ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সবকটি আসনের বেসরকারি ফলাফল সম্পন্ন হয়েছে। শান্তিপূর্ণ ও সহিংসতামুক্ত এই নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে ভূমিধস জয় পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। প্রাথমিক ফল অনুযায়ী, ২৯৯ আসনের মধ্যে বিএনপি ও তাদের সমর্থিত জোটের প্রার্থীরা ২১৩টি আসনে বিজয়ী হয়েছেন। অন্যদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–সমর্থিত জোট পেয়েছে মোট ৭৭টি আসন। এর মধ্যে জামায়াতে ইসলামী এককভাবে ৬৮টি, এনসিপি ৬টি এবং খেলাফত মজলিস ৩টি আসনে জয়লাভ করেছে। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৮টি এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের একজন প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন।
ঢাকার বেশির ভাগ আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি’র প্রার্থীরা। ২০টি আসনের মধ্যে প্রাপ্ত ফলে ১৪টিতে বিএনপি প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। জামায়াত ও এনসিপি প্রার্থী জয়ী হয়েছেন ৬ জন। সিলেট বিভাগে সবচেয়ে ভালো করেছে বিএনপি। এ বিভাগের ১৭টির মধ্যে একটি ছাড়া সব আসনে জয়ী হয়েছেন বিএনপি প্রার্থীরা। এছাড়া দেশের পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলেও ভালো ফলাফল করেছে দলটি। অন্যদিকে, উত্তরাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলে জামায়াত জোটের প্রার্থীরা ভালো ফলাফল করেছেন।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে একটানা বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ব্যালট পেপারে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ২৯৯টি আসনে উৎসবমুখর পরিবেশে সহিংসতামুক্ত এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এবারের নির্বাচনের দিন সংঘাত ও সংঘর্ষের জেরে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। দীর্ঘ দেড় যুগ পর গণতান্ত্রিক পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যান ভোটাররা। নির্বাচন ঘিরে সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৯ লক্ষাধিক সদস্য মোতায়েন ছিল। ভোটকেন্দ্রের বাইরে সেনাবাহিনী ও বিজিবি স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে।
ঢাকায় বিজয়ী হয়েছেন যারা: ঢাকা-১ এ বিএনপি’র আবু আশফাক, ঢাকা-২ এ বিএনপি’র আমান উল্লাহ আমান, ঢাকা-৩ এ বিএনপি’র গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ঢাকা-৪ এ বিএনপি’র তানভীর ইসলাম রবিন, ঢাকা-৫ এ জামায়াতের কামাল হোসেন, ঢাকা-৬ এ বিএনপি’র ইশরাক হোসেন, ঢাকা-৭ এ বিএনপি’র প্রার্থী, ঢাকা-৮ এ বিএনপি’র মির্জা আব্বাস, ঢাকা-৯ এ বিএনপি’র হামিদুর রহমান, ঢাকা-১০ এ বিএনপি’র শেখ রবিউল ইসলাম রবি, ঢাকা-১১ এ এনসিপি’র নাহিদ ইসলাম, ঢাকা-১২ তে জামায়াতের সাইফুল আলম খান মিলন, ঢাকা-১৩ তে বিএনপি’র ববি হাজ্জাজ, ঢাকা-১৪ তে জামায়াতের ব্যারিস্টার মীর আহমেদ কাসেম আরমান, ঢাকা-১৫ তে জামায়াতের ডা. শফিকুর রহমান, ঢাকা-১৬ তে জামায়াতের কর্নেল (অব.) আবদুল বাতেন, ঢাকা-১৭ তে বিএনপি’র তারেক রহমান, ঢাকা-১৮ তে বিএনপি’র এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, ঢাকা-১৯ এ বিএনপি’র দেওয়ান সালাহউদ্দিন এবং ঢাকা-২০ এ বিএনপি’র তমিজ উদ্দিন।
