বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, হঠাৎ রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হওয়া কিছু ঘটনাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তিনি বলেন, রাজনীতিকে তার নিজস্ব গতিতে চলতে দিতে হবে এবং গণতন্ত্রকেও স্বাভাবিক নিয়মে এগোতে দেওয়া উচিত। বুধবার (১৮ মার্চ) রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মির্জা ফখরুল বলেন, “এরা হঠাৎ হঠাৎ বেরিয়ে আসে। এগুলোকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কিছু নেই। রাজনীতি চলুক, গণতন্ত্র চলুক – তাদের নিজস্ব গতিতে।” তিনি আরও বলেন, “বিচ্ছিন্ন ঘটনা দেখে রাজনীতিকে থামানো বা গণতন্ত্রকে আটকে দেওয়ার কোনো মানে নেই। রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে স্বাভাবিকভাবে চলতে দেওয়া উচিত।” স্থানীয় সরকার মন্ত্রী উল্লেখ করেন, “এখন আওয়ামী লীগের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। বাকিরা যারা আছে, তারা কাজ করবে। আওয়ামী লীগ কিছু চেষ্টা করলেও জনগণ তাদের রিজেক্ট করেছে। তাই লাভ হচ্ছে না।”
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে দলীয়ভাবে উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে সমালোচনার প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সমালোচনা থাকবেই এবং রাজনৈতিক সরকার তাদের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ীই নিয়োগ দেবে। তিনি বলেন, “এটা এমন নয় যে মুহূর্তের মধ্যে সবকিছু নিখুঁতভাবে করা সম্ভব।” বুধবার রাতে গুলশানে দলীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় তিনি এসব কথা বলেন। দলীয় ব্যক্তিদের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া নিয়ে বিতর্ক প্রসঙ্গে তিনি জানান, যাদেরকে সবচেয়ে উপযুক্ত মনে হয়েছে, তাদেরই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তার ভাষায়, দলীয় সরকার হলে কিছুটা দলীয় লোক থাকবেই—এটা স্বাভাবিক বিষয়। সমালোচনা হতে পারে, তবে এ নিয়ে তারা খুব বেশি উদ্বিগ্ন নন। তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয় ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে তাদের অতীত রেকর্ড খারাপ নয়, বরং ভালো। নিয়োগপ্রাপ্ত উপাচার্যরা একাডেমিক ও প্রশাসনিক—দুই ক্ষেত্রেই যোগ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন এবং এতে কোনো সমস্যা দেখেন না বলেও জানান। এদিকে, চলতি বছরের মধ্যেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এর জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। যদিও নির্দিষ্ট সময় এখনো ঠিক হয়নি, তবে তার মতে, খুব শিগগিরই কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। উল্লেখ্য, দলটির সর্বশেষ কাউন্সিল হয়েছিল ২০১৬ সালে। সরকার গঠনের পর দল ও সরকারের কার্যক্রম এক হয়ে গেছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দলের কার্যক্রম চলমান রয়েছে, যদিও ধীরগতিতে। সরকার গঠনে সময় লাগায় দলের অনেক নেতা এখন সরকারে ব্যস্ত, ফলে সাংগঠনিক কার্যক্রমে কিছুটা প্রভাব পড়েছে। তবে সরকার ও দল—দুটিই আলাদা সত্তা হিসেবে নিজ নিজ কাজ চালিয়ে যাবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়লাভের পর ১৭ই ফেব্রুয়ারি শপথ গ্রহণ করে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পর এই নির্বাচিত সরকারের প্রথম ৩০ দিন বা এক মাস পূর্ণ হলো। এই স্বল্প সময়ে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলো রাষ্ট্র পরিচালনায় কোন বার্তার ইঙ্গিত দিচ্ছে, তা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ও জনকল্যাণমুখী পদক্ষেপ সরকার গঠনের পরপরই নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রথাগত ১০০ দিনের পরিবর্তে এবার ১৮০ দিনের দীর্ঘমেয়াদী অগ্রাধিকার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী নিজেই, যার মাধ্যমে প্রতিটি পরিবার মাসে ২,৫০০ টাকা করে ভাতা পাবে। এছাড়া প্রান্তিক কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ এবং সারাদেশে খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় চালু করাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। প্রশাসন ও নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক জনকল্যাণমূলক কাজের পাশাপাশি কিছু বিষয়ে সমালোচনাও পিছু ছাড়ছে না। বিশেষ করে সিটি কর্পোরেশন ও