ধর্ম

ছবি: ফ্রিপিক
ঈদের দিন কী করবেন, কী এড়িয়ে চলবেন—জানুন ইসলামি বিধান

মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা—আনন্দ, সম্প্রীতি ও আত্মশুদ্ধির এক অনন্য উপলক্ষ। তবে এই আনন্দঘন দিনে ইসলামের নির্ধারিত কিছু করণীয় ও বর্জনীয় বিষয় রয়েছে, যা মেনে চলা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।   ঈদের দিনে করণীয় ঈদের দিনটি শুরু হয় পবিত্রতা ও ইবাদতের মাধ্যমে। ইসলামি বিধান অনুযায়ী-   গোসল ও পরিচ্ছন্নতা: ঈদের সকালে গোসল করা সুন্নাত। সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) ঈদগাহে যাওয়ার আগে গোসল করতেন। তাকবির পাঠ: ঈদের দিন বেশি বেশি তাকবির পড়া সুন্নাত। এটি আল্লাহর মহিমা ঘোষণা করার একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল। উত্তম পোশাক পরিধান: সামর্থ্য অনুযায়ী নতুন বা পরিষ্কার ও সুন্দর পোশাক পরা উচিত। এটি আল্লাহর নেয়ামতের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের অংশ। তাকওয়া অর্জন: বাহ্যিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি আত্মিক পবিত্রতা বজায় রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ঈদুল ফিতরের আগে খাওয়া: ঈদের নামাজে যাওয়ার আগে বিজোড় সংখ্যক খেজুর খাওয়া সুন্নাত। ফিতরা আদায়: ঈদের নামাজের আগে ফিতরা প্রদান করা জরুরি, যাতে অসহায় মানুষেরাও ঈদের আনন্দে শামিল হতে পারে। ঈদগাহে যাওয়া: সম্ভব হলে হেঁটে যাওয়া এবং ভিন্ন পথে ফিরে আসা সুন্নাত। আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীর খোঁজ নেওয়া: ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। শুভেচ্ছা বিনিময়: ‘তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকা’ বলে পরস্পর শুভেচ্ছা জানানো উত্তম আমল।   ঈদের দিনে যা করবেন না ঈদের আনন্দ যেন ইসলামের শিক্ষা থেকে বিচ্যুত না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকা জরুরি- ঈদের দিনে রোজা রাখা: সম্পূর্ণ হারাম। মুহাম্মদ (সা.) এই দিনে রোজা রাখতে নিষেধ করেছেন। অপ্রয়োজনীয় নফল নামাজ: ঈদের নামাজের আগে বা পরে ঈদগাহে কোনো নফল নামাজ আদায় নেই। ইবাদতে অবহেলা: ব্যস্ততার কারণে ঈদের নামাজ অবহেলা করা উচিত নয়। বিদআত ও কুসংস্কার: ধর্মে নেই এমন কাজকে ইবাদত মনে করা থেকে বিরত থাকতে হবে। অপচয় ও অনৈতিক কাজ: ঈদের আনন্দ যেন অপচয়, জুয়া বা ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ডে পরিণত না হয়।   ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, ঈদ শুধু আনন্দের দিন নয়; এটি আত্মশুদ্ধি, সংযম ও মানবিকতার চর্চারও একটি বড় সুযোগ। তাই ঈদের প্রকৃত সৌন্দর্য তখনই ফুটে ওঠে, যখন তা শরিয়তের নির্দেশনা মেনে উদযাপন করা হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ঈদুল ফিতরের নামাজ: নিয়ত, নিয়ম ও তাকবিরের বিস্তারিত

দেশের আকাশে ১৪৪৭ হিজরি সনের পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেছে। ফলে আগামীকাল শনিবার (২১ মার্চ) মুসলিমরা উদ্‌যাপন করবেন পবিত্র ঈদুল ফিতর। আনন্দঘন এই দিনে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা ঈদগাহসহ বিভিন্ন মসজিদে ২ রাকাত ওয়াজিব নামাজ আদায় করবেন।   দীর্ঘ সময় বিরতির কারণে অনেকেই ঈদের নামাজের নিয়ত, নিয়ম এবং তাকবির ভুলে যান। তাই এখানে ঈদের দিন যথাযথভাবে নামাজ পড়ার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য তুলে ধরা হলো—   ঈদুল ফিতরের নামাজের নিয়ত আরবি: نَوَيْتُ أنْ أصَلِّي للهِ تَعَالىَ رَكْعَتَيْنِ صَلَاةِ الْعِيْدِ الْفِطْرِ مَعَ سِتِّ التَكْبِيْرَاتِ وَاجِبُ اللهِ تَعَالَى اِقْتَضَيْتُ بِهَذَا الْاِمَامِ مُتَوَجِّهًا اِلَى جِهْةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِيْفَةِ اللهُ اَكْبَر   বাংলা উচ্চারণ: নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তা’আলা রাকাআতাইন সালাতিল ইদিল ফিতরি মাআ সিত্তাতিত তাকবিরাতি ওয়াজিবুল্লাহি তা’আলা ইকতাদাইতু বিহাজাল ইমামি মুতাওয়াঝঝিহান ইলা ঝিহাতিল কাবাতিশ শারিফাতি আল্লাহু আকবার।   অর্থ: “আমি ঈদুল ফিতরের ২ রাকাত ওয়াজিব নামাজ অতিরিক্ত ৬ তাকবিরের সঙ্গে এই ইমামের পেছনে কেবলামুখী হয়ে আল্লাহর জন্য আদায় করছি — ‘আল্লাহু আকবার।’”   ঈদের নামাজ পড়ার নিয়ম ঈমামের তাকরিরে তাহরিমা “আল্লাহু আকবার” বলে হাত বাঁধা শুরু করতে হবে। তাকবিরে তাহরিমার পর ছানা পড়তে হবে: “সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা ওয়া তাবারাকাসমুকা ওয়াতাআলা যাদ্দুকা ওয়া লা ইলাহা গাইরুকা।” এরপর অতিরিক্ত ৩ তাকবির প্রদান করা হবে, প্রথম ও দ্বিতীয় তাকবিরে উভয় হাত তুলে ছেড়ে দিতে হবে। তৃতীয় তাকবিরে হাত তাকবিরে তাহরিমার মতো বাঁধতে হবে। এরপর আউজুবিল্লাহ-বিসমিল্লাহসহ সুরা ফাতিহা পড়া এবং আরেকটি সুরা সংযোজন করে প্রথম রাকাত সম্পন্ন করতে হবে। দ্বিতীয় রাকাতে একইভাবে বিসমিল্লাহ, ফাতিহা ও আরেকটি সুরা পড়া হবে এবং ৩ অতিরিক্ত তাকবির দেওয়া হবে। তারপর নিয়মিত রুকু-সিজদা সম্পন্ন করে বৈঠকে বসা, তাশাহহুদ, দরূদ ও দোয়া পড়ার মাধ্যমে নামাজ শেষ হবে।   নামাজের পর তাকবির   ঈদের নামাজের সালাম ফেরানোর পর তাকবির পড়তে হয়। আরবি ও বাংলা উচ্চারণ নিম্নরূপ: আরবি: اَللهُ اَكْبَر اَللهُ اَكْبَر لَا اِلَهَ اِلَّا اللهُ وَاللهُ اَكْبَر اَللهُ اَكْبَروَلِلهِ الْحَمْد   বাংলা: “আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, ওয়া-লিল্লাহিল হামদ্‌।” এ সময় ইমাম দু’টি খুতবা দেবেন। মুসল্লিদের মনোযোগ সহকারে খুতবা শুনতে হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২১, ২০২৬ 0
আজ পবিত্র ঈদুল ফিতর: সিয়াম সাধনা শেষে খুশির ঈদ

