পবিত্র হজ ও ওমরাহ পালনকারীদের অভিজ্ঞতা আরও সহজ ও সমৃদ্ধ করতে এক অনন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সৌদি আরব। মক্কার গ্র্যান্ড মসজিদ (মসজিদুল হারাম) এবং মদিনার মসজিদে নববীতে স্থাপন করা হয়েছে অত্যাধুনিক বহুভাষিক ‘ইন্টারক্টিভ স্মার্ট স্ক্রিন’। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) চালিত এই স্ক্রিনগুলো হজযাত্রীদের ডিজিটাল গাইড হিসেবে কাজ করবে। সৌদি আরবের ‘প্রেসিডেন্সি অফ রিলিজিয়াস অ্যাফেয়ার্স’ জানিয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা লাখো হাজিদের কথা চিন্তা করে এই স্ক্রিনগুলোতে ৫০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক ভাষা যুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে হজযাত্রীরা তাৎক্ষণিকভাবে নির্ভরযোগ্য ধর্মীয় তথ্য, কোরআনের ডিজিটাল সংস্করণ এবং হজের বিভিন্ন নিয়মাবলী সম্পর্কে জানতে পারবেন। স্মার্ট স্ক্রিনের বিশেষত্ব: ১. নির্ভুল নির্দেশনা: হজযাত্রীরা যেকোনো বিভ্রান্তি এড়াতে এই স্ক্রিন থেকে সরাসরি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া ও ধর্মীয় দিকনির্দেশনা গ্রহণ করতে পারবেন। ২. সহজ নেভিগেশন: বিশাল এলাকায় হারিয়ে যাওয়া রোধে এবং যাতায়াতের সঠিক পথ খুঁজে পেতে এই ডিজিটাল ম্যাপ কার্যকর ভূমিকা রাখবে। ৩. ডিজিটাল লাইব্রেরি: স্ক্রিনগুলোতে থাকা কিউআর কোড স্ক্যান করে হাজিরা মোবাইলেই ডাউনলোড করতে পারবেন বিভিন্ন দরকারি ইসলামিক বই ও দোয়া। ৪. নারীদের জন্য বিশেষ সুবিধা: মক্কার নারী প্রার্থনা এলাকাগুলোতেও আলাদাভাবে এই স্মার্ট স্ক্রিনগুলো স্থাপন করা হয়েছে যাতে নারী হজযাত্রীরা স্বাচ্ছন্দ্যে তথ্য সেবা পেতে পারেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভিশন ২০৩০-এর অংশ হিসেবে পুরো হজ ব্যবস্থাপনাকে ডিজিটালাইজড করার লক্ষ্যেই এই প্রযুক্তিগত বিপ্লব আনা হয়েছে। এর ফলে ভাষাগত প্রতিবন্ধকতা দূর হওয়ার পাশাপাশি হজযাত্রীরা কোনো সাহায্যকারী ছাড়াই নিজের ভাষায় সবকিছু বুঝে নিতে পারবেন।
ভারতের উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজে একটি পুরোনো মসজিদ উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ভারতীয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ স্টেশন পুনর্নির্মাণ ও আধুনিকায়ন প্রকল্পের কারণ দেখিয়ে 'সংমরমার মসজিদ' নামক প্রায় ৭৬ বছরের পুরোনো একটি মসজিদ সরিয়ে ফেলার নোটিশ জারি করেছে। আগামী ২৭ এপ্রিলের মধ্যে মসজিদটি খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের দাবি, মসজিদটি রেলের মালিকানাধীন জমিতে অবৈধভাবে নির্মিত এবং এটি স্টেশনের অবকাঠামো উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করছে। তারা সতর্ক করে বলেছে যে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মসজিদটি সরানো না হলে আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে এবং এর খরচ মসজিদ পরিচালনা কমিটির কাছ থেকে আদায় করা হবে। অন্যদিকে, মসজিদ কমিটি রেলওয়ের এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, মসজিদটি একটি নিবন্ধিত 'ওয়াকফ' সম্পত্তি এবং ১৯৫০ সাল থেকে এর দালিলিক প্রমাণ রয়েছে। এমনকি ১৯৬১ সালে মসজিদটির সংস্কার কাজও করা হয়েছিল। মসজিদ কমিটির প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, তাদের কাছে বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও রেলওয়ে এই নোটিশ দিয়েছে। তারা ইতোমধ্যে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন এবং এই উচ্ছেদ আদেশের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। উত্তরপ্রদেশে গত কয়েক বছরে অবকাঠামো উন্নয়নের নামে সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় উপাসনালয় এবং স্থাপনা উচ্ছেদের ঘটনা বাড়ছে। মানবাধিকার কর্মী ও বিশ্লেষকরা এই ধরণের পদক্ষেপে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া এবং ধর্মীয় অনুভূতির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। আপাতত বিষয়টি আদালতের বিচারাধীন থাকায় পরবর্তী শুনানির দিকে তাকিয়ে আছে উভয় পক্ষ।
ইসলাম ধর্মে জুমার দিন অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ, যাকে সপ্তাহের ‘ঈদের দিন’ হিসেবে অভিহিত করা হয়। কুরআন ও হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, এই দিনের বিশেষ গুরুত্ব ও ফজিলত অপরিসীম। হাদিসে এসেছে, আল্লাহ তাআলা উম্মতে মুহাম্মদিকে এই দিনটি উপহার দিয়ে ধন্য করেছেন। জুমার দিনেই হযরত আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে, তাকে জান্নাত থেকে পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছে এবং এই দিনেই কিয়ামত সংঘটিত হবে। জুমার দিনের বরকত লাভে মুসলিমদের জন্য কিছু বিশেষ আমলের কথা হাদিসে বর্ণিত হয়েছে: জুমার নামাজ আদায়: এটি গুনাহ মাফের অন্যতম বড় মাধ্যম। এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত সময়ের সগিরা গুনাহগুলো এর মাধ্যমে ক্ষমা করে দেওয়া হয়। গোসল ও পরিচ্ছন্নতা: জুমার দিন উত্তমরূপে গোসল করা, পরিষ্কার পোশাক পরিধান করা এবং সুগন্ধি ব্যবহার করা সুন্নত। দ্রুত