জেলা পরিষদগুলোতে দলীয় নেতাদের প্রশাসক নিয়োগ এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আগের আমলের মতোই দলীয় শিক্ষকদের উপাচার্য হিসেবে পদায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ এবং লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনারকে প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া নিয়েও পেশাদার কূটনীতিক ও অর্থনীতিবিদদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কূটনীতি: ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতি পররাষ্ট্রনীতিতে ভারসাম্য বজায় রাখা এবং ভারতের সাথে সম্পর্কের বরফ গলানোকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নরেন্দ্র মোদীর অভিনন্দন এবং শপথ অনুষ্ঠানে ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতি একটি ইতিবাচক সূচনার ইঙ্গিত দেয়। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ স্পষ্ট করেছেন যে, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতি অনুসরণ করেই সার্বভৌমত্ব ও সমতার ভিত্তিতে সব রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করা হবে। আইন-শৃঙ্খলা ও সংবিধান সংস্কার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও প্রশাসনে বড় ধরনের রদবদল আনা হয়েছে। তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়কার ‘জুলাই সনদ’ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদের কার্যক্রম নিয়ে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছে। বিএনপি সংসদীয় পদ্ধতিতে সংবিধান সংশোধনের পক্ষে অনড় অবস্থানে থাকায় গণভোট পরবর্তী এই প্রক্রিয়াটি নতুন মোড় নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তাফিজুর রহমানের মতে, সামাজিক সুরক্ষার পদক্ষেপগুলো ইতিবাচক হলেও উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং বিনিয়োগ চাঙ্গা করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই হবে এই সরকারের আগামীর আসল পরীক্ষা।
সরকারি দল ভুল পথে হাঁটলে তাদের সঠিক পথ দেখাবে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)—এমন মন্তব্য করেছেন দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। সোমবার (১৫ মার্চ) রাজধানীতে এনসিপি মহানগর উত্তরের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক ইফতার মাহফিলে তিনি এ কথা বলেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে এনসিপির লড়াই অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে দেশের তরুণ প্রজন্মের প্রতি মানুষের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তা পূরণে দলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। ইফতার মাহফিল শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঐকমত্য কমিশনের প্রক্রিয়া থেকেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সংস্কারের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তার দাবি, বিএনপি গণভোটের পক্ষে কথা বললেও প্রধান সংস্কারগুলোর বিষয়ে স্পষ্ট সমর্থন দিচ্ছে না এবং নিজেদের মতো করে সংস্কার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে চায়। নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, সরকারের কিছু সিদ্ধান্ত এনসিপিকে ক্রমেই আরও শক্তভাবে বিরোধিতার অবস্থানে ঠেলে দিচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, প্রত্যাশিত দেশ গড়ে তুলতে সরকার সর্বাত্মকভাবে দিন-রাত কাজ করবে। তিনি দাবি করেন, গত ১৬ বছরে দেশে উন্নয়ন হয়নি এবং দেশের উন্নয়নের জন্য তার সুস্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। উন্নয়নের সুফল পেতে দেশবাসীকে ধৈর্য ধরার আহ্বানও জানান তিনি। সোমবার দিনাজপুর সার্কিট হাউজ মাঠে এক সুধী সমাবেশ ও ইফতার মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় নানাবাড়ির স্মৃতির কথা উল্লেখ করে দিনাজপুর এলাকার উন্নয়নে নিজের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, শিগগিরই দেশের শিল্প কারখানার মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। সেই বৈঠকে সারা দেশে শিল্প কারখানা স্থাপন করে কীভাবে দেশের উন্নয়ন করা যায় তা নিয়ে আলোচনা হবে। একই সঙ্গে দিনাজপুরে শিল্প কারখানা স্থাপনের মাধ্যমে বেকারদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। তারেক রহমান বলেন, সরকারের মেয়াদ এখনো এক মাসও পূর্ণ হয়নি। এর মধ্যেই নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ শুরু হয়েছে। কৃষিঋণ মওকুফ, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, ধর্মীয় গুরুদের সম্মানি ভাতা প্রদান এবং খাল খননের কাজ শুরু হয়েছে। তিনি জানান, আগামী মাসে কৃষক কার্ড দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে দিনাজপুরসহ সারা দেশের পানির সমস্যা সমাধান হবে এবং কৃষি জমিতে সেচের জন্য পানির সংকট কমবে। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ওপরে উঠলে আর্সেনিক সমস্যাও কমে আসবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। দিনাজপুর জেলা বিএনপির সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন দুলালের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার আহমেদ কচির পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন, সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর আলম, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আবদুল হালিম, দিনাজপুর চেম্বার অ্যান্ড কমার্সের সভাপতি আবু বকর সিদ্দিক, জেলা জমিয়তে ইসলামীর সভাপতি মতিউর রহমান কাশেমী এবং জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, দায়িত্ব নেওয়ার এক মাসের মধ্যেই ফ্যামিলি কার্ড ও খাল খনন কর্মসূচি চালু করা সম্ভব হয়েছে। জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার কাজ করে যাচ্ছে এবং জাতীয়তাবাদী দল কথা দিয়ে কথা রাখে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে ভাঙ্গা উপজেলার মানিকদহ ইউনিয়নের বলেরবাগ থেকে সোনাখোলা ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় আট কিলোমিটার খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। লক্ষ্মীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত উদ্বোধনী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান মোল্লা। শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, দেশের প্রতিটি নির্বাচনি এলাকার মানুষ সমানভাবে সরকারি সুবিধা পাবেন। যারা ভোট দিয়েছেন বা দেননি—সবার জন্যই ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও খাল খনন কর্মসূচির সুবিধা থাকবে। এসব কার্যক্রম বাস্তবায়নে কোনো দল-মত বিবেচনা করা হবে না বলেও তিনি জানান। তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদও জাতীয়তাবাদী দল সরকারের হাত ধরে বাস্তবায়িত হবে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এমপি শহিদুল ইসলাম বাবুল। তিনি বলেন, নদ-নদী ও খাল-বিল বাংলাদেশের প্রাণ এবং কৃষিকে টিকিয়ে রাখতে এসব খাল ও নদী নিয়মিত খনন করা প্রয়োজন। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদারেস আলী ইসা, আব্দুল্লাহ আবু জাহের, সাদরুল আলম ও আইয়ুব মোল্লাসহ অনেকে।
পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিএনপির ইশতেহারে উল্লেখিত ‘দেশব্যাপী নদী-নালা-খাল, জলাধার খনন ও পুনঃখনন’ কর্মসূচি উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুরে অবস্থিত সাহাপাড়া খাল খননের মাধ্যমে এ কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করা হয়। প্রধানমন্ত্রী সকাল ১০টার দিকে নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছান। সেখানে নেতাকর্মীরা তাকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান। বিমানবন্দর থেকে তিনি বিশেষ বুলেটপ্রুফ বাসে সৈয়দপুর শহরের মধ্য দিয়ে দিনাজপুরের দিকে যাত্রা করেন। কাহারোল উপজেলার বলরামপুর সাহাপাড়া এলাকায় ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ খাল পুনঃখননের মাধ্যমে দেশের খাল খনন কার্যক্রমের সূচনা করা হয়। একই সঙ্গে ভার্চুয়ালি দেশের ৫৪ জেলায় খাল খননের উদ্বোধন কার্যক্রম শুরু করা হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর প্রধানমন্ত্রী দিনাজপুর শহরের ফরিদপুর গোরস্তানে গিয়ে তার নিকট আত্মীয়দের কবর জিয়ারত করবেন। প্রধানমন্ত্রীর আগমনের সঙ্গে সঙ্গেই নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে। অনুষ্ঠান শেষে রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিনি ঢাকায় ফেরার পরিকল্পনা করছেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুর পাঠানো হচ্ছে। রোববার (১৫ মার্চ) সকাল ১১:২০ মিনিটে তাকে বহনকারী বিমানটি উড্ডয়ন