অবশেষে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান। শুক্রবার সন্ধ্যায় পশ্চিম আকাশে এক ফালি রুপালি চাঁদ দেখা মাত্র ঘরে ঘরে বেজে উঠল ঈদের চিরচেনা সুর, ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এল খুশীর ঈদ। দীর্ঘ এক মাসের সিয়াম সাধনার পর আজ শনিবার সারা দেশে উদ্‌যাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। এই দিন ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জন্য আনন্দ, কৃতজ্ঞতা ও আত্মশুদ্ধির এক বড় উপলক্ষ।   রমজান মাসব্যাপী ক্ষুধা ও তৃষ্ণার কষ্ট উপভোগ করে দরিদ্রদের প্রতি সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধের শিক্ষা, আজ তার পূর্ণতা পায়। ফিতরা আদায়ের মাধ্যমে সমাজের সকলের জন্য উৎসব নিশ্চিত করা হয়, যা ঈদের সাম্যবোধের এক অনন্য উদাহরণ।   যাত্রী ও ভ্রমণকারীদের ভিড়ে গত কয়েকদিন ধরেই বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও লঞ্চঘাটে ছিল তীব্র ব্যস্ততা। দীর্ঘ সময়ের যানজট ও ক্লান্তি আজ ম্লান হয়ে গেছে প্রিয়জনের সঙ্গে পুনর্মিলনের আনন্দে। ঘরে ফিরেই অনুভূত হয় পরিবার ও বাড়ির উষ্ণতা, মায়ের হাসি ও ভাইবোনের খুনসুটি।   উৎসবের প্রস্তুতি ও প্রার্থনা রাজধানী থেকে গ্রামাঞ্চল, সবখানেই এখন ঈদের আমেজ। পাড়ার দোকানগুলোতে ছিল আতর, টুপি, সেমাই ও চিনি কেনার ভিড়। ভোর থেকেই গৃহিণীরা রান্নাবান্নার শেষ প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। রাজধানীর বিউটি পার্লারগুলোয় লম্বা লাইন এবং রাতভর চলছিল মেহেদি আঁকার আয়োজন। দেশের নানা প্রান্তে বসেছে ঈদমেলা, যা চারপাশে আনন্দ ও রঙিন উৎসবের আবহ ছড়িয়ে দিচ্ছে।   বাসস জানিয়েছে, দেশের প্রধান ঈদ জামাত সকাল সাড়ে ৮টায় জাতীয় ঈদগাহে অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি মুহাম্মদ আবদুল মালেক ইমামতি করবেন। আবহাওয়া বা অন্যান্য কারণে যদি জাতীয় ঈদগাহে জামাত সম্ভব না হয়, তবে সকাল ৯টায় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে। নারীদের জন্য আলাদা নামাজের ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া পাঁচটি পর্যায়ক্রমিক জামাত সকাল ৭টা থেকে বেলা পৌনে ১১টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে।   নামাজ শেষে মানুষ একে অপরকে বলবেন “ঈদ মোবারক” এবং কবরস্থানে প্রিয়জনদের রুহের মাগফিরাত কামনায় মোনাজাত করবেন। বিকেলে পরিবারসহ বেড়াতে যাওয়াও ঈদের আনন্দের অংশ।   সম্প্রীতি ও আগামীর অঙ্গীকার রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণীতে দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তারা দেশবাসীর সুখ, সমৃদ্ধি ও অসাম্প্রদায়িক সমাজ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। মূল্যস্ফীতি বেড়েছে, তবে উৎসবের আনন্দে তা প্রভাব ফেলতে পারেনি। সামর্থ্য অনুযায়ী সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এই আনন্দকে আরও পূর্ণতা দেবে।   কবি কাজী নজরুল ইসলামের অমর পঙ্‌ক্তিই আজকের ঈদের মর্ম—“যারা জীবন ভ’রে রাখছে রোজা, নিত্য উপবাসী, সেই গরীব, এতিম, মিসকিনে দে যা কিছু মফিদ, ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এল খুশীর ঈদ। তুই আপনাকে আজ বিলিয়ে দে শোন আসমানী তাগিদ।”   আজকের দিন শুধু আনন্দের নয়, বরং মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ার অঙ্গীকারের প্রতীক। ঈদ যেন সকলের জীবনে শান্তি, কল্যাণ ও আনন্দ বয়ে আনে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
নতুন চাঁদ দেখলে মহানবী (সা.) যেই দোয়া পড়তেন

ইসলামী বর্ষপঞ্জি চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল। হিজরি বর্ষের মাস শুরু ও শেষ নির্ধারণ, রোজা পালন এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত নতুন চাঁদ দেখার সঙ্গে যুক্ত।   দুনিয়ার মুসলমানরা জানেন, নবী করিম (সা.) নতুন চাঁদ দেখা মাত্রই কল্যাণ ও নিরাপত্তার জন্য একটি বিশেষ দোয়া পড়তেন। সেই দোয়ার মূল লেখা এবং উচ্চারণ হলো:   আরবি: اَللهُ أَكْبَرُ اَللَّهُمَّ أَهِلَّهُ عَلَيْنَا بِالْأَمْنِ وَالْإِيْمَانِ وَالسَّلاَمَةِ وَالْإِسْلاَمِ وَالتَّوْفِيْقِ لِمَا تُحِبُّ وَتَرْضَى، رَبِّىْ وَرَبُّكَ اللهُ   উচ্চারণ: “আল্লাহুম্মা আহিল্লাহু আলাইনা বিল আমনি ওয়াল ঈমানি, ওয়াস সালামাতি ওয়াল ইসলাম, রাব্বি ওয়া রাব্বুকাল্লাহ।”   অর্থ: “হে আল্লাহ! তুমি ওই চাঁদকে আমাদের ওপর উদিত করো নিরাপত্তা, ঈমান, শান্তি ও ইসলামের সঙ্গে। আমার ও তোমার প্রতিপালক আল্লাহ।”   হাদিস সূত্রে জানা যায়, তালহা ইবনে উবাইদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) যখন নতুন চাঁদ দেখতেন, তখন তিনি এই দোয়া পড়তেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২০, ২০২৬ 0
মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম হলেন বাংলাদেশি হাফেজ ইব্রাহীম শেখ (সংগৃহীত ছবি)
মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম বাংলাদেশি হাফেজ ইব্রাহীম শেখ

মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করেছেন বাংলাদেশি হাফেজ ইব্রাহীম শেখ। বাংলাদেশি ইয়ুথ কমিউনিটির উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় মোট ২৮টি দেশের প্রতিযোগী অংশ নিয়েছিল, যার মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশের হাফেজরা।   প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন মালয়েশিয়ার হাফেজ নূরুল আবছার এবং তৃতীয় স্থান পেয়েছেন থাইল্যান্ডের হাফেজ সায়েদুর রহমান।   হাফেজ ইব্রাহীম বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ক্বিরাত সংস্থা পরিচালিত মাদরাসা উম্মুল কুরার ছাত্র। সংস্থার মহাসচিব শায়েখ সাদ সাইফুল্লাহ মাদানী এই মাদরাসার পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় কুয়ালালামপুরে, যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মালয়েশিয়ার দাতো ডা. হাসনিজাল হাসান। ইয়ুথ কমিউনিটির সভাপতি মোহাম্মদ রাজু মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ হাইকমিশনের লেবার মিনিস্টার সিদ্দিকুর রহমান। এছাড়া সম্মাননা প্রদান করা হয় যমুনা টেলিভিশনের মালয়েশিয়া প্রতিনিধি মো. মনিরুজ্জামানকেও।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইতেকাফ অবস্থায় মসজিদে পেট্রোল ঢেলে অগ্নিসংযোগ, ভারতজুড়ে উত্তেজনা

