আন্তর্জাতিক

ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় চাপে ইসরায়েল, ইন্টারসেপ্টর মজুত কমার শঙ্কা

শাহারিয়া নয়ন মার্চ ১৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা তৃতীয় সপ্তাহে গড়ানোর মধ্যে পাল্টা আক্রমণ হিসেবে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে ধারাবাহিকভাবে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করছে ইরান। এসব হামলা ঠেকাতে গিয়ে ইসরায়েলের ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত দ্রুত কমে আসছে বলে জানিয়েছে মার্কিন কর্মকর্তারা।

 

মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের লাগাতার হামলার কারণে ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। যদিও ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত বিপজ্জনকভাবে কমে যাওয়ার খবর অস্বীকার করেছে ইসরায়েল সরকার।

 

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, রোববার পর্যন্ত ইসরায়েল ও মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে তাদের হামলার ৫৪তম ধাপ পরিচালিত হয়েছে। কয়েক দিনের ব্যবধানে ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতের ঘটনাও বেড়েছে।

 

বিশ্লেষকদের মতে, গত বছর ইরানের সঙ্গে সংঘাতে বিপুলসংখ্যক ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করার কারণে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আগে থেকেই কিছুটা চাপের মধ্যে ছিল। বর্তমান সংঘাতে ইরানের ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ সেই চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

 

তবে ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সার বলেছেন, ইন্টারসেপ্টরের মজুত ‘বিপজ্জনক পর্যায়ে নেমে এসেছে’—এমন দাবি সঠিক নয়। উত্তর ইসরায়েলের একটি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এর উত্তর হলো—না।”

 

এদিকে কয়েকটি আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান তাদের কিছু ক্ষেপণাস্ত্রে ‘ক্লাস্টার ওয়ারহেড’ ব্যবহার করছে, যা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। এতে একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার পাশাপাশি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করা সম্ভব হচ্ছে।

 

ওয়াশিংটনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ শুরু হলে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর আরও চাপ তৈরি হতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে এখনো পর্যাপ্ত ইন্টারসেপ্টর মজুত রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

 

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রায় ‘অসীম’ পরিমাণ যুদ্ধাস্ত্রের মজুত রয়েছে। যদিও এই দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

 

মার্কিন চিন্তন প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের তথ্য অনুযায়ী, গত জুনে ইরানের সঙ্গে ১২ দিনের সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ১৫০টির বেশি ‘থাড’ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করেছিল, যা সে সময়কার মজুতের প্রায় এক-চতুর্থাংশের সমান। এছাড়া বর্তমান সংঘাতের শুরুতে প্রায় ২৪০ কোটি ডলার মূল্যের ‘প্যাট্রিয়ট’ ইন্টারসেপ্টরও ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

 

চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইসরায়েল সরকার সামরিক সরঞ্জাম ক্রয়ের জন্য প্রায় ৮২ কোটি ৭০ লাখ ডলারের একটি জরুরি বাজেট অনুমোদন করেছে। মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে এই অর্থ নিরাপত্তা সরঞ্জাম সংগ্রহ ও জরুরি সামরিক প্রয়োজন মেটাতে ব্যয় করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম।

জনপ্রিয় সংবাদ
ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

১২ ঘণ্টারও কম সময়ে দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।   শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে।   এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।   নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।   এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।

অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা: এবার মেইনে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযানের ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)।   ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে।   কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না।   তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে।  সূত্র: ABC News

ভিসা নিয়ে বড় সুখবর দিলো যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে।   নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা।   ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল।   তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে।   এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস

Advertisement

আন্তর্জাতিক

View more
ছবি: সংগৃহীত
ইরানি বিপ্লবী গার্ড: “ট্রাম্প পারস্য সাগরে জাহাজ আনুক, আমরা প্রস্তুত”

ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডের মুখপাত্র আলি মোহাম্মদ নাইনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে দাবি করেছেন তারা ইরানের নৌবাহিনী ধ্বংস করে দিয়েছেন, তা মিথ্যা। তিনি বলেন, যদি তার সাহস থাকে, তাহলে পারস্য সাগরে জাহাজ আনুক।   মুখপাত্র আরও বলেন, বর্তমানে হরমুজ প্রণালীতে বাধা থাকায় পারস্য সাগরে পৌঁছানো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কঠিন। উল্লেখ্য, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে হরমুজ প্রণালী ইরানের দ্বারা বন্ধ রয়েছে এবং এটি এখনও অবরুদ্ধ। ওমান সাগরের পথ ব্যবহার করে পারস্য সাগরে যেতে হয়, যা ইরানের নিয়ন্ত্রণাধীন।   আলি মোহাম্মদ নাইনি বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত যেসব মিসাইল ব্যবহার করেছি, সেগুলো এক দশক আগে তৈরি করা। গত বছরের জুনে ১২ দিনের সংঘাতের পর আমরা নতুন মিসাইল তৈরি করেছি, তবে সেগুলো এখনও ব্যবহার করা হয়নি।   বিপ্লবী গার্ডের এই মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হুমকির উত্তরে ইরানের শক্তি প্রদর্শনের একটি নির্দেশ হিসেবে দেখানো হচ্ছে।

শাহারিয়া নয়ন মার্চ ১৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তান-আফগানিস্তানে চলছে পাল্টাপাল্টি হামলা, সামরিক স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু

ছবি: সংগৃহীত

ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় চাপে ইসরায়েল, ইন্টারসেপ্টর মজুত কমার শঙ্কা

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহ নেই: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জাহাজের জন্য বন্ধ হরমুজ প্রণালি, অন্যদের জন্য উন্মুক্ত: ইরান

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জাহাজ ছাড়া অন্য সব দেশের জন্য উন্মুক্ত থাকবে বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।   ইরান ও ওমানের উপকূলঘেঁষা এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয়। সাম্প্রতিক উত্তেজনার জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের বেশি ছাড়িয়েছে।   এক সাক্ষাৎকারে আব্বাস আরাগচি বলেন, প্রণালিটি পুরোপুরি বন্ধ করা হয়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাঙ্কারের জন্য এটি বন্ধ রাখা হয়েছে। তার ভাষায়, “প্রণালিটি আমাদের শত্রুদের জাহাজ ও ট্যাঙ্কারের জন্য বন্ধ, কিন্তু অন্যদের জন্য উন্মুক্ত।”   শনিবার (১৪ মার্চ) এমএস নাউকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি আরও জানান, চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে রাশিয়া ও চীন বিভিন্নভাবে ইরানকে সহায়তা করছে। এই সহায়তার মধ্যে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক সহযোগিতাও রয়েছে।   আরাগচি বলেন, অতীতের মতোই বর্তমানে এই দুই দেশের সঙ্গে ইরানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রয়েছে এবং তা আরও জোরদার হচ্ছে। এর আগে শুক্রবার (১৩ মার্চ) যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, রাশিয়া সম্ভবত ইরানকে কিছুটা সহায়তা করছে। তবে তিনি একই সঙ্গে উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রও ইউক্রেনকে সহায়তা দিচ্ছে।   বিশ্লেষকদের মতে, গত এক দশকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিরোধ বাড়ার পর ইরান ও রাশিয়ার সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের সময় ইরান রাশিয়াকে নিজেদের তৈরি ‘শাহেদ’ ড্রোন সরবরাহ করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব ড্রোন উৎপাদনের জন্য রাশিয়ায় কারখানাও স্থাপন করা হয়েছে।   অন্যদিকে ২০২১ সালে ইরান ও চীন ২৫ বছরের একটি অর্থনৈতিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করে। ওই চুক্তির মাধ্যমে ইরানের জ্বালানি খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ ও তেল সরবরাহের পরিকল্পনা করা হয়।

শাহারিয়া নয়ন মার্চ ১৬, ২০২৬ 0
মোজতবা খামেনি। ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলি হামলায় আহত মোজতবা খামেনি মস্কোতে চিকিৎসাধীন—আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের দাবি

ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলে আঘাত হানতে প্রথমবার ব্যবহৃত হলো ইরানের দূরপাল্লার ‘সিজ্জিল’ ক্ষেপণাস্ত্র

ছবি: সংগৃহীত

যুদ্ধের মধ্যে ইরানে ঔষধ-খাবার সহায়তা পাঠাল তুর্কমেনিস্তান

ছবি: সংগৃহীত
যুদ্ধবিরতির কোনো প্রস্তাব দিইনি: ট্রাম্পের দাবিকে নাকচ করলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে যুদ্ধবিরতি বা আলোচনার কোনো প্রস্তাব ইরান দেয়নি বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন দাবিকে তিনি সরাসরি নাকচ করেছেন।   রোববার (১৫ মার্চ) মার্কিন গণমাধ্যম সিবিএস নিউজের ‘ফেস দ্য নেশন’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরাঘচি বলেন, ইরান কখনোই যুদ্ধবিরতির অনুরোধ করেনি এবং আলোচনার কোনো প্রস্তাবও দেয়নি।   এর আগে শনিবার ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, তেহরান যুদ্ধ বন্ধে একটি চুক্তিতে আগ্রহী ছিল। তবে শর্তগুলো সন্তোষজনক না হওয়ায় তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আরাঘচি বলেন, আমরা কখনোই যুদ্ধবিরতির অনুরোধ করিনি, এমনকি আলোচনার প্রস্তাবও দিইনি।   তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার অভিজ্ঞতা অতীতে ভালো ছিল না। আরাঘচির মতে, বর্তমান সংঘাত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সিদ্ধান্তের ফল। তিনি এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘পছন্দের যুদ্ধ’ বলেও উল্লেখ করেন।   ইরান কেবল আত্মরক্ষার জন্য লড়াই করছে বলে দাবি করে তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে এই লড়াই দীর্ঘ সময় ধরে চলবে। তাঁর ভাষ্য, আমরা যখন তাদের সঙ্গে আলোচনা করছিলাম, তখনই তারা আমাদের ওপর হামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তাই আমেরিকানদের সঙ্গে কথা বলার কোনো কারণ আমরা দেখি না।   হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের বিষয়ে আরাঘচি জানান, বেশ কয়েকটি দেশ নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। নির্দিষ্ট কিছু দেশের জাহাজের জন্য এই পথ খোলা রাখতে ইরান প্রস্তুত রয়েছে।   তবে তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘লুকাস’ নামের একটি ড্রোন তৈরি করেছে, যা দেখতে ইরানের ‘শাহেদ’ ড্রোনের মতো। এই ধরনের ড্রোন ব্যবহার করে আরব দেশগুলোতে হামলা চালিয়ে ইরানকে দায়ী করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।   এ ছাড়া আরাঘচি সতর্ক করে বলেন, ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো বা খারগ দ্বীপকে লক্ষ্য করে হামলা হলে ইরানও এ অঞ্চলে মার্কিন কোম্পানিগুলোর স্বার্থে আঘাত হানতে পারে। সম্প্রতি এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছিলেন, মার্কিন বাহিনী চাইলে খারগ দ্বীপে আরও হামলা চালাতে পারে।   যুদ্ধের ১৬তম দিনে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই কঠোর অবস্থান থেকে ধারণা করা হচ্ছে, ওয়াশিংটনের চাপের কাছে তেহরান আপাতত নতি স্বীকারে প্রস্তুত নয় এবং সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।

শাহারিয়া নয়ন মার্চ ১৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।

ইস্তাম্বুলে মার্কিন কনস্যুলেটের সামনে বিশাল বিক্ষোভ: যুদ্ধবিরোধী স্লোগান

ছবি: সংগৃহীত

কফির কাপ হাতে মৃত্যু জল্পনা ওড়ালেন নেতানিয়াহু!

ছবি: সংগৃহীত

মোজতবা খামেনি সুস্থ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় সক্রিয়: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

0 Comments