মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ

ছবি: সংগৃহীত
ইসলামাবাদে ফের সংলাপের আভাস: ইরান সংকটে কূটনীতির দৌড়, যুদ্ধের শঙ্কা কাটেনি

ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই আবারও আলোচনার টেবিলে ফেরার ইঙ্গিত মিলছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে। সাম্প্রতিক ব্যর্থ সংলাপের পর নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান। একই সময়ে যুদ্ধবিরতি বজায় থাকলেও সামরিক প্রস্তুতি ও অবরোধের কারণে পরিস্থিতি এখনও অনিশ্চিত রয়ে গেছে।   কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, ওয়াশিংটন ও তেহরানের প্রতিনিধিরা চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইসলামাবাদে সরাসরি বৈঠকে বসেন। যদিও সেই আলোচনা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়, তবে উভয় পক্ষকে আবার আলোচনায় ফিরিয়ে আনতে সক্রিয় রয়েছে পাকিস্তান। ইতোমধ্যে দেশটির সেনাপ্রধানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল তেহরানে গিয়ে সংলাপ এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।   মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও শিগগিরই যুদ্ধের অবসান হতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তিনি বিশ্বকে ‘অসাধারণ দুটি দিনের’ জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেছেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, নতুন করে আলোচনা শুরু হলে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টিও সামনে আসতে পারে, যদিও এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।   এদিকে কূটনৈতিক তৎপরতার পাশাপাশি সামরিক উত্তেজনাও কমেনি। হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ অব্যাহত রয়েছে, যার ফলে ইরানের সমুদ্রপথে বাণিজ্য ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। মার্কিন বাহিনী একাধিক তেলবাহী জাহাজকে ফিরিয়ে দিয়েছে বলে জানা গেছে। এই পরিস্থিতিতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আবারও বেড়ে প্রতি ব্যারেল প্রায় ৯৫ ডলারে পৌঁছেছে।   অন্যদিকে ইরানও কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছে। দেশটির সামরিক কমান্ড সতর্ক করে বলেছে, অবরোধ অব্যাহত থাকলে উপসাগরীয় অঞ্চলসহ গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে বাণিজ্য প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করা হতে পারে।   আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে ইসরায়েল লেবাননে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। সর্বশেষ হামলায় শিশুসহ অন্তত ১৩ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এতে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।   এ অবস্থায় বিশ্লেষকরা বলছেন, একদিকে কূটনৈতিক আলোচনা এগোলেও অন্যদিকে সামরিক প্রস্তুতি অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি ‘ভঙ্গুর ভারসাম্যে’ রয়েছে। সংলাপ সফল না হলে যে কোনো সময় নতুন করে বড় ধরনের সংঘাত শুরু হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ১৫, ২০২৬ ১৪:০ 0
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর তেহরানের একটি রাস্তায় লোকজন চলাচল করছে । ছবি: রয়টার্স
চুক্তি ভাঙলে ফের হামলার হুমকি ট্রাম্পের, ইরানের আশপাশে মার্কিন বাহিনী মোতায়েন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে হওয়া চুক্তি পুরোপুরি বাস্তবায়ন না হলে আবারও সামরিক হামলা শুরু করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। তিনি বলেছেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের আশপাশে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে অবস্থান করবে।   বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প জানান, মার্কিন যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমান ও সেনারা অতিরিক্ত অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ প্রস্তুত থাকবে, যতক্ষণ না চুক্তির সব শর্ত কার্যকর হয়। তিনি ‘বাস্তব চুক্তি’ বাস্তবায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন।   ট্রাম্প আরও বলেন, যদি কোনো কারণে এই চুক্তি বাস্তবায়নে ব্যর্থতা দেখা যায়, তবে যুক্তরাষ্ট্র আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও বড়, শক্তিশালী ও আক্রমণাত্মক সামরিক পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত থাকবে।   এদিকে, চলমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরপরই লেবাননে বড় ধরনের বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এতে বহু মানুষের প্রাণহানি ও আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।   ইরান ইতোমধ্যে জানিয়েছে, লেবাননে ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্থায়ী শান্তিচুক্তির পথে অগ্রসর হওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।   অন্যদিকে, পারমাণবিক ইস্যুতেও দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য স্পষ্ট। ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধে সম্মত হয়েছে। তবে ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী তারা এই কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবে।   সব মিলিয়ে যুদ্ধবিরতির মধ্যেও অনিশ্চয়তা কাটেনি। চুক্তি বাস্তবায়ন, লেবানন পরিস্থিতি এবং পারমাণবিক কর্মসূচি—এই তিন ইস্যু এখন মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ৮, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ থামাতে বিশ্বনেতাদের দ্রুত পদক্ষেপ চান ড. মুহাম্মদ ইউনূস

