ইরানের সামরিক সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দিতে স্মরণকালের ভয়াবহতম অভিযানে নেমেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার এই অভিযানের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছেন। তার দেওয়া তথ্যমতে, এটি গত কয়েক দশকের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবথেকে বড় সামরিক প্রস্তুতি। বিশাল সামরিক বহর ও আক্রমণ মার্কিন সেন্টকম প্রধান জানান, এই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ হাজারের বেশি সেনা, ২০০টি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান, এবং দুটি বিশালাকার বিমানবাহী রণতরী সরাসরি অংশ নিচ্ছে। এছাড়াও আকাশপথে হামলা জোরদার করতে যুক্ত করা হয়েছে বেশ কিছু শক্তিশালী বোমারু বিমান। কুপার স্পষ্ট করেছেন যে, যেসকল লক্ষ্যবস্তু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর হামলা হতে পারে, সেগুলো ধ্বংস করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। ইরানি নৌবাহিনীর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি অভিযানের প্রথম ধাপেই ইরানি নৌবাহিনীকে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে মার্কিন বাহিনী। অ্যাডমিরাল কুপার দাবি করেছেন, তারা ইতিমধেই ইরানের ১৭টি জাহাজ ধ্বংস করেছেন। এর মধ্যে ইরানের সবথেকে কার্যকর সাবমেরিনগুলোও রয়েছে। ত্ৰিমাত্রিক হামলা অব্যাহত যুক্তরাষ্ট্র কেবল আকাশ বা সমুদ্রপথেই সীমাবদ্ধ নেই। কুপারের মতে, সমুদ্রতল থেকে শুরু করে আকাশপথ এবং সাইবারস্পেস—সবগুলো মাধ্যম ব্যবহার করে ইরানের ওপর নিরবচ্ছিন্ন হামলা চালানো হচ্ছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় ওই অঞ্চলে আরও সামরিক সহায়তা পাঠানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে পেন্টাগন।
আধুনিক সমরাস্ত্রের লড়াইয়ে এক নতুন ও উদ্বেগজনক সমীকরণ তৈরি করেছে ইরানের তৈরি ‘শাহেদ-১৩৬’ ড্রোন। মাত্র ৩৫ হাজার ডলার মূল্যের এই সস্তা ড্রোন ঠেকাতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে খরচ করতে হচ্ছে লাখ লাখ, এমনকি কোটি ডলারের ব্যয়বহুল ক্ষেপণাস্ত্র। এই অসম লড়াইয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মজুত দ্রুত ফুরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধে আতঙ্ক ছড়ানোর পর এখন মধ্যপ্রাচ্যের রণাঙ্গনে ডেল্টা-উইং ‘শাহেদ-১৩৬’ ড্রোন মোতায়েন করেছে তেহরান। মাত্র ৩.৫ মিটার দীর্ঘ এবং ৫০ কেজি বিস্ফোরক বহনে সক্ষম এই ড্রোনটির উৎপাদন খরচ যেখানে মাত্র ৩৫ হাজার ডলার, সেখানে এটি ধ্বংস করতে ব্যবহৃত একেকটি ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের পেছনে ব্যয় হচ্ছে ৫ লাখ থেকে ৪০ লাখ ডলার পর্যন্ত। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি কার্যত একটি অর্থনৈতিক যুদ্ধের রূপ নিয়েছে। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর ওপর শুরু হওয়া ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র অংশ হিসেবে গত ৪৮ ঘণ্টায় বাহরাইন, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে ব্যাপক ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, তেহরান প্রতিদিন গড়ে ২ হাজার ৫০০টির বেশি ড্রোন ছুড়ে প্রতিপক্ষের রাডার ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করছে। ইরানের হাতে বর্তমানে প্রায় ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ ড্রোনের বিশাল মজুত রয়েছে এবং প্রতি মাসে তারা আরও ৫০০টি ড্রোন তৈরি করতে সক্ষম। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক ‘থাড’ (THAAD) প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রতিটি ইন্টারসেপ্টরের দাম প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার। এসব ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে সময় লাগে তিন থেকে আট বছর। স্টিমসন সেন্টারের সিনিয়র ফেলো কেলি গ্রিকো সতর্ক করে বলেছেন, "আমরা যে হারে এগুলো ব্যবহার করছি, সে হারে তৈরি করতে পারছি না।" একটি লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে একাধিক ইন্টারসেপ্টর ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা পশ্চিমা সামরিক শক্তিকে এক দীর্ঘমেয়াদি সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। বিকল্প হিসেবে ইসরাইল ‘আইরন বিম’ লেজার প্রযুক্তির কথা ভাবলেও তা এখনো পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়নি। ফলে ড্রোনের এই বিশাল ঝাঁক মোকাবিলায় পেন্টাগন এখন চরম অস্থিরতায় দিন কাটাচ্ছে।
