সৌদি আরবের অন্যতম বৃহৎ জ্বালানি কেন্দ্র আরামকো তেল শোধনাগারে ভয়াবহ ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। সোমবার ভোরে পরিচালিত এই হামলায় ইরানের তৈরি ‘শাহেদ-১৩৬’ ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো। হামলার পরপরই নিরাপত্তার স্বার্থে আরামকো পরিচালিত এই শোধনাগারটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলার ফলে স্থাপনাটিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলেও তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
রাস তানুরা শোধনাগারটি সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত এবং এটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র। প্রতিদিন ৫ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেলেরও বেশি অপরিশোধিত তেল শোধন করার সক্ষমতা রয়েছে এই বিশাল স্থাপনাটির। এর সংলগ্ন রপ্তানি টার্মিনালটি থেকে প্রতিদিন কয়েক মিলিয়ন ব্যারেল তেল বিশ্ববাজারে সরবরাহ করা হয়। বর্তমানে এই প্ল্যান্টের শোধন ইউনিট, বিশাল সংরক্ষণ ট্যাংক এবং পাইপলাইন নেটওয়ার্কের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে কাজ করছেন আরামকোর প্রকৌশলীরা। বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সংবেদনশীল এই স্থানে এমন হামলা আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এশিয়া, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের তেল সরবরাহে রাস তানুরার ভূমিকা অপরিসীম। এই শোধনাগারে যেকোনো ধরনের দীর্ঘমেয়াদী অচলাবস্থা আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম একলাফে বাড়িয়ে দিতে পারে। ইতিমধ্যেই হামলার খবরে অপরিশোধিত তেলের বৈশ্বিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সৌদি আরব তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
সৌদি আরবের অন্যতম বৃহৎ জ্বালানি কেন্দ্র আরামকো তেল শোধনাগারে ভয়াবহ ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। সোমবার ভোরে পরিচালিত এই হামলায় ইরানের তৈরি ‘শাহেদ-১৩৬’ ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো। হামলার পরপরই নিরাপত্তার স্বার্থে আরামকো পরিচালিত এই শোধনাগারটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলার ফলে স্থাপনাটিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলেও তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। রাস তানুরা শোধনাগারটি সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত এবং এটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র। প্রতিদিন ৫ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেলেরও বেশি অপরিশোধিত তেল শোধন করার সক্ষমতা রয়েছে এই বিশাল স্থাপনাটির। এর সংলগ্ন রপ্তানি টার্মিনালটি থেকে প্রতিদিন কয়েক মিলিয়ন ব্যারেল তেল বিশ্ববাজারে সরবরাহ করা হয়। বর্তমানে এই প্ল্যান্টের শোধন ইউনিট, বিশাল সংরক্ষণ ট্যাংক এবং পাইপলাইন নেটওয়ার্কের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে কাজ করছেন আরামকোর প্রকৌশলীরা। বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সংবেদনশীল এই স্থানে এমন হামলা আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এশিয়া, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের তেল সরবরাহে রাস তানুরার ভূমিকা অপরিসীম। এই শোধনাগারে যেকোনো ধরনের দীর্ঘমেয়াদী অচলাবস্থা আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম একলাফে বাড়িয়ে দিতে পারে। ইতিমধ্যেই হামলার খবরে অপরিশোধিত তেলের বৈশ্বিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সৌদি আরব তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৌদি আরব ৪০টি দেশ থেকে মুরগি ও ডিম আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। একই সঙ্গে আরও ১৬টি দেশের নির্দিষ্ট অঞ্চল থেকে আংশিক আমদানি সীমিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সৌদি ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অথরিটি। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) গালফ নিউজ–এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈশ্বিক রোগ পরিস্থিতি ও হালনাগাদ এপিডেমিওলজিক্যাল তথ্যের ভিত্তিতে এই তালিকা নিয়মিত পর্যালোচনা করা হবে। কিছু দেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা ২০০৪ সাল থেকে বলবৎ রয়েছে, আবার কিছু দেশ ঝুঁকি মূল্যায়ন ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিবেদনের আলোকে পরে যুক্ত হয়েছে। উচ্চমাত্রার এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা বা বার্ড ফ্লুর প্রাদুর্ভাবই এ সিদ্ধান্তের প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে আফগানিস্তান, আজারবাইজান, জার্মানি, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, বুলগেরিয়া, বাংলাদেশ, তাইওয়ান, জিবুতি, দক্ষিণ আফ্রিকা, চীন, ইরাক, ঘানা, ফিলিস্তিন, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, কাজাখস্তান, ক্যামেরুন, দক্ষিণ কোরিয়া, উত্তর কোরিয়া, লাওস, লিবিয়া, মিয়ানমার, যুক্তরাজ্য, মিসর, মেক্সিকো, মঙ্গোলিয়া, নেপাল, নাইজার, নাইজেরিয়া, ভারত, হংকং, জাপান, বুরকিনা ফাসো, সুদান, সার্বিয়া, স্লোভেনিয়া, কোট দিভোয়ার ও মন্টেনিগ্রো। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, বেলজিয়াম, ভুটান, পোল্যান্ড, টোগো, ডেনমার্ক, রোমানিয়া, জিম্বাবুয়ে, ফ্রান্স, ফিলিপাইনস, কানাডা, মালয়েশিয়া, অস্ট্রিয়া ও গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোর নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চল থেকে আংশিক আমদানিতে বিধিনিষেধ বহাল থাকবে। তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নির্ধারিত স্বাস্থ্যমান পূরণ সাপেক্ষে তাপপ্রক্রিয়াজাত (হিট-ট্রিটেড) মুরগির মাংস ও সংশ্লিষ্ট পণ্যের ক্ষেত্রে এই সাময়িক নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না। সেক্ষেত্রে সরকারি প্রত্যয়নপত্র থাকতে হবে, যাতে নিশ্চিত করা যায় যে প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা ও নিউক্যাসল রোগের ভাইরাস সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়েছে এবং পণ্য অনুমোদিত স্থাপনা থেকে রপ্তানি করা হয়েছে।
