জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু হলে জনগণের রায় মেনে নেবেন বলে জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক ও ঢাকা-১১ আসনে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ জোটের প্রার্থী নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে ১১ দলীয় জোট এখন ‘সরকার গঠনের দ্বারপ্রান্তে’ রয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে রাজধানীর বাড্ডার বেরাইদে এ.কে.এম রহমত উল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ কেন্দ্রে ভোট প্রদান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।
তিনি বলেন, “অবশ্যই আমরা জনগণের রায় মেনে নেব, যদি নির্বাচন সুষ্ঠু হয়। নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার অনেকগুলো মানদণ্ড রয়েছে। মিডিয়া রয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় পর্যবেক্ষণ হচ্ছে, সাধারণ মানুষ সেখানে মতামত জানাবে। বিদেশি পর্যবেক্ষকরাও ব্যাপকভাবে এসেছেন। এসব মিলিয়েই বোঝা যাবে ভোট কতটা সুষ্ঠু হয়েছে।”
জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী উল্লেখ করে নাহিদ বলেন, “আমরা জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী। তবে জয়-পরাজয়ের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা, যাতে জনগণ নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে।”
নির্বাচনের আগের রাতের পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, কয়েকটি স্থানে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। বিভিন্ন এলাকায় প্রার্থী ও সমর্থকদের ওপর হামলার অভিযোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, কুড়িগ্রামে আতিক মুজাহিদ, নোয়াখালীতে হান্নান মাসুদসহ কয়েকটি জায়গায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। কুমিল্লার দেবীদ্বারে হাসনাত আবদুল্লাহর এলাকায় কয়েকদিন ধরে ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, “আমাদের ঢাকা-১১ আসনেও গত রাতে ভোটকেন্দ্রসংলগ্ন আমাদের ক্যাম্পে হামলা হয়েছে, বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে আমরা এসব প্রতিকূলতাকে বেশি গুরুত্ব না দিয়ে মানুষকে ভোট দিতে আহ্বান জানাচ্ছি, যেন কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে।”
প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমাদের এত আন্দোলন, সংগ্রাম ও আত্মত্যাগ ব্যর্থ হয়ে যাবে যদি ভোট সুষ্ঠু না হয়। আমরা আশা করি প্রশাসন নিরপেক্ষ আচরণ করবে। প্রশাসন নিরপেক্ষ হলে গায়ের জোর দেখানোর চেষ্টা ব্যর্থ হবে।”
সরকার গঠনের বিষয়ে তিনি বলেন, “১১ দলীয় জোট সরকার গঠনের লক্ষ্যেই গঠিত হয়েছে। আমরা মনে করছি, আমরা সরকার গঠনের দ্বারপ্রান্তে রয়েছি। সেই আত্মবিশ্বাস নিয়েই কাজ করছি। ইনশা আল্লাহ ভোট সুষ্ঠু হলে জনগণ ব্যাপকভাবে ভোট দিতে আসবে। ভোটকেন্দ্র পাহারা দেওয়া এবং ফলাফল না আসা পর্যন্ত মাঠে থাকার ঘোষণা দেন তিনি।”
প্রতিবেদকঃ শ্যামল সান্যাল