পবিত্র রমজানের মধ্যেই সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার নতুন ঘটনা ঘটেছে ভারতের হরিয়ানা রাজ্যে। রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফে থাকা মুসল্লিদের সময় গভীর রাতে একটি মসজিদে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে।   স্থানীয় সূত্র ও ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে জানা যায়, পালওয়াল জেলা–এর টিকরি ব্রাহ্মণ গ্রামে অবস্থিত একটি মসজিদের জানালা ভেঙে ভেতরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। মঙ্গলবার দিবাগত রাত প্রায় ১টা ২৫ মিনিটের দিকে এই ঘটনা ঘটে।   সেই সময় মসজিদের ইমাম জুবের এবং আরও তিনজন—ইকবাল, হানিফ ও সোহেল—ইতিকাফ পালন করছিলেন। হঠাৎ ধোঁয়া ও তাপ অনুভব করে তারা জেগে ওঠেন এবং চিৎকার শুরু করেন। তাদের চিৎকার শুনে স্থানীয় গ্রামবাসীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের আগেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।   ঘটনার পর ইমাম জুবেরের অভিযোগের ভিত্তিতে রামরূপসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পালওয়ালের পুলিশ সুপার বরুণ সিংলা জানিয়েছেন, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং এতে বিশেষ অপরাধ ইউনিট ও সাইবার সেলকে যুক্ত করা হয়েছে।   পুলিশের মুখপাত্র সঞ্জয় কুমার জানান, এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করা হচ্ছে এবং স্থানীয়দের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   এদিকে এই ঘটনায় স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। গ্রামবাসীদের দাবি, গত কয়েক বছর ধরেই এলাকায় সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরির চেষ্টা চলছে। তাদের অভিযোগ, এর আগেও বিভিন্ন সময় নানা অজুহাতে মুসলিমদের হয়রানি ও হেনস্তার ঘটনা ঘটেছে।   এর আগে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে জুমার নামাজে বাধা দেওয়া, রাস্তায় নামাজ পড়া মুসল্লিদের ওপর হামলা, মসজিদ ভাঙচুর এবং গরুর মাংস বহনের সন্দেহে মুসলিম নাগরিকদের মারধর বা হত্যার মতো ঘটনাও ঘটেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৫, ২০২৬ 0
রমজানকে স্বাগত। ছবি: সংগৃহীত
৬ মার্চ ২০২৬: আজকের সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি

পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী শুক্রবার (৬ মার্চ ২০২৬) ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সেহরি ও ইফতারের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।   ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী রাজধানী ঢাকায় শুক্রবার সেহরির শেষ সময় ভোর ৫টা এবং ইফতারের সময় সন্ধ্যা ৬টা ৫ মিনিট। একই সঙ্গে এদিন ফজরের নামাজ শুরু হবে ভোর ৫টা, জোহরের নামাজ ১২টা ১০ মিনিট, আসরের নামাজ ৪টা ২৫ মিনিট, মাগরিবের নামাজ ৬টা ৫ মিনিট এবং এশার নামাজ ৭টা ১৯ মিনিটে।   দেশের অন্যান্য জেলায় সময়সূচিতে সামান্য পার্থক্য রয়েছে। কক্সবাজারে সেহরির শেষ সময় ৪টা ৫৩ মিনিট এবং ইফতারের সময় ৫টা ৫৯ মিনিট। চট্টগ্রামে সেহরি শেষ হবে ৪টা ৫৪ মিনিটে এবং ইফতার ৬টা। খুলনায় সেহরি শেষ ৫টা ৩ মিনিটে এবং ইফতার ৬টা ৯ মিনিটে।   এছাড়া দেশের আরও কয়েকটি জেলার সময়সূচি নিচে দেওয়া হলো— কিশোরগঞ্জ: সেহরি শেষ ৪টা ৫৭ মিনিট, ইফতার ৬টা ৩ মিনিট কুড়িগ্রাম: সেহরি শেষ ৫টা ২ মিনিট, ইফতার ৬টা ৭ মিনিট কুমিল্লা: সেহরি শেষ ৪টা ৫৭ মিনিট, ইফতার ৬টা ৩ মিনিট কুষ্টিয়া: সেহরি শেষ ৫টা ৫ মিনিট, ইফতার ৬টা ১০ মিনিট খাগড়াছড়ি: সেহরি শেষ ৪টা ৫৪ মিনিট, ইফতার ৫টা ৫৯ মিনিট গাইবান্ধা: সেহরি শেষ ৫টা ৩ মিনিট, ইফতার ৬টা ৮ মিনিট গাজীপুর: সেহরি শেষ ৪টা ৫৯ মিনিট, ইফতার ৬টা ৫ মিনিট গোপালগঞ্জ: সেহরি শেষ ৫টা ২ মিনিট, ইফতার ৬টা ৭ মিনিট চাঁদপুর: সেহরি শেষ ৪টা ৫৮ মিনিট, ইফতার ৬টা ৪ মিনিট চাঁপাইনবাবগঞ্জ: সেহরি শেষ ৫টা ৮ মিনিট, ইফতার ৬টা ১৩ মিনিট চুয়াডাঙ্গা: সেহরি শেষ ৫টা ৬ মিনিট, ইফতার ৬টা ১১ মিনিট জয়পুরহাট: সেহরি শেষ ৫টা ৫ মিনিট, ইফতার ৬টা ৯ মিনিট হবিগঞ্জ: সেহরি শেষ ৪টা ৫৫ মিনিট, ইফতার ৬টা ১ মিনিট সুনামগঞ্জ: সেহরি শেষ ৪টা ৫৫ মিনিট, ইফতার ৬টা ১ মিনিট সিলেট: সেহরি শেষ ৪টা ৫২ মিনিট, ইফতার ৫টা ৫৮ মিনিট সিরাজগঞ্জ: সেহরি শেষ ৫টা ৩ মিনিট, ইফতার ৬টা ৮ মিনিট সাতক্ষীরা: সেহরি শেষ ৫টা ৫ মিনিট, ইফতার ৬টা ১০ মিনিট লক্ষ্মীপুর: সেহরি শেষ ৪টা ৫৮ মিনিট, ইফতার ৬টা ৩ মিনিট মৌলভীবাজার: সেহরি শেষ ৪টা ৫৩ মিনিট, ইফতার ৫টা ৫৯ মিনিট মাগুরা: সেহরি শেষ ৫টা ৪ মিনিট, ইফতার ৬টা ৯ মিনিট   ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন জেলায় ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সেহরি ও ইফতারের সময়ে কয়েক মিনিটের পার্থক্য হতে পারে। তাই স্থানীয় সময়সূচি অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
আল আকসায় জুমার নামাজে নিষেধাজ্ঞা দিল ইসরাইল

নিরাপত্তা পরিস্থিতির অজুহাতে জেরুজালেমের পবিত্র আল আকসা মসজিদ-এ আজ শুক্রবার জুমার নামাজ আদায়ে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ইসরাইলি প্রশাসন।   বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে ইসরাইলি বেসামরিক প্রশাসন জানায়, চলতি সপ্তাহে আল আকসা মসজিদে শুক্রবারের জুমার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে না। ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।   ফিলিস্তিনের দখলকৃত জেরুজালেমে অবস্থিত আল আকসা মসজিদ মুসলমানদের অন্যতম পবিত্র স্থান। Six-Day War-এর পর ১৯৬৭ সালে জেরুজালেম দখল করে নেয় ইসরাইল। এরপর থেকেই এই পবিত্র এলাকার প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ইসরাইলের হাতে রয়েছে।   ইসরাইলি বেসামরিক প্রশাসনের প্রধান হিশাম ইব্রাহিম এক বিবৃতিতে বলেন, জেরুজালেমের পুরান শহরের সব পবিত্র স্থান শুক্রবার বন্ধ থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে ওয়েস্টার্ন ওয়াল, আল আকসা মসজিদ এবং চার্চ অব দ্য হোলি সেপালকার।   তিনি জানান, এসব স্থানে কোনো ইবাদতকারী, পর্যটক বা অন্য কাউকেই প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।   সূত্র: আল জাজিরা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৬, ২০২৬ 0
বাড়ির জন্য কেনা জমির জাকাত। ছবি: সংগৃহীত
বাড়ি করার জন্য কেনা জমির জাকাত দিতে হবে কি?

