বিএনপি

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে প্রকাশিত খোলা চিঠিতে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরেছেন মতিউর রহমান লিটু। ছবি: সংগৃহীত
জুলাই সনদ ও গণভোট নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে মতিউর রহমান লিটুর খোলা চিঠি।

নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ওয়েস্টার্ন নিউইয়র্ক বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রধান সমন্বয়ক মতিউর রহমান লিটু, বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্দেশে একটি খোলা চিঠি প্রকাশ করেছেন। চিঠিতে তিনি দলের প্রতি নিজের দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা, বিভিন্ন নেতার সহযোগিতার স্মৃতিচারণ এবং দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ব্যক্তিগত মতামত তুলে ধরেছেন।   খোলা চিঠিতে মতিউর রহমান লিটু জানান, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে নিয়ে নির্মিত একটি ভিডিও ডকুমেন্টারি দেখার পর তারেক রহমানের নির্দেশে দলের কয়েকজন নেতা তাকে সহযোগিতা করেছিলেন। তিনি আশিক ইসলাম, শামসুল আলম, মোখলেসুর রহমান চৌধুরী, শিমুল বিশ্বাস সহ বিএনপির বিভিন্ন সিনিয়র নেতার সহযোগিতার কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন।   চিঠিতে তিনি বলেন, বিএনপির প্রতি তার ভালোবাসা শৈশব থেকেই। পারিবারিকভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় দলটির সঙ্গে তার আবেগ ও আদর্শিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তিনি তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জাতীয় ঐক্যের স্বার্থে কয়েকটি বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।   বিশেষ করে তিনি ‘জুলাই সনদ’ ও ‘গণভোটের রায়’ গ্রহণের ঘোষণা দিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তার মতে, এ ধরনের উদ্যোগ দেশের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কমাতে এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ আরও শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখতে পারে।   চিঠিতে তিনি আরও অভিযোগ করেন, একটি মহল বিএনপিকে জুলাই আন্দোলনের বিপরীতে দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় তদন্তেরও আহ্বান জানান তিনি।   চিঠির শেষাংশে মতিউর রহমান লিটু স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, এটি সম্পূর্ণ তার ব্যক্তিগত মতামত। এ বক্তব্যের সঙ্গে বিএনপির কোনো সিনিয়র নেতা বা অন্য কোনো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্পৃক্ততা নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।   নিচে Motiur Rahman Litu 'র লিখা #চিঠি দেয়া হলোঃ   মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি খোলা চিঠি, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও একটি অনুরোধ; -মতিউর রহমান লিটু   সালাম নিবেন, আশাকরি আপনি ভালো আছেন। আজ কয়েকটি কথা বলার জন্য একটি খোলা চিঠি লিখছি। শহীদ জিয়াকে নিয়ে ১৭বছর আগে আনাড়ি হাতে একটি ভিডিও ডকুমেন্টারি বানিয়েছিলাম, ইউটিউবে সেটা দেখে আপনি আপনার তৎকালীন মুখপাত্র আশিক ইসলামকে বলেছিলেন আমাকে সহযোগিতা করার জন্য।   হ্যা, তিনি আমাকে অনেক সহযোগিতা করেছেন, ম্যাডামের সাবেক এপিএস শামসুল আলম ভাই নিজের মতো করেই আমাকে গড়ে তুলেছেন। রাষ্ট্রপতির সাবেক উপদেষ্টা মোখলেসুর রহমান চৌধুরী আপন ভাইয়ের মতো করেই বিএনপিতে আমাকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। এরপরে শতাধিক সিনিয়র নেতারা আমাকে সর্বদিক দিয়ে, সব সময় সহযোগিতা করেছেন। ম্যাডামের “Mother of democracy" উপাদি প্রাপ্তির পরে গুলশান অফিসে শিমুল বিশ্বাস ভাইয়ের দেয়া বৈঠকে সাবেক উপ রাষ্ট্রপতি মওদুদ আহম্মেদ সাহেব বুকে জড়িয়ে অলমোস্ট কেঁদে দিয়েছিলেন।   গুলশান অফিসের দ্বিতীয় তলায় শিমুল ভাইয়ের সেই বৈঠকে প্রায় ৩০জনের মতো সিনিয়র নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। আমি একজন সাধারণ বাবার সন্তান হয়ে এর চেয়ে বেশি কিছু কোনোদিন আশাকরিনি। শহীদ জিয়ার মৃত্যুর দিন আমার বাবার চিৎকার দিয়ে কান্নার স্মৃতি থেকে বিএনপির প্রতি আমার মায়া, ভালোবাসা জন্ম হয়েছে। সেই থেকেই বিএনপি করি। বেড়ে ওঠার সাথে সাথে রক্ত মাংস মজ্জায় একটি মাত্র দল মিশে আছে সেটি হলো বিএনপি আর দেশনেত্রী বেগম জিয়ার স্মৃতি। তাই মৃত্যুর আগে পর্যন্ত হয়তো ভুলতে পারবোনা এই দলের ভালোবাসা।   যদিও পরিবারের প্রায় সকল সদস্য বিএনপি রাজনীতির সাথে জড়িত। বিএনপির জন্য অনেক রক্ত ঝরেছে, অনেক কষ্টের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে, সেসব কথা আজ বলতে চাইনা। আজ জীবনের খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি কথা বলতে চাই- আপনি শহীদ জিয়ার সন্তান, আপনার জন্য জীবন দিতেও কুন্ঠাবোধ করবোনা। সব সময় আপনার ভালো চাই এবং চাইবো।   হাসিনাকে হটানোর জন্য আমরা ১৬বছর আন্দোলন করেছি কিন্তু শেষের একমাসে নিষ্পাপ তরুণ ছাত্ররা রাস্তায় নেমে আসায় হাসিনা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। যেই আন্দোলনটাকে আমরা জুলাই আন্দোলন হিসাবে চিনি, যেই আন্দোলনের জন্য দেশে একটি নির্বাচন হয়েছে, আপনি প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। জাতি মুক্তির স্বাধ গ্রহণ করেছে।   দেশের মানুষ আপনাকে ভালোবাসে- সেই ভালোবাসাটুকু যেন সারাজীবন টিকে থাকে, বিএনপি যেন দীর্ঘদিন বাংলাদেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে সেজন্য আপনাকে একটা বিশেষ অনুরোধ করতে চাই- কে কি পরামর্শ দিলো সেদিকে না তাকিয়ে এক বাক্যে জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় মেনে নেয়ার ঘোষণা দিন। এরপরে বিরোধীদলের সিনিয়র নেতাদের নিয়ে বসুন, সংসদে যেহেতু দুই তৃতীয়াংশ আছে, দেশ চালানোর মতো করে সংবিধানকে সাজিয়ে নিন।   দেখবেন বর্তমান বিরোধীদল আপনাকে সর্বাত্বক সহযোগিতা করছে। কারণ, সবার কিন্তু একটাই লক্ষ্য হাসিনার মতো একটা খুনি যেন কোনোদিন ফিরতে না পারে! আর কিছুনা।   বিরোধীদলের জীবনে যে সাফল্য এখন আছে সেটা তাদের জীবনের সর্বোচ্চ সাফল্য, তারাও সেটা হারাতে চাইবেননা। জুলাই বিষয়ে দূরত্বটা মীমাংসিত হলে বাংলাদেশটা হতে পারে সৌহার্দপূর্ণ একটি দেশ। যেখানে আমরা সুখে শান্তিতে সবাই বসবাস করতে পারবো। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আপনাকে যারা জুলাই এর মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্র করছে তারা কোনোভাবেই বিএনপির ভালো চাইতে পারে বলে আমি বিশ্বাস করিনা। আমার সন্দেহ তাঁরা হয়তো ভারতের উদ্দেশ্য কার্যকর করতে এমন খেলা খেলছে। গোয়েন্দা সংস্থা দিয়ে সেটাই এখন খুঁজে বের করা দরকার! আমার চিঠিটি আপনার দৃষ্টিগোচর হবে বলে আমি আশাকরি। ভুল বোঝেন, রাগ করেন আর অভিমান করেন যেভাবেই গ্রহণ করেন- “জুলাই সনদ ও গণভোট” নিয়ে অন্তত সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশটাকে একটা অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ থেকে রক্ষা করবেন বলে আমি বিশ্বাস করি।   এছাড়া জুলাই বিষয়ে একটা সমাধান হলে- তরুণ একটা প্রজন্ম তৈরী হয়েছে যারা  আপনার দূরদর্শিতার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে বিএনপির রাজনীতিতে আরো বেশী সচল হবে বলে আমি বিশ্বাস করি। ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। আল্লাহ হাফেজ। বাংলাদেশ জিন্দাবাদ। (উল্লেখ্যঃ আমার লেখা এই খোলা চিঠিতে বিএনপির কোনো সিনিয়র নেতা কিংবা অন্যকোন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের ইনফ্লুয়েন্স নেই! সম্পূর্ণ আমার ব্যক্তিগত অভিমত! তাই এই চিঠির জন্য আমার কোন শুভাকাংখীর ব্যাপারে ভুল ধারণা পোষণ করবেননা, অনুরোধ রইলো)