মসজিদে গমন: জুমার নামাজের জন্য আগে আগে মসজিদে যাওয়া অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। প্রতিটি পদক্ষেপের জন্য বিশেষ পুরস্কারের ঘোষণা রয়েছে। মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনা: ইমাম যখন খুতবা প্রদান করেন, তখন কোনো কথা না বলে মনোযোগ সহকারে তা শোনা ওয়াজিব বা আবশ্যক। সুরা কাহাফ তিলাওয়াত: জুমার দিন সুরা কাহাফ পাঠ করলে দুই জুমার মধ্যবর্তী সময়টি পাঠকের জন্য নূর বা আলোকবর্তিকা হয়ে থাকে। অধিক হারে দরুদ পাঠ ও দোয়া: রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা এবং দোয়া করা জুমার দিনের শ্রেষ্ঠ আমলগুলোর একটি। বিশেষ করে আসরের পরের সময়টিতে দোয়া কবুলের এক বিশেষ মুহূর্ত রয়েছে। জুমার দিনের এই ইবাদত ও আমলগুলো পালনের মাধ্যমে একজন মুমিন বান্দা আল্লাহর সন্তুষ্টি ও আধ্যাত্মিক প্রশান্তি অর্জন করতে পারেন।
চলতি ২০২৬ সালের হজ মৌসুমকে সামনে রেখে অননুমোদিতভাবে হজ পালন ও এতে সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থার ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। যথাযথ পারমিট ছাড়া হজের চেষ্টা করলে বা সহায়তা করলে সর্বোচ্চ ১ লাখ সৌদি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল ২০২৬) থেকে শুরু হয়ে জুনের মাঝামাঝি পর্যন্ত এই নির্দেশনা কার্যকর থাকবে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বৈধ পারমিট ছাড়া হজ পালনের চেষ্টা করলে বা মক্কার পবিত্র স্থানগুলোতে অবৈধভাবে প্রবেশ করলে ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে। একই শাস্তি প্রযোজ্য হবে সেসব ভিজিট ভিসাধারীদের ক্ষেত্রেও, যারা নির্ধারিত নিয়ম লঙ্ঘন করে মক্কায় অবস্থান করবেন। অননুমোদিত হজে সহায়তাকারীদের জন্য শাস্তির মাত্রা আরও ভয়াবহ। যারা অবৈধভাবে ভিসা তৈরি, পরিবহন ব্যবস্থা কিংবা হোটেল ও বাসায় থাকার ব্যবস্থা করে দেবেন, তাদের সর্বোচ্চ ১ লাখ রিয়াল জরিমানা গুণতে হবে। অপরাধে জড়িত ব্যক্তির সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে এই জরিমানার পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। এছাড়া অপরাধে ব্যবহৃত যানবাহন জব্দ করারও নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, নিয়ম লঙ্ঘনকারীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে এবং পরবর্তী ১০ বছরের জন্য তাদের সৌদি আরবে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হতে পারে। হজের পবিত্রতা রক্ষা এবং হাজিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সূত্র: খালিজ টাইমস
স্বামী-স্ত্রীর অধিকার ও পারিবারিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইসলামি শরিয়ত স্পষ্ট ভারসাম্য রক্ষা করেছে। শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, পুত্রবধূর জন্য শ্বশুর-শাশুড়ির খেদমত করা সরাসরি ‘ফরজ’ বা আইনগত বাধ্যবাধকতা নয় এবং এটি না করলে তিনি গুনাহগার হবেন না। তবে দাম্পত্য জীবনের সৌন্দর্য ও স্থায়িত্বের স্বার্থে নৈতিক ও দ্বীনী দৃষ্টিকোণ থেকে এই দায়িত্বটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। শরীয়ত অনুযায়ী, বাবা-মায়ের খেদমত ও ভরণ-পোষণের মূল দায়িত্ব সরাসরি সন্তানের (স্বামীর) ওপর বর্তায়। ফলে স্বামী তার স্ত্রীকে জোরপূর্বক বাবা-মায়ের খেদমতে বাধ্য করতে পারেন না। তবে সুখী দাম্পত্যের ভিত্তি কেবল ‘ফরজ’ বা আইনি মানদণ্ডে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং এটি গড়ে ওঠে পারস্পরিক ত্যাগ ও সহানুভূতির ওপর। স্বামী যেমন স্ত্রীর জন্য অনেক কাজ করেন যা তার ওপর ফরজ নয়, তেমনি স্ত্রীরও উচিত স্বামীর বাবা-মাকে নিজের বাবা-মায়ের মতো সম্মান করা। হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী (রহ.) ও মুফতি মুহাম্মদ আব্দুস সালাম চাটগামীর ফতোয়া অনুযায়ী, মানবিক সহানুভূতি ও উত্তম আচরণের (হুসনে মু‘আশারাত) দাবি হিসেবে পুত্রবধূর উচিত শ্বশুর-শাশুড়ির সেবা করা। বিশেষ করে শাশুড়ি ও শ্বশুরের হৃদয় জয় করা দাম্পত্য জীবনের প্রশান্তির অন্যতম চাবিকাঠি। তবে সেই খেদমত অবশ্যই স্ত্রীর সক্ষমতা এবং শরিয়তের সীমানার মধ্যে হতে হবে। একইভাবে সংসারে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে শ্বশুর-শাশুড়িরও বিশেষ ভূমিকা পালনের নির্দেশ রয়েছে। তাদের কর্তব্য হলো পুত্রবধূকে কন্যার মর্যাদা দেওয়া, তাকে সম্মান করা এবং তার সুখ-দুঃখে শরিক হওয়া। উভয় পক্ষ যদি কেবল অধিকারের দাবি না তুলে পারস্পরিক দায়িত্ববোধ ও ত্যাগের মনোভাব পোষণ করে, তবেই একটি সুন্দর ও আদর্শ পরিবার গঠন সম্ভব।