যেসব মুসলমান ভবিষ্যতে বাড়ি নির্মাণের উদ্দেশ্যে কম বা বেশি দামে জমি কিনে রাখেন, কিন্তু এখনও সেখানে কোনো নির্মাণ শুরু হয়নি, সেই জমির ওপর জাকাত দিতে হবে না। কারণ ইসলামি বিধান অনুযায়ী ব্যবসার উদ্দেশ্য ছাড়া অন্য কোনো কারণে ক্রয় করা সম্পদের ওপর জাকাত ফরজ হয় না।   হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, “স্বর্ণ, রৌপ্য ও নগদ অর্থ ছাড়া অন্য কোনো বস্তুর ওপর জাকাত আসে না, যদি তা ব্যবসার জন্য না হয়। আর ব্যবসার জন্য হলে তার ওপর জাকাত আসবে।” (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা: ১০৫৬০)   জাকাত ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম এবং এটি প্রাপ্তবয়স্ক, স্বাধীন ও সম্পদশালী মুসলমানদের জন্য বাধ্যতামূলক। এক হিজরি বছর পর্যন্ত নেসাব পরিমাণ সম্পদ থাকলে ২.৫ শতাংশ বা ১/৪০ অংশ জাকাত হিসেবে বিতরণ করতে হবে। পবিত্র কুরআনে সালাতের সঙ্গে জাকাতের গুরুত্ব উল্লেখ আছে:   “তোমরা সালাত কায়েম কর, জাকাত দাও এবং নিজেদের জন্য যে কল্যাণ অগ্রিম পাঠাবে, তা আল্লাহর কাছেই পাবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ যা করছ তা দেখছেন।” (সুরা বাকারা: ১১০)   নগদ অর্থ, স্বর্ণ-রৌপ্য বা ব্যবসার মাল যখন নেসাবের পর্যায়ে পৌঁছায়, তখন জাকাতের হিসাবের বছর গণনা শুরু হয়। এক বছর পূর্ণ হলে বর্ধনশীল সম্পদের ২.৫ শতাংশ জাকাত হিসেবে পরিশোধ করতে হবে। হিজরি সন অনুযায়ী বছরে একবার জাকাত হিসাব করা বাধ্যতামূলক হলেও পরিশোধ ধাপে ধাপে করা যেতে পারে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
কঠোর পরিশ্রম কি রোজা না রাখার অজুহাত হতে পারে? ইসলামের বিধান যা বলছে

রমজান মাসে রোজা রাখা সকল প্রাপ্ত বয়স্ক মুসলিমের জন্য ফরজ। যেসব পেশার মানুষ কঠোর শারীরিক পরিশ্রমের সঙ্গে যুক্ত—যেমন রিকশা চালক, গার্মেন্টস শ্রমিক বা মাটি কাটার কাজের লোক—তাদের জন্যও রোজা রাখা ফরজই। তবে পরিশ্রমের অজুহাতে রোজা না রাখার সুযোগ নেই।   যারা অত্যন্ত কঠোর পরিশ্রমের পেশায় যুক্ত, তাদের উচিত রমজানে কাজের চাপ সামঞ্জস্য করা। উদাহরণস্বরূপ, সাধারণ দিনে পুরো দিন কাজ করা হলেও রমজানে অর্ধদিবস কাজ করা এবং অবশিষ্ট সময় বিশ্রাম নেওয়া উচিত। এতে রোজা রাখা সহজ হয়। তবু যদি কোন দিন এমন কঠোর পরিশ্রম করতে হয়, যার কারণে প্রাণ বা স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি থাকে, সেই দিনের রোজা খোলা যায় এবং পরবর্তীতে কাজা রোজা আদায় করতে হবে। এই পরিস্থিতিতে কাফফারা দেওয়ার প্রয়োজন নেই।   আধিকারিক ও অধীস্তদের জন্যও দায়িত্ব রয়েছে। অধীস্তদের কাজ হালকা করে দিলে আল্লাহ তায়ালা তাকে ক্ষমা করবেন এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেবেন। সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য রোজা রাখা বাধ্যতামূলক। আল্লাহ তায়ালা বলেন: হে ঈমানদারগণ, তোমাদের উপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের উপর, যেন তোমরা পরহেযগারীতা অর্জন কর’ (সূরা বাকারা, আয়াত ১৮৩)           এছাড়া নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, রমজান মাসের রোজা তোমাদের উপর ফরজ, তবে অতিরিক্ত নফল রোজা রাখতে পারো। ইচ্ছাকৃতভাবে রোজা না রাখা গর্হিত এবং শাস্তিযোগ্য। হাদিসে বর্ণিত আছে, যারা রোজা ভেঙে দেয় পূর্ণ করার আগে, তাদের কঠোর শাস্তি হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬ 0
প্রতীকী ছবি
রমজান মাসের ৩০ আমল: তাকওয়া ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের পথ

রোজা ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন “হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যেন তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।” (সুরা বাকারা: ১৮৩)   রোজা শুধু পানাহার থেকে বিরত থাকার নাম নয়; বরং এটি আত্মশুদ্ধি, তাকওয়া ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের মাধ্যম। নবীজি (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি রোজা রেখেও মিথ্যা ও পাপ কাজ ত্যাগ করল না, তার পানাহার ত্যাগের আল্লাহর কাছে কোনো মূল্য নেই।” (সহিহ বুখারি: ৬০৫৭)   রমজানে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ আমল তুলে ধরা হলো-   ১. তারাবি নামাজ আদায় ঈমান ও সওয়াবের আশায় তারাবি আদায় করলে অতীতের গুনাহ মাফ হয়। (বুখারি)   ২. তাহাজ্জুদ পড়া রমজানে তাহাজ্জুদে বিশেষ ফজিলত রয়েছে। (নাসায়ী)   ৩. কোরআন তিলাওয়াত রমজান কোরআন নাজিলের মাস। বেশি বেশি তিলাওয়াত ও কোরআন শিক্ষা করা উত্তম।   ৪. পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতে আদায় জামাতে নামাজ একাকী নামাজের চেয়ে ২৭ গুণ বেশি মর্যাদাসম্পন্ন। (বুখারি)   ৫. সেহরি খাওয়া সেহরিতে বরকত রয়েছে। (বুখারি)   ৬. দেরিতে সেহরি করা ফজরের আগে সেহরি করা সুন্নত।   ৭. সময়মতো ইফতার করা ইফতারের সময় রোজাদারের জন্য বিশেষ আনন্দ রয়েছে। (তিরমিজি)   ৮. তাড়াতাড়ি ইফতার করা সময় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইফতার করা সুন্নত। (আবু দাউদ)   ৯. ইফতারের দোয়া পড়া “আল্লাহুম্মা লাকা সুমতু…” (আবু দাউদ)   ১০. অন্যকে ইফতার করানো রোজাদারকে ইফতার করালে সমান সওয়াব পাওয়া যায়। (তিরমিজি)   ১১. দান-সদকা রমজানে রাসুল (সা.) সবচেয়ে বেশি দান করতেন। (বুখারি)   ১২. সদকাতুল ফিতর আদায় ঈদের আগে আদায় করা ওয়াজিব। (মুসলিম)   ১৩. যাকাত আদায় যার ওপর ফরজ হয়েছে, তিনি রমজানে আদায় করতে পারেন।   ১৪. বেশি বেশি নফল ইবাদত রমজানে একটি নফল অন্য মাসের ফরজের সমান সওয়াবের। (শুয়াবুল ইমান)   ১৫. জুমার দিন তাড়াতাড়ি মসজিদে যাওয়া প্রতিটি পদক্ষেপে এক বছরের নফল রোজা ও নামাজের সওয়াব। (আবু দাউদ)   ১৬. ওমরাহ পালন রমজানে একটি ওমরাহ একটি হজের সমতুল্য। (বুখারি)   ১৭. তওবার নামাজ পড়া গুনাহের পর দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ে তওবা করা।   ১৮. সালাতুত তাসবিহ পড়া বিগত গুনাহ মাফের বিশেষ আমল।   ১৯. মাসনূন দোয়া পড়া দৈনন্দিন জীবনের দোয়াগুলো নিয়মিত পড়া।   ২০. বেশি বেশি ইস্তিগফার ইস্তিগফার করলে আল্লাহ সংকট দূর করেন। (আবু দাউদ)   ২১. শেষ দশকে ইতিকাফ সুন্নতে মুয়াক্কাদা আলাল কিফায়া।   ২২. লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান কদরের রাত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। (বুখারি)   ২৩. আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা আখেরাতে বিশ্বাসী ব্যক্তি আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করবে। (বুখারি)   ২৪. গিবত, মিথ্যা ও অশ্লীলতা বর্জন গিবত মারাত্মক গুনাহ।   ২৫. বেশি বেশি জিকির “আল্লাহকে অধিক পরিমাণে স্মরণ করো…” (সূরা আনফাল: ৪৫)   ২৬. মা-বাবার খেদমত মা-বাবা জান্নাত বা জাহান্নামের কারণ হতে পারেন। (ইবনে মাজাহ)   ২৭. অসুস্থ ও বিপদগ্রস্তদের খোঁজ নেওয়া রোগী দেখা সুন্নত। (বুখারি)   ২৮. নবীজি (সা.) ও সাহাবিদের জীবনী পড়া তাদের জীবন আমাদের জন্য আদর্শ।   ২৯. রমজানের মাসআলা জানা শুদ্ধভাবে রোজা পালনের জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান অর্জন।   ৩০. বেশি বেশি দরুদ শরীফ পাঠ একবার দরুদ পড়লে আল্লাহ ১০টি রহমত নাজিল করেন। (নাসায়ী)