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ৪, ২০২৬ ১৪:০
আশরাফ উদ্দিন আকন্দ শিবপুর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক
‘নিশি রাতে পুকুরপাড়ে দেখা করলে মিলবে ফ্যামিলি কার্ড’, বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে নারীর অভিযোগ

নরসিংদীর শিবপুরে সরকারি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক নারীকে মধ্যরাতে পুকুরপাড়ে ডাকার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত আশরাফ উদ্দিন আকন্দ শিবপুর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। সম্প্রতি ভুক্তভোগী ওই নারীর অভিযোগসংবলিত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনসহ জনমনে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ভুক্তভোগীর দাবি, ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার শর্ত হিসেবে তাকে এই কুপ্রস্তাব দেওয়া হয়। এর আগেও অনৈতিক প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় তাকে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর বিভিন্ন সরকারি সুবিধা থেকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বঞ্চিত করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।   অন্যদিকে, নিজের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও চক্রান্ত বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত বিএনপি নেতা আশরাফ উদ্দিন আকন্দ। তার ভাষ্যমতে, সামাজিকভাবে তাকে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে দলেরই একটি প্রতিপক্ষ ওই নারীকে ব্যবহার করে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে। শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, প্রায় পাঁচ মাস আগে পা ভেঙে যাওয়ায় তিনি এখনও পুরোপুরি সুস্থ নন; তাই মধ্যরাতে পুকুরপাড়ে যাওয়ার অভিযোগটি একেবারেই অবান্তর। এছাড়া গত ঈদে ওই নারীকে জাকাতের কাপড় ও চালের স্লিপ দিতে না পারার ক্ষোভ থেকে এই মিথ্যা নাটক সাজানো হতে পারে বলেও তিনি দাবি করেন।   পুরো ঘটনাটি নিয়ে শিবপুর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি তাদের নজরে এসেছে এবং অভিযুক্ত আশরাফ উদ্দিনও যোগাযোগ করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। তবে দল থেকে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। একটি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত নেতার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন। পাশাপাশি এটি যদি নিছক চক্রান্ত প্রমাণিত হয়, তবে সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২৭, ২০২৬ ১৪:০
পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত
পরবর্তী রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুল

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা জোরালো হয়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচিত হলেও দলটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কাউকে মনোনয়ন দেয়নি।   বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের বরাত দিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম জানিয়েছে, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, গ্রহণযোগ্যতা, সততা এবং সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের সক্ষমতাকে গুরুত্ব দিচ্ছে ক্ষমতাসীন দলটি। মির্জা ফখরুল ছাড়াও বিএনপির স্থায়ী কমিটির কয়েকজন প্রবীণ নেতা এবং দলবহির্ভূত একাধিক ব্যক্তির নাম বিবেচনায় রয়েছে।   রাষ্ট্রপতি পদে নিজের সম্ভাব্য মনোনয়ন নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করেননি মির্জা ফখরুল। তবে তিনি জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী দলীয় ফোরামের আলোচনার মাধ্যমেই নির্ধারণ করা হবে। জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বিষয়টি চূড়ান্ত হওয়ার কথা রয়েছে।   দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, তুলনামূলক পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কাজ করার সক্ষমতার কারণে মির্জা ফখরুলকে শক্তিশালী সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দেখছেন দলের একটি অংশ। বিএনপির সংকটকালে দলকে সংগঠিত রাখা, দীর্ঘদিন মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দলের অবস্থান তুলে ধরায় তার ভূমিকার কথাও সামনে আনছেন সমর্থকেরা। তবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে তাকে সক্রিয় দলীয় রাজনীতি ও মন্ত্রিসভার দায়িত্ব ছাড়তে হবে। এ কারণে বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রমে তার প্রয়োজনীয়তা এবং রাষ্ট্রপতি পদে তার সম্ভাব্য ভূমিকা দুই দিক বিবেচনায় নিয়ে দলের ভেতরে আলোচনা চলছে।   রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় নতুন রাষ্ট্রপতির জন্য দলীয় আনুগত্যের পাশাপাশি সর্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা, সাংবিধানিক জ্ঞান এবং সংকট মোকাবিলার দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ হবে। রাষ্ট্রপতির পদটি প্রধানত সাংবিধানিক ও আনুষ্ঠানিক হলেও বিশেষ পরিস্থিতিতে এ পদধারীর সিদ্ধান্ত রাষ্ট্র পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।   ১৯৪৮ সালে ঠাকুরগাঁওয়ে জন্ম নেওয়া মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পেশাজীবনের শুরুতে শিক্ষকতা করেন। পরে সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দিয়ে সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ সালের নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি কৃষি এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন। পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিলে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে তিনি গত ২৪ জুলাই পদত্যাগ করেন। তার পদত্যাগের পর জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ অস্থায়ীভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন।   সংবিধান ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী, জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। নির্বাচন কমিশন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে এবং সংসদ সদস্যদের তালিকার ভিত্তিতে ভোটার তালিকা প্রস্তুত করবে। ক্ষমতাসীন বিএনপির সংসদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত প্রার্থীর নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি।   তবে দলীয় সিদ্ধান্ত ও আনুষ্ঠানিক মনোনয়ন ঘোষণার আগে মির্জা ফখরুলকেই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে নিশ্চিত করে বলার সুযোগ নেই। আপাতত তিনি সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে অন্যতম প্রধান নাম চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের ওপর।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৭, ২০২৬ ১৪:০
সাবেক স্পিকার ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার। ছবি: সংগৃহীত
সাবেক স্পিকার ও প্রবীণ রাজনীতিক ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার আর নেই

