ঢাকা থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকার আজকের শিরোনামগুলোতে উঠে এসেছে সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ, জ্বালানি সংকট, সম্ভাব্য ধর্মঘট, পরিবহন ঝুঁকি, প্রশাসনিক অনিয়ম এবং সংবিধান সংস্কার নিয়ে রাজনৈতিক উত্তাপসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নিচে আজকের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি পত্রিকার প্রধান সংবাদ তুলে ধরা হলো-
বণিক বার্তার খবর: ঈদযাত্রার বহরে প্রায় ২৯ হাজার মেয়াদোত্তীর্ণ বাস
দেশে নিবন্ধিত বাস ও মিনিবাসের সংখ্যা ৮৬ হাজারের বেশি। এর মধ্যে প্রায় ২৯ হাজার বাস ও মিনিবাসের বয়স ২০ বছর বা তার বেশি বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।
এর মধ্যে ঢাকা মহানগর ও ঢাকা জেলায় রয়েছে ১০ হাজার ৫৫৬টি পুরনো বাস ও মিনিবাস, আর সারা দেশে রয়েছে আরও ১৮ হাজার ২০৫টি। এছাড়া দেশে মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্যবাহী যানবাহনের সংখ্যাও ৪৬ হাজারের বেশি।
পরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব পুরনো যানবাহনের একটি বড় অংশ ঈদযাত্রায় সড়কে চলাচল করছে, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। ব্যস্ত সড়কে হঠাৎ বিকল হয়ে এসব যানবাহন যানজট ও বিশৃঙ্খলারও কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি বাণিজ্যিক বাসের অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল সাধারণত ১০ থেকে ১৫ বছর হলেও বাংলাদেশে তা ২০ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও এসব যানবাহনের চলাচল বন্ধ করতে না পারাকে তারা সরকারের ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন।
আজকের পত্রিকা: ‘আরও পাঁচ সিটিতে দলীয় লোক বসাল সরকার’
সরকার বরিশাল, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, রংপুর ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে প্রশাসক হিসেবে বিএনপির পাঁচ নেতাকে নিয়োগ দিয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগ শনিবার এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সিটি করপোরেশনগুলোতে নির্বাচিত পরিষদ গঠিত না হওয়া পর্যন্ত বা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তারা পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন এবং মেয়রের ক্ষমতা ও দায়িত্বও পালন করবেন।
নিয়োগ পাওয়া প্রশাসকদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মাহফুজুর রহমান, ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্যসচিব মো. রুকুনোজ্জামান রোকন, রংপুর মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব মাহফুজ উন নবী চৌধুরী এবং কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. ইউসুফ মোল্লা।
এর আগে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকাসহ ছয়টি সিটি করপোরেশনে বিএনপির নেতাদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। ফলে এখন পর্যন্ত ১১টি সিটি করপোরেশনে বিএনপির নেতাদের প্রশাসক হিসেবে বসানো হলো।
নবনিযুক্ত প্রশাসকেরা শনিবার দুপুরে সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।
নিউ এইজ: Fuel oil dealers threaten strike from tomorrow
অকটেন ও ডিজেলের সরবরাহ ঘাটতির অভিযোগে আগামীকাল থেকে সারা দেশে ধর্মঘটের হুমকি দিয়েছেন পেট্রোল পাম্প মালিক ও জ্বালানি তেল ব্যবসায়ীরা।
গত ৬ মার্চ থেকে সরকার যে জ্বালানি তেলের রেশনিং ব্যবস্থা চালু করেছে, তা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে গত সপ্তাহে সংবাদ সম্মেলনে পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছিল বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতি।
শনিবার রাজশাহী ও খুলনার আঞ্চলিক পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতিগুলোও সম্ভাব্য দেশব্যাপী ধর্মঘটের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। এ বিষয়ে জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, রেশনিং ব্যবস্থা নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে যৌথ হামলা এবং এর জবাবে তেহরানের পাল্টা পদক্ষেপের পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ায় জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন রেশনিং ব্যবস্থা চালু করে।
বর্তমানে এই ব্যবস্থায় পিকআপ ও স্থানীয় বাসগুলোকে প্রতিদিন ফিলিং স্টেশন থেকে ৭০ থেকে ৮০ লিটার ডিজেল নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।
নয়া দিগন্ত: খুলনাসহ ১৫ জেলায় তেল উত্তোলন বন্ধ
খুলনাসহ দেশের অন্তত ১৫ জেলায় জ্বালানি তেল উত্তোলন বন্ধ রেখেছেন ব্যবসায়ীরা। চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ না পাওয়ার অভিযোগে শনিবার সকাল আটটা থেকে তারা পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা তেল ডিপো থেকে তেল উত্তোলন ও বিপণন বন্ধ রাখেন।
খুলনা ট্যাংকলরি ওনার্স ভবনে চারটি ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতাদের এক জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ব্যবসায়ীদের দাবি, খুলনা বিভাগসহ ১৫ জেলায় প্রতিদিন প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ লাখ লিটার জ্বালানি তেলের চাহিদা থাকলেও বর্তমানে সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ৯ লাখ লিটার।