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাত বন্ধে বিশ্বনেতাদের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শান্তিতে নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকেলে ইউনূস সেন্টারের মাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এই আহ্বান জানান।   বিবৃতিতে ড. ইউনূস বলেন, চলমান সংঘাত বিশ্বকে আরও গভীর অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই যুদ্ধে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি বাড়ছে, বিশেষ করে শিশুরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে ঘরবাড়ি, হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান; উপেক্ষিত হচ্ছে মানুষের মৌলিক চাহিদা।   এই সংকটকে কেবল একটি আঞ্চলিক সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে মনে করেন তিনি। তার মতে, এটি পুরো মানবজাতির জন্য একটি গুরুতর নৈতিক চ্যালেঞ্জ। তিনি সতর্ক করে বলেন, যুদ্ধের প্রভাব বিশ্বজুড়ে অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে, যার সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হচ্ছে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর।   বিবৃতিতে বৈশ্বিক ঐক্য ও সহমর্মিতার ওপর জোর দিয়ে ড. ইউনূস বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সামরিক উত্তেজনার পরিবর্তে কূটনৈতিক সংলাপকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক আইন রক্ষা এবং বহুপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদার করতে বিশ্বনেতাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।   তিনি আরও বলেন, “আমাদের যুদ্ধ নয়, শান্তিকে বেছে নিতে হবে; হামলা নয়, সংলাপকে বেছে নিতে হবে; বিভাজন নয়, ঐক্যকে বেছে নিতে হবে।”   উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে শুরু হওয়া সংঘাত ৩৯ দিন ধরে চলার পর বুধবার ভোরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুই সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানালেন ড. ইউনূস।

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ৮, ২০২৬ ১৪:০ 0
শাহআমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর
শাহ আমানত বিমানবন্দরে ফ্লাইট বিপর্যয়; মধ্যপ্রাচ্য রুটে বাতিল ২৬৪ আন্তর্জাতিক ফ্লাইট

চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন রুটে ফ্লাইট বাতিল হওয়ার ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। সবশেষ শনি ও রবিবার দুই দিনে ১৯টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত এই বিমানবন্দর থেকে মোট ২৬৪টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।   বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহিম খলিল ফ্লাইট বাতিলের এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মোট ৭টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে, যার মধ্যে ৪টি অ্যারাইভাল ও ৩টি ডিপার্চার ফ্লাইট। যুদ্ধাবস্থার কারণে শিডিউল বজায় রাখতে হিমশিম খাচ্ছে দেশি-বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলো।   বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলোর মধ্যে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ৪টি (২টি অ্যারাইভাল ও ২টিক ডিপার্চার) ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোর মধ্যে এয়ার আরাবিয়ার শারজাহ রুটের ৪টি এবং সালাম এয়ারের ওমান রুটের ৪টি ফ্লাইট বাতিলের তালিকায় রয়েছে। আকাশপথের ঝুঁকি ও পারস্য উপসাগরীয় উত্তেজনার কারণেই মূলত এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।   ফ্লাইট বিপর্যয়ের ফলে মধ্যপ্রাচ্যগামী হাজার হাজার যাত্রী চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে প্রবাসী শ্রমিকদের কর্মস্থলে ফেরা এবং ভিসার মেয়াদ নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ফ্লাইট চলাচলে এই অনিশ্চয়তা থাকতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ এপ্রিল ৫, ২০২৬ ১৪:০ 0
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। ছবি: এএফপি
হরমুজ উন্মুক্ত করতে সময় চাইলেন ট্রাম্প, সহায়তার ঘোষণা জেলেনস্কির!

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ পুনরায় সচল করা নিয়ে নতুন চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, আর সামান্য কিছু সময় পেলে যুক্তরাষ্ট্র এই প্রণালি উন্মুক্ত করতে এবং সেখানকার তেলের নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হবে। ট্রাম্পের এই বার্তার কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি হরমুজ প্রণালি সচল করতে সামরিক সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছেন।   জেলেনস্কি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, কৃষ্ণসাগরে জাহাজ চলাচল সচল করার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ইউক্রেন মধ্যপ্রাচ্যের এই জলপথ উন্মুক্ত করতে প্রস্তুত। তিনি উল্লেখ করেন, হরমুজ প্রণালি সচল করতে ড্রোন ইন্টারসেপ্টর (ড্রোন ধ্বংসকারী ব্যবস্থা), সামরিক কনভয় এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম প্রয়োজন হবে, যা ইউক্রেন সরবরাহ করতে পারে। যদিও ইউরোপ ও ন্যাটোর সদস্যরা এই অঞ্চলে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে, তবে জেলেনস্কির এই অবস্থান ওয়াশিংটনের জন্য নতুন আশার আলো হিসেবে দেখা দিচ্ছে।   এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট যখন মিত্রদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছেন, তখন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ সামরিক অভিযানের বাস্তবতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তবে এর মধ্যেই এএফপি-র তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্সের মালিকানাধীন ও মাল্টার পতাকাবাহী কনটেইনার জাহাজ ‘ক্রিবি’ সফলভাবে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। ইরান এই নৌপথটি কার্যত বন্ধ রাখলেও ফরাসি জাহাজটির সফলভাবে পারস্য উপসাগর থেকে বেরিয়ে আসা বিশ্ব অর্থনীতিতে কিছুটা স্বস্তি ও কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ এপ্রিল ২, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
আবারও মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি ইরানের!

