আন্তর্জাতিক

পারমাণবিক বোমার পরীক্ষা চালাল ইরান? ভূমিকম্প নিয়ে আশঙ্কায় উত্তাল বিশ্ব

শাহারিয়া নয়ন মার্চ ৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই ইরানে আঘাত হানা একটি ভূমিকম্পকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে রহস্য ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। ইরানের গেরাশ অঞ্চলে অনুভূত ৪.৩ মাত্রার এই কম্পনটি কি কেবলই প্রাকৃতিক দুর্যোগ, নাকি তেহরানের কোনো গোপন পারমাণবিক পরীক্ষার ফল—তা নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পুরো বিষয়টির ওপর কড়া নজরদারি শুরু করেছে পেন্টাগন ও মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।


ভূমিকম্প নাকি পারমাণবিক পরীক্ষা?
স্থানীয় সময় অনুযায়ী, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় গেরাশ এলাকায় এই মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়। যদিও ইরানি কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে এটি একটি সাধারণ ভূকম্পন এবং এতে বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি, তবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিন্ন এক তত্ত্ব ডালপালা মেলছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইরানের চলমান চরম উত্তেজনার মধ্যে এই ঘটনাকে অনেকেই তেহরানের ‘গোপন শক্তি প্রদর্শন’ হিসেবে দেখছেন।


বিশেষজ্ঞদের মত ও রহস্যের সূত্রপাত:
ভূতাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ বলছেন, ইরানের জাগ্রোস পর্বতমালা অঞ্চলটি প্রাকৃতিকভাবেই ভূমিকম্পপ্রবণ। ফলে ৪.৩ মাত্রার এই কম্পন স্বাভাবিক টেকটোনিক কর্মকাণ্ডের অংশ হতে পারে। তবে সন্দেহ বাড়ছে অন্য একটি কারণে। ঠিক একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের নেভাদায় অত্যন্ত গোপনীয় ‘টোনোপাহ টেস্ট রেঞ্জ’ (Area 51-এর নিকটবর্তী) এলাকায় শতাধিক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ভূকম্পন রেকর্ড করা হয়েছে। দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশের স্পর্শকাতর এলাকায় কাছাকাছি সময়ে এই ভূকম্পন পারমাণবিক পরীক্ষার জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে।


মার্কিন প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া:
ওয়াশিংটন এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের একটি সূত্র জানিয়েছে, ইরান কোনোভাবে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে কি না, তা যাচাই করতে স্যাটেলাইট ইমেজ এবং সিসমিক ডেটা বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা পরিস্থিতি অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।


যুদ্ধকালীন প্রেক্ষাপট:
উল্লেখ্য যে, সাম্প্রতিক সময়ে সিরিয়া ও লেবাননে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দফায় দফায় হামলার পর তেহরান বারবার প্রতিশোধের হুমকি দিয়ে আসছিল। এর মাঝেই ফাত্তাহ হাইপারসনিক মিসাইল প্রদর্শন এবং এখন এই রহস্যময় ভূমিকম্প মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।


যদিও এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই পারমাণবিক বিস্ফোরণের আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ দেয়নি, তবে গেরাশের এই কম্পন যে সাধারণ ভূমিকম্পের চেয়ে বেশি কিছু হতে পারে—সেই আশঙ্কায় কাঁপছে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল।

জনপ্রিয় সংবাদ
ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

১২ ঘণ্টারও কম সময়ে দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।   শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে।   এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।   নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।   এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।

অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা: এবার মেইনে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযানের ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)।   ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে।   কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না।   তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে।  সূত্র: ABC News

ভিসা নিয়ে বড় সুখবর দিলো যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে।   নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা।   ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল।   তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে।   এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস

Advertisement

আন্তর্জাতিক

View more
ছবি: সংগৃহীত
স্পেনের সঙ্গে সব বাণিজ্য বন্ধের হুমকি ডোনাল্ড ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার ঘোষণা দিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য হামলায় স্পেন তাদের ভূখণ্ডে অবস্থিত সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করতে না দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র স্পেনের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য বন্ধ করে দেবে।   হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ ম্যার্ৎস–কে আতিথ্য দেওয়ার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, আমরা স্পেনের সঙ্গে সব বাণিজ্য বন্ধ করে দেব। আমরা স্পেনের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রাখতে চাই না।   এর আগে সোমবার স্পেন সরকার জানায়, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো হামলায় যুক্তরাষ্ট্র স্পেনের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করেনি এবং ভবিষ্যতেও ব্যবহার করবে না। মাদ্রিদ স্পষ্ট করে দেয়, তাদের সার্বভৌম সামরিক স্থাপনাগুলোর ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ স্পেনের হাতেই রয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ইস্যুকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হতে পারে। স্পেনের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক ছিন্নের ঘোষণা বাস্তবায়িত হলে তা আটলান্টিকপারের অর্থনৈতিক সম্পর্কে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

শাহারিয়া নয়ন মার্চ ৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানের ব্যাপক সামরিক অভিযান: ৪৬৪ তালেবান যোদ্ধা নিহত, ১৯২ ট্যাংক ধ্বংস

