ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত মাহেন্দ্রক্ষণের আগে লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনের নির্বাচনী পরিবেশ এখন চরম উত্তপ্ত। ভোট কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে একে অপরের বিরুদ্ধে নগদ অর্থ বিতরণ এবং ঘর নির্মাণের প্রলোভন দেখানোর মতো গুরুতর অভিযোগ তুলেছে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছে উভয় পক্ষই।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে লক্ষ্মীপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও জোট নেতা রেজাউল করিম সরাসরি অভিযোগ করেন যে, বিএনপি আচরণবিধি তোয়াক্কা না করে ভোটারদের মাঝে নগদ টাকা বিলোচ্ছে। তিনি দাবি করেন, পৌরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে সাবেক এক আওয়ামী লীগ নেতার সহায়তায় যুবদল কর্মীরা ভোট কিনতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। এছাড়া প্রশিক্ষণ ছাড়াই ১১ জন প্রিসাইডিং অফিসারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে তিনি নির্বাচনে কারচুপির আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
পাল্টা অভিযোগে বিএনপির প্রার্থী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির প্রধান নির্বাচনী সমন্বয়ক ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী হ্যাপি জানান, জামায়াতের নেতাকর্মীরা দিনের বেলায় শান্ত থাকলেও রাতের অন্ধকারে বাড়ি বাড়ি গিয়ে টাকা বিলোচ্ছেন। এমনকি ভোট দিলে ঘর বানিয়ে দেওয়ার মতো অবাস্তব প্রলোভন দেখাচ্ছেন তারা। তিনি দাবি করেন, স্থানীয় জনতা এ ধরনের অনৈতিক কাজে লিপ্ত একজনকে হাতেনাতে ধরে সতর্কও করে দিয়েছে।
এদিকে স্থানীয় সূত্র এবং কয়েকজন ইউপি সদস্যের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার থেকেই পুরো জেলায় টাকার ছড়াছড়ি চলছে। ভোটারদের মন জয়ে দুই পক্ষই পর্দার আড়ালে বড় অংকের অর্থ লেনদেন করছে বলে সাধারণ মানুষের মুখে মুখে চাউর হয়েছে।
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা জানিয়েছেন, "সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অভিযোগগুলো আমাদের নজরে এসেছে। যদিও এখনো কোনো পক্ষই লিখিত অভিযোগ দেয়নি, তবুও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিভিন্ন স্থানে অভিযান শুরু করেছে।"
অন্যদিকে, আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে জামায়াত প্রার্থী রেজাউল করিমকে এরমধ্যেই নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কড়া সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। ইসি স্পষ্ট জানিয়েছে, পুনরায় বিধি ভঙ্গ করলে তাঁর প্রার্থিতা বাতিল হতে পারে। লক্ষ্মীপুরের এই ‘ভোট যুদ্ধের’ শেষ হাসি কে হাসবে, তা জানতে এখন ১২ ফেব্রুয়ারির ব্যালট বিপ্লবের অপেক্ষায় পুরো দেশ।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা এবং জাতিসংঘের সাবেক অস্ত্র পরিদর্শক, ইরান-মার্কিন আলোচনার বিশ্লেষণ করতে গিয়ে জোর দিয়ে বলেছেন যে ইরানের চেয়ে ট্রাম্পেরই এই আলোচনার বেশি প্রয়োজন। পার্সটুডে- মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা এবং জাতিসংঘের সাবেক অস্ত্র পরিদর্শক, ইরান-মার্কিন আলোচনার বিশ্লেষণ করতে গিয়ে জোর দিয়ে বলেছেন যে ইরানের চেয়ে ট্রাম্পেরই এই আলোচনার বেশি প্রয়োজন। মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা স্কট রিটার সতর্ক করে বলেছেন যে পশ্চিমারা সর্বদা তার গুপ্তচর সংস্থাগুলির মাধ্যমে ইরানের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ভিত্তি ধ্বংস করতে চাইছে এবং অপর্যাপ্তভাবে নিয়ন্ত্রিত তথ্য-যোগাযোগ রুট ব্যবহার করে কিছু ইরানিকে তাদের এজেন্ট নিয়োগ করেছে। ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের জন্য একটি পছন্দসই আক্রমণাত্মক হাতিয়ার নয় পার্সটুডে অনুসারে, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরিসর সীমিত করার বিষয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের বক্তব্যের কথা উল্লেখ করে রিটার ব্যাখ্যা করেছেন যে এই শর্তটি বাস্তবে "নিরস্ত্রীকরণ" এবং ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের কাছ থেকে "কৌশলগত আত্মহত্যার" অনুরোধের সমতুল্য। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে ক্ষেপণাস্ত্র শুধুমাত্র ইরানের জন্য একটি কাঙ্ক্ষিত আক্রমণাত্মক হাতিয়ার নয়, বরং প্রতিরোধ ও বেঁচে থাকার মেরুদণ্ড এবং এই স্তম্ভটি অপসারণকারী যেকোনো চেষ্টো ইরানকে অরক্ষিত করে তুলবে। তিনি যুক্তি দেন যে ইরান যদি তার ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা এতটাই কমিয়ে দেয় যে তারা আর ইসরায়েলে আঘাত করতে পারবে না, তাহলে ইসরায়েল প্রতিশোধের ভয় ছাড়াই ইরানে আক্রমণ করবে। ইরানের সাথে যুদ্ধ নীতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অক্ষমতা আমেরিকান বিশ্লেষক স্পষ্ট করে বলেন যে ইরানের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ এড়ানোর মূল কারণ কৌশলগত অক্ষমতা। তিনি বলেন, যেকোনও সামরিক আক্রমণ ইরানকে এমন প্রতিক্রিয়ার দিকে ঠেলে দেবে যা একই সাথে মার্কিন বাহিনী এবং স্বার্থের জন্য গুরুতর ক্ষতি বয়ে আনতে পারে। রিটার জোর দিয়ে বলেন যে এই ধরনের পরিবেশে ইরানের সাথে যুদ্ধ কেবল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কৌশলগত সুবিধাতো আনবেই না বরং ট্রাম্পের জন্য একটি অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিপর্যয়ও হতে পারে। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কেবল ইসরায়েলের স্বার্থ রক্ষার জন্য। আলোচনা একটি ফাঁদ সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা পরামর্শ দেন যে ইরানের উচিত দুর্বলতা থেকে নয়, বরং ওয়াশিংটনে রাজনৈতিক অজুহাতের পথ বন্ধ করার জন্য আলোচনায় প্রবেশ করা। তবে, রিটার সতর্ক করে দেন যে ইরানি কর্মকর্তাদের সর্বদা ধরে নেওয়া উচিত যে আলোচনা "একটি ফাঁদ"। কূটনীতির মাধ্যম বজায় রেখে, ইরানের উচিত তার সামরিক ও গোয়েন্দা যন্ত্রপাতিকে পূর্ণ সতর্ক রাখা । স্কট রিটার সাম্প্রতিক নৌ সংঘর্ষকে আমেরিকার শ্রেষ্ঠত্ব বা আগ্রাসনের লক্ষণ হিসেবে নয়, বরং ইরানের প্রবেশাধিকার-বিরোধী এবং আঞ্চলিক-বিরোধী ক্ষমতার প্রতি ওয়াশিংটনের কৌশলগত ভয়ের প্রতিফলন। রিটার জোর দিয়ে বলেন যে ইরানের নতুন প্রজন্মের নির্ভুল, কৌশলগত এবং হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের সামনে মার্কিন বিমানবাহী রণতরীগুলি "অপ্রচলিত" সিস্টেমে পরিণত হয়েছে। প্রধান হুমকি: ভেতর থেকে পতনের জন্য মানসিক যুদ্ধ অবশেষে, স্কট রিটার "মানসিক যুদ্ধ" নামক একটি ধারণার কথা উল্লেখ করেছেন; এমন একটি যুদ্ধ যেখানে, তিনি যুক্তি দেন, সরাসরি সামরিক সংঘাতের চেয়ে অনেক বেশি বিপজ্জনক, কারণ এর লক্ষ্য হল একটি গুলি না চালিয়েও একটি সমাজকে ভেতর থেকে ধ্বংস করা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত মাহেন্দ্রক্ষণের আগে লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনের নির্বাচনী পরিবেশ এখন চরম উত্তপ্ত। ভোট কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে একে অপরের বিরুদ্ধে নগদ অর্থ বিতরণ এবং ঘর নির্মাণের প্রলোভন দেখানোর মতো গুরুতর অভিযোগ তুলেছে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছে উভয় পক্ষই। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে লক্ষ্মীপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও জোট নেতা রেজাউল করিম সরাসরি অভিযোগ করেন যে, বিএনপি আচরণবিধি তোয়াক্কা না করে ভোটারদের মাঝে নগদ টাকা বিলোচ্ছে। তিনি দাবি করেন, পৌরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে সাবেক এক আওয়ামী লীগ নেতার সহায়তায় যুবদল কর্মীরা ভোট কিনতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। এছাড়া প্রশিক্ষণ ছাড়াই ১১ জন প্রিসাইডিং অফিসারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে তিনি নির্বাচনে কারচুপির আশঙ্কা প্রকাশ করেন। পাল্টা অভিযোগে বিএনপির প্রার্থী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির প্রধান নির্বাচনী সমন্বয়ক ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী হ্যাপি জানান, জামায়াতের নেতাকর্মীরা দিনের বেলায় শান্ত থাকলেও রাতের অন্ধকারে বাড়ি বাড়ি গিয়ে টাকা বিলোচ্ছেন। এমনকি ভোট দিলে ঘর বানিয়ে দেওয়ার মতো অবাস্তব প্রলোভন দেখাচ্ছেন তারা। তিনি দাবি করেন, স্থানীয় জনতা এ ধরনের অনৈতিক কাজে লিপ্ত একজনকে হাতেনাতে ধরে সতর্কও করে দিয়েছে। এদিকে স্থানীয় সূত্র এবং কয়েকজন ইউপি সদস্যের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার থেকেই পুরো জেলায় টাকার ছড়াছড়ি চলছে। ভোটারদের মন জয়ে দুই পক্ষই পর্দার আড়ালে বড় অংকের অর্থ লেনদেন করছে বলে সাধারণ মানুষের মুখে মুখে চাউর হয়েছে। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা জানিয়েছেন, "সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অভিযোগগুলো আমাদের নজরে এসেছে। যদিও এখনো কোনো পক্ষই লিখিত অভিযোগ দেয়নি, তবুও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিভিন্ন স্থানে অভিযান শুরু করেছে।" অন্যদিকে, আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে জামায়াত প্রার্থী রেজাউল করিমকে এরমধ্যেই নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কড়া সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। ইসি স্পষ্ট জানিয়েছে, পুনরায় বিধি ভঙ্গ করলে তাঁর প্রার্থিতা বাতিল হতে পারে। লক্ষ্মীপুরের এই ‘ভোট যুদ্ধের’ শেষ হাসি কে হাসবে, তা জানতে এখন ১২ ফেব্রুয়ারির ব্যালট বিপ্লবের অপেক্ষায় পুরো দেশ।
কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীকে সশরীরে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি। ভোটারদের হুমকি দেয়ার অভিযোগে বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বেলা আড়াইটার মধ্যে তাকে লিখিত বক্তব্যসহ উপস্থিত হতে বলা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে কুমিল্লা-৪ আসনের নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি থেকে জ্যেষ্ঠ সিভিল জজ তাফরিমা তাবাসুম এ নির্দেশ প্রদান করেন। দেবীদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মঞ্জুরুল মুন্সীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেয়ার প্রেক্ষিতে এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত, মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর একটি বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে বিএনপির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তাকে দল থেকে বহিষ্কারের কথা জানানো হয়। কুমিল্লা-৪ আসনে বর্তমানে চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন- হাসনাত আবদুল্লাহ (শাপলা কলি)- জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মনোনীত ও ১১ দলীয় জোট প্রার্থী। মো. জসিম উদ্দিন (ট্রাক)- গণঅধিকার পরিষদ ও বিএনপি জোট প্রার্থী। ইরফানুল হক সরকার (আপেল)- ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ। মো. আব্দুল করিম (হাতপাখা)- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছিলেন সাবেক চারবারের সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী। রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তরে যাচাই-বাছাইয়ে তার মনোনয়ন বৈধ হয়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে বিএনপির প্রার্থী ঋণখেলাপি হওয়ার তথ্য গোপন করে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন- নির্বাচন কমিশনে এমন অভিযোগে আপিল করেন হাসনাত আবদুল্লাহ। এতে শুনানিতে প্রার্থিতা হারান মুন্সী। এরপর হাইকোর্ট রিট এবং সর্বশেষ প্রার্থিতা ফিরে পেতে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী লিভ টু আপিল (আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন) করলেও সেটিও ১ ফেব্রুয়ারি খারিজ করে দেন আপিল বিভাগ। এতে আর নির্বাচন করতে পারছেন না মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী। বর্তমানে বিএনপি জোটের প্রার্থী জসিম উদ্দিনের (ট্রাক প্রতীক) পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলমের সঙ্গে কমনওয়েলথ অবজারভার গ্রুপের একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে। মঙ্গলবার রাজধানীর পুলিশ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত সাক্ষাৎটি নেতৃত্ব দেন কমনওয়েলথ অবজারভার গ্রুপের প্রধান এইচ ই নানা আকুফো-আডো। বৈঠকে নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা ইস্যুসহ বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নির্বাচনের সময় কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষকদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রশ্নে আইজিপি বাহারুল আলম সার্বিক প্রস্তুতির তথ্য প্রদান করেন। তিনি ঝুঁকিভিত্তিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা, সাইবার মনিটরিং এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষা সংক্রান্ত পদক্ষেপের বিস্তারিত তুলে ধরেন। আইজিপি নিশ্চিত করেন যে, বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী সব ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রতিনিধিদল জানিয়েছে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে তারা ২৫ জন পর্যবেক্ষক হিসেবে অংশ নেবেন এবং ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হচ্ছে কি না তা পর্যবেক্ষণ করবেন।