ইরানের আকাশসীমায় আরও একটি অত্যাধুনিক মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে দেশটির শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) দেশটির মধ্যাঞ্চলে এই ঘটনা ঘটেছে বলে আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এক প্রতিবেদনে নিশ্চিত করেছে। আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিমানটি ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় এর পাইলটের পরিণতি সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ভয়াবহ সংঘাতের মধ্যে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার কোনো মার্কিন স্টিলথ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করল তেহরান। এর আগে গত ১৯ মার্চও একটি এফ-৩৫ বিমান ভূপাতিত করার ঘোষণা দিয়েছিল ইরান, যদিও ওয়াশিংটন তখন সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছিল। তবে শুক্রবারের এই চাঞ্চল্যকর দাবি নিয়ে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার ইসরায়েলের একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করারও দাবি করেছিল ইরান।   যৌথ মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত চরম আকার ধারণ করেছে। দুই পক্ষের মধ্যে চলছে ভয়াবহ পাল্টাপাল্টি হামলা। ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলসহ জর্ডান, ইরাক এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এই সংঘাতের প্রলেপ এখন বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের ওপরও মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ এপ্রিল ২, ২০২৬ ১৪:০ 0
দেশের পাম্পগুলোতে গ্রাহকদের দীর্ঘ সারি | ছবি: রয়টার্স
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এবার আফ্রিকার দিকে ঝুঁকছে বাংলাদেশ

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও বিশ্ববাজারের অস্থিরতা মোকাবিলায় আমদানির উৎস বহুমুখীকরণের অংশ হিসেবে আফ্রিকার দেশগুলো থেকে পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ। স্বাধীনতার পর গত ৫৫ বছরে আফ্রিকার কোনো দেশ থেকে জ্বালানি তেল আমদানি না করলেও, বর্তমান সংকট নিরসনে নাইজেরিয়া, আলজেরিয়া ও মরক্কোর মতো দেশগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে তেলের অনুরোধ জানানো হয়েছে। সম্প্রতি নাইজেরিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মিয়াহ মো. মাইনুল কবির দেশটির পেট্রোলিয়াম প্রতিমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করে এই প্রস্তাব পেশ করেন।   ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে বিশ্বজুড়ে যে জ্বালানি সংকট তীব্র হয়েছে, তার বিকল্প খুঁজতেই এই তৎপরতা। বর্তমানে সৌদি আরব, আরব আমিরাত ও কুয়েতের মতো দেশগুলো বাংলাদেশের প্রধান সরবরাহকারী হলেও সরকার এখন দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তার কথা ভাবছে। আফ্রিকার ৯টি কূটনৈতিক মিশনে ইতোমধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আলোচনার নির্দেশ পাঠানো হয়েছে। চলতি মাসের শেষ দিকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) ও আফ্রিকার মিশনগুলোর প্রতিনিধিদের মধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের জুম মিটিং হওয়ার কথা রয়েছে।   আফ্রিকার দেশগুলোর মধ্যে নাইজেরিয়া, লিবিয়া, অ্যাঙ্গোলা এবং আলজেরিয়া দৈনিক বিপুল পরিমাণ তেল উৎপাদন করে। তবে এই অঞ্চলে ফ্রান্স, ইতালি ও চীনের মতো বড় বিনিয়োগকারীদের আধিপত্য থাকায় সেখান থেকে তেল নিশ্চিত করা বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। সম্প্রতি ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির আলজেরিয়া সফরও প্রমাণ করে যে, ইউরোপীয় দেশগুলোও এখন আফ্রিকার জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা বাড়াচ্ছে।   আন্তর্জাতিক এই অস্থিরতার মাঝেও দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে আশ্বস্ত করেছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি জানান, বর্তমানে দেশে কোনো জ্বালানি ঘাটতি নেই এবং সরবরাহ ব্যবস্থা গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি উন্নত। তবে আমদানিকৃত তেলের ওপর নির্ভরতা কমাতে ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ এপ্রিল ২, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
‘এ যুদ্ধ আমরা চাইনি, অথচ আমাদেরই সব হারাতে হচ্ছে’