বাংলাদেশের সাবেক স্পিকার, প্রবীণ আইনজীবী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মুহাম্মদ জমির উদ্দিন সরকার ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। রোববার (১২ জুলাই) ভোর ৪টা ১৯ মিনিটে রাজধানীর শ্যামলীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।   বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন অসীম তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় তিনি বেশ কিছুদিন ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।   ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার বাংলাদেশের আইন, রাজনীতি এবং সংসদীয় গণতন্ত্রের অন্যতম পরিচিত ব্যক্তিত্ব ছিলেন। ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তিনি অষ্টম জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হন এবং ২৫ জানুয়ারি ২০০৯ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। স্পিকার হিসেবে সংসদীয় রীতি-নীতি অনুসরণ, সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে নিষ্ঠা এবং সংসদ পরিচালনায় তার ভূমিকা ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়।   ২০০২ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক এ. কিউ. এম. বদরুদ্দোজা চৌধুরীর পদত্যাগের পর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত, ২১ জুন থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বও পালন করেন।   ১৯৩১ সালের ১ ডিসেম্বর তৎকালীন জলপাইগুড়ি জেলার (বর্তমান পঞ্চগড় জেলার) তেতুলিয়া উপজেলার নয়াবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার। তার বাবা ছিলেন মৌলভী আলী বক্স এবং মা বেগম ফখরুন্নেছা।   তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে সম্মান ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর আইন বিষয়ে স্নাতক (এলএলবি) সম্পন্ন করেন। পরে ১৯৬১ সালে যুক্তরাজ্যে গিয়ে লন্ডনের লিংকনস ইন থেকে ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল ডিগ্রি অর্জন করেন। দেশে ফিরে তিনি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে সংবিধান, দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইন বিষয়ে দীর্ঘদিন সুনামের সঙ্গে আইন পেশা পরিচালনা করেন।   রাজনৈতিক জীবনের শুরু ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমে হলেও পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠার পর তিনি দলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং দীর্ঘদিন দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন।   তিনি একাধিকবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বিভিন্ন সময়ে ভূমি, শিক্ষা, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। রাজনীতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আইন, সমুদ্র আইন, জাতিসংঘ এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস নিয়ে একাধিক গ্রন্থও রচনা করেন।   শিক্ষা বিস্তারেও তার উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। নিজ জেলা পঞ্চগড়ে তিনি ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার কলেজিয়েট ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করেন, যা স্থানীয় শিক্ষার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।   ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বেগম নুর আখতারের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের এক মেয়ে ও দুই ছেলে রয়েছেন। তার দুই ছেলেই ব্যারিস্টার হিসেবে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে আইন পেশায় নিয়োজিত।   দীর্ঘ কর্মজীবনে আইন, রাজনীতি এবং সংসদীয় গণতন্ত্রের বিকাশে তার অবদান দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সহকর্মীরা।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১১, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: দ্য ডিসেন্ট
বসুন্ধরা গ্রুপের সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে বিএনপিবিরোধী প্রচারের অভিযোগ, দাবি দ্য ডিসেন্টের

বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকানাধীন কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে দীর্ঘ সময় ধরে বিএনপি, দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে ভিত্তিহীন, একপেশে ও ষড়যন্ত্রমূলক বয়ান প্রচার করা হয়েছিল বলে দাবি করেছে অনলাইনভিত্তিক অনুসন্ধানী প্ল্যাটফর্ম দ্য ডিসেন্ট।   সম্প্রতি প্রকাশিত একটি 'মিডিয়া ওয়াচ' প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের আগে কালের কণ্ঠ, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ডেইলি সান ও বাংলানিউজ২৪.কমে প্রকাশিত অসংখ্য সংবাদ ও মতামতধর্মী লেখায় বিএনপি এবং দলটির শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অর্থ পাচার, বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ, ষড়যন্ত্র, ক্যাসিনো-সংশ্লিষ্টতা ও দল পরিচালনায় ব্যর্থতার মতো অভিযোগ নিয়মিতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৩ সাল থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত প্রকাশিত সংবাদ ও নিবন্ধ বিশ্লেষণ করে অন্তত ৮১টি প্রতিবেদন শনাক্ত করেছে দ্য ডিসেন্ট। এর মধ্যে ৫২টি সংবাদ প্রতিবেদন এবং ২৮টি মতামতধর্মী লেখা রয়েছে। প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, এসব সংবাদের উল্লেখযোগ্য অংশে নির্ভরযোগ্য বা নাম প্রকাশিত কোনো সূত্রের উদ্ধৃতি ছিল না।   দ্য ডিসেন্টের ভাষ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর একই সংবাদমাধ্যমগুলোতে বিএনপি, তারেক রহমান ও খালেদা জিয়াকে নিয়ে ইতিবাচক প্রতিবেদন ও নিবন্ধ প্রকাশের প্রবণতা দেখা যায়। প্রতিবেদনে এই পরিবর্তনকে সম্পাদকীয় অবস্থানের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।   অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি আওয়ামী লীগ-সমর্থক বিভিন্ন পেজে তারেক রহমানকে নিয়ে যে নেতিবাচক পোস্ট ছড়ানো হয়েছে, সেগুলোর অনেক ক্ষেত্রেই অতীতে প্রকাশিত এসব সংবাদকে সূত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।   দ্য ডিসেন্ট দাবি করেছে, তাদের অনুসন্ধানে পাওয়া প্রতিবেদনগুলোর বিষয়বস্তু ছিল মূলত তারেক রহমানের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার, লন্ডনে বিলাসী জীবন, ক্যাসিনো-সংশ্লিষ্টতা, বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ এবং বিএনপির নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ।   প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, কালের কণ্ঠ, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ডেইলি সান ও বাংলানিউজ২৪.কমে প্রকাশিত একাধিক বিশেষ প্রতিবেদন ও কলামে এসব অভিযোগ উপস্থাপন করা হলেও অনেক ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ বা পরিচয়যুক্ত সূত্রের উল্লেখ পাওয়া যায়নি বলে তাদের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।   দ্য ডিসেন্ট আরও দাবি করেছে, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা, ক্যাসিনো কেলেঙ্কারি, হাওয়া ভবন, বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ, বিএনপির নেতৃত্বের সংকট, দল পরিচালনায় ব্যর্থতা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত বহু প্রতিবেদনে একই ধরনের বয়ান অনুসরণ করা হয়েছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়, তাদের এই 'মিডিয়া ওয়াচ'-এর উদ্দেশ্য ছিল ৫ আগস্টের আগে ও পরে একই রাজনৈতিক ব্যক্তি ও দলকে ঘিরে সংবাদ পরিবেশনের ধরনে কোনো পরিবর্তন এসেছে কি না এবং প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো কতটা তথ্যনির্ভর ছিল, তা পর্যালোচনা করা।   তবে প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে কালের কণ্ঠ, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ডেইলি সান, বাংলানিউজ২৪.কম কিংবা সংশ্লিষ্ট ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপের কোনো বক্তব্য প্রকাশ করা হয়নি। এই অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিক্রিয়াও প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।

নীলুফা নিশাত জুন ২৭, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় কর্মস্থলে দুর্বৃত্তের হামলায় প্রবাসী বিএনপি নেতার মৃত্যু l ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় কর্মস্থলে দুর্বৃত্তের হামলায় প্রবাসী বিএনপি নেতার মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দুর্বৃত্তের হামলায় মোঃ কবির হোসেন মৃধা নামে এক প্রবাসী বাংলাদেশির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ফ্লোরিডা স্টেট কমিটির একজন অত্যন্ত দায়িত্বশীল ও সক্রিয় সদস্য ছিলেন। মরহুমের পৈতৃক নিবাস বাংলাদেশের পটুয়াখালী জেলায়।   প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ফ্লোরিডার পম্পানো বিচ (Pompano Beach) এলাকায় নিজের কর্মস্থলে অবস্থানকালে দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন কবির হোসেন মৃধা। সেখানেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তবে ঠিক কী কারণে, কখন বা কারা এই প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কোনো তথ্য জানা যায়নি। স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ইতোমধ্যেই এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শুরু করেছে।   জনাব মৃধার এই অকাল ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা স্টেট বিএনপির পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে। নেতৃবৃন্দ মরহুমের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন এবং তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করে সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন।   প্রবাসের মাটিতে নিজ কর্মস্থলে এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সাধারণ প্রবাসীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২০, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী
সময় শেষ হয়ে আসছে, পরিবর্তন না এলে পরিণতির জন্য প্রস্তুত থাকুন: শফিকুর রহমান

