দীর্ঘ পাঁচ মাসের রাজনৈতিক অচলাবস্থার অবসান ঘটিয়ে ইরাকের নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন কুর্দি রাজনীতিবিদ নিজার আমেদি। শনিবার দেশটির পার্লামেন্টে অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে তিনি বিপুল ব্যবধানে জয়লাভ করেন। এই জয়ের মধ্য দিয়ে দেশটিতে নতুন সরকার গঠনের পথ সুগম হলো। পার্লামেন্ট সূত্রে জানা গেছে, প্যাট্রিয়টিক ইউনিয়ন অব কুর্দিস্তান (পিইউকে) মনোনীত প্রার্থী নিজার আমেদি দ্বিতীয় দফার ভোটাভুটিতে মোট ২২৭টি ভোট পান। তাঁর একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী মুথান্না আমিন নাদের পেয়েছেন মাত্র ১৫ ভোট। ২০০৩ সালে মার্কিন আগ্রাসনের পর সাদ্দাম হোসেনের পতনের পর আমেদি ইরাকের ষষ্ঠ রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছেন। প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর পার্লামেন্টে দেওয়া এক বক্তব্যে নিজার আমেদি বলেন, "দেশের সামনে যে বিশাল চ্যালেঞ্জগুলো রয়েছে, সে সম্পর্কে আমি পুরোপুরি সচেতন।" তিনি সকল সরকারি বিভাগের সাথে সমন্বয় করে কাজ করার এবং "ইরাক ফার্স্ট" (ইরাক আগে) নীতিতে অটল থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। এছাড়া সাম্প্রতিক আঞ্চলিক যুদ্ধ ও উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরাকের ওপর হওয়া হামলারও তীব্র নিন্দা জানান তিনি। ৫৮ বছর বয়সী নিজার আমেদি একজন অভিজ্ঞ আমলা এবং রাজনীতিবিদ। তিনি এর আগে ২০২২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত পরিবেশ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং দুজন সাবেক প্রেসিডেন্টের জ্যেষ্ঠ সহযোগী হিসেবে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। ইরাকের প্রচলিত ক্ষমতা ভাগাভাগির নিয়ম অনুযায়ী, দেশটির প্রধানমন্ত্রী হবেন শিয়া মুসলিম, স্পিকার হবেন সুন্নি এবং প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবেন একজন কুর্দি নেতা। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর এখন সকলের দৃষ্টি প্রধানমন্ত্রী নিয়োগের দিকে। সংবিধান অনুযায়ী, আমেদি আগামী ১৫ দিনের মধ্যে পার্লামেন্টের বৃহত্তম ব্লকের মনোনীত প্রার্থীকে মন্ত্রিসভা গঠনের আহ্বান জানাবেন। গত নভেম্বরের নির্বাচনের পর প্রায় ১৫০ দিন ধরে ইরাকে কোনো স্থায়ী সরকার ছিল না। নিজার আমেদির এই নির্বাচন ইরাকের ভঙ্গুর রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য মনোনীত নূরী আল-মালিকির নাম নিয়ে ইতিমধ্যে ওয়াশিংটন ও বাগদাদের মধ্যে রাজনৈতিক টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, নতুন প্রেসিডেন্ট রাজনৈতিক বিভাজন দূর করে ইরাককে একটি স্থিতিশীল সরকার উপহার দিতে কতটুকু সফল হন।
ইরাকের রাজধানী বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সংলগ্ন মার্কিন কূটনৈতিক ও লজিস্টিক সেন্টারে ভয়াবহ ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। আজ ভোরে এই হামলা চালানো হয় বলে ইরাকি নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপি নিশ্চিত করেছে। নিরাপত্তা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, বিমানবন্দরের যে এলাকায় এই ড্রোন হামলা হয়েছে সেখানে ইরাকি সামরিক ঘাঁটির পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক সেন্টার ও কূটনৈতিক দফতর অবস্থিত। হামলার পরপরই পুরো এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। তবে এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো নিহতের খবর পাওয়া যায়নি এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে এই ধরণের ড্রোন হামলা নতুন কোনো ঘটনা নয়। তবে বাগদাদ বিমানবন্দরের মতো একটি সুরক্ষিত এলাকায় এই হামলা নতুন করে নিরাপত্তাহীনতার উদ্বেগ তৈরি করেছে। এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই ইরাকের প্রভাবশালী রাজনৈতিক দল ‘ইসলামিক সুপ্রিম কাউন্সিল অব ইরাক’ (ISCI)-এর প্রধান শেখ হাম্মাম হামুদির কাছে একটি ব্যক্তিগত বার্তা পাঠিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনী। ইরানের বার্তা সংস্থা জামারান নিউজ জানিয়েছে, ইরাকে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত এক বিশেষ বৈঠকে শেখ হামুদির হাতে এই বার্তাটি তুলে দেন। বার্তার মূল বিষয়বস্তু এখনো জনসমক্ষে আনা না হলেও, বৈঠকে ইরানি রাষ্ট্রদূত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে ইরাকের শিয়া ধর্মীয় নেতৃত্বের অনড় অবস্থানের ভূয়সী প্রশংসা করেন। একইসঙ্গে তিনি হামুদির ‘অকপট ও সাহসী’ অবস্থানের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন। উল্লেখ্য যে, গত মাসে যৌথ মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনী নিহত হওয়ার পর থেকে মোজতবা খামেনী জনসমক্ষে আসছেন না। সাম্প্রতিক কিছু রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, হামলার প্রথম দিকে তিনি পায়ে ফ্র্যাকচার ও মুখে আঘাতসহ সামান্য আহত হয়েছিলেন। এই বিশেষ বার্তাটি এমন এক সময়ে এলো যখন পুরো অঞ্চলে নতুন করে ভূ-রাজনৈতিক মেরুকরণ শুরু হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তজনা ও নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে ইরাকে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের অবিলম্বে দেশ ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে বাগদাদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ, ২০২৬) এক বিশেষ নিরাপত্তা বার্তায় দূতাবাস জানায়, ইরান-ঘনিষ্ঠ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো ইরাকজুড়ে মার্কিন নাগরিক এবং ওয়াশিংটন সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে ‘ব্যাপক আকারে’ হামলা চালিয়েছে। দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় এই হামলার বিস্তার ঘটেছে। ইরাকি আকাশসীমায় বর্তমানে মিসাইল, ড্রোন এবং রকেট হামলার চরম ঝুঁকি থাকায় নাগরিকদের বাগদাদের দূতাবাস বা এরবিলের কনস্যুলেট জেনারেলের দিকে না আসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা বার্তায় আরও বলা হয়, ইরাকের আকাশপথ বর্তমানে বন্ধ রয়েছে এবং বাণিজ্যিক বিমান চলাচল স্থগিত করা হয়েছে। এই অবস্থায় দেশ ছাড়তে ইচ্ছুক নাগরিকদের জর্ডান, কুয়েত, সৌদি আরব এবং তুরস্কের সীমান্ত ব্যবহার করে স্থলপথে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট ইরাককে ‘লেভেল ফোর’ বা ‘ভ্রমণ নিষিদ্ধ’ দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে ইরাকের একটি সামরিক ক্লিনিকে মার্কিন বিমান হামলায় বেশ কয়েকজন সেনাসদস্য নিহত হওয়ার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরাক সরকার। এই ন্যাক্কারজনক হামলার প্রতিবাদে বাগদাদে নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে তলব করার নির্দেশ দিয়েছে ইরাকের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ইরাকি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র সাবাহ আল-নুমান এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, আজ সকালে আনবার প্রদেশে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট একটি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে এই হামলা চালানো হয়। ইরাক এই অঞ্চলকে সংঘাতমুক্ত রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করা সত্ত্বেও তাদের সামরিক ইউনিটগুলো বারবার লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে। এর আগে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, আনবার প্রদেশে এক বিমান হামলায় অন্তত ৭ জন ইরাকি সেনা প্রাণ হারিয়েছেন। সহিংসতার মাত্রা এখানেই সীমাবদ্ধ নয়। গতকাল ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (পিএমএফ)-এর সদর দপ্তরে মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, কুর্দিস্তানের এরবিল শহরের উত্তরে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৬ জন কুর্দি পেশমার্গা যোদ্ধা নিহত এবং আরও ৩০ জন আহত হয়েছেন। মুখপাত্র আল-নুমান এই হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন এবং রাষ্ট্রীয় শিষ্টাচারের পরিপন্থী এক জঘন্য অপরাধ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই ধরণের কর্মকাণ্ড ইরাক ও যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের মধ্যকার সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। ইরাকের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কিন দূতের কাছে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং এই দায়িত্বজ্ঞানহীন হামলার বিষয়ে ইরাকের কঠোর ও আপসহীন অবস্থানের কথা স্পষ্টভাবে তুলে ধরবেন।