বরিশালে বোরো মৌসুমে সরকার নির্ধারিত দামে সার না পাওয়ার অভিযোগ করছেন কৃষকেরা। এতে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই বোরো চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন। সেচ, কীটনাশক ও শ্রমিক খরচ মিলিয়ে লাভের সম্ভাবনা কমে যাওয়ায় কেউ কেউ আবাদ কমিয়েছেন, আবার কেউ চাষই বন্ধ রেখেছেন। রোববার জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে। উজিরপুর উপজেলার জল্লা ইউনিয়নের চিনিবাড়ী গ্রামের কৃষক মো. সেলিম এ বছর ২৫ একর জমিতে বোরো চাষ করেছেন। তিনি জানান, খরচের তুলনায় লাভ কম হওয়ায় তাঁর এলাকার অনেক কৃষক আবাদ কমিয়েছেন। সেচ, সার ও ওষুধের বাড়তি দামের কারণে খরচ সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। কৃষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, বোরো মৌসুমে ইউরিয়া ও ডিএপি (ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট) সারের চাহিদা বেশি থাকে। এসব সার সংগ্রহ করতে হয় ডিলার বা বাজারের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে। বড় আকারে চাষ করা কয়েকজন কৃষক জানান, ৫০ কেজির এক বস্তা ইউরিয়া কিনতে হচ্ছে ১ হাজার ৪৫০ থেকে ১ হাজার ৪৬০ টাকায়। একই ওজনের ডিএপি সার কিনতে হচ্ছে প্রায় ১ হাজার ২৫০ টাকায়। এতে প্রতি কেজি ইউরিয়ার দাম দাঁড়াচ্ছে প্রায় ২৯ টাকা এবং ডিএপির ২৫ টাকা। অথচ সরকার ইউরিয়ার মূল্য কেজিপ্রতি ২৭ টাকা এবং ডিএপির ২১ টাকা নির্ধারণ করেছে। স্থানীয় বাজার থেকে কিনলে দাম আরও বেশি পড়ছে বলে অভিযোগ। আগৈলঝাড়া উপজেলার গৈলা ও উজিরপুরের ধামুরা এলাকায় প্রায় ২৫ একর জমিতে বোরো আবাদ করেছেন কৃষক সিরাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, সার, সেচ, কীটনাশক ও শ্রমিক মজুরি যোগ করলে লাভের মুখ দেখা কঠিন। দীর্ঘদিন ধরে কৃষিকাজ করছেন বলেই এখনো চাষ ছাড়তে পারছেন না। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায় ২ লাখ ৫ হাজার ৩৮৮ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে আবাদ হয়েছে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৩৭৮ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে বরিশাল জেলায় চাষ হয়েছে ৬২ হাজার ২৫ হেক্টর জমিতে। সরেজমিনে দেখা যায়, আগৈলঝাড়া ও উজিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় চারা রোপণ প্রায় শেষ। কোথাও কোথাও এখনো রোপণের কাজ চলছে। কৃষকেরা ব্যস্ত সময় পার করলেও লাভ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। বরিশাল সদরের করমজা এলাকার কৃষক গিয়াস উদ্দিন সাত একর জমিতে বোরো চাষ করেছেন। তাঁর হিসাব অনুযায়ী, প্রতি একরে প্রায় ৩০ হাজার টাকা ব্যয় হবে। কিন্তু সেই পরিমাণ ধান উঠবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, পাম্প থেকে সরাসরি ডিজেল না পেয়ে বাইরে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। কখনো মাপেও কম দেওয়া হয়। সারের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা—ডিলাররা সরবরাহ সংকটের কথা জানিয়ে বেশি দাম নিচ্ছেন। পাশাপাশি কীটনাশকের দাম গত কয়েক বছরে প্রায় দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। অন্যদিকে, করমজা এলাকার কৃষক আবদুল বারেক জানান, তিনি বোরো চাষের পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছেন। পরিবারের প্রয়োজন মেটানোর মতোই চাষ করছেন। তাঁর মতে, শ্রমিক মজুরি ও উপকরণের দাম বাড়লেও ফলন তুলনামূলক কম। ডিএপি ও ইউরিয়ার বস্তা সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ২০০ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। এ বিষয়ে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) বরিশাল অঞ্চলের যুগ্ম পরিচালক (সার ও বীজ) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, দেশে সারের কোনো ঘাটতি নেই। সরকার নির্ধারিত দামে ইউরিয়া ও ডিএপি সরবরাহ করা হচ্ছে। অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগের বিষয়ে তিনি কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের সংশ্লিষ্টতার কথা জানান। কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের বরিশাল বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম সিকদার বলেন, অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। সত্যতা মিললে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাফি সরদার পড়াশোনার পাশাপাশি বাবার কাজে সহায়তা করে। সম্প্রতি সার কিনতে গিয়ে বাড়তি দাম দিতে হয়েছে বলে জানায় সে। নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি টাকা চাওয়ায় বাড়ি থেকে অতিরিক্ত অর্থ এনে সার কিনতে হয়েছে।