গণভোটের মাধ্যমে প্রকাশিত জনগণের রায় বাস্তবায়নে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারকে আর খুব বেশি সময় দেওয়া হবে না বলে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের লালদীঘি ময়দানে ১১–দলীয় ঐক্যের এক বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন।   গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ নিরসন ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবিতে আয়োজিত এই সমাবেশে তিনি সরকারকে সতর্ক করে বলেন, সময় অত্যন্ত সীমিত এবং তা দ্রুত ফুরিয়ে আসছে; এই সময়ের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন না এলে চরম পরিণতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।   সরকারকে ১৯৯৬ সালের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বর্তমান সরকার যদি স্বেচ্ছায় জনদাবি মেনে না নেয়, তবে বাধ্য হয়েই তাদের দাবি মানতে হবে। নেতা-কর্মীদের জেল-জুলুম বা ফাঁসির ভয় দেখিয়ে কোনো লাভ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশ ও জনগণের স্বার্থে তারা বারবার জীবন দিতে প্রস্তুত।   এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক কিছু বক্তব্যেরও কড়া সমালোচনা করেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন জেলায় গিয়ে বিরোধী দল সম্পর্কে মিথ্যা ও ভুয়া তথ্য দিচ্ছেন, যা একটি রাষ্ট্রীয় পদের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক। নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পরও চাঁদাবাজি না কমে উল্টো বেড়েছে এবং দুর্নীতিকে 'জাতীয়করণ' করা হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।   সমাবেশে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামও প্রস্তাবিত বাজেটের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি এই বাজেটকে 'বাস্তবতা-বিবর্জিত' আখ্যা দিয়ে বলেন, এতে দুর্নীতি, লুটপাট এবং ব্যাংক দখল বন্ধের কোনো রূপরেখা নেই। ব্যাংকিং খাতের চরম বিশৃঙ্খলার কথা তুলে ধরে তিনি অভিযোগ করেন, ইসলামী ব্যাংককে আবারও এস আলমের হাতে তুলে দেওয়ার চক্রান্ত চলছে, যা জনগণ কোনোভাবেই মেনে নেবে না।   এছাড়া, চট্টগ্রামে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) কর্তৃক জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে তুলে নিয়ে নির্যাতনের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, পুলিশ, দুদক ও বিচার বিভাগের সংস্কার না হওয়ায় জনগণের ওপর আবারও জুলুম শুরু হয়েছে। সরকার স্বৈরতন্ত্রের পথে হাঁটলে জনগণ আবারও গণ-অভ্যুত্থানের পথে হাঁটতে বাধ্য হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।   একইসঙ্গে সীমান্তে বাংলাদেশিদের হত্যার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, কাঁটাতার আর বন্দুকের গুলি দিয়ে কখনো বন্ধুত্ব হয় না; আধিপত্যবাদী কোনো শক্তিই বাংলাদেশে টিকতে পারবে না।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ১৩, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী
সময় শেষ হয়ে আসছে, পরিবর্তন না এলে পরিণতির জন্য প্রস্তুত থাকুন: শফিকুর রহমান

গণভোটের মাধ্যমে প্রকাশিত জনগণের রায় বাস্তবায়নে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারকে আর খুব বেশি সময় দেওয়া হবে না বলে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।   শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের লালদীঘি ময়দানে ১১–দলীয় ঐক্যের এক বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন।   গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ নিরসন ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবিতে আয়োজিত এই সমাবেশে তিনি সরকারকে সতর্ক করে বলেন, সময় অত্যন্ত সীমিত এবং তা দ্রুত ফুরিয়ে আসছে; এই সময়ের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন না এলে চরম পরিণতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।   সরকারকে ১৯৯৬ সালের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বর্তমান সরকার যদি স্বেচ্ছায় জনদাবি মেনে না নেয়, তবে বাধ্য হয়েই তাদের দাবি মানতে হবে।   নেতা-কর্মীদের জেল-জুলুম বা ফাঁসির ভয় দেখিয়ে কোনো লাভ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশ ও জনগণের স্বার্থে তারা বারবার জীবন দিতে প্রস্তুত। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক কিছু বক্তব্যেরও কড়া সমালোচনা করেন বিরোধীদলীয় নেতা।   তিনি অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন জেলায় গিয়ে বিরোধী দল সম্পর্কে মিথ্যা ও ভুয়া তথ্য দিচ্ছেন, যা একটি রাষ্ট্রীয় পদের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক। নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পরও চাঁদাবাজি না কমে উল্টো বেড়েছে এবং দুর্নীতিকে 'জাতীয়করণ' করা হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।   সমাবেশে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামও প্রস্তাবিত বাজেটের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি এই বাজেটকে 'বাস্তবতা-বিবর্জিত' আখ্যা দিয়ে বলেন, এতে দুর্নীতি, লুটপাট এবং ব্যাংক দখল বন্ধের কোনো রূপরেখা নেই। ব্যাংকিং খাতের চরম বিশৃঙ্খলার কথা তুলে ধরে তিনি অভিযোগ করেন, ইসলামী ব্যাংককে আবারও এস আলমের হাতে তুলে দেওয়ার চক্রান্ত চলছে, যা জনগণ কোনোভাবেই মেনে নেবে না।   এছাড়া, চট্টগ্রামে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) কর্তৃক জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে তুলে নিয়ে নির্যাতনের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, পুলিশ, দুদক ও বিচার বিভাগের সংস্কার না হওয়ায় জনগণের ওপর আবারও জুলুম শুরু হয়েছে।   সরকার স্বৈরতন্ত্রের পথে হাঁটলে জনগণ আবারও গণ-অভ্যুত্থানের পথে হাঁটতে বাধ্য হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন। একইসঙ্গে সীমান্তে বাংলাদেশিদের হত্যার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, কাঁটাতার আর বন্দুকের গুলি দিয়ে কখনো বন্ধুত্ব হয় না; আধিপত্যবাদী কোনো শক্তিই বাংলাদেশে টিকতে পারবে না।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ১৩, ২০২৬ ১৪:০
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সম্ভাব্য নেতৃত্ব নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে ।  ছবি: সংগৃহীত
শিগগিরই আসছে ছাত্রদলের নতুন কমিটি, নেতৃত্বের দৌড়ে এগিয়ে যারা

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি শিগগিরই ঘোষণা করা হতে পারে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। বিএনপির আদর্শিক কর্মী তৈরির ‘ভ্যানগার্ড’ হিসেবে বিবেচিত এই সংগঠনের নেতৃত্ব পরিবর্তন ঘিরে ইতোমধ্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে।   দলীয় একাধিক সূত্র জানায়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নেতৃত্ব সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনের বিষয়টি অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এ লক্ষ্যে সম্ভাব্য নেতৃত্ব নির্বাচন নিয়ে অভ্যন্তরীণ আলোচনা চলছে।   সভাপতি পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি আরিফুল ইসলাম আরিফ, সহ-সভাপতি এ.বি.এম. ইজাজুল কবির রুয়েল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি খোরশেদ আলম সোহেল এবং বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মমিনুল ইসলাম জিসান।   দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে এই চার নেতাকে সভাপতি পদে শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।   সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক (যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদমর্যাদা) শরীফ প্রধান শুভ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ।   তবে চূড়ান্ত নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিএনপির হাইকমান্ড নতুন ও যোগ্য নেতৃত্বকে গুরুত্ব দেবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।   দলীয় সূত্র আরও জানায়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সংগঠনের কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণ এবার নেতৃত্ব নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় আসছে। বিশেষ করে জুলাই মাসের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে তাদের ভূমিকা নেতৃত্ব নির্বাচনের আলোচনায় প্রভাব ফেলছে।   ছাত্রদলের অধীনে থাকা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১৫ লাখ শিক্ষার্থী রয়েছে। এই বিশাল শিক্ষার্থী গোষ্ঠীকে মূলধারার রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করার অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় কমিটিতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একজন নেতাকে গুরুত্বপূর্ণ পদে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।   এ ক্ষেত্রে আলোচনায় রয়েছেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. রাজীবুল ইসলাম তালুকদার (বিন্দু)।   যদিও ছাত্রদলের নতুন কমিটি নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি, তবে সম্ভাব্য নেতৃত্ব নিয়ে দলীয় অঙ্গনে আলোচনা তীব্র হয়েছে। এখন নজর বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে।   নতুন কমিটিতে অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং আন্দোলন–সংগ্রামে ভূমিকার সমন্বয় কতটা গুরুত্ব পায়, তা নিয়েই রাজনৈতিক মহলে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