মহানবী মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনে উট ‘কাসওয়া’ কেবল যাতায়াতের বাহন ছিলেন না, বরং নবুয়তের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার প্রত্যক্ষ সাক্ষী। হিজরতের সময় মক্কা থেকে মদিনায় যাত্রাপথে কাসওয়া নবীজির (সা.) সঙ্গে ছিলেন। মদিনায় পৌঁছানোর পর সাহাবিরা প্রতিযোগিতা শুরু করেছিলেন, নবীজি (সা.) কার বাড়িতে অবস্থান করবেন। তখন তিনি বলেছিলেন, “উটকে ছেড়ে দাও, এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে আদিষ্ট।” কাসওয়া হিজরতের সময় মদিনার একটি খালি জায়গায় বসে পড়ে, যেখানে পরবর্তীতে মসজিদে নববী নির্মিত হয়। এই ঘটনার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়, কাসওয়ার গতিবিধিও আল্লাহর বিশেষ ইশারার অধীনে ছিল। হোদাইবিয়ার সন্ধিতেও কাসওয়া অলৌকিক আচরণ দেখায়। মক্কার উপকণ্ঠে পৌঁছানোর পর হঠাৎ বসে যায়। সাহাবিরা মনে করলেন, ‘উট ক্লান্ত হয়ে গেছে’, কিন্তু নবীজি (সা.) ব্যাখ্যা করলেন, “কাসওয়া ক্লান্ত হয়নি; বরং আল্লাহ তাকে থামিয়েছেন।” এই ঘটনার মাধ্যমে ঐতিহাসিক হোদাইবিয়ার সন্ধি সম্পন্ন হয়। নবীজি (সা.) কাসওয়ার প্রতি সদয় ও যত্নশীল ছিলেন। তিনি উটটিকে পর্যাপ্ত খাবার এবং বিশ্রাম দিতেন। নবীজির (সা.) ইন্তেকালের পর কাসওয়া শোকাহত হয়ে খাবার ও পানি গ্রহণ বন্ধ করে এবং কয়েক দিনের মধ্যে মারা যায়। সাহাবিরাও কাসওয়াকে কেবল পশু হিসেবে নয়, বরং নবীজির ছায়াসঙ্গী এবং আল্লাহর নির্দেশের বাহক হিসেবে সম্মান করতেন। বদর যুদ্ধে ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কাসওয়া নবীজির সঙ্গে ছিল। মুসলিম উম্মাহর জন্য কাসওয়ার জীবন শিক্ষা দেয়-আল্লাহর সিদ্ধান্তে পূর্ণ আস্থা রাখা এবং নবীজির জীবনাচারের প্রতিটি ক্ষুদ্র অনুষঙ্গের গুরুত্ব বোঝার এক জীবন্ত উদাহরণ।
নামাজের শেষ বৈঠকে তাশাহহুদ পাঠ করার পর দরূদ পাঠ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি আমল যা সুন্নাতে মুয়াক্কাদা কিংবা মতান্তরে ওয়াজিব হিসেবে গণ্য হয়। সাধারণত নামাজের মধ্যে দরূদে ইবরাহিম পাঠ করা অধিক উত্তম কারণ মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবিগণকে এটি বিশেষভাবে শিক্ষা দিয়েছেন। তবে অনেকেরই এই বিশেষ দরূদটি পুরোপুরি মুখস্থ না থাকায় তারা কেবল ‘সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ পাঠ করেন এবং এতে নামাজ হবে কি না তা নিয়ে দ্বিধায় থাকেন। ইসলামি ফকিহ ও আলেমদের মতে নামাজের শেষ বৈঠকে যেকোনো স্বীকৃত ও সঠিক দরূদ পাঠ করলেই নামাজের এই সুন্নাতটি পুরোপুরি আদায় হয়ে যাবে। বিখ্যাত আলেম ইবনে হাজার হাইতামি রহ. ও হানাফি ফকিহগণের বক্তব্য অনুযায়ী দরূদে ইবরাহিম সর্বোত্তম হলেও অন্য যেকোনো শব্দে দরূদ পড়লে নামাজের কোনো ক্ষতি হয় না। যেহেতু ‘সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ একটি স্বীকৃত ও পূর্ণাঙ্গ দরূদ তাই নামাজে এটি পাঠ করাকেও ধর্মীয় আইন অনুযায়ী যথেষ্ট বলে মনে করা হয়। তবে একজন সচেতন মুসলিমের জন্য নামাজের প্রতিটি দোয়া ও বিশেষ করে দরূদে ইবরাহিম সহিহভাবে শিখে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি ও ভাগ্যের বিষয়। ইবাদতের পূর্ণ সওয়াব ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে দরূদে ইবরাহিম মুখস্থ না থাকলে তা অবহেলা না করে দ্রুত মুখস্থ করে নেওয়া প্রত্যেক মুমিনের নৈতিক দায়িত্ব। ধর্মীয় এই বিধানটি সঠিকভাবে পালনের মাধ্যমে নামাজের একাগ্রতা বাড়ে এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। নামাজ, দরূদে ইবরাহিম, ইসলাম ও জীবন, নামাজের দোয়া, মাসয়ালা, দরূদ পাঠের নিয়ম, ইসলামি প্রশ্ন উত্তর, ইবাদত, নামাজের বিধান, সুন্নাত, রাসূলের দরূদ, নামাজের মাসায়েল, ইসলামি শিক্ষা, ধর্মীয় জিজ্ঞাসা, নামাজের ফজিলত।
বাংলাদেশি হজ ও ওমরাহ যাত্রীদের সেবার মান বাড়াতে এবং দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারে সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রী ড. তৌফিক বিন ফাউজান আল রাবিয়াহর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)। সোমবার (৩০ মার্চ) সৌদির স্থানীয় সময় সকাল ১১টায় মদিনার কিং সালমান আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ধর্মমন্ত্রী সৌদি আরবের আধুনিক হজ ব্যবস্থাপনা ও প্রযুক্তির ব্যবহারের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি দুই দেশের ঐতিহাসিক ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে এই সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে হাজিদের কল্যাণে একটি লিখিত প্রস্তাবনা সৌদি মন্ত্রীর নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে, যা আগামীতে ওমরাহ ও হজ পালনে বাংলাদেশিদের জন্য নতুন গতি সঞ্চার করবে বলে আশা করা হচ্ছে। তৃতীয় ওমরাহ ও ভিজিট ফোরামে যোগদানের জন্য বর্তমানে সৌদি আরব অবস্থান করছেন বাংলাদেশের ধর্মমন্ত্রী। বৈঠকে দুই দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন এবং আলোচনা শেষে উভয় পক্ষ একে অপরকে সৌজন্য উপহার প্রদান করেন। এই বৈঠকের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের ধর্মীয় ও কূটনৈতিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরকার হজ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত কার্যক্রম সুসংহত করতে ২৫ সদস্যের একটি নির্বাহী কমিটি গঠন করেছে। রোববার (২৯ মার্চ) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। কমিটির সভাপতি হয়েছেন ধর্মমন্ত্রী। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হজ অনুবিভাগ প্রধানকে সদস্য-সচিব হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। কমিটিতে আরও রয়েছেন জনপ্রশাসন সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, অর্থ সচিব, বিমান সচিব, তথ্য সচিব, গৃহায়ন সচিব, পররাষ্ট্র সচিব, নৌসচিব, ধর্ম সচিব, স্বাস্থ্যসেবা সচিব ও স্বাস্থ্যশিক্ষা সচিবসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকর্তারা। প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে কমিটির কার্যপরিধিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সুষ্ঠু হজ ব্যবস্থাপনার জন্য প্রয়োজনীয় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন, হজ প্যাকেজ অনুমোদন এবং জাতীয় কমিটির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা। সরকার আশা করছে, কমিটির মাধ্যমে হজ ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর ও প্রভাবশালী হবে, যাতে প্রতিটি যাত্রী নিরাপদ ও সুষ্ঠুভাবে হজ পালন করতে পারেন।
মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা—আনন্দ, সম্প্রীতি ও আত্মশুদ্ধির এক অনন্য উপলক্ষ। তবে এই আনন্দঘন দিনে ইসলামের নির্ধারিত কিছু করণীয় ও বর্জনীয় বিষয় রয়েছে, যা মেনে চলা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ঈদের দিনে করণীয় ঈদের দিনটি শুরু হয় পবিত্রতা ও ইবাদতের মাধ্যমে। ইসলামি বিধান অনুযায়ী- গোসল ও পরিচ্ছন্নতা: ঈদের সকালে গোসল করা সুন্নাত। সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) ঈদগাহে যাওয়ার আগে গোসল করতেন। তাকবির পাঠ: ঈদের দিন বেশি বেশি তাকবির পড়া সুন্নাত। এটি আল্লাহর মহিমা ঘোষণা করার একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল। উত্তম পোশাক পরিধান: সামর্থ্য অনুযায়ী নতুন বা পরিষ্কার ও সুন্দর পোশাক পরা উচিত। এটি আল্লাহর নেয়ামতের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের অংশ। তাকওয়া অর্জন: বাহ্যিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি আত্মিক পবিত্রতা বজায় রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ঈদুল ফিতরের আগে খাওয়া: ঈদের নামাজে যাওয়ার আগে বিজোড় সংখ্যক খেজুর খাওয়া সুন্নাত। ফিতরা আদায়: ঈদের নামাজের আগে ফিতরা প্রদান করা জরুরি, যাতে অসহায় মানুষেরাও ঈদের আনন্দে শামিল হতে পারে। ঈদগাহে যাওয়া: সম্ভব হলে হেঁটে যাওয়া এবং ভিন্ন পথে ফিরে আসা সুন্নাত। আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীর খোঁজ নেওয়া: ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। শুভেচ্ছা বিনিময়: ‘তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকা’ বলে পরস্পর শুভেচ্ছা জানানো উত্তম আমল। ঈদের দিনে যা করবেন না ঈদের আনন্দ যেন ইসলামের শিক্ষা থেকে বিচ্যুত না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকা জরুরি- ঈদের দিনে রোজা রাখা: সম্পূর্ণ হারাম। মুহাম্মদ (সা.) এই দিনে রোজা রাখতে নিষেধ করেছেন। অপ্রয়োজনীয় নফল নামাজ: ঈদের নামাজের আগে বা পরে ঈদগাহে কোনো নফল নামাজ আদায় নেই। ইবাদতে অবহেলা: ব্যস্ততার কারণে ঈদের নামাজ অবহেলা করা উচিত নয়। বিদআত ও কুসংস্কার: ধর্মে নেই এমন কাজকে ইবাদত মনে করা থেকে বিরত থাকতে হবে। অপচয় ও অনৈতিক কাজ: ঈদের আনন্দ যেন অপচয়, জুয়া বা ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ডে পরিণত না হয়। ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, ঈদ শুধু আনন্দের দিন নয়; এটি আত্মশুদ্ধি, সংযম ও মানবিকতার চর্চারও একটি বড় সুযোগ। তাই ঈদের প্রকৃত সৌন্দর্য তখনই ফুটে ওঠে, যখন তা শরিয়তের নির্দেশনা মেনে উদযাপন করা হয়।
দেশের আকাশে ১৪৪৭ হিজরি সনের পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেছে। ফলে আগামীকাল শনিবার (২১ মার্চ) মুসলিমরা উদ্যাপন করবেন পবিত্র ঈদুল ফিতর। আনন্দঘন এই দিনে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা ঈদগাহসহ বিভিন্ন মসজিদে ২ রাকাত ওয়াজিব নামাজ আদায় করবেন। দীর্ঘ সময় বিরতির কারণে অনেকেই ঈদের নামাজের নিয়ত, নিয়ম এবং তাকবির ভুলে যান। তাই এখানে ঈদের দিন যথাযথভাবে নামাজ পড়ার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য তুলে ধরা হলো— ঈদুল ফিতরের নামাজের নিয়ত আরবি: نَوَيْتُ أنْ أصَلِّي للهِ تَعَالىَ رَكْعَتَيْنِ صَلَاةِ الْعِيْدِ الْفِطْرِ مَعَ سِتِّ التَكْبِيْرَاتِ وَاجِبُ اللهِ تَعَالَى اِقْتَضَيْتُ بِهَذَا الْاِمَامِ مُتَوَجِّهًا اِلَى جِهْةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِيْفَةِ اللهُ اَكْبَر বাংলা উচ্চারণ: নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তা’আলা রাকাআতাইন সালাতিল ইদিল ফিতরি মাআ সিত্তাতিত তাকবিরাতি ওয়াজিবুল্লাহি তা’আলা ইকতাদাইতু বিহাজাল ইমামি মুতাওয়াঝঝিহান ইলা ঝিহাতিল কাবাতিশ শারিফাতি আল্লাহু আকবার। অর্থ: “আমি ঈদুল ফিতরের ২ রাকাত ওয়াজিব নামাজ অতিরিক্ত ৬ তাকবিরের সঙ্গে এই ইমামের পেছনে কেবলামুখী হয়ে আল্লাহর জন্য আদায় করছি — ‘আল্লাহু আকবার।’” ঈদের নামাজ পড়ার নিয়ম ঈমামের তাকরিরে তাহরিমা “আল্লাহু আকবার” বলে হাত বাঁধা শুরু করতে হবে। তাকবিরে তাহরিমার পর ছানা পড়তে হবে: “সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা ওয়া