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬ 0
বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় ফিতরা নির্ধারণ কমিটির সভা
চলতি বছরের ফিতরার হার ঘোষণা, সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ কত?

চলতি ১৪৪৭ হিজরি সনের সাদাকাতুল ফিতরের হার নির্ধারণ করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। এ বছর জনপ্রতি সর্বনিম্ন ফিতরা ১১০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ২ হাজার ৮০৫ টাকা ধার্য করা হয়েছে। আজ বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় ফিতরা নির্ধারণ কমিটির সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।  সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় ফিতরা নির্ধারণ কমিটির সভাপতি ও বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মুহাম্মদ আবদুল মালেক। সভায় উপস্থিত বিশিষ্ট আলেম ও কমিটির সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে বাজারমূল্য পর্যালোচনা করে এই হার চূড়ান্ত করা হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে এই হার ঘোষণা করেন কমিটির সভাপতি।  উল্লেখ্য যে, বিগত ১৪৪৬ হিজরি সনেও (২০২৫ সাল) সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ ফিতরার হার একই ছিল। আটা, খেজুর, কিসমিস, পনির ও যবের বাজারমূল্যের ওপর ভিত্তি করে প্রতি বছর এই হার নির্ধারণ করা হয়।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬ 0
ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)
ধর্মমন্ত্রী সতর্ক: হজ ও সরকারি দায়িত্বে শিথিলতা বরদাশত হবে না

হজের সুষ্ঠু আয়োজন নিশ্চিত করতে ধর্ম মন্ত্রণালয় কঠোর অবস্থান নিয়েছে। রোববার বিকেলে সচিবালয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে কঠোর বার্তা দেন।   মন্ত্রী বলেন, হজ আসন্ন, তাই কেউ যদি সামান্যতম গাফিলতি বা ব্যত্যয় ঘটান, সরকার তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে দ্বিধা করবে না। তিনি আরও বলেন, হজের পাশাপাশি অন্যান্য সরকারি দায়িত্ব পালনেও কোনো ধরনের শিথিলতা বরদাশত করা হবে না।   কাজের নৈতিক দিক তুলে ধরে তিনি বলেন, শুধুমাত্র উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নির্দেশ পালন করে ‘ভালো অফিসার’ সেজে থাকা যথেষ্ট নয়। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং উপার্জন হালাল করার মানসিকতা নিয়ে দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। দেশের কল্যাণে কাজ করলেই দায়িত্ব পালন সার্থক হবে।   মন্ত্রী কর্মকর্তাদের উৎসাহিত করে বলেন, সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে তারা এক পা এগিয়ে এলে তিনি নিজে তিন পা এগিয়ে যাবেন। তিনি উল্লেখ করেন, কোনো নির্দেশ আইনসম্মত না হলে তা সরাসরি জানাতে হবে এবং নিয়মের বাইরে কাজ না করার পরামর্শ দেন।   সভায় ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম সম্পর্কে মন্ত্রীকে বিস্তারিত অবহিত করা হয়। অনুষ্ঠানে ধর্মসচিব মো. কামাল উদ্দিন, হজ অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. আয়াতুল ইসলামসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬ 0
স্বর্ণের জাকাত। ছবি: সংগৃহীত
স্বর্ণ-রূপার দাম ওঠানামায় যেভাবে নির্ধারণ করবেন জাকাতের সঠিক হিসাব

মুসলমানদের ওপর সামর্থ্য অনুযায়ী জাকাত প্রদান ফরজ। জাকাতের মূল হিসাব স্বর্ণ ও রূপার মূল্যকে কেন্দ্র করে নির্ধারণ করা হয়। কোনো মুসলমানের কাছে এক চন্দ্রবছর (হাওল) পূর্ণ হলে সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ, সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপা অথবা এগুলোর সমমূল্যের নগদ অর্থ বা ব্যবসায়িক সম্পদ থাকলে তার ওপর জাকাত ফরজ হয়।   বর্তমান সময়ে স্বর্ণ ও রূপার দাম নিয়মিত ওঠানামা করছে। এমন পরিস্থিতিতে ইসলামিক স্কলারদের মতে, জাকাতের হিসাব করতে হবে হাওল পূর্ণ হওয়ার দিনের বর্তমান বাজারমূল্য অনুযায়ী। অর্থাৎ, যেদিন সম্পদের এক চন্দ্রবছর পূর্ণ হবে, সেদিনকার বাজারদর হিসাব করেই জাকাত নির্ধারণ করতে হবে। ক্রয়মূল্য বা আগের বিনিয়োগের মূল্য এ ক্ষেত্রে বিবেচ্য নয়।   ব্যবসায়িক সম্পদের জাকাত হিসাবের ক্ষেত্রেও বর্তমান বাজারমূল্যই গ্রহণযোগ্য। অধিকাংশ ফিকহবিদের মতে, হাওল পূর্ণ হওয়ার দিনে ব্যবসায়িক পণ্যের মোট বাজারমূল্যের ওপর ২.৫ শতাংশ জাকাত আদায় করতে হবে।   নগদ অর্থ না থাকলে স্বর্ণ, রূপা ও ব্যবসায়িক পণ্য একত্রে হিসাব করে নিসাব পরিমাণে পৌঁছালে জাকাত ফরজ হবে। কেবল নিসাব পরিমাণ স্বর্ণ থাকলে এবং নগদ অর্থ না থাকলে তাৎক্ষণিক জাকাত প্রদান বাধ্যতামূলক নয়। তবে ইচ্ছাকৃত বিলম্ব বা অবহেলা শারিয়াহসম্মত নয়। প্রয়োজনে স্বর্ণের অংশ বিক্রি করে বা পরবর্তীতে নগদ অর্থ হাতে এলে জাকাত আদায় করা যেতে পারে।   জাকাত আদায়ের মূলনীতি হলো—সম্পদ নিসাব পরিমাণে পৌঁছানো, এক চন্দ্রবছর পূর্ণ হওয়া এবং হাওল পূর্ণ হওয়ার দিনের বর্তমান বাজারমূল্য অনুযায়ী সঠিক হিসাব করে সময়মতো জাকাত প্রদান করা।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬ 0
রমজানে মেট্রোরেল চলাচলের নতুন সময়সূচি প্রকাশ
রমজানে মেট্রোরেল চলাচলের নতুন সময়সূচি প্রকাশ 👇