Unknown জুন ৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট আবু সাঈদ আহমদ
যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সহ-সভাপতি হলেন যুক্তরাষ্ট্রের আবু সাঈদ আহমদ

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) অন্যতম সহযোগী সংগঠন জাতীয়তাবাদী যুবদলের ১৫১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি অনুমোদন করা হয়েছে। গত ৪ জুন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই নতুন কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। সদ্য ঘোষিত এই কেন্দ্রীয় কমিটিতে সহ-সভাপতি হিসেবে পদ পেয়েছেন মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার সন্তান এবং বর্তমান যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট আবু সাঈদ আহমদ।   প্রবাসে অবস্থান করলেও দলীয় কার্যক্রমে এবং কমিউনিটি সেবায় দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন আবু সাঈদ আহমদ। যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির মতো গুরুত্বপূর্ণ ফোরামে সহ-সভাপতির দায়িত্ব পাওয়ার আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্র যুবদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দীর্ঘদিন নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।   প্রবাসে দলের সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করার পাশাপাশি তিনি কেন্দ্রীয় যুবদলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক হিসেবেও সফলতার সঙ্গে কাজ করে দলের হাইকমান্ডের আস্থা অর্জন করেন।   দলীয় সূত্রে জানা যায়, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, দলের প্রতি অবিচল আনুগত্য এবং বিগত দিনে রাজপথ ও প্রবাসের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকার মূল্যায়ন স্বরূপ তাকে এবার কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতির মতো সম্মানজনক পদে পদায়ন করা হয়েছে।   প্রবাসে দলের জন্য নিবেদিত এই নেতার নতুন পদায়নের খবর ছড়িয়ে পড়লে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাশাপাশি তার নিজ এলাকা মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার নেতাকর্মীদের মধ্যেও ব্যাপক আনন্দ ও ইতিবাচক সাড়া লক্ষ্য করা গেছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
বিএনপি নয়, ঢাকায় এআই ক্যামেরা প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকার

ডিজিটাল প্রযুক্তির ছোঁয়ায় বদলে যেতে শুরু করেছে রাজধানী ঢাকার ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। সড়কের শৃঙ্খলা ফেরাতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ পরীক্ষামূলকভাবে চালু করেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘এআই’ প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা। তবে এই আধুনিক প্রযুক্তির কৃতিত্ব কার—তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। নেটিজেনদের একাংশ এটিকে বিএনপির সফলতা হিসেবে প্রচার করলেও অনুসন্ধানে জানা গেছে, মূল উদ্যোগ ও টেন্ডার প্রক্রিয়াটি ছিল তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের।   সম্প্রতি রাজধানীর কারওয়ানবাজারের সোনারগাঁও হোটেল ক্রসিংয়ে গিয়ে দেখা যায় এক ভিন্ন চিত্র। একসময় যেখানে এক লেনের যানবাহন আটকে অন্য লেন ছাড়তে ট্রাফিক পুলিশকে রীতিমতো গলদঘর্ম হতে হতো, সেখানে এখন আর কোনো দৌড়ঝাঁপ নেই। সিগন্যালে লাল-সবুজ বাতি জ্বলার সাথে সাথেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে থেমে যাচ্ছে ও চলতে শুরু করছে সব ধরনের যানবাহন। চালকদের মধ্যেও ট্রাফিক আইন মানার এক ধরনের বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়েছে, যা রাজধানীর চিরচেনা যানজটের চিত্রে কিছুটা স্বস্তি এনেছে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই সফলতার প্রশংসা করে অনেকেই এটিকে রাজনৈতিক দল বিএনপির অবদান হিসেবে উল্লেখ করছেন। তবে ট্রাফিক বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে, ২০২৪ সালের অক্টোবরে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারই প্রথম ঢাকায় এআই ক্যামেরা স্থাপনের এই দূরদর্শী উদ্যোগ নিয়েছিল।   প্রকল্পের শুরুতেই গুলশান-২ গোলচত্বর এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্যামেরা বসানো হয়। সেখানে দেখা যায়, ট্রাফিক আইন অমান্যকারী যেকোনো যানবাহনকে মুহূর্তে শনাক্ত করছে এই এআই ক্যামেরা এবং সেই স্বয়ংক্রিয় তথ্য সরাসরি চলে যাচ্ছে ট্রাফিক বিভাগের সেন্ট্রাল কমান্ড সেন্টারে। গুলশানের এই পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সফল হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে বিজয় সরণিসহ রাজধানীর আরও vanished ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এই ক্যামেরা বসানোর কাজ প্রক্রিয়াধীন ছিল।   প্রযুক্তির এই আধুনিকায়নে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন সাধারণ নগরবাসী ও শিক্ষার্থীরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাইম উল ইসলাম নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, লাল বাতি জ্বলছে আর সমস্ত গাড়ি নিজ থেকেই থেমে যাচ্ছে, এটা আমাদের জন্য একদম নতুন এক অভিজ্ঞতা। আশা করি এর মাধ্যমে ঢাকার সড়কের দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা কিছুটা হলেও দূর হবে।   তবে এই প্রযুক্তির কারণে অসাবধানী চালকদের গুনতে হচ্ছে জরিমানা। নতুন এই ব্যবস্থার মুখে পড়া মোটরসাইকেল চালক সোহেল রানা জানান, প্রথম দিন বিষয়টা বুঝতে পারিনি। ট্রাফিক আইন ভঙ্গের কারণে হঠাৎ মোবাইলে ২০০০ টাকা মামলার মেসেজ পাই। এরপর থেকে রাস্তায় চলাচল করার সময় খুব সতর্ক থাকি।   এদিকে সড়ক ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহারকে স্বাগত জানালেও চালকদের সচেতনতার ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ও পরিবহন বিশেষজ্ঞ ড. মো. হাদিউজ্জামান বলেন, সিগন্যালগুলোকে পুরোপুরি আধুনিক ও কার্যকর করতে হলে চালকদের আইন মানার প্রবণতা বা কমপ্লায়েন্স অত্যন্ত জরুরি। চালকরা যদি সচেতন না হন, তবে কোনো উন্নত প্রযুক্তিই শেষ পর্যন্ত কাজে আসবে না।   বিদ্যমান ট্রাফিক ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা উল্লেখ করে এই বিশেষজ্ঞ আরও বলেন, "বর্তমানে সড়কে গাড়ি থামিয়ে মামলা দেওয়ার যে প্রচলিত পদ্ধতি রয়েছে, তাতে বেশ কিছু সমস্যা হয়। একটি গাড়ি থামালে পেছনের সবগুলো গাড়ি আটকে গিয়ে কৃত্রিম যানজট তৈরি হয়। অনেক সময় চালক ও পুলিশের মধ্যে বাকবিতণ্ডায় সময় নষ্ট হয়। এছাড়া ভিআইপি যানবাহনের ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগে অনেক সময় পুলিশ দ্বিধায় পড়ে। এই বাস্তবতায় সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এআইনির্ভর স্বয়ংক্রিয় মামলা ব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই।"   উদ্যোগটি যার আমলেই নেওয়া হোক না কেন, প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার এবং চালকদের আইন মানার মানসিকতা বজায় থাকলে ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।   সূত্র: দ্য ডেল্টা লেন্স

