নওগাঁর ছয়টি সংসদীয় আসনের বেসরকারি ফলাফলে বড় ধরনের জয় পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে পাঁচটিতেই বিএনপির প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন, আর একটি আসনে জয় পেয়েছেন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে ঘোষিত বেসরকারি ফলাফলে এই চিত্র উঠে এসেছে।
আসনভিত্তিক ভোটের বিস্তারিত পরিসংখ্যান:
নওগাঁ-১ (পোরশা-সাপাহার-নিয়ামতপুর): এই আসনে বিএনপির প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান ১ লাখ ৪৯ হাজার ২০২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর মাহাবুবুল আলম পেয়েছেন ১ লাখ ২৬ হাজার ৯৩ ভোট।
নওগাঁ-২ (পত্নীতলা-ধামইরহাট): এই আসনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর জয় পেয়েছেন জামায়াত মনোনীত প্রার্থী এনামুল হক। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৪১ হাজার ৫২৬ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী শামসুজ্জোহা খান পেয়েছেন ১ লাখ ৩৪ হাজার ৫৩৩ ভোট।
নওগাঁ-৩ (মহাদেবপুর-বদলগাছী): বিএনপির প্রার্থী ফজলে হুদা বাবুল ১ লাখ ৬২ হাজার ৮৩০ ভোট পেয়ে বড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। এখানে জামায়াত প্রার্থী মাহফুজুর রহমান পেয়েছেন ১ লাখ ১৩ হাজার ২৬৩ ভোট।
নওগাঁ-৪ (মান্দা): এই আসনে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৮০১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির ইকরামুল বারী টিপু। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী আব্দুর রাকিব পেয়েছেন ৯৬ হাজার ৮১৪ ভোট।
নওগাঁ-৫ (সদর): নওগাঁ সদর আসনে বিএনপির জাহিদুল ইসলাম ধলু ১ লাখ ২৮ হাজার ৩৬৬ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন। জামায়াত প্রার্থী আ স ম সায়েম পেয়েছেন ১ লাখ ৩ হাজার ২০৯ ভোট।
নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রাণীনগর): এই আসনে বিএনপির শেখ রেজাউল ইসলাম ১ লাখ ৮ হাজার ৭০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত মনোনীত খবিরুল ইসলাম পেয়েছেন ৯৫ হাজার ৮৮৬ ভোট।
নওগাঁর এই নির্বাচনি ফলাফলকে ঘিরে জেলাজুড়ে বিএনপি নেতা-কর্মীদের মাঝে ব্যাপক উল্লাস লক্ষ্য করা গেছে। শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ায় এবং কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পাওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ভোটাররা।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা এবং জাতিসংঘের সাবেক অস্ত্র পরিদর্শক, ইরান-মার্কিন আলোচনার বিশ্লেষণ করতে গিয়ে জোর দিয়ে বলেছেন যে ইরানের চেয়ে ট্রাম্পেরই এই আলোচনার বেশি প্রয়োজন। পার্সটুডে- মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা এবং জাতিসংঘের সাবেক অস্ত্র পরিদর্শক, ইরান-মার্কিন আলোচনার বিশ্লেষণ করতে গিয়ে জোর দিয়ে বলেছেন যে ইরানের চেয়ে ট্রাম্পেরই এই আলোচনার বেশি প্রয়োজন। মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা স্কট রিটার সতর্ক করে বলেছেন যে পশ্চিমারা সর্বদা তার গুপ্তচর সংস্থাগুলির মাধ্যমে ইরানের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ভিত্তি ধ্বংস করতে চাইছে এবং অপর্যাপ্তভাবে নিয়ন্ত্রিত তথ্য-যোগাযোগ রুট ব্যবহার করে কিছু ইরানিকে তাদের এজেন্ট নিয়োগ করেছে। ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের জন্য একটি পছন্দসই আক্রমণাত্মক হাতিয়ার নয় পার্সটুডে অনুসারে, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরিসর সীমিত করার বিষয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের বক্তব্যের কথা উল্লেখ করে রিটার ব্যাখ্যা করেছেন যে এই শর্তটি বাস্তবে "নিরস্ত্রীকরণ" এবং ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের কাছ থেকে "কৌশলগত আত্মহত্যার" অনুরোধের সমতুল্য। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে ক্ষেপণাস্ত্র শুধুমাত্র ইরানের জন্য একটি কাঙ্ক্ষিত আক্রমণাত্মক হাতিয়ার নয়, বরং প্রতিরোধ ও বেঁচে থাকার মেরুদণ্ড এবং এই স্তম্ভটি অপসারণকারী যেকোনো চেষ্টো ইরানকে অরক্ষিত করে তুলবে। তিনি যুক্তি দেন যে ইরান যদি তার ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা এতটাই কমিয়ে দেয় যে তারা আর ইসরায়েলে আঘাত করতে পারবে না, তাহলে ইসরায়েল প্রতিশোধের ভয় ছাড়াই ইরানে আক্রমণ করবে। ইরানের সাথে যুদ্ধ নীতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অক্ষমতা আমেরিকান বিশ্লেষক স্পষ্ট করে বলেন যে ইরানের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ এড়ানোর মূল কারণ কৌশলগত অক্ষমতা। তিনি বলেন, যেকোনও সামরিক আক্রমণ ইরানকে এমন প্রতিক্রিয়ার দিকে ঠেলে দেবে যা একই সাথে মার্কিন বাহিনী এবং স্বার্থের জন্য গুরুতর ক্ষতি বয়ে আনতে পারে। রিটার জোর দিয়ে বলেন যে এই ধরনের পরিবেশে ইরানের সাথে যুদ্ধ কেবল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কৌশলগত সুবিধাতো আনবেই না বরং ট্রাম্পের জন্য একটি অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিপর্যয়ও হতে পারে। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কেবল ইসরায়েলের স্বার্থ রক্ষার জন্য। আলোচনা একটি ফাঁদ সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা পরামর্শ দেন যে ইরানের উচিত দুর্বলতা থেকে নয়, বরং ওয়াশিংটনে রাজনৈতিক অজুহাতের পথ বন্ধ করার জন্য আলোচনায় প্রবেশ করা। তবে, রিটার সতর্ক করে দেন যে ইরানি কর্মকর্তাদের সর্বদা ধরে নেওয়া উচিত যে আলোচনা "একটি ফাঁদ"। কূটনীতির মাধ্যম বজায় রেখে, ইরানের উচিত তার সামরিক ও গোয়েন্দা যন্ত্রপাতিকে পূর্ণ সতর্ক রাখা । স্কট রিটার সাম্প্রতিক নৌ সংঘর্ষকে আমেরিকার শ্রেষ্ঠত্ব বা আগ্রাসনের লক্ষণ হিসেবে নয়, বরং ইরানের প্রবেশাধিকার-বিরোধী এবং আঞ্চলিক-বিরোধী ক্ষমতার প্রতি ওয়াশিংটনের কৌশলগত ভয়ের প্রতিফলন। রিটার জোর দিয়ে বলেন যে ইরানের নতুন প্রজন্মের নির্ভুল, কৌশলগত এবং হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের সামনে মার্কিন বিমানবাহী রণতরীগুলি "অপ্রচলিত" সিস্টেমে পরিণত হয়েছে। প্রধান হুমকি: ভেতর থেকে পতনের জন্য মানসিক যুদ্ধ অবশেষে, স্কট রিটার "মানসিক যুদ্ধ" নামক একটি ধারণার কথা উল্লেখ করেছেন; এমন একটি যুদ্ধ যেখানে, তিনি যুক্তি দেন, সরাসরি সামরিক সংঘাতের চেয়ে অনেক বেশি বিপজ্জনক, কারণ এর লক্ষ্য হল একটি গুলি না চালিয়েও একটি সমাজকে ভেতর থেকে ধ্বংস করা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সবকটি আসনের