তাবারাকাসমুকা ওয়াতাআলা যাদ্দুকা ওয়া লা ইলাহা গাইরুকা।” এরপর অতিরিক্ত ৩ তাকবির প্রদান করা হবে, প্রথম ও দ্বিতীয় তাকবিরে উভয় হাত তুলে ছেড়ে দিতে হবে। তৃতীয় তাকবিরে হাত তাকবিরে তাহরিমার মতো বাঁধতে হবে। এরপর আউজুবিল্লাহ-বিসমিল্লাহসহ সুরা ফাতিহা পড়া এবং আরেকটি সুরা সংযোজন করে প্রথম রাকাত সম্পন্ন করতে হবে। দ্বিতীয় রাকাতে একইভাবে বিসমিল্লাহ, ফাতিহা ও আরেকটি সুরা পড়া হবে এবং ৩ অতিরিক্ত তাকবির দেওয়া হবে। তারপর নিয়মিত রুকু-সিজদা সম্পন্ন করে বৈঠকে বসা, তাশাহহুদ, দরূদ ও দোয়া পড়ার মাধ্যমে নামাজ শেষ হবে। নামাজের পর তাকবির ঈদের নামাজের সালাম ফেরানোর পর তাকবির পড়তে হয়। আরবি ও বাংলা উচ্চারণ নিম্নরূপ: আরবি: اَللهُ اَكْبَر اَللهُ اَكْبَر لَا اِلَهَ اِلَّا اللهُ وَاللهُ اَكْبَر اَللهُ اَكْبَروَلِلهِ الْحَمْد বাংলা: “আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, ওয়া-লিল্লাহিল হামদ্।” এ সময় ইমাম দু’টি খুতবা দেবেন। মুসল্লিদের মনোযোগ সহকারে খুতবা শুনতে হবে।
অবশেষে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান। শুক্রবার সন্ধ্যায় পশ্চিম আকাশে এক ফালি রুপালি চাঁদ দেখা মাত্র ঘরে ঘরে বেজে উঠল ঈদের চিরচেনা সুর, ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এল খুশীর ঈদ। দীর্ঘ এক মাসের সিয়াম সাধনার পর আজ শনিবার সারা দেশে উদ্যাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। এই দিন ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জন্য আনন্দ, কৃতজ্ঞতা ও আত্মশুদ্ধির এক বড় উপলক্ষ। রমজান মাসব্যাপী ক্ষুধা ও তৃষ্ণার কষ্ট উপভোগ করে দরিদ্রদের প্রতি সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধের শিক্ষা, আজ তার পূর্ণতা পায়। ফিতরা আদায়ের মাধ্যমে সমাজের সকলের জন্য উৎসব নিশ্চিত করা হয়, যা ঈদের সাম্যবোধের এক অনন্য উদাহরণ। যাত্রী ও ভ্রমণকারীদের ভিড়ে গত কয়েকদিন ধরেই বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও লঞ্চঘাটে ছিল তীব্র ব্যস্ততা। দীর্ঘ সময়ের যানজট ও ক্লান্তি আজ ম্লান হয়ে গেছে প্রিয়জনের সঙ্গে পুনর্মিলনের আনন্দে। ঘরে ফিরেই অনুভূত হয় পরিবার ও বাড়ির উষ্ণতা, মায়ের হাসি ও ভাইবোনের খুনসুটি। উৎসবের প্রস্তুতি ও প্রার্থনা রাজধানী থেকে গ্রামাঞ্চল, সবখানেই এখন ঈদের আমেজ। পাড়ার দোকানগুলোতে ছিল আতর, টুপি, সেমাই ও চিনি কেনার ভিড়। ভোর থেকেই গৃহিণীরা রান্নাবান্নার শেষ প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। রাজধানীর বিউটি পার্লারগুলোয় লম্বা লাইন এবং রাতভর চলছিল মেহেদি আঁকার আয়োজন। দেশের নানা প্রান্তে বসেছে ঈদমেলা, যা চারপাশে আনন্দ ও রঙিন উৎসবের আবহ ছড়িয়ে দিচ্ছে। বাসস জানিয়েছে, দেশের প্রধান ঈদ জামাত সকাল সাড়ে ৮টায় জাতীয় ঈদগাহে অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি মুহাম্মদ আবদুল মালেক ইমামতি করবেন। আবহাওয়া বা অন্যান্য কারণে যদি জাতীয় ঈদগাহে জামাত সম্ভব না হয়, তবে সকাল ৯টায় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে। নারীদের জন্য আলাদা নামাজের ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া পাঁচটি পর্যায়ক্রমিক জামাত সকাল ৭টা থেকে বেলা পৌনে ১১টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। নামাজ শেষে মানুষ একে অপরকে বলবেন “ঈদ মোবারক” এবং কবরস্থানে প্রিয়জনদের রুহের মাগফিরাত কামনায় মোনাজাত করবেন। বিকেলে পরিবারসহ বেড়াতে যাওয়াও ঈদের আনন্দের অংশ। সম্প্রীতি ও আগামীর অঙ্গীকার রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণীতে দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তারা দেশবাসীর সুখ, সমৃদ্ধি ও অসাম্প্রদায়িক সমাজ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। মূল্যস্ফীতি বেড়েছে, তবে উৎসবের আনন্দে তা প্রভাব ফেলতে পারেনি। সামর্থ্য অনুযায়ী সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এই আনন্দকে আরও পূর্ণতা দেবে। কবি কাজী নজরুল ইসলামের অমর পঙ্ক্তিই আজকের ঈদের মর্ম—“যারা জীবন ভ’রে রাখছে রোজা, নিত্য উপবাসী, সেই গরীব, এতিম, মিসকিনে দে যা কিছু মফিদ, ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এল খুশীর ঈদ। তুই আপনাকে আজ বিলিয়ে দে শোন আসমানী তাগিদ।” আজকের দিন শুধু আনন্দের নয়, বরং মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ার অঙ্গীকারের প্রতীক। ঈদ যেন সকলের জীবনে শান্তি, কল্যাণ ও আনন্দ বয়ে আনে।
ইসলামী বর্ষপঞ্জি চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল। হিজরি বর্ষের মাস শুরু ও শেষ নির্ধারণ, রোজা পালন এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত নতুন চাঁদ দেখার সঙ্গে যুক্ত। দুনিয়ার মুসলমানরা জানেন, নবী করিম (সা.) নতুন চাঁদ দেখা মাত্রই কল্যাণ ও নিরাপত্তার জন্য একটি বিশেষ দোয়া পড়তেন। সেই দোয়ার মূল লেখা এবং উচ্চারণ হলো: আরবি: اَللهُ أَكْبَرُ اَللَّهُمَّ أَهِلَّهُ عَلَيْنَا بِالْأَمْنِ وَالْإِيْمَانِ وَالسَّلاَمَةِ وَالْإِسْلاَمِ وَالتَّوْفِيْقِ لِمَا تُحِبُّ وَتَرْضَى، رَبِّىْ وَرَبُّكَ اللهُ উচ্চারণ: “আল্লাহুম্মা আহিল্লাহু আলাইনা বিল আমনি ওয়াল ঈমানি, ওয়াস সালামাতি ওয়াল ইসলাম, রাব্বি ওয়া রাব্বুকাল্লাহ।” অর্থ: “হে আল্লাহ! তুমি ওই চাঁদকে আমাদের ওপর উদিত করো নিরাপত্তা, ঈমান, শান্তি ও ইসলামের সঙ্গে। আমার ও তোমার প্রতিপালক আল্লাহ।” হাদিস সূত্রে জানা যায়, তালহা ইবনে উবাইদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) যখন নতুন চাঁদ দেখতেন, তখন তিনি এই দোয়া পড়তেন।
মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করেছেন বাংলাদেশি হাফেজ ইব্রাহীম শেখ। বাংলাদেশি ইয়ুথ কমিউনিটির উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় মোট ২৮টি দেশের প্রতিযোগী অংশ নিয়েছিল, যার মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশের হাফেজরা। প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন মালয়েশিয়ার হাফেজ নূরুল আবছার এবং তৃতীয় স্থান পেয়েছেন থাইল্যান্ডের হাফেজ সায়েদুর রহমান। হাফেজ ইব্রাহীম বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ক্বিরাত সংস্থা পরিচালিত মাদরাসা উম্মুল কুরার ছাত্র। সংস্থার মহাসচিব শায়েখ সাদ সাইফুল্লাহ মাদানী এই মাদরাসার পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় কুয়ালালামপুরে, যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মালয়েশিয়ার দাতো ডা. হাসনিজাল হাসান। ইয়ুথ কমিউনিটির সভাপতি মোহাম্মদ রাজু মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ হাইকমিশনের লেবার মিনিস্টার সিদ্দিকুর রহমান। এছাড়া সম্মাননা প্রদান করা হয় যমুনা টেলিভিশনের মালয়েশিয়া প্রতিনিধি মো. মনিরুজ্জামানকেও।
পবিত্র রমজানের মধ্যেই সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার নতুন ঘটনা ঘটেছে ভারতের হরিয়ানা রাজ্যে। রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফে থাকা মুসল্লিদের সময় গভীর রাতে একটি মসজিদে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্র ও ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে জানা যায়, পালওয়াল জেলা–এর টিকরি ব্রাহ্মণ গ্রামে অবস্থিত একটি মসজিদের জানালা ভেঙে ভেতরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। মঙ্গলবার দিবাগত রাত প্রায় ১টা ২৫ মিনিটের দিকে এই ঘটনা ঘটে। সেই সময় মসজিদের ইমাম জুবের এবং আরও তিনজন—ইকবাল, হানিফ ও সোহেল—ইতিকাফ পালন করছিলেন। হঠাৎ ধোঁয়া ও তাপ অনুভব করে তারা জেগে ওঠেন এবং চিৎকার শুরু করেন। তাদের চিৎকার শুনে স্থানীয় গ্রামবাসীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের আগেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। ঘটনার পর ইমাম জুবেরের অভিযোগের ভিত্তিতে রামরূপসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পালওয়ালের পুলিশ সুপার বরুণ সিংলা জানিয়েছেন, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং এতে বিশেষ অপরাধ ইউনিট ও সাইবার সেলকে যুক্ত করা হয়েছে। পুলিশের মুখপাত্র সঞ্জয় কুমার জানান, এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করা হচ্ছে এবং স্থানীয়দের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে এই ঘটনায় স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। গ্রামবাসীদের দাবি, গত কয়েক বছর ধরেই এলাকায় সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরির চেষ্টা চলছে। তাদের অভিযোগ, এর আগেও বিভিন্ন সময় নানা অজুহাতে মুসলিমদের হয়রানি ও হেনস্তার ঘটনা ঘটেছে। এর আগে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে জুমার নামাজে বাধা দেওয়া, রাস্তায় নামাজ পড়া মুসল্লিদের ওপর হামলা, মসজিদ ভাঙচুর এবং গরুর মাংস বহনের সন্দেহে মুসলিম নাগরিকদের মারধর বা হত্যার মতো ঘটনাও ঘটেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী শুক্রবার (৬ মার্চ ২০২৬) ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সেহরি ও ইফতারের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী রাজধানী ঢাকায় শুক্রবার সেহরির শেষ সময় ভোর ৫টা এবং ইফতারের সময় সন্ধ্যা ৬টা ৫ মিনিট। একই সঙ্গে এদিন ফজরের নামাজ শুরু হবে ভোর ৫টা, জোহরের নামাজ ১২টা ১০ মিনিট, আসরের নামাজ ৪টা ২৫ মিনিট, মাগরিবের নামাজ ৬টা ৫ মিনিট এবং এশার নামাজ ৭টা ১৯ মিনিটে। দেশের অন্যান্য জেলায় সময়সূচিতে সামান্য পার্থক্য রয়েছে। কক্সবাজারে সেহরির শেষ সময় ৪টা ৫৩ মিনিট এবং ইফতারের সময় ৫টা ৫৯ মিনিট। চট্টগ্রামে সেহরি শেষ হবে ৪টা ৫৪ মিনিটে এবং ইফতার ৬টা। খুলনায় সেহরি শেষ ৫টা ৩ মিনিটে এবং ইফতার ৬টা ৯ মিনিটে। এছাড়া দেশের আরও কয়েকটি জেলার সময়সূচি নিচে দেওয়া হলো— কিশোরগঞ্জ: সেহরি শেষ ৪টা ৫৭ মিনিট, ইফতার ৬টা ৩ মিনিট কুড়িগ্রাম: সেহরি শেষ ৫টা ২ মিনিট, ইফতার ৬টা ৭ মিনিট কুমিল্লা: সেহরি শেষ ৪টা ৫৭ মিনিট, ইফতার ৬টা ৩ মিনিট কুষ্টিয়া: সেহরি শেষ ৫টা ৫ মিনিট, ইফতার ৬টা ১০ মিনিট খাগড়াছড়ি: সেহরি শেষ ৪টা ৫৪ মিনিট, ইফতার ৫টা ৫৯ মিনিট গাইবান্ধা: সেহরি শেষ ৫টা ৩ মিনিট, ইফতার ৬টা ৮ মিনিট গাজীপুর: সেহরি শেষ ৪টা ৫৯ মিনিট, ইফতার ৬টা ৫ মিনিট গোপালগঞ্জ: সেহরি শেষ ৫টা ২ মিনিট, ইফতার ৬টা ৭ মিনিট