ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসন থেকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও আলোচিত ইসলামী বক্তা মুফতি আমির হামজা আগামীর সংসদীয় রাজনীতিতে এক আপসহীন ও তদারকিমূলক ভূমিকার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, সংসদের সংখ্যাগুরু সদস্যদের প্রতিটি পদক্ষেপ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং কোনো অনিয়ম দেখা দিলে রাজপথ ও সংসদে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) কুষ্টিয়া শহরতলীর ত্রিমোহনী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে জুমার খুতবার আগে স্থানীয় মুসল্লিদের উদ্দেশে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আমির হামজা সংসদের গাণিতিক সমীকরণ তুলে ধরে বলেন, "চরমোনাইয়ের একজনসহ আমরা বর্তমানে ৭৮ জন আছি, আর শেরপুরের ফলাফল বাকি আছে—সব মিলিয়ে ৭৯ জন। অন্যদিকে সরকারের পক্ষে আছেন ২১১ জন। আমি এই পবিত্র মসজিদের মিম্বরে দাঁড়িয়ে বলছি, আমরা এই ৭৯ জন মিলে ১০০ ভাগ চেষ্টা করব ওই ২১১ জনকে তীরের মতো সোজা করে রাখতে। যদি তাঁরা জনগণের স্বার্থবিরোধী কোনো কাজ করেন, তবে আমরা তাঁদের শক্তভাবে চেপে ধরব—তা সে সংসদের ভেতরেই হোক আর বাইরেই হোক।"
রাজনীতিতে ন্যায়বিচারের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, "আমাদের কাছে দল-মত বা ধর্ম-অধর্মের কোনো ভেদাভেদ নেই। মানুষ হিসেবে প্রত্যেকের অধিকার সমান। আমার নিজের দলের লোক অপরাধ করলেও যা বিচার হবে, অন্য দলের লোকের ক্ষেত্রেও তাই। চাঁদাবাজি আমার দলের লোক করলে অসুবিধা নেই আর অন্য দল করলেই অপরাধ—এমন নীতিতে আমি বিশ্বাস করি না। অপরাধীর একমাত্র পরিচয় সে অপরাধী।"
নির্বাচন পরবর্তী সময়ে সব ভোটারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, "আমি কেবল আমাকে ভোট দেওয়া ১ লাখ ৮৩ হাজার মানুষের এমপি নই; আমি এই আসনের সাড়ে ৪ লাখ ভোটারের সবার প্রতিনিধি। আপনারা সবাই আমার আপন ভাই-বোনের মতো। আগামী পাঁচ বছর যেন সততা ও নিষ্ঠার সাথে এই দায়িত্ব পালন করতে পারি, সেজন্য আপনাদের দোয়া চাই।"
মুফতি আমির হামজার এই জ্বালাময়ী বক্তব্য ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। সাধারণ মানুষ তাঁর এই ‘ওয়াচডগ’ বা পাহারাদারের ভূমিকাকে নতুন বাংলাদেশের সুস্থ রাজনীতির পথে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
ঢাকা: দেশের সম্ভাব্য নতুন সরকার গঠনকে সামনে রেখে প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো সংবলিত একটি আনুষ্ঠানিক কমিউনিক্যে প্রকাশিত হয়েছে। এতে রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের দায়িত্ব বণ্টনের একটি খসড়া তালিকা তুলে ধরা হয়েছে। কমিউনিক্যে বলা হয়েছে, এটি সরকারি নথি ও আনুষ্ঠানিক রেফারেন্সের উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা একটি প্রস্তাবিত কাঠামো, যেখানে প্রতিষ্ঠিত সরকারি প্রোটোকল অনুযায়ী সম্ভাব্য নিয়োগ ও দায়িত্ব বণ্টনের বিষয়গুলো উল্লেখ রয়েছে। প্রস্তাবিত দায়িত্ব বণ্টন অনুযায়ী— • রাষ্ট্রপতি: ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন • জাতীয় সংসদের স্পিকার: অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন / নিতাই রায় চৌধুরী • প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী: তারেক রহমান • স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর • স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: সালাহউদ্দিন আহমেদ প্রতিমন্ত্রী: শহীদ উদ্দিন চৌধুরী (অ্যানি) • পররাষ্ট্রমন্ত্রী: আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী: ড. হুমায়ুন কবির • অর্থমন্ত্রী: ড. এ. বি. মির্জা আজিজুল ইসলাম / ড. রেজা কিবরিয়া (তালিকায় উল্লেখিত অনুযায়ী) • শিক্ষামন্ত্রী: আনাম এহসানুল হক মিলন, প্রতিমন্ত্রী: সাঈদ আল নোমান • আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী: মো. আসাদুজ্জামান • তথ্যমন্ত্রী: আন্দালিব রহমান পার্থ, প্রতিমন্ত্রী: ড. মাহদি আমিন • পরিকল্পনামন্ত্রী: ড. আব্দুল মঈন খান • বাণিজ্যমন্ত্রী: আব্দুল মুক্তাদির • শিল্পমন্ত্রী: আব্দুল আউয়াল মিন্টু • নৌপরিবহন মন্ত্রী: মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ • শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী: নজরুল ইসলাম খান • পানি সম্পদ মন্ত্রী: আসাদুল হাবিব দুলু • মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী: ফজলুর রহমান • সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী: আমানউল্লাহ আমান • সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী: জোনায়েদ সাকি • স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী: ড. এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন • যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী: আলী আজগর লবি • ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী: শামীম কায়সার লিংকন • বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী: আলতাফ হোসেন চৌধুরী • বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী: ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু • কৃষিমন্ত্রী: শামসুজ্জামান দুদু • গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী: মির্জা আব্বাস • ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী: নুরুল হক নুর • রেলপথমন্ত্রী: গয়েশ্বর চন্দ্র রায় • জনপ্রশাসন মন্ত্রী: ড. ইসমাইল জাবিউল্লাহ • সমাজকল্যাণ মন্ত্রী: রুহুল কবির রিজভী • পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী: দীপেন দেওয়ান কমিউনিক্যে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এটি একটি প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো—চূড়ান্ত ঘোষণা, নিয়োগ এবং শপথ গ্রহণ সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়া অনুযায়ী সম্পন্ন হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসন থেকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও আলোচিত ইসলামী বক্তা মুফতি আমির হামজা আগামীর সংসদীয় রাজনীতিতে এক আপসহীন ও তদারকিমূলক ভূমিকার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, সংসদের সংখ্যাগুরু সদস্যদের প্রতিটি পদক্ষেপ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং কোনো অনিয়ম দেখা দিলে রাজপথ ও সংসদে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) কুষ্টিয়া শহরতলীর ত্রিমোহনী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে জুমার খুতবার আগে স্থানীয় মুসল্লিদের উদ্দেশে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আমির হামজা সংসদের গাণিতিক সমীকরণ তুলে ধরে বলেন, "চরমোনাইয়ের একজনসহ আমরা বর্তমানে ৭৮ জন আছি, আর শেরপুরের ফলাফল বাকি আছে—সব মিলিয়ে ৭৯ জন। অন্যদিকে সরকারের পক্ষে আছেন ২১১ জন। আমি এই পবিত্র মসজিদের মিম্বরে দাঁড়িয়ে বলছি, আমরা এই ৭৯ জন মিলে ১০০ ভাগ চেষ্টা করব ওই ২১১ জনকে তীরের মতো সোজা করে রাখতে। যদি তাঁরা জনগণের স্বার্থবিরোধী কোনো কাজ করেন, তবে আমরা তাঁদের শক্তভাবে চেপে ধরব—তা সে সংসদের ভেতরেই হোক আর বাইরেই হোক।" রাজনীতিতে ন্যায়বিচারের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, "আমাদের কাছে দল-মত বা ধর্ম-অধর্মের কোনো ভেদাভেদ নেই। মানুষ হিসেবে প্রত্যেকের অধিকার সমান। আমার নিজের দলের লোক অপরাধ করলেও যা বিচার হবে, অন্য দলের লোকের ক্ষেত্রেও তাই। চাঁদাবাজি আমার দলের লোক করলে অসুবিধা নেই আর অন্য দল করলেই অপরাধ—এমন নীতিতে আমি বিশ্বাস করি না। অপরাধীর একমাত্র পরিচয় সে অপরাধী।" নির্বাচন পরবর্তী সময়ে সব ভোটারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, "আমি কেবল আমাকে ভোট দেওয়া ১ লাখ ৮৩ হাজার মানুষের এমপি নই; আমি এই আসনের সাড়ে ৪ লাখ ভোটারের সবার প্রতিনিধি। আপনারা সবাই আমার আপন ভাই-বোনের মতো। আগামী পাঁচ বছর যেন সততা ও নিষ্ঠার সাথে এই দায়িত্ব পালন করতে পারি, সেজন্য আপনাদের দোয়া চাই।" মুফতি আমির হামজার এই জ্বালাময়ী বক্তব্য ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। সাধারণ মানুষ তাঁর এই ‘ওয়াচডগ’ বা পাহারাদারের ভূমিকাকে নতুন বাংলাদেশের সুস্থ রাজনীতির পথে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে বিনম্র শ্রদ্ধায় জাতি স্মরণ করেছে বায়ান্নর সেই অকুতোভয় সন্তানদের, যারা মায়ের ভাষার মর্যাদা রক্ষায় বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছিলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রথমে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের মূল বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা নিবেদনের পরপরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষা শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর প্রধানমন্ত্রী কিছুক্ষণ নিরবে দাঁড়িয়ে থেকে শহীদদের আত্মার শান্তি কামনা করেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নবগঠিত মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের নিয়ে দ্বিতীয়বার শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সালাহউদ্দিন