ইরাকের বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবস্থিত মার্কিন কূটনৈতিক সহায়তা কেন্দ্রে শক্তিশালী ড্রোন হামলার একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে ইরানপন্থী একটি মিলিশিয়া গোষ্ঠী। প্রায় এক মিনিট দীর্ঘ ওই ভিডিওতে দেখা যায়, অত্যন্ত নিচু দিয়ে উড়ে আসা একটি ড্রোন সরাসরি মার্কিন রাডার সিস্টেমে আঘাত হানছে এবং সাথে সাথে সেখানে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটছে। সিএনএন-এর ভৌগোলিক বিশ্লেষণে ভিডিওটির সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে। স্যাটেলাইট চিত্রেও হামলার শিকার ওই নির্দিষ্ট স্থানে রাডার সিস্টেমের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। ভিডিওর পরবর্তী অংশে দেখা যায়, আরেকটি ড্রোন একটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টারের খুব কাছ দিয়ে উড়ে যাচ্ছে, তবে সেটি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করেছে কি না তা স্পষ্ট হওয়ার আগেই ভিডিওটি শেষ হয়ে যায়। ভিডিওটিতে গত ২৩ মার্চের তারিখ উল্লেখ থাকলেও এর সঠিক সময় সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। সাম্প্রতিক সময়ে বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসসহ বিভিন্ন স্থাপনায় ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ধারাবাহিক হামলার ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
বিশ্বের বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র সাউথ পার্স-এ হামলার পর সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়া ইরানি গ্যাস সরবরাহ আবার ইরাকে চালু হয়েছে। ইরাকের বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে স্কাই নিউজ জানিয়েছে, হামলার কারণে গ্যাস সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়, যা ইরাকের বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় প্রভাব ফেলে। হামলাটি ইসরায়েল চালিয়েছে বলে ইরানি পক্ষ দাবি করেছে। এই ঘটনায় উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন জ্বালানি স্থাপনায় পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে। ইরানের সামরিক বাহিনী হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, তাদের জ্বালানি স্থাপনাগুলো যদি পুনরায় লক্ষ্যবস্তু হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জ্বালানি অবকাঠামো “সম্পূর্ণ ধ্বংস” করার ক্ষমতা তাদের রয়েছে। ইরাকের বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শনিবার থেকে প্রতিদিন প্রায় ৫০ লাখ ঘনমিটার হারে গ্যাস সরবরাহ পুনরায় শুরু হয়েছে। এতে ধীরে ধীরে ইরাকের বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ইরাকের রাজধানী বাগদাদ-এ গোয়েন্দা সদর দপ্তর ও একটি যোগাযোগ ভবন লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত একজন কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা। শনিবার সকালে শহরের প্রাণকেন্দ্রে এ হামলা চালানো হয় বলে নিশ্চিত করেছেন ইরাক সরকারের নিরাপত্তা মিডিয়া ইউনিটের প্রধান জেনারেল সাদ মান। বার্তা সংস্থা রয়টার্স হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে এএফপি নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, গোয়েন্দা সদর দপ্তরের পাশাপাশি একটি যোগাযোগ ভবনও হামলার শিকার হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্ষতিগ্রস্ত ভবনটিতে ইরাকের একটি নিরাপত্তা সংস্থার কার্যালয় ছিল, যা দেশটিতে উগ্রবাদবিরোধী অভিযানে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে কাজ করে। ইরাকের ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সদর দপ্তরের কাছে ‘আইনবহির্ভূত গোষ্ঠী’র চালানো এই ড্রোন হামলায় তাদের এক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। তবে হামলার দায় এখনো কোনো গোষ্ঠী স্বীকার করেনি।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে ইরাক থেকে নিজেদের কর্মীদের সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করেছে ন্যাটো। নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হলে তারা আবার ফিরে আসবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। ইরাকের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার দপ্তরের উপদেষ্টা সাঈদ আল জায়াশি শুক্রবার আল জাজিরা-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের অবসান এবং ইরাকে স্থিতিশীলতা ফিরলে ন্যাটো কর্মীরা পুনরায় তাদের কার্যক্রম শুরু করতে দেশটিতে ফিরে আসবেন। বিশ্লেষকদের মতে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো ঝুঁকি কমাতে এ ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাব আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা জোরালো হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না। নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার। তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।