চাঁদপুর: সেহরি শেষ ৪টা ৫৮ মিনিট, ইফতার ৬টা ৪ মিনিট চাঁপাইনবাবগঞ্জ: সেহরি শেষ ৫টা ৮ মিনিট, ইফতার ৬টা ১৩ মিনিট চুয়াডাঙ্গা: সেহরি শেষ ৫টা ৬ মিনিট, ইফতার ৬টা ১১ মিনিট জয়পুরহাট: সেহরি শেষ ৫টা ৫ মিনিট, ইফতার ৬টা ৯ মিনিট হবিগঞ্জ: সেহরি শেষ ৪টা ৫৫ মিনিট, ইফতার ৬টা ১ মিনিট সুনামগঞ্জ: সেহরি শেষ ৪টা ৫৫ মিনিট, ইফতার ৬টা ১ মিনিট সিলেট: সেহরি শেষ ৪টা ৫২ মিনিট, ইফতার ৫টা ৫৮ মিনিট সিরাজগঞ্জ: সেহরি শেষ ৫টা ৩ মিনিট, ইফতার ৬টা ৮ মিনিট সাতক্ষীরা: সেহরি শেষ ৫টা ৫ মিনিট, ইফতার ৬টা ১০ মিনিট লক্ষ্মীপুর: সেহরি শেষ ৪টা ৫৮ মিনিট, ইফতার ৬টা ৩ মিনিট মৌলভীবাজার: সেহরি শেষ ৪টা ৫৩ মিনিট, ইফতার ৫টা ৫৯ মিনিট মাগুরা: সেহরি শেষ ৫টা ৪ মিনিট, ইফতার ৬টা ৯ মিনিট ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন জেলায় ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সেহরি ও ইফতারের সময়ে কয়েক মিনিটের পার্থক্য হতে পারে। তাই স্থানীয় সময়সূচি অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ
নিরাপত্তা পরিস্থিতির অজুহাতে জেরুজালেমের পবিত্র আল আকসা মসজিদ-এ আজ শুক্রবার জুমার নামাজ আদায়ে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ইসরাইলি প্রশাসন। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে ইসরাইলি বেসামরিক প্রশাসন জানায়, চলতি সপ্তাহে আল আকসা মসজিদে শুক্রবারের জুমার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে না। ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। ফিলিস্তিনের দখলকৃত জেরুজালেমে অবস্থিত আল আকসা মসজিদ মুসলমানদের অন্যতম পবিত্র স্থান। Six-Day War-এর পর ১৯৬৭ সালে জেরুজালেম দখল করে নেয় ইসরাইল। এরপর থেকেই এই পবিত্র এলাকার প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ইসরাইলের হাতে রয়েছে। ইসরাইলি বেসামরিক প্রশাসনের প্রধান হিশাম ইব্রাহিম এক বিবৃতিতে বলেন, জেরুজালেমের পুরান শহরের সব পবিত্র স্থান শুক্রবার বন্ধ থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে ওয়েস্টার্ন ওয়াল, আল আকসা মসজিদ এবং চার্চ অব দ্য হোলি সেপালকার। তিনি জানান, এসব স্থানে কোনো ইবাদতকারী, পর্যটক বা অন্য কাউকেই প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। সূত্র: আল জাজিরা
যেসব মুসলমান ভবিষ্যতে বাড়ি নির্মাণের উদ্দেশ্যে কম বা বেশি দামে জমি কিনে রাখেন, কিন্তু এখনও সেখানে কোনো নির্মাণ শুরু হয়নি, সেই জমির ওপর জাকাত দিতে হবে না। কারণ ইসলামি বিধান অনুযায়ী ব্যবসার উদ্দেশ্য ছাড়া অন্য কোনো কারণে ক্রয় করা সম্পদের ওপর জাকাত ফরজ হয় না। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, “স্বর্ণ, রৌপ্য ও নগদ অর্থ ছাড়া অন্য কোনো বস্তুর ওপর জাকাত আসে না, যদি তা ব্যবসার জন্য না হয়। আর ব্যবসার জন্য হলে তার ওপর জাকাত আসবে।” (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা: ১০৫৬০) জাকাত ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম এবং এটি প্রাপ্তবয়স্ক, স্বাধীন ও সম্পদশালী মুসলমানদের জন্য বাধ্যতামূলক। এক হিজরি বছর পর্যন্ত নেসাব পরিমাণ সম্পদ থাকলে ২.৫ শতাংশ বা ১/৪০ অংশ জাকাত হিসেবে বিতরণ করতে হবে। পবিত্র কুরআনে সালাতের সঙ্গে জাকাতের গুরুত্ব উল্লেখ আছে: “তোমরা সালাত কায়েম কর, জাকাত দাও এবং নিজেদের জন্য যে কল্যাণ অগ্রিম পাঠাবে, তা আল্লাহর কাছেই পাবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ যা করছ তা দেখছেন।” (সুরা বাকারা: ১১০) নগদ অর্থ, স্বর্ণ-রৌপ্য বা ব্যবসার মাল যখন নেসাবের পর্যায়ে পৌঁছায়, তখন জাকাতের হিসাবের বছর গণনা শুরু হয়। এক বছর পূর্ণ হলে বর্ধনশীল সম্পদের ২.৫ শতাংশ জাকাত হিসেবে পরিশোধ করতে হবে। হিজরি সন অনুযায়ী বছরে একবার জাকাত হিসাব করা বাধ্যতামূলক হলেও পরিশোধ ধাপে ধাপে করা যেতে পারে।
রমজান মাসে রোজা রাখা সকল প্রাপ্ত বয়স্ক মুসলিমের জন্য ফরজ। যেসব পেশার মানুষ কঠোর শারীরিক পরিশ্রমের সঙ্গে যুক্ত—যেমন রিকশা চালক, গার্মেন্টস শ্রমিক বা মাটি কাটার কাজের লোক—তাদের জন্যও রোজা রাখা ফরজই। তবে পরিশ্রমের অজুহাতে রোজা না রাখার সুযোগ নেই। যারা অত্যন্ত কঠোর পরিশ্রমের পেশায় যুক্ত, তাদের উচিত রমজানে কাজের চাপ সামঞ্জস্য করা। উদাহরণস্বরূপ, সাধারণ দিনে পুরো দিন কাজ করা হলেও রমজানে অর্ধদিবস কাজ করা এবং অবশিষ্ট সময় বিশ্রাম নেওয়া উচিত। এতে রোজা রাখা সহজ হয়। তবু যদি কোন দিন এমন কঠোর পরিশ্রম করতে হয়, যার কারণে প্রাণ বা স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি থাকে, সেই দিনের রোজা খোলা যায় এবং পরবর্তীতে কাজা রোজা আদায় করতে হবে। এই পরিস্থিতিতে কাফফারা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। আধিকারিক ও অধীস্তদের জন্যও দায়িত্ব রয়েছে। অধীস্তদের কাজ হালকা করে দিলে আল্লাহ তায়ালা তাকে ক্ষমা করবেন এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেবেন। সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য রোজা রাখা বাধ্যতামূলক। আল্লাহ তায়ালা বলেন: হে ঈমানদারগণ, তোমাদের উপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের উপর, যেন তোমরা পরহেযগারীতা অর্জন কর’ (সূরা বাকারা, আয়াত ১৮৩) এছাড়া নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, রমজান মাসের রোজা তোমাদের উপর ফরজ, তবে অতিরিক্ত নফল রোজা রাখতে পারো। ইচ্ছাকৃতভাবে রোজা না রাখা গর্হিত এবং শাস্তিযোগ্য। হাদিসে বর্ণিত আছে, যারা রোজা ভেঙে দেয় পূর্ণ করার আগে, তাদের কঠোর শাস্তি হবে।