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান ফলকার টুর্ক

যুদ্ধরত পক্ষগুলোকে ‘হুঁশে ফেরার’ কড়া বার্তা জাতিসংঘের

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও

ইসরায়েলের ‘ফাঁদে’ পা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র? মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্যে তোলপাড়

ছবি: সংগৃহীত
ইরানের শক্তি মূল্যায়নে চরম ভুল করেছেন ট্রাম্প: ফরেন পলিসি

ওয়াশিংটন থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ সংবাদ অনুযায়ী, ইরানের সামরিক সক্ষমতা এবং ধৈর্য নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের দীর্ঘদিনের হিসাব-নিকাশ বড় ধরনের হোঁচট খেয়েছে। মার্কিন প্রভাবশালী সাময়িকী ‘ফরেন পলিসি’র এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, হোয়াইট হাউসের নীতিনির্ধারকরা এখন দেরিতে হলেও এটা উপলব্ধি করছেন যে, তেহরানকে সামরিক চাপে নতিস্বীকার করানো যতটা সহজ ভাবা হয়েছিল, বাস্তবতা তার উল্টো। অপ্রতিরোধ্য সামরিক কাঠামো ও সমন্বয় প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইরানের শীর্ষস্থানীয় সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বকে লক্ষ্যবস্তু করার পরও দেশটির সামরিক কাঠামো ভেঙে পড়েনি। বরং মধ্যপ্রাচ্যের ছয়টি দেশে তেহরান অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে তাদের অপারেশন চালিয়ে যাচ্ছে। এই সমন্বয় ও শৃঙ্খলা প্রমাণ করে যে, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সহ্য ক্ষমতাকে অত্যন্ত হালকাভাবে নিয়েছিল। বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা ইরানের পক্ষ থেকে শত শত ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ১০ শতাংশ বেড়ে গেছে। বিশেষ করে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট ‘হরমুজ প্রণালী’ বন্ধ হওয়ার আশঙ্কায় বিমা কোম্পানিগুলো বড় ধরনের ঝুঁকির সতর্কতা জারি করেছে। ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতা ফরেন পলিসি আরও দাবি করেছে, ইরানের সস্তা কিন্তু কার্যকর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের কয়েক বিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখন প্রশ্নবিদ্ধ। যুদ্ধের খরচ এবং সক্ষমতার এই ভারসাম্য ধীরে ধীরে ইরানের অনুকূলে চলে যাচ্ছে, যা পেন্টাগনের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শাহারিয়া নয়ন মার্চ ৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

পারমাণবিক বোমার পরীক্ষা চালাল ইরান? ভূমিকম্প নিয়ে আশঙ্কায় উত্তাল বিশ্ব

ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্পের ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’: চার দিনেই যুদ্ধের ব্যয় ১০০ কোটি ডলার ছাড়াল

রোববার আবুধাবিতে ইরানি হামলার পরের ছবি

ইরানের ১৭২ ক্ষেপণাস্ত্র ও ৭৫৫ ড্রোন ধ্বংস করার দাবি আমিরাতের

ছবি: সংগৃহীত।
সাইপ্রাসের সুরক্ষায় ড্রোন বিধ্বংসী যুদ্ধজাহাজ ও হেলিকপ্টার পাঠালো ব্রিটেন

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তজনা ও ইরানের ড্রোন হামলার আশঙ্কার মুখে সাইপ্রাসে নিজেদের সামরিক অবস্থান শক্তিশালী করছে যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ঘোষণা করেছেন, সাইপ্রাসে অবস্থিত ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি ও কর্মীদের নিরাপত্তায় ড্রোন বিধ্বংসী অত্যাধুনিক হেলিকপ্টার এবং রাজকীয় নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ 'এইচএমএস ড্রাগন' (HMS Dragon) মোতায়েন করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী স্টারমার সামাজিক মাধ্যমে এক বিবৃতিতে জানান, "সাইপ্রাস এবং সেখানে অবস্থানরত ব্রিটিশ সামরিক সদস্যদের নিরাপত্তার বিষয়ে যুক্তরাজ্য সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সাইপ্রাসের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার আলাপ হয়েছে এবং সেখানে ড্রোন মোকাবিলায় সক্ষম হেলিকপ্টার ও নৌবাহিনীর এয়ার ডিফেন্স ডেস্ট্রয়ার দ্রুত পৌঁছাবে। মূলত সোমবার সাইপ্রাসের ব্রিটিশ বিমান ঘাঁটি 'আরএএফ আক্রোতিরি'তে একটি ড্রোন আঘাত হানার পর এই কঠোর পদক্ষেপ নিল ডাউনিং স্ট্রিট। ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যেকোনো ধরনের আকাশপথের হুমকি মোকাবিলায় তারা সর্বদা প্রস্তুত এবং মিত্রদের নিরাপত্তায় এই রক্ষণাত্মক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

তাবাস্সুম মার্চ ৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।

সাইপ্রাসে ব্রিটিশ ঘাঁটিতে হামলা: ভূমধ্যসাগরে রণতরী পাঠাচ্ছে যুক্তরাজ্য

গত সোমবার (২ মার্চ) কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে হামলা চালায় ইরান। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের হামলার পরে কুয়েতে মার্কিন দূতাবাস স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা

হরমুজ প্রণালী। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশি জাহাজ হরমুজে ইরানি ড্রোন হামলা থেকে রক্ষা

0 Comments