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) ডিএমটিসিএলের পরিচালক (প্রশাসন) এ কে এম খায়রুল আলম স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এ তথ্য জানানো হয়।   বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, উত্তরা উত্তর স্টেশন থেকে মতিঝিল অভিমুখে প্রথম ট্রেন ছাড়বে সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে এবং শেষ ট্রেন রাত ৯টা ৩০ মিনিটে। অন্যদিকে মতিঝিল থেকে উত্তরা উত্তরগামী প্রথম ট্রেন ছাড়বে সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে, শেষ ট্রেন রাত ১০টা ১০ মিনিটে।   সকাল ও বিকেলের ব্যস্ত সময়ে ট্রেনের হেডওয়ে (এক ট্রেনের পর আরেক ট্রেনের ব্যবধান) ৫.৩০ থেকে ৮ মিনিটের মধ্যে রাখা হয়েছে। আর স্বাভাবিক সময়ে এই ব্যবধান সর্বোচ্চ ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর্যন্ত হতে পারে বলে জানানো হয়েছে রমজান মাসে যাত্রীদের সুবিধার্থে স্টেশন এলাকায় ও ট্রেনে পানীয় জল বহনের অনুমতি থাকবে। ইফতার সামগ্রী বহনের ক্ষেত্রেও নির্ধারিত নিরাপত্তা বিধি মেনে চলতে হবে এবং স্টেশন ও ট্রেনে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।   বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, শনিবার ও অন্যান্য সরকারি ছুটির দিনেও এই সময়সূচি কার্যকর থাকবে।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬ 0
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ
সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে চাঁদপুরে রোজা শুরু: অর্ধশত গ্রামে ধর্মীয় উৎসবের আমেজ

সৌদি আরবের আকাশে পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ায় পরদিনই চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের সাদ্রা দরবার শরীফসহ জেলার প্রায় অর্ধশত গ্রামে আজ বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে রোজা রাখা শুরু হয়েছে। দীর্ঘ ৯ দশকেরও বেশি সময় ধরে চলে আসা ঐতিহ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে এই গ্রামগুলোতে প্রতি বছরই একদিন আগে রোজা ও ঈদ উদ্‌যাপিত হয়। ঐতিহাসিক সাদ্রা দরবার শরীফের পীরজাদা ড. বাকীবিল্লাহ মিশকাত চৌধুরী আজ সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।   সাদ্রা দরবার শরীফ ছাড়াও মতলব উত্তর উপজেলার সাতকানিয়া মির্জাখীল দরবার শরীফের অনুসারীরা মঙ্গলবার রাতে তারাবির নামাজ আদায় এবং সেহরি খাওয়ার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে রমজানের কার্যক্রম শুরু করেন। পীর ইমামুল আরেফিন ড. মওলানা সৈয়দ মোহাম্মদ মাকসুদুর রহমান জানান, সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যে চাঁদ দেখার খবর পাওয়ার পর শরীয়াহ মোতাবেক এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ, ফরিদগঞ্জ, মতলব উত্তর, কচুয়া ও শাহরাস্তি উপজেলার অন্তত ৫০টি গ্রামের মানুষ এই নিয়ম পালন করছেন। উল্লেখযোগ্য গ্রামগুলোর মধ্যে রয়েছে হাজীগঞ্জের সমেশপুর, বলাখাল, বাসারা; ফরিদগঞ্জের লক্ষ্মীপুর, গল্লাক, কাইতাড়া; এবং মতলব উত্তরের দশানী ও মোহনপুর। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সৌদি আরবে চাঁদ দেখার তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এলাকায় রোজার প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায় এবং ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে প্রথম রোজা পালন করছেন তারা।   উল্লেখ্য, ১৯৩২ সাল থেকে এই আগাম রোজা ও ঈদ পালনের প্রথা প্রবর্তন করেন সাদ্রা দরবার শরীফের মরহুম পীর মওলানা ইসহাক (রহ.)। তাঁর অনুসৃত নিয়ম অনুযায়ী, পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে প্রথম চাঁদ দেখা গেলে সেই তথ্যের ভিত্তিতেই ইবাদত শুরু করা হয়। প্রায় ৯৪ বছর ধরে এই নিয়মটি চাঁদপুরের এই বিশেষ অঞ্চলগুলোতে অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করা হচ্ছে, যা বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ডে রমজান শুরুর একদিন আগেই এই এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করে।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬ 0
চাঁদপুরের ৪০ গ্রামে রমজানের প্রথম রোজা বুধবার শুরু, সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে পালন

চাঁদপুরের প্রায় ৪০টি গ্রামে বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে পবিত্র মাহে রমজানের প্রথম রোজা শুরু হবে। সৌদি আরবের সঙ্গে সময়মিল রেখে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট গ্রামগুলোর মুসল্লিরা তারাবির নামাজসহ রমজানের যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা দরবার শরিফের পীর মাওলানা মুফতি মোহাম্মদ আরিফ চৌধুরী।   স্থানীয় ঐতিহ্য অনুসারে, বিশ্বের যেকোনো স্থানে প্রথম চাঁদ দেখার ভিত্তিতেই এই গ্রামগুলোতে রোজা পালন করা হয়। হাজীগঞ্জের সাদ্রা দরবার শরিফের মরহুম পীর আল্লামা মোহাম্মদ ইসহাক চৌধুরী ১৯২৮ সালে এই প্রথার প্রবর্তন করেন। এরপর থেকে তাঁর অনুসারীরা বংশপরম্পরায় এই নিয়ম মেনে রোজা ও ঈদ উদযাপন করে আসছেন।   সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রোজা উদযাপনকারী উল্লেখযোগ্য গ্রামগুলো হলো: হাজীগঞ্জ উপজেলা: সাদ্রা, সমেশপুর, অলিপুর, বলাখাল, মনিহার, প্রতাপুর, বাসারা ফরিদগঞ্জ উপজেলা: লক্ষ্মীপুর, কামতা, গল্পাক, ভুলাচো, সোনাচোঁ, উভারামপুর, উটতলি, মুন্সিরহাট, কাইতাড়া, মূলপাড়া, বদরপুর, আইটপাড়া, সুরঙ্গচাইল, বালিথুবা, পাইকপাড়া, নূরপুর, সাচনমেঘ, শোল্লা, হাঁসা, গোবিন্দপুর মতলব উপজেলা: দশানী, মোহনপুর, পাঁচানী ও অন্যান্য গ্রাম মাওলানা ইসহাক চৌধুরীর মৃত্যুর পর তাঁর ছয় ছেলে এই প্রথা ও মতাদর্শের ধারাবাহিক প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। মুসল্লিরা আশা করছেন, এই নিয়ম মেনে রোজা পালন করলে পূর্ণ ধর্মীয় অনুশাসন বজায় থাকবে এবং রমজানের ইবাদতে আরও সুশৃঙ্খলতা বজায় থাকবে।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬ 0
সব মসজিদে অভিন্ন খতমে তারাবির রুটিন: ইসলামিক ফাউন্ডেশনের যুগান্তকারী নির্দেশনা

আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে দেশের সব মসজিদে একই পদ্ধতিতে খতমে তারাবি আদায়ের নির্দেশনা দিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ। এতে করে দেশের যেকোনো প্রান্তে নামাজ আদায় করলেও মুসল্লিদের কোরআন খতমের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।   মুসল্লিদের সুবিধা এবং সারা দেশে তারাবির নামাজে একরূপতা আনতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। সংস্থাটি দেশের সব মসজিদের খতিব, ইমাম, মসজিদ কমিটি ও মুসল্লিদের এই নির্ধারিত রুটিন অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছে।   ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রস্তাবিত পদ্ধতি অনুযায়ী, প্রথম ৬ দিন প্রতিদিন দেড় পারা করে মোট ৯ পারা এবং বাকি ২১ দিন প্রতিদিন ১ পারা করে মোট ২১ পারা তিলাওয়াত করা হবে। এতে করে ২৭ রমজান, অর্থাৎ পবিত্র শবে কদরের রাতে পূর্ণ ৩০ পারা কোরআন খতম সম্পন্ন হবে।   সংস্থাটি জানায়, চাকরিজীবী ও ভ্রমণকারী মুসল্লিরা প্রায়ই স্থান পরিবর্তন করেন। বিভিন্ন মসজিদে তারাবির আলাদা পদ্ধতির কারণে তারা কোরআন খতমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারেন না। অভিন্ন এই রুটিন অনুসরণ করলে দেশের যেকোনো মসজিদে নামাজ পড়লেও ধারাবাহিকতা অটুট থাকবে এবং পূর্ণ সওয়াব অর্জনে মানসিক প্রশান্তি পাওয়া যাবে।   প্রতিদিনের তিলাওয়াতের সংক্ষিপ্ত সূচিও প্রকাশ করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। এতে বলা হয়— ১ম তারাবি: সূরা ফাতেহা ও সূরা বাকারার ১–২০৩ আয়াত ২য় তারাবি: সূরা বাকারার ২০৪ থেকে সূরা আলে ইমরানের ৯১ আয়াত ৩য় তারাবি: সূরা আলে ইমরানের ৯২ থেকে সূরা নিসার ৮৭ আয়াত ৪র্থ তারাবি: সূরা নিসার ৮৮ থেকে সূরা মায়িদার ৮২ আয়াত ৫ম তারাবি: সূরা মায়িদার ৮৩ থেকে সূরা আ'রাফের ১১ আয়াত ৬ষ্ঠ তারাবি: সূরা আ'রাফের ১২ থেকে সূরা আনফালের ৪০ আয়াত   এভাবে ধারাবাহিকভাবে ২৭ রমজানে সূরা নাস পর্যন্ত সম্পন্ন হবে।   ইসলামিক ফাউন্ডেশন আশা প্রকাশ করেছে, এই অভিন্ন রুটিন বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের মুসল্লিরা আরও সুশৃঙ্খলভাবে তারাবির নামাজ আদায় করতে পারবেন এবং পবিত্র রমজানে ইবাদতে আরও মনোনিবেশ করার সুযোগ পাবেন।   পবিত্র এই মাসে সবাইকে পূর্ণ কোরআন খতম শোনার তৌফিক দান করার জন্য মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করা হয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬ 0
দিল্লির জামা মসজিদের সামনে ইফতার করছেন মুসল্লিরা। ছবিটি ২০২৫ সালের। ছবি: রয়টার্সের সৌজন্যে
বিশ্বের কোথায় কত ঘণ্টা রোজা: রমজান ২০২৬-এর সময়সূচি ও বৈশ্বিক প্রভাব

পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে বিশ্বের মুসলিম সমাজে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে এই বছর রোজা শুরু হতে পারে আগামী ১৮ বা ১৯ ফেব্রুয়ারি। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধের দেশগুলিতে রোজার সময়ের দৈর্ঘ্য ভিন্ন হবে।   রমজান মাসে মুসলিমরা সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার, ধূমপান এবং শারীরিক সম্পর্ক থেকে বিরত থাকেন, যার মূল উদ্দেশ্য হলো ‘তাকওয়া’ বা খোদাভীতি অর্জন। সাধারণত রোজার সময়কাল ১২ থেকে ১৫ ঘণ্টা পর্যন্ত হয়।   হিজরি ক্যালেন্ডার বা চন্দ্র বর্ষের ওপর ভিত্তি করে রমজান নির্ধারণ করা হয়। প্রতি বছর রমজান সৌর বছরের তুলনায় ১০–১২ দিন আগে আসে। এই হিসাব অনুযায়ী ২০৩০ সালে বিশ্বে দুইবার রমজান মাস পালিত হবে—প্রথমটি ৫ জানুয়ারি এবং দ্বিতীয়টি ২৬ ডিসেম্বর।   উত্তর গোলার্ধ (ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, এশিয়া): ১২–১৩ ঘণ্টা, শীতকাল হওয়ায় এবার কিছুটা কম। দক্ষিণ গোলার্ধ (চিলি, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা): ১৪–১৫ ঘণ্টা, মাসের শেষের দিকে কিছুটা কমে আসবে। ২০২৬ সালের সম্ভাব্য সময়সূচি অনুযায়ী, বিভিন্ন দেশের মুসলিমরা প্রথম ও শেষ দিনের সাহরি ও ইফতারের সময় অনুযায়ী রোজা পালন করবেন।   সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে সোমবার সকালে শাবান মাসের চাঁদের ছবি ধারণ করা হয়েছে। আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) সন্ধ্যায় চাঁদ দেখার জন্য দেশের নাগরিকদের আহ্বান জানিয়েছে ফতোয়া কাউন্সিল। সৌদি আরবের সুপ্রিম কোর্টও একই আহ্বান জানিয়েছে। চাঁদ দেখা গেলে রোজা শুরু হবে বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি), নাহলে বৃহস্পতিবার থেকে। বাংলাদেশে সাধারণত একদিন পর রোজা শুরু হয়, তাই প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী বাংলাদেশে ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে রোজা শুরু হতে পারে, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করবে।   ভৌগোলিক অবস্থান ও ঋতু পরিবর্তনের কারণে প্রতি বছর রোজার সময় ও পরিবেশ পরিবর্তিত হয়। উত্তর গোলার্ধের মুসলিমদের জন্য এবারের রমজান কিছুটা আরামদায়ক হলেও, দক্ষিণ গোলার্ধের মুসলিমদের দীর্ঘ সময় ধৈর্য ও সংযম দেখাতে হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬ 0
ছবি: এএফপি
রমজানে মসজিদুল আকসায় প্রবেশ সীমাবদ্ধ করার পরিকল্পনা ইসরাইলের

আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড পশ্চিম তীরের জেরুসালেমে অবস্থিত মুসলমানদের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান মসজিদুল আকসায় মুসল্লিদের প্রবেশ সীমিত করার এক সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা করছে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ। জেরুসালেমের সাবেক গ্র্যান্ড মুফতি শেখ ইকরিমা সাবরি এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছেন।   শুক্রবার তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, মুসলমানদের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এই মসজিদে রমজানের সময়ও মুসল্লিদের প্রবেশে বাধা দেওয়ার নীল নকশা ইতোমধ্যেই চূড়ান্ত করে ফেলেছে দখলদার বাহিনী। এই পরিকল্পনার প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে বছরের শুরুতেই অধিকৃত পূর্ব জেরুসালেমে নতুন পুলিশ কমান্ডার হিসেবে মেজর জেনারেল অ্যাভশ্যালম পেলেদকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই নিয়োগকে উগ্রপন্থি ইসরাইলি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের মসজিদুল আকসা দখলের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।   এমনকি ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ‘হারেৎজ’ এ বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে লিখেছে যে, বেন-গভির মূলত ওই অঞ্চলে উত্তেজনার আগুনে হাওয়া দিতে এবং সংঘাত উসকে দিতে সব ধরণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। শেখ ইকরিমা সাবরি আক্ষেপ করে বলেন, "রাসুল (সা.)-এর সুন্নাহ অনুসরণ করে বিশ্বজুড়ে মুসলমানরা অত্যন্ত উৎসাহ-উদ্দীপনায় রমজানকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি নিলেও জেরুসালেমে আমরা তা করতে পারছি না। দখলদার শক্তি তরুণদের মসজিদে প্রবেশে ইতোমধ্যেই কড়া নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরের মুসল্লিদের জন্যও কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে।"   তিনি সতর্ক করে বলেন, এর অর্থ হলো এবারের রমজানে আগের চেয়েও অনেক বেশি কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে ফিলিস্তিনিদের। মসজিদুল আকসায় মুসল্লিদের উপস্থিতি অনেক কমে যাবে, যা ধর্মীয় ও প্রার্থনার স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত। ইসরাইলের এমন উসকানিমূলক পদক্ষেপ মুসলমানদের পবিত্র রোজার মাস উদযাপনে বড় ধরণের অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬ 0
রমজানকে স্বাগত। ছবি: সংগৃহীত
বিশ্ব মুসলিম যে ৭ ব্যতিক্রমী রীতিতে রমজান উদযাপন করেন