বেসরকারি ফলাফল সম্পন্ন হয়েছে। শান্তিপূর্ণ ও সহিংসতামুক্ত এই নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে ভূমিধস জয় পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। প্রাথমিক ফল অনুযায়ী, ২৯৯ আসনের মধ্যে বিএনপি ও তাদের সমর্থিত জোটের প্রার্থীরা ২১৩টি আসনে বিজয়ী হয়েছেন। অন্যদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–সমর্থিত জোট পেয়েছে মোট ৭৭টি আসন। এর মধ্যে জামায়াতে ইসলামী এককভাবে ৬৮টি, এনসিপি ৬টি এবং খেলাফত মজলিস ৩টি আসনে জয়লাভ করেছে। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৮টি এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের একজন প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। ঢাকার বেশির ভাগ আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি’র প্রার্থীরা। ২০টি আসনের মধ্যে প্রাপ্ত ফলে ১৪টিতে বিএনপি প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। জামায়াত ও এনসিপি প্রার্থী জয়ী হয়েছেন ৬ জন। সিলেট বিভাগে সবচেয়ে ভালো করেছে বিএনপি। এ বিভাগের ১৭টির মধ্যে একটি ছাড়া সব আসনে জয়ী হয়েছেন বিএনপি প্রার্থীরা। এছাড়া দেশের পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলেও ভালো ফলাফল করেছে দলটি। অন্যদিকে, উত্তরাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলে জামায়াত জোটের প্রার্থীরা ভালো ফলাফল করেছেন। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে একটানা বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ব্যালট পেপারে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ২৯৯টি আসনে উৎসবমুখর পরিবেশে সহিংসতামুক্ত এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এবারের নির্বাচনের দিন সংঘাত ও সংঘর্ষের জেরে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। দীর্ঘ দেড় যুগ পর গণতান্ত্রিক পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যান ভোটাররা। নির্বাচন ঘিরে সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৯ লক্ষাধিক সদস্য মোতায়েন ছিল। ভোটকেন্দ্রের বাইরে সেনাবাহিনী ও বিজিবি স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে। ঢাকায় বিজয়ী হয়েছেন যারা: ঢাকা-১ এ বিএনপি’র আবু আশফাক, ঢাকা-২ এ বিএনপি’র আমান উল্লাহ আমান, ঢাকা-৩ এ বিএনপি’র গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ঢাকা-৪ এ বিএনপি’র তানভীর ইসলাম রবিন, ঢাকা-৫ এ জামায়াতের কামাল হোসেন, ঢাকা-৬ এ বিএনপি’র ইশরাক হোসেন, ঢাকা-৭ এ বিএনপি’র প্রার্থী, ঢাকা-৮ এ বিএনপি’র মির্জা আব্বাস, ঢাকা-৯ এ বিএনপি’র হামিদুর রহমান, ঢাকা-১০ এ বিএনপি’র শেখ রবিউল ইসলাম রবি, ঢাকা-১১ এ এনসিপি’র নাহিদ ইসলাম, ঢাকা-১২ তে জামায়াতের সাইফুল আলম খান মিলন, ঢাকা-১৩ তে বিএনপি’র ববি হাজ্জাজ, ঢাকা-১৪ তে জামায়াতের ব্যারিস্টার মীর আহমেদ কাসেম আরমান, ঢাকা-১৫ তে জামায়াতের ডা. শফিকুর রহমান, ঢাকা-১৬ তে জামায়াতের কর্নেল (অব.) আবদুল বাতেন, ঢাকা-১৭ তে বিএনপি’র তারেক রহমান, ঢাকা-১৮ তে বিএনপি’র এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, ঢাকা-১৯ এ বিএনপি’র দেওয়ান সালাহউদ্দিন এবং ঢাকা-২০ এ বিএনপি’র তমিজ উদ্দিন। বিজয়ী হয়েছেন