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে ইরান-এর রাজধানী তেহরান এখন ভয়, অনিশ্চয়তা ও ধ্বংসস্তূপের এক বাস্তবতার মুখোমুখি। সামরিক সাফল্যের দাবির বিপরীতে সাধারণ মানুষের জীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ ও ক্ষয়ক্ষতি। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সাম্প্রতিক বিমান হামলায় বেসামরিক এলাকাগুলোও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যদিও হামলাকারী পক্ষ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দাবি করছে তারা কেবল সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানছে।   তেহরানের এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আহমদ রেজা জানান, দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে গড়ে তোলা তার চশমার দোকান এক হামলায় পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। তার ভাষায়, “বছরের পর বছর ধরে যা গড়ে তুলেছিলাম, সবকিছু এক মুহূর্তেই শেষ হয়ে গেছে।” তিনি বলেন, দোকানে থাকা আমদানিকৃত পণ্য সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে এবং এখন তিনি দেনার চাপে দিশেহারা। তার দাবি, দোকানের আশপাশে কোনো সামরিক স্থাপনা ছিল না, তবুও কেন এটি লক্ষ্যবস্তু হলো—সে প্রশ্নের উত্তর তার কাছে নেই।   অন্যদিকে, তেহরানের পশ্চিমাঞ্চলে একটি বিউটি পারলারে কর্মরত মিনা জানান, বিমান হামলার আগের রাত থেকেই আতঙ্কে কাটিয়েছেন তারা। পরদিন কর্মস্থলে গিয়ে দেখেন পুরো ভবন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। “সব আয়না ভেঙে গেছে, যন্ত্রপাতি ধ্বংস হয়ে গেছে। এখন আমরা কেউই কাজ করার মতো অবস্থায় নেই,” বলেন তিনি।   যুদ্ধের কারণে শুধু ব্যবসা নয়, ভেঙে পড়ছে তরুণ উদ্যোক্তাদের স্বপ্নও। ২৯ বছর বয়সী নাগমেহ ও তার সহকর্মীরা মিলে একটি পোশাকের ব্র্যান্ড শুরু করেছিলেন। কিন্তু একটি বিস্ফোরণের আগুনে তাদের স্টুডিও ও পণ্য সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। নাগমেহ বলেন, “আমরা নিজেদের জন্য নতুন কিছু গড়ে তুলতে চেয়েছিলাম। কিন্তু এখন সবকিছুই শেষ।”   একইভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছেন উত্তর তেহরানের এক রেস্তোরাঁ মালিকও। তার পারিবারিক ব্যবসা, যা কয়েক দশক ধরে চালু ছিল, এক হামলায় ধ্বংস হয়ে গেছে। স্থানীয়দের মতে, যুদ্ধ যত দীর্ঘ হচ্ছে, ততই বেসামরিক এলাকায় হামলার মাত্রা বাড়ছে। এতে মানুষের মধ্যে বাড়ছে আতঙ্ক ও ক্ষোভ।   অনেকেই বলছেন, এই সংঘাত এখন আর কৌশল বা রাজনীতির বিষয় নয়; বরং এটি তাদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। তেহরানের বাসিন্দাদের কণ্ঠে এখন একটাই আকুতি—এই যুদ্ধের দ্রুত অবসান। তাদের ভাষায়, “আমরা এই যুদ্ধ চাইনি, কিন্তু তবুও আমাদের এর মধ্যেই বেঁচে থাকতে হচ্ছে।”

শাহারিয়া নয়ন মার্চ ৩০, ২০২৬ ১৪:০ 0
চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে অস্বস্তিতে চীন: তেল ও বাণিজ্যে বড় ঝুঁকির আশঙ্কা

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চলমান সামরিক আগ্রাসনের প্রভাব বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি চীনের ওপর পড়তে শুরু করেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধের ফলে চীনে পেট্রোল ও প্লাস্টিকের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দেশটির অভ্যন্তরীণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। বেইজিং এই সংঘাত বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতা চালালেও ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যিক ভারসাম্য রক্ষা করতে গিয়ে এক অস্বস্তিকর অবস্থানে রয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, চীনের কাছে ইরান মূলত সস্তায় তেল পাওয়ার একটি উৎস। গত বছর ইরানের মোট তেল রপ্তানির ৮০ শতাংশই কিনেছে বেইজিং, যা তেহরানের আয়ের প্রধান উৎস হলেও চীনের মোট আমদানির মাত্র ১৩ শতাংশ। ফলে চীন কৌশলগতভাবে ইরানের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল নয়। এছাড়া সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে চীনের বাণিজ্যের তুলনায় ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যের পরিমাণ অত্যন্ত সামান্য। এই অর্থনৈতিক অসামঞ্জস্যের কারণেই বেইজিং সরাসরি কোনো সামরিক পক্ষ না নিয়ে কেবল সংযম ও কূটনীতির ওপর জোর দিচ্ছে।   তবে ইরান এই যুদ্ধে চীনের ‘বেইডু’ স্যাটেলাইট নেভিগেশন সিস্টেম এবং চীনা ড্রোন ও চিপ ব্যবহার করছে বলে পশ্চিমা দেশগুলো অভিযোগ করেছে। চীন এই সংঘাতের দ্রুত অবসান চাইলেও সরাসরি তেহরানের নিন্দা জানানো থেকে বিরত রয়েছে। ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউটের মতে, যুদ্ধের ফলে তেলের উচ্চমূল্য এবং ইউরোপীয় বাজারে চীনা পণ্যের চাহিদা কমে যাওয়া বেইজিংয়ের জন্য সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার কারণ। চীন মধ্যপ্রাচ্যে তার প্রভাব বজায় রাখতে চায়, তবে তারা কোনোভাবেই একটি পারমাণবিক অস্ত্রধারী ইরান বা দীর্ঘমেয়াদী অস্থিতিশীলতা সমর্থন করছে না।   সূত্র: এনডিটিভি