বিশ্ব মুসলিমের বহুল প্রতীক্ষিত মাস পবিত্র রমজান। নামাজ, রোজা, দান-সদকা ও আত্মসংযম— এই মৌলিক ইবাদতগুলো সব দেশেই অভিন্ন এবং এতে কোনো ভিন্নতার সুযোগ নেই। তবে দেশ ও সংস্কৃতি ভেদে রমজান পালনের পরিবেশ ও রীতিতে দেখা যায় বৈচিত্র্য। কোথাও ইফতারের সময় কামানের গর্জনে জানান দেওয়া হয়, কোথাও আবার সেহরির আগে ঘুমন্ত রোজাদারদের জাগানো হয় ঢোলের তালে তালে। স্থানীয় সংস্কৃতি ও ইতিহাসের ছোঁয়ায় রমজান এভাবেই হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও বহুমাত্রিক।   ইবাদতের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের নিজস্ব সামাজিক রীতি ও ঐতিহ্য রমজানকে দেয় আলাদা মাত্রা। বিশ্বের নানা প্রান্তে প্রচলিত এমনই সাতটি ব্যতিক্রমী ও আকর্ষণীয় রীতি তুলে ধরা হলো—   ১. কামানের গোলায় ইফতারের সময় ঘোষণা রমজানের অন্যতম প্রাচীন ঐতিহ্য হলো ইফতারের সময় কামানের গোলার শব্দে জানান দেওয়া। ধারণা করা হয়, এই রীতির উৎপত্তি মিসরে। সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে, মাগরিবের আজানের সময় একটি কামানের গোলা ছুড়ে ইফতারের সময় ঘোষণা করা হয়।   ঘড়ি ও লাউডস্পিকারের প্রচলনের আগে কামানের মাধ্যমেই ইফতারের গণঘোষণা দেওয়া হতো। আজও সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কুয়েত, জর্ডান, কাতার ও বাহরাইনে এই ঐতিহ্য টিকে আছে।   ২. রঙিন ফানুসে রমজানের বার্তা মিসরের ঐতিহ্যবাহী রমজান লণ্ঠন—ফানুস—এখন মুসলিম বিশ্বের এক পরিচিত প্রতীক। রমজান এলেই মিসরের ঘরবাড়ি, রাস্তা, হোটেল, রেস্তোরাঁ ও বিপণিবিতান সাজানো হয় রঙিন ফানুসে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই আলোকসজ্জা বিশ্বের নানা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে এবং রমজানের আনন্দ ও উৎসবের আবহ তৈরি করেছে।   ৩. সেহরির সময় ঢোল বাজিয়ে জাগানো সেহরির সময় মানুষকে জাগাতে ঢোল বাজানোর প্রথা শত শত বছরের পুরোনো। আরব দেশগুলোতে যিনি এই দায়িত্ব পালন করেন, তাকে বলা হয় মেসাহারাতি। তুরস্কে তিনি পরিচিত দাভুলচু নামে, আর উপমহাদেশে পরিচিত সেহেরিওয়ালা হিসেবে।   ভোরের আগে তারা ঢোল বাজিয়ে ও ছন্দে ছন্দে ডাক দিয়ে পাড়া-মহল্লা ঘুরে মানুষকে সেহরির জন্য জাগিয়ে তোলেন। তুরস্কে এই ঢোলবাদকেরা প্রায়ই উসমানি আমলের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরেন। ইন্দোনেশিয়ায় সেহরি ও ইফতারের সময় জানান দিতে ব্যবহৃত হয় বড় ঢোল, যা বেদুগ নামে পরিচিত।   ৪. সেহরি ও ইফতারে নগর ঘোষক বা নাফার ঢোলের পাশাপাশি কিছু দেশে সেহরির বার্তা পৌঁছে দেন নগর ঘোষক। মরক্কোয় এদের বলা হয় নাফার। আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থা চালু হওয়ার আগে তারা পাড়া-মহল্লা ঘুরে রোজা, সেহরি, নামাজের সময়সহ নানা গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিতেন। কোনো কোনো অঞ্চলে এই ভূমিকা মেসাহারাতির সঙ্গে মিলেও যায়।   ৫. হাগ আল লায়লা সংযুক্ত আরব আমিরাতে রমজানের আগে পালিত হয় হাগ আল লায়লা। শাবান মাসের ১৫ তারিখে অনুষ্ঠিত এই উৎসবের মাধ্যমে শুরু হয় রমজানের কাউন্টডাউন। শিশুরা ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে বাড়ি বাড়ি গিয়ে গান গায় এবং মিষ্টি ও বাদাম সংগ্রহ করে। এই আয়োজনের মাধ্যমে শিশুদের মধ্যে দানশীলতা ও সামাজিক বন্ধনের শিক্ষা দেওয়া হয়।   ৬. পূর্বপুরুষের স্মরণ ও সম্মিলিত স্নান বিশ্বের সবচেয়ে বেশি মুসলমানের দেশ ইন্দোনেশিয়ায় রমজান ঘিরে রয়েছে নানা রীতি। এর মধ্যে অন্যতম নগাবুবুরিত। এতে ইফতারের আগে বিকেলের সময় বন্ধু ও পরিবারের সঙ্গে কাটানো হয়—পার্কে হাঁটা, ধর্মীয় আলোচনা শোনা কিংবা খাবারের দোকানে ভিড় করা এই রীতির অংশ।   জাভা অঞ্চলে রমজানের শেষ দিকে আয়োজন করা হয় তাকবিরান মিছিল। তরুণেরা হাতে লণ্ঠন নিয়ে আল্লাহর প্রশংসায় তাকবির ধ্বনি দিতে দিতে রাস্তায় বের হন।   রমজানের আগে পূর্বপুরুষদের কবর জিয়ারতের রীতি রয়েছে, যা নিয়াদরান নামে পরিচিত। জাকার্তাসহ বিভিন্ন এলাকায় এটি শ্রদ্ধা ও স্মরণের অংশ হিসেবে পালন করা হয়।   এ ছাড়া রোজা শুরুর এক-দুদিন আগে পাডুসান নামে একটি প্রথা রয়েছে, যেখানে মানুষ প্রাকৃতিক ঝরনা, নদী বা জলাশয়ে সম্মিলিতভাবে গোসল করে আত্মশুদ্ধির অনুভূতি লাভ করে।   ৭. চাঁদ রাত চাঁদ রাত অর্থ চাঁদের রাত। এটি দক্ষিণ এশিয়ায় ঈদুল ফিতরের আগের রাতের একটি বিশেষ সাংস্কৃতিক আয়োজন। নতুন চাঁদ দেখার মাধ্যমে রমজানের সমাপ্তি এবং শাওয়াল মাসের সূচনা হয়।   বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানে মানুষ খোলা জায়গায় জড়ো হয়ে চাঁদ দেখেন, একে অপরকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান। নারীরা মেহেদি লাগান, ঘরে ঘরে তৈরি হয় ঈদের মিষ্টি, আর শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় জমে ওঠে বাজার।   দেশভেদে রমজানের রীতি ভিন্ন হলেও এর মূল চেতনা এক—সংযম, ইবাদত ও মানবিকতা। সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের মাঝেও পবিত্র রমজান সারা বিশ্বের মুসলমানদের এক সুতোয় বাঁধে।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

১২ ঘণ্টারও কম সময়ে দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।   শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে।   এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।   নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।   এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।

অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা: এবার মেইনে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযানের ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)।   ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে।   কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না।   তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে।  সূত্র: ABC News

ভিসা নিয়ে বড় সুখবর দিলো যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে।   নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা।   ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল।   তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে।   এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস

Top week

ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক

হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ পারাপারের বিনিময়ে ভারতের কাছে তিন ট্যাংকার ফেরত চাইল ইরান

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৬, ২০২৬ 0