প্রতিটি ডিপো থেকে অন্তত দেড় লাখ লিটার করে সরবরাহ বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হলেও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন সেই প্রস্তাব না মানায় তারা তেল উত্তোলন ও বিপণন বন্ধ রেখেছেন। এদিকে রাজশাহী জেলা পেট্রল পাম্প মালিক সমিতিও দাবি না মানলে আজ থেকে তেল উত্তোলন বন্ধের হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
যুগান্তর পত্রিকা: ঢাকা ওয়াসায় নিয়োগ ও বদলিতে অনিয়ম
ঢাকা পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষের (ওয়াসা) বিরুদ্ধে স্থানীয় সরকার বিভাগের অনুমোদন ছাড়াই আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জনবল নিয়োগের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ২ হাজার ৫৯৪ জনকে নিয়োগ দিতে গিয়ে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। পাশাপাশি চাকরিবিধি উপেক্ষা করে ১০ থেকে ৩০ লাখ টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়ার তথ্যও সামনে এসেছে।
এসব অনিয়মের সঙ্গে ওয়াসার সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. আব্দুস ছালাম ব্যাপারী এবং উপব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিরুল ইসলামের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। অভিযুক্ত আব্দুস ছালাম ব্যাপারী সম্প্রতি পদত্যাগ করেছেন এবং তার বিরুদ্ধে অর্থপাচারের অভিযোগ তদন্ত করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
প্রথম আলো: সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে নতুন উত্তাপ
জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান–সম্পর্কিত প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন প্রশ্নে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তাপ তৈরি হয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য আজকের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকার দাবি জানিয়েছে। তা না হলে রাজপথে আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা।
অন্যদিকে সরকারি দল বিএনপি বলেছে, সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে সংসদে আলোচনা হতে পারে।
মানবজমিন: অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানে অনুদান
‘জুলাই গণ–অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগের পর এবার অস্তিত্বহীন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের নামে অনুদান দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সদ্য বিদায়ী উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর বিরুদ্ধে। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের অনুদানের তালিকা পর্যালোচনা করে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
তালিকায় দেখা গেছে, চারু শিল্প ও থিয়েটারের জন্য সারা দেশের তিন শতাধিক প্রতিষ্ঠানে ২ কোটি ২২ লাখ ৪৩ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ঠিকানায় গিয়ে কোনো কার্যক্রম বা সাইনবোর্ড পাওয়া যায়নি।
টাইমস অব বাংলাদেশ: ঢাকার সড়কে বাসের বিশৃঙ্খলা
ঢাকার ব্যস্ত সড়কগুলোতে মাঝরাস্তায় বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করানো প্রায় নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে পেছনে দীর্ঘ যানজট তৈরি হলেও অনেক ক্ষেত্রে ট্রাফিক পুলিশ বাসগুলোকে শুধু এগিয়ে যেতে ইশারা করেন, জরিমানা করেন না।
তবে একই স্থানে ব্যক্তিগত গাড়ি বা মোটরসাইকেল চালকেরা ট্রাফিক আইন ভাঙলে দ্রুত জরিমানার মুখে পড়ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
কালের কণ্ঠ: অবসরের টাকা পেতে হয়রানি
এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা অবসরের এককালীন টাকা পেতে দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে বাধ্য হচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে আবেদন করার চার বছর পরও তারা সেই টাকা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে অবসর জীবনে আর্থিক সংকটে পড়ছেন অনেকে।
দ্য ডেইলি স্টার: জ্বালানি কেনার সীমা শিথিল হতে পারে
ঈদে ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়তে থাকায় যানবাহনের জন্য জ্বালানি কেনার সীমা শিথিল করার পরিকল্পনা করছে সরকার। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঈদের আগে সাত দিন এবং পরে পাঁচ দিন মহাসড়কের ফিলিং স্টেশনগুলো ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখা হবে।