ইসতিয়াক আহমেদ মে ১৮, ২০২৬ ১৪:০
মা আওয়ামী লীগ নেত্রী, মেয়ে বিএনপির সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন পেলেন
মা আওয়ামী লীগ নেত্রী, মেয়ে বিএনপির সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন পেলেন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে একই পরিবারের মা ও মেয়ের ভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয়। বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পাওয়ার পর আলোচনায় এসেছেন নাদিয়া পাঠান পাপন, যার মা আওয়ামী লীগের একজন সক্রিয় নেত্রী।   সোমবার (২০ এপ্রিল) রাজধানীর নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ৩৬ জন প্রার্থীর চূড়ান্ত তালিকা ঘোষণা করেন। এতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার চান্দুরা ইউনিয়নের নাদিয়া পাঠান পাপনের নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।   পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নাদিয়া চান্দুরা গ্রামের দাউদপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং কাজী মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। পরে ঢাকার বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজে পড়াশোনা করেন। বর্তমানে তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এবং ছাত্রজীবন থেকেই দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত।   অন্যদিকে, তার মা সৈয়দা নাখলু আক্তার দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয়। তিনি উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, জেলা কৃষক লীগের সাবেক সহসভাপতি, বিজয়নগর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান এবং জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। মেয়ের মনোনয়ন প্রসঙ্গে নাখলু আক্তার বলেন, তার রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে মেয়ের কোনো সম্পর্ক নেই এবং নাদিয়া নিজস্বভাবে ঢাকায় রাজনীতি করছেন।   তবে স্থানীয় আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা দাবি করেছেন, তিনি এখনও দলীয় পদে বহাল রয়েছেন। বিষয়টি ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে।   এ বিষয়ে নাদিয়া পাঠান পাপনের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, সংরক্ষিত নারী আসনে সরাসরি ভোট গ্রহণ করা হয় না। সংসদের নির্বাচিত সদস্যদের ভোটে এসব আসন নির্ধারিত হয় এবং দলগুলো তাদের প্রাপ্ত আসনের অনুপাতে প্রার্থী মনোনয়ন দেয়। সে হিসেবে বিএনপি জোট ৩৬টি সংরক্ষিত আসন পাচ্ছে।

নীলুফা নিশাত এপ্রিল ২০, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: আমেরিকা বাংলা
সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির ৩৬ প্রার্থী নাম ঘোষণা, কারা পেলেন মনোনয়ন?

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য ৩৬ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে বিএনপি। দলটির প্রেস উইং সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। সোমবার বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানান, দুই দিনব্যাপী সাক্ষাৎকার শেষে মনোনয়ন বোর্ড চূড়ান্তভাবে ৩৬ জনকে মনোনীত করেছে।   মনোনয়নপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন- সেলিমা রহমান, শিরিন সুলতানা, রাশেদা বেগম হিরা, রেহানা আক্তার রানু, নেওয়াজ হালিমা আর্লি, মোছাম্মত ফরিদা ইয়াসমিন, বিলকিস ইসলাম, শাকিলা ফারজানা, হেলেন জেরিন খান, নিলুফার চৌধুরী মনি, নিপুণ রায় চৌধুরী, জেবা আমিন খান, মাহমুদা হাবিবা, সাবিরা সুলতানা, সানসিলা জেবরিন, সানজিদা ইসলাম তুলি, সুলতানা আহমেদ, ফাহমিদা হক, আন্না মিঞ্জ, সুবর্ণা শিকদার, শামীম আরা বেগম স্বপ্না, শাম্মী আক্তার, ফেরদৌসী আহমেদ, বিথীকা বিনতে হুসাইন, সুরাইয়া জেরিন, মানছুরা আক্তার, জহরত আদিব চৌধুরী, মমতাজ আলম, ফাহিমা নাসরিন, আরিফা সুলতানা, সানজিদা ইয়াসমিন, শওকত আর আক্তার, মাধবী মারমা, সেলিনা সুলতানা, রেজেকা সুলতানা ও নাদিয়া পাঠান পাপন।   দলীয় সূত্র জানায়, সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য প্রায় এক হাজার ২৫টি মনোনয়ন ফরম বিক্রি হলেও জমা পড়ে প্রায় ৯০০টি আবেদন। সেখান থেকে যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করা হয়েছে।   এর আগে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ১০টি সাংগঠনিক বিভাগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। সাক্ষাৎকারে প্রার্থীরা তাঁদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, আন্দোলনে ভূমিকা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার অঙ্গীকার করেন।   বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, ত্যাগী, যোগ্য ও দক্ষ নারী নেত্রীদের সমন্বয়ে এই তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে।   নির্বাচন কমিশনের তপশিল অনুযায়ী, সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন দাখিলের শেষ তারিখ ২১ এপ্রিল। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে ২২ ও ২৩ এপ্রিল। আপিল নিষ্পত্তি শেষে ৩০ এপ্রিল প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে এবং ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ মে।   নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আসন বণ্টনে বিএনপি জোট পাবে ৩৬টি, জামায়াতে ইসলামী জোট ১৩টি এবং স্বতন্ত্ররা একটি আসন পাবে।

Unknown এপ্রিল ১৯, ২০২৬ ১৪:০
রুকাইয়া জাহান চমক | ছবি: সংগৃহীত
সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী অভিনেত্রী চমক; প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের দাবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার লক্ষ্যে কুষ্টিয়া থেকে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী রুকাইয়া জাহান চমক। বেবী নাজনীন, কনকচাঁপা ও দিলরুবা খানের মতো সংস্কৃতি অঙ্গনের একঝাঁক তারকার সঙ্গে তিনিও গতকাল শুক্রবার দলীয় মনোনয়ন বোর্ডের সাক্ষাৎকারে অংশ নিয়েছেন। সম্প্রতি বিএনপিতে যোগদানের বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন এই অভিনেত্রী।   সাক্ষাৎকার শেষে চমক গণমাধ্যমকে জানান, দেশ ও বিশেষ করে নারীদের অধিকার নিয়ে কাজ করার লক্ষ্যেই তিনি রাজনীতিতে এসেছেন। তিনি বলেন, “বিএনপির প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে আমার পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করতে চাই। প্রধানমন্ত্রীর (তারেক রহমান) সঙ্গেও অনেক বিষয়ে কথা হয়েছে। কথা বলে আমার ইতিবাচক মনে হয়েছে এবং আমি মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়ে শতভাগ আশাবাদী।” তবে দলীয় সিদ্ধান্ত যাই হোক, তা ইতিবাচকভাবে মেনে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নতুন এই রাজনৈতিক যাত্রা নিয়ে একটি পোস্ট দিয়েছেন চমক। সেখানে তিনি সবার দোয়া ও সমর্থন কামনা করেছেন। বরিশালে জন্ম নেওয়া চমক ২০১৭ সালে ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শোবিজ অঙ্গনে পরিচিতি পান। ২০২০ সাল থেকে ছোট পর্দায় অভিনয় শুরু করা চমকের ‘মহানগর’, ‘হায়দার’ ও ‘হাউস নং ৯৬’-এর মতো কাজগুলো দর্শকদের কাছে প্রশংসিত হয়েছে।  

তাবাস্সুম এপ্রিল ১৭, ২০২৬ ১৪:০
টাঙ্গাইলে যাওয়ার পথে বিআরটি প্রকল্পের উড়ালসেতুর স্টেশন রোড এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর থামিয়ে দেওয়া হয়। ছবি: সংগৃহীত
টঙ্গীতে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর আটকে বিএনপি নেতার মুক্তির দাবি