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা এবং জাতিসংঘের সাবেক অস্ত্র পরিদর্শক, ইরান-মার্কিন আলোচনার বিশ্লেষণ করতে গিয়ে জোর দিয়ে বলেছেন যে ইরানের চেয়ে ট্রাম্পেরই এই আলোচনার বেশি প্রয়োজন। পার্সটুডে- মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা এবং জাতিসংঘের সাবেক অস্ত্র পরিদর্শক, ইরান-মার্কিন আলোচনার বিশ্লেষণ করতে গিয়ে জোর দিয়ে বলেছেন যে ইরানের চেয়ে ট্রাম্পেরই এই আলোচনার বেশি প্রয়োজন। মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা স্কট রিটার সতর্ক করে বলেছেন যে পশ্চিমারা সর্বদা তার গুপ্তচর সংস্থাগুলির মাধ্যমে ইরানের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ভিত্তি ধ্বংস করতে চাইছে এবং অপর্যাপ্তভাবে নিয়ন্ত্রিত তথ্য-যোগাযোগ রুট ব্যবহার করে কিছু ইরানিকে তাদের এজেন্ট নিয়োগ করেছে। ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের জন্য একটি পছন্দসই আক্রমণাত্মক হাতিয়ার নয় পার্সটুডে অনুসারে, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরিসর সীমিত করার বিষয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের বক্তব্যের কথা উল্লেখ করে রিটার ব্যাখ্যা করেছেন যে এই শর্তটি বাস্তবে "নিরস্ত্রীকরণ" এবং ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের কাছ থেকে "কৌশলগত আত্মহত্যার" অনুরোধের সমতুল্য। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে ক্ষেপণাস্ত্র শুধুমাত্র ইরানের জন্য একটি কাঙ্ক্ষিত আক্রমণাত্মক হাতিয়ার নয়, বরং প্রতিরোধ ও বেঁচে থাকার মেরুদণ্ড এবং এই স্তম্ভটি অপসারণকারী যেকোনো চেষ্টো ইরানকে অরক্ষিত করে তুলবে। তিনি যুক্তি দেন যে ইরান যদি তার ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা এতটাই কমিয়ে দেয় যে তারা আর ইসরায়েলে আঘাত করতে পারবে না, তাহলে ইসরায়েল প্রতিশোধের ভয় ছাড়াই ইরানে আক্রমণ করবে। ইরানের সাথে যুদ্ধ নীতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অক্ষমতা আমেরিকান বিশ্লেষক স্পষ্ট করে বলেন যে ইরানের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ এড়ানোর মূল কারণ কৌশলগত অক্ষমতা। তিনি বলেন, যেকোনও সামরিক আক্রমণ ইরানকে এমন প্রতিক্রিয়ার দিকে ঠেলে দেবে যা একই সাথে মার্কিন বাহিনী এবং স্বার্থের জন্য গুরুতর ক্ষতি বয়ে আনতে পারে। রিটার জোর দিয়ে বলেন যে এই ধরনের পরিবেশে ইরানের সাথে যুদ্ধ কেবল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কৌশলগত সুবিধাতো আনবেই না বরং ট্রাম্পের জন্য একটি অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিপর্যয়ও হতে পারে। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কেবল ইসরায়েলের স্বার্থ রক্ষার জন্য। আলোচনা একটি ফাঁদ সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা পরামর্শ দেন যে ইরানের উচিত দুর্বলতা থেকে নয়, বরং ওয়াশিংটনে রাজনৈতিক অজুহাতের পথ বন্ধ করার জন্য আলোচনায় প্রবেশ করা। তবে, রিটার সতর্ক করে দেন যে ইরানি কর্মকর্তাদের সর্বদা ধরে নেওয়া উচিত যে আলোচনা "একটি ফাঁদ"। কূটনীতির মাধ্যম বজায় রেখে, ইরানের উচিত তার সামরিক ও গোয়েন্দা যন্ত্রপাতিকে পূর্ণ সতর্ক রাখা । স্কট রিটার সাম্প্রতিক নৌ সংঘর্ষকে আমেরিকার শ্রেষ্ঠত্ব বা আগ্রাসনের লক্ষণ হিসেবে নয়, বরং ইরানের প্রবেশাধিকার-বিরোধী এবং আঞ্চলিক-বিরোধী ক্ষমতার প্রতি ওয়াশিংটনের কৌশলগত ভয়ের প্রতিফলন। রিটার জোর দিয়ে বলেন যে ইরানের নতুন প্রজন্মের নির্ভুল, কৌশলগত এবং হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের সামনে মার্কিন বিমানবাহী রণতরীগুলি "অপ্রচলিত" সিস্টেমে পরিণত হয়েছে। প্রধান হুমকি: ভেতর থেকে পতনের জন্য মানসিক যুদ্ধ অবশেষে, স্কট রিটার "মানসিক যুদ্ধ" নামক একটি ধারণার কথা উল্লেখ করেছেন; এমন একটি যুদ্ধ যেখানে, তিনি যুক্তি দেন, সরাসরি সামরিক সংঘাতের চেয়ে অনেক বেশি বিপজ্জনক, কারণ এর লক্ষ্য হল একটি গুলি না চালিয়েও একটি সমাজকে ভেতর থেকে ধ্বংস করা