ইরানের সামরিক সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দিতে স্মরণকালের ভয়াবহতম অভিযানে নেমেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার এই অভিযানের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছেন। তার দেওয়া তথ্যমতে, এটি গত কয়েক দশকের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবথেকে বড় সামরিক প্রস্তুতি। বিশাল সামরিক বহর ও আক্রমণ মার্কিন সেন্টকম প্রধান জানান, এই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ হাজারের বেশি সেনা, ২০০টি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান, এবং দুটি বিশালাকার বিমানবাহী রণতরী সরাসরি অংশ নিচ্ছে। এছাড়াও আকাশপথে হামলা জোরদার করতে যুক্ত করা হয়েছে বেশ কিছু শক্তিশালী বোমারু বিমান। কুপার স্পষ্ট করেছেন যে, যেসকল লক্ষ্যবস্তু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর হামলা হতে পারে, সেগুলো ধ্বংস করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। ইরানি নৌবাহিনীর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি অভিযানের প্রথম ধাপেই ইরানি নৌবাহিনীকে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে মার্কিন বাহিনী। অ্যাডমিরাল কুপার দাবি করেছেন, তারা ইতিমধেই ইরানের ১৭টি জাহাজ ধ্বংস করেছেন। এর মধ্যে ইরানের সবথেকে কার্যকর সাবমেরিনগুলোও রয়েছে। ত্ৰিমাত্রিক হামলা অব্যাহত যুক্তরাষ্ট্র কেবল আকাশ বা সমুদ্রপথেই সীমাবদ্ধ নেই। কুপারের মতে, সমুদ্রতল থেকে শুরু করে আকাশপথ এবং সাইবারস্পেস—সবগুলো মাধ্যম ব্যবহার করে ইরানের ওপর নিরবচ্ছিন্ন হামলা চালানো হচ্ছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় ওই অঞ্চলে আরও সামরিক সহায়তা পাঠানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে পেন্টাগন।
আধুনিক সমরাস্ত্রের লড়াইয়ে এক নতুন ও উদ্বেগজনক সমীকরণ তৈরি করেছে ইরানের তৈরি ‘শাহেদ-১৩৬’ ড্রোন। মাত্র ৩৫ হাজার ডলার মূল্যের এই সস্তা ড্রোন ঠেকাতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে খরচ করতে হচ্ছে লাখ লাখ, এমনকি কোটি ডলারের ব্যয়বহুল ক্ষেপণাস্ত্র। এই অসম লড়াইয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মজুত দ্রুত ফুরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধে আতঙ্ক ছড়ানোর পর এখন মধ্যপ্রাচ্যের রণাঙ্গনে ডেল্টা-উইং ‘শাহেদ-১৩৬’ ড্রোন মোতায়েন করেছে তেহরান। মাত্র ৩.৫ মিটার দীর্ঘ এবং ৫০ কেজি বিস্ফোরক বহনে সক্ষম এই ড্রোনটির উৎপাদন খরচ যেখানে মাত্র ৩৫ হাজার ডলার, সেখানে এটি ধ্বংস করতে ব্যবহৃত একেকটি ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের পেছনে ব্যয় হচ্ছে ৫ লাখ থেকে ৪০ লাখ ডলার পর্যন্ত। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি কার্যত একটি অর্থনৈতিক যুদ্ধের রূপ নিয়েছে। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর ওপর শুরু হওয়া ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র অংশ হিসেবে গত ৪৮ ঘণ্টায় বাহরাইন, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে ব্যাপক ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, তেহরান প্রতিদিন গড়ে ২ হাজার ৫০০টির বেশি ড্রোন ছুড়ে প্রতিপক্ষের রাডার ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করছে। ইরানের হাতে বর্তমানে প্রায় ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ ড্রোনের বিশাল মজুত রয়েছে এবং প্রতি মাসে তারা আরও ৫০০টি ড্রোন তৈরি করতে সক্ষম। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক ‘থাড’ (THAAD) প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রতিটি ইন্টারসেপ্টরের দাম প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার। এসব ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে সময় লাগে তিন থেকে আট বছর। স্টিমসন সেন্টারের সিনিয়র ফেলো কেলি গ্রিকো সতর্ক করে বলেছেন, "আমরা যে হারে এগুলো ব্যবহার করছি, সে হারে তৈরি করতে পারছি না।" একটি লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে একাধিক ইন্টারসেপ্টর ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা পশ্চিমা সামরিক শক্তিকে এক দীর্ঘমেয়াদি সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। বিকল্প হিসেবে ইসরাইল ‘আইরন বিম’ লেজার প্রযুক্তির কথা ভাবলেও তা এখনো পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়নি। ফলে ড্রোনের এই বিশাল ঝাঁক মোকাবিলায় পেন্টাগন এখন চরম অস্থিরতায় দিন কাটাচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
We use cookies to improve your experience, deliver personalized content and ads, and analyze our traffic. By continuing to browse our site, you agree to our use of cookies. Cookie Policy