ট তৈরি ও বিক্রির অভিযোগে আরও কয়েকজন মডেলের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তাদের মধ্যে ২৭ বছর বয়সী ডায়ানা শুরিগিনার বিচারও চলছে। একই অভিযোগে আনাস্তাসিয়া ওভসিয়ানিকোভা নামের আরেক কনটেন্ট নির্মাতাকেও আটক করা হয়েছে।   আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়ায় অবৈধ পর্নোগ্রাফির বিরুদ্ধে আইন বহুদিন ধরেই কার্যকর থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে এ ধরনের মামলার সংখ্যা বেড়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, তথাকথিত ‘ঐতিহ্যবাহী মূল্যবোধ’ বাস্তবায়নের নীতির অংশ হিসেবে অনলাইন কনটেন্টের ওপর নজরদারি আরও জোরদার হতে পারে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৩১, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: রয়টার্স
মস্কোকে লক্ষ্য করে ব্যাপক ড্রোন হামলা, নিহত অন্তত ৫

রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর দিকে ধেয়ে আসা প্রায় ৬০টি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে রুশ কর্তৃপক্ষ। সোমবার ভোরে এসব ড্রোন প্রতিহত করা হয় বলে জানায় মস্কোর প্রশাসন। একই সময়ে ইউক্রেন ও রাশিয়ার পাল্টাপাল্টি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন।   মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় জানান, শহরের দিকে আসা প্রায় ৬০টি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। তিনি বলেন, যেসব স্থানে ড্রোন ভূপাতিত হয়েছে সেখানে জরুরি সেবা পাঠানো হয়েছে। তবে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।   ড্রোন হামলার কারণে মস্কোর প্রধান কয়েকটি বিমানবন্দর শেরেমেতিয়েভো, ডোমোদেদোভো, ভনুকোভো এবং ঝুকভস্কি সাময়িকভাবে ফ্লাইট স্থগিত করে। পরে বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ সংস্থার পক্ষ থেকে সেগুলো পুনরায় চালুর কথা জানানো হয়।   রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, সার্বিকভাবে রাতভর ৩০১টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে, যার মধ্যে ইউক্রেনের দখলকৃত অঞ্চল লক্ষ্য করে নিক্ষিপ্ত ড্রোনও রয়েছে।   এর আগে কয়েক দিন আগেই মস্কোর একটি তেল শোধনাগারে ড্রোন আঘাত হানে, যা ২০২২ সালে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর শহরটিতে অন্যতম বড় আক্রমণ হিসেবে বিবেচিত হয়।   অন্যদিকে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রুশ ড্রোন হামলায় একটি বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্যবস্তু হয়েছে এবং এতে একজন মিশরীয় ক্রু সদস্য নিহত হয়েছেন। ইউক্রেনের উত্তরাঞ্চলীয় সুমি অঞ্চলে পৃথক ড্রোন হামলায় একই পরিবারের তিনজনসহ অন্তত পাঁচজন নিহত হন।   সুমি অঞ্চলের প্রসিকিউটরদের তথ্য অনুযায়ী নিহতদের মধ্যে রয়েছে ১৩ বছর বয়সী এক শিশু, তার ৩৬ বছর বয়সী বাবা এবং ৭৩ বছর বয়সী দাদি। একই ঘটনায় শিশুটির মা ও দুই ভাইবোন আহত হয়েছেন। দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জাপোরিঝঝিয়া শহরে আরেকটি ড্রোন হামলায় একজন নারী নিহত এবং তিনজন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় গভর্নর ইভান ফেদোরভ জানান।   অন্যদিকে রাশিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়, রোববার রাতে দক্ষিণাঞ্চলীয় ওদেসা অঞ্চলে ইস্কান্দার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একজন নিহত এবং তিনজন আহত হয়েছেন। হামলায় একটি কৃষি স্থাপনায় যানবাহন ও জ্বালানি সংরক্ষণ ট্যাংকে আগুন ধরে যায়।   এছাড়া রাশিয়া-অধিকৃত ক্রিমিয়ার সেভাস্তোপল শহরে সব ধরনের উন্মুক্ত আকাশের অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে এবং বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ের আহ্বান জানানো হয়েছে। ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় ক্রিমিয়ায় জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হয়েছে বলে জানায় স্থানীয় প্রশাসন। সেখানে সাধারণ জ্বালানি বিক্রি সীমিত করে শুধুমাত্র সরকারি ও জরুরি পরিষেবার জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে।   রুশ নিয়ন্ত্রিত কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, পালাউ ও বেলিজ পতাকাবাহী জাহাজও হামলার শিকার হয়েছে, তবে সেখানে কেউ হতাহত হয়নি। ইউক্রেনের নৌবাহিনী জানিয়েছে, তুরস্কের মালিকানাধীন একটি পণ্যবাহী জাহাজেও আঘাত হানা হয়েছে, যেখানে এক মিশরীয় ক্রু নিহত এবং কয়েকজন নাবিককে লাইফবোটে সরিয়ে নেওয়া হয়।