বিজয়ী হয়েছেন যারা: সুনামগঞ্জ-১ এ বিএনপি’র কামরুজ্জমান কামরুল, সুনামগঞ্জ-২ এ বিএনপি’র নাছির উদ্দিন চৌধুরী, সুনামগঞ্জ-৩ এ বিএনপি’র কয়ছর আহমেদ, সুনামগঞ্জ-৪ এ বিএনপি’র নূরুল ইসলাম, সুনামগঞ্জ-৫ এ বিএনপি’র কলিম উদ্দিন আহমেদ, সিলেট-১ এ বিএনপি’র খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সিলেট-২ এ বিএনপি’র তাহসিনা রুশদী লুনা, সিলেট-৩ এ বিএনপি’র এম এ মালিক, সিলেট-৪ এ বিএনপি’র আরিফুল হক চৌধুরী, সিলেট-৫ এ খেলাফতের মুফতি আবুল হাসান, সিলেট-৬ এ বিএনপি’র এমরান আহমদ চৌধুরী, মৌলভীবাজার-১ এ বিএনপি’র নাসির উদ্দিন আহমেদ মিঠু (৯৭,৫৩৪) বিজয়ী হয়েছেন, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মাওলানা মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম পেয়েছেন ৭৯,৬১৯ ভোট। মৌলভীবাজার-২ এ বিএনপি’র শওকতুল ইসলাম শকু, মৌলভীবাজার-৩ এ বিএনপি’র নাসের রহমান, মৌলভীবাজার-৪ এ বিএনপি’র মুজিবুর রহমান চৌধুরী (হাজী মুজিব) (১,৬৯,৬০৮) বিজয়ী হয়েছেন, নিকটতম প্রার্থী শেখ নূরে আলম হামিদী পেয়েছেন ৪৯,১৮৯ ভোট। হবিগঞ্জ-১ এ বিএনপি’র ড. রেজা কিবরিয়া, হবিগঞ্জ-২ এ বিএনপি’র আবু মনসুর সাখাওয়াত হাসান, হবিগঞ্জ-৩ এ বিএনপি’র জিকে গউছ, হবিগঞ্জ-৪ এ বিএনপি’র সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়সল।
ঢাকা-২ এ বিএনপি’র আমান উল্লাহ আমান, ঢাকা-২০ এ বিএনপি’র তমিজ উদ্দিন, টাঙ্গাইল-৮ এ বিএনপি’র আহমেদ আযম খান, কিশোরগঞ্জ-১ এ বিএনপি’র মাজহারুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-২ এ বিএনপি’র এডভোকেট মো. জালাল উদ্দীন, কিশোরগঞ্জ-৩ এ বিএনপি’র ড. এম ওসমান ফারুক, কিশোরগঞ্জ-৪ এ বিএনপি’র এডভোকেট ফজলুর রহমান, কিশোরগঞ্জ-৫ এ স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল, কিশোরগঞ্জ-৬ এ বিএনপি’র শরীফুল আলম (১,৮৫,৮৯৮) বিজয়ী হয়েছেন, প্রতিদ্বন্দ্বী খেলাফতের আতাউল্লাহ আমিন পেয়েছেন ৪২,৫২৫ ভোট।
মানিকগঞ্জ-১ এ বিএনপি’র এস এ জিন্নাহ কবীর, মানিকগঞ্জ-২ এ বিএনপি’র মইনুল ইসলাম খান শান্ত, মানিকগঞ্জ-৩ এ বিএনপি’র আফরোজা খান রিতা, মুন্সীগঞ্জ-১ এ বিএনপি’র মো. আব্দুল্লাহ, মুন্সীগঞ্জ-২ এ বিএনপি’র আব্দুস সালাম আজাদ, মুন্সীগঞ্জ-৩ এ বিএনপি’র মো. কামরুজ্জামান, গাজীপুর-৪ এ জামায়াতের সালাউদ্দিন আইউবী, গাজীপুর-৫ এ বিএনপি’র একেএম ফজলুল হক মিলন, নরসিংদী-১ এ বিএনপি’র খায়রুল কবির খোকন, নরসিংদী-২ এ বিএনপি’র মঈন খান, নরসিংদী-৩ এ বিএনপি’র মনজুর এলাহী, নরসিংদী-৪ এ বিএনপি’র সরদার সাখাওয়াত, ফরিদপুর-২ এ বিএনপি’র শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু, ভোলা-১ এ বিজেপি’র ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ, বরিশাল-৫ এ বিএনপি’র মজিবর রহমান সরোয়ার, বরিশাল-৬ এ বিএনপি’র আবুল হোসেন খান, পিরোজপুর-৩ এ বিএনপি’র রুহুল আমিন দুলাল (৬৩,১৩২) বিজয়ী হয়েছেন, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ডা. রুস্তম আলী ফরাজী পেয়েছেন ৩৫,৬২৩ ভোট।
জয়পুরহাট-১ এ জামায়াতের ফজলুর রহমান সাঈদ, জয়পুরহাট-২ এ বিএনপি’র আব্দুল বারী, নওগাঁ-১ এ বিএনপি’র মো. মোস্তাফিজুর রহমান, পাবনা-১ এ জামায়াতের নাজিবুর রহমান মোমেন, মেহেরপুর-১ এ জামায়াতের মাওলানা তাজ উদ্দীন খান (১,২২,৮২৯) বিজয়ী হয়েছেন, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি’র মাসুদ অরুন পেয়েছেন ১,০৪,২২৪ ভোট। মেহেরপুর-২ এ জামায়াতের নাজমুল হুদা (৯৪,১৬৮) বিজয়ী হয়েছেন, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি’র আমজাদ হোসেন পেয়েছেন ৮৫,৬৮৯ ভোট।
কুষ্টিয়া-১ এ বিএনপি’র রেজা আহমেদ বাচ্চু, কুষ্টিয়া-২ এ জামায়াতের আব্দুল গফুর (১,৮৯,৮১৬) বিজয়ী হয়েছেন, প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি’র ব্যারিস্টার রাগিব রউফ চৌধুরী পেয়েছেন ১,৪৩,২৮২ ভোট, কুষ্টিয়া-৩ এ মুফতি আমির হামজা, কুষ্টিয়া-৪ এ জামায়াতের আফজাল হোসেন, চুয়াডাঙ্গা-২ এ জামায়াতের রুহুল আমীন (২,১০,১১১) বিজয়ী হয়েছেন, প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি’র মাহমুদ হাসান খান বাবু পেয়েছেন ১,৬৩,২৯৯ ভোট।
বাগেরহাট-৩ এ বিএনপি’র ফরিদুল ইসলাম, খুলনা-৪ এ বিএনপি’র আজিজুল বারী হেলাল, খুলনা-৫ এ বিএনপি’র আলি আসগার, সাতক্ষীরা-১ এ জামায়াতের ইজ্জত উল্যাহ, সাতক্ষীরা-২ এ জামায়াতের মুহাদ্দিস আবদুল খালেদ, সাতক্ষীরা-৩ এ জামায়াতের রবিউল বাশার, সাতক্ষীরা-৪ এ জামায়াতের গাজী নজরুল ইসলাম।