গাজীপুরের টঙ্গীতে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর আটকে বিএনপি নেতা নূরুল ইসলাম সরকার-এর মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন দলটির নেতা-কর্মীরা। মঙ্গলবার (পয়লা বৈশাখ) সকালে এ ঘটনা ঘটে।   জানা যায়, পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে ‘কৃষক কার্ড’ প্রি-পাইলটিং প্রকল্প ও কৃষিমেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে টাঙ্গাইলের উদ্দেশে রওনা দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় টঙ্গীর বিআরটি উড়ালসেতুর স্টেশন রোড এলাকায় বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার নিয়ে অবস্থান নেন।   সকাল পৌনে ১০টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর সেখানে পৌঁছালে বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দিতে শুরু করেন এবং একপর্যায়ে গাড়িবহরের গতি রোধ করে দাঁড়িয়ে পড়েন। এ সময় পরিস্থিতি কিছুটা উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠলেও বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।   এ বিষয়ে নূরুল ইসলামের ছেলে সরকার শাহনূর ইসলাম রনি বলেন, তাঁর বাবা সম্পূর্ণ নির্দোষ এবং মিথ্যা মামলায় দীর্ঘদিন ধরে কারাবন্দী রয়েছেন। তিনি সঠিক তদন্তের মাধ্যমে বাবার মুক্তির দাবি জানান।   উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ৭ মে গাজীপুরের সাবেক সংসদ সদস্য আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলায় নূরুল ইসলাম সরকারকে আসামি করা হয় এবং একই বছর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে আদালত তাঁর মৃত্যুদণ্ড পরিবর্তন করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।   বর্তমানে মামলাটি সুপ্রিম কোর্টে আপিল শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। মামলার আরও কয়েকজন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি এখনো পলাতক রয়েছেন।

Unknown এপ্রিল ১৩, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
‘বিএনপি কি আরেকটা আওয়ামী লীগ হওয়ার চেষ্টা করছে?’: সংসদে হান্নান মাসুদের তীব্র আক্রমণ

স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে সংসদে উত্থাপিত নতুন বিলের তীব্র সমালোচনা করেছেন এনসিপির সংসদ সদস্য হান্নান মাসুদ। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে ‘স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) বিল-২০২৬’ উত্থাপনের পর তিনি অভিযোগ করেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে বিএনপি বর্তমানে ‘আরেকটা আওয়ামী লীগ’ হয়ে ওঠার চেষ্টা করছে।   হান্নান মাসুদ বলেন, “এই বিলের মাধ্যমে স্থানীয় প্রশাসনের পিঠে ছুরিকাঘাত করা হচ্ছে। এটি বিএনপির নিজস্ব ৩১ দফারও পরিপন্থী। সেখানে স্পষ্ট ছিল নির্বাচিত প্রতিনিধিকে অপসারণ করা হবে না, কিন্তু আজ বিশেষ পরিস্থিতির দোহাই দিয়ে মেয়র-কাউন্সিলরদের গলার কাঁটা বানানো হচ্ছে।” তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এই আইনের মাধ্যমে নির্বাচিতদের সরিয়ে মন্ত্রী-এমপিদের সন্তানদের প্রশাসক হিসেবে বসানোর পাঁয়তারা চলছে।   বগুড়া ও শেরপুর নির্বাচনে অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ তুলে তিনি আরও বলেন, “আওয়ামী লীগ যেভাবে চুরি করে হজম করতে পেরেছিল, বিএনপি তা পারবে না। দয়া করে আওয়ামী লীগের দেখানো পথে হাঁটবেন না।” বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিলেরও কঠোর সমালোচনা করেন তিনি।   হান্নান মাসুদের বক্তব্যের সময় সরকারি দলের সদস্যরা হইচই করলেও তিনি বিলটিকে গণতান্ত্রিক ইতিহাসের একটি ‘কালো আইন’ হিসেবে অভিহিত করেন এবং এটি পাস হলে স্থানীয় গণতন্ত্রকে গলা টিপে হত্যা করা হবে বলে সতর্ক করেন।

তাবাস্সুম এপ্রিল ৮, ২০২৬ ১৪:০
অভিযুক্ত মাদকাসক্ত সরোয়ার হোসেন নয়ন
স্কুলমাঠে গিয়ে বিএনপি নেতার মাদকাসক্ত ছেলের তান্ডব, অত:পর

পাবনার চাটমোহর উপজেলায় এক বিএনপি নেতার মাদকাসক্ত ছেলে সরোয়ার হোসেন নয়ন (৩৫) এর তান্ডবে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে এলাকাবাসী ও স্কুল শিক্ষার্থীরা।   বুধবার (০৮ এপ্রিল) দুপুরে স্থানীয় একটি স্কুলের মেয়ে শিক্ষার্থীদের ফুটবল খেলার ভিডিও করতে নিষেধ করায় তুলকালাম বাধায় নয়ন। তাকে বাধা দিতে গেলে লাঠি আর খুড় নিয়ে হামলা চালায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী সহ স্থানীয়দের। পরে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাকে আটক করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।   এ ঘটনায় কয়েকজন শিক্ষার্থী আতংকে অসুস্থ্য হয়ে পড়েন। তাকে ঠেকাতে গিয়ে আহত হন কয়েকজন এলাকাবাসী।   অভিযুক্ত সরোয়ার হোসেন নয়ন হরিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি কফিল উদ্দিনের ছেলে। তার বাড়ি ওই ইউনিয়নের চড়ইকোল পূর্বপাড়া গ্রামে।   পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি নেতা কফিল উদ্দিনের ছেলে নয়ন দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। এক পর্যায়ে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। তাকে বাড়িতে ঠিকমতো দেখভাল না করায় মাঝেমধ্যেই বাড়ির বাইরে গিয়ে সাধারণ মানুষের উপর হামলা চালায় ও লাঞ্ছিত করে।   বুধবার দুপুরে হরিপুর ইউনিয়নের চড়ইকোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ফুটবল খেলছিল স্কুলের মেয়ে শিক্ষার্থীরা। এ সময় তাদের খেলা ভিডিও ধারণ করতে থাকে অভিযুক্ত নয়ন। দেখতে পেয়ে তাকে ভিডিও করতে নিষেধ করেন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা। এমন অবস্থায় হঠাৎ করেই শিক্ষক শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠি নিয়ে চড়াও হয়ে মারার চেষ্টা করে। এ সময় অন্য শিক্ষকরা এসে তাকে প্রতিহত করে।   স্কুলের সহকারি শিক্ষক মাসুদ রানা বলেন, মেয়েরা তাকে ভিডিও করতে নিষেধ করেছিল, আমরাও তাকে নিষেধ করি ও সেখান থেকে চলে যেতে বলি। তখন সে প্রথমে লাঠি দিয়ে হামলার চেষ্টা করে। তাকে বাধা দেয়ায় পরে সে খুর, কেচি, শিকল নিয়ে এসে আবারও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের হামলার চেষ্টা করে। আমরা শিক্ষার্থীদের স্কুলের ভেতরে রেখে প্রধান ফটক আটকে দেই। খবর পেয়ে আশপাশের লোকজন এসে তাকে থামানোর চেষ্টা করলে তাদের ওপরও হামলা করে নয়ন।   তিনি আরো জানান, এ ঘটনায় কয়েকজন মেয়ে শিক্ষার্থী আতংকে অসুস্থ্য হয়ে পড়ে। স্থানীয় কয়েকজন আহত হয়েছেন। পরে অভিভাবকদের ডেকে এনে মেয়েদের তাদের কাছে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। আমরা তাৎক্ষনিক থানার ওসি ও ইউএনও সাহেবকে অবহিত করি।   এ বিষয়ে চাটমোহর থানার ওসি গোলাম মোস্তফা বলেন, ‌‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ গেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্ত নয়নকে আটক করে। ভুক্তভোগীদের এজাহার দিতে বলা হয়েছে। এজাহার দিলে মামলা নথিভূক্ত করে সেই মামলায় নয়নকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হবে।’   আর অভিযুক্ত নয়নের বাবা বিএনপি নেতা কফিল উদ্দিন তার প্রতিপক্ষের উপর দায় চাপিয়ে বলেন, ‘ছেলেকে ঢাকায় একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সে বেশিদিন ঠিকমতো লেখাপাড়া করতে পারলো না। আমার এলাকায় তো প্রতিপক্ষের অভাব নেই। তারা আমার ছেলেকে গাঁজা, মদ সহ অন্যান্য মাদক খাইয়ে এই অবস্থা করে দিয়েছে। এখন আর ছেলেকে কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারছি না। আমি অতিষ্ঠ, মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। আইনগতভাবে যেটা হয় সেটাই হোক।’