করেছে। বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম জানান, মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শ অনুযায়ী তাকে বিদেশে নেওয়া হচ্ছে। তার শারীরিক অবস্থা এখনো সম্পূর্ণ আশঙ্কামুক্ত নয়। এর আগে, মির্জা আব্বাসের ব্যক্তিগত সচিব মিজানুর রহমান সোহেল জানিয়েছিলেন, দুপুর ১২টার দিকে তাকে সিঙ্গাপুর নেওয়া হবে। এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি সকাল ৯:১০ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছেছিল। মির্জা আব্বাসের সঙ্গে তার সহধর্মিণী আফরোজা আব্বাস এবং জ্যেষ্ঠ পুত্র মির্জা ইয়াসির আব্বাসও যাচ্ছেন। গত বৃহস্পতিবার ইফতারের সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানে করা সিটি স্ক্যান রিপোর্টে জটিলতা ধরা পড়ায় মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্তে শুক্রবার তার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচার শেষে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল এবং শনিবার সকালে পুনরায় সিটি স্ক্যান করা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রোববার (১৫ মার্চ) এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হবে। শনিবার (১৪ মার্চ) বিষয়টি তার ব্যক্তিগত সচিব মিজানুর রহমান সোহেল গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সকাল ১১টায় মির্জা আব্বাসকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুর নেওয়া হবে। তার সঙ্গে থাকবেন সহধর্মিণী ও জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস এবং জ্যেষ্ঠ সন্তান মির্জা ইয়াসির আব্বাস ভাশন। গত বুধবার (১১ মার্চ) ইফতারের সময় অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারান মির্জা আব্বাস। এরপর তাকে এভারকেয়ার হাসপাতাল ভর্তি করা হয়। শুক্রবার তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ গঠিত মেডিকেল বোর্ড তাকে দেশে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন। শুক্রবার বিকেলে প্রথম দফায় মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। পরে দ্বিতীয় দফা অস্ত্রোপচার শেষে তিনি নিউরো আইসিইউতে স্থানান্তরিত হন। বর্তমানে মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে ৭২ ঘণ্টা নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছেন। মির্জা আব্বাসের চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডে আছেন অধ্যাপক আলী উজ্জামান জোয়ার্দার, কাজী দ্বীন মোহাম্মদ, শাহাবুদ্দিন তালুকদার, রাজিউল হক, সৈয়দ সাঈদ আহমেদ, কাদের শেখ, শফিকুল ইসলামসহ এভারকেয়ার হাসপাতালের অন্যান্য চিকিৎসকরা। বিএনপির জ্যেষ্ঠ এই নেতার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিয়েই রয়েছেন দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা তারেক রহমান।
দেশের আরও পাঁচ সিটি করপোরেশনে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। আজ শনিবার স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। নিয়োগপ্রাপ্ত পাঁচজনই রাজপথের প্রধান বিরোধী দল বিএনপির রাজনীতির সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আগামীকাল রবিবার থেকেই তাঁরা নিজ নিজ সিটি করপোরেশনে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। এই নিয়োগের মাধ্যমে বরিশাল, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, রংপুর ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন যথাক্রমে বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন, মাহফুজুর রহমান, রুকুনোজ্জামান রোকন, মাহফুজ উন নবী চৌধুরী এবং মো. ইউসুফ মোল্লা। দায়িত্বপ্রাপ্তদের রাজনৈতিক পরিচয়: বরিশাল: বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন (বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, বরিশাল বিভাগ)। রাজশাহী: মাহফুজুর রহমান (সাধারণ সম্পাদক, রাজশাহী মহানগর বিএনপি)। ময়মনসিংহ: রুকুনোজ্জামান রোকন (সদস্যসচিব, ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপি)। রংপুর: মাহফুজ উন নবী চৌধুরী (সদস্যসচিব, রংপুর মহানগর বিএনপি)। কুমিল্লা: মো. ইউসুফ মোল্লা (সাধারণ সম্পাদক, কুমিল্লা মহানগর বিএনপি)। স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৪ অনুযায়ী, এই প্রশাসকেরা পরবর্তী নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের মেয়রের ক্ষমতা ও সব ধরনের