মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা তৃতীয় সপ্তাহে প্রবেশ করেছে, আর এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন সিনেটর ক্রিস মারফি সতর্ক করে বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই যুদ্ধের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন।
মারফি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ধারাবাহিক পোস্টে জানিয়েছেন, চলমান যুদ্ধ পুরো অঞ্চলকে সহিংসতার এক ভয়ঙ্কর চক্রে ঠেলে দিয়েছে। তিনি লিখেছেন, এটি এখন দিবালোকের মতো স্পষ্ট যে, ট্রাম্প যুদ্ধের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন। ইরানের পাল্টা আঘাত হানার সক্ষমতা সম্পর্কে তিনি মারাত্মক ভুল ধারণা পোষণ করেছিলেন। পুরো মধ্যপ্রাচ্য এখন জ্বলছে।
সিনেটর মারফি হরমুজ প্রণালির সংকটকে মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এই সরু নৌপথের মাধ্যমে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের ২০ শতাংশের বেশি পরিবাহিত হয়। তিনি বলেন, ট্রাম্প বিশ্বাস করেছিলেন ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করবে না। তিনি ভুল ছিলেন। এখন তেলের দাম আকাশচুম্বী।
মারফি আরও সতর্ক করেছেন যে ইরানের ড্রোন, স্পিডবোট ও সামুদ্রিক মাইনগুলোর বিস্তৃতি এই জলপথকে নিরাপদ রাখা কঠিন করে তুলেছে। তিনি বলেছেন, এই অস্ত্রগুলো নির্মূল করা সম্ভব নয়, এগুলো সংখ্যায় অনেক এবং লুকানো অবস্থায় রয়েছে।
তিনি ড্রোনের ক্রমবর্ধমান ভূমিকার কথা উল্লেখ করে বলেন, ইরান এই অঞ্চলের তেলক্ষেত্রে অনির্দিষ্টকাল ধরে হামলা চালাতে পারে। ইউক্রেন যুদ্ধ ইতিমধ্যে দেখিয়েছে কীভাবে ড্রোন আধুনিক যুদ্ধবিগ্রহের ধরন বদলে দিয়েছে।
মারফি সতর্ক করেছেন যে, পুরো অঞ্চলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চাপের মধ্যে আছে এবং ইরানের সঙ্গে সংঘাত ভৌগোলিকভাবে বিস্তৃত হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, লেবাননে ইরানের মিত্ররা ইসরায়েল ও ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে, যা বড় ধরনের স্থল অভিযান এবং নতুন সংকটের কারণ হতে পারে।
সিনেটর বলেন, “ট্রাম্পের কোনো সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নেই। ইরান এবং তার সমর্থিত গোষ্ঠী অনির্দিষ্টকাল বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে। মিথ্যা বিজয় ঘোষণা করলে, নতুন কট্টরপন্থীরা সবকিছু পুনর্গঠন করবে।”
মারফি পরিশেষে প্রশাসনকে আহ্বান জানিয়েছেন, যুদ্ধ বন্ধ করতে এখনই বুদ্ধিমানের মতো পদক্ষেপ নিতে হবে, নাহলে আরও বড় বিপর্যয় দেখা দেবে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা তৃতীয় সপ্তাহে প্রবেশ করেছে, আর এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন সিনেটর ক্রিস মারফি সতর্ক করে বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই যুদ্ধের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন। মারফি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ধারাবাহিক পোস্টে জানিয়েছেন, চলমান যুদ্ধ পুরো অঞ্চলকে সহিংসতার এক ভয়ঙ্কর চক্রে ঠেলে দিয়েছে। তিনি লিখেছেন, এটি এখন দিবালোকের মতো স্পষ্ট যে, ট্রাম্প যুদ্ধের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন। ইরানের পাল্টা আঘাত হানার সক্ষমতা সম্পর্কে তিনি মারাত্মক ভুল ধারণা পোষণ করেছিলেন। পুরো মধ্যপ্রাচ্য এখন জ্বলছে। সিনেটর মারফি হরমুজ প্রণালির সংকটকে মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এই সরু নৌপথের মাধ্যমে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের ২০ শতাংশের বেশি পরিবাহিত হয়। তিনি বলেন, ট্রাম্প বিশ্বাস করেছিলেন ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করবে না। তিনি ভুল ছিলেন। এখন তেলের দাম আকাশচুম্বী। মারফি আরও সতর্ক করেছেন যে ইরানের ড্রোন, স্পিডবোট ও সামুদ্রিক মাইনগুলোর বিস্তৃতি এই জলপথকে নিরাপদ রাখা কঠিন করে তুলেছে। তিনি বলেছেন, এই অস্ত্রগুলো নির্মূল করা সম্ভব নয়, এগুলো সংখ্যায় অনেক এবং লুকানো অবস্থায় রয়েছে। তিনি ড্রোনের ক্রমবর্ধমান ভূমিকার কথা উল্লেখ করে বলেন, ইরান এই অঞ্চলের তেলক্ষেত্রে অনির্দিষ্টকাল ধরে হামলা চালাতে পারে। ইউক্রেন যুদ্ধ ইতিমধ্যে দেখিয়েছে কীভাবে ড্রোন আধুনিক যুদ্ধবিগ্রহের ধরন বদলে দিয়েছে। মারফি সতর্ক করেছেন যে, পুরো অঞ্চলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চাপের মধ্যে আছে এবং ইরানের সঙ্গে সংঘাত ভৌগোলিকভাবে বিস্তৃত হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, লেবাননে ইরানের মিত্ররা ইসরায়েল ও ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে, যা বড় ধরনের স্থল অভিযান এবং নতুন সংকটের কারণ হতে পারে। সিনেটর বলেন, “ট্রাম্পের কোনো সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নেই। ইরান এবং তার সমর্থিত গোষ্ঠী অনির্দিষ্টকাল বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে। মিথ্যা বিজয় ঘোষণা করলে, নতুন কট্টরপন্থীরা সবকিছু পুনর্গঠন করবে।” মারফি পরিশেষে প্রশাসনকে আহ্বান জানিয়েছেন, যুদ্ধ বন্ধ করতে এখনই বুদ্ধিমানের মতো পদক্ষেপ নিতে হবে, নাহলে আরও বড় বিপর্যয় দেখা দেবে।