তাবাস্সুম মোহাম্মদ মার্চ ৩০, ২০২৬ ১৪:০ 0
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি: রয়টার্স
যুদ্ধ বন্ধে চুক্তির সুযোগ এখনো আছে, সিদ্ধান্ত ইরানের ওপর: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, চলমান সংঘাত বন্ধে একটি সমঝোতার সুযোগ এখনো রয়েছে। তবে তা নির্ভর করছে ইরানের সিদ্ধান্তের ওপর। তিনি ইরানকে ‘দক্ষ আলোচক, কিন্তু দুর্বল যোদ্ধা’ হিসেবে উল্লেখ করেন।   বৃহস্পতিবার দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে ইরানের সামরিক সক্ষমতা অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে। তাঁর ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক হামলায় ইরানের সামরিক কাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।   ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মজুত ধ্বংস করছে এবং তাদের প্রতিরক্ষা শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। পাশাপাশি ইরানের নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীকেও কার্যত অকার্যকর করে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।   তিনি আরও বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থার বড় অংশ ধ্বংস করা হয়েছে এবং যুদ্ধের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাশার চেয়েও এগিয়ে রয়েছে। ট্রাম্পের মতে, যেখানে ধারণা করা হয়েছিল ইরান কয়েক সপ্তাহ প্রতিরোধ গড়ে তুলবে, সেখানে বাস্তবে তারা দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়েছে।   তবে এই পরিস্থিতির মধ্যেও কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ইরানের সামনে এখনো একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর সুযোগ রয়েছে, তবে সেই সিদ্ধান্ত তাদেরই নিতে হবে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ট্রাম্পের এ বক্তব্য নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদারের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।   সূত্র: আল–জাজিরা

শাহারিয়া নয়ন মার্চ ২৬, ২০২৬ ১৪:০ 0
ইয়েমেনের রাজধানী সানায় গাড়িতে হুতি যোদ্ধারা। ফাইল ছবি: রয়টার্স
ইরানের পক্ষে যুদ্ধে নামার ঘোষণা হুতিদের, ‘যেকোনো সময় প্রস্তুত’

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কার মধ্যে ইরানের পক্ষে সরাসরি যুদ্ধে নামার ঘোষণা দিয়েছে ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতি। গোষ্ঠীটি জানিয়েছে, প্রয়োজন হলে যেকোনো সময় সামরিক অভিযান শুরু করতে তারা প্রস্তুত।   বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে হুতির এক নেতা বলেন, তাদের সামরিক প্রস্তুতি সম্পূর্ণ রয়েছে এবং সব ধরনের বিকল্প পরিকল্পনাও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান শক্ত অবস্থানে রয়েছে এবং প্রতিদিন শত্রুপক্ষকে চাপে রাখছে।   হুতির ওই নেতা আরও জানান, তারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং কখন সরাসরি যুদ্ধে জড়ানো উপযুক্ত হবে, সে বিষয়ে সময়মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বিশ্লেষকদের মতে, হুতি গোষ্ঠী সরাসরি সংঘাতে জড়ালে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন একটি যুদ্ধফ্রন্ট খুলে যেতে পারে। বিশেষ করে ইয়েমেনের উপকূলবর্তী গুরুত্বপূর্ণ জলপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালি এই সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতে পারে।   এই প্রণালি দিয়ে সুয়েজ খালমুখী আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করে। এ অবস্থায় হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি বাব আল-মান্দেবেও উত্তেজনা তৈরি হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর আগে বিভিন্ন সময় এই জলপথে ট্যাংকার ও বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে হুতি গোষ্ঠী, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

শাহারিয়া নয়ন মার্চ ২৫, ২০২৬ ১৪:০ 0
এই ছবিতে ইরানের একটি খোররামশাহর-৪ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ দেখা যাচ্ছে।
সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ইরানের ব্যাপক হামলা