নীলুফা নিশাত এপ্রিল ৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
উন্নত চিকিৎসার জন্য সস্ত্রীক সিঙ্গাপুর গেলেন বিএনপি মহাসচিব

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগী নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য সিঙ্গাপুর গেছেন। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন স্ত্রী রাহাত আরা বেগম।   সোমবার (৬ এপ্রিল) রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে একটি ফ্লাইটে তারা সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে রওনা হন।   বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতেই দলটির মহাসচিব সস্ত্রীক সিঙ্গাপুর গেছেন।   দলীয় সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে তিনি শিগগিরই দেশে ফিরবেন।

Unknown এপ্রিল ৬, ২০২৬ ১৪:০
বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য। ছবি: সংগৃহীত
গণভোটের রায় বাস্তবায়নে জামায়াতসহ ১১ দলের বিক্ষোভ; রাজপথে বিরোধী দল

সরকার গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য। নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর এই প্রথম সংসদের প্রধান বিরোধী দল রাজপথে কোনো আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি পালন করল। শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে এই বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।   বিকেল সোয়া পাঁচটায় কর্মসূচি শুরুর আগে থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যানার ও ফেস্টুনসহ খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থলে জড়ো হতে থাকেন। সমাবেশে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য রাখেন এবং সংবিধান সংস্কারের মাধ্যমে গণভোটের রায় দ্রুত বাস্তবায়নের জোর দাবি জানান। বক্তারা হুঁশিয়ারি দেন যে, জনগণের রায়কে উপেক্ষা করার পরিণাম শুভ হবে না।   জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন সমাবেশে অভিযোগ করেন, নির্বাচনের পর বিএনপি জনগণের রায়কে উদ্দেশ্যমূলকভাবে উপেক্ষা করছে। তিনি বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করাকে যদি বৈধ বলা হয়, তবে সেই একই জনগণের ভোটে হওয়া সংস্কারকে কেন অবৈধ বলা হচ্ছে—এমন দ্বিচারিতা দেশের মানুষ মেনে নেবে না। তিনি সরকারের এই অবস্থানকে স্ববিরোধী বলে উল্লেখ করেন।   জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ তার বক্তব্যে বলেন, গণভোটকে অবজ্ঞা করার মাধ্যমে বিএনপি পুরো জাতিকে অপমান করেছে। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, সরকার যদি জনস্বার্থের বাইরে গিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়, তবে রাজপথ এবং সংসদ—উভয় জায়গাতেই কঠোর প্রতিবাদ গড়ে তোলা হবে। সমাবেশের পর নেতাকর্মীরা একটি মিছিল বের করেন।

তাবাস্সুম এপ্রিল ৩, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
‘বেগম জিয়ার আমলে মানুষ ভালো থাকায় বিএনপিকে ১৭ বছর ভুগতে হয়েছে’—চিফ হুইপ

বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন Khaleda Zia-এর শাসনামলে দেশের মানুষ ভালো ছিল—এ কারণেই দলটিকে দীর্ঘ সময় ভুগতে হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন চিফ হুইপ Nurul Islam।   শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দল।   নুরুল ইসলাম বলেন, “বেগম জিয়ার আমলে দেশের উন্নতি হয়েছিল, মানুষ ভালো ছিল—এই কারণেই আমরা ১৭ বছর ভুগেছি।” তিনি দাবি করেন, Ziaur Rahman দেশকে নানা অসংগতি থেকে বের করে এনেছিলেন এবং বহুদলীয় রাজনীতির প্রবর্তন করেছিলেন।   তিনি আরও বলেন, জিয়াউর রহমানের বিভিন্ন কর্মসূচির ফলে স্বল্প সময়ে খাদ্যসংকট দূর হয়েছিল। একই ধারাবাহিকতায় Tarique Rahman-ও বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। সভায় Sheikh Mujibur Rahman-এর সমালোচনা করে চিফ হুইপ বলেন, স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সিদ্ধান্তে দুর্বলতা ছিল। এছাড়া আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগও তোলেন তিনি।   তারেক রহমান সম্পর্কে তিনি বলেন, তিনি সাশ্রয়ী জীবনযাপন করেন এবং বিভিন্ন সংস্কারমূলক প্রস্তাব দিয়েছেন, যার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী পদে মেয়াদসীমা নির্ধারণের বিষয়ও রয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দলের সভাপতি হুমায়ুন কবির ব্যাপারীর সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালামসহ অন্যরা।

Unknown এপ্রিল ২, ২০২৬ ১৪:০
জাতীয় সংশোধ অধিবেশনে কথা বলছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান । ছবি : সংগৃহীত
১৮ বছরে বিএনপি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে প্রায় দেড় লাখ মামলা হয়েছে

২০০৭ সাল থেকে ২০২৫ সালের ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মোট ১ লাখ ৪২ হাজার ৯৮৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, এসব মামলা ছিল মিথ্যা ও হয়রানিমূলক। ইতোমধ্যে ২৩ হাজার ৮৬৫টি মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে।   বুধবার (১ মার্চ) সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবদুল মান্নানের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, “কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কতগুলো হয়রানিমূলক মামলা হয়েছে, তার বিস্তারিত তথ্য সরকারিভাবে সংরক্ষিত নেই। শুধুমাত্র বিএনপির ক্ষেত্রে আমরা এই পরিসংখ্যান সংগ্রহ করেছি।”   আইনমন্ত্রী আরও জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০২৬ সালের ৫ মার্চ পর্যন্ত রাজনৈতিক কারণে দায়ের করা হয়রানিমূলক মামলাগুলো প্রত্যাহারের জন্য জেলা পর্যায়ে চার সদস্যবিশিষ্ট কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। কমিটি মামলা প্রত্যাহারের আবেদনপত্র, এজাহার এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে চার্জশিট পর্যালোচনা করে নির্ধারণ করবে কোন মামলাগুলো রাজনৈতিক হয়রানিমূলক।   এরপর ২০২৬ সালের ৮ মার্চ ছয় সদস্যবিশিষ্ট উচ্চ কমিটি জেলা কমিটির সুপারিশ যাচাই করে মামলার প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। এ পর্যন্ত মোট ২৩ হাজার ৮৬৫টি মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে, আর বাকিগুলোর প্রত্যাহারের কার্যক্রম চলমান আছে বলে জানান আইনমন্ত্রী।

Unknown মার্চ ৩১, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

২০২৬ সালের তালিকায় এগিয়ে যে ৫ স্টেট

যুক্তরাষ্ট্রের কোন স্টেট এ বাংলাদেশিদের জীবন সবচেয়ে স্বস্তির? ২০২৬ সালের তালিকায় এগিয়ে যে ৫ স্টেট

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১, ২০২৬ ১৪:০