Unknown জুন ২১, ২০২৬ ১৪:০
ছবিঃ কোলাজ আমেরিকা বাংলা
ইউক্রেনের ড্রোন ভূপাতিত করতে গিয়ে নিজেদের শোধনাগারেই ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল রাশিয়া

বৃহস্পতিবার মস্কোর একটি প্রধান তেল শোধনাগারে ভুলবশত আঘাত হেনেছে রাশিয়ারই একটি দিকভ্রান্ত প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র। এর ফলে শোধনাগারটির বিশাল ছাদ 'উড়ন্ত সসারের' মতো শূন্যে উড়ে যায়, যা একটি বিস্ময়কর ভিডিও ফুটেজে ধরা পড়েছে।   ভিডিওতে দেখা যায়, আকাশে থাকা ইউক্রেনের একটি ড্রোন ভূপাতিত করার উদ্দেশ্যে ছোঁড়া রাশিয়ার সারফেস-টু-এয়ার ক্ষেপণাস্ত্রটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে সরাসরি শোধনাগারের স্টোরেজ ট্যাংকে আঘাত হানে। এই শক্তিশালী বিস্ফোরণের ফলে ট্যাংকের গোলাকার ছাদটি মাশরুম আকৃতির ধোঁয়ার কুণ্ডলী তৈরি করে আকাশে উড়ে যায় এবং পরে মাটিতে আছড়ে পড়ে।   স্ব-নির্বাসিত রুশ সামরিক বিশ্লেষক ইয়ান মাতভিভের টেলিগ্রামে পোস্ট করা ক্লিপ অনুসারে, রাশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম এই শোধনাগারটি ইউক্রেনের হামলার কারণে আগে থেকেই জ্বলছিল এবং সেখান থেকে ঘন কালো ধোঁয়া বের হচ্ছিল, ঠিক তখনই এই মিসাইলটি আঘাত হানে।   এই স্থাপনাটি মস্কো অঞ্চলের মোট জ্বালানি চাহিদার এক-তৃতীয়াংশের বেশি সরবরাহ করে থাকে এবং গত মঙ্গলবারও এখানে হামলা চালানো হয়েছিল। ভুলের এই ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর মস্কো কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানায়, "মস্কোয় তেলজাত পণ্যের সরবরাহ এবং শহরের সমস্ত গ্যাস স্টেশনের কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলছে।"   যুদ্ধের অন্যতম বৃহৎ ড্রোন হামলা হিসেবে ইউক্রেন যখন রুশ রাজধানীর দিকে আক্রমণ শানিয়েছিল, তখনই এই ভুলের ঘটনা ঘটে। শোধনাগার ধ্বংসের এই ঘটনা রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের জন্য সর্বশেষ অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সিবিএস নিউজের তথ্যমতে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহে কিয়েভের একটি ঐতিহাসিক মঠে ক্রেমলিনের হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই এই ব্যাপক ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।   