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আগ্রাসনের জবাবে সৌদি আরবের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অঞ্চলগুলোতে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে ইরান। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) মধ্যরাত থেকে সৌদির পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশে প্রায় ৩০টি ড্রোন এবং একটি শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সাহায্যে এই আক্রমণ চালানো হয়। রিয়াদের জন্য এই অঞ্চলটি কৌশলগতভাবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দেশটির মোট তেল ও জ্বালানি মজুদের ৭০ শতাংশই এখানে অবস্থিত।   আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রধান জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ বন্ধ করে যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখতে চাইছে তেহরান। গত কয়েকদিন ধরে কেবল পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশই নয়, বরং লোহিত সাগর উপকূলের গুরুত্বপূর্ণ বন্দর নগরী ইয়ানবুতেও ধারাবাহিক হামলা চালাচ্ছে ইরানি বাহিনী।   বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পরিকল্পিত আক্রমণ কেবল সৌদি আরব বা আঞ্চলিক নিরাপত্তাকেই হুমকির মুখে ফেলছে না, বরং বিশ্ব অর্থনীতির ওপরও বিশাল চাপ সৃষ্টি করছে। এই পরিস্থিতির কারণে রিয়াদসহ আঞ্চলিক রাজধানীগুলোর সঙ্গে তেহরানের কূটনৈতিক সম্পর্কের আরও চরম অবনতি ঘটছে। ইরানের এই কঠোর রণকৌশল মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও অর্থনৈতিক আধিপত্যকে নজিরবিহীন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।   সূত্র: আল জাজিরা

তাবাস্সুম মোহাম্মদ মার্চ ২৪, ২০২৬ ১৪:০ 0
ইরানের তৈরি ড্রোনগুলো প্রদর্শনীতে রাখা হয়েছে। ফাইল ছবি: এএফপি
সস্তা ড্রোন, ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষা: ইরানি হামলা ঠেকাতে চাপে উপসাগরীয় দেশগুলো

ইরান থেকে ছোড়া সস্তা ড্রোন মোকাবিলায় অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান ব্যবহার করতে হচ্ছে উপসাগরীয় দেশগুলোকে—যা সামরিকভাবে কার্যকর হলেও অর্থনৈতিকভাবে হয়ে উঠছে বড় চ্যালেঞ্জ। চলমান সংঘাতে ড্রোন প্রতিরোধে ব্যয়বহুল এই কৌশল নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে বিশ্লেষকদের মধ্যে।   পশ্চিমা কর্মকর্তারা বলছেন, নিচু দিয়ে ধীরগতিতে উড়ে আসা ইরানি ড্রোন ধ্বংস করতে যুদ্ধবিমান এখন প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। তবে এই পদ্ধতি দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয়। ওয়াশিংটনভিত্তিক Center for Security and Emerging Technology-এর গবেষক লরেন কান এ প্রসঙ্গে বলেন, এই ধরনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দীর্ঘ সময় ধরে চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।   বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ইরানের ব্যবহৃত Shahed-136 ড্রোনের প্রতিটির দাম মাত্র ২০ থেকে ৫০ হাজার ডলার। বিপরীতে একটি F-16 Fighting Falcon যুদ্ধবিমান আকাশে এক ঘণ্টা ওড়াতেই খরচ হয় ২৫ হাজার ডলারের বেশি। শুধু তাই নয়, এসব ড্রোন ভূপাতিত করতে যে ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে, তার খরচ আরও বেশি। যেমন, আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপণযোগ্য AIM-9X Sidewinder ক্ষেপণাস্ত্রের প্রতিটির দাম প্রায় ৪ লাখ ৮৫ হাজার ডলার। আর AIM-120 AMRAAM ক্ষেপণাস্ত্রের দাম ১০ লাখ ডলারেরও বেশি। ফলে তুলনামূলক সস্তা ড্রোন ঠেকাতে ব্যয়বহুল অস্ত্র ব্যবহারের এই সমীকরণকে অনেকেই ‘মশা মারতে কামান দাগানো’র সঙ্গে তুলনা করছেন।   Center for Strategic and International Studies-এর তথ্য অনুযায়ী, এই ধরনের ব্যয়বৈষম্য দীর্ঘমেয়াদে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দিতে পারে। একই মত দিয়েছেন Center for Naval Analyses-এর গবেষক স্যামুয়েল বেন্ডেট। তার মতে, সস্তা হুমকি মোকাবিলায় তুলনামূলক কম খরচের বিকল্প ব্যবস্থাই বেশি কার্যকর। বর্তমানে উপসাগরীয় দেশগুলো যুদ্ধবিমান থেকে ভারী গুলি ব্যবহার করে ড্রোন ভূপাতিত করার চেষ্টা করছে, যা ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় সস্তা। তবে এতে ঝুঁকিও রয়েছে—কারণ লক্ষ্যবস্তুর কাছাকাছি যেতে হয় এবং জনবহুল এলাকায় ব্যবহারে বেসামরিক হতাহতের আশঙ্কা থাকে।   এদিকে, ইসরায়েল তাদের Iron Dome প্রতিরক্ষাব্যবস্থার পাশাপাশি লেজারভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করেছে, যেখানে প্রতি ড্রোন ধ্বংসে খরচ প্রায় শূন্যের কাছাকাছি। সংযুক্ত আরব আমিরাতও এ ধরনের প্রযুক্তি কেনার কথা ভাবছে। পরিস্থিতির জটিলতায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে ইরানের ব্যাপক ড্রোন হামলা। গত ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে দেশটি তিন হাজারের বেশি ড্রোন ছুড়েছে বলে জানা গেছে। যদিও অধিকাংশই প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে, তবুও কিছু ড্রোন সামরিক ঘাঁটি ও জ্বালানি স্থাপনায় আঘাত হেনেছে।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু ব্যয় নয়—এই ধরনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বিমানবাহিনীর ওপর অতিরিক্ত চাপও তৈরি করছে। Stimson Center-এর গবেষক কেলি গ্রিকো মনে করেন, দীর্ঘ সময় ধরে যুদ্ধবিমান সর্বোচ্চ সক্ষমতায় ব্যবহার করলে রক্ষণাবেক্ষণের চাপ বাড়বে এবং কার্যকারিতা কমে যেতে পারে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় দেশগুলো এখন বিকল্প পথ খুঁজছে। ইউক্রেনের অভিজ্ঞতা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ইন্টারসেপ্টর ড্রোন, হেলিকপ্টার এবং সাশ্রয়ী প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকছে তারা। যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে ইউক্রেনের তৈরি প্রায় ১০ হাজার ইন্টারসেপ্টর ড্রোন মধ্যপ্রাচ্যে পাঠিয়েছে বলেও জানা গেছে।   বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে শুধু ড্রোন ঠেকানোর ওপর নয়, বরং ইরানের ড্রোন উৎক্ষেপণ সক্ষমতা কত দ্রুত কমানো যায়, তার ওপর। দীর্ঘমেয়াদে শুধু প্রতিরোধ নয়—হুমকির উৎস নিয়ন্ত্রণই হবে মূল কৌশল।