ইরানে সামরিক হামলায় বিপুল অর্থ ব্যয়ের অভিযোগ তুলে যুক্তরাষ্ট্রের নীতির সমালোচনা করেছেন মার্কিন সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, এক সপ্তাহে ইরানে বোমা হামলায় ১১ বিলিয়ন ডলারের বেশি খরচ করা হয়েছে, অথচ দেশের কোটি কোটি মানুষের স্বাস্থ্যসেবার জন্য পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে না। ওয়ারেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৮২ মিলিয়ন মানুষ চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন, কিন্তু সরকার সামরিক অভিযানে বিপুল অর্থ ব্যয় করছে। তার মতে, এটি সরকারের অগ্রাধিকারের বিষয়, যেখানে জনগণের মৌলিক প্রয়োজনের চেয়ে যুদ্ধ ব্যয় বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, সরকারের সিদ্ধান্তে স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে যে স্বাস্থ্যসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে অর্থ দেওয়ার পরিবর্তে সামরিক কর্মকাণ্ডে বেশি অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে। ওয়ারেনের এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। বিষয়টি নিয়ে ট্রাম্প সমর্থক ও সমালোচকদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়েছে। তবে এ বিষয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প বা তার ঘনিষ্ঠ মহলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে উপসাগরীয় দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের পাশে থেকে আক্রমণাত্মক অবস্থান নিচ্ছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী Pete Hegseth। তবে এসব দেশের পক্ষ থেকে এখনো এ ধরনের কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। ভার্জিনিয়ার আর্লিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে পরিস্থিতি এখন ওয়াশিংটনের অনুকূলে রয়েছে। আমাদের উপসাগরীয় মিত্ররা আগের চেয়ে বেশি সক্রিয় এবং তারা ইরানের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক অবস্থান নিচ্ছে। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকে তেহরান পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ইরানের দাবি, এসব হামলা মূলত ওইসব দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ও তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাকে লক্ষ্য করে প্রতিশোধমূলকভাবে চালানো হচ্ছে। এদিকে উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের সম্পর্কও সাম্প্রতিক সময়ে আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কাতারের রাজধানী দোহা, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই ও বাহরাইনের মানামায় ইরানের হামলার ঘটনা ইতিমধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পাস হওয়া এক প্রস্তাবে উপসাগরীয় সহযোগিতা সংস্থা (জিসিসি) সদস্য দেশগুলোর ওপর ইরানের হামলার নিন্দা জানানো হয়েছে। তবে ওই প্রস্তাবে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি। সংযুক্ত আরব আমিরাতের কূটনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা Anwar Gargash সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ইরানের আন্তর্জাতিকভাবে একঘরে হয়ে পড়া এখন আর স্লোগান নয়, এটি বাস্তবতা। তবে বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় দেশগুলো এখনো সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়নি। বরং যুদ্ধ শুরুর আগে তারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump–এর কাছে ইরানে হামলা না চালানোর আহ্বান জানিয়েছিল। তাদের আশঙ্কা ছিল, যুদ্ধ শুরু হলে তারা ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে। এদিকে যুদ্ধের প্রভাবে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি খাতেও বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল ও এলএনজি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ পথ Strait of Hormuz দিয়ে জাহাজ চলাচলও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। বাণিজ্য বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে উপসাগরীয় দেশগুলো জ্বালানি খাতে প্রায় ১ হাজার ৫১০ কোটি ডলার রাজস্ব হারিয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কাতার, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েত। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এ ধরনের বক্তব্য উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। কারণ, ইরান আগেই সতর্ক করেছে—যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে সমর্থন দেবে, তাদের ওপর কঠোর প্রতিশোধ নেওয়া হবে। সূত্র: মিডল ইস্ট আই, ফিন্যান্সিয়াল টাইমস