আহমদ, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রমসহ নতুন সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ। একই সঙ্গে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকেও শ্রদ্ধা জানানো হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সাথে ছিলেন তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। পরিবারের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তারেক রহমান বিএনপির সিনিয়র নেতাদের নিয়ে দলীয়ভাবে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। রাষ্ট্রীয় এই আনুষ্ঠানিকতা শেষে তিন বাহিনীর প্রধানগণ, জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারবৃন্দ, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি এবং ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো হয়। সর্বস্তরের ভিভিআইপিদের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ গানের করুণ সুরে খালি পায়ে এবং হাতে ফুল নিয়ে হাজার হাজার মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে শহীদদের প্রতি তাঁদের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা জানান। নতুন বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একুশের এই আয়োজন ছিল অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২০৯টি আসনে একক জয় পাওয়ার পর এখন বিএনপির অন্দরমহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু সংরক্ষিত নারী আসন। আনুপাতিক হার অনুযায়ী, জাতীয় সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের মধ্যে ৩৫টি পেতে যাচ্ছে বিএনপি। নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই এই ৩৫টি পদের বিপরীতে দলের শতাধিক নেত্রী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ মনোনয়ন দৌড়ে শামিল হয়েছেন। যেভাবে বণ্টিত হয় সংরক্ষিত আসন - সংবিধান ও আরপিও (RPO) অনুযায়ী, সাধারণ নির্বাচনে জয়ী আসন সংখ্যার অনুপাতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংরক্ষিত আসন বণ্টন করা হয়। বিএনপি: ২০৯টি সাধারণ আসনের বিপরীতে পাচ্ছে ৩৫টি সংরক্ষিত আসন। স্বতন্ত্র (বহিষ্কৃত বিএনপি): ৭টি আসনের বিপরীতে ১টি সংরক্ষিত আসন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আলোচনায় যারা রয়েছেন - বিএনপির হাইকমান্ড ও তৃণমূল থেকে একঝাঁক অভিজ্ঞ ও তরুণ নেত্রীর নাম আলোচনায় উঠে এসেছে। উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হলেন: কেন্দ্রীয় ও পরিচিত মুখ: আফরোজা আব্বাস, সুলতানা আহমেদ, হেলেন জেরিন খান, শিরিন সুলতানা, নিলোফার চৌধুরী মনি, আসিফা আশরাফী পাপিয়া এবং বিলকিস আকতার জাহান শিরিন। সাংস্কৃতিক অঙ্গন: কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনিন, কনক চাঁপা ও রিজিয়া পারভিন। নতুন ও আলোচিত মুখ: নিপুণ রায় চৌধুরী, সানজিদা ইসলাম তুলি (মায়ের ডাক), হারিছ চৌধুরীর মেয়ে সামিরা তানজিনা চৌধুরী, শফিউল বারী বাবুর স্ত্রী বীথিকা বিনতে হুসাইন এবং ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা। সাবেক এমপির উত্তরসূরি: হাসনা জসিম উদ্দিন মওদুদ ও হাসিনা আহমদ। চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে জোর আলোচনায় আছেন ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা, ফাতেমা বাদশা, মনোয়ারা বেগম মনি এবং গুম হওয়া নেতা সিরাজ চেয়ারম্যানের স্ত্রী সুলতানা পারভীন। সাবেক কাউন্সিলর জেসমিনা খানম জানান, দীর্ঘ ১৭ বছর মামলা-হামলা সহ্য করেও তারা মাঠ ছাড়েননি, তাই দল এবার ত্যাগী নারীদের মূল্যায়ন করবে বলে তাদের বিশ্বাস। ইসির পরিকল্পনা ও আইনি বাধ্যবাধকতা - নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, সাধারণ নির্বাচনের গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত আসনে ভোট করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ইসি চাইছে রমজান মাসের মধ্যেই যাবতীয় নির্বাচনী প্রক্রিয়া শেষ করে ঈদের আগে ফলাফল ঘোষণা করতে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হাইকমান্ডের - বিএনপির স্থায়ী কমিটির সূত্র অনুযায়ী, এবার কেবল অভিজ্ঞতাই নয়, রাজপথের আন্দোলন এবং তরুণ নেতৃত্বের বিষয়টিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দলীয় মনোনয়নপত্র বিতরণের পর বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান চূড়ান্ত তালিকা নির্ধারণ করবেন। ত্যাগী নেত্রীদের পাশাপাশি পেশাজীবী ও গুম-খুন হওয়া পরিবারের সদস্যদের মূল্যায়নের জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।