শাহারিয়া নয়ন মার্চ ২৪, ২০২৬ ১৪:০ 0
ইরানের রাজধানী তেহরানে বিস্ফোরণের পর ধোঁয়া উঠছে। ছবি: সংগৃহীত
হামলা স্থগিতের ঘোষণার মধ্যেই ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ব্যাপক আঘাত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা সাময়িক স্থগিতের ঘোষণা দেওয়ার পরপরই দেশটির বিভিন্ন স্থানে নতুন করে ব্যাপক হামলার খবর পাওয়া গেছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।   সোমবার ইসরায়েলি বাহিনী জানায়, তারা তেহরানের বিভিন্ন অবকাঠামো লক্ষ্য করে ‘বিস্তৃত হামলা’ চালাচ্ছে। তবে হামলার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান ব্র্যাড কুপার অভিযোগ করেন, ইরান জনবসতিপূর্ণ এলাকা থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়ছে। যদিও এ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।   মার্কিন বাহিনীর দাবি, তারা কুম প্রদেশে ড্রোন ও বিমানযন্ত্রাংশ তৈরির একটি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে, যা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানের পূর্বাঞ্চলে শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটেছে, যা ‘অভূতপূর্ব’ বলে বর্ণনা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়।   ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, খোররামাবাদে একটি আবাসিক ভবনে হামলায় এক শিশু নিহত এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন। তাবরিজে পৃথক হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া বান্দার আব্বাস, ইসফাহান, কারাজ ও আহভাজসহ বিভিন্ন শহরে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। আহভাজে একটি হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্যও পাওয়া গেছে। ইরানের রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, সংঘাতে ৮০ হাজারের বেশি বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।   অন্যদিকে, ইসরায়েলের বিভিন্ন অঞ্চলেও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রয়েছে। দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়েছে এবং উত্তরাঞ্চলে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়েছে। সেখানে হিজবুল্লাহর সম্পৃক্ততার আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার সময়সীমা বাড়িয়ে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ‘গঠনমূলক আলোচনা’ চলছে।   তবে পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে আইআরজিসি জানিয়েছে, ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা হলে যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো ও আঞ্চলিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে। একই সঙ্গে ইরানের প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ হুঁশিয়ারি দিয়েছে, উপসাগরীয় উপকূল বা দ্বীপে হামলা হলে সমুদ্রপথে মাইন পেতে গুরুত্বপূর্ণ নৌরুট বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে।   চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত ইরানে নিহতের সংখ্যা ১,৫০০ ছাড়িয়েছে বলে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলে ইরানি হামলায় অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। যুদ্ধের প্রভাব ইতিমধ্যে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও পড়েছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার প্রধান ফাতিহ বিরোল সতর্ক করে বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি ১৯৭০-এর দশকের জ্বালানি সংকটের চেয়েও গুরুতর আকার ধারণ করতে পারে।   এদিকে উপসাগরীয় অঞ্চলেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। আবুধাবির আল-ধাফরা ঘাঁটির কাছে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধের সময় ধ্বংসাবশেষ পড়ে এক ভারতীয় নাগরিক আহত হয়েছেন। বাহরাইন ও কুয়েতে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়েছে। সৌদি আরব জানিয়েছে, তারা রিয়াদের দিকে আসা একটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে এবং পূর্বাঞ্চলে একটি ড্রোন ধ্বংস করেছে।   সূত্র: আল জাজিরা