মস্কোর আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস পঙ্গু করে দেওয়ার লক্ষ্যে ইউক্রেন বারবার রাশিয়ার তেল অবকাঠামোগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে। ইউক্রেনের সর্বশেষ এই হামলার বিষয়ে জেলেনস্কি বলেন, "যদি ইউক্রেন পোড়ে, তবে আপনাদের মস্কোও পুড়বে।" তিনি আরও যোগ করেন যে, পুতিনকে আলোচনার টেবিলে বাধ্য করার কিয়েভের যে প্রচেষ্টা, এই হামলা তারই অংশ। তিনি বলেন, "আগ্রাসন শেষ করার সময় এসেছে, এই যুদ্ধ শেষ করার সময় এসেছে।"   এই হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে জেলেনস্কি জানিয়েছিলেন যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সাথে তাঁর একটি "গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয় কল" হয়েছে এবং এই সপ্তাহে জি৭ (G7) শীর্ষ সম্মেলনে মিত্রদের কাছ থেকে অতিরিক্ত সমর্থন নিশ্চিত করেছেন তিনি।   ইউক্রেনের হামলার জবাবে রাশিয়ার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের স্পিকার ভিয়াচেস্লাভ ভোলোদিন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, মস্কো এর পাল্টা জবাব হিসেবে নিজেদের হামলা আরও জোরদার করবে। টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক মন্তব্যে ভোলোদিন বলেন, "তাদের এই পদক্ষেপ আমাদের পাল্টা ব্যবস্থা নিতে এবং আরও শক্তিশালী অস্ত্র দিয়ে কঠোরতর আঘাত হানতে বাধ্য করবে।"   কট্টর জাতীয়তাবাদী ও মিডিয়া মুঘল কনস্ট্যান্টিন মালোফেয়েভ রাশিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র দিয়ে এর জবাব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন এবং "ভদ্রলোকের মতো" যুদ্ধ করার জন্য ক্রেমলিনের তীব্র সমালোচনা করেছেন। মালোফেয়েভ তার টেলিগ্রাম চ্যানেলে লিখেছেন, "যুদ্ধ মানে যেকোনো মূল্যে বিজয়।" তিনি আরও যোগ করেন, "আমাদের পূর্বপুরুষরা পুরো দেশের শক্তিকে একত্রিত করে ঠিক এই উদ্দেশ্যেই অর্থাৎ জেতার জন্যই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি ও মজুত করেছিলেন, এখন সেগুলো ব্যবহারের সময় এসেছে।"   চলতি মাসের শুরুতে পুতিনের নিজ শহর সেন্ট পিটার্সবার্গ একটি গুরুতর ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার শিকার হয়েছিল। এই হামলার সময় তিনি অ্যাসোসিয়েশন অফ সাউথইস্ট এশিয়ান নেশনস-এর (আসিয়ান) নেতাদের সাথে দেখা করতে মস্কো থেকে প্রায় ৪৩০ মাইল পূর্বে কাজানে অবস্থান করছিলেন।   সূত্রঃ  নিউইয়র্ক পোস্ট

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ১৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
মস্কোয় আগুনের নরক! ইউক্রেনের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলায় জ্বলছে রাশিয়ার তেল সাম্রাজ্য

চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ইতিহাসে এই প্রথম রুশ রাজধানী মস্কোয় ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ও ভয়াবহ ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। বৃহস্পতিবার ভোরে চালানো এই নজিরবিহীন হামলায় মস্কোর দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত গ্যাজপ্রম নেফটের একটি প্রধান তেল শোধনাগারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।   হামলার পর কালো ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী মস্কোর আকাশকে পুরোপুরি আচ্ছন্ন করে ফেলে, যা স্থানীয় বাসিন্দা এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রায় দুই শতাধিক ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করলেও, বেশ কয়েকটি ড্রোন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হয়।   মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় ভোর ৬টার দিকে এই বৃহৎ আকারের হামলা প্রতিহত করতে কাজ শুরু করে তাদের প্রতিরক্ষা বাহিনী। তবে মস্কোর জ্বালানি চাহিদার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সরবরাহকারী এই গুরুত্বপূর্ণ শোধনাগারটি ড্রোনের আঘাতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বিশাল অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। এর আগে গত মঙ্গলবারও এই স্থাপনাটিতে আরেকটি সফল হামলা চালানো হয়েছিল, যার ফলে ইতিমধ্যে সেখানে উৎপাদন কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ ছিল।   এই দফায় উপর্যুপরি হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   ইউক্রেনের এই রেকর্ডসংখ্যক ড্রোন হামলা কেবল অর্থনৈতিক ক্ষতিই করেনি, বরং সাধারণ রুশ নাগরিকদের মধ্যেও তৈরি করেছে তীব্র আতঙ্ক। শোধনাগারের নিকটবর্তী দক্ষিণ-পূর্ব মস্কোর বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ভোর ৫টা থেকেই বিমান বিধ্বংসী গোলার তীব্র শব্দে তাদের ঘুম ভেঙে যায়। হামলার পর সংলগ্ন এলাকায় বিষাক্ত ছাই ও ধোঁয়া মিশ্রিত ক্ষতিকর কালো বৃষ্টির (ব্ল্যাক রেইন) সৃষ্টি হয়, যার ফলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সাধারণ মানুষকে বাড়ির ভেতরে থাকার এবং বাইরে বের হলে মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে।   তবে এই চরম সংকটের মাঝেও সাধারণ নাগরিকদের ফোনে কোনো ধরনের সতর্কতামূলক বার্তা বা এসএমএস অ্যালার্ট না পাঠানোয় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে।   এই ব্যাপক হামলার প্রভাব পড়েছে রাশিয়ার বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপরও। দেশের ব্যস্ততম শেরেমেতিয়েভো বিমানবন্দরসহ মস্কোর প্রধান বিমানবন্দরগুলোর সমস্ত কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয় এবং বিমানের যাত্রীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা অ্যারোফ্লট এবং রোসিয়া ইতিমধ্যেই ১৭০টিরও বেশি ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে।   একই সঙ্গে মধ্যাঞ্চলীয় শহর কাজানেও বিমান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়, যেখানে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নেতাদের সাথে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নিচ্ছিলেন। পুতিন প্রকাশ্যে হামলার বিষয়ে কথা না বললেও, পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন যে, ইউক্রেনকে এর জন্য চরম মূল্য চোকাতে হবে এবং রাশিয়া এর পাল্টা জবাবে আরও বড় ধরনের সামরিক হামলা চালাবে।   ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই অভিযানকে ইউক্রেনীয় শহরগুলোর ওপর চালানো রুশ বর্বরতার একটি ‘সম্পূর্ণ যৌক্তিক ও ন্যায় প্রতিক্রিয়া’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বিশ্বমঞ্চে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, রাশিয়ার অভ্যন্তরে এই অর্থনৈতিক আঘাতের মূল উদ্দেশ্য হলো ক্রেমলিনকে কূটনৈতিক আলোচনায় বসতে বাধ্য করা।   এই বসন্ত থেকেই ইউক্রেন কৌশলগতভাবে রাশিয়ার তেল শোধনাগার এবং সরবরাহ লাইনগুলোকে টার্গেট করে আসছে, যা ইতিমধ্যে রাশিয়ার অভ্যন্তরে তীব্র জ্বালানি সংকট ও রেশনিং ব্যবস্থার জন্ম দিয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই জটিল रूप নিয়েছে যে, চলমান গ্রীষ্মকালীন পর্যটন ও কৃষি মৌসুমের মাঝেই রাশিয়াকে দূরবর্তী এশিয়া থেকে সমুদ্রপথে জ্বালানি তেল আমদানি করার সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ১৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
দুই বছরে সর্বোচ্চ ড্রোন হামলা, মস্কোকে লক্ষ্য করে ইউক্রেনের আক্রমণ—দাবি রুশ গণমাধ্যমের

