ঈদের আগে গ্রাহকদের টাকার চাহিদা মেটাতে এবং চরম আর্থিক সংকট মোকাবিলায় বেসরকারি খাতের ন্যাশনাল ব্যাংককে ১,০০০ কোটি টাকার জরুরি তারল্য সহায়তা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ১১.৫ শতাংশ উচ্চ সুদে ৯০ দিনের জন্য এই তহবিল প্রদান করা হয়েছে।
মূলত আমানত ও ঋণ আদায় আশঙ্কাজনক হারে কমে যাওয়ায় ব্যাংকটি গ্রাহকদের টাকা ফেরত দিতে হিমশিম খাচ্ছিল। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, ‘ডিমান্ড প্রমিসরি’ নোটের বিপরীতে এই বিশেষ অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনায় ধুঁকতে থাকা ন্যাশনাল ব্যাংকটি গত কয়েক বছরে একাধিকবার মালিকানা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে। সিকদার গ্রুপ থেকে শুরু করে এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণ এবং সর্বশেষ পটপরিবর্তনের পর বর্তমান পর্ষদ দায়িত্ব নিলেও তারল্য পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আর্থিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় ব্যাংক টিকিয়ে রাখা জরুরি হলেও, এভাবে নতুন টাকা বাজারে ছাড়লে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়তে পারে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক যেখানে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সংকোচনশীল নীতি অনুসরণ করছে, সেখানে এই বিপুল অর্থ জোগান দেওয়াকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন অর্থনীতিবিদরা।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
বাজারে ছেঁড়া-ফাটা ও ময়লাযুক্ত নোটের আধিক্য দূর করতে এবং লেনদেন স্বাভাবিক রাখতে দেশের সকল তফসিলি ব্যাংককে কড়া নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ১২ এপ্রিল ২০২৬ (রোববার) জারি করা এক পরিপত্রে জানানো হয়েছে, জনসাধারণের কাছ থেকে এই ধরণের নোট গ্রহণ এবং তার বিপরীতে বিনিময় মূল্য প্রদানে কোনো ব্যাংক অনীহা প্রকাশ করলে সংশ্লিষ্ট শাখার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘পরিচ্ছন্ন নোট নীতিমালা’ (Clean Note Policy) বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। বিশেষ করে ৫, ১০, ২০ এবং ৫০ টাকার মতো ছোট মূল্যমানের নোটগুলো বিশেষ কাউন্টারের মাধ্যমে গ্রহণ করে গ্রাহককে ফ্রেশ বা পুনঃপ্রচলনযোগ্য নোট প্রদান করতে বলা হয়েছে। পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়, ইতিপূর্বে এ বিষয়ে নির্দেশনা থাকলেও বাজারে এখনো ত্রুটিপূর্ণ নোটের আধিক্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারার ক্ষমতাবলে জারিকৃত এই নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছেন কারেন্সী ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্টের পরিচালক কে এম ইব্রাহিম। জনসাধারণের ভোগান্তি কমাতে এবং স্বচ্ছ লেনদেন নিশ্চিত করতে এই বিষয়টি ‘অতীব গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে গণ্য করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জলপথ মাসব্যাপী বন্ধ থাকায় এমন সতর্কতা জারি করা হয়েছে যে, পৃথিবী হয়ত ১৯৭০-এর দশকের তেল সংকটের চেয়েও ভয়াবহ সমস্যার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। নৌপরিবহন বিশেষজ্ঞ এবং মায়ের্সকের সাবেক পরিচালক লার্স জেনসেন বিবিসি-কে বলেছেন, ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাব ১৯৭০-এর দশকে দেখা অর্থনৈতিক বিশৃঙ্খলার চেয়ে ‘যথেষ্ট বেশি’ হতে পারে তার এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা আইইএর পরিচালক ফাতিহ বিরোলের এ মাসের শুরুর দিকের এক সতর্কবার্তারই প্রতিফলন। বিরোল বলেছিলেন, বিশ্ব বর্তমানে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা হুমকির’ সম্মুখীন। তিনি বলেন, ‘এটি ১৯৭০-এর দশকের তেলের দামের উর্ধগতির ধাক্কার চেয়েও অনেক বড়। এমনকি ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণের পর আমরা যে প্রাকৃতিক গ্যাসের দামের ধাক্কা অনুভব করেছি, এটি তার চেয়েও বড়।’ তবে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়া বৈশ্বিক সরবরাহে বিঘ্ন ঘটালেও, অনেক বিশ্লেষক মনে করেন আজকের বিশ্ব আগের চেয়ে অনেক বেশি সহনশীল। ১৯৭০ এর দশকের তেল সংকটে কী হয়েছিল? জ্বালানি খাতের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ক্রিস্টল এনার্জির প্রধান নির্বাহী এবং অর্থনীতিবিদ ড. ক্যারল নাখলে বলেন, ১৯৭০-এর দশকের তেল সংকট আজকের পরিস্থিতি থেকে ‘মৌলিকভাবে ভিন্ন’ ছিল। ‘কারণ, সে সময়কার প্রথম তেলের কারণে সৃষ্ট অচলাবস্থা ছিল একটি সুপরিকল্পিত নীতিগত সিদ্ধান্তের ফল।’ ১৯৭৩ সালের অক্টোবরে, ইয়োম কিপুর যুদ্ধ, যেটি ১৯৭৩ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধ নামেও পরিচিত, সে সময় ইসরায়েলকে সমর্থন করার কারণে আরব তেল উৎপাদকেরা যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন একদল দেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। সেসময় ওই নীতির পাশাপাশি পরিকল্পিতভাবে তেল উৎপাদনও কমিয়ে দেওয়া হয়েছিল। নাখলে বলেন, ‘এর ফলে মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে তেলের দাম প্রায় চার গুণ বেড়ে গিয়েছিল।’ এর ফলে প্রধান তেল ব্যবহারকারী দেশগুলোতে জ্বালানি রেশনিং শুরু হয়। আর তার ফলে একটি ‘বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও আর্থিক সংকট’ তৈরি হয়েছিল, যার প্রভাব ছিল সুদূরপ্রসারী, বলছেন নাখলে। কুইন্স ইউনিভার্সিটি বেলফাস্টের গবেষক ড. টিয়ার্নান হেনি বলেন, তেলের চড়া দাম সব ক্ষেত্রেই মুদ্রাস্ফীতি বাড়িয়ে দিয়েছিল। ‘এ অর্থ হলো ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের খরচ কমিয়ে দেয় এবং বেকারত্ব চরমভাবে বৃদ্ধি পায়।’ তিনি বলেন, ‘এর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল অর্থনীতিতে, যা অনেক দেশের সামাজিক কাঠামোকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছিল। ব্যাপক ধর্মঘট, বিক্ষাভে এবং দেশে দেশে দারিদ্র্য বৃদ্ধি পেয়েছিল, অনেক পরিবারই তাদের জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছিল।’ যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্য উভয় দেশেই ১৯৭৩ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত মন্দা চলেছিল। ওই সংকট ১৯৭৪ সালে টেড হিথের কনজারভেটিভ পার্টি নেতৃাত্বাধীর সরকারের পতনের পেছনেও ভূমিকা রেখেছিল। বর্তমান তেল সংকটে ঠিক কী হচ্ছে? এক মাস আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে তেহরানের অবরাধে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে তেল, গ্যাস এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্যের চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, কারণ এই দেশগুলো বিশ্বের মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ রপ্তানি করে থাকে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উপসাগরীয় তেলের প্রবাহ পুনরায় সচল করতে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে মিত্র দেশগুলোকে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানানো এবং ইরান যদিএ প্রণালি দিয়ে নিরাপদে জাহাজ চলাচলের অনুমতি না দেয়, তবে দেশটির ওপর আরও কঠোর হামলার হুমকি দেওয়া। তবে, বর্তমানে ভেসপুচি মেরিটাইম নামক পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের পরিচালক জেনসেন বিবিসির ‘টুডে’ প্রোগ্রামকে বলেছেন যে, এক মাস আগে উপসাগরীয় অঞ্চল ছেড়ে আসা তেলের বড় একটি অংশ এখনও বিশ্বের বিভিন্ন শোধনাগারে পৌঁছাচ্ছে, কিন্তু এ প্রবাহ শীঘ্রই বন্ধ হয়ে যাবে। তিনি বলেন, ‘আমরা তেলের যে ঘাটতি দেখছি তা কেবল আরও ঘনীভূত হবে, এমনকি যদি অলৌকিকভাবে আগামীকাল হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হয় তবুও একই অবস্থা থাকবে।’ ‘আমরা জ্বালানি খরচের বিশাল চাপের মুখে পড়ব, যা কেবল এ সংকট চলাকালীন নয়, বরং এটি শেষ হওয়ার পরও ছয় থেকে ১২ মাস পর্যন্ত স্থায়ী হবে।’ বর্তমান সংকট কি ১৯৭০ এর দশকের তেল সংকটের চেয়ে ভয়াবহ হতে পারে? আরব এনার্জি ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নাখলে বলেন, ১৯৭০-এর দশকের তুলনায় বর্তমান তেলের বাজার অনেক বেশি বৈচিত্র্যময়, আর সেই সাথে তেলের সামগ্রিক ব্যবহারের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তার বিশ্বাস, বর্তমান দাম চড়া হলেও আজকের সংকট ততটা তীব্র নয়। তিনি বলেন, ‘যদিও আমরা তেলের সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন দেখছি, এটি সাম্প্রতিক ইতিহাসে সম্ভবত অন্যতম বৃহত্তম। তবুও, বাজার ১৯৭০-এর দশকের তুলনায় অনেক বেশি স্থিতিশীল। বরং এটি এখন আরও বহুমুখী, তেলের ওপর কম নির্ভরশীল এবং আপদকালীন ব্যবস্থা ও বাফার স্টকের মাধ্যমে পরিস্থিতি মোকাবিলায় আরও সুসজ্জিত। ’
যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি পোশাক বাজারে চীনকে পেছনে ফেলে দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। তবে এই অর্জনের মধ্যেও রপ্তানিতে কিছুটা পতন লক্ষ্য করা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের অধীন অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেলস (অটেক্সা) প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি—এই দুই মাসে দেশটি মোট ১ হাজার ১৭৩ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক আমদানি করেছে। যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ কম। এই সময়ে ভিয়েতনাম ২৭০ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করে শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ ১৩৭ কোটি ডলারের রপ্তানি নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে। যদিও গত বছরের একই সময়ে বাংলাদেশের রপ্তানি ছিল ১৫০ কোটি ডলার, ফলে এবার রপ্তানি কমেছে প্রায় সাড়ে ৮ শতাংশ। চীনের ক্ষেত্রে দেখা গেছে বড় ধরনের পতন। চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে দেশটি ১১৭ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে, যেখানে আগের বছর একই সময়ে রপ্তানি ছিল ২৭৭ কোটি ডলার। ফলে তাদের রপ্তানি কমেছে প্রায় ৫৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ। এ ছাড়া ইন্দোনেশিয়া ৮১ কোটি ডলার রপ্তানি করে চতুর্থ এবং ভারত ৭২ কোটি ডলার রপ্তানি করে পঞ্চম স্থানে রয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার রপ্তানি সামান্য বেড়েছে, তবে ভারতের রপ্তানি কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত পাল্টা শুল্ক নীতির প্রভাবেই বৈশ্বিক পোশাক রপ্তানির অবস্থানে এই পরিবর্তন এসেছে। চীনের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপের ফলে অনেক ক্রেতা বিকল্প বাজার হিসেবে বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের দিকে ঝুঁকেছেন। যদিও পরবর্তী সময়ে সেই প্রবণতা পুরোপুরি স্থিতিশীল হয়নি। এদিকে পাল্টা শুল্ক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে সাম্প্রতিক বাণিজ্য সমঝোতার ফলে শুল্কহার কিছুটা কমানো হলেও নতুন করে শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তে বাজারে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।