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন বলেছেন, দেশের ইতিহাসের যেকোনো মানদণ্ডে এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচন অত্যন্ত ভালো ও গ্রহণযোগ্য হয়েছে। তিনি বলেন, সবাই মিলে একটি সুন্দর নির্বাচন জাতিকে উপহার দিতে পেরেছি। এটি দেশের নির্বাচনী ইতিহাসে যেকোনো মানদণ্ডে অত্যন্ত ভালো নির্বাচন। বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে ফলাফল ঘোষণার আগে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সিইসি বলেন, আমরা ওয়াদা করেছিলাম, একটি উৎসবমুখর পরিবেশে এবং সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ নির্বাচন জাতিকে উপহার দেব। আমরা বিশ্বাস করি, সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পেরেছি। এটি সবাই স্বীকৃতি দিচ্ছে। দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ১৮ কোটি মানুষের দেশ, ১২ কোটি ৭০ লাখ ভোটারের দেশে এবং গণভোটসহ মোট ২৫ কোটি ৪০ লাখ ব্যালট ছাপিয়ে এই নির্বাচন সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে সবার সহযোগিতায়। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ভোটার এবং সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। পারফেক্ট নির্বাচন কোথাও হয় না উল্লেখ করে সিইসি বলেন, ভোটগ্রহণ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রায় সাড়ে ১৭ লাখ মানুষ কাজ করেছেন। অনেক দেশে এত লোকই নেই। সবাইকে সমন্বয় করে আমরা একটি সুন্দর নির্বাচন আয়োজন করতে পেরেছি। তিনি আরও বলেন, আমি বলব না এটি পরিপূর্ণ নির্বাচন; পৃথিবীর কোথাও পারফেক্ট নির্বাচন হয় না। আমেরিকার নির্বাচনেও নানা সমস্যা দেখা যায়। তবে অতীতের ইতিহাস বিবেচনায় ইনশাআল্লাহ এটি যেকোনো মানদণ্ডে অত্যন্ত ভালো ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। ভোট গণনায় কিছুটা সময় লাগছে উল্লেখ করে সিইসি বলেন, গণভোট ও পোস্টাল ব্যালট থাকায় ফল প্রস্তুত করতে কিছুটা সময় লাগছে। টেলিভিশন চ্যানেলগুলো যে ফল দেখাচ্ছে, তা তাদের নিজস্ব সূত্র থেকে। এগুলো আনুষ্ঠানিক ফল নয়। আনুষ্ঠানিক ফলাফল নির্বাচন কমিশন থেকেই ঘোষণা করা হবে। স্বচ্ছতার বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা অত্যন্ত স্বচ্ছ থাকতে চাই। কোনো লুকোচুরি করি না। সাংবাদিকরা আমাদের থার্ড আই। তাঁদের মাধ্যমেই দেশবাসী আমাদের কার্যক্রম দেখছে। আমরা সবকিছু প্রকাশ্যেই করতে চাই। নির্বাচন নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ না করার আহ্বান জানিয়ে সিইসি বলেন, “অতীতে কিছু সন্দেহজনক কাজ হয়েছে। কিন্তু এবার সে রকম কিছু নেই। সাড়ে ৪২ হাজার কেন্দ্র থেকে যে ফল আসছে, তা যোগ করে প্রকাশ করা হচ্ছে। এর পেছনে কোনো উদ্দেশ্য বা কারসাজি নেই।”
