ইসরাইল-এর প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাৎজ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরান-এর পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে যাকেই নির্বাচিত করা হবে, তাকে হত্যা করা হবে।
বুধবার সামাজিকমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন। এর আগে গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন।
কাৎজ তার পোস্টে লেখেন, ইসরাইলকে ধ্বংস করা, যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য আঞ্চলিক দেশের বিরুদ্ধে হুমকি তৈরি করা এবং ইরানি জনগণের ওপর দমন-পীড়ন চালানোর পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে যে নেতাকেই ইরানি শাসকগোষ্ঠী বেছে নিক না কেন, তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে। তার ভাষায়, ওই ব্যক্তি যেই হোন বা যেখানেই থাকুন না কেন, তাকে খুঁজে বের করা হবে।
তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ও তিনি ইতোমধ্যে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী-কে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া ও পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
ইসরাইল-এর প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাৎজ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরান-এর পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে যাকেই নির্বাচিত করা হবে, তাকে হত্যা করা হবে। বুধবার সামাজিকমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন। এর আগে গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। কাৎজ তার পোস্টে লেখেন, ইসরাইলকে ধ্বংস করা, যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য আঞ্চলিক দেশের বিরুদ্ধে হুমকি তৈরি করা এবং ইরানি জনগণের ওপর দমন-পীড়ন চালানোর পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে যে নেতাকেই ইরানি শাসকগোষ্ঠী বেছে নিক না কেন, তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে। তার ভাষায়, ওই ব্যক্তি যেই হোন বা যেখানেই থাকুন না কেন, তাকে খুঁজে বের করা হবে। তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ও তিনি ইতোমধ্যে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী-কে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া ও পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।
ইউক্রেনের রণক্ষেত্র ছাপিয়ে এবার মধ্যপ্রাচ্যের আকাশেও ত্রাস সৃষ্টি করছে ইরানের তৈরি শক্তিশালী ড্রোন ‘শাহেদ-১৩৬’। ঘাস কাটার যন্ত্রের মতো কর্কশ শব্দের এই ড্রোনগুলো এখন পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত ৪৮ ঘণ্টায় বাহরাইন, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে কয়েক শ ড্রোন আঘাত হানায় পুরো অঞ্চলে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। মূলত যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক মিত্রদের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি ও ভীতি প্রদর্শনের কৌশল হিসেবে তেহরান এই ব্যাপক ড্রোন হামলা চালাচ্ছে বলে ধারণা করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা। শনিবার ইরান ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে প্রতিবেশী দেশগুলোকে লক্ষ্য করে এখন পর্যন্ত এক হাজারের বেশি ড্রোন ছুড়েছে তেহরান। সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের ওপর চালানো ৬৮৯টি ড্রোনের মধ্যে ৬৪৫টি ভূপাতিত করা সম্ভব হলেও ৪৪টি ড্রোন সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। সাড়ে তিন মিটার দীর্ঘ এই ঘাতক ড্রোনগুলো প্রায় ৫০ কেজি বিস্ফোরক বহন করতে সক্ষম, যা একটি বহুতল ভবন ধসিয়ে দিতে না পারলেও বড় ধরনের কাঠামোগত বিপর্যয় ঘটাতে পারে। বাহরাইন থেকে প্রাপ্ত ভিডিওতে দেখা গেছে, একটি ড্রোন সরাসরি একটি বহুতল ভবনে আঘাত হানছে এবং অন্যটি মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম ফ্লিটের সদর দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ রাডার ডোম ধ্বংস করে দিচ্ছে। প্রযুক্তিগতভাবে শাহেদ-১৩৬ ড্রোনগুলো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় অনেক সস্তা এবং তৈরি করা সহজ। রাডার ফাঁকি দেওয়ার জন্য এগুলো অত্যন্ত নিচ দিয়ে প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে পারে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর অধীনস্থ ‘শাহেদ এভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রিজ রিসার্চ সেন্টার’ এই ড্রোনের নকশা প্রণয়ন করেছে। ২০২১ সালে ইসরায়েলি জাহাজ ‘মার্সার স্ট্রিট’-এ হামলার মাধ্যমে প্রথম এই ড্রোনের বিধ্বংসী উপস্থিতি বিশ্ববাসী জানতে পারে। বর্তমানে এই প্রযুক্তি রাশিয়ার হাতেও রয়েছে এবং ইয়েলাবুগা শহরের কারখানায় এটি বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করা হচ্ছে। ইউক্রেন যুদ্ধে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামো ধ্বংস করতে এই ড্রোনগুলো সাধারণত ঝাঁক বেঁধে ব্যবহার করা হলেও পারস্য উপসাগরে এগুলোকে বিচ্ছিন্নভাবে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে দেখা যাচ্ছে। সোমবার সকালে সৌদি আরবের বৃহত্তম শোধনাগার রাস তানুরায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর সেটি বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। যদিও এই নির্দিষ্ট হামলায় শাহেদ ড্রোন ব্যবহৃত হয়েছে কি না তা এখনো নিশ্চিত নয়, তবে ধ্বংসক্ষমতার ধরন দেখে বিশেষজ্ঞরা একে শাহেদ ড্রোনের হামলা বলেই সন্দেহ করছেন। ধীরগতির হওয়া সত্ত্বেও এই ড্রোনগুলো এখন মধ্যপ্রাচ্যের আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার জন্য এক দুর্ভেদ্য ধাঁধায় পরিণত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ধারাবাহিক হামলায় ইরানে এক হাজারের বেশি বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে একটি মানবাধিকার সংস্থা। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক Human Rights Activists News Agency তাদের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া অভিযানে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৯৭ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে ১০ বছরের কম বয়সী ১৮১ জন শিশু রয়েছে। এ ছাড়া আহত হয়েছেন ৫ হাজার ৪০২ জন, যার মধ্যে অন্তত ১০০ শিশু রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ইরানে অন্তত ১০৪টি হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলায় সামরিক ঘাঁটির পাশাপাশি চিকিৎসাকেন্দ্র ও ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকাও লক্ষ্যবস্তু হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আরও হতাহতের তথ্য যাচাই করা হচ্ছে, ফলে প্রাণহানির সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। দক্ষিণ ইরানের একটি স্কুলে হামলায় নিহত শিক্ষার্থী ও কর্মীদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইরানি কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, গত শনিবার Islamic Revolutionary Guard Corps (আইআরজিসি)–এর একটি ঘাঁটির কাছে অবস্থিত ওই স্কুলে বিমান হামলায় ১৬০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে নিহতদের জানাজার ছবি ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এ সংখ্যাগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে BBC News। মার্কিন সামরিক বাহিনী বলেছে, স্কুলে হামলার অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, সংশ্লিষ্ট এলাকায় তাদের কোনো অভিযান পরিচালনার বিষয়ে তারা অবগত নয়।