বগুড়া-১ এ বিএনপি’র কাজী রফিকুল ইসলাম, বগুড়া-২ এ বিএনপি’র মীর শাহে আলম, বগুড়া-৩ এ বিএনপি’র আবদুল মহিত তালুকদার, বগুড়া-৫ এ বিএনপি’র গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ, বগুড়া-৬ এ বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
পঞ্চগড়-১ এ বিএনপি’র ব্যারিস্টার মোহাম্মদ নওশাদ জমির (১,৭৬,১৬৯) বিজয়ী হয়েছেন, প্রতিদ্বন্দ্বী এনসিপি’র সারজিস আলম পেয়েছেন ১,৬৮,০৪৯ ভোট। পঞ্চগড়-২ এ বিএনপি’র ফরহাদ হোসেন আজাদ (১,৭৪,৬৫০) বিজয়ী হয়েছেন, প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের সফিউল আলম পেয়েছেন ১,২৮,৮৬২ ভোট। ঠাকুরগাঁও-১ এ বিএনপি’র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
নীলফামারী-১ এ জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা আব্দুস সাত্তার, নীলফামারী-২ এ জামায়াতের আল ফারুক আব্দুল লতিফ, নীলফামারী-৩ এ জামায়াতের ওবায়দুল্লাহ সালাফী, নীলফামারী-৪ এ জামায়াতের আব্দুল মুনতাকিম, কুড়িগ্রাম-২ এ এনসিপি’র ড. আতিকুর রহমান মুজাহিদ, কুড়িগ্রাম-৩ এ জামায়াতের মাহবুবুল আলম সালেহী এবং কুড়িগ্রাম-৪ এ জামায়াতে ইসলামীর মো. মোস্তাফিজুর রহমান বিজয়ী হয়েছেন।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
সরকারি দল ভুল পথে হাঁটলে তাদের সঠিক পথ দেখাবে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)—এমন মন্তব্য করেছেন দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। সোমবার (১৫ মার্চ) রাজধানীতে এনসিপি মহানগর উত্তরের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক ইফতার মাহফিলে তিনি এ কথা বলেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে এনসিপির লড়াই অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে দেশের তরুণ প্রজন্মের প্রতি মানুষের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তা পূরণে দলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। ইফতার মাহফিল শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঐকমত্য কমিশনের প্রক্রিয়া থেকেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সংস্কারের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তার দাবি, বিএনপি গণভোটের পক্ষে কথা বললেও প্রধান সংস্কারগুলোর বিষয়ে স্পষ্ট সমর্থন দিচ্ছে না এবং নিজেদের মতো করে সংস্কার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে চায়। নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, সরকারের কিছু সিদ্ধান্ত এনসিপিকে ক্রমেই আরও শক্তভাবে বিরোধিতার অবস্থানে ঠেলে দিচ্ছে।
দেশের আরও পাঁচ সিটি করপোরেশনে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। আজ শনিবার স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। নিয়োগপ্রাপ্ত পাঁচজনই রাজপথের প্রধান বিরোধী দল বিএনপির রাজনীতির সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আগামীকাল রবিবার থেকেই তাঁরা নিজ নিজ সিটি করপোরেশনে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। এই নিয়োগের মাধ্যমে বরিশাল, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, রংপুর ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন যথাক্রমে বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন, মাহফুজুর রহমান, রুকুনোজ্জামান রোকন, মাহফুজ উন নবী চৌধুরী এবং মো. ইউসুফ মোল্লা। দায়িত্বপ্রাপ্তদের রাজনৈতিক পরিচয়: বরিশাল: বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন (বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, বরিশাল বিভাগ)। রাজশাহী: মাহফুজুর রহমান (সাধারণ সম্পাদক, রাজশাহী মহানগর বিএনপি)। ময়মনসিংহ: রুকুনোজ্জামান রোকন (সদস্যসচিব, ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপি)। রংপুর: মাহফুজ উন নবী চৌধুরী (সদস্যসচিব, রংপুর মহানগর বিএনপি)। কুমিল্লা: মো. ইউসুফ মোল্লা (সাধারণ সম্পাদক, কুমিল্লা মহানগর বিএনপি)। স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৪ অনুযায়ী, এই প্রশাসকেরা পরবর্তী নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের মেয়রের ক্ষমতা ও সব ধরনের প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করবেন। মন্ত্রণালয় সূত্র নিশ্চিত করেছে, নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন জনপ্রতিনিধি আসার আগ পর্যন্ত তাঁরা এই পদে বহাল থাকবেন। উল্লেখ্য, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণসহ ৬টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। আজকের নিয়োগসহ দেশের ১১টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ সম্পন্ন হলো। বর্তমানে একমাত্র চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে আদালতের আদেশে বিএনপি নেতা ডা. শাহাদাত হোসেন মেয়রের দায়িত্ব পালন করছেন।
নেত্রকোনার একজন ছাত্রলীগ নেতা তার বাবার মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়ায় ত্যাজ্য ঘোষণার শিকার হয়েছেন। জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি মীর মো. সাজিদুর রহমান ছোটনের সঙ্গে তার বাবা মীর মো. আব্দুল মালেকের দীর্ঘদিনের পারিবারিক ও রাজনৈতিক মতবিরোধ এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) স্থানীয় আদালতে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে ছোটনকে ত্যাজ্য ঘোষণা করেন তার বাবা। ঘটনার পর বুধবার ছোটন নিজের ফেসবুক আইডিতে সেই নোটারির ছবি শেয়ার করে বিস্তারিত পোস্ট করেন, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। ত্যাজ্য ঘোষণায় আব্দুল মালেক উল্লেখ করেছেন, পরিবারের বেশিরভাগ সদস্যই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রবীণ সমর্থক। কিন্তু ছোটন তার কৈশোর থেকেই পরিবারের রাজনীতির আদর্শ থেকে সরে এসে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সক্রিয় সদস্য হিসেবে পরিচিত হন। এ রাজনৈতিক ভিন্নতার কারণে পারিবারিক সম্পর্ক দীর্ঘ সময় ধরে তিক্ত হয়ে ওঠে। বাবার অভিযোগ অনুযায়ী, ছোটনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও পারিবারিক দাবিদাওয়ার বিষয়ে অসদাচরণই এই চরম পদক্ষেপের মূল কারণ। ঘোষণায় আরও বলা হয়েছে, প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক হিসেবে ছোটনের নিজস্ব মতাদর্শে চলার অধিকার থাকলেও তার কোনো কর্মকাণ্ডের দায়ভার এখন থেকে পরিবার বহন করবে না। ছোটন তার ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেছেন, দীর্ঘ বছর পরিবারের ভেতরে ঘটে যাওয়া নানা ঘটনা তিনি গোপন রাখার চেষ্টা করেছিলেন, তবে অবশেষে তা প্রকাশের মুখে এসেছে। ক্লান্তির প্রকাশ থাকলেও, ছাত্রলীগের একনিষ্ঠ সদস্য হিসেবে তার রাজনৈতিক পথচলা চলবে বলে তিনি দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করেন। পোস্টে তিনি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের বিদ্রোহী কবিতার কয়েকটি লাইন উদ্ধৃত করে নিজের লড়াকু মানসিকতার প্রতিফলন ঘটান। এই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনৈতিক সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে সহমর্মিতা সৃষ্টি করেছে। অনেকেই তার পদক্ষেপকে সাহসী ও ন্যায্য বলে অভিহিত করছেন এবং কঠিন সময়ে তাকে মানসিক সহায়তা দিচ্ছেন। নেত্রকোনার রাজনৈতিক মহলেও এ ঘটনা এখন প্রধান আলোচনার বিষয়। দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ছোটনের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।