ইউক্রেন রাশিয়ার রাজধানী মস্কোকে লক্ষ্য করে গত দুই বছরে সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা টাস। হামলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে অগ্নিকাণ্ড ও ধ্বংসাবশেষ পড়ে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে রুশ কর্তৃপক্ষ।   মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন বলেন, রাতভর অন্তত ১৯৪টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে, যেগুলো রাজধানীকে লক্ষ্য করে পাঠানো হয়েছিল। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে হওয়া হামলার তুলনায় এই সংখ্যা অনেক বেশি, যেখানে সাধারণত ড্রোনের সংখ্যা কয়েক ডজনের মধ্যে সীমিত থাকত।   রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মোট ৫৫৫টি ড্রোন বিভিন্ন অঞ্চলে প্রতিহত করা হয়েছে, যার মধ্যে কিছু ড্রোন আজভ সাগরের ওপরেও ধ্বংস করা হয়। হামলার পর মস্কোর সব প্রধান বিমানবন্দরে সাময়িকভাবে ফ্লাইট চলাচল স্থগিত করা হয় বলে জানিয়েছে রুশ বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।   রাশিয়ার দাবি অনুযায়ী, ইউক্রেনের হামলার লক্ষ্য ছিল জ্বালানি অবকাঠামো। এর মধ্যে মস্কোর দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় কাপোতনিয়া এলাকায় অবস্থিত একটি তেল শোধনাগারও রয়েছে, যেটি মঙ্গলবারও হামলার শিকার হয়েছিল। প্রত্যক্ষদর্শী ভিডিওতে দেখা যায়, ড্রোন আসার সময় আকাশে ঘন কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ছে এবং একটি বড় বিস্ফোরণ ঘটে।   এছাড়া মস্কোর সাদোভোদ ট্রেড সেন্টারের কাছে বড় ধরনের ধোঁয়ার কুণ্ডলি দেখা গেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যম। একটি আবাসিক ভবন ও একটি ফিটনেস সেন্টারেও ধ্বংসাবশেষ পড়ে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। রুশ ও ইউক্রেনীয় সূত্রের বরাত অনুযায়ী, ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনী রাশিয়ার রোস্তভ অঞ্চলের একটি তেল ডিপোতেও হামলা চালিয়েছে।   অন্যদিকে ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, রাশিয়া পাল্টা হামলায় সাতটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ২৩৯টি ড্রোন ব্যবহার করেছে। এতে কিয়েভ ও পোলতাভা অঞ্চলের কয়েকটি স্থানে বাড়ি, জ্বালানি অবকাঠামো ও শিল্প স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।   ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়ার হামলার জবাবে এই আক্রমণ চালানো হয়েছে এবং এটি “সম্পূর্ণ ন্যায্য প্রতিক্রিয়া”। তিনি আরও দাবি করেন, সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনের দূরপাল্লার হামলা রাশিয়ার জ্বালানি খাতকে লক্ষ্য করে কার্যকর প্রভাব ফেলছে।   ন্যাটো ও জি-৭ বৈঠকের সময় এই হামলা সংঘটিত হয়। ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে জানান, ইউক্রেনকে আরও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের বিষয়ে আলোচনা চলছে।   বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেনের এই ধরনের হামলা রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে চাপ বাড়ানোর কৌশলের অংশ, যা যুদ্ধের গতিপথে নতুন মাত্রা যোগ করছে।

Unknown জুন ১৭, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

আইনিভাবে বাবার ‘ক্রুজ’ পদবি বাদ দিয়ে নতুন নাম গ্রহণ করেছেন সুরি। ছবি: সংগৃহীত

কোটি টাকার সম্পত্তি ও পরিচয় ছেড়ে আইনিভাবে বাবার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করলেন টম ক্রুজের মেয়ে সুরি

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৭, ২০২৬ ১৪:০