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনে ভোট ডাকাতি হলে মির্জা আব্বাসের 'রাজত্ব খানখান' করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। আজ এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। তিনি সেখানে বিএনপি'র কর্মী-সমর্থকদের প্রতি আঙুল তুলে বলেন, এনসিপি'র নেতাকর্মীদেরকে নিয়ে ঢাকার রেলওয়ে কলোনী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র পরিদর্শন করে বের হওয়ার পথে তাদের ওপর 'আঘাত' করা হয় এবং সেনাবাহিনীর সামনেই তার 'মাথায় আঘাত' করা হয়। তিনি বলেন, এরপর সেনাবাহিনীকে তারা অভিযোগ জানালে সেনাবাহিনী তাদের উদ্ধার করে পাঠিয়ে দেয়। "আমাদের ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র আছে দুইটা। রেলওয়ে কলোনী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র ও মির্জা আব্বাস মহিলা কলেজ কেন্দ্র। সেখানে ভোট ডাকাতির মহোৎসব চলছে। তারা আমাদের গায়ে পড়ে মারামারি করে ঢাকা-৮ আসনের ভোট বানচাল করতে চাচ্ছে," দাবি এই এনসিপি নেতার। এসময় তিনি মির্জা আব্বাসকে উদ্দেশ করে বলেন, "মির্জা আব্বাস যদি হারার ভয়ে থাকেন, আমি আপনাকে বলবো – খেলায় থাইকেন না। ভোট বানচাল করবেন না। অনেকগুলো মানুষ গণতন্ত্র রক্ষার জন্য জীবন দিয়েছে"। তিনি এসময় হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, তাদের ওপর আঘাত করলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পাল্টা আঘাত করার ইচ্ছা ছিল না তাদের। কিন্তু তাদেরকে যদি মারতে আসা হয়, তাহলে এবার উল্টো পক্ষকে মার খেতেও হবে। "এখন সময় প্রতিরোধের। যদি ঢাকা-৮'এ ভোট ডাকাতি হয়, তাহলে মির্জা আব্বাসের যেই রাজত্ব আছে, আল্লাহ'র কসম করে বলছি, সেই রাজত্ব আমরা খানখান করে দিবো। তছনছ করে দিবো। (নির্বাচনে জয়ী) হই বা না হই, বিএনপি নামক দলটিকে বাংলাদেশ থেকে আমরা নিশ্চিহ্ন করে দিবো"।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন, ত্যাগ ও রক্তদানের মধ্য দিয়ে আজকের এই নির্বাচন সম্ভব হয়েছে এবং এটি দেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণ করবে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৭টা ৪১ মিনিটে ঠাকুরগাঁওয়ে নিজ নির্বাচনী এলাকায় ভোট প্রদান করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ভোট প্রদান শেষে গণমাধ্যমে এসব কথা বলেন তিনি। মির্জা ফখরুল বলেন, দীর্ঘ শাসনের অবসানের পর আল্লাহর রহমতে জাতি একটি গুরুত্বপূর্ণ দিনে উপনীত হয়েছে। এই নির্বাচন গণতন্ত্রের নতুন যাত্রা শুরু করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি আরও বলেন, জনগণের অংশগ্রহণে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে তা দেশের রাজনীতি ও অর্থনীতিকে ইতিবাচক ধারায় এগিয়ে নেবে। বিএনপি মহাসচিব বলেন, “এই দিনটি সহজে আসেনি। অনেক বাধা, নির্যাতন ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে নির্বাচন আয়োজন সম্ভব হয়েছে। আন্দোলনের সময় বহু নেতা-কর্মী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, অনেকেই প্রাণ হারিয়েছেন।” তিনি বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের কথাও উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, এই নির্বাচন দেশের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার প্রতিফলন। সবশেষে মির্জা ফখরুল আশা প্রকাশ করেন, সব দলের অংশগ্রহণে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হবে এবং এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে গণতন্ত্রের নতুন অধ্যায় রচিত হবে। প্রতিবেদকঃ শ্যামল সান্যাল