প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করবেন। মন্ত্রণালয় সূত্র নিশ্চিত করেছে, নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন জনপ্রতিনিধি আসার আগ পর্যন্ত তাঁরা এই পদে বহাল থাকবেন। উল্লেখ্য, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণসহ ৬টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। আজকের নিয়োগসহ দেশের ১১টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ সম্পন্ন হলো। বর্তমানে একমাত্র চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে আদালতের আদেশে বিএনপি নেতা ডা. শাহাদাত হোসেন মেয়রের দায়িত্ব পালন করছেন।
ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে ঢুকে নিয়োগ পরীক্ষার কাগজপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে। শুক্রবার বিকেলে এই ঘটনা ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, হরিপুর উপজেলার মেদিনী সাগর বিএম মহাবিদ্যালয়-এ পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও আয়া পদে নিয়োগ পরীক্ষার আয়োজন করা হয়েছিল। পরীক্ষা চলাকালে উপজেলা বিএনপি সভাপতি জামাল উদ্দিন ২৫–৩০ জন নেতা-কর্মীর সঙ্গে ইউএনও কার্যালয়ে প্রবেশ করেন এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধের দাবি জানান। অভিযোগ রয়েছে, পরে তারা ইউএনও ও কলেজ অধ্যক্ষের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে নিয়োগ সংক্রান্ত ফাইল ও কাগজপত্র ছিনিয়ে নিয়ে চলে যান। ভিডিওতে দেখা যায়, জামাল উদ্দিন ইউএনওকে অভিযুক্ত করে বলেন, আপনি নিয়োগ নিয়ে বাণিজ্য শুরু করেছেন। আওয়ামী লীগের ফ্যাসিস্টদের নিয়োগ দেবেন, আমরা তা মানব না।” ইউএনও রায়হানুল ইসলাম এই সময় জানান, “এই অফিস চব্বিশ ঘণ্টা খোলা থাকে। অধ্যক্ষ যদি কিছু অবৈধ দেখতে পান, বোর্ডকে জানান। মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ হারুন অর রশিদ জানিয়েছেন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও তার লোকজন পরীক্ষার কাগজপত্র ছিনিয়ে নিয়ে যান। আমি চেষ্টা করেছি কাগজপত্র ফিরিয়ে আনতে।” হরিপুর ইউএনও রায়হানুল ইসলাম বলেন, “উচ্ছৃঙ্খল আচরণের ঘটনায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। জামাল উদ্দিন দাবি করেছেন, ইউএনও নিয়োগ পরীক্ষার সময় পয়সা লেনদেন করেছেন, এবং এ বিষয়টি জানিয়ে তিনি সেখানে যান। তার দাবি, পরে কাগজপত্র অফিসে ফেরত রাখা হয়েছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম শুক্রবার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের চেষ্টা উদ্বেগজনক ও নিন্দনীয় বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, এটি জুলাই বিপ্লবের চেতনা ও তরুণ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক আঘাত।' এক বিবৃতিতে নাহিদ ইসলাম জানান, আসিফ মাহমুদকে প্রধান আসামি করে জুলাই বিপ্লবের নেতৃত্বদানকারী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানকালীন ভূমিকার জন্য মামলা দায়েরের অপচেষ্টা হয়েছে। তবে আদালত ওই মামলা গ্রহণ করেনি। তিনি আরও বলেন, গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে এ ধরনের চেষ্টা শুধুমাত্র ব্যক্তিগত নয়; বরং এটি জুলাই বিপ্লবের চেতনা, ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রাম এবং সেই সংগ্রামের তরুণ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সুপরিকল্পিত আক্রমণ। নাহিদ ইসলাম বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দেশের তরুণ প্রজন্মের সাম্য, ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা, গণতন্ত্র ও ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ের প্রতীক। এই আন্দোলনের নেতৃত্বদাতা ছাত্রদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা চেষ্টা প্রমাণ করে যে, ৫ আগস্টের পরাজিত শক্তি এখনো ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। তিনি সতর্ক করে বলেন, মামলা বা ভয়ভীতি দিয়ে এ নেতৃত্বকে দমন করা সম্ভব নয়। অতীতে এ ধরনের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও ব্যর্থ হবে। নাহিদ ইসলাম সরকার ও সংশ্লিষ্টদের আহ্বান জানান, এই ধরনের অপচেষ্টা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে এবং পরাজিত অপশক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মেডিকেল বোর্ড। শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিকেল ৩টা ১০ মিনিটের দিকে তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়েছে। বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে সকালে মির্জা আব্বাসের সিটিস্ক্যান করা হলে রিপোর্টে শারীরিক অবস্থার অবনতি লক্ষ্য করা যায়। এর প্রেক্ষিতে দ্রুত একটি ভার্চুয়াল মেডিকেল বোর্ড বসে প্রখ্যাত নিউরো বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে অস্ত্রোপচারের এই জরুরি সিদ্ধান্ত নেয়। পরিবারের সদস্যদের পক্ষ থেকেও ইতোমধ্যে অস্ত্রোপচারের সম্মতি নেওয়া হয়েছে। অধ্যাপক আলী উজ্জামান জোয়ার্দার ও অধ্যাপক কাজী দ্বীন মোহাম্মদসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় চিকিৎসকরা এই মেডিকেল বোর্ডে রয়েছেন। এদিকে, জুম্মার নামাজের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অসুস্থ মির্জা আব্বাসকে দেখতে এভারকেয়ার হাসপাতালে যান। মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকরা তাকে শারীরিক অবস্থার বিস্তারিত অবহিত করেন। বিএনপির পক্ষ থেকে মির্জা আব্বাসের দ্রুত আরোগ্য কামনায় দেশবাসীর কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, গত বুধবার ইফতারের সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারালে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাসকে দ্রুত বসুন্ধরার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।
বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার মাঠ প্রশাসনে বড় ধরনের পরিবর্তনের পরিকল্পনা নিয়েছে। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগেই দেশের কয়েকটি জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগ দেওয়া হবে। ইতিমধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু করেছে। প্রসঙ্গত, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েকটি জেলার বর্তমান প্রশাসনিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে নতুন ডিসি নিয়োগের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে ঈদের আগে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে। সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর মাঠ প্রশাসনে সমন্বয় আনা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি বাড়ানোর লক্ষ্যে জেলা প্রশাসক পর্যায়ে এটি প্রথম বড় পরিবর্তন। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠনের পর ১ মার্চ গাজীপুর, পঞ্চগড়, কুষ্টিয়া, নেত্রকোনা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের ডিসিদের প্রত্যাহার করা হয়। যদিও প্রত্যাহার করা কর্মকর্তাদের এখনও অন্য কোনো মন্ত্রণালয় বা দপ্তরে নিয়োগ দেওয়া হয়নি; তাদের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত (ওএসডি) রাখা হয়েছে। প্রত্যাহারকৃত জেলা প্রশাসকরা হলেন— গাজীপুরের মোহাম্মদ আলম হোসেন, পঞ্চগড়ের কাজী মো. সায়েমুজ্জামান, কুষ্টিয়ার মো. ইকবাল হোসেন, নেত্রকোনার মো. সাইফুর রহমান এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের মো. শাহাদাত হোসেন মাসুদ। উল্লেখ্য, তারা গত বছরের নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন এবং অল্প সময়ের মধ্যেই প্রত্যাহার করা হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানিয়েছে, এই পাঁচ জেলার পাশাপাশি আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ জেলায় নতুন ডিসি নিয়োগের তালিকা চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নিয়োগ প্রক্রিয়া বর্তমানে শেষ পর্যায়ে রয়েছে। প্রশাসনের স্বাভাবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে এবং সরকারের নীতি বাস্তবায়নে দ্রুতই নতুন জেলা প্রশাসকরা দায়িত্ব নেবেন। জেলা প্রশাসকরা সরকারের প্রধান প্রতিনিধি হিসেবে জেলা পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেন। তারা কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, ভূমি প্রশাসন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং উন্নয়ন কার্যক্রমে সমন্বয় সাধনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। মাঠ প্রশাসনে গতি ফেরাতে নতুন সরকারের এই পদক্ষেপকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস এমপিকে শুক্রবার (১৩ মার্চ) সিঙ্গাপুরে উন্নত চিকিৎসার জন্য নেওয়া হবে। তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসারে, মির্জা