ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সবকটি আসনের বেসরকারি ফলাফল সম্পন্ন হয়েছে। শান্তিপূর্ণ ও সহিংসতামুক্ত এই নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে ভূমিধস জয় পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। প্রাথমিক ফল অনুযায়ী, ২৯৯ আসনের মধ্যে বিএনপি ও তাদের সমর্থিত জোটের প্রার্থীরা ২১৩টি আসনে বিজয়ী হয়েছেন। অন্যদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–সমর্থিত জোট পেয়েছে মোট ৭৭টি আসন। এর মধ্যে জামায়াতে ইসলামী এককভাবে ৬৮টি, এনসিপি ৬টি এবং খেলাফত মজলিস ৩টি আসনে জয়লাভ করেছে। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৮টি এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের একজন প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন।
ঢাকার বেশির ভাগ আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি’র প্রার্থীরা। ২০টি আসনের মধ্যে প্রাপ্ত ফলে ১৪টিতে বিএনপি প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। জামায়াত ও এনসিপি প্রার্থী জয়ী হয়েছেন ৬ জন। সিলেট বিভাগে সবচেয়ে ভালো করেছে বিএনপি। এ বিভাগের ১৭টির মধ্যে একটি ছাড়া সব আসনে জয়ী হয়েছেন বিএনপি প্রার্থীরা। এছাড়া দেশের পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলেও ভালো ফলাফল করেছে দলটি। অন্যদিকে, উত্তরাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলে জামায়াত জোটের প্রার্থীরা ভালো ফলাফল করেছেন।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে একটানা বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ব্যালট পেপারে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ২৯৯টি আসনে উৎসবমুখর পরিবেশে সহিংসতামুক্ত এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এবারের নির্বাচনের দিন সংঘাত ও সংঘর্ষের জেরে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। দীর্ঘ দেড় যুগ পর গণতান্ত্রিক পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যান ভোটাররা। নির্বাচন ঘিরে সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৯ লক্ষাধিক সদস্য মোতায়েন ছিল। ভোটকেন্দ্রের বাইরে সেনাবাহিনী ও বিজিবি স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে।
ঢাকায় বিজয়ী হয়েছেন যারা: ঢাকা-১ এ বিএনপি’র আবু আশফাক, ঢাকা-২ এ বিএনপি’র আমান উল্লাহ আমান, ঢাকা-৩ এ বিএনপি’র গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ঢাকা-৪ এ বিএনপি’র তানভীর ইসলাম রবিন, ঢাকা-৫ এ জামায়াতের কামাল হোসেন, ঢাকা-৬ এ বিএনপি’র ইশরাক হোসেন, ঢাকা-৭ এ বিএনপি’র প্রার্থী, ঢাকা-৮ এ বিএনপি’র মির্জা আব্বাস, ঢাকা-৯ এ বিএনপি’র হামিদুর রহমান, ঢাকা-১০ এ বিএনপি’র শেখ রবিউল ইসলাম রবি, ঢাকা-১১ এ এনসিপি’র নাহিদ ইসলাম, ঢাকা-১২ তে জামায়াতের সাইফুল আলম খান মিলন, ঢাকা-১৩ তে বিএনপি’র ববি হাজ্জাজ, ঢাকা-১৪ তে জামায়াতের ব্যারিস্টার মীর আহমেদ কাসেম আরমান, ঢাকা-১৫ তে জামায়াতের ডা. শফিকুর রহমান, ঢাকা-১৬ তে জামায়াতের কর্নেল (অব.) আবদুল বাতেন, ঢাকা-১৭ তে বিএনপি’র তারেক রহমান, ঢাকা-১৮ তে বিএনপি’র এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, ঢাকা-১৯ এ বিএনপি’র দেওয়ান সালাহউদ্দিন এবং ঢাকা-২০ এ বিএনপি’র তমিজ উদ্দিন।