যারা: সুনামগঞ্জ-১ এ বিএনপি’র কামরুজ্জমান কামরুল, সুনামগঞ্জ-২ এ বিএনপি’র নাছির উদ্দিন চৌধুরী, সুনামগঞ্জ-৩ এ বিএনপি’র কয়ছর আহমেদ, সুনামগঞ্জ-৪ এ বিএনপি’র নূরুল ইসলাম, সুনামগঞ্জ-৫ এ বিএনপি’র কলিম উদ্দিন আহমেদ, সিলেট-১ এ বিএনপি’র খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সিলেট-২ এ বিএনপি’র তাহসিনা রুশদী লুনা, সিলেট-৩ এ বিএনপি’র এম এ মালিক, সিলেট-৪ এ বিএনপি’র আরিফুল হক চৌধুরী, সিলেট-৫ এ খেলাফতের মুফতি আবুল হাসান, সিলেট-৬ এ বিএনপি’র এমরান আহমদ চৌধুরী, মৌলভীবাজার-১ এ বিএনপি’র নাসির উদ্দিন আহমেদ মিঠু (৯৭,৫৩৪) বিজয়ী হয়েছেন, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মাওলানা মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম পেয়েছেন ৭৯,৬১৯ ভোট। মৌলভীবাজার-২ এ বিএনপি’র শওকতুল ইসলাম শকু, মৌলভীবাজার-৩ এ বিএনপি’র নাসের রহমান, মৌলভীবাজার-৪ এ বিএনপি’র মুজিবুর রহমান চৌধুরী (হাজী মুজিব) (১,৬৯,৬০৮) বিজয়ী হয়েছেন, নিকটতম প্রার্থী শেখ নূরে আলম হামিদী পেয়েছেন ৪৯,১৮৯ ভোট। হবিগঞ্জ-১ এ বিএনপি’র ড. রেজা কিবরিয়া, হবিগঞ্জ-২ এ বিএনপি’র আবু মনসুর সাখাওয়াত হাসান, হবিগঞ্জ-৩ এ বিএনপি’র জিকে গউছ, হবিগঞ্জ-৪ এ বিএনপি’র সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়সল। ঢাকা-২ এ বিএনপি’র আমান উল্লাহ আমান, ঢাকা-২০ এ বিএনপি’র তমিজ উদ্দিন, টাঙ্গাইল-৮ এ বিএনপি’র আহমেদ আযম খান, কিশোরগঞ্জ-১ এ বিএনপি’র মাজহারুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-২ এ বিএনপি’র এডভোকেট মো. জালাল উদ্দীন, কিশোরগঞ্জ-৩ এ বিএনপি’র ড. এম ওসমান ফারুক, কিশোরগঞ্জ-৪ এ বিএনপি’র এডভোকেট ফজলুর রহমান, কিশোরগঞ্জ-৫ এ স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল, কিশোরগঞ্জ-৬ এ বিএনপি’র শরীফুল আলম (১,৮৫,৮৯৮) বিজয়ী হয়েছেন, প্রতিদ্বন্দ্বী খেলাফতের আতাউল্লাহ আমিন পেয়েছেন ৪২,৫২৫ ভোট। মানিকগঞ্জ-১ এ বিএনপি’র এস এ জিন্নাহ কবীর, মানিকগঞ্জ-২ এ বিএনপি’র মইনুল ইসলাম খান শান্ত, মানিকগঞ্জ-৩ এ বিএনপি’র আফরোজা খান রিতা, মুন্সীগঞ্জ-১ এ বিএনপি’র মো. আব্দুল্লাহ, মুন্সীগঞ্জ-২ এ বিএনপি’র আব্দুস সালাম আজাদ, মুন্সীগঞ্জ-৩ এ বিএনপি’র মো. কামরুজ্জামান, গাজীপুর-৪ এ জামায়াতের সালাউদ্দিন আইউবী, গাজীপুর-৫ এ বিএনপি’র একেএম ফজলুল হক মিলন, নরসিংদী-১ এ বিএনপি’র খায়রুল কবির খোকন, নরসিংদী-২ এ বিএনপি’র মঈন খান, নরসিংদী-৩ এ বিএনপি’র মনজুর এলাহী, নরসিংদী-৪ এ বিএনপি’র সরদার সাখাওয়াত, ফরিদপুর-২ এ বিএনপি’র শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু, ভোলা-১ এ বিজেপি’র ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ, বরিশাল-৫ এ বিএনপি’র মজিবর রহমান সরোয়ার, বরিশাল-৬ এ বিএনপি’র আবুল হোসেন খান, পিরোজপুর-৩ এ বিএনপি’র রুহুল আমিন দুলাল (৬৩,১৩২) বিজয়ী হয়েছেন, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ডা. রুস্তম আলী ফরাজী পেয়েছেন ৩৫,৬২৩ ভোট। জয়পুরহাট-১ এ জামায়াতের ফজলুর রহমান সাঈদ, জয়পুরহাট-২ এ বিএনপি’র আব্দুল বারী, নওগাঁ-১ এ বিএনপি’র মো. মোস্তাফিজুর রহমান, পাবনা-১ এ জামায়াতের নাজিবুর রহমান মোমেন, মেহেরপুর-১ এ জামায়াতের মাওলানা তাজ উদ্দীন খান (১,২২,৮২৯) বিজয়ী হয়েছেন, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি’র মাসুদ অরুন পেয়েছেন ১,০৪,২২৪ ভোট। মেহেরপুর-২ এ জামায়াতের নাজমুল হুদা (৯৪,১৬৮) বিজয়ী হয়েছেন, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি’র আমজাদ হোসেন পেয়েছেন ৮৫,৬৮৯ ভোট। কুষ্টিয়া-১ এ বিএনপি’র রেজা আহমেদ বাচ্চু, কুষ্টিয়া-২ এ জামায়াতের আব্দুল গফুর (১,৮৯,৮১৬) বিজয়ী হয়েছেন, প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি’র ব্যারিস্টার রাগিব রউফ চৌধুরী পেয়েছেন ১,৪৩,২৮২ ভোট, কুষ্টিয়া-৩ এ মুফতি আমির হামজা, কুষ্টিয়া-৪ এ জামায়াতের আফজাল হোসেন, চুয়াডাঙ্গা-২ এ জামায়াতের রুহুল আমীন (২,১০,১১১) বিজয়ী হয়েছেন, প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি’র মাহমুদ হাসান খান বাবু পেয়েছেন ১,৬৩,২৯৯ ভোট। বাগেরহাট-৩ এ বিএনপি’র ফরিদুল ইসলাম, খুলনা-৪ এ বিএনপি’র আজিজুল বারী হেলাল, খুলনা-৫ এ বিএনপি’র আলি আসগার, সাতক্ষীরা-১ এ জামায়াতের ইজ্জত উল্যাহ, সাতক্ষীরা-২ এ জামায়াতের মুহাদ্দিস আবদুল খালেদ, সাতক্ষীরা-৩ এ জামায়াতের রবিউল বাশার, সাতক্ষীরা-৪ এ জামায়াতের গাজী নজরুল ইসলাম। বগুড়া-১ এ বিএনপি’র কাজী রফিকুল ইসলাম, বগুড়া-২ এ বিএনপি’র মীর শাহে আলম, বগুড়া-৩ এ বিএনপি’র আবদুল মহিত তালুকদার, বগুড়া-৫ এ বিএনপি’র গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ, বগুড়া-৬ এ বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। পঞ্চগড়-১ এ বিএনপি’র ব্যারিস্টার মোহাম্মদ নওশাদ জমির (১,৭৬,১৬৯) বিজয়ী হয়েছেন, প্রতিদ্বন্দ্বী এনসিপি’র সারজিস আলম পেয়েছেন ১,৬৮,০৪৯ ভোট। পঞ্চগড়-২ এ বিএনপি’র ফরহাদ হোসেন আজাদ (১,৭৪,৬৫০) বিজয়ী হয়েছেন, প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের সফিউল আলম পেয়েছেন ১,২৮,৮৬২ ভোট। ঠাকুরগাঁও-১ এ বিএনপি’র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। নীলফামারী-১ এ জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা আব্দুস সাত্তার, নীলফামারী-২ এ জামায়াতের আল ফারুক আব্দুল লতিফ, নীলফামারী-৩ এ জামায়াতের ওবায়দুল্লাহ সালাফী, নীলফামারী-৪ এ জামায়াতের আব্দুল মুনতাকিম, কুড়িগ্রাম-২ এ এনসিপি’র ড. আতিকুর রহমান মুজাহিদ, কুড়িগ্রাম-৩ এ জামায়াতের মাহবুবুল আলম সালেহী এবং কুড়িগ্রাম-৪ এ জামায়াতে ইসলামীর মো. মোস্তাফিজুর রহমান বিজয়ী হয়েছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৬ (সদর) আসনে বিপুল ভোটে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও বগুড়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান এ ফলাফল ঘোষণা করেন। ১৫০টি ভোটকেন্দ্রের সব কটির ফলাফলে তারেক রহমান ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ২ লাখ ১৬ হাজার ২৮৪ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় জোটের প্রার্থী ও জামায়াতের বগুড়া শহর শাখার আমির আবিদুর রহমান দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৯৭ হাজার ৬২৬ ভোট। বগুড়া পৌরসভার ২১টি ওয়ার্ড ও সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৫৪ হাজার ৪৩ জন। ভোট পড়েছে ৭১ দশমিক ৩ শতাংশ। এর আগে ১৯৯৬ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত এই আসনে বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া নির্বাচিত হয়েছিলেন। গণভোটের ফলাফল একই আসনে অনুষ্ঠিত গণভোটে মোট ভোট পড়েছে ২ লাখ ৯৫ হাজার ৭৮২টি। এর মধ্যে ‘হ্যাঁ’ ভোট পেয়েছে ২ লাখ ১৫ হাজার ৫৭৯ এবং ‘না’ ভোট পড়েছে ৮০ হাজার ২০৩টি। ঢাকা-১৭ আসনেও জয় ঢাকা-১৭ আসনেও বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছেন তারেক রহমান। তিনি পেয়েছেন ৫৪ হাজার ৮২৫ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী ডা. খালিদুজ্জামান পেয়েছেন ৪৬ হাজার ৮৪০ ভোট। ব্যবধান ৭ হাজার ৯৮৫ ভোট। বগুড়া জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ফজলুল হক জানান, বগুড়া-৬ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৫৪ হাজার ২৯ জন এবং ভোটের হার ৭১ দশমিক ৩৪ শতাংশ। এ আসনে তারেক রহমানের বিপরীতে মোট চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, নির্বাচন যদি নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও বিতর্কহীন হয় তাহলে ফলাফল মেনে নিতে কোনো আপত্তি নেই। তবে নির্বাচনকে অবশ্যই নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ হতে হবে। ভোট নিয়ে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটানো হলে সেই ফলাফল মেনে নেয়া হবে না বলেও তিনি স্পষ্টভাবে জানান। বৃহস্পতিবার রাজধানীর গুলশানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে গুলশান মডেল স্কুলে নিজের ভোট প্রদান শেষে রাজধানীর কয়েকটি এলাকা পরিদর্শন করেন তারেক রহমান। পরে গুলশানে তার কার্যালয়ের সামনে উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন তিনি। তারেক রহমান বলেন, ‘নির্বাচন যদি নিরপেক্ষ হয়, সুষ্ঠু হয় এবং বিতর্কহীন হয়, তাহলে কেন ফলাফল মেনে নেব না? সব দলই মেনে নেবে। তবে একটি শর্ত আছে—নির্বাচন নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ হতে হবে। আমরা যেসব অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা দেখছি, মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা হচ্ছে—এ ধরনের বিষয় কোনোভাবেই মেনে নেয়া যাবে না।’ তিনি আরো বলেন, ‘এদেশের মালিক সাধারণ জনগণ। তারা যদি স্বতঃস্ফূর্তভাবে বেরিয়ে এসে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন এবং ভোটের সংখ্যা যত বেশি বাড়বে, আমরা বিশ্বাস করি সব ধরনের ষড়যন্ত্র প্রতিহত করা সম্ভব হবে।’ সারাদেশে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘যারা এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে, তাদের বিষয়ে জনগণের নেতিবাচক ধারণা তৈরি হবে। কারণ এসব ঘটনা ভালো নয়। তারা বিভিন্নভাবে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।’ ভোটের ফল গণনায় দেরি হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ফল গণনা নিয়ে কেন দেরি হবে? দেরি হওয়ার কোনো কারণ নেই। মানুষ দ্রুত ফল চাইবে। আমরা আশা করবো নির্বাচন কমিশন জনগণের সামনে দ্রুত ফল প্রকাশের চেষ্টা করবে।’ তিনি বলেন, নির্বাচনের ফল প্রকাশের একটি নির্ধারিত সময়সীমা রয়েছে এবং সেই সময়সীমার মধ্যেই জনগণ ফলাফল দেখতে পারবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ঢাকায় ভোটারের উপস্থিতি সন্তোষজনক বলেও মন্তব্য করেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।