ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এর হামলার জেরে বৈশ্বিক জ্বালানি ও শেয়ারবাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সরবরাহ ঘাটতির আশঙ্কায় অপরিশোধিত তেলের দাম হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে, একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
সোমবার সকালে এশিয়ার বাজারে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের তেল সূচক ব্রেন্ট ক্রুড এর দাম এক দিনের ব্যবধানে প্রায় ১৩ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। সামগ্রিকভাবে এই সূচক প্রায় ৫ শতাংশ ঊর্ধ্বমুখী ছিল। টোকিও সময় দুপুর পর্যন্ত প্রতি ব্যারেল তেলের দাম দাঁড়ায় ৭৬ দশমিক ৪৮ মার্কিন ডলার। এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় বিনিয়োগকারীরা পর্যাপ্ত তেল সংগ্রহ নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। এতে বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে এবং তার প্রভাব সরাসরি দামে পড়েছে।
এদিকে, এশিয়ার প্রধান শেয়ারবাজারগুলো সপ্তাহের শুরুতেই নিম্নমুখী প্রবণতায় লেনদেন শুরু করে। হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচক প্রায় ২ শতাংশ এবং জাপানের নিক্কেই ২২৫ প্রায় দেড় শতাংশ কমেছে।
মার্কিন বাজারেও নেতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। নিয়মিত লেনদেনের সময়ের বাইরে হওয়া ফিউচার সূচকগুলোতে বড় ধরনের পতন দেখা যায়, যা ওয়াল স্ট্রিটে দুর্বল সূচনার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
ফিউচার লেনদেনে মানদণ্ড সূচক এসঅ্যান্ডপি ৫০০ এবং প্রযুক্তিনির্ভর নাসডাক কম্পোজিট উভয়ই প্রায় শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ কম অবস্থানে ছিল।
বিশ্ববাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি ও শেয়ারবাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এর হামলার জেরে বৈশ্বিক জ্বালানি ও শেয়ারবাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সরবরাহ ঘাটতির আশঙ্কায় অপরিশোধিত তেলের দাম হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে, একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। সোমবার সকালে এশিয়ার বাজারে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের তেল সূচক ব্রেন্ট ক্রুড এর দাম এক দিনের ব্যবধানে প্রায় ১৩ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। সামগ্রিকভাবে এই সূচক প্রায় ৫ শতাংশ ঊর্ধ্বমুখী ছিল। টোকিও সময় দুপুর পর্যন্ত প্রতি ব্যারেল তেলের দাম দাঁড়ায় ৭৬ দশমিক ৪৮ মার্কিন ডলার। এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় বিনিয়োগকারীরা পর্যাপ্ত তেল সংগ্রহ নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। এতে বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে এবং তার প্রভাব সরাসরি দামে পড়েছে। এদিকে, এশিয়ার প্রধান শেয়ারবাজারগুলো সপ্তাহের শুরুতেই নিম্নমুখী প্রবণতায় লেনদেন শুরু করে। হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচক প্রায় ২ শতাংশ এবং জাপানের নিক্কেই ২২৫ প্রায় দেড় শতাংশ কমেছে। মার্কিন বাজারেও নেতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। নিয়মিত লেনদেনের সময়ের বাইরে হওয়া ফিউচার সূচকগুলোতে বড় ধরনের পতন দেখা যায়, যা ওয়াল স্ট্রিটে দুর্বল সূচনার আশঙ্কা তৈরি করেছে। ফিউচার লেনদেনে মানদণ্ড সূচক এসঅ্যান্ডপি ৫০০ এবং প্রযুক্তিনির্ভর নাসডাক কম্পোজিট উভয়ই প্রায় শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ কম অবস্থানে ছিল। বিশ্ববাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি ও শেয়ারবাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর বিতর্কিত ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক আজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়েছে। দেশটির সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগের কিছু শুল্ক আরোপকে অবৈধ ঘোষণা করার পর হোয়াইট হাউস দ্রুত এই নতুন শুল্ক ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্ত নেয়। হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান ‘ব্যালেন্স-অফ-পেমেন্টস’ বা লেনদেন ভারসাম্যজনিত ঘাটতি মোকাবিলার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ১৫০ দিনের জন্য এই শুল্ক কার্যকর থাকবে। কংগ্রেস চাইলে সময়সীমা আরও বাড়াতে পারবে। এর আগে ১৯৭৭ সালের ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্টের আওতায় আরোপিত শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। ফলে শুল্ক বাবদ সংগ্রহ করা প্রায় ১৩০ বিলিয়ন ডলার নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হয়। এ রায়কে ট্রাম্প ‘হাস্যকর, দুর্বল ও চরমভাবে আমেরিকাবিরোধী’ আখ্যা দিলেও আদালতের নির্দেশে পুরনো শুল্ক আদায় বন্ধ করে নতুন এই ১০ শতাংশ শুল্ক আদায় শুরু করেছে মার্কিন কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। ভবিষ্যতে এই শুল্কের হার ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন ট্রাম্প। তবে ইস্পাত ও অটোমোবাইল খাতসহ কিছু নির্দিষ্ট পণ্য এবং ইউএস-মেক্সিকো-কানাডা বাণিজ্য চুক্তির আওতাভুক্ত পণ্যগুলো এই শুল্কের বাইরে থাকতে পারে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, যারা বাণিজ্যে কৌশলী আচরণ করবে, তাদের ওপর আরও কঠোর শুল্ক আরোপ করা হবে। এই একতরফা সিদ্ধান্তে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। যুক্তরাজ্য পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে, আর ইউরোপীয় ইউনিয়ন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত একটি চুক্তির অনুমোদন স্থগিত রেখেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই শুল্ক বিশ্ববাজারে, বিশেষ করে টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাক খাতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যযুদ্ধের আশঙ্কা বাড়াতে পারে।
নির্বাচন-পরবর্তী বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠনের পর ঢাকা-নয়াদিল্লির কূটনৈতিক যোগাযোগ আরও জোরদার হয়েছে। রোববার বিকেলে ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে দিল্লি সফরের আমন্ত্রণপত্র পৌঁছে দেন। সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে হাইকমিশনার জানিয়েছেন, ভারতের সরকার বাংলাদেশের নতুন প্রশাসনের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে প্রস্তুত। বিশেষ করে জনমুখী সহযোগিতা, পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষা এবং একটি গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী অংশীদারত্ব গড়ে তোলা নতুন সরকারের সঙ্গে নয়াদিল্লির প্রধান লক্ষ্য। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বৈঠকে বাংলাদেশের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, দুই দেশের জনগণের কল্যাণে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও অগ্রগামী অংশীদারত্ব গড়ে তোলাই বর্তমান সরকারের উদ্দেশ্য। বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামও উপস্থিত ছিলেন। হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা স্মরণ করিয়ে দেন, নির্বাচনের পরপরই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি টেলিফোনে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের লোকসভার স্পিকার প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিশেষ চিঠি হস্তান্তর করেছেন। ভারতের পক্ষ পুনর্ব্যক্ত করেছে, তারা একটি গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের পাশে থাকতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও সুসংহত করতে নিয়মিত সংলাপ ও সহযোগিতার ওপর জোর দিচ্ছে।