বিজয়ী হয়েছেন যারা: সুনামগঞ্জ-১ এ বিএনপি’র কামরুজ্জমান কামরুল, সুনামগঞ্জ-২ এ বিএনপি’র নাছির উদ্দিন চৌধুরী, সুনামগঞ্জ-৩ এ বিএনপি’র কয়ছর আহমেদ, সুনামগঞ্জ-৪ এ বিএনপি’র নূরুল ইসলাম, সুনামগঞ্জ-৫ এ বিএনপি’র কলিম উদ্দিন আহমেদ, সিলেট-১ এ বিএনপি’র খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সিলেট-২ এ বিএনপি’র তাহসিনা রুশদী লুনা, সিলেট-৩ এ বিএনপি’র এম এ মালিক, সিলেট-৪ এ বিএনপি’র আরিফুল হক চৌধুরী, সিলেট-৫ এ খেলাফতের মুফতি আবুল হাসান, সিলেট-৬ এ বিএনপি’র এমরান আহমদ চৌধুরী, মৌলভীবাজার-১ এ বিএনপি’র নাসির উদ্দিন আহমেদ মিঠু (৯৭,৫৩৪) বিজয়ী হয়েছেন, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মাওলানা মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম পেয়েছেন ৭৯,৬১৯ ভোট। মৌলভীবাজার-২ এ বিএনপি’র শওকতুল ইসলাম শকু, মৌলভীবাজার-৩ এ বিএনপি’র নাসের রহমান, মৌলভীবাজার-৪ এ বিএনপি’র মুজিবুর রহমান চৌধুরী (হাজী মুজিব) (১,৬৯,৬০৮) বিজয়ী হয়েছেন, নিকটতম প্রার্থী শেখ নূরে আলম হামিদী পেয়েছেন ৪৯,১৮৯ ভোট। হবিগঞ্জ-১ এ বিএনপি’র ড. রেজা কিবরিয়া, হবিগঞ্জ-২ এ বিএনপি’র আবু মনসুর সাখাওয়াত হাসান, হবিগঞ্জ-৩ এ বিএনপি’র জিকে গউছ, হবিগঞ্জ-৪ এ বিএনপি’র সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়সল।
ঢাকা-২ এ বিএনপি’র আমান উল্লাহ আমান, ঢাকা-২০ এ বিএনপি’র তমিজ উদ্দিন, টাঙ্গাইল-৮ এ বিএনপি’র আহমেদ আযম খান, কিশোরগঞ্জ-১ এ বিএনপি’র মাজহারুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-২ এ বিএনপি’র এডভোকেট মো. জালাল উদ্দীন, কিশোরগঞ্জ-৩ এ বিএনপি’র ড. এম ওসমান ফারুক, কিশোরগঞ্জ-৪ এ বিএনপি’র এডভোকেট ফজলুর রহমান, কিশোরগঞ্জ-৫ এ স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল, কিশোরগঞ্জ-৬ এ বিএনপি’র শরীফুল আলম (১,৮৫,৮৯৮) বিজয়ী হয়েছেন, প্রতিদ্বন্দ্বী খেলাফতের আতাউল্লাহ আমিন পেয়েছেন ৪২,৫২৫ ভোট।
মানিকগঞ্জ-১ এ বিএনপি’র এস এ জিন্নাহ কবীর, মানিকগঞ্জ-২ এ বিএনপি’র মইনুল ইসলাম খান শান্ত, মানিকগঞ্জ-৩ এ বিএনপি’র আফরোজা খান রিতা, মুন্সীগঞ্জ-১ এ বিএনপি’র মো. আব্দুল্লাহ, মুন্সীগঞ্জ-২ এ বিএনপি’র আব্দুস সালাম আজাদ, মুন্সীগঞ্জ-৩ এ বিএনপি’র মো. কামরুজ্জামান, গাজীপুর-৪ এ জামায়াতের সালাউদ্দিন আইউবী, গাজীপুর-৫ এ বিএনপি’র একেএম ফজলুল হক মিলন, নরসিংদী-১ এ বিএনপি’র খায়রুল কবির খোকন, নরসিংদী-২ এ বিএনপি’র মঈন খান, নরসিংদী-৩ এ বিএনপি’র মনজুর এলাহী, নরসিংদী-৪ এ বিএনপি’র সরদার সাখাওয়াত, ফরিদপুর-২ এ বিএনপি’র শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু, ভোলা-১ এ বিজেপি’র ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ, বরিশাল-৫ এ বিএনপি’র মজিবর রহমান সরোয়ার, বরিশাল-৬ এ বিএনপি’র আবুল হোসেন খান, পিরোজপুর-৩ এ বিএনপি’র রুহুল আমিন দুলাল (৬৩,১৩২) বিজয়ী হয়েছেন, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ডা. রুস্তম আলী ফরাজী পেয়েছেন ৩৫,৬২৩ ভোট।
জয়পুরহাট-১ এ জামায়াতের ফজলুর রহমান সাঈদ, জয়পুরহাট-২ এ বিএনপি’র আব্দুল বারী, নওগাঁ-১ এ বিএনপি’র মো. মোস্তাফিজুর রহমান, পাবনা-১ এ জামায়াতের নাজিবুর রহমান মোমেন, মেহেরপুর-১ এ জামায়াতের মাওলানা তাজ উদ্দীন খান (১,২২,৮২৯) বিজয়ী হয়েছেন, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি’র মাসুদ অরুন পেয়েছেন ১,০৪,২২৪ ভোট। মেহেরপুর-২ এ জামায়াতের নাজমুল হুদা (৯৪,১৬৮) বিজয়ী হয়েছেন, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি’র আমজাদ হোসেন পেয়েছেন ৮৫,৬৮৯ ভোট।
কুষ্টিয়া-১ এ বিএনপি’র রেজা আহমেদ বাচ্চু, কুষ্টিয়া-২ এ জামায়াতের আব্দুল গফুর (১,৮৯,৮১৬) বিজয়ী হয়েছেন, প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি’র ব্যারিস্টার রাগিব রউফ চৌধুরী পেয়েছেন ১,৪৩,২৮২ ভোট, কুষ্টিয়া-৩ এ মুফতি আমির হামজা, কুষ্টিয়া-৪ এ জামায়াতের আফজাল হোসেন, চুয়াডাঙ্গা-২ এ জামায়াতের রুহুল আমীন (২,১০,১১১) বিজয়ী হয়েছেন, প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি’র মাহমুদ হাসান খান বাবু পেয়েছেন ১,৬৩,২৯৯ ভোট।