আব্বাসকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হবে। এর আগে, বুধবার (১১ মার্চ) ইফতারের সময় হঠাৎ জ্ঞান হারানোর পর তার অবস্থা স্থিতিশীল না হওয়ায় গভীর রাতে তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মির্জা আব্বাসকে দেখতে হাসপাতালে যান জামায়াতে ইসলামীর আমির এবং জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। এ সময় তিনি মির্জা আব্বাসের স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন এবং তার শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসা প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত খোঁজ নেন। তিনি মহান রবের কাছে দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন। হাসপাতাল পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতের মেডিকেল থানা শাখার সভাপতি ডা. এস এম খালিদুজ্জামান। মির্জা আব্বাসের সহধর্মিণী ও জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস দেশবাসীর দোয়া কামনা করেছেন, যাতে তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠেন।
বিএনপি জুলাই সনদ ভঙ্গ করে জাতীয় সংসদের কার্যক্রম শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুরে পঞ্চগড় সরকারি অডিটোরিয়াম চত্বরে একটি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শেষে তিনি এ কথা বলেন। সারজিস আলম বলেন, বাংলাদেশের মানুষের জন্য বিএনপি ভালো বার্তা দেয়নি। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন অনুযায়ী সংসদে স্পিকার সরকারি দল থেকে হলেও ডেপুটি স্পিকার বিরোধীদল থেকে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ডেপুটি স্পিকার করা হয়েছে ব্যারিস্টার কায়সার কামালকে, যিনি বিএনপি সমর্থিত একজন এমপি। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে শপথ পড়ানোর বিষয়টি উল্লেখ করে সারজিস বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় পরিবেশগত পরিস্থিতির কারণে কিছু সীমাবদ্ধতা ছিল। তবে দীর্ঘদিন পর নির্বাচন হওয়ার পরও বিএনপি ফ্যাসিস্ট সরকারের রাষ্ট্রপতির মাধ্যমেই শপথ নিয়ে তাদের সরকারের কার্যক্রম শুরু করেছে। তিনি আরও বলেন, তারা আবারও পূর্বের স্বৈরাচারী ধারার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ত করছে এবং সেই স্বৈরাচারী লেজ টেনে ধরা শুরু করেছে, যা তাদেরকে মর্মাহত করেছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-৫ আসনের ভোটের ফলাফল নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন আইনি লড়াই। এই আসনের নির্বাচনের ফলাফল চ্যালেঞ্জ করে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও দাড়িপাল্লা প্রার্থী মিয়া গোলাম পরওয়ারের করা আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে ওই আসনের ব্যবহৃত ব্যালট পেপারসহ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সকল সরঞ্জামাদি যথাযথভাবে সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ এই গুরুত্বপূর্ণ আদেশ প্রদান করেন। উল্লেখ্য, এই আসনে বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছিলেন বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ আলী আসগর। গোলাম পরওয়ারের এই আইনি পদক্ষেপের ফলে আসনটির নির্বাচনী স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশের ৪৯ ধারা অনুযায়ী নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে হাইকোর্টে বিশেষ নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের নেতৃত্বাধীন এই বেঞ্চেই বর্তমানে গোলাম পরওয়ারসহ আরও ২৫ জনের বেশি প্রার্থীর দায়ের করা আবেদনের শুনানি চলছে। আদালত এসব আসনের ভোটগ্রহণ পরবর্তী যেকোনো জালিয়াতি বা পরিবর্তন রোধে সরঞ্জামাদি সংরক্ষণের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন। ২০০১ সালের সংশোধিত গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ অনুযায়ী, নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল এই আবেদনগুলোর চুলচেরা বিশ্লেষণ করবে। ফলে খুলনা-৫ আসনের চূড়ান্ত বিজয় নিয়ে এখন আদালতের রায়ের দিকে তাকিয়ে আছেন সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস অসুস্থ হয়ে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বুধবার (১১ মার্চ) ইফতারের সময় পানি পান করার সময় হঠাৎ করে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। পরে তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় গভীর রাতে তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে বর্তমানে তার চিকিৎসা চলছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এদিকে মির্জা আব্বাসের সহধর্মিণী ও জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস তার স্বামীর দ্রুত সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ করে স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল মতিন খানের পক্ষে প্রচার-প্রচারণায় অংশ নেওয়ার অভিযোগে কুমিল্লার তিতাস উপজেলার সদর কড়িকান্দি ইউনিয়ন বিএনপির তিন নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কৃত নেতারা হলেন, সদর কড়িকান্দি ইউনিয়ন বিএনপির ২নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান ভূঁইয়া, ৫নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক সুরুজ মিয়া এবং ৫নং ওয়ার্ড সদস্য জুয়েল শিকদার। এ বিষয়ে তিতাস উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মেহেদি হাসান সেলিম ভূঁইয়া বলেন, দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে তারা দলের ক্ষতি করেছেন। তিনি জানান, তারা বিএনপি প্রার্থী অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে কাজ করেছেন। এ কারণেই তাদের বিরুদ্ধে এই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
দেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে খুব দ্রুতই নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে। আজ রবিবার সকালে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল। রকিবুল ইসলাম বকুল জানান, অনেকদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পুরনো কমিটি বহাল থাকায় সংগঠনের স্বাভাবিক গতি কিছুটা মন্থর ছিল। দলীয় হাইকমান্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছিল। তবে ছাত্র সংসদ নির্বাচন ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যস্ততার কারণে এতদিন নতুন কমিটি দেওয়া সম্ভব হয়নি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ছাত্রদলের আগামী দিনের নেতৃত্ব হবে স্বচ্ছ ও মেধাবী। নতুন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে 'প্রকৃত ছাত্রত্ব' থাকাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সর্বপ্রথম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা করা হবে এবং এরপর পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিটিগুলো প্রকাশ করা হবে। সংসদ নির্বাচনের কারণে প্রক্রিয়াটি কিছুটা বিলম্বিত হলেও বর্তমানে প্রস্তুতির কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন। নতুন ও যোগ্য নেতৃত্বের মাধ্যমে ছাত্রদল শিক্ষাঙ্গনে আরও শক্তিশালী ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সরকার পতনের স্বপ্ন দেখছেন যারা, তাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাস (এমপি)। তিনি বলেন, সরকার মাত্র কাজ শুরু করেছে, তাই ধৈর্য ধরে তাদের সময় দেওয়া উচিত। রোববার (৮ মার্চ) রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি) আয়োজিত ইফতার ও আলোচনা সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। মির্জা আব্বাস বলেন, “যারা সরকার পতনের স্বপ্ন দেখছেন তারা সাবধান হয়ে যান। ক্ষমতায় আসা এত সহজ নয়। যারা আসবেন তারাও দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারবেন না।” তিনি আরও বলেন, বিএনপি দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে টিকে থাকা একটি রাজনৈতিক দল। তাই সামান্য চাপ বা টোকায় এই দলকে সরিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। বিএনপি অযথা কোনো সংঘাতে জড়াতে চায় না বলেও উল্লেখ করেন মির্জা আব্বাস। তবে কেউ উসকানি দিলে তার জবাব দিতে দল প্রস্তুত রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। কোটা আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, অনেকেই চাকরি পাওয়ার আশায় ওই আন্দোলনে যুক্ত হয়েছিল। কিন্তু এখন তারা ক্ষমতার মোহে পড়ে সরকার গঠনের স্বপ্ন দেখছে, যা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনাকারীদেরও সতর্ক করেন মির্জা আব্বাস। পাশাপাশি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সহযোগিতা করার জন্য বিএনপির নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস