মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝে ইরাকে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের অবিলম্বে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে বাগদাদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস। সাম্প্রতিক এক নিরাপত্তা বার্তায় এই জরুরি নির্দেশনা জারি করা হয়।
দূতাবাসের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, উদ্ভূত নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে মার্কিন নাগরিকদের এখনই ইরাক ত্যাগ করা উচিত। যারা এই মুহূর্তে ইরাকে অবস্থান করছেন এবং সেখানে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তাদের আবারও গুরুত্বের সাথে বিষয়টি বিবেচনা করতে বলা হয়েছে।
নিরাপত্তা বার্তায় আরও উল্লেখ করা হয় যে, ইরান সমর্থিত বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী বা মিলিশিয়াদের পক্ষ থেকে বড় ধরনের হামলার আশঙ্কা রয়েছে। এই উল্লেখযোগ্য হুমকির কথা মাথায় রেখেই নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে এমন কঠোর ও তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ইরাকের বর্তমান অস্থিতিশীল রাজনৈতিক ও সামরিক প্রেক্ষাপটে নাগরিকদের জীবনের ঝুঁকি এড়াতে এই সতর্কতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক হামলা ও উত্তেজনা লেবাননের গৃহযুদ্ধের সময় বড় হওয়া অনেক প্রবাসীর মনে পুরোনো ভয়াবহ স্মৃতি ফিরিয়ে আনছে। ১৯৭৫ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত চলা লেবাননের রক্তাক্ত গৃহযুদ্ধের সময় যাঁরা শৈশব কাটিয়েছেন এবং পরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে নতুন জীবন শুরু করেছেন, তাঁদের অনেকেই আবারও মানসিক অস্থিরতার মুখোমুখি হচ্ছেন। দুবাইয়ে বসবাসকারী এক লেবানিজ নারী নিরাপত্তার কারণে নিজের নাম প্রকাশ না করে জানান, ইসরায়েলি হামলা শুরুর ঠিক আগে তিনি বৈরুত সফর করেছিলেন। বর্তমানে সম্ভাব্য স্থল অভিযানের আশঙ্কায় তিনি আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। তিনি বলেন, আমি ১৯৮২ সালের সেই ভয়াবহতা দেখেছি। আমার শৈশবের স্মৃতি কোনো খেলার মাঠ নয়; বরং বাঙ্কারের ভেতরে বিস্ফোরণের শব্দ আর ভয়ের মধ্যে কাটানো দিনগুলো। বর্তমানে বৈরুতে আটকে থাকা এই নারী যত দ্রুত সম্ভব দুবাইয়ে ফিরে যেতে চান। রামা নামের আরেক প্রবাসীর অভিজ্ঞতাও একই রকম। তিনি জানান, বৈরুতে বোমা হামলা ও গোলাগুলির মধ্যে বড় হওয়ার স্মৃতি তার মনে এখনও তাজা। দুবাইয়ে কয়েক সপ্তাহ আগে যুদ্ধের বিস্ফোরণের শব্দ শোনার পর সেই স্মৃতিগুলো আবারও ফিরে এসেছে। রামা বলেন, বিস্ফোরণের শব্দ শোনার পর আমার শরীর অদ্ভুত প্রতিক্রিয়া দেখায়। বুক ধড়ফড় করা, অনিদ্রা এবং বাইরে বের হওয়ার ভয় আমাকে আচ্ছন্ন করে ফেলে। আমি ভেবেছিলাম ২৫ বছর বিদেশে থাকার পর সেই স্মৃতি ভুলে গেছি, কিন্তু বুঝলাম সেগুলো এখনো ভেতরে জমে আছে। তিনি আরও বলেন, আমি জানি আমিরাতে নিরাপদ আছি, তবুও শৈশবের সেই স্মৃতিগুলো আমাকে ভীষণভাবে নাড়িয়ে দিচ্ছে। তবে আপাতত দুবাইতেই থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রামা। এ সময় তিনি লেবানিজ-আমেরিকান কবি Khalil Gibran-এর একটি উক্তি স্মরণ করেন— যে ভূমি তোমাকে সম্মান দেয়, সেটিই তোমার স্বদেশ। সূত্র: সিএনএন
ব্রিটিশ রাজপরিবারের ছোট ছেলে এবং ডিউক অব সাসেক্স প্রিন্স হ্যারির জীবন নিয়ে লেখা একটি নতুন বইকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। হ্যারির এক মুখপাত্র এই বইটিতে উল্লিখিত দাবিগুলোকে "ভ্রান্ত এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ষড়যন্ত্র" বলে আখ্যা দিয়েছেন। শনিবার (১৪ মার্চ, ২০২৬) এক বিবৃতিতে প্রিন্স হ্যারির মুখপাত্র জানান, সম্প্রতি প্রকাশিত ওই বইটিতে হ্যারি ও তার ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে যে ধরনের তথ্য এবং তত্ত্ব উপস্থাপন করা হয়েছে তার কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। তিনি একে স্রেফ কল্পকাহিনী এবং একটি নির্দিষ্ট এজেন্ডা বাস্তবায়নের প্রচেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বইটিতে হ্যারির সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অবস্থান এবং ব্রিটিশ রাজপরিবারের সাথে তার বর্তমান সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয়েছিল। বিশেষ করে কিছু অপ্রমাণিত তথ্য সেখানে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যা হ্যারির ভাবমূর্তিকে বিতর্কিত করে তোলে। বিবৃতিতে মুখপাত্র আরও বলেন, "এটি কোনো সত্যনিষ্ঠ লেখা নয়, বরং এক ধরনের বিকৃত মস্তিষ্কের ষড়যন্ত্র। পাঠকদের বিভ্রান্ত করতেই এমন কাল্পনিক গল্প সাজানো হয়েছে।" প্রিন্স হ্যারি ও মেগান মার্কেল ২০২০ সালে ব্রিটিশ রাজপরিবারের রাজকীয় দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর পর থেকেই তারা বিভিন্ন সময় সংবাদমাধ্যমের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন। নিজের আত্মজীবনী 'স্পেয়ার' (Spare) প্রকাশের পর হ্যারি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিলেন। তবে নতুন এই বইটি নিয়ে তার পক্ষ থেকে যে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে, তা রাজপরিবার এবং গণমাধ্যমের মধ্যকার চলমান স্নায়ুযুদ্ধকে আরও উসকে দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এখন পর্যন্ত ওই বইটির লেখকের পক্ষ থেকে হ্যারির মুখপাত্রের এই অভিযোগের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
উত্তর কোরিয়ার হুমকি মোকাবিলায় দক্ষিণ কোরিয়ায় মোতায়েন করা নিজেদের সবচেয়ে উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘টার্মিনাল হাই অল্টিচিউড এরিয়া ডিফেন্স’ বা থাড (THAAD) সরিয়ে নিচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। দক্ষিণ কোরিয়া থেকে এসব সরঞ্জাম তড়িঘড়ি করে মধ্যপ্রাচ্যে সরিয়ে নেওয়ার এই পদক্ষেপ এশীয় অঞ্চলে ওয়াশিংটনের নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট-সহ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের সাথে চলমান উত্তেজনা এবং ক্রমবর্ধমান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলায় মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে পেন্টাগন। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় সেখানে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সংকট দেখা দিয়েছে। বর্তমানে বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের মাত্র আটটি থাড ব্যাটারি রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধক্ষেত্রে জরুরি প্রয়োজন মেটাতে দক্ষিণ কোরিয়ার সিওংজু (Seongju) ঘাঁটিতে থাকা থাড ইন্টারসেপ্টরগুলো সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়া সরকার এই সিদ্ধান্তে সরাসরি অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং এক মন্ত্রিসভা বৈঠকে জানান, তারা এই স্থানান্তরের বিরোধিতা করলেও মার্কিন সামরিক সিদ্ধান্তের ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ সীমিত। তবে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, থাড সরিয়ে নিলেও উত্তর কোরিয়াকে ঠেকানোর মতো সক্ষমতা তাদের নিজস্ব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার রয়েছে। অন্যদিকে, চীন শুরু থেকেই দক্ষিণ কোরিয়ায় থাড মোতায়েনের বিরোধী। বেইজিংয়ের দাবি, এই ব্যবস্থার শক্তিশালী রাডার চীনের অভ্যন্তরীণ সামরিক কার্যক্রম নজরদারি করতে সক্ষম। থাড সরিয়ে নেওয়ার খবর আসার পর চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পুনরায় তাদের আগের অবস্থানে অনড় থাকার কথা জানিয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ঘটনা এশিয়ার মিত্রদের মধ্যে একটি শক্তিশালী বার্তা দিচ্ছে যে, সংকটকালীন সময়ে যুক্তরাষ্ট্র তার নিজস্ব প্রয়োজনে যেকোনো অঞ্চল থেকে সামরিক সমর্থন প্রত্যাহার করতে পারে। দক্ষিণ কোরিয়ার পাশাপাশি জাপান ও তাইওয়ানও তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই কৌশলগত পরিবর্তন এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের আধিপত্য বিস্তারের পথ আরও সুগম করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। একই সময়ে, উত্তর কোরিয়া এই সুযোগে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা এবং উস্কানি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।