বাগেরহাট-৩ এ বিএনপি’র ফরিদুল ইসলাম, খুলনা-৪ এ বিএনপি’র আজিজুল বারী হেলাল, খুলনা-৫ এ বিএনপি’র আলি আসগার, সাতক্ষীরা-১ এ জামায়াতের ইজ্জত উল্যাহ, সাতক্ষীরা-২ এ জামায়াতের মুহাদ্দিস আবদুল খালেদ, সাতক্ষীরা-৩ এ জামায়াতের রবিউল বাশার, সাতক্ষীরা-৪ এ জামায়াতের গাজী নজরুল ইসলাম।
বগুড়া-১ এ বিএনপি’র কাজী রফিকুল ইসলাম, বগুড়া-২ এ বিএনপি’র মীর শাহে আলম, বগুড়া-৩ এ বিএনপি’র আবদুল মহিত তালুকদার, বগুড়া-৫ এ বিএনপি’র গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ, বগুড়া-৬ এ বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
পঞ্চগড়-১ এ বিএনপি’র ব্যারিস্টার মোহাম্মদ নওশাদ জমির (১,৭৬,১৬৯) বিজয়ী হয়েছেন, প্রতিদ্বন্দ্বী এনসিপি’র সারজিস আলম পেয়েছেন ১,৬৮,০৪৯ ভোট। পঞ্চগড়-২ এ বিএনপি’র ফরহাদ হোসেন আজাদ (১,৭৪,৬৫০) বিজয়ী হয়েছেন, প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের সফিউল আলম পেয়েছেন ১,২৮,৮৬২ ভোট। ঠাকুরগাঁও-১ এ বিএনপি’র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
নীলফামারী-১ এ জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা আব্দুস সাত্তার, নীলফামারী-২ এ জামায়াতের আল ফারুক আব্দুল লতিফ, নীলফামারী-৩ এ জামায়াতের ওবায়দুল্লাহ সালাফী, নীলফামারী-৪ এ জামায়াতের আব্দুল মুনতাকিম, কুড়িগ্রাম-২ এ এনসিপি’র ড. আতিকুর রহমান মুজাহিদ, কুড়িগ্রাম-৩ এ জামায়াতের মাহবুবুল আলম সালেহী এবং কুড়িগ্রাম-৪ এ জামায়াতে ইসলামীর মো. মোস্তাফিজুর রহমান বিজয়ী হয়েছেন।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
জাতীয় সংসদে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকা নিয়ে বিরোধীদলীয় প্রস্তাব ঘিরে তুমুল বিতর্ক, হট্টগোল ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে স্পিকার আগামী মঙ্গলবার এ বিষয়ে দুই ঘণ্টা আলোচনার সময় নির্ধারণ করেন। রোববার সংসদের অধিবেশনে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বানের দাবিতে একটি মুলতবি প্রস্তাব উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, গণভোটে জনগণের সমর্থন পাওয়ার পরও এই পরিষদ গঠন না হওয়া জাতির প্রত্যাশার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তবে সরকারি দলের পক্ষ থেকে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম বলেন, সংসদের নির্ধারিত কার্যপ্রণালি অনুসরণ করেই এ ধরনের প্রস্তাব আলোচনায় আনা উচিত। প্রশ্নোত্তর ও বিধি-৭১–এর আলোচনার পরেই এ বিষয়ে কথা বলা যেতে পারে। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ প্রস্তাবটির প্রক্রিয়াগত বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলের সদস্যরা দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানান, যা দ্রুত হট্টগোলে রূপ নেয়। সংসদকক্ষে উভয় পক্ষের সদস্যদের মধ্যে কয়েক দফা উত্তেজনা দেখা যায়। আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান প্রস্তাবটিকে সময়োপযোগী উল্লেখ করে বলেন, বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ এবং আলোচনার দাবি রাখে। তবে তিনি বলেন, এ ধরনের আলোচনার আগে প্রয়োজনীয় নথি ও প্রস্তুতি থাকা জরুরি। বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, সংসদের কার্যক্রমে গণভোটের বিষয়টি উপেক্ষা করা হচ্ছে, যা জনগণের প্রত্যাশার পরিপন্থী। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল ঘোষণা দেন, আগামী ৩১ মার্চ মঙ্গলবার দিনের শেষ কার্যসূচি হিসেবে এই মুলতবি প্রস্তাব নিয়ে দুই ঘণ্টা আলোচনা হবে। এর পরও কিছু সময় হট্টগোল চলতে থাকে। পরে স্পিকার রুলিং দিয়ে পরবর্তী কার্যসূচিতে যাওয়ার নির্দেশ দেন এবং রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনা শুরু হয়।
নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমান মারা গেছেন বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। সম্প্রতি যমুনা টিভির লোগো ও ডিজাইন সংবলিত একটি ফটোকার্ডে ‘না ফেরার দেশে চলে গেলেন শামীম ওসমান’ শীর্ষক দাবিটি প্রচার হতে দেখা যায়। তবে রিউমার স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, শামীম ওসমানকে নিয়ে যমুনা টিভি এমন কোনো সংবাদ বা ফটোকার্ড প্রকাশ করেনি। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় যমুনা টিভির গ্রাফিক্স কার্ডের আদলে এই ভুয়া কার্ডটি তৈরি করা হয়েছে। যমুনা টিভির অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ, ওয়েবসাইট কিংবা ইউটিউব চ্যানেলে এই সংক্রান্ত কোনো খবরের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। এছাড়া ছড়িয়ে পড়া ফটোকার্ডটিতে ব্যবহৃত ফন্টের সঙ্গে যমুনা টিভির নিয়মিত ব্যবহৃত ফন্টের স্পষ্ট অমিল রয়েছে। অন্য কোনো মূলধারার গণমাধ্যমও এমন কোনো তথ্য প্রদান করেনি। উল্লেখ্য, রাজনৈতিকভাবে আলোচিত ব্যক্তিদের নিয়ে প্রায়ই এ ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য ও ভুয়া ফটোকার্ড ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। শামীম ওসমানের মৃত্যুর সংবাদটি একটি পরিকল্পিত গুজব মাত্র। জনসাধারণকে এ ধরনের স্পর্শকাতর বিষয়ে বিভ্রান্ত না হতে এবং তথ্য যাচাই করে শেয়ার করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম পৌর জামায়াতে ইসলামীর আমির সোহেল রানাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার ব্র্যাক কার্যালয়ের সামনে থেকে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়। জানা গেছে, ২০১৩ সালে রাজনৈতিক সহিংসতা চলাকালে আওয়ামী লীগের দায়ের করা একটি হত্যা মামলা এবং পুলিশের করা আরও দুটি মামলায় তার বিরুদ্ধে আদালতের পরোয়ানা ছিল। তৎকালীন সময়ে বিএনপি ও জামায়াত জোটের কর্মসূচী চলাকালে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের সাথে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। ওই সংঘর্ষে জামায়াত-শিবির ও বিএনপি-আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন কর্মী নিহত হন। সেই ঘটনার প্রেক্ষিতেই সোহেল রানার বিরুদ্ধে এই মামলাগুলো দায়ের করা হয়েছিল। পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজমুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে আদালতের ওয়ারেন্ট থাকায় তাকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এদিকে সোহেল রানার গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় জামায়াত ও শিবিরের নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। তারা বিকেলে শহরে মিছিল বের করে এই গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা জানান এবং অবিলম্বে সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি তোলেন। উপজেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে তারা আইনি প্রক্রিয়ায় তাদের নেতাকে মুক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে নতুন কোনো মামলায় যেন তাকে না জড়ানো হয় সেই আহ্বান জানিয়েছেন।