শাহারিয়া নয়ন মার্চ ২২, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
১৯৭০ সালের চেয়েও ভয়াবহ বর্তমান জ্বালানি সংকট: আইইএ প্রধানের হুঁশিয়ারি

বর্তমান বিশ্বের জ্বালানি পরিস্থিতিকে ১৯৭০-এর দশকের তেল সংকট এবং ২০২২ সালের ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবের চেয়েও অধিক ভয়াবহ বলে বর্ণনা করেছেন আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) নির্বাহী পরিচালক ফতিহ বিরল। সোমবার (২৩ মার্চ) অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরায় ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি সতর্ক করে বলেন, বিশ্ব অর্থনীতি বর্তমানে এক বিশাল ও অভূতপূর্ব হুমকির মুখে দাঁড়িয়ে আছে। ফতিহ বিরল এই পরিস্থিতিকে দুটি বড় তেল সংকট এবং একটি গ্যাস সংকটের সম্মিলিত ও জটিল রূপ হিসেবে অভিহিত করেছেন।   আইইএ প্রধান জানান, চলমান মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের ফলে ওই অঞ্চলের অন্তত ৪০টি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনা ‘ভয়াবহভাবে’ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই সংকট নিরসনে কোনো একক দেশ নয়, বরং বিশ্বব্যাপী সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইইএ ইতিমধ্যে এশিয়া ও ইউরোপের দেশগুলোর সঙ্গে তাদের জরুরি তেলের মজুত বাজারে ছাড়ার বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছে। এর আগে চলতি মাসের শুরুর দিকে সদস্য দেশগুলো বিশ্ববাজারে তেলের আকাশচুম্বী দাম নিয়ন্ত্রণে রেকর্ড ৪০০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছিল।   ফতিহ বিরল আরও যোগ করেন, বাজার পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে প্রয়োজন হলে আইইএ আরও মজুত তেল বাজারে ছাড়তে প্রস্তুত রয়েছে। তবে দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলের নিয়মিত সরবরাহ পুনরায় শুরু হওয়াটা সবচেয়ে জরুরি। যদি বর্তমান অস্থিরতা অব্যাহত থাকে, তবে বিশ্বের কোনো দেশই এর নেতিবাচক অর্থনৈতিক প্রভাব থেকে মুক্ত থাকতে পারবে না বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ মার্চ ২২, ২০২৬ ১৪:০ 0
উপস্থিত জনতার উদ্দেশে বক্তব্য দিচ্ছেন পোপ চতুর্দশ লিও। অ্যাঞ্জেলাস প্রার্থনার সময় ভ্যাটিকানের সেন্ট পিটার্স চত্বরের দিকে মুখ করে অ্যাপোস্টলিক প্রাসাদের জানালা থেকে, ২২ মার্চ ২০২৬। ছবি: এএফপি
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ‘মানবতার কলঙ্ক’: অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান পোপ লিও’র

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতকে ‘সমগ্র মানব পরিবারের জন্য কলঙ্ক’ হিসেবে উল্লেখ করে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন পোপ চতুর্দশ লিও। রোববার ভ্যাটিকান সিটি-র সেন্ট পিটার্স স্কয়ারে সাপ্তাহিক অ্যাঞ্জেলাস প্রার্থনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।   পোপ বলেন, চলমান যুদ্ধে নিরপরাধ মানুষের মৃত্যু ও দুর্ভোগ অত্যন্ত বেদনাদায়ক। “এত মানুষের কষ্ট এবং এই সংঘাতের শিকার নিরপরাধদের দুর্দশার মুখে আমরা নীরব থাকতে পারি না। তাদের যন্ত্রণা পুরো মানবজাতিরই যন্ত্রণা,”—যোগ করেন তিনি।   যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া এই ধর্মীয় নেতা জানান, মধ্যপ্রাচ্যসহ সহিংসতায় বিপর্যস্ত অন্যান্য অঞ্চলের পরিস্থিতি তিনি গভীর হতাশার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছেন। তিনি আরও বলেন, আমি আবারও জোর দিয়ে আহ্বান জানাচ্ছি—আমরা যেন প্রার্থনায় অবিচল থাকি, যাতে শত্রুতা বন্ধ হয় এবং শান্তির পথ উন্মুক্ত হয়।   পোপ লিও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি সংঘাত নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ারও আহ্বান জানান, যাতে দ্রুত সহিংসতা বন্ধ হয়ে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করা যায়।

শাহারিয়া নয়ন মার্চ ২১, ২০২৬ ১৪:০ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Top week

আমেরিকায় রাতারাতি ধনী হওয়ার নতুন পথ । গ্রাফিক্স আমেরিকা বাংলা
আমেরিকা

যেভাবে রাতারাতি ধনী হচ্ছে আমেরিকায় মানুষ

শাহারিয়া নয়ন মে ২৫, ২০২৬ ১৪:০ 0