সরকার আশা করছে, এতে ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন হবে এবং জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুর পাঠানো হচ্ছে। রোববার (১৫ মার্চ) সকাল ১১:২০ মিনিটে তাকে বহনকারী বিমানটি উড্ডয়ন করেছে। বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম জানান, মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শ অনুযায়ী তাকে বিদেশে নেওয়া হচ্ছে। তার শারীরিক অবস্থা এখনো সম্পূর্ণ আশঙ্কামুক্ত নয়। এর আগে, মির্জা আব্বাসের ব্যক্তিগত সচিব মিজানুর রহমান সোহেল জানিয়েছিলেন, দুপুর ১২টার দিকে তাকে সিঙ্গাপুর নেওয়া হবে। এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি সকাল ৯:১০ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছেছিল। মির্জা আব্বাসের সঙ্গে তার সহধর্মিণী আফরোজা আব্বাস এবং জ্যেষ্ঠ পুত্র মির্জা ইয়াসির আব্বাসও যাচ্ছেন। গত বৃহস্পতিবার ইফতারের সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানে করা সিটি স্ক্যান রিপোর্টে জটিলতা ধরা পড়ায় মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্তে শুক্রবার তার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচার শেষে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল এবং শনিবার সকালে পুনরায় সিটি স্ক্যান করা হয়।
পুলিশ বাহিনীর ভেতরে যারা মাদক ব্যবসা ও বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে জড়িত, তাদের আর বাহিনীতে রাখা হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। শনিবার (১৪ মার্চ) বিকেলে গাজীপুর পুলিশ লাইনসে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে তিনি এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। আইজিপি বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে গিয়ে তিনি অনেক পুলিশ সদস্যের মাদক সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পেয়েছেন এবং যারাই এসব অনৈতিক কাজে জড়িত থাকবেন, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। আইজিপি তার বক্তব্যে থানার ওসিদের একচ্ছত্র ক্ষমতা প্রদর্শনের সংস্কৃতির সমাপ্তি ঘোষণা করে বলেন, পুলিশকে এখন থেকে জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করতে হবে। থানায় সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের প্রবণতার কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, অতীতে বাদী-বিবাদী উভয় পক্ষ থেকে টাকা নেওয়ার অভ্যাসের কারণেই আগের নেতৃত্ব আজ বিতর্কিত ও পলাতক। বর্তমান পুলিশ বাহিনীকে সেই কলঙ্কিত ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। গাজীপুর ও চট্টগ্রামকে দেশের অর্থনীতির ‘লাইফ লাইন’ হিসেবে উল্লেখ করে আইজিপি আরও বলেন, গাজীপুরের ২০টি বস্তিতে মাদকের ছড়াছড়ি তরুণ সমাজকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। মাদক ও ইন্টারনেটের অপব্যবহার রোধে পরিবারের সদস্যদের সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, যারা নিজেদের সংশোধন করবে না, তাদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে। পুলিশকে দুর্নীতিমুক্ত ও জনবান্ধব করার লক্ষ্যেই এই শুদ্ধি অভিযান চলবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম প্রবাসী নাসির উদ্দিনের পরিবারকে ডাকাতির ঘটনায় মূল আসামিদের ধরিয়ে দিতে ৫০ হাজার টাকা পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ডাকাতদের ধরা পড়ার সময় আহত হলে তাদের চিকিৎসা ব্যয়ও তিনি বহন করবেন। শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাতে মনোহরগঞ্জ উপজেলার ভাউপুর গ্রামে নাসির উদ্দিনের বাড়ি পরিদর্শনকালে এই ঘোষণা দেন সংসদ সদস্য। এসময় উপস্থিত ছিলেন দলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা। স্থানীয় সূত্র ও মামলার তথ্য অনুযায়ী, ৮ মার্চ রাত ১০টার দিকে নাসির উদ্দিন তার শ্বশুরবাড়ি কিসমত গ্রামে যাওয়ার জন্য অটোরিকশায় চলছিলেন। ভাউপুর গ্রামের আলী মিয়ার বাড়ির সামনে পৌঁছালে মোটরসাইকেলে আসা সৈয়দ আহমেদের ছেলে সাদ্দাম হোসেন ও রুহুল আমিনের ছেলে ইলিয়াস তার অটোরিকশা আটকিয়ে নাসিরকে গলায় ছুরি ধরে নামিয়ে নেন। এরপর তাঁকে ভাউপুর দক্ষিণপাড়া নুরানি মাদ্রাসার ছাদে নিয়ে গিয়ে মারধর এবং টাকা-পয়সা আছে কিনা জানতে চেষ্টা করা হয়। অত্যাচারে হতাশ হয়ে নাসির জানান, টাকা তার শ্বশুরবাড়িতে আছে। রাত পৌনে ১১টার দিকে সাদ্দাম ও ইলিয়াস নাসিরকে জিম্মি করে শ্বশুর হাজি হাশেমের বাড়িতে নিয়ে যান। পরে একই গ্রামের আরও তিনজন—শাহ আলম (শামসুল হকের ছেলে), মো. রাসেল (রোয়াব মিয়ার ছেলে) ও কামাল হোসেন (মৃত ছাদেকের ছেলে)—সাথে যোগ দিয়ে পুরো পরিবারকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করেন। ডাকাতির সময় নাসিরের এক বছর বয়সী ছেলের গলায় ছুরি ধরে হুমকি দেওয়া হয় এবং ৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা ও স্ত্রী ব্যবহৃত প্রায় চার ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুট করা হয়। পরবর্তী দিন গ্রামবাসী একত্র হয়ে সন্ত্রাসীদের বিচারের দাবি জানালে সংসদ সদস্য আবুল কালাম মনোহরগঞ্জ থানার ওসিকে তৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। ৯ মার্চ নাসির উদ্দিন থানায় ৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ অভিযান চালিয়ে সাদ্দাম হোসেন ও শাহ আলম (সালাউদ্দিন)কে গ্রেফতার করে। উদ্ধার করা হয় চার ভরি স্বর্ণ ও এক লাখ ৫৫ হাজার টাকা। মনোহরগঞ্জ থানার ওসি শাহিনুর ইসলাম জানিয়েছেন, বাকিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।