রোজা ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন “হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যেন তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।” (সুরা বাকারা: ১৮৩) রোজা শুধু পানাহার থেকে বিরত থাকার নাম নয়; বরং এটি আত্মশুদ্ধি, তাকওয়া ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের মাধ্যম। নবীজি (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি রোজা রেখেও মিথ্যা ও পাপ কাজ ত্যাগ করল না, তার পানাহার ত্যাগের আল্লাহর কাছে কোনো মূল্য নেই।” (সহিহ বুখারি: ৬০৫৭) রমজানে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ আমল তুলে ধরা হলো- ১. তারাবি নামাজ আদায় ঈমান ও সওয়াবের আশায় তারাবি আদায় করলে অতীতের গুনাহ মাফ হয়। (বুখারি) ২. তাহাজ্জুদ পড়া রমজানে তাহাজ্জুদে বিশেষ ফজিলত রয়েছে। (নাসায়ী) ৩. কোরআন তিলাওয়াত রমজান কোরআন নাজিলের মাস। বেশি বেশি তিলাওয়াত ও কোরআন শিক্ষা করা উত্তম। ৪. পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতে আদায় জামাতে নামাজ একাকী নামাজের চেয়ে ২৭ গুণ বেশি মর্যাদাসম্পন্ন। (বুখারি) ৫. সেহরি খাওয়া সেহরিতে বরকত রয়েছে। (বুখারি) ৬. দেরিতে সেহরি করা ফজরের আগে সেহরি করা সুন্নত। ৭. সময়মতো ইফতার করা ইফতারের সময় রোজাদারের জন্য বিশেষ আনন্দ রয়েছে। (তিরমিজি) ৮. তাড়াতাড়ি ইফতার করা সময় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইফতার করা সুন্নত। (আবু দাউদ) ৯. ইফতারের দোয়া পড়া “আল্লাহুম্মা লাকা সুমতু…” (আবু দাউদ) ১০. অন্যকে ইফতার করানো রোজাদারকে ইফতার করালে সমান সওয়াব পাওয়া যায়। (তিরমিজি) ১১. দান-সদকা রমজানে রাসুল (সা.) সবচেয়ে বেশি দান করতেন। (বুখারি) ১২. সদকাতুল ফিতর আদায় ঈদের আগে আদায় করা ওয়াজিব। (মুসলিম) ১৩. যাকাত আদায় যার ওপর ফরজ হয়েছে, তিনি রমজানে আদায় করতে পারেন। ১৪. বেশি বেশি নফল ইবাদত রমজানে একটি নফল অন্য মাসের ফরজের সমান সওয়াবের। (শুয়াবুল ইমান) ১৫. জুমার দিন তাড়াতাড়ি মসজিদে যাওয়া প্রতিটি পদক্ষেপে এক বছরের নফল রোজা ও নামাজের সওয়াব। (আবু দাউদ) ১৬. ওমরাহ পালন রমজানে একটি ওমরাহ একটি হজের সমতুল্য। (বুখারি) ১৭. তওবার নামাজ পড়া গুনাহের পর দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ে তওবা করা। ১৮. সালাতুত তাসবিহ পড়া বিগত গুনাহ মাফের বিশেষ আমল। ১৯. মাসনূন দোয়া পড়া দৈনন্দিন জীবনের দোয়াগুলো নিয়মিত পড়া। ২০. বেশি বেশি ইস্তিগফার ইস্তিগফার করলে আল্লাহ সংকট দূর করেন। (আবু দাউদ) ২১. শেষ দশকে ইতিকাফ সুন্নতে মুয়াক্কাদা আলাল কিফায়া। ২২. লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান কদরের রাত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। (বুখারি) ২৩. আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা আখেরাতে বিশ্বাসী ব্যক্তি আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করবে। (বুখারি) ২৪. গিবত, মিথ্যা ও অশ্লীলতা বর্জন গিবত মারাত্মক গুনাহ। ২৫. বেশি বেশি জিকির “আল্লাহকে অধিক পরিমাণে স্মরণ করো…” (সূরা আনফাল: ৪৫) ২৬. মা-বাবার খেদমত মা-বাবা জান্নাত বা জাহান্নামের কারণ হতে পারেন। (ইবনে মাজাহ) ২৭. অসুস্থ ও বিপদগ্রস্তদের খোঁজ নেওয়া রোগী দেখা সুন্নত। (বুখারি) ২৮. নবীজি (সা.) ও সাহাবিদের জীবনী পড়া তাদের জীবন আমাদের জন্য আদর্শ। ২৯. রমজানের মাসআলা জানা শুদ্ধভাবে রোজা পালনের জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান অর্জন। ৩০. বেশি বেশি দরুদ শরীফ পাঠ একবার দরুদ পড়লে আল্লাহ ১০টি রহমত নাজিল করেন। (নাসায়ী)
চলতি ১৪৪৭ হিজরি সনের সাদাকাতুল ফিতরের হার নির্ধারণ করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। এ বছর জনপ্রতি সর্বনিম্ন ফিতরা ১১০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ২ হাজার ৮০৫ টাকা ধার্য করা হয়েছে। আজ বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় ফিতরা নির্ধারণ কমিটির সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় ফিতরা নির্ধারণ কমিটির সভাপতি ও বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মুহাম্মদ আবদুল মালেক। সভায় উপস্থিত বিশিষ্ট আলেম ও কমিটির সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে বাজারমূল্য পর্যালোচনা করে এই হার চূড়ান্ত করা হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে এই হার ঘোষণা করেন কমিটির সভাপতি। উল্লেখ্য যে, বিগত ১৪৪৬ হিজরি সনেও (২০২৫ সাল) সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ ফিতরার হার একই ছিল। আটা, খেজুর, কিসমিস, পনির ও যবের বাজারমূল্যের ওপর ভিত্তি